Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বৃত্তের বাইরে – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বৃত্তের বাইরে – ৬

    ।। ৬ ।।

    কেমন একটা অতীন্দ্রিয় অনুভবে অর্জুন বোঝে যে তিনি তাকে ডাকছে। তার মনে হয় এটা অতীন্দ্রিয় অনুভব। সিক্সথ সেন্স। কিন্তু কতকগুলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কারণও আছে এই অনুভবের। এটা অস্বীকার করা যায় না। যেমন তিতি দুবার তাদের কেমিস্ট্রি ল্যাবের সামনে দিয়ে ঘুরে গেল। শুধু শুধু। তিতির সঙ্গে একজন বন্ধু ছিল। গোপা বোধহয় মেয়েটার নাম। ভীষণ শব্দ করে গলা খাঁকারি দিল, অসভ্যের মতো। সার মুখ তুলে তাকালেন। প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের পর সে বাইরে বেরিয়ে দেখল ফুলে ভরা জারুল গাছের তলায় তিতি দাঁড়িয়ে আছে। একা। অর্জুন এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল—’ডাকছিলি?’ তিতি কিছু না বলে চলতে আরম্ভ করল। কমপাউন্ড পার হয়ে সে মেন বিল্ডিঙের চত্বরে উঠল। গোপা এবং আরও কয়েকটি মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, তাদের কিছু বলল, তারপর তর তর করে সিঁড়ি নেমে এসে কলেজ গেটের বাইরে বেরিয়ে এল। অর্জুন সারাক্ষণই তার পেছন পেছন এসেছে, খালি মেন বিল্ডিঙের ওপরে ওঠেনি, একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। বাইরে বেরিয়ে এসে দেখল তিতি এখনও চলছে। খুব হনহন করে না হলেও খুব ধীর লয়েও নয়। তার উদ্দেশ্যটা কী এখনও বোঝা যাচ্ছে না। সে কি সত্যিই অর্জুনের সঙ্গে কিছু কথা বলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে, না সেরকম কিছু নয়? অন্য কোথাও যাচ্ছে। হয়তো বাড়িই! সেটা অর্জুন পুরোপুরি বুঝতে পারছে না। অথচ ভেতরে ভেতরে তার স্পষ্ট ইন্দ্রিয়াতীত ষষ্ঠ অনুভব তিতি তাকে ডাকছে।

    একটু তাড়াতাড়ি হেঁটে সে তিতিকে প্রায় ধরে নিল। বলল—’আস্তে চল। আরেকটু আস্তে।’ তিতি পেছন ফিরল না। থামলও না। তাদের মধ্যে এইরকমই হয়। ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্বের একটা তীব্র টানা—পোড়েন চলে, চলতেই থাকে। কখনও অর্জুন ডমিনেট করে, কখনও তিতি। আজ যেমন। এতটা পথ পেছন পেছন ছুটে এসেও অর্জুন তিতিকে ধরতে পারছে না। তিতিই কর্তা। তিতি ডমিনেট করছে।

    অথচ কটা দিন আগেই তিতি যখন তাদের চুঁচড়োর বাড়িতে গিয়েছিল, তিন দিন থেকেছিল তখন, সেই পুরো সময়টা তিতি অর্জুনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অর্জুনই ছিল কর্তা। সে তিতিকে ইচ্ছেমতো হাসিয়েছে, কাঁদিয়েছে, রাগিয়েছে।

    প্রথমটা তিতি যেতে চায়নি। সে বন্ধুদের সঙ্গে যখন যেখানে খুশি যায়, বন্ধু থাকে বান্ধবও থাকে। কোনও ব্যাপারই নয়। কিন্তু অর্জুনের বেলায় সে ‘বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে যাচ্ছি’টা বলতে চাইছিল না। একটাই কথা বলেছিল—’তুই তো আমার বন্ধু নয়, ভাই। মিথ্যে বললে নিজেকে ছোট করা হয়।’

    অর্জুন অবাক হয়ে বলেছিল—’কথাটা তুই বলতে পারলি তিতি? তোর সঙ্গে যখন আলাপ হয়, তুই জানতিস আমি তোর ভাই হই সম্পর্কে? আমি জানতুম তুই আমার বোন হোস?’ কেউই জানতুম না। এই সেদিন জেনেছি। সুতরাং বন্ধু পরিচয়টাই প্রথম, আদি পরিচয়।’

     

     

    —’কিন্তু গোপা, শৃঞ্জয়, বিশ্বজিৎ, পৌলমী কেউ যাবে না… আমি একা!’ খুবই দ্বিধা প্রকাশ করে তিতি।’

     

     

    —’দেখ তিতি, বাজে কথা বলিসনি। তুই খুব ভাল করেই জানিস তোর ওই গোপা শৃঞ্জয় এবং বিশ্বজিৎদের আমি দু—চোখে দেখতে পারি না। পৌলোমী আসতে পারে। যদি সে চায় এবং তুই চাস। কিন্তু আমি চাই না। আমি নিমন্ত্রণকর্তা, আমি চাইছি না, সে ক্ষেত্রে পৌলোমীর আসাটা কি খুব সম্মানজনক হবে? আর তুই তো জানিস তোকে নিয়ে যাচ্ছি আমার নিজের বাড়িতে আমার মা, কাকিমা সবার কাছে। সেখানে নিশ্চয়ই আমার কাছ থেকে তোর শ্লীলতাহানির ভয়টা নেই। না কী?’

    —’বাজে কথা বলিস না অর্জুন, তুই আবার আমার শ্লীলতাহানি করবি কী রে? আমি বরঞ্চ তোর এই মভ রঙের শার্টটা টেনে ছিঁড়ে দিতে পারি। কত দিন পর পর তোকে এই একই শার্টে দেখছি।’

    —’আরও কদিন দেখতে পারিস, রাতে কেচে দিনের বেলায় যদি পরে বেরোতে না পারি তাহলে আর সিনথিটিক পোশাকের মানে কী?’

    —’কিন্তু কেন? তোর কি আর নেই?’

    —’নেই তা নয়। তবে কমই আছে। কমই রাখতে চাই। এবং বিশ্বজিতের মতো ফ্যাশন—প্যারেড করা ছেলেদের দেখলে আমার একই সঙ্গে বিবমিষা এবং করুণা হয়। একটা উনিশ—কুড়ি বছরের যুবক হ্যাংলার মতো ওয়ার্ডরোব ধুর, কাপড়ের আলমারির দিকে তাকিয়ে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে ভাবলে আমার কী যে হয়, রাগ না ঘেন্না না অবিমিশ্র অবজ্ঞা ঠিক আমি বোঝাতে পারব না রে তিতি। আর তা ছাড়াও জেনে রাখ আমি তোদের মতো বড়লোক নই। তিনটে বিধবার আমি একমাত্র সন্তান। তারা আমাকে নিজেদের সব দিয়ে অনেক কষ্ট করে বড় করছে। আমাকে তাদের দেখতে হবে। আমার কটা শার্ট, আর সে শার্টটা কদিন পরলুম এসব নিয়ে ভাবলে আমার চলে না। এগুলো ভাববার যোগ্য বিষয় বলেও আমার মনে হয় না।

    অতএব তিতি অর্জুনদের চুঁচুড়ার বাড়ি গেল। এবং গিয়ে একাধারে মুগ্ধ এবং বিষণ্ণ হয়ে গেল। তিতি একটু অদ্ভুত। অর্জুনও অদ্ভুত কিন্তু তিতি আরও অদ্ভুত। সে যখন তার আগেকার বন্ধুদের অর্থাৎ ওই এবং বিশ্বজিৎদের সঙ্গে থাকে তখন তিতি পাক্কা ফিরিঙ্গি। এই কলকাতার শতকরা পঞ্চাশ জন কলেজি তরুণীর মতো। পরিসংখ্যানটা অর্জুনের নিজের। ওরা নিজেদের মধ্যে এটাকে বলে ‘হাই—ফাই কালচার’, যদিচ কালচার বলে এর ভেতরে কিছু নেই বলে ওর মত। এ নিয়ে তিতির সঙ্গে তার ফাটাফাটি তর্ক হয়েছে এক সময়ে। অর্জুন বলে ‘যদি ব্যুৎপত্তিগত’ অর্থে ধরিস তাহলে এটা কালচার। কারণ এরা মাতৃভাষার সঙ্গে সঙ্গে মাতৃভূমির সব কিছু ত্যাগ করে মার্কিন জীবনযাত্রার ধন ”রপ্ত” করেছে। কালটিভেট করেছে অতএব—কালচার বলতে পারিস। নিজের দেশের বাতাসে শ্বাস নেয়। সরকারি টাকার অর্থাৎ ট্যাক্সপেয়ারদের টাকার মুণ্ডুপাত করে বড় বড় পড়াশুনো করে, তারপর প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকে বিলেত—আমেরিকায় উড়ে যাবার। সেখানে গিয়ে এদের শতকরা নিরানব্বুইজন পাত্তা পায় না। কোনওরকমে চাকরিটা সেরে নিজেরা যে দেশি কলোনি গড়েছে সেইখানে শামিল হয়। একটাও বিলিতি বা আমেরিকান লোকের সঙ্গে মেলামেশা করে না। বাইরে থেকে তাদের অনুকরণ করে আর যে সংস্কৃতি এখানে ময়লা কাপড়ের মতো ত্যাগ করে গেছে সেই সংস্কৃতির বহিরঙ্গ ওইখানে প্রতিষ্ঠিত করবার হাস্যকর চেষ্টা করে যায়। দুর্গাপুজো, সরস্বতীপুজো, জলসা।

     

     

    তিতি বলে—’তুইও বাইরে থেকে দেখে বিচার করছিস। সুতরাং অবিচার করছিস। যারা বাইরে যায় শুধু আরাম আর ডলার রোজগারের জন্যে যায় না। কাজ করবার জন্যেও যায়। এখানে কাজ করবার পরিবেশ আছে? জানিস আমার জারতুত দাদা দিব্যদা ইলেকট্রিক্যাল এঞ্জিনিয়ার। কোলাঘাটে আছে। বলে ইউনিয়নের ঠ্যালায় কাজ—কর্ম করাই দায়। দুর্নীতির চোটে হাত—পা বাঁধা জগন্নাথ হয়ে থাকো।

    —’ওকে ঠুঁটো জগন্নাথ বলে’ অর্জুন সংশোধন করে দেয়।

    ‘বেশ ঠুঁটো জগন্নাথ। তা হলে? কাজের জন্যে লোকে বিদেশে যাবে না কেন? সব প্রতিভা এখানে অপচয় করতে হবে? না কি? খোরানা, কি নারলিকর এখানে বেরোল?’

    —’তুই সরকারি সংস্থার কথা বললি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কি এদেশে নেই? গবেষণাগার কি এদেশে নেই?’

     

     

    —’আছে। থাকবে না কেন? সেখানেও কি অসুস্থ প্রতিযোগিতা নেই ভাবছিস? প্রফেশন্যাল জেলাসি, ক্লিকবাজি এসব সর্বত্র আছে।’

    —’বিলেত দেশটাও মাটিরই রে! বহুদিন আগেই এক ভদ্রমহিলা এ কথা বলে গেছেন। এখন তো তাড়িয়ে দিচ্ছে। নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশে যারা সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন হয়ে আজীবন কাটায় তাদের আমি ধিক্কারই দেব। আর কিছু আমার মুখ দিয়ে বেরোবে না।’

    —’দিস। ধিক্কারই দিস। কিন্তু জেনে রাখিস তারা সবাই অবজ্ঞার পাত্র নয়, করুণার পাত্র বরং। দিব্যদার এক বন্ধুর কথা জানি, ফৈজাবাদে ওয়ার্কাস ম্যানেজার না কী হয়ে গিয়েছিল। সে অঞ্চলের লোকেদের অত্যাচারে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। বাংলো ঘেরাও করে ফেলেছিল মারবে বলে। অপরাধ কী? না কোম্পানির উন্নতির জন্যে কতকগুলো মেজার নিতে আরম্ভ করেছিল। ম্যানেজিং কমিটিই সেটা পাস করে দেয়। ইউনিয়ন লিডাররাও তখনকার মতো সায় দেয়। তারপর ওই ব্যাপার। ইউনিয়ন লিডারগুলো দু পক্ষেরই খায়।

    ‘বঙ্গালি মনজারকো হঠাও’—এই স্লোগান দিয়েছিল। তা এই তো নিজের দেশের নাগরিকত্ব!’

    তিতি সেবার জিতে যায়। অর্জুন তাতে কিছু মনে করে না। তিতি মেয়ে বলেই তাকে হেরে যেতে হবে এতোটা পৌরুষাভিমান নেই তার। কিন্তু ‘বা বা ব্ল্যাকশিপ’ দিয়ে পড়ুয়া জীবন—শুরু করা বাচ্চাদের বাবা—মাদের ওপর তার কোনও শ্রদ্ধা নেই। সে তিতি যতই বলুক। তিতি বলে—’ইংরিজিটা জানা না থাকলে কাজকর্ম পেতে অসুবিধে হচ্ছে। বিয়ে—টিয়ে হতেও অসুবিধে হচ্ছে, এটা ঘটনা। বলতে পারিস দাসত্বের উদগার…’

    এইখানে আবার অর্জুন তাকে সংশোধন করে দেয়—’দাসত্বের উদগারটা আবার কী? গুরুভোজন হয়ে গেলে উদগার বা ঢেকুর ওঠে। কিন্তু গুরুভোজনটা একটা বিলাস। দাসত্বের অভিজ্ঞতা থেকে উদগারটা ঠিক—বুঝতে পারছিস জুতসই হচ্ছে না! বরং দীর্ঘস্থায়ী দাসত্বের অভ্যাস, অভ্যাসই বল।’

     

     

    —’ঠিক আছে বাবা তুই বাংলা ভাল জানিস, তুই যা বলবি আমায় মেনে নিতে হবে। কথার মাঝখানে কথা বলায় তিতি একটু অসন্তুষ্ট।

    অর্জুনকে তখন বোঝাতে হয়—’দ্যাখ তিতি, তোর সঙ্গে আমার ভদ্রতার, ভব্যতার সম্পর্ক নয়। দুজনেই আমরা বেড়ে উঠছি। তোর ভুল আমি আমার ভুল তুই যদি শুধরে দেওয়া—দেওয়ি না করি তো দুজনেই অসম্পূর্ণ হয়ে থাকব। সেটা কী ভাল?’

    তিতির মুখ তবুও গোমড়া।

    —’আচ্ছা তোকে একটা উদাহরণ দিচ্ছি, স্বস্ত্যয়ন বানানটা বল তো!’ তিতির বানান ভুল হল। সে গোমড়া মুখে বলল, ‘জানি না তো কী করব!’

    —’ঠিক আছে! জানিস না। হেমারেজ বানান বল তো?’ তিতির বানান আবার ভুল হল, সে লজ্জা পেয়ে বলল—’ইস কথাটা তো যখন—তখন ব্যবহার করি, অথচ বানানটা বলতে পারলাম না, এ মা!’

    অর্জুন বিজয়ীর হাসি হেসে বলল—’বানান এক আধটা ওরকম ভুল হতেই পারে, ওটা কোনও ব্যাপার না, কিন্তু মাতৃভাষার বহুব্যবহৃত শব্দটা যখন ভুল করলি তোর প্রতিক্রিয়া হল—জানি না, তো কী করব!’ আর ওই ইংরেজি হয়ে যাওয়া ক্ল্যাসিক্যাল শব্দটা ভুল করে তুই লজ্জা পেলি, বললি এ মা! —এর মানে কী? কী দাঁড়ায়? তু—ই বল! আমরা এখনও পরাধীনই আছি। গোলাম। সর্ব বিষয়ে। শুধু বাক—স্বাধীনতাটাই একমাত্র স্বাধীনতা, যা আমরা অর্জন করতে পেরেছি। কথার ওপর কেউ ট্যাক্স বসাতে পারছে না।’ বলে অর্জুন হাসতে থাকে। তিতি ভাবিত। তিতি এই পর্বে হেরে গেছে। কিন্তু সে মনে করছে না কিছু।

    তিতি অদ্ভুত। চুঁচড়োয় অর্জুনদের বাড়ি গিয়ে সে আনন্দে একবারে আত্মহারা হয়ে গেল। ‘খড়খড়ি খড়খড়ি! গরাদ—দেওয়া জানলা! ফ্যানটাসটিক!’

     

     

    প্রথমে গিয়ে দাঁড়াল বাগান পেরিয়ে তিন চার ধাপ উঠে কাঠের বিরাট দরজা খুলে ভেতরের প্রশস্ত দালানে যার এক দিকে ঠাকুর দালান, অন্য দিক দিয়ে কাঠের সিঁড়ি উঠে গেছে। সিঁড়ি বেয়ে নেমে এসেছিলেন অর্জুনের মা। ধবধবে ফর্সা। একটু মোটাসোটা। কাঁচা পাকা চুল। কালোপাড় সাদা শাড়ি। খালি পা। তিতি প্রণাম করল। অর্জুনের মা বললেন—’এই তোর প্রতীতি?’

    অর্জুন গম্ভীরভাবে বলল—’আমার প্রতীতি আমার নিজের কাছেই আছে মা, ও বরং তোমারই প্রতীতি, দেখো তোমার তনু—বোনের সঙ্গে মিল পাও কি না!’

    —’প্রতীতি, তোমার মা তনু আমার আপন পিসতুত বোন ছিল জানো তো? খুব মামার বাড়ি আসত। কী খেলতুম আমরা! রান্নাবাটি! পুতুল!’

    সেই সময়ে তিতি বলে উঠেছিল ‘খড়খড়ি! খড়খড়ি! গরাদ!’ বলেই দু—সিঁড়ি টপকে টপকে ছুট। সিঁড়ির বড় চাতালটায় পৌঁছে বোধহয় তার খেয়াল হয় সে মুখ ফিরিয়ে বলে—’মাসি আমি ওপরে আসতে পারি তো?’

    —’নিশ্চয়ই!’ মৃদু হেসে বললেন অর্জুনের মা।

    আসলে সিঁড়ির সেই বড় চাতালেই একটা পেল্লাই জানলা ছিল। সেটা দিয়ে পেছনের বাগান দেখা যায়। এই বাগানের পেছনে গঙ্গা। সেটাই ছিল তিতির আহ্লাদের কারণ। জানলায় প্রশস্ত ধাপ ছিল। সেই ধাপের ওপর বসে পড়ে সে দুটো গরাদের মধ্যে নিজের মুখটা চেপে ধরেছিল, আরও দুটো গরাদ হাত দিয়ে ধরে। বলেছিল—’জানিস অর্জাই, যেখানে যাব খালি গ্রিল গ্রিল গ্রিল, আমার প্রাণটা হাঁপিয়ে ওঠে। আজ কতদিন পর গরাদ দেখলাম! গরাদে মুখ রাখলাম।’

    অর্জুন বলল—’তিমি তোর মুখ ডোরা কাটা হয়ে গেছে।’

    অর্জুনের মা খুব লজ্জিত হয়ে বললেন—’এত জানলা, দরজা এ বাড়িতে যে নিয়মিত ঝাড়া—মোছা করতে পারি না, ইস প্রতীতি তোমার মুখটা কী হয়েছে!’

    —’মাসি আমাকে তিতি বলো। এই শাটারগুলো খোলা যায়?’

    —’কেন যাবে না? তবে খুব ধুলো।’

    —’আমি একটু এগুলো ফাঁক করব? ফাঁক করে করে দেখব? ভেঙে যাবে না তো?’

    —’না না ভাঙবে না, ও—সব খুব শক্ত।’

    তিতি খড়খড়ি ফাঁক করে দেখতে লাগল, বন্ধ করে দেয়, আবার খোলে।’

    অর্জুন এই সময়ে বলে ওঠে—’ওপরে চল, এক জানলা থেকে আরেক জানলায় ছুটে যাবার সুযোগ পাবি, তবে অপেরা—গ্লাস—টলাস কি বাইনোকুলার আমার কাছে নেই আগে থেকেই বলে দিচ্ছি।’

    —’কেন অপেরা গ্লাস কী হবে?’

    —’না হলে চারুলতার ছবিটা ঠিক সম্পূর্ণ হচ্ছে না, হচ্ছে কি?’

    খড়খড়িগুলো তখনকার মতো বন্ধ করে দিয়েছিল তিতি। গম্ভীর মুখে বলেছিল—’তোর অনেক গুণ অর্জুন, কিন্তু এই এক দোষে সব নষ্ট।’

     

     

    —’গুণগুলোর কথা ভাল করে জানি না। বলছিস অনেক, তাই জিজ্ঞেস করছি না এখন, বড্ড সময় যাবে। কিন্তু একটা দোষ বলছিস, দোষটা কী জানতে পারি!’ অর্জুন হেসে জিজ্ঞাসা করে।

    —’সিনিসিজম। এক ঘড়ি গঙ্গাজলে এক ফোঁটা ইয়ে…।’

    ”ঘড়ি” নয় রে ”ঘড়া” এক ফোঁটা ইয়ে নয় ”চোনা”, চোনা মানে গরুর হিসি। খুব পবিত্র জিনিস।’

    অর্জুনের মা ধমক দিয়ে উঠেছিলেন এই সময়ে—’আঃ কী হচ্ছে টুটুল!’

    —’ওহ জননী। তিতি কি তোমাদের সময়ের মেয়ে যে হিসি শুনলে মুচ্ছো যাবে? ওরা যে সব ইংরিজি স্ল্যাং জানে তা শুনলে আমি সুদ্ধু লাল হয়ে যেতে পারি। তা জানো?’

    —’আচ্ছা অনেক জ্ঞান দেখিয়েছিস তুই। তিতি আয় ওপরে, আগে মুখ ধুয়ে নিবি।’

    যে মুহূর্তে ‘তিতি আয়’ বলে ডাকলেন অর্জুনের মা, সেই মুহূর্তে তিতি এক ছুটে গিয়ে তাঁর কোমর জড়িয়ে ধরল, ময়লা মুখটা তাঁর কাঁধের ওপর রেখে ঘসতে লাগল। কে জানে কাঁদছে কি না!

    অর্জুন বলল—’অবিকল কুকুরের মতো করছিস।’

    —’বল—বলে যা, অপমানিত হচ্ছি না। ডগস আর নোবল অ্যানিমলস।’

    —’আমি তো শুনেছিলাম ঘোড়া, ঘোড়াদের সম্পর্কে এটা বলা হয়ে থাকে, এক কবি তো ঘোড়া হবার প্রার্থনাই জানিয়েছেন।’

    ”মানবজীবন খোঁড়া করে প্রভু ঘোড়া করো ভগবান।

    অবশ্য, ‘বেতো ঘোড়া নয়—ছ্যাকড়া টানিয়া আবার যাইবে প্রাণ।”

    —’তোদের ঝগড়া থামাবি?’ অর্জুনের মা বললেন।

    —’তাহলে ”তিতি আয়”—টা আবার বলো মাসি! তিতির সকাতর প্রার্থনা!

    অর্জুনের মা আবারও বললেন অতএব,—হেসে—’আয় তিতি, মুখ ধুয়ে নিবি আয়।’

    এবার অর্জুনকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে মাসির সঙ্গে ওপরে উঠে গেল তিতি। ওপরে দুই কাকিমা ততক্ষণে গা ধুয়ে বেরিয়েছেন। সামান্য আগে—পরে বেরিয়ে এলেন দুজনে ঘর থেকে। মেজ কাকিমা, অর্জুনের মায়ের থেকেও কিছু বড়। সিনিয়র কেমব্রিজ পাশ। খুব কেতাদুরস্ত। লম্বা মানুষ, সাদা কালো পাড় শাড়ি কুঁচি দিয়ে পরেছেন। কাঁধে রুপোর ব্রুচ। চুলটাকে তুলে একটা অদ্ভুত কায়দায় বাঁধা। ঠোঁটের ওপর একটা আঁচিল। তিনিই তাঁর টয়লেটে নিয়ে গেলেন তিতিকে। ছোটজনও অর্জুনের মার থেকে সামান্য কয়েকমাসের ছোট। তিনি একটা নীল নকশাপাড় টাঙ্গাইল শাড়ি কুঁচি দিয়ে পরেছিলেন। ইনিও ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে এসেছিলেন, বেশ ধনী ঘরের মেয়ে, অহঙ্কার আছে বনেদিয়ানার। বাপের বাড়ির লোকেদের প্রসঙ্গ উঠলেই ফুলে ফুলে ওঠেন। কিন্তু এ সবই বাহ্য। ভেতরে ভেতরে তিনজনেই করুণ বিধবা। অর্জুন বড় হতে হতে বিধবায় পর্যবসিত হয়েছেন সবাই। ঠিক পর পর, স্ব স্ব স্বামীর বয়ঃক্রম অনুযায়ী। প্রথমে গেলেন অর্জুনের বাবা। নেফ্রাইটিস। তারপর অর্জুনের মেজকাকা, ওই একই রোগ ধরা পড়ল। কিছু খেতে দেওয়া হত না। সব বারণ। মেজকাকা খ্যাংরা কাঠির মতো রোগা হয়ে গিয়েছিলেন। ঢলঢল করত কোট, প্যান্ট। তারপর একবার বেড়াতে গেলেন, মুসৌরি—দেরাদুন। মেজকাকি একা ফিরলেন। হয়তো কাকা কিছু অত্যাচার—অনিয়ম করে ফেলেছিলেন। হয়তো উপলব্ধি করেছিলেন এ ভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে একদিন জীবনটা ভোগ করে মরে যাওয়াও ভাল। অর্জুন জানে না। ছোটকাকা মেজকাকার বিয়ে হয়েছিল একই দিনে। মেজকাকা মারা যাবার পর ছোটকাকা নিজের থেকেই সাবধান হয়ে গেলেন। প্রোটিন খাওয়া কমিয়ে দিলেন। টাকাপয়সা, সম্পত্তি সব গুছিয়ে বিলিব্যবস্থা করে বউদিকে, স্ত্রীকে বুঝিয়ে দিতে লাগলেন। অর্জুন যে বছর ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠল, ছোটকাকা তাকে বয়ঃপ্রাপ্ত পুত্রের মতো বোঝাতে লাগলেন শেয়ার, ডিবেঞ্চার, ফিক্সড ডিপজিট, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, সেভিংস। নাইনে পড়তে পড়তেই ছোটকাকার রোগ ধরা পড়ল—নেফ্রাইটিস। তিনজনের নামে সব কিছু ট্রান্সফার করলেন ছোটকাকা। অনেকানেক সম্পত্তি বিক্রি হয়ে গেল। সে সব বোঝালেন অর্জুনকে। তারপর এক সকালে বেশি রোগা হবার আগেই মারা গেলেন।

     

     

    ‘তোদের বাড়িটা অদ্ভুত।’ শুনে করুণ, বিষণ্ণ স্বরে বলেছিল তিতি।

    ‘পৃথিবীটাই অদ্ভুত, জীবনটাও অদ্ভুত।’ এটা তোর মনে হয় না কখনও তিতি?

    —’অদ্ভুত? পৃথিবীটা? জীবনটা? কেন?’

    —’দ্যাখ সামগ্রিকভাবে বোঝবার চেষ্টা কর। দেখবার চেষ্টা কর। কোনও কিছুর কোনও মানে নেই। মানুষ জন্মাচ্ছে, বড় হচ্ছে, কত কি তার জল্পনা—কল্পনা, কত আয়োজন, তারপরে মরে যাচ্ছে, আবার তার পরের প্রজন্ম, পরের প্রজন্ম। গাছ হচ্ছে, ফুল ফুটছে। ফল পাকছে, আবার গাছ, আবার ফুল আবার ফল।’

    —’এ তো তুই আউটলাইনটা দেখছিস। ভেতরটা মানুষ কী দিয়ে ভরাট করছে দ্যাখ, কত সাহিত্য, শিল্প, ইন্ডাস্ট্রি, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, চিন্তা দর্শন।’

    —’তো কী? কী হল? সমস্ত কিছুরই যোগফল শূন্য।’

    —’শূন্য কেন হবে? শেষে মৃত্যু আছে বলে বলছিস? মৃত্যু যদি না থাকত তা হলেই কি জীবনটা অর্থময় হয়ে উঠত?’

    —’না, তা—ও নয়। বিজ্ঞানীরা যদি কোনওদিন মৃত্যুকে জয় করবার ফর্মুলাও আবিষ্কার করেন, যদি কৃত্রিম উপায়ে প্রাণের জন্ম দিতে পারেন, তবুও, তবুও সব শূন্য। তিতি পৃথিবীর সঙ্গে, পৃথিবী একটা কংক্রিট ব্যাপার, আর জীবন, জীবনটা একটা অ্যাবস্ট্রাক্ট জিনিস, এ দুটোর কোনওটাকেই আমরা নিয়ন্ত্রণও করতে পারি না, এদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগও স্থাপন করতে পারি না। কোনওদিন পারব না। পাহাড়, পর্বত, নদী, জঙ্গল, এরা কেন, তার ভৌগোলিক, বৈজ্ঞানিক কারণটা নির্ণয় করতে পারি। কিন্তু এদের সঙ্গে কম্যুনিকেট করতে পারি না।’

    —’কী করে কম্যুনিকেট করবি? এগুলো তো জড়?’

    —’জড়? জড় কি না—তাও জানি না। জড় একটা কনসেপ্ট। সেই কনসেপ্টটা দিয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে তুই ভাব। জীবনের বা জড়ের ধারণাটা আমাদের একটা ধারণা। জাস্ট ধারণা। দীর্ঘদিন ধরে ভেবে এসেছি বলে তার বাইরে ভাবতে পারি না। কিন্তু যতদিন এই সমস্ত পাহাড় পর্বত নদী নালা জঙ্গল স্পেস, এই সবের সঙ্গে কম্যুনিকেট করতে না পারছি ততদিন শূন্যতা, ব্যর্থতাই আমাদের নিয়তি। যান্ত্রিকভাবে বেঁচে যাচ্ছি, একটা প্রোগ্র্যামিং করা আছে শরীরের মধ্যে, মনের মধ্যে, সেইটের নিয়ম অনুযায়ী। যতই কবিতা লিখি, আর ছবি আঁকি, আর আবিষ্কার করি। কোনও মানে নেই। মানে নেই কিচ্ছুর।’

    তিতি বলল—’কী অদ্ভুত নেগেটিভ চিন্তা তোর! তুই কি কোনও ফিলসফির বই—টই পড়ে এভাবে ভাবতে শিখেছিস?’

    ‘না, না জীবনই এভাবে ভাবতে শিখিয়েছে আমাকে। সেই অ্যাকস্ট্রাক্ট সোর্স, জীবন। বিমূর্ত শক্তি। আমার বাবা আর কাকারাও এটা বুঝে গিয়েছিলেন, বিশেষত দুই কাকা। এ বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ। বাবা অতটা বোঝাবার সময় পাননি। কিন্তু কাকাদের আগে ছিল এরকম অর্থহীন মৃত্যু, পেছনে ছিল অর্থহীন জীবন। ওঁরা বুঝেছিলেন। আমি মেজকাকার, ছোটকাকার মুখের ভাব এখনও দেখতে পাই। একদম ভাবলেশহীন পাথরের মুখের মতো। তৃষ্ণা নেই। বিতৃষ্ণা নেই। ভয় নেই, ভরসাও নেই। সবটাই শূন্য। সবটা একটা বিরাট ফাঁকি, বুঝেও সেই চেক, শেয়ার অ্যাকাউন্টস বুঝিয়ে যাওয়া সমানে আমাকে, মাকে, মেজকাকিমা, ছোটকাকিমাকে। সে যে কী অদ্ভুত গা—ছমছমে ব্যাপার, তুই, তোকে ঠিক বোঝাতে পারছি না।

    ”চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে?

    কী যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে কভু আশীবিষে দংশেনি যারে?”

    তিতি, কবিতাটা বললাম বটে, কিন্তু আমি ঠিক ব্যথিত বেদনের কথা যাতনার কথা বলতে চাইনি। বেদনা, যাতনা দিয়ে আমার অনুভূতি আমি বোঝাতে পারব না। আমি বোঝাতে চাই জীবন আর মৃত্যুর মধ্যে যেমন একটা দুস্তর ফারাক, যে বুঝেছে আর যে বোঝেনি তাদের মধ্যে ওইরকমই দুস্তর পার্থক্য। শূন্যতার আশীবিষে দংশন করেছে আমাকে। যে শূন্যতা সমস্ত কিছুর বাইরে নিঃশব্দ ধৈর্যে অপেক্ষা করে আছে।’

    তিতি বলল—’মাসিরা? মাসিরাও কি এভাবে ভাবেন?’

    —’মাসিরা? কুন্তী, মাদ্রী আর গান্ধারী?’

    —’কেন এইসব মহাভারতের নামে মাসিদের ডাকছিস কেন?’

    অর্জুন বলল—’এই যে আমি অর্জুন, অর্জুনের ওপরেই সমস্ত ভরসা ন্যস্ত করে সব কষ্ট হাসিমুখে সহ্য করে যাচ্ছে। সব বিলুপ্ত। কোনওদিন ফিরবে না, বংশের সেই গৌরব সেই ধনসম্পদ সব ফিরিয়ে আনবে তাঁর অর্জুন, এইরকম একটা মানসিকতা লালন করে চলেছেন বলে জ্যেষ্ঠা মুখুজ্জে—গিন্নি কুন্তী। আর মেজকাকিকে কেন মাদ্রী ডাকি জানিস? আমার ধারণা মেজকাকিই মেজকাকার মৃত্যুর প্রত্যক্ষ কারণ।

    —’সে আবার কী?’

    ‘হ্যাঁ, দা, হ্যাপলেস মার্ডারেস। তোর মনে আছে মেজকাকার মুসৌরি যাবার কথা বলেছিলাম!

    —’হ্যাঁ হ্যাঁ, সেখান থেকেই তো আর ফিরলেন না।’

    —আমরা সকলেই ভেবেছিলাম অত্যাচার—অনিয়ম। ঠিকই ভেবেছিলাম। কাকা এবং কাকিমার দুজনেরই হয়তো মনে হয়েছিল একদিনের জন্যে হলেও বেঁচে নিই। অত্যাচার—অনিয়মের প্রকৃতিটা কী হতে পারে বলে তোর মনে হয়? মেজকাকার মাঝরাত্তিরে হঠাৎ হার্ট ফেল করেছিল। প্রোটিনহীন ডায়েট। দিনের পর দিন সুদ্ধু দুধ—ভাত। দুধ ভাত, দুধ—ভাত খেতেন। কোনও শারীরিক উত্তেজনার বিদ্যুৎ সহ্য করবার মতো ক্ষমতাই ছিল না মেজকাকার। মেজকাকি জানত। দুজনে প্ল্যান করেই গিয়েছিল। ফিরে এল ধ্বধবে সাদা থান পরে। ওখানেই শেষকৃত্য করে। জানত সব শেষ করতেই যাচ্ছে। কে জানে থানটাও হয়তো সঙ্গে নিয়েই গিয়েছিল।’

    তিতি শিউরে উঠে বলল—’কী বলছিস, চুপ কর অর্জাই?’

    —’না রে, হয়ত মেজকাকা—কাকি একটা সন্তানের জন্য শেষ চেষ্টা করেছিল মুসৌরী—পাহাড়ে। একটা নকুল বা সহদেব। কিংবা ভাগ্যে থাকলে উভয়েই। ভাগ্য হল না। মেজকাকাকে আমি বলি বীরপুরুষ, মেজকাকিকে বীরাঙ্গনা। দেখে, ভেবে বিস্ময় লাগে, বড় বিস্ময়।’

    এই সব কথা হচ্ছিল অর্জুনদের বাগানে বসে। বাগানে বড় বড় গাছ। নীচেটা ঝোপে—ঝাড়ে ভর্তি, কাঠ পিঁপড়ে আছে, কাঠবেড়ালি আছে। মেঠো ইঁদুর—টিঁদুরও আছে। কোথাও কোনও শ্রী—ছাঁদ নেই। আর আছে বাঁধানো চত্বর। পাড়ে বেঞ্চ। বসলে গঙ্গা দেখা যায় অদূরে। এই সব কারণেই তিতির বাগানটা ভীষণ ভাল লেগেছে। এটা বাড়ির পেছনে। সামনে যেটুকু আছে সেখানে কিছুটা ঝাঁট পড়ে। ঘাস খুব বড় হয়ে গেলে বা লতার ঝাড় খুব ঝাঁপালো হয়ে গেলে লোক এনে কাটানো হয়। কিছু কিছু পুষ্পচর্চাও করেন মা—কাকিরা। কসমস, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা আছে। মাঝারি আকারের। গ্রীষ্মের ফুলগাছ আছে অনেক। কিন্তু পেছন দিকে সেই সব প্রাচীন গাছ—গাছালি যা হয়ত অর্জুনের প্রপিতামহ করে গিয়েছিলেন। সেই আদি বকুল, জামরুল, আম, ডালিম, বলরামচূড়া, সেই কলকে, দোলন চাঁপা। বাগানটার ওপর তিতির ঝোঁক দেখে অর্জুনের মা আবারও লজ্জিত হয়ে বললেন—’দ্যাখো না, অতখানি জায়গা—একটা মালি পাওয়া যায় না, কিছু না। বছরে একবার পুজোর আগে একটু পরিষ্কার করাই…।’

    অর্জুন বলল—’মালি পাওয়া যায় না বলছ কেন মা। সোজাসুজি বলো রাখতে পারি না। অত আবার ঢাক—ঢাক কিসের?’

    তিতি অর্জুনের কথায় কোনও কান না দিয়ে ব্যস্ত হয়ে বলল—’মাসি, বাগানটা কিছু কোরো না। প্লিজ এমনিই থাক। কেয়ারি—করা ফুলের বেড, গাদা গুচ্ছের সিজন—ফ্লাওয়ার, কৃত্রিম পুকুরে শালুক…

    —’ওহ হরিবল..আমার দুচোখের বিষ।’

    মাসি অবাক হয়ে বললেন—’অদ্ভুত মেয়ে তো তুমি। সাজানো বাগান তোমার ভাল লাগে না?’

    —’উহুঃ, সাজানো বাগান, সাজানো ঘর, সাজানো মানুষ, সাজানো জীবন, সাজানো কিছু না কিছু না।’

    —’সাজানো জীবনও না?’ মাসি কেমন করুণ গলায় বললেন, বলে চলে গেলেন।

    —’মাসির মনে কি কষ্ট দিলাম?’ তিতি একটু অপ্রস্তুত হয়ে জিজ্ঞেস করল। অর্জুন বললেন—’নাঃ। মা তো সাজানো জীবন পেয়েছিল, চেয়েছিল। তাই হয়ত খুব অবাক হয়ে গেছে।’

    —’কিন্তু আমি সত্যি বলছি রে অর্জাই আমার সাজানো কিছু, মানে প্ল্যানড জিনিস ভাল লাগে না। অসহ্য লাগে। এম. এ. পাশ করব। বিয়ে হবে। মাপামাপি দুটো ছেলে মেয়ে হবে। বছরে একবার কি দুবার বেড়াতে যাব। ছেলেমেদের স্কুলে ভর্তির জন্য ছুটোছুটি করব, পড়তে বসাব, তারা বড় হবে…উঃ।’

    —’তোর এমন কেন হবে?’ অর্জুন বলল। ‘তোর এম. এ পর্যন্ত পড়তে ইচ্ছে না হলে পড়বি না। প্রিন্স—টিন্স জাতীয় লোকের সঙ্গে মহা ধুমধাম করে বিয়ে হবে। একটা বাচ্চা হবে, আরেকটা দেখে—শুনে অ্যাডপ্ট করবি। বছরে একবার কেন, একশোবার বেড়াতে যাবি, বাইরে, মানে সমুদ্র পার। …আর তোর ছেলে মেয়ের স্কুল? বি.বি রায়ের নাতি—নাতনির খুব সম্ভব ইংল্যান্ডেই স্কুলিং হবে। তাদের ভেকেশনের সময় তুই একলা একলা উড়ে যাবি। তোর প্রিন্স—বর ব্যস্ত থাকবে তো?

    —’তারপর সিনিক দা গ্রেট?’ তিতি মুখে খুব তেতো হাসি ফুটিয়ে বলল। অর্জুন বলল—’তারপর আবার কী? চক্রবৎ ঘুরতে থাকবে সব। এক সময়ে ফুটে যাবি। প্রচুর মালা—ফালা দিয়ে নিমতলায় নিয়ে যাবে। তোর নাতিপুতি ঘটা করে শ্রাদ্ধ করতে করতে মনে মনে বলবে—’বুড়ি অ্যাদ্দিনে কাটল।’

    তিতি বলল—’আজ্ঞে না।’

    —’কোনটা না?’

    —’কোনওটাই না। লাইফ হবে আনপ্রেডিকটেবল। এইরকম ছকের জীবন তোর হোক, আমার নয়।’

    —’আমার ছক গোড়াতেই উল্টে গেছে। তো সে কথা থাক। তোর লাইফ কী রকম হবে? শুনি?’

    —’বললাম তো আনপ্রেডিকটেবল। আগে থেকে কিছু বলা যাবে না। ধর আজ—কাল—পরশুর মধ্যেই একটা হলিডে—করতে আসা ফরাসি কি বেলজিয়াম কি নরওয়েজিয়ানের সঙ্গে ভাব হয়ে গেল। ধর মাস তিনেকের মধ্যে তাকে বিয়ে করে ফেললুম। তারপর চলে গেলুম তার সঙ্গে প্যারিস, কি ব্রাসেলস কি অসলো। লোকটা আসলে চিট, আন্ডার গ্র্যাজুয়েট লেভেলেই একটা বিয়ে করে রেখেছিল। একদিন সেই মেয়েটা এসে ধুন্ধুমার ঝগড়া করল। সাহেবটাকে ছেড়ে সেই মেয়েটার সঙ্গে বাস করতে লাগলুম…’

    —’থাম থাম, তুই একটা আস্ত পাগল। কোনও ম্যাচিওরিটিই হয়নি। বার্বারা কার্টল্যান্ড পড়ে পড়ে বড় হয়েছিস না কি?’

    —’বারবারা কার্টল্যান্ডে তো গরিব সুন্দরী মেয়েরা দারুণ জমকালো সব রাজপুত্তুর, কর্নেল—ফর্নেলের সঙ্গে প্রেম করে, তাদের অবস্থা ফিরে যায়।

    —’তাই বুঝি। আমি কখনও পড়ে দেখি নি। তা তুই কি উল্টোরকম চাইছিস?’

    —’না ধর’ এখন তিতি উত্তেজিত হয়ে গেছে, ‘ধর। আমার বাবাই বিয়ে দিল। তারপর কয়েকদিন, কি মাস, কি বছর পরে বরটা দুম করে মরে গেল। কিংবা ধর বাচ্চাটা হারিয়ে গেল।…’

    —’ঠিক আছে, ঠিক আছে বুঝে নিয়েছি, আর বলতে হবে না’…অর্জুন বলল।

    —’কী বুঝলি?’

    —’বারবারা কার্টল্যান্ড নয়। তুই হিন্দি ফিলম দেখে বড় হয়েছিস। তোর বাচ্চাটা হারিয়ে গেলে কী হয়, অবিকল তোর বরের মতো দেখতে হবে। একদিন তোর বাড়িতে ডাকাতি করতে আসবে। দেখেই চিনতে পারবি ”মেরা লাল, মেরা লাল” করে কেঁদে দুনিয়া ভাসিয়ে দিবি—এইরকম ডাবল রোল খুব চলে।

    —’ধুস—আমি হিন্দি ছবি দেখিই না।’ তিতি ঠোঁট বেঁকিয়ে বলে।

    —’দিবারাত্র দেখাচ্ছে। তোর ঘরে বসে দেখতে পাচ্ছিস। দেখি না বললেই বিশ্বাস করব?’

    —’করিস না,’ তিতি বলল, ‘আসলে আমার কিছু ভাল লাগে না। সব কিছু এত একঘেয়ে, বিরক্তিকর। এমন নয় যে আমি সব সময়ে খুব উত্তেজনা চাইছি। একেবারেই না। কিন্তু আমার পরিচয় কী? চারপাশে যা যা ঘটে যাচ্ছে সেই রুটিন ঘটনা প্রবাহের মধ্যে আমার বিশেষ কী কাজ? আমি কেন? নাঃ আমি ঠিক বোঝাতে পারছি না। …তিতি থেমে গেল। অর্জুন বলল,

    —’তা, তোরও তো আমারই মতে অবস্থা।’

    —’না। তোর মতো নয়।’ তিতি প্রতিবাদ করে উঠল, ‘তোর থেকে আমি কিছু গ্রহণ করতে পারি, কিন্তু আমার ভেতরে যে মৌলিক খিদেটা আছে সেটা অন্য, অন্যরকম।’

    অর্জুন বলল—’তাহলে আর কিছুই না, তুই একধরনের রোম্যান্টিক।’

    —’দ্যাখ অর্জাই। লেবেল সাঁটাটা বন্ধ কর। একটু আগেই বলছিলি না—জড় একটা কনসেপ্ট। ওইভাবে ভেবে আসছি, তাই ভাবি। যে একথা বলে সে আবার কোন মুখে লেবেল নিয়ে আঠা হাতে ঘোরে রে?’

    ‘ঠিক আছে। আঠা ফেলে দিচ্ছি। লেবেলগুলো এই কুচি কুচি করলাম। আমার আত্মখণ্ডনদোষ দেখিয়ে দেবার জন্যে ধন্যবাদ।’

    ছোটকাকি নিজের ঘরের জানলায় দাঁড়িয়ে ওদের ডাকলেন। ওরা উঠে পড়ল। চা খাবার সময় হয়েছে। খিড়কি দরজার কাছাকাছি এসে তিতি চুপি চুপি বলল—’একদম ভুলে গিয়েছিলাম। ছোটকাকিকে গান্ধারী বলিস কেন রে?’

    অর্জুন হেসে ফেলে বলল—’বলি প্রধানত দুজন কুন্তী—মাদ্রী হলে একজনকে গান্ধারী হতেই হয় বলে। তবে কোথাও কোথাও গান্ধারীর সঙ্গে মিল আছে। নিজের চোখ দুটো যেন বেঁধে রেখেছে। ছোটকাকা যা যা বলে দিয়েছে ঠিক তাই তাই করে যাচ্ছে। ছোটকাকা বলেছে পাড়—অলা শাড়ি পরবে, তাই পরে। ছোটকাকা বলে দিয়েছে মাছ খাবে, তাই মাছ খায়। ডিম—মাংস খায় না। ছোটকাকা বলে গেছে…নিজের অংশ অর্জুনকে লিখে দেবে। তো তাই দিয়ে রেখেছে। ছোটকাকার নির্দেশের অর্থ যে বৈধব্যের নিয়ম কানুন পালন না করা, সেটা কাকি বুঝতে পারেনি।’

    —’কিন্তু গান্ধারী তো এ রকম ছিলেন না। খুব ব্যক্তিত্বশালিনী ছিলেন। ধৃতরাষ্ট্রকে দুর্যোধনকে খুব বকা—ঝকা করতেন! কৃষ্ণকে শাপ দিয়েছিলেন।’

    —’হ্যাঁ হ্যাঁ আমার গান্ধারী তেমন নয়। কিন্তু ব্যক্তিত্ব আছে। সেটাকে ছোটকাকার ব্যক্তিত্বের তলায় ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে রেখেছে। ওইটুকুতেই কাকির গান্ধারীত্ব। বেশ কিছুদিন বাস করলেই টের পাবি।

    এখন তিতি দু নম্বর বাসের দোতলায় উঠছে। উঠছে বেশ মেপে মেপে। দৌড়ঝাঁপ করে নয়। অর্জুনও সুতরাং পেরে যাচ্ছে তার পেছন পেছন উঠতে। অর্জুনের ঘড়িতে এখন প্রায় আড়াইটে। দু নম্বরের দোতলা প্রায় ফাঁকাই। সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে বসল তিতি। পাশে অর্জুন বসে পড়ল। কেউই কিছু বলছে না। কিছুক্ষণ পর অর্জুন আর থাকতে পারল না। বলল—’বিজনেস ম্যাগনেটের মেয়ে যে কেন সরকারি বাসে চড়ে কলকেতা দেখতে যায় বুঝি না।’

    তিতি কিছু বলল না।

    —’বিজনেস ম্যাগনেট নিজে, অথবা তাঁর সমাজসেবিনী স্ত্রী, অথবা তাঁদের সাহেব যুবরাজ যদি দেখে ফেলেন মেম রাজকুমারী গরিব—গুরবো আত্মীয়র ছেলের সঙ্গে এক সিটে বসে সাত পায়েরও বেশি চলে যাচ্ছে, তবে কী হবে?’

    তিতি তখনও কিছু বলছে না।

    অর্জুন বলল—’বি. বি. রায় অবশ্য চিনতেই পারবেন না আত্মীয় বলে। শুধু দরিদ্র কুমার বলে উদ্বিগ্ন হবেন। আর সমাজসেবিনী তনুদেবী? তিনিও…তিনি চিনেও চিনবেন না। যেমন সাধারণত করে থাকেন। যেমন করাটা কেতা। আর প্রিন্স যুবরাজ!’

    এসব কথা অর্জুন প্রায়ই তিতিকে বলে। বি. বি. রায় তার বাবা যে আত্মীয়স্বজনদের কারও সঙ্গে মেলামেশা করেন না। কারুর জন্য কিছু করেন না। কনিষ্ঠ অঙ্গুলিটিও নাড়েন না কারও জন্য, এক কথা অর্জুন আগেও বলেছে। অর্জুনের বাবা যখন মারা গেলেন বি. বি. রায়—তনুশ্রী রায়ের নামে একটা অতিকায় সাদা পদ্মের রীদ এসেছিল। শ্রাদ্ধের দিনও এঁরা কেউ আসতে পারেননি। আর তার বাবার অসুখের খবর শুনে দীর্ঘদিন পরে তনুশ্রী রায় যে ‘গেট—ওয়েল’ কার্ডটা পাঠিয়েছিলেন, সেটা শ্রাদ্ধের দিনই এসে পৌঁছেছিল। তার দাদা যে কলকাতায় যাচ্ছেতাই সব জয়েন্টে যায়, এই বয়সেই সর্বক্ষণ ট্যাঁকে মেয়ে নিয়ে ঘোরে, তাদের কিছু কিছু যে অন্তত ভাড়া—করা বান্ধবী এ কথাও তিতি অর্জুনের কাছ থেকে শুনেছে। শুনেছে মুখ নিচু করে, কখনও প্রতিবাদ করেনি, কারুর সাফাই গাইবার চেষ্টা করেনি। এমনকি মায়ের পুরুষ—বন্ধু নিয়ে ঘোরার ব্যাপারটাও অর্জুন তাকে তার স্বভাবসুলভ ব্যঙ্গের সঙ্গে শুনিয়েছে। তিতি শুধু মায়ের ব্যাপারেই একবার মাত্র বলেছি—’নব্বুইয়ের কলকাতায় বসে পুরুষদের সঙ্গে মেলা—মেশা বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করছিস না কি?’

    উত্তরে অর্জুন বলেছিল—’দুর আমি অতটা অনাধুনিক না। তবে মিসেস রায় আবার বন্ধুদের বুকের ওপর ঘুমিয়ে পড়েন কিনা! আমি আবার মিউজিক কনফারেন্সে নিয়মিত যাবার নেশাটা করে ফেলেছি। তাই এ সব দৃশ্য দেখতে হয়।’

    তিতি আর কিছু বলেনি।

    অর্জুন আবার কিছু বলতে যাচ্ছিল। তিতি হঠাৎ মৃদুস্বরে বলে উঠল—’আমি কিন্তু তোমাকে ঠিক ডাকিনি অর্জুন!’

    —’তা হলে গোপা কেমিস্ট্রি ল্যাবের সামনে গিয়ে আওয়াজ মারছিল কেন?’

    —’আমার নির্দেশে নয়। তবে আমার একটা ক্ষীণ ধারণা হয়েছিল, একজন বন্ধুর সঙ্গ এই সময়ে আমার ভাল লাগবে। সহানুভূতি চাইছি না, কিন্তু সমালোচনাও চাইছি না। ভাল লাগছে না। তুমি নেমে যেতে পারো অর্জুন!’

    তিতি জিতে গেছে আজকে। অর্জুন একেবারে বোল্ড। ইয়র্কার ছিল বুঝতে পারেনি। সমানে ঝাঁটা টেনে যাচ্ছিল। টেনে যাচ্ছিল। এমন সময়ে ইয়র্কার। কিন্তু বোল্ড হয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল অর্জুন। —’তিতি, কী হয়েছে রে?’

    —’বি. বি. রায় আজ সাতদিন হল নিরুদ্দেশ। চিঠি নেই। পত্র নেই। কোথাও কোনও হদিশ নেই। শেষ রাত্তিরে দুটো সুটকেস নিয়ে বেরিয়ে গেছেন। দাদার ধারণা ওতে বহু টাকা ছিল, কোনও অ্যান্টি—সোশ্যাল গ্রুপ চেয়েছিল। টাকাটাও নিয়েছে, বাবাকেও…।’ তিতি ঘাড়টা সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমেয়েলি আড্ডার হালচাল – বাণী বসু
    Next Article পঞ্চম পুরুষ – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }