Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বৃত্তের বাইরে – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বৃত্তের বাইরে – ৩

    ।। ৩ ।।

    রাত্রি সাড়ে দশটা। শীতের কলকাতা প্রায় নিঝুম হয়ে এসেছে। রাস্তার মোড়ে কিছু লোক আগুন করে বসে জুয়ো খেলছে। ঘড় ঘড় ঘড় ঘড় ট্রামের শব্দ। ট্রাকের প্রতাপ বাড়ছে রাতের সঙ্গে সঙ্গে। সামনের মৃতদেহটির দিকে তাকিয়ে বিজু রায় একেবারে অবাক হয়ে রইলেন। নিতাই ভটচায্যি বলল—’কী হল রায়বাবু, তুলুন?’

    মণিময় বলল—’গামছাটা ভাল করে কাঁধে ঠেসে ঠুসে নেবেন। না হলে লাগবে কিন্তু।’

    প্রতুল বিশ্বাস বলল—’ভয় খাচ্ছেন কেন? আমরাও পাঁচজনে আছি তো। কাঁধ বদল করে নেবেন একটু পরেই।’

    বিজু রায় দুঃখের হাসি হেসে বললেন—’ওজন তো শুধু এই খাটিয়াটারই।’

    —’না না দাদা, ভুল করছেন’, নিতাই ভটচাজ্যি বললেন—’যত সময় যায় মড়ার ওজন বাড়ে। সে যত রোগাই হোক। এনার আত্মীয়স্বজনের হদিশ খুঁজতে আমাদের কম সময় গেল? ছিল ইঁদুর, দেখবেন হাতি হয়েছে।’

    —’বলো হরি, হরি বোল’…মণিময় বলে উঠল। চারজনের কাঁধে কাঁধে উঠে পড়ল নলিনীকান্ত করের লাশ।

    আহিরিটোলার এই আস্তানার খোঁজ পেয়েছিলেন বিজন এই নলিনী করের কাছেই মাত্র তিনদিন আগে। একটা ট্যাকসি নিয়ে প্রথমেই গিয়েছিলেন সেই বাঁধাঘাট। শ্মশানের ধারের বাড়ি। নেই। বহুতল উঠছে। দুলিচাঁদের মতো কোনও ঘাঘু প্রোমোটার কিম্বা বিজু রায়ের মতো কোনও অ্যামেচার কলকাতা, বৃহত্তর কলকাতা এবং সমস্ত পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের চেহারা পাল্টে দেবার সংকল্প নিয়েছে। আকাশ কিনছে, আকাশ বেচছে। সুতরাং বিজু রায়ের ছেলেবেলা ধূলিসাৎ। দেখে কেন কে জানে খারাপ লেগেছিল। তিনি সেন্টিমেন্টাল লোক নন। এও ভাল করেই জানেন গঙ্গার ধারের সেই বালিখসা নোনা ধরা বাড়ি আজও টিকে থাকার কথা নয়। তাকে আগাগোড়া সংস্কার করলেও টিকত কিনা বলা যায় না। কী আশা নিয়ে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বলা শক্ত। ঘুসুড়ির বাড়িটার জন্যে তো কতবার জি.টি. রোডের ওপর দিয়ে বেরিয়ে গেছেন। একবারও তো মনে হয়নি, ছেলেবেলার সেই বাড়ি দেখে আসি। এখনই কেন হল, বলা সত্যিই শক্ত। আশাভঙ্গ কেন হল সেটা বলা আরও শক্ত। কিন্তু হল। ট্যাকসিটা ছেড়ে দিয়ে ছিলেন, খানিকটা ঘোরাঘুরি করে বাঁধাঘাটের একটা দোকান থেকে গরম গরম জিলিপি আর চা খেলেন, বেশ কয়েক ভাঁড়। তারপর অনেককাল আগেকার মতো লঞ্চে চেপে বসলেন। ওপারে আহিরিটোলা যাবেন। স্রেফ যাবার জন্যেই। কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। বেরিয়ে আসার একমাত্র উদ্দেশ্য, ছুটকি। ছুটকিকে খুঁজে বের করা। কিন্তু সেটা সহজ নয়। চিঠিগুলো এখনও সব পড়া হয়নি। কিন্তু যতগুলো পড়েছেন কোথাও ঠিকানা নেই। অথচ মা, সবগুলোর না হলেও কোনও—কোনওটার জবাব দিয়েছে। ঠিকানাটা এই কাগজের স্তূপের মধ্যে থেকে খুঁজে বার করতে হলে একটু সময় চাই। কোথাও বসতে পারা চাই। কিন্তু কোনও হোটেলে গেলে হঠাৎ কেউ তাঁকে চিনে ফেলতে পারে। তাঁর সময় চাই। বাসে, ট্রামে, ট্রেনে তো আর পুরনো চিঠি খুলে পড়া যায় না। আহিরিটোলার জেটিতে বসে এইসবই ভাবছিলেন। খেয়াল করেননি একজন কেউ তাঁকে অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ করছে।

     

    আরও দেখুন
    মুদিখানা
    বৃত্তের বাইরে
    বিজ
    লেখকের বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাইশে শ্রাবণ
    বইয়ের
    লাইব্রেরি
    অনলাইন বুকস্টোর
    অনলাইনে বই

     

    —’মহাশয়ের কি এদিকে এই প্রথম আসা?’

    চিন্তাক্লিষ্ট বিজু রায় মুখ তুলে দেখলেন রোগা লম্বা এক প্রৌঢ়। চওড়া পাড়ের ধুতির ওপর গরম ফ্লানেলের পাঞ্জাবি, তার ওপর জামেয়ার শাল। চকচকে বার্নিশ করা নিউ—কাট। মুখের রং, বোঝা যায় একসময়ে ফর্সা ছিল, জ্বলে গেছে। খয়েরি খয়েরি ছোপ নানা জায়গায়। চুলে বোধহয় কলপ দিতেন, সম্প্রতি ছেড়েছেন। অর্ধেক চুল পানের বাসি ছোপের মতো লাল।

    বিজু রায় তখনও ঠিক করতে পারেননি কী বলবেন। ভদ্রলোক বললেন—’হাতে দু দুটো সুটকেস, বাঁধাঘাটের স্টিমারে এলেন, এসে থেকে বসে আছেন, আর আকাশ পাতাল ভাবছেন, কী ব্যাপার বলুন তো। অবিশ্যি যদি বলেন পরের ব্যাপারে নাক গলাচ্ছি কেন তো চলে যবো। কিন্তু ভাবব। ভাবনার ওপর তো ট্যাক্স বসাতে পারেন না?’ পারেন? কী দাদা পারেন?

    বিজু বললেন—’আসলে খুঁজতে এসেছি একজনকে। কিন্তু কোথায় উঠছেন, কীভাবে খুঁজব ভেবে পাচ্ছি না।’ বিজু রায়, বি. বি. রায় এই কথা বললেন একজন সম্পূর্ণ অজানা অচেনা লোককে।

     

    আরও দেখুন
    বৃত্তের বাইরে
    মুদিখানা
    বিজ
    লাইব্রেরি
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা বই
    ডিকশনারি
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    স্বাস্থ্য টিপস

     

    —’কে পালিয়েছে। ছেলে না মেয়ে? পুলিশের কাছে যাচ্ছেন না কেন। জানি ওরা একটি ওয়ার্থলেস লট। তবু লোকে তো যায়। আপনি গোপন রাখতে চাইছেন? না কি?

    বিজু রায় এমনভাবে হাসলেন যার মানে ‘হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন’ এরকম হতে পারে, আবার না—ও হতে পারে।

    —’থাকতে পারেন তো আমার বাসায় নিয়ে যেতে পারি। ভাড়া খাই খরচ লাগবে। তবে হোটেলে—ফোটেলের থেকে কম। যাবেন?’

    এভাবে একজন অচেনা লোকের কথায় হুট করে কোথাও যাওয়া বিপজ্জনক, সেটা স্বভাবতই বিজু রায় জানেন। কিন্তু তিনি তো আর ছেলেমানুষ নন। উঠতে উঠতে বললেন—’পেয়িং গেস্ট রাখেন বুঝি? বাঃ এর চেয়ে ভাল ব্যবস্থা আর হতে পারে না।’

    ভদ্রলোকটির চেহারা পড়তি বড়লোকদের। টাকার থলিতে বেদম টান পড়েছে। এখন এইভাবে পেয়িং—গেস্ট রেখে চালান নিশ্চয়। দেখলেই বোঝা যায়। বিজু রায়ের কথার জবাবে ভদ্রলোক হাসলেন। বললেন…’চলুন। দেখুন পছন্দ হয় কি না।’

     

    আরও দেখুন
    বৃত্তের বাইরে
    বিজ
    মুদিখানা
    নতুন বই
    বই পড়ুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    অনলাইনে বই
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি

     

    —’আপনার নাম কী?’

    —’বিজন রায়। বিহারীটা বাদ দিলেন বিজু রায়। তাঁর নাম যে বিজনবিহারী এ বোধহয় তাঁর অতি ঘনিষ্ঠরা ছাড়া কেউ জানে না। এমন কি ছেলে—মেয়েও জানে কি না সন্দেহ।

    —’আমি এন. কে. মানে নলিনী কর। মাঝে এক কান্ত ছিল, বহুদিন ছেঁটে দিয়েছি।’

    পলেস্তারাহীন, একঠেঙে, আদ্যিকালের যে বাড়িটাতে তাঁকে নিয়ে ঢুকলেন নলিনী কর, সেটা কোনওকালে ধনী লোকের বাড়ি ছিল না। ঠ্যাংঠেঙে উঁচু উঁচু সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে নলিনীবাবু গলা বাড়িয়ে বললেন—’ঠাকুর, আমার গেস্ট আছে। একটা মিল বেশি নিয়ো।’ ডালে সম্বরার ঝাঁজ আসছে। বিজু রায় হেসে ফেলে বললেন—’হোটেল নাকি?’

    —’এখন দু কাপ চা আর টোস্ট পাঠিয়ে দিয়ো ঠাকুর, টোস্টে একটু চিনি দেবে।’

     

    আরও দেখুন
    বৃত্তের বাইরে
    মুদিখানা
    বিজ
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা বই
    PDF
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    Books

     

    গালে সাবান হাতে ক্ষুর, দোতলার ঘর থেকে দু’চারজন বেরিয়ে এসেছিল। বেশির ভাগই বয়স্ক, কেমন খিঁচড়ে মুখ। দু এক জন অপেক্ষাকৃত অল্পবয়সীও আছে। একজন বললেন—’কী ব্যাপার নলিনী দা, আপনার গেস্ট?’

    —’কেন, তোমরা কি ভাব নলিনীদা বাপে—তাড়ানো মায়ে—খ্যাদানো বলে তার গেস্ট থাকতে পারে না। নলিনীবাবু খেঁকিয়ে উঠলেন। বিজু রায়কে দেখে সবাই চুপ করে গেল। তিনতলার ঘর। একখানাই ঘর। এক চিলতে বাথরুম। বাকিটা ছাদ। একখানা তক্তাপোশ পাতা। কোণে মাটির কুঁজো। দেয়ালে গোঁজ দেওয়া। তাই থেকে একটা ধ্বধবে পাঞ্জাবি ঝুলছে। তক্তাপোশের বিছানাটায়ও একটা নতুন ঝকঝকে জয়পুরি বেডকভার।

    —’চলবে?’ নলিনী কর বললেন ‘এটা মেস। যা এখন কলকেতার শহরে প্রায় অবসলিট হয়ে গেছে। এই আমার ঘর। আপনাকে একটা স্টিলের ফোল্ডিং খাট পেতে দেব পাশে। রাত শোয়ার জন্যে। যদ্দিন ছেলে বা মেয়েকে চুপিচুপি খুঁজবেন ততদিন থেকে যান এখানে। কেউ ডিসটার্ব করবে না। আমার ঘরভাড়া একশো পাঁচ, আপনি হাফ সাড়ে বাহান্ন দেবেন। গেস্টের মিল, এরা মাছের মিল দশ টাকা, মাংসের পনেরো নেয়, নিরমিষ্যি আট। ব্রেকফাস্ট চার টাকা। চা এক টাকা পঁচিশ পয়সা। বড় কাপে দেয়। ভাল আসাম। ঠাকুর রাঁধে ভাল। ডালে ফেন চালায়। স্টিলল।

     

    আরও দেখুন
    মুদিখানা
    বিজ
    বৃত্তের বাইরে
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বই ডাউনলোড
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা কৌতুক বই

     

    বিজু রায় বললেন—’একলার একটা ঘর পাওয়া যায় না?’

    —’একলা? সব ফিল্ড আপ। নো ভেকান্সি। আপনি যে থাকবেন সেটা আমার খাতিরেই। তাছাড়া আপনার ঘাবড়াবার কিছু নেই। আমি মোস্ট নন—ইনটারফিয়ারিং লোক। বুঝলেন কিছু?’

    এই সময়ে একটা গেঞ্জি আর গামছা—পরা লোক, কলাইয়ের থালার ওপরে দুটো মোটা মোটা কাপে চা, এবং চার পিস টোস্ট নিয়ে এল।

    —’নিন খেয়ে নিন’—ঘরের একমাত্র টিনের চেয়ারটা টেনে বিজু রায়কে বসতে দিয়ে নলিনী কর বললেন।

    বিজু রায় টোস্টে চিনিগুলো কলাইয়ের বাসনটার ওপর যথাসাধ্য ঝেড়ে ফেলে দিতে লাগলেন।

    —’মধুমেহ?’

    —’আজ্ঞে?’

     

    আরও দেখুন
    মুদিখানা
    বিজ
    বৃত্তের বাইরে
    পিডিএফ
    PDF
    বই
    Library
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    ডিকশনারি

     

    —’ডায়াবিটিস?’

    —’এখন ঠিক নয়, ব্লাড শুগার আছে।’

    —’তবে তো মশাই এ চাও আপনার চলবে না। চিনি দেওয়া আছে।’

    —’একবার খেলে কিছু হবে না’ বিজু রায় চায়ে চুমুক দিলেন। বেশ কড়া, কিন্তু রীতিমতো ভাল চা। বিজু রায় উচ্চতম দামের দার্জিলিং খান, লিকার পাতলা, কিন্তু এই কড়া লিকারের চা যে যথেষ্ট ভাল সন্দেহ নেই। পাউরুটিখানাও তিনি খুব তৃপ্তির সঙ্গেই খেতে লাগলেন। মোটা মোটা পাঁউরুটি, টাটকা রুটির গন্ধটা বেরোচ্ছে। তাঁর খিদে পেয়েছে।

    নলিনী তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন—’ভাল। না? আসলে কি জানেন, খাওয়া—দাওয়ার ব্যাপারটা আমরা এখানে নিজেরাই দেখি। চাঁদু মিত্তির আছে দোতলায়। এক্সপার্ট লোক। মাসকাবারি বাজারটা সে—ই করে। ডেলি বাজারও এরা পালা করে করে। নয়ত এন. কে এখানে থাকত?’

     

    আরও দেখুন
    মুদিখানা
    বৃত্তের বাইরে
    বিজ
    ডিজিটাল বই
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বই
    গ্রন্থাগার
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    অনলাইন বুকস্টোর

     

    তারপরে গালের কুঁচকানো চামড়ায় আরও ভাঁজ তুলে হাসলেন—’আমার তো ডায়াবিটিস।’

    বিজু বললেন—’তবে এত চিনি—টিনি?’

    —’কে দেখছে?’ যেন এইমাত্র কেউ দেখে ফেলবে বলেই রোগীর যা—কিছু সাবধানতা।

    —’বয়স কত হল বলুন তো?’

    বিজু রায়ের মনে হল—বাহাত্তর, তিয়াত্তর অন্তত, বললেন—’চৌষট্টি পঁয়ষট্টি হবে।’

    —’ফিফটি নাইন রানিং।’

    —চমকে উঠলেন বিজু রায়।

    একটা কিং সাইজ সিগারেট বার করে নলিনীকান্ত বললেন—’জীবনে কী করেছি আর কী করিনি হিসেব দিতে গেলে মাথা খারাপ হয়ে যাবে মশাই। বছর তেইশ বয়সে বাড়ি থেকে পালালুম। তারপর জাহাজের খালাসি হওয়া থেকে জাহাজ কেনা পর্যন্ত করেছি। করতে পেরেছি। শেয়ারে কামিয়ে লালে লাল হয়ে গেছি। আবার বেগার, একেবারে ভিক্ষুক। ধরুন, অবস্থা যখন ছিল পাল পাল আত্মীয়স্বজনকে গ্র্যান্ডে খাওয়ানো থেকে, ব্যালকনির টিকিটে সিনেমা দেখানো, বক্সে থিয়েটার দেখানো, দামি দামি উপহার কিনে দেওয়া—কী না করেছি। যখন পকেট গড়ের মাঠ হয়ে গেল, নিজের ভাই, আমার পয়সায় যে এঞ্জিনিয়ার, সেই ভাই গলাধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিল। নিন ধরুন একটা।’ ‘নলিনীকান্ত সিগারেটের প্যাকেট তাঁর দিকে এগিয়ে ধরলেন।

     

    আরও দেখুন
    মুদিখানা
    বৃত্তের বাইরে
    বিজ
    বই ডাউনলোড
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    ডিকশনারি
    বাংলা বই
    বাংলা অডিওবুক
    লেখকের বই

     

    বিজু রায় ইতস্তত করছিলেন। নলিনীকান্ত বললেন—’রেসট্রিকশান? একদিন একটায় আসবে আসবে যাবে না।’

    এই সময়ে একটি যুবক ঘরে মুখ বাড়াল—’আসতে পারি।’

    —’আবার জিজ্ঞাসা করছো কেন? কৌতূহলে তো ছটফট করছ সবাই। এসে যাও এসে যাও। নীচে গিয়ে রিপোর্ট দিয়ো।

    —’আঃ আপনি না নলিনীদা! কোনও জিনিসটাই সহজভাবে নিতে পারেন না। এলুম আপনার ফরমাস খাটতে। এই নিন আপনার টুথপেস্ট, আর এই সুপার সফট ব্রাশ। ক্রিমটা অফিস—ফেরত আনব।’

    যুবকটি একটা দামি টুথপেস্ট আর ব্রাশ এগিয়ে দিল।

    —’এ হে হে হে হলদে আনলে কেন হে? হলদে আমি মোটে পছন্দ করি না। গ্রিন, গ্রিন আনতে হয়।’

    —’ভুল হয়ে গেছে দাদা। দয়া করে ফেরত দিতে বলবেন না।’

     

    আরও দেখুন
    বিজ
    মুদিখানা
    বৃত্তের বাইরে
    গল্প, কবিতা
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    রেসিপি বই
    ই-বই পড়ুন
    কৌতুক সংগ্রহ
    উপন্যাস সংগ্রহ

     

    —’এসেছ যখন কৌতূহল নিবৃত্তি করে যাও। ইনি আমার বন্ধু বিজন রায়, মানে জুনিয়র ফ্রেন্ড। এই তুমি যেমন। আর বিজনবাবু ইটি মণিময়। নামেও রত্ন, স্বভাবেও রত্ন। আচ্ছা এবার এসো গিয়ে, তোমার আপিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে।’

    মণিময় বলল—’নমস্কার বিজনদা, পরে আলাপ হবে।’

    —’ছেলে—মেয়ে নয় মনে হচ্ছে’, মণিময় চলে গেল এন. কে. বললেন, ‘ছেলে—মেয়ে হলে এতক্ষণে দাপিয়ে বেড়াতেন, তবে কি ভাইপো—ভাইঝি, ভাগনে—ভাগনি গোছের কেউ?’ বলেই জিভ কেটে বললেন—’ছি ছি এই দেখুন, ইন্টারফেয়ারেন্স হয়ে গেল দাদা, মনে কিছু করবেন না।’

    বিজন হেসে বললেন—’ও সব কেউ নয়। অনেকদিন থেকে সম্পর্ক নেই এমন এক জনের ঠিকানা খুঁজে বার করবার চেষ্টা করছি।’

    —’বুঝেছি।’ এন. কে বললেন, তারপর ঘরটা বিজনকে পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে নিজের কাজে, ভগবান জানেন কী কাজ, চলে গেলেন।

     

    আরও দেখুন
    বৃত্তের বাইরে
    মুদিখানা
    বিজ
    বই পড়ুন
    Library
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    উপন্যাস সংগ্রহ
    গ্রন্থাগার
    স্বাস্থ্য টিপস
    বইয়ের তালিকা

     

    দিদির চার পাঁচটা চিঠি পেলেন বিজন। প্রত্যেকটাতেই কিছু টাকার প্রাপ্তিস্বীকার আছে। তাঁর মনে পড়ল, মা যতদিন ছিল মাসে হাজার টাকা করে মাসোহারা দিতেন তিনি। খুব আস্তে টাকাটা মায়ের বালিশের তলায় ঢুকিয়ে রাখতেন। মা একদিন, একদিনই বলেছিল—

    —’আমি তো একটা শোয়া—মানুষ, সব কিছুই তো অপরের ওপর। নিজে হাতে খরচ করার সাধ্যও নেই। এত আমায় দিস কেন?’

    বিজু বলেছিলেন, ‘এ টাকা নিয়ে তুমি যা খুশি করবে মা।’

    ‘এত টাকা নিয়ে সত্যিই কখনও নাড়া—চাড়া করি নি’, দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল মা। টাকা নিয়ে মা কী করত বিজন জানেন না। জানার আগ্রহও বোধ করেননি কোনও দিন। দিয়ে দিয়েছেন ব্যস। তবে মা হয়তো নাতি নাতনিদের, বউমাদের কিছু উপহার—টার দিত অনেক সময়ে। তিতি যেন একদিন কাকে বলছিল—’ঠাম্মার টাকা দিয়ে এই চুড়িদারটা করিয়েছি। কেমন হয়েছে?’ কাকে বলছিল? তাঁকে তো নয়ই। ওর মাকে কি? মনে করতে পারলেন না বিজন। শুধু ‘ঠাম্মার টাকা’ কথাটা মনে লেগে আছে। কিন্তু সেদিন আলমারি, সিন্দুক ঘাঁটাঘাঁটি করে শুধু একটা সোনার হার ছাড়া আর কোনও মূল্যবান জিনিস পাননি। সামান্য কিছু খুচরো পয়সা ব্যস। সোনার হারটা ঝকঝকে নতুন, মা কোনও সময়ে করিয়ে রেখেছে। বাক্সের মধ্যে চিরকুটে লেখা ‘ছোটখুকুকে আশীর্বাদ’। ভাই—বোনদের মধ্যে দিদিই সবচেয়ে অভাবী। চিঠি পড়ে মনে হচ্ছে সে টাকার অধিকাংশই দিদিকে পাঠিয়েছে মা। কাকে দিয়ে পাঠাল? খুব সম্ভব সুলতা আর শিবানী ওই দুটি নার্সকে দিয়ে। তারা যে মেরে দেয়নি এটা মায়ের ভাগ্য, দিদিরও ভাগ্য। কিন্তু তাঁরও তো দিদির কথা ভাবা উচিত ছিল। মায়েরও বলা উচিত ছিল। তিনি দিদির কথা ভাবেননি, তার প্রধান কারণ তিনি অতটা জানতেন না। দিদি এমন কিছু দূরে থাকে না। কিন্তু দিদি, দিদির ছেলেরা কেউ কখনও সল্ট লেকের বাড়িতে এসেছে বলে তিনি মনে করতে পারলেন না। সল্ট লেক কেন? ছুটকি চলে যাবার পর থেকেই দিদি বাঁধাঘাটের বাড়িতেও আর আসেনি। ও। এই জন্যে। দিদির শ্বশুরবাড়ি খুব গোঁড়া, আচারপরায়ণ, বিজু একবার দিদির সুখচরের বাড়িতে গিয়ে দিদির শ্বশুরমশাইয়ের কাছে ভর্ৎসনা শুনেছিল, বামুনের ছেলে হয়ে আহ্নিক করে না বলে। প্রসাদী মাংস ছাড়া ওদের বাড়ি ঢুকত না। তাহলে ছুটকির কারণেই দিদির সঙ্গে রায়বাড়ির যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গেল। তাই—ই দিদির কথা ভাবেননি তিনি কখনও। মেজদার মেয়ের বিয়েতে যেন একটুখানির জন্যে দেখা হয়েছিল। আর? ও মায়ের কাজে।

     

    আরও দেখুন
    বৃত্তের বাইরে
    বিজ
    মুদিখানা
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    লাইব্রেরি
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি

     

    দিদি লিখেছে—’মনি—অর্ডার পেয়েছি। না পেলে যে কী হত তা জানি না। ভাগ্যে তুমি ছিলে। ভাইয়েরা তো থেকেও নেই। এবারের মতো সামলে দিতে পেরেছি। তুমি দীর্ঘ জীবন লাভ করো…’ দিদিকে প্রয়োজনের সময়ে মনি—অর্ডার পাঠাবার জন্যেই কি মায়ের দীর্ঘ জীবন লাভের প্রার্থনা?

    শ্রী চরণেষু মা,

    তোমার দেওয়া মূলধনে তোমার ছোট নাতি নূতন করে ব্যবসা শুরু করেছে। খুবই ভাল চলছে। ওই টাকা শাঁটুল বলছে ফিরিয়ে দেবে। দিতে পারলেই আমার সোয়াস্তি। কত দিলে মা! মেয়ের বিপদে মা ছাড়া আর কে করে! সবই ঠিক। তবু লজ্জা হয়। শাঁটুল শিগগিরই বাড়ির কলি ফেরাবে।’

    আশ্চর্য! দিদির এত বিপদ গেছে তবু কখনও বিজনের কাছে হাত পাতেনি? মাকে জানিয়েছে। মার সাধ্য ছিল তাই করেছে, না হলে? হঠাৎ বিজন স্থির করলেন তিনি দিদির বাড়িই আগে যাবেন। একটাই মুশকিল। তাঁর প্রাণটা এখন ছুটকির জন্য দাপাচ্ছে। ভেতরে ভেতরে তিনি ভীষণ অস্থির। ছুটকিকে খুঁজে বার না করে, তার সঙ্গে কথা না বলে বাড়ি ফিরে যাবার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে তাঁর নেই। তা ছাড়া, বাড়ির লোককে…তনুশ্রী, তিতি আর চিন্টু এদের একটু ভোগাবার ইচ্ছে তাঁর। এ অবস্থায় দিদির বাড়ি গেলে তিনি গোপনতাটা রাখতে পারবেন কি? বাড়ি থেকে তাঁর জন্যে বিজ্ঞাপন—টন দিলে এই আহিরিটোলার বাসও তাঁর উঠবে। দেখা যাক।

    নলিনী কর ফিরে আসবার আগেই তিনি চান সেরে নিয়েছেন। বেরোবার জন্য প্রস্তুত। —’এ কী? চললেন কোথায় মশাই? খেয়েছেন?’

    —’বাইরে কোথাও খেয়ে নেব এখন।’

    —’সে কী? আমি মিল বলে দিয়েছি যে। দশটা টাকা গচ্চা যাবে না।’

    ভদ্রলোক কিছুতেই ছাড়বেন না। একতলার খাবার ঘরে আসন পেতে বসে, থালার চারদিকে জলের ছিটে দিয়ে, বাঁ কনুই বাঁ হাঁটুর ওপর রেখে বিজু রায়ের সঙ্গে খেলেন নলিনী। চানের কথা উড়িয়ে দিলেন। শীতকালে নাকি উনি অর্ধেক দিন চান করেন না। ভোজনের পর পরিষ্কার হয়ে নেবেন।

    রান্না সত্যিই খুব ভাল। এ ভাবে চুড়ো—করা ভাতের সঙ্গে সুক্তো, মাছের মুড়ো দিয়ে বাঁধাকপি, বড় বড় পার্শে মাছের ঝাল, কুমড়ো, বেগুনের অম্বল—এসব কবে শেষ খেয়েছিলেন মনে পড়ে না বিজু রায়ের। বাঙালিরা ধনশালী হলেই তাদের খাদ্যাভ্যাস পর্যন্ত আমূল পাল্টে ফেলে। তাঁরা ছোটবেলায় জলখাবার খেয়েছেন এক পয়সার চারটে করে বলের মতো হিঙের কচুরি আর খোসাসুদ্ধ আলুর তরকারি। নয়ত দুধ—জিলিপি। বাঁধা জলখাবার। তাঁর ছেলেমেয়েরা খায় দুধের মধ্যে কর্নফ্লেকস, আধ—সেদ্ধ ডিম, দুটো করে সিঙ্গাপুরি কলা। প্রমীলাকে তিনি হোটেলের বয়—বাবুর্চির মতো বলতে শুনেছেন—’ডিম সেদ্ধ না ভাজা?’ সেদ্ধ ভাজার বাইরে স্ক্র্যামবলড—এগের ফরমাসও হত। দুপুরে ভাত খান না বিজু রায়, আটার রুটি, গোনা দুখানা। নলিনী বললেন—’আপনি বোধহয় টেবিলে খান, না? খুব অসুবিধে হচ্ছে!’

    বিজু রায় বললেন—’রান্না খুব ভাল।’

    —’ভাল তো খাচ্ছেন কই? এ যে মেয়েদের খাওয়া মশাই।’

    আরেক বাটি ডাল চেয়ে নিলেন বিজু রায়। বললেন—ব্লাড শুগার, বললাম না?

    —’ওঃ হো তাই বলুন। তা আমার তো ইউরিনেও চিনি এসে গেছে। তাই বলে বাঁধাকপি দিয়ে ভাত মেখে খাব না। এমন পার্শে মাছের সর্ষে—বাটার ঝাল, ভাতে মেখে না খেলে রোচে?’

    খেয়ে—দেয়ে বিজু রায় সুখচরের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন।

    এই তাহলে এখনকার সুখচর? বিয়াল্লিশ তেতাল্লিশ বছর আগে দেখা সেই ছায়া নিবিড় মফস্বলের সঙ্গে কোনও মিল নেই। বড় বড় সুন্দর সুন্দর বাড়ি। বহুতল। কিছুকাল আগেও একটা সময় ছিল যখন বিলেত—আমেরিকা থেকে ফিরে এসে লোকে বলত—’এ কী? তিরিশ বছর আগে যা দেখেছি, যেমন দেখে গেছি, এখনও তো অবিকল তাই—ই?’ ইদানীং আর সেটা বলতে পারবে না তারা। অন্তত সুখচরের চেহারা দেখে বিজু রায়ের তাই মনে হল। তিনি নিজের চেষ্টায় ভটচাজ্যি বাড়ি খুঁজে বার করতে পারলেন না। রিকশা—অলা, পান—সিগারেটের দোকান, লন্ড্রি ইত্যাদিতে জিজ্ঞেস করতে করতে পৌঁছলেন যখন দেখলেন সারা সুখচর বদলে গেলেও তাঁর দিদির বাড়ির পরিবেশ এতটুকুও বদলায়নি। সেই সামনে একটা পচা ডোবা এই দুপুরবেলায়ও যার ওপর থিকথিকে মশা। এবং পেছনে বিয়াল্লিশ বছর আগে দেখা দোতলা বাড়ির কঙ্কাল। খিলেন থেকে একটা অশথ গাছ গজিয়ে প্রায় মহীরুহ হয়ে গেছে। বাড়ির গায়ে কোনও দিন কোনও পলেস্তারা ছিল বলেও মনে হয় না। বিরাট দরজাটা বহু কাল রং—টং না হওয়া সত্ত্বেও সম্ভবত কাঠের সেগুনত্বর গুণে এখনও অটুট আছে। ভেতরে ঢুকে বিজু গলা তুলে ডাকলেন—’দিদি! দিদি।’

    সদর দিয়ে ঢুকে একটা ছোট গলি মতো। তার দুধারে বাঁধানো রক। আগেকার বড়সড় বাড়িতে এমনই থাকত। গলি পেরিয়ে চৌকো উঠোন। শান জায়গায় জায়গায় ফেটে গেছে, সেখানে আগাছা। শেয়ালকাঁটা, পাথরকুচি। শানের ওপর শ্যাওলা, তার ওপর ধ্যাবড়া করে চুন ফেলা হয়েছে। বিজুর মনে পড়ল উঠোন পেরিয়ে কলঘরে যেতে হত। এখনও তা হলে তাই আছে। বড়দির ছোট ছেলে শাঁটুল তাহলে কলি ফেরাতে পারেনি। ব্যবসাটা ফেল মেরেছে হয়ত। তিনি আবার গলা তুলে ডাকলেন—শাঁটুলবাবু। শাঁটুলবাবু। দিদির খুব সম্ভব দুই মেয়ে, দুই ছেলে। মেয়েদের নাম যেন ছিল খুকি আর টুকি। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও বড় ভাগনের নাম মনে করতে পারলেন না। পোশাকি নামগুলো তো নয়ই। অগত্যা শাঁটুলবাবু! শাঁটুলবাবু!

    এবারে দাওয়ার ওপরের ঘরের ভেতর থেকে একটি বউ বেরিয়ে এল। হাতে খুন্তি। তার রকম দেখে বিজু রায়ের মনে হল—সে এইভাবেই মাঝে মাঝে বেরিয়ে আসে এবং গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে দেয় তাঁর মতো বে—আক্কেলে মিনসেদের।

    তাঁকে দেখে বউটি জ্বলজ্বলে সিঁদুরের ওপর গাছকোমর থেকে টেনেটুনে একটু ঘোমটা টানল। এখানে এখনও বউয়েরা বাইরে লোক দেখে ঘোমটা টানে? কলকাতার থেকে কত দূর সুখচর?

    —’কাকে চান?’ স্বরটি ভাল।

    —’আমি বিজু, শাঁটুলের ছোটমামা। দিদি আছেন?’

    বউটির চোখ বড় বড় হয়ে উঠেছিল, সে এক ছুট্টে ভেতরে গেল। বোধহয় রান্না এবং খুন্তির একটা ব্যবস্থা করে আর একটু ভদ্রস্থ হয়ে বেরিয়ে এসে ঢিপ করে পেন্নাম করল, —’মা ভেতরের ঘরে শুয়ে আছে। আসেন।’

    —’মা দেখো, কে আসছেন।’

    দিদি ওপাশ ফিরে শুয়েছিল। বউয়ের কথায় এদিকে ফিরে ভুরু কুঁচকে বলল—’কে?’

    ঘরটা অন্ধকার। বউটি এসে টিমটিমে আলো জ্বেলে দিন।

    —’আমি বিজু দিদি।’

    —’বিজু! বিজু! ছোট খোকা!’ দিদি উত্তেজনায় উঠে বসল।

    —’তুমি কেন? কোথা থেকে? কী করে খবর পেলে?’

    বিজু রায় বললেন—’কেন? আসতে নেই? তোমাকে দেখতে ইচ্ছে হল।’

    —’আমাকে দেখতে?’ দিদি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

    —’কী হয়েছে দিদি তোমার? শুয়ে কেন?’

    —’ডাক্তার তো ধরতে পারছে না কিছু। পেটে যনতননা! তোমাকে, তাহলে এরা খবর দেয়নি! এমনিই এসেছ! —বউমা! ছোটমামার খাবার জোগাড় করো।’ দিদি শেষ কথাটা গলা তুলে বলল।

    বিজু বললেন, ‘আমি খেয়ে—দেয়ে এসেছি দিদি। কাউকে ব্যস্ত করতে হবে না। ভাগ্নেরা কোথায়?’

    —’ভাগ্নেরা?’ দিদি অবাক হয়ে বলল ‘রা কোথায় পেলে? বাঁটুল তো সেই কবেই ছোটতেই…’

    তখন বিজু বুঝতে পারলেন কেন বড় ভাগ্নের নাম মনে পড়ছিল না। খুব সম্ভব তিনি যখন নিরুদ্দিষ্ট, তখনই…। তাঁর কোনও দোষ নেই।

    গলাটা একটু পরিষ্কার করে বললেন—’খুকি, টুকি সব ভাল তো?’

    —’আর কে ভাল, কে মন্দ! মেয়ে—সন্তান বিয়ে দিয়ে দিলেই পর, তার ওপর নিজের ছেলেপিলে সংসার নিয়ে জড়িয়ে পড়লে তো আর কথাই নেই। পরস্য পর। খুকি থাকে মজফফরপুর। টুকির বর খুব উন্নতি করেছে, আগে কটকে থাকত, এখন বোম্বাই। এদিকে ওদের কেউ নেইও। মাঝে—সাঝে চিঠি দেয়।’

    —’শাঁটুল? শাঁটুল কোথায় গেল?’

    দিদি অনেকক্ষণ পরে বলল ‘—জানি না।’

    —’জানি না মানে?’

    দিদি এদিক—ওদিক তাকিয়ে বলল—’লেখাপড়ায় তো তেমন চৌকস ছিল না। গোড়ার থেকেই এ ব্যবসা সে ব্যবসা করে বাপের পয়সাগুলো সব ফুঁকে দিলে। তার পরেও অনেক অনেক দিয়েছি। শেষের দিকটা বেশ দু’পয়সা আসছিল। তারপর একদিন…’ দিদি চুপ করে গেল।

    এই সময়ে বউটি এক কাপ চা, আর দুটো দানাদার এনে রাখল।

    বিজু বললেন—’আমার মিষ্টি চলে না, ব্লাড সুগার আছে। চা—টা খেয়ে নিচ্ছি। এগুলো নিয়ে যাও মা।’

    বউটি দানাদারের প্লেট তুলে বিনা বাক্যব্যয়ে চলে গেল। বেশ কিছুক্ষণ পর দিদি আবার এদিকে তাকিয়ে মাথাটা একটু তুলে চুপি চুপি বলল—’হিন্দুস্থানী’।

    —’কে?’

    —’বউ।’

    —’তো কী? ভালই তো!’

    —’ভাল—মন্দ জানি না। শিগগিরই বোধহয় কাটান—ছাড়ান হয়ে যাবে।’

    —’তাই?’

    —’আর কী হবে বলো! শাঁটুল তো পুলিশের হাত এড়িয়ে বেড়াচ্ছে।’

    —’সে কী? কেন?’

    —’কি জানি। সিমেন্ট বলে নাকি গঙ্গামাটি পাইল করে দিয়েছে, একদিন রাতে সাতখানা মোটর বাইক গর্জন করে বাড়ি ঘিরে ধরল। এদের সব বসিয়ে দিয়েছে নাকি। খিড়কি দিয়ে শাঁটু পালিয়ে গেল। বউ আটকে আছে আমার জন্যেই। বাপের সঙ্গে ঝগড়া করে শাঁটুকে বিয়ে করেছিল। তা অ্যাদ্দিনে বোধহয় বাপ একটু নরম হয়েছে। ছেলেটাকে নিয়ে গেছে। বউটা হাজার হোক মানুষ তো, এমন অবস্থায় আমার ফেলে যেতে পারছে না।’

    দিদির চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল।

    ময়লা বিছানায় শীর্ণ বৃদ্ধার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বিজুর মনে হল—দিদি, ইনি বি. বি. রায়ের দিদি। শুয়ে থাকতে থাকতে দিদি হঠাৎ কুঁকড়ে যেতে লাগল। মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। বিজু উঠে দাঁড়িয়ে তাড়াতাড়ি কাছে গিয়ে বললেন—’কী হল দিদি! ব্যথা?’

    —উঃ, মাগো! মাঃ আর পারছি না যে!’

    বিজু বাইরে এসে ডাকলেন—’বউমা।’

    বউটি এসে দাঁড়াল।

    —’ডাক্তার দেখেছে?’

    —’হ্যাঁ।’

    —’কী বলেছে?’

    —’ক্যানসার।’

    বিজু রায় দাওয়ার ওপর কাঠের বেঞ্চে বসে পড়লেন।

    বউটি কাঠ—কাঠ গলায় বলল—’ওর ছেলে ফেরার। এই রোগ বাধিয়েছে। আমার গলায় পড়েছে। আমার কোনও ক্ষমতাই নাই। আপনি ওর ভাই। শুনেছি রইস লোক। অনেক পয়সা। নিয়ে যান। নিয়ে এই নরক থেকে আমায় ছেড়ে দিন।’ বলে দাঁড়িয়ে রইল। একটু পরে রুক্ষ গলায় বলল—’আপনি যদি এত পয়সা—অলা লোক তো আপনার দিদির, ভানজার এমন অবস্থা হয় কেন? আমার পিতাজিও বেওসা করেন, আমাদের মতিহারী থেকে যে দেশোয়ালি যখন এসেছে কোনও না কোনও হিল্লে লাগিয়ে দিয়েছেন। নিজের লোকের তো কথাই নাই। আপনারা বঙ্গালিরা কেমন মানুষ?’ রাগে মেয়েটির মুখ লাল হয়ে উঠেছে। সে আবার রান্নাঘরে ঢুকে গেল। এত কী রাঁধছে সে ভগবানই জানেন।

    বিজু রায় গালে চড় খেয়ে বসে ভাবতে লাগলেন। এক করা যায়, দিদিকে নিয়ে এখুনি সল্ট লেকের বাড়ি চলে যাওয়া যায়। মায়ের ঘর খালি পড়ে আছে, দিদি অনায়াসেই থাকতে পারবে। নার্স রেখে দেওয়া যাবে, মায়ের মতো। তনুশ্রী সম্ভবত ব্যাপারটা পছন্দ করবে না। এরকম ঘটনা এর আগে ও বাড়িতে হয়ওনি। কিন্তু তার জন্য কিছু এসে যাবে না। দিদি থাকবে ওপরে, সব কিছু আলাদা। তার সেবার ভার মাইনে—করা লোকেদের। তনুশ্রীর বলবার কিছু থাকতে পারে না। হঠাৎ বিজু রায়ের একটা কথা মনে পড়ে গেল, তিনি গালে আরেকটা চড় খেলেন। তাঁদের বিয়ের কিছুদিন পরই তনুশ্রীর বাবা মারা যান। মা একা পড়ে গেলেন। ছয় মেয়ে। তনুশ্রীই একমাত্র খাস কলকাতায়। সে মাকে নিজের কাছে এনে রাখতে চেয়েছিল। বিজু রায় রাজি হননি—যুক্তি দেখিয়েছিলেন অনেক। দুই পক্ষের মা এক সংসারে থাকলে জটিলতা বাড়বে। অনর্থক। তাঁর বাড়ির কতকগুলো নিজস্ব নিয়ম, শৃঙ্খলা আছে, সেগুলো নষ্ট হওয়া তাঁর শুধু অনভিপ্রেত তাই—ই নয়। তাঁর জীবিকা ইত্যাদির পক্ষে ক্ষতিকর। শাশুড়ি যদি সেগুলোতে হাত লাগান। অল শাশুড়িজ আর গ্র্যাবিং, ডমিনেটিং টাইপস, তখন শুধু—শুধু সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাবে। তাছাড়া, ভদ্রমহিলার আরও পাঁচ মেয়ে রয়েছে। সাধ্যের বাইরে গিয়ে সবারই মোটের ওপর ভাল—ভাল বিয়ে দিয়েছেন, তা তারাও তো রাখতে পারে। তনুশ্রীর মুখটা কেমন হয়ে গিয়েছিল। একবার তবু বলেছিল—’ঠিক আছে মাকে একবার জিজ্ঞেস করতে পারি তো?’

    বিজু রায় বলেন, —’তা পারো। কিন্তু মা রাজি হলেও আমি রাজি হতে পারব না।’ তবু তনুশ্রী জিজ্ঞেস করেছিল মাকে। খুব স্বস্তি পেয়েছিলেন বিজু যখন মা—ও তাঁর মতে মত দিয়েছিল। ‘না, কুটুম্বকে ও ভাবে বাড়িতে রাখলে অশান্তি হবার সম্ভাবনা, তার চেয়ে বিজু একটা মাসোহারার ব্যবস্থা করে দিক। বউমা গিয়ে গিয়ে দেখাশোনা করুক।’

    তনুশ্রীর মার হার্টের অসুখ ছিল। ঠিক কী জাতীয় তা বিজু রায় জানেন না। তিনি মাসোহারা দিতেন, চিকিৎসার ভালো ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তনুশ্রীর মা নিজের ঘরে একদিন মরে কাঠ হয়ে পড়েছিলেন। প্রতিবেশীরা দরজা কেটে বার করে। বিজু রায় গিয়েছিলেন। শাশুড়ির চোখের সেই ভয়ে ঠিকরে আসা চোখের মণি দুটো তিনি কখনও ভুলতে পারবেন না। একাকিত্বের আতঙ্কেই হঠাৎ উনি মারা গেলেন, না হার্টের অসহ্য যন্ত্রণায় ওইরকম অবস্থা হয়েছিল, কে বলবে! বিজু রায় কুঁচকে গেলেন। কেমন মনে হল, দিদিকে ওখানে তুললে তিনি তনুশ্রীর কাছে খুব ছোট হয়ে যাবেন।

    দিদির চিৎকার ক্রমশ বাড়ছে। মেয়েরা এমনিতেই খুব সহনশীল হয়। তা সত্ত্বেও একজন চুয়াত্তর পঁচাত্তর বছরের বৃদ্ধা যখন এই ভাবে ডাক ছেড়ে কাঁদছে তখন অনুমান করা যায় তাঁর যন্ত্রণার তীব্রতাটা কী রকম! বিজু রায় ভাবলেন—’আর এই সময়ে আমি কারও কাছে ছোট হওয়ার কথা ভাবছি। কী অদ্ভুত একা মানুষ! ভাই—বোন—ছেলে—মেয়ে সব আছে। সব থাকে। অথচ কেউ নেই। কিছু থাকে না। কিছু থাকে না। থাকে শুধু মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের মধ্যে খাড়া হয়ে চূড়ান্ত অহমিকা। অহম, অহম, অহম।

    তিনি তাড়াতাড়ি দিদির ঘরে ঢুকলেন। বললেন—’দিদি। ব্যথা বাড়লে কোনও ওষুধ খাও?’ হাত বাড়িয়ে একটা পাতা দেখাল দিদি। তুলে বিজু রায় দেখলেন স্পাজমোপ্রক্সিভন। হতাশ হয়ে বললেন—’এতে হয়?’

    —’কী জানি! হয় হয়তো!’ দিদির গলা রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। ওষুধটা দিদিকে খাইয়ে দিয়ে তিনি বাইরে বেরিয়ে বউটিকে ডাকলেন—বললেন—’এখানে কোথায় কোন ডাক্তার বসেন আমি তো জানি না, একটু বলে দেবে কোনদিকে পাব?’

    বউটি বলল—’আপনি বসেন, আমি ডাকছি। ফি—এর টাকা বত্রিশ, আগে না দিলে আসবে না।’

    পকেট থেকে তাড়াতাড়ি বার করে দিলেন তিনি টাকাটা। বললেন—’অবস্থাটার কথা বলে ইঞ্জেকশন ওষুধ যা লাগে নিয়ে আসবে বোলো। আমি সঙ্গে সঙ্গে মিটিয়ে দেব।’

    টাকা নিয়ে বউটি চলে গেল। একটা ক্যানসারের রোগী, মরণাধিক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। ডাক্তার আগে থেকে ফি না পেলে আসবে না? বিজু রায় অবাক হয়ে রইলেন। এঁরা তো এখানকার বহুদিনের বাসিন্দা! আদি বাসিন্দাদের মধ্যেই! জমিদারশ্রেণীরই ছিলেন বোধ হয়। এখন টাকা না থাকলেও সেই পুরনো মান—মর্যাদা! তারও কি কিছুই নেই? ডাক্তার! ডাক্তার! কত লাখ টাকার সরকারি খরচে একটা ডাক্তার হয়?

    ডাক্তারটি যখন এল, বিজু রায় দেখলেন নেহাতই ছোকরা। চটপট পেথিডিন ইনজেকশান দিয়ে দিল। তিনি দামটা দিয়ে দিলেন। তারপরে বললেন—’শুনলাম, আপনি নাকি আগে থেকে ফি না পেলে আসেন না?’

    —’কে বললে?’ ডাক্তারটি চোখ তুলে বলল—’রত্না! ওকে জিজ্ঞেস করুন তো কত বার ইনজেকশন দিয়ে গেছি এ বাড়িতে, এক পয়সাও পাইনি।’

    —’পাননি কেন সেটা চারদিক দেখেই নিশ্চয় বুঝতে পারছেন। এক জনের কাছ থেকে ফিজ না পেলে আপনার বাড়িতে হাঁড়ি চড়বে না এমন অবস্থা নিশ্চয়ই আপনার নয়।’

    —’আপনি কে?’ ডাক্তারটি রাগত স্বরে বলল, ‘কী রাইট আছে আপনার এখানে ডেকে এনে আমাকে অপমান করবার? আমি যদি চিটেড হতে না চাই, সেটা আমার অপরাধ?’

    —’চিটেড? ডু য়ু নো ইয়াং ম্যান দ্যাট ইয়োর্স ইজ দা নোবলেস্ট প্রফেশন? জানো সরকার তোমার জন্যে কত টাকা খরচ করেছে? জানো ইউ আর ডিলিং উইথ হিউম্যান পেইন, সাফারিং! মানুষের অমানুষিক শারীরিক যন্ত্রণার সামনে দাঁড়িয়ে তুমি একটা ডাক্তার, চিটিঙের কথা মুখে আনতে পারছ?’

    —’ওহ, রত্নার কাছে শুনলাম শমিতবাবুর বড়লোক মামা এসেছেন। বিজনেসম্যান। আমরা ডাক্তাররা অনেক পেইন, সাফারিং, ডেথ দেখতে দেখতে ইমিউন হয়ে গেছি, বুঝলেন? অ্যান্ড উই ডোন্ট কজ সাফারিং, ডোন্ট কজ পেইন। আর আপনারা? আপনাদের মতো অসাধু, কালোবাজারিদের জন্যে যে দেশটা ভিখিরিতে আর নবাবে দু ভাগ হয়ে গেল, তার বেলা? গরিবের মুখের অন্ন কেড়ে খান না? আপনাদের জন্যেই না গরিবি টিকে আছে! এই তো গরিব আত্মীয়, উপায় না দেখে চিটিংবাজি সুদ্ধু ধরেছে, কিছু করছেন তাদের জন্যে? আবার বড় বড় কথা।’

    হনহন করে বেরিয়ে গেল দুর্মুখ লোকটা। বিজু রায় অনুভব করলেন তিনি ঘামছেন। এভাবে তাঁর সঙ্গে ব্যবহার… না তিনি মনে করতে পারছেন না কেউ করেছে বলে। তাঁদের কথা কাটাকাটির মধ্যে রত্না বউটি বেরিয়ে এসেছিল। ঈষৎ উৎকণ্ঠার গলায় বলল—’কী করলেন মামা, ও তো আর হাতে—পায়ে ধরলেও আসবে না।’

    —’ওর আসবার দরকার নেই। লেট হিম গো টু হেল।’ কোন মতে বলতে পারলেন বিজু রায়। একটা কালো হয়ে যাওয়া হাত পাখা আর এক গ্লাস জল নিয়ে এল রত্না। —’আপনাকে খুব হয়রান দেখাচ্ছে, জলটা খেয়ে নিন।’ হাওয়া করতে লাগল সে। তারপর বলল—’বয়স হয়ে গেছে, একসাইটমেন্ট ভাল না। ওসবের মধ্যে যান কেন’?

    ‘আশ্চর্য, মেয়েটি ঠিকই বুঝতে পেরেছে তাঁর বয়স হয়েছে। অথচ নলিনী কর, তাঁর সমবয়সী লোকটি, সে বুঝতে পারেনি। যুবক—যুবতীরা ঠিকই বুঝতে পারে। খুব সম্ভব চোখের দিকে তাকিয়ে পারে। বড় কাঁসার গেলাসের জলে নিজের চোখের ছায়া দেখতে দেখতে ভাবলেন বিজু রায়। তিনি বললেন, ‘অমানুষিকতা, অন্যায় আমি সইতে পারি না।’ বলেই মনে হল—’সত্যি? পারি না কি?’ মেয়েটির ঠোঁটে একটা বাঁকা হাসি। বোধ হল সে—ও মনে—মনে এই কথাই বলছে। পারো না। পারো না। সইতে না পারা তো দূরের কথা। অন্যায় অমানুষিকতা তুমি নিজেই প্রশ্রয় দাও। নিজেই করো।

    তিনি বললেন—’শাঁটুল কখনও আমার কাছে যায়নি কেন?’

    ‘কী ব্যাপারে?’

    ‘নিজের কাজকর্মের ব্যাপারে?’

    কিছুক্ষণ চুপ করে রইল রত্না, তারপর বলল—’ও বলত স্নব, আমাদের দেখলে চিনতে পারে না। চিনতে চায়ও না, না খেয়ে মরব তবু ওই মামার কাছে কাঁদাকাটি করতে যাব না। …কিছু মনে করবেন না বললুম বলে।’

    বিজু রায় অবাক হয়ে রইলেন। চিটিংবাজের তাহলে এইরকম আত্মসম্মান বোধ থাকে? না খেয়ে মরব, জেলে যাব, তবু স্নব মামার কাছে যাব না! এ কী মুখ তাঁর। কী ভয়ঙ্কর বীভৎস হাস্যকর মুখ আয়নায়। একেক মানুষের কাছে কি তাঁর একেক রকম মুখ?

    তিনি উঠে দাঁড়ালেন। রত্না বলল—’চলে যাচ্ছেন! রাগ করলেন?’ তার গলায় দারুণ উৎকণ্ঠা।

    বিজু বললেন, একটু হেসে বললেন—’ভয় নেই। আমার দিদির ভার বইতে তোমাকে আটকে রাখব না। এখুনি ওঁকে হাসপাতাল ভর্তি করতে হবে। তার ব্যবস্থা করছি।’

    রত্নার মুখটা কালো হয়ে গিয়েছিল। সেদিকে তাকিয়ে বিজু বললেন—’শাঁটুল তো অনেক দিন নেই। আসবার সম্ভাবনাও নেই। চলছে কী করে? তুমি এই টাকাটা রাখো।’ তিনি পার্স থেকে হাজার খানেক টাকা বার করতে লাগলেন।

    রত্না মেয়েটি হঠাৎ তীব্র গলায় বলল—’আপনার অনেক পয়সা—টাকা আছে, না? লোকের মুখের উপর ছুঁড়ে মারতে পছন্দ করেন! জানেন আমি আমার গয়না বিকিয়ে সংসার চালিয়েছি, শাসের ইলাজ করিয়েছি।’

    বিজু রায় শান্ত গলায় বললেন—’খুব ভাল করেছ। মানুষের কাজই করেছ। কিন্তু ওভাবে গুরুজনদের সঙ্গে কথা বোলো না। আমাদের ছোটতে বাবা—টাবা আমাদের ওপর অন্যায় করেছেন জানলেও আমরা কিছু বলতাম না, কেন জানো? স্রেফ গুরুজন বলে। বিদ্রোহ ভাল। মুখের ওপর উচিত কথা শুনিয়ে দেওয়াও ভাল। কিন্তু জায়গা বুঝে, মানুষ বুঝে। আমি টাকা তোমার মুখের ওপর ছুঁড়ে মারছি না। হাতে দিচ্ছি। তোমার দরকার বলে। আর আমি মামা বলে।’

    রত্না কেঁদে ফেলল। সম্ভবত এই কান্নাটা তার অনেকদিন ধরে জমা ছিল। সে টাকাটা হাতে নিয়ে রান্নাঘরের মধ্যে ঢুকে গেল। দিদি ঘুমোচ্ছে। বিজু রায় বেরিয়ে এলেন।

    নিজের চেনা ডাক্তারদের কাছে যেতে পারছেন না। চেনাশোনা প্রভাবশালী লোকদের রেফারেন্স দিতে পারছেন না। শুধু টাকাটা আছে। বিজু রায় ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন টাকা তুলে এনেছেন। আরও আনবেন দরকার হলে। ব্যবস্থা করেছেন। একজন সম্পূর্ণ আনকোরা, পরিচিতিহীন নাগরিক হিসেবে বিজু রায় কোথাও কোনও সুযোগ পেলেন না। ডাক্তার, যিনি ভর্তি করবেন হাসপাতালে, আগে নিজে দেখে রায় দেবেন তার পরে ভর্তির কথা। দিদির কোনও মেডিক্যাল রিপোর্ট টিপোর্টও নেই। স্রেফ আন্দাজের ওপর ডায়গনোসিস। কিন্তু কোনও ডাক্তারই এখান থেকে সুখচরে গিয়ে রোগী দেখে আসতে পারবেন না। পুরোটা রাস্তা গাড়িতে নিয়ে যাওয়া আসা করলেও না। অবশেষে রাত্রি নটা নাগাদ নিজের জেদ ছেড়ে বিজু রায় চলে গেলেন ডক্টর পি. চ্যাটার্জির কাছে। প্রচুর রোগী অপেক্ষা করছে। কলকাতার সেরাদের মধ্যে একজন মেডিসিনে। নিজের একটা কার্ড পাঠিয়ে দিলেন বিজু রায়। সমুদ্র দুভাগ হয়ে গেল মন্ত্রবলে, মাঝখান দিয়ে এক ত্রাণকর্তা বি. বি. রায় আরেক ত্রাণকর্তা পি. চ্যাটার্জির কাছে চলে গেলেন।

    ধৈর্য ধরে সব শুনলেন ডক্টর চ্যাটার্জি। কোনও প্রেসক্রিপশন, ডায়াগনোসিস, প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট, বায়পসি কিছু নেই। বললেন—ফোন করে দিচ্ছি, আমার নার্সিং হোমের অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চলে যান, নিয়ে আসুন, এখুনি ভর্তি করে নিচ্ছি। তারপর দেখছি কী করা যায়।

    রাত্তির সাড়ে এগারোটার পরে দিদিকে ভর্তি করে, রত্নাকে তার বাপের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আহিরিটোলায় ফিরলেন বিজু রায়। সর্বক্ষণ গামছা পরে থাকা সেই হরিহর নামে লোকটি দরজা খুলে দিল। হা—ক্লান্ত বিজু রায় তিনতলায় চিলেকোঠায় উঠে দেখলেন নলিনী কর পেশেন্স খেলছেন। —’এই যে, এসো বিজনভায়া। আমি গেস করতে পেরেছিলুম দেরি হবে। শেষপর্যন্ত কি পুলিশেই গেলে?’

    ‘না, আপনাকে তো বলেইছ এ পুলিশের ব্যাপার নয়।’

    ‘ওঃ হো, ভুলে গিয়েছিলুম এ সেই অনে—ক কালের হারানো একজন। না? বুঝি, বুঝি বিজনভায়া, বুঝি সবই! ইন্টারফেয়ার করতে চাই না, তাই…বুঝলে না?’

    শীতের রাতে বিজন বালতি বালতি জল ঢেলে চান করলেন। হরিহর রুটি বেগুনভাজা আর আলু—কপির তরকারি গরম করে নিয়ে এল। বিজন বললেন—’এ সবের দরকার ছিল না। খেতে ইচ্ছে করছে না।’

    নলিনী কর বললেন—’ভাগ্য হল চোরের মতন, বা বলতে পারো জোচ্চোর। তো সেই চোর—জোচ্চরের ওপর রাগ করে মুখের খাবার কেউ ফেরায়? ফিরিয়ো না ভায়া, বড় দাদা বলছি, খেয়ে নাও, তারপরে ওষুধ দেব। গায়ের ব্যথা মরবে।’

    বিজন দেখলেন হঠাৎ তাঁর পেটের মধ্যে থেকে দারুণ খিদে চাড়া দিয়ে উঠছে। তিনি রুটি, বেগুন ভাজা নিয়ে বসে গেলেন।

    নলিনী কর বললেন—’আলু কপির ডালনা থেকে আলুগুলো বাদ দিয়ে খাও ভায়া। একদিনে বড্ড অত্যেচার হয়ে যাবে নইলে।’ তিনি চৌকির তলা থেকে একটা ট্রাঙ্ক বার করলেন টেনে। তার ভেতর থেকে একটা লম্বা গোল বোতল বার হল। বিদেশি হুইস্কি। বললেন—’চলে না বললে শুনব না ভায়া, একটু খাও, ক্লান্তি দূর হবে, গায়ের ব্যথা মরবে, ভাল ঘুম হবে।’

    নিজের তক্তাপোশটিতে তিনি নতুন চাদর পাতলেন। বালিশের ওয়াড় বদলালেন। ট্রাঙ্ক থেকে একটি বিলিতি রাগ বার করলেন। বললেন—’দেখলেই বোঝা যায় ভায়া শৌখিন মানুষ। চোখের সামনেই সব বদলে দিলুম। এবার আরাম করে শুয়ে পড়ো।’

    —’আপনি?’

    —’আমি এই ক্যাম্প খাটে! দুদিনের তো ব্যাপার।’

    তো সেই নলিনী করই এখন খাটিয়াতে ফুলের মালা ইত্যাদিতে শোভিত হয়ে শুয়ে আছেন। মেস—বন্ধুরা ট্রাঙ্ক থেকে তার চুনোট করা ধুতি, গিলে করা পাঞ্জাবি বার করে পরিয়ে দিয়েছে।

    বিজন কদিন দিদির জন্য নির্দম ছোটাছুটি করছেন। ডাক্তার বলছে অপারেশন করার ঝুঁকি আছে। আবার করলে ভালও হতে পারে। অপারেশনের তারিখ পড়েছে দুদিন পর। দিদিকে ফলের রস খাইয়ে, কিছুক্ষণ গল্প করে, ওষুধপত্র সব কিনে দিয়ে, রত্নাকে আবার পৌঁছে দিতে হল। সে নার্সিং হোমে এসে বসে আছে। বলল, একাই চলে যেতে পারবে। কিন্তু বিজু তা দিতে পারেন না। তিনি তাকে বাপের বাড়ির গলি অব্দি পৌঁছে দিলেন। যাবার সময়ে মুখ নিচু করে বলল—’কাল গুড্ডুকে নিয়ে যাব মামা? খুব দাদি—দাদি করছে। ওঁর হাতেই তো মানুষ।’

    ‘এনো’—বিজন বললেন।

    তারপর ফিরে দেখলেন এই ব্যাপার। এঁরা সবাই তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন। নলিনীকান্তর ট্রাঙ্ক—বাক্স হাঁটকে নাকি কোনও ঠিকানাই পাওয়া যায়নি। মণিময় বলল—’আপনি ওঁর অনেকদিনের বন্ধু, আপনিই মুখে আগুনটা দিন, বামুনও বটেন।’

    বিজন হেসে বললেন—’কে বলল আমি ওঁর অনেকদিনের বন্ধু? যেদিন ওঁর সঙ্গে এলাম তার আগে চিনতাম না পর্যন্ত!’

    চাঁদু, যে মাসকাবারি বাজার করে সে বলল—’বলেন কী?’ একটু পরে বলল—’নলিনীদার কারবারই আলাদা। আপনার হাত থেকে আগুনটা নেবেন বলেই বোধ হয়…আগুনটা আপনারই হাতে মাপা ছিল।’

    আহিরিটোলার মেসবাড়ির চিলেকুঠুরির ভাড়ার উত্তরাধিকার বিজু রায়ই পেলেন। ট্রাঙ্ক—বাক্স হাতড়ে যা টাকাপয়সা পাওয়া গেল তাতে কোনওমতে মেসের পাওনা চুকল। সবাই চাঁদা করে শেষ কাজের টাকাটা তুলল, গঙ্গার ঘাটেই কাজটা হবে ঠিক হয়ে গেল। বিজুকেই করতে হবে। কেউ শুনল না। তিনিই নাকি নলিনী করের একমাত্র ওয়ারিস।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমেয়েলি আড্ডার হালচাল – বাণী বসু
    Next Article পঞ্চম পুরুষ – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }