Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প218 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. ছয়-সাত বৎসর পূর্বে বিনয়কৃষ্ণবাবু

    ছয়-সাত বৎসর পূর্বে বিনয়কৃষ্ণবাবু বেহার অঞ্চলের কোন বড় শহরের এক প্রসিদ্ধ কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন। সেই সময়ে বাঙ্গালী-বেহারীর মধ্যে অবিশ্বাস ও অশ্রদ্ধা কিছু তীক্ষ হইয়া উঠিতেছিল। বেহার যে বেহারীদের জন্যই, আর কাহারও জন্য নহে, এই সনাতন সত্য নুতন করিয়া আবিষ্কৃত হইবার পর বেহারের আদিম এবং ন্যায্য অধিবাসিগণ বাঙ্গালীদের আড়ালে বাঙ্গালিয়া উপাধিতে সমোধিত করিয়া অবজ্ঞা ও নিজেদের আপেক্ষিক শ্রেষ্ঠত্ব জ্ঞাপন করিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন। বিনয়কৃষ্ণবাবুর বেহারী সহকর্মীরা—যাঁহারা এতদিন তাঁহাকে দেবতার মত ভক্তি করিতেন, তাঁহারা ভিতরে ভিতরে বিনয়বাবুর নানা দোষ-ত্রুটি ধরিয়া উপরওয়ালার কাছে পাঠাইতে লাগিলেন। নিজেদের মধ্যেও তাঁহার অযোগ্যতা সম্বন্ধে বিবিধ আলোচনা চলিতে লাগিল; এবং একজন বাঙ্গালী যে হাজার বারোশ টাকা মাহিনার একটা উচ্চ-পদ অধিকার করিয়া উহা হইতে আদিম অধিবাসীদিগকে বঞ্চিত করিয়া রাখিয়াছে, এ মনস্তাপের উষ্ম দুই-একখানা প্রাদেশিক সংবাদপত্রেও বাহির হইয়া পড়িল।

    তাঁহার সম্বন্ধে এই সমস্ত গোপন ও প্রকাশ্য রুিদ্ধতার খবর পাইবামাত্র বিনয়কৃষ্ণবাবু কাজে ইস্তফা দিলেন। কলেজটি গভর্নমেন্টের প্রসাদলি,—তাই তাহার শাসক-সমিতি উপরের কোন উপদেবতার কটাক্ষ ইঙ্গিত অনুসরণ করিয়া একজন ইংরাজকে বিনয়বাবুর শূন্যপদে বহাল করিলেন। ইহাতে আদিম অধিবাসিগণ কোন প্রকার আপত্তি করিলেন কি না, তাহা বাহিরের কেহ জানিতে পারিল না।

    কর্মত্যাগ করিয়া বিনয়কৃষ্ণবাবু কলিকাতায় চলিয়া আসিলেন। তাঁহার পাণ্ডিত্যের খ্যাতি পূর্বেই কলিকাতা পর্যন্ত পৌঁছিয়াছিল। দুই-তিনটা কলেজ হইতে অধ্যাপনা করিবার জন্য তাঁহার নিমন্ত্রণ আসিল; কিন্তু তিনি গ্রহণ করিলেন না। অর্থোপার্জনের কোন প্রয়োজন ছিল না, সারা জীবনে তিনি অনেক অর্থ উপার্জন করিয়াছিলেন এবং তাঁহার স্ত্রী তাহার অধিকাংশ সঞ্চয় করিয়াছিলেন। তাই তিনি অতঃপর নিরবচ্ছিন্ন বিশ্রামে বিদ্যাচচা করিয়া বাকী জীবনটা কাটাইয়া দিতে মনস্থ করিলেন।

    তারপর হঠাৎ একদিন তাঁহার স্ত্রী মারা গেলেন। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় তাঁহার নিশ্চিন্ত প্রশান্ত জীবনযাত্রা যেন ছন্নছাড়া হইয়া গেল। মনের অবস্থা এমনই হইল যে এক বাড়িতে দীর্ঘকাল থাকিতে মন টিকিত না, কলিকাতার মধ্যেই এবাড়ি ওবাড়ি করিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতেছিলেন। কয়েকদিন পূর্বে শ্যামবাজারের বাড়িখানা অসহ্য মনে হওয়ায় আমহার্স্ট স্ট্রীটে কিশোরের পাশের বাড়িতে আসিয়া উঠিয়াছিলেন।

    সে রাত্রির ঘটনার পরদিন প্রভাতে বিনয়কৃষ্ণবাবু দুই পাশের বাড়িতে সতর্কভাবে খোঁজ-খবর লইলেন, কিন্তু কেহই কিছু বলিতে পারিল না। গলির অপর পাশের বাড়িতে অবশ্য তিনি খোঁজ করেন নাই, সুতরাং গতরাত্রির লোকটার উপরে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হইল। সন্ধ্যার পর অনুপম আসিয়া সমস্ত শুনিয়া বলিল, দেখলেন তো, আগাগোড়া ধাপ্পাবাজি। আপনি তখন একেবারে করুণায় গলে গেলেন। আমি একনজর দেখেই বুঝেছিলুম, একেবারে পাকা বদমায়েস। ভুরু দেখে লোক চিনে নিতে পারি, সে ক্ষমতা আছে। বলিয়া ক্ষুদ্র নয়ন-যুগলে আত্ম-প্রীতি ভরিয়া সুহাসিনীর দিকে চাহিল।

    সুহাসিনী মুখ নীচু করিল। সকলে প্রথম হইতেই যাহাকে বদলোক বলিয়া চিনিতে পারিয়াছে, দারুণ অনভিজ্ঞতার দোষে কেবল সে-ই যে তাহাকে ভদ্রলোক বলিয়া সন্দেহ করিয়াছিল, মানুষ চিনিবার এই অক্ষমতায় সে মনে মনে ভারি লজ্জা পাইল। গতরাত্রির আগন্তুকের স্বাভাবিক মন্দচরিত্র। ও উপস্থিত দুরভিসন্ধিতে কাহারও সংশয় রহিল না। বিনয়বাবু এ বাড়ি ছাড়িয়া অন্য কোথাও উঠিয়া যাইবেন কি না, উদ্বিগ্নভাবে তাহাই আলোচনা করিতে লাগিলেন। কিন্তু অনুপম তাঁহাকে ভরসা দিয়া গেল যে, ভয়ের কোন কারণ নাই; পুলিসের ডেপুটি কমিশনারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত লোক এখানে যাতায়াত করে জানিবার পর সে লোকটা খুব সম্ভব এদিকে আর ঘেঁষিবে না।

    কিন্তু এত কাছাকাছি থাকিয়া দেখাশুনা না হওয়া অসম্ভব। দিন দুই পরে একদিন সন্ধ্যার সময় বিনয়কৃষ্ণবাবু বাড়ি হইতে বাহির হইয়া দারোয়ানকে ভিতর হইতে দরজা বন্ধ করিবার হুকুম দিয়া পদব্রজে হ্যারিসন রোডের চৌমাথার দিকে কিছুদুর অগ্রসর হইয়াছেন, এমন সময় সম্মুখ হইতে একজন লোক হাত তুলিয়া তাঁহাকে নমস্কার করিল। প্রথমটা ঠাহর করিতে পারেন নাই, কিন্তু চিনিতে পারিয়াই বিনয়বাবু একেবারে কাঠ হইয়া গেলেন। এ আর কেহ নহে—সেই গুণ্ডা।

    কিশোর কাছে আসিয়া বলিল, সেরাত্রে আপনাদের ওপর বড় উৎপাত করেছিলুম। একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত লোকের জুলুম আপনারা নিতান্ত ভদ্রলোক বলেই সহ্য করেছিলেন, আর কেউ হলে করত না।

    জল হইতে সদ্য ডাঙ্গায় তোলা কাতলা মাছের মত বিনয়বাবু তিনবার খাবি খাইলেন, কিন্তু কোন প্রকার বাঙ্‌নিষ্পত্তি করিতে পারিলেন না।

    কিশোর বলিল, সেদিন বড় উপকার করেছিলেন। একদিন গিয়ে আপনাদের সঙ্গে ভাল করে আলাপ করব ইচ্ছে ছিল কিন্তু নানা কারণে হয়ে ওঠেনি।

    বিনয়বাবু খলিতকণ্ঠে বলিলেন, অ্যাঁ—তা—আপনাকে আমি কখনো কি বলে—আপনার সঙ্গে–

    ওঃ, চিনতে পারেননি বুঝি? কিশোর হাসিয়া উঠিল, তা না পিরবারই কথা। গত শুক্রবার রাত্রিতে আপনাদের গান বাজনার মজলিসে গিয়ে যজ্ঞ-বিঘ্ন করেছিলুম। —তা চলুন না, আপনার যদি বিশেষ কাজ না থাকে তো আমার বাড়াতে গিয়েই একটু বসবেন। আপনি যখন প্রতিবেশী হলেন, তখন আলাপ-পরিচয় হওয়া চাই তো।

    আবার আলাপ-পরিচয়। কম্পিত-কলেবরে বিনয়বাবু একবার পুলিস বলিয়া চেঁচাইবার চেষ্টা করিয়া, যে পথে আসিয়াছিলেন, সেই পথে উঠি কি পড়ি করিয়া ফিরিয়া চলিলেন।

    কিশোর অবাক হইয়া কিছুক্ষণ তাকাইয়া রহিল, বৃদ্ধের এরূপ অদ্ভুত আচরণের কোনই কারণ খুঁজিয়া পাইল না। তারপর জোরে পা চালাইয়া সে তাঁহার পশ্চাদ্বর্তী হইল। তাহার ধারণা হইল, পথের মধ্যে বৃদ্ধ নিশ্চয় সহসা গুরুতর রকম অসুস্থ হইয়া পড়িয়াছেন।

    বিনয়বাবু নিজের গৃহসম্মুখে পৌঁছিয়া রুদ্ধ দরজায় ধাক্কা দিতে দিতে চেঁচাইতে ছিলেন, দারোয়ান, বরি, কে আছিস, শিগগির দরজা খোল।

    এমন সময় কিশোর আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কী হয়েছে বলুন তো। শরীর খারাপ মনে হচ্ছে কি?

    বিনয়বাবু ঘাড় বাঁকাইয়া দেখিলেন, ডাকাতটা একেবারে তাঁহার পিঠের কাছে দাঁড়াইয়া আছে। তিনি নিশ্চয় একটা সাংঘাতিক কিছু করিয়া ফেলিতেন, কিন্তু ঠিক সেই সময় নিতান্ত পরিচিত কণ্ঠে কে একজন বলিল, কে ও, কিশোর না? তাই তো হে, বিনয়বাবুর সঙ্গে কবে আলাপ হল?

    রাস্তায় তখন গ্যাস জ্বলিয়া উঠিতেছিল, কিশোর ফিরিয়া দেখিল, তাহার কলেজের সিনিয়র প্রফেসর এবং তাহার ভূতপুর্ব শিক্ষক দীনবন্ধুবাবু মোটা লাঠিটা হাতে লইয়া দাঁড়াইয়া আছেন।

    বিনয়বাবু এই জনাকীর্ণ শহরের মধ্যে এই প্রথম যেন একটিমাত্র মানুষ দেখিতে পাইলেন, সাগ্রহে টিয়া গিয়া তাঁহার হাত ধরিয়া বলিলেন, এই যে দীনবন্ধু এসেছ—এসো এসো এসো! তোমাকে দেখে যে কত খুশি হলুম—

    দীনবন্ধুবাবু তাঁহার ভাব দেখিয়া সবিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করিলেন, কী ব্যাপার, বলুন তো? আপনাকে বড় বিচলিত দেখছি।–কিশোর, তুমি কিছু জান?

    কিশোর বলিল, আজ্ঞে, কিছু বোঝা যাচ্ছে না। বোধ হয় ওঁর শরীরটা খারাপ হয়েছে।

    দীনবন্ধু বলিলেন, তাই না কি? কিন্তু তাহলে এরকমভাবে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকবার প্রয়োজন কী, তা তো বুঝতে পারছি না। বাড়ির ভেতর গেলে ক্ষতি কি?

    বিনয়বাবু একবার ইহার মুখ, একবার উহার মুখ দেখিয়া শেষে বলিলেন, দীনবন্ধু, তুমি এই–এঁকে চেন না কি?

    দীনবন্ধু বলিলেন, বিলক্ষণ, কিশোরকে চিনি না। ও হল গিয়ে আমার ছাত্র—অর্থাৎ এককালে ছাত্র ছিল, এখন কলীগ। ওর কথাই তো সেদিন আপনাকে বলছিলুম যে, আপনার নতুন পাড়াতে আমার একটি ছাত্র থাকে। ভেবেছিলুম, আমিই আজ আলাপ করিয়ে দেব, তা আলাপ তো হয়ে গেছে দেখছি।

    বিনয়বাবু হতবুদ্ধি হইয়া বলিলেন, আলাপ! তা—হ্যাঁ কিন্তু অনুপম যে বললে

    ইতিপূর্বে বাড়ির দরজা খোলা হইয়াছিল এবং সুহাসিনী পিতার হাঁক-ডাকে সন্ত্রস্ত হইয়া নীচে নামিয়া আসিয়াছিল, এতক্ষণ অর্ধমুক্ত দ্বার-মুখে দাঁড়াইয়া ইহাদের কথাবার্তা শুনিতেছিল।

    দীনবন্ধু তাহাকে দেখিতে পাইয়া বলিলেন, এই যে সুহাস-মায়ী, তোমার বাবার কী হল বল দেখি? রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এমন করছেন কেন?

    প্রত্যুত্তরে সুহাসিনী খিলখিল করিয়া হাসিয়া উঠিল, তারপর মুখে আঁচল খুঁজিয়া হাসি চাপিতে চাপিতে বলিল, আপনারা ভেতরে আসুন; ফুটপাথে দাঁড়িয়ে অমন করলে রাস্তার লোকে পাগল মনে করবে যে।

    আমিও তো সেই কথাই বলছি-দীনবন্ধুবাবু অগ্রে অগ্রে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করিলেন। বিনয়বাবু তাঁহার পশ্চাতে অসংলগ্নভাবে বলিতে বলিতে চলিলেন, সবাই মিলে আমাকে বুঝিয়ে দিলে,–অনুপমটা একটা আস্ত ইয়ে,–আমি গোড়া থেকেই—ইত্যাদি।

    কিশোরও একবার একটু ইতস্তত করিয়া ভিতরে অনুসরণ করিল। এই মেয়েটিকে সেদিনও সে দেখিয়াছিল বটে, কিন্তু ভাল করিয়া লক্ষ্য করে নাই। আজ তাহার ভিতরে আসিবার আহ্বানের মধ্যে সে-ও অন্তর্ভুক্ত কি না, তাহা ঠিক বুঝিতে না পারিলেও বিনয়বাবুর অদ্ভুত ব্যবহারের আড়ালে যে একটা মজার রহস্য লুকাইয়া আছে এবং সে নিজেও যে এই রহস্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, তাহা এই মেয়েটির উচ্ছ্বসিত দমকা হাসি শুনিয়া টের পাইয়াছিল। তা ছাড়া এই সহসা উদ্বেলিত হাসির মধ্যে এমন একটি আশ্চর্য মাদকতা ছিল যে, ক্ষণকালের জন্য তাহাকে আবিষ্ট করিয়া ফেলিয়াছিল। তাই, একরকম যন্ত্রচালিতের মতই সে সকলের পিছু পিছু বারান্দা পার হইয়া ড্রয়িংরুমে গিয়া উপস্থিত। হইল।

    সকলে উপবিষ্ট হইলে দীনবন্ধু বলিলেন, একটা কিছু হয়েছে, আমি ধরতে পারছি না। সুহাস-মায়ী, তুমিই বল তো ব্যাপারখানা কী?

    সুহাস মুখ টিপিয়া হাসিয়া বলিল, বাবাকে জিজ্ঞাসা করুন না।

    বিনয়বাবু অত্যন্ত অনুতপ্ত হইয়া আমতা-আমতা করিয়া বলিলেন, আমরা ভারি ভুল করে ফেলেছি, দীনবন্ধু। সেদিন রাত্রিতে উনি হঠাৎ,–কিশোরবাবু, আমাদের অপরাধ আপনাকে মাপ করতে হবে, ভারি অন্যায় হয়ে গেছে। আমারই বোকামি—বোঝা উচিত ছিল। কিন্তু সবাই মিলে, বিশেষ অনুপম—এমন করতে লাগল যে, আমারও সন্দেহ হল, হয়তো— বলিতে বলিতে লজ্জায় থামিয়া গেলেন।

    দীনবন্ধু বলিলেন, নাঃ, এরা খোলসা করে কিছু বলবে না দেখছি। কিশোর, তুমিই বলো হে, শুনি।

    কিশোর কহিল, আমি তো কিছুই জানি না।

    সুহাসিনী আবার উচ্চকণ্ঠে হাসিয়া উঠিল; কিশোরের দিকে একটা পরিহাস-তরল দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া বলিল, উনি কোত্থেকে জানবেন? আমি বলছি, শুনুন। বলিয়া সকৌতুকে ব্যাপারটা আগাগোড়া বিবৃত করিল।

    গল্প শুনিয়া দীনবন্ধুবাবু হো হো করিয়া খুব হাসিতে লাগিলেন; কিশোরও সে হাসিতে যোগ দিল।

    দীনবন্ধুবাবু কিশোরের উপর একবার চোখ বুলাইয়া বলিলেন, তা গুণ্ডার মত চেহারাখানা বটে, রাত-বিরেতে হঠাৎ দেখলে ডরিয়ে ওঠা বিচিত্র নয়। আরে, আমি যে সেদিন সায়েটিকার জন্যে

    আসতেই পারলুম না, নইলে এ সব কোন ফ্যাসাদই হত না।

    কিশোর সুহাসিনীর দিকে তাকাইয়া বলিল, আচ্ছা, সত্যি আপনারা সবাই আমাকে গুণ্ডা ভেবেছিলেন?

    সুহাসিনী ঘাড় নাড়িয়া বলিল, হ্যাঁ।

    করুণভাবে কিশোর জিজ্ঞাসা করিল, আপনিও?

    সহাস্যে সুহাসিনীও বলিল, হ্যাঁ—আমিও।

    মস্ত একটা নিশ্বাস ফেলিয়া কিশোর বলিল, আমার কপালই খারাপ দেখছি। অপরিচিত লোকে আমাকে দেখবামাত্র যদি গুণ্ডা মনে করেন, তাহলে আমার চেহারায় নিশ্চয় মারাত্মক কোন দোষ আছে। বলিয়া দুঃখিতভাবে নিজের হস্ত-পদাদির দিকে দৃষ্টিপাত করিল।

    সকলে হাসিয়া উঠিলেন।

    দীনবন্ধু বলিলেন, কিশোর, দেখছ তো, বলবান হবারও অসুবিধা আছে। এ কথা আগে জানলে বোধ হয় ফুটবল হকি খেলে, জিমন্যাস্টিক করে সময়ের অপব্যয় করতে না।

    কিশোর মাথা নাড়িয়া বলিল, আজ্ঞে না, কখনই করতুম না। কিন্তু এখন তো আর শোধরাবারও উপায় নেই, চিরজীবন এই ভয়াবহ শরীরটাকে বহন করে বেড়াতে হবে।

    এই সব হাসি-তামাশার মধ্যে বিনয়বাবু আবার বেশ সুস্থ বোধ করিতেছিলেন। তিনি বলিলেন, কেন, কিশোরবাবুর তো বেশ ভাল চেহারা, পুরুষোচিত চেহারা! বাঙালীর ছেলের ঐ রকম শরীরই তো হওয়া চাই। কাঠির মত লিলিকে চেহারা আমি ভালবাসি না। যারা জীবন-যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে, যুদ্ধের উপযোগী স্বাস্থ্য না হলে তাদের চলবে কেন? যেমন লম্বা, তেমনই চওড়া—যাকে বলে ব্যুঢ়োরস্কো বৃষস্কন্ধঃ শালপ্রাংশুমহাভুজঃ। সেই রকম হওয়া চাই।

    দীনবন্ধু বলিলেন, সে তো ঠিক কথা। কিন্তু আমাদের দেশের বাপ-মায়েদের ছেলেকে বিদ্বান করে তোলবার আগ্রহ এত বেশী যে, তার স্বাস্থ্যের দিকে দৃষ্টি দেওয়া আর ঘটে ওঠে না।

    এটি বিনয়বাবুর প্রিয় প্রসঙ্গ, তিনি উদ্দীপ্ত হইয়া বলিলেন, তুমি যথার্থ বলেছ, দীনবন্ধু! অথচ জা এই যে, শরীর ভাল রকম পুষ্ট না হলে মস্তিষ্ক কিছুতেই পুষ্টিলাভ করতে পারে না। শরীর থেকেই তো মস্তিষ্ক তার সারবস্তু আহরণ করবে। সেই শরীরই যদি পঙ্গু হয়ে রইল, তাহলে মস্তিষ্ক সর পাবে কোত্থেকে? এই কথাটা আমি বরাবর প্রচার করে এসেছি যখন কাজে ছিলুম, তখন সর্বদাই করতুম—যে, শরীর এবং বুদ্ধি দুইয়েরই সমান পুষ্টি হওয়া চাই, নইলে পরিপূর্ণ আস্ত মানুষটি তৈরি হয় না, একটিমাত্র পাল্লা-বিশিষ্ট তরাজুর মত অকর্মণ্যভাবে কেবল একদিকেই ঝুঁকে থাকে।

    দীনবন্ধুবাবু কিশোরের পৃষ্ঠে হাত রাখিয়া বলিলেন, আপনি যে সত্য কথা প্রচার করেছেন, তার উদাহরণ আপনার সামনেই হাজির রয়েছে। এই ছেলেটির বাহিরটা যেমন নিরেট এবং প্রচুর পরিমাণে দৃষ্টিগোচর, ভিতরটিও তেমনি সবল ও সুগঠিত। ক্রমশ পরিচয় পাবেন।

    উপর্যুপরি প্রশংসায় কিশোর লজ্জিত হইয়া পড়িতেছিল, তাই তাড়াতাড়ি বলিল, যে পরিচয় ওঁরা গোড়াতেই পেয়েছেন, তার বেশী পরিচয়ের বাসনা বোধ হয় নেই।

    বিনয়বাবু বলিলেন, না না, সে কী কথা! ভুল তো আমাদেরই হয়েছিল, সেজন্যে আমরাই অপরাধী হয়ে আছি। এখন তো সত্যিকার পরিচয় হয়ে গেল, এখন মাঝে মাঝে আসলে আমি বড় খুশি হব।

    গম্ভীরমুখে সুহাসিনীর দিকে ফিরিয়া কিশোর জিজ্ঞাসা করিল, আপনি কী বলেন?

    মৃদু হাসিয়া সুহাসিনী উত্তর করিল, আমিও তাই বলি।

    অতঃপর একথা-সেকথায় আরও কিছুক্ষণ কাটিবার পর সকলে উঠিয়া পড়িলেন। বাড়ি ফিরিয়া আসিয়া কিশোর সম্মুখে বিমলাকে দেখিয়া বলিল, সাবধান! আমি একজন গুণ্ডা!

    বিমলা বলিল, সে কী। গুণ্ডা হলে আবার কবে থেকে?

    কিশোর কহিল, সম্প্রতি হয়েছি। তোমার কাছে টাকাকড়ি যা আছে শিগগির বার করো, নইলে বিপদ ঘটবে।

    বিমলা গম্ভীর হইয়া বলিল, তা বার কচ্ছি, কিন্তু মাসের বাকি কটা দিন আমার চলবে কী করে তা বলে দাও।

    কিশোর হতাশ হইয়া বলিল, নাঃ, তোমার কাছে আমার গুণ্ডা হওয়া চলল না। গুণ্ডার সঙ্গে বুঝি অমনি করে কথা কয়?

    বিমলা বলিল, তা কী করব, গুণ্ডার সঙ্গে এই প্রথম পরিচয়, ক্রমশ শিখে নিতে হবে তো?

    কিশোর হাসিয়া বলিল, আজ ভারি মজা হয়েছে, ওপরে চলো, বলছি।

    বিমলা তাহা বুঝিয়াছিল। উপরে গিয়া কাহিনী শুনিয়া সে রাগিয়া উঠিল, যা নয় তাই। না হয় খালি গায়ে খালি পায়েই ছিলে, তাই বলে কি সত্যি চোর-ডাকাতের মত চেহারা! কেমন ধারা তোক ওরা? চোখে কি দেখতে পায় না! বুড়োর না হয় ছানি পড়বার বয়স হয়েছে, কিন্তু ঐ যে মেয়েটার কথা বললে, সে-ও কি চোখের মাথা খেয়েছে না কি?

    কিশোর বলিল, উঁহু, চোখ আছে–বেশ বড় বড়। তবে?

    বিমলা হাসিয়া ফেলিল, না, ঠাট্টা নয়, সত্যি বলো তো ওরা কী রকম লোক? উদোমাদা নয় তো? আচ্ছা, মেয়েটার বয়স কত হবে বলো দেখি?

    ঘাড় চুলকাইয়া কিশোর বলিল, তা সতেরো-আঠারো হবে—

    বিয়ে হয়েছে?

    বোধ হয় না। কপালে সিঁদুর দেখলাম না।

    চক্ষু বিস্ফারিত করিয়া বিমলা বলিল, অত বড় আইবুড়ো মেয়ে তোমার সামনে বেরুল? হ্যাঁ ঠাকুরপো, হিন্দু বটে তো?

    কিশোর বলিল, কী জানি ভাই, ঠিক বুঝতে পারলুম না। তবে যে রকম ড্রয়িংরুম সাজাবার ঘটা, ব্রাহ্ম হওয়াও বিচিত্র নয়।

    বিমলা বিজ্ঞভাবে ঘাড় নাড়িয়া বলিল, ঐ ঠিক বলেছ—বেম্মই হবে। বেম্মরা শুনেছি কেউ কেউ ঐ রকম হয়, সাদা কথা বুঝতে পারে না, চোখ খুলে দেখতে পায় না, আরও কত কী তোমার দাদা তামাশা করে বলতেন—

    অকস্মাৎ তীর্থনাথের কথা অজ্ঞাতসারে বিমলার মুখ দিয়া বাহির হইয়া পড়াতে তাহাদের প্রফুল্ল রহস্যালাপ যেন হেঁচকা দিয়া দাঁড়াইয়া পড়িল। যদিও কিশোর মনে মনে জানিত যে, দিবারাত্রির মধ্যে অন্তত কুড়ি ঘণ্টা স্বামীর চিন্তা সকল কাজকর্মের অন্তরালে বিমলার মনকে আচ্ছন্ন করিয়া রাখে, তবু কলিকাতায় আসিয়া অবধি সে ইঙ্গিতেও কখনও স্বামীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করে নাই। স্বামীর কথা সে আলোচনা করিতে চাহে না, একান্ত নিজস্ব করিয়া রাখিতে চায়, তাহা কিশোর বুঝিয়াছিল, তাই সে-ও কখনও তীর্থনাথের কথা তোলে নাই। কিন্তু আজ সকল আলোচনার উৰ্ব্বস্থিত এই অন্তরতম কথাটি যখন বিমলারই মুখ দিয়া অতর্কিতে বাহির হইয়া পড়িল, তখন কিশোর যেন বিস্ময়ে ব্যথায় চমকিয়া উঠিল!

    বিমলা ম্লানমুখে জানালার কাছে গিয়া বাহিরের দিকে তাকাইয়া রহিল।

    কিশোর বিষণ্ণভাবে কিছুক্ষণ বসিয়া থাকিয়া শেষে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া উঠিয়া দাঁড়াইয়া বলিল, ভাত দেবে চলো, বৌদি! খিদে পাচ্ছে।

    সে রাত্রিতে তাহাদের মধ্যে আর কোন কথা হইল না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }