Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বৃত্তের বাইরে – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বৃত্তের বাইরে – ৫

    ।। ৫ ।।

    ঝিমঝিম ঝিমঝিম করে সন্ধ্যা নামার শব্দ হয়। ধোঁয়ার সঙ্গে অন্ধকার মিশিয়ে সিমেন্টের বড় বড় বস্তায় ভরে কেউ অনেক উঁচুর আকাশ থেকে ফেলছে। থলির পেছনের কোণ দুটো ধরে উল্টে দিচ্ছে। উড়ছে ধোঁয়া এবং অন্ধকার আকাশময়। নামছে অলিতে—গলিতে। এই শীতকালীন সন্ধ্যারও আবার কত রকমফের আছে। সল্ট লেকের সন্ধ্যা আর আহিরিটোলার সন্ধ্যা, সাদার্ন অ্যাভেন্যু—এর সন্ধ্যা আর বাঁধাঘাটের সন্ধ্যা যেমন এক নয়, তেমন চিলেকোঠার সন্ধ্যায় আর একতলার সন্ধ্যায় তফাত আছে। দশতলা বারোতলায় যে সন্ধ্যা দেখা যায়, দেড়তলার বাসিন্দা কখনওই সে সন্ধ্যা দেখতে পারে না। অঞ্চলভেদে, উচ্চতাভেদে প্রকৃতির দয়া—দাক্ষিণ্য ভাগ হয়ে গেছে।

    আহিরিটোলার চিলেকোঠার সন্ধ্যায় নলিনী করের তক্তাপোশের পাশে একমাত্র টিনের চেয়ারে বসে হরিহর আনীত চায়ের সঙ্গে বড় বড় বেগুনি খাচ্ছেন বিজু রায়। এমন সময় বাঁদিকের বাড়ির ছাদ থেকে সরু বাচ্চা—গলার ডাক শুনতে পেলেন,—’দাদু, দাদু! অ দাদু!’

    কে কাকে ডাকছে, বুঝতে পারলেন না বিজু। তবু একবার বেরিয়ে এলেন। বাঁদিকের বহু পুরনো বাড়িটা গায়ে গায়ে লাগা। পাঁচিলের ফোকরে পা দিয়ে একটা ছোট্ট মুখ ঝুঁকে আছে পাঁচিলের ওপর থেকে। বিজু এগিয়ে গেলেন। —’কে তুমি? কাকে ডাকছ?’

    —’তুমি কে?’

    —’আমি…আমি…’ বিজু রায় ভেবে পেলেন না তাঁর কোন পরিচয়টা এই বাচ্চাটির কাছে গ্রাহ্য হবে। আজ গুড্ডু এসেছিল তার দাদিকে দেখতে। রত্নার নির্দেশে গুড্ডু তাঁকে দাদু বলে ডেকেছিল। এইটুকু বাচ্চাদের জগতে কারও নাম বলে কিছু থাকে না বোধহয়। খালি সম্পর্কবাচক শব্দ দিয়ে পরিচয় তৈরি হয়। মা, বাবা, মাসি, মামা, পিসি, কাকা, দাদু, দিদা, এইরকম। এই জগতের পরিচয়পত্রে বিজনবিহারী রায় বা নলিনীকান্ত কর এসব চলবে না। তিনি বললেন—’আমি দাদু।’

    —’আমার দাদু কোথায় গেল?’ বিজু বুঝতে পারছিলেন বাচ্চা মেয়েটি কার কথা বলছে, কাকে চাইছে। তবু তিনি জিজ্ঞেস করলেন—’কোন দাদু?’

    —’ওই তো টঙের দাদু! লালচুলের দাদু! রোগা দাদু! ফর্সা দাদু!’

     

     

    যাক অনেকরকম বর্ণনা পাওয়া গেল। বাসস্থান, চেহারা…মেয়েটি তখনও বলছে চকলেটের দাদু…। বাঃ আদান—প্রদানের বস্তু দিয়ে সম্পর্ক নির্ণয় হচ্ছে। বিজু রায় বাচ্চাদের কোনও দিন ভাল করে দেখেননি। বাচ্চাদের আদর—টাদর করা, তাদের সঙ্গে আধো—আধো কথা বলা এসব কোনও দিনই তাঁর অভ্যেস নেই। তাঁর এই বাচ্চাটির সঙ্গে কথা বলতে বাধো বাধো লাগছে। বাৎসল্য—রসে ভরা হাসি, আদিখ্যেতার নানা শব্দ তাঁর আসছে না। তিনি বললেন—’তুমি কোথায় গিয়েছিলে?’

    —’বীর চাঁদে।’

    —’বীর চাঁদ? সে কোন জায়গা?’

    —’বীর চাঁদ জানো না? আমার মামার বাড়ি। চিলড্রেন্স পার্ক আছে। বড় বড় রাস্তা আছে। দিদাই আছে।’

    বীর চাঁদ নামে কোনও টাউনের কথা বিজু মনে করতে পারলেন না। যাই হোক, জায়গাটায় বাচ্চাটির মামার বাড়ি। কদিন সে সেখানে ছিল। সম্ভবত তাই—ই টঙদাদুর মহাযাত্রার কথা জানে না। তিনি বললেন—’তোমার টঙদাদুও মামার বাড়ি গেছে নিশ্চয়ই।’

     

     

    খুক খুক করে হাসল মেয়েটি, বলল—’অত বড়দের আবার মামার বাড়ি থাকে নাকি?’

    —’কেন থাকবে না? বাঃ!’

    —’বারে! তাদের মামারা, মামিরা, দিদাইররা ভীষণ বুড়ো হয়ে যাবে না?’

    —’হোক না। ভীষণ বুড়ো হলেও তো তারা মামা—ই, মামি—ই, দিদাই—ই নাকি?’

    —’তুমি বুঝতে পারছ না। ভীষণ, ভীষণ বুড়ো, তার চেয়েও বুড়ো, তার চেয়েও বুড়ো।’

    তখন বিজু রায় বুঝতে পারলেন বাচ্চা মেয়েটি এইভাবেই মৃত্যুকে বুঝেছে।

    —’কথা বলছ না কেন? আমি মামার বাড়ি থেকে এলেই টঙদাদু চকলেট দেয়।’

    —’তাই? আচ্ছা, এদিকে আসবে?’ বিজু হাত বাড়িয়ে দিলেন। একটু চেষ্টার পর তাকে নিজেদের ছাদে আনতে সমর্থ হলেন। ছোট্ট মুখ। চোখ দুটো একটু বসা, বড় বড়। কচি নাক আর ঠোঁট, কচিপাতার মতো নরম শ্যামলা রং। একটা নানা রঙের পশম দিয়ে বোনা, পুরোহাতা সোয়েটার পরে আছে সে। পায়ে ফুলমোজা এবং বকলস লাগানো জুতো। শীতের বিরুদ্ধে লড়াইটা দরকার জেনে তার মা তাকে ভালভাবেই অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সাজিয়েছে। হাতে একটা টুপি।

     

     

    —’তুমি টুপিটা পরোনি?’

    —’আমার টুপি পরতে বিচ্ছিরি লাগে।’

    —’ও। এসো টঙে এসো।’

    —ঘরে ঢুকে সে বলল—’এ মা! তুমি ভাল চাদরটা পেতে রেখেছ কেন? ওটা তো সাইমন কিংবা রফিককাকু এলে দাদু পাতে!’

    —’কে সাইমন? রফিককাকু কে?’

    —’ওমা, সাইমনকে চেনো না? রফিককাকুকে চেনো না! ওরা যে টঙদাদুর জন্যে টাকা আনে! না হলে দাদু আমাকে চকলেট কিনে দেবে কী করে?’

    বিছানায় বসে মেয়েটি বললে—’তুমি টঙদাদুর কে হও গো?’

     

     

    —’ভাই।’

    —’ধ্যাঃ।’ টঙদাদু বলত, ‘আমার ভাই নেই, বোন নেই, মা নেই, বাবা নেই, বউ নেই, ছেলে নেই, মেয়ে নেই। এসব কোনও দিন ছিল না। একদিন ভীষণ বিষ্টি হচ্ছিল পুজোর সময়ে, ভীষণ বাজ পড়ছিল, তখন পৃথিবীটা ফাঁকা হয়ে গেল আর আমি বেরিয়ে এলুম।’

    —’এই কথা বলত বুঝি!’

    —’হ্যাঁ বলত। সত্যি কথা, বলবে না?’

    —’আমি তাহলে ভাইয়ের মতো। ধরো বন্ধু।’

    —’তাই বলো।’ খুব নিশ্চিন্ত হয়ে বলল খুকুটি। তারপরে বলল—’আমার চকোলেট দাও?’ সে ডান হাতটা পেতে আছে। পেছন ঘসটে এক পা মাটিতে রেখেছে। শরীরটা এখনও তক্তাপোশের ওপরেই।

     

     

    বিজনবিহারীর হঠাৎ মনে হল জীবন ওই বাচ্চা খুকুটির মতো। অমনি ভাবে হাত পেতে আছে। চোখে অবোধ বাসনা। যতক্ষণ তুমি আছ তোমাকে ওর হাতে মিষ্টান্ন দিয়ে যেতে হবে। তিনি বললেন, ‘তুমি বোসো, আমি কিনে আনছি।’

    —’দূর তুমি কিচ্ছু জানো না, ওই তো টেবিলের টানাটায় থাকে। খোলো না?’

    বিজনবিহারী চেয়ারে বসেছিলেন, তাঁর পেছনে টেবিল, তিনি ড্রয়ারটা টেনে খুলে ফেললেন। খুকু ছুটে এল। ড্রয়ারের মধ্যে ম্যাগনিফাইং গ্লাস একটা, কিছু সিগারেটের প্যাকেট, লাল রিবন, গোলাপি রঙের ক্লিপ, নাইলন পুতুল একটা আর বেশ কিছু টফি।

    —’ওই তো আমার ফিতে, আমার ক্লিপ, ওই তো আমার পুতুল,’ ড্রয়ারটা ধরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খুকু বলল, ‘কই চকলেট দাও! ওই তো!’

    টফিগুলো তুলে খুকুর হাতে দিলেন বিজু। এগুলোকেই ও চকলেট বলছে। এগুলো কি সেই দাঁতের সঙ্গে আটকে যাওয়গুলো! তিনি বললেন—’সবগুলো যেন একসঙ্গে খেয়ো না। আর খেয়ে ভাল করে মুখ ধোবে, দাঁত ঘসে ঘসে ধোবে, নয়তো দাঁতে পোকা লাগবে, ভীষণ ব্যথা করবে কিন্তু।’

     

     

    একটা টফি মুখে ফেলে খুকু বলল—’আমার দাঁতে পোকা আছে তো! আমি বুরুশ দিয়ে দাঁত মাজি তো! শীতকালে রাত্তিরে যে মা মুখ ধুতে বারণ করে।’

    —’তোমার দাঁতে পোকা আছে? যন্ত্রণা হয় না?’

    —’হয় না আবার! মা বলেছে এ দাঁতগুলো পড়ে যাবে, তখন আর হবে না।’

    বিজু বললেন, ‘নাও, তোমার লাল রিবন, ক্লিপ, তোমার পুতুল সব নাও।’

    —’এখন কি নিউ ইয়ার? এখন কি আমার জন্মদিন? যে নোব!’

    —’তাই বুঝি? তোমার জন্মদিন কবে?’

    —’সে তো আঠারই ডিসেম্বর। সেইদিন আমি পুতুলটা পাব তো। টঙদাদু বলেছে।’

     

     

    —’আর রিবন—ক্লিপ?’

    —’ওগুলো তো ফাস্ট জানুয়ারি নিউ ইয়ারে পরবো।’

    —’টঙদাদু যদি তখনও না ফেরে? তুমি এখনই বরং নিয়ে যাও।’

    —’ন না। আমার জন্মদিনে টঙদাদু নেমন্তন্ন আসবেই। কেউ তো দাদুকে পায়েস খেতে দেয় না। আমার মা লাল পায়েস করবে, দাদু আসবেই। আচ্ছা আমি যাই, না আসি বলতে হয়; আসি টঙদাদুর বন্ধু। মা ভাববে ভীষণ।’

    —’চলো তোমায় দিয়ে আসি।’ বিজু রায় পাঁচিলের কাছে গিয়ে মেয়েটিকে কোলে তুলে নিলেন। তারপর একটু হাত বাড়িয়ে পাশের পাঁচিলে দাঁড় করিয়ে ধরে রইলেন, মেয়েটি ধুপ করে লাফিয়ে পড়ল ওদিকে।’

    —’তোমার নামটা কী? নাম বললে না তো?’

    —’আমার নাম কুমারী মণিদীপিকা রজক দাস, বলে ছোট্ট দেহ আর মস্ত নামের ভার বইতে বইতে খুকুটি ছুট লাগাল।

     

     

    ঘরে ফিরে এসে বিজু দেখলেন ড্রয়ারটা তখনও খোলা। রিবন ক্লিপ এবং পুতুল দেখা যাচ্ছে। নলিনী কর নিশ্চয়ই কিছুদিন আগে এগুলো সংগ্রহ করে রেখেছিলেন। আশ্চর্য মণিদীপিকা জানে এসব তারই, তবু একটা জিনিসও ছুঁল না। সময়, লগ্ন। সে তার ওইটুকু মন দিয়ে লগ্নের গুরুত্ব বুঝতে পারে। দরিদ্রের মেয়ে, দেখলেই বোঝা যায়। এইরকম বয়সে হয়ত ছুটকিরও এরকমই চেহারা ছিল!

    ছুটকি! ছুটকি কোথায়। এমন ফেরে পড়েছেন, যে চিঠিগুলো তন্ন তন্ন করে পড়বারও সময় পাচ্ছেন না। তবে ছুটকি যে বেঁচে আছে, ভাল আছে, স্বামী পুত্র কন্যা নিয়ে সুখী এটাও অনেক। সে তো হারিয়েই গিয়েছিল। জীবনের কোনওখানে আর তার কোনও স্মৃতি ছিল না, চিহ্ন ছিল না। হঠাৎই শূন্য থেকে রসগোল্লা পড়বার মতো ছুটকি নেই থেকে আছে হয়ে গেল। বিজু কী করে তাকে হারিয়ে থাকতে দেবেন। অনেক যে বয়স হয়ে গেল! বয়সটা যে অনেক হয়েছে এ কথা তাঁর একবারও মনে হয়নি, মনে হত না। এন কে বা নলিনী কর তাঁকে মনে করিয়ে দিয়ে গেল। ফিফটি নাইন রানিং, বলেছিল। তখনই বুঝতে পেরেছিলেন লোকটি তাঁর বয়সী। আজ খুকুটি যা বলল তার মধ্যে ‘পুজোর সময়ে ভীষণ বিষ্টি পড়ছিল, বাজ পড়ছিল।’ কথাগুলো তাঁর কানে আটকে আছে। মা বলত ‘বাপ রে, পুজোর সময়ে সে কী বিষ্টি! পাড়ার ঠাকুর জল পড়ে গলে গেল। সে এক কাণ্ড। অমন তাণ্ডবের মধ্যে জন্মেছিলি, তুই দস্যি হবি না তো হবে কে?’

     

     

    নলিনী করও ওই পুজোর সময়েই জন্মেছিল। কোন দিনে? জানবার আর বোধহয় উপায় নেই। কিন্তু দু—একদিনের এদিকে ওদিকে আর কী—ই বা আসে যায়। তিনি নলিনী করের একেবারে একবয়সী, যতই নলিনী তাঁকে ‘তুমি তো ভায়া পঁয়তাল্লিশের এদিকে হবে তো ওদিকে হবে না’ বলুক। বয়স জিনিসটাও কত আপেক্ষিক! তিনি চূড়ান্ত সুখে আছেন। নিয়মে আছেন। বিধিদত্ত কাঠামোটাও নিশ্চয় ছিল, সবচেয়ে বড় কথা কাজের মধ্যে আছেন। নিশ্ছিদ্র কাজের মধ্য দিয়ে একটা দিন কোথা দিয়ে পার হয়ে গিয়ে আরেকটা দিন শুরু হয়, তিনি বুঝতেই পারেন না। হয়ত তাই। তাই—ই তিনি পঁয়তাল্লিশের এদিকে তবু ওদিকে হবেন না। নলিনীর জীবনে ভাঙা—গড়ার খেলা খেলেছে কেউ নির্মমভাবে, সে নিয়মের ধার ধারেনি। এখন কর্মহীন। দুপুরবেলায় কী করতে বেরোত কে জানে! ওই সাইমন আর রফিকের কাছে? এরা কেন? যাই হোক, নলিনীতে জীবনটা আটান্নতেই শেষ হয়ে এসেছিল। তাই স্রেফ সিগারেট ধরিয়ে কাশতে কাশতে জীবনটা গলার মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে গেল। কিন্তু আশ্চর্যের কথা নলিনীও তাঁরই মতো বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। জাহাজের খালাসি হওয়া আর জাহাজ কেনা সে আক্ষরিক অর্থে বলেছে না আলঙ্কারিক অর্থে, জানা যাবে না। কিন্তু খুব নিচু অবস্থা থেকে দারুণ পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে সে খুব ধনী হয়েছিল এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। তাঁর নিজের জীবনের সঙ্গে অদ্ভুত মিল। তারপর কোন লগ্ন, কোন ক্ষণের তফাতের ফলে বাকিটা তফাত হয়ে গেল কে জানে! বিজু রায়, জ্যোতিষ—ট্যোতিষ মানেন না। অথচ এভাবেই ভাবলেন। ভাবলেন—হঠাৎ সিগারেট ধরিয়ে কাশতে কাশতে কত সহজে তাঁর সমবয়সী মানুষটির প্রাণ বেরিয়ে গেল, আগের দিনও মেঝেতে আসন পেতে মুরগির কালিয়া খেলেন কবজি ডুবিয়ে, বিজু রায়ের পাশে বসে। মৃত্যু এইভাবে যখন—তখন জানান না দিয়ে আসতেই পারে। সেই বয়স হয়েছে বিজু রায়ের। নলিনীর ভেতর দিয়ে মৃত্যু যেন এই কথাটাই তাঁকে জানিয়ে দিয়ে গেল। এবং মৃত্যু খুব কাছেই বসে দু চোখ মেলে তোমাকে দেখছে জানলে—হঠাৎ সমস্ত কেমন দূরে সরে যায়! সব সম্পর্ক, সব অর্জন, সব নির্মাণ। না, সব নয়। একমাত্র ছুটকি দূরে সরে না। ছুটকির সঙ্গে সাক্ষাৎ এখনও জীবনের মস্ত বড় আরব্ধ কর্ম। বাকি রয়ে গেছে।

     

     

    আপাতত এই নলিনী কর নামে লোকটিকেও তাঁর খুব জানতে ইচ্ছে করছে। যেন একই সালে, একই মাসে জন্মের দরুন শুধু তাঁর সমবয়সীই নয়, আরও ঘনিষ্ঠ কিছু, তাঁর নিজেরই আরেকটা চেহারা হয়ে দাঁড়িয়েছে সে। ওকে যত জানবেন, নিজেকেও তত জানা হবে। রাতে হরিহর তাঁর রুটি তরকারি নিয়ে এলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন—’আচ্ছা হরিহর, করবাবুর কাছে কেউ আসত না?’

    —’তেমন কেউ না।’

    —’তেমন কেউ মানে?’

    —’এই ধরুন, আপনার মতন, আসতেই করবাবু মিল বলে দিলেন, সঙ্গে সঙ্গে জলখাবার।’

    —’কিন্তু কেউ না কেউ তো আসত।’

    —’শুনুন বাবু, করবাবু এমনিতে খুব ভাল লোক ছিলেন। কিন্তু…কিন্তু…’

     

     

    —’কিন্তু কী?’

    —’মরা মানুষের নামে বলব? পাপ হবে না তো?’

    —’কিছু হবে না, তুমি বলো।’ বিজু রায় কখনও এই ধরনের লোকদের সঙ্গে এরকম অন্তরঙ্গভাবে কথা বলেননি। বদন, প্রমীলা, তাঁর দারোয়ান বিরজু বা তার বাবা বীরখা। একমাত্র ড্রাইভার সময় দিবারাত্র তাঁকে নিয়ে এখান—ওখান যাতায়াত করত বলে তার সঙ্গে অনেক প্রকার কথা বলতে বাধ্য হতেন তিনি। একমাত্র ওই সমরই।

    হরিহর বলল—’করবাবু বড্ড জুয়ো খেলতেন। অনেক রকম। সে সব তো আমি জানি না। কিন্তু আমার কাছ থেকে মাঝে মাঝেই টাকা ধার করতেন।’

    —’শোধ করেছিলেন?’

    —’সব শোধ করে দিতেন, কাউকে বলবেন না বাবু, তবে শেষেরটা আর পারেননি, খাস দফতরের পরোয়ানা এসে গেল কি না!’

    বিজু রায় চমৎকৃত হলেন। এই মেসের চাকর লোকটি যে প্রায় সব সময়েই ঝলঝলে ইজেরের ওপর একটি গামছা পরে থাকে সে জুয়োখেলাকে পাপ মনে করছে? যখন সারা কলকাতা, সারা ভারত, সারা বিশ্ব জুয়ো খেলে যাচ্ছে। স্বয়ং সরকারবাহাদুর লটারির খেলা বার করেছেন সেই কবে থেকে! সরকারও জুয়ো খেলছে! দ্বিতীয় কথা ওই খাস দফতরের পরোয়ানা। এরকম লাগসই শব্দ কেমন অনায়াসে ব্যবহার করে ফেলল হরিহর! পরোয়ানাটা শোনা যায়। ‘মৃত্যুর পরোয়ানা’—এ জাতীয় শব্দ যেন পড়েছেন কোথাও। কিন্তু ‘খাস দফতর?’ হয় এটা হরিহরের সম্পূর্ণ মৌলিক উদভাবন। না হলে কোনও জায়গা থেকে সংগ্রহ। শুনেছে একবার, মনে রেখেছে। তাকেও প্রায় মৌলিকই বলা যায়। শব্দ বা শব্দবন্ধ আর কজন বানায়! সবাইই তো শোনে। শুনে শুনেই মনে রাখে! তিনি বললেন—’শেষেরটা কত?’

    —’পাঁচ হাজার।’

    —’অ্যাঁ?’ চমকে উঠলেন বিজু রায়। মেসের চাকর হরিহর অবলীলায় পাঁচ হাজার টাকা ধার দিতে পারে? সেটা মার খেয়ে গেলে তার কোনও হাহাকার পর্যন্ত থাকে না? তিনি বদনকে পাঁচশো টাকা মাইনে দেন, পুজোয় দেড় হাজার টাকা বোনাস। এ লোকটি কত মাইনে পায়? লোকে মাইনের কথা জিজ্ঞাসা করা অভব্যতা। তবু, উপায় নেই, তিনি জিজ্ঞেস করলেন—’এখানে তোমাকে কী রকম দেয়—টেয়?’

    ‘আজ্ঞে ইনকিমেন্টো হয়ে হয়ে এখন তিনশো দশ হয়েছে। বাবুরা বলেছেন সাড়ে তিনশোয় শেষ। কেল রিচ করে যাব। আপনি অত টাকা ধার দিয়েচি বলে জিজ্ঞেস করছেন? আজ্ঞে বাবু আমি গরিব মানুষ আমার চলে কী করে বলুন, আমি আজ্ঞে টাকাটা খাটাই। সুদ নিই টেন পার্সেন্ট।’

    —’তাই? কাদের কাছে খাটাও?’

    —’সে অনেক আছে, এখানকার বাবুরাও দরকারে অদরকারে হরিহরের কাছেই হাত পাতেন।’

    —’ও। করবাবুর টাকাটা কি সুদসুদ্ধ বললে?’

    হরিহার জিভ কেটে বলল—’না বাবু, তাই কখনও পারি? ওঁর কাছ থেকে আমি এক পয়সা সুদ নিতুম না আজ্ঞে। বাবুর তো কোনও চাকরি—বাকরি, বাঁধা আয় ছিল না। জ্ঞানত কখনও পাপ করিনি বাবু।’

    —’তা এখন যে টাকাটা মারা গেল!’

    —’কী করব বাবু, ভাগ্য। সবই ভাগ্য। মেনে নিতে হচ্ছে।’

    —’সাইমন বা রফিক বলে কাউকে চেনো? এখানে আসত!’

    হরিহরের মুখে একটা ভয়ের ভাব খেলে গেল। সে বলল ‘আপনি কী করে জানলেন বাবু!’

    —’বলোই না।’

    —’বাবু কাউকে বলবেন না। করবাবু বলতে বারণ করে দিয়েছিলেন। একটা বেঁটে মতো ফিরিঙ্গি আসত বটে। কালো, সাহেব বলে কেউ বুঝবে না। বাজে লোক। আর রফিক, সুবিধের নয়। দেখলে ভয় লাগে। ইয়া চেহারা। করবাবু বোধহয় ওর কাছেও…। মাঝে মাঝে আমার কাছে প্যাকেট রেখে যেত করবাবু না থাকলে।’

    —’কখন আসত?’

    —’কখন? মেসের বাবুরা ঘুমিয়ে পড়লে। ঠাকুররা ছুটি নিয়ে চলে গেলে। আমি খুলে দিতুম। শনিবার সন্ধেতে মেস খালি। শনিবার সন্ধেয় কি রোববার সকালেও আসত অনেক সময়ে।’

    —’আচ্ছা শোনো, এরা কেউ এলে, বলবে না করবাবু মারা গেছেন, আমি থাকলে সোজা ওপরে আমার কাছে পাঠিয়ে দেবে। বুঝেছ?’

    হরিহর বড় করে ঘাড় নাড়ল।

    কেন এটা করলেন বিজু রায় জানেন না। কে সাইমন কে—ই বা রফিক, তাদের সঙ্গে নলিনী করের কী সম্পর্ক। তাঁর এ সবের মধ্যে ঢোকবার কী আছে! ভেবে করেননি। তেমনি না ভেবেই আজই তিনি করবাবুর ট্রাঙ্কটা টেনে বার করলেন—চৌকির তলা থেকে। দু—তিন খানা ধুতি, চারটে পাঞ্জাবি, তার মধ্যে একটা সেই গরম ফ্লানেলের যেটা পরে তিনি নলিনীকে প্রথম দেখেছিলেন। কয়েকটা রুমাল। সেই জামেয়ার শালখানা। একটা প্লাস্টিকের প্যাকেটের মধ্যে দাড়ি কামাবার সরঞ্জাম। ভাল তোয়ালে দুটো। এ ছাড়াও একটা চৌখুপি নকশা—কাটা খাদির বেড কভার, সাদা চাদর, বালিশের ওয়াড়। বেডকভারটা তুলে ভাল করে গুছিয়ে রাখতে গিয়ে তার ভেতর থেকে ঠক করে একটা ছোট নোট বুক পড়ল। খুব পুরনো। মণিময়রা বলছিল—এঁর কোনও আত্মীয়স্বজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। কিন্তু নোট বুকটাতে তিনি দেখলেন তিন, চারটে ফোন নম্বর ও ঠিকানা রয়েছে। এগুলো কি ওরা দেখেছে? জিজ্ঞেস করতে হবে। তারপর একটা পাতায় লেখা—’ওপেনিং—এর খেলায় দুয়া চৌয়া পঞ্জা লাকি নং। ক্লোজের খেলায় দিনের পর দিন এক্কা দুয়া নওকা। পাত্তি টু পাত্তি চান্স নিতে হবে একবার। জিতলে পঞ্চাশ। হারলে পাঁচ, কুছ পরোয়া নেই। জীবন—জুয়ায় অমৃত বা বিষ যা উঠল তা আমার। লক্ষ্মী যদি ওঠে তো সে দাদু পাবে।’

    ঠিক সাড়ে নটায় চিত্তরঞ্জনে পৌঁছে গেলেন বিজন। তিনি ঢোকবার পাঁচ মিনিট পরেই এল রত্না। এই মেয়েটি যে কেন এখনও নিয়মিত যাওয়া—আসা করছে তিনি জানেন না। শমিত বা শাঁটুল যার সঙ্গে সম্পর্কের ফলে এর সঙ্গে দিদির সম্পর্ক, সে তো ফেরার, এবং দিদি কাটান—ছাড়ান—এর কথাও উল্লেখ করেছিল। মেয়েটি তাঁকেও খুব রুক্ষভাবে তাঁর কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে, মুক্তি চেয়েছিল। মেয়েটিকে তিনি মুক্তি দিয়েছেন। ও তবুও আসছে।

    দিদিকে ও.টিতে নিয়ে গেল। যাবার সময়ে বিজন সাহস দেবার চেষ্টা করলেন, দিদি কিছুই বলল না। শুধু দু ফোঁটা জল শুকনো গাল দিয়ে গড়িয়ে পড়ল। রত্না নিচু হয়ে কিছু বলল দিদির কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে।

    দুজনে বসে আছেন। রত্না হঠাৎ মৃদুস্বরে বলল—’মামাবাবু ও ফিরে এসেছে।’

    বিজন অন্যমনস্ক হয়ে ছিলেন। চমকে উঠে বললেন—’কী বলছ?’

    —’ও, মানে আপনার ভাঞ্জা ফিরে এসেছে।’

    —’ফিরেছে? কোথায়?’

    —’এখনও বাড়িতে আসেনি। আমার সঙ্গে দেখা করেছে।’

    বিজন অপেক্ষা করছেন।

    রত্না বলল—’কাল রাতে আমি ও বাড়ি সব সাফা করে এসেছি। আজ রাত হলে ও পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকে ভিতরে শুতে পারবে।’

    বিজন অপেক্ষা করছেন।

    —’ও বলছে বাড়িটা বিক্রি করে আমরা যদি অন্য কোথাও চলে যাই!’

    বিজন বললেন—’কিন্তু ওর নামে শুনেছি ওয়ারেন্ট আছে। যেখানেই যাক ও ফেরারি আসামি।’

    —’আপনি যদি বাড়িটা বিক্রির ভার নেন।’

    —’আমি তো তোমায় বললাম ও যেখানেই যাক ফেরারি আসামিই থাকবে।’

    —’আচ্ছা ও যদি ওই টাকাটা দিয়ে দেয়!’

    —’কী টাকা? কাকে?’

    —’মা আপনাকে কিছু বলেনি?’

    —’পরিষ্কার করে বলো কী বলতে চাইছ।

    —’যাদের ভেজাল সিমেন্ট সাপ্লাই করেছিল, সাত আটটা পার্টি, তাদের যদি কমপেনসশন দিয়ে দেয়!’

    —’কত টাকার?’

    —’আমার ঠিক জানা নেই, তবে লাখখানেক তো হবেই।’

    —’এত টাকা কোথা থেকে দেবে?’

    রত্না ইতস্তত করতে লাগল, কিছুক্ষণ পর বলল—’আপনি যদি টাকাটা অ্যাডভান্স করেন।’

    বিজন মনে মনে বললেন—ও আমি লাখ বা ততোধিক টাকা অ্যাডভান্স করব, আমি বাড়িটা বিক্রি করিয়ে দেব। ও অন্যত্র গিয়ে থাকবে। ভাল।

    মুখে বললেন—’সুখচরের বাড়ি কার নামে?’

    —’সেটাই তো মুশকিল। এখনকার কানুন তো মেয়েদেরও ভাগ দেয়, আমার দুই ননদের ভাগ আছে, মার ভাগ আছে, ওরও আছে। এই সময়ে যদি ওটা বিক্রি করে দেওয়া যেত! ছ—সাত লাখ টাকা তো নিশ্চয়ই হবে। আপনার টাকাটা আমরা শোধ দিয়ে দিতাম!’

    বিজন বললেন—’কিছু মনে কোরো না রত্না, শমিত যাকে তুমি বিয়ে করেছ, বাঁকা পথে ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারে না দেখছি। এ মতলবটা নিশ্চয় ওরই। বর্ন চিট। তুমি যদি ঠিক করে থাক ওকে ডিভোর্স করবে। তবে করতে পার।’

    —’ও বলছিল আপনি বিজনেসম্যান আপনি ব্যাপারটা বুঝবেন, হ্যান্ডল করতেও পারবেন।’

    তখন বিজন বুঝলেন বিজনেসম্যানের সংজ্ঞা অন্ততপক্ষে শমিতদের কাছেও কী দাঁড়িয়েছে! শমিত, তাঁর ভাগনে তাঁকে ঠগ—ই মনে করে। একজন সফল ঠগ। তাই—ই সে প্রস্তাবটা সময়—সুযোগ বুঝে তাঁর কাছে পেশ করেছে। ব্যাপারটা তাঁকে ভাবাল। কতটা ঠগ তিনি? কিছুটা তো নিশ্চয়ই! কিন্তু কতটা? রত্না মুখ নিচু করে বলল—’মামাবাবু, আমি ওকে ডাইভোর্স করতেই পারি। আমার কোনও অসুবিধে হবে না। আমার পিতাজি আমাকে আলাদা সম্পত্তি লিখে দেবে। গুড্ডুও ভালভাবে মানুষ হবে। যে লোক সাচ্চা নয়, তাকে নিয়ে এমনি ভেসে পড়বার মুশকিল আছে আমি জানি। কিন্তু আমি ওকে ছেড়ে দিলে ও একদম তলায়, নীচে ঔর ভী নীচে চলে যাবে। এখন, আমার পিতাজি এ সাদি দিতে চাননি। আমার শাস ভী না। ও—ও তখন পিছু হটছিল। আমি জিদ্দি আছি। আমিই জোর করে এটা করেছি। এখন যদি ও গাড্ডায় পড়েছে বলে ভেগে যাই আমার সাচ্চাই কোথায় থাকবে? নিজেকে, আমার নিজের অন্দরে যে ভগোয়ান আছে তাকেই বা কী জবাব দেব?’

    বিজন মন দিয়ে শুনছিলেন মেয়েটির কথা। তাঁর ভাগনে—বউ। এ কদিনে জেনেছেন ও মাত্রই স্কুল ফাইন্যাল পাশ। হায়ার সেকেন্ডারিতে আটকে গিয়েছিল। শমিত নাকি ওকে পড়াত। কী যে পড়াত ভগবান জানেন। বি. কম ফেল করেছে দুবার। হঠাৎ যেন বিজন ইলেকট্রিকের শক খেলেন। তিনিও বি.কম ফেল করেছিলেন। তিনি গ্র্যাজুয়েট নন। তৃতীয়বার পরীক্ষায় বসবার ভয়েও বটে, ছুটকি চলে যাওয়ার পরের গভীর অন্ধকার সইতে না পেরেও বটে তিনি পালিয়েছিলেন। বাবা ছুটকির নাম মুখে আনতেন না। মা! মাও কি খড়্গহস্ত হয়েছিল! মায়ের ওরকম বিভীষণ চেহারা আর কখনও দেখেন নি বিজু। ওর নাম কেউ আমার সামনে উচ্চারণ করবে না, ভুলে যাও, ওকে তোমরা ভুলে…। গর্ভধারিণী মায়ের চেয়ে সন্তানকে কেউ বেশি ভালবাসে? সেই মা যখন ভুলে যায়, ভোলবার ম্যানডেট জারি করে, তখন অন্য কে আর…। তবে মা সন্তানকে সবচেয়ে ভালবাসে এটা একটা ধারণা। ছুটকি যা করেছিল তা, বা তার চেয়েও বেশি কত কত লোকে করছে আজ। জল—ভাত হয়ে গেছে। অন্তত তাঁদের সোসাইটিতে। কে জানে বিত্তবানের সমাজে হয়তো বরাবরই মূল্যবোধ আলাদা ছিল! শর্মাজির বর্তমান স্ত্রী রেণুকা শর্মা তাঁর আট বছরের মেয়েকে ছেড়ে চলে এসেছিলেন। সে মেয়ের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক আছে বলেও তিনি জানেন না। কাজেই মা সন্তানকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসবেই—এটা একটা ধারণা। সংস্কার। মা ছুটকিকে চিঠিতে কী লিখেছিল, বড় দেখতে ইচ্ছে করছে। গর্ভধারিণীত্ব শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছিল। কিন্তু শেষ জীবনে, একেবারে শেষে। তাঁর মনে পড়ল সে সময়ে তিনি ছুটকির জন্য ভীষণ গুমরোতেন। কাউকে বুঝতে দিতেন না। বাইরে যেমন হাসি খুশি, চঞ্চল ইয়ার্কিবাজ তেমনই। কিন্তু গঙ্গার ঘাটে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকতেন। বাইরের হাওয়াটা যেমন হু হু করত, ভেতরটাও তেমনি হু হু করত। যেন বুকের ভেতরটা শূন্য মাঠ একটা। খাঁ খাঁ মাঠ। বাতাস বয়ে যাচ্ছে সেই মাঠের ওপর দিয়ে। শূন্য, শূন্য। জীবনের সামান্য সেই লেখাপড়া তা—ও শেষ করতে পারলেন না। পারল না বিজু। বিজনেস অর্গানাইজেশন, কম্পানি ল, ইনকাম—ট্যাক্স, অডিটিং অঙ্ক কিচ্ছু মাথায় ঢুকত না। সমস্ত ডেবিট ক্রেডিট, জার্নাল লেজার ফোলিও, অ্যাডভান্সড অ্যাকাউন্টেন্সির সমস্ত থিয়োরি, ফর্মুলা, ইকোয়েশনের ওপরে ছুটকির মুখ ভেসে উঠত, ছুটকির ঈষৎ ঢেউ খেলানো মাঝ—পিঠ—ছাপানো বানে ফেঁপে ওঠা গঙ্গার মতো চুল। ছুটকির চোখ, গাঢ় বাদামি, দুষ্টু দুষ্টু আবার ভাবুক বড় বড় পল্লবওলা। ছুটকির ছোট্ট তীক্ষ্ন নাক। ভীষণ মিষ্টি ঠোঁট ছুটকির। তার শ্যামলা রঙের গালে সোনার মাকড়ির ছায়া। ডুরে শাড়ি, সরু সরু ছোট ছোট আঙুল। পারল না বিজু। বি.কমটা পাশ করতে পারল না। অথচ সেই বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনই এখন করছে! তখন অদ্ভুত এক অপারগত্ব। ভীষণ সময়! কোনও স্থির লক্ষ্য সামনে নেই। ভয়াল বাস্তব উদ্যত হয়ে রয়েছে। নতুন কিছু নেই। কেউ নেই। অথচ পুরনো প্রিয়কে, ঘনিষ্ঠকে হারানো। কী ভয়াবহ সময় গেছে বিজুর জীবনে! শ্মশান ধারের সেই বাড়ির ছাদে সমস্ত কথা, তা যত গোপনই হোক, ছুটকির সঙ্গে। ছুটকি এক বন্ধু আর নিতাইদা আর এক। নিতাইদা অনেক অশ্লীল কথা বলত। অশ্লীল কথা উচ্চারণে তখন কেমন একটা মজা পাওয়া যেত। যেন চুরমুর খাওয়া, মুচমুচে সব শব্দ। আবার ইংরিজিও জোগাড় করে আনত, বলত ‘ফাক’ ‘ফাক’ মানে জানিস? জানিস না? মানেটা বুঝিয়ে দিত, দুজনে মিলে হাসত খুব খানিকটা, তারপর বলত ‘কক’ মানে কী বল তো’ ‘কেন মোরগ’ বিজুর জবাব। নিতাইদার হাসি চমৎকার ভাবে বেড়ে যেত। তারপর মানে টানে সব শেষ করে বলত ‘এই খবর্দার। এ সব যেন তোর ওই ছুটকি না ছোড়দিকে বলবি না। তুই তো আমার তোর ছোড়দির সামনে ন্যাংটোও হতে পারিস।’ এটা নিতাইদার বাড়াবাড়ি। কিন্তু সত্যিই নিজের অনেক গোপন অভিজ্ঞতার কথা বিজু ছুটকিকে বলত, কিন্তু ছুটকি কি কিছু বলত? বিজুকে? কিচ্ছু না। নেহাত বাধ্য না হলে না। কিন্তু ভান করত যেন সব বলছে। সবচেয়ে গুরুতর কথাটাই তো একদম চেপে গিয়েছিল। কেউ বিশ্বাস করেনি। ছুটকির প্রাপ্য প্রহারটা বাবার কাছ থেকে দাদাদের কাছ থেকে তাকেই খেতে হয়েছে।—’জানিস সব, বলছিস না।’ শেষকালে মা এসে মাঝখানে দাঁড়াল, ‘অতবড় ছেলেকে চোরের ঠ্যাঙানি দিচ্ছ সবাই মিলে কি জন্যে? ও তো বলছে জানে না। আর জেনেও যদি এত মার খেয়েও হজম করে থাকতে পারে। থাকতে দাও।’ ছুটকি তাকে বলেনি, ভাই তো! ওইটুকু দিদিগিরি। কিংবা ভাইয়ের কাছে নিজের আব্রু রক্ষা। ছুটকি চলে যাওয়ার পর অনেক ভেবে সে এটাই বুঝেছে।

    রত্না বলল ‘মামাবাবু, আপনি তো কিছু বললেন না!’

    বিজন দেখলেন ডাকাবুকো মেয়েটির চোখ ছলছল করছে। তিনি বললেন ‘শমিত কিছু জানে না। কিস্যুই জানে না। আয়্যাম সরি বউমা। আমাকে একটু ভাবতে দাও। আগে দিদির এ ব্যাপারটা চুকে যাক। এখন অন্য কিছু মাথায় নেই।’ বললেন বটে, কিন্তু বলেই বুঝলেন এক দিক থেকে দেখতে গেলে এই যুবক—যুবতীদের যাদের এখনও অনেক দিন বাঁচতে হবে, একটি শিশুকে মানুষ করে তুলতে হবে, তাদের সমস্যা অনেক গুরুতর, দিদি তো মেরে এনেছে। তিনিও। হয়ত তিনিও।

    ডাক্তার বেরিয়ে এলেন। বিজন এগিয়ে যাচ্ছেন। উনিই প্রধান সার্জন, ভেতরে পুরো একটা টিম। বললেন—’সরি, মিঃ রায় গোটা লিভার, সপ্লিন, ইনটেসটাইন সর্বত্র স্প্রেড করে গেছে। কিছু করার নেই। আমরা হাত দিইনি। ওপন করে দেখেই আবার সেলাই করে দিয়েছি।’

    —’এখন তাহলে?’

    —’অপেক্ষা পাঁচ ঘণ্টাও হতে পারে, পাঁচ দিনও হতে পারে, আবার পাঁচ মাসও।

    —’কিন্তু পেইন? ওই অমানুষিক পেইন সহ্য করতে হবে যে কটা দিন বাঁচবে?’

    —’কেমোথেরাপি করতে পারেন। কিছু লাভ হবে না মিঃ রায়, শুধু গুচ্ছের সাইড এফেক্ট। লেট হার গো ইন পীস।’

    —’পীস?’ বিজু রায় তিক্ত কণ্ঠে বললেন।

    —’ওই হল।’ ডাক্তার মুখ নিচু করে ধীর পদক্ষেপে করিডর বেয়ে চলে গেলেন। অভিজ্ঞ। বয়স্ক মানুষ। অনেক দেখেছেন, যন্ত্রণা, মৃত্যু। তবু যখন এভাবে হেরে যান, প্রতি পদক্ষেপে গভীর হতাশা, ক্লান্তি, দুর্মর একটা অভিমান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রত্না এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল ‘কী হল মামাবাবু?’

    —’কোনও আশা নেই বউমা!’

    রত্না হঠাৎ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। তারপর জোর করে নিজেকে সামলে নিল। আরও কিছুক্ষণ পর ও.টির দরজা খুলে গেল—দিদি বেরিয়ে আসছে, সাদা চাদরে ঢাকা। মুখটা নীল। বিকেলের দিকে জ্ঞান হবার দুতিন ঘণ্টা পরেই মারা গেল দিদি। ঘোর—লাগা দৃষ্টিতে চারদিকে দেখল, ঘোর—ঘোর গলায় ডাকল—’বিজু!’ বিজু রে!’ তারপর চুপ হয়ে গেল।

    বিজু সারাদিন ফেরেননি আর। রত্নাও না। কাছাকাছি দোকান থেকে দুপুরে খেয়ে নিয়ে ম্যাটিনিতে একটা ফিলম দেখে দুজনে সময় কাটিয়েছিলেন। ভিজিটিং আওয়ার হতে না হতেই হাজির। তা শেষপর্যন্ত ওই হল। জ্ঞান ফিরল, তারপর চিরকালের মতো চলে গেল। মাঝখান থেকে বিজু অবাক হয়ে রইলেন। দেখা নেই, শোনা নেই, সম্পর্ক নেই, আজ পঁয়ত্রিশ বছরেরও অধিক হল। শুধু শেষ কটা দিন। তবু জীবনের শেষ আলো আঁধারির বারান্দায় দাঁড়িয়ে দিদি ঘড়ঘড়ে গলায় বিজুকেই ডাকল? তবে কি দীর্ঘ জীবনের দীর্ঘ অদর্শনের মধ্যেও দিদির ছোট ভাইয়ের জন্য একটা করুণ আকুলতা ছিল! সেই বিরহবোধই কি তবে দিদির জীবনের শেষতম কথা! আশ্চর্য! তিনি কি দিদির শেষ—কৃত্য করবার জন্যেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন? না। না। শুধু দিদি তো নয়। আরেক জনেরও। সম্পূর্ণ অচেনা একটি সমবয়সী লোকেরও। সে লোকটিও যেন দিদিরই মতন তাঁর হাতের আগুনের জন্য অপেক্ষা করে ছিল।

    রত্না তখন কাঁদতে কাঁদতে বলছিল বিয়েতে অমত করলেও পরে মা তাকে কত ভালবাসত। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কী অসামান্য সেবা করেছে। গুড্ডুকে হাতে করে মানুষ করেছে। কিন্তু বিজু রায় অর্ধেক শুনছিলেন। অর্ধেক শুনছিলেন না। অর্ধেক মন দিয়ে ভাবছিলেন, ভাল ফল। কৃতজ্ঞতা ভাল। বড় বিরল প্রজাতির মানবিক গুণ। ভালবাসা নয়। শুধু অন্তত এইটুকু ছলছলে কৃতজ্ঞতা। আর মনের অপরাধ দিয়ে তিনি ভাবছিলেন—এ কি কাকতালীয়? এই সব দেখা—শোনা মৃত্য এ সব কি দৈবাৎ ঘটে? দৈবাৎ ঘটল? নাকি…সময়। লগ্ন, সঠিক লগ্নেরই একটা সঠিক টান আছে? ঠিকঠাক সব ঘটিয়ে দেয়! মণিদীপিকার জন্মদিনে লাল পায়েস আর নাইলন ডলের মতো! একদিন আগেও নয়। একদিন পরেও নয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমেয়েলি আড্ডার হালচাল – বাণী বসু
    Next Article পঞ্চম পুরুষ – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }