Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয় সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প498 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কঙ্কাল-সারথি

    উঃ! ম্যালেরিয়ার মতন ছ্যাঁচড়া অসুখ পৃথিবীতে আর কিছু আছে কি? উঁহু!

    এই দেখো না, শখ করে সেদিন ঢাকুরিয়ার লেক দেখতে গিয়েছিলুম, সন্ধ্যার একটু আগে। হঠাৎ কাঁপুনি দিয়ে আমার জ্বর এল।

    সে কী যে-সে জ্বর, যে-সে কাঁপুনি? না-পারি দাঁড়াতে, না-পারি বসতে— একেবারে ঘাসের ওপর শুয়ে পড়লুম। কী শীত রে বাপ! পা থেকে মাথা পর্যন্ত চাদর মুড়ি দিয়ে কাঁপতে কাঁপতে কেমন যেন আচ্ছন্নের মতো হয়ে রইলুম।

    সেইভাবে কতক্ষণ ছিলুম, ভগবান জানেন। তবে একবার চাদরের ভেতর থেকে জুল-জুল করে চোখ মেলে উঁকি মেরে দেখলুম, চারিদিকে গাঢ় অন্ধকারের মেলা, কোথাও জনমানবের সাড়া নেই।

    বুকটা ছাঁৎ করে উঠল। কোথায় বাগবাজারে আমার বাড়ি, আর কোথায় পড়ে আছি আমি একলা। গুন্ডারা গলায় ছুরি বসাতে পারে, সাপে কামড়াতে পারে, বিনা চিকিৎসায় প্রাণপাখি ফুড়ুক করে পালিয়ে যেতে পারে! বাড়ির লোক এতক্ষণে হয়তো ভেবেই সারা হচ্ছে!

    আর তো এখানে থাকা চলে না! যেমন করেই হোক, আমাকে আজ বাড়ি যেতে হবে।

    অনেক কষ্টে উঠে দাঁড়ালুম। গায়ের ভেতর দিয়ে তখনও যেন আগুনের ঝলক ছুটছে। চোখের সামনে দিয়ে যেন রাশি রাশি সরষে ফুল নাচতে নাচতে একবার আঁধার সাগরে ডুবে যাচ্ছে, আর একবার ভেসে ভেসে উঠছে। প্রতিবার পা ফেলি আর মনে হয়, এই বুঝি আমি দড়াম করে পপাত ধরণীতলে হলুম। তবু থামলুম না, টলতে টলতে এগিয়ে চলেছি মাতালের মতো।

    রাত ঝাঁ-ঝাঁ করছে। সেই রাত্রে আমি প্রথম বুঝতে পারলুম, পৃথিবী কত বেশি স্তব্ধ হতে পারে! শহরের হট্টগোলে রাগ হয় বটে, কিন্তু এ স্তব্ধতাও সহ্য করা অসম্ভব! একটা ব্যাঙ, কী একটা ঝিঁঝিপোকা কী একটা পাহারাওয়ালার নাক পর্যন্ত ডাকছে না, গাছের পাতায় বাতাসের একটু নিশ্বাস পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে না।

    সারি সারি কোম্পানির আলোর থামগুলো নীরবে দাঁড়িয়ে জ্বলন্ত চক্ষে যেন থমথমে অন্ধকারকে নিরীক্ষণ করছে। তিমির তুলির প্রলেপ-মাখানো গাছপাতার ফাঁকে ফাঁকে বাড়ির-পর-বাড়ি দেখা যাচ্ছে বটে, কিন্তু তারাও যেন প্রেতপুরীর মতো নিস্তব্ধ। তাদের ভেতর থেকে একটা ঘুম-ভাঙা খোকার কান্নার আওয়াজ পর্যন্ত জেগে উঠছে না। কে যেন আজ নিদুটির মন্ত্র পড়ে সমস্ত জগৎকে বোবা করে দিয়েছে।

    জ্বরের ঘোরে চলেছি তো চলেছিই। এই নিঃশব্দ পল্লি ছেড়ে শহরের শব্দের রাজ্যে গিয়ে পড়বার জন্যে প্রাণ যেন আইঢাই করতে লাগল। কিন্তু এ পথ আর শেষ হতে চায় না। এ পথ যেন আজও শেষ হবে না, কালও শেষ হবে না। আমাকে যেন কোনো অভিশপ্ত আত্মার মতন চলতে হবে অনন্তকাল ধরে! এক বেচারি ইহুদির গল্প পড়েছিলুম। কার শাপে তাকে নাকি অনন্তকাল ধরে সারা বিশ্বে ছুটোছুটি করে বেড়াতে হয়েছিল। আমারও তাই নাকি?

    মাথাটা একবার নাড়া দিয়ে ভাবলুম, ‘দূর ছাই, এসব কী উদ্ভট কথা ভাবছি! জ্বরে আমার মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি?

    মাঝে মাঝে এক-একটা মাঠ— যেন এক-একটা অন্ধকারের মায়া-সরোবর। সেখান দিয়ে যেন অন্ধকারের ঢেউ বইছে। অন্ধকারের স্রোত ছুটে আসছে আমাকে গ্রাস করবার জন্যে! অন্ধকারের তরঙ্গের ভেতরে গাছগুলোকে দেখাচ্ছে বড়ো বড়ো দৈত্য-দানবের মতো— পথিকের হৃৎপিণ্ড ছিঁড়ে খাওয়ার জন্যে তারা ওৎ পেতে প্রস্তুত হয়ে আছে। কান্না-ভরা কনকনে বাতাস এসে চুপি চুপি যেন আমার কানে কানে বলে যাচ্ছে— ওহে নিঝুম রাতের অজানা মানুষ, এ মৃত্যুপুরীর ভিতর দিয়ে কোথায় চলেছ তুমি? আমার কথা শোনো, ভূতপ্রেতরা একে-একে জেগে উঠছে, এইবেলা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যাও, যাও গো!

    আরও খানিক অগ্রসর হয়ে মনে হল, পৃথিবীর সমস্ত শব্দ এসে আমার দুই পায়ের দুই জুতোর ভিতরে আশ্রয় নিয়েছে। প্রত্যেকবার পা ফেলি আর সেই শব্দগুলো জুতোর ভেতর থেকে চমকে উঠে রাজপথের ওপরে আছাড় খেয়ে পড়ে আমাকে চমকে চমকে তোলে। শব্দ শুনতে চাই, নিজের পায়ের শব্দ পাচ্ছি। কিন্তু কেন জানি না, সে শব্দ শুনে শুনে মন আমার খুশি হবে কী, আরও বেশি নেতিয়ে পড়তে লাগল!— সে যেন রাজপথে ঘুমন্ত কোনো অশরীরী প্রেতাত্মার চিৎকার, আমার পদাঘাতে সে যন্ত্রণায় গজরে গজরে উঠছে!

    আঃ! এতক্ষণ পরে রসা রোডের মোড়ে এসে পড়লুম। আশ্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ট্রামওয়ের একটা লোহার থামে ঠেসান দিয়ে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ জিরিয়ে নিলুম।

    এখানটাও তেমনি নির্জন ও তেমনি নিস্তব্ধ হলেও আমার মন যেন অনেকটা আরাম পেল। এই তো ট্রামের রাস্তা। এই পথ ধরে সিধে গেলেই— যত মাইল দূরেই থাক— আমাদের পাড়া বাগবাজার যাওয়া যাবেই যাবে! খানিক দূর এগোতে পারলেই লোকজনেরও সাড়া পাব নিশ্চয়, আর ট্রাম ও বাস বন্ধ হলেও ট্যাক্সি মেলাও তো অসম্ভব নয়।

    তখন জ্বরে আমার চোখ ছলছল করছে, কান করছে ভোঁ-ভোঁ, আর মাথা ঘুরছে বোঁ-বোঁ করে। বার বার ইচ্ছে হতে লাগল পথের ওপরে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়বার জন্যে, কেবল বাপ-মায়ের বিষণ্ণ মুখের কথা ভেবেই মনের সে ইচ্ছা দমন করলুম, অনেক কষ্টে। নিজে-নিজেই বললুম— মন, তুমি শান্ত হও! এই পথের শেষেই আছে তোমার বাড়ি, তোমার আত্মীয়স্বজন, তোমার নরম তুলতুলে বিছানা। কোনোরকমে চক্ষু মুদে এই পথটুকু পার হতে পারলেই— ব্যাস, সকল কষ্ট, সকল ভাবনার অবসান!

    হঠাৎ দূর থেকে একটা শব্দ জেগে উঠে চারিদিকের নিস্তব্ধতার মুখে যেন ভাষ্য দিলে। ঘড় ঘড় ঘড় ঘড় করে একটা বাজ ডাকার মতো শব্দ আমার দিকে এগিয়ে আসছে। তার পরেই শুনলুম ভেঁপুর আওয়াজ— ভোঁপ, ভোঁপ, ভোঁপ, ভোঁপ!

    ট্যাক্সি, না বাস?

    আহ্লাদে চাঙ্গা, সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পথের দিকে তাকিয়ে রইলুম।

    তারপরেই দেখা গেল, নীচে দুটো আর ওপরে একটা আলো। তিনটে আলো দেখেই বুঝলুম, ট্যাক্সি নয়, বাস আসছে!

    তাহলে জ্বরের ধমকে আমি ভুল বুঝেছিলুম। বাস যখন চলছে তখন রাত খুব বেশি হয়নি। কিন্তু আশ্চর্য, এরই মধ্যে এ-অঞ্চলটা এমন ভয়ানক নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে? বাবা! আমার কলকাতার গোলমাল বেঁচে থাক, এ অঞ্চলে আবার ভদ্রলোক বাস করে?

    কিন্তু বাসের আলো অত বেশি জ্বলছে কেন, সামনের সারা পথে সে যেন আগুনের ঢেউ বইয়ে ছুটে আসছে! আর এই নিরালা পথে অত জোরে ভেঁপু বাজাবারই বা দরকার কী, এ-অঞ্চলের সন্ধের পরেই ঘুমকাতুরে লোকগুলোর কানে যে তালা ধরে যাবে!

    ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে ছুটতে ধুলোয়-ধুলোয় পথ অন্ধকার করে একখানা রাঙা টকটকে মস্ত বড়ো বাস আমার কাছে এসে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল এবং সঙ্গে সঙ্গে একজন তীব্র তীক্ষ্ন স্বরে চেঁচিয়ে উঠল, ‘ধর্মতলা— ওয়েলিংটন— শ্যামবাজার!’

    আমি তাড়াতাড়ি বাসে উঠে একখানা গদি-মোড়া আসনের ওপর থপ করে বসে পড়লুম। হোক শ্যামবাজারের বাস। এই স্তব্ধ মড়ার মুল্লুক থেকে তো এখন সরে পড়ি। শ্যামবাজার থেকে বাগবাজার পায়ে হেঁটে যেতে এমন বিশেষ দেরি লাগবে না।

    কিন্তু কেন জানি না, বাসের ভেতর ঢুকেই আমার বোধ হল, আমি যেন এক জগৎ ছেড়ে আর এক অচেনা জগতের ভেতরে প্রবেশ করলুম!

    বাস ছুটছে, আর ভেঁপু বাজছে। এত বেগে বাস ছুটছে, তার জানালাগুলো সব খোলা রয়েছে, অথচ বাইরে থেকে বাতাসের একটুখানি ঝলক পর্যন্ত আমার গায়ে লাগছে না। ভারি অবাক হয়ে গেলুম। আমার জ্বর কী এত বেশি হয়ে উঠেছে যে, দেহের অনুভব করবার ক্ষমতাটুকুও আর নেই!

    পথ তেমনি নির্জন আর নিঃসাড়। কিন্তু বাতাসও কি আজ ঘুমিয়ে পড়েছে? আমার মনে হতে লাগল, দমবন্ধ হয়ে সারা পৃথিবী আজ মারা পড়েছে— তার কোথাও আর জীবনের লক্ষণ নেই। বেঁচে আছি খালি আমি ও এই বাসের ড্রাইভার আর কন্ডাকটার।

    আমরা তিনজন ছাড়া বাসের ভেতরেও কোনো আরোহী ছিল না। থাকবেই বা কেন? এত রাতে কার ঘাড়ে ভূত চাপবে যে বাসে চড়ে বেড়াতে বেরোবে!

    বাসের ভেঁপু বাজছে আর বাজছে। কান যে ঝালাপালা হয়ে গেল! কন্ডাকটরের দিকে ফিরে বিরক্তস্বরে বসলুম, ‘ড্রাইভারকে বারণ করে দাও! পথে লোকও নেই গাড়িও নেই— তবু এত হর্ন বাজাচ্ছে কেন?’

    লোকটা শিখ। মস্ত বড়ো লম্বা দেহ, মস্ত বড়ো দাড়ি। কালা আর বোবার মতো আমার পানে আড়ষ্ট চোখে তাকিয়ে রইল।

    আবার বললুম, ‘শুনছ? হর্ন দিতে বারণ করো!’

    সে তবুও জবাব দিলে না। ড্রাইভারকে হর্ন থামাতেও বললে না। লোকটা সত্যি-সত্যিই কালা ও বোবা নাকি? কিন্তু তাই বা হবে কী করে? এই খানিক আগেই তো সে ধর্মতলা— ওয়েলিংটন— শ্যামবাজার বলে চেঁচিয়ে পাড়া মাত করছিল।

    সে বোধ হয় আমার কথার জবাব দিতে চায় না। এরা কি ভেবেছে যে এদের ভেঁপুর আওয়াজে সারা শহরের ঘুম ভেঙে যাবে, আর তাহলেই সবাই বিছানা থেকে লাফিয়ে পড়ে ছুটে এসে বাসের প্যাসেঞ্জার হয়ে বসবে?

    কিন্তু শহর জাগবার লক্ষণ প্রকাশ করলে না। পথের আশেপাশে নেড়ি কুকুরগুলো আরাম করে কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে শুয়ে ঘুমোচ্ছিল, কিন্তু এই বাসের সাড়া পেয়েই তারা তাড়াতাড়ি উঠে লেজ পেটের তলায় ঢুকিয়ে ছুটে পালাতে লাগল— মহা ভয়ে ঘেউ ঘেউ করে কাঁদতে কাঁদতে। আজকে বাইরের জীবের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে কেবল ওই কুকুরগুলোর কাছ থেকে, কিন্তু তারাও দেখা দিয়েই অদৃশ্য হচ্ছে।

    কুকুরগুলো কেন আমাদের বাস দেখে পালাচ্ছে? মনের ভেতর কেবল এই প্রশ্নই জাগতে লাগল— কেন? কেন? কেন?

    কন্ডাকটার কেন আমার কথার জবাব দিচ্ছে না?— কেন? কেন? কেন?

    ড্রাইভার কেন ক্রমাগত ভেঁপু বাজাচ্ছে?— কেন? কেন? কেন?

    কন্ডাকটারের দিকে ফিরে বললুম, ‘তোমার ভাড়ার পয়সা নাও।’

    সে মস্ত একখানা কালো হাত বাড়ালে। ভাড়া দিয়ে টিকিট নেওয়ার সময় আমার হাতে তার হাতের ছোঁয়া লাগল— উঃ, অমনি মনে হল কে যেন একখানা তীক্ষ্ন বরফের ছুরি নিয়ে আমার হাতে খ্যাঁচ করে খোঁচা মারলে! জ্যান্ত মানুষের হাত এমন ঠান্ডা কনকনে হয়!

    আশ্চর্য হয়ে তার মুখের পানে তাকালুম। তার লম্বা চুল আর দাড়ি-গোঁফের জঙ্গলে ভরা মুখখানা বাসি মড়ার মতো স্থির। তার চোখেও পলক পড়ছে না। তার চোখ যেন পাথরে গড়া।

    আমার বুকটা গুর-গুর করতে লাগল। আজকে শহরের এই নির্জনতা, পৃথিবীর এই নিঃশব্দতা, বাতাসের এই অভাব, ভাড়াটে বাসের এই ভেঁপুর আওয়াজ, কন্ডাকটারের এই উদাসীন মূর্তি— সমস্তই যেন রহস্যময়, সমস্তই যেন অস্বাভাবিক।

    কী কুক্ষণেই আজ বাড়ির বাইরে পা দিয়াছি!

    যতবার ফিরে তাকাই, ততবারই কন্ডাকটারের সেই মড়ার মতো স্থির মুখ আর পলক-হারা পাথুরে দৃষ্টি চোখে পড়ে। কেমন একটা অমানুষিকভাবে আমার মনটা ছেয়ে গেল। আর সহ্য করতে পারলুম না। সামনের বেঞ্চের ওপরে দুই হাতের ভিতরে মাথা রেখে চোখ মুদে আমি চুপ করে বসে রইলুম। ভাবলুম শ্যামবাজারে পৌঁছবার আগে আর মাথা তুলে চাইব না।

    কিন্তু মাথা তুলতে হল— আবার চোখ খুলতেও হল।

    প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় কেটে গেছে, গাড়িও না-থেমে ক্রমাগত ছুটছে, তবু এখনও শ্যামবাজার এল না কেন?

    মুখ তুলে জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে আমার আর বিস্ময়ের সীমা রইল না। শ্যামবাজার তো অনেক দূরের কথা, গাড়ি এখনও ভবানীপুরেই আসেনি! অথচ গাড়ি এত বেগে ছুটছে যে, পথের দু-পাশের বাড়িগুলো তীরের মতন পিছনে সরে সরে যাচ্ছে। এও কি সম্ভব?

    হতভম্বের মতন মুখ ফিরিয়ে দেখি, গাড়ির ভেতরে দশ-বারোজন লোক বসে রয়েছে। নিজের চোখকেও আমি বিশ্বাস করতে পারলুম না?

    আমি হলপ করে বলতে পারি, এতক্ষণের ভেতরে গাড়ি একবারও থামেনি; তবু কোত্থেকে এরা এল, কখন এরা গাড়িতে উঠল?

    একে-একে সকলের মুখের পানেই তাকিয়ে দেখলুম। সব মুখই মড়ার মতন স্থির, নির্বিকার; সব চোখের পাথুরে দৃষ্টিই আড়ষ্ট হয়ে আছে। কে যেন শ্মশান থেকে কয়েকটা মৃতদেহ তুলে এনে বেঞ্চির ওপরে সারি সারি বসিয়ে দিয়ে গেছে!

    তাদের ভেতরে বাঙালি আছে, খোট্টা আছে, সায়েব আছে। কিন্তু তারা সবাই চেয়ে আছে আমার দিকেই। সে চাউনিতে কোনো ভয়ের আমেজ নেই। সে চাউনি যেন চাউনিই নয়; অথচ সে চাউনি দেখলেই গা-ছমছম করে, দেহের রক্ত ঠান্ডা হয়ে যায়। তাদের চাউনি যেন চোখের ভিতর দিয়ে আসছে না, আসছে আলোকের ওপার থেকে অন্ধকারের আত্মার ভেতর থেকে, যে দেশে জ্যান্ত মানুষ নেই সেই দেশ থেকে! ভাবহীন অথচ ভয়ানক তাদের সেই চাহনি!

    আর এক আশ্চর্য ব্যাপার এই যে, গাড়ির ঝাঁকুনিতেও তাদের কারুর দেহ একটুও নড়ছে না। গাড়ির ভেতরে বসেও তাদের দেহ যেন গাড়িকে না-ছুঁয়ে শূন্যে বিরাজ করছে। মনে হতে লাগল, আমার অজ্ঞাতসারে যেমন হঠাৎ তারা গাড়ির ভেতর উড়ে এসে জুড়ে বসেছে, তেমনি হঠাৎ তারা আবার হাওয়া হয়ে হাওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে যেতে পারে, আমার অজান্তেই। যেন তারা ছায়ার কায়াহীন অনুচর— দেখা দেয়, ধরা দেয় না।

    আমার সভয় দৃষ্টি আবার পথের দিকে ফিরিয়ে নিলুম। গাড়ি তেমনি হেঁচকি তোলা আওয়াজের মতন ভেঁপুর শব্দ করতে করতে তিরবেগে ছুটছে; কিন্তু তখনও ভবানীপুর আসেনি। আমি শ্যামবাজারে, না সোজা যমালয়ের দিকে চলেছি!

    কী এক দুঃসহ অজানা টানে অস্থির হয়ে চোখ আবার গাড়ির ভেতরে ফেরালুম। গাড়িতে ইতিমধ্যে লোকের সংখ্যা আরও বেড়ে উঠেছে। নতুন লোকগুলোও স্থির নেত্রে আমার দিকেই তাকিয়ে আছে।

    সমস্ত গাড়ির ভেতরে একটা বোটকা গন্ধ ভেসে ভেসে বেড়াচ্ছে। যেন বাসি মড়ার গন্ধ! হাসপাতালের মড়ার ঘরে গিয়ে আমি এইবার এইরকম গন্ধ পেয়েছিলুম।

    আমার সর্বাঙ্গে কাঁটা দিলে, বুকের কাছটা শিউরে শিউরে উঠতে লাগল। আমি কি জেগে আছি, না স্বপ্ন দেখছি?

    আর থাকতে না-পেরে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠে বললুম, ‘এই কন্ডাকটার, গাড়ি বাঁধো!’

    কন্ডাকটার কোনো সাড়া দিলে না, গাড়ি থামাবারও চেষ্টা করলে না।

    আবার বললুম, কিন্তু ফল হল না।

    রেগে দাঁড়িয়ে উঠে কন্ডাকটারের দেহ আমি নাড়া দিতে গেলুম; কিন্তু তাকে ছুঁতে পারলুম না। চোখের সামনে তাকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু তাকে স্পর্শ করতে পাচ্ছি না— সে যেন হাওয়া দিয়ে তৈরি।

    হঠাৎ গাড়ির সব লোক একসঙ্গে অট্টহাস্য শুরু করে দিলে। সে অদ্ভুত বীভৎস হাসি আসছে যেন অনেক দূর থেকে, অনেক আকাশ ভেদ করে অনেক সমুদ্র পাহাড় প্রান্তর পার হয়ে, অনেক নরকের অন্ধকারে ডুব দিয়ে; অথচ তার আওয়াজ এত স্পষ্ট যে, আমার কান যেন ফেটে যাওয়ার মতো হল।

    আমি পাগলের মতো চিৎকার করে বললুম, ‘গাড়ি থামাও, জলদি থামাও— এই ড্রাইভার!’ গাড়ি-থামানো ঘণ্টার দড়ি ধরে আমি ঘন ঘন নাড়তে লাগলুম।

    ড্রাইভার এতক্ষণ পরে আমার দিকে মুখ ফেরালে— সে মুখে একতিলও মাংস নেই! সে মুখ সাদা ধবধবে হাড়ের মুখ; নাক-চোখের জায়গায় তিন-তিনটে গর্ত, দু-ঠোঁটের জায়গায় দু-সারি দাঁত বেরিয়ে আছে!

    এতক্ষণ তবে এই পোশাক পরা কঙ্কালটাই গাড়ি চালিয়ে আসছে।

    গাড়ির ভেতরে অট্টহাসির আওয়াজ বেড়ে উঠল।

    আর সইতে পারলুম না। সেই ভীষণ অট্টহাসি শুনতে শুনতে আমি একেবারে অজ্ঞান হয়ে গেলুম।

    জ্ঞান হলে দেখলুম, নিজের ঘরের বিছানায় শুয়ে আছি। আমার চারপাশে বসে মা, বাবা, ভাই আর বোনেরা।

    শুনলুম, আমি নাকি রসা রোডের ফুটপাতের ওপরে জ্বরের ঘোরে বেহুঁশ হয়ে শুয়েছিলুম।

    কালকের রাতের বিভীষিকার কথা সকলকে বললুম।

    বাবা বললেন, ‘ও-সব বাজে কথা। জ্বরের ঝোঁকে লেকের ধার থেকে রসা রোড পর্যন্ত এসে তুমি বেহুঁশ হয়ে পড়েছিলে। তারপর ওই সব খেয়াল দেখেছ।’

    কিন্তু আমার মন বলতে লাগল, ‘না-না, আমি যা দেখেছি তা খেয়াল নয়, খেয়াল নয়!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকিশোর সাহিত্য সম্ভার – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article ভূত ৭৩ – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }