Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026

    ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    March 20, 2026

    মায়া, আজটেক ও ইনকা সভ্যতা – আবদুল হালিম

    March 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প603 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – ১৫

    পর্ব ১৫

    স্বাগত সেই ছাপগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল, “এখানে বাচ্চা আসবে কোথা থেকে? বাঁদরের পায়ের ছাপ নয় তো?”

    রামমূর্তি স্যর বললেন, ‘বাঁদরের পায়ের ছাপ অমন হয় না। এই বলে তিনি পকেট থেকে আতশ কাচটা বার করে তুলে দিলেন স্বাগতর হাতে। সেটা দিয়ে ছাপগুলো দেখার পর স্বাগতও নিশ্চিত হল সেই ছাপগুলো কোনও মানুষেরই পদচিহ্ন, কোনও বাচ্চারই পায়ের ছাপ। স্বাগত কাচটা স্যরের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বলল, ‘খুব অদ্ভুত ব্যাপার তো!’

    রামমূর্তি স্যর বললেন, ‘আমার অনুমান কোনও বাচ্চা কাল রাতে মন্দিরে ঢুকেছিল!’

    এরপর তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘তুমি গিয়ে এবার ওদের চারজনের কাজের তদারকি কর। আমি মজুরদের কাজ দেখি। তবে এই পায়ের ছাপের ব্যাপারে অন্যদের কিছু বলার দরকার নেই। বিশেষত নাতাশা বা মজুরদের কানে কথাটা গেলে তারা এ ব্যাপারটা নিয়ে অন্য কিছু ধারণা করতে পারে।’

    প্রফেসর রামমূর্তি এরপর সে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে গেলেন মজুরদের কাজ দেখার জন্য। আর স্বাগতও গিয়ে যোগ দিল অন্য চারজনের সঙ্গে। পায়ের ছাপের ব্যাপারটা স্বাগতর মনের মধ্যে ঘুরতে লাগল। আগের দিনের মতোই বিকাল চারটে নাগাদ কাজ শেষ করে মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে এল সকলে। বাইরে বেরিয়ে সবাই যে যার নিজের ঘরে ঢুকে পড়ল।

    নিজের ঘরে ফিরে পোশাক পাল্টে স্বাগত কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার বাইরে বেরিয়ে পড়ল সেই খামের যুবতীর সঙ্গে সাক্ষাতের আশায়। আজ সারাদিন নানা কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝেই স্বাগতর মনে পড়েছে তার কথা। দেখা যাক সে এই মন্দির সম্পর্কে কী কাহিনি শোনায়? আলো নরম হয়ে এসেছে। সূর্যদেব বিষ্ণুলোকের আড়ালে অদৃশ্য হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তবে তার অদৃশ্য হতে এখনও ঘণ্টাখানেক সময় লাগবে। মেয়েটার কথা শুনবে বলে এদিন অন্যদিনের থেকে কিছুটা আগেই নির্দিষ্ট স্থানের দিকে রওনা হল স্বাগত।

    চেনা পথ ধরে সে জায়গায় পৌঁছে গেল স্বাগত। সন্ধ্যা নামতে এখন বেশ খানিকটা দেরি। স্পষ্ট আলো থাকলেও জায়গাটা একইরকম নির্জন-শান্ত। জায়গাটায় পৌঁছে শুয়ে থাকা স্তম্ভর ওপর স্বাগত বসে তাকাল চারপাশ। লতাগুল্মর আবরণ ভেদ করে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ফলকের গায়ে খোদিত নারী মূর্তিটা। যার সঙ্গে স্বাগত সাক্ষাৎ করতে এসেছে সে নিঃশব্দেই এসে উদয় হয়। স্বাগতকে আজ কিন্তু তার জন্য প্রতীক্ষা করতে হল না। যে স্তম্ভর ওপর বসতে যাচ্ছিল ঠিক সেই সময় পাথরের নারী মূর্তির খুব কাছেই একটা গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল সেই খামের কন্যা। স্বাগতকে দেখে তার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল, যেন সে স্বাগত আসবে বলেই প্রতীক্ষা করছিল।

    এর আগের দিনের থেকেও আজ আরও কাছাকাছি তারা দু’জন। স্বাগত স্পষ্ট অনুভব করতে পারছে তরুণীর শরীরের সুগন্ধীর ঘ্রাণ। খামের যুবতী প্রথমে তার কথা শুরু না করে চেয়ে রইল স্বাগতর দিকে। কেমন যেন নিষ্পলক একটা চাহনি!

    স্বাগতর উদ্দেশে সে বলল, ‘ওখানে নয়, এখানে আসুন। ওখানকার পাথরগুলো এখনও ঠান্ডা হয়নি।’

    স্বাগত আপত্তি করল না। সে এগল মেয়েটার দিকে। মেয়েটা যেখানে তাকে ডেকে নিল সে জায়গাতেও বসার মতো কয়েকটা পাথর খণ্ড পড়ে আছে। স্বাগত যে জায়গায় বসে সে স্থানের জায়গাটা পুরোপুরি উন্মুক্ত নয়। বেশ কয়েকটা বড় গাছ সেখানে এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে যে স্বাগত যে রাস্তা ধরে এখানে আসে তা এখান থেকে দেখা যায় না। তবে বিষ্ণুলোকের শৃঙ্গগুলো দেখা যাচ্ছে। খামের যুবতী তাকে একটা পাথরের খণ্ড ইশারায় দেখিয়ে দিল। স্বাগত বসল সেখানে। আর যুবতী বসল তার কয়েক হাত তফাতে আর একটা পাথর খণ্ডর ওপর।

    এর আগের দিনের থেকেও আজ আরও কাছাকাছি তারা দু’জন। স্বাগত স্পষ্ট অনুভব করতে পারছে তরুণীর শরীরের সুগন্ধীর ঘ্রাণ। খামের যুবতী প্রথমে তার কথা শুরু না করে চেয়ে রইল স্বাগতর দিকে। কেমন যেন নিষ্পলক একটা চাহনি! কিছুটা তফাতে থেকে পাথর খোদিত নারী মূর্তিও তাকিয়ে আছে তার দিকে। সেই যুগল চাহনিতে মৃদু অস্বস্তি বোধ করল স্বাগত। কথা শুরু করার জন্য স্বাগত মেয়েটাকে পাথরের মূর্তিটা আঙুল তুলে দেখিয়ে বলল, ‘ওই মূর্তিটা কার বল তো? দেখতে খুব সুন্দর।’

    খামের যুবতীর ঠোঁটে আবারও হাসি ফুটে উঠল। প্রশ্নর সরাসরি জবাব না দিয়ে যুবতী তাকে প্রশ্ন করল, ‘ওই মূর্তিটা নাকি আমি? কে বেশি সুন্দরী বল তো?’

    মেয়েটার কাছ থেকে হঠাৎ এমন প্রশ্ন আসবে স্বাগত তা আশা করেনি। একটু ইতস্তত করে সে জবাব দিল, ‘পাথর খোদিত মূৰ্তি যত সুন্দরই হোক না কেন জীবন্ত মানুষ বেশি সুন্দর হয়।’

    স্বাগতর জবাব খামের যুবতীকে খুশি করল কি না স্বাগত তা ঠিক বুঝতে পারল না। পাথরের মূর্তিটার দিকে তাকিয়ে সে বলল, ‘ওই মূর্তিও একদিন রক্ত মাংসর মানুষ ছিল।’—এ কথা বলে সে নির্বাকভাবে চিবুকটি একটু তুলে ধরে চেয়ে রইল বিষ্ণুলোকের মাথার ওপর সূর্যর দিকে। সূর্য গোলক সোনালি থেকে ধীরে ধীরে লাল বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। স্বাগত মেয়েটার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছে মন্দির সম্পর্কে তার কাহিনি শোনার জন্য। তাই সে বলল, ‘তোমার গল্প এবার শুরু কর? যা আগের দিন আমাকে শোনাবে বলেছিলে?’

    খামের যুবতী বলল, ‘হ্যাঁ, শোনাব তোমাকে। তবে তার আগে তোমার কাছে আমার একটা অনুরোধ আছে।’

    ‘কী অনুরোধ?’

    যুবতী জবাব দিল, ‘আমার সঙ্গে তোমার এই যে সাক্ষাৎ তা তুমি গোপন রেখ অন্যদের কাছে।’

    স্বাগত জবাব দিল, ‘আচ্ছা। তাই হবে। এবার তুমি বল তোমার কথা।’

    আবারও কয়েক মুহূর্তর নিস্তব্ধতা। মেয়েটা এরপর বলতে শুরু করল—

    ‘সে যে কত যুগ আগের কাহিনি তার হিসাব রাখা আজ কঠিন কাজ। তারপর কত মানুষের মৃত্যু হল, যাদের আত্মারা আবার নতুন দেহ ধারণ করল, জন্ম-মৃত্যুর কত খেলা যে নগরীতে ঘটেছে তা কেবল ভগবান বিষ্ণুই বলতে পারবেন। বিষ্ণুলোকে যে সব পুণ্যবান আত্মারা স্থান পেয়েছিলেন তাঁদের আর পুনর্জন্ম হয়নি। কিন্তু তাঁদের সংখ্যা নগণ্য। আর বাকি আত্মারা বারবার দেহ বদল করেছে, আজও করে চলেছে। আবার কেউ হয়তো বা সে সুযোগও পায়নি। তবে তারা সবাই এ নগরীরই আদি বাসিন্দা।’

    এ কথা বলে একটু থামল সেই যুবতী যেন তার মনের কথা গুছিয়ে বলার জন্য। তারপর আবার বলতে শুরু করল, ‘আমি যে কথাগুলো বলব তা গল্প নয়, ফেলে আসা অতীতের সত্যি কাহিনি। সব কাহিনি তো আর তোমাদের বইয়ের পাতায় লেখা হয় না। তবে কিছু কিছু কাহিনি লেখা হয়ে আছে ওই বিষ্ণুলোকের গায়ে। এখানকার প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে, আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে। সবার পক্ষে সে কাহিনি পাঠ করা সম্ভব নয় না কারণ সে সব কাহিনি লিপিতে খোদিত নয়। আমার কাহিনি তেমনই এক কাহিনি। এ নগরী এখন আজকের মতো খণ্ডর মৃত নগরী ছিল না, ছিল মন্দির-প্রাসাদ-অট্টালিকা শোভিত খামের সাম্রাজ্যের রাজধানী। সে সাম্রাজ্যের সীমানা ছিল মেকং নদীর সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূর দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এ নগরীকে সে সময়ও অনেকে ‘বিষ্ণু নগরী’ বলে ডাকত। তার কারণ সম্রাট সূর্যবর্মন নির্মিত ওই বিষ্ণুমন্দির। তাকে ঘিরেই এখানে আবর্তিত হতো এ নগরীর সব কিছু। নগরী তোরণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্দির তো বটেই এমনকী অট্টালিকার মাথাতেও খোদিত থাকত ভগবান বিষ্ণুর প্রতিকৃতি। সারাদিন জন কোলাহল, শকটের শব্দ আর মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনির শব্দে মুখরিত থাকত এ নগরী। সূর্য ডোবার আগে এ সময় রাজপ্রাসাদে, মন্দিরে, সাধারণ মানুষের গৃহে প্রদীপে সলতে স্থাপনের কাজ শুরু হতো। বিষ্ণুলোকের আড়ালে সূর্যদেব যখন প্রস্থান করতেন তখন ধীরে ধীরে জ্বলে উঠত প্রদীপমালা। লক্ষ লক্ষ প্রদীপের আলো ঘুচিয়ে দিত এ নগরীর অন্ধকার। সত্যি কোনও অন্ধকার ছিল না মহারাজ সূর্যবর্মনের রচিত বিষ্ণুলোকে। রাজা সূর্যবর্মন বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করলেও তাঁর পূর্ববর্তী রাজারা ছিলেন শৈব ধর্মাবলম্বী। রাজধর্ম বৈষ্ণব হলেও তার আমলে শৈব ধর্মের লোকেরা ছিল আর ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। সূর্যবর্মন ছিলেন বুদ্ধিমান, বিবেচক শাসক। তিনি জানতেন বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে কলহ-বিবাদ সাম্রাজ্যের ভিতকে দুর্বল করে দেয়। তখন কোনও শক্ত আক্রমণ হলে তা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়। তাই তিনি তার পারিষদদের মধ্যে সবাইকে স্থান দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে যেমন ছিলেন সম্রাট সূর্যবর্মনের প্রধান পরামর্শদাতা পরম বিষ্ণুভক্ত ব্রাহ্মণ দিবাকর, তেমনই ছিলেন শৈব ধর্মাবলম্বী প্রধান সেনাপতি রুদ্ররূপ, বৌদ্ধ সন্ন্যাসী মহামঙ্গল ও শ্রেষ্ঠী বিকচ, যিনি ছিলেন জলদেবীর উপাসক। এদের চারজনের পরামর্শ মতোই রাজ্য পরিচালনা করতেন সূর্যবর্মন। তাই এ নগরীতে বা দেশে তাঁর আমলে কোনও বিদ্রোহ বা হানাহানি ছিল না। তবে শত্রু কি ছিল না মহারাজ সূর্যবর্মনের সাম্রাজ্যে? হ্যাঁ, ছিল। সে জাতির নাম ছিল চাম। এ দেশের পূর্ব দিকে চম্বক রাজ্যে বসবাস করত তারা। যুদ্ধবাজ ও কিছুটা হিংস্র প্রকৃতির লোক ছিল তারা। তবে তাদের প্রকৃত দেশ কোথায় ছিল বলা যায় না। তাদের পূর্বপুরুষরা নাকি সমুদ্র পথে এসে উপস্থিত হয়েছিল সে জায়গায়। মহারাজ সূর্যবর্মন একবার কিছু কালের জন্য চম্পক রাজ্য জয় করতে পেরেছিলেন ঠিকই, তবে বেশিদিন তিনি চম্পক রাজ্যকে দখলে রাখতে পারেননি। কারণ, তাদের রাজ্য ছিল দুর্গম অরণ্য বেষ্টিত আর চাম সৈনিকরা ছিল গুপ্তহত্যা আর তির নিক্ষেপে সিদ্ধহস্ত। শোনা যায় চাম সৈনিকরা নাকি তির নিক্ষেপের সময় বলত, ‘হয়, এই তির শত্রুর বুকে বিদ্ধ হোক অথবা ফিরে এসে আমার বুকে লাগুক।’ তির নিক্ষেপের ব্যাপারে এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিল তারা। তবে চাম নারীরা কিন্তু ছিল তাদের পুরুষদের বিপরীত স্বভাবের। তাদের মন ছিল কোমল। আর তারা দেখতে ছিল অত্যন্ত সুন্দরী। যাই হোক ওই চামেরা মাঝে মাঝে আক্রমণ, লুটপাঠ চালাত সীমান্তবর্তী এলাকায়। তবে মহারাজ সূর্যবর্মনের সৈন্যরা কোনও দিন শৈব ধর্মের উপাসক চামেদের এ নগরীর কাছে পৌঁছতে দেয়নি। কিন্তু মহাকাল বড় নিষ্ঠুর। সে কোনও সময়ই কোনও সম্রাটকে হাজার বছরের জন্য সিংহাসনে আসীন করে না।’ একটানা কথাগুলো বলার পর একটু থেমে স্বাগতর মুখের দিকে তাকাল সেই খামের যুবতী। হয়তো বা স্বাগত তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছে কি না তা বোঝার জন্য। এতক্ষণ খামের সুন্দরী যে কথাগুলো বলে গেল তার অনেকটাই স্বাগতর পড়া বা জানা। তবে সে স্বাগতর দিকে তাকাতেই স্বাগত হেসে বলল, ‘বলে যাও। তোমার কথা শুনতে মন্দ লাগছে না।’

    মেয়েটা আবার দৃষ্টিপাত করল বিষ্ণুলোকের দিকে। সে এখানে আসার পর বেশ খানিকটা সময় অতিবাহিত হয়েছে। খামের কন্যার দৃষ্টি অনুসরণ করে স্বাগত দেখল সূর্য এবার চলতে শুরু করেছে বিষ্ণুমন্দিরের আড়ালে।

    যুবতী আবার বলতে শুরু করল তার কথা—— ‘হ্যাঁ, যা বলছিলাম। সময়ের নিয়মে একদিন মহারাজ সূর্যবর্মন দেহ রাখলেন। মহাসমারোহে তার অন্ত্যষ্টিক্রিয়া পিণ্ডদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল। তাঁর আত্মা প্রবেশ করল তাঁরই নির্মিত বিষ্ণুলোকে। মরণোত্তর তাঁকে ব্রাহ্মণরা ‘পরম বিষ্ণুলোক’ উপাধিতে ভূষিত করলেন। যার অর্থ হল ‘বিষ্ণুলোকের বাসিন্দা’। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর একটা সমস্যা তৈরি হল। আঙ্করের বিষ্ণুমন্দিরের রূপকার সূর্যবর্মন তাঁর সিংহাসনের কোনও উত্তরাধিকারী নির্বাচন করে যাননি। সূর্যবর্মনের শ্যালক হরিদেব যাকে তিনি চম্পক রাজ্য জয় করার জন্য পাঠিয়ে ছিলেন এবং চম্পক রাজ্য কিছুকালের জন্য দখল হওয়ার পর তাকে তার সিংহাসনে বসিয়েছিলেন সেই হরিদেব এবং সূর্যবর্মনের এক ভাই ধরণীন্দ্রবর্মনের মধ্যে সিংহাসনের দাবি নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ব্রাহ্মণদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ সমর্থন জানায় বিষ্ণুর উপাসক ধরণীন্দ্রবর্মনকে। বৌদ্ধদের সমর্থনও ছিল তাঁর প্রতি আর শৈব ধর্মের প্রতি অনুরক্ত হরিদেবকে সমর্থন জানায় ব্রাহ্মণদের অপর অংশ যাঁরা ছিলেন খামের রাজবংশের আদি দেবতা মহাদেবের উপাসক। কিন্তু বিপদ ওত পেতে অপেক্ষা করছিল সুযোগের সন্ধানে। খামের রাজের সিংহাসনে কে বসবে তা নিয়ে যখন নিজেদের মধ্যে বিবাদ চলছিল ঠিক সেই সময় অতর্কিতে চম্পক রাজ জয়া ইন্দ্রবর্মন আক্রমণ করে বসলেন খামের রাজ্য। সেই অতর্কিত আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ল রাজাহীন সেনাবাহিনী। সেনাপতিরাও সিংহাসনের উত্তরাধিকার লড়াইতে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল সেই সময়। কাজেই খামের সেনাদের সংখ্যা চামেদের তুলনায় অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও তারা কোনও প্রতিরোধ করতে পারল না। চামেরা এসে দখল নিল এ নগরীর। চলল তাদের লুণ্ঠন আর হত্যালীলা। বিবাদমান খামেদের দু’পক্ষকেই রাজধানী ছেড়ে পালাতে হল দক্ষিণ দিকে।

    যাঁরা ইতিপূর্বে খামের রাজসভাতে শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করে এসেছে এবং নিজের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধির জন্য ধরণীন্দ্রবর্মন বা হরিদেবকে সমর্থন করছিল তারা এবার নিজেদের বিপদ বুঝতে পারল। কারণ, অভিজাত শ্রেণির সকলেরই সম্পদ লুণ্ঠন করছে চামেরা। তা সে শৈব মতালম্বী হোক বা বিষ্ণুর উপাসক হোক, কারও নিস্তার নেই চামেদের হাত থেকে। বিবাদমান দুই পক্ষ শেষ পর্যন্ত বসে সিদ্ধান্ত নিল যে একযোগে লড়াই করতে হবে চামেদের বিরুদ্ধে। তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর রাজ্য দুটো ভাগে বিভক্ত করা হবে।

    যতদিন না সর্বসম্মতি ক্রমে কাউকে খামের সম্রাট রূপে নির্বাচন করা হচ্ছে ততদিন রাজ্যের এক অংশ শাসন করবেন হরিদেব, অন্য অংশ শাসন করবেন ধরণীন্দ্রবর্মন। যাঁর শাসনব্যবস্থা উত্তম বলে বিবেচিত হবে তিনিই ভবিষ্যতে অখণ্ড খামের সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসবেন। বাস্তব পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে হরিদেব ও ধরণীন্দ্রবর্মন এ সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন। তাদের সম্মিলিত বাহিনী যুদ্ধ শুরু করল চামেদের বিরুদ্ধে। বেশ কয়েক বছর ধরে চলল সেই যুদ্ধ। অবশেষে একদিন চামেদের হাত থেকে মুক্ত হল এই মন্দির নগরী, তারপর চামেদের হটিয়ে দেওয়া হল এ রাজ্য থেকে। বিজয় উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হল। ব্রাহ্মণ, পুরোহিতরা সিদ্ধান্ত নিলেন ধরণীন্দ্রবর্মন ও হরিদেব দু’জনে বিষ্ণুমন্দিরের সামনে সে সময় যে বিশাল প্রস্তর বেদি ছিল সেখানে একসঙ্গে উপস্থিত হয়ে উৎসবের সূচনা করবেন ও বিষ্ণুমন্দিরের তোরণে চন্দন লেপন করে চামেদের হাতে ক্ষতিগ্রস্ত বিষ্ণুলোকের সংস্কার সাধনের সূচনা করবেন।

    উৎসবের সূচনার দিন স্থির হয়ে গেল। সেদিন ফুল মালায় সেজে উঠল সারা বিষ্ণুলোক। সারা নগরী জুড়ে শুধু ধূপের গন্ধ আর শঙ্খধ্বনির শব্দ। দ্বিপ্রহরে শুরু হবে উৎসব। সারা নগরীর লোকেরা এসে উপস্থিত হল বিষ্ণুলোকের সামনে। ব্রাহ্মণ পুরোহিতের দল তো সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই সে স্থানে পৌঁছে গিয়েছিল মাঙ্গলিক পূজা অর্চনার আয়োজন করার জন্য। সূর্য এখন মধ্যাহ্নের কাছাকাছি পৌঁছল এখন সবাই প্রস্তুত হল যুদ্ধজয়ের দুই কাণ্ডারির আগমনের জন্য। পুরোহিতরা স্বর্ণপাত্র হাতে দাঁড়াল তাঁদের দু’জনের ললাটে মঙ্গল চিহ্ন এঁকে দেওয়ার জন্য, খামের সুন্দরীরা সাজি হাতে প্রস্তুত হল পুষ্পবৃষ্টি করার জন্য। যে পথ ধরে এসে ধরণীন্দ্রবর্মন এবং হরিদেব এসে বেদিতে উঠে দাঁড়াবেন তার দু’পাশে সার বেঁধে হস্তীমুখ দাঁড় করানো হল তাঁদেরকে অভিবাদন জানাবার জন্য।

    একসময় তুমুল হর্ষধ্বনি উঠল। হরিদেবের রথ এসে উপস্থিত হয়েছে। রথ থেকে নামলেন হরিদেব। শঙ্খধ্বনি শুরু হল তাঁকে স্বাগত জানাবার জন্য। রথ থেকে নেমে দৃপ্ত ভঙ্গিতে বেদির দিকে হাঁটতে শুরু করলেন হরিদেব। ঠিক যেমন সম্রাটরা সিংহাসনের দিকে এগয় তেমনই তাঁর হাঁটার ভঙ্গি। শুধু যেন তাঁর মাথায় রাজ মুকুটটাই নেই। হয়তো বা আর কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর সেই মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে। হেঁটে চলেছেন হরিদেব। পথের দু’পাশে হাতির দল তাদের পিঠে বসা মাহুতের নির্দেশে শুঁড় তুলে অভিবাদন জানাচ্ছে তাঁকে। তিনি এখন প্রায় বেদিতে ওঠার সিঁড়ির কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়ের মতো শেষ হাতিটা অন্যদেরই মতো শুঁড় তুলে অভিবাদন জানাল হরিদেবকে। তারপর হঠাৎই এগিয়ে এসে হরিদেবকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে ওপরে উঠিয়ে আছাড় মারল পাথর বসানো মাটিতে। মুহুর্তের মধ্যে চূর্ণ হয়ে গেল হরিদেবের মস্তক, সে মস্তকে হয়তো বা একদিন খামের সাম্রাজ্যের মুকুট উঠতে পারত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    আঁধার রাতের বন্ধু – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    Our Picks

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026

    ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    March 20, 2026

    মায়া, আজটেক ও ইনকা সভ্যতা – আবদুল হালিম

    March 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }