Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বৃত্তের বাইরে – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বৃত্তের বাইরে – ৯

    ।। ৯ ।।

    আজ রাতটা খুব ভাল ঘুমোলেন বিজন। কদিনের প্রচণ্ড খাটাখাটুনি শেষ। শমিতের ব্যাপারটার বেশ ভালভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। সব কিছু অরিন্দম দত্ত বলে একজন অ্যাডভোকেটের হাতে তুলে দিয়ে এসেছেন। তাঁর নিজের লিগ্যাল অ্যাডভাইসার সুখেন্দু। কিন্তু এ ব্যাপারে সুখেন্দুর কাছে তিনি যাননি। অরিন্দমকে দিয়েও খুব মাঝে মাঝে তিনি কাজ করিয়ে থাকেন। এ ব্যাপারটা অরিন্দমই যা করার করবে। শমিত এখন একরকম মুক্ত। দু—একটা পার্টি খুব হম্বিতম্বি করছিল, কিন্তু অরিন্দম সেটা সামলে নিতে পেরেছে। দিদির কাজ উপলক্ষে খুকি—টুকি উভয়েই আসছে। শমিত বাড়ির ব্যাপারে ওদের সঙ্গে বোঝাপড়া করুক। তিনি তাকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন—এ নিয়ে যেন অনর্থক ঝগড়া—বিবাদের মধ্যে সে না যায়। দিদিরা যদি ভাগ চায়, ন্যায্য ভাগ তাদের দিতে হবে। তবে আপাতত যে বাড়ি মর্টগেজ দিয়ে সে তার ব্যবসায়ে ক্ষতির টাকাটা জোগাড় করতে বাধ্য হয়েছে, এটাও যেন সে দিদিদের বলে। এবং সবকিছু থেকে ছোটমামার নামটা তারা উহ্য রাখবে—এ প্রতিশ্রুতি আদায় করে এসেছেন। এটাতে শমিতের না হলেও রত্নার আপত্তি ছিল খুব। ‘বাঃ আপনিই সব করলেন, কাউকে কিছু বলব না! কাজেতেও আসবেন না? কেন? আমাদের এত পাপের ভাগী করে যাচ্ছেন মামাবাবু?’ তার চোখ ছলছল করছে। এ কদিনে সম্পর্কটা অনেক সহজ হয়ে গেছে, বিশেষত রত্নার সঙ্গে। বিজু তাকে হাসাবার জন্য বললেন—’শমিতও তো কত মাস ছুপিয়ে ছিল, এ ব্যাপারটা তো অন্তত তোমার জানার কথা বউমা। আমিও কিছুদিন যে কারণেই হোক ছুপকে থাকতে চাইছি।’

    হাসার বদলে রত্না গম্ভীর বিষণ্ণ হয়ে গেল। তখন বিজু রায় বুঝতে পারলেন তিনি বেফাঁস বলেছেন, এবং তিনি বিজু রায়। শুধু বিজু নন। শেষে বললেন ‘বউমা যা হবার হয়ে গেছে, অতীত নিয়ে মাথা ঘামিয়ো না একদম। সবসময়ে পাপ—পাপ করবে না। আমি বিশেষ কারণে বাইরে যাচ্ছি। ব্যাপারটা গোপন রাখতে চাই। তোমরা মন দিয়ে দিদির কাজ করো। আমি কাজ শেষ হলেই আবার আসব। ‘শ্রাদ্ধের বাজার টাজার রত্নাকে নিয়ে অনেকটাই করে দিয়ে এলেন বিজন। পর দিনই কাজ। তিনি এবার ডুব মারবেন।

    কদিন পর রাত্রে মেসে ফিরতে হরিহর একটা ভারী প্যাকেট দিল। বেশ ভারী। বলল—রফিকের লোক দিয়ে গেছে। কেমন একরকম চোখে বিজুর দিকে তাকাল হরিহর। বিজু বললেন—’হরিহর তোমার টাকাটা রাখো। পার্সে আলাদা করে ছহাজার টাকার একটা প্যাকেট রেখেছিলেন তিনি।

    ‘এত টাকা, বাবু?’

    ‘তুমি যে ধার দিয়েছিলে নলিনীদাকে! সুদসুদ্ধ ফেরত দিলাম। ‘হতভম্ব হরিহরের চোখের সামনে দিয়ে বিজু রায় ওপরে উঠে গেলেন। কিন্তু ঘরে ঢুকে রফিকের দেওয়া প্যাকেটটা খুলে দেখে তিনি হরিহরের চেয়েও হতভম্ব হয়ে গেলেন। নলিনী করের ট্রাঙ্কের মধ্যে রেখে দিলেন প্যাকেটটা। তারপর আর দাঁড়াতে পারলেন না। ভয়ানক ঘোরাঘুরি, খাটুনি যাচ্ছে। হাতমুখ ধুয়ে শুয়ে পড়লেন। এত দিনে ভাল শীত পড়েছে। এ রকম জাঁকিয়ে শীত পড়লে তাঁর ঘুম ভাল হয়। টেনশন সত্ত্বেও।

     

     

    সকালে ব্রেকফাস্ট খাচ্ছেন। একে একে মণিময়, নিতাই ভটচাজ, চাঁদু মিত্তির আর প্রতুল বিশ্বাস এসে ঢুকলেন।

    ‘আরে আসুন আসুন’—খুশির গলায় বললেন বিজন।

    তক্তাপোশের ওপরে বসল ওরা চারজন।

    —’কী ব্যাপার?’ চায়ে চুমুক দিয়ে বলল বিজন।

    মণিময় মাথা চুলকোচ্ছে।

    ‘কিছু বলবেন মনে হচ্ছে?’ বিজন অবাক হয়ে বললেন।

    ‘হ্যাঁ মানে এ—ভাবে তো চলতে দেওয়া যায় না বিজনদা।’

    ‘কীভাবে? কী ব্যাপার?’

     

     

    ‘আমরা আপনাকে জাস্ট আউট অফ কার্টসি নলিনীদার ঘরখানা দিয়েছিলুম তার মানে এই নয় যে….’মণিময় চুপ করে গেল।

    ‘কী আবার? আপনি জানেন না?’ তেরিয়া হয়ে নিতাই ভটচাজ বললেন, ‘দিনের পর দিন এখানে বসে বসে নলিনীদার টাকা আত্মসাৎ করছেন?’

    ‘ও।’ বিজু রায়ের ভেতরটা কেমন নিভে গেল। এ কদিন যা—ই করুন, যেখানেই যান, যত পরিশ্রমই হোক কেমন একটা চোরাস্রোতের মতো আনন্দধারা বইছিল। বইছিল যে সেটা তিনি সচেতনভাবে বুঝতে পারেননি, এখন সেটা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বুঝতে পারলেন। তিনি নিজের ভাবান্তর যথাসাধ্য গোপন করে বললেন—’আমাকেই তো আপনারা নলিনীদার ওয়ারিস সাব্যস্ত করেছিলেন, সমবেত ভোটে। করেননি?’

    ‘সেটা তো ঠাট্টা, জাস্ট কার্টসি।’

    ‘তাই বুঝি? আমি সেটা তলিয়ে বুঝিনি। তা নলিনীদার টাকা আত্মসাৎ করছি, কে বললে?’

     

     

    ‘সে যে—ই বলুক, সাইমন বলে বেঁটেমতো লোকটা ঘাঘু পেনসিলার ছিল, সবাই জানে, নলিনীদা সাট্টা ফাট্টা, রেস—টেস করে জীবনধারণ করতেন। আমরা সবাই জানি।’

    ‘ও, জানতেন?’

    ‘আপনি ওরকম ব্যঙ্গ করে কথা বলছেন কেন? নিতাইবাবু খেঁকিয়ে উঠলেন। ‘আমরা সবাই ভদ্দরলোক মশাই।’

    ‘আমিও কিন্তু নিজেকে ভদ্রলোক বলেই মনে করি।’

    ‘আমরাও করেছিলুম, এখন আর করছি না। নলিনীদার পাওনা—গণ্ডা সব ওই সাইমন আর রফিক চুকিয়ে দিয়ে গেছে। মোটা টাকা। আপনি নিঃশব্দে হজম করেছেন, তারপর থেকে আপনাকে আর ভদ্দরলোক ভাবতে ইচ্ছে করছে না।’

    মণিময় বলে উঠল—’আহা হা হা, কী করছেন নিতাইদা, অত উত্তেজিত হলে কী করে চলে? বিজনদা আপনার কিছু বলার থাকলে নিশ্চয়ই শুনব। বলুন।’

     

     

    বিজন বললেন—’যখন আপনারা ঠাট্টা করেই হোক, কার্টসি করেই হোক আমাকে নলিনীদার ওয়ারিস বললেন, আমি কিন্তু জিনিসটাকে গুরুত্ব দিয়েছিলুম। ঠাট্টা ভাবিনি। এখন ওয়ারিস যেমন সম্পত্তি পায়, তেমনি বকেয়া ঋণ—টিনও তাকেই মেটাতে হয়—এটা জানেন তো? তা সবচেয়ে বেশি অঙ্কের যে ঋণটা সেটা কিন্তু আমি গতকালই মিটিয়ে দিতে পেরেছি। আর উত্তরাধিকারসূত্রে যা পেয়েছি—তা—ও আপনাদের সামনে রাখছি। হরিহরকে ডাকুন, সে—ই একমাত্র সাক্ষী।’

    হরিহর এসে দাঁড়াল। তার মুখে আজ একটা উদ্ধত ভাব। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মুখচোখের ভাবের এমন পরিবর্তন হতে পারে বিজন কল্পনাও করেননি। তিনি বললেন—’হরিহর তুমি আমাকে সাইমনের দেওয়া প্যাকেটটা দিয়েছ?’

    ‘হ্যাঁ, আপনি বলেছিলেন কাউকে না বলতে।’

    ‘কাউকে না বলতে বলিনি। সাইমন আর রফিক নামে এই লোকগুলিকে চট করে নলিনীদার মৃত্যুর খবরটা দিতে বারণ করেছিলুম।’ হরিহর গোঁজ মুখে চুপ করে রইল।’

     

     

    ট্রাঙ্কটা তক্তাপোশের তলা থেকে বার করে আনলেন বিজন। প্যাকেট দুটো বার করে সবাইকার মাঝখানে বিছানার ওপর রাখলেন, বললেন—’কোনটা সাইমনের দেওয়া, কোনটা রফিকের দেওয়া বুঝতে পারছ তো?’

    ‘কেন পারব না!’ হরিহর গোঁজ হয়েই বলল, ‘ওই তো বালি কাগজের প্যাকেটটা সাইমন এনেছিল, আর ওই চটের ভারীটা কাল রফিক…।’

    ‘ঠিক আছে চিনতে পেরেছ। আচ্ছা মণিময়, তুমি কাইন্ডলি প্যাকেটগুলো খোলো তো। পাতলাটাই খোলো না হয় আগে!’

    মণিময় ইতস্তত করতে লাগল। বিজন বললেন—’নলিনীদার ওয়ারিস তো আমি তোমরা বললেও হতে পারি না মণিময়, এক হতে পারো তোমরা সবাই, তাঁর এতদিনের প্রতিবেশী, আর হতে পারে সে যাকে তিনি দিয়ে গেছেন। খোলো, খুলে দ্যাখো।’

    নিতাইবাবু সাগ্রহে বললেন, ‘আমি খুলছি।’ প্যাকেট খুলে তিনি টাকার গোছাটা বিজয়ীর মতো বার করে আনলেন। চোখ চকচক করছে।

     

     

    ‘ওতে পঞ্চাশ হাজার আছে। গুনে দেখুন।’ বিজন বললেন, ‘নলিনীদা সাট্টা খেলতেন। একটা রিস্ক নিয়েছিলেন পাত্তি টু পাত্তি খেলেছিলেন, পাঁচ টাকার। লাক ফেভার করল, কিন্তু মৃত্যুর পর। ওপনের খেলায় পাঁচ পাঁচশ হয়ে গেল। ক্লোজের খেলায় পাঁচশ ইনটু একশ হল পঞ্চাশহাজার। খুব রেয়ার লাক। কিন্তু ঘটল। আপনারা অনুধাবন করতে পারছেন নিশ্চয় ব্যাপারটা।’

    সবাই চুপ। বিজন বললেন। ‘যাক পুরো সংখ্যাটা যোগ দিয়ে কী দাঁড়ায় সেটা দেখাই আমাদের উদ্দেশ্য। অন্য প্যাকেটটা খুলুন নিতাইবাবু। ওতে কত আছে…।’

    নিতাইবাবু অসহিষ্ণুভাবে খুলতে লাগলেন প্যাকেটটা। বললেন, ‘ওইটুকু পাতলা প্যাকেটে যদি পঞ্চাশ হাজার ধরে থাকে, তা’লে এটাতে পাঁচ লাখ, কিংবা হয়তো তারও বেশি। …তা এটা তো আপনি ভাল করে খোলেনইনি দেখছি।’ পোস্ট অফিসের পার্সেল যেমন হয় তেমন চটের থলের ভেতর প্রচুর কুচো কাগজ, তুলে ফেলতে লাগলেন নিতাইবাবু। তারপরে তিনি হঠাৎ হিক করে একটা ভয় পাওয়া আওয়াজ করে পিছিয়ে এলেন। সবাই ঝুঁকে দেখল একটা নীলচে রিভলভারের নল যেন তাঁদের দিকে তাক করে আছে।

     

     

    বিজন বললেন—’এই হল নলিনীদার উত্তরাধিকার। পঞ্চাশ হাজার প্লাস একটি থার্টি এইট অটোম্যাটিক কোল্ট। যোগ করুন কী দাঁড়ায়। এছাড়া ঋণ ছিল হরিহরের কাছে পাঁচ হাজার। সেটা কবে নিয়েছিলেন জানি না, পুরো ছহাজার করে দিয়ে দিয়েছি কাল রাত্রে নিজেরই পকেট থেকে। কী হরিহর? দিইনি।’

    হরিহরের মুখটা হঠাৎ ঝুঁকে পড়ল।

    ‘কী হরিহর, নলিনীদা তোমার কাছ থেকে পাঁচ হাজার ধারতেন?’ মণিময় জিজ্ঞেস করল।

    ‘আমাদের তো ব্যাটা চাইলে অনেক ভ্যানতাড়া করে তবে দেড়শো দুশো দিস কি না দিস। কাবলিঅলার মতো সুদ কাটিস। নলিনীদার শুকনো কাঠামোয় কী রস পেলি? যে একেবারে পাঁচ হাজার?’ নিতাই ভটচাজ খ্যাঁক খ্যাঁক করে উঠলেন।

    হরিহর গোঁজ মুখ করে বলল, ‘বাবু যে আমায় ছহাজার টাকা দিয়েছেন তার প্রমাণ কী? বাজে কথাও তো বলতে পারেন।’

     

     

    ‘অস্বীকার করছ না কি?’ বিজন আশ্চর্য হয়ে বললেন। আশ্চর্য হবার শক্তি মানুষের চট করে ফুরোয় না। ‘তুমি যে নলিনীদাকে পাঁচ হাজার কর্জ দিয়েছিলে তারই বা কী প্রমাণ আছে, হরিহর?’

    মণিময় বলল, ‘অফ কোর্স। তারই বা কী প্রমাণ আছে? আশ্চর্য বিজনদা কোনও প্রমাণ ছাড়াই আপনি অতগুলো টাকা ব্যাটাকে গ্যাঁট গচ্চা দিয়ে দিলেন? অদ্ভুত মানুষ তো।’

    বিজন বললেন, ‘কী? পঞ্চাশ হাজার প্লাস রিভলভারের যোগফলটা করতে পারলেন নিতাইবাবু?’

    ‘আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। এই ব্যাটা হরিহর, তুই নিশ্চয়ই কিছু জানিস।’

    হরিহর কাঁদো—কাঁদো হয়ে বলল—’রফিক মাগলার, খুব ডেঞ্জার লোক, আমি আর কিছু জানি না বাবু। সাইমন পেনছিলারের সিলিপ করবাবু বেরোবার সময়ে আমার হাতেই দিয়ে যেতেন। কিন্তু রফিকের কোনও সিলিপের কারবার ছিল না।’

     

     

    মণিময় বলল, ‘বিজনদার ছহাজার টাকা গেঁড়িয়েছিস, স্রেফ মিছে কথা বলে। শিগগির যা, ফিরিয়ে দে।’

    ‘না না। থাক।’ বিজন বললেন, ‘নলিনীদার প্রাপ্য পঞ্চাশ হাজার কিন্তু ও নিয়ে নিতে পারত। নেয়নি। ওকে কিছু দিতে হবে না। তবে একটা কাজ করতে হবে। এটা আমরা যেমন ছিল আবার প্যাক করে দিচ্ছি। এটা ওকে ওর কাছেই রাখতে হবে।’

    হরিহর একেবারে হাঁউমাউ করে উঠল। ‘না বাবু না, ট্যাকা আমি ফেরত দিয়ে দিচ্ছি, ও জিনিস আমি রাখতে পারব না। দয়া করুন বাবু।’ সে বিজনের পায়ে পড়ে গেল।

    বিজন বললেন, ‘তোমাকে শাস্তি দেবার জন্যে এটা করছি না হরিহর। বুঝে দ্যাখো, নলিনীদা মারা যাওয়ায় রফিকের সঙ্গে যোগাযোগ তোমার ছাড়া তো আর কারওই নেই!’

    ‘রফিকের সঙ্গে আমার কিচ্ছু নেই বাবু, বিশ্বাস করুন। নলিনীবাবু না থাকলে স্রেফ দরজার ওপাশ থেকে প্যাকেট বাড়িয়ে দিয়ে বলে—’নলিনীবাবু এলে দিয়ে দিবি, খবর্দার বেইমানি করে খুলবি না, যাঃ শালা ভাগ।’

     

     

    ‘ভালই তো হল। ও আবার আসবে। তখন প্যাকেটটা বাড়িয়ে দিয়ে বলবে, নলিনীবাবু নেই, মারা গেছেন। প্যাকেট নিয়ে যাও।’ বিজন বললেন।

    ‘কিন্তু যদি বলে কবে বাবু মরেছে, আগে বলিসনি কেন?’

    ‘বলিস, ঘুমচোখে খেয়াল ছিল না।’ মণিময় বলল।

    বিজন বললেন, ‘নিজের জিনিস ফেরত পেয়ে গেলে ও আর তোমাকে বিরক্ত করবে না।’ তিনি যত্ন করে প্যাকেটটা যেমন ছিল তেমন করে রাখলেন; তারপরে হরিহরের হাতে দিয়ে বললেন—’যাও।’

    প্যাকেট হাতে, চোখ মুছতে মুছতে হরিহর চলে গেল। মণিময় বলল, ‘ব্যাপারটা কিন্তু সত্যিই আমরা বুঝতে পারলুম না, আপনি পেরেছেন বিজনদা।’

    বিজন বললেন, ‘নাঃ। স্মাগলিং—এর জিনিস যদি নলিনীদার কাছে রাখতে এসে থাকে, তো মাত্র একটা কেন? আবার হতেও পারে, ছোট স্মাগলার। হয়ত সময় সুযোগমতো ওটা বিক্রির সুবিধে পেলেই নিয়ে যেত। তখনই রাখবার মজুরি হিসেবে নলিনীদাকে কিছু পেমেন্ট করত। বুঝতে পারছি না ঠিক। আবার এ—ও হতে পারে খুনে গুণ্ডা। খুন—টুন করে অস্ত্রটা ওঁর জিম্মায় রেখে যেত। এইভাবে উঞ্ছবৃত্তি করেই পেট চালাতেন মানুষটা!’ সবাই চুপ করে রইল। কিছুক্ষণ পর বিজন বললেন, ‘যাক, ওই পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে কী করব তার একটা নির্দেশ আমি নলিনীদার নোটবুকে পেয়েছি। উনি দাদু কাকে বলতেন, কেউ জানেন?’

     

     

    ‘ওই তো, পাশের বাড়ির বাচ্চাটকে?’ দু—তিনজন বলে উঠলেন।

    নোটবুকের লেখাটা মণিময়কে চেঁচিয়ে পড়তে বললেন বিজন। পড়ে মণিময় বলল, ‘বিজনদা এর থেকেই ধরলেন, নলিনীদা কিছু টাকা পেতে পারেন, না?’

    ‘হ্যাঁ।’ বিজন হেসে বললেন, ‘আর তা—ই দাদার মৃত্যুর খবরটা হরিহরকে চেপে রাখতে বলেছিলাম। সাইমন টের পেয়ে গেলে কি আর টাকাটা দিত? মাঝখান থেকে নলিনীদার দাদু ফাঁকে পড়ত।’

    সবাই হাসতে লাগল। প্রতুলবাবু বললেন, ‘কিন্তু বিজনবাবু, অভাবের সংসারে ও পঞ্চাশ হাজার টাকা আর কদ্দিন, দেখবেন হয়তো নেশা—ভাং করেই উড়িয়ে দিল।’

    ‘করে নাকি? নেশা ভাং?’ বিজন বললেন।

    ‘কে না করে? আমি আপনি ভদ্দরলোক ছোটলোক, কে বাদ আছে নেশা করতে আজকালকার দিনে সেটাই বলুন না মশায়! কী আছে এই শালার জীবনে, স্বস্তি নেই, শান্তি সুখ নেই, আনন্দ নেই, কলুর বলদের মতো খালি ঘুরেই মরছি, ঘুরেই মরছি! নেশা কে না করে?’

    ‘তা অবশ্য’, বিজু চিন্তিত হয়ে বললেন, ‘তবে বাচ্চাটা বা তার মা তো নেশা করবারও সুযোগ পায় না। আপনাদের যদি অনুমতি থাকে তাহলে আমরা টাকাটা খাটিয়ে তার ইন্টারেস্টটা দিয়ে খুকিদের সংসারে একটু সচ্ছলতা আনতে পারি। না হয় ওরা না—ই জানল সবটা। খুকি বড় হলে এটা পাবে। কী বলেন?’

    ‘হ্যাঁ হ্যাঁ তা তো করাই যায়।’ মণিময় খুশি হয়ে বলল।

    ‘তা হলে খামটা মণিময় তোমার হেফাজতে রাখো এখন, আমি দেখছি কী করা যায়।’

    ‘আমার হেফাজতে কেন? বেশ তো ছিল!’

    বিজন হেসে বললেন ‘তা হবে না। একবার যখন সন্দেহভাজন হয়েছি, ও টাকাটা আমি আর রাখতে পারব না। আপনারা যেখানে নিরাপদ মনে হয় রাখুন, পরে ব্যবস্থা করে আপনাদের জানালে আপনারা যদি অ্যাপ্রুভ করেন তো নিয়ে যাব।’

    মণিময়ও কিছুতে নেবে না। বিজনও কিছুতেই রাখবেন না। অবশেষে বিজনই জয়ী হলেন। প্যাকেটটা নিয়ে ওরা নীচে নেমে গেল। মেসমালিক প্রফুল্লবাবুর কাছে জমা রইল জিনিসটা। তিনি রীতিমতো রসিদে সই—সাবুদ করে দিলেন।

    ভাল করে চান করে, দুপুরের খাওয়াটা একা একা সারলেন বিজন। সবাই যে যার অফিস চলে গেছে। শূন্য মেসবাড়ি। বিজন তেতলার কুঠুরিতে এসে চিঠিপত্রের তাড়া খুলে বসলেন।

    ”মা,

    বিজুর সাফল্যের খবর শুনে গর্বে আনন্দে আমার বুক ভরে যায়। খালি মনে হয় একবারটি যদি দেখতে পেতুম! বিজু, সেই ফাজিল, স্কুল পালানো, গোঁয়ার বিজু আজ এত বড় হয়ে তোমাকে এত সুখে রেখেছে, এর জন্য কী বলে কাকে ধন্যবাদ জানাব ভেবে পাই না। কারণ মা, বিজুর যতই কৃতিত্ব থাক, লাক—ফ্যাক্টর একটা থেকেই যায়। তুমি লিখেছ বিজুর সংসার তার ছেলে মেয়ে বউ আমার দেখতে ইচ্ছে করে কি না। দুঃখ পেয়ো না মা। করে না। আমার জগতে তো ওরা ছিল না। আমি আমার সেই বাঁধাঘাটের ছাদের রোগা হাফ প্যান্ট পরা, বড়—বড় দুষ্ট ভিতু চোখ বিজুকে দেখতে চাই। তাকে আর দেখতে পাব না মা। সেই দিনগুলো আর ফিরে আসবে না। কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে না। কাউকে দোষ দিচ্ছি না। যা ঘটবার তা সব ঘটে যায়। আর ফেরে না। আর কখনোই ফেরে না। এই না ফেরা যে কী ভয়ঙ্কর যাকে অল্পবয়স থেকে নির্মূল হয়ে আসতে হয়, সে জানে। যে দেখতে পায় না ভাই কী করে বড় হল, মা—বাবা কী করে বুড়ো হল, দাদা—দিদিরা কীভাবে আরও বড়, প্রৌঢ়, বৃদ্ধ হল। সে বড় অভাগা মা। তার জীবন থেকে অনেকটা সময় চুরি হয়ে যায়। এ ক্ষতি পূরণ হবার নয়। তোমার জামাই, নাতি—নাতনি ভাল আছে। নাতি—নাতনির নাম জানতে চেয়েছ? একজনের নাম স্বপ্নেন্দু, আরেকজন ঈপ্সিতা। ওই বলেই ডাকি। প্রণাম নিয়ো।’

    অনেক উল্টে—পাল্টে দেখলেন বিজু, ঠিকানা তো নেইই। পোস্ট অফিসের ছাপও নেহাতই অস্পষ্ট। অনেক কষ্টে, নলিনী করের ড্রয়ার থেকে ম্যাগনিফাইং গ্লাসটা বার করে জানলায় আলোর ধারে নিয়ে গিয়ে গঞ্জ শব্দটা বুঝতে পারলেন। কিন্তু এ বালিগঞ্জ বা টালিগঞ্জ না করিমগঞ্জ, সাহেবগঞ্জ? গঞ্জ তো একটা নয়!

    এই একইভাবে বয়ে যাচ্ছে ছুটকির সকল চিঠির ধারা। মায়ের অসুখের খুঁটিনাটি, সুলতা ও শিবানীর কথা, আর ছুটকির একটা প্রশান্ত আকুলতা ভাইবোনেদের জন্যে, মায়ের জন্যে, বিশেষত বিজুর জন্যে। অবশেষে ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে পরীক্ষা করতে করতে একদিন একটা চিঠির পোস্ট—অফিসের নাম উদ্ধার করতে পারলেন বিজন। চিনসুরা। বাস, শুধু একটুকু! এইটুকু তথ্য সম্বল করেই কি তিনি বেরিয়ে পড়বেন? বিজু ভেবে দেখলেন তিনি যখন অল্প বয়সে সৌভাগ্য খুঁজতে বেরিয়ে পড়েন, তাঁর এই কুটোটুকুও সম্বল ছিল না। ঝোঁকের মাথায় বেরিয়ে পড়েছিলেন। দ্বিতীয়বার বি—কম—এ বসতে হবে, বাড়ির এই অবধারিত নিয়মে ক্ষুব্ধ হয়ে, ছুটকি ফিরে আসবে বা কোনও খবর দেবে এই রকম একটা আশাকে শেষপর্যন্ত ছলনা, মায়া, মোহ বলে চিনতে পেরে, একদিকে বাড়ির প্রতি প্রবল বিতৃষ্ণায় আরেক দিকে উপার্জন করবার, অনেক অনেক উপার্জন করবার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় তিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন। ফল খারাপ হয়নি। প্রকৃতপক্ষে তিনি নিজেকে একজন ভাগ্যের সুনজরের মানুষ বলে চিনতে পারেন আজকাল। যখন যেটাতে হাত দিয়েছেন, সফল হয়েছেন। মনের সুখ—শান্তির কথা আলাদা। স্বতন্ত্রভাবে তা খোঁজেনওনি তিনি কোনওদিন। বিপুল পরিমাণ কর্ম ও কর্মের মোহ, মোহই তো? তাঁকে ছুটিয়ে নিয়ে বেড়িয়েছে। আর একটা জিনিস তাঁর দেখা হল, এই দ্বিতীয়বার তিনি বাড়ি থেকে পালিয়েছেন। পালিয়ে দিদির সঙ্গে দেখা হল, দিদি যাবার সময়ে তাঁকে বড় ভালবেসে ডেকে গেল। দিদির ছেলেটির হয়ত একটা সুরাহা করে দিতে পারবেন, দীপিকার সঙ্গে ভাব হল, এই মেসবাড়ির মানুষগুলির কাছে সততার অগ্নিপরীক্ষায় পাশ করে গেলেন তিনি সসম্মানে, এই সমস্তই কিন্তু সাফল্য। নিঃসন্দেহে। হরিহরকে তিনি চিনতে পারেননি, সে বিশ্বাসঘাতকতার কাজটা করল। কিন্তু সাফল্যের তুলনায় এটুকু ব্যর্থতা কিছুই না। তাহলে তাঁর যে আসল লক্ষ্য, ছুটকিকে খুঁজে বার করা তাতেই বা তিনি বিফল হবেন কেন? অন্তত চেষ্টা করতে দোষ কী?

    পরের দিন দশটা পনেরোয় ব্যাণ্ডেল লোকালে চেপে পড়লেন বিজন। যথেষ্ট ভিড়। সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে মোটামুটি একটা সিট পেলেন। বসেই গোটা মুখটা বাইরের দিকে ফিরিয়ে বসলেন। আরও সকালের ট্রেনে যেতে পারলে বেশি নিরাপদ হতে পারতেন, কিন্তু পোস্ট অফিস খোলবার পরে তাঁকে যেতে হবে। পোস্ট অফিসই আপাতত তাঁর গন্তব্য। কেউ দেখে ফেললে একটু মুশকিল, ঠিকই। কিন্তু কী করা যাবে! এই ঝুঁকি নিয়েই তিনি কদিন আগে আটাত্তর নম্বরে সুখচর গেছেন।

    একটা সাইকেল রিকশা নিলেন বাইরে বেরিয়েই।

    ‘কোন দিকে যাবেন বাবু? হুগলির দিকে যাব? না এদিকে?’ বিজু ইতস্তত করছেন দেখে রিকশাচালক বলল ‘ঠিকানাটা বলুন? দেখছি।’

    বিজু বললেন, ‘পোস্ট অফিসটা কোনদিকে?’

    ‘কোন পোস্টাফিস? চুঁচড়া মেন?’

    বিজু বললেন—’হ্যাঁ।’

    তাঁর ‘হ্যাঁ—এর মধ্যে দ্বিধার ভাব টের পেতে দেরি হল না রিকশাঅলার। এসব বিষয়ে সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর অনুকম্পনের সঠিক ব্যাখ্যা করা এদের কাছে কিছুই না। সে বলল, ‘বাবু কি এদিকে নতুন? চলুন না চুঁচড়ো শহর ঘুরিয়ে নিয়ে আসি! ডাকাতে কালী, ক্লক—টাওয়ার, জজের বাংলো, কমিশনারের বাংলো, ডাচ বাংলো, লঞ্চ ঘাট, ভূদেব মুখুজ্জের বাড়ি, অনেক দেখবার আছে এখানে। তিরিশটা টাকা দেবেন। বাস।’

    বিজু বললেন—’পোস্ট অফিস খুব দূরে!’

    ‘আজ্ঞে না তো! এই তো ঘড়ির মোড় পেরোলেই….’

    ‘ওখানেই নিয়ে চলো।’

    শন শন করে হাওয়া দিচ্ছে। যদিও রোদও যথেষ্ট! হুডটা এতক্ষণে নিশ্চিন্তে খুলে দিলেন তিনি। উল্টো দিক থেকে সারে সারে সাইকেল আসছে। এখান থেকে যারা ডেলি প্যাসেঞ্জারি করে তাদের অনেকেই নিশ্চয় সাইকেলে যায়। স্টেশনের বাইরে বোধহয় কোথাও সাইকেল জমা রাখে। ফেরবার সময়ে আবার নিয়ে নেয়। যারা যাচ্ছে বেশির ভাগই বয়সে তরুণ। ছাত্র গোছের। মেয়েও আছে। আরও বড় চাকুরে জাতীয় লোকও আছে। যুবক তরুণ যারা যাচ্ছিল, তাদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বিজনের মনে হচ্ছিল এদেরই কেউ হয়ত স্বপ্নেন্দু। ছুটকির ছেলে। ছেলে কত বড়? ছেলে বড় না মেয়ে বড় এসব ছুটকি লেখেনি। যদি তার সেই বয়সের আশেপাশেই জন্মে থাকে, তা হলে স্বপ্নেন্দু আজ দিব্য—টিব্যর চেয়েও বড়, উপযুক্ত উপার্জনশীল যুবক। কিন্তু কেন কে জানে তাঁর ভাবতে ভাল লাগছে ছুটকির ছেলেমেয়ে তাঁরই চিন্টু—তিতির বয়সী। বেশি বড় নয়। ছেলেটার সবে দাড়ি গোঁফ গজিয়েছে। নরম—নরম। এই রকম বয়সের ছেলের ওপর কি তাঁর দুর্বলতা আছে? এ দুর্বলতা আগে কখনও টের পাননি তো! চিন্টুকে কতদিন দেখেন না। চিন্টুটা ছেলেবেলায় তাঁর ভীষণ ন্যাওটা ছিল। এখন চিন্টু কী রকম হয়েছে? কী অদ্ভুত! তিনি চিন্টুর ছেলেবেলার মুখটা আবছা আবছা মনে করতে পারলেও এখনকার মুখটা ঠিকঠাক স্মরণ করতে পারছেন না। তিতির মুখটা বরং এক একবার চমক দিয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে। ওরা কোনও খবর কাগজে দিল না কেন? এটা খুব অদ্ভুত! তনুশ্রী! তনুশ্রীর মুখটাও ভাল করে মনে করতে পারলেন না তিনি। কী ভাবছে ওরা? পুলিশে খবর—টবর দিয়েছে তো? নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে নেই নিশ্চয়! তবে ওদের কারও বুদ্ধির ওপরই কোনও ভরসা নেই তাঁর। তনুশ্রীটা তো একেবারে গাড়ল! আর ছেলেমেয়ে দুটো? কী পড়ছে? তা পর্যন্ত মনে করতে পারলেন না বিজু রায়। স্কুল পেরিয়ে গেছে। কলেজে তো নিশ্চয়ই! কিন্তু ঠিক কোন পর্যায়ে! জানতে হলে তাঁকে এখন এদের বয়স হিসেব করে দেখতে হয়।

    রিকশাঅলা বলল, ‘পোস্ট অফিস এসে গেছে বাবু।’

    বিরাট হলুদ রঙের বিল্ডিংটার সামনে নেমে ভাড়াটা মিটিয়ে দিলেন তিনি। গেট ঠেলে ঢুকলেন। অনেকগুলো কাউন্টার। বেশ সরগরম চুঁচড়ো পোস্ট অফিস। তিনি টিকিটের কাউন্টারে দাঁড়ালেন। এঁদের কাছে কী বলে খোঁজ নেবেন তিনি? ঠিকানা নেই। পদবিটা কী? সেটা পর্যন্ত তিনি জানেন না। কোনওদিন বলা হয়নি তাঁকে।

    ‘আচ্ছা দাদা, একটা খবর দিতে পারেন?’ বিজু রায় কপাল ঠুকে জিজ্ঞেস করলেন।

    শুকনো মতো বুড়ো ভদ্রলোকটি কিছু গোনাগাঁথা করছিলেন, একটু পরে মুখ তুলে বললেন, ‘বলুন!’

    ‘আমাকে দশটা খাম দেবেন?’ বিজু রায়ের হঠাৎ মনে হল এটাই প্রশস্ত।

    ভদ্রলোক বললেন, ‘খাম তো অতগুলো হচ্ছে না, চারটে ইনল্যান্ড দিয়ে দেব নাকি?’

    ‘তাই দিন।’

    ‘আচ্ছা কেয়া, মানে শ্রীমতী কেয়ার নামে কোনও চিঠি…’

    ‘কেয়া রায় তো? এই গোবিন্দ! গোবিন্দ!’ তিনি একজনকে ডাক দিলেন। পিওনের পোশাক পরা লোকটি। ‘বাঁ দিকের সর্টিং আপিসে যান এর সঙ্গে আমি বলে দিচ্ছি।’ ভদ্রলোক বললেন।

    গোবিন্দর পেছন পেছন বেরিয়ে বাঁ দিকে একটি বড় ঘরে অবাক হয়ে ঢুকলেন বিজন। ভেতরে কয়েকটি বড় বড় টেবিলে বসে বেশ কয়েকজন কাজ করছেন। একদম বাঁ দিকে খোপ খোপ কাটা একটা আসবাব। চিঠিপত্র ঢোকানো হচ্ছে সেখানে।

    গোবিন্দ নামধারী হেঁকে বলল—’কেয়া রায়ের কোনও চিঠি এসেছে কিনা খোঁজ করছেন ইনি।’

    টেবিলে—বসা একজন মুখ তুলে বললেন, ‘রয়েছে দুটো। ওঁর কী হল? নিজেই তো নিয়ে যান। অসুখ—বিসুখ নাকি?’

    বিজু সম্মোহিতের মতো বললেন, ‘হ্যাঁ, জ্বরে পড়ে আছেন।’

    ‘আপনি? লেটার অফ অর্থরিটি এনেছেন?’

    ভদ্রলোক নিজের কাজে মগ্ন হয়ে গেলেন।

    বিজু ভাবলেন—’ছুটকি নিজে আসে। এই পোস্ট অফিস থেকে নিয়ম করে এসে চিঠিপত্র নিয়ে যায়। যদি এখন, এই মুহূর্তে ছুটকি আসে? গয়নাগাঁটি পরা দোহারা চেহারার চওড়া পাড়—টাড়ের শাড়ি—পরা ছুটকি? ছুটকি কি তাঁকে চিনতে পারবে? রোগা—প্যাংলা সেই বিজুকেই ছুটকির মনে আছে। কিন্তু তিনি? ছুটকিকে দেখবামাত্র চিনতে পারবেন। তিনি ঠিক জানেন।

    ‘কেন? মানি—অর্ডার—টর্ডার কি রেজিস্টার্ড কিছু এসেছে না কী? সেসব দিতে হবে না। সাধারণ চিঠি যদি কিছু থাকে তো দিন না। তার জন্য আবার অথরিটি লেটার—ফেটার কী হবে?’ বিজন বললেন খুব সপ্রতিভভাবে, হেলাফেলার সঙ্গে। ভেতরে ভেতরে উল্লাসে তিনি ফেটে পড়ছেন। একেই বলে স্ট্রাইকিং পে ডার্ট। এখন শেষ রক্ষা হলেই হয়।

    ভদ্রলোক নিঃশব্দে দুটো চিঠি এগিয়ে দিলেন। একটা ছাপানো পোস্ট কার্ড। কোথায় কোন সাধুর জন্মোৎসবের নিমন্ত্রণ। আরেকটা ইনল্যান্ড। পত্রপ্রেরকের নামের জায়গা নিজের সল্টলেকের বাড়ির ঠিকানা দেখে চমৎকৃত হয়ে গেলেন বিজু রায়। হাতের লেখাটা অচেনা। কিন্তু ঠিকানাটা তাঁরই। চিঠি দুটো নিয়ে পোস্ট অফিস থেকে বেরিয়ে একটু হেঁটেই অদূরে দেখলেন বিরাট পাঁচিল ঘেরা বাগান। গাছে গাছে। মনে হয় সরকারি বাংলো—টাংলো হবে। নিমেতে কাঠটগরেতে মিলে একটু ছায়া করেছে। পাঁচিলের ধারে সেইখানটায় দাঁড়িয়ে ইনল্যান্ডটা খুলে ফেললেন তিনি। কোনরকম বিবেক দংশনই হল না।

    ‘সাবিত্রীসমানেষু মা ছোটখুকু,

    নিজের হাতে লেখার শক্তি নেই, তাই শিবানী আমার নার্স মেয়েটি বড় ভাল মেয়ে তাকে দিয়ে লেখাচ্ছি মা। ওরাই আমার চিঠি ফেলে। কন্যার অধিক সেবাযত্ন করে। তোমার সেবা পাব সে ভাগ্য করে তো আসিনি মা সব কিছুই অত সহজ নয়। আমার কর্মফলে আমি ভুগছি তোমার দোষের চেয়ে বেশি দোষ আমার। পেটে ধরলেই মা হওয়া যায় না মা, তুমি তোমার ভালবাসার ডালি নিয়ে এসেছিলে মা, আমি তোমার পাপটাই দেখেছিলুম। আজ সর্বান্তঃকরণে বলে যাচ্ছি মা আমাকে মাপ কোরো আমি পাপ—পুণ্যের কিছু বুঝি না, জীবনে অনেক দেখলুম তোমাকে তোমার ছেলে—মেয়েকে আমার ছোট জামাইকে দেখবার সাধ অপূর্ণ রয়ে গেল। সামনাসামনি আশীর্বাদ করবার সাধ অপূর্ণ রয়ে গেল। একটু তোমায় বুকে টেনে চুমু খাবার জন্যে প্রাণটা আমার আঁকুপাঁকু করছে মা। সারাজীবনই করেছে। তোমার বাবা তোমার নাম মুখে নিয়ে স্বর্গে গেছেন। আমিও তাই যাব ছোটখুকু। তোর ঠিকানাটা মাকে কোনওদিনও দিলি না। ভালই করেছিস। আমার কর্মফল। খুকু মরতে বড় দেরি হয়ে গেল মা। যদি ফিরে আসি যেন তোর মেয়ের কোলে ফিরে আসি আবার। নাতনিকে বুকে নিয়ে মনে করিস তোর ইতি, আঃ মা।”

    চিঠিটা শেষ করে বিজন পাঁচিলের গায়ে হেলান দিলেন। প্রকৃতপক্ষে তাঁর হাত এত দুর্বল হয়ে গিয়েছিল, পা দুটো এত শক্তিহীন, তাঁর কোথাও বসে পড়তে ইচ্ছে করছিল। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি কাঁদেননি। ঊননব্বই নব্বুই বছরের মায়ের মৃত্যুতে আটান্ন ঊনষাট বছরের ছেলের হয়ত কাঁদবার কিছু নেই। কিন্তু তিনি বড় শোকার্ত হয়েছিলেন। জীবনের সবচেয়ে বড় স্নেহের ভালবাসার বাঁধন ছিঁড়ে গেল টের পেয়ে তিনিও ভেতরে ভেতরে ছিন্ন হয়েছিলেন। কিন্তু সে শোক তাঁর ভেতরেই বসবাস করছিল। আজ মফঃস্বল শহরের এক ছায়াময় গাছের তলায় দাঁড়িয়ে তাঁর চোখ দিয়ে ভীষণ গরম জল অনর্গল বেরোতে লাগল। এবং একবার কাঁদতে আরম্ভ করে তিনি দেখলেন তিনি কিছুতেই কান্না থামাতে পারছেন না। গোঙানির মতো শোকের হাহাকার বেরিয়ে আসছে। বুক ব্যথা করছে তাকে মুক্তি দিতে না পারলে।

    ‘আপনার কি শরীর খারাপ লাগছে? পেছন থেকে কে যেন জিজ্ঞেস করল। ‘বুকে ব্যথা?’ আরেকজন।

    কী বলবেন তিনি? চোখের জলে সমস্ত ঝাপসা দেখছেন। কোনওমতে চিঠিটা দেখিয়ে বললেন, ‘মায়ের…মৃত্যু সংবাদ…।’

    ‘আমরা কি আপনাকে একটু ধরব? একটু কোথাও বিশ্রাম করবেন? জল খাবেন?’

    ‘না, এখুনি সামলে যাব।’ এবার একটু স্পষ্ট করে বললেন বিজু রায়। রুমাল বার করে চোখ মুখ ভাল করে মুছলেন। কার্ডের চিঠিটাতে দেখলেন ঠিকানা লেখা রয়েছে স্পষ্ট অক্ষরে।

    একটা খালি রিকশা যাচ্ছিল। তাড়াতাড়ি সেটা ধরে ঠিকানাটা বললেন তিনি। খুব লজ্জা পেয়েছেন। কত জনে তাঁকে এভাবে বেসামাল অবস্থায় দেখল কে জানে! কী দেখল? একটা আধবুড়ো লোক গুঙিয়ে গুঙিয়ে কাঁদছে। প্রকাশ্য রাস্তায়। কিন্তু তিনি তো এভাবে নিজেকে দেখেন না! দেখছেন না আর। তিনি তো আসলে বিজন, বিজু। একটা কুড়ি—একুশ বছরের ছেলে, গালে অল্প কুচো দাড়ি। এখনও ক্ষুর পড়েনি। যেসব বন্ধুর তাড়াতাড়ি দাড়ি গজিয়েছে তারা বলত—মাকুন্দ। সেই বিজু একেবারে কাঁচা, যার সদ্য ভগ্নীবিয়োগ হয়েছে, সে একরকম আত্মবিয়োগও তো বটে! মা বাবা দাদা দিদি সবাইকে ছেড়ে অচেনা—অজানা দুনিয়ার পথে একলা যাত্রী। বিজন।

    মায়ের চিঠিটাতে তারিখ তেসরা অক্টোবরের। মা শিবানীকে দিয়ে চিঠি লিখিয়েছে। এতকাল পরে সেই চিঠি! পোস্টের গণ্ডগোল! এইরকম! অক্টোবরের চিঠি আসতে আসতে বছর ফুরিয়ে গেল? তিনি আবার পোস্টের ছাপটা পরীক্ষা করতে লাগলেন, পোস্ট করবার তারিখটা ভালই পড়া যাচ্ছে। সতেরো, বারো, বিরানব্বই। তার মানে? এ চিঠি মা শিবানীকে পোস্ট করতে দিয়েছিল। পোস্ট হয়েছে সতেরো বারোয়। মানে প্রায় আড়াই মাস পরে? আরে! বিজনের মনে পড়ল তেসরা রাত থেকেই মায়ের বুকের কষ্টটা শুরু হয়। তারপর দুটো দিন আর নিশ্বাস ফেলবার ফুরসত ছিল না। শিবানীর তো নিশ্চয়ই ছিল না। মা মারা গেল, কাজের দিন অবধি শিবানী ছিল। তার পরেই বোধহয় মাইনে চুকিয়ে দিয়েছিলেন। চলে গেল চোখের জল মুছতে মুছতে। শিবানী কি ভুলে গিয়েছিল চিঠি ফেলতে? তার ব্যাগেই পড়েছিল চিঠিটা এতদিন! না কি বিজুর ভাগ্যই তাকে ভুলিয়ে রেখেছিল, তাকে দিয়ে পোস্ট করিয়েছিল ওই সতেরো বারো তারিখে যাতে বিজু পায়, বিজু হদিশ পায়। মায়েরও। ছুটকিরও।

    রিকশাঅলা বলল, ‘এ তো অনেক দূর। নতুন সব ঘরবাড়ি হয়েছে এদিকে। জলা—জঙ্গল ছিল বাবু। ওসব মিউনিসিপ্যাল এরিয়া নয়। পঞ্চায়েতের। তবে সুন্দর সুন্দর বাড়ি উঠেছে আজ্ঞে। একতলা, দোতলা স্টেশন থেকে কাছে পড়বে।’

    দূর থেকে পাড়াটা চোখে পড়ল। স্টেশন রোড থেকে ডাইনে নেমে যেতে হবে। একসার দোকান। তারপর মাটির রাস্তা। উঁচু দোতলা বাড়ি। ছকোনা জলের ট্যাঙ্ক। আরও বাড়ি রয়েছে। এদিক ওদিক। তারাও সুন্দর। কিন্তু এটি যেন সগর্বে মাথা তুলে আছে। রিকশাঅলা বলল, ‘বাতিঘর। ওই বাড়িই আমাদের নিশানা বাবু।’

    চমৎকার বাড়িটি। ঢালু টালির ছাদ। এগুলো আসলে টালি নয়। সিমেন্ট জমিয়ে ওইভাবে করা। আজকাল করে। ফিকে লাইল্যাক রং বাড়িটাতে। জানলা—দরজাগুলো বন্ধ। ঘিয়ে রঙের। কার্নিসেও মেটে লাল রং। বাড়ির পাশ দিয়ে একতলার জমি থেকে দোতলার ছাদ বেয়ে ট্যাঙ্কের পাশে পর্যন্ত উঠে গেছে চমৎকার ঝিরিঝিরি লতা। ফুল নেই। কিন্তু লতাটিরই বাহার খুব। আশেপাশে অল্পস্বল্প জমি। রিকশাঅলা বাড়িটার কাছাকাছি হতে বিজন অবাক হয়ে দেখলেন—এই ঠিকানাই। ”বাতিঘর”। নামটা দেওয়া নেই। কিন্তু ঠিকানা এটাই। তাই তো! তিনি অবাক হচ্ছিলেন কেন? বাতিঘর! অথই জলে নিরুদ্দেশ, কূলহারানো নাবিক ওই বাতিঘর দেখেই তো ভরসায় ফিরবে!

    তিনি নেমে আগে রিকশাটিকে বিদায় করলেন। এখন অনেক চমক, চেনাচেনি, জানাজানি। অনেক অপ্রস্তুত নীরবতা। হিল্লোলিত আনন্দ। বাইরের কেউ সাক্ষী না থাকে। তিনি সন্তর্পণে বেলটা একবার বাজিয়েই হাত নামিয়ে নিলেন।

    বাড়ির ভেতরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বেলের আওয়াজ। নিবিষ্টমনে শুনছে বিজু। দরজা খুলে গেল। বেগুনি পাড় একটা সাদাসিধে শাড়ি পরা রোগামতো মহিলা দরজা খুলে দিলেন। অনেক কালো চুলের মধ্যে অনেক সাদা চুল। কপালের ওপর দুটো সমান্তরাল রেখা। আনুভূমিক। ছোট্ট নাক, ঢেউ খেলানো ঠোঁট। মাজা কালো রঙের এক পাতলা মিষ্টি প্রৌঢ়া। বিজন হাঁ করে তাকিয়ে রয়েছে।

    ‘কাকে চান?’ কোনও কথা বলতে পারছে না বিজন। হাঁ করে দেখছে, সে যেন মিলিয়ে যাবে এখুনি ওই সাদা—কালো চুলের ঢালে, ওই বড় বড় পল্লব ঘেরা চেরা চোখের সাদায়, ওই ছোট্ট নাকটিতে।

    ‘কাকে চান?’

    বিজন বলল, ছুটকি, আমি বিজু রে!’

    প্রৌঢ়া তার দিকে তাকিয়ে যেন পাথরের প্রতিমা হয়ে গেলেন। অনেক, অনেকক্ষণ পরে বিজন বলল, ‘তোর বাড়িতে আমায় ঢুকতে দিবি না? ছুটকি?’

    নীরবে দরজা ছেড়ে সরে দাঁড়ালেন প্রৌঢ়া।

    বিজন ঢুকল। দরজা বন্ধ হয়ে গেল। একটা মস্ত চৌকো দালান। কয়েকটা চমৎকার বেতের সোফা সাজানো, কয়েকটা মোড়া। দালানের ওদিক থেকে দোতলার সিঁড়ি উঠে গেছে। চকচকে পেতলের পাত দিয়ে মোড়া তার ওপরটা। যতটা দেখা যায়, ওপর থেকে একটা পেতলের পাত্র থেকে অর্কিড ঝুলে রয়েছে।

    ‘বসতে বলবি না, ছুটকি?’

    ‘বোস’—বোজা গলায় প্রৌঢ়া বললেন।

    ‘তুই বসবি না?’

    দূর থেকে একটা মোড়া টেনে এনে বসলেন প্রৌঢ়া।

    ‘ছুটকি, তুই খুশি হোসনি?’

    প্রৌঢ়া দুহাতে মুখ ঢেকে ফেললেন। আঙুলের ফাঁক দিয়ে জল গলছে। দু হাতের ঢাকার মধ্যে মুখটা কেঁপে কেঁপে উঠছে। বিজন বুঝল এ কোনও প্রৌঢ়া নয়, ঊনষাট বছরের। এ সেই কুড়ি একুশ বছরের তরুণী, যে তার মা—বাবা—দাদা—দিদি বিশেষত যমজ ভাই বিজুকে সাংঘাতিক ভালবাসত, কিন্তু ভাগ্যের ফেরে আরও বেশি ভালবেসে ফেলেছিল এমন একজনকে যাকে তার ভালবাসা উচিত নয় আদৌ। স্বাভাবিকও নয়। বয়সে অনেক বড়, সম্মানে ঐশ্বর্যেও অনেক অনেক বড়, ভিন্ন জাত। যাকে বলে ছোট জাত এবং বিবাহিত। অমোঘভাবে বিবাহিত একটা সন্তানের জনক। বিজু আজও তাঁর নাম জানে না। পরিচয় জানে না। তার বাড়ির লোকেও জানত কি না সন্দেহ। ছুটকি জানত কেউ মেনে নেবে না। কেউ ক্ষমা করবে না। তাই ছোট্ট একটা চিঠি লিখে রেখে চলে গিয়েছিল। সে লিখে গিয়েছিল—তার ভালবাসার মানুষটির বয়স চল্লিশের ওপর, তিনি ষোলো সতেরো বছরের একটি পুত্রের পিতা। বিশাল ধনী। কিন্তু তিনি খুবই অসুখী। ছুটকিতেই তার সব সুখ। তিনি ছুটকিকেই বিয়ে করবেন। মা—বাবা যদি মেনে নেন এ ভালবাসা, যদি ক্ষমা করেন, তাহলে তার নির্দেশক হিসেবে অন্তত একমাস যেন প্রতিদিন তার হলুদ কালো খড়কে ডুরে শাড়িটা ছাদে মেলে রাখেন। সে তখন স্বামীর সঙ্গে এসে সবাইকে প্রণাম করে যাবে।

    স্তম্ভিত পরিবারের সবাই। বজ্রাহত। কখনও এমন ঘটে, ঘটতে পারে কেউ ভাবেনি পর্যন্ত। কে এ লোক? কোথায় এর সঙ্গে পরিচয় ছুটকির? চল্লিশ বছুরে। বাড়িতে বউ ছেলে মেয়ে সব আছে! তাকে ছুটকি! ছি, ছি, ছি! প্রথমে ঠিক হল ছুটকি যেমন বলেছে তেমনি হবে। হলদে—কালো ডুরে শাড়িটা ছাদে মেলে রাখা হবে। ছুটকি আসবে, তারপর তাকে ঘরে আটকে রাখা হবে। চোরের মার দেওয়া হবে। আর সেই লোকটিকে? সে যদি আসে? আসবেই। ছুটকি একা আসবে না। বিরাট ধনী যে! নাকি কোটিপতি! তাকে অত সহজে মার খাওয়ানো যাবে? রাইটার্সের ছাপোষা কেরানি বঙ্কুবিহারীবাবুর দাঁতে দাঁত লেগে যাচ্ছে ভাবতে গিয়ে। এমন সময় মা ছুটে গিয়ে সেই হলুদ—কালো খড়কে ডুরে শাড়িটা এনে উঠোনের মাঝখানে স্রেফ দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে সেটাকে কুটি—কুটি করে ফেলল। বলল, ‘ওর নাম আর কেউ তোমরা আমার সাক্ষাতে উচ্চারণ করবে না। ও মরে গেছে। মরে গেছে ধরে নাও।’ মায়ের চোখ—মুখ ভয়ঙ্কর পাগলিনীর মতো।

    ছুটকির মুখ থেকে হাত সরে গেছে। চোখ বোজা। সে বুকের কাছটা আঁকড়ে ধরেছে। ভিজে মুখ এখন মড়ার মতো ফ্যাকাশে, ভেতরের যন্ত্রণায় বিকৃত হয়ে যাচ্ছে থেকে থেকে। বিজু বুঝতে পারল ছুটকি এখন তার সেই পাওনা মারটা খাচ্ছে। সেই চোরের ঠ্যাঙানি যা দিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনবার কথা ভাবা হয়েছিল।

    ‘ছুটকি! তোর বড্ড কষ্ট হচ্ছে?’ কুড়ি বছরের তরুণ বিজু এখন। তার গলা বুজে যাচ্ছে।

    প্রাণপণে নিজেকে সংবরণ করে ছুটকি বলল, ‘তুই কী করে এলি?’

    বিজন হেসে বলল—’আমি বিজু, যা অন্যে পারে না, তা পারি। এই নে তোর চিঠি। মায়ের চিঠিটা খুলে পড়েছি। তার জন্য যা শাস্তি ইচ্ছে হয় দিস।’

    চিঠি দুটো নিল ছুটকি। মায়ের চিঠিটা খুলে পড়তে লাগল। পড়তে পড়তে সে প্রাণপণে নিজেকে সামলাবার চেষ্টা করছে বুঝতে পারে বিজু। কিন্তু পারছে না, ছুটকি পারছে না। সে বসে বসে টলছে। যেন তার ভার্টাইগো হয়েছে। বিজু উঠে দাঁড়িয়ে তাকে ধরল। কতদিন পরে সেই প্রিয় স্পর্শ। বিজন উপবিষ্ট ছুটকির মাথাটা নিজের কোলের মধ্যে নিল। ছুটকি বলল, ‘কেন এলি, বিজু, কেন এলি?’ তারপর সে উঠে দাঁড়িয়ে একরকম দৌড়ে চলে গেল। বেশ কিছুক্ষণ পরে যখন আবার এসে দাঁড়াল বিজু দেখল চোখ মুখ সে ভাল করে ধুয়ে এসেছে। কিন্তু মুখটা ফুলে গেছে। সে বলল, ‘আমাদের গত সাতাশে অক্টোবর আটান্ন পার হয়ে ঊনষাট হল। ভুল করিসনি ছুটকি, এখন আর মান—অভিমানের দিন নেই। জামাইবাবু কোথায়? তুই ডাকবি না আমি যাব?’

    ‘নেই রে।’

    তখন ছুটকির পোশাকের দিকে তার চোখ পড়ল। মাথায় সিঁদুর নেই। হাতে কিচ্ছু নেই। সাদা, সরু পাড় শাড়ি। বিজু মুখ নিচু করল, তারপর একটু পরে বলল ‘এ জীবনে দেখা হল না, আমার দুর্ভাগ্য, ছুটকি, ছেলেমেয়েরা কোথায়?’

    ‘নেই বিজু।’

    ‘মানে? কোথায়?’

    ‘নেই। কোনওদিন ছিল না।’

    ‘স্বপ্নেন্দু, ঈপ্সিতা…মাকে লিখেছিস যে!’

    ‘ভোলাতে।’

    আশ্চর্য হয়ে বিজু বলল, ‘ভোলাবার কী আছে? জামাইবাবুর চলে যাওয়ার খবর দিসনি ভালই করেছিস। কিন্তু ছেলে মেয়ে না হওয়া—এমন কী ব্যাপার, যে বানিয়ে বলতে হবে?’

    ছুটকি চুপ করে রইল।

    বিজু বলল, ‘আজ কিন্তু তোর বাড়িতে থাকব, নড়ছি না এখান থেকে সহজে। তোর হাতে খাব।’

    ‘তা হয় না বিজু!’

    ‘সে কী? আমায় তাড়িয়ে দিচ্ছিস?’

    তখন ছুটকি মুখ নিচু করে বলল, ‘বিজু, এ আমার বাড়ি নয় ভাই, আমি এ বাড়ির রাঁধুনি।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমেয়েলি আড্ডার হালচাল – বাণী বসু
    Next Article পঞ্চম পুরুষ – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }