Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার : অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোগল – অ্যালেক্স রাদারফোর্ড

    লেখক এক পাতা গল্প789 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪.৭ তারকার হাসির পতন

    লাল পাথরের দূর্গ পুরানা কেল্লায় নিজ কক্ষে বসে আছেন হুমায়ুন। দূর্গটি দিল্লির পূর্বাঞ্চলের একপ্রান্তে শাসনামলের প্রথম দিকে নির্মাণ কাজ শুরু করেন তিনি। তবে এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন শেরশাহ ও তাঁর পূত্র ইসলাম শাহ। দূর্গটির চারপাশে পুরু দেয়াল। এতে প্রবেশের জন্য রয়েছে তিনটি চৌকিঘর ফটক। প্রায় এক মাইল বিস্তৃত এই দূর্গ সাপের মতো লম্বাটে। একইসঙ্গে এটি রাজকীয় কাজকর্মের কেন্দ্রস্থলও। হুমায়ূনের সামনের গালিচা বিছানো টেবিলে রাজ্যের খতিয়ান বই রাখা হয়েছে। বইতে শেরশাহ ও তাঁর পূত্রের শাসনামলের প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বৃত্তান্তও অন্তর্ভূক্ত আছে। জওহর এই বইটি নিয়ে এখানে উপস্থিত রয়েছেন। তাকে কয়েক বছর নিঃস্বার্থভাবে সেবা দেয়ার জন্য ব্যবস্থাপক সভার কম্পট্রোলার করা হয়েছে।

    দিল্লিতে প্রবেশের পর তাঁকে নিয়ে যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল তার রেশ এখন অনেকটা কেটে উঠছে। হুমায়ূন জানতেন যে তাঁকে নিয়ম-শৃঙ্খলায় উৎসাহিত হতে হবে এবং খবর রাখতে হবে কীভাবে তাঁর রাজত্ব চলছে এবং নতুন যেসব এলাকা জয় করা হয়েছে সেগুলো নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভোগে কর্মবিরত থাকলে চলবে না। তিনি তাঁর উপদেষ্টাদের বলেছিলেন, এখন আমাদের কাজ কেবল অর্ধেক শেষ হয়েছে। হিন্দুস্তানকে আবারও আক্রমণ করা হতে পারে যা খুব কঠিন কাজ নয়। আমাদেরকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা হিন্দুস্তানের ক্ষমতা ধরে রাখব এবং সাম্রাজ্য বাড়াবো। দিল্লিতে থাকা শেরশাহ ও ইসলাম শাহের কর্মকর্তাদের তিনি ইতোমধ্যে জিজ্ঞেস করেছেন। তিনি তাঁর বিশ্বস্থ সেনাপতিদের বিভিন্ন রাজ্য শাসনের জন্য পাঠিয়েছেন। এদের মধ্যে আগ্রাতে পাঠানো হয়েছে আহমেদ খানকে।

    কিছুটা ভ্রূ কুচকিয়ে তিনি (খতিয়ান বই) পড়তে শুরু করলেন। সবকিছুর পর জবরদখলকারীদের প্রাপ্তিও তাঁকে মুগ্ধ করছে। খতিয়ান খাতায় দেখা গেছে, সাংগঠনিক হিসেবে শেরশাহ ছিলেন দক্ষ, ধূর্ত ও প্রভাবশালী। কারণ তিনি ছিলেন ঠাণ্ডা মাথার এক হিসেবি যোদ্ধা। কোনো বিশেষ সরকারকে সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর না করতে রাজ্য সরকারের শাসন পদ্ধতিকে পুনর্গঠন করেছিলেন তিনি। তিনি রাজস্ব আদায়ের বিষয়টিও পুনর্গঠন করেছেন। অবশ্যই সাম্প্রতিক যুদ্ধকালে কর আদায় ছিল জটিল ও সমস্যার কাজ। তবে হুমায়ূনের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন যে শেরশাহ যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করে গেছেন সেগুলো এখনও বিদ্যমান আছে এবং সেগুলো আরও সক্রিয়ভাবে চালু করার দাবি রাখে। বিষয়টি হুমায়ুনের জন্য সুবিধার। তাঁর বাবা ডাইরিতে কী লিখে গেছেন? … অন্তত এই জায়গায় যথেষ্ট অর্থ আছে। হিন্দুস্তানের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে হুমায়ূন জানতেন কীভাবে ক্ষমতা রক্ষা করতে হয় ও বিস্তার ঘটাতে হয়।

    শেরশাহ রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেছেন, বাড়িঘর সংস্কার করেছেন এবং প্রতি পাঁচ মাইল পর ভ্রমনকারীদের জন্য বিশ্রামকেন্দ্র নির্মাণ করেছেন। তবে এই বিশ্রামকেন্দ্রগুলোর মুল লক্ষ্য ছিল এগুলো খবরের দূত ও ঘোড়ার জন্য ডাক চৌকি। হিসেবে ব্যবহৃত হত। এতে দ্রুত রাজ্যের বিভিন্ন অংশে খবর সরবরাহ করা সম্ভব হত। রাজ্যের এক অংশের খবর আরেক অংশে দ্রুত পৌঁছে দেয়া সম্ভব হত।

    বিদ্রোহ ঠেকাতে ও রাজ্যগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে শেরশাহ নতুন দূর্গ নির্মাণ করেন। তিনি নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। হুমায়ূন একটি অনুচ্ছেদ পুনরায় পাঠ করেন যেখানে তার চোখ নিবদ্ধ হয়: তার অসীম প্রজ্ঞা ও ঈশ্বরপ্রদত্ত ভালোত্ব দিয়ে শেরশাহ প্রতি গ্রামে একজন সর্দার নিয়োগ করেন, যিনি তাঁর নিজ গ্রামকে চোর ও হত্যাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করবেন। এছাড়া নিজ এলাকায় কোনো পর্যটক যদি হত্যার শিকার হয় সে জন্য দায়ি থাকবেন ওই সর্দার। এই সর্দার তার কাজকর্মের জন্য প্রশাসনের কাজে দায়বদ্ধ থাকার নির্দেন দেন শেরশাহ। যদি কোনো অপরাধের অপরাধী শনাক্ত করা সম্ভব না হয় তাহলে এর সাজা স্বয়ং ওই সর্দারকে ভোগ করতে হবে বলেও নিয়ম ছিল।

    চামড়ার বাঁধাই করা ভারি খতিয়ান বইটি মার্বেল পাথরের টেবিলে রেখে ক্ষমতায় আসার সময়কার সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে হাসলেন হুমায়ূন। কিছু কিছু বিষয় ভেবে তিনি বেশ কিছুটা বিরক্তও হন। রাস্তা নির্মাণ, কিংবা রাজ্যগুলো পুনর্গঠন করা অথবা কর সংগ্রহের মধ্যে বিরত্বের কি আছে? তবে এখন তিনি জানেন ক্ষমতায় থাকার জন্য এগুলো করাটা কতোটা অপরিহার্য।

    কোনটি শেরশাহ করেছেন আর কোনটি ইসলাম শাহ করেছেন, তা জেনে এখন কী আসে যায়। বরং ভালো বিষয়গুলোই রাখতে চান তিনি। এতে তিনি হিন্দুস্তানে তাঁর শাসনব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে পারবেন…। তবে একটি বিষয় তিনি পরিবর্তন করবেন। যদিও দিল্লি ছিল শেরশাহের রাজধানী এবং পুরানা কেল্লা সম্রাটের জন্য প্রাসাদদূর্গ ছিল। তিনি আগ্রাকে আবারও রাজধানী করার পক্ষপাতি। বাবর আগ্রাকে রাজধানী করেছিলেন। এটা করা মাত্রই তিনি তাঁর রাজপ্রাসাদ সেখানে স্থানান্তরিত করবেন। হামিদা কখনো আগ্রা দেখেননি। সেখানে তাঁকে নিয়ে তিনি সুন্দর একটি প্রসাদে থাকবেন। এমন এক সুন্দর প্রাসাদ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সভাকবিরা কবিতা লিখবেন। তবে দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বেশ ভালো স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে দিল্লি। এজন্য হিন্দুস্তানের মানুষের কথা বিবেচনা করে তিনি আরও কয়েকমাস দিল্লিতে রাজধানী রাখার কথা ভাবতে থাকেন। তারা (হিন্দুস্তানের মানুষ) বিভিন্ন যুদ্ধের কারণে অনেকটা বিপর্যস্ত। তিনি তাদের প্রকৃত সম্রাট– তিনি শক্তিশালী…

    মহারাজ, মহারানী হামিদার কাফেলা শহর থেকে মাত্র পাঁচ মাইল দূরে রয়েছে। এক ঘোষণা হুমায়ূনের ভাবনাকে খণ্ডিত করে দিল। তখন তাঁর হৃদয় কেঁপে ওঠল। তিনি জানেন, তাঁর স্ত্রী বিভিন্ন রাজ্যে সফর করছেন। কিন্তু এতো দ্রুত তিনি এখানে ফিরে আসলেন, যা তাকে খানিকটা বিস্মিত করেছে। তিনি দাঁড়ালেন। তার হৃদয়টা আনন্দে ভরে গেল। কারণ প্রিয়তমা স্ত্রীর জন্য অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। আমার রাজকীয় পোষাক এনে দাও। আমি আমার স্ত্রীর জন্য সবচেয়ে ভালো পোষাকে সাজতে চাই। যদিও পরে সে তার উজ্জল্যে আমাকে ছাড়িয়ে যাবে। প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দেন হুমায়ূন।

    পুরানা কিল্লার পশ্চিম ফটকের ওপর থেকে হামিদার ধীরগতির কাফেলা দেখছিলেন হুমায়ূন। এই ফটকটি ছিল অন্যান্য ফটকের চেয়ে বেশ জাকজমকপূর্ণ। সাদা মারবেল পাথর দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। দুই পাশে দুটি উঁচু চৌকিঘর। আর এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করবেন হিন্দুস্তানের মোগল সম্রাজ্ঞি হামিদা। যে হাতির ওপরে করে তিনি আসছেন সেটাতে দামি কাপড়ের ওপর লাগানো আছে পাতলা স্বর্ণের আস্তরণ। এগুলো মাঝেমধ্যে ঝলকে উঠছে। যখনই এটি পশ্চিম ফটকের নিচে চলে আসল, চৌকিঘর থেকে সজোরে তূর্যধ্বনী উঠতে শুরু হল। উপস্থিত সবাই গুচ্ছগুচ্ছ গোলাপ ছুঁড়তে শুরু করলেন। হুমায়ূন দূর্গের ভেতরে একটি ফাঁকা স্থানে নেমে আসলেন। সেখানে একটি বড় সবুজ মখমলের তাবু তৈরি করা হয়েছে। সবুজ সিল্কের ফিতা দিয়ে এটি আচ্ছাদিত। এর একটি প্রবেশ পথ আছে যেখানে ঝুলে আছে সোনালি ফিতা। তাবুর ভেতরে রাখা হয়েছে বড় একটি মার্বেল পাথরের খণ্ড, যার উপরিভাগ সমান। গোপনীয়তার মধ্যে হামিদ নেমে আসার জন্য এই আয়োজন করা হয়।

    হামিদার হাতি এখন প্রাসাদের উঠানে এসে হাজির হচ্ছে। মাহুত হাতির গলার মধ্যে বসে রয়েছেন এবং সতর্কভাবে তাবুর দিকে হাতিটিকে এগিয়ে নিয়ে আসছেন। তারপর প্রথমে তিনি হাতের ধাতু নির্মিত সরু লাটি দিয়ে হাতিটিকে প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বামদিকে নির্দেশ করলেন। তারপর হাতিটি মার্বেলের বড় পাথরটিতে হাঁটু গেড়ে বসল। যেইমাত্র হাতিটি নিচু হল, মাহুত নেমে গিয়ে একপাশে বিনিত ভঙ্গিমায় দাঁড়ালেন। হুমায়ূন দেখলেন, তাঁর স্ত্রী পাথরের ওপর নরম পায়ে নামছেন। তাঁর জামাকাপড়ের স্বর্ণখণ্ডগুলো ঝলকে উঠছিল।

    যেহেতু হুমায়ূনের দিকে চেয়ে তিনি হাসলেন, স্বর্ণ খচিত পোষাকে হামিদাকে আগের চেয়ে আরও আকর্ষণীয় মনে হচ্ছিল। তাঁর দীর্ঘ কালো সুগন্ধী চুল কাঁধের ওপর এসে পড়ছিল এবং এগুলো তার স্তনের ওপর ওঠানামা করছিল। তার গলায় মনি মুক্তার হার যা অনেক বিপদেও সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

    মাউত (হাতির পরিচালক) ও অন্যান্য রাজকর্মচারীদের উদ্দেশ্যে হুমায়ূন বললেন, এখন যাও। যখনই তারা একাকী হয়ে গেলেন, তিনি হামিদাকে মার্বেলে সমতল পাথর থেকে নামিয়ে আনলেন এবং তাঁকে তাঁর সামনে দাঁড় করালেন। তিনি বললেন, আমার রানী, আমার সম্রাজ্ঞী।

    হামিদাকে নিয়ে সে রাতে যমুনা নদীর তীরে গড়া প্রাসাদে কাটালেন হুমায়ুন। একসময় ইসলাম শাহের হেরেমের মতো গড়ে ছিলেন এক প্রাসাদ। সেখানে দেয়ালে কাঁচের ছোট ছোট টুকরো লাগানো রয়েছে। মোমের আলো এই কাঁচের টুকরোগুলোতে পড়ে চারিদিকে ছড়িয়ে যেতো। সোনার থালায় পুড়ানো সুগন্ধি চন্দনের ঘ্রাণ আসছে ঘরের প্রত্যেক কোনো থেকে। একইসঙ্গে মার্বেলের ঝর্ণা থেকে আসছে সুগন্ধী জলের ঘ্রাণ যেখানে গোলাপের পাপড়ি ফেলা হয়েছে।

    শুধু গলার হার ছাড়া সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে পড়েন হামিদা। হুমায়ুন তার কোমল ঠোঁটে হাত বুলায়ে দেন। অন্তত আমি আপনাকে সেটা দিতে পারি যা দেয়ার প্রতিজ্ঞা আপনার কাছে আমি করেছি। রাজস্তানের মরুভূমিতে যুদ্ধ চলাকালে মাঝেমধ্যে রাতে যখন আমি ঘুমোতে পারতাম না, তাকিয়ে থাকতাম আকাশের তারার দিকে, তারাগুলো ঘুরে ফিরত, আমি তাতে সামান্য ব্যাথার প্রশমন পেতাম। কিন্তু আপনি আমার ব্যাথার সবচেয়ে বড় প্রশমন।

    হামিদা হাসতেন, আমি এখনও মনে করতে পারছি কতোটা আশ্চর্য হয়েছে আমার বাবা যখন আমাকে জানালেন আপনি আমাকে বিয়ে করতে চাইছেন… আমি শুধু আপনাকে দূর থেকে দেখেছি… আপনাকে দেবতার মতো মনে হতো… আমাদের বাসর রাতেও আমি বিচলিত ছিলাম, কিন্তু যখন আপনি আমার কাছে আসলেন, আমি দেখলাম আমার জন্য আপনার জ্বলন্ত ভালোবাসা আর আমি জানতাম আপনি আমার অংশে পরিণত হবেন… আপনি আমার জীবন…

    আর আপনি আমার… তবে আমাকে আবার প্রমাণ করতে দিন যে আমি আসলেই মানুষ, দেবতা নই। হুমায়ূন যখন হামিদাকে জড়িয়ে ধরলেন, তিনি দেখলেন তার দুটি চোখে সম্মতির মৃদু দিপ্তী।

    *

    মহারাজ, এক পত্রবাহক বৈরাম খানের কাছ থেকে খবর নিয়ে এসেছেন।

    তাঁকে এক্ষুনি আমার কাছে নিয়ে আসো। নিজ কক্ষে পায়চারি করছিলেন হুমায়ুন। অবশেষে… কিন্তু কি খবর নিয়ে এসেছেন সেই ব্যক্তি? হুমায়ূনের শ্রেষ্ঠত্বের গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়ানো শক্তির বিরুদ্ধে গত কয়েক মাস আগে বৈরাম খান বিশ হাজার সেনার নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়েছেন। সর্বশেষ শিরহিন্দে যুদ্ধের পর সিকন্দর শাহ হিমালয়ের পাদদেশে পালিয়ে যান। তিনি আবারও পাঞ্জাবের সমতল ভূমিতে এসেছেন এবং সমর্থন কুড়ানোর চেষ্টা করছেন। বৈরাম খানের আগের রিপোর্ট ছিল বেশ সাহস যোগানোর মতো, এতে সিকন্দর শাহের বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে ঘায়েল করার কথা উল্লেখ রয়েছে। সিকন্দর শাহ আবারও পার্বত্যাঞ্চলে পালিয়ে যান। তারপর থেকে সবকিছু বেশ নীরব।

    দিনের পর দিন হুমায়ূনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ তাঁর পূত্র আকবর। পূত্রকে বৈরাম খানের সঙ্গে পাঠানোর জন্য চাওয়া হয়েছিল। তখন আগ্রহ না থাকার পরও হুমায়ুন রাজি হয়েছিলেন। নির্দেশ দিয়েছিলেন যে আকবরকে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখতে হবে। আকবর তার দুধ-ভাই আদম খানের পিতা নাদিম খাওজার বিশেষ হেফাজতে থাকবেন। আকবরও বৈরাম খানের সঙ্গে যান। যদিও বিষয়টি তাঁর মনকে গর্বে ভরে দিয়েছে, তবে এটা তার জন্য দেখাটা কঠিন যে তাঁর একমাত্র ছেলে স্বতস্ফূর্তভাবে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। এটা হামিদার জন্য আরও কঠিন। যদিও তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা থেকে বিরত থাকছেন, হুমায়ুন জানেন, হামিদা কতগুলো রাত এ নিয়ে দুচিন্তা করে কাটিয়েছেন। তবে তাঁদের সৌভাগ্য যে

    অপেক্ষার পালা এখন শেষ হতে যাচ্ছে।

    হুমায়ুনের উপস্থিতির কথা ঘোষণা করা হল। বার্তাবাহকের ধূলোবালিপূর্ন জামা প্রমাণ করে যে তিনি বেশ কয়েক ঘন্টা ধরে পথে ছিলেন। হুমায়ূন আসার পর তাঁর দিকে সম্মানার্থে মাথা ঝুঁকালেন তিনি। তারপর চামড়ার থলে থেকে একটি পত্র বের করলেন। মহারাজ, আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে এই পত্রটি আপনাকে ছাড়া আর কারো কাছে না দেয়ার জন্য। হুমায়ুন আগ্রহের সঙ্গে পত্রটি হাতে নিলেন এবং হঠাই খানিকটা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তবে তার এই ভাবনাটা ছিল বোকামী। তিনি ধীরে ধীরে পত্রটি খুললেন এবং ফারসি হরফে বৈরাম খানের হাতের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন লেখা দেখতে পেলেন।

    মহারাজ, খুশির খবর। আপনার সৈন্য বাহিনী বিশ্বাসঘাতক সিকন্দর শাহকে পরাজিত করেছে। পরাজিত হয়ে নিজের সৈন্য বাহিনীকে তাঁদের ভাগ্যের কাছে ছেড়ে তিনি কাপুরুষের মতো পশ্চিমপ্রান্তে বাংলার দিকে পালিয়ে গেছেন। আমরা পাঁচ হাজার যুদ্ধবন্দিদের আটক করেছি এবং বেশ কিছু জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়েছি। একমাসের মধ্যে, স্রস্টার ইচ্ছা থাকলে, আমি আপনার সৈনাবাহিনী নিয়ে দিল্লিতে ফিরে আসতে পারব এবং আমাদের এই অভিযানের সম্পূর্ণ বৃত্তান্ত আপনাকে সরাসরি জানাতে পেরে অবশ্যই আনন্দ পাব। আপনার ছেলে ভালো আছেন এবং আপনাকে ও মহারানীকে তাঁর সালাম জানাতে বলেছেন।

    কিছুক্ষণ নীরব আনন্দে মাথা নত করলেন হুমায়ুন। তারপর তিনি তার রক্ষীদের উদ্দেশ্যে জোরে বললেন, দূর্গের চৌকিঘর ও নগরীর দেয়ালের ওপর তুর্যধ্বনি শুরু করা হোক। আমরা একটা বড় বিজয় লাভ করেছি এবং সারা বিশ্বের বিষয়টি জানা উচিৎ।

    *

    যখন পশ্চিমের আকাশ খয়েরি রঙ ধারণ করেছে, হুমায়ূন শুনতে পেলেন তুর্যের উচ্চধ্বনী। ঘোষণা করা হয়েছে পশ্চিমের ফটক দিয়ে প্রবেশ করছেন বৈরাম খান। কিছুক্ষণ পর হুমায়ুনের ব্যক্তিগত রক্ষীদের একজন তাঁর কাছে আসলেন। তাঁর গায়ে গাঢ় সবুজের একটি ঢিলেঢালা জামা।

    বৈরাম খানের পক্ষ থেকে আমার জন্য উপহার আছে বলে আশা করছি?

    হ্যাঁ, মহারাজ।

    তবে চলো আমরা এগিয়ে যাই। ছয় জন দেহরক্ষী সঙ্গে নিয়ে হুমায়ূন সভাকক্ষের দিকে এগিয়ে গেলেন। তাঁর সিংহাসনের ডানপাশের টেরাকোটা ফুল আঁকা দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেন। জওহরসহ তার সভাসদ, সেনাপতি ও রাজকর্মচারীরা ইতোমধ্যে সভাকক্ষে হাজির হয়ে সিংহাসনের সামনে গোলাকার হয়ে দাঁড়িয়েছেন। গাউনের উপরের হলুদ, লাল ও নীল লেবাস নিয়ে তাবরিজের উন্নত গারিচার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা তাদেরকে বেশ জমকালো মনে হচ্ছিল। তাদের পাগড়ি, গলা ও হাতের আঙ্গুল থেকে বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার দ্যুতি ছড়াচ্ছিল। হুমায়ুনকে দেখামাত্র সকলেই অবনত হয়ে সম্মান প্রদর্শন করলেন।

    তবে তার আগ্রহ এই সভাসদের প্রতি নয়, বরং বৈরাম খান ও আকবরের প্রতি। তিনি দুই দরজা পার হয়ে একটু দূরের একটি কক্ষে তাদের দেখতে পাচ্ছেন। তবে তিনি তার সভাসদদের ডেকেছেন বিজয়ী সেনাপতিদের কথা জানাতে এবং তাঁদের সঙ্গে এই বড় আনন্দ ভাগাভাগি করতে। সিংহাসনে বসে হুমায়ূন তার হাত তুলে বললেন, চলুন বৈরাম খানের সঙ্গে সাক্ষাত করি। এই ঘোষণার পর তার সেনাপতি সভাকক্ষে প্রবেশ করলেন। সিংহাসনের কাছে এসে তিনি শ্রদ্ধাবনত হলেন।

    বৈরাম খান, আপনাকে স্বাগতম, বললেন হুমায়ুন। তারপর তিনি তাঁর কয়েকজন রাজকর্মচারির দিকে তাকালেন। এই রাজ কর্মচারীরা তার দিকে ফিরোজা রঙের রত্ন নিয়ে এগিয়ে আসলেন। রেশমি কাপড়ে রূপার তার নিয়ে মোড়ানো এই রত্ন বাম হাত দিয়ে গ্রহণ করলেন হুমায়ূন। তিনি এটি বৈরাম খানের দিকে বাড়িয়ে দিলেন। বৈরাম খান দেখতে পেলেন এর ভেতরের রত্নের উজ্জ্বলতা।

    বৈরাম খান, আপনি এমন এক যোদ্ধা যার জন্য এই সামান্য রত্ন খুবই তুচ্ছ। তবে আপনার জন্য আরও কিছু আমার দেয়ার আছে। আপনি হবেন খান ই খানান, সারা মোগল সৈন্য বাহিনীর প্রধান নির্দেশদাতা।

    মহারাজ, আরও একবার মাথা ঝুঁকালেন বৈরাম খান। তবে এবার হুমায়ূনের সামনে নয়। তার কালো দুই চোখে বিস্ময় ঝলক দিয়ে উঠল। এটা সেনাপতিদের পুরস্কৃত করার বেশ ভালো পন্থা, যাঁরা তাঁদের পারস্য মাতৃভূমি তার জন্য ছেড়েছেন এবং এ ধরনের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। জাহিদ বেগও সম্মাননা। প্রত্যাশা করেন এবং নিশ্চিত তিনি তা পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। তবে সম্প্রতি তিনি তাঁর পূর্বপুরুষের ভূমি কাবুলে ফিরে যেতে চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বয়স্ক এবং তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থাও তেমন ভালো না। যোদ্ধা হিসেবে তার সময়টা প্রায় চলে গেছে, তবে হুমায়ূন যদি চান তাহলে তিনি আসবেন।

    হুমায়ূন বৈরাম খানকে উপস্থিত সভাসদদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সুযোগ করে দিলেন। পরবর্তী ভরা পুর্ণিমার রাতে আমরা পুরানা কিল্লায় অনেকগুলো প্রদীপ ও মোমবাতি দিয়ে আলো জ্বালব। এই আলোর তেজ পুর্ণিমার জ্যোৎস্নাকেও ম্লান করে দেবে। সে রাতে আমরা বিজয়কে উদযাপন করতে ভোজের আয়োজন করব। হুমায়ূন আবারও তার সভাসদদের দিকে ফিরে তাকালেন। আমার প্রিয় পূত্রকে এবার আমার সামনে নিয়ে আসো।

    আকবর সামনে আসার পর হুমায়ূন তাঁর দিকে ভালোবাসা ও গর্ব নিয়ে তাকালেন। বেশ কয়েক মাস পর পূত্রের সঙ্গে পিতার সাক্ষাত। বেশ কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে আকবরের মধ্যে। সবুজ কাপড়ের ওপর তাঁকে আগের চেয়ে লম্বা এবং তাঁর বৃহৎ বক্ষদেশ, দৃঢ় পেশিবহুল তরুণ হিসেবে দেখা যাচ্ছিল। হুমায়ূন লক্ষ্য করলেন তার মধ্যে এতোটা উৎফুল্লতা নেই। যখনই পুত্র আকবর কাছে আসলেন এবং সম্মানার্থে তাঁর ডানহাতটি নিয়ে বুকে লাগালেন হুমায়ূন, তিনি দেখলেন তার একটি হাতে ব্যান্ডেজ করা রয়েছে। হুমায়ূন প্রশ্ন করার আগেই বৈরাম খান এই আঘাত সম্পর্কে বলতে শুরু করলেন।

    মহারাজ, আপনার পরামর্শ অনুযায়ি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানগুলো চলাকালে রাজপূত্রকে রক্ষীরা বেশ ভালোভাবে খেয়াল রেখেছেন। একদিন সন্ধ্যার পর আমরা সিকন্দর শাহকে একদম ছন্নবিচ্ছন্ন করে দেই। আমার সহযোদ্ধারা জানায়, তারা পর্বতের পাশে একদল সৈন্যের বিচরণ লক্ষ্য করেছে। প্রায় ১ হাজার সেনা বাহিনীর একটি দল নিয়ে আমি সেই সৈন্য বাহিনীর মোকাবেলা করা সিদ্ধান্ত নেই। এরসঙ্গে বেশ কিছু অস্ত্রের মজুত নিয়ে আকবরকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই, যাতে তিনি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা লাভ করেন। আমি ভেবেছিলাম ওই সৈন্য বাহিনী হয়তো সেখানে সামান্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে। আমরা একটি গিরিপথ ধরে যাই। সেখানে হঠাৎ পাথর ধ্বসের ঘটনা ঘটে। সে সময় পাথরের টুকরো পড়া শুরু হয়। তখন আমাদের তিন সৈনা নিহত হয়। রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।

    আমাদের অধিকাংশ সৈন্য দল সেই স্থান থেকে সামনে চলে যায়, তবে আমাদের শেষ একশ সৈন্য মূল্য বাহিনী থেকে আলাদা হয়ে পড়ে। তখন অন্ধকার নেমে আসছিল এবং আরও পাথর পতনের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছিল। যারা আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, আমি তাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বললাম, তারা যে। পথে এসেছে সে পথে যেনো ফিরে যায়। আমি তখন এই গিরিখাতের সরু পথ থেকে সৈন্যদের নিয়ে বের হয়ে আসি। আমাদের বেশ কিছু শক্তিশালী সৈন্য গিরিপথ বন্ধ করে দেয়া পাথরের স্তূপ সরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা জানতে পারি, ভোর হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা এই কাজ শেষ করতে পারব না… আমি রাজপূত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি চিন্তিত হয়ে পড়ি, তিনি তাঁর দুদ্ধভাইয়ের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সেই একশ সৈনের মধ্যে ছিলেন। তবে … বৈরাম খান থামলেন। রাজপূত্রকেই তাঁর গল্পটি বলার সূযোগ দেয়া উচিৎ…

    আমি শুনতে পেলাম বৈরাম খান চিৎকার করে বললেন গিরিপথ থেকে বের হয়ে যেতে। আকবর আগ্রহের সঙ্গে বলতে শুরু করলেন। কিন্তু আমরা আমাদের রসদগুলো নিয়ে এতোদ্রুত ফেরার সুযোগ পাইনি, গিরিপথটি ছিল খুবই সংকীর্ণ হঠাৎ বেশ কিছু লোক আমাদের ওপর হামলা চালালো। তারা ছিল পাথরের ওপর। নিচ থেকে খুব কমই আমরা দেখতে পাই। আমরা দেখলাম সিকন্দর শাহের সৈন্যদের। তাদের কাছে তেমন অস্ত্রসস্ত্র নেই। কোনো মুখোশ ছিল না। শুধু তীর আর ধনুক। আমরা তাদেরকে প্রথমে পর্বতের উপজাতি গোষ্ঠি মনে করেছিলাম, যারা আমাদের এই পথে যাওয়াটা লক্ষ্য করছে এবং লুণ্ঠন করার চিন্তা করছে। তারা আমাদের ওপর পাথরও ছুঁড়ে মারতে পারে… তারা যারাই হোক, তাঁদের ধনুক আর বর্শা কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের চারপাশে বেশ ঘনভাবে পড়তে থাকল। আমাদের বেশ কয়েকজন এতে আঘাতপ্রাপ্ত হলেন।

    .

    আমি আমার সৈন্য দলকে বললাম ওয়াগনের পেছনে গিয়ে অবস্থান করতে। হামলাকারিদের ওপর আমাদের সঙ্গে থাকা কয়েকটি বন্দুকের গুলি ছুড়ারও নির্দেশ দিলাম আমি। তাদের চোখে নিরাশায় অস্তাচলের সূর্যের হলুদাভ আভা। তবে সেই বন্দুকের গুলি ছিল হামলাকারীদের ভয় দেখানো জন্য যথেষ্ট। কমপক্ষে তাদের একজনকে আমার পেলাম। তাঁর শরীর নিচে পড়ে গেল। আমরা দেখলাম তাঁর মাথায় একটি বন্দুকের গুলি। আমরা যদিও সারা রাত নিজেদের একটু সুরক্ষিত রাখতে আড়ালে অবস্থান করছিলাম, সে রাতে তারা আর ফিরে আসেনি। পরেরদিন সকালে পাথর সরানোর পর আমরা মুল সৈন্য বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেই।

    আর আপনার হাত?

    এটা আমার প্রথম যুদ্ধের আঘাত একটি তীরের আঘাত। আদম খান এটি আসতে দেখে আমাকে একপাশে সরিয়ে নেন। তা না হলে এটা আমার দেহে আঘাত হানতে পারত… আকবরের কাজল চোখে জল চলে এলো- অনেকটা হামিদার মতো, কারণ তিনি একটি সৈন্য দলকে রক্ষা করেছেন।

    আপনি নিজেকে বীরত্বের সঙ্গে রক্ষা করেছেন বললেন হুমায়ূন। সিংহাসনের ডান দিকে গ্রীলের আড়াল থেকে হামিদা এসব দেখছিলেন ও শুনছিলেন। তবে মাতৃত্বের কারণে ভয় সৃষ্টির পরও তিনি আকবরকে নিয়ে গর্বিত হয়েছেন। সংকটের মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রেখে বেঁচে থাকার জন্য যে অপরিহার্য দক্ষতা তিনি দেখিয়েছেন

    *

    সেই রাতে হামিদা ও হুমায়ুনে সঙ্গে হেরেমে খাবার খেলেন আকবর। যখন হুমায়ূন তাঁর অপরূপ সুন্দরী স্ত্রী আর সুদর্শন, শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী ছেলেকে দেখলেন, তাঁর বুকটা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গভীর আত্মতৃপ্তিতে ভরে উঠল। অবশেষে যেনো তাঁর জীবনের সকল গৌরব সেই স্থানটিতেই ছড়িয়ে পড়ল। স্রস্টা তাঁর অশেষ দয়ায় যে সাম্রাজ্য তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন, তা এখন নিরাপদ এবং এই সাম্রাজ্যে বিস্তৃতি ঘটাবেন তার পাশে থাকা পূত্র আকবর। একদিন আকবরই সাম্রাজ্য বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন যুদ্ধ সামনে থেকে পরিচালনা করবেন। মোগল সাম্রাজ্য সমুদ্রের পর সমুদ্র ছাড়িয়ে যাবে।

    হামিদাকেও বেশ খুশি মনে হচ্ছিল। তার মুখে নতুন এক আলোর আভা দেখা যাচ্ছিল এবং তার রেশমের কাপড়ের ওপর দিয়ে শরীরের নম্র ভাঁজগুলোও ভেসে উঠছিল। কৈশোরের দিনগুলোর চেয়ে তার দেহে এখন অনেক বেশি ভোগবিলাসিতার ছাপ। আগের চেয়ে বেশি সুন্দরীও তিনি। আজ রাতে কালো চুলের মধ্যে নীলকান্ত মনির সঙ্গে হীরের টুকরো লাগিয়ে সেজেছেন তিনি। সেখানে হীরা থেকে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। অনাচ্ছাদিত নাভীতে একটি নীল কান্ত মনিও লাগিয়েছেন হামিদা। পরেছেন একটু ঢিলেঢালা পায়জামা। উপরে একটি জামা যা তাঁর শরীরের সঙ্গে লেগে আছে এবং স্ফিত স্তনদুটিকে অনেকটা স্পষ্ট করে তুলেছে।

    নৈশভোজের পর আকবর চলে গেলে হামিদাকে জিজ্ঞেস করেন হুমায়ুন, হে আমার সম্রাজ্ঞী, আপনার কেমন লাগল?

    আমি আপনাকে বহুবার বলেছি তিনি হাসলেন খুবই ভালো লেগেছে। শত শত রাজকর্মকর্তা কর্মচারি… আমার চিরায়ত অপেক্ষা… আমার জীবনে আমি কোনো কিছু কল্পনা করা বা আকাঙ্খা করতে পারি। কিন্তু সবকিছুর পর আমাকে যে বিষয়টি বেশি খুশি করে তা হলো আমাদের সন্তান নিরাপদভাবে ফিরে এসেছে। সে। আমাকে এই আনন্দে পুর্ণ করেছে। এটা ভাবা এখনও অদ্ভুত মনে হয় যে আমাদের কাছ থেকে নেয়ার পর যখন হিন্দাল তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিল- আকবরকে মন হচ্ছিল যেন সে আমাকে চেনে না। সে মাহাম আগাকে নিয়ে ঈর্ষাণিত ছিল, আমি দেখলাম সে তার হাত কীভাবে আগার দিকে এগিয়ে দিল এবং তার জন্য হাসল, আমার দিকে নয়। আমি তখন নিজের প্রতি খুব ক্ষুদ্ধ হয়েছিলাম, নিজের ঈর্ষার জন্যও ছিলাম চরম লজ্জিত। বীর মহাম আগার কাছ থেকে আমরা সবকিছুই প্রায় পেয়েছি… তবে এখন সবই অতীত। এখন আমি মনে করি আকবরের মাথায় যে ভাবনাই আসুক আমি তা উপলব্ধি করতে পারি। আমি তাঁর সকল উচ্চাকাঙ্খ ও অভিলাস বুঝতে পারি।

    .

    আমি স্মরণ করতে পারছি, বিবাহের প্রথম রাতের পর সকালে আপনি আমাকে বলেছিলেন- আপনি জানেন আপনি এক পূত্র সন্তানের জন্ম দেবেন। আর একদিন এবং সেই সন্তান হবে এক শ্রেষ্ঠ শাসক… আপনি ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে এখন কী দেখছেন?

    আকবরের জন্মই ছিল শেষ বিষয় যা আমি আগেই স্পষ্টভাবে আগে থেকে বুঝতে পেরেছিলাম। যদিও আমার উত্তরসূরিদের কাছ থেকে নারী হিসেবে আমি আধ্যাত্বিক ক্ষমতা পেয়েছি, সেগুলো আমাকে এখন অনেকটাই ছেড়ে গেছে… তবে ওই ভবিষ্যৎ দর্শনটাই ছিল সবচেয়ে উত্তম। ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা সবসময় সুখ নিয়ে আসতে নাও পারে… কখনো না দেখাটাও ভাল…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরুলার অভ দা ওয়ার্ল্ড : এম্পায়ার অভ দা মোগল – অ্যালেক্স রাদারফোর্ড
    Next Article অ্যাম্পায়ার অব দ্য মোঘল : রাইডারস ফ্রম দ্য নর্থ – অ্যালেক্স রাদারফোর্ড

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }