Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ব্ল্যাকহোল – স্টিফেন হকিং

    স্টিফেন হকিং এক পাতা গল্প93 Mins Read0
    ⤶

    হকিংয়ের সাক্ষাৎকার

    ‘কখনো নোবেল পুরস্কার পাব না।’ —স্টিফেন হকিং

    প্রশ্ন : হ্যালো, প্রফেসর হকিং

    স্টিফেন হকিং : হ্যালো, কেমন আছেন? আমার আমেরিকান টান ক্ষমা করবেন। [হাসি]

    প্রশ্ন : মহাবিশ্ব আপনার কৌতূহল আকর্ষণ করার আগে আপনার প্রথম জীবন সম্পর্কে কিছু বলবেন?

    হকিং : গ্যালিলিওর মৃত্যুর ৩০০ বছর পর ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি আমার জন্ম। আমার মা-বাবার বাড়ি লন্ডনে হলেও আমার জন্ম অক্সফোর্ডে। কারণ, যুদ্ধের সময় অক্সফোর্ড ছিল সুবিধাজনক একটা জায়গা।

    প্রশ্ন : মহাবিশ্ব-সম্পর্কিত তত্ত্বের কারণে গ্যালিলিওকে ধর্মদ্রোহের দায়ে ক্যাথলিক চার্চ কারাবন্দী করেছিল। আপনার সঙ্গে তার কোথাও মিল আছে?

    হকিং : হ্যাঁ। অবশ্য, আমার ধারণা, আরও দুই লাখ শিশুও ওই তারিখে জন্ম নিয়েছিল। [হাসি] ওদের কেউ পরে জ্যোতির্বিদ্যায় আগ্রহী হয়েছিল কি না, জানি না।

    প্রশ্ন : এক অর্থে আপনার ছোটবেলাটা সাদামাটাই ছিল। আপনার স্কুলজীবনে কৈশোরিক মেধার কোনো বিব্রতকর প্রকাশ ঘটেনি—

    হকিং : হ্যাঁ। পাবলিক স্কুলে পড়েছি আমি—আমেরিকানরা যাকে পাবলিক স্কুল বলে আরকি–সেন্ট অ্যালবানস। আমার বাবা আমাকে নামকরা বেসরকারি বিদ্যালয় ওয়েস্টমিনস্টার স্কুলে পড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেন্ট অ্যালবানসে ওয়েস্টমিনস্টারের চেয়ে ভালো শিক্ষাই পেয়েছিলাম।

    প্রশ্ন : আপনি গড়পড়তা ছাত্র ছিলেন?

    হকিং : [হাসি] ১২ বছর বয়সে আমার এক বন্ধু আমার সঙ্গে এক ব্যাগ লজেন্সের বাজি ধরেছিল যে আমি জীবনে কিছু হতে পারব না। ওই বাজির ফয়সালা হয়েছে কি না, যদি হয়েও থাকে, সেটা কোন দিকে স্থির হয়েছে, আমি জানি না।

    প্রশ্ন: সেন্ট অ্যালবানসের পর পদার্থবিদ্যা নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

    হকিং: বাবা চিকিৎসক ছিলেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল, আমি যেন অক্সফোর্ডে চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করি। কিন্তু আমি গণিত ও পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়তে চেয়েছি। কিন্তু বাবা ভেবেছিলেন, গণিত নিয়ে পড়াশোনা করলে মাস্টারি ছাড়া অন্য চাকরির নিশ্চয়তা নেই। আমাকে রসায়ন, পদার্থবিদ্যা আর কিছু পরিমাণ গণিত নিয়ে পড়ার সুযোগ দেন তিনি। ১৯৫৯ সালে পদার্থবিদ্যা পড়তে ইউনিভার্সিটি কলেজে যাই। পদার্থবিদ্যাই মহাবিশ্বের বিধিবিধান নিয়ন্ত্রণ করে বলে এ বিষয়টিই আমাকে আগ্রহী করে তুলেছিল।

    প্রশ্ন : তাহলে প্রথম থেকেই কী হতে চান, সে ব্যাপারে মনস্থির করে ফেলেছিলেন?

    হকিং : হ্যাঁ। ১২ বছর বয়সেই বিজ্ঞানী হতে চেয়েছিলাম। কসমোলজি বা সৃষ্টিতত্ত্বই আমার কাছে সবচেয়ে মৌলিক বিজ্ঞান বলে মনে হয়েছে।

    প্রশ্ন: ধরে নিচ্ছি, আপনি অক্সফোর্ডে থাকতেও মাঝারি মাপের ছাত্রই ছিলেন।

    হকিং: আমার সময়ের অক্সফোর্ডের বেশির ভাগ ছাত্রই সেনাবাহিনীর ছিল। বয়সেও বড় ছিল। অক্সফোর্ডে অনায়াসেই আপনি মেধাবী হবেন কিংবা নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে ফোর্থ ক্লাস ডিগ্রি পাবেন বলে ধরে নেওয়া হতো। ভালো ডিগ্রি পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রমকে ভাবা হতো বোকা মানুষের চরিত্র।

    প্রশ্ন: অক্সফোর্ডে আপনার শেষ বছরে আপনার এএলএস বা অ্যামিওট্রফিক লেটারাল সিরোসিস বা লু গেরিগস ডিজিজ শনাক্ত করা হয়। অল্প সময়েই এ রোগের পরিণতি মারাত্মক হয়ে ওঠার কথা। নিশ্চয়ই এ ব্যাপারটা আপনাকে পাল্টে দিয়েছিল?

    হকিং: হ্যাঁ। আগেভাগে মৃত্যুর আশঙ্কার মুখোমুখি হলে বেঁচে থাকার মূল্য বোঝা যায়। তখন অনেক কিছু করতে ইচ্ছা হয়।

    প্রশ্ন: বহুল পঠিত এক সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছিলেন, মারা যাচ্ছেন এটা জানার পর আপনি স্রেফ হাল ছেড়ে দিয়ে বেশ কয়েক বছর নেশার ঘোরে হারিয়ে গিয়েছিলেন—

    হকিং : সাক্ষাৎকারের এ গল্পটা ভালো, তবে সত্য নয়।

    প্রশ্ন : আসলে কী ঘটেছিল?

    হকিং : অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই আমার মৃত্যু ঘটানোর মতো একটা দুরারোগ্য রোগে ভোগার উপলব্ধি কিছুটা ধাক্কার মতো ছিল। আমার বেলায় কেন এমন হবে? কেন আমাকেই এভাবে ছেঁটে ফেলা হবে? কিন্তু হাসপাতালে থাকতেই আমার পাশের বেডে একটা ছেলেকে লিউকেমিয়ায় ভুগে মারা যেতে দেখি। ওটা সুখকর দৃশ্য ছিল না। আমার চেয়ে খারাপ অবস্থার লোকজন ছিল। যখনই নিজের জন্য খারাপ লাগার মতো ঝোঁক এসেছে, ওই ছেলেটার কথা মনে করেছি। প্রশ্ন: তাহলে রটনামতো ওই দীর্ঘ নেশার ঘোরে ছিলেন না আপনি?

    হকিং : ভাগনার শুনতে শুরু করেছিলাম, কিন্তু প্রচুর মদ্যপানের খবর অতিরঞ্জন ছিল। মুশকিল হলো, কোথাও একটা কিছু লেখার পর অন্যরা সেটাকে নকল করে। কারণ, আকর্ষণীয় খবর ছিল এটা। অসংখ্যবার ছাপার অক্ষরে হাজির হওয়ায় এটা সত্যি না হয়ে পারে না!

    প্রশ্ন: আপনার কোমল প্রতিক্রিয়া বিস্ময়করই ছিল। এ রকম পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ লোকই হয়তো হাল ছেড়ে দিত কিংবা অমন নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ত—

    হকিং: কিছু সময়ের জন্য আমার স্বপ্নগুলো বিঘ্নিত হয়েছিল। রোগ শনাক্ত হওয়ার আগপর্যন্ত জীবন সম্পর্কে একঘেয়েমিতে ভুগছিলাম। করার মতো কিছু ছিল বলে মনে হয়নি। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার অল্প পরেই স্বপ্ন দেখলাম আমাকে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে। সহসা উপলব্ধি করলাম, যদি রেহাই মেলে, করার মতো বহু কিছুই আছে। বেশ কয়েকবার দেখা আরেকটা স্বপ্নে অন্যদের জীবন বাঁচাতে জীবন উৎসর্গ করতে দেখি। হাজার হোক, মরতেই যেহেতু হবে, ভালো কিছু করে যাওয়াই উচিত।

    প্রশ্ন : ভয়ংকর রোগটা আপনাকে ক্ষুব্ধ করেনি?

    হকিং : হ্যাঁ, করেছে। আমি স্বাভাবিক চাহিদা আর আবেগসম্পন্ন একজন সাধারণ মানুষ।

    প্রশ্ন : রোগ শনাক্ত হওয়ার পরেই আপনি বিয়ে করেছেন, সংসার শুরু করেছেন –

    হকিং: হ্যাঁ। মোটামুটি রোগ শনাক্ত হওয়ার সময়ই জেন ওয়াইল্ডের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। ওর সঙ্গেই আমার বাগ্দান হয়। ওই বাগ্দান আমার জীবন পাল্টে দিয়েছে। বেঁচে থাকার মতো একটা অবলম্বন দিয়েছে। কিন্তু বিয়ে করতে হলে আগে একটা কাজ জোটানোর ব্যাপারও ছিল।

    প্রশ্ন : অক্সফোর্ডে আপনার কাজ পাওয়া সহজ হয়নি?

    হকিং : হ্যাঁ। শেষতক কিস কলেজে, কেমব্রিজে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার রিসার্চ ফেলোশিপের আবেদন করি। আমাকে অবাক করে দিয়ে ওখানে ফেলোশিপটা মিলে যায়। এর কয়েক মাস পরেই বিয়ে করে ফেলি আমরা।

    প্রশ্ন : আপনার অসুখ জীবনধারাকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে?

    হকিং: আমাদের বিয়ের পর, জেন তখনো লন্ডনের ওয়েস্টফিল্ড কলেজের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী। ফলে সাপ্তাহিক কাজের দিনগুলোয় ওকে লন্ডনে চলে যেতে হতো। তার মানে, একাকী সামাল দিতে পারার মতো মাঝামাঝি কোথাও একটা থাকার জায়গা খুঁজে বের করা দরকার হয়ে পড়েছিল আমাদের। কারণ, তত দিনে হেঁটে খুব বেশি দূর যেতে পারছিলাম না আমি। কলেজের কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম, কিন্তু বাসস্থান দিয়ে ফেলোদের সাহায্য করা কলেজের নিয়মে ছিল না।

    প্রশ্ন : কিন্তু আপনি সামলে নিয়েছিলেন—

    হকিং : হ্যাঁ। বেশ কয়েক বছর পর কলেজের মালিকানাধীন এ বাড়িটার নিচতলা আমাদের দেওয়া হয়। বড় বড় কামরা আর চওড়া দরজা থাকায় আমার বেশ সুবিধাই হয়েছে। কাছাকাছি হওয়ায় ইলেকট্রিক হুইলচেয়ারে ইউনিভার্সিটি ডিপার্টমেন্ট বা কলেজে যেতে পারতাম। বাগানঘেরা হওয়ায় আমাদের সন্তানদের জন্যও দারুণ জায়গাটা।

    প্রশ্ন : তিনটি সন্তানকে বড় করে তোলা নিদারুণ কষ্টের?

    হকিং : হ্যাঁ। ১৯৭৪ পর্যন্ত নিজেই বিছানা থেকে ওঠানামা করতে পারতাম। বাইরের সাহায্য ছাড়াই জেন আমাকে সাহায্য করার পাশাপাশি আমাদের দুই সন্তানকে বড় করে তুলতে পেরেছে। কিন্তু অবস্থা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছিল, আমার রিসার্চ স্টুডেন্টদের একজনকে আমাদের সাহায্য করতে কাছে এনে রেখেছিলাম।

    প্রশ্ন : এখন ২৪ ঘণ্টা নার্সিং সেবা লাগছে আপনার?

    হকিং : হ্যাঁ। ১৯৮৫ সালে নিউমোনিয়া বাঁধিয়ে বসেছিলাম। ট্র্যাকাটোমি করতে হয়েছিল। এরপর থেকে ২৪ ঘণ্টা সেবার দরকার হয়ে পড়ে।

    প্রশ্ন : ওই অপারেশনই কি আপনার কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছে?

    হকিং: হ্যাঁ। অপারেশনের আগে আমার কথা জড়ানো ছিল। আমাকে চেনে এমন অল্প কিছু লোকই আমার কথা বুঝতে পারত। কিন্তু অন্তত যোগাযোগ করতে পারতাম আমি। সেক্রেটারিকে ডিকটেশন দিয়ে বৈজ্ঞানিক চিঠিপত্র লিখেছি। দোভাষী মারফত লেকচারও দিয়েছি। ওরা আমার কথাগুলো আরও স্পষ্ট করে পুনরাবৃত্তি করত।

    কিন্তু অপারেশনের পর কার্ডে লেখা হরফের দিকে কেউ ইশারা করলে ভুরু নাচিয়ে বানান করে যোগাযোগ করতে পারতাম। বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ লেখা তো দূরের কথা, এভাবে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়া কঠিন ছিল।

    প্রশ্ন : এখন আপনার কাছে কম্পিউটার রয়েছে?

    হকিং: ক্যালিফোর্নিয়ার সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ ওয়াল্ট ওল্টসজ আমার দুর্গতির খবর পেয়ে ‘ইকোয়েলাইজার’ নামে তাঁর লেখা একটা কম্পিউটার প্রোগাম পাঠান। এটা হাতের সুইচ টিপে পর্দায় বিভিন্ন মেনু থেকে শব্দ নির্বাচনের সুযোগ করে দিয়েছিল। যে কথা বলতে চাই, সেটা স্থির করার পর স্পিচ সিন্থেসাইজারে পাঠিয়ে দিতে পারি।

    প্রশ্ন : গবেষণার জন্য তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা বেছে নিয়েছিলেন কেন? হকিং: আমার রোগের কারণে। আমার এএলএস থাকার কথা জানা ছিল বলেই নিজের কাজের ক্ষেত্র বেছে নিই। অন্য কোনো শাস্ত্রের তুলনায় সৃষ্টিতত্ত্বের বেলায় লেকচারের দরকার পড়ে না। আমার বাক্-প্রতিবন্ধিতা মারাত্মক বাধা নয়, এমন অল্প কয়েকটি বিষয়ের অন্যতম হওয়ায় সুবিধাজনক পছন্দ ছিল এটি। ১৯৬২ সালে গবেষণা শুরুর মুহূর্তে ভাগ্যও সহায় ছিল। সাধারণ আপেক্ষিকতা এবং সৃষ্টিতত্ত্ব অবিকশিত ক্ষেত্র ছিল। প্রতিযোগিতাও ছিল সামান্য। ফলে আমার অসুখ মারাত্মক বাধা হয়ে দাঁড়াত না। অনেক উত্তেজনাকর আবিষ্কার বাকি রয়ে গিয়েছিল, সেগুলো আবিষ্কারের মতো খুব বেশি লোক ছিল না। আজকাল অনেক বেশি প্রতিযোগিতা। [হাসি]

    প্রশ্ন : গোড়ার দিকে সমস্যা মোকাবিলা করেছেন?

    হকিং : গাণিতিক পটভূমি না থাকায় গবেষণা নিয়ে খুব একটা এগোতে পারছিলাম না, তবে ধীরে ধীরে কী করছি বুঝতে শুরু করি।

    প্রশ্ন: আপনার আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম গ্রন্থে স্রেফ একটা মৌলিক সমীকরণ ব্যবহার করেছেন। সেটা আপনার কাজের ভিত্তি নির্মাণ করেছে। আমাদের একটু ব্যাখ্যা করে বলবেন?

    হকিং : শক্তি ও ভর যে আসলে একই জিনিস, সেটাই তুলে ধরে E=mc2 সমীকরণটি। E হচ্ছে শক্তি, m ভর। এই সমীকরণে আলোর গতিবেগ c দুই পাশের উপাদানকে সমতা দেওয়ার জন্য। অবশ্য আপনি এমন উপাদান ব্যবহার করতে পারেন, যেখানে c এক-এর সমান। বস্তুকে শক্তিতে এবং বিপরীতক্রমে পাল্টানোর সম্ভাব্যতা তুলে ধরায় এ সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। আসলে মহাবিশ্বের গোড়ার দিকে সব বস্তুই শক্তি থেকে তৈরি হয়েছিল বলে মনে হয়।

    প্রশ্ন: বস্তুতে রূপান্তরিত শক্তি কিংবা মহাবিশ্বকে নির্মাণকারী নিরেট বস্তু –

    হকিং: হ্যাঁ। মহাবিশ্বের মহাকর্ষীয় বল শক্তি থেকে ধার করা হয়েছিল, বিগ ব্যাংয়ে ছড়িয়ে পড়ার আগে সবকিছুকে অসীম ঘনত্বে জমাট করে রেখেছিল। মহাবিশ্বের মোট শক্তি শূন্য। এভাবে গোটা মহাবিশ্ব আসলে কিছু না। কে বলে জগতে বিনা পয়সায় খানাপিনা বলে কিছু নেই? [হাসি]

    প্রশ্ন : মহাবিশ্বের মোট শক্তি শূন্য হয় কীভাবে?

    হকিং : বস্তু সৃষ্টির জন্য শক্তি গ্রহণ করে এটা। কিন্তু মহাবিশ্বের বস্তুগুলো মহাবিশ্বের অন্য সব বস্তুকে আকর্ষণ করছে। এ আকর্ষণ বস্তুকে যে ঋণাত্মক শক্তি জোগাচ্ছে, সেটা বস্তু সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় শক্তির সমান। এভাবে মহাবিশ্বের মোট শক্তি শূন্য।

    প্রশ্ন: তাহলে বস্তু সৃষ্টি হয়ে গেলে শক্তি বস্তুতে থেকে যাচ্ছে, গোটা মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তাহলে বিগ ব্যাং ঘটার জন্য যে শক্তির দরকার ছিল, সেটা কোত্থেকে এল?

    হকিং : বিগ ব্যাং ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি এসেছে এর সৃষ্টি মহাবিশ্ব থেকেই।

    প্রশ্ন : সমীকরণে সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। কেন?

    হকিং: আইনস্টাইনের আগে সময়কে স্থান থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ভাবা হতো। লোকে পরম সময়ের অস্তিত্বে বিশ্বাস করত। মানে প্রতিটি ঘটনাকে সময়ের বিচারে অনন্য মূল্য দেওয়া যাবে। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখিয়ে দিল যে ব্যাপারটা মোটেও তা নয়। পাশাপাশি আইনস্টাইন দেখিয়ে দিলেন, সময় স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন নয়; বরং স্থান-কাল নামে পরিচিত কিছুতে সম্পর্কিত বলা গেলে পরীক্ষা- নিরীক্ষাকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।

    প্রশ্ন: আইনস্টাইনের মতে, তার মানে পর্যবেক্ষণ করা কোনো ঘটনার সময় দর্শকের অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তা দৈর্ঘ্য আর উচ্চতার মতো আরও একটা এককে পরিণত হয়—

    হকিং : হ্যাঁ। পরে আইনস্টাইন স্থান-কাল সমান না হয়ে বক্র হলেই মহাকর্ষের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব বলে দেখাতে সক্ষম হলেন। কোনো কৃষ্ণগহ্বরের ভেতরে সিঙ্গুলারিটি বা পরম বিন্দুর অস্তিত্ব থাকবে, যেখানে স্থান ও কাল ফুরিয়ে যায়। এ সিঙ্গুলারিটি বস্তুর অসীমভাবে ঘন একটা বিন্দু, অনেকটা বিগ ব্যাংয়ের সময়কার সিঙ্গুলারিটি এবং স্থান-কাল ও গোটা মহাবিশ্বের সূচনার মতো।

    প্রশ্ন : একে কৃষ্ণগহ্বর বলার কারণ কী?

    হকিং : সিঙ্গুলারিটির মহাকর্ষীয় শক্তি এত প্রবল হয়ে দাঁড়াবে যে খোদ আলোই এটার আশপাশের এলাকা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। বরং মহাকর্ষ ক্ষেত্রের টানে ফিরে যাবে। যে অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা সম্ভব নয়, সেটাই কৃষ্ণগহ্বর। এর সীমানাকে বলা হচ্ছে ইভেন্ট হরাইজন বা ঘটনা দিগন্ত।

    প্রশ্ন: কৃষ্ণগহ্বর পর্যবেক্ষণ অসাধ্য হলে আপনি কীভাবে খুঁজে পেলেন?

    হকিং : ১৯৭০ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত আমি মূলত কৃষ্ণগহ্বর নিয়েই কাজ করেছি। ১৯৭৪ সালে সম্ভবত আমার সবচেয়ে বিস্ময়কর আবিষ্কারটি করি। কৃষ্ণগহ্বর সম্পূর্ণ কালো নয়! সূক্ষ্ম মাত্রার আচরণ হিসেবে ধরলে কণা ও বিকিরণ কৃষ্ণগহ্বর থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। কৃষ্ণগহ্বর এমনভাবে বিকিরণ ছড়ায় যেন তপ্ত কোনো বস্তু।

    প্রশ্ন: আপনার তত্ত্ব ঠিক হলে কৃষ্ণগহ্বর শেষমেশ এমনভাবে বিস্ফোরিত হবে, যেটা মহাবিশ্বের সূচনারই অনুরূপ?

    হকিং : কোয়ান্টাম মেকানিকসের অনিশ্চয়তার নীতির কারণে কণা ও শক্তি ধীরে ধীরে কৃষ্ণগহ্বর থেকে বেরিয়ে আসবে। ফলে তা ছোট থেকে আরও ছোট হবে এবং আরও দ্রুত শক্তি বেরিয়ে আসবে। শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণগহ্বর এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণে অদৃশ্য হয়ে যাবে।

    প্রশ্ন: কোয়ান্টাম মেকানিকস কি ক্ষুদ্র মাত্রায় কোনো ব্যবস্থার আচরণ নিয়ে গবেষণা?

    হকিং : হ্যাঁ। অণু বা মৌলিক কণা। যা-ই হোক, কৃষ্ণগহ্বর স্রেফ হুট করে হাজির হয়ে বিস্ফোরিত হতে পারে না। কারণ, শক্তির জোগান দেওয়ার জন্য একটা কিছু থাকতেই হবে।

    প্রশ্ন: কোনো নক্ষত্রের কারণে সংকুচিত বস্তু সেটার ভেতরেই লুটিয়ে পড়ছে?

    হকিং : হ্যাঁ। ভর বা শক্তি সব সময়ই অপরিবর্তিত থেকে যায়। তার মানে বস্তু বা শক্তিহীন স্থান শূন্য থাকবে। আগে থেকেই শূন্য কোনো স্থানে কৃষ্ণগহ্বর দেখা দিতে পারে না। নিজের মহাকর্ষের কারণে নিজের ভেতর লুটিয়ে পড়া কোনো নক্ষত্রের মতো অবশ্যই বস্তু বা শক্তি থেকেই এর সৃষ্টি হতে হবে।

    প্রশ্ন : অনুমান বাদ দিয়ে কৃষ্ণগহ্বর আসলে কেমন, তার প্রমাণ দিতে পারেন?

    হকিং: কৃষ্ণগহ্বরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভেতরে কী হচ্ছে জানার জন্য আমাদের একজন স্বেচ্ছাসেবী দরকার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের জানাতে কোনো সংকেত পাঠাতে পারবে না সে।

    প্রশ্ন : কেন?

    হকিং: তার কারণ লাইট কোন বা আলোক শঙ্কু নামের একটা জিনিস। কোনো ইভেন্টের লাইট কোন A আলোর গতিতে চলমান সংকেতের মাধ্যমে ইভেন্ট থেকে পৌঁছানো সম্ভব কতগুলো ইভেন্টের একটা সিরিজ। এখন আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী আলোর চেয়ে দ্রুতগতিতে কিছুই চলতে পারে না। এভাবে A-এর লাইট কোনের বাইরের কোনো ইভেন্ট B A-র ইভেন্টের কারণে প্রভাবিত হতে পারে না। এবং আলোর চেয়ে কম গতিতে চলার কারণে সংকেত বেরিয়ে আসতে পারে না।

    প্রশ্ন : কাল্পনিক সময় কী জিনিস?

    হকিং: কাল্পনিক সময় হলো সাধারণ, বাস্তব সময়ের সঙ্গে সমকোণে অবস্থান করা সময়ের আরেকটি পথ। বিপুলসংখ্যক কাল্পনিক সময় ওয়ার্মহোল শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে সর্বত্র মিলে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা প্রত্যক্ষভাবে সেগুলোকে লক্ষ করি না, তবে আমাদের প্রত্যক্ষভাবে লক্ষ করা সবকিছুকেই তারা প্রভাবিত করে। গবেষণার একটা উত্তেজনাকর এলাকা এটা।

    গত ১৫ বছরে আমরা বুঝতে পেরেছি যে সময়কে স্থানের সঙ্গে মেলানোর জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্বকে কাজে লাগানো যেতে পারে। তার মানে হবে আমরা সময়ের এই একমাত্রিক সরলরেখার মতো আচরণ থেকে দূরে সরে আসতে পারব।

    প্রশ্ন: এবং আপনি সময়ের ভেতর দিয়ে ভ্রমণরত বস্তু সম্পর্কে ধারণা করার জন্য কাল্পনিক সময় এবং ওয়ার্মহোল ব্যবহার করছেন, তাই নয় কি?

    হকিং : [হাসি] বিভিন্ন বস্তু পাতলা টিউব বা ওয়ার্মহোল হয়ে কাল্পনিক সময়ের ভেতর দিয়ে অন্য এক মহাবিশ্বে কিংবা আমাদের মহাবিশ্বের অন্য অংশে বেরিয়ে যাবে। সাধারণ সময়ে কেউ কৃষ্ণগহ্বরের ভেতর দিয়ে গিয়ে শ্বেতগহ্বর থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।

    প্রশ্ন : শ্বেতগহ্বর?

    হকিং : হ্যাঁ। পদার্থবিদ্যার বিধিবিধান প্রতিসম। কৃষ্ণগহ্বর বলে কিছু থেকে থাকলে যেখানে বস্তু ঢুকতে পারে কিন্তু বেরিয়ে আসতে পারে না, এমন জিনিসও থাকতে বাধ্য যেখান থেকে বস্তু বেরিয়ে আসবে, ঢুকতে পারবে না। একে শ্বেতগহ্বর বা হোয়াইট হোল বলা যেতে পারে।

    প্রশ্ন : সাধারণ সময়ে। কিন্তু আপনি বলেছেন সেটা অসম্ভব— হকিং : শ্বেতগহ্বর হচ্ছে কৃষ্ণগহ্বরের সময়-বিপরীত। শ্বেতগহ্বর ভিন্ন মহাবিশ্বে বা আমাদের মহাবিশ্বের ভিন্ন অংশে থাকতে পারে। মহাকাশ ভ্রমণের কাজে আমরা এ পদ্ধতি কাজে লাগাতে পারি। তা না হলে দূরত্ব এত বিরাট যে পাশের ছায়াপথে যেতে-আসতেই কয়েক মিলিয়ন বছর লেগে যাবে। কিন্তু কৃষ্ণগহ্বরের ভেতর দিয়ে শ্বেতগহ্বর হয়ে বেরোতে পারলে নাশতা সারার সময়ের মধ্যেই ফিরে আসতে পারবেন।

    প্রশ্ন : এবং তত্ত্বগতভাবে হলেও এটা সম্ভব হলে তবে কি সময়ের অতীতে যেতে পারবেন আপনি?

    হকিং : হ্যাঁ। মুশকিল হলো, আপনি রওনা দেওয়ার আগেই প্রত্যাবর্তনে বাধা দেওয়ার মতো কিছু থাকবে না।

    প্রশ্ন: কিংবা ফিরে এসে নিজেকে মৃত আবিষ্কার করে বসতে পারেন। কিংবা আপনার বিশ্বকেই মৃত আবিষ্কার করতে পারেন—

    হকিং : সৌভাগ্যক্রমে আমাদের টিকে থাকার বেলায় যে স্থান-কালে আমরা অতীতে যেতে পারি, সেটা অস্থিতিশীল মনে হয়। কোনো মহাকাশযান চলার সময় সবচেয়ে কম ঝামেলাটা কৃষ্ণগহ্বর ও শ্বেতগহ্বরের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় সেটাকে চিড়েচ্যাপ্টা করে দিতে পারে। মহাকাশযানের ইতিহাসের অবসান ঘটতে পারে। ছিন্নভিন্ন হয়ে অস্তিত্বহীন হয়ে যেতে পারে।

    প্রশ্ন : কিন্তু ধরুন, বাস্তবে ফিরে আসতে গেলে কাল্পনিক সময়ে ওয়ার্মহোল কি ভিন্ন ধরনের?

    হকিং: কাল্পনিক সময়ের ওয়ার্মহোলের সিঙ্গুলারিটি বা পরম বিন্দু নেই। যেকোনো পরিস্থিতিতেই ঘটতে পারে। বিভিন্ন কণার আপাত-সংযোগ এমনভাবে পাল্টে দিতে পারে এখনো যার সঠিকভাবে হিসাব বাকি রয়ে গেছে। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক খুবই তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত হয় বলে মনে হয়। এটাই স্থান ও সময়কে প্রসারণ বা সংকোচনের একধরনের সহজাত প্রবণতা জোগানো তথাকথিত মহাজাগতিক ধ্রুবক।

    প্রশ্ন : তাহলে এসব কণা যায় কোথায়?

    হকিং : বেবি ইউনিভার্সে বা শিশু মহাবিশ্বে। আমার সাম্প্রতিক কিছু কাজের ভিত্তিতে এসব কণা তাদের নিজস্ব শিশু মহাবিশ্বে চলে যাবে। এই শিশু মহাবিশ্ব আবার আমাদের স্থান ও সময়ের অঞ্চলে যোগ দিতে পারে। যদি দেয়, আমাদের চোখে সেটাকে তৈরি হয়েই মিলিয়ে যাওয়া আরেকটা কৃষ্ণগহ্বর বলেই মনে হবে। কৃষ্ণগহ্বরে পড়া কণাগুলো অন্য কৃষ্ণগহ্বর থেকে বিকিরিত কণার মতো মনে হবে এবং বিপরীতক্রমে।

    প্রশ্ন : কাল্পনিক সময় ও বাস্তব সময়ের সম্পর্ক কী?

    হকিং: কাল্পনিক সংখ্যা ব্যবহারের ভেতর দিয়ে কেউ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের কণাসমূহের সব ইতিহাসের—যেমন বিশেষ সময়ে নির্দিষ্ট অবস্থান হয়ে যাওয়ার সময়—সম্ভাবনা একত্র করেন। এরপর সেই ফলকে স্থানের দিকের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন বাস্তব স্থান-কালে আঁচ করতে হয়। কোয়ান্টাম থিওরির ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিচিত পদ্ধতি নয় এটা, তবে অন্য পদ্ধতির মতো একই ফল জুগিয়ে থাকে।

    প্রশ্ন: এ ধরনের দৈবচয়িতা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ কঠিন, এমনকি ঝামেলাপূর্ণ করে তোলে না?

    হকিং: হ্যাঁ। ‘ঈশ্বর মহাবিশ্ব নিয়ে পাশা খেলেন না’, এ বিখ্যাত মন্তব্যের মাধ্যমে আইনস্টাইন এর জোর বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু সব প্রমাণ বলছে, ঈশ্বর সত্যিই একজন নাছোড় জুয়াড়ি। [হাসি] প্রতিটি পর্যবেক্ষণের ফলাফল স্থির করতে ঘুঁটি ছুড়ে মারেন তিনি

    ফাইনম্যানের তত্ত্বের ভেতর দিয়ে এ অনিশ্চয়তা সবচেয়ে সুন্দরভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে। এখানে বলা হচ্ছে, কণার একক, সুসংজ্ঞায়িত পথ বা ইতিহাস নেই। বরং একে সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রেই স্থান-কালের ভেতর দিয়ে চলমান হিসেবে দেখতে হবে। প্রতিটি পথ বা ইতিহাসের আকারের ওপর নির্ভরশীল হবে এর মোট সম্ভাবনা। এ ধারণা কার্যকর হতে হলে আমরা যে বাস্তব সময়ে বাস করি, তার চেয়ে বরং কাল্পনিক সময়ে ঘটে যাওয়া ইতিহাসকে বিবেচনা করতে হয়। কোয়ান্টাম মহাকর্ষের বেলায় ফাইনম্যানের ইতিহাসের যোগফলের ধারণায় মহাবিশ্বের বিভিন্ন সম্ভাব্য ইতিহাসের সমষ্টি, অর্থাৎ বিভিন্ন ইউক্লিডীয় বক্র স্থান-কাল অন্তর্ভুক্ত করবে।

    সুতরাং, আপনার প্রশ্নের উত্তর হলো, প্রতিটি পথের সঙ্গে সম্পর্কিত জটিল সংখ্যার যোগ সুসংজ্ঞায়িত কোনো যোগফল দেয় না। কিন্তু কোনো ঘটনার আমরা যেমন মনে করে থাকি, সেভাবে সময়ের পরিচিতি কেবল সাধারণ কোনো সংখ্যা না হয়ে বরং একটি জটিল সংখ্যা কল্পনা করলেই সুসংজ্ঞায়িত উত্তর মিলতে পারে।

    প্রশ্ন: মোটেই সহজ ধারণা নয়। কাল্পনিক সময় এবং ওয়ার্মহোলের উপলব্ধির কাছে কী ব্যবহার রয়েছে?

    হকিং: বেশ, আমরা আদৌ কোনো কৃষ্ণগহ্বর থেকে বেরিয়ে আসতে পারব কি না, সে কথা বলছিলাম। কাল্পনিক সময় কৃষ্ণগহ্বরে লুটিয়ে পড়া কোনো বস্তুর বেরিয়ে আসার উপায় জোগাতে পারে। বাস্তব সময়ে একটি বস্তুর সাধারণ ইতিহাস শেষ হয়ে যাবে। কৃষ্ণগহ্বরের ভেতরে চুরমার হয়ে অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে। কিন্তু কেউ যদি কাল্পনিক সময়ে বস্তুর ইতিহাস বিবেচনা করে, মহাবিশ্বের সীমাহীনতার প্রস্তাব সত্যি হয়ে থাকলে সেই ইতিহাস শেষ হয়ে যেতে পারে না।

    প্রশ্ন : আপনি কি—সংক্ষেপে—সীমাহীনতার ধারণা ব্যাখ্যা দিতে পারেন?

    হকিং : ১৯৮৩ সালে জিম হার্টলে এবং আমি মাত্রার দিক থেকে স্থান ও কাল সসীম কিন্তু কোনো চৌহদ্দি বা প্রান্ত না থাকার প্রস্তাব রেখেছিলাম। আরও দুটি মাত্রাসহ ভূপৃষ্ঠের মতোই হবে এগুলো। ভূপৃষ্ঠ আয়তনের দিক থেকে সীমাবদ্ধ। কিন্তু এর কোনো সীমা নেই। আমি বলতে চাই, যতবার ঘুরে বেড়িয়েছি, কখনো পড়ে যাইনি। [হাসি]

    প্রশ্ন: আবার সীমানাহীন অবস্থার প্রসঙ্গে ফেরা যাক : আপনার প্রস্তাব প্রমাণিত হলে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তাই না?

    হকিং : মহাবিশ্ব সীমানাহীন অবস্থায় থাকলে বিজ্ঞানের পক্ষে স্পষ্টতই দারুণ হবে। কিন্তু সেটা কীভাবে বলবেন আপনি? উত্তর হলো, সীমানাহীনতার প্রস্তাব মহাবিশ্বের কেমন আচরণ করা উচিত, তার সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী করছে।

    প্রস্তাব সঠিক হয়ে থাকলে সিঙ্গুলারিটি বা পরম বিন্দু বলে কিছু থাকবে না এবং বিজ্ঞানের বিধিবিধান মহাবিশ্বের সূচনাকাল থেকে সর্বত্র প্রযোজ্য হবে। বিজ্ঞানের বিধান অনুযায়ী, মহাবিশ্বের সূচনা নির্ধারণ করা হবে। মহাবিশ্বের সূচনা জানার লক্ষ্যে আমি সফল হতে পারতাম। তার পরও কারণ জানতে পারতাম না।

    প্রশ্ন : কিন্তু আপনি বলেছেন না সীমানাহীন অবস্থায় সিঙ্গুলারিটির অস্তিত্ব থাকবে না। আপনার কাজে সব সময়ই কি সিঙ্গুলারিটির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেননি?

    হকিং: সিঙ্গুলারিটিজ-সংক্রান্ত মতামতের পরিবর্তন লক্ষ করা কৌতূহলোদ্দীপক। আমি গ্র্যাজুয়েট ছাত্র থাকতে বলতে গেলে কেউ একে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। এখন সিঙ্গুলারিটি থিওরেমের পরিণতিতে সবাই বিশ্বাস করছে যে মহাবিশ্ব সিঙ্গুলারিটি নিয়েই সূচিত হয়েছিল।

    অবশ্য এরই মধ্যে আমি মত পাল্টে ফেলেছি। আমি এখনো বিশ্বাস করি, মহাবিশ্বের একটা শুরু ছিল, কিন্তু সেটা সিঙ্গুলারিটি নয়।

    প্রশ্ন : কীভাবে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন?

    হকিং : আপেক্ষিকতার সাধারণ সূত্রকে বলা হচ্ছে ক্ল্যাসিক্যাল থিওরি বা ধ্রুপদি তত্ত্ব। অর্থাৎ এটা কণার যে নির্দিষ্ট অবস্থান ও গতি নেই, বরং কোয়ান্টাম মেকানিকসের অনিশ্চয়তার নীতিমালার কারণে ক্ষুদ্র অঞ্চলে লেপ্টে থাকে, সেই বাস্তবতাকে বিবেচনা করে না। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এতে কিছু এসে যায় না। কারণ, কোনো কণার অবস্থানের অনিশ্চয়তার সঙ্গে তুলনা করলে স্থান-কালের বাঁকের ব্যাসার্ধ অনেক বড়।

    অবশ্য সিঙ্গুলারিটি থিওরেম স্থান-কাল মহাবিশ্বের বর্তমান সম্প্রসারণ পর্যায়ের শুরুতে বাঁকের ছোট ব্যাসার্ধের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বিকৃত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এ পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। এভাবে সাধারণ আপেক্ষিকতা সিঙ্গুলারিটির ভবিষ্যদ্বাণী করার ভেতর দিয়ে নিজেরই পতন ডেকে আনছে। মহাবিশ্বের সূচনা নিয়ে আলোচনার জন্য আমাদের এমন একটা তত্ত্ব দরকার, যেটা সাধারণ আপেক্ষিকতাকে কোয়ান্টাম মেকানিকসের সঙ্গে সমন্বয় করবে।

    প্রশ্ন : অধরা সমন্বিত তত্ত্ব কিংবা টিওই [থিওরি অব এভরিথিং]?

    হকিং: আমরা এখনো কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি তত্ত্বের সঠিক রূপ জানতে পারিনি। আপাতত সুপারস্ট্রিং তত্ত্বই আমাদের সামনে সেরা প্রার্থী। কিন্তু এখনো বেশ কিছু অমীমাংসিত সমস্যা রয়ে গেছে। অবশ্য আমরা যেকোনো বৈধ তত্ত্বে উপস্থিত থাকবে এমন নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য প্রত্যাশা করি। একটি হলো বস্তু এবং শক্তির কারণে বক্র বা বিকৃত স্থান-কালের মাধ্যমে মহাকর্ষের প্রভাব তুলে ধরা যেতে পারার আইনস্টাইনের ধারণা। এ বক্র স্থানে সব বস্তুই সরলরেখায় সবচেয়ে কাছের বস্তুর কাছে যেতে চায়। অবশ্য স্থান বাঁকানো বলে যেন কোনো মহাকর্ষ ক্ষেত্রের কারণে সেগুলোর পথ বাঁকা মনে হয়।

    প্রশ্ন: আপনি ফাইনম্যানের সামওভার থিওরিও অন্তর্ভুক্ত করেছেন—

    হকিং : হ্যাঁ, আমরা রিচার্ড ফাইনম্যানের কোয়ান্টাম তত্ত্বকে পরম তত্ত্বে উপস্থিত ইতিহাসের যোগফল আকারে তুলে ধরতে পারব বলে আশা করি। মনে রাখবেন, এটা স্থান-কালে কোনো কণার সব ধরনের সম্ভাব্য পথ বা ইতিহাস থাকার ধারণা। এ ধরনের স্থানের সম্ভাবনা তত্ত্ব দিয়ে নয়, বরং এক ধরনের খামখেয়ালির সঙ্গে নির্ধারণ করতে হবে।

    প্রশ্ন: ‘একধরনের খামখেয়ালির সঙ্গে’–আবার দৈবচয়িতা?

    হকিং: এর মানে হচ্ছে বিজ্ঞান স্থান-কালের ক্ষেত্রে এ ধরনের একক ইতিহাসের সম্ভাবনা আঁচ করতে পারে না বলে মহাবিশ্বের কেমন আচরণ করা উচিত, তা-ও অনুমান করতে পারে না। অবশ্য এমনও হাতে পারে যে মহাবিশ্ব কেবল সামওভার ননসিঙ্গুলার ইউক্লিডীয় বাঁকা স্থানে সংজ্ঞায়িত অবস্থায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তত্ত্ব মহাবিশ্বকে সম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করবে, এর সূচনা নির্ধারণের জন্য কাউকে মহাবিশ্বের বাইরের কোনো শক্তির শরণ নিতে হবে না।

    এক দিক থেকে একটি ননসিঙ্গুলার ইতিহাসের যোগফলে মহাবিশ্বের অবস্থা নির্ধারিত হওয়ার প্রস্তাব অনেকটা ল্যাম্পপোস্টের নিচে মাতালের চাবি খোঁজার মতো। সেটা তার খোয়ানোর জায়গা না-ও হতে পারে, কিন্তু একমাত্র ওখানেই খুঁজে পাওয়ার মতো যথেষ্ট আলো রয়েছে।

    একইভাবে মহাবিশ্ব হয়তো ননসিঙ্গুলার ইতিহাসের যোগফলে সংজ্ঞায়িত অবস্থায় নেই, কিন্তু একমাত্র এই অবস্থাতেই বিজ্ঞান মহাবিশ্বের কেমন হওয়া উচিত, তার আভাস দিতে পারে।

    প্রশ্ন : কথাটা বলতে খারাপ লাগছে, কিন্তু সীমানাহীন প্রস্তাব ভুল হয়ে থাকলে?

    হকিং: [হাসি] পর্যবেক্ষণ অনুমানের সঙ্গে না মিললে, আমরা জানতে পারব যে সম্ভাব্য ইতিহাসের কাতারে অবশ্যই সিঙ্গুলারিটি রয়েছে। অবশ্য কেবল এটুকুই জানতে পারব আমরা। এভাবে আমরা মহাবিশ্বের কেমন আচরণ করা উচিত, তার আভাস দিতে পারব না।

    কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, কেবল বিগ ব্যাংয়ের মুহূর্তে ঘটে থাকলে এ অনুমান অযোগ্যতায় কিছু যাবে আসবে না। হাজার হোক, রাজনীতির ক্ষেত্রে একটা সপ্তাহ বেশ দীর্ঘ হয়ে থাকলে, ১০ মিলিয়ন বছর অনন্তের কাছাকাছিই বটে। কিন্তু বিগ ব্যাংয়ের অতি জোরালো মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রে অনুমানযোগ্যতা ভেঙে পড়লে, যেকোনো নক্ষত্রের ধ্বংসের সময়ও তা ঘটতে পারে। কেবল আমাদের ছায়াপথেই সপ্তাহে বেশ কয়েকবার ঘটতে পারে এমন। এভাবে, এমনকি আবহাওয়ার পূর্বাভাসের বিচারেও আমাদের অনুমানের ক্ষমতা হবে খুব দুর্বল।

    প্রশ্ন : এবং…

    হকিং : তাহলে সীমানাহীনতার প্রস্তাব মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে কী অনুমান করছে? প্রথম যে কথাটি বলতে হয়, সেটা হলো মহাবিশ্বের সব সম্ভাব্য ইতিহাস মাত্রার দিক থেকে সসীম হওয়ায় সময়ের পরিমাপ হিসেবে কেউ যেকোনো একক ব্যবহার করুক না কেন, তার হাতে একটা বৃহত্তম ও একটা ক্ষুদ্রতম সংখ্যা থাকবে। সুতরাং মহাবিশ্বের একটা আদি ও অন্ত থাকবে। অবশ্য শুরুটা সিঙ্গুলার বা একক হবে না, বরং পৃথিবীর উত্তর মেরুর মতো হবে সেটা। কেউ যদি ভূপৃষ্ঠের অক্ষাংশের ডিগ্রিগুলোকে সময়ের অ্যানালগ হিসেবে ধরে নেয়, তাহলে বলা যাবে ভূপৃষ্ঠের শুরু হয়েছে উত্তর মেরুতে। কিন্তু উত্তর মেরু পৃথিবীর বুকে নেহাতই সাধারণ একটি বিন্দু। এর বিশেষত্ব বলে কিছু নেই। আবার পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার মতো একই নিয়মকানুন উত্তর মেরুতেও খাটে। একইভাবে মহাবিশ্বের সূচনা হিসেবে তকমা দিতে আমরা যে ঘটনাকে বেছে নেব, সেটাও স্থান-কালের বিচারে অন্য যেকোনো কিছুর মতো সাধারণ একটা বিন্দুই হবে। বিজ্ঞানের বিধিবিধান অন্যান্য জায়গার মতো এই সূচনাতেও খাটবে!

    প্রশ্ন: আপনার কাজ থেকে আমরা যতটা বুঝতে পারছি—যত বেশি বা কম—এটা আবার আমাদের চোখে পড়ে যে আপনার ধারণাগুলো সাধারণ, পর্যবেক্ষণযোগ্য জীবন থেকে বহুদূরের অস্পষ্ট গাণিতিক ধারণার ওপর নির্ভরশীল—

    হকিং : কাল্পনিক সময়কে হয়তো বিজ্ঞান কল্পগল্পের মতো মনে হতে পারে, কিন্তু এটা সুসংজ্ঞায়িত গাণিতিক ধারণা।

    প্রশ্ন : হ্যাঁ, গণিতবিদ এবং পদার্থবিদদের কাছে, কিন্তু আমাদের বেশির ভাগের বেলায় এটা অনায়াসবোধের অতীত—

    হকিং : হ্যাঁ।

    প্রশ্ন : তাহলে সাধারণ মানুষ এসব ধারণা বোঝার চেষ্টা করতে গিয়ে কী উপকার পাবে? বেশির ভাগই বলবে সামাল দেওয়ার মতো আরও জরুরি সমস্যা আছে আমাদের-

    হকিং : এ কারণেই আমরা কী করছি তার ব্যাখ্যা জোগাতে কিছু সময় দিচ্ছি। আমার মনে হয় সৃষ্টিবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক অগ্রগতির সাধারণ ধারণাসংক্রান্ত জ্ঞান জনসাধারণের পক্ষে উপকারী।

    এটা ঠিক যে সৃষ্টিবিজ্ঞান বোঝার ফলে কারও পেট ভরবে না। এমনকি তা কাপড়চোপড় আরও পরিষ্কার করবে না। কিন্তু নারী বা পুরুষ কেবল খেয়ে-পরে বাঁচে না। আমরা সবাই নিজেদের যে মহাবিশ্বে আবিষ্কার করেছি, তার সঙ্গে বোঝাপড়ায় আসার এবং আমরা এখানে কেমন করে এসেছি জানার প্রয়োজনীয়তাটুকু বুঝতে পারি।

    প্রশ্ন : সে কারণেই আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম লিখেছেন?

    হকিং: বইটি লেখার বেশ কয়েকটি কারণ আছে। একটি হচ্ছে আমার মেয়ের স্কুলে ফি মেটানো। অবশ্য তাতে সফল হতে পারিনি কারণ, বইটা বেরোতে বেরোতে হাইস্কুলের শেষ ক্লাসে পৌঁছে গিয়েছিল সে। কিন্তু ওর কলেজের খরচা মেটানোর দরকার ছিল বটে।

    প্রশ্ন : কারণটা অসাধারণ। আরও কোনো কারণ?

    হকিং : মূল কারণ ছিল বেশ কিছু জনপ্রিয় নিবন্ধ লিখেছিলাম এবং কয়েকটি জনপ্রিয় লেকচারও দিয়েছিলাম। সেগুলোর সব কটিই গৃহীত হয়। কাজ করতে গিয়ে মজা পেয়েছি, কিন্তু আরও বড় কিছু চাইছিলাম আমি। আমার মনে হয়েছিল, গত ২৫ বছরে মহাবিশ্বের উপলব্ধির ক্ষেত্রে আমরা বিপুল অগ্রগতি অর্জন করেছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেসব ভাগাভাগি করে নিতে চেয়েছি। আমার মনে হয়, বিজ্ঞানে সাধারণ মানুষের কিছুটা আগ্রহী হয়ে ওঠা এবং মোটামুটি উপলব্ধি থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।

    বিজ্ঞান আমাদের জীবন বিপুলভাবে পাল্টে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি করে পাল্টে দেবে। সমাজ কোন দিকে যাবে, সেটা যদি আমাদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্থির করতে হয়, সে ক্ষেত্রে জনগণের বিজ্ঞানের কিছুটা উপলব্ধি থাকা দরকার।

    প্রশ্ন : তাহলে রাজনীতি-জাতীয় কিছু একটা করছেন আপনি—মহান সাম্য স্থিরকারী হিসেবে জ্ঞান, ভাষা জানা অল্প কিছুর ভেতর সীমিত নয়—

    হকিং : মহাবিশ্ব কীভাবে কাজ করে, কীভাবে এর শুরু হয়েছিল, সেই জ্ঞান ও উপলব্ধি মুষ্টিমেয় বিশেষজ্ঞের সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আমরা সবাই মানুষ জাতির অবস্থার ভাগীদার বলে আমরা কোত্থেকে এসেছি সবাই জানতে চাই। আমার বইটি বিশেষজ্ঞদের আবিষ্কার করা জ্ঞান সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করার প্রয়াস। সাধারণভাবে বিশেষজ্ঞরা কেবল অন্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গেই যোগাযোগ করেন; আমার মনে হয় সাধারণ মানুষের সঙ্গেও তাঁদের যোগাযোগ করা উচিত।

    প্রশ্ন : আপনি বলেছেন যে মহাবিশ্বের সূচনা হয়তো জানতে পারবেন, কিন্তু কারণ জানতে পারবেন না। আপনিও আইনস্টাইনের মতো পরম স্রষ্টার ধারণাকে নাকচ করছেন না—

    হকিং : আমার মনে হয় আমার বইটিতে যত্নশীল ছিলাম। ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে কি না এবং তার বৈশিষ্ট্য কেমন হওয়া উচিত, সে প্ৰশ্ন উন্মুক্ত রেখে দিয়েছি। কেউ কখনো ঈশ্বরের অস্তিত্বহীনতা প্ৰমাণ করতে পারবে না। আমি যেটা দেখিয়েছি সেটা হলো, মহাবিশ্বের সূচনা কীভাবে হয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ঈশ্বরের শরণাপন্ন হওয়ার দরকার নেই। কারণ, সেটা বিজ্ঞানের নিয়মকানুনেই স্থির হয়েছে। তবে কেউ বলতে পারেন, বিজ্ঞানের নিয়মকানুন মহাবিশ্বের আচরণের ঈশ্বর নির্ধারিত বিধান

    প্রশ্ন : আপনার মেয়ের কলেজের ফি মেটানো বাদে ওই বইটি কি আপনার জীবনের আর কোনো পরিবর্তন এনেছিল?

    হকিং : : খুব একটা পরিবর্তন ঘটায়নি। এমনকি ওই বইয়ের আগেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ, মূলত আমেরিকান [হাসি] পথে-ঘাটে আমার দিকে এগিয়ে আসত। তবে বইটি এ ধরনের সাক্ষাৎ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও পাবলিক লেকচারের মতো ব্যাপারগুলো আমার গবেষণার সীমিত সময় দখল করে নিয়েছে অবশ্য এখন এসব কমিয়ে দিয়ে গবেষণায় ফিরে যাচ্ছি।

    প্রশ্ন : আমরা ধরে নিচ্ছি সব বিজ্ঞানীই তাঁর প্রয়াসের বিনিময়ে স্বীকৃতি আশা করেন। আপনি বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু এখনো নোবেল পুরস্কার পাননি। কোনো একদিন নোবেল পুরস্কার পাবেন বলে মনে করেন?

    হকিং : আমার বেশির ভাগ কাজই সাধারণভাবে গৃহীত হয়েছে। সম্প্রতি বহু স্বীকৃতি পেয়েছি। কিন্তু জানি না কখনো নোবেল পুরস্কার পাব কি না। কারণ, কেবল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া তাত্ত্বিক কাজের জন্যই এটা দেওয়া হয়। আমি যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করেছি, সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন। [হাসি]

    * সাক্ষাৎকারটি ১৯৯০ সালের এপ্রিলে প্লেবয় ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।

    হকিংয়ের মৃত্যুর পর এর বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয় সিল্করুট-এ মার্চ ২৩, ২০১৮ সালের সংখ্যায়। অনুবাদ করেছেন শওকত হোসেন।

    পরিভাষা

    অতিপারমাণবিক Subatomic

    অতিস্ফীতি Inflationary

    অবিচ্ছিন্ন Continuous

    অবিচ্ছেদ্য Inseparable

    অনিশ্চয়তার নীতি Uncertainty principle

    ইলেকট্রন Electron

    এক্স-রে X-rays

    এনট্রপি Entropy

    ওয়ার্মহোল Wormhole

    কণা Particle

    কণাত্বরক যন্ত্র Particle accelerator

    কক্ষপথ Orbit

    কম্পাঙ্ক Frequency

    কিনারা Edge

    কোয়ার্ক Quark

    কোয়ান্টাম অবস্থা Quantum state

    কোয়ান্টাম প্রভাব Quantum effect

    কোয়ান্টাম বলবিদ্যা Quantum mechanics

    কোয়ান্টাম তত্ত্বের অনিশ্চয়তা Uncertainty of quantum theory

    কোয়ান্টাম মহাকর্ষ Quantum gravity

    কোয়াসার Quasars

    কৌণিক ভরবেগ Angular momentum

    কৌশল Mechanism

    কৃষ্ণগহ্বর Black hole গাণিতিক Mathematical

    গামা রশ্মি Gamma rays

    ঘটনা দিগন্ত Event horizon

    ঘনত্ব Density

    চাপ Pressure

    চার্জ Charge

    চুপসে Collapse

    চিরায়ত তত্ত্ব Classical theory

    তরঙ্গ Wave

    তরঙ্গদৈর্ঘ্য Wavelength

    তথ্য Information

    তাপমাত্রা Temperature

    তাপগতিবিদ্যা Thermodynamics

    দ্বৈততা Duality

    নিউট্রন Neutron

    নিউট্রন তারা Neutron star

    নিউক্লিয়াস Nucleus

    নিউক্লিয়ার ফিউশন Nuclear fusion

    নিউক্লিয়ার জ্বালানি Nuclear fuel

    নিমিত্তবাদ Determinism

    নিঃসরণ Emit

    পরমাণু Atom

    পরমাণু কেন্দ্র Nuclei

    পরম বিন্দু বা অনন্যতা Singularity

    পরম সময় Absolute time

    পরম শূন্য Absolute zero

    পজিট্রন Positron

    পারমাণবিক ফিউশন Nuclear fusion

    প্রতিসাম্যতা Symmetric

    প্রতিবস্তু Antimatter

    প্রতিকণা Antiparticle

    প্রতিবিশ্ব Antiworlds

    প্রতিমানুষ Antipeople

    পৃষ্ঠতল Aurface

    প্রোটন Proton

    ফোটন Photon

    বক্রতা Curvature

    বর্ণালি Spectrum

    বল Force

    বিকিরণ Radiation

    ব্যাসার্ধ Radius

    ব্যাপ্তি Extent

    বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় বল Electromagnetic

    বৈদ্যুতিক চার্জ বা আধান Electric charge

    বৈজ্ঞানিক নিমিত্তবাদ Scientific determinism

    বৃশ্চিক-মহিষাসুর Scorpius-Centaurus

    ভর Mass

    ভার্চুয়াল বা কাল্পনিক কণা Virtual Particle

    মহাবিশ্ব Universe

    মহাবিস্ফোরণ Big bang মহাকর্ষ Gravity

    ⤶
    1 2 3 4
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাই ব্রিফ হিস্ট্রি (আত্মস্মৃতি) – স্টিফেন হকিং
    Next Article কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – স্টিফেন হকিং

    Related Articles

    স্টিফেন হকিং

    কৃষ্ণগহ্বর, শিশু মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা – স্টিফেন হকিং

    December 8, 2025
    স্টিফেন হকিং

    কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – স্টিফেন হকিং

    December 8, 2025
    স্টিফেন হকিং

    মাই ব্রিফ হিস্ট্রি (আত্মস্মৃতি) – স্টিফেন হকিং

    December 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }