Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভবঘুরে ও অন্যান্য – সৈয়দ মুজতবা আলী

    সৈয়দ মুজতবা আলী এক পাতা গল্প253 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিরলঙ্কার

    একটি লোকের কাছে আমি নানাদিক দিয়ে কৃতজ্ঞ ছিলুম। মাসাধিক কাল আমি যখন টাইফয়েডে অজ্ঞান, সে তখন আমার সেবা করে বাঁচিয়ে তোলে। ভালো করেছে কি মন্দ করেছে, সে অবশ্য অন্য কথা। আর শুধু আমিই না, আমাদের পার্ক সার্কাস পাড়ার বিস্তর লোক তার কাছে নানান দিক দিয়ে ঋণী। মাঝারি রকমের পাস-টাস দিয়েছে পরীক্ষার ঠিক আগে তার জোর চাহিদা। বেশ দু পয়সা কামায়– ধার চাইতে হলে ও-ই ফার্স্ট চইস। আর বললুম তো, রুগীর সেবায় ঝানু নার্সকে হার মানায়।

    তার যে কেন হঠাৎ শখ গেল সাহিত্যিক হবার বোঝা কঠিন।

    একটা ফার্স লিখেছে। তার বিষয়বস্তু : ধনী ব্যবসায়ী তার ম্যানেজারের ওপর ভার দিয়েছে, কলেজ-পাস মেয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে ইন্টারভ নিয়ে বর বাছাই করতে। নাটকের আরম্ভ ইন্টারভ্য দিয়ে। কেউ কবি, কেউ গবিতা লিখে গবি, কেউ ফিলিম স্টার আরও কত কী?

    পড়ে আমার কান্না পেল। দুই কারণে। অত্যন্ত প্রিয়জনের নিষ্ফল প্রচেষ্টা দেখলে যেরকম কান্না পায়, এবং দ্বিতীয়ত ওই কথাটি ওকে বলি কী প্রকারে? ওটা কিছুই হয়নি, ওকে বলতে গেলে আমার মাথা কাটা যাবে। শেষটায় মাথা নিচু করে ঘাড় চূলকে বললুম, বুঝলে মামা, আমি ফার্স-টার্স বিশেষ পড়িনি, দেখিনি আদপেই অথচ এ-সব জিনিস স্টেজে দেখার এবং শোনার।

    মামা সদানন্দ পুরুষ। একগাল হেসে বললে, যা বলেছিস। আমি ঠিক তাই ভাবছিলুম।

    সোয়াস্তির নিশ্বাস ফেললুম।

    ওমা, কোথায় কী। হঠাৎ পাড়ার চায়ের দোকানে শুনি মামার ফার্স ট্যাংরা না বেনেপুকুরে কোথায় যেন রিহার্সেল হচ্ছে। সর্বনাশ। বলি, ও চাটুয্যে, এখন উপায়?

    সোমেন যদিও নিকষ্যি, তবু কথা কয় কলকাতার খাস বাসিন্দা বনেদি সোনার বেনেদের মতো। অর্থাৎ আরবি-ফারসি শব্দ ব্যবহারে হুতোম আলালকে আড়াই লেন্থ পিছনে ফেলে। দাঁতের মাড়ি পর্যন্ত বের করে বললে, উপায় নদারদ। দেখি নসিবে কী কী গর্দিশ আছে?

    তার পর মামা একদিন ঝড়ের মতো ঘরে ঢুকে ফার্স-অভিনয়ের লগ্ন রাঁদেভু বাতলে গেলেন। ট্যাংরা, গোবরায় নয়! রাজাবাজারের কোনও এক গলির ভিতরে।

    চাটুয্যের বাড়ি মসজিদবাড়ি স্ট্রিটে। ওখানে কখনও যাইনি। ভাবলুম, সেদিন ওখানেই আশ্রয় নেব। মামা সময় পেলেও আমাকে খুঁজে পাবে না।

    চাটুয্যে তো আমাকে দেখে অবাক। ব্যাপার শুনে বললে, তা আপনি চা পাঁপর খান। আমাকে তো যেতেই হবে। চাটুয্যে চাণক্যের সেই আইডিয়াল বান্ধব–রাজদ্বারে শ্মশানে ইত্যাদি। আর এটা যে মামার ফুরেল সে বিষয়ে আমার মনে কোনও সন্দ ছিল না।

    ঘণ্টা দুই দাঁত কিড়মিড়ি দিয়ে বার বার রাজাবাজারের দৃশ্যটা মনক্ষু থেকে তাড়াবার চেষ্টা করলুম। কিছুতেই কিছু হয় না। কোথাকার কে এক কবি বলেছে, সদ্য লাঞ্ছিতজন যেরকম বার বার চেষ্টা করেও অপমানের কটুবাক্য মন থেকে সরাতে পারে না।

    এমন সময় চাটুয্যে এক ঢাউস প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে উপস্থিত। তার সর্বাঙ্গ থেকে উত্তেজনা ঠিকরে পড়ছে। মুখে শুধু এলাহি ব্যাপার, পেল্লায় কাণ্ড। বুঝলুম, মামাকে উদ্ধারে সত্ত্বার্যে, কিংবা নিমতলার সকারে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু চাটুয্যে ঢাউস গাড়ি পেল কোথায় পায় তো কুল্লে পঞ্চাশ টাকা, খাদি প্রতিষ্ঠানে।

    গলির বাইরে থেকে শুনতে পেলুম তুমুল অট্টরব। বুঝলুম, গর্দিশ পেল্লায়।

    ওমা, এ কী? কোথায় না দেখব, মামা লিনচট হচ্ছে– দেখি, হাজার দুই লোক হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে, হেথা হোথা কেউ কেউ পেটে খিল ধরেছে বলে ডান দিকে চেপে ধরে কাতরাচ্ছে, আরেক দঙ্গল লোক হাসতে হাসতে মুখ বিকৃত করে কাঁদছে। সে এক ম্যাস হিস্টিরিয়ার হাসির শেয়ারবাজার কিংবা এবং রেসের মাঠ। ইস্তেক চাটুয্যে হেঁড়ে গলায় চেঁচাচ্ছে চাক্কু মারছে, চাক্কু মাইরা দিছে!

    ইতোমধ্যে ফার্স শেষ হয়েছে। মামাকে স্টেজে দাঁড় করানো হয়েছে। মামা গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, এ সম্মান সম্পূর্ণ আমার প্রাপ্য নয়। বস্তুত সবটাই পাবেন, সুসাহিত্যিক আকাঁদেমি কর্তৃক সম্মানিত শ্ৰীযুত গজেন্দ্রশঙ্কর সান্যাল। একমাত্র তাঁরই পরামর্শে আমি এটা স্টেজ করি। পাড়ার আর সবাই বলছিল, এটা সাপ ব্যাঙ কিছুই হয়নি।

    বুঝতেই পারছেন, আমার নাম গজা সান্যাল। তখন আরেক ধুন্দুমার। আমার গলা জিরাফের মতো হলেও অত মালার স্থান হত না। নিতান্ত রঙ্গদর্শী গৌরকিশোর সেখানে সেদিন উপস্থিত বুদ্ধি খাঁটিয়ে আমাকে সময়মতো না সরালে, বঙ্গীয় পাঠকমণ্ডলী উল্লিখিত কলকাতার কাছেই কবির মহাপ্রস্থান, বই থেকে বঞ্চিত হত।

    বাড়ি ফেরার পরও আমার মাথা তাজ্জিম মাজ্জিম করছিল। নল ছেড়ে দিয়ে তলায় মাথা রেখে মনে মনে বললুম, অয়ি বাগেশ্বরী, তোমার সৃষ্টিরহস্য আমাকে একটু বুঝিয়ে বল তো। মামার ওই ফার্স পড়ে এ-পাড়ার সক্কলের তো কান্না পেয়েছিল। তবে কি পাড়ার মেধো ও-পাড়ার মধুসূদন?

    বিস্তর অলঙ্কারশাস্ত্র পড়ে আমার মনে একটা আত্মম্ভরিতা হয়েছিল, আমি বলতে পারি কোন রচনা রসোত্তীর্ণ হয়েছে, কোনটা হয়নি। এখন দেখি ভুল।

    ভারত, বামন, ক্রোচে, বেৰ্গসো, তাহা হোসেন, আবু সঈদ আইয়ুব সবাইকে পরের দিন বস্তা বেঁধে শিশি-বোতলওলার বাড়িতে পাঠিয়ে দিলুম।

    আমি জানি, আমার পাঠকমণ্ডলী অসহিষ্ণু হয়ে বলবেন, তোমার যেমন বুদ্ধি! পার্ক সার্কাসের রদ্দি বই পেল রাজাবাজারের সম্মান। আর তুমি তাই করলে বামন ভামহকে প্রত্যাখ্যান! জৈসকে তৈসন, শুঁটকিসে বৈগন- যার সঙ্গে যার মেলে– শুঁটকির সঙ্গে বেগুনই তো চলে। রাজাবাজার পার্ক সার্কাসে গলাগলি হবে না?

    কথাটা ঠিক। ফারসিতেও বলে,

    স্বজাতির সনে স্বজাতি উড়িবে মিলিত হয়ে
    পায়রার সাথে পায়রা শিকরে শিকরে লয়ে?
    The same with same shall take its flight,
    The dove with dove and kite with kite.
    কুনদ হম্‌-জিনস ব হম-জিন্স্ পরওয়াজ
    কবুতর ব কবুতর বাজ ব বাজ।

    এসব অতিশয় খাঁটি কথা। কিন্তু প্রশ্ন, শেক্সপিয়র মলিয়ের জনসাধারণের রাজা-উজির গুণীজ্ঞানীর কথা হচ্ছে না– চিত্ত জয় করেছিলেন যে রস দিয়ে সেটি কি খুব উচ্চাঙ্গের রস? মাঝে মাঝে তো রীতিমতো অশ্লীল। এবং শেকসপিয়র যে আজও খাতির পাচ্ছেন তার কারণ জনসাধারণ তিনশো বছর ওঁর নাটক দেখত চেয়ে চেয়ে ওগুলোকে বাঁচিয়ে রেখেছিল বলে। শুধুমাত্র গুণীজ্ঞানীর কদর পেলে ওঁর নাট্য আজ পাওয়া যেত লাইব্রেরির টপ শেফে– সেটা উচ্চমান হলেও অপ্রয়োজনীয় বই-ই রাখা হয় সেখানে।

    আরেকটা উদাহরণ দি : ওস্তাদ মরহুম ফৈয়াজ খানের শিষ্য শ্রীমান সন্তোষ রায়ের কাছে শোনা। রাস্তায় এক ভিখিরির গাইয়া গান শুনে ফৈয়াজ তাকে আদরযত্ন করে বাড়ি নিয়ে গিয়ে, তার সেই গাঁইয়া গানের এক অংশ শিখে নিয়ে তাকে গুরুদক্ষিণা দিয়ে বিদায় দিলেন। কয়েকদিন পরে সেই টুকরোটি তার অতিশয় উচ্চাঙ্গ ওস্তাদি গানে বেমালুম জুড়ে দিয়ে বড় বড় ওস্তাদের কাছে শাবাশি পেলেন–ওরকম ভয়ঙ্কর অরিজিনাল অলঙ্কার কেউ কখনও শোনেনি!

    আরেকটি নিবেদন করি : মেজর জেনরল স্লিমান গেল শতাব্দীর গোড়ার দিকে একরাত্রি কাটান দিল্লি থেকে মাইল দশেক দূরের এক গ্রামে। রাত্রে শোনেন ইঁদারা থেকে বলদ দিয়ে জল তোলার সময় এক চাষা অন্য চাষাকে মিষ্টি টানা সুরে হুশিয়ার, খবরদার, সবুর বলছে। পরদিন সে-কথা এক ভারতীয় কর্মচারীর সামনে উল্লেখ করাতে সে বললে, তানসেন মাঝে মাঝে এখানে এসে এসব সুর শিখে নিয়ে আপন সৃষ্টিতে জুড়ে দিতেন।

    মামার ফার্সটা চেয়ে নিয়ে আবার নতুন করে পড়লুম। নাঃ! আমি ফৈয়াজ নই, তানসেনও নই। এর কোনও বস্তুই আমার কোনও কাজে লাগে না। মামাকে দোষ দেওয়া বৃথা।

    সমস্তটা ডাহা অনরিয়েল, কোনও প্রকারের বাস্তবতা নেই কোনওখানে।

    তখন মনে পড়ল ওস্কার ওয়াইডের একটি গল্প। তিনি সেটি তার সখা এবং শিষ্য আঁদ্রে জিকে বলেছিলেন। তিনি সেটি ওয়াইল্ড সম্বন্ধে লেখা তার ইন মেমোরিয়াম, (সুনির), পুস্তকে উল্লেখ করেছেন। নিজের ভাষায় গল্পটা বলি– ও বই পাই কোথায়?

    গ্রামের চাষাভূষোরা এক কবিকে খাওয়াত পরাত। কবির একমাত্র কাজ ছিল সন্ধের পর আড্ডাতে বসে গল্প বলা। চাষারা শুধোত কবি আজ কী দেখলে? আর কবি সুন্দর সুন্দর গল্প শোনাত। রোজ একই প্রশ্ন। একদিন যখন ওই শুধোলে, তখন, কবি বললে, আজ যা দেখেছি তা অপূর্ব। ওই পাশের বনটাতে গিয়েছিলুম বেড়াতে। বেজায় গরম। গাছতলায় যখন জিরোচ্ছি তখন ওমা, কোথাও কিছু নেই, হঠাৎ দেখি, একটা গাছের ফোকর থেকে বেরিয়ে এল এক পরী। তার পর আরেকটি, তার পর আরেকটি, করে করে সাতটি। আর সর্বশেষে বেরুলেন রানি। মাথায় হীরের ফুলের তৈরি মুকুট, পাখনা দুটি চরকা-কাটা বুড়ির সুতো দিয়ে তৈরি। হাতে সোনার বাঁশি। সাতটি পরীর চক্করের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাজাতে লাগল সেই সোনার বাঁশি। তার পর নাচতে নাচতে তারা এগিয়ে চলল সাগরের দিকে। আমিও ঘাপটি মেরে পিছনে পিছনে। সেখানে গিয়ে এরা গান গেয়ে বাঁশি বাজিয়ে কাদের যেন ডাকলে। সঙ্গে সঙ্গে উঠে এল সাত সমুদ্রকন্যা। সবুজ তাদের চুল তাই আঁচড়াচ্ছে সোনার চিরুনি দিয়ে। সন্ধ্যা অবধি, ভাই, তাদের গান শুনলুম, নাচ দেখলুম– তার পর তারা চাঁদের আলোয় মিলিয়ে গেল।

    সবাই বললে, তোফা, খাসা, বেড়ে।

    কবি রোজই এরকম গল্প বলে।

    একদিন হয়েছে কী, কবি গিয়েছে ওই বনে, আর সত্য সত্যই একটা গাছের ফোকর থেকে বেরলো সাতটি পরী, তারা নাচতে নাচতে গেল সমুদ্রপারে, সেখানে জল থেকে বেরিয়ে এল সমুদ্রকন্যা। কবি একদৃষ্টে দেখলে।

    সেদিন সন্ধ্যায় চাষারা নিত্যিকার মতো শুধোলে, কবি, আজ কী দেখলে বল।

    কবি গম্ভীর কণ্ঠে বললে, কিচ্ছু দেখিনি।

    অর্থ সরল। যে বস্তু মৃন্ময়রূপে চোখের সামনে ধরা দিল, সেটাকে নিয়ে কবি করবে কী? কবির ভুবন তো চিন্ময়, কল্পনার রাজ্য। বাস্তবে যে জিনিস দেখা হয়ে গেল তারই ঠাই কল্পনা রাজ্যে, কাব্যের জগতে আর কোথায়? চার চক্ষু মিলনের পর বধূকে আর কল্পনা কল্পনায় তিলোত্তমা বানিয়ে বেহেশতের হুরী-পরীর শামিল করা যায় না।

    প্রকৃতির বিরুদ্ধে ওয়াইলডের আরেকটি ফরিয়াদ, সৃষ্টিতে আছে শুধু একঘেয়েমি। প্রকৃতি বিস্তর মেহন্নত করে যদি একটি ফুল ফোঁটায় (রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, তত লক্ষ বরষের তপস্যার ফলে/ ধরণীর তলে ফুটিয়াছে এ মাধবী,) তবে বার বার তারই পুনরাবৃত্তি করে অপিচ কবির সৃষ্টি নিরঙ্কুশ একক, সৃষ্টিকর্তারই মতো একমেবাদ্বিতীয়ম, এক জিনিস সে দু বার করে না, অন্যের নকল তো করেই না, নিজেরও কার্বনকপি হতে চায় না।

    ওয়াইলডের বহুপূর্বে জর্মন কবি শিলার বলেছিলেন, প্রকৃতি প্রবেশ করা মাত্র কবি অন্তর্ধান করেন।

    আর রবীন্দ্রনাথ এ সম্বন্ধে কী বলেছেন, সেকথা অন্যত্র বলার সুযোগ আমার হয়েছে। পুনরাবৃত্তির ভয় বাধ্য হয়ে বর্জন করে বলছি, তিনি প্রকৃতির সওগাত কদম ফুল দেখে বলেছেন, ওটা ঋতুস্থায়ী, আর আমার সৃষ্টি অজরামর,

    আজ এনে দিলে হয়তো দেবে না কাল
    রিক্ত হবে যে তোমার ফুলের ডাল
    এ গান আমার শ্রাবণে শ্রাবণে
    তব বিস্মৃতি স্রোতের প্রাবনে
    ফিরিয়া ফিরিয়া আসিবে তরণী
    বহি তব সম্মান।

    এ আবার কীরকমের সম্মান!

    প্রকতিকে সব কবি হেনস্তা করার বর্ণনা দেবার পর, আবার ক্ষণতরে ওয়াইলডে ফিরে যাই।

    আচ্ছা মনে করুন, ওয়াইডের সেই গ্রাম্য কবি যদি চাষাদের একদিন বলত, আজ ভাই, আবার সেই বনে গিয়েছিলাম। দেখি গাছতলায় বসে এক পথিক তার সঙ্গীকে বলছে, সে তার পুরনো চাকরকে নিয়ে তীর্থ করতে যায়, সেখানে চাকরটা মারা যায়; তাই নিয়ে সে বিস্তর আপসা-আপসি করছিল।

    চাষারা নিশ্চয়ই ঠোঁট বেঁকিয়ে বলত, এতে আবার বলার মতো কী আছে– এ তো আকছারই হচ্ছে।

    কিন্তু মনে করুন, তখন যদি কবি, পুরাতন ভৃত্য কবিতাটি আবৃত্তি করত? বিষয়বস্তু উভয় ক্ষেত্রে একই।

    কবিতাটিতে যে অতি উত্তম রসসৃষ্টি হয়েছে সে সম্বন্ধে এ-যাবৎ কেউ কখনও সন্দেহ করেনি।

    অথচ ওয়াইলড বর্ণিত কবির পরী-সিন্ধুবালা অবাস্তব, পুরাতন ভৃত্যের বিষয়বস্তু অতিশয় বাস্তব। পুরাতন ভৃত্য মনে না ধরলে দেবতার গ্রাস নিন। সেটা তো অতিশয় বাস্তব আইন করে বন্ধ করতে হয়েছিল, পরীর নাচ বন্ধ করার জন্য আইন তৈরি হয় না।

    তা হলে দাঁড়াল এই, বাস্তব হোক, কাল্পনিক হোক– প্রাকৃত হোক, অতিপ্রাকৃত হোক– যে-কোনও বিষয়বস্তু রসোত্তীর্ণ হতে পারে যদি–

    এইখানেই আলঙ্কারিকদের ওয়াটারলু। কী সে জিনিস, কী সে যাদুর কাঠি, কী সে ভানুমতীর মন্ত্র যার পরশ পেয়ে পুরাতন ভৃত্য বনের পরী কাব্যরসাঙ্গনে একই তালে, একই লয়ে চটুল নৃত্য আরম্ভ করে? কিংবা বাস্তবে না নেচেও কাব্যেতে নাচা হয়ে যায়? যথা–

    জোন বললে– চ্যাটার্জি, এই আনন্দের দিনে তুমি অমন গ্রাম হয়ে বসে থেক না, আমাদের নাচে যোগ দাও।

    বললুম মাদার লক্ষ্মী, আমার কোমরে বাত। নাচতে কবিরাজের বারণ আছে।

    (শুনুন কথা! পৃথিবীর উপরে হাউ অন্ আর্থ-কবিরাজ কী করে কল্পনা করতে পারে যে, ষাট বছরের বুড়া গাইয়া চাটুয্যের বলড্যান্সের অভ্যাস আছে; আগে-ভাগে বারণ করে দিতে হবে)!

    ভানুমতী বলে ভালোই করেছি। ম্যাজিকের জোরেই শরঙ্কালে আম ফলানো যায়। দীপক গেয়ে আগুন ধরানো যায়, মল্লার গেয়ে বৃষ্টি নামানো যায়। কিন্তু সত্য সঙ্গীতজ্ঞ নাকি তাতে কণামাত্র বিচলিত না হয়ে বলেন, তার চেয়ে ঢের বেশি সার্থক হবে সঙ্গীত যদি সদ্য-বিধবাকে সান্ত্বনা দিতে পারে, স্বাধিকারপ্রমত্তকে শান্ত করতে পারে। এবং কিছু না করেও যে সার্থক সঙ্গীত হতে পারে সে তো জানা কথা।

    আর্টে এই ম্যাজিক জিনিসটির সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ :

    গাহিছে কাশীনাথ নবীন যুবা
    ধ্বনিতে সভাগৃহ ঢাকি,
    কণ্ঠে খেলিতেছে সাতটি সুর
    সাতটি যেন পোষা পাখি।
    শাণিত তরবারি গলাটি যেন,
    নাচিয়া ফিরে দশদিকে,
    কখন কোথা যায় না পাই দিশা,
    বিজুলি হেন ঝিকমিকে!
    আপনি গড়ি তোলে বিপদজাল
    আপনি কাটি দেয় তাহা।
    সভার লোকে শুনে অবাক মানে,
    সঘনে বলে, বাহা বাহা ॥

    এখানে বিশেষ করে লক্ষ করবার জিনিস, সভার লোকে বাহা বাহা বলছে, কেউ কিন্তু, আহা আহা বলেনি।

    পার্থক্যটা কোথায়?

    দড়ির উপর নাচ দেখে বলি বাঃ, জাদুকর যখন চিরতনের টেক্কাকে ইসকাপনের দুরি বানায় তখন বলি বা রে–কাশীনাথ যখন গানের টেকনিকাল স্কিল (ম্যাজিক) দেখায় তখন বলি, বাঃ, কিন্তু যখন কবি গান,

    তোমার চরণে। আমার পরাণে,
    লাগিবে প্রেমের ফাঁসি—

    তখন মনে হয়, যেন আমারই বিরহতপস্যা শ্রান্ত ভালে প্রিয়া তার আপন কণ্ঠের যুথীরমালে আমার সর্ব দহনদাহ ঘুচিয়ে দিলেন। চরম পরিতৃপ্তিতে হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে বেরিয়ে আসে, আ আহ।

    আশ্চর্য হলে বলি বাঃ, পরিতৃপ্ত হলে আহ্। ম্যাজিকে বাব্বাবাব্বা আর্টে, আহাহা!

    হ্যাঁ-কে না করা, না-কে হ্যাঁ করা কঠিন নয়, কিন্তু উভয়কে মধুরতম করাই আর্ট, সেইটি কঠিন, ওইটেই আলঙ্কারিকদের ওয়াটারলু। এবং সবচেয়ে কঠিন, মধুরকে মধুরতর করা। ফুল তত সুন্দর, তাকে সুন্দরতম করা যায় কী করে। স্বয়ং খৃস্ট বলেছেন, লিলিফুলকে তুলি দিয়ে রঙ মাখায় কে?

    অথচ জাপানি শ্ৰমণ রিয়োকোয়ান রচলেন–

    কি মধুর দেখি রেশমের গাছে
    ফুটিয়াছে ফুলগুলি
    কোমল পেলব করিল তাদের
    ভোরের কুয়াশা তুলি।

    কি সে ভোরের কুয়াশা তুলি যা সবকিছুকে মধুর মেদুর, কোমল পেলব করে দেয়? দৃষ্টান্ত দিই :

    প্রাচ্য ভূখণ্ড হইতে পবন আসিয়া আমাকে দোদুল্যমান করাতে আমি মুগ্ধ হইয়া আ মরি, আ মরি বলিতেছি–

    কবির তুলির পরশ পেয়ে হয়ে যায়; পূব হাওয়াতে দেয় দোলা মরি-মরি—

    আমি বললুম, সব বনে ছায়া ক্রমে ক্রমে ঘন হইতে ঘনতর হইতেছে—

    কবির তুলি লাগাতে হল, ছায়া ঘনাইছে বনে বনে।

    কিংবা আমি বললুম, শুক্লপক্ষের পঞ্চদশী রাত্রে পথ দিয়া যাইবার সময় যখন চন্দ্রোদয় হইয়াছে, তখন তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হইয়াছিল; তাহাকে কি শুভ লগ্ন বলিব, জানি না।

    যেতে যেতে পথে পূর্ণিমা রাতে
    চাঁদ উঠেছিল গগনে।
    দেখা হয়েছিল তোমাতে আমাতে
    কী জানি, কী মহা লগনে।

    পাঠক হয়তো বলবেন, তুমি বলেছ গদ্যে, সে যেন পায়ে চলা; আর কবি বলেছেন ছন্দে, সে যেন নাচা।

    উত্তম প্রস্তাব। ছন্দে বলি,

    পথিমধ্যে তোমার সঙ্গে
    পূর্ণিমাতে দেখা
    বলব একে মহা লগন
    ছিল ভালে লেখা।

    কবিতা হল, কিন্তু রসসৃষ্টি হল না।

    আর নিখুঁত, নিটোল ছন্দ মিল হলেই যদি কবিতা হয় তবে নিচের কবিতাটি নোবেল প্রাইজ পাওয়ার কথা :

    হর প্রতি প্রিয় ভাষে কন হৈমবতী
    বত্সরের ফলাফল কহ পশুপতি!
    কোন গ্রহ রাজা হৈল কেবা মন্ত্রির
    প্রকাশ করিয়া তাহা কহ দিগম্বর!

    অলঙ্কারের দিক দিয়ে কবিতাটি দিগম্বরই বটে।

    এই যে তুলি সবকিছু মধুময় করে তোলে, কী দিয়ে এ বস্তু তৈরি, কী করে এর ব্যবহার শিখতে হয়? এ কী সম্পূর্ণ বিধিদত্ত, না পরিশ্রম করে এর খানিকটে আয়ত্ত করা যায়?

    ঘটিতে টোল দেখলে চট করে পাই, কিন্তু নিটোল ঘটি বানাই কী করে?

    আর এই তো সেই তুলি সে যখন আপন মনে চলে তখন সে গীতিকাব্য লিরিক মেঘদূত। যখন ঘটনার ঘাতপ্রতিঘাত চরিত্রের ক্রমবিকাশের ওপর এর ছোঁয়া লাগে সে তখন কাব্য- রঘুবংশ। যখন ধর্মকে ছুঁয়ে যায় সে তখন গীতা, কুরান, বাইবেল।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রেম – সৈয়দ মুজতবা আলী
    Next Article মুসাফির – সৈয়দ মুজতবা আলী

    Related Articles

    সৈয়দ মুজতবা আলী

    চাচা কাহিনী – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    পঞ্চতন্ত্র ১ – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    ময়ূরকণ্ঠী – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    দ্বন্দ্বমধুর – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    অসি রায়ের গপপো – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    দেশে বিদেশে – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }