Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয়ংকর স্বীকারোক্তি – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প284 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোনার কলম

    সোনার কলম

    আজ বিশ্বকর্মা পুজো বলে সমুদ্রের অফিস ছুটি৷ নিজের ঘরে বসে সমুদ্র তার বন্ধু প্রতাপের জন্য অপেক্ষা করতে করতে নিজের মোবাইল ফোনটার ভাঙা জায়গাটিতে লিউকোপ্লাস্ট লাগাচ্ছিল৷ দরজা খোলাই ছিল৷ প্রতাপ ঘরে ঢুকে সমুদ্রকে কাজটা করতে দেখে বলল, ‘এবার তোমার ভাঙা মোবাইল সেটটা পাল্টাও৷ বাজারে কত নতুন ধরনের সেট বেরিয়েছে৷ আর তুমি কিনা ঐ আদ্যিকালের মোবাইল সেটটাকে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে কাজ চালাচ্ছ!’

    প্রতাপের কথা শুনে সমুদ্র মৃদু হেসে বলল, ‘আমার এই ভাঙা মোবাইল সেট আমার ছদ্মবেশেরই অঙ্গ৷ ঠিক যেমন আমার চোখের সস্তা দামের মোটা ফ্রেমের চশমাটা বা সরকারি অফিসে ছাপোষা কেরানির চাকরি৷ আসলে তুমি অন্যদের চোখে যত সাধারণ মানুষ দেখাবে ততই সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশে যেতে পারবে৷ এর চেয়ে বড় ছদ্মবেশ আর হয় না৷ আমার অফিসের হরিদাসবাবুর সঙ্গে পাশাপাশি বসে পাঁচ বছর কাজ করছি৷ কিন্তু তুমি তাঁকে কিছুতেই বিশ্বাস করাতে পারবে না যে আমিই গোয়েন্দা সমুদ্র বসু৷’

    প্রতাপ হেসে বলল, ‘বুঝতে পারলাম৷ তোমার ঐ ভাঙা মোবাইল সেটই থাক, তবে আমি কিন্তু ক’দিন হল একটা নতুন মোবাইল সেট কিনেছি৷’ এই বলে সে নতুন কেনা মোবাইলটা পকেট থেকে বার করে এগিয়ে দিল সমুদ্রের দিকে৷

    সমুদ্র সেটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখে বলল, ‘বেশ বড় আর সুন্দর সেট তো!’

    প্রতাপ বলল, ‘অ্যান্ড্রয়েড সেট৷ ইন্টারনেট, ফেসবুক সব কিছু করা যায়৷ আমি একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলেছি৷ ইতিমধ্যে কুড়িজন ফেসবুক বন্ধু হয়েছে৷ তুমি তো জানো যে সাহিত্য জগৎ নিয়ে আমার আগ্রহ আছে৷ ঐ বন্ধুদের মধ্যে কেউ কবি-সাহিত্যিক, কেউ বা নিবিষ্ট পাঠক৷ নানা ধরনের লেখা, গল্প-উপন্যাসের খবর পাচ্ছি ওদের থেকে৷ অনেক সময় সাহিত্য অনুষ্ঠানের বা সাহিত্যিকদের ছবিও থাকে৷ দাঁড়াও তোমাকে দেখাচ্ছি৷’

    প্রতাপ এরপর সমুদ্রের হাত থেকে মোবাইলটা নিয়ে কয়েক মুহূর্ত খুটখাট করার পর প্রথমে বলল, ‘এই দেখো৷’ কিন্তু তার পরমুহূর্তেই বলে উঠল, ‘হায় ভগবান!’

    সমুদ্র জিগ্যেস করল, ‘কী হল?’

    প্রতাপ বলে উঠল, ‘একজন ফেসবুকে লিখেছেন, প্রয়াত হলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক জলধর ঘোষাল!’

    ‘নামটা যেন আমারও শোনা মনে হচ্ছে৷ তুমি তাঁকে চিনতে নাকি?’

    বিষণ্ণভাবে প্রতাপ জবাব দিল, ‘চিনতাম মানে সাহিত্যের বেশ কয়েকটা অনুষ্ঠানে ওঁকে দেখেছি৷ রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাসের বিখ্যাত লেখক৷ আমি ওঁর লেখার একজন বড় ভক্ত৷ এই তো তিনদিন আগেই উনি ‘সোনার কলম’ পুরস্কার পেলেন৷ সাহিত্য জগতের খুব নামী পুরস্কার ওটা৷ মধুসূদন মঞ্চে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দর্শক আসনে তাঁর গুণমুগ্ধদের মধ্যে আমিও উপস্থিত ছিলাম৷’

    ‘খুব বেশি বৃদ্ধ হয়েছিলেন? কীভাবে মারা গেলেন? এখন মনে পড়ছে, আমি ওনার লেখা ‘কালো চিতা’ গোয়েন্দা সিরিজটা পড়েছি৷’

    সমুদ্রের কথা শুনে প্রতাপ বলল, ‘হ্যাঁ, ‘কালো চিতা’ উনিই লিখতেন৷ ভদ্রলোক কীভাবে মারা গেছেন তা ফেসবুকে লেখা নেই৷ শুধু মারা যাবার খবরটাই পরিবেশিত হয়েছে৷ বয়স তো বেশি নয় ভদ্রলোকের৷ ওনার বয়স সম্ভবত পঞ্চাশ-বাহান্ন হবে৷ ওনাকে দেখে আমার তাই মনে হয়েছে৷ সাহিত্য জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল ওনার মৃত্যুতে৷ ‘কালো চিতা’র অভিযান আর পাবে না পাঠকরা৷’

    এরপর একটু চুপ করে থেকে প্রতাপ ভারাক্রান্ত গলায় বলল, ‘আমি তবে আজ উঠি৷ আমার সাহিত্যপ্রেমী এক বন্ধু সমীরণ পালিত ওঁর বাড়ি একবার গেছিল৷ শ্যামবাজারের দিকে প্রয়াত সাহিত্যিকদের বাড়ি৷ সমীরণ পালিতের থেকে ঠিকানা নিয়ে ফুলের স্তবক দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে আসি প্রয়াত সাহিত্যিককে৷’

    ঠিক এই সময় সমুদ্রের ভাঙা মোবাইলটা বেজে উঠল৷ মোবাইল ফোন কানে দিয়ে এক মিনিট ‘হ্যাঁ-না’ করার পর রাইটিং প্যাড টেনে নিয়ে সমুদ্র কী যেন লিখল৷ তারপর ফোনটা নামিয়ে রেখে প্রতাপকে বলল, ‘চলো, আমিও তোমার সঙ্গে ভদ্রলোককে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে আসি৷ তাঁর ‘কালো চিতা’ সিরিজের কয়েকটা গল্প বেশ ভালো লেগেছিল আমার৷ তবে তোমার সাহিত্যিক বন্ধুর থেকে আর ঠিকানা জানার দরকার নেই৷ ঠিকানাটা আমি জেনে গেছি৷’

    ‘ঠিকানা কীভাবে পেলে?’ বিস্মিত ভাবে জানতে চাইল প্রতাপ৷

    প্রতাপের বিস্ময়ের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়ে সমুদ্র বলল, ‘পুলিশের অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার সাহেব ফোন করলেন এইমাত্র৷ তিনি ঠিকানাটা দিলেন৷ আসলে সাহিত্যিক জলধর ঘোষালের মৃত্যুটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে পুলিশের ধারণা৷ সে জন্য আমাকে কমিশনার সাহেব ঘটনাস্থলে যেতে অনুরোধ জানালেন৷ এত বড় একজন সাহিত্যিকের যদি সত্যিই অপঘাতে মৃত্যু হয়ে থাকে তবে সংবাদ মাধ্যম আর রাজনৈতিক দলগুলো নিশ্চয়ই ছেড়ে কথা বলবে না পুলিশকে৷ তাই কমিশনার সাহেব আমার শরণাপন্ন হলেন৷ পুলিশের পাশাপাশি আমাকেও ঘটনার অনুসন্ধানের দায়িত্ব নিতে বলছেন তিনি৷’

    প্রতাপ সত্যিই অবাক হয়ে গেল এ ঘটনা শুনে৷ মিনিট দশেকের মধ্যেই তৈরি হয়ে সমুদ্র বাড়ি ছেড়ে একটা ট্যাক্সি ধরে প্রতাপকে নিয়ে রওনা হয়ে গেল প্রয়াত সাহিত্যিকের বাড়ির উদ্দেশে৷

    ৷৷ ২৷৷

    বেশ ভিড় বাড়িটার সামনে৷ সাহিত্যিকের মৃত্যুসংবাদ ইতিমধ্যে চাউর হয়ে গেছে৷ তাঁর গুণমুগ্ধ ভক্তরা ইতিমধ্যে ফুল-মালা নিয়ে হাজির হতে শুরু করেছে সাহিত্যিককে শেষ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য৷ মিডিয়ার লোকরাও কাঁধে ক্যামেরা নিয়ে হাজির৷ কিন্তু পুলিশ কাউকে বাড়ির ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না৷ অপেক্ষমাণ জনতার মধ্যে এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে৷ পাজামা-পাঞ্জাবি পরা, কাঁধে শান্তিনিকেতনি ব্যাগঅলা লোক, সম্ভবত কোনো উঠতি সাহিত্যিক হবেন, তিনি চেঁচাচ্ছেন—‘পুলিশের এ কি অভব্যতা! এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি অথচ বাড়ির ভিতর ঢুকতে দিচ্ছে না৷ এদিকে কেন ঢুকতে দিচ্ছে না সে ব্যাপারে কিছু বলছেও না!’ গাড়ি থেকে নেমে ঐ লোকটার পাশ দিয়ে বাড়ির সদর দরজার দিকে হেঁটে যাবার সময় কথাগুলো কানে আসতেই সমুদ্র চাপা স্বরে প্রতাপকে বলল, ‘তার মানে পুলিশ এখনও বাইরের লোকের কাছে ব্যাপারটা খোলসা করেনি৷’

    সমুদ্রকে অবশ্য বাড়িতে ঢোকার ব্যাপারে বেগ পেতে হল না৷ দরজার মুখেই দাঁড়িয়ে ছিলেন স্থানীয় থানার ওসি, মিস্টার রক্ষিত৷ তিনি সমুদ্রর পূর্ব-পরিচিত৷ সমুদ্রকে দেখে তিনি বললেন, ‘কমিশনার সাহেব জানিয়েছিলেন আপনি আসছেন৷ আপনার জন্যই অপেক্ষা করছি৷ ভিতরে গেলেই ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন৷’

    বাড়িতে ঢুকে প্রথম যে ঘরে সমুদ্ররা পা রাখল সেটা সাহিত্যিকের বৈঠকখানা৷ বেশ কয়েকটা আলমারিতে থরে থরে বই সাজানো৷ দেওয়ালের গায়ে ঝুলছে মানপত্র, মেমেন্টো ইত্যাদি৷ একটা সোফায় তিনজন লোক বসে আছে সে ঘরে৷ বিমর্ষ মুখ৷ তাদের একজন সম্ভবত কাঁদছেনও৷ তাঁর মুখে রুমাল চাপা দেওয়া৷ সে ঘর অতিক্রম করে রক্ষিত সমুদ্রদের নিয়ে উপস্থিত হলেন পাশের একটি ঘরে৷ সে ঘরে ঢোকার সময় সমুদ্র খেয়াল করল দরজার ছিটকিনিটা ভাঙা হয়েছে৷ মাঝারি আকারের একটা ঘর৷ বই ঠাসা দুটো র‌্যাক এ ঘরেও আছে৷ তাছাড়া নানা ধরনের কাগজপত্র, ম্যাগাজিন অবিন্যস্ত ভাবে ঘরের এদিক-সেদিকে রাখা৷ ঘরের একপাশে একটা ক্যাম্পখাটে বিছানা পাতা৷ আর ঘরের ঠিক মাঝখানে বেশ বড় রাইটিং টেবিল৷ চামড়ার গদি আঁটা চেয়ারে বসা একটা লোক, তার মাথাটা একপাশে ফিরিয়ে ঝুঁকে পড়ে আছে টেবিলের ওপর৷ সাহিত্যিক জলধর ঘোষাল!

    কয়েকজন পুলিশকর্মী রয়েছেন ঘরের ভিতর৷ সমুদ্ররা গিয়ে দাঁড়াল টেবিলটার সামনে৷ সমুদ্র প্রথমে মৃত জলধর ঘোষালের মুখটা লক্ষ করল৷ মুখটা যেন মৃত্যুযন্ত্রণায় বিকৃত হয়ে গেছে৷ চোখের মণিগুলো ঠিকরে বাইরে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে৷ লিখতে লিখতেই মৃত্যু হয়েছে ভদ্রলোকের৷ টেবিলের ওপর একতাড়া লেখার কাগজের ওপরই ঢলে পড়েছেন তিনি৷ মৃত ব্যক্তির ডান হাতটাও টেবিলের ওপর রাখা৷ সে হাতে তখনও ধরা আছে সোনালি রঙের একটা ফাউন্টেন কলম৷

    রক্ষিত সমুদ্রকে জিগ্যেস করলেন, ‘আপনার কী মনে হচ্ছে?’

    সমুদ্র নিচু হয়ে ঝুঁকে পড়ল মৃত সাহিত্যিকের মুখের ওপর৷ ভালো করে কী যেন দেখলে সে৷ বার দুই জোরে জোরে শ্বাস টেনে কী যেন শোঁকারও চেষ্টা করল৷ তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আমার ধারণা এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়৷ বিষক্রিয়ায় মৃত্যু ঘটেছে৷ সে জন্যই মুখ অমন বিকৃত হয়ে গেছে৷ তাছাড়া ঠোঁটের কষে এক বিন্দু শুকনো রক্তও লেগে আছে৷ এটা সম্ভবত হার্ট অ্যাটাক নয়৷ এই মৃত্যুর ব্যাপারটা প্রথমে নজরে এল কীভাবে?’

    রক্ষিত বললেন, ‘আমারও ধারণা বিষক্রিয়া৷ মৃত্যু হয়েছে সম্ভবত বারো-চোদ্দ ঘণ্টা আগে৷ রাইগার মর্টাসিসও শুরু হয়ে গেছে৷ ব্যাপারটা সবার নজরে আসে সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ৷ জলধর ঘোষাল সংসার পাতেননি৷ এই ভাড়াবাড়িতে তিনি একাই থাকতেন৷ একতলায় উনি, আর দোতলায় বাড়ির মালিক৷ জলধরবাবুর আত্মীয় বলতে এক ভাইপো আছে৷ সে আবার জলধরবাবুর সহায়কেরও কাজ করে৷ রাতে না থাকলেও এ বাড়িতে তার রোজই যাওয়া-আসা৷ তার নাম প্রকাশ ঘোষাল৷ আজ সকাল সাতটা নাগাদ সে এ বাড়িতে আসে৷ সে দেখে এ ঘরের দরজা বন্ধ৷ তার ধারণা হয় যে রাত জেগে লিখে কাকা ঘুমোচ্ছেন৷ সে কাকার ঘুম ভাঙার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে৷ আটটা নাগাদ এক প্রকাশক আসেন জলধরের থেকে লেখা নিতে৷ ভদ্রলোকের ফেরার তাড়া ছিল৷ তাই প্রকাশ আবার তার কাকার দরজাতে ধাক্কা দেয়৷ বেশ কয়েকবার দরজা ধাক্কানো ও ডাকাডাকিতে দরজা না খোলাতে সন্দেহ হয় তার মনে৷ ইতিমধ্যে দরজা ধাক্কানোর শব্দে ওপর থেকে নেমে আসেন বাড়িঅলা মাখন পাল৷ প্রকাশক, বাড়িঅলা ও ভাইপো তিনজন মিলে আরও একপ্রস্থ দরজা ধাক্কানো, হাঁকডাকের পরও জলধরবাবু দরজা না খোলাতে শেষে তারা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখে এ অবস্থা৷ বাড়িঅলাই ফোন করে ব্যাপারটা পুলিশকে জানায়৷ পাশের ঘরেই তারা তিনজন আছে, আপনি কথা বলতে পারেন তাদের সঙ্গে৷’

    সমুদ্র বলল, ‘হ্যাঁ, বলব৷ তার আগে ভালো করে ঘরটা দেখে নিই৷’ সমুদ্র প্রথমে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল টেবিলটা৷ টেবিলে অন্য জিনিসের মধ্যে আছে কয়েকটা বই, একটা কালি ভর্তি দোয়াত, ফুলদানির মতো একটা পাত্রে একগোছা নানা রঙের ফাউন্টেন পেন বা ঝর্না কলম৷ জলধরবাবুর হাতের কলমটাও দেখল সমুদ্র৷ সোনালি রঙের ফাউন্টেন পেন৷ নিব খোলা৷ কালো রঙের ক্যাপটা কলমের মাথায় পরানো৷ মৃত্যুর আগের মুহূর্তেও সম্ভবত লিখছিলেন তিনি৷ কলমটা ভালো করে দেখার পর সমুদ্র মন্তব্য করল, ‘কলমটা তো সোনার কলম মনে হচ্ছে! টেবিলের অন্য কলমগুলোও বেশ দামি৷ লেখক মানুষ বলেই হয়তো দামি কলমের শখ ছিল৷’ এ কথা শুনে প্রতাপ বলল, ‘সেদিন ‘সোনার কলম সাহিত্য পুরস্কারে’ ওঁকে একটা সোনার কলম, শাল, মানপত্র দেওয়া হয়েছিল৷ সেটা মনে হয় এই কলমটাই৷’

    সমুদ্র বলল, ‘তাই নাকি?’ তারপর সে ঘুরে ঘুরে ঘরটা পরীক্ষা করতে শুরু করল৷ ক্যাম্পখাটের পাশে একটা ছোট টেবিলের ওপর কয়েকটা ওষুধের শিশি রাখা আছে৷ সমুদ্র সেগুলো নেড়েচেড়ে দেখল৷ আর ক্যাম্পখাটের নীচে এঁটো থালা-বাটি আর জলের বোতল রাখা৷ সেগুলোর দিকে তাকিয়ে সমুদ্র বলল, ‘সম্ভবত ভদ্রলোক রাতের খাওয়া সেরে লিখতে বসেছিলেন৷ রক্ষিতবাবু আপনি এই থালা-জলের বোতল-ওষুধের শিশিগুলো ফরেনসিক টেস্টের জন্য পাঠান৷ দেখা যাক ওতে বিষাক্ত কিছু পাওয়া যায় কিনা? এখন প্রশ্ন হল, জলধরবাবু নিজে বিষ খেলেন, নাকি তাঁকে বিষ খাওয়ানো হল? ওঁর পাঞ্জাবির পকেটগুলো একবার দেখুন৷’

    একজন কনস্টেবল মৃতের পাঞ্জাবির পকেট হাতড়াতে পকেট থেকে শুধু একটা কাগজ বেরিয়ে এল৷ একটা লিফলেট জলধরবাবুর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের৷ কাগজটাতে লেখা—‘রাধা-বিনোদ স্মৃতি স্বর্ণকলম সাহিত্য পুরস্কার৷ প্রাপক: প্রখ্যাত সাহিত্যিক শ্রী জলধর ঘোষাল’—এই শিরোনামের পর জলধর ঘোষালের একটা সংক্ষিপ্ত জীবনী আর অনুষ্ঠানের স্থানকাল দেওয়া আছে৷ সমুদ্র সেটা দেখিয়ে প্রতাপকে বলল, ‘সোনার কলম পুরস্কারের পুরো নামটা জানলাম৷’

    প্রতাপ বলল, ‘এখন খেয়াল হচ্ছে বুকে সাদা সুতোর কাজকরা গেরুয়া রঙের এই পাঞ্জাবিটা পরেই তিনি পুরস্কার নিতে গেছিলেন৷ এই লিফলেটটা সভাস্থলে বিলানো হচ্ছিল৷ তাই ওঁর পকেটে রয়ে গেছে৷ এটা আমার কাছেও একটা আছে৷’

    সমুদ্র এরপর মিস্টার রক্ষিতকে বলল, ‘এ ঘরে আপাতত আমার কাজ শেষ৷ আমি এবার এক এক করে ঐ তিনজন লোকের সঙ্গে কথা বলব৷ আর বাইরের লোকদের জানিয়ে দিন যে আপাতত তাঁকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা যাবে না৷ বডি পোস্টমর্টেমে যাবে৷’

    ৷৷ ৩৷৷

    বাড়িরই অন্য একটা ঘরে গিয়ে এবার বসল সমুদ্র, প্রতাপ আর মিস্টার রক্ষিত৷ একজন কনস্টেবল প্রথমে সে ঘরে হাজির করল বছর তিরিশের এক যুবককে৷ জলধর ঘোষালের ভাইপো প্রকাশ৷ রুমাল দিয়ে ঘন ঘন চোখ মুছছে সে৷ দৃশ্যতই সে খুব ভেঙে পড়েছে৷ সমুদ্র তাকে বলল, ‘এ সময় আপনাকে বিব্রত করতে খুব খারাপ লাগছে তবু কয়েকটা কথা জিগ্যেস করছি৷ আপনি কোথায় থাকেন? শুনেছি আপনি কাকার অ্যাসিস্টেন্টের কাজ করতেন৷ কী কী কাজ করতে হত আপনাকে? বেতন পেতেন?’

    প্রকাশ বলল, ‘আমি দক্ষিণ কলকাতার নাকতলাতে থাকি স্ত্রী-পরিবার নিয়ে৷ কাকা তো লেখা নিয়েই মগ্ন থাকতেন৷ ওঁর অন্য সব বাইরের কাজই আমি করতাম৷ প্রকাশকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, লেখা কাগজপত্র দেওয়া-নেওয়া, ব্যাঙ্ক-পোস্ট অফিস ইত্যাদি সব কাজই৷ এ সব কাজের জন্য সাত হাজার টাকা প্রতি মাসে পেতাম৷’

    ‘এই মাগ্যিগণ্ডার বাজারে ঐ টাকাতে সংসার চলে আপনার? আর কিছু করেন আপনি?’

    ‘শেয়ার মার্কেটে সামান্য কিছু কাজকর্ম করি৷ ওতে আরও হাজার কয়েক টাকা আয় হয়৷’ জবাব দিল প্রকাশ৷

    ‘আপনার কাকার সঙ্গে শেষ কবে কখন দেখা হয় আপনার?’

    প্রকাশ বলল, ‘গতকাল রাতে আমি এ পাড়ারই অন্নপূর্ণা কেবিন থেকে রাত আটটা নাগাদ খাবার কিনে দিয়ে যাই৷ দুপুরে ইদানীং তিনি ওখানে গিয়েই খান৷ আর রাতের খাবার এনে দিয়ে বাড়ি চলে যাই৷ গতকাল রাতে সেই শেষ দেখা৷’

    মিস্টার রক্ষিত জানতে চাইলেন, ‘উনি কী বরাবর হোটেলের খাবারই খান?’

    প্রকাশ জবাব দিল, ‘না, গত কুড়ি বছর তিনি এ বাড়িতে পেইং গেস্ট হিসাবে থাকতেন৷ এখানেই খেতেন৷ একমাস হল বাড়িঅলার সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য হয়৷ তারপর তিনি হোটেলের খাবার খাওয়া শুরু করেন৷’

    ‘কী নিয়ে মনোমালিন্য?’

    ‘বাড়িঅলা বাড়িটা ছেড়ে দিতে বলছিলেন৷ এই ব্যাপার নিয়েই মনোমালিন্য৷’ জবাব দিল প্রকাশ৷

    সমুদ্র এরপর বলল, ‘একটা শেষ প্রশ্নর উত্তর দিয়ে আপনি যেতে পারেন৷ কাকার মৃত্যুতে তাঁর টাকার উত্তরাধিকারী কী আপনি?’

    মুহূর্তখানেক চুপ করে থেকে প্রকাশ জবাব দিল, ‘হ্যাঁ৷’ তারপর সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল৷

    প্রকাশ ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার পরই ঘরে ঢুকলেন সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরা, চশমা চোখে এক ভদ্রলোক৷ বয়স সম্ভবত পঞ্চাশ-পঞ্চান্ন৷ তাঁর চোখে-মুখে স্পষ্টই বিমর্ষ ভাব৷ ঘরে ঢুকেই তিনি বললেন, ‘আমি ভাবতেই পারছি না জলধর ঘোষাল আর নেই৷ দু’দিন আগেই ওনার হাতে আমি সোনার কলম সম্বর্ধনা তুলে দিলাম৷ উনি আজ আসতে বলেছিলেন পুজোর উপন্যাসের পাণ্ডুলিপিটা নিয়ে যেতে৷ কিন্তু কী যে হল৷ আমাদের প্রকাশকদের আর সাহিত্য জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল ওঁর এভাবে চলে যাওয়ায়৷’

    তাঁর কথা শুনে সমুদ্র জানতে চাইল, ‘মৃত্যুর সময় হাতে ধরে থাকা সোনার কলমটা কী তবে আপনারই দেওয়া? আপনার পুরস্কারটা যাঁর নামে উৎসর্গ করা তিনি কে? আপনার আর আপনার প্রকাশনা সংস্থার নামটা বলবেন?’

    ভদ্রলোক বললেন, ‘আমার নাম বিদ্যাবিনোদ পালিত৷ প্রকাশনা সংস্থার নাম ‘পালিত প্রকাশনা’৷ পুরস্কারটা আমার অকাল প্রয়াত দাদার নামে উৎসর্গ করা৷ হ্যাঁ, ঐ সোনার কলমটা আমারই দেওয়া৷’

    উত্তর শুনে সমুদ্র প্রশ্ন করল, ‘আপনার সঙ্গে ওঁর কত বছরের চেনা? লেখালেখি করে ওঁর কেমন আয় হত বলতে পারেন?’

    পালিত বললেন, ‘আমার বাড়ি হিদারাম মল্লিক লেনে৷ জলধরবাবু একসময় ঐ পাড়াতেই থাকতেন৷ তবে তখন অবশ্য তাঁর সঙ্গে পরিচয় ছিল না৷ উনি লেখক আর আমি প্রকাশক হবার পর দুজনের পরিচয় হয়৷ সে পরিচয় বলা যেতে পারে দশ বছরের৷ অন্য কোনো প্রকাশক তাঁকে কী টাকা দিত তা আমার জানা নেই৷ তবে আমি ওঁর কুড়িটা বইয়ের রয়ালিটি বাবদ বছরে তিন লাখ টাকা মতো প্রকাশের হাতে দিতাম৷ আর পুজো সংখ্যার উপন্যাস বাবদ একলাখ অগ্রিম দিতে হত৷ এবারও তাই দিয়েছি৷’

    সমুদ্র তাঁর কথা শোনার পর বলল, ‘আপনাকে শেষ দুটো প্রশ্ন—এক, লেখক নয়, ব্যক্তিমানুষ হিসাবে জলধরবাবু কেমন ছিলেন? ইদানীং তিনি কী কোনো ঘটনায় বিব্রত ছিলেন? অথবা এমন কোনো কথা কী তিনি আপনাকে বলেছিলেন যা একটু অস্বাভাবিক?’

    পালিত প্রথম প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘মানুষ হিসাবে জলধর খুব শান্ত-নির্বিবাদী মানুষ ছিলেন৷ লেখক-প্রকাশকদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল৷’ একথা বলার পর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে তিনি একটু ভেবে নিয়ে বললেন, ‘বাড়িঅলার সঙ্গে কী একটা মনোমালিন্য চলছিল সে ব্যাপারে মাসখানেক আগে কী যেন বলেছিলেন৷ তবে সেদিন সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে গ্রিনরুমে আমাকে একলা পেয়ে বলেছিলেন যে রয়ালিটির বা উপন্যাসের টাকাগুলো যেন এরপর থেকে আমি সরাসরি তাঁর হাতে দেই৷ একথার অন্য কোনো তাৎপর্য আছে কিনা আমার জানা নেই৷’

    পালিত চলে যাবার পর সবশেষে ঘরে ঢুকলেন বাড়ির মালিক মাখন পাল৷ মাঝবয়সী, বেশ গাঁট্টাগোঁট্টা চেহারা৷ পরনে ফতুয়া আর ছাপা লুঙ্গি৷ তাঁকে সমুদ্র সরাসরি প্রশ্ন করল, ‘আপনার সঙ্গে কী জলধরবাবুর মনোমালিন্য চলছিল?’

    মাখন পাল একটু চুপ করে থেকে জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, এতবড়ো পুরোনো বাড়ি আমি মেইনটেইন করতে পারছি না৷ প্রমোটারের সঙ্গে কথা হয়েছে৷ সে বাড়ি নিয়ে এখানে একটা ফ্ল্যাট বানাবে বলছে৷ কিন্তু জলধরবাবু বাড়ি ছাড়তে চাচ্ছিলেন না৷ এদিকে খাওয়া খরচ সমেত ভাড়া দিতেন মাত্র দেড় হাজার টাকা৷ মনোমালিন্য হবার পর অবশ্য মাসখানেক তিনি বাইরেই খাচ্ছিলেন৷ তবে কথা কাটাকাটি হলেও কোনো দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়নি তাঁর সঙ্গে৷’

    সমুদ্র বলল, ‘এই বাজারে দেড় হাজার টাকা বেশ কমই৷ জলধরবাবু কী মৃদু কৃপণ স্বভাবের ছিলেন?’

    মাখন পাল বললেন, ‘মৃত মানুষের সমালোচনা করতে নেই৷ তবু বলি, আপনার ধারণা সঠিক৷ বেতন বাড়ানো নিয়ে ক’দিন আগেই খুড়ো-ভাইপোর ঝগড়া হচ্ছিল৷ জলধরবাবু প্রকাশবাবুকে বলছিলেন তিনি বেতন বাড়াতে পারবেন না৷ নতুন লোক রাখবেন৷’

    সমুদ্র শেষ প্রশ্ন করল, ‘আপনার সঙ্গে শেষ কবে কথা হয়েছিল জলধরবাবুর?’

    বাড়িঅলা বললেন, ‘মনোমালিন্য হলেও টুকটাক কথাবার্তা হত৷ খবরের কাগজে ওঁর পুরস্কারপ্রাপ্তির খবর দেখে ভদ্রতাবশত পরশু সকালে এসে অভিনন্দন জানিয়ে গেছিলাম৷ উনি বেশ খুশিও হলেন৷’

    ৷৷ ৪৷৷

    এদিন সকালেও নিজের ঘরে বসেছিল সমুদ্র৷ রবিবার, ছুটির দিন৷ বেলা আটটা বাজে৷ সাহিত্যিক জলধর ঘোষালের মৃত্যুর দশ দিন কেটে গেছে৷ তদন্তে শুধু উঠে এসেছে বিষক্রিয়ায় জলধর ঘোষালের মৃত্যু হয়েছে৷ সায়ানাইড বিষ৷ তবে তাঁর খাবারের থালায়, জলের বোতলে, ওষুধের শিশিতে কোথাও সায়ানাইড মেলেনি৷ তাঁর মৃত্যুটা আত্মহত্যা না খুন সেটাও বোঝা যাচ্ছে না৷ এ নিয়ে খবরের কাগজে পুলিশের তুলোধোনা করা হচ্ছে৷ এদিনের খবরের কাগজে তেমনই একটা লেখা বেরিয়েছে৷ সেটাই পড়ছিল সমুদ্র, এমন সময় ঘরে ঢুকল প্রতাপ৷ সে সমুদ্রকে প্রথমে জিগ্যেস করল, ‘জলধরবাবুর মৃত্যুরহস্যের ব্যাপারে আর কিছু এগোনো গেল?’ সমুদ্র খবরের কাগজটা টেবিলের ওপর নামিয়ে রেখে একটু হতাশ ভাবে বলল, ‘না এগোয়নি৷ এ কেসটাতে সমুদ্র বসু মনে হয় পরাস্তই হল৷ জলধরবাবুর মৃত্যুটা যদি খুনের কেস বলে ধরি তবে তাঁর খুনে লাভবান হবে প্রকাশ ঘোষাল আর মাখন পাল৷ তাদের কেউ যদি খুনটা করে থাকে তবে কী পদ্ধতিতে জলধরবাবুকে বিষ খাওয়াল সেটাই তো পরিষ্কার নয়৷’

    প্রতাপ একটু চুপ করে থেকে পকেট থেকে একটা কার্ড বার করে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘আজ বিকাল পাঁচটায় কলেজ স্ট্রিটে একটা ছোট হলে সাহিত্যিক জলধর ঘোষালের স্মরণসভা৷ ‘পালিত প্রকাশনা’র উদ্যোগে হচ্ছে৷ আমি যাব ভাবছি৷ তুমি যাবে?’

    কার্ডটা হাতে নিল সমুদ্র৷ কার্ডে জলধর ঘোষালের একটা ছবিও ছাপা আছে৷ নিজের ঘরের সেই রাইটিং টেবিলে বসে আছেন সাহিত্যিক৷ তাঁর সামনে একতাড়া কাগজ৷ হাতের কলমটা ঠোঁটে ছুঁইয়ে নিবিষ্ট মনে কাগজের দিকে তাকিয়ে ভাবছেন জলধর ঘোষাল৷

    ছবিটা কয়েক মুহূর্ত দেখার পরই সমুদ্র উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘চলো তো আর একবার জলধর ঘোষালের বাড়ি যাব৷ আমি রক্ষিতকে ফোন করে দিচ্ছি, যাতে ওরা লোক পাঠিয়ে ঘরটা খুলে দেবার ব্যবস্থা করে৷’

    এরপর আধঘণ্টার মধ্যেই জলধর ঘোষালের বাড়ির সামনে পৌঁছে গেল সমুদ্ররা৷ পুলিশও এসে গেছিল৷ ঘরটা খুলে দিল তারা৷ এক ভদ্রমহিলা, সম্ভবত তিনি মাখন পালের স্ত্রী হবেন, তিনি দোতলার ব্যালকনি থেকে জানালেন যে মাখন পাল বাড়ি নেই৷ বিকালে তিনি জলধর ঘোষালের স্মরণসভায় যাবেন বলে ফুল কিনতে গেছেন৷ পুলিশকর্মী আর প্রতাপকে নিয়ে মৃত সাহিত্যিকের সেই ঘরটাতে ঢুকল সমুদ্র৷ ঘরের সব জিনিস মোটামুটি একরকমই আছে৷ সমুদ্র টেবিলের কাছে গিয়ে পকেট থেকে ম্যাগনিফাইং গ্লাস বার করে সেটা দিয়ে কলমদানিতে রাখা কলমগুলো এক এক করে তুলে নিয়ে কী যেন পরীক্ষা করল৷ তারপর প্রতাপকে বলল, ‘আপাতত আমার এখানকার কাজ শেষ৷ আমাকে এখন অন্য জায়গাতে যেতে হবে৷ তুমি ফিরে যাও৷ আশা করছি কলেজ স্ট্রিটে জলধরবাবুর স্মরণসভায় তোমার সঙ্গে দেখা হবে৷’

    ৷৷ ৫৷৷

    পাঁচটাতেই স্মরণসভায় পৌঁছে গেল প্রতাপ৷ ছোট হলঘরটাতে ভিড় বেশ ভালোই হয়েছে৷ মঞ্চে একটা টেবিল ও ক’টা চেয়ার৷ টেবিলের ওপর প্রয়াত সাহিত্যিক জলধর ঘোষালের একটা বেশ বড় বাঁধানো ছবি৷ ঠিক যে ছবিটা ছাপানো হয়েছে আমন্ত্রণপত্রে৷ সেই ছবিটার পাশে একটা তেরো-চোদ্দ বয়সী ছেলের বাঁধানো ফটোগ্রাফও আছে৷ দর্শকদের ভিড়ের মাঝে সমুদ্র, প্রকাশ ঘোষাল, মাখন পাল আর সাদা পোশাকে মিস্টার রক্ষিতকেও দেখতে পেল প্রতাপ৷ সমুদ্রের সঙ্গে চোখাচোখি হতেই সে ইশারায় চুপ থাকতে বলল তাকে৷

    নির্ধারিত সময়ই অনুষ্ঠান শুরু হল৷ প্রথমে মঞ্চে উঠে বিদ্যাবিনোদ বললেন, ‘আজ এই স্মরণসভায় প্রয়াত সাহিত্যিক জলধর ঘোষালকে আমরা শ্রদ্ধা জানাব৷ তিনি ক’দিন আগেই ‘রাধাবিনোদ স্বর্ণকলম’ পুরস্কার পেয়েছিলেন৷ ঘটনাচক্রে আজ আমার অকাল প্রয়াত ভ্রাতা রাধাবিনোদেরও মৃত্যুদিন৷ মঞ্চে তার প্রতিকৃতিও আছে৷ তাতেও মাল্যদান করব আমরা৷’ মাল্যদান পর্ব এরপর শুরু হল৷ প্রথমে মালা দিলেন বিদ্যাবিনোদই৷ ছবি দুটোতে মালা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি৷ এরপর জলধর ঘোষালের আত্মীয়স্বজন, গুণমুগ্ধ ভক্তরা তাঁর প্রতিকৃতিতে মালা দিল৷ তাদের মধ্যে প্রকাশ, মাখন পালও ছিল৷ প্রতাপও মালা দিল৷ এরপর শুরু হল লেখকের সম্বন্ধে বক্তৃতা৷ বেশ কয়েকজন লেখক-প্রকাশক-ভক্ত সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখলেন প্রয়াত সাহিত্যিককে শ্রদ্ধা জানিয়ে৷ এভাবে ঘণ্টা দুই সময় কেটে গেল৷ ঠিক সাতটায় অনুষ্ঠান শেষ হল৷ সভা ভেঙে যেতেই লোকজন সব বেরিয়ে পড়ল ঘর ছেড়ে৷ রয়ে গেল শুধু সমুদ্র, প্রতাপ, প্রকাশ, মাখন পাল, রক্ষিত আর সাদা পোশাকের পুলিশকর্মী৷ আর বিদ্যাবিনোদ অবশ্য মঞ্চের ওপরেই ছিলেন৷ সমুদ্র, প্রতাপকে ইশারা করলে মঞ্চের দিকে যাবার জন্য৷ সমুদ্র প্রতাপ আর রক্ষিতকে সঙ্গে করে উঠে পড়ল মঞ্চে৷ তাদের দেখে বিদ্যাবিনোদ বললেন, ‘খুব ভালো লাগল আপনারা এসেছেন বলে৷ আবার নিশ্চয়ই দেখা হবে৷’

    সমুদ্র বলল, ‘আপনাকে যে আমাদের সঙ্গে থানায় যেতে হবে এখন৷’

    তিনি বললেন, ‘কেন, থানায় কেন?’

    সমুদ্র বলল, ‘আপনি তো সোনার কলমটা জলধর ঘোষালকে উপহার দিয়েছিলেন তাই না? ওঁর মৃত্যু আপনিই ঘটিয়েছেন৷’

    ‘এসব কী বলছেন আপনি?’ চিৎকার করে উঠলেন বিদ্যাবিনোদ৷

    সমুদ্র শান্ত স্বরে বলল, ‘জলধর ঘোষালের একটা অভ্যাস ছিল লিখতে লিখতে চিন্তা করার সময় কলমের মাথাটা কামড় দেওয়া৷ এ অভ্যাস অনেকেরই থাকে৷ জলধরবাবুর টেবিলে রাখা অন্য কলমগুলোর মাথাতেও দাঁতের দাগ দেখেছি আমি৷ এই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণলিপিতেও জলধরবাবুর ওরকমই ভঙ্গিমার একটা ছবি ছাপা আছে৷ লেখকের ঐ অভ্যাসের কথা আপনি জানতেন৷ আপনি জলধরবাবুকে যে সোনার কলম দিয়েছিলেন তার ক্যাপে সায়ানাইড মাখানো ছিল৷ আপনি জানতেন তিনি কোনো না কোনো সময় ওখানে মুখ দেবেন৷ কলমটা পুলিশের হেফাজতে আছে৷ ওর ক্যাপে বিষের অস্তিত্ব প্রমাণ করা কঠিন হবে না৷’

    বিদ্যাবিনোদের মুখটা কেমন যেন ফ্যাকাশে মনে হল প্রতাপের৷ তিনি বললেন, ‘আমি খুন করতে যাব কেন ওঁকে?’

    সমুদ্র এবারও শান্ত স্বরে বলল, ‘আমি আপনার পাড়ায় আজ ঘুরে এসেছি৷ যেখানে জলধরবাবু একসময় থাকতেন৷ আপনার পাড়ায় আমার পরিচিত লোকের মুখে আমি জেনেছি যে আপনার ভাইয়ের অকাল মৃত্যুর সঙ্গে জলধর ঘোষালের একটা সম্পর্ক ছিল৷ ব্যাপারটা আপানি বলবেন না আমি বলব?’

    বিদ্যাবিনোদ পাকা ক্রিমিনাল নন৷ সম্ভবত আর চাপ সহ্য করতে পারলেন না তিনি৷ একটা চেয়ারে ধপ করে বসে পড়ে দু’হাতে মুখ চাপা দিয়ে তিনি কঁকিয়ে উঠে বললেন, ‘হ্যাঁ, আমিই সায়েনাইড মাখিয়েছিলাম কলমে৷ আমি আমার দাদার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিলাম ঐ সোনার কলম দিয়ে৷’ এই বলে তিনি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করলেন৷

    বেশ কিছুক্ষণ পর কান্না থামালেন বিদ্যাবিনোদ৷ রুমাল বার করে চোখ মুছে বললেন, ‘তাহলে সে ঘটনার কথা আপনাদের বলি৷ পঁয়ত্রিশ বছর আগের ঘটনা৷ জলধর ও আমার দাদা রাধাবিনোদ তখন আমার থেকে এক ক্লাস উঁচুতে ক্লাস টেনে পড়ে৷ একই স্কুলে৷ জলধর আর আমার দাদার বরাবরই শখ ছিল নানা ধরনের কলমের৷ একদিন দাদাদেরই ক্লাসের এক সহপাঠী একটা সোনালি ঝর্না কলম নিয়ে হাজির হল স্কুলে৷ জলধর আর দাদা দুজনেই তার কাছ থেকে কলমটা কিনতে চাইল৷ কিন্তু সে রাজি হল না৷ কিন্তু ক-দিনের মধ্যেই কলমটা খোয়া গেল তার ব্যাগ থেকে৷ ছেলেটা শিক্ষকমশাইকে ব্যাপারটা জানাতেই তাঁর নির্দেশে সবার ব্যাগ খোঁজা হল৷ আর দাদার ব্যাগ থেকেই বেরোল কলমটা৷ শিক্ষকমশাই তাকে তিরস্কার করে চোর অপবাদ দিয়ে দাদাকে বললেন স্কুল থেকে তাকে রাস্টিকেট করবেন৷ দাদা বলল, জলধর আমাকে কলমটা দিয়েছিল রাখতে৷ সে বলেছিল কলমটা সে ছেলেটার কাছ থেকে কিনেছে৷ কিন্তু মাস্টারমশাই বিশ্বাস করলেন না দাদার কথা৷ জলধরও ব্যাপারটা অস্বীকার করল৷ বাড়ি ফিরে দাদা আমাকে জানাল সে কথা৷ আমরা দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসতাম৷ সেদিন রাতেই দাদা লজ্জা-অপমানে স্কুল থেকে বহিষ্কারের ভয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করল৷ দাদার সেই গলায় ফাঁস লাগানো, জিভ বার করা ঝুলন্ত দেহটা আমি আজও চোখ বন্ধ করলে দেখতে পাই৷ দাদার মৃতদেহ দেখার পরই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে একদিন এ ঘটনার আমি প্রতিশোধ নেব৷ এত বছর ধরে ভাবনাটা মনে পুষে রেখেছিলাম৷ এবার প্রতিশোধ নিলাম৷’—এই বলে আবার মুখ ঢাকলেন তিনি৷

    তাঁকে ঘিরে বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল সবাই৷ মিস্টার রক্ষিত একসময় তাঁর উদ্দেশে বললেন, ‘এবার উঠুন৷ থানায় যেতে হবে৷’

    চোখ মুছে উঠে দাঁড়ালেন বিদ্যাবিনোদ৷ তারপর বললেন, ‘এক মিনিট৷ আমার দাদার ছবিতে যাবার আগে শেষ ভালোবাসা জানাই?’ এই বলে তিনি রাধাবিনোদের ছবিটা তুলে নিলেন টেবিল থেকে৷ পরম মমতায় ছবিটাতে হাত বুলিয়ে যেন চুমু খেলেন ছবির ফ্রেমে৷ কিন্তু ছবিটা আর তিনি টেবিলে নামিয়ে রাখতে পারলেন না৷ তার আগেই ঢলে পড়লেন মাটিতে৷ তাঁকে যখন ধরাধরি করে টেবিলের ওপর শোয়ানো হল তখন আর তাঁর দেহে প্রাণ নেই৷ তাঁর মুখ বিকৃত হয়ে গেছে৷

    বিদ্যাবিনোদের মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে সমুদ্র আফশোসের সুরে বলল, ‘দাদার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের ফাঁকি দিয়ে চলে গেলেন বিদ্যাবিনোদ৷ খুনের দায় তাঁকে নিতে হল না৷ সম্ভবত তিনি ধারণা করেছিলেন তিনি ধরা পড়তে পারেন৷ ছবির ফ্রেমটাতেও তিনি বিষ মাখিয়ে রেখেছিলেন ঐ সোনার কলমটার মতো৷ বিষটা নিশ্চয়ই সায়েনাইড৷ নইলে এত দ্রুত মৃত্যু ঘটত না৷ প্রতাপ, আজকের অনুষ্ঠানের তোমার দেওয়া আমন্ত্রণলিপিতে জলধর ঘোষালের ঠোঁটে কলম ছোঁয়ানো ছবিটাই যাবতীয় রহস্যের সমাধান ঘটাল বলতে পার৷’

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকদা এক পানশালাতে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article রানি হাটশেপসুটের মমি – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }