Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026

    ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    March 20, 2026

    মায়া, আজটেক ও ইনকা সভ্যতা – আবদুল হালিম

    March 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প603 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – ২

    পর্ব ০২

    “কম্বোডিয়াতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের বাহন বাইক রিকশ—টুকটুক। তার সামনের অংশটা
    মোটর বাইকের, আর পিছনের অংশটা আমাদের টোটো রিকশ মতো ছাদ ঢাকা, কিন্তু চারপাশ উন্মুক্ত। অনায়াসে ভালোভাবে চারপাশের যাত্রাপথ দেখা যায়। চারজন সওয়ারি আরামে বসতে পারে সেখানে। রাজধানী নমপেন থেকে শুরু করে মন্দির নগরী আঙ্করভাট সংলগ্ন সিয়েমরিপ। সর্বত্রই এই বাহনের দেখা মেলে। পর্যটকদের জন্যও স্বল্প খরচে ভ্রমণের জন্য এই যান বেশ উপযোগী। এয়ারপোর্ট লাগোয়া হোটেল থেকে এমনই এক বাহনে চড়ে বসেছিল সুরভী ও আরও তিনজন। অর্থাৎ নাতাশা, বিক্রম আর প্রীতম। গতকাল মধ্যরাতে দিল্লি থেকে তারা প্রথমে পৌঁছেছিল ব্যাংকক। সেখান থেকে ফ্লাইট ধরে তারা কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে এসে নেমেছে বেলা দশটায়। রাত দশটায় তারা আবার একটা গাড়িতে রওনা হবে সিয়েমরিপ অর্থাৎ আঙ্করভাটের উদ্দেশে। প্রফেসর রামমূর্তি তাদের জন্য তেমনই ব্যবস্থা করে রেখেছেন। কাজেই হাতে একটা বেলা চারপাশের দ্রষ্টব্য দেখার সময় আছে। তাই হোটেলে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে মধ্যাহ্নভোজ সেরে বেরিয়ে পড়েছে তারা। তাদের গন্তব্য শহরের লাগোয়া ‘কিলিং ফিল্ড’ নামের এক জায়গা। কম্বোডিয়া বলতে লোকের শুধু আঙ্করভাটের কথাই মনে আসে। নমপেনের এই কিলিং ফিল্ড নামের জায়গাটার কথা আগে কোনওদিন শোনেনি সুরভী, নাতাশা বা বিক্রম। প্রীতমই কোনও একটা ইউটিউব চ্যানেলে দেখেছে ওই স্মারকস্থল সম্পর্কে। জায়গাটা নাকি খুব রোমহর্ষক, গায়ে কাঁটা দেওয়া। সত্তর-আশির দশকে এই কম্বোডিয়ার শাসন ক্ষমতা দখল করেছিলেন খামের রুজ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা জেনারেল পলপট। সে সময় এ দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষকে হত্যা করেন তিনি। ওই কিলিং ফিল্ড বা বধ্যভূমিতে নাকি স্মারক নির্মাণ করা আছে নিহত মানুষদের স্মরণে। প্রীতমের পরামর্শ মতো সেটাই দেখতে চলেছে তারা। কারণ, প্রত্যেকেই তারা ইতিহাস সম্পর্কে আগ্রহী। তাদের পড়াশোনার বিষয় আর্কিওলজি। যার অন্যতম অংশই তো হল ইতিহাস।

    নমপেন রাজধানী শহর হলেও খুব একটা বড় শহর নয়। বড়বড় সরকারি ইমারত কিছু আছে ঠিকই, কিন্তু অধিকাংশ বাড়ি-ঘরই সাধারণ মানের। রাস্তায় চারচাকার গাড়ি বাস ইত্যাদির তুলনায় বাইক রিকশ বা দ্বিচক্র যানের সংখ্যাই বেশি। তবে রাস্তা বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সাজানো গোছানো। রাস্তার মোড়ে আইল্যান্ডগুলোতে শোভা পাচ্ছে বুদ্ধমূর্তি বা প্রাচীন কোনও মন্দিরের স্মারকের অংশ। কোথাও কোথাও সরকারি ভবন বা হোটেলের মাথায় উড়ছে কম্বোডিয়ার জাতীয় পতাকা। আঙ্করভাটের বিষ্ণু মন্দিরের ছবি আঁকা আছে তাতে। রাস্তার পাশে ফুটপাতের গায়ে সারসার দোকান পাট। অধিকাংশই ফল আর খাবারের দোকান। সেখানে কোথাও বিক্রি হচ্ছে ড্রাগন ফল, আবার কোথাও অনেকটা কাঁঠালের মতো দেখতে অচেনা স্থানীয় কোনও ফল৷ কোনও দোকানে আবার ঝুলিয়ে রাখা আছে লাল বর্ণের রোস্ট করা আস্ত শূকরের দেহ অথবা হাঁসমুরগি। রাস্তাতে লোকজনও আছে। স্থানীয় ছোটখাট চেহারার খামের নারী পুরুষ। অতি সাধারণ পোশাক তাদের পরনে, কারও মাথায় বাঁশের টোকা বা টুপি। দেখে মনে হয় খুব সাধারণ জীবনযাপন করে তারা। কখনও বা চোখে পড়ছে মুণ্ডিত মস্তক, পিঙ্গল বর্ণের পোশাক পরা বৌদ্ধ সন্ন্যাসী বা শ্বেতাঙ্গ ট্যুরিস্টদেরও। একবার একটা ট্রাফিক সিগনালে তাদের বাহন দাঁড়িয়ে পড়তেই বিক্রম রাস্তার পাশে একটা দোকানের দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে বলল, ‘আর ওই দেখ কী বিক্রি হচ্ছে!’ তার দৃষ্টি অনুসরণ করে অন্যরা তাকাল সেই দোকানের দিকে। মাংসর দোকান। তবে মুরগি বা শূকরের মাংসর দোকান নয়। দোকানের সামনে হুক থেকে ঝুলছে বেশ কয়েকটা কুমির! ক্রেতাও আছে দোকানে। ঝুলন্ত কুমিরের গা থেকে মাংস কেটে বিক্রি করা হচ্ছে সেখানে! দোকানটা সওয়ারিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বুঝতে পেরে চালক তাদের উদ্দেশে বলল, ‘আমাদের দেশে কুমিরের মাংস খুব জনপ্রিয়। নানান জায়গাতে কুমির খামার আছে। মাংস আর চামড়ার জন্য কুমির চাষ করা হয় সেখানে। এখানে একটা বাজার আছে যেখানে রান্না করা কুমিরের মাংস পাওয়া যায়, কুমিরের চামড়ার ব্যাগ, জুতো পাওয়া যায়, আপনারা চাইলে আমি আপনাদের সেখানে নিয়ে যেতে পারি।’

    তার কথা শুনে প্রীতম অন্যদের উদ্দেশে বলল, ‘চল, কুমিরের মাংস চেখে দেখবে নাকি? আমার পরিচিত একজন থাইল্যান্ড কুমিরের মাংসর বার্গার খেয়েছিল। তার মুখে শুনেছি কুমিরের মাংস নাকি বেশ সুস্বাদু!’

    প্রস্তাবটা শুনেই নাতাশা বলল, ‘ওয়াক! আমি কখনও এসব অখাদ্য-কুখাদ্য খাব না। প্রয়োজন হলে না খেয়ে থাকব তাও ভালো। আমি খাবও না, তোমাদের সঙ্গে ওসব জায়গায় যাবও না।’

    এ কথা বলার পর পাছে গাড়ির চালক কুমিরের মাংসের খাবারের দোকানে গাড়ি নিয়ে যায় সেই ভয়ে নাতাশা তাঁকে বলল, ‘আপনি যেখানে আমাদের নিয়ে যাচ্ছেন, সেখানেই আমাদের নিয়ে চলুন। এখন অন্য কোথাও আমরা যাব না।’

    গাড়ি আবার তার নির্দিষ্ট পথে চলতে শুরু করল। তবে বিক্রম বলল, ‘কুমিরের মাংস খাই বা না খাই আমার একটা কুমিরের চামড়ার ওয়ালেট কেনার ইচ্ছা আছে। ব্যাংকক এয়ারপোর্টে একটা দোকানে বিক্রি হচ্ছিল। এমন দাম চাইল যে তা কেনা আমার সাধ্যের বাইরে। এয়ারপোর্টে অবশ্য সব কিছুই দশ-বারো গুণ দাম চায়। এখানে বা সিয়েমরিপে সস্তায় পেলে কিনব।’

    সুরভী বলল, ‘তেমন হলে আমিও একটা ব্যাগ কিনব। স্মৃতি হয়ে থাকবে। তাছাড়া ও জিনিস তো আমাদের দেশে পাওয়া যায় না।’

    নিজেদের মধ্যে নানান কথা বলতে বলতে, চারপাশে রাস্তার নানান জিনিস দেখতে দেখতে এগিয়ে চলল তারা। কিলিং ফিল্ড জায়গাটা শহরের বাইরের অংশে। একসময় শহরের বাইরে এসে পড়ল তারা। রাস্তার দু’পাশে চাষের খেত আর তাল গাছের সারি। মাথায় টিনের ছাউনিওলা ঘরবাড়ি। রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকা ফাঁকা। কিছুক্ষণ সে পথ ধরে চলার পর তারা পৌঁছে গেল ‘কিলিং ফিল্ডে’। জায়গাটা উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। বাইরে থেকে ভিতরের কিছু গাছগাছালির মাথা চোখে পড়ছে। গেটের বাইরের চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছু ট্যুরিস্ট বাস ও গাড়ি। কয়েকটা দোকানও আছে। স্থানীয় কিছু লোক হাতে নিয়ে ফেরি করছে ডাঁটসহ পদ্মফুল, ধূপকাঠি আর পুস্তিকা। গাড়ি থেকে নেমে চারজন এগল প্রবেশ তোরণের দিকে। তোরণের ভিতর প্রবেশ করেই ডান দিকে টিকিট কাউন্টার। তার গায়ে একটা সাইনবোর্ডে লেখা আছে, ‘এই স্থান কমিউনিস্ট শাসক পলপটের আমলের বধ্যভূমি গুলির মধ্যে অন্যতম। বহু নর-নারী শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এখানে। বেশ কিছু গণ কবরস্থান রয়েছে এখানে— যা খামের রুজ শাসনকালের নির্মমতা নৃশংসতার সাক্ষী। গণ কবরগুলি থেকে সংগৃহীত মানুষদের দেহাংশ সংরক্ষিত আছে স্মৃতিসৌধে। নিরবতা বজায় রেখে সেই সব হতভাগ্য নর-নারীদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করুন। স্মৃতিসৌধ ও গণ কবরস্থানের পবিত্রতা বজায় রাখুন।’

    তারা টিকিট কাটার পর তাদের প্রত্যেকের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হল ইয়ার ফোন সমেত কি প্যাড যুক্ত মোবাইল ফোনের মতো একটা যন্ত্র। কিলিং ফিল্ডের কর্মী যন্ত্রের কার্যকারিতা বুঝিয়ে দিলেন। এই বধ্যভূমির প্রতিটি স্মারক স্থলের গায়ে এক -দুই এমন নম্বর লেখা আছে। ইয়ার ফোন কানে দিয়ে কি প্যাডে স্মারক স্থলের নম্বর টিপলে সে জায়গার ঘটনা ইতিহাস কানে ভেসে উঠবে। অর্থাৎ জিনিসটা হল ‘যান্ত্রিক গাইড’।

    ব্যাপারটা বুঝিয়ে দেওয়ার পর কিলিং ফিল্ডের সেই কর্মী কোন পথ ধরে এগতে হবে তা দেখিয়ে দিল তাদের। পাথরের স্তবক বিছানো পথ ধরে হাঁটতে শুরু করল তারা। কিছু দূরে সাদা টাওয়ারের মতো একটা স্থাপত্য দাঁড়িয়ে আছে। তার মাথার ওপরে ছাদটা অনেকটা প্যাগোডা শৈলীতে নির্মিত। চারপাশটা একেবারে নিস্তব্ধ। পথের পাশের জমিগুলো সবুজ গাছের গালিচা বিছানো অনেকটা উঁচু নিচু গল্ফ কোর্সের মতো। তার মধ্যে কোনও কোনও জায়গায় ছড়িয়ে আছে মাথায় খড় বা কাঠের ছাউনি দেওয়া, চারপাশ ঘেরা ছোট ছোট জায়গা। কিছু কিছু গাছও দাঁড়িয়ে আছে নানান জায়গাতে।

    চারজন চারপাশে দেখতে দেখতে গিয়ে দাঁড়াল সেই সৌধর সামনে। লম্বাটে আকৃতির দ্বিতল বাড়ির সমান উঁচু স্তম্ভর মতো স্মৃতিসৌধটা দাঁড়িয়ে আছে একটা বেদির ওপরে। শ্বেতপাথরের কয়েক ধাপ সিঁড়ি অতিক্রম করে সৌধর কাচের প্যানেল লাগানো দরজার সামনে। সেই সিঁড়ির একপাশে জলপূর্ণ শ্বেতপাথরের একটা টবে পদ্মফুল দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে গেছে কেউ বা কারা। তার সামনে মাথা নিচু করে হাঁটু মুড়ে নিশ্চল পাথরের মূর্তির মতো বসে আছে এক তরুণী। তার পোশাক দেখে তাকে স্থানীয় মানুষ বলেই মনে হল তাদের। জুতো খুলে বেদির ওপর উঠে পড়ল তারা। তারপর কাঠের প্যানেল বসানো দরজা ঠেলে স্মারক স্তম্ভর ভিতরে প্রবেশ করতেই চমকে উঠে কিছু সময়ের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ল তারা। স্মৃতিস্তম্ভর ভিতর মেঝে থেকে মাথার ওপর দিকে উঠে গেছে সার সার থাক। আর প্রতিটা থাক সাজানো আছে থরে থরে নর করোটি। তাদের শূন্য কোটরগুলো যেন করুণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আগন্তুকদের দিকে। সুরভী ও অন্য তিনজন কানে ইয়ার ফোন গুঁজে যন্ত্রের এক নম্বর বোতাম টিপল। শুরু হল ইংরেজিতে ধারা বিররণী—‘আপনার যে নর করোটি ও দেহাবশেষগুলো দেখছেন তা উদ্ধার করা হয়েছে এই কিলিং ফিল্ডের গণ কবর থেকে। এই সব নারীপুরুষদের পলপটের ঘাতক বাহিনী সত্তর থেকে আশির দশকের মধ্যবর্তী সময় নৃশংসভাবে হত্যা করে। ওরা কেউ ছিলেন শিক্ষক, কেউ কৃষক, কেউ বা শ্রমিক। খামের রুজ কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে এরা চক্রান্তকারী। এই সন্দেহে তাঁদের হত্যা করা হয়। এদের বয়স চল্লিশ ও তার ঊর্ধে। বিকৃত নৃশংস মনের অধিকারী পলপট মনে করতেন যৌবন উত্তীর্ণ মানুষরা সমাজের পক্ষে বোঝা। তাই তাঁর হত্যালীলার প্রথম লক্ষ্য ছিল চল্লিশ ঊর্ধ মানুষরা। যদিও যুবক বা শিশুরাও রক্ষা পায়নি ঘাতক বাহিনীর কবল থেকে। নানান অজুহাতে নানান বয়সি মানুষকে তিনি নির্মমভাবে হত্যা করেন। তাঁর হত্যালীলার কারণে কম্বোডিয়ার জনসংখ্যা এক তৃতীয়াংশ কমে। কম্বোডিয়াতে আশি ঊর্ধ মানুষ প্রায় দেখতে পাওয়া যায় না বললেই চলে…।’

    তারা চারজন চক্রাকারে হাঁটতে লাগল সেই স্মৃতিসৌধের ভিতর। টাওয়ারের মতো শোকেসগুলোর ভিতর সর্বত্রই থাকে থাকে সাজানো রয়েছে নর করোটি, কোথাও হাড়গোড় অথবা নিহত মানুষদের ছিন্ন পোশাক। আর তাদের কানে বেজে চলতে লাগল সে সময়কার নারকীয় ঘটনার বিবরণ। জেনারেল পলপট এক অদ্ভুত নির্দেশ জারি করেছিলেন। তা হল, খামের রুজ পার্টির অনুমতি ছাড়া কেউ চশমা পরতে পারবে না। তিনি মনে করতেন চশমা পরা ব্যক্তিরা হল শিক্ষিত ব্যক্তি। আর শিক্ষিত ব্যক্তি মানেই দেশ ও খামের রুজ কমিউনিস্ট পার্টির শত্রু। তাই বিনা অনুমতিতে চশমা পরার অপরাধে তিনি বহু মানুষকে হত্যা করেন। আর হত্যা করার পদ্ধতিও ছিল খুব নৃশংস ও যন্ত্রণাদায়ক। আপনারা যে নর করোটিগুলো দেখতে পাচ্ছেন, ভালো করে খেয়াল করে দেখুন অনেক করোটির মাথায় ছিদ্র বা ফাটা দাগ আছে। বন্দুকের গুলির খরচ কমাতে মানুষদের হত্যা করার জন্য তাঁর ঘাতক বাহিনী বিভিন্ন নৃশংস পদ্ধতি অবলম্বন করত। বন্দিদের হত্যা করা হতো মাথায় লৌহ দণ্ড দিয়ে আঘাত করে বা লৌহ শলাকা দিয়ে খুলি ফুটো করে। খুলির গায়ে জেগে থাকা ছিদ্র বা ফাটলগুলো সে ঘটনারই প্রমাণ…।’

    স্মারক স্তম্ভর ভিতরটা দেখার পর যখন তারা বাইরে বেরিয়ে বেদির নীচে নেমে দাঁড়াল তখন তারা চারজনই বাকরুদ্ধ। সুরভী অস্ফুট স্বরে শুধু বলল, ‘এত নৃশংস যে মানুষ হতে পারে এ জায়গা না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না।’

    সে জায়গা ছেড়ে এরপর তারা হাঁটতে শুরু করল চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য স্মারক স্থলগুলো দেখার জন্য। মাথায় ছাউনি দেওয়া ঘেরা জায়গাগুলো আসলে গণ কবরস্থান। সেখান থেকে উত্থিত করা হয়েছে নারী-পুরুষের দেহাবশেষ। প্রত্যেক জায়গাতে কাঠের ফলকে নম্বর লেখা আছে। সেই নম্বরের বোতাম টিপলেই সে জায়গা সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছে যন্ত্র গাইড। কোনও স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একশো জন নারীর কঙ্কাল। মৃত্যুর আগে যাদের ধর্ষণ করা হয়েছিল। আবার কোনও কবরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর বলছে, এখানে ঘুমিয়ে ছিল আট থেকে বারো বছর বয়সি কুড়িজন বালক। মাঠে খেলছিল তারা। মাঠের পাশ দিয়ে যাওয়া খামের রুজের সামরিক গাড়ির কনভয় দেখে তারা স্যালুট না করায় তাদেরকে কিলিং ফিল্ডে তুলে আনা হয় … ।

    একের পর এক গণ কবরগুলো দেখতে লাগল তারা। আর তার সঙ্গে সঙ্গে শুনে যেতে লাগল কিলিং ফিল্ডের হাড় হিম করা ঘটনার কথা। বেলা দুটো বেজে গেছে। কিলিং ফিল্ডের চারপাশে কেমন যেন অদ্ভুতরকম নিস্তব্ধ। তাদের মতো আরও কিছু বিদেশি পর্যটক ঘুরে বেড়াচ্ছে, ছবি তুলছে এখানে-ওখানে। কিন্তু কারও মুখে কোনও কথা নেই। কবরস্থানের মাঝখানে মাঝে মাঝে কাঠের বেঞ্চ আছে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য। কোনও কোনও বেঞ্চে নিশ্চুপভাবে বসে আছে স্থানীয় কোনও মানুষ। অপলক নির্বাক দৃষ্টিতে তারা হয়তো চেয়ে আছে কাছেই কোন গণ কবরের দিকে। হয়তো বা সেখানে চির নিদ্রায় শায়িত ছিল বা আছে তাদের পিতা-মাতা বা কোনও নিকটাত্মীয়। সে সব দেখতে দেখতে একসময় তারা চারজন দুটো ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। সুরভী আর নাতাশা এগল একদিকে, বিক্রম আর প্রীতম ঘুরে বেড়াতে লাগল অন্য দিকে।

    সুরভী আর নাতাশা একসময় হাঁটতে হাঁটতে এসে দাঁড়াল একটা বিশাল গাছের সামনে। সম্ভবত এই কিলিং ফিল্ডের সব থেকে বড় গাছ এটি। গাছের গুঁড়িটা বেশ মোটা। তার গায়ে কেউ বা কারা লাল-নীল নানান সুতো জড়িয়ে রেখেছে। গুড়ির নীচে ছোটখাট খেলনাও সুন্দর করে রাখা আছে। কয়েকটা পুতুল আবার গাছের গুঁড়ির গা থেকেও ঝুলছে। গাছের গুঁড়িটা সুরভী আর নাতাশার দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে তার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল তারা দু’জন। তাদের চোখে পড়ল গাছের গুঁড়ির পাশেই একটা কাঠের ফলকে লেখা আছে ‘কিলিং ট্রি’। অর্থাৎ হত্যা গাছ! জায়গাটার নম্বরও লেখা আছে ফলকে। ব্যাপারটা কী? সেটা জানার জন্য তারা দু’জনেই হাতের যন্ত্রর বোতাম টিপল। যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর বলতে শুরু করল, ‘আপনারা এখন দাঁড়িয়ে আছেন কিলিং ফিল্ডের সবথেকে নির্মম স্থানে। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কিলিং ট্রি। এখানে যে সব নারীদের হত্যা করার জন্য নিয়ে আসা হতো তাদের অনেকের সঙ্গেই দুগ্ধ পোষ্য শিশুরা থাকত। মাকে হত্যা করার আগে তাদের কোল থেকে শিশুসন্তানকে কেড়ে নিয়ে মায়ের চোখের সামনেই সেই শিশুকে এই গাছের গুঁড়ির গায়ে আছাড় মেরে হত্যা করে পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করত পলপটের ঘাতক বাহিনী। কয়েকশো নিষ্পাপ শিশুকে এই গাছের গুঁড়িতে এভাবেই হত্যা করা হয়। তাই এই গাছকে বর্তমানে ‘কিলিং ট্রি’ নামে ডাকা হয়। স্থানীয় মানুষরা সেই সব মৃত শিশুদের আত্মার শান্তির কামনায় গাছের গায়ে মন্দিরের পবিত্র সুতো, খেলনা বেঁধে রেখে যায়।

    এ পর্যন্ত কথাগুলো শোনার পরই হঠাৎ সুরভীর পাশে দাঁড়ানো নাতাশা নিজের কান থেকে ইয়ার ফোনটা হ্যাঁচকা টানে খুলে ফেলে বলল, “আমি আর এখানকার কিছু দেখতে চাই না, শুনতে চাই না। এ বিভৎসতা আর আমি নিতে পারছি না। শরীরটা কেমন যেন করছে!”

    উচ্চ স্বরে বলা নাতাশার কথাগুলো শুনে সুরভীও তার কান থেকে ইয়ার ফোন খুলে ফেলল। সত্যি কথা বলতে কী এ জায়গাতে ঘুরতে ঘুরতে সেও বেশ অস্বস্তি বোধ শুরু করেছে। সত্যিই এত নৃশংস ঘটনার বিবরণ ও তার সাক্ষ্য প্রমাণ দর্শন সাধারণ মানুষের পক্ষে গ্রহণ করা খুব কষ্টসাধ্য। ভাবলেই গা শিউরে ওঠে, মাথা ঝিমঝিম করে। সুরভী আর কথা শুনে কিছু দূরে অন্য একটা গাছের ছাওয়ার একটা বেঞ্চ দেখতে পেয়ে নাতাশাকে বলল, ‘চল তবে আমরা ওখানে গিয়ে বসি। ওদের দু’জনের দেখা শেষ হলে একসঙ্গে বাইরে বেরব।’ নাতাশা বলল, ‘হ্যাঁ, বসি। তবে যত তাড়াতাড়ি এ জায়গা ছেড়ে বাইরে বেরনো যায় তত ভালো।’

    সুরভী আর নাতাশা গাছের তলায় সেই বেঞ্চে গিয়ে বসল। দু’জনেই নিশ্চুপ। এ জায়গাটা তাদের মনের মধ্যে এমন অভিঘাত সৃষ্টি করেছে যে এ বিষয় নিয়ে বাক্যালাপ করে নিজের মনকে আর কষ্ট দিতে চায় না তারা। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রীতম এসে উপস্থিত হল তাদের কাছে। সে বলল, ‘তোমাদের বলেছিলাম না এই জায়গাটা রোমাঞ্চকর। ইউটিউবে কিছু ছবি দেখেছিলাম ঠিকই, তবে এখানে এসে চাক্ষুষ না করলে বুঝতে পারতাম না পলপট লোকটা কতটা ভয়ঙ্কর ছিল। তবে দুর্ভাগ্য পলপট নামের লোকটা তাঁর প্রাপ্য শাস্তি এড়িয়ে যেতে পেরেছিল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি বন্দি হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার চলার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। ফাঁসির দড়ি বা ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড়াতে হয়নি তাঁকে।’

    নাতাশা বলল, ‘বিক্রম ফিরলেই আমরা রওনা হব কিন্তু।’

    প্রীতম বলল, “ওই তো বিক্রম আসছে।”

    সুরভী দেখল কিছুটা দূরে একটা ছাউনির দিক থেকে বিক্রম সেদিকেই আসছে। তার হাতে ধরা বয়াম বা জারের মতো কিছু একটা।

    তাকে দেখতে পেয়ে সুরভী বেঞ্চ ছেড়ে উঠে পড়ল। নাতাশাও উঠে দাঁড়াল। এবার এই ভয়ঙ্কর জায়গা ত্যাগ করবে তারা। ঠিক এই সময় একটা কণ্ঠস্বর তাদের কানে খুব কাছ থেকে ভেসে এল ‘কোন দেশ থেকে এসেছেন আপনারা?’ তাদের কাছাকাছি এসে উপস্থিত হয়েছে একজন লোক। তার পরনে কালো স্যুট, চোখে সানগ্লাস, ছিপছিপে চেহারা, মাথার চুল ছোট করে ছাঁটা। তার শরীরের গঠন আর আকৃতি দেখে তাকে কম্বোডিয়ান বলেই মনে হল সুরভীর। সে জবাব দিল, ‘আমরা ইন্ডিয়া থেকে এসেছি।’

    জবাব শুনে লোকটা বলল, ‘ইন্ডিয়া! ভগবান বুদ্ধর দেশ তাই না?’

    সুরভী বলল, ‘হ্যাঁ, তা বলতে পারেন। বুদ্ধ তাঁর কর্মজীবন ইন্ডিয়াতেই অতিবাহিত করেন। তাঁর ধর্ম প্রচার করেন।

    লোকটা মৃদু হেসে বলল, ‘হ্যাঁ, শান্তির ধর্ম। ইন্ডিয়া থেকেই এ দেশে বৌদ্ধ ধর্মের আগমন ঘটে। এ দেশের নব্বই শতাংশ মানুষই তো বর্তমানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।’

    এ কথা বলার পর লোকটা বলল, ‘যদি আপনাদের দেখা না হয়ে থাকে তবে আপনারা আর একটা জায়গা দেখে আসতে পারেন। জায়গাটা এখান থেকে বেশি দূর নয়। একসময় যেটা ইশকুল ছিল। পলটপ তাকে বন্দি শিবির বা কনসেনট্রেশন ক্যাম্প বানিয়েছিলেন। বর্তমানে সেটা মিউজিয়াম। সেখানে গেলে বুঝতে পারবেন কী অমানুষিক নির্যাতন করা হতো বন্দিদের ওপর!’ লোকটার কথা শুনে নাতাশা কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল ঠিক সেই সময় বিক্রম এসে উপস্থিত হল সেখানে। তার হাতে একটা কাচের জার। সাদা পপকর্নের মতো দেখতে জিনিসে ভর্তি সেটা। বিক্রম জারটা দেখিয়ে তাদেরকে বলল, ‘এটা তোদের দেখাবার জন্য আনলাম। ওই ছাউনির নীচে টেবিলে রাখা ছিল। আবার সেখানেই রেখে আসব তোমাদের দেখা হয়ে গেলে। এই জারের ভিতরের জিনিসগুলো কী বল তো?

    প্রীতম বলল, “কী জিনিস? পপকর্ন?”

    বিক্রম জবাব দিল, ‘পপকর্ন নয়, ভালো করে দেখ।’ প্রীতম এরপর কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই সুরভীদের কাছে এসে দাঁড়াল লোকটা বলল, “আমি জানি এগুলো কী। পপকর্ন নয়, মৃত মানুষদের দাঁত। কিলিং ফিল্ডে মানুষদের এনে হত্যা করার আগে তাদের যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য দাঁত উপড়ে নেওয়া হতো। সেগুলোই রাখা আছে ওখানে।”

    একথা শুনেই সুরভীরা চমকে উঠে তাকাল কাচের পাত্রটার দিকে। হ্যাঁ, অগুনতি দাঁত রাখা সেই পাত্রর ভিতর। আর এরপরই মুখ দিয়ে একটা শব্দ তুলে নাতাশা হেলে পড়ল সুরভীর কাঁধের ওপর। সুরভী তাকে ধরে না ফেললে সে মাটিতেই পড়ে যেত। সুরভী আর বিক্রম তাকে ধরাধরি করে বেঞ্চের ওপর শুইয়ে দিল। জ্ঞান হারিয়েছে নাতাশা। ব্যাপারটা সে আর সহ্য করতে পারেনি। ব্যাগ থেকে জলের বোতল বার করে প্রীতম ঝাপটা দিতে শুরু করল নাতাশার মুখে। আর বিক্রম ছুটল তার হাতের জিনিসটাকে স্বস্থানে রেখে ফিরে আসার জন্য। মিনিট দুই সময়ের মধ্যে ফিরে এল সে। কিন্তু নাতাশার জ্ঞান তখনও ফেরেনি। এখন কী করা যায়? সেই লোকটা এখনও দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে। সে বলল, ‘আপনারা ভয় পাবেন না। একটু অপেক্ষা করুন আমি আসছি। একথা বলে সে দ্রুত এগল অন্য এক দিকে। সুরভীরা চেষ্টা করে যেতে লাগল নাতাশার জ্ঞান ফেরাবার।’

    কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকটা ফিরে এল। তার হাতে একটা ছোট শিশি। সে সেই শিশিটার ছিপি খুলে নাতাশার নাকের কাছে ধরতেই কয়েক মুহূর্তর মধ্যে কাশতে কাশতে চোখ মেলল নাতাশা। সে বেঞ্চে উঠে বসার পর লোকটা শিশিটা দেখিয়ে বলল ‘স্মেলিং সল্ট। এখানে এসে অনেকেরই এ ঘটনা ঘটে। তাই টিকিট কাউন্টারে স্মেলিং সল্ট রাখা থাকে।’

    নাতাশার ধাতস্থ হতে আরও কয়েক মিনিট সময় লাগল। তারপর উঠে দাঁড়াল সে। সুরভী লোকটার উদ্দেশে সৌজন্যর খাতিরে বলল, ‘সাহায্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়াতে সত্যি ঘাবড়ে গেছিলাম আমরা। কৃতজ্ঞতা জানাই আপনাকে। মাঝবয়সি লোকটা হেসে বলল, ‘কৃতজ্ঞতা জানাবার মতো কোন কাজ আমি করিনি। আসলে আমি এ জায়গাতে আরও দু’দিন এসেছি। তার মধ্যে একদিন আরও একজন লোক কিলিং ট্রি দেখে এমনই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলেন। একজন তখন স্মেলিং সল্ট এনে তাঁর সংজ্ঞা ফেরালেন। তখনই ব্যাপারটা জানলাম। সে অভিজ্ঞতাটাই কাজে লাগালাম।’ বিক্রম তাকে প্রশ্ন করল, ‘আপনি কি এখানেই থাকেন? কম্বোডিয়ার লোক?’ লোকটা জবাব দিল, ‘আমার জন্ম কম্বোডিয়ায় ঠিকই, কিন্তু জন্মের পরই আমি ফ্রান্সে চলে গেছিলাম। সেখানেই বড় হয়েছি, লেখাপড়া করেছি, কর্মজীবন শুরু করেছি। জানেন হয়তো একসময় কিছুকালের জন্য এ দেশটাও ফরাসিদের অধীনে ছিল।’

    এ কথা বলার পর একটু থেমে লোকটা হেসে বলল, ‘কিন্তু জন্মভূমির ওপর প্রত্যেক মানুষেরই টান থাকে। আমার বাপ-ঠাকুরদা পূর্বপুরুষা তো এখানেই জন্মেছিলেন। তাই এ দেশটার প্রতি আমারও আকর্ষণ আছে। তাই দেখতে এসেছি এ দেশটা।’ প্রীতম বলল, ‘আপনার নাম কি?’

    লোকটা জবাব দিল, ‘নারেঙ খাম।’ নামটা কিন্তু পিতামাতার দেওয়া খামের নাম, ফ্রান্সে থাকলেও আমি অন্য কোন ফরাসী নাম গ্রহণ করিনি।’

    এ কথা বলার পর নারেঙ খাম নামের ভদ্রলোক জানতে চাইলেন, ‘আপনাদের পরের গন্তব্য কোথায়?’

    সুরভী বলল, ‘আমরা আসলে এখানে একটা কাজে এসেছি। আমাদের পাঠানো হয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া থেকে আঙ্করভাটের এক মন্দির সংস্কারের কাজে। আমরা আজই এসেছি এখানে। রাতেই সিয়েমরিপের উদ্দেশে রওনা হব। হাতে কিছুটা সময় ছিল বলে এ জায়গা দেখতে এসেছিলাম।’

    খাম বললেন, ‘তাহলে হয়তো আপনাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়ে যাবে। আমিও আঙ্করভাট দেখতে সিয়েমরিপ যাব। তাছাড়া আমার ওখানে অন্য একটা কাজও আছে। সিয়েমরিপে বেশ কয়েকটা কুমির খামার আছে। ফ্রান্সে আমার একটা ব্যবসা আছে। ওখানে শৌখিন মানুষের সংখ্যা বেশি তাই কুমিরের চামড়ার জিনিসের চাহিদা প্রচুর। আঙ্কর ভাট দেখার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ওখানের কয়েকটা কুমির খামারেও যাব।’

    এ কথা বলার পর লোকটা বলল, ‘আপনাদের নামগুলো যদি বলেন তবে আমি একটু লিখে নেই। নতুন মানুষদের সঙ্গে পরিচয় হলে তাদের নাম লিখে নেওয়া আমার একটা অভ্যাস। তাছাড়া ভাবছি এ দেশ থেকে ফিরে গিয়ে আমি আমার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা বই লিখব। সেখানে আপনাদের সঙ্গে আজকে আমার পরিচয়ের ঘটনাও লিখব। নামগুলোও তখন কাজে আসবে।’— এ কথা বলে পকেট থেকে লাল রঙের একটা নোটবুক আর কলম বার করল লোকটা।

    সুরভী বানান করে প্রত্যেকের নাম বলে দিল তাকে। লিখে নিল লোকটা। তারপর সে তাদের থেকে বিদায় নিয়ে হাঁটতে শুরু করল অন্যদিকে। বিকাল হয়ে এসেছে। যদিও হাতে সময় আছে তবুও লোকটার বলে যাওয়া পলপটের কনসেনট্রেশন ক্যাম্প দেখতে যাওয়া আর উচিত বলে মনে করল না সুরভীরা। কারণ নাতাশা আবার অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই তারা এগল বাইরে যাওয়ার জন্য। তারা যখন সেই স্মারক সৌধ অতিক্রম করছে তখন বেলাশেষের আলো এসে পড়েছে সেই সৌধর গায়ে। সুরভী দেখল সৌধর ভিতর থেকে সার সার খুলিগুলো বিষণ্ণভাবে চেয়ে আছে তাদের দিকে। যেন তারা বলছে আমাদের মনে রেখ। কমিউনিস্ট পলপটের এই নৃশংসতার কথা জানিও পৃথিবীকে। একদিন আমরাও তোমাদেরই মতো মানুষ ছিলাম।’ নাতাশার মনের আতঙ্কর ভাবটা এখনও কাটেনি। কোনওক্রমে মাথা নিচু করে সে পেরল জায়গাটা। গেটের কাছে পৌঁছে গেল তারা। সেখানে ইয়ার ফোন আর যন্ত্রগুলো জমা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে তারা রওনা হয়ে গেল হোটেলে ফেরার জন্য।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    আঁধার রাতের বন্ধু – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    Our Picks

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026

    ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    March 20, 2026

    মায়া, আজটেক ও ইনকা সভ্যতা – আবদুল হালিম

    March 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }