Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয় ভয়ঙ্কর – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প474 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মসমাই অর্কিড

    শিলং পাহাড়ে শীতের শুরুতেই এবার বেশ ঠান্ডা পড়েছে। ধুতির ওপর গায়ে গলাবন্ধ কোট, কানঢাকা লাল উলের টুপি পরে পুলিশবাজার ম্যালে শেষ বিকালে বসে ছিলেন নকুড়বাবু। বেঞ্চে পাশে পড়ে ছিল সান্ধ্য ‘শিলং টাইমস।’ কাগজটা পড়া হয়ে গেছে। ‘বড়াপানি লেকে বাইচ ফেস্টিভাল’, ‘গারোপাহাড়ে ধ্বস নেমেছে’, ‘অরফ্যান হাউস থেকে গতকাল একটা বাচ্চা চেরাপুঞ্জি বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ’—এছাড়া কাগজে কোনো খবর নেই।

    কাগজ পড়ার পর চুপচাপ বসে চারদিক লক্ষ করছিলেন তিনি। পুলিশবাজারের এ অঞ্চলটাকে শিলং এর প্রাণকেন্দ্র বলা যায়। রিং রোডের চারপাশে অনেক রাস্তা এসে মিলেছে। চারপাশে রঙচঙ শীতবস্ত্রের দোকান, ফুটপাতে খাসি বিক্রেতারা বসে থাকে রঙিন শাল আর অর্কিডের পসরা নিয়ে। সারাদিন এ অঞ্চলে টুরিস্টদের ভিড় লেগে থাকে। তবে সারাদিন পর সে ভিড় ফাঁকা হয়ে এসেছে। দোকানপাটের ঝাঁপ বন্ধ হচ্ছে। ফুটপাথের বিক্রেতারাও তাদের মালপত্র গুটিয়ে রওনা দিচ্ছে দূরে খাসি গ্রামের দিকে। পাহাড়ি সব শহরেই সন্ধ্যা নামলে রাস্তা ফাঁকা হয়ে যায়।

    শিলং শহর আর তার আশেপাশের অঞ্চলগুলো নকুড়বাবুর কাছে নতুন নয়। প্রতিবছর এসময় দিন কয়েকের জন্য শিলং-এ আসেন তিনি। কিছুটা কাজের জন্য, কিছুটা চেঞ্জের জন্য। একলাই আসেন। কলকাতায় তাঁর একটা আয়ুর্বেদ ওষুধের দোকান আর ছোট একটা বই প্রকাশনা সংস্থা আছে। শিলং হল বনওষধির স্বর্গরাজ্য। খাসি পাহাড়, গারো পাহাড়ে অজস্র ভেষজ লতাগুল্ম মেলে যা পৃথিবীর অন্য কোথাও মেলে না। নকুড়বাবু এখানকার বন-জঙ্গল থেকে সেসব সংগ্রহ করে নিয়ে যান। এছাড়া অর্কিড সংগ্রহেরও নেশা আছে তাঁর। শিলং-এর নানা রঙের বিখ্যাত অর্কিডও তাঁকে এখানে টেনে আনে। দিন চারেক হল তিনি শিলঙে এসেছেন। এবার লতাগুল্ম আর অর্কিডও সংগ্রহ করেছেন প্রচুর। নকুড়বাবুর মন বেশ খুশি। আরও একদিন রেস্ট নিয়ে তিনি গৌহাটি হয়ে কলকাতা ফিরবেন।

    নকুড়বাবুর তাড়া তেমন কিছু ছিল না। আরও বেশ কিছুক্ষণ বসার পর নকুড়বাবু যখন উঠলেন তখন রাস্তা জনশূন্য। দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেছে, ফুটপাথের দোকানিরাও নেই। রাস্তার আলো জ্বলে উঠেছে। আর তার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার চাদরে ধীরে ধীরে ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ।

    হোটেল বেশ কিছুটা দূর। সেখানে যাবার জন্য একটা নির্জন রাস্তা ধরলেন তিনি। কিছুটা এগোবার পর হঠাৎ তিনি দেখতে পেলেন, রাস্তার পাশে ঘোলাটে ল্যাম্পপোস্টের নিচে লাল-কালো ডোরাকাটা খাসি চাদরমুড়ি দিয়ে বসে আছে এক বৃদ্ধ। তার সামনে রাখা ছোটছোট পিচবোর্ডের বাক্সে রাখা অর্কিডের পসরা। পাশ দিয়ে যাবার পথে কৌতূহলবশত তার অর্কিডের পসরার সামনে দাঁড়ালেন নকুড়বাবু। মুখে অসংখ্য বলিরেখাময় বৃদ্ধ তার উদ্দেশে বলল, ‘খু-ব্লেই’ নকুড়বাবুও বললেন, ‘খু-ব্লেই।’ খাসি ভাষায় এ শব্দের অর্থ,’গুড ইভনিং’।

    অর্কিড দেখতে লাগলেন নকুড়বাবু। ‘লেডি স্লিপার’, ‘ব্লু-ভেন্ডা’, শিলং-এর বিখ্যাত সব অর্কিড বাক্সে রাখা। তবে এ সব তাঁর সংগ্রহে আছে। হঠাৎ একটা বাক্সে খড়ের বিছানাতে রাখা অদ্ভুত জিনিস দেখতে পেলেন তিনি। ঠিক টেনিস বলের আকৃতির একটা উদ্ভিদ। তাদের রং ঘোর রক্তবর্ণ। সংখ্যায় দুটো। প্রত্যেকটার গায়ে ইঞ্চিখানেক লম্বা ফিতের মতো দুটো অঙ্গ। তাদের আকৃতি দেখে নকুড়বাবু বেশ অবাক হয়ে বললেন, ‘এগুলো কি রেড ক্যাকটাস?’

    বৃদ্ধ মিটি মিটি হেসে জবাব দিল, ‘ক্যাকটাস নয়, অর্কিড।’

    এরকম অদ্ভুত আকৃতির অর্কিড হয় নাকি। ‘এ জিনিস কোথায় পাওয়া যায়?’ জানতে চাইলেন নকুড়বাবু।

    বৃদ্ধ বলল, ‘মোরা’ অর্থাৎ চেরাপুঞ্জিতে মসমাই কেভের ভিতরে। মসমাই গুহা! সেখানে ইতিপূর্বে গেছেন নকুড়বাবু। তিনি বললেন, ‘কই সেখানে আমি এ জিনিস দেখিনি তো?’

    বৃদ্ধ হেসে বলল, ‘না দেখারই কথা। কুড়িবছরে এ জিনিস একবার জন্মায়। তাছাড়া টুরিস্টরা যে পথে গুহায় ঢোকে সে পথে ও জায়গাতে পৌছনো যায় না। গুহা অনেক বড়। অন্য পথে সেখানে যেতে হয়।’

    নকুড়বাবু অর্কিডগুলো ভাল করে দেখার জন্য সেই বাক্সর দিকে হাত বাড়াতে গেলেন, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধ বাক্সটা ছোঁ মেরে কোলে টেনে নিয়ে বলল, ‘ছোঁবেন না। এর গুণ নষ্ট হয়ে যাবে।’

    ‘কি গুণ?’ জানতে চাইলেন তিনি। বৃদ্ধ মুহূর্তখানেক চুপ করে থেকে তাকে অবাক করে দিয়ে বলল ‘এ খেলে মানুষের বয়স কমে যায়।’

    খেলে বয়স কমে। সংস্কৃত আয়ুর্বেদিক প্রাচীন পুঁথিতে এধরনের কিছু উদ্ভিদের কথা পড়েছেন ঠিকই তিনি, কেউ কেউ এসব বিশ্বাস করলেও নকুড়বাবু কথাটা বিশ্বাস করেন না। বয়স আবার কমে নাকি। লোকটা হয়তো তার সংস্কার বিশ্বাস থেকে অথবা খদ্দেরকে প্রলুব্ধ করতে একথাটা বলছে। তবে জিনিসটা দেখে নকুড়বাবুর মনে হল, ক্যাকটাস না হয়ে সত্যি ওগুলো অর্কিড হয়ে থাকলে ওটা যে রেয়ার জিনিস তাতে সন্দেহ নেই। কোনো বইতে এ অর্কিডের ছবি দেখেননি তিনি। এ জিনিস তাঁকে সংগ্রহ করতে হবে।

    কিছুক্ষণ অর্কিডগুলো দেখার পর নকুড়বাবু বেশ কৌশলীভাবে বললেন, ‘বয়স কমার গল্প বলে দাম বাড়িয়ে লাভ নেই। কি দাম নেবে বলো?’

    বৃদ্ধ জবাব দিল, ‘দাম বাড়াচ্ছি না। হাজার টাকা দিলেও এ জিনিস এখন আমি বেচব না। আমার নিজের কাজে লাগবে। আপনি যদি সত্যি এ জিনিস চান, তবে কাল বিকালে মসমাই কেভের কাছে ‘সেভেন সিস্টার্স ওয়াটার ফলস’ এর কাছে ঠিক সন্ধ্যা নামার আগে চলে আসুন। আমি আপনাকে গুহায় নিয়ে যাব। যত খুশি অর্কিড সংগ্রহ করবেন।’

    নকুড়বাবু তার কথার জবাব না দিয়ে তাকিয়ে রইলেন অর্কিড দুটোর দিকে। অদ্ভুত অর্কিড দুটোর প্রতি আকর্ষণ ক্রমেই বাড়ছে। সংগ্রাহকরা পছন্দসই জিনিসের খোঁজ পেলে তা হাতছাড়া করতে চান না। তার জন্য অনেক দূর ছোটেন।

    তাকে চুপ করে থাকতে দেখে বৃদ্ধ বলল, ‘কি ভাবছেন? গুহায় যেতে ভয় পাচ্ছেন? তাহলে এ জিনিস আপনার পাওয়া হবে না।’

    নকুড়বাবু তার কথা শুনে বলল, ‘না, ভয় পাচ্ছি না। এখানকার অনেক কেভে আমি একলাই ঘুরেছি। কিন্তু ওখানে গেলে তোমাকে পাব তো? তাহলে যাব ওখানে।’

    উজ্জ্বল চোখে বৃদ্ধ বলল, ‘হ্যাঁ, আমি নিশ্চই থাকব। আপনি আশ্চর্য হয়ে যাবেন ওখানে গেলে। আমি আপনার প্রতীক্ষা করব।’

    ও অঞ্চলে বেশ কিছু অন্য ভেষজ গাছও আছে। গেলে সেগুলো অন্তত সংগ্রহ করা যাবে। এই ভেবে এবং বৃদ্ধর শেষ কথাগুলোর মধ্যে এমন একটা আহ্বান ছিল যে শেষ পর্যন্ত নকুড়বাবু সেখানে যাবেন বলে রাজি হয়ে গেলেন।

    বৃদ্ধের বলিরেখাময় মুখে আরও হাসির রেখা খেলে গেল। সে একবার শুধু বলল, ‘আমি লোক চিনি। জানতাম আপনি রাজি হবেন।’

    কথাগুলো বলে সে তার জিনিসপত্র গোছাতে শুরু করল। নকুড়বাবু ফেরার পথ ধরলেন। বেশ কিছুটা এগোবার পর নকুড়বাবুর খেয়াল হল, লোকটার নাম-ধাম তো কিছু জানা হল না। আবার পিছু ফিরলেন তিনি। কিন্তু সেই ল্যাম্পপোস্টের কাছাকাছি এসে তিনি দেখলেন, কুয়াশার চাদরমুড়ে ল্যাম্পপোস্টটাই একলা দাঁড়িয়ে আছে। সে চলে গেছে।

    ।।২।।

    নকুড়বাবু পরদিন দুপুরবেলার মধ্যেই পৌঁছলেন মসমাইতে। হাতে সময় নিয়ে এসেছেন। কারণ, জঙ্গল থেকে নিজের প্রয়োজনে বেশ কিছু উদ্ভিদ সংগ্রহ করবেন তিনি। খাসি পাহাড়ে অবস্থিত এ জায়গাতে আগেও তিনি এসেছেন। উঁচু জায়গার মাথার ওপর দাঁড়িয়ে আছে পাইন, রডোডেনড্রন, বাঁশ ইত্যাদি গাছের ঘন জঙ্গল। তাছাড়া নানা ঝোপে ঝাড়ে বৃক্ষকাণ্ডে নানা ভেষজ লতাগুল্ম আর অর্কিডের সমারোহ তো আছেই। কাছেই মসমাই কেভ। মসমাই ফলস, সেভেন সিস্টার্স ফলস ইত্যাদি জলপ্রপাত। আকাশের মতিগতি এখানে বড় বিচিত্র। এই মেঘমুক্ত ঝকঝকে আকাশ, তার পরক্ষণেই আবার মুষলধারে বৃষ্টি। যে বৃষ্টি চির সবুজ করে রাখে এখানকার প্রকৃতিকে, পুষ্ট করে পাহাড়ের বুক থেকে নেমে আসা দুগ্ধ-ফেননিভ অসংখ্য জলপ্রপাতকে।

    তৈরি হয়েই এসেছেন নকুড়বাবু। সঙ্গে বর্ষাতি, ছাতা, ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ করার জন্য পলিথিনের ব্যাগ। তাছাড়া, জল, শুকনো খাবার ইত্যাদিও তাঁর সঙ্গে আছে। বিকাল হতে ঘণ্টাখানেক বাকি। জঙ্গলে ঢুকলেন তিনি। কাজ মিটিয়ে ঠিক সময় যাবেন কাছেই সেভেন সিস্টার্সে। জঙ্গলে ঢুকে প্রয়োজনীয় গাছ-গাছড়ার সন্ধান করতে লাগলেন তিনি। কিছু ব্যাগেও ভরতে লাগলেন। তিনি তখন বেশ অনেকটা ভিতরে প্রবেশ করেছেন, হঠাৎ কেউ যেন একটা বিরাট কালো চাদর বিছিয়ে দিল জঙ্গলের মাথায়। তিনি ওপরে তাকিয়ে দেখলেন বিরাট একখণ্ড কালো মেঘ উপস্থিত হয়েছে জঙ্গলের মাথায়। চেরাপুঞ্জিতে এই ঘটনা হামেশাই ঘটে। অন্ধকার নেমে এল চারপাশে। আর তারপরই শুরু হল মুষলধারে বৃষ্টি। বর্ষাতি আর ছাতা মাথায় একটা গাছের তলায় দাঁড়িয়ে নকুড়বাবু নিজেকে বাঁচাতে লাগলেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন কয়েক হাত তফাতে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে একটা লোক। পরনে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া একটা লংকোট। মাথায় একটা হ্যাট। যদিও টুপিটা তার মুখকে অর্ধেকটা আড়াল করে রেখেছে, তবুও নকুড়বাবুর মনে হল লোকটা যেন তাকেই দেখছে। লোকটা কে? ভবঘুরে ধরনের কেউ? নকুড়বাবু তাকে দেখতে লাগলেন। লোকটাই প্রথমে মুখ খুলে স্পষ্ট ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি কি ট্যুরিস্ট?’

    নকুড়বাবু জবাব দিলেন, ‘না, ঠিক তা নয়। আমি কিছু গাছ-গাছড়া সংগ্রহ করতে এসেছিলাম। ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে। তা আপনি?’

    লোকটা প্রথমে বলল, ‘ও আপনি বনওষধি সংগ্রহ করছেন!’ তারপর একটু থেমে বলল, ”আমিও আপনার গাছ-গাছড়া খুঁজি।’

    লোকটার ইংরেজি কথা আর কথা বলার ঢং দেখে এবার তাকে ঠিক ভবঘুরে টাইপের বলে মনে হল না নকুড়বাবুর। লোকটা যেন একটু ইতস্তত করে এরপর নকুড়বাবুর পাশে এসে দাঁড়াল। তাকে কাছ থেকে দেখে নকুড়বাবু বেশ খানিকটা অবাক হয়ে গেলেন। লোকটার মুখ আর হাতের ধবধবে সাদা রঙ বলে দিচ্ছে লোকটা বিদেশি। ভারতীয়দের চামড়া এত ফর্সা হয় না। ওই জন্যই সে ইংরেজিতে কথা বলছে।

    নকুড়বাবু জানতে চাইল, ”আপনিও কি ভেষজ শাস্ত্র চর্চা করেন?’

    সে জবাব দিল, ”আসলে আমি একজন বটানিস্ট। খাসি পাহাড়ের জঙ্গলে নানা ধরনের পিচার প্ল্যান্ট, মাংসাশী উদ্ভিদ পাওয়া যায় আপনি নিশ্চয়ই জানেন। তার ওপর একটা বই লেখার জন্য আমি দেশে এসেছি। মানে, এসেছিলাম।’

    ‘কোথা থেকে? এসেছিলাম মানে, আপনি এখন এখানেই থাকেন?’

    ‘হ্যাঁ, এখানেই থাকি। অনেক বছর ধরে। আমার নাম উইলিয়াম স্পেনসার। জাতিতে ইংলিশম্যান। তবে সে দেশে আর ফেরা হল না।’

    —একটা বিষণ্ণতা যেন ঝরে পড়ল তার কণ্ঠস্বরে।

    সৌজন্যবশত এরপর নিজের পরিচয় দিয়ে নকুড়বাবু বললেন, ‘ফেরা হল না কেন? এখানেই সংসার পেতেছেন, নাকি বই লেখার কাজ শেষ হয়নি?’

    সে জবাব দিল, ‘সংসার আমার নেই। আর, বই লেখার কাজও শেষ হয়ে গেছিল। জানেন, কত নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহ করেছিলাম তাতে। মানুষ জানলে উপকৃত হত, কত নতুন নতুন উদ্ভিদের কথা লেখা ছিল। হয়তো ভেষজ বিজ্ঞানের কাজে আসত।’

    নকুড়বাবু বললেন, ‘তা বইটা কি হল? ছাপাননি নাকি?’

    লোকটা বলল, ‘ছাপাবার আগেই তো…।’ প্রথম কথাটা সম্পূর্ণ করল না লোকটা। তারপর একটু চুপ করে থেকে বলল, ‘আচ্ছা, আপনার তো প্রকাশনার ব্যবসা আছে। বইটা দিলে আপনি ছাপাবেন?’

    নকুড়বাবু জবাব দিলেন, ‘পাণ্ডুলিপিটা দেখা দরকার। ভালো হলে নিশ্চয়ই ছাপাব। তা সেটা এখন কোথায়?’ স্পেনসর নামের লোকটা প্রথমে বেশ উৎফুল্লভাবে বলল, ভালো হলে ছাপবেন। জানেন, ওতে এমন উদ্ভিদের কথা লেখা আছে যে সবাই চমকে যাবে। আসলে ওর ব্যাপারে জানতে গিয়েই তো…।’

    আবারও কথা শেষ করল না লোকটা। একটু বিষণ্ণ কণ্ঠে বলল, ‘পাণ্ডুলিপিটা আমার কাছে এখন নেই। ওটা মসমাই কেভে রাখা আছে। আনতে হবে। তা আপনাকে আমি পাব কিভাবে?’

    নকুড়বাবু একটু ইতস্তত করে বলেই ফেললেন কথাটা, ”আজ আমি মসমাই কেভে যাব। আসলে সে কারণেই এখানে আসা। একজন নিয়ে যাবে। আচ্ছা আপনি তো এখানকার উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করেছেন, এমন কোন অর্কিড দেখেছেন, যা লাল বলের মতো দেখতে? যা মসমাই কেভে পাওয়া যায়?’

    লোকটা প্রশ্ন শুনে যেন বিস্মিতভাবে তাকিয়ে থাকল নকুড়বাবুর দিকে। তারপর বলল, ‘হ্যাঁ দেখেছি। ওটা ওখানেই পাওয়া যায়। আপনি নিশ্চই শিলংবাজারে কোনো খাসি বৃদ্ধর কাছে ওটা দেখেছেন? আর সেটা সংগ্রহ করতেই তার আমন্ত্রণে এখানে এসেছেন?’

    বিস্মিত নকুড়বাবু বললেন, ”হ্যাঁ, ঠিক তাই। কিন্তু আপনি জানলেন কিভাবে?’

    একটু চুপ করে থেকে লোকটা বলল, ”আপনি আমার লেখাটা পড়লে উত্তরটা পেয়ে যেতেন। আচ্ছা আমি এখন চলি।’

    এই বলে লোকটা নকুড়বাবুকে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে হঠাৎই যেন বনের মধ্যে মিলিয়ে গেল।

    ‘অদ্ভুত লোক তো! যেমন হঠাৎ এল, তেমনই চলে গেল!’ মনে মনে ভাবলেন নকুড়বাবু। বৃষ্টি ধরেছে, আকাশ আবার ফর্সা। নকুড়বাবু কিছুক্ষণ লোকটার কথা ভেবে পা বাড়ালেন বনের বাইরে যাবার জন্য।

    ।। ৩।।

    সেভেন সিস্টার্স ফলস। জায়গাটা নকুড়বাবুর চেনা। মসমাই কেভের গুহামুখ থেকে বেশ খানিকটা দূরে। একটা প্রকাণ্ড গহ্বরের গা বেয়ে বর্ষণসিক্ত চেরাপুঞ্জির সাতটি দুগ্ধফেননিভ জলধারা নেমে গেছে পাতালের দিকে। তাই এর নাম ‘সেভেন সিস্টার্স’। জলপ্রপাতের কাছে একটা উঁচু জায়গাতে সেই লোকটার প্রতীক্ষা করছিলেন নকুড়বাবু। দূরে খাসি পাহাড়ের মাথায় সূর্য অস্ত যাচ্ছে। তার লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছে সামনের ঘাসবনে, কিছু দূরে অরণ্যের মাথায়, নির্জন প্রান্তরে। বেশ ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করেছে। নিস্তব্ধ চারদিক, অপূর্ব শান্ত সৌন্দর্য বিরাজ করছে।

    কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্ধকার নামবে। সেই লোকটা ঠিক আসবে তো? নিকটবর্তী খাসি গ্রাম মাইলখানেক দূরে। সে না এলে সেখানে পৌঁছতে রাত হয়ে যাবে। কথাগুলো ভেবে ঘড়ি দেখলেন নকুড়বাবু। আর তার পরক্ষণেই তিনি দেখতে পেলেন তাকে। লাল-কালো সেই খাসি শাল গায়ে ঘাসবন ভেঙে এগিয়ে এসে নকুড়বাবুর সামনে দাঁড়িয়ে সে বলল, ‘খু-ব্লেই।’ মুখে তার হাসি। শেষ বিকালের আলো এসে পড়েছে তার মুখে। সেই আলোতে নকুড়বাবুর মনে হল, এ লোকটাকে গতকাল কুয়াশামাখা ল্যাম্পপোস্টের আলোতে যত বৃদ্ধ মনে হয়েছিল, আসলে তা নয়। মুখময় বলিরেখাগুলো যেন তেমন আর নেই। লোকটাকে প্রৌঢ় বলা যায়।

    নকুড়বাবুও তাকে ‘খু-ব্লেই’ জানিয়ে বললেন, ”যাক তুমি তাহলে এলে। তোমার নাম কি? কাল সেটা জানা হয়নি।” সে জবাব দিল, ”আমার নাম ‘মত্ত-কাবা’। এই খাসি পাহাড়েই আমার ঘর।” তারপর চারপাশে একবার তাকিয়ে নিয়ে বলল, ”চলুন এবার রওনা দেওয়া যাক।”

    নকুড়বাবু অনুসরণ করলেন তাকে। লোকটা গিয়ে দাঁড়াল জলপ্রপাতের খাদের কিনারে। নকুড়বাবুর উদ্দেশে একবার শুধু বলল, ”সাবধানে নামবেন” তারপর দুটো জলপ্রপাতের মধ্যে দিয়ে ধাপ বেয়ে নিচে নামতে শুরু করল। নকুড়বাবুও তার পিছন পিছন নামতে লাগলেন। পা ফসকালেই অবধারিত মৃত্যু, দু-পাশের জলপ্রপাতের জলের ছিটেতে ভিজে যাচ্ছে দেহ। প্রায় একশফুট নিচে নেমে দাঁড়াল লোকটা। পাথুরে দেওয়ালে নানা ঝোপঝাড়, জলজ উদ্ভিদ। দেওয়াল হাতড়ে একটা ঝোপ সে ফাঁক করতেই উন্মোচিত হল এক গহ্বর। অন্ধকার বিরাজ করছে ভিতরে। এই তাহলে গুহামুখ। নকুড়বাবুকে নিয়ে প্রবেশ করল ভিতরে। ঠিক তখনই বাইরে ঝুপ করে অন্ধকার নামল। ভিতরে ঢুকে লোকটা একটা মশাল জ্বালিয়ে নিয়ে চলতে শুরু করল।

    সর্পিল গুহা। মাথার ওপর ছাদ অনেক জায়গাতে এমন নিচু যে অনেক সময় হামাগুড়ি দিতে হচ্ছে। দেওয়ালগুলো স্যাঁতস্যাঁতে। বরফের মতো ঠান্ডা। মাঝে মাঝে ওপর থেকে নেমে এসেছে স্তম্ভের মতো চুনা পাথরের ঝুরি। নিঃশব্দে এগোতে থাকল লোকটা। একবার শুধু নকুড়বাবুর প্রশ্নের জবাবে সে জানাল যে সেখানে পৌছতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগবে।

    খণ্টাখানেক পর নানা কসরত করে চলার পর নকুড়বাবুর তখন কাহিল অবস্থা। মত্ত-কাবা এবার যেন নিশ্চিন্ত হয়ে বলল, ”আমরা এসে গেছি।” আর এরপরই ধীরে ধীরে চওড়া হতে শুরু করল গুহামুখ। হঠাৎ মশালের আলোতে একটা অদ্ভুত জিনিস দেখতে পেলেন নকুড়বাবু। দেওয়ালের গায়ে একটা পাথরের খাঁজে আটকে আছে বাচ্চা ছেলেদের লাল জামা। নকুড়বাবু সেটা দেখে থমকে দাঁড়িয়ে বললেন, ”এ জামাটা কোথা থেকে এল।” লোকটা মুহূর্তের জন্য একবার সেদিকে তাকিয়ে বলল, ”জানি না, আসুন তাড়াতাড়ি পা চালান।” নকুড়বাবুর মনে হল, ইচ্ছা করেই যেন সে ব্যাপারটা এড়িয়ে গেল। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা একটা হলঘরের মতো জায়গাতে উপস্থিত হলেন। মাথার ওপর ফাটল বেয়ে আবছা চাঁদের আলো ঢুকছে সে ঘরে। তারা সে ঘরে পা রাখতেই এক ঝাঁক বাদুড় ডানা ঝাপটে মাথার ওপরের ফাটল দিয়ে বাইরে মিলিয়ে গেল। বাদুড় প্রাণীটা এখানকার প্রায় গুহাতেই থাকে। ঘাবড়ালেন না নকুড়বাবু। প্রৌঢ় খাসি লোকটার মুখে হাসি ফুটে উঠল। সে বলল, ”এই সেই জায়গা। এই বলে সে মশালটা নিচের দিকে ধরে আলো ছড়াল। মাটিতে। সেখানে ছড়িয়ে আছে নানা আকৃতির পাথর। বিস্মিত নকুড়বাবু দেখলেন তাদের খাঁজে খাঁজে জন্মে আছে বলের মতো অসংখ্য সেই উদ্ভিদ। তবে, তাদের রঙ ধবধবে সাদা। দেওয়ালের গা থেকেও ঝুলছে বেশ কিছু।

    নকুড়বাবু বললেন, ”কিন্তু, এদের রং সাদা কেন?”

    মত্ত-কাবা হেসে জবাব দিল, ”রঙ ধরবে। চাঁদ ভালো করে ওপরে উঠুক। সেই আলো গুহায় ঢুকলেই রঙ ধরবে। তার আগে ওদের ছোঁবেন না। রঙ ধরলে ওগুলো সংগ্রহ করে বেরব এখান থেকে।” কিছু-কিছু উদ্ভিদ আলো পেলে তবেই রঙিন হয়, এ ব্যাপারটা জানা আছে নকুড়বাবুর। তিনি জায়গার চারপাশে তাকালেন। আরও কয়েকটা গুহাপথ বেরিয়েছে নানা দেওয়াল থেকে। হঠাৎ একটা কোণে চোখ আটকে গেল তাঁর। সেখানে দেওয়ালের গায়ে হেলান দিয়ে বসে আছে একটা নরকঙ্কাল। চমকে উঠে নকুড়বাবু বললেন, ‘ওটা কার কঙ্কাল?”

    মত্ত-কাবা হেসে বলল, ”ওটা আমি কুড়িবছর ধরে ওখানে দেখছি। হয়তো লোকটা এখানে এসেছিল, তারপর বেরতে পারেনি।”

    নকুড়বাবু গিয়ে দাঁড়ালেন কঙ্কালটার সামনে। লোকটা ঠিকই বলল, কঙ্কালটা অনেক পুরনো। চুনের প্রলেপ জমেছে তার গায়ে। একটা মাকড়সা তার চোখের এক কোটর থেকে বেরিয়ে অন্যটাতে ঢুকে গেল। একটা ছোট কাঠের চ্যাপ্টা বাক্স পড়ে আছে লোকটার পাশে। ইঞ্চি ছয়েক লম্বা, আর ওরকমই চওড়া। সম্ভবত মৃত লোকটারই জিনিস হবে। কৌতূহলবশত নকুড়বাবু সেটা তুলে নিতেই সেই খাসি লোকটা বলে উঠল, ”ওখান থেকে চলে আসুন। সাপের বাসা আছে ওখানে।” সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে সরে এলেন নকুড়বাবু। মত্ত-কাবা এতক্ষণে মশালটাকে পাথরের খাঁজে গুঁজে একটা বেশ উঁচু পাথরের ওপর পা থেকে মাথা চাদরে মুড়ে বসে পড়েছে।

    নকুড়বাবু এগিয়ে এসে সেই পাথরের নিচে মত্ত-কাবার মুখোমুখি একটা নিচু পাথরে বসলেন। তার চারপাশে পাথরের খাঁজে ফুটে আছে থোকা থোকা অসংখ্য সেই বলের মতো অর্কিড। নকুড়বাবু অর্কিডগুলোর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর প্রশ্ন করলেন, ”তুমি এ গুহার খোঁজ পেলে কিভাবে?”

    চাদরে-মুখ-ঢাকা মত্ত-কাবা যেন হাসল, কিন্তু উত্তর দিল না।

    নকুড়বাবু এরপর মনোনিবেশ করলেন বাক্সটার দিকে। অনেক পুরনো বাক্স। মুখটা এঁটে গেছে। সেটা খুলতে না পেরে তিনি সেটা চালান করে দিলেন ব্যাগের ভিতর। পরে দেখা যাবে কি আছে। নকুড়বাবু প্রতীক্ষা করতে লাগলেন কখন চাঁদের আলো মাথার ওপরের ফাটল দিয়ে ঘরে এসে ঢোকে তার জন্য।

    সময় এগিয়ে চলল। মত্ত-কাবার কোন সাড়াশব্দ নেই। চাদরে মুখ ঢেকে সে মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছে। চাঁদের আলো ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকতে শুরু করেছে। নকুড়বাবু একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন অর্কিডগুলোর দিকে। একসময় চাঁদ যখন মাথার ওপর উঠল, তখন সেই আলোতে ভরে উঠল গুহা। কিন্তু নকুড়বাবু দেখলেন কোন অর্কিডেই কিন্তু রঙ ধরল না। চাঁদের আলোতে সেগুলো শ্বেতপাথরের বলের মতো দেখাচ্ছে। ‘রঙ ধরছে না কেন?’ মত্ত-কাবাকে ডাকবেন ভাবলেন নকুড়বাবু।

    নকুড়বাবুর ডান হাতটা পাথরের ওপর ভর দেওয়া ছিল অনেকক্ষণ ধরে। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে মত্ত-কাবাকে ডাকতে যাবেন, হঠাৎ তাঁর মনে হল হাতটা কেমন যেন অবশ লাগছে। হাতটা তিনি তুলে ধরতেই দেখলেন এক অদ্ভুত ব্যাপার। তাঁর কবজির কাছে আটকে আছে লাল টেনিস বলের মতো একটা অর্কিড!! নকুড়বাবু বাঁ হাত দিয়ে তাকে কবজি থেকে তুলতেই যেতেই তিনি বুঝতে পারলেন ব্যাপারটা। অর্কিডের ফিতের মতো অংশ দুটো পেঁচিয়ে ধরেছে তার কবজি। আর তার প্রান্ত ভাগ দুটো প্রবেশ করেছে তাঁর চামড়ার ভিতর। আসলে ওই ফিতের মতো অংশদুটো চোষক নল। যা ধমনী থেকে নিঃশব্দে রক্ত চুষে নিয়ে রং ধরাচ্ছে মসমাই অর্কিডে। আর এর পর মুহূর্তেই তিনি অনুভব করলেন তাঁর গোড়ালির উপরিভাগে, ঘাড় ইত্যাদি উন্মুক্ত স্থানগুলোতে একইরকম অসাড়তা। ‘মত্ত-কাবা!’ চেঁচিয়ে উঠে নকুড়বাবু তার দেহ থেকে লাল অর্কিডগুলো মাটিতে ছুঁড়ে ফেলতে লাগলেন। ঠিক বিড়াল যেমন নিঃশব্দে লাফ দেয় ঠিক তেমনই পাথরের ওপর থেকে নেমে এল মত্ত-কাবা। তারপর যেন কোন মহার্ঘ বস্তু সংগ্রহ করছে এমনভাবে কুড়োতে লাগল নকুড়বাবুর ছুঁড়ে ফেলা লাল অর্কিডগুলো। সবগুলো মিলিয়ে গোটা ছয়েক হবে। সেগুলো কুড়িয়ে নিয়ে সে নকুড়বাবুর মুখোমুখি দাঁড়াল। চাঁদের আলো এসে পড়েছে তার মুখে। সেই আলোতে জ্বলজ্বল করছে তার চোখ, ঠোঁটের কোণে অদ্ভুতহাসি ফুটে উঠেছে। হিসহিস করে সে নকুড়বাবুর উদ্দেশে বলল, ‘বলেছিলাম না, চাঁদের আলো ফুটলে রঙ ধরবে অর্কিডে!” কথাগুলো বলেই সে একটা অর্কিড মুখে পুরে চিবুতে শুরু করল। তার দু-কষ বেয়ে চুঁইয়ে পাড়তে লাগল তাজা রক্ত! নকুড়বাবুর রক্ত! আতঙ্কে চিৎকার করে উঠলেন নকুড়বাবু। অট্টহাস্য করে উঠল মত্ত-কাবা। সেই পৈশাচিক হাসি প্রতিধ্বনিত হতে লাগল পাথুরে দেওয়ালে।

    সামনে একটা গুহামুখ দেখে আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে নকুড়বাবু ছুটতে শুরু করলেন সে পথে। পিছনে শোনা গেল মত্ত-কাবার কণ্ঠস্বর, ”কোথায় পালাবেন? পালাবারে কোন পথ নেই এখানে!” আর তার সঙ্গে সেই বীভৎস হাসি। পাগলের মতো গুহাপথ ধরে পাথরে ধাক্কা খেতে খেতে অন্ধকারে দিকশূন্যভাবে ছুটতে লাগলেন নকুড়বাবু। পাথরে অনুরণিত হচ্ছে সেই কণ্ঠস্বর—’কোথায় পালাবেন…কোথায় পালাবেন…।’

    হঠাৎ একটা বাঁকের মাথায় তিনি দেখতে পেলেন তাঁর রাস্তা আগলে দাঁড়িয়ে আছে এক ছায়ামূর্তি। আর মনে হয় পালানো গেল না। তবে বাঁচার শেষ চেষ্টা করার জন্য নকুড়বাবু একটা পাথর কুড়িয়ে নিলেন সে কাছে এলেই সেটা ছুঁড়ে মারবেন বলে। ঠিক সেই সময় ছায়ামূর্তি বলে উঠল, ”আসুন, আমাদের সঙ্গে আসুন, নইলে আপনি বাঁচবেন না।”

    এ কার গলা? এ তো মত্ত-কাবা নয়! তাছাড়া তার সঙ্গে একটা বাচ্চাও আছে মনে হয়।

    লোকটা আবার সাড়া দিল, ”তাড়াতাড়ি! মত্ত-কাবা আপনাকে অনুসরণ করছে। ও এলে আপনাকে বাঁচানো যাবে না।”

    ”আরে এ তো জঙ্গলের মধ্যে দেখা সেই লোকটা।”—তার কণ্ঠস্বর শুনে চিনতে পারলেন নকুড়বাবু। পিছন ধেয়ে আসছে মত্ত-কাবার পদশব্দ আর সেই রক্তজল-করা হাসি। আর দেরি না করে নকুড়বাবু ছুটতে শুরু করলেন তাদের পিছু পিছু। কত সুড়ঙ্গ, কত গুহামুখ অতিক্রম করে ছুটে চললেন তিনি। শুধু ছুটতে ছুটতে নকুড়বাবুর একবার যেন মনে হল সেই ছায়ামূর্তি দুটোর যেন মাটিতে পা পড়ছে না, তারা যেন বাতাসে ভেসে এগোচ্ছে! এক সময় পিছনে পড়ে রইল মত্ত-কাবার সেই হাসি, গুহার বাইরে উন্মুক্ত আকাশের নিচে এসে দাঁড়ালেন তারা। এ জায়গা নকুড়বাবুর চেনা। দিনের বেলা টুরিস্টরা এপথে মসমাই কেভে ঢোকে।

    নকুড়বাবু তাকালেন তাদের দিকে। লোকটার মুখে আত্মতৃপ্তির হাসি। মনে হয়ে সেটা নকুড়বাবুকে বাঁচানোর জন্য। সঙ্গের ছেলেটার বয়স বছর দশেক হবে। সে একটু বিষণ্ণ, গায়ে লাল জামা।

    নকুড়বাবু প্রাথমিক বিহ্বলতা কাটিয়ে বললেন, ”মত্ত-কাবা লোকটা কে?”

    স্পেনসর বলল, ”ও আমার আর এই বাচ্চাটার মতো। তবে ওর দেহ আছে। লাল মসমাই অর্কিড ওর দেহকে যুগযুগ ধরে বাঁচিয়ে রেখেছে। এই অর্কিড ওকে বৃদ্ধ থেকে যুবক করে তোলে। সে জীবন-মৃত্যুর মাঝামাঝি থাকা ভয়ঙ্কর কেউ।”

    নকুড়বাবু তার বক্তব্য সম্পূর্ণটা বুঝতে না পারলেও কিছুটা অনুমান করলেন। এরপর তিনি ছেলেটাকে দেখে বললেন, ”এ কে?”

    সে বলল, ”মত্ত-কাবার শেষ শিকার। গতকালই ওকে এখানে এনেছিল সে। ঠিক কুড়ি বছর আগে যেমন আমি ওর শিকার হয়েছিলাম। যেমন আপনি হতে যাচ্ছিলেন। তবে আপনি ফিরলেন, আমাদের দুজনের আর ফেরা হল না।” নকুড়বাবু মনে পড়ে গেল, একজন বাচ্চার নিখোঁজ হবার কথা তিনি কাগজে পড়েছেন।

    নকুড়বাবু বললেন, ”কেন, ফেরা হবে না কেন?”

    লোকটা এরপর বলল, ”ওই দেখুন শুকতারা উঠেছে। আলো ফুটবে। শিলং পাহাড় থেকে আজই নেমে যাবেন। ও পিছু ধাওয়া করতে পারে। কুড়িবছরে একবার ও যুবক হবার সুযোগ পায়। আপনি ভালো থাকবেন।”

    কথা শেষ করল স্পেনসর। আর তারপর সেই ছেলেটার হাত ধরে যেন বাতাসে মিলিয়ে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যেই দিনের প্রথম সূর্যকিরণ দেখা দিল খাসি পাহাড়ের মাথায়।

    ।। ৪।।

    ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে বসে সহযাত্রীদের সঙ্গে গল্প করছিলেন নকুড়বাবু। গৌহাটি স্টেশন থেকে কলকাতাগামী রাতের ট্রেন ছাড়বে ছাড়বে করছে। খাসি পাহাড় থেকে শিলং হয়ে বেলাবেলি গৌহাটি নেমেছেন তিনি। ভয়টা তাঁর এখন অনেকটা কেটে গেছে। তাঁর মনে হচ্ছিল মসমাই কেভের ঘটনাগুলো যেন নিছক একটা দুঃস্বপ্নই ছিল। তিনি বেশ গল্প করছিলেন। বাইরে ট্রেন ছাড়ার আগে শেষ মুহূর্তে লোকজনের হাঁকডাক ব্যস্ততা। নকুড়বাবুর মুখোমুখি জানলার পাশে বসে থাকা এক যাত্রী বাইরের দিকে তাকিয়ে নকুড়বাবুর উদ্দেশে হঠাৎ বলে উঠল, ”আরে, দেখুন দেখুন, কি সুন্দর ক্যাকটাস!!

    নকুড়বাবু জানলার বাইরে তাকালেন। কয়েক হাত তফাতে ভিড়ের মাঝে লালকালো খাসি শাল গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একজন। হাতে ধরা বাক্সে রাখা লাল বলের মতো দুটো মসমাই অর্কিড। মুহূর্তের মধ্যে নকুড়বাবু চিনতে পারলেন তাকে—মত্ত-কাবা!! যদিও তার বয়স এখন আরও কমে গেছে, প্রায় যুবকই বলা যায় তাকে। রাতের প্ল্যাটফর্মে শিকার ধরতে এসেছে সে!

    তাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গেই নকুড়বাবু ঝপ করে জানলার লোহার ঝাঁপটা নামিয়ে দিলেন, সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনও দুলে উঠে চলতে শুরু করল। বিস্মিত সহযাত্রী প্রশ্ন করল, ‘কি হল মশাই?”

    নকুড়বাবু জবাব দিলেন, ”আমার আবার ঠান্ডা লাগার ধাত আছে, তাই জানলা বন্ধ করে দিলাম।”

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসোমনাথ সুন্দরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article আঁধারে গোপন খেলা – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }