Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প218 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৬. দিন আট-দশ পরের কথা

    দিন আট-দশ পরের কথা। হঠাৎ গুমট গরম শেষ হইয়া বর্ষা নামিয়াছে। কদিন ধরিয়া মেঘগুলা আকাশের চারিপাশে ঘুরিয়া জটলা পাকাইয়া ষড়যন্ত্র করিতেছিল, আজ দ্বিপ্রহরে সকলে একজোট হইয়া প্রবলবেগে বর্ষণ শুরু করিয়া দিল। সেইসঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস দিয়া শহরের তাপক্লিষ্ট অর্ধসিদ্ধ মানুষগুলার অঙ্গে যেন অমৃত সিঞ্চন করিয়া দিতে লাগিল।

    কিশোর ভিজিতে ভিজিতে কলেজ হইতে বাড়ি ফিরিল। বিমলা জানিত, সে ছাতা লইয়া যায় নাই, তাই আগে হইতেই জামাকাপড়, তোয়ালে ইত্যাদি ঠিক করিয়া রাখিয়াছিল। সে বলিল, খুব ভিজেছ তো? নাও, এখন তাড়াতাড়ি ওগুলো ছেড়ে ভোয়ালে দিয়ে গা মোছছ। ছাতা নিয়ে। বেরুলে বুঝি কোট-প্যান্টুলুনের অপমান হয়?

    ভিজা জুতা-মোজা খুলিতে খুলিতে অত্যন্ত পরিতৃপ্তির সহিত কিশোর বলিল, আজ খুব ভিজেছি। কিন্তু আশা মেটেনি, খালি গায়ে বিষ্টিতে ভিজতে না পারলে আরাম হয় না। বলিয়া

    কোট ও কামিজ খুলিয়া মাটিতে ফেলিল।

    বিমলা বলিল, আচ্ছা, আর একদিন ভিজো। এখন আগে শুকনো তোয়ালে নিয়ে গা-মাথা মুছে। ফেলো তো। আমি এইখানেই তোমার খাবার নিয়ে আসছি।

    খালি গায়ে প্যান্টুলুন পরিয়া কিশোর হঠাৎ লাফাইয়া উঠিয়া বলিল, বৌদি, চলো, দুজনে তেতলার ছাদে উঠে খানিক ভিজি গে।

    বিমলা বলিল, অ্যা। আবার ভিজবে। এই না সারাটা পথ ভিজে এসেছ? না না, আর ভিজলে অসুখ করবে।

    কিশোর আবদার করিয়া বলিল, লক্ষ্মীটি বৌদি, একবার চলল। বেশী নয়—পাঁচ মিনিট। প্রথম বর্ষা নেমেছে, আজ ভিজলে কি অসুখ করে? অন্তত আমার করবে না। ভিজতে ভারি ইচ্ছে করছে বৌদি, চলো!

    বিমলার চক্ষু দিয়া সস্নেহ কৌতুক ঝরিয়া পড়িতে লাগিল, সে বলিল, কী ছেলেমানুষী বলো তো! তুমি কি স্কুলের ছেলে যে, ক্লাস পালিয়ে জলে ভিজতে যাবে?

    গলায় প্যান্টুলুন দিয়ে বলছি বৌদি, চলো।

    কিন্তু আমার যদি ভিজে চুলে থেকে অসুখ করে—

    না করবে না বলিয়া মহানন্দে হাত ধরিয়া টানিতে টানিতে বিমলাকে উপরের খোলা ছাদে সে ইয়া চলিল।

    খালি গা, খালি পা, কেবল প্যান্টুলুন-পরা কিশোর বিমলাকে টানিয়া মুক্ত ছাদের বৃষ্টিধারার মধ্যে ৰ্পণ করিয়াই সোল্লাসে উচ্চকণ্ঠে আরম্ভ করিল—

    ঐ আসে ঐ অতি ভৈরব হরষে
    জলসিঞ্চিত ক্ষিতিসৌরভরভসে
    ঘন গৌরবে নবযৌবনা—

    হঠাৎ কিশোর থামিয়া গেল।

    থামলে যে— বলিয়া কিশোরের ত্রস্ত দৃষ্টি অনুসরণ করিয়া বিমলা দেখিল, গলির অপর পারের হর একটি বাড়ির ছাদের উপর দাঁড়াইয়া শ্যামশ্রীমতী বর্ষার মতই আর-একটি নবযৌবনা তরুণী চুল খুলিয়া দিয়া উর্ধ্বমুখী হইয়া যেন এই নববারিধারা সর্বাঙ্গ দিয়া গ্রহণ করিতেছে।

    কিশোরের কাব্যোম্ফস কানে যাইতেই সুহাসিনী চমকিয়া ফিরিয়া চাহিল। ক্ষণেকের জন্য কিশোর হতবুদ্ধি হইয়া গিয়াছিল, কিন্তু পরক্ষণেই একবার নিজের অর্ধনগ্ন মূর্তির দিকে সত্রাস দৃষ্টিপাত করিয়া বিমলাকে ছাড়িয়া ঊর্ধ্বশ্বাসে সিঁড়ি দিয়া পলায়ন করিল।

    বিমলা নিজের ঘরে গিয়া ভিজা থান ও শেমিজ বদলাইয়া আসিয়া দেখিল, কিশোর শুষ্ক জমা কাপড় পরিয়া আয়নার সম্মুখে দাঁড়াইয়া চুল আঁচড়াইতেছে।

    সে মুখ টিপিয়া হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কী? পালিয়ে এলে যে?

    কিশোর বলিল, দেখ বৌদি, আজ রাত্তিরে কিন্তু খিচুড়ি রাঁধতে হবে। মুসুর ডালের খিচুড়ি আর হাঁসের ডিম, আর কিছু নয়।

    বিমলা বলিল, আচ্ছা খিচুড়ি না হয় হবে, কিন্তু অমন উঠিকী পড়ি করে পালিয়ে এলে কেন, সেটা তো আগে বলো।

    পালিয়ে আবার কখন এলম? তোমার যেমন কথা। আমি তো আস্তে আস্তে নেমে এলুম।

    তাই বুঝি? ওর নাম আস্তে আস্তে নেমে আসা? আমি ভাই সেটা বুঝতে পারিনি, মনে করেছিলুম, বুঝি পালিয়ে এলে।

    কিশোর লজ্জিত মুখে বলিল, আচ্ছা, তুমিই বলো বৌদি, লজ্জা হয় না? কী বেশে আমি ছিলুম। বলো তো? শুধু একটা প্যান্টুলুন। ঐ বেশে ভদ্রমহিলার কাছে ধরা পড়লে সঙ্কোচ হয় না?

    কিন্তু আমিও তো একজন ভদ্রমহিলা, আমাকে দেখে তো একটুও লজ্জা হল না। হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেলে!

    হ্যাঁ, তুমি আবার ভদ্রমহিলা হতে গেলে কোন দুঃখে? তুমি তো বৌদি।

    বৌদির বুঝি ভদ্রমহিলা হতে নেই?

    না। বৌদি স্রেফ বৌদি।

    কিশোর নিজ মনে কিছুক্ষণ যেন গবেষণা করিয়া হঠাৎ বলিয়া উঠিল, কী আশ্চর্য, বৌদি! তুমি হাজ বললে বলে খেয়াল হল কিন্তু তোমার কাছে যে সঙ্কোচ করে সম্ভ্রম করে চলা দরকার, এ কখনও আমার মনেই হয়নি। এক দিনের জন্যও ভাবিনি যে, তুমি আমার পর, তোমার কাছ থেকে সন্তর্পণে নিজেকে ঢেকে রাখা উচিত। আচ্ছা, কেন এমন হল? আমি তো ভেবেচিন্তে কিছুই করিনি।

    বিমলা কথা কহিতে পারিল না, তাহার দুই চক্ষু সহসা জলে ভরিয়া উঠিল।

    কিশোর কতক নিজমনেই বলিতে লাগিল, আর তাই বা আশ্চর্য কেন? আপনার লোকের কাছে। আবার লজ্জা সঙ্কোচ কে করে থাকে! যারা পর, যাদের সঙ্গে শুধু মুখের আলাপ, তাদের জন্যেই না ঐ সব! তোমাকে তো প্রথম দিন থেকেই পর বলে মনে করতে পারিনি। কী জানি কী করে মনে বসে গিয়েছিল যে, তুমি আমার নিতান্ত আপনার। আমার নিজের বড় দিদি বা ছোট বোন নেই, মাকেও ভাল করে মনে পড়ে না, কিন্তু তাঁরা যদি থাকতেন, তা হলেও বোধ হয়, তাঁদের তোমার চেয়ে বেশী আপনার বলে মনে করতে পারতুম না। এই বলিয়াই একটা গভীর নিশ্বাস ত্যাগ করিল।

    বিমলার গণ্ড বহিয়া ঝরঝর করিয়া জল ঝরিয়া পড়িতে লাগিল। সে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে কহিল, ঠাকুরপো, লোক-দেখানো কথা নয়, সত্যিই আমি তোমার দিদি—আমি তোমার ছোট বোন। তুমি আমার আপনার মার পেটের ভাই। উঃ তোমাকে না পেলে আমি যে কী করতুম! বলিয়া নিজেকে আর সংবরণ করিতে না পারিয়া বিমলা অঞ্চলে চক্ষু আবৃত করিয়া দ্রুতপদে ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল।

    বিমলার অন্তরের নিগুঢ় আবেগকে এমন করিয়া নাড়া দিয়া জাগাইয়া তুলিবার ইচ্ছা কিশোরের ছিল না এবং কেন যে তাহার মত স্বভাবত চাপা লোক এতগুলা মনের অন্তরতম কথা ঝোঁকের মাথায় বলিয়া ফেলিল, তাহাও সে বুঝিতে পারিল না। কিন্তু আজ এই আকস্মিক বর্ষার্গমে তাহার মনের মধ্যে কী এক বিপর্যয় ঘটিয়াছিল, তাই বিমলার স্নেহোগত চোখের জল তাহাকে দুঃখ না দিয়া যেন কানায় কানায় ভরিয়া দিয়া গেল। সে জানালা খুলিয়া দিয়া বাহিরের দিকে তাকাইয়া পরিপূর্ণ হৃদয়ে ভাবিতে লাগিল, কী অদ্ভুত বস্তু এই নারীর হৃদয়। ইহার ভালবাসার পরিধির মধ্যে আত্মপর বিচারের এতটুকু স্থান নাই। ভগিনীরূপে-মাতৃরূপে-পত্নীরূপে যখনই সে ভালবাসিয়াছে, তখনই সম্ভব-অসম্ভবের গণ্ডী ছাড়াইয়া, শত বাধাবিঘ্ন মাড়াইয়া স্বচ্ছন্দে অবহেলে চলিয়া গিয়াছে, দেহ দিয়াছে, প্রাণ দিয়াছে, ইহকাল-পরকাল দিয়াছে, তবু ভালবাসার এক বিন্দু লাঘব করে নাই। শৈশব হইতেই নারীর স্নেহ-ভালবাসা পাইবার সুযোগ কিশোরের হয় নাই, কিন্তু এতকাল এ অভাব সে ভাল করিয়া অনুভব করিতে পারিত না। আজ তাহার পূর্ণ-যৌবনের ভরা আকাঙক্ষার দিনে কোথা হইতে এই একান্ত নিঃসম্পর্কীয়া রমণী আসিয়া ভাই বলিয়া তাহার পাশে দাঁড়াইল এবং ভগিনীর অপরাজেয় দাবি জানাইয়া দুটি অর্ধস্ফুট অবরুদ্ধ কথায় নিজের বুভুক্ষিত অন্তর উদঘাটিত করিয়া দেখাইয়া দিল! নিজের দিক হইতে কিশোর যে বিমলাকে পরমাত্মীয়ের দৃষ্টিতে দেখিয়াছে, তাহাকেও ছাপাইয়া ভাসাইয়া তাহার প্রতি বিমলার এই বিপুল স্নেহের পরিচয় কিশোরের হৃদয়কে একেবারে প্লাবিত করিয়া দিল। পুলকিত রসাপ্লুত অন্তরে সে ভাবিতে লাগিল বৌদিদি তাহাকে এত ভালবাসেন। —ঠিক নিজের ভাইয়ের মত! সে-ও তো তাঁহাকে আপনার ভগিনীর মতই দেখে কিন্তু ওঁর তুল্য ভালবাসা তাহার দ্বারা সম্ভব নহে। সমস্ত মন প্রাণ ঢালিয়া এমন করিয়া ভালবাসা, পুরুষ তো দূরের কথা কয়জন স্ত্রীলোকই বা পারে? কি রূপে, কি গুণে, তাহার এই বৌদিদি একেবারে অদ্বিতীয়, কোথাও তাঁহার দোসর নাই। একটা নিশ্বাস ফেলিয়া ভাবিল, কী স্ত্রী-ই তীর্থদা হারাইয়াছে!

    কিশোরবাবু, আজ আর কোথাও বেরুবেন নাকি? তার চেয়ে আসুন না, এইখানে বসেই গল্পসল্প করা যাক।

    কিশোরের চিন্তার জাল ছিন্ন হইয়া গেল, সে ঘাড় ফিরাইয়া দেখিল, বিনয়কৃষ্ণবাবু নিজের বাড়ির জানালায় দাঁড়াইয়া কথা কহিতেছেন।

    এই কয়দিনের মধ্যে তাঁহাদের সহিত কিশোরের বেশ ঘনিষ্ঠতা হইয়া গিয়াছিল। বালকের মত সরল বৃদ্ধটিকে সে মনে মনে বড় শ্রদ্ধা করিতে আরম্ভ করিয়াছিল। এতখানি পাণ্ডিত্যের সহিত এতটা ছেলেমানুষী যেমন তাহার কৌতুকপ্রদ বোধ হইত, তেমনই তাঁহার নিরহঙ্কার সহজ শিষ্টতা এবং ছোট বড় নির্বিশেষে সকলের সহিত সমান ব্যবহার তাহার প্রীতিও আকর্ষণ করিয়া লইয়াছিল।

    সে হাসিয়া বলিল, যেতে পারি, কিন্তু আজকের দিনে গরম গরম মুড়ি চালভাজা খাওয়ানো চাই।

    বিনয়বাবু মুখখানা নিরাশ করিয়া বলিলেন, এত বড় আশ্বাস কি আমি আপনাকে দিতে পারব? আর দিলেও যদি কথা না রাখতে পারি। সংসারের ঐ বিভাগটি আমার এলাকায় নয়। একটু হাসিয়া বলিলেন, আর বাকি সব বিভাগই যেন আমার এলাকায়। তা যাক, সুহাসকে জিজ্ঞাসা করে দেখি। শেষে রোখের মাথায় কথা দিয়ে ফেলে অপদস্থ হব।

    সুহাসিনী বোধ হয় ঘরের মধ্যেই ছিল, তাহার কণ্ঠস্বর শুনা গেল, উনি আসুন তো। তারপর দেখা যাবে।

    বিনয়বাবু বলিলেন, শুনতে পেলেন তো? এরকম ভাসা-ভাসা অনিশ্চিতের উপর নির্ভর করে যদি আসতে রাজী থাকেন তো বলুন।

    আচ্ছা, ওতেই হবে বলিয়া কিশোর নামিয়া গেল। কিশোরের জুতার শব্দ শুনিয়া বিমলা রান্নাঘর হইতে ডাকিয়া বলিল, ঠাকুরপো, খাবার খেয়ে বেরোও।

    বিনয়বাবুর কাছ থেকে এইমাত্র নিমন্ত্রণ পেলুম। এখন আর কিছু খাব না, বৌদি! বলিয়া কল বাহির হইল।

    বিনয়বাবুর ড্রয়িংরুমে বসিয়া তাঁহার সহিত একথা-সেকথা আলাপ করিতে করিতে মিনিট পনেরো কাটিবার পর, থালার উপর একরাশ চিড়াভাজা, মাড়োয়ারীর দোকানের ডালমুট ও পাঁপরভাজা লইয়া সুহাসিনী প্রবেশ করিল। টেবিলের উপর রাখিয়া বলিল, আপনার ফরমাশ-মত হল না, কিন্তু ঘরে আর কিছু ছিল না।

    কিশোর খাদ্যদ্রব্যগুলির উপর দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া বলিল, একেই বলে, পিপাসিত হয়ে চাহিলাম বারি, এনে দিল মকরন্দ! কোথায় চেয়েছিলুম মুড়ি চালভাজা, এল কিনা পাঁপরভাজা ডালমুট!–কিন্তু একটা পাত্রেই কি সকলের চলবে।

    সুহাসিনী বলিল, বাবা তো খাবেন না, ওঁর সহ্য হয় না।

    কিশোর চক্ষু বিস্ফারিত করিয়া বলিল, তবে কি আমি একাই এতগুলো খাব? আমার শরীরের আয়তন আর একটু বড় হলে কি আপনি আমাকে রাক্ষস মনে করলেন? আমি কি ফাঁপা?

    না না, আপনি আরম্ভ করুন না। খেতে না পারেন পড়ে থাকবে।

    বেশ, কিন্তু নষ্ট হলে দোষ দেবেন না।

    আপনি বোধ হয় চা খান, কিন্তু ঐ জিনিসটা দিতে পারলুম না। আমরা কেউ চা খাইনে।

    মাথা নাড়িয়া কিশোর বলিল, আমিও না। ওটা কোন কালেই বরদাস্ত হয় না।

    খাওয়া এবং গল্প চলিতে লাগিল।

    বিনয়বাবু বাহিরের দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া বলিলেন, জল থেমেছে দেখছি। পুরো চার ঘণ্টা একদমে বৃষ্টি হল।

    কিশোর চকিতের ন্যায় একবার সুহাসিনীর দিকে চোখ তুলিয়া আবার চিড়াভাজায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করিয়া বলিল, হ্যাঁ, এ বৃষ্টিটার দরকার হয়ে পড়েছিল, গরম যেন আর সহ্য হচ্ছিল না।

    বিনয়বাবু বলিলেন, দেখো, আমাদের দেশে এই বর্ষার আগমন একটা অদ্ভুত জিনিস, অন্য কোথাও এমনটি পাবে না। সেই প্রাচীনকাল থেকে কত কবিই না এর কথা লিখে গেছেন, কিন্তু আজও তার শেষ হয়নি। অসহ্য গরমে মানুষ পুড়ে যাচ্ছিল, গাছপালা শুকিয়ে উঠেছিল, নদী কেবল বালুসার হয়ে পড়েছিল, এমন সময় কোথা থেকে মেঘ এসে আকাশ অন্ধকার করে দিল, প্রবল জলধারায় পৃথিবী ঠাণ্ডা হয়ে গেল। এই দ্রুত পট পরিবর্তনে মানুষের মনে এমন একটি খুশির ভাব জেগে উঠে যে, তার আত্মার উল্লাস শত শত কাব্যে গানে প্রকাশ হয়ে পড়ে। আরও কত বাবে যে এই সহসা-মুক্ত মানব-মন আত্মপ্রকাশ করে তার ইয়ত্তা নেই।

    ঠিক কথা বলিয়া কিশোর এবার আর সুহাসিনীর দিকে তাকাইল না। তাহার নিজের সহসা-মুক্ত মানব-মন সম্প্রতি যে কিভাবে আত্মপ্রকাশ করিয়াছিল তাহা যদি সুহাসিনী ছাদের উপর হইতে দেখিয়া ফেলিয়া থাকে তবে আপাতত তাহার সহিত চোখাচোখি হওয়া বাঞ্ছনীয় নহে।

    বিনয়বাবু বলিতে লাগিলেন, সংস্কৃত সাহিত্যের সঙ্গে আমার ভাল পরিচয় নেই, কিন্তু যেটুকু আছে তা থেকে বুঝতে পারি যে, তার ঋতুবর্ণনার মধ্যে বর্ষা ঋতুই চৌদ্দ আনা স্থান জুড়ে আছে। সেকালের কবিরা যেন সব ঋতুকে ছেড়ে বর্ষাকেই বেশী করে বুকে টেনে নিয়েছিলেন। আর শুধু সেকালে কবিই বা বলি কেন? একালের রবীন্দ্রনাথের কথাই ধরো—তাঁর গানে কি বর্ষার সুর বেশী করে বাজেনি?

    কিশোর বলিল, রবীন্দ্রনাথকে একেলে কবি বলবেন না, আমাদের দেশের তরুণরা তাহলে ভয়ঙ্কর চটে যাবে।

    বিস্মিত হইয়া বিনয়বাবু বলিলেন, চটে যাবেন কেন?

    ওর মধ্যে কেন নেই। চটে যাওয়াই তাঁদের স্বভাব।

    বিনয়বাবু বুঝিতে পারিলেন না। তখন কিশোর তরুণদের মনোভাব তাঁহাকে ব্যাখ্যা করিয়া বুঝাইয়া বলিল। বৃদ্ধের মনে সত্যকার কাব্যরসবোধ ছিল, তিনি ব্যথিত হইয়া বলিতে লাগিলেন, না না, ও হতেই পারে না, কিশোরবাবু। আমাদের দেশের নূতন সাহিত্যিকরা রবীন্দ্রনাথের কাব্য উপভোগ করতে পারেন না এ কথা আমি ভাবতেই পারি না। রবীন্দ্রনাথ আর বঙ্কিমবাবুকে বাদ দিলে আমাদের ভাষায় কি থাকে বলুন দেখি?

    কিছু না—বলিয়া কিশোর সহসা নিজের সম্মুখস্থ থালার দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া বলিল, কিন্তু এ দিকেও যে কিছু নেই দেখছি! এ কী রকম হল? সত্যিই কি সব খেয়ে ফেললুম নাকি?

    মৃদু হাসিয়া সুহাসিনী বলিল, হ্যাঁ, অন্যমনস্ক হয়ে খেয়ে ফেলেছেন। কিশোর দুঃখিতভাবে মাথা নাড়িয়া বলিল, ভেবেছিলুম কম খেয়ে আপনাদের কাছে প্রশংসা অর্জন করব! কিন্তু আমার ভাগ্যই খারাপ, নিজের প্রকৃত স্বরূপ আমি চেপে রাখতে পারি না, অসাবধানে প্রকাশ হয়ে পড়ে।

    চাকর আসিয়া শূন্য থালা-গেলাস লইয়া যাইবার পর কিশোর রুমালে মুখ-হাত মুছিতে মুছিতে বলিল, এবার তাহলে মধুরেণ সমাপয়েৎ করুন—একটা গান হোক। সেদিন অধপথে আপনার গানে বাধা দিয়ে অবধি মনের গ্লানি কিছুতেই মুছে ফেলতে পারছি নে।

    সুহাসিনী বলিল, তাই গান শুনে বুঝি পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে চান?

    কিশোর উত্তর করিল, এমনও তো হতে পারে গঙ্গাস্নান করে পাপ ধুয়ে ফেলতে চাই।

    বিনয়বাবু বলিলেন, বেশ তো, বেশ তো, একটা গাও না, সুহাস।

    সুহাস অগানের কাছে গিয়া বসিল। কিছুক্ষণ লঘুস্পর্শে পদাগুলির উপর আঙ্গুল চালাইতে চালাইতে হঠাৎ পূর্ণকণ্ঠে গাহিয়া উঠিল—

    আমার নিশীথরাতের বাদলধারা
    এসো হে–গোপনে—

    কিশোরের মন আজ পূর্ব হইতেই নানা কারণে ছায়ানিবিড় ও রসঘন হইয়া ছিল, সুহাসিনীর কণ্ঠস্বর তাহার মধ্যে যেন তড়িবিকাশের মত চমকিয়া চমকিয়া উঠিতে লাগিল। সে মুখ নীচু করিয়া একাগ্র তন্ময় হইয়া শুনিতে লাগিল—

    একলা ঘরে চুপে চুপে
    এসো কেবল সুরের রূপে–
    দিয়ো গো, দিয়ো গো,
    আমার চোখের জলের দিয়ে সাড়া ॥

    গান থামিলে একটা নিশ্বাস ফেলিয়া কিশোর যেন কোন স্বপ্নলোক হইতে ফিরিয়া আসিল। তন্দ্রাবিষ্ট কণ্ঠে বলিল, কি সুন্দর আপনার গলা! আমি ড়ুবে গিয়েছিলুম।

    ইহা যে মামুলি চাটুবাক্য নহে, মুগ্ধ হৃদয়ের স্বতরুৎসারিত স্তুতি, তাহা বুঝিতে পারিয়া সুহাসিনীর মুখখানি রাঙা হইয়া উঠিল। কোনমতে লজ্জা দমন করিয়া সে বলিল, এবার আপনি একটা গান। করুন।

    চমক ভাঙ্গিয়া কিশোর বলিল, আমি গান করব? আমি তো গাইতে জানি না।

    ছদ্ম গাম্ভীর্যের সহিত সুহাসিনী বলিল, জানেন বৈকি। তখন যে ছাদের উপরে গাইছিলেন।

    এবার কিশোরের লাল হইবার পালা, সেকার্য সে ভাল করিয়াই করিল। কর্ণমূল পর্যন্ত রক্তবর্ণ হইয়া কোন রকমে বলিল, অ্যাঁ–ও—আপনি শুনেছিলেন বুঝি? তা সে তো গান নয়। কী মনে হল তাই একটা কবিতা আওড়াচ্ছিলুম—আজ এই হঠাৎ বৃষ্টি হয়ে—আপনিও তো ছাদে দাঁড়িয়ে ভিজছিলেন–বাদলার ছোঁয়াচ তো আপনারও–

    তাহাকে এই বিপন্ন অবস্থা হইতে মুক্তি দিবার জন্যই যেন এই সময় সাহেববেশী অনুপমচন্দ্র ঘরে প্রবেশ করিল।

    ওয়াটারপ্রুফ ও টুপি বাহিরে টাঙ্গাইয়া ঘরে ঢুকিতেই সম্মুখে কিশোরকে দেখিয়া অনুপম মুখখানা অন্ধকার করিয়া বিনয়বাবুর পাশে গিয়া বসিল। চেষ্টা করিয়া মুখে একটু শুষ্ক হাসি আনিয়া বলিল, একটা কাজে এদিকে এসেছিলুম, তাই ভাবলুম দেখা করে যাই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }