Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বুদ্ধ – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    ক্যারেন আর্মস্ট্রং এক পাতা গল্প224 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. আলোকন

    আলোকন

    কিংবদন্তী ইংগিত দেয় যে, গৌতমের ছেলেবেলা আমাদের আধ্যাত্মিক পরিপক্বতা এনে দেওয়ার মতো একমাত্র জ্ঞান দুঃখ-কষ্টের ধারণা হতে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অজাগ্রত পর্যায়ে কেটে গেছে। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোয় তিনি স্মৃতিচারণ করেছেন যে, এমন একটা মুহূর্ত গেছে যখন সত্তার অন্য ধরনের একটা আভাস দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। বাবা পরবর্তী বছরের শস্যের বীজ বপনের আগে ক্ষেতে লাঙল-উৎসব দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁকে। গ্রাম ও শহরের সমস্ত পুরুষ অংশ নিয়েছিল বাৎসরিক এই অনুষ্ঠানে। তো শুদ্ধোদন তাঁর শিশু ছেলেকে পরিচারিকাদের হাতে হাওলা করে একটা গোলাপজাম গাছের ছায়ায় রেখে কাজে গেলেন। কিন্তু পরিচারিকারা লাঙল দেওয়া দেখবে বলে চলে গেল সেখান থেকে। নিজেকে একাকী আবিষ্কার করে উঠে বসলেন গৌতম। এই কাহিনীর একটি ভাষ্যে আমাদের বলা হয়েছে, তিনি যে ক্ষেতে লাঙল দেওয়া হচ্ছিল সেটার দিকে তাকিয়েছিলেন। এমন সময় লক্ষ করলেন, কচি ঘাসগুলো উপড়ে গিয়েছে। এইসব নতুন গজানো চারায় পোকামাকড়ের পারা ডিমগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। ধ্বংসযজ্ঞের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত এক বেদনা বোধ করেছিলেন ছোট সেই মানুষটি, যেন তাঁর অতি নিকটাত্মীয়দের হত্যা করা হয়েছে।[১] কিন্তু দিনটা ছিল চমৎকার, তাঁর মনের ভেতর নিখাঁদ আনন্দের অনিরুদ্ধ অনুভূতি জেগে উঠল। আমাদের সবারই এমন মুহূর্তের অভিজ্ঞতা আছে। অপ্রত্যাশিত ও আমাদের দিক থেকে কোনওরকম জোরাল প্রয়াস ছাড়াই আসে সেটা। আসলে যখনই আমরা আমাদের সুখ নিয়ে ভাবতে যাই, জানতে চাই কেন আমরা খুশিতে ভরে উঠেছি, তখনই আত্মসচেতন হয়ে ওঠায় সেই অনুভূতি মিলিয়ে যায়। নিজের সত্তাকে এর মাঝে টেনে আনলে এই অপূর্বচিন্তিত আনন্দ বজায় থাকতে পারে নাঃ এটা আবশ্যিকভাবেই পরমানন্দের একটা মুহূর্ত, এক তুরীয় আনন্দ যা আমাদের দেহ আর আমাদের নিজস্ব অহমবাদের প্রিজমের বাইরে নিয়ে যায়। এ জাতীয় extasis: এমন এক শব্দ যার আক্ষরিক অর্থ ‘সত্তার বাহরে অবস্থান করা,’: এর সঙ্গে আমাদের যাপিত জীবনের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণকারী আকাঙ্ক্ষা ও লালসার কোনও সম্পর্ক নেই। পরবর্তীকালে গৌতম যেমন স্মৃতিচারণ করেছেন, ‘এর অবস্থান তানহাকে জাগিয়ে তোলা বস্তু হতে দূরে।’ ছোট ছেলেটি যখন ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কহীন প্রাণীদের যন্ত্রণাকে নিজের হৃদয়ে প্রবেশ করতে দিয়েছেন, তখন স্বতঃস্ফূর্ত সহানুভূতির একটা মুহূর্ত তাঁকে নিজের মধ্যে হতে বের করে দিয়েছে। স্বার্থহীন করুণার জোয়ার মুহূর্তের আত্মিক মুক্তি এনে দিয়েছিল তাঁকে।

    সহজাত প্রবৃত্তির বশেই ছেলেটি পায়ের উপর পা তুলে আসনে বসার ভঙ্গিতে ঋজু ঢঙে বসেছিলেন। জন্ম যোগি হিসাবে প্রথম ঝানায় প্রবেশ করেছিলেন তিনি। এমন এক মোহাবস্থা যেখানে ধ্যানী শান্ত সুখ বোধ করেন, আবার চিন্তা ভাবনাও করতে পারেন।[২] কেউ তাঁকে যোগের কৌশল শেখাননি, কিন্তু কয়েক মুহূর্তের জন্যে তিনি এমন এক স্বাদ আস্বাদন করেছিলেন যা নিজেকে অতিক্রম করে যাওয়ার মতো। ধারাভাষ্য আমাদের জানাচ্ছে, প্রাকৃতিক জগৎ তরুণ গৌতমের আধ্যাত্মিক সম্ভাবনা শনাক্ত করেছিল। দিন গড়িয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য গাছের ছায়া সরে গেলেও গোলাপজাম গাছের ছায়া অনড় থেকে তীব্র সূর্যের হাত থেকে ছায়া দিয়ে যাচ্ছিল তাঁকে। পরিচারিকারা ফেরার পর এই অলীক ঘটনা দেখে হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। শুদ্ধোদনকে ডেকে আনে তারা। ছোট ছেলেকে শ্রদ্ধা জানান তিনি। শেষ এই উপাদানটি নিশ্চিতভাবে কল্পিত, কিন্তু মোহাবেশের কাহিনী, ঐতিহাসিক হোক বা না হোক, পালি কিংবদন্তীতে গুরুত্বপূর্ণ; কথিত আছে, গৌতমের আলোকপ্রাপ্তিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    আশা-নিরাশা মেশানো কণ্ঠে ‘নিশ্চয়ই আলোকনের আরও উপায় আছে,’ বলে চেঁচিয়ে ওঠার অনেক বছর পর গৌতম ছোটবেলার এই অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করেছেন। ঠিক এই মুহূর্তে-আবার অপূর্বচিন্তিত ও অপ্রত্যাশিত- ছোটবেলার সেই পরমানন্দের স্মৃতি মনের উপরিতলে উঠে এসেছে তাঁর। শীর্ণকায়, পরিশ্রান্ত ও মারাত্মক অসুস্থ গৌতম ‘গোলাপজাম গাছের শীতল ছায়ার’ কথা মনে করেছেন, যা অনিবার্যভাবে মনের মাঝে নিব্বানার ‘শীতলতা’ নিয়ে এসেছিল। বেশির ভাগ যোগি বহু বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর কেবল প্রথম ঝানা অর্জন করতে পারে। কিন্তু তাঁর দিক থেকে কোনও প্রয়াস ছাড়াই উপস্থিত হয়েছে এটা, তাঁকে নিব্বানার আভাস দিয়েছে। কাপিলাবাস্তু ছাড়ার পর থেকেই আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে সংগ্রামের অংশ হিসাবে সকল সুখ বিসর্জন দিয়েছিলেন তিনি। কৃচ্ছ্রতা সাধনের বছরগুলোয় আপন দেহ ধ্বংস করে দিয়েছিলেন প্রায়। আশা ছিল, এভাবে নিজেকে মানুষের স্বাভাবিক দুর্দশাগ্রস্ত অস্তিত্বের বিপরীত পবিত্র জগতে ঠেলে দিতে পারবেন। অথচ ছোটবেলায় এক নিখাদ আনন্দের অভিজ্ঞতার পর বিনা ঝামেলাতেই যোগের পরমান্দ লাভ করেছিলেন তিনি। গোলাপজাম গাছের শীতলতার কথা ভাববার সময় দুর্বল অবস্থায় সুদীর্ঘ জ্বরে ভোগার পর খিঁচুনি হতে মুক্তি পাওয়ার কথা কল্পনা করেছেন তিনি। এরপর এক অনন্যসাধারণ ধারণা আঘাত করেছে তাঁকে। ‘এটাই কি’, নিজেকে জিজ্ঞেস করেছেন তিনি, ‘আলোকনের উপায়?’ অন্য গুরুরা কি ভুল করেছেন? আমাদের অনিচ্ছুক সত্তাকে চূড়ান্ত মুক্তি অর্জনের জন্যে নিপীড়ন করার বদলে আমরা হয়তো অনায়াসে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তা অর্জন করতে পারি। নিব্বানা কি আমাদের মানবীয় কাঠামোরই অন্তস্থ নির্মাণ? একজন অপ্রশিক্ষিত বালক প্রথম ঝানায় পৌঁছতে পারলে আর বিনা চেষ্টায় নিব্বানার আভাস লাভ করতে পারলে যোগ-দর্শন নিশ্চয়ই মানুষের পক্ষে গভীরভাবে স্বাভাবিক। যোগকে মানুষের উপর হামলা বানানোর বদলে একে কি সেতো-বিমুক্তি, অর্থাৎ ‘মনের উন্মুক্তি’ আনয়নকারী অন্তস্থ প্রবণতা গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করা যায়, যা কিনা পরম আলোকনের প্রতিশব্দ?

    ছেলেবেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে চিন্তাভাবনা করার পরপরই গৌতম নিশ্চিত হয়ে যান, তাঁর ধারণা সঠিক। এটাই নিব্বানার প্রকৃত পথ। এখন কেবল প্রমাণ করার পালা। কেন এত সহজে প্রথম ঝানায় পৌঁছে দেওয়া প্রশান্ত সুখের আবেশ সৃষ্টি হয়েছিল? একটা অত্যাবশ্যকীয় উপাদান ছিল গৌতমের ভাষায়, “বিচ্ছিন্নতা’। তাঁকে একা রেখে যাওয়া হয়েছিল : পরিচারিকারা গল্পগুজবে তাঁর মন বিক্ষিপ্ত করে রাখলে কখনওই তিনি পরমান্দের পর্যায়ে যেতে পারতেন না। ধ্যানের জন্যে একান্ত পরিবেশ ও নৈঃশব্দ্য প্রয়োজন। কিন্তু এই বিচ্ছিন্নতা শারীরিক নিঃসঙ্গতার অতিরিক্ত। গোলাপজাম গাছের নিচে বসে থাকবার সময় তাঁর মন বস্তুগত জিনিস এবং অপূর্ণাঙ্গ ও অলাভজনক যেকোনও কিছু হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। গৌতম ছয় বছর আগেই বাড়ি ছেড়েছিলেন বলে আপন মানবীয় প্রকৃতিকে আলোকিত করে প্রতিটি প্রবণতা ধ্বংস করে দিচ্ছিলেন। যেকোনও রকম সুখকে অবিশ্বাস করতে শিখেছিলেন তিনি। কিন্তু এবার নিজেকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বহু আগের অপরাহ্নের সেই সুখানুভূতিকে কেন ভয় পাবেন? সেই নিখাদ আনন্দের সঙ্গে লোভী বাসনা বা ইন্দ্রিয়জ আকাঙ্ক্ষার কোনওই সম্পর্ক ছিল না। কিছু কিছু সুখানুভূতি সত্যি সত্যি অহমবাদ হতে মুক্ত করে উন্নত যোগ অবস্থায় পৌঁছে দিতে পারে। নিজেকে আবার প্রশ্নটা করামাত্র নিজস্ব আত্মবিশ্বাসী চূড়ান্ত সুরে সাড়া দিলেন গৌতম: ‘আমি অমন আনন্দে ভীত নই,’ বললেন তিনি।[৩] সেই ঘোরের দিকে এগিয়ে যাবার নিঃসঙ্গতা সৃষ্টি করাই আসল কথা এবং মনের সেই সামগ্রিক (কুসলা) অবস্থাকে লালন করা যা নিরাসক্ত দরদে কীটপতঙ্গ ও ঘাসের চারার জন্যে দুঃখবোধ করতে প্রাণিত করছিল তাঁকে। একই সাথে আলোকপ্রাপ্তিতে কাজে আসবে না বা বাধা সৃষ্টি করবে, এমন মানসিক অবস্থা সতর্কতার সঙ্গে পরিহার করে যাবেন।

    অবশ্য ‘পাঁচ নিষেধাজ্ঞা’ পালনের ভেতর দিয়ে আগে থেকেই এই আলোকেই চলছিলেন তিনি, যা সহিংসতা, মিথ্যাচার, চুরি, মাদকাসক্তি ও যৌনতার মতো ‘অনুপযোগি’ (অকুসলা) কর্মকাণ্ড নাকচ করেছে। কিন্তু এবার তিনি বুঝতে পারলেন, এটাই যথেষ্ট নয়। অবশ্যই তাঁকে এই পাঁচটি বাধার বিপরীত ইতিবাচক প্রবণতা গড়ে তুলতে হবে। পরবর্তীকালে তিনি বলবেন, আলোকন প্রত্যাশী কোনও ব্যক্তিকে অবশ্যই এইসব ‘সহযোগি’ ‘সামগ্রিক’ বা ‘দক্ষ’ (কুসলা) অবস্থার সন্ধানে ‘শক্তিমান, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও অধ্যাবসায়ী’ হতে হবে যা আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের বিকাশ ঘটাবে। অহিংসা কেবল সামান্য দূর এগিয়ে দিতে পারবে; সহিংসতা বর্জনের বদলে শিক্ষাব্রতাঁকে অবশ্যই সবকিছু ও সবার সঙ্গে কোমল ও দয়াময় আচরণ করতে হবে; তাকে অবশ্যই অশুভ ইচ্ছার ক্ষীণ অনুভূতি ঠেকাতে প্রেম-প্রীতির অনুভূতি গড়ে তুলতে হবে। মিথ্যা না বলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ‘সঠিক কথা’ বলা ও আপনি যা বলছেন ‘সেটা যৌক্তিক, সঠিক, পরিষ্কার এবং উপকারী’ হওয়াটা নিশ্চিত করতে হবে। চুরি হতে নিবৃত্ত থাকা ছাড়াও একজন ভিক্ষু যা দেওয়া হচ্ছে তাতেই ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ প্রকাশ না করেই ইতিবাচকভাবে আনন্দ প্রকাশ করতে হবে, তাঁকে সবসময়ই খুশি থাকতে হবে।[৪] যোগিরা সবসময় বলেছে, পাঁচটি নিষেধাজ্ঞার অনুসরণ ‘অসীম সুখ’ বয়ে আনবে, কিন্তু মনের এই ইতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি সচেতন প্রয়াসে এই ধরনের exstasis নিঃসন্দেহে দ্বিগুণ হবে। গৌতম বিশ্বাস করতেন, এই ‘দক্ষতাপূর্ণ’ আচরণ দ্বিতীয় স্বভাবের মতো অভ্যাসে এসে গেলে শিক্ষাব্রতী ‘নিজের মাঝে নিখাঁদ আনন্দ অনুভব’ করবে, ছেলেবেলায় গোলাপজাম গাছের নিচে যে আনন্দ বোধ করেছিলেন তিনি সেটার অনুরূপ না হলেও সমরূপ।[৫]

    টেক্সট অনুযায়ী প্রায় প্রুস্তিয় এই স্মৃতিচারণ গৌতমের জন্যে বাঁক বদলকারী ঘটনা ছিল। সেই থেকে মানুষের স্বাভাবের বিপক্ষে যুদ্ধ করার বদলে তার সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন-আলোকনের পক্ষে অনুকূল মানসিক অবস্থাকে বাড়িয়ে তুলে তার সম্ভাবনাকে বাধাগস্ত করার মতো যেকোনও কিছুকে এড়িয়ে যাওয়া। গৌতম তাঁর ভাষায়, ‘মধ্যপন্থা’ গড়ে তুলছিলেন যা একদিকে যেমন শারীরিক ও আবেগগত আত্মপ্রশ্রয় বর্জন করেছে, অন্যদিকে বাদ দিয়েছে চরম কৃচ্ছ্রতা সাধনও যা সমান মাত্রায় বিধ্বংসী হতে পারে। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, পাঁচ সঙ্গীর সঙ্গে অনুসরণ করা শাস্তিমূলক পদ্ধতি অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে যা তাঁকে এমন অসুস্থ করে দিয়েছে যে মুক্তির প্রাকশর্ত ‘খাঁটি আনন্দ’ বোধ করার কোনও উপায়ই নেই এখন। টেক্সট অনুযায়ী কয়েক মাসের ভেতর প্রথমবারের মতো কুম্মাসা নামে দুধের পায়েস বা ফিরনি দিয়ে শক্ত খাবার গ্রহণ করলেন তিনি। তাঁকে খেতে দেখে ভিক্ষুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। বিতৃষ্ণার সঙ্গে সরে গিয়েছেন তাঁরা। গৌতম আলোকনের জন্যে সংগ্রাম ত্যাগ করছেন, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন।[৬]

    কিন্তু অবশ্যই মোটেই তেমন কিছু ছিল না ব্যাপারটা। গৌতম নিশ্চয়ই আপন পরিচর্যায় স্বাস্থ্য উদ্ধার করেছিলেন। এই সময়ে সম্ভবত নিজস্ব ধরনের যোগ সাধনা গড়ে তুলতে শুরু করেন তিনি। তিনি আপন চিরন্তন সত্তার দেখা পাওয়ার আশা করছিলেন না, কেননা তখন ভাবতে শুরু করেছিলেন যে, এটা মানুষকে আলোকন হতে দূরে সরিয়ে রাখা আরেকটা বিভ্রম মাত্র। মানবীয় প্রকৃতির সঙ্গে আরও একাত্ম হতে সাহায্য করার লক্ষ্যেই তাঁর যোগ নির্মিত হয়েছিল যাতে নিব্বানা অর্জনের পথে একে কাজে লাগাতে পারেন তিনি। প্রথমে ধ্যানের প্রস্তুতি হিসাবে এসেছে ‘অভিনিবেশ’ (সাতি) নামের অনুশীলন, যেখানে দিনের প্রতিটি মুহূর্তে নিজ আচরণ নিরীক্ষা করেছেন তিনি। সচেতনতার ওঠা-নামার সাথে সাথে নিজের অনুভূতি ও চাঞ্চল্যের জোয়ার ভাটা জরিপ করেছেন। ইন্দ্রিয়জ বাসনা দেখা দিলেই সেটাকে স্রেফ দমন না করে তার আবির্ভাবের কারণ এবং কতটা দ্রুত মিলিয়ে গেছে, লক্ষ করতেন তিনি। বাহ্যিক জগতের সঙ্গে বোধ ও চিন্তার মিথষ্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রতিটি দৈহিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সজাগ করে তুলেছেন নিজেকে। কীভাবে হাঁটছেন, উবু হওয়া কি হাত-পা মেলে রাখা, এবং ‘খাওয়া, পান করা, চিবানো, স্বাদ গ্রহণ, বর্জত্যাগ, হাঁটা, দাঁড়ানো, বসা, ঘুমানো, জেগে ওঠা, কথা বলা ও নীরব থাকা’র[৭] সময় নিজের আচরণ সম্পর্কে সজাগ হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন ধরনের ধারণা কীভাবে মনের ভেতর খেলে যায়, সংক্ষিপ্ত আধঘণ্টা সময়ে আকাঙ্ক্ষা ও বিরক্তির অবিরাম ধারা আক্রান্ত করতে পারে তাঁকে, যেসব লক্ষ্য করেছেন। আকস্মিক কোনও শব্দ বা তাপমাত্রায় পরিবর্তনে তিনি কেমন করে সাড়া দিচ্ছেন সেদিকে “মনোযোগী” হয়ে ওঠেন তিনি। দেখেছেন কত দ্রুত অতি তুচ্ছ জিনিসও তাঁর মনের শান্তি নষ্ট করছে। এই ‘অভিনিবেশ’ স্নায়বিক অন্তর্মুখীতার চেতনায় বিকশিত হয়নি। গৌতম ‘পাপে’র প্রায়শ্চিত্ত করার জন্যে নিজ মনুষ্যত্বকে এভাবে অনুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে স্থাপন করেননি। তাঁর ব্যবস্থায় পাপের কোনও স্থান নেই, কেননা যেকোনও অপধারই স্রেফ ‘অনুপযোগি’ হয়ে দাঁড়াবে: এটা শিক্ষাব্রতীর ভেতর সেই অহমই রোপন করবে সে যা অতিক্রম করার প্রয়াস পাচ্ছে। গৌতমের ব্যবহৃত কুসলা ও অকুসলা শব্দ দুটি তাৎপর্যপূর্ণ। উদাহরণ স্বরূপ, পাপপূর্ণ হওয়ার কারণে নয় বরং বরং নিব্বানা অর্জনে ব্যক্তিকে সাহায্য করবে না বলেই যৌনতা পাঁচটি ইয়ামার অন্তর্ভুক্ত হয়নি। যৌনতা মানুষকে সামসারায় বন্দিকারী আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এতে যে শক্তি ব্যয় হয় তা যোগে নিয়োজিত করাই শ্রেয়। কোনও ক্রীড়াবিদ যেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার আগে নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণে বিরত থাকে একজন ভিক্ষুও তেমনি যৌনতা হতে বিরত থাকেন। যৌনতার প্রয়োজন আছে, কিন্তু ‘মহান অনুসন্ধানে’ নিয়োজিত কারও পক্ষে তা ‘উপযোগি’ নয়। অনুভূতির ওপর হামলে পড়বেন বলে নিজ মানবীয় প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন না গৌতম, বরং এর ক্ষমতা কাজে লাগাতে এর কার্যধারা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়ে উঠছিলেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, তাঁর নিজের মাঝেই দুঃখ-কষ্টের সমাধান নিহিত রয়েছে, যাকে তিনি বলেছেন, ‘এই ফ্যাদম-দীর্ঘ শরীরে, এই দেহমনে।’[৮] নিজ জাগতিক স্বভাবের পরিমার্জনের মধ্য দিয়েই আসবে মুক্তি। সুতরাং তাঁকে এর তদন্ত করতে হবে এবং এমন নিবিড়ভাবে জানতে হবে যেমন করে তালিম দেওয়ার সময় সওয়ারি ঘোড়াকে চিনে নেয়।

    কিন্তু অভিনিবেশের অনুশীলন তাঁকে আগের চেয়ে আরও প্রকটভাবে দুঃখ- কষ্ট ও তার উৎস আকাঙ্ক্ষার সর্বব্যাপীতা সম্পর্কে সজাগ করে তুলেছিল। তাঁর সচেতনতায় ভিড় জমানো এইসব চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষা ছিল খুবই ক্ষণস্থায়ী। সমস্ত কিছুই অস্থায়ী (অনিক্য)। বাসনা যত প্রখরই হোক না কেন, অচিরেই ক্ষয়ে যায় ও সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু তার জায়গা দখল করে। কিছুই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এমনকি ধ্যানের সুখও নয়। জীবনের ক্ষণস্থায়ী রূপই ভোগান্তির অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতি মুহূর্তের অনুভূতি লক্ষ করতে গিয়ে গৌতম আরও সচেতন হয়ে উঠলেন যে, জীবনের দুঃখ অসুস্থতা, বয়স ও মৃত্যুতে সীমাবদ্ধ নয়। এটা দৈনিক, এমনকি ঘণ্টা হারেও ঘটে। ছোট ছোট হতাশা, প্রত্যাখ্যান, নিরাশা ও ব্যর্থতার ভেতর দিয়ে কোনও এক দিনে আমাদের ওপর আপতিত হয়: ‘যন্ত্রণা, শোক ও হতাশাই দুঃখ,’ পরবর্তী সময়ে ব্যাখ্যা করবেন তিনি, ‘আমরা যার কাছাকাছি হতে বাধ্য হওয়া ঘৃণা করি সেটাই ভেগান্তি, আমরা যা ভালোবাসি তা হতে বিচ্ছিন্ন হওয়াই কষ্ট, আমরা যা চাই তা না পাওয়াই কষ্ট।’[৯] জীবনে আনন্দ আছে বটে, কিন্তু গৌতম অভিনিবেশের নিষ্ঠুর পরীক্ষার বিষয়ে পরিণত করার পর গৌতম লক্ষ করলেন, আমাদের সন্তুষ্টি কীভাবে অন্যদের কষ্টে পরিণত হয়। একজনের সমৃদ্ধি সাধারণত অন্য কারও দারিদ্র্য বা বর্জনের ওপর নির্ভরশীল। আমরা যখন কিছু পাই, আমাদের তা সুখী করে। সঙ্গে সঙ্গে সেটা হারানোর উদ্বেগে ভুগতে শুরু করি আমরা। এমনকি দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের অসুখী করবে অন্তর দিয়ে জানা থাকা সত্ত্বেও আমরা কাঙ্ক্ষিত বস্তুর সন্ধান করি।

    অভিনিবেশ গৌতমকে এই দুঃখ-কষ্টের কারণ আকাঙ্ক্ষা বা বাসনার ব্যাপকতার ব্যাপারেও দারুণভাবে সংবেদনশীল করে তুলেছিল। অহম সর্বগ্রাসী, অবিরাম মানুষ ও অন্য জিনিস গ্রাস করতে চায়। আমরা কখনও কোনও কিছুকে তার আসল রূপে দেখি না। বরং আমরা সেগুলোকে চাই কিনা তারই ভিত্তিতে সেটা রঞ্জিত হয়, আমরা কীভাবে সেটা পাব, বা কেমন করে তা আমাদের জন্যে লাভ বয়ে আনবে। সুতরাং জগৎ সম্পর্কে আমাদের দর্শন লোভ দিয়ে বিকৃত। আমাদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে অন্যদের বাসনার সংঘাত দেখা দিলে প্রয়াশঃই অশুভ ইচ্ছা ও বৈরিতার সৃষ্টি করে এটা। এখন থেকে গৌতম সাধারণভাবে ‘আকাঙ্ক্ষা’ (তানহা)র সঙ্গে ‘ঘৃণা’ (দোসা) শব্দটিকে জুড়ে দেবেন। আমরা যখন বলি, ‘আমি চাই’, প্রায়শঃই তখন অন্য কেউ আমাদের ইচ্ছায় বাধা দিলে বা আমরা যেখানে ব্যর্থ হয়েছি সেখানে সফল হলে নিজেদের ঈর্ষা, হিংসা ও ক্রোধে পূর্ণ অবস্থায় আবিষ্কার করি। মনের এই ধরনের অবস্থা ‘অদক্ষ,’ কারণ আমাদের তা আরও বেশি স্বার্থপর করে তোলে। সুতরাং সহগামী আকাঙ্ক্ষা ও ঘৃণা এভাবে পৃথিবীর বেশিরভাগ ভোগান্তি ও অশুভের যুগ্ম কারণ। আকাঙ্ক্ষা একদিকে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী সন্তুষ্টি দেবে না এমন জিনিস ‘আঁকড়ে’ ধরতে বা ‘ছিনিয়ে’ নিতে প্ররোচিত করে। অন্যদিকে, বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমাদের অবিরাম অসন্তুষ্ট রাখে। মন ও হৃদয়ে একের পর এক বাসনা অধিকার গ্রহণ করছে, এর ফলেই তেমন কিছু পেতে চাইছে। যেমন অন্তহীনভাবে পুনর্জন্মের একটা ধরণ কামনা করছে তারা। এক নতুন ধরনের অস্তিত্ব। এমনকি আমাদের দৈহিক অবস্থানের পরিবর্তন, ভিন্ন কামরায় যাওয়া, নাশতা করা বা হঠাৎ কাজ রেখে কারও সঙ্গে কথা বলতে যাওয়ার মাঝেও বাসনা (তানহা) নিজেকে তুলে ধরে। ঘণ্টায় ঘণ্টায়, মিনিটে মিনিটে এইসব তুচ্ছ আকাঙ্ক্ষা আমাদের আক্রমণ করে, ফলে আমরা বিশ্রাম পাই না। আমরা ভিন্ন কিছু হবার আকর্ষণে নিঃশেষ ও বিক্ষিপ্ত হই। ‘জগতের স্বভাবই পরিবর্তিত হওয়া, অন্য কিছু হওয়ার জন্যে সবসময় প্রতিজ্ঞ সে,’ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন গৌতম। ‘এটা পরিবর্তনের নিয়ন্ত্রণাধীন, কেবল পরিবর্তনের ধারাতেই খুশি হয়। কিন্তু পরিবর্তনের প্রতি এই ভালোবাসা খানিকটা ভয় বহন করে। খোদ এই ভয়ই দুঃখ।[১০]

    কিন্তু এই সত্য নিয়ে ভাববার সময় সাধারণ যৌক্তিক উপায় অবলম্বন করেননি গৌতম। এগুলোর সঙ্গে একাত্ম হওয়া লক্ষ্যে যোগের কৌশল অবলম্বন করেছেন তিনি যা এসব সাধারণ বিচারবুদ্ধির ভেতর দিয়ে প্রাপ্ত সিদ্ধান্তের তুলনায় ঢের স্পষ্ট ও নিবিড়ভাবে সেগুলো যেন স্পষ্ট ও আন্তরিক হয়ে ওঠে। প্রতিদিন দৈনন্দিন খাবারের পক্ষে পর্যাপ্ত ভিক্ষা সংগ্রহের পর, সাধারণত দুপুরের আগেই খেতেন তিনি, একটা নিরিবিলি জায়গা খুঁজে বের করতেন গৌতম। আসন পেতে বসে যোগের একাগ্রতা বা মনোনিবেশের অনুশীলন শুরু করতেন।[১১] যোগের প্রেক্ষিতে অভিনিবেশের অনুশীলন করতেন তিনি। ফলে তাঁর অন্তর্দৃষ্টি এক নতুন স্পষ্টতা পায়। তিনি ‘সরাসরি’ এগুলো দেখতে পেতেন, প্রবেশ করতেন এবং সেগুলোকে বিকৃতকারী আত্ম-রক্ষাকারী অহমবাদের ছাকুনি ছাড়াই পর্যবেক্ষণ করতে শিখতেন। মানুষ সচরাচর যন্ত্রণার সর্বব্যাপীতা উপলব্ধি করতে চায় না। কিন্তু গৌতম এখন প্রশিক্ষিত যোগির দক্ষতা নিয়ে ‘বস্তুর আসল রূপে’ সেগুলোকে দেখতে শিখছিলেন। তিনি অবশ্য এইসব অধিকতর নেতিবাচক সত্যে থেমে যাননি, বরং একইরকম ঐকান্তি কতায় ‘দক্ষ’ অবস্থারও লালন করছিলেন। কোনও ব্যক্তি, পরে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, যোগ অনুশীলন করার সময়, পায়ের ওপর পা তুলে বসে প্রাণায়ামের শ্বাস-প্রশ্বাস অনুশীলনের মাধ্যমে সচেতনতার বিকল্প অবস্থা সৃষ্টি করে এইসব ইতিবাচক ও সহায়ক অবস্থার বিকাশ ঘটাতে পারে।

    মন থেকে একবার পরশ্রীকাতরতা ও ঘৃণা তাড়াতে পারলে অসৎ ইচ্ছা বিহীন বাস করবে সে, প্রেমময়ও হয়ে উঠবে। সকল জীবিত সত্তার মঙ্গল কামনা করবে। একবার অলসতা ও নিস্পৃহতার মানসিক অভ্যাস ত্যাগ করার পর সে কেবল আলস্য ও নিস্পৃহতা থেকেই মুক্তি পাবে না, বরং এমন একটা মন পাবে যা সাবলীল, নিজের ব্যাপারে সজাগ ও সম্পূর্ণ সতর্ক…একবার উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দূর করার পর উদ্বেগহীন জীবন কাটাবে সে, হয়ে উঠবে শান্ত, অটল…একবার অনিশ্চয়তা দূর করতে পারলে এমন এক মন নিয়ে বাস করবে যা দুর্বলকারী সন্দেহ হতে মুক্ত ও অনুপকারী (অকুসলা) মানসিক অবস্থায় আক্রান্ত হবে না।

    এভাবে যোগি তাঁর মনকে ঘৃণা, নিস্পৃহতা, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা হতে ‘নিষ্কলুষ করে তোলে।’[১২] ব্রাহ্মণরা বিশ্বাস করতেন, পশুবলীর আচরিক কম্ম সম্পাদনের ভেতর দিয়ে তাঁরা এই ধরনের আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধতা অর্জন করেছেন। কিন্তু গৌতম উপলব্ধি করেছিলেন, কোনও পুরোহিতের মধ্যস্থতা ছাড়াই, ধ্যানের মানসিক কম্ম দিয়ে যে কেউই এই পরিশুদ্ধতার বিকাশ ঘটাতে পারে। তিনি বিশ্বাস করতেন, যোগ কৌশলে যথেষ্ট গভীরতায় সম্পাদন করা হলে সচেতন ও অচেতন মনের অস্থির ও বিধ্বংসী প্রবণতাকে পরিবর্তন করতে পারে।

    পরবর্তী বছরগুলোয়, গৌতম দাবি করেছেন, তাঁর উদ্ভাবিত যোগ পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের মানুষের জন্ম দিয়েছে যে কিনা আকাঙ্ক্ষা, লোভ ও অহমবাদের অধীনে নয়। এটা, ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, খাপ থেকে বের করা তরবারি বা গর্ত থেকে বেরিয়ে আসা সাপের মতো; ‘তরবারি ও সাপ এক জিনিস; কিন্তু খাপ ও গর্ত সম্পূর্ণ আলাদা কিছু।’[১৩] তাঁর ব্যবস্থায় ধ্যান পশুবলীর স্থান দখল করবে। একই সঙ্গে প্রেমের অনুশীলন প্রাচীন শাস্তিমূলক কৃচ্ছ্রতার (তাপস) জায়গা নেবে। প্রেম, দৃঢ় বিশ্বাস ছিল তাঁর, শিক্ষার্থীকে মানুষের এযাবৎ অজানা যাত্রায় প্রবেশের সুযোগ করে দেবে। আলারা কালামের সঙ্গে যোগ অনুশীলনের সময় চারটি পর্যায়ক্রমিক ঝানা পর্যায়ের ভেতর দিয়ে চেতনার উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছাতে শিখেছিলেন গৌতম; প্রতিটি ঘোর যোগিকে বৃহত্তর আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টি ও পরিশুদ্ধতা এনে দেয়। এবার তিনি এই চারটি ঝানাকে সম্মিলিতভাবে তাঁর ভাষায় ‘অপরিমেয়’তে রূপান্তরিত করলেন। প্রতিদিনের ধ্যানে ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি প্রেমের আবেগকে জাগিয়ে তুলতেন–”ঘৃণার সাথে অপরিচিত বিশাল, বিস্তৃত ও অপরিমেয় অনুভূতি–এবং তাঁকে পৃথিবীর চার কোণে পাঠিয়ে দিতেন। এই হিত সাধনের সংকল্প হতে কোনও কিছুই–গাছ, পশু, দানো, বন্ধু বা শত্রু–কাউকেই বাদ দিতেন না। প্রথম ঝানার অনুরূপ প্রথম ‘অপরিমেয়’তে তিনি সবকিছু ও সবার প্রতি বন্ধুত্বের একটা অনুভুতির বিকাশ ঘটান। এখানে দক্ষতা অর্জনের পর তিনি দ্বিতীয় ঝানার সাহায্যে সহানুভুতির বিকাশ ঘটাতে অগ্রসর হন। অন্য মানুষ ও বস্তুর সঙ্গে কষ্ট ভোগ করতে ও তাদের ব্যথায় সমবেদনা জানানো শেখেন, ঠিক যেমন গোলাপজাম গাছের নিচে ঘাস ও কীটপতঙ্গের কষ্ট অনুভব করেছিলেন। তিনি তৃতীয় ঝানায় পৌঁছানোর পর অন্যের সুখে আনন্দিত হওয়ার ‘প্রেমময় আনন্দের’ লালন করেছেন, সেটা কীভাবে তাঁকে লাভবান করতে পারে তা না ভেবেই। সব শেষে চতুর্থ ঝানা অর্জন করার পর, যেখানে যোগি ধ্যানের বস্তুর সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় সে যন্ত্রণা বা সুখের উর্ধ্বে উঠে যায়, আকর্ষণ বা বৈরিতার কোনও বোধ ছাড়াই গৌতম অন্য সবার প্রতি সামগ্রিক প্রশান্তি আকাঙ্ক্ষা করেন।[১৪] খুব কঠিন একটা পর্যায় ছিল এটা, কেননা এখানে যোগির সেই অহমবাদকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিতে হয় যা সবসময় অন্য বস্তু বা মানুষ কীভাবে কারও জন্যে সুবিধাজনক বা অসুবিধাজনক হতে পারে সেটা লক্ষ করে। এর জন্যে প্রয়োজন সকল ব্যক্তিগত পছন্দের পরিত্যাগ এবং সম্পূর্ণ নিরাসক্ত ঔদার্য অবলম্বন। প্রথাগত যোগ যেখানে যোগির মাঝে এমন এক দুর্ভেদ্য স্বাধীনতা গড়ে তুলেছে যাতে করে যোগি ক্রমবর্ধমানহারে জগৎ সম্পর্কে নিস্পৃহ হয়ে পড়ে, সেখানে গৌতম অন্য সকল সত্তার প্রতি পুরোনো অনুশীলনের সঙ্গে প্রেমময় দয়া মিশিয়ে সামগ্রিক সহানুভূতির মধ্য দিয়ে নিজেকে অতিক্রম করে যাওয়া শিখছিলেন।

    অভিনিবেশ ও অপরিমেয় উভয়ের উদ্দেশ্য ছিল সেই অহমবাদের ক্ষমতাকে নিরপেক্ষ করা যা মানুষের সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে। ‘আমি চাই’ না বলে যোগি অন্যদের মঙ্গল কামনা করতে শেখে: আমাদের আত্ম-কেন্দ্রিক লোভের ফল ঘৃণার কাছে হার স্বীকার না করে গৌতম দয়া ও শুভেচ্ছার এক প্রেমময় আগ্রাসন পরিচালনা করছিলেন। যোগির প্রাবল্যের সঙ্গে এইসব ইতিবাচক, দক্ষ পর্যায়ের বিকাশ ঘটানো হলে আরও সহজে আমাদের মনের অচেতন প্রবণতায় প্রবেশ করে অভ্যাসে পরিণত করবে। ভঙ্গুর অহমকে বাঁচাতে আমরা আমাদের ও অন্যদের ভেতর যেসব বাধা গড়ে তুলি সেগুলোকে ধ্বংস করাই অপরিমেয়র নকশার উদ্দেশ্য: এগুলো সত্তার বৃহত্তর আওতা ও বর্ধিত দিগন্তের সন্ধান করে। মন স্বাভাবিক, স্বার্থপর দৃষ্টিভঙ্গি হতে মুক্ত হয়ে অন্য সকল সত্তাকে আলিঙ্গন করার সময় ‘প্রসারণশীল, সীমাহীন, বর্ধিত, ঘৃণা বা তুচ্ছ বৈরিতামুক্ত’ হওয়ার অনুভূতি জাগে। এখনকার অনুভূত সচেতনতা জগতকে ঘিরে রাখা ‘দক্ষ শাখারির ফু’-এর শব্দের মতোই অসীম মনে হয়। একেবারে উঁচু পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হলে দরদের এই যোগ (করুণা) ‘মনের মুক্তি’ (সেতো-বিমুক্তি) বয়ে আনে, এই পরিভাষাটি পালি টেক্সটে খোদ আলোকপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।[১৫] অভিনিবেশের অনুশীলনের মাধ্যমেও, বিশেষ করে প্রাণায়ামের সঙ্গে যুক্ত হওয়া অবস্থায় এক গভীরতর প্রশান্তি অনুভব করতে শুরু করেছিলেন গৌতম। আমাদের নিজস্ব প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষার তুচ্ছ সীমানায় আবদ্ধ করে আমাদের জীবন ও অন্যদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে বিষময় করে তোলা স্বার্থপর কামনা হতে মুক্ত অবস্থায় জীবন যাপনের রূপ আবিষ্কার করছিলেন তিনি। এসব উচ্ছৃঙ্খল আকাঙ্ক্ষায় হ্রাসমানহারে প্রভাবিত হচ্ছিলেন। দেখা গেছে, এই ধরনের আত্ম-পর্যালোচনার অভ্যাস বৌদ্ধ অনুশীলনকারীদের আমাদের শান্তি হতে বঞ্চিতকারী বিচ্যুতিসমূহ জরিপে সাহায্য করেছে: ধ্যানী ওইসব হানাদার চিন্তা ও চাহিদার ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতি সম্পর্কে সজাগ হয়ে ওঠার সাথে সাথে সেগুলোর সঙ্গে নিজেকে মেলানো বা কোনওভাবে সেগুলোকে ‘আমার’ হিসাবে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সেগুলো কম বিঘ্ন সৃষ্টিকারী হয়ে পড়ে।[১৬]

    বহু বছরের কৃচ্ছ্রতা সাধনের পর স্বাস্থ্য উদ্ধারে গৌতমের কত দীর্ঘ সময় লেগেছিল আমরা জানি না। ধর্মগ্রন্থগুলো নাটকীয় রূপ দেওয়ার জন্যে প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে। ধারণা দিয়েছে যে, গৌতম প্রথম জাউ খাবার পরপরই নিজের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সংগ্রামের জন্যে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন। এটা সত্যি হতে পারে না। অভিনিবেশ ও দক্ষ অবস্থার বিকাশে সময় লাগে। স্বয়ং গৌতম বলেছেন, এতে অন্তত সাত বছর লাগতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় অলক্ষে নতুন সত্তা গড়ে উঠবে। ‘ঠিক সাগর যেমন ক্রমশঃ ঢালু হয়ে যায়, ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়, আর কোনও রকম আকস্মিক খাদ ছাড়াই ক্রমশঃ ঢালু হয়,’ পরে শিষ্যদের সতর্ক করেছেন তিনি, ‘এই পদ্ধতিতেও তেমনি পরম সত্যের আকস্মিক কোনও অনুভূতি ছাড়াই প্রশিক্ষণ, অনুশীলন ও চর্চা ধীর মাত্রায় কার্যকর হয়।’[১৭] টেক্সট দেখায় যে, গৌতম রাতারাতি পরম আলোকপ্রাপ্ত হয়ে বুদ্ধে পরিণত হয়েছেন, কারণ এগুলো ঐতিহাসিক তথ্য নিয়ে নয়, মুক্তি ও অভ্যন্তরীণ শান্তি অর্জন প্রক্রিয়ার সাধারণ বাঁক অনুসন্ধানেই বেশি আগ্রহী।

    এভাবে ধর্মগ্রন্থের অন্যতম প্রাচীন অংশে আমরা পড়ি, গৌতম তাঁর পাঁচ সঙ্গী কর্তৃক পরিত্যক্ত হয়েছিলেন। প্রথম খাদ্য গ্রহণের পর পরিপুষ্ট হয়ে সহজভাবেই উরুবেলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তিনি, নিরঞ্জর নদীর পাশে সেনানীগামায় পৌঁছার পর ‘পছন্দসই একটুকরো জমিন, একটা মুগ্ধকর বন, চমৎকার মসৃণ তীর অলা একটা নদী এবং একটা গ্রাম, যে গ্রামের অধিবাসীরা তাকে খাওয়াবে,’[১৮] লক্ষ করলেন। গৌতম ভাবলেন, এটাই চূড়ান্ত প্ৰয়াস গ্রহণের উপযুক্ত জায়গা, যা তাঁকে আলোকপ্রাপ্তি এনে দেবে। গোলাপজাম গাছের নিচের সেই অনায়াস প্রথম ঝানায় পৌঁছে দেওয়ার মতো প্রশান্ত সন্তুষ্টির পুনর্নির্মাণ করতে হলে ধ্যানের জন্যে একটা জুৎসই স্থান খুঁজে পাওয়ার প্রয়োজন ছিল। ট্র্যাডিশন বলছে, একটা বোধি বৃক্ষের নিচে বসে নিব্বানা লাভ না করা পর্যন্ত জায়গা না ছাড়ার শপথ নিয়ে আসন গ্রহণ করেন তিনি। মনোরম সেই বন এখন তীর্থযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ স্থান বোধ গয়া নামে পরিচিত, কারণ মনে করা হয় এখানেই গৌতম যথাভূতো–আলোকন বা জাগ্রত হওয়ার অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন।

    বসন্তের শেষ সময় ছিল সেটা। পণ্ডিতগণ সাধারণত গৌতমের আলোকপ্রাপ্তির সময়কে মোটামুটি বিসিই ৫২৪ সাল নির্ধারণ করেছেন, যদিও কেউ কেউ পঞ্চম শতাব্দীর প্রথম ভাগে আরও পরের সময়ের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। সে রাতে কী ঘটেছিল সে সম্পর্কে পালি টেক্সট আমাদের কিছু তথ্য যোগায়, কিন্তু বৌদ্ধদের নিয়ম কানুনের অভিজ্ঞতাহীন কারও কাছে এসব তেমন অর্থ বহন করে না। এসব তথ্য জানায় যে, আমাদের জানা সকল জীবনের শর্তাধীন প্রকৃতি নিয়ে ভেবেছেন গৌতম, নিজের গোটা অতীত জীবন দেখতে পেয়েছেন, এবং তারপর সেই ছেলেবেলার ‘বিচ্ছিন্ন’ ও নিঃসঙ্গ অবস্থা নতুন করে আবিষ্কার করেছেন। এরপর অনায়াসে প্রথম ঝানায় প্রবেশ করেছেন তিনি এবং তারপর ক্রমান্বয়ে উচ্চতর পর্যায় হয়ে তাঁকে চিরতরে বদলে দেওয়া অন্তর্দৃষ্টি লাভ করে চেতনার এমন অবস্থায় পৌঁছে গেছেন যা তাঁর মনে বিশ্বাস জাগিয়েছে, নিজেকে সামসারা ও পুনর্জন্মের চক্র হতে মুক্ত করেছেন তিনি।[১৯] কিন্তু ঐতিহ্যগতভাবে চার মহান সত্যি হিসাবে পরিচিত ও বুদ্ধ মতবাদের মৌল শিক্ষা হিসাবে বিবেচিত এই অন্তর্দৃষ্টির বেলায় তেমন নতুনত্ব আছে মনে হয় না। এই বৈচিত্র্যের প্রথমটি হচ্ছে সমগ্র মানব জীবন ঘিরে থাকা ভোগান্তির (দুঃখ) মহান সত্যি। দ্বিতীয় সত্য হচ্ছে, এই ভোগান্তির কারণ আকাঙ্ক্ষা (তানহা)। তৃতীয় মহান সত্যে গৌতম জোর দিয়ে বলেছেন, এই বিপত্তি হতে উদ্ধারের উপায় হিসাবে নিব্বানার অস্তিত্ব এবং সব শেষে, তিনি নিব্বানার পর্যায়ে দুঃখকষ্ট ও বেদনা হতে অবসানের দিকে চলে যাওয়া পথের সন্ধান লাভ করার দাবি করেছেন।

    এইসব সত্যের কোনও অসাধারণ মৌলিকত্ব আছে বলে মনে হয় না। উত্তর ভারতীয় বেশিরভাগ সাধু-সন্ন্যাসী প্রথম তিনটির সঙ্গে একমত হতো। গৌতম স্বয়ংও তাঁর অনুসন্ধানের একেবারে গোড়া হতে এগুলোর সত্যতায় বিশ্বাসী ছিলেন। নতুন কিছু থাকলে সেটা চতুর্থটি, যেখানে গৌতম আলোকনের পথ পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মহান অষ্টশীলা পথ। এর আটটি উপাদানকে নৈতিকতা, ধ্যান এবং প্রজ্ঞার সমন্বয়ে তিন পর্যায়ের কর্মধারায় অধিকতর যৌক্তিকীকরণ করা হয়েছে।

    [১] নৈতিকতা (শিলা): সত্য কথন, সত্য কর্ম এবং সঠিক জীবিকা যার অন্তর্ভূক্ত। এখানে আমাদের আলোচনা অনুযায়ী ‘দক্ষ’ অবস্থার বিকাশ সাধন আবশ্যিকভাবে জড়িত।

    [২] ধ্যান (সমাধি): সঠিক প্রয়াস, অভিনিবেশ ও মনোসংযোগের অধীনে গৌতমের পরিমার্জিত যোগ অনুশীলন এর অন্তর্ভূক্ত।

    [৩] প্রজ্ঞা (পান্না): সঠিক উপলব্ধি ও সঠিক সিদ্ধান্তের দুটি গুণ শিক্ষার্থীকে নৈতিকতা ও ধ্যানের সাহায্যে বুদ্ধের ধম্মকে উপলব্ধি, প্রত্যক্ষভাবে প্রবেশ ও একে পরবর্তী অধ্যায়ে আমাদের আলোচনা অনুযায়ী তার জীবনে আত্মস্থ করতে সক্ষম করে তোলে।

    বোধ গয়ায় রাতারাতি গৌতমের আলোকপ্রাপ্তির কাহিনীতে কোনও সত্যি থেকে থাকলে সেটা এমন হতে পারে যে, তিনি সহসা এমন একটা পদ্ধতি আবিষ্কারের ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চয়তা লাভ করেছিলেন যা সউদ্যমে অনুসরণ করলে একজন নিবিষ্ট সন্ধানীকে নিব্বানায় পৌঁছে দেবে। তিনি এটা নিৰ্মাণ করেননিঃ এটা তাঁর নতুন সৃষ্টি বা উদ্ভাবন ছিল না। উল্টো, তিনি সবসময়ই জোর দিয়ে ‘সুপ্রাচীন কালের একটা পথ আবিষ্কারের’ কথা বলেছেন যে পথে ‘বহুযুগ আগের মানুষ চলাচল করেছে।’[২০] তাঁর পূর্বসুরি অন্য বুদ্ধগণ গণনার অতীত দীর্ঘদিন আগে এই পথের শিক্ষা দিয়েছিলেন, কিন্তু এই প্রাচীন জ্ঞান বছর পরিক্রমায় ম্লান হয়ে সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়েছে। গৌতম জোর দিয়ে বলেছেন, এই দর্শন স্রেফ বস্তুর ‘প্রকৃত রূপের’ বিবরণ; অস্তিত্বের মূল কাঠামোতেই এই পথের উপস্থিতি। সুতরাং এটাই ধম্ম-এর সর্বোচ্চ রূপ, কারণ তা বিশ্ব জগতের জীবনধারা পরিচালনাকারী মৌলিক নীতিমালা ব্যাখ্যা করে। এপথে থাকলে নারী-পুরুষ, পশুপাখী ও দেবতাদের সবাইই আলোকপ্রাপ্ত হতো যা এনে দিত শান্তি ও সম্পূর্ণতা, কারণ তখন আর তারা তাদের গভীরতম উপাদানের বিরুদ্ধে সংঘাতে লিপ্ত থাকত না।

    কিন্তু এটা অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে চারটি মহান সত্যিকে কেবল যৌক্তিক বুদ্ধিমত্তা দিয়ে যাচাই করা যাবে নাঃ এগুলো স্রেফ কল্পিত বৈচিত্র্য নয়। বুদ্ধের ধম্ম আবশ্যিকভাবে একটা পদ্ধতি। কেবল অধিবিদ্যিক সূক্ষ্মতা কিংবা বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতার কারণেই এটা সফল বা ব্যর্থ হয় না, বরং কতদূর পর্যন্ত কাজ করছে তার ওপর নির্ভর করে। সত্যসমূহ দুঃখ-কষ্টের সমাপ্তি আনে বলে দাবি করা হয়, সেটা মানুষ কোনও পরিত্রাণমূলক বিশ্বাসে বা নির্দিষ্ট বিশ্বাসে আস্থা স্থাপন করে বলে নয়, বরং তারা গৌতমের কর্মধারা বা জীবন ধারা অবলম্বন করে বলে। শত শত বছরের পরিক্রমায় নারী-পুরুষ প্রকৃতপক্ষেই এইসব নিয়ম-কানুন এক ধরনের শান্তি ও অন্তর্দৃষ্টি এনে দিয়েছে বলে আবিষ্কার করেছে। অ্যাক্সিয়াল যুগের অন্য সকল সাধুদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত বুদ্ধের দাবি ছিল যে, নিজেকে অতিক্রম করে এক দুৰ্জ্জেয় সত্তায় পৌঁছানোর মাধ্যমে যৌক্তিক উপলব্ধি ছাপিয়ে নারী-পুরুষ পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয়ে ওঠে। বুদ্ধ কখনও চারটি সত্যের জ্ঞান অনন্য সাধারণ বলে দাবি করেননি। কিন্তু বর্তমান কালে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি এসব ‘উপলব্ধি’ করতে পেরেছেন ও সেগুলোকে নিজ জীবনে বাস্তবায়িত করতে পেরেছেন। আকাঙ্ক্ষা, ঘৃণা ও অজ্ঞতাকে ধ্বংস করেছেন বলে আবিষ্কার করেছেন, মানুষকে যা বন্দি করে রাখে। নিব্বানা অর্জন করেছিলেন তিনি। যদিও এখনও শারীরিক অসুস্থতা ও অন্যান্য উত্থান-পতনের শিকার হন তিনি, কিন্তু তাই বলে কোনও কিছুই তাঁর অন্তস্থ-শান্তিকে স্পর্শ করতে পারবে না কিংবা গুরুতর মানসিক পীড়ার কারণ হবে না। তাঁর পদ্ধতি কাজে এসেছে। বোধি বৃক্ষের নিচে সেই গুরুত্বপূর্ণ রাতের শেষে বিজয়ীর সুরে চিৎকার করে উঠেছিলেন তিনি, ‘পবিত্র জীবন শেষ পর্যন্ত যাপন করা হয়েছে! যা করার ছিল, সম্পাদন করা হয়েছে। আর কিছু করার নেই।’[২১]

    আমরা যারা নৈতিকতা ও ধ্যানের বৌদ্ধ কর্মসূচি অনুযায়ী চলি না তাদের পক্ষে এই দাবি যাচাই করার কোনও উপায় নেই। বুদ্ধ বরাবর পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, স্রেফ যৌক্তিক চিন্তা দিয়ে তাঁর ধম্ম বোঝা যাবে না। কেবল যোগি পদ্ধতিতে ও সঠিক নৈতিক পটভূমিতে ‘প্রত্যক্ষভাবে’ বুঝতে পারলেই তা আসল তাৎপর্য নিয়ে প্রকাশিত হয়।[২২] চারটি মহান সত্যি যৌক্তিক অর্থ প্রকাশ করে বটে, কিন্ত শিক্ষার্থী এক গভীর স্তরে সেগুলোর সঙ্গে একাত্ম হয়ে সেগুলোকে নিজ জীবনে আত্মস্থ না করা পর্যন্ত তা আবশ্যক হয়ে ওঠে না। তখন, একমাত্র তখনই সে ‘মহাউল্লাস,’ ‘আনন্দ’ ও ‘প্রশান্তি’ অনুভব করবে। পালি টেক্সট অনুযায়ী আমরা আমাদের অহমবাদ বিসর্জন দিলে, আত্মকেন্দ্রিকতা হতে নিজেদের মুক্ত করলে ও সত্যকে ‘তার আসল রূপে’ প্রত্যক্ষ করলে আমাদের কাছে তা ধরা দেয়।[২৩] বুদ্ধের নির্দেশিত ধ্যান ও নৈতিকতা বাদে সত্যি সঙ্গীতের মতোই বিমূর্ত রয়ে যায়, আমাদের বেশিরভাগই কাগজের পাতায় তার আসল সৌন্দর্য ধরতে পারি না, বরং কোনও দক্ষ শিল্পীর বাদন ও ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়।

    যদিও সত্যিসমূহ যৌক্তিক অর্থ প্রকাশ করে, কিন্তু টেক্সট জোর দেয় যে, যৌক্তিক প্রক্রিয়ায় এগুলো গৌতমের কাছে ধরা দেয়নি। বোধি বৃক্ষের নিচে বসে ধ্যান করার সময় যেন তাঁর সত্তার গভীরতা হতে তাঁর মাঝে ‘জেগে উঠেছে’। তিনি ‘আন্তরিকতা, উৎসাহ ও আত্মনিয়ন্ত্রণে’র ভেতর দিয়ে যোগ অনুশীলন চর্চাকারী যোগির অর্জিত ‘প্রত্যক্ষ জ্ঞানের’ মতো কিছুর সাহায্যে নিজের ভেতর উপলব্ধি করেছেন। গৌতম এমন নিবিড়ভাবে তাঁর ধ্যানের লক্ষ্য এইসব সত্যির মাঝে নিমগ্ন ছিলেন যে, কোনও কিছুই এগুলো ও তাঁর হৃদয়- মনের মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। মানুষ যখন তাঁর মতো আচরণ করে এবং ঘটনার প্রতি সাড়া দেয়, ধম্মের রূপ দেখতে পায় তারা, মানবীয় রূপে নিব্বানার দেখা পায়। গৌতমের অভিজ্ঞতার স্বাদ পেতে হলে আমাদেরকে সম্পূর্ণ আত্ম-পরিত্যাগের চেতনায় সত্যির দিকে অগ্রসর হতে হবে। আমাদেরকে আমাদের পুরোনো অজাগ্রত সত্তাকে পেছনে ফেলে যেতে প্রস্তুত থাকতে হবে। শিক্ষাব্রতী সব রকম অহমবাদ দূরে ঠেলে দিতে তৈরি থাকলেই কেবল গৌতম আবিষ্কৃত প্রেমময় নৈতিকতা ও যোগ মুক্তি এনে দেবে। এটা তাৎপর্যপূর্ণ যে, বোধি বৃক্ষের নিচে নিব্বানা লাভের মুহূর্তে গৌতম ‘আমি মুক্ত বলে চেঁচিয়ে ওঠেননি, বরং বলেছেন ‘এটা মুক্তি পেয়েছে।[২৪] নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। এক ধরনের exstasis অর্জন করেছেন। নিজের মানবীয় সত্তার এক পরিবর্ধিত ‘অপরিমেয়’ মাত্রা আবিষ্কার করেছেন, যার কথা তাঁর আগে জানা ছিল না।

    বসন্তের সেই রাতে নিব্বানা লাভের দাবি করে কী বুঝিয়েছিলেন নতুন বুদ্ধ? তিনি স্বয়ং কি শব্দের অর্থ অনুযায়ী মোমবাতির শিখার মতো ‘নিভে গিয়েছিলেন’? ছয় বছর ব্যাপী অন্বেষণকালে গৌতম মর্ষকামীর মতো নিশ্চিহ্নতাকে আমন্ত্রণ জানাননি, আলোকনের সন্ধান করেছেন তিনি। মানুষ হিসাবে আপন সম্ভাবনার পূর্ণতায় জাগ্রত হতে চেয়েছেন। নিভে যেতে চাননি 1 নিব্বানা ব্যক্তিগত বিলুপ্তি বোঝায়নি, ব্যক্তিত্ব নয়, নিভে গিয়েছিল তাঁর লোভ, ঘৃণা ও কুহকের অগ্নিশিখা। ফলে এক আশীর্বাদময় ‘শীতলতা’ ও শান্তি বোধ করেছেন তিনি। মনের ‘অসহায়ক’ অবস্থাগুলোকে চাপা দিয়ে বুদ্ধ স্বার্থহীনতা হতে উদ্ভুত শান্তি অর্জন করেছেন। এটা এমন একটা অবস্থা যা আমরা যারা এখনও আমাদেরকে অন্যের প্রতি বৈরী করে তোলা ও আমাদের দৃষ্টিকে বিকৃতকারী অহমবাদের আকাঙ্ক্ষায় বিজড়িত তাদের পক্ষে কল্পনা করা সম্ভব নয়। সেজন্যেই আলোকপ্রাপ্তির পরবর্তী বছরগুলোয় বুদ্ধ সবসময় নিব্বানাকে সংজ্ঞায়িত বা বর্ণনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তেমন কিছু করাটা ‘অসঙ্গত’ হবে, কারণ অনালোকিত কোনও মানুষের কাছে এমন একটা অবস্থার বর্ণনা দেওয়ার উপযোগি কোনও শব্দ নেই।[২৫] নিব্বানা লাভের অর্থ এমন ছিল না যে বুদ্ধ আর কখনওই দুঃখ-কষ্ট বোধ করবেন না। তিনি বৃদ্ধ হবেন, অসুস্থ হয়ে আর সবার মতোই মারা যাবেন এবং এসব ক্ষেত্রে কষ্ট পাবেন। নিব্বানা জাগ্রত ব্যক্তিকে ঘোরের মতো নিষ্কৃতি দেয় না, বরং দুঃখ- কষ্টের মাঝে এমন এক অন্তস্থ আশ্রয় যোগায় যা নারী ও পুরুষকে কষ্টের সঙ্গে মানিয়ে নিতে, একে আয়ত্ত করতে, নিশ্চিত করতে ও গভীর মানসিক স্তরে শান্তি অনুভব করতে শেখায়। সুতরাং, যে কারও মাঝেই, প্রত্যেকের সত্তার একান্ত গভীরে নিব্বানার দেখা মেলে। এটা নেহাতই স্বাভাবিক একটা অবস্থা, কোনও অতিলৌকিক ত্রাতা আমাদের জন্যে অর্জন করেননি বা কারও করুণায় অবতীর্ণ হয়নি। গৌতমের মতো একাগ্রতার সঙ্গে আলোকনের পথের বিকাশ ঘটালে যে কেউ এটা অর্জন করতে পারে। নিব্বানা এক অটল কেন্দ্র; এটা জীবনকে অর্থ দেয়। যারা এই প্রশান্ত স্থানের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলে ও এই লক্ষ্যে জীবন পরিচালিত করে না, তারা ভেঙে পড়তে পারে। শিল্পী, কবি, সঙ্গীত শিল্পী কেবল শান্তি ও শুদ্ধতার এই অন্তস্থ কেন্দ্রে পৌঁছানোর সুযোগ পেলে তখন সে আর সংঘাতময় আতঙ্ক ও আকাঙ্ক্ষায় পরিচালিত হয় না, প্রশান্তির সঙ্গে বেদনা, বিষাদ ও শোক মোকাবিলা করতে পারে। একজন আলোকপ্রাপ্ত বা জাগ্রত মানুষ নিজের মাঝে এক শক্তি আবিষ্কার করেছে যা স্বার্থপরতার নাগালে বাইরে যথাযথভাবে স্থাপিত সত্তা হতে উদ্ভূত।

    একবার শান্তির এই অস্তস্থ বলয়, অর্থাৎ নিব্বানার দেখা পাবার পর, গৌতম পরিণত হয়েছিলেন বুদ্ধে। অহমবাদের বিনাশ ঘটাতে পারলে নতুন অস্তিত্ব জাগিয়ে তোলার মতো শিখা বা জ্বালানি থাকবে না, এব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন তিনি, কারণ তাঁকে সামসারার সঙ্গে বন্ধনে জড়িতকারী আকাঙ্ক্ষার পুরোপুরি বিনাশ ঘটেছে। মৃত্যুর পর পরিনিব্বানা, চূড়ান্ত বিশ্রাম লাভ করবেন তিনি। তবে অনেক সময় পশ্চিমাবাসীরা যেমন মনে করে, এটা সম্পূর্ণ বিলুপ্তি বোঝায়নি। পরিনিব্বানা এক ধরনের অস্তিত্ব নিজেরা আলাকপ্রাপ্ত না হলে আমরা যা বুঝতে পারব না। এর বর্ণনা দেওয়ার মতো কোনও ভাষা বা তত্ত্ব নেই, কারণ আমাদের ভাষা উদ্ভুত হয়েছে আমাদের অসুখী জাগতিক অস্তিত্বের ইন্দ্রিয়জ উপাত্ত হতে; অহমবাদের অস্থিত্বহীন একটা জীবনের কল্পনা করতে পারি না আমরা। কিন্তু তাই বলে তেমন একটা অস্তিত্ব অসম্ভব বোঝায় না। মৃত্যুর পর একজন আলোকপ্রাপ্ত ব্যক্তি আর অস্তিত্বশীল থাকবে না বিশ্বাস করা বৌদ্ধ বিশ্বাসের পরিপন্থী।[২৬] একইভাবে একেশ্বরবাদীরা জোর দিয়ে বলেছে, যে সত্তাকে তারা ‘ঈশ্বর’ নামে ডাকে তাঁর যথার্থ বর্ণনা দেওয়ার মতো কোনও ভাষা নেই। পরবর্তী জীবনে বুদ্ধ তাঁর শিষ্যদের বলবেন, ‘চূড়ান্ত বিশ্রামে (পরিনিব্বানা) গমনকারীকে কোনওভাবে সংজ্ঞায়িত করা যাবে না। তাকে বর্ণনা করার মতো কোনও ভাষা নেই। চিন্তা যা ধরতে পারত তা বাতিল হয়ে গেছে, তেমনি সবধরনের ভাষাও।’[২৭] একেবারে জাগতিক ভাষায় নিব্বানা ‘কিছু না’, সেটা অস্তিত্বহীন বলে নয়, বরং তা আমাদের জানা কোনও কিছুর সঙ্গে মেলে না বলে। কিন্তু যারা যোগ অনুশীলন ও প্রেমময় নৈতিকতার মাধ্যমে আপন সত্তায় অটল কেন্দ্রের সন্ধান পেয়েছে তারা অপরিমেয় সমৃদ্ধ সত্তার দেখা লাভ করেছে, কারণ অহমবাদের সীমাবদ্ধতা ছাড়া বাঁচতে শিখেছে তারা।

    পালি টেক্সটে বর্ণিত বোধি বৃক্ষের নিচে বুদ্ধের আলোকপ্রাপ্তির বিবরণ আধুনিক পাঠককে হতবুদ্ধি ও হতাশ করতে পারে। দক্ষ যোগি নয় এমন মানুষের কাছে থেরাভেদীয় ধর্মগ্রন্থগুলো যেসব ক্ষেত্রে অস্পষ্ট হয়ে গেছে, এটা তেমনি একটা; কারণ ধ্যানের কৌশলাদি বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এখানে। নিদান কথা নামের পরবর্তী কালের ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত কাহিনী বহিরাগত কারও কাছে অধিকতর সহায়ক, যা আলোকনের ধারণাকে সাধারণ মরণশীলের পক্ষে অধিকতর বোধগম্য করে তুলেছে। গৌতমের ‘অগ্রসর হওয়া’র কাহিনীর মতোই এখানে এমনভাবে আলোকনের মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের সন্ধান করা হয়েছে যে একজন সাধারণ মানুষ বা বৌদ্ধ শিক্ষব্রতী বুঝতে পারবে। এখানে কোনও যোগ পরিভাষা নেই। আমাদের কাছে আলোকনের সম্পূর্ণ পৌরাণিক বর্ণনা দেয়। লেখক আমাদের ধারণা অনুযায়ী ইতিহাস রচনার প্রয়াস পাচ্ছেন না, বরং নিব্বানার আবিষ্কারে কী জড়িত ছিল দেখাতে সময়হীন ইমেজারি অঙ্কন করেছেন। মিথলজির সাধারণ মটিফ ব্যবহার করেছেন তিনি, যা মনের অভ্যন্তরীণ পথের সন্ধান এবং অসচেতন মনের আবছা জগৎকে স্পষ্টতর করে তোলার জন্যে মনস্তত্ত্বের প্রাক-আধুনিক রূপ হিসাবে চমৎকারভাবে বর্ণিত হয়েছে। বৌদ্ধ মতবাদ আবশ্যিকভাবে মনস্তাত্ত্বিক ধর্ম। সুতরাং, এটা বিস্ময়কর নয় যে, প্রাচীন বৌদ্ধ লেখকগণ মিথোলজির এমন সুদক্ষ প্রয়োগ দেখিয়েছেন।[২৮] আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে এইসব টেক্সটের কোনওটাই কিন্তু আসলে কী ঘটেছিল তা জানাচ্ছে না বরং শ্রোতাকে তার নিজস্ব আলোকপ্রাপ্তিতে সাহায্য করতে চেয়েছে।

    নিদান কথা সাহস ও প্রতিজ্ঞার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিচ্ছে; এটা দেখাচ্ছে গৌতম নিজের মাঝে নিব্বানা অর্জনের বাধা সৃষ্টিকারী সকল শক্তির বিরুদ্ধে এক বীরত্বসূচক সংগ্রামে লিপ্ত। আমরা পড়েছি, জাউ খাওয়ার পর মুক্তি লাভের শেষ প্রয়াস চালাতে সিংহের মতো রাজকীয় ভঙ্গিতে বোধি বৃক্ষের দিকে এগিয়ে গেছেন গৌতম। সেইরাতেই লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। প্রথমে নিব্বানা অর্জনের সময় পূর্ববর্তী বুদ্ধগণ কোথায় বসেছিলেন জানার জন্যে গাছটার চারপাশে চক্কর দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তিনি যেখানেই দাঁড়িয়েছেন দেখেছেন, ‘বিশাল জমিন ওঠা-নামা করছে, যেন একটা বিশাল ঠেলাগাড়ির চাকা কেন্দ্রের ওপর পড়ে আছে এবং কেউ ওটার কিনারা বরাবর হাঁটছে।[২৯] অবশেষে গাছের পুব দিকে এগিয়ে গেলেন গৌতম। সেখানে দাঁড়াতেই জমিন স্থির হয়ে গেল। গৌতম সিদ্ধান্তের পৌঁছলেন, নিশ্চয়ই এটা সেই ‘নিশ্চল স্থান’ যেখানে অতীতের বুদ্ধগণ অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। সুতরাং ভোরের অঞ্চল পুবদিকে ফিরে আসন পেতে বসলেন তিনি। মনে দৃঢ় প্রত্যাশা, মানুষের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা ঘটাতে যাচ্ছেন। ‘দেহের রক্ত-মাংসসহ আমার ত্বক, পেশি, হাড় শুকিয়ে যাক। আমি মেনে নেব!’ শপথ নিলেম গৌতম। ‘কিন্তু পরম ও চূড়ান্ত প্রজ্ঞা অর্জন না করে এখান থেকে নড়ব না।[৩০]

    গৌতম গাছ ঘিরে চক্কর দেওয়ার সময় পৃথিবীর বিচিত্র কম্পনের ওপর জোর দিয়ে টেক্সট আমাদের এই কাহিনী আক্ষরিক অর্থে পাঠ না করার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। এটা কোনও বাস্তব স্থান নয়; মহাজগতের অক্ষে দাঁড়ানো জগৎ-বৃক্ষ নিষ্কৃতির পুরাণের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। এখানেই স্বর্গীয় শক্তি পৃথিবীতে আসে। সেখানে মানুষ পরমের দেখা পায় ও পরিপূর্ণতায় এক হয়ে যায়। আমাদের শুধু মনে রাখতে হবে, ক্রিশ্চান কিংবদন্তী অনুযায়ী জেসাসের ক্রস স্বর্গোদ্যানের জ্ঞান ও পাপ বৃক্ষের মতোই একই জায়গায় অবস্থিত। কিন্তু বৌদ্ধ মিথে ঈশ্বর-মানুষ নন বরং মানুষ গৌতমই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসেছিলেন, কারণ মানুষকে অবশ্যই অতিলৌকিক সাহায্য ছাড়াই আত্মরক্ষা করতে হবে। টেক্সট এটা পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে, গৌতম মহাবিশ্বের অক্ষে, সমগ্র সৃষ্টি জগতকে ধরে রাখা কিংবদন্তীর কেন্দ্রে পৌঁছেছেন। এই ‘নিশ্চল স্থান’ সেই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা যা আমাদের জগৎ ও নিজেদের নিখুঁত ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় দেখতে সক্ষম করে তোলে। মনস্তাত্ত্বিক স্থিতিশীলতা ও সঠিক পরিচিতি ছাড়া আলোকন অসম্ভব; সেকারণেই সকল বুদ্ধকে–মনের এই অবস্থা অর্জনের জন্যে-নিব্বানা অর্জনে সফল হয়ে ওঠার আগে এখানেই আসন গ্রহণ করতে হয়েছে। এটাই সেই মান্দি অক্ষ, নিশ্চল বিন্দু যেখানে বহু বিশ্ব কিংবদন্তীতে মানুষ বাস্তব ও অনিয়ন্ত্রিতের মোকাবিলা করেছে। এটাই সেই ‘স্থান’ সেখানে সমস্ত কিছু জাগতিক বিশ্বে বিপরীত মনে হওয়া জীবন ও মৃত্যু, শূন্যতা ও প্রাচুর্য, লৌকিক ও অলৌকিক চাকার কেন্দ্রে এসে স্পোকের মতো স্বাভাবিক সচেতনতায় অকল্পনীয় coincidentia oppositorum-এ মিলিত হয়ে পবিত্রতার অনুভূতি সৃষ্টি করে।[৩১] গৌতম যখন ছেলেবেলোয় গোলাপজাম গাছের নিচের অনুরূপ নিখুঁত ভারসাম্যে পৌঁছেছিলেন, যখন তাঁর সমস্ত ইন্দ্ৰিয় একাগ্র হয়ে উঠেছে, তাঁর অহমবাদ নিয়ন্ত্রণাধীনে আসার পরেই, তাঁর বিশ্বাস মতো তিনি ‘অটল স্থানে’ বসতে তৈরি হয়েছিলেন। অবশেষে পরম আলোক গ্রহণের পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন তিনি।

    কিন্তু সংগ্রাম তখনও শেষ হয়নি। গৌতমকে তাঁর অজাগ্রত জীবন আঁকড়ে থাকা ও বিদায় নিতে অস্বীকৃতি জানানো অবশিষ্ট শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়েছে। গৌতমের ছায়া-সত্তা মারা বিশাল সেনাদল সজ্জিত নিয়ে বিশ্ব শাসক চক্কবত্তীর রূপ ধরে তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন। স্বয়ং মারা ১৪০ লীগ উঁচু একটা হাতির পিঠে আসীন। ১০০০ হাত গজিয়েছে তাঁর, প্রত্যেক হাতে মারাত্মক সব অস্ত্র দেখা যাচ্ছে। মারা নামের অর্থ কুহক। আমাদেরকে আলোকন থেকে দূরে ঠেলে রাখা অজ্ঞতাকেই তুলে ধরেন, কারণ চক্কবত্তী হিসাবে কেবল শারীরিক শক্তি দিয়ে অর্জন সম্ভব বিজয়ের দেখা পান তিনি তখনও পুরোপুরি আলোকপ্রাপ্ত হননি গৌতম। ফলে করুণার মাধ্যমে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করলেন তিনি। নিজের অর্জিত গুণাবলীকে তরবারি বা বর্মের মতো এই মারাত্মক বাহিনীকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র মনে করেছিলেন।[৩২] কিন্তু আমাদের লেখক বলে যাচ্ছেন, মারার প্রতাপ সত্ত্বেও গৌতম ‘অপরাজেয় অবস্থানে’ বসেছিলেন, অমন অশ্লীল নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রমাণ। মারা তাঁর উদ্দেশে নয়টি ভীতিকর ঝড় প্রেরণ করার পরেও অটল রইলেন গৌতম। গৌতমের আলোকপ্রান্তি প্রত্যক্ষ করার জন্যে তাঁর পাশে জড়ো হওয়া দেবতাগণ আতঙ্কে পালিয়ে গেলেন। একা রয়ে গেলেন তিনি। বৌদ্ধ দর্শন অনুযায়ী মুক্তি সন্ধান করার সময় নারী-পুরুষের স্বর্গীয় সাহায্য প্রত্যাশা করার উপায় নেই।

    এ পর্যায়ে মারা গৌতমের কাছে এসে অদ্ভুত কথোপথনে ব্যস্ত করে রাখলেন। গৌতমকে আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে বললেন, ‘ওটা তোমার নয়, আমার।’ মারা ভেবেছিলেন গৌতম জগৎ ছাড়িয়ে গেছেন, সকল বাহ্যিক বিরোধিতায় অনাক্রান্ত হয়ে গেছেন। কিন্তু মারা এই জগতের অধিশ্বর, চক্কবত্তী হিসাবে ওই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসার অধিকার তারই। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি, এই মাত্র দেখানো তাঁর ক্রোধ, ঘৃণা ও সহিংসতা তাঁকে বোধি বৃক্ষের নিচে অবস্থান গ্রহণের অযোগ্য করে তুলেছে। কেবল যারা সহানুভূতিময় জীবন যাপন করে এ শুধু তাদেরই অধিকার। গৌতম যুক্তি দেখালেন যে, মারা আলোকনের পক্ষে মোটেই প্রস্তুত নন। তিনি কখনও কোনওরকম আধ্যাত্মিক প্রয়াস চালাননি, কখনও দান করেননি, যোগ অনুশীলন করেননি। তো, উপসংহার টানলেন গৌতম, ‘এই আসন তোমার নয়, বরং আমার।’ তিনি আরও যোগ করলেন, পূর্ববর্তী জীবনে তিনি সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন, এমনকি অন্যের জন্যে নিজের জীবনও বিসর্জন দিয়েছেন। মারা কী করেছেন? তিনি এমন এমন দয়াময় কাজ করার কোনও প্রমাণ হাজির করতে পারবেন? সঙ্গে সঙ্গে মারার সেনাদল সমস্বরে চিৎকার করে উঠল: ‘আমি সাক্ষী!’ বিজয়ীর ঢঙে গৌতমের দিকে ফিরলেন মারা, নিজ দাবির প্রমাণ রাখতে বললেন তাঁকে।[৩৩]

    কিন্তু গৌতম ছিলেন একা। আলোকনের জন্যে দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রমাণ রাখার মতো কোনও মানুষ বা দেবতা ছিলেন না তাঁর পাশে। হাত বাড়িয়ে সামনের জমিন স্পর্শ করে পৃথিবীকেই তাঁর অতীতের সহানুভুতিসূচক কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাক্ষী দেওয়ার আবেদন জানালেন তিনি। প্রচণ্ড গর্জনে চিৎকার করে উঠল পৃথিবী: ‘আমি তোমার সাক্ষী!’ আতঙ্কে হাঁটু ভেঙে বসে পড়ল মারার হাতি। সৈন্যরা আতঙ্কে দৌড়ে দিকবিদিক সটকে গেল।[৩৪] পৃথিবীর সাক্ষীর ভঙ্গি, যেখানে বুদ্ধকে পদ্মাসনে বসে জমিনের দিকে ডান হাত বাড়ানো ভঙ্গিতে থাকতে দেখা যায়, বৌদ্ধ শিল্পকলার একটা প্রিয় আইকন। এটা কেবল মারার নির্জীব পৌরুষের বিরুদ্ধে গৌতমের প্রত্যাখ্যানই দেখায় না, বরং এই গভীর যুক্তি তুলে ধরে যে, বুদ্ধ প্রকৃতই পৃথিবীর মানুষ। ধম্ম কষ্টকর হলেও প্রকৃতিবিরুদ্ধ নয়। পৃথিবীর সাথে নিঃস্বার্থ মানুষের রয়েছে এক গভীর সখ্যতা। গোলাপজাম গাছের নিচের সেই ঘোরের কথা মনে করে এটা বুঝতে পেরেছিলেন গৌতম। আলোকন-প্রত্যাশী নারী-পুরুষ মহাবিশ্বের মৌল কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। জগৎ মারা ও তাঁর সেনাদলের সহিংসতায় শাসিত মনে হলেও প্রেমময় বুদ্ধই অস্তিত্বের মৌল বিধিমালার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানানসই।

    মারার বিরুদ্ধে, আসলে যা নিজের বিরুদ্ধেই, বিজয়ের পর গৌতমকে পিছু টানার মতো আর কিছু ছিল না। দেবতারা স্বর্গ হতে ফিরে এসে তাঁর চূড়ান্ত মুক্তি প্রত্যক্ষ করার জন্যে রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছিলেন, কারণ যেকোনও মানুষের মতো তাঁদেরও গৌতমের সাহায্যের প্রয়োজন ছিল। এবার প্রথম ঝানায় প্রবেশ করলেন গৌতম, তারপর নিজের মনের অন্তস্থ জগতে অনুপ্রবেশ করলেন। অবশেষে নিব্বানার শান্তিতে প্রবেশ করার পর বৌদ্ধবিশ্বের জগৎসমূহ কেঁপে উঠেছিল, স্বর্গ ও নরক আন্দোলিত হয়েছে। বোধিবৃক্ষ আলোকপ্রাপ্ত পুরুষের ওপর লাল ফুল ঝরিয়েছে। গোটা জগৎ জুড়ে,

    ফুল গাছ সুশোভিত হয়ে উঠল: ফলজ গাছ নুয়ে পড়ল ফলভারে; গাছে গাছে ফুটল স্থলপদ্ম…দশ হাজার জগতের ব্যবস্থা যেন হাওয়ায় উড়িয়ে দেওয়া ফুলের তোড়ার মতো।[৩৫]

    সাগর লোনা স্বাদ হারিয়ে ফেলল। অন্ধ ও মুকরা দেখতে ও শুনতে পেল। পঙ্গুরা ফিরে পেল চলৎশক্তি। কারাগারের বন্দিদের শেকল খসে পড়ল। সহসা সমস্ত কিছু মুক্তি ও সম্ভাবনার দেখা পেল: কয়েক মুহূর্তের জন্যে জীবনের প্রতিটি ধরণ আরও পরিপূর্ণ হয়ে উঠল।

    কিন্তু নতুন বুদ্ধ জগতকে অবতারের মতো করে রক্ষা করতে পারবেন না। প্রতিটি প্রাণীকে নিজ আলোকন লাভের জন্যে গৌতমের কর্মসূচির চর্চা করতে হবে। তিনি তাদের পক্ষে সেটা করে দিতে পারবেন না। কিন্তু গোড়াতে যেন মনে হয়েছে বুদ্ধ, এখন তাঁকে অবশ্যই গৌতম ডাকতে হবে আমাদের, তাঁর সতীর্থ প্রাণীদের রক্ষা করার একমাত্র উপায়, এই ধম্ম প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রায়শঃই শাক্যমুনি-শাক্য প্রদেশের নীরবজন-অ্যাখ্যায়িত হবেন তিনি, কারণ তাঁর অর্জিত জ্ঞান অনির্বচনীয়, ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। তারপরেও গাঙ্গেয় এলাকা জুড়ে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে জনসাধারণ এক নতুন আধ্যাত্মিক দর্শনের আকাঙ্ক্ষা করছিল। পালি টেক্সট আমাদের জানাচ্ছে, প্রায় বুদ্ধ’র আলোকপ্রাপ্তির পরপরই তাপুস্য ও ভালুকা নামে দুজন বণিককে দেবতাদের একজন মহান ঘটনাটি অবহিত করার পর তারা তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল ব্যাপারটা। তারাই প্রথম সাধারণ শিষ্যে পরিণত হয়েছিল।[৩৬] কিন্তু প্রাথমিক সাফল্য সত্ত্বেও অনিচ্ছুক ছিলেন বুদ্ধ। তাঁর ধম্ম ব্যাখ্যা করা বড্ড কঠিন, বলেছেন নিজেকে, লোকে এর জন্যে প্রয়োজনীয় যোগ ও নৈতিক অনুশীলনী চর্চায় আগ্রহী হবে না। আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দেওয়ার বদলে বেশির ভাগ মানুষই ইতিবাচকভাবে তাদের অর্জন উপভোগ করে। আত্ম-পরিত্যাগের বার্তা শুনতে চাইবে না তারা। ‘আমি ধৰ্ম্ম শিক্ষা দিলে,’ সিদ্ধান্ত নেন বুদ্ধ, ‘মানুষ বুঝবে না। আমার জন্যে ক্লান্তিকর ও হতাশাব্যাঞ্জক হয়ে দাঁড়াবে ব্যাপারটা।[৩৭]

    কিন্তু দেবতা ব্রহ্মা হস্তক্ষেপ করলেন তখন। নিবিড় মনোযোগের সঙ্গে গৌতমের আলোকপ্রাপ্তি লক্ষ করেছেন তিনি, তাঁর সিদ্ধান্ত জেনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। বুদ্ধ তাঁর ধম্ম শিক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, হতাশায় চেঁচিয়ে উঠলেন ব্রহ্মা। ‘জগৎ পরাস্ত হবে। কোনও সুযোগই থাকবে না!’ হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। পালি টেক্সট সম্পূর্ণ অসচেতনভাবে দেবতাদের পরিচয় করিয়ে দেয়। দেবতারা তাঁদের সৃষ্টির অংশ। বুদ্ধের কাহিনীতে মারা ও ব্রহ্মার অংশগ্রহণ তুলে ধরা এইসব কিংবদন্তী বুদ্ধমতের নতুন ধর্ম ও প্রাচীন বিশ্বাসের মাঝে সহিষ্ণু অংশীদারী বজায় থাকার বিষয়টিই তুলে ধরে। পৌত্তলিক পড়শিদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেবতাদের ভর্ৎসনাকারী হিব্রু পয়গম্বদের বিপরীতে প্রাথমিক বুদ্ধরা বহুসংখ্যক মানুষের প্রথাগত পূজা-অর্চনা বন্ধ করার কোনও প্রয়োজন বোধ করেনি। তার বদলে বুদ্ধ তাঁর জীবনের নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দেবতাদের সাহায্য করার সুযোগ করে দিচ্ছেন, এমনটাই দেখিয়েছে। মারার মতো ব্রহ্মাও হয়তো বুদ্ধের ব্যক্তিত্বেরই একটা দিক তুলে ধরে থাকতে পারে। সম্ভবত দেবতারা যে মানুষের অবচেতন শক্তির অভিক্ষেপ, সেটা বোঝানোরই একটা উপায় এটা। ব্রহ্মার হস্তক্ষেপের কাহিনী এমনটা বোঝাতে পারে যে, বুদ্ধের মনে কোনও দ্বিধা ছিল। তাঁর একটা অংশ নিঃসঙ্গতায় ফিরে গিয়ে বিরক্তিহীনভাবে নিব্বানার শান্তি ভোগ করার ইচ্ছে করার সময় আরেকটা অংশ এভাবে সতীর্থ প্রাণীদের স্রেফ অবহেলা করতে পারেন না বলে উপলব্ধি করেছে।

    স্বাভাবিক ভূমিকার সম্পূর্ণ উল্টো ভূমিকায় স্বর্গ ছেড়ে মর্ত্যে নেমে এলেন ব্রহ্মা, নতুন বুদ্ধের সামনে হাঁটু গেড়ে বসলেন। ‘প্রভু’ প্রার্থনা জানালেন তিনি, ‘দয়া করে ধম্ম প্রচার করুন…খুব সামান্য আকাঙ্ক্ষা অবশিষ্ট রয়ে গেছে এমন মানুষ এই পদ্ধতির অভাবে আটকা পড়ে আছে। ওদের কেউ কেউ বুঝতে পারে।’ বুদ্ধের কাছে ‘যন্ত্রণায় তলিয়ে যাওয়া মানুষের দিকে তাকাতে’ আবেদন জানালেন তিনি, ‘জগতকে রক্ষা করার জন্যে দূর দূরান্তে সফর করার’[৩৮] আবেদন রাখলেন। সহানুভূতি ছিল বুদ্ধের আলোকনের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এক কিংবদন্তীতে আছে: গৌতম তাঁর মায়ের হৃদয়ের সমান অবস্থান থেকে একপাশ দিয়ে জন্ম গ্রহণ করেছেন।[৩৯] এটা আধ্যাত্মিক মানুষের জন্মের একটা উপমা, অবশ্যই আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করার জন্যে নয়। আমরা যখন হৃদয় দিয়ে জীবন যাপন করতে শিখি, ঠিক আমাদের মতোই অন্যের দুঃখ-কষ্ট অনুভব করতে পারি, কেবল তখনই আমরা সত্যিকার অর্থে মানুষ হয়ে উঠি একজন পশুবৎ নারী বা পুরুষ যেখানে নিজের স্বার্থকে সবার আগে স্থান দেয়, আধ্যাত্মিক পুরুষ সেখানে অন্যের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে ও দূর করতে শেখে। আমাদের অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের হৃদয়হীন করে রাখি, তরুণ গৌতমের প্রবল প্রতিরক্ষা সম্পন্ন প্রমোদ প্রাসাদের অনুরূপ একটা অবস্থা। কিন্তু বুদ্ধত্ব অর্জনের জন্যে দীর্ঘ ধ্যান ও প্রস্তুতিকালে গৌতম তাঁর সমগ্র সত্তাকে গভীরতম কন্দরে অনুরণিত হতে দিয়েছেন। নিজেকে ‘প্রত্যক্ষ জ্ঞান’-এর সঙ্গে দুঃখ-কষ্টের মহান সত্যকে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছেন তিনি, নিজের সাথে একে এক ও সম্পূর্ণ আত্মস্থ না করা পর্যন্ত।আপন নিব্বানায় নিরাপদে বন্দি হয়ে থাকতে পারেননি তিনি। তাহলে এক নতুন ধরনের প্রমোদ প্রাসাদে প্রবেশ করতেন তিনি। এমন প্রত্যাহার ধম্মের আবশ্যকীয় গতিশীলতাকে লণ্ডভণ্ড করত: বুদ্ধ চারটি ‘অপরিমেয়’র অনুশীলন করতে পারেন না, সতীর্থ প্রাণীকূল কুটিল হয়ে ওঠা এক জগতে নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকবে আর বুদ্ধ কেবল আপন আধ্যাত্মিক সুবিধার জন্যে পৃথিবীর চারকোণে দয়াময় অনুভূতি পাঠিয়ে যাবেন, তা হতে পরে না। তিনি যেভাবে সেতো- বিমুক্তি-আলোকনের মুক্তি-অর্জন করেছিলেন তাঁর অন্যতম প্রধান উপায় ছিল প্রেমময়-দয়া ও নিঃস্বার্থ সহানুভূতি। ধম্মের দাবি ছিল তিনি বাজার এলাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন, নিজেকে বিষাদপূর্ণ পৃথিবীতে জড়িত করবেন।

    দেবতা ব্রহ্মা (কিংবা বুদ্ধের ব্যক্তিত্বের উচ্চতর অংশ) বিরাট সাফল্য হিসাবে এটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। বুদ্ধ সযত্নে তাঁর আবেদন শুনলেন; পালি টেক্সট আমাদের বলছে, ‘বুদ্ধের চোখ দিয়ে সহানুভূতির সঙ্গে পৃথিবীর দিকে তাকলেন তিনি।[৪০] এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য। কেবল আপন মুক্তি অর্জনকারী কেউ বুদ্ধ নন, বরং তিনিই বুদ্ধ যিনি যন্ত্রণার ঊর্ধ্বে উঠে গেলেও অন্যদের বেদনায় সহানুভূতিশীল হতে পারেন। বুদ্ধ এবার উপলব্ধি করলেন, নিব্বানার পথগুলো সবার জন্যেই ‘হাট করে খোলা’: কীভাবে সতীর্থদের কাছে হৃদয়ের দরজা বন্ধ করবেন তিনি?[৪১] বোধি বৃক্ষের নিচে তাঁর উপলব্ধ সত্যের একটা আবশ্যিক অংশ হচ্ছে অন্যের জন্যে বাঁচাই নৈতিকভাবে বাঁচা। জীবনের পরবর্তী চল্লিশ বছর ক্লান্তিহীনভাবে নগর আর শহরে শহরে ঘুরে দেবতা, পশুপাখি, নারী ও পুরুষের কাছে আপন ধম্ম পৌঁছে দেবেন তিনি। এই প্রেমময় আক্রমণের কোনও সীমাবদ্ধতা থাকবে না।

    কিন্তু কে প্রথম শুনবে এই বার্তা? সবার আগে প্রাক্তন গুরু আলারা কালাম ও উদকা রামপুত্তের কথা ভাবলেন বুদ্ধ। কিন্তু কাছেই অপেক্ষামান কয়েকজন দেবতা তাঁকে জানালেন তাঁরা দুজনই সম্প্রতি পরলোকগমন করেছেন। প্রচণ্ড শোকের খবর ছিল এটা। তাঁর গুরুরা ভালো মানুষ ছিলেন। নিশ্চয়ই তাঁরা তাঁর ধম্ম বুঝতে পারতেন। তাঁদের কোনও দোষ না থাকলেও এখন বেদনাময় আরেক জীবনে পতিত হয়েছেন তাঁরা। এই সংবাদ বুদ্ধকে নতুন তাগাদা দিয়ে থাকতে পারে। এরপর সেই পাঁচ ভিক্ষুর কথা ভাবলেন তিনি যারা তাঁর সঙ্গে প্রায়শ্চিত্তমূলক তাপস অনুশীলন করেছিলেন। প্রথম খাদ্য গ্রহণের পর সভয়ে সরে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু ওই প্রত্যাখ্যানকে বিচার-বিবেচনাকে ঘোলা করতে দেবেন না তিনি। এক সঙ্গে অবস্থানের সময় তাঁদের সহায়তা ও সমর্থনের কথা ভাবলেন। সরাসরি বেরিয়ে পড়লেন তাঁদের খোঁজে। তাঁরা এখন বারানসির (আধুনিক বানারস) বাইরে হরিণ বাগিচায় বাস করছেন জানতে পেরে ধম্মের চাকা চালু করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেন তিনি। তিনি যেভাবে বলেছেন, ‘নিব্বানার মৃত্যুহীন ঢোল বাজানোর জন্যে।’[৪২] খুব বেশি কিছু প্রত্যাশা করেননি তিনি। ভ্রান্তিবশত বুদ্ধ ভেবেছিলেন তাঁর শিক্ষা মাত্র কয়েক শো বছর অনুসৃত হবে। কিন্তু মানুষকে উদ্ধার করতে হবে; এবং বুদ্ধ তাঁর অর্জিত নিব্বানার প্রকৃতির কারণেই তাঁদের জন্যে যথাসাধ্য করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

    তথ্যসূত্র

    ১. জোসেফ ক্যাম্পবেল, অরিয়েন্টাল মিথলজি: দ্য মাস্কস্ অভ গড, নিউ ইয়র্ক, ১৯৬২, ২৩৬।

    ২. মাজহিমা নিকয়া, ৩৬।

    ৩. প্রাগুক্ত।

    ৪. আঙুত্তারা নিকয়া ৯: ৩; মাজহিমা নিকয়া, ৩৮, ৪১।

    ৫. মাজহিমা নিকয়া ২৭, ৩৮, ৩৯, ১১২।

    ৬. প্রাগুক্ত, ১০০।

    ৭. দিঘা নিকয়া, ৩২৭।

    ৮. সামুত্তা নিকয়া, ২: ৩৬।

    ৯. বিনয়া: মহাভাগ্য, ১: ৬।

    ১০. উদনা, ৩: ১গ।

    ১১. মাজহিমা নিকয়া, ৩৮।

    ১২. প্রাগুক্ত।

    ১৩. মাজহিমা নিকয়া, ২।

    ১৪. হারমান অলদেনবার্গ, দ্য বুদ্ধা: হিজ লাইফ, হিজ ডকট্রিন, হিজ অর্ডার (অনু: উইলিয়াম হোয়ে), লন্ডন, ১৮৮২, ২৯৯-৩০২; এডোয়ার্ড কনযে, বুদ্ধজম: ইটস্ এসেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, অক্সফোর্ড, ১৯৫৭, ১০২।

    ১৫. আঙুত্তারা নিকয়া, ৮: ৭: ৩; রিচার্ড এফ, গমব্রিচ, হাউ বুদ্ধজম বিগান: দ্য কন্ডিশনড জেনেসিস অভ দ্য আর্লি টিচিংস, লন্ডন ও আটলান্টিক হাইল্যান্ডস, এনজে, ১৯৯৬, ৬০-৬১।

    ১৬. মাইকেল কারিথার্স, দ্য বুদ্ধা, অক্সফোর্ড ও নিউ ইয়র্ক, ১৯৮৩, ৭৫-৭৭।

    ১৭. আঙুত্তারা নিকয়া ৪: ২০।

    ১৮. মাজহিমা নিকয়া ১০০।

    ১৯, প্রাগুক্ত, ৩৬; সামুত্তা নিকয়া ১২: ৬৫।

    ২০. সামুত্তা নিকয়া ১২: ৬৫।

    ২১. মাজহিমা নিকয়া ৩৬।

    ২২. বিনয়া: মহাভাগ্য ১: ৫।

    ২৩. দিঘা নিকয়া, ১: ১৮২।

    ২৪. মাজহিমা নিকয়া, ৩৬।

    ২৫. আঙুত্তারা নিয়া, ১০.৯৫।

    ২৬. অলদেনবার্গ, দ্য বুদ্ধা, ২৭৯-৮২।

    ২৭. সুত্তা-নিপাতা, ৫: ৭।

    ২৮. জাতকা, ১: ৬৮-৭৬; হেনরি ক্লার্ক ওয়ারেন, বুদ্ধজম ইন ট্রান্সলেশন, ক্যাম্ব্রিজ, ম্যাস, ১৯০০, ৭১-৮৩।

    ২৯. জাতকা, ১: ৭০।

    ৩০. প্রাগুক্ত, ১: ৭১।

    ৩১. মির্চা এলিয়াদ, দ্য স্যাক্রেড অ্যান্ড দ্য প্রোফেন: দ্য নেচার অভ রিলিজিয়ন (অনু. উইলিয়াম আর. ট্রাস্ক), নিউ ইয়র্ক ও লন্ডন, ১৯৫৭, ৩৩- ৩৭; ৫২-৫৪; ১৬৯। জোসেফ ক্যাম্পবেল, দ্য হিরো উইদ আ থাউজেন্ড ফেইসেস, প্রিন্সটন, এনজে, ১৯৮৬, সংস্ক. ৪০-৪৬, ৫৬-৫৮; দ্য পাওয়ার অভ মিথ (বিল ময়ার্সের সঙ্গে) নিউ ইয়র্ক, ১৯৮৮, ১৬০-৬২।

    ৩২. জাতকা, ১: ৭২।

    ৩৩. প্রাগুক্ত, ১: ৭৩।

    ৩৪. প্রাগুক্ত, ১: ৭৪।

    ৩৫. প্রাগুক্ত, ১: ৭৫।

    ৩৬. বিনয়া: মাহভাগ্য, ১: ৪।

    ৩৭. প্রাগুক্ত, ১: ৫।

    ৩৮. প্রাগুক্ত।

    ৩৯. এলিয়াদ, স্যাক্রেড অ্যান্ড প্রোফেন, ২০০; ক্যাম্পবেল, দ্য পাওয়ার অভ মিথ, ১৭৪-৭৫।

    ৪০. বিনয়া: মহাভাগ্য, ১: ৫।

    ৪১. প্রাগুক্ত।

    ৪২. প্রাগুক্ত, ১: ৬।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্রষ্টার জন্য লড়াই : মৌলবাদের ইতিহাস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    Next Article পুরাণ : সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    Related Articles

    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    আ হিস্ট্রি অফ গড – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    ইসলাম : সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    পুরাণ : সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    স্রষ্টার জন্য লড়াই : মৌলবাদের ইতিহাস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    জেরুসালেম : ওয়ান সিটি থ্রি ফেইস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    দ্য গ্রেট ট্রান্সফর্মেশন : আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সূচনা – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }