Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয় সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প498 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অভিশপ্তা

    কাশীর মানমন্দির দেখিতে গিয়াছি। পূর্ণিমার সন্ধ্যা। নীলপদ্মের রং-মাখানো আকাশ, তার নীচে গঙ্গার ধবল লহরবীণায় তরল লীলা রাগিণী বাজিতেছে। এই রূপপুরীকে সম্পূর্ণতা দিবার জন্যই, যেন বসন্তের গুঞ্জরিত নবীন হাওয়া আজ প্রকৃতির মুঞ্জরিত কুঞ্জদুয়ারে অতিথি।

    মানমন্দির দেখা শেষ হইয়া গিয়াছিল; অতএব বিশ্বের এই যৌবন-শ্রীকে অবহেলা করিতে পারিলাম না; আস্তে আস্তে ছাদের একপাশে গিয়া বসিয়া পড়িলাম। তখন চাঁদ উঠিতেছে।

    আমি কবি নই; কিন্তু তবু যেন মনে হইল, গঙ্গার চপল জলে জ্যোৎস্না ওই যে রূপার ‘আখর’ লিখিয়া দিতেছে, চেষ্টা করিলে আজ যেন তাহার ভিতরে সৌন্দর্য-কাব্যের দু-একটা ইঙ্গিত জানিলেও জানিতে পারা যায় এবং মন-মাতানো সুগন্ধ মাখিয়া বসন্তবায়ু আজ যে সংগীত গাহিতেছে, তাহা যেন প্রকৃতির ফুলবাগানের কুঁড়ি ফোটার আনন্দোৎসব ভিন্ন আর কিছু নয়!

    অনেকক্ষণ বসিয়া রহিলাম, কতক্ষণ, তা জানি না। হঠাৎ আমার চমক ভাঙিয়া গেল। ঘড়ি খুলিয়া দেখি, রাত্রি সাড়ে দশটা। তাইতো!

    তাড়াতাড়ি উঠিয়া পড়িলাম। অন্ধকারে সিঁড়ি দিয়া দেয়াল ধরিয়া ধরিয়া কোনোরকমে আঙিনায় নামিয়া আসিলাম। দু-একবার হোঁচট খাইয়া সদর দরজার কাছে আসিয়া দাঁড়াইলাম। দরজা ধরিয়া টানিলাম, কিন্তু দ্বার খুলিল না। দ্বার বাহির হইতে বন্ধ।

    আমার মাথায় আকাশ ভাঙিয়া গেল। আমি যে ছাদের উপরে কবিত্বের স্বপ্ন দেখিতেছে, রক্ষক অত-শত খেয়াল করে নাই, সে দরজা বন্ধ করিয়া চলিয়া গিয়াছে।

    এখন উপায়? একবার শেষ চেষ্টা করিলাম। দরজার উপরে সতেজে এক ধাক্কা মারিলাম— বহু যুগের প্রাচীন কবাট, ঝন-ঝন শব্দে বাজিয়া উঠিল; সেই বিশাল শূন্য পুরীর নৈশ মৌনব্রত ভঙ্গ করিয়া আর্তনাদের মতো একটা তীক্ষ্ন প্রতিধ্বনি সহসা জাগিয়া উঠিয়া আমার সর্বশরীর রোমাঞ্চিত করিয়া তুলিল।

    ভয়ে ভয়ে আবার ভিতরে আসিয়া দাঁড়াইলাম। প্রাঙ্গণের মধ্যে একটা বিপুলদেহ বৃক্ষ, আপনার বিস্তৃত শাখাপ্রশাখার ভিতরে খানিক আলো এবং খানিক অন্ধকার লইয়া দাঁড়াইয়া আছে! কী ভীষণ তাহার পত্রমর্মর! যেন সুদূর অতীতের দেহমুক্ত আত্মারা তাহার ডালে উপবিষ্ট হইয়া ঘন ঘন তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করিতেছে! এবং ওই যে তিমির-গুপ্ত নিশাচর পক্ষীরা ঝটপট ডানা নাড়িয়া স্তম্ভিত স্তব্ধতাকে বিদীর্ণ করিয়া দিতেছে, স্থান ও কাল-মাহাত্ম্যে বোধ হইল, তাহা যেন অপর জগৎচারী আত্মা সকলের অস্ফুট মধুর ধ্বনি! বুকটা কেমন দমিয়া গেল। আপনার কুবুদ্ধিকে শত শত ধিক্কার দিতে দিতে সচকিত চিত্তে সামনের একটা ঘরের দরজা খুলিয়া ভিতরে ঢুকিয়া পড়িলাম। চারিদিকে সূচীভেদ্য অন্ধকার। ভিতরটা একবার ভালো করিয়া দেখিয়া লইবার জন্য পকেট হইতে দেশলাই বাহির করিয়া জ্বালিলাম। দীপশলাকার ক্ষীণালোকে গৃহভিত্তির উপরে মোগল যুগের প্রাচীন কারুকার্য ঈষৎ স্পষ্ট হইয়া উঠিল। অন্ধকারকে আরও গাঢ় করিয়া শলাকা নিবিয়া গেল। কেন জানি না, গাটা কেমন ছম-ছম করিতে লাগিল। সেই বিস্তৃত কক্ষের নিবিড় তিমিররাশির ভিতরে যেন অপর জগতের কী-একটা বিষাদ-ম্রিয়মাণ রহস্য গুমরিয়া গুমরিয়া উঠিতেছিল।

    অত্যন্ত অপ্রসন্ন চিত্তে ঘরের এক কোণে গিয়া শুইয়া পড়িলাম। আপাদমস্তক চাদর মুড়ি দিয়া ভাবিতে লাগিলাম, কোথায় আজ সে সকল শিল্পী, অলংকৃত গৃহভিত্তির উপরে যাহাদের নিপুণ হস্তের চিহ্নাবশেষ এখনও খোদিত হইয়া রহিয়াছে? কোথায় আজ সেই মানসিংহ, সেই জয়সিংহ, কক্ষমধ্যে যাঁহাদের অসামান্য সম্মান-স্মৃতি এখনও জাগ্রত হইয়া রহিয়াছে? কোথায় সেই উজ্জ্বল অতীত, কোথায় সে রাজ-ঐশ্বর্য?

    সহসা একটা দমকা ঝটকার ঝাপটে বাহিরের বৃক্ষপত্রে কেমন যেন অনৈসর্গিক মর্মরধ্বনি বহিয়া গেল এবং সেইসঙ্গে ঘরের ভেজানো দরজাটাও সশব্দে খুলিয়া গেল এবং আমার তন্দ্রাবিষ্ট শ্রবণের উপরে কে যেন মুখ রাখিয়া অস্ফুটস্বরে বলিয়া উঠিল, ‘কোথায়, ওগো কোথায়?’

    একলাফে উঠিয়া বসিলাম এবং দেওয়ালের উপরে আড়ষ্টভাবে পৃষ্ঠ রাখিয়া দুই হাতে চোখ কচলাইয়া চাহিয়া দেখি, উন্মুক্ত দ্বারপথে চন্দ্রালোক আসিয়া ঘরের একাংশ উজ্জ্বল করিয়া তুলিয়াছে।

    চারিদিক কী স্তব্ধ! আর, আর— সেই জনশূন্য প্রাচীন অট্টালিকার মধ্যে সে স্তব্ধতা কী ভীষণ!

    হঠাৎ মনে হইল, ঘরের অন্ধকার দিকটায় কে যেন নড়িয়া চড়িয়া বেড়াইতেছে! যেন কার বস্ত্রের অস্ফুট শব্দ হইতেছে, যেন মৃদু ভূষণ-শিঞ্জিত শুনা যাইতেছে। যেন কেহ ফুলিয়া ফুলিয়া চাপাগলায় কাঁদিয়া উঠিতেছে— যেন কেহ বুকভরা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিতেছে! কে সে? কে সে?

    আমার দেহে কাঁটা দিল, মাথার চুলগুলা খাড়া হইয়া উঠিল। আমি রুদ্ধশ্বাসে প্রায়বদ্ধকণ্ঠে পাগলের মতো বলিয়া উঠিলাম, ‘কে? কে? কে?’

    সহসা, কাহার একটা অতি শীর্ণ ছায়া মুক্তদ্বার-মধ্যগত আলোকরেখার মাঝে আসিয়া দাঁড়াইল।

    এ কে?

    ভয়ে আমি চোখ বুজিতে গেলাম; কিন্তু পারিলাম না— আমার চক্ষুকোটরের মধ্যে নিষ্পলকদৃষ্টি কী এক কুহকমন্ত্রে বিস্ফারিত হইয়া রহিল! তদবস্থায় দেখিলাম, সম্মুখে নীরবে দাঁড়াইয়া মাংসমাত্রহীন সম্পূর্ণ কঙ্কালসার দেহ লইয়া আমার দিকে হেঁট হইয়া সে মূর্তি একদৃষ্টিতে আমাকেই নিরীক্ষণ করিতেছে! তাহার বিশীর্ণ বাহুযুগলে বলয়-কঙ্কন শ্লথ হইয়া হস্তাগ্রে ঝুলিয়া পড়িয়াছে। বস্ত্র, দেহের হাড়গুলিকে বেড়িয়া বেড়িয়া যেন লেপিয়া আছে। তাহার প্রকটাস্থি মুখ ও বুকের উপরে রাশীকৃত কেশদাম বিশৃঙ্খল হইয়া দোদুল্যমান এবং তাহার পলকহীন চক্ষুতে কী এক তীক্ষ্ন দীপ্তি!

    ছায়ামূর্তির অধরোষ্ঠের আবরণশূন্য দন্তপংক্তি কাঁপিতে লাগিল এবং সেই দুঃসহ মৌন ভঙ্গ করিয়া কাতর, তৃষিতস্বরে সে বলিয়া উঠিল, ‘কোথায় ওগো কোথায়?’

    আমি অসাড় হইয়া বসিয়া রহিলাম। তখন, ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে তাহার কৃশ অস্থিসার পা বাড়াইয়া আমার দিকে অগ্রসর হইল।

    চকিতে আমার জড়তা ভাঙিয়া গেল। আমি প্রাণপণে চীৎকার করিয়া উঠিলাম, ‘চলিয়া যাও, চলিয়া যাও, আর এক পা আগাইলে তোমায় খুন করিব!’ আমার সে সাহস— মৃত্যুর সম্মুখস্থ কাপুরুষের অন্তিম সাহসমাত্র!’

    ছায়ামূর্তি কহিল, ‘আগন্তুক, সে একদিন গিয়াছে, যে দিন মৃত্যুকে আমি তোমারই মতো ভয় করিতাম! এখন আমি জীবন-মৃত্যুর বাহিরে, সংসারের ভয়-ভাবনা আর আমাকে ব্যথা দিতে পারে না, কিন্তু পৃথিবীর যাতনা যে এখনও আমাকে শতপাকে ঘিরিয়া আছে, আমাকে পুড়াইয়া পুড়াইয়া মারিতেছে, আমাকে পিষিয়া পিষিয়া পীড়ন করিতেছে! আগন্তুক, তুমি আমাকে দেখিয়া ভয় পাইতেছ? কিন্তু, একদিন আমার এই তনু ছিল কোমল, সুন্দর, দেববাঞ্ছিত! আজ আমার এই বাহু কুৎসিত, অস্থিসার, কিন্তু এমন দিন ছিল, যখন আমার এ হাতদুটি গোলাপফুলের একজোড়া মোহনমালার মতো রাজকণ্ঠ বেষ্টন করিত! সেদিন গিয়াছে আগন্তুক, সেদিন গিয়াছে, যেদিন এ দুটি চোখের সামনে পড়িবার জন্য শত শত উন্মুখহৃদয় আবেগে ব্যাকুল হইয়া উঠিত! হায়, সে কত যুগ আগে, ওগো কত যুগ আগে!’

    আমি কোনো উত্তর দিতে পারিলাম না; যেমন বসিয়াছিলাম, তেমনই কাঠ হইয়া বসিয়া রহিলাম।

    ছায়ামূর্তি কহিল, ‘আগন্তুক, তুমি আমার কথা শুনিবে? আজ কয় শতাব্দী, আমার অভিশপ্ত দোসর-হারা আত্মা এইখানে ঘুরিয়া ঘুরিয়া কাঁদিয়া মরিতেছে, দুটো দুঃখের কথা শুনাইবার জন্য আমার পিয়াসি-বুক ফাটিয়া যাইতেছে, কিন্তু শূন্যগৃহে কোনো দরদের দরদী তো পাইলাম না! তুমি শুনিবে আগন্তুক, তুমি শুনিবে?’

    আমি কথা কহিবার চেষ্টা করিলাম, কিন্তু আমার মুখ দিয়া কোনো কথা বাহির হইল না। ছায়ামূর্তি তখন সেই দ্বারপথাগত পরিপূর্ণ জ্যোৎস্নায় বসিয়া পড়িল। তাহার অস্থিদেহ হইতে বিকট একটা কড়কড় শব্দ উঠিল। তাহার কেশদামের প্রতি আমার দৃষ্টি পড়িল— রেশমের মতো চিকণ, কী সুন্দর সে কুন্তল!

    আপনার বিগত যৌবনের, অতীত সৌন্দর্যের শেষ চিহ্নস্বরূপ সেই অলকমালা, ঈষৎ গর্বের সহিত মুখের উপর হইতে সরাইয়া দিয়া ম্লান হাসিয়া ছায়ামূর্তি কহিল, ‘এই চোখ, এই বুক, এই বাহু দেখিয়া একদিন কত মুগ্ধপ্রাণ আমার রূপের আগুনে ঝাঁপ দিয়াছে; আর আজ এই কেশ দেখিয়া আগন্তুক, তুমি কি আবার আমার সঙ্গে প্রেম করিবে? না বন্ধু না— অভাগির এ কঠিন কঙ্কালস্তূপকে বুকে চাপিয়া আর কোনো পাগল হৃদয় ধন্য হইবে না; আমি এখন ভোরের বাসি মালা, পথের ধুলায় এখন আমার শয়ন, প্রখর তপন তাপে শুকাইয়া যাওয়াতেই এখন আমার অবসান! কিন্তু কী বলিতে কী বলিতেছি!

    আমার নাম ছিল, রাধা। রাজা জয়সিংহের অন্তঃপুরে রাজ-আদরে আদরিণী হইয়া বড়ো সুখে আমার দিন কাটিত। বলিয়াছি, আমি রূপবতী ছিলাম। সে রূপের বর্ণনায় আর কাজ নাই, কারণ, আজ তাহা কেহ বিশ্বাস করিবে না।

    সেই রূপের মোহেই রাজা আমাকে ভালোবাসিতেন। সলিলচারী মৎস্য যেমন পাতালের আন্ধিয়ারে অন্ধ হইবার আশঙ্কায় উপরে আসিয়া ধরণীব্যাপী মুক্ত আলো এবং মুক্ত আকাশ দেখিয়া যায়, রাজকার্যের কাঠিন্যের মধ্য হইতেও তেমনই করিয়া রাজা, দিনে শতবার নানা অছিলায় আমার কাছে ছুটিয়া আসিতেন। আমাকে দেখিয়া দেখিয়া তাঁহার তৃপ্তি হইত না, আমাকে আদর করিয়া করিয়া তাঁহার আশ মিটিত না, আমার সঙ্গে কথা কহিয়া কহিয়া তাঁহার শ্রান্তি বোধ হইত না— আমি ছিলাম তাঁহার প্রাণাধিক।

    একদিন শুনিলাম, রাজা কাশীধামে যাইতেছেন। বাবা বিশ্বনাথকে কখনো দেখি নাই, রাজা সেখানে যাইবেন শুনিয়া ভাবিলাম, এমন সুযোগ আর কখনো মিলিবে না।

    রাজপদে আমার আরজি পেশ করিলাম। আমার সাধ অপূর্ণ রাখা, রাজার পক্ষে সাধ্যাতীত। একটু ইতস্তত করিয়া শেষটা তিনি মত দিলেন। তাঁহার সঙ্গে আমি কাশীধামে আসিলাম।

    চারিদিকের ভিড় ঠেলিয়া, ভিখারি তাড়াইয়া, আমার প্রহরিবেষ্টিত শিবিকা বাবা বিশ্বনাথের মন্দির তোরণে আসিয়া স্থির হইল। প্রহরীরা মন্দিরের ভিতর হইতে লোক তাড়াইতে লাগিল, শিবিকামধ্যে বসিয়া সেই কোলাহল শুনিতে লাগিলাম। মন্দিরের ভিতর বীণা বাজিতেছিল এবং আলাপিনীর মধুর রাগিণীর সঙ্গে কাহার কণ্ঠ, ভজন গাহিতেছিল :

    ভোলানাথ, দিগম্বর

    এ দুঃখ মেরা হরো!

    কী স্বর্গীয় কণ্ঠস্বর!

    হঠাৎ মাঝপথে গান থামিয়া গেল। বুঝিলাম, প্রহরীরা গায়ককে ভিতর হইতে তাড়াইয়া দিতেছে।

    কেন জানি না, গায়ককে দেখিবার জন্য সহসা আমার মনে দুর্দম বাসনা বলবতী হইয়া উঠিল। আস্তে আস্তে শিবিকার আবরণ একটু সরাইয়া দিয়া আমি পথপানে চাহিলাম।

    কী দেখিলাম! যাহা দেখিব বলিয়া আশা করি নাই, তাহাই দেখিলাম।

    দেখিলাম, এক সুবেশ, গৌরতনু তরুণযুবক মন্দির মধ্য হইতে বাহির হইয়া আসিতেছে। শিরে তাহার কুঞ্চিতাগ্র দীর্ঘ কেশদাম গুচ্ছে গুচ্ছে স্কন্ধ চুম্বন করিতেছে, উন্নত ললাটে তাহার রক্তচন্দনের রেখা অগ্নিরেখার মতো জ্বলজ্বল, বিশালায়ত নয়নে তাহার দিবা-শান্ত দৃষ্টি, পুষ্ট অনাবৃত বাহুতে তাহার মৌন বীণা! যুবতীর পেলব-লাবণ্য এবং পুরুষের অটল সরলতা যেন তাহার প্রশস্ত দেহে একীভূত হইয়া মিশিয়া গিয়াছে। সে মূর্তি মানবের? না, দেবতার?

    সহসা যুবকের দৃষ্টি বস্ত্রাবকাশ দিয়া আমার পিপাসী নেত্রের উপরে পড়িয়া সচকিত হইয়া উঠিল। কেন জানি না, আমি সে দৃষ্টিকে ব্যথিত করিয়া শিবিকার অন্ধকারে সরিয়া যাইতে পারিলাম না।

    আমিও চাহিয়া রহিলাম, যুবকও চাহিয়া রহিল— ক্ষণিকের জন্য। প্রহরী আসিয়া যুবককে সরাইয়া দিল, যাইবার সময়ে যেন তাহার সমগ্র প্রাণ-মন নেত্রাগ্রে একাগ্র করিয়া যুবক, আমার দিকে আর একবার চাহিয়া গেল।

    বাবা বিশ্বনাথের চরণে, চন্দনচর্চিত বিল্বদল অর্পণ করিয়া, তাঁহাকে প্রণামান্তে আবার শিবিকায় আসিয়া উঠিলাম। উঠিবার সময়ে চঞ্চলনেত্রে একবার চারিদিকে চাহিয়া দেখিলাম, কিন্তু আমার বুভুক্ষুহৃদয়, যে রত্নের সন্ধান করিতেছিল, তাহা তো মিলিল না!

    জনতা মথিত এবং ভিখারিদলকে মুখর করিয়া শিবিকা অগ্রসর হইতেছিল। চারিদিকে বিশ্বনাথের মহান নামে ভক্তের হৃদয় ভক্তিস্তোত্রে উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠিতেছিল; কিন্তু সে উচ্ছ্বাস আমার স্বপ্নাচ্ছন্ন চিত্তকে প্রীত ও স্পর্শ করিতে পারিল না। আমার অন্তর মধ্যে ভাবসাগরে তখন ঢেউ উঠয়াছে! এমন সময়ে আমার সজাগ শ্রবণে এক পরিচিত প্রিয়স্বর ধ্বনিয়া উঠিল—

    তেরি নয়না জাদু ডারা!

    * * *

    মানমন্দিরেই মহারাজ, আমার জন্য বিস্তৃত কক্ষ সাজাইয়া দিয়াছিলেন। অভিভূত হৃদয়ে অসুস্থতার ভান করিয়া শয্যায় আশ্রয় গ্রহণ করিলাম। শুইয়া শুইয়া তাহারই কথা ভাবিতে লাগিলাম। মন, অন্যদিকে ফিরাইবার জন্য কত চেষ্টা করিলাম। কিন্তু আমার নিখিল চেষ্টা ব্যর্থ করিয়া, নিভৃত মানস-নেপথ্যে মন্দিরপথদৃষ্ট সেই তরুণ সুন্দর মুখখানিই বারংবার জাগিয়া উঠিতে লাগিল।

    পরদিন বৈকালে, দাসী আমার কবরী রচনা করিয়া দিতেছিল। আমি শূন্যদৃষ্টিতে ওপারে, যেখানে ধবল সিকতাশয়নের উপরে গঙ্গা আপন জলবেণী লুটাইয়া দিতেছিল, সেইদিকে চাহিয়াছিলাম; এমন সময়ে, আবার সেই কণ্ঠস্বর!

    তাড়াতাড়ি উঠিয়া গবাক্ষ-সমীপে গিয়া দাঁড়াইলাম! দেখিলাম, নীচে গঙ্গাতরঙ্গচুম্বিত সোপান-চত্বরে বসিয়া বীণাহস্তে সেই যুবক!

    যুবকও আমাকে দেখিল। তাহার আনন ঈষৎ আরক্ত, তাহার স্বর ঈষৎ কম্পিত হইয়া উঠিল। তারপর যে গান গাহিতেছিল, তাহা থামাইয়া সে ভিন্ন রাগিণী ধরিল।

    সে গাহিতে লাগিল

    ‘আঁধারের ভিতরে দুটি আঁখি দেখিয়াছি। সে যুগল আঁখির দীপ্তি দেখিয়া মনে হইল, মেঘের কালো নিকষে বিজলীর সুবর্ণ-আলপনা ফুটিয়া উঠিয়াছে।

    ফুলের রং যেমন ভিতর হতে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়, সে দুটি নয়নের উপরে হৃয়ের গোপন ভাষা তেমনই বিলিখিত হইয়াছিল।

    বসন্তের নীরব ইঙ্গিত বুঝিয়া কোকিল যেমন পঞ্চমে সাড়া দেয়, ওগো কমলনয়না, তোমার আঁখিপটলিখিত হৃদয়ের মৌনভাষা বুঝিয়া আমার চিত্তসারং তেমনি করিয়াই সাড়া দিয়া উঠিতেছে।’

    আমি দাসীর দিকে ফিরিলাম। আমার আকস্মিক আচরণ দেখিয়া সে বিস্মিত হইয়াছিল।

    যুবকের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করিয়া তাহাকে নিম্নকণ্ঠে কহিলাম, ‘উহাকে সকলের চোখের আড়ালে এখানে আনিতে পারিস?’

    দাসীর উপরে আমার যথেষ্ট বিশ্বাস ছিল। কিন্তু আমার কথা শুনিয়া তাহার মুখ ভয়ে বিবর্ণ হইয়া গেল।

    আমি তাহার হাত চাপিয়া ধরিয়া আবার কহিলাম, ‘কি বলিস? পারিবি?’

    ‘মহারাজ জানিলে আমার মাথা কোথায় থাকিবে ঠাকুরানি?’

    ‘তোর মাথা তোর কাঁধের উপরেই থাকিবে। মহারাজ এখন আসিবেন না। বল— পারিবি বাঁদী? হাজার আশরফি বকশিশ।’

    খানিক ইতস্তত করিয়া সে স্বীকার পাইল।

    * * *

    অট্টালিকার গুপ্তদ্বার, আমাদের মিলনসাধন করিয়া দিল।

    যুবক আমার সামনে, আমি তার সামনে। চারিদিক স্তব্ধ। শুধু ভাগীরথীর অবিরাম কলতানে আমাদের মিলনের উৎসব-সংগীত ধ্বনিত হইতেছিল।

    যুবক আমার মুখ দেখিতেছিল— আমি তার মুখ দেখিতেছিলাম। উভয়ে নীরব। আকাশের বাতাস আসিয়া আমাদের প্রাণের সুপ্ত তন্ত্রীগুলিতে জাগরণের মধুর আভাস আনিয়া দিতেছিল।

    যুবক কহিল, ‘আজ আমার জীবন সার্থক!’

    আমি বলিলাম, ‘আজ আমার নারীজন্ম ধন্য!’

    * * *

    অকস্মাৎ ঘরের দরজা খুলিয়া গেল। বিবর্ণমুখে ছুটিয়া আসিয়া দাসী কহিল, ‘মহারাজ আসিতেছেন! মহারাজ আসিতেছেন!’

    মহারাজ!

    আমার পায়ের তলা হইতে মাটি যেন চকিতে সরিয়া গেল, আমার চোখের সুমুখ হইতে পৃথিবীর আলো যেন নিবিয়া গেল।

    আমি কাঁপিতে কাঁপিতে গবাক্ষের পর্দার একদিকটা তুলিয়া, তাহার আড়ালে যুবককে ঠেলিয়া দিলাম। তারপর তাড়াতাড়ি বিছানার উপর গিয়া বসিয়া, কোনোরূপে একটু আত্মসংবরণ করিয়াছি মাত্র— এমন সময়ে হাস্যমুখে মহারাজ গৃহমধ্যে প্রবেশ করিলেন।

    আমার ডানহাতটি আপন মুষ্টিমধ্যে গ্রহণ করিয়া, মহারাজ স্নিগ্ধস্বরে কহিলেন, ‘পিয়ারি, তোমার কাছ থেকে দু-দণ্ড দূরে থাকিয়া আমার মনে হইতেছিল, আমি একযুগ তোমাকে ছাড়িয়া আছি।’

    বিপদভীত দৃষ্টিকে যথাসম্ভব কোমল করিয়া আমি বলিলাম, ‘মহারাজ, দাসীর প্রতি আপনার করুণা।’

    আমার অনাবৃত গণ্ডে সপ্রেমে একটি চুম্বন করিয়া মহারাজ বলিলেন, ‘তুমি আমার জাদু করিয়াছ।’

    আমি মুখ নীচু করিয়া আঙুলে আঁচল জড়াইতে লাগিলাম। মহারাজ, কিছুক্ষণ আমাকে নিষ্পলকনেত্রে নিরীক্ষণ করিলেন। তাহার পর একটু চঞ্চলতা প্রকাশ করিয়া কহিলেন, ‘উঃ! ঘরের ভিতরে অসহ্য গরম! একলাটি এমন করিয়া, এখানে তুমি কীরূপে বসিয়া আছ?’ বলিয়া, তিনি গবাক্ষের দিকে অগ্রসর হইলেন।

    আমার প্রাণ যেন, হৃদয়ের ভিতরে মূর্ছিত হইয়া পড়িল।

    মহারাজ জানালার পর্দা সরাইয়া দিলেন। সেখানে, যুবক দাঁড়াইয়াছিল।

    বিস্মিত হইয়া মহারাজ, পর্দা তুলিয়াই আবার ফেলিয়া দিলেন। কিছুক্ষণ স্তম্ভিত এবং স্তব্ধভাবে দাঁড়াইয়া রহিলেন। তাহার পর আমার দিকে ফিরিয়া কহিলেন, ‘এ কে?’

    দুই হাতে শয্যার আস্তরণ মুঠার ভিতরে চাপিয়া ধরিয়া আমি বজ্রাহতার মতো বসিয়া রহিলাম।

    কর্কশকণ্ঠে মহারাজ কহিলেন, ‘বিশ্বাসঘাতিনী! এতদূর স্পর্দ্ধা তোর? আমার শয়নাগারে পরপুরুষ!’

    বদ্ধ কণ্ঠকে প্রাণপণে মুক্ত করিয়া আমি কহিলাম, ‘দোহাই মহারাজের! উহাকে আমি চিনি না!’

    ‘চিনিস না? তবে কীরূপে ও এখানে আসিল?’

    ‘জানি না, মহরাজ! জানি না! ও চোর!’

    বাঁ-হাতে আবার পর্দা তুলিয়া, মহারাজ ডান হাতে যুবককে ধরিয়া বাহিরে টানিয়া আনিলেন। তীক্ষ্নদৃষ্টিতে তাহার আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করিয়া কহিলেন, ‘কে তুই?’

    ‘আমি চোর।’

    ‘কীরূপে এখানে আসিলি?’

    ‘বলিব না।’

    ‘কী!’

    ‘বলিব না।’

    ‘বলিবি না?’

    ‘না।’

    মহারাজ হাত বাড়াইয়া ভিত্তিবিলম্বিত একখানি তরবারি গ্রহণ করিলেন। আমি ছুটিয়া গিয়া তাঁহার উদ্যত হস্ত ধারণ করিলাম। কাতরকণ্ঠে কহিলাম, ‘মহারাজ, মহারাজ, একটি চোরের রক্তে আপনার পবিত্র অস্ত্র কলঙ্কিত করিবেন না!’ তাহার পর যুবকের দিকে ফিরিয়া বলিলাম, ‘এখানে কীরূপে তুই আসিলি, খুলিয়া বল!’

    বুকের উপরে দুই বাহু রাখিয়া, পাথরে-গড়া মূর্তির মতো যুবক এতক্ষণ নিথরভাবে দাঁড়াইয়া ছিল। আমার সম্বোধনে তাহার সর্বদেহের মধ্য দিয়া তড়িৎ ছুটিয়া গেল। আয়ত নেত্রের পূর্ণ দৃষ্টি আমার মুখের উপরে রাখিয়া যুবক অভিভূত কণ্ঠে কহিল, ‘আমি তুচ্ছ চোর নই, আমি তোমাকে চুরি করিয়া দেখিতে আসিয়াছি!’

    প্রদীপ্ত অগ্নির মতো উগ্রমূর্তিতে মহারাজ বলিলেন, ‘কী!’

    একটুও বিচলিত না হইয়া যুবক আনমনে বলিতে লাগিল, ‘হ্যাঁ, চুরি করিয়া তোমাকে দেখিতে আসিয়াছি— শুধু তোমাকে সখি, শুধু তোমাকে! দেবপূজায় তুমি যাইতেছিলে, পথ হইতে লুকাইয়া আমি তোমাকে দেখিতে পাইয়াছিলাম। তুমি জানো না দেখামাত্র আমার আত্মা তোমার পায়ে বিকাইয়া গিয়াছে। একবার দেখিয়া আমার তৃপ্তি হইল না, তাই সকলের অজ্ঞাতসারে কৌশলে আমি এখানে আসিয়া লুকাইয়া ছিলাম, আর একবার তোমাকে দেখিব বলিয়া! আমার দেখা হইয়াছে। এখন আমি মরিতে পারি। মহারাজ, আপনার প্রিয়তমার কোনো দোষ নাই।’

    মহারাজ অগ্রসর হইয়া কঠিনস্বরে বলিলেন, ‘উত্তম! তোকে প্রাণে না মারিয়া, তোর প্রতি এক নূতন দণ্ড দিব। তোর যে পাপ-চক্ষু পরস্ত্রীর পবিত্রতার দিকে কুদৃষ্টিতে চাহিয়াছে, সেই চক্ষু আমি নষ্ট করিব। প্রহরী!’ আদেশমাত্র প্রহরী ঘরের ভিতরে আসিয়া দাঁড়াইল।

    যুবকের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করিয়া মহারাজ বলিলেন, ‘এই হতভাগাকে বাহিরে লইয়া গিয়া ইহাকে অন্ধ করিয়া ছাড়িয়া দে!’

    যুবক নীরবে, হাস্যমুখে সেই ভীষণ দণ্ডাদেশ শ্রবণ করিল। বিনা বাধায় যুবক তাহার সঙ্গে চলিল। গমনকালে আমার দিকে একবার দীনদৃষ্টিতে চাহিয়া গেল। ভগবান, সে দৃষ্টিতে কী গভীর ভাব ফুটিয়া উঠিতেছিল!

    * * *

    পরদিন গভীর রাত্রিতে, নিদ্রাশূন্য গঙ্গার উচ্চ তরঙ্গকল্লোলের উপর দিয়া পাগল ঝটিকা বহিয়া বহিয়া যাইতেছিল।

    সুষুপ্ত মহারাজের শিথিল বাহুপাশের ভিতরে সহসা আমার নিদ্রাভঙ্গ হইল।

    দুম করিয়া গবাক্ষ-কবাট খুলিয়া গেল এবং বহিঃপ্রকৃতির বিশ্বব্যাপী হাহাকার, বৃষ্টির ঝাপটা ও উদ্দাম বায়ুর সঙ্গে সে কাহার আকুলকণ্ঠ আমার ঘরের ভিতরে প্রবেশ করিল? সে কে গো— সে কে?

    তাড়াতাড়ি জানলাটা বন্ধ করিয়া দিতে উঠিলাম। হঠাৎ মেঘের কালো বুক চিরিয়া দেবতার অগ্নিময় ভ্রূকুটি ফুটিয়া উঠিল, সেই ক্ষণিক উজ্জ্বল আলোকে দেখিলাম, ঝড়-বৃষ্টির প্রতি একান্ত উদাসীন হইয়া সোপান চত্বরে বসিয়া সেই অন্ধ যুবক গাহিতেছে :

    নয়না নহি নিদ গাই রে,

    নিশিদিন মোরি ছাতিয়ান লাগেও অধীরকো।

    একটা চীৎকার করিয়া তখনই মূর্চ্ছিত হইয়া ভূমিতলে পড়িয়া গেলাম।

    * * *

    তাহার পর প্রতি নিশায় তাহার হতাশ সংগীত, তীক্ষ্নধার অস্ত্রের মতো আমার বুকে আসিয়া বিঁধত। আমার সকল সুখ, শান্তি ও আনন্দ, জন্মের মতো ঘুচিয়া গেল। আহারে-বিহারে-শয়নে-স্বপনে সর্বদাই রহিয়া রহিয়া সেই যুবকের কথাই আমার মনে পড়িতে লাগিল। সেই কাতর মুখ— সেই অন্ধ নেত্র— সেই উদাস গীত! তাহার যাতনা ও হতাশার একমাত্র কারণই তো আমি! তাহাকে বিপদে ফেলিয়া আপনাকে বাঁচাইবার জন্য পাপিষ্ঠা আমি— অনায়াসে মিথ্যা কথা কহিয়াছি।

    ভীষণ যন্ত্রণার ভিতরে অকস্মাৎ একদিন মৃত্যু আসিয়া আমার কমনীয় তনুকে চিতায় সমর্পণ করিল। মরণকালে তাহার গান শুনিয়াছি এবং মৃত্যুর পরেও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরিয়া, প্রতি-নিশায় আমার অভিশপ্ত আত্মা সেই সকরুণ সংগীত শুনিয়া আসিতেছে। ওই শুনো, ওই শুনো গো! হে অন্ধ যুবক, আমার অপরাধ মার্জনা করো আর শুনিতে পারি না, ওগো, আর সহ্য করিতে পারি না!’

    ছায়ামূর্তির কথা শেষ হইতে-না-হইতে হঠাৎ কাহার বিস্মিত কণ্ঠ শুনিলাম, ‘কোন হ্যায় রে!’

    চকিতে আমার আচ্ছন্ন ভাব কাটিয়া গেল, ধড়মড় করিয়া উঠিয়া বসিয়া দেখি, পূর্ব চক্রবালে ঊষার ললাটিকা দুলিয়া উঠিয়াছে এবং একগোছা চাবি হাতে করিয়া মানমন্দিরের দরোয়ান সামনে দাঁড়াইয়া মূঢ়ের মতো আমার দিকে চাহিয়া আছে। কক্ষতলে কোথায় সেই ছায়ামূর্তি? আশ্চর্য স্বপ্ন!

    মধুপর্ক, গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এন্ড সন্স, আট আনা সংস্করণ গ্রন্থমালা, ২১তম গ্রন্থ

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকিশোর সাহিত্য সম্ভার – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article ভূত ৭৩ – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }