Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বৃশ্চিকচক্র – পিয়া সরকার

    পিয়া সরকার এক পাতা গল্প321 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    এতদিন স’য়ে স’য়ে এইবারে মারব

    এতদিন স’য়ে স’য়ে এইবারে মারব

    খবরটা এসেছিল চারটে ছেলের কাছ থেকে। আজ সকালে তারা স্কুল পালিয়ে জলাজঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সামনেই চড়কের মেলা। ওদের ইচ্ছা ছিল একটু বেলার দিকে লহড়িয়া শিব মন্দিরের দিকে যাবে। মেলার জন্য স্টল বাঁধা হচ্ছে, লোকজন এসেছে, নানা কথা বার্তা, নানা গল্প; এসব ওদের আকৃষ্ট করে। পড়ায় মন লাগে না। চারজনেরই সঙ্গে সাইকেল ছিল।

    লহড়িয়া শিব মন্দির যাওয়ার পথে একটা বিরাট কাঁচা মাটির রাস্তা পড়ে; তার দুদিকে লহড়িয়া ড্যামের টলটলে জল। সেই রাস্তার উপর থেকেই দূরে নিচের দিকে তাকালে লহড়িয়া শিবের থান দেখা যায়। ছেলে চারটি আজ সকাল দশটা নাগাদ সেই পথে যাচ্ছিল। লহড়িয়া শিবের রাস্তায় যাওয়ার আগে পথের ধারে ছোটছোট ডুংরি পাহাড় পড়ে। কী মনে হওয়াতে, সাইকেল থামিয়ে তারা ওখানেই দাঁড়িয়ে গল্প করছিল। হঠাৎই চোখ পড়ে একটা সরু মত বাইপাস রাস্তার দিকে। ভাঙা-চোরা, খোয়া ফেলা রাস্তা। প্ল্যান বদলিয়ে তারা ঠিক করে ঐ রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে নিচে নামবে, তারপর আবার একইপথে ফিরবে। যে রেসে লাস্ট হবে সে বাকিদের মেলা থেকে কুলফি মালাই কিনে খাওয়াবে।

    পথটায় এগোতে গিয়ে তারা বোঝে যে প্ল্যানিংটা ঠিক হয়নি। রাস্তা শুধু খারাপ তাই না, প্রচণ্ড ঢাল। ডান দিকে খাদ, বাঁদিকে জঙ্গল। সাইকেল চালাতে গেলে হুমড়ি খেয়ে পড়ার সম্ভাবনা। কিন্তু তখন কী আর পিছিয়ে আসলে চলে! চারজনের মধ্যে সবথেকে ভীতু ছেলেটিকে বাকি তিনজন ঠেলে দিয়ে বীরত্বের পরীক্ষা দিতে বলে। সে রাজি না হলে, বাকিরা দুয়ো দুয়ো রব তোলে। তখন সে বাধ্য হয়ে সাইকেল নিয়ে সেই পথে নামে এবং কিছুক্ষণ পরেই আছড়ে পড়ে মাটিতে। সাইকেল সমেত ঘষটাতে ঘষটাতে নেমে আসে নিচের দিকে।

    বাকি বন্ধুরা সাইকেল ফেলে তখন দৌড়ে নেমে এসেছে ওর দিকে সাইকেলটা ছিটকে গিয়ে পড়েছে খাদের দিকে। আর ছেলেটি পড়েছে বিচুটি গাছের ঝোপের উপর। তার হাত পা তো ছড়ে গেছেই, সঙ্গে সারা হাতে, পায়ে, মুখে বিচুটি পাতা লেগে গিয়ে বীভৎস চুলকাচ্ছে। হাত বাড়িয়ে বন্ধুকে তুলতে গিয়ে ওদের একটু দূরে, পথের বাঁদিকে নজর পড়ে। ধুতরো, বিচুটি, ঘেঁটু, রাঙাচিতের ঝোপে ঢাকা বনের প্রান্ত। খানিকটা ভিতরে সোনাঝুরি গাছের জঙ্গল, আর তারপরেই শালবন শুরু হয়েছে। ঝোপের ধারেই একটা মোটা গাছের পাশ ঘেঁষিয়ে একটা কালো রঙের সিডান গাড়ি দাঁড় করানো। আলো পড়ে চকচক করছে কাচগুলো। এ পথে ট্যুরিস্ট আসে না, এত বড় গাড়ি এল কোথা থেকে! ওরা পায়ে পায়ে এগোয় গাড়িটার দিকে। ভালো করে ভিতরটা দেখার জন্য জানালার কালো কাচে মুখ ঠেকায় ওরা। আর তারপরেই ভয়ে শিউরে ওঠে। সামনের বেইজ কালারের সিটে একজনের শরীর পড়ে আছে। তার কাঁধ আর ঘাড় থেকে রক্তের ধারা বয়ে এসে ভিজিয়ে দিয়েছে তার শরীর!

    ছেলেগুলো, এর পর একছুটে দৌড়ে উপরের রাস্তায় উঠে আসে। জোরে সাইকেল চালিয়ে শিব মন্দিরের কাছে স্থানীয় লোকেদের খবর দেয়। সেখান থেকে কন্ট্রোল রুমে ফোন আসে।

    খবরটা শোনার পর থেকে আমার প্রবল অস্বস্তি হচ্ছিল। গত চারঘন্টা ধরে আমরা ক্রমাগত পুরুলিয়ার রাস্তা ধরে ছুটে চলেছিলাম। এস.পি রঘুরাম পুরো ঘটনাটা মতিদাকে ফোনে ব্রিফ করছিলেন। পুরুলিয়া থেকে আরও দু গাড়ি ফোর্স আসছে, সঙ্গে নিজেও রওনা হয়েছেন অকুস্থলের দিকে। আজ সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ ডি.আই.জি রায় হোটেল সায়নদীপ থেকে বেরোন, সঙ্গে দুজন বন্দুকধারী বডিগার্ডও ছিলেন। গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কলকাতা যাওয়ার কথা আজ। কাল রাত সাড়ে আটটা অবধি হোটেলে এক জার্নালিস্টকে ইন্টারভিউ দিয়েছেন। বাঁকুড়ার সদ্যসমাপ্ত সফল মাওয়িস্ট অপারেশনের অনারে একটা বড়সড় প্রতিবেদন বেরোবে ন্যাশনাল নিউজপেপারে। হোটেলের সামনেই হঠাৎ সেই জার্নালিস্ট ভদ্রলোকের সঙ্গে আবার দেখা হয়ে যায়। দুজনে করমর্দন করেন, সিগারেট বিনিময়ের পর খোশগল্প শুরু হয়। বডিগার্ডরাও নিশ্চিন্ত হয়ে নজরদারিতে ঢিলে দেয়। লোকটি পরিচিত, কালকেই উচ্ছ্বসিত হয়ে গল্প করতে দেখেছেন ডি.আই.জি রায়ের সঙ্গে। ইন্টারভিউয়ের পর একসঙ্গে ডিনারও করেছেন দুজনে।

    চটক ভাঙে একটা গাড়ির শব্দে। ক্যাঁচ করে ব্রেক কষে দাঁড়াল যেন পাশে। চোখের পলকে জার্নালিস্টের হাতে উঠে আসে রিভলবার, যার নল তাক করা ছিল ডি.আই.জি রায়ের দিকে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝতে দেরি হয় না দেহরক্ষীদের। বেগড়বাই দেখলেই হাতের রিভলবার থেকে গুলি চালিয়ে দেবেন জার্নালিস্ট। ডি.আই.জি রায়কে এবার গানপয়েন্টে রেখে জোর করে ঠেলে ঢুকানো হয় একটা কালো সিডানে। মাত্র কয়েক সেকেন্ড, সিডানটা ধুলো উড়িয়ে বেরিয়ে যায়। দেহরক্ষীরা সম্বিত ফিরে পেয়ে গাড়ির চাকা লক্ষ করে গুলি চালালেও গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষপর্যন্ত সি.আর.পি.এফের একটা টিম গাড়িটাকে লোকেট করে, আবার ফায়ার করে। অপরপক্ষ থেকেও গুলিবিনিময় হচ্ছিল। সি.আর.পি.এফের গুলিটা নাকি ড্রাইভারকে বিদ্ধ করেছে, সি.আর.পি.এফ জওয়ান কনফার্ম করছেন। তা সত্ত্বেও গত চারপাঁচঘন্টা ধরে পুলিশের সঙ্গে বিড়াল-ইঁদুর খেলে গাড়িটা কোথায় হাওয়া হয়ে গিয়েছিল খোঁজ পাচ্ছিল না কেউ।

    সি.আর.পি.এফ আর রাজ্য পুলিশের গাড়ি দাঁড় করানো ছিল ঢালু রাস্তার ধারে। সেটা বেয়ে ছুটে নামতেই কালো সিডান গাড়িটা দেখলাম। দু তিনজন কনস্টেবল গাড়ির দরজাটা খুলে একটা বডি বার করছে। পঞ্চাশ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে আমি সেই মৃত শরীরকে চিহ্নিত করতে পারছিলাম। মতিদা পাশ থেকে দ্রুত হেঁটে গেলেন, সি.আর.পি.এফ টিম জঙ্গলের মধ্যে মার্চ করে এগিয়ে যাচ্ছিল, কনস্টেবলরা লোকের ভিড় সরাতে ঘনঘন হুইশল বাজাচ্ছিল। আমার মাথার উপর বৈশাখের চড়চড়ে রোদটা আরও রুক্ষ, আরও নিষ্ঠুর হয়ে উঠল। কোনো একজনের চকচকে চোখের ঝকঝকে হাসিটা মনে করে বুক কেঁপে গেল।

    বিধুর নিস্পন্দ বুক জুড়ে নেমে আসা তাজা রক্তপলাশের মত রক্তস্রোত আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছিল, ও আর নেই! গুলিটা বোধহয় ঘাড়ে বা কাঁধে মোক্ষম জায়গায় বিদ্ধ করেছে। মতিদা ওর কাছে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকালেন। আমি কাছে গিয়ে বিধুর মুখ দেখব না ঠিক করেছিলাম। এই গল্পের শেষটুকু অন্য কেউ রচনা করবে। সমাপ্তিটা দেখার জন্য আমার মনে অদ্ভুত তাড়না কাজ করছিল। প্রথমবার একটা আদিম দানবীয় স্পর্ধাকে নিজের মধ্যে অনুভব করলাম। জঙ্গলে এক পা দিয়ে মতিদাকে ডাকলাম, “আসুন মতিদা।”

    আমরা দুজনে জঙ্গলে পা রাখলাম। সি.আর.পি.এফ জওয়ানেরা আলাদা আলাদা দলে ভেঙে আমাদের আগে পিছে এগোচ্ছিল। সঙ্গে দুজন বনদপ্তরের লোক। ওদের ধারণা ডি.আই.জিকে এই দুর্ভেদ্য জঙ্গলের মধ্যেই নিয়ে গেছেন নিরঞ্জন। জঙ্গলটার দৈর্ঘ্য কত সেটা এখান থেকে বোঝা না গেলেও, প্রস্থে যে বিরাট হবে সেটা বোঝা যাচ্ছিল। দূরে সি.আর.পি.এফ জওয়ানরা বাঁশি বাজাচ্ছিল। সি.আর.পি.এফ কমান্ডার পাশে হাঁটতে হাঁটতে বললেন, “লগতা হ্যায়, টিলা কে উপর লে কে গয়া।”

    টিলাগুলো এখনও দূরে। সবুজ ঘন অরণ্যে ঢাকা গা, ছায়াঘেরা পরিবেশ, গহীন নিস্তব্ধতা। হয়তো এই পথেই মাদল বাজাতে বাজাতে শিকারির দল এগিয়ে যেত অরণ্যের গভীর থেকে গভীরে। বিধা পরবে ঢাক, ঢোল, রামশিঙা, লাগড়ার শব্দে মুখর হত পৃথিবী। শিকারের গায়ে শেষ আঘাতটা হানার পর মাদল বেজে উঠত।

    …..টা…টা…টাঙিনটা…টা…টা…

    দ্রুত হাঁটার ফলে আমাদের সারা গা বেয়ে ঘাম গড়াচ্ছিল। পায়ের তলায় শুকনো পাতা আর হলুদ ফুলের মৃতদেহ পেরিয়ে এসেছি কিছুক্ষণ। শাল বনে ঢুকতেই পাতাগুলোয় অদ্ভুত শনশন করে আওয়াজ হল। যেন বল্লম, ভাল্লা, টাঙ্গি আর তীরধনুকে শান পড়েছে বহুদিন পর। চারিদিকে এত ঘন ছমছমে অন্ধকার যে ঝিঁঝিঁ ডাকছে। মাঝে মাঝে উপরে তাকালে দেখা যায়, বনের চাঁদি ফুঁড়ে সরু সরু আলোর রেখা নিচের দিকে নেমে আসছে। পায়ের তলার জমি ঢেউ খেলানো। কখনও খড়বড়ে অসমান উঁচু নীচু জমি, তার মধ্য দিয়ে কোথাও কোথাও সরু জলের নালা বয়ে চলেছে।

    সি.আর.পি.এফ কমান্ডারটির নাম রবীন্দ্র শুক্লা। কাঁধে সেলফ লোডিং লাইট মেশিনগান। একটা টিলার দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, “উস টিলেকে উপর যানে কে লিয়ে দো রাস্তে হ্যায়। এক সিধা টপ তক যাতা হ্যায়, দুসরা থোড়া টেড়া হ্যায়, পরন্তু এক রক টানেল হোকে যাতা হ্যায়। ছুপনে অউর ছুপানেকে লিয়ে আইডিয়াল জগা হ্যায়। ম্যায় বহতবার দেখা হু উস রস্তে কো। অ্যাবডাক্টর শায়েদ উসি রস্তা লেগা।”

    মতিদা ভাঙা ভাঙা হিন্দিতে সাজেস্ট করলেন, দুটো দলে ভেঙে জওয়ান পাঠাতে। একটা সোজা ডুংরির উপরে ওঠার জন্য, আরেকটা রক টানেল অবধি পৌঁছানোর জন্য। রবীন্দ্র শুক্লা ওয়ারলেসে উর্দ্ধর্তনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। আমি পাথুরে ডুংরিটা ভালো করে খেয়াল করছিলাম। উঁচু ইগনিয়াস পাথরের দেওয়াল খাড়াই উঠে গেছে প্রায় সাত আটশ ফুট। খুব উপরে তাকানো যায় না। বাঁশঝাড়ের উপর দুপুরের তীব্র রোদ পড়ে চোখ ঝলসে দিচ্ছে।

    এ পথে পাহাড়ে ওঠা অসম্ভব। কোনো ঢালু অংশ নেই, যার উপর পা রেখে ওঠা যাবে। জওয়ানেরা বাঁদিকের পথ ধরলো, ওদের দেখাদেখি আমরাও এগিয়ে গেলাম। কিছু দূর সোজা যাওয়ার পর একটা ঢালু পথ পাওয়া গেল। পাথরের স্ল্যাব ঢালু হয়ে উপরের দিকে উঠেছে। পায়ে চলার পথ তৈরি হয়েছে। লোক চলে তবে এ পথে! আমরা পাথুরে পথ ধরে উঠতে শুরু করলাম। চারপাশে গাছ ছাড়া আর কিছু নেই। যতদূর চোখ যায় গাছের গুঁড়ি ধাপে ধাপে উপরের দিকে উঠে গেছে। আমার আর মতিদার ঘন ঘন শ্বাস পড়ছিল। জওয়ানেরা উপরে উঠে ডানদিক বাঁদিকে দেখে আবার এগোচ্ছিলেন।

    কিছুদূর এগোতেই পথটা দুদিকে ভাগ হয়ে গেল। একটা ডানদিকে বেঁকে খাড়াই উঠে গেছে। নিচে থেকে একটা চূড়া দেখা যাচ্ছে। একটা শিলাখণ্ড সামান্য ঝুঁকে তাকিয়ে রয়েছে নিচের উপত্যকায়। আরেকটা শুঁড়ি পথ একটা অন্ধকার গুহার মধ্যে হারিয়ে গেছে। গুহাটার মুখে ঝুরো ঝুরো পাথর, খসে পড়ে আছে মাটিতে। মাটিও এখানে সামান্য নরম, ভিজে। কিছুদূর এগোতেই দাগটা চোখে পড়ল। প্রায় ছ ইঞ্চি চওড়া একটা দাগ মাটিতে স্পষ্ট। লম্বাটে দাগটা গুহার ভিতরে চলে গেছে। রবীন্দ্র শুক্লা সেটার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে খানিকক্ষণ দেখলেন। তারপর বললেন, “লগতা হ্যায় কোই লকড়িকে তক্তেকে সাথ বান্ধকে খিচা গয়া হ্যায়। ইসি রস্তে সে গয়া হ্যায় লগতা হ্যায়।”

    আমি মাটিটা ভালো করে খেয়াল করলাম। পাথরের গুঁড়োগুলো এক এক জায়গায় যেন বেশি গুঁড়িয়ে গেছে। ওজন সমেত তক্তা টানার ফলে হতে পারে। পিছন ফিরে আবার পথটা দেখলাম। যে পথে এসেছি সে পথে তক্তায় বেঁধে টেনে আনার স্কোপ নেই। ডি.আই.জিকে নিশ্চয়ই কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে এ পথে তুলে আনা হয়েছে। তারপর তাকে তক্তায় বেঁধে…কিন্তু একজন পূর্ণবয়স্ক অত্যন্ত ফিট মানুষকে এই ভাবে হ্যান্ডল করা সম্ভব নয়! তাকে নিশ্চয়ই ভালোমত আহত করা হয়েছে। তারপর শরীরটাকে দড়ি দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে টানা হয়েছে। রোমান এক্সিকিউশনের কথা মনে পড়ে গেল। এইভাবে টানার ফলে ভিকটিমের প্রাণ যায় না, শুধু গলায় দড়িটা কেটে কেটে বসে। একবারে ফাঁসিতে মৃত্যুর থেকে যা কয়েকশো গুণ বেশি কষ্টকর।

    “নিশীথ মাহাতোকেও বোধহয় এভাবে তুলেছিল!” মতিদা পাশ থেকে বললেন।

    আমি এই অপারেশনের পরিণতির কথা ভাবছিলাম। নিরঞ্জন বিলক্ষণ জানবেন তাঁর পিছনে পুলিশ আসবে, আর্মড ফোর্স আসবে। সেসব উপেক্ষা করে উনি এই পথে ডি.আই.জি রায়কে নিয়ে এসেছেন! কী পরিকল্পনা আছে ওঁর মাথায়!

    রক টানেলটায় ঢোকার মুখে জওয়ানরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রবীন্দ্র বললেন, টানেলটার দু মুখই খোলা। তবে ভিতরে একটা শার্প বেন্ড আছে বলে আলো ঢুকছে না।

    “পসিবলি ভিকটিম শার্প বেন্ডকে উস পার হোগা, ইয়া ফির টানেল মে হোগা হি নেহি। গেট রেডি বয়েজ।” রবীন্দ্র শুক্লা তার ব্যাটেলিয়নকে অর্ডার দিলেন। আমরা রিভলবার বার করে আনলক করলাম। আর ঠিক তখনই একটা ফায়ারিংয়ের শব্দে গাছে বসা একঝাঁক পাখি প্রচুর শব্দ করে উড়ে গেল। হুড়মুড়িয়ে টানেলের ভিতরে ঢুকে সবাই দৌঁড়ালাম। ও প্রান্ত থেকে, আলোর রেখা দেখা যাচ্ছিল। আবার একটা ফায়ারিং হল।

    রবীন্দ্র শুক্লা দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, “মাদারচোদ! মার ডালা হোগা শালেনে।”

    আমি দ্রুত শ্বাস নিচ্ছিলাম।

    রবীন্দ্র শুক্লার কথায় বিশ্বাস হল না। শুধুমাত্র গুলি করে মারার জন্য এত দূর এত ঝুঁকি নিয়ে অভিনন্দনকে নিয়ে আসতেন না নিরঞ্জন। কোনো বীভৎসতম শাস্তি ওঁর জন্য অপেক্ষা করছে বুঝতে পারছিলাম। কিন্তু ফায়ারিংটা হচ্ছে কেন! টানেলটা থেকে বেরিয়েই চোখ পড়ল দৃশ্যটার দিকে। রাস্তাটা এখান থেকে ঢাল হয়ে নেমে গেছে নিচে। উঁচুতে দাঁড়িয়ে পিছনে দেখলে লহরিয়া ড্যাম দেখা যাচ্ছে। আর সামনে একশ মিটার দূরে ঢাল জমির উপর মাথা তুলেছে একটা ওয়াচ টাওয়ার। লোহার খাঁচা, কাঠের সিঁড়ি। বহু পুরোনো, পরিত্যক্ত। পিছন দিক থেকে কাঠের সিঁড়ি উঠে গেছে দোতলায়। সবুজ টিনের ছাদ সামান্য বেঁকে ঝুলছে। নিচ থেকে উপরের কোনো দৃশ্য দেখা যাচ্ছে না। আবার একটা ফায়ারিং হল। কে যেন ধুপধাপ করে টাওয়ারের সিঁড়ি বেয়ে নেমে জঙ্গলের দিকে দৌড়ে গেল। এদিক থেকে তাকে চেনা গেল না। সি.আর.পি.এফের টিম দুভাগে ভাগ হয়ে গেল। একদল সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেলেন, আরেকদল লোকটার খোঁজে জঙ্গলের দিকটায় গেল। আমার মন বলছিল ফায়ারিংটা একটা ফাঁদ।

    সি.আর.পি.এফের দলটা দুরদুর করে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে শুরু করল।

    আমরা পিছন পিছন উঠলাম। সিঁড়ির মাঝ বরাবর যেতে একটা লম্বাটে ছায়া চোখের কোণে ধরা দিল। ওয়াচটাওয়ারের দোতলায় ঠিক মাঝবরাবর দাঁড়িয়ে আছে ছায়াটা। একদম স্থির।

    আমরা সিঁড়ির শেষ ধাপে পা রেখেছিলাম। এত পুরোনো এটার কনস্ট্রাকশন যে এতগুলো লোক উঠতে উঠতে মনে হচ্ছিল ধ্বসে পড়ে যাবে। দোতলায় উঠে অদ্ভুত একটা দৃশ্য নজরে পড়ল। টিনের ছাদের মাঝখান থেকে একটা হুকের সঙ্গে একটা শক্তপোক্ত দড়ি ঝুলছে। দড়িটা ফাঁস হয়ে লাগানো যার গলায়, তাকে আর চেনা যায় না। দামী শার্ট প্যান্ট স্থানে স্থানে ফেঁটে ক্ষতবিক্ষত চামড়া দেখা যাচ্ছে। দুই হাত পিছু মোড়া করে বাঁধা। মুখটা শক্ত করে কাপড় দিয়ে বাঁধা। মাথার একটা দিক থেকে অবিরত রক্ত ঝরে পড়ছে। ঘাড় ঝুলে চিবুক ঠেকে গেছে বুকে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল দড়িটা। গলায় ফাঁস দেওয়া, কিন্তু ঠিক টান টান নয়। অভিনন্দন রায়ের পাটাও দিব্যি কাঠের মেঝেতে ঠেকে আছে।

    আমরা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করলাম। এটা কী নতুন কোনো ট্র্যাপ! একটু পরে রবীন্দ্র শুক্লার মুখ থেকে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস বেরোলো। “বহেনচোত কুছ নেহি কর পায়া,” বলে সদলবলে অভিনন্দনের দিকে এগিয়ে যেতে গেলেন। অভিনন্দন মাথাটা তুলে ওদের দেখতে পেয়েছিলেন। কিন্তু ঘাড় নাড়িয়ে কী যেন বারণ করতে গেলেন। ওঁর দুই চোখের ভাষা পড়তে পারছিলাম। আর এগোলে ওঁর বিপদ আরও বাড়বে। কিন্তু চেঁচিয়ে বারণ করার আগেই সুবিশাল চেহারার রবীন্দ্র শুক্লা আর দুজন জওয়ান এগিয়ে গেছেন ওর দিকে।

    ওদের পায়ের তলায় কাঠের পাটাতনে একটা বিরাট কড়াত কড়াত শব্দ হল। আর তারপরেই সশব্দে পাটাতন সমেত ভেঙে হা হয়ে গেল মেঝে সি.আর.পি.এফ জওয়ানেরা সেই মেঝের ফাঁক গলে পড়ে গেলেন একশ মিটার নিচে। ছাদের হুক থেকে লাগানো দড়িটা এবার টানটান হয়ে গিয়েছিল। অভিনন্দন রায়ের শরীর সমেত সেটা পেণ্ডুলামের মত দোল খাচ্ছিল এদিক ওদিক।

    নিচে জঙ্গলের মধ্যে আবার একটা ফায়ারিংয়ের শব্দ হল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইলিয়াড – হোমার
    Next Article বিসাশন – পিয়া সরকার

    Related Articles

    পিয়া সরকার

    বিসাশন – পিয়া সরকার

    October 21, 2025
    পিয়া সরকার

    বৃশ্চিকচক্র – পিয়া সরকার

    October 21, 2025
    পিয়া সরকার

    বিসাশন – পিয়া সরকার

    September 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }