Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প150 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. চা-বাগানের মধ্যে

    চা-বাগানের মধ্যে ঢুকে পড়ল এতোয়ারি। রাস্তাটি কিছুটা দূরে। কাউকে সেখানে যেতে আসতে দেখলে সে একটু নিচু হয়ে গেলেই হল। কারও নজরে পড়বে না। হঠাৎ বেশ উত্তেজিত হল সে। কাজটা করতে বেশ রোমাঞ্চ বোধ করছে। যদিও দূরের গাড়ি যাওয়ার রাস্তায় এখন কেউ নেই, তবু সে কোনও ঝুঁকি নিচ্ছিল না। গাড়ি না-আসুক সাইকেল চালিয়ে কেউ না-কেউ তো যেতেই পারে। হঠাৎ থমকে গেল এতোয়ারি।

    সামনের শেড ট্রি-তে একটা বড় সাপ দোল খাচ্ছে। ওটা যেমন লম্বা তেমনই মোটা। নিচু হয়ে বসে পড়ল এতোয়ারি। দোল খেতে খেতে সাপটা প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ল চা-গাছের ওপর। সঙ্গে সঙ্গে একটা শেয়াল ছটফটিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল সেখান থেকে। সাপটা ধীরে ধীরে চা-বাগানের মধ্যে ঢুকে গেল। সতর্ক পায়ে জায়গাটা পেরিয়ে এল এতোয়ারি।

    হাসপাতালে ফিরে এসে মাকে দেখতে পেয়ে স্বস্তি হল। সে জিজ্ঞাসা করার আগে মা-ই জিজ্ঞেস করল, “কোথায় গিয়েছিলি?”

    “ডাক্তারবাবুর বাড়িতে,” মুখ ফসকে বেরিয়ে এল শব্দ দুটো।

    “ওর ঘরে তো বউ আছে, নেই?”

    “আছে। না থাকলেই-বা কী হত?”

    “কিছু হলে তুই তো জানতেই পারতিস,” মা আবার হাসল।

    এই হাসিটা একটুও ভাল লাগল না এতোয়ারির। মা যেন এখন অন্যরকম হয়ে আছে।

    বড় নার্সকে প্যাকেট ফেরত দিতেই প্রশ্ন হল, “কে রে?”

    সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হল এতোয়ারি, “মানে?”

    “কার জন্যে ওগুলো নিয়ে গেলি?”

    “জানি না তো। ডাক্তারবাবুর বউ নিয়েছিল।”

    “ডাক্তারবাবুর বউ?” খুব অবাক হলেন বড় নার্স। তারপর কিছু ভেবে আর প্রশ্ন করলেন না।

    বিকেলে পেশেন্টদের দেখতে এলেন ডাক্তারবাবু, রোজ যেমন আসেন। সঙ্গে দুই নার্স। এতোয়ারি লক্ষ করল তার দিকে ডাক্তারবাবু একবারও তাকালেন না। ডাক্তারবাবু যখন একজন পেশেন্টকে বুকে স্টেথো চেপে পরীক্ষা করছেন, তখন দু’-দুটো গাড়ি এসে হাসপাতালের সামনে দাঁড়াল। গাড়ি দুটো থেকে নেমে এলেন এই চা-বাগানের চিফ অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার এবং পুলিশের পোশাক পরা ভারতীয় অফিসার। অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার গলা তুলে জিজ্ঞাসা করলেন, “হোয়ার ইজ ডক্টর? ডক্টর কিধার?”

    ছোট নার্স দৌড়ে বাইরের দরজায় গিয়ে উঁকি মেরে ফিরে এসে উত্তেজিত হয়ে বলল, “সেকেন্ড ম্যানেজার পুলিশকে নিয়ে এসে আপনাকে ডাকছেন।”

    ডাক্তারবাবু বড় নার্সকে রোগীর দায়িত্ব দিয়ে বাইরে বেরিয়ে ওঁদের দেখতে পেয়ে বললেন, “গুড আফটারনুন স্যার। আসুন, ভেতরে আসুন।”

    চিফ অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার বললেন, “এঁকে নিশ্চয়ই আপনি চিনবেন না। আমিও আজ প্রথম দেখলাম। উনি বাজারহাট পুলিশ স্টেশনের চার্জ নিয়েছেন।”

    ডাক্তার বললেন, “গ্ল্যাড টু মিট ইউ।”

    তাঁর বাড়ানো হাত আলতো স্পর্শ করে অফিসার বললেন, “আমাদের কাছে খবর আছে একজন ভয়ংকর ক্রিমিনাল এদিকের চা-বাগানগুলোতে শেল্টার নিয়েছে। গত রাতে একটা এনকাউন্টারে ওর শরীরে গুলি লেগেছে বলে আমি রিপোর্ট পেয়েছি। আপনাদের এই হাসপাতালে কোনও অজানা লোক উন্ডেড হয়ে ভরতি হয়েছে?”

    মাথা নাড়লেন ডাক্তার, “না, আমার জানা নেই।”

    পেছনে দাঁড়ানো ছোট নার্স বলল, “না স্যার। এরকম কেউ আসেনি।”

    অফিসার অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারকে বললেন, “আমি একবার হাসপাতালটা ঘুরে দেখতে চাই। আপনাদের সঙ্গে আসতে হবে না।”

    অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার বললেন, “আপনার গাইড হিসেবে এই নার্স গেলে সুবিধেই হবে।”

    অফিসার ছোট নার্সকে ইশারা করে সামনে যেতে বলে তাকে অনুসরণ করলেন। অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার বললেন, “গুলিতে উন্ডেড হয়ে কেউ হাসপাতালে ভরতি হলে আপনি নিশ্চয়ই জানতে পারতেন!”

    “নিশ্চয়ই।”

    “আমাদের এদিককার চা-বাগানগুলোতে সো কলড বিপ্লবীদের আসা-যাওয়ার কথা আগে কখনও শুনিনি। আশ্চর্য! এরা আমাদের এদেশ থেকে তাড়াতে চাইছে। আরে, আমরা চলে গেলে দেশটাকে চালাতে পারবে? এই চা-বাগানের কথাই ধরুন, আমরা ম্যানেজাররা যেভাবে বাগানের প্রোডাকশন, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করি, আমরা চলে গেলে ইন্ডিয়ানরা তা পারবে? ডাক্তার, আমাদের পরে ইন্ডিয়াতে টি ইন্ডাস্ট্রি থাকবে না।”

    ডাক্তার কথা বলছিলেন না। সেটা লক্ষ করে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার জিজ্ঞাসা করলেন, “আমার এই কথাগুলো কি ভাল লাগছে না?”

    ডাক্তারবাবুকে উত্তর দিতে হল না। তার আগেই থানার দারোগা ফিরে এলেন, পেছনে ছোট নার্স। অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার জিজ্ঞাসা করলেন, “দেখলেন?”

    “নাঃ। পেশেন্টরা বলছে তেমন কাউকে আসতে দেখেনি। আপনাদের এই বাগান না-হোক অন্য বাগানের হাসপাতালে গিয়ে থাকতে পারে।”

    মাথা নেড়ে দারোগা বললেন, “ওয়েল, আপনাদের সবাইকে বলছি, অজ্ঞাতপরিচয় কোনও লোক যদি আহত অবস্থায় আসে তা হলে তার চিকিৎসা করা, আশ্রয় দেওয়া মারাত্মক অপরাধ হবে। তেমন কেউ এলে তাকে আটকে রেখে সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দেবেন।”

    অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার বললেন, “অনেক ধন্যবাদ অফিসার। আপনারা আছেন বলেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এদেশে সুরক্ষিত।”

    অফিসার মাথা ঝুঁকিয়ে বললেন, “আই অ্যাম অলওয়েজ অ্যাট ইয়োর সার্ভিস স্যার,” দু’পা এগিয়ে ভদ্রলোক ঘুরে দাঁড়ালেন, “খুব সাবধানে সবাই থাকবেন স্যার। যে-লোকটিকে আমরা খুঁজছি, সে খুব বিপজ্জনক বিপ্লবী। বাঙালি হলে বুঝতাম। কিন্তু লোকটা মদেশিয়া। সন্দেহ করা হচ্ছে ওকে চা-বাগানের শ্রমিকরা শেল্টার দিতে পারে। যদি ধরা পড়ার পরে লোকটা পালাতে চায়, তা হলে ওকে আটকাতে না-পারলে খুন করলেও সরকার আপনাদের পুরস্কৃত করবে। আচ্ছা…” অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারের হাতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দারোগাবাবু গাড়িতে উঠলেন।

    অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার বললেন, “ডক্টর, খুব সাবধানে থেকো। আমরা বাগানের লেবারদের খুশি করার জন্যে একটা কাজ করার কথা ভাবছি। সেটা করতে পারলে এই বাগানের কুলিলাইন শান্ত থাকবে।”

    ডাক্তারবাবু যখন একা তাঁর চেয়ারে বসে ভাবছেন তখন বড় নার্স কাছে এসে নিচু গলায় জিজ্ঞাসা করলেন, “ও কি চলে যেতে পেরেছে?”

    ডাক্তারবাবু বললেন, “জানি না।”

    “আপনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ হয়ে থাকলাম স্যার।”

    “এসব কথা থাক।”

    “আপনি যদি সাহায্য না-করতেন তা হলে ও মরে যেত।”

    “ঠিক আছে। এসব কথা থাক,” ডাক্তারবাবু নিচু স্বরে বললেন, “ওর কথা তুমি হাসপাতালের কাউকে বলোনি তো?”

    “না। শুধু এতোয়ারি জানে। মনে হয় ও কাউকে বলবে না। একটু পরে ওকে নিয়ে যেতে লোক আসবে। অন্ধকারে বেরিয়ে যেতে পারবে।”

    “তুমি বলেছিলে ও তোমার ভাই হয়…”

    “হ্যাঁ। আমার মামার ছেলে। ওর নাম নোয়াম, তাই বলেছে তো?”

    মাথা নাড়লেন ডাক্তারবাবু।

    কিন্তু তাঁর খুব স্বস্তি হচ্ছিল না। সাধারণত কেউ খুন না-হলে চা-বাগানে পুলিশ আসে না। শ্রমিকদের মধ্যে মারামারি হয়েছে, রক্ত ঝরেছে তবু পুলিশ আসেনি, ক্ষুব্ধ শ্রমিকরাই থানায় গিয়েছে। আজ থানার বড়বাবু সটান চলে এলেন চা-বাগানে, হাসপাতালে ঢুকে আহত লোকটির খোঁজ নিলেন, এর পেছনে নিশ্চয়ই ওপর মহলের চাপ আছে। দশটা খুনিকে ধরলে হয়তো একটু বেতনবৃদ্ধি হয়, কিন্তু একজন বিপ্লবীকে ধরলে চাকরিতে প্রোমোশনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়। বিশেষ করে সেই বিপ্লবী যদি যদি কোনও ইংরেজকে আহত বা খুন করে থাকে, তা হলে কথাই নেই। ডাক্তারবাবু চিন্তিত হলেন।

    এই তল্লাটে হাতে গোনা কয়েকজন ডাক্তার আছেন। তাঁদের অধিকাংশই বিভিন্ন চা-বাগানের কর্মী। একশো মাইলের মধ্যে গুনলে তিনজনের বেশি হবে না। চা-বাগানের বাইরে গঞ্জের মানুষদের চিকিৎসার জন্যে দু’জন আধা ডাক্তার আছেন। এঁদের সবাই এখন নিশ্চয়ই পুলিশের নজরে পড়েছেন। ডাক্তারবাবুর মনে হল, তাঁর কোয়ার্টার্সের ওপর পুলিশের লোক নজর দিচ্ছে না তো!

    এতোয়ারি দরজায় এসে দাঁড়িয়ে তাঁকে নমস্কার জানাল। প্রতিদিন ছুটির পরে ঘরে ফেরার আগে সে এটা করে। ডাক্তারবাবু মাথা নাড়লেন, মুখে কিছু বললেন না। তারপরই তাঁর খেয়াল হল। বললেন, “তুমি একবার আমার কোয়ার্টার্সে যেতে পারবে?”

    “কিছু আনতে হবে?” এতোয়ারি জিজ্ঞাসা করল।

    “না, আনতে হবে না, তুমি তো এখন লাইনে ফিরে যাচ্ছ?”

    “হ্যাঁ। মাকে নিয়ে ফিরে যাব।”

    “ও। তা হলে থাক,” ডাক্তারবাবু উঠে দাঁড়ালেন।

    “বলুন না। আমার কোনও অসুবিধে হবে না,” এতোয়ারি বলল।

    একটু ভাবলেন ডাক্তারবাবু। মেয়েটাকে বিশ্বাস করা যেতে পারে। নোয়ামের পা থেকে গুলি বের করতে দেখেও যে হাসপাতালে ফিরে এসে কাউকে সেকথা বলেনি। কিন্তু এখন অন্য কোনও পথ তাঁর সামনে নেই। ভেবেছিলেন পুলিশ এই বাগানে নজর দেবে না। বাগান পত্তন হওয়ার পর থেকে কখনও কোনও ব্যাপারে পুলিশকে এখানে নাক গলাতে হয়নি। সাধারণ অপরাধগুলোর ব্যাপারে বড় ম্যানেজার যা সিদ্ধান্ত নিতেন, তাই সবাই মেনেছে এতকাল। এখন দিন বদলাচ্ছে। দশ বছর আগে কেউ কি ভেবেছে সাদা চামড়ার মানুষগুলোকে এই দেশ থেকে তাড়ানোর জন্য কালো চামড়ার ভারতীয়রা মরিয়া হয়ে উঠবে? এই ব্যাপারে বাঙালি, বিহারি, মদেশিয়া, ওঁরাও এক হয়ে যাবে!

    ডাক্তারবাবু বললেন, “তুমি তোমার মাকে নিয়ে আমার কোয়ার্টার্সে যাও। আমার স্ত্রীকে বলবে আমি তোমাদের পাঠিয়েছি। আমি না-ফেরা পর্যন্ত তোমরা অপেক্ষা করবে।”

    মাথা নেড়ে চলে গেল এতোয়ারি।

    রাতের বেলায় হাসপাতালের সব ঠিকঠাক থাকবে কি না নজর বুলিয়ে যখন কোয়ার্টার্সে ফেরার জন্যে ডাক্তারবাবু পা বাড়িয়েছেন, তখন বড়সাহেবের গাড়ি হেডলাইট জ্বালিয়ে সামনে এসে দাঁড়াল।

    হুডখোলা গাড়ির জানলা থেকে মুখ বের করে বড়সাহেব বললেন, “গুড ইভনিং, ডক্টর। হসপিটালে কোনও প্রবলেম নেই তো?”

    “গুড ইভনিং স্যার। সব ঠিক আছে,” হাসলেন ডাক্তারবাবু।

    “উঠে এসো। তোমাকে আজ হাঁটতে হবে না। আমি নামিয়ে দিচ্ছি।”

    গাড়িতে উঠে বসলেন ডাক্তারবাবু। গাড়ির ইঞ্জিন চালু করে বড়সাহেব বললেন, “তুমি নিশ্চয়ই শুনেছ আমাদের এই দেশ থেকে তাড়াতে যে-আন্দোলন শুরু হয়েছে, তার ছোঁয়া ডুয়ার্সের চা-বাগানগুলোতে লেগেছে। অথচ দ্যাখো, ব্রিটিশরা যদি এই অঞ্চলে চা-বাগান তৈরি না-করত, তা হলে জায়গাটা জন্তু জানোয়ারদের রাজত্ব হয়ে থাকত। স্বাধীনতা আন্দোলন, সাহেব খুন করে দেশ স্বাধীন করবে। নিজের দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই অথচ দৌড়োবার স্বপ্ন দেখছে। তুমি কি শুনেছ একজন ম্যানেজারকে গুলি করে মারতে গিয়ে তার ড্রাইভারকে ওরা মেরে ফেলেছে? যে-লোকটা মারা গেল সে কী দোষ করেছিল? বলো!”

    ডাক্তারবাবু মাথা নাড়লেন, কথা বললেন না।

    “অথচ দ্যাখো ডক্টর, চা-বাগানে কাজ পেয়ে যারা দু’বেলা খেতে পাচ্ছে, আরামে থাকছে তাদের পূর্বপুরুষরা বিহারে কীভাবে বেঁচে ছিল, তা নিশ্চয়ই ওরা জানে না,” অন্ধকার চা-বাগানের মাঝখান দিয়ে গাড়ি চালাতে চালাতে বড়সাহেব কথা বলছিলেন। হঠাৎ গাড়ির হেডলাইটের আলোয় কিছু চোখে পড়ায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে বললেন, “দেখতে পাচ্ছ?”

    ডাক্তারবাবু দেখতে পেলেন। একটা চিতাবাঘ ঠিক রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে এদিকে তাকিয়ে আছে। গাড়ির হেডলাইট পছন্দ না-হওয়ায় চিতাবাঘ পাশের জঙ্গলে ঢুকে গেল।

    বড়সাহেব বললেন, “আমি যখন প্রথম এই চা-বাগানে চাকরি করতে এসেছিলাম, তখন বাঘের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। সেটা তিরিশ বছর আগের কথা। যাকগে, আমার মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয়, আমাদের কুলিলাইনের কিছু মানুষকে ওদের পূর্বপুরুষের দেশে পাঠাই। গিয়ে দেখে আসুক, সেখানে ওদের আত্মীয়রা কেমনভাবে বেঁচে আছে,” হাসলেন ম্যানেজার, “অবশ্য তারা যদি এখনও বেঁচে থাকে তবেই জানা যাবে।”

    ডাক্তারবাবু হেসে ফেললেন। বড়সাহেব জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি হাসছেন?”

    “হাসছি কারণ, ছেলেবেলায় পড়েছিলাম, সবকিছু আবার গোড়ায় ফিরে যায়। আপনি যা ভেবেছেন তা সত্যি অভিনব। যারা যাবে, তারা ফিরে এসে পূর্বপুরুষের দেশের গল্প শোনাতে পারবে।”

    “ঠিক তাই। তখন এরা কমপেয়ার করতে পারবে ওখানে থাকলে সুখে থাকত না, এখানে সুখে আছে। বড়সাহেব বললেন, “এটা দেখলে স্বাধীনতার ভূত আর মাথায় উঠবে না।”

    ক্রমশ গাড়ি চা-বাগান ঘেঁষা কোয়ার্টার্সগুলোর সামনে পৌঁছে গেল। ডাক্তারবাবু বড়সাহেবকে ধন্যবাদ জানালে তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেলেন। এখনও অন্ধকার হালকা, খানিকটা দূরের গাছপালা ভাল দেখা যাচ্ছে না। ডাক্তারবাবুকে দেখে একটা লোক এগিয়ে এল, কপালে আঙুল ছুঁইয়ে বলল, “সেলাম ডকদর সাব। আপনি এসে গিয়েছেন এবার আমি যেতে পারি।”

    “তুমি কী করছিলে এখানে?”

    “অর্ডার ছিল, বাইরের লোক এখানে লুকিয়ে আছে কি না তা দেখা। রাত্রে বাঘের ভয়ে কেউ আসবে না। দিনের বেলাতেও কেউ আসেনি,” কপালে আঙুল ছুঁইয়ে লোকটা বড়রাস্তা ধরে চলে গেল।

    বাইরের দরজায় শব্দ করতেই ডাক্তারবাবুর স্ত্রী দরজা খুলে বললেন, “এসো। চা হয়ে গিয়েছে।”

    ভিতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ডাক্তারবাবু নিচু গলায় জিজ্ঞাসা করলেন, “যে-মেয়েটি দুপুরে এসেছিল, সে কি ওর মাকে নিয়ে এসেছে?”

    “এসেছিল। আবার চলেও গিয়েছে।”

    “সে কী! ওকে যে আমি থাকতে বলেছিলাম।”

    “শুনেছি। কিন্তু আমি ওদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। অযথা ওদের বিপদে ফেলে কী হবে। মেয়েটা কিন্তু খুব সিরিয়াস ধরনের!”

    “কীরকম?”

    “বলে গেছে ও পেছনের নদীর ধারে রাত দশটা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। যদি দরকার হয়ে ওকে…”

    “বাঃ,” ডাক্তারবাবু ভেতরের ঘরে ঢুকে দেখলেন হারিকেন জ্বলছে। তাঁদের বসার এবং শোওয়ার ঘরগুলোতে হ্যাজাক জ্বলে। নদীর স্রোত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে শুধু ফ্যাক্টরির ইঞ্জিন চালানো হয়। শোনা যাচ্ছে, খুব শিগগির শক্তিশালী ডায়নামো এনে ম্যানেজারদের বাংলো, বাবুদের কোয়ার্টার্সে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। ডাক্তারবাবু লোকটাকে দেখলেন। খাটের পাশে টুলের ওপর বসে আছে।

    ডাক্তারবাবুকে দেখেই নোয়াম কপালে আঙুল ছুঁইয়ে নমস্কার জানাল।

    “কেমন আছ এখন?”

    “খুব ব্যথা, তবে আগের চেয়ে ভাল। আমাকে যে পৌঁছে দিয়েছিল, সে কি এসেছে? আমি একা হেঁটে যেতে বোধহয় পারব না,” নোয়াম বলল।

    “না। এলেও আমার সঙ্গে দেখা করেনি,” ডাক্তারবাবু বললেন।

    “ওঃ,” নোয়ামের মুখে হতাশা ছড়িয়ে গেল।

    “চিন্তা কোরো না। নিশ্চয়ই আসবে। কিছু খেয়েছ?”

    “হ্যাঁ, মা চা দিয়েছেন। চা আর মুড়ি।”

    পকেট থেকে কতগুলো ট্যাবলেট বের করে নোয়ামকে দিলেন ডাক্তারবাবু, “এখন একটা ট্যাবলেট খেয়ে নাও। আর-একটা রাতের খাবার খেয়ে খাবে। মনে হয়, দু’দিনেই তুমি অনেকটা ঠিক হয়ে যাবে।”

    শুনে নোয়াম হাসল। ডাক্তারবাবু সেটা লক্ষ করেও কিছু বললেন না।

    নোয়াম বলল, “আমার পক্ষে তো বেশি দূরে হেঁটে যাওয়া সম্ভব হবে না, কেউ যদি না-নিতে আসে, তা হলে আমি কী করব ভেবে পাচ্ছি না!”

    “তুমি যে আমার এখানে আছ, তা তোমার দলের লোকেরা নিশ্চয়ই জানে। তারা নিশ্চয়ই তোমাকে নিরাপদে নিয়ে যাবে। তবে তোমার খোঁজে এই বাগানেও পুলিশের চর ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাই যত তাড়াতাড়ি এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারো তত ভাল।”

    ডাক্তারের কথা শেষ হতেই একটা হুইসলের আওয়াজ ভেসে এল। পর পর দু’বার।

    সঙ্গে সঙ্গে নোয়াম উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল, “আমি এবার যেতে পারি।”

    “ওই শব্দ কি তোমার দলের লোক করল?”

    “হ্যাঁ।”

    “কিন্তু তুমি তো হেঁটে যেতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। অপেক্ষা করো, ওরা নিশ্চয়ই এখানে এসে তোমাকে নিয়ে যাবে,” কথাগুলো বলে ডাক্তারবাবু ভেতরে চলে গেলেন।

    কিন্তু মিনিট দশেকের মধ্যেও কারও সাড়া পাওয়া গেল না। আধঘণ্টা পরে ডাক্তারবাবু যখন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, তখন উঠোনের পেছনের দরজায় শব্দ হল। ডাক্তারবাবুর স্ত্রী ভেতরের বারান্দায় গিয়ে চাপা গলায় জিজ্ঞাসা করলেন, “কে?”

    “আমি!” কাঁপা স্বর বেরিয়ে এল মহিলাকণ্ঠ থেকে। ডাক্তারবাবুর স্ত্রী টর্চ জ্বাললেন, “এ কী! তুমি?”

    পায়ে পায়ে এতোয়ারি সামনে এসে দাঁড়াল, “আমি।”

    “ওহ! কী ব্যাপার? এত রাতে কেন ফিরে এলে?”

    “ডক্টরসাব এসেছেন?”

    উত্তর দিতে হল না। তার আগেই ডাক্তারবাবু বেরিয়ে এলেন, “কী হয়েছে?”

    “ওকে নদীর ধারে নিয়ে যেতে বলল,” এতোয়ারি বলল।

    “কে বলল?”

    “ওর বন্ধু। এদিকে আসতে ভয় পাচ্ছে। বলল, ওকে শাড়ি পরিয়ে নিয়ে গেলে বিপদ হবে না। বলল, তাড়াতাড়ি করতে।”

    “তোমাকে কি লোকটা চেনে?”

    “না। বড় নার্স ওকে নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন। বললেন, লোকটা এখানে এলে বিপদ হতে পারে। আমি যদি নদীর ধারে পৌঁছে দিই, ও লাইনের পাশ দিয়ে নিয়ে যেতে পারবে,” এতোয়ারি বলল।

    ডাক্তারবাবুর স্ত্রী জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি যে-কাজটা করতে এসেছ, তার জন্যে পুলিশ তোমাকে ধরে জেলে ঢুকিয়ে দিতে পারে, তা কি জানো?”

    একটু চুপ করে থেকে এতোয়ারি বলল, “কাজটা নিশ্চয়ই ভাল কাজ, না-হলে ডক্টরসাব বলতেন না।”

    এতোয়ারিকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে ওঁরা ভেতরে চলে গেলেন। এতোয়ারি আকাশের দিকে তাকাল। আজ আকাশে আলো নেই। মেঘের পরে মেঘ জড়িয়ে যাচ্ছে আকাশে। ঘরে ফিরে ওরা বাবাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখেছিল। এতোয়ারিকে অবাক করে ওর মা জিজ্ঞাসা করেছিল বাবার সামনে দাঁড়িয়ে, “খিদে পেয়েছে?” বাবা যতটা অবাক হয়ে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলেছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি অবাক হয়েছিল এতোয়ারি। মা এতোয়ারির দিকে তাকিয়ে হেসে বলেছিল, “আজ আমি ভাত চাপাই।”

    শাড়ি পালটে মা যখন হাতমুখ ধুতে গেল, তখন এতোয়ারির মনে হচ্ছিল আজ মা যেন অন্যরকম, একটু খুশি খুশি ভাবভঙ্গি! শেষ কবে মাকে এইরকম সে দেখেছে মনে পড়ল না।

    ডাক্তারবাবুর গলা কানে এল, “এই মেয়েটির সঙ্গে যাও।”

    এতোয়ারি দেখল একটা সাধারণ শাড়ি পরা ঘোমটা মাথায় দেওয়া মহিলাকে অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ডাক্তারবাবু বললেন, “ওর নাম এতোয়ারি। ওকে বিশ্বাস করতে পারো। তোমার পা থেকে যখন গুলি বের করছিলাম, তখন ওর সাহায্য দরকার হয়েছিল। এতোয়ারি, ওকে সাবধানে নিয়ে যাও।”

    ঘোমটার আড়াল থেকে পুরুষকণ্ঠে প্রশ্ন করল, “যে পাঠিয়েছে তার নাম কী? তোমাদের বড় নার্সের সঙ্গে কে ছিল?”

    “একজন ছিল। নাম বলেনি আমাকে।”

    একটু যেন দ্বিধায় পড়ল শাড়ির আড়ালে থাকা লোকটা। তারপর পা বাড়াল। বোঝা যাচ্ছিল পা ফেলতে কষ্ট হলেও সেটা সহ্য করছে সে।

    খুঁড়িয়ে হাঁটলেও নদীর ধারে পৌঁছাতে ছ’মিনিটের বেশি লাগল না। এতোয়ারির মনে হচ্ছিল লোকটাকে বলে, সুবিধে হলে তার কাঁধ ধরতে পারে। কিন্তু সংকোচে বলতে পারছিল না। নদীর ধারে পৌঁছনো মাত্র অন্ধকার ফুঁড়ে দুটো লোক বেরিয়ে এল। চাপা গলায় নোয়ামের সঙ্গে কথা বলে একজন এগিয়ে এল এতোয়ারির সামনে, “অনেক ধন্যবাদ তোমাকে। তুমি এবার ঘরে ফিরে যাও।”

    মাথা নেড়ে নদীর জলের দিকে পা বাড়াচ্ছিল এতোয়ারি, পেছন থেকে মাথার ঘোমটা সরিয়ে নোয়াম ডাকল, “তোমার কী নাম তা বলে যাও।”

    একটু ইতস্তত করে নিজের নাম বলল এতোয়ারি। তারপর অন্ধকারে হাঁটুজলের নদী পার হয়ে ঘরের পথ ধরল।

    ঘরে ঢুকে এতোয়ারি দেখল বাবা ডাল-ভাত-আলুসেদ্ধ খাচ্ছে। তাকে দেখে মা বলল, “তোর জন্যে বসে আছি, কোথায় গিয়েছিলি?”

    “নদীর ধারে।”

    “কেন? কে আছে ওখানে?” মায়ের ঠোঁটে হাসি ফুটল।

    “আশ্চর্য! কে থাকবে ওখানে!”

    “কী জানি বাবা! যাকগে, ভাত ডাল আলু আর ডিমসেদ্ধ রেঁধেছি। খেয়ে নিয়ে শুয়ে পড়। আমার খাওয়া হয়ে গিয়েছে।”

    “ডিম কোথায় পেলে?”

    “দুটো ডিম হাসপাতাল থেকে চেয়ে নিয়ে এসেছিলাম।”

    “ঠিক করোনি। হাসপাতালের জিনিস বাড়িতে আনা ঠিক নয়।”

    কথাটা শুনে মা ঠোঁট মোচড়াল।

    “আমাকে আস্ত ডিম দিয়েছ কেন? তুমি কি অর্ধেক নিয়েছ?”

    “অর্ধেক কেন নেব! তুই আর আমি গোটা গোটা।”

    “বাবাকে দাওনি?”

    “নাঃ,” মা ওপাশ ফিরে শুয়ে পড়ল।

    শ্বাস ফেলল এতোয়ারি। সে মুখ ফিরিয়ে তাকাতেই বাবার সঙ্গে চোখাচোখি হল। অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে আছে বাবা। সে নিজের থালা থেকে ডিমসেদ্ধটা তুলে উঠে গিয়ে বাবার পাতে দিয়ে এল। বাবা মাথা ঝাঁকাল, মুখে খুশি ফুটল। ডিম তুলে অতি ক্ষুদ্র একটা টুকরো কেটে চোখ বন্ধ করে চিবোতে লাগল। তার দাড়ি-গোঁফ ভরতি মুখে খুশি ফুটে উঠল।

    মধ্যরাতে চিৎকার চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙে গেল। এতোয়ারির মা উঠে বসে অবাক গলায় জিজ্ঞাসা করল, “কী হয়েছে? বাইরে গিয়ে দেখ তো!”

    এতোয়ারি দরজা খুলতে লাইনের স্ত্রী-পুরুষদের ঘরের বাইরে এসে কান্নাকাটি করতে দেখল। তারপরই টর্চ হাতে পুলিশদের ওপর চোখ পড়ল তার। লোকগুলো এক হাতে টর্চ অন্যহাতে লাঠি উঁচিয়ে কুলি বস্তি তছনছ করতে করতে এগিয়ে আসছে। অন্ধকার এখন অনেক পাতলা হয়ে এসেছে। লোকগুলো পাশের ঘর ভাঙচুর করে এগিয়ে আসতেই এতোয়ারি গলার শিরা ফুলিয়ে চিৎকার করল, “অ্যাই! খবরদার!”

    গোটা পাঁচেক লাঠিধারী পুলিশ যারা এতক্ষণ ঘরভাঙার উল্লাসে মেতে ছিল, তারা থমকে দাঁড়াল। এতোয়ারি চিৎকার করল, “সবাই ওইখানে দাঁড়িয়ে থাকো। যা খুঁজছ, তা দেখতে শুধু একজন ঘরের ভেতরে আসতে পারো।”

    লোকগুলো নিজেদের মধ্যে নিচু স্বরে কথা বলল। একজন জিজ্ঞাসা করল, “এই, তুমি কে?”

    “আমি হাসপাতালে কাজ করি। একজন আসতে পারো।”

    নিজেদের মধ্যে মুখ চাওয়াচায়ি করে একজন এগিয়ে এলে এতোয়ারি দেখল পুলিশটির বয়স হয়েছে। ঘরের ভেতর লোকটা ঢোকামাত্র মায়ের আর্তনাদ শোনা গেল। দরজার কাছে ছুটে গিয়ে এতোয়ারি জিজ্ঞাসা করল, “কী হয়েছে।”

    যে ঢুকেছিল, সে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে এল, “কিছু করিনি, মাইরি বলছি বুড়ি কেন যে ভয় পেল জানি না।”

    ততক্ষণে মা এসে দাঁড়িয়েছে দরজায়। চিৎকার করে বলল, “অ্যাই! তুই কাকে বুড়ি বলছিস? তোর বউ বুড়ি, তোর মেয়ে বুড়ি! রাতদুপুরে শোওয়ার ঘরে ঢুকে হামলা করছিস, লজ্জা করে না?”

    এতোয়ারি অবাক হয়ে দেখল লোকটা কথা না-বলে তার দলের কাছে চলে গেল। দলের একজন চেঁচিয়ে জিজ্ঞাসা করল, “তোমরা কোনও বাইরের লোককে আজ লাইনে ঢুকতে দেখেছ?”

    কেউ জবাব দিল না। লোকটি বলল, “জবাব না-দিলে সবাইকে ধরে জেলে ঢোকাবার অর্ডার আছে।”

    একজন মিনমিন করে বলল, “কোনও নতুন লোক লাইনে আসেনি।”

    “বেশ। নতুন কাউকে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দেবে!”

    পুলিশগুলো চলে যাওয়ার পর সবাই যে যার ঘরে ঢুকে গেল। কিন্তু ঘরে ঘরে তখন এতোয়ারিকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেল। আজ পর্যন্ত কোন কুলির মেয়ে-বউ পুলিশকে ধমক দিয়ে কথা বলার সাহস করেনি। হাসপাতালে চাকরি পাওয়ার পর থেকে এতোয়ারির মধ্যে একটু একটু করে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা কেউ কেউ বলতে লাগল।

    এতোয়ারি মায়ের দিকে তাকাতে মা হাসল, “চল, শুয়ে পড়ি। এখনও রাত শেষ হতে ঢের দেরি আছে,” মা ভেতরে ঢুকে গেলেও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল এতোয়ারি। মা যেন অনেক বদলে যাচ্ছে।

    কয়েকদিন ধরে সমস্ত চা-বাগান থমথমে হয়ে রইল। কাজকর্ম মানুষ করে যাচ্ছে যন্ত্রের মতো। পাতি তুলতে যারা ঝুড়ি পিঠে নিয়ে বাগানের বিভিন্ন অংশে রোজ সকালে ছড়িয়ে পড়ে, তারাও হাসিঠাট্টা করছে না নিজেদের মধ্যে। মাঝে-মাঝেই একটা পুলিশের জিপ টহল দিতে চা-বাগানের ভেতরের রাস্তায় ঢুকে পড়ছে। কাজে যাওয়ার পথে সেই জিপ দেখে এতোয়ারি বুঝতে পারে এখনও নোয়াম ধরা পড়েনি।

    নোয়াম নিশ্চয়ই একা সাহেবদের সঙ্গে, পুলিশের সঙ্গে লড়াই করছে না। পুলিশ যে নোয়ামকে ধরতে কাল রাত থেকে এভাবে খোঁজাখুঁজি করছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে লোকটা সাধারণ মানুষ নয়।

    হাসপাতালে এসে অবাক হল এতোয়ারি। আজ আউটডোরে ওষুধ নিতে খুব কম রোগী এসেছে। ডাক্তারবাবুর আসার সময় এখনও হয়নি। তাকে একলা পেয়ে বড় নার্স ডেকে বললেন, “তোর জন্যে কাল নোয়াম পালিয়ে যেতে পারল। তুই যে কাল কী উপকার করেছিস জানিস না।”

    মনের মধ্যে যে-প্রশ্ন বুজকুড়ি কাটছিল, সেটা উগরে দিল এতোয়ারি, “ওকে পুলিশ খুঁজছে কেন?”

    “পুলিশ হল ইংরেজদের চাকর। ইংরেজরা হল বিদেশি। জোর করে আমাদের দেশ দখল করে মালিক হয়ে আছে। ওদের তাড়িয়ে দেশকে স্বাধীন করতে আন্দোলন শুরু করেছে নোয়ামরা। মুশিকল হল, আমাদের এই দেশের কিছু লোক ইংরেজদের পা-চাটা হয়ে আছে,” মাথা নাড়লেন বড় নার্স।

    একটু একটু মাথায় ঢুকছিল। এতদিন সে ধনুবুড়োর মুখে শুনে এসেছে তাদের একটা দেশ আছে। সেটা অনেক দূরে। সেই দেশ থেকে তাদের পূর্বপুরুষদের ট্রেনে চাপিয়ে এখানে আনা হয়েছিল। ধনুবুড়ো সেই দেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখত। বেচারার স্বপ্ন বাস্তব হয়নি। ধনুবুড়োর কথা যদি সত্যি হয়, তা হলে এইসব চা-বাগানে যারা কাজ করে, তাদের নিজেদের দেশ অনেক দূরে ছিল। কথাটা যদি সত্যি হয়, তা হলে নোয়ামরা কেন এই দেশের স্বাধীনতার জন্যে লড়াই করছে। উত্তরটা মাথায় ঢুকছিল না এতোয়ারির। বরং মনে প্রশ্ন জাগছিল, যে-দেশ ছেড়ে তাদের পূর্বপুরুষেরা এখানে এসেছিল, সেই দেশটাকেও কি ইংরেজরা দখল করে আছে?

    তিনদিন পরে বড় নার্স ফিসফিস করে খবরটা দিলেন, “নোয়ামকে পুলিশ ধরতে পারেনি। ও এখন আসামের চা-বাগানে চলে গিয়েছে।”

    শোনামাত্র নোয়ামের পায়ের কথা মনে এল। এতোয়ারি জিজ্ঞাসা করল, “ওর পা ঠিক হয়ে গেছে?”

    “নিশ্চয়ই কিছুটা ঠিক হয়েছে। না-হলে গেল কী করে!” বড় নার্স গলা আরও নামিয়ে বললেন, “এসব কথা কাউকে যেন বলে ফেলিস না।”

    তিনদিন পরে পুলিশের গাড়ি চা-বাগানে ঢোকা বন্ধ হল। ফলে একটু স্বস্তি ফিরে এল মানুষের মনে। কিন্তু সমস্যায় পড়ল এতোয়ারি। খালিগায়ে ঘরের বাইরে খোলা আকাশের নীচে শুয়ে বুকে সর্দি বসেছে বাবার, সেই সঙ্গে জ্বর। দুম করে জ্বর এত বেড়ে গেল যে, তাকে নিয়ে হাসপাতালে আসতে হল।

    মেয়েদের ঘরে বেড খালি থাকলেও ছেলেদের ঘরে বেড খালি না-থাকায় মেঝেতে বিছানা পেতে শোয়াতে হয়েছে। বাবা সুস্থ না-হওয়া পর্যন্ত বড় নার্স এতোয়ারিকে হাসপাতালেই থেকে যেতে বললেন। মা এল না। সকালবেলায় পাতি তুলতে যাওয়ার সময় বলে গেল, “এত লোকের থাকার কোনও দরকার নেই, তুই তো আছিস!”

    খুব অবাক হয়েছিল এতোয়ারি। বাবা যতই খারাপ কাজ করে থাকুক, এটা শোনার পর লোকটার জন্যে তার মায়া হয়েছিল।

    দ্বিতীয় রাতে দু’জন মহিলা আর চারজন লোক রিকশায় এক মহিলাকে নিয়ে হাসপাতালে এল। মহিলাটির প্রসববেদনা উঠেছে। লাইনের ঘরেই ধাই দিয়ে প্রসব করানোর চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি।

    মহিলাকে ধরাধরি করে বিছানায় শুইয়ে দেওয়া হল। ঘিরে দেওয়া হল খাটটা সাদা পরদা দিয়ে। ছোট নার্স চেঁচিয়ে বলল, “সঙ্গে কে এসেছে? বাবা না স্বামী? যে-ই এসে থাকো অফিসে চলো, নাম ঠিকানা লেখাতে হবে।”

    স্বামী লোকটি লম্বাচওড়া কিন্তু কণ্ঠস্বর মেয়েদের মতো। এক সঙ্গীকে নিয়ে সে অফিসে গেল। নাম-ঠিকানা লেখাল। তখন দুই মহিলা আর এক পুরুষ ঘেরাটোপের মধ্যে দাঁড়িয়ে গর্ভবতী মহিলাকে সাহস জুগিয়ে যাচ্ছিল। লোকটি বলছিল, “তোর আর কোনও ভয় নেই। হাসপাতালে এসে গিয়েছিস যখন—তখন ডাক্তারবাবু ঠিক বাচ্চা বের করে আনবে।”

    যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল গর্ভবতী। শ্বাস নিয়ে বলল, “চুপ করো। চুপ করো। তোমার জন্যে, তোমার জন্যেই এত কষ্ট আমার…”

    “কী করব! তুমিই চেয়েছিলে!” লোকটি মিনমিন করল।

    উলটোদিকে বসা মহিলাদের একজন ধমক দিল, “চুপ কর। কী কথা বলছিস? মেয়েটার কি মাথাখারাপ হয়ে গেল?”

    গর্ভবতী চোখ খুলল, “কাকে বলছি?”

    “শুকরাকে। তোর বরের বন্ধু,” অন্য মহিলা চাপা গলায় বলল।

    “ও,” গর্ভবতী চোখ বন্ধ করল।

    এই সময় ছোট নার্স এসে বলল, “আপনারা সবাই বাইরে যান,” ডাক্তারবাবু এখনই এসে যাবেন।

    সেই পুরুষ সঙ্গী বলল, “দিদি, কোনও ভয় নেই তো!”

    ছোট নার্স লোকটির দিকে তাকাল, “আপনি কে?”

    মহিলাদের একজন বলল, “ওর স্বামীর বন্ধু।”

    “অ! ডাক্তারবাবুকে জিজ্ঞাসা করবেন। তিনিই বলতে পারবেন। এখন আপনারা বাইরে যান, আর এখানে থাকবেন না,” ছোট নার্স চড়া গলায় বলল।

    এতোয়ারি গর্ভবতী মহিলার মাথার পাশে এসে দাঁড়িয়ে চমকে উঠল। না, তার ভুল হচ্ছে না। এই লোকটিকে সে নদীর ধারে আবছা আলোয় একজন গর্ভবতী মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে দেখেছিল। মেয়েটির দ্বিধা ছিল, কিন্তু তাকে বাধ্য করেছিল। এতোয়ারি পায়ে পায়ে বিছানার পাশে এসে দাঁড়াল। না, বেদনা কমলে গর্ভবতীর মুখ যখন স্বাভাবিক হচ্ছিল, তখন তাকে দেখে আর চিনতে অসুবিধে হল না। মেয়েটির সঙ্গে এই মহিলাকেই সে নদীর ধারে রাতের বেলায় দেখেছিল। লোকটির দ্বিধা হওয়া সত্ত্বেও এই লোকটি ওর কাছে শরীরের আনন্দ আদায় করে নিয়েছিল। আজ ছোট নার্সের সঙ্গে গিয়ে যে-লোকটি পরিচয় লিখিয়ে এসেছে, সে যদি এই নারীর স্বামী হয়, তা হলে এই উদ্বিগ্ন লোকটি কে? লোকটির মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছিল না।

    ছোট নার্স বলল, “এতোয়ারি, সবাইকে সরিয়ে দাও। আপনারা চলে যান, বাইরে যান।” ছোট নার্স বাইরে বেরিয়ে গেলে এতোয়ারি প্রায় জোর করেই সবাইকে বের করে আনল। সে দেখল সেই লম্বাচওড়া লোকটি সঙ্গীর সঙ্গে দূরে দাঁড়িয়ে আছে। তার নজর এদিকে। যে-লোকটি বেডের পাশে বসেছিল, সে ধীরে ধীরে লোকটির পাশে গিয়ে মাথা নেড়ে কিছু বলতে লাগল।

    এতোয়ারি আবার ঘেরাটোপের ভেতর ঢুকল। গর্ভবতীর প্রসববেদনা এখন আগের মতো বোধহয় তীব্র নয়। সে বলল, “আর-একটু অপেক্ষা করো, ডাক্তারবাবু এসে তোমার ব্যথা কমিয়ে দেবেন।”

    “আমার পেট থেকে যদি না বের হয়…”

    “কেন বের হবে না। সব বাচ্চাই বেরিয়ে আসে।”

    “অনেক সময় বেরুতে চায় না। তা হলে আমি কি মরে যাব?”

    “না না, কিছু হবে না।”

    এইসময় ডাক্তারবাবু আর ছোট নার্স ভেতরে ঢুকলেন। ঢুকে হাসলেন ডাক্তারবাবু, “ভয় পেয়ো না, সব ঠিক হয়ে যাবে।”

    ছোট নার্স সঙ্গে একটা ট্রে এনেছিল। তাতে মায়ের পেট থেকে বাচ্চাকে বের করে আনার জন্যে যেসব যন্ত্র দরকার হয়, তা তোয়ালে দিয়ে মোড়া আছে। ইশারায় এতোয়ারিকে সাহায্য করতে বলল ছোট নার্স। বিড়বিড় করে বলল, “কপালে কী লেখা আছে কে জানে।”

    ডাক্তারবাবু কাজ শুরু করলেন। গর্ভবতী যাতে হাত পা না-ছুড়তে পারে, তার দাঁত যাতে ঠোঁটে না-বসে যায় তার ব্যবস্থা করে ডাক্তারবাবু শিশুকে মায়ের গর্ভ থেকে বের করে আনার চেষ্টা শুরু করলেন যন্ত্রের সাহায্যে। বেশ সময় লাগলেও শেষপর্যন্ত শিশুকে পৃথিবীর আলোয় নিয়ে আসতে সক্ষম হলেন ডাক্তারবাবু। গর্ভবতী সমানে শরীর মুচড়ে যাচ্ছিল। শিশু বেরিয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে স্থির হল। ডাক্তারবাবুর হাত থেকে শিশু নিয়ে ছোট নার্স নানারকম চেষ্টা করার পর কান্নার আওয়াজ বের হল। তখন এতোয়ারিকে বাকি সব কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিল ছোট নার্স।

    সদ্য মা হয়েছে যে, সে একপাশে মাথা হেলিয়ে শুয়েছিল। ছোট নার্স তার মুখের কাছে গিয়ে বলল, “এই যে, চোখ খুলে দ্যাখো, তোমার ছেলে হয়েছে। ফুটফুটে ছেলে।”

    স্ত্রীলোকটি চোখ খুলল। তার মুখে ক্লান্তি স্পষ্ট, তবু সে যেন কিছু জানতে চাইল। ছোট নার্স আবার বলল, “ছেলে হয়েছে, ছেলে।”

    স্ত্রীলোকটির ঠোঁটের কোণে একচিলতে হাসি ফুটল। তারপর একটা বড় শ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করল।

    ছোট নার্স শিশুকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে গলা তুলে বলল, “বাবা কে? এদিকে এসে দেখুন, ছেলে হয়েছে।”

    লম্বা চেহারার লোকটিকে তার সঙ্গী বলল, “যান, ডাকছে।”

    লোকটি এগিয়ে যেতে ছোট নার্স শিশুকে উঁচু করে তুলে দেখাল। লোকটি ঝুঁকে দেখল, তারপর হাসল। ছোট নার্স বলল, “খুশি তো? আমাদের মিষ্টি খাওয়ার টাকা না-দিলে একে বাড়িতে নিয়ে যেতে দেব না।”

    স্বামী কী বলবে তা বোধহয় ভেবে পাচ্ছিল না, পাশে এসে দাঁড়িয়ে যে-লোকটা তাকে ইশারা করল হ্যাঁ বলতে, সে একটু আগে গর্ভবতীর সঙ্গে কথা বলছিল। এবার স্বামী জোর পেয়ে বারবার মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল। এতোয়ারি দেখল পরামর্শ দেওয়া লোকটি দাঁত বের করে হাসল।

    এতোয়ারি হতভম্ব। তার বারবার সেই রাতে দেখা দুটি মানুষকে মনে পড়ছিল। যাদের একজন যে-কোনওদিন মা হতে পারে, এমন শরীর নিয়েও যার সঙ্গে মিলিত হতে নদীর ধারে এসেছিল, সে স্বামী নয়, প্রেমিক। আজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার সময় সে যখন প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছিল, তখন তার জন্যে উদ্বিগ্ন মুখে পাশে বসেছিল সেই প্রেমিকই। স্বামী আছে কিন্তু থেকেও নেই। সবচেয়ে অবাক হওয়ার ব্যাপার, স্ত্রীর প্রেমিককে মেনে নিতে স্বামীর বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। যে-সন্তান আজ জন্মগ্রহণ করল তার বাবা স্বামী নয়, প্রেমিক, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

    ধড়পাকড় চলছিল। মাঝে-মাঝেই দেশের অন্য জায়গায় যে-স্বাধীনতা আন্দোলনের আগুন জ্বলে উঠছিল, তার আঁচ ডুয়ার্স এবং অসমের চা-বাগানেও এসে পড়ছিল। তবে বেশির ভাগ মানুষ তাদের নিরীহ জীবনযাপনের অভ্যেসে ভয়ে গুটিয়ে থাকছিল। তবে আর যেখানে যাই হোক, এতোয়ারি শুধু তার গল্পই শুনতে পাচ্ছিল, তাদের চা-বাগানের কাউকে সাহেবদের সামনে দাঁড়িয়ে গালাগালি দেওয়ার সাহস দেখাতে দেখেনি। কিন্তু হাসপাতালে এসে ডাক্তারবাবুর জন্যে অপেক্ষায় থাকায় রোগীরা নিজেদের মধ্যে যখন কথা বলত, তখন নিচু স্বরে ওদের গল্পই বলত, যারা ইংরেজদের এই দেশ থেকে তাড়িয়ে স্বাধীনতা আনতে চায়। কিন্তু স্বাধীনতা, সেটা নিয়ে এলে সাধারণ মানুষের কী হবে, সে সম্পর্কে ওইসব মানুষের মতো এতোয়ারিরও স্পষ্ট ধারণা ছিল না।

    ডাক্তারবাবু যেখানে বসে রোগী দেখেন, কাগজে ওষুধের নাম লিখে কম্পাউন্ডারবাবুর কাছে পাঠান, তার পেছনের দেওয়ালে একটা বড় কাগজ বাঁধানো আছে। কোনও মানুষ বা প্রকৃতির ছবি সেই কাগজে ছাপা নেই, একটা রেখার ভেতরে অনেক ফুটকি, ফুটকির গায়ে জায়গায় জায়গায় নাম লেখা আছে। ছোট নার্স বুঝিয়ে বলেছিল, ওটাকে ম্যাপ বলে। এই দেশটার নাম কিন্তু হিন্দুস্তান, যার ইংরেজি ইন্ডিয়া। ওটা ইন্ডিয়ার ছবি। ইন্ডিয়ায় যত বড় শহর আছে, তার নাম লেখা আছে ওখানে। প্রথম দিন শোনামাত্র এতোয়ারির মনে প্রশ্ন এসেছিল, কেন এই দেশটার নাম হিন্দুস্তান। তাদের তো খ্রিস্টান বলা হয়। যিশু তাদের দেবতা। তা হলে কি শুধুই হিন্দুদের দেশ, খ্রিস্টানদের নয়? আবার লাইনের বাইরে যেখানে চা-বাগান শেষ হয়ে হাট বসার জায়গা, তার গায়ে দশ-বারো ঘর মুসলমান থাকে। দেশটা যদি হিন্দুস্তান হয়, তা হলে কি খ্রিস্টান বা মুসলমানদের নয়?

    বড় নার্স অবসর সময়ে গল্প করেন। তখন কথাটা তুলেছিল এতোয়ারি। বড় নার্স হেসে মাথা নাড়তে লাগলেন, “দূর বোকা, এই হিন্দুস্তান শুধু হিন্দুদের নয়। হিন্দু, খ্রিস্টান, মুসলমান সবার দেশ। তবে আগে, ইংরেজরা এই দেশে আসার আগে প্রথমে শুধু হিন্দুরাই থাকত এখানে। তারপর মুসলমান এসেছিল। সাহেবরা, মানে খ্রিস্টানরা এদেশে এল এই সেদিন। তখন দেশের বেশির ভাগ মানুষ ছিল খুব গরিব। তাদের খাবারের লোভ দেখিয়ে, নিজেদের ধর্ম, নাম দিয়ে খ্রিস্টান বানিয়ে দিল। এই যেমন তোর নাম এতোয়ারি ব্রাউন। তুই খ্রিস্টান। আবার ডাক্তারবাবুর বউয়ের নাম জানিস? সরস্বতী মুখার্জি। ওরা হিন্দু। কিন্তু দেশটা তো আমাদের সবার।”

    কিছুটা স্পষ্ট হয়, অনেকটাই অস্পষ্ট। কিন্তু বড় নার্সের মতো এত সুন্দরভাবে কেউ এতোয়ারিকে বুঝিয়ে বলেই না কথাগুলো।

    সেই বিকেলে চৌকিদার চিৎকার করতে করতে এসে বলল, “আজ কেউ হাসপাতালের ভেতরে অনুমতি ছাড়া ঢুকতে পারবে না। দরজা বন্ধ থাকবে।”

    ছোট নার্স উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞাসা করল, “কেন? কী হয়েছে?”

    “খুন হয়েছে। পুলিশ একজনকে পিটিয়ে খুন করেছে,” চৌকিদার উত্তেজিত।

    “সে কী! কেন?” দু’-তিনজন একসঙ্গে জিজ্ঞাসা করল।

    “কেন আবার! লোকটা নাকি স্বাধীনতা চাইছিল। সব কিছু চাইতে নেই, লোকটা জানত না। না-জানলে তো দাম দিতে হবে,” হাসপাতালের মূল দরজা বন্ধ করে লাঠি হাতে ভেতরে ঢুকে পড়ল চৌকিদার।

    এর কিছুক্ষণ আগে ডাক্তারবাবু তাঁর বিকেলের রাউন্ড দিতে হাসপাতালে এসেছিলেন। খবরটা তাঁর কানে গেল। তিনি চৌকিদারকে ডেকে পাঠালেন। চৌকিদার সামনে এসে মাথা নাড়তে লাগল, “সাব আমি লোকটাকে চিনতাম। ও যে সাহেবদের খতম করার দলে নাম লিখিয়েছে, আমি জানতাম না। দেখে মনেও হয়নি।”

    “লোকটা কি এই বাগানে কাজ করে?”

    “না না হাটে সবজি বিক্রি করে।”

    “কী হয়েছিল? তুমি কী শুনেছ?”

    “লোকটাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। ও নাকি সাহেবমারা দলকে খাবার পৌঁছে দিয়েছিল। কিন্তু লোকটা যেতে যেতে পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে পালাতে চেষ্টা করেছিল বলে অন্য পুলিশরা ওকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। পুলিশরা চেঁচিয়ে বলেছে, ওর নাকি কয়েকজন সঙ্গী এখানে আছে। তাদের তিনদিনের মধ্যে ধরে ফাঁসি দেওয়া হবে।”

    “বাজারে যারা সবজি বিক্রি করে তাদের আমি চিনি। তুমি কার কথা বলছ?” ডাক্তারবাবু জিজ্ঞাসা করলেন।

    “শনিচয়, সামনের দাঁত একটু উঁচু।”

    ডাক্তারবাবু চিনতে পারলেন লোকটাকে। গোবেচারা চেহারার ওই লোকটিকে দেখে কল্পনা করা যায় না যে, ওর ভেতরে যে-আগুন ছিল, তাকে ভয় পেয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

    ডাক্তারবাবু জিজ্ঞাসা করলেন, “হাসপাতালের দরজা বন্ধ করার কথা তোমাকে কে বলেছে?”

    “সবাই দরজা-জানলা বন্ধ করছে, তাই…”

    “তারা কি হাসপাতালে থাকে? হাসপাতালের দরজা কখনও বন্ধ হয় না। মন্দির গির্জা মসজিদের দরজা বন্ধ হয়, কিন্তু হাসপাতালের হয় না। যাও, দরজা খুলে দিয়ে পাহারায় থাকো,” ডাক্তারবাবু বললেন।

    ঠিক তখনই বড়সাহেবের বেয়ারা এসে সেলাম করে বলল, “বড়াসাহেব আপকো সেলাম দিয়া।”

    “কী ব্যাপার?” ডাক্তারবাবু অবাক হলেন। এরকম ডাক কদাচিৎ পড়ে।

    “নেহি মালুম,” মাথা নেড়ে বলে চলে গেল লোকটা।

    ডাক্তারবাবু শঙ্কিত হলেন। তাঁকে কি এখন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article তনু অতনু সংবাদ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }