Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয় সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প498 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নবাব বাহাদুরের বংশধর

    ব্যাঘ্র চার্য বৃহৎ-লাঙ্গুল!

    চাঁদের দুধের ধারায় চারিদিক করছে ধবধব।

    বইছে ফুলেল বাতাস, গাইছে সবুজ পাতার দল, ঝরছে ঝরঝর কুমারী ঝরনা!

    নিশীথ রাত্রি। চলেছি গহন-বনের ভিতর দিয়ে নির্জন পথে। যেতে হবে গ্রামান্তরে, এখান থেকে কুড়ি মাইল দূর। চলেছি একাকী।

    এমন সময়ে গভীর গর্জনে বনভূমি হল থরথর প্রকম্পিত!

    ব্যাঘ্রচার্য বৃহৎ-লাঙ্গুল!

    প্রকাণ্ড এক বাঘ— বাঘ যে এত বড়ো হয় আমি কখনো তা কল্পনাতেও আনতে পারিনি। জঙ্গল ভেদ করে সে বাইরে এসে দাঁড়াল। তারপর আমার দিকে আগুন-ভরা ক্রুদ্ধ দৃষ্টিপাত করে সামনের দিকে দুই থাবা পেতে মাটির উপরে বসে পড়ল।

    বুকের ভিতর জাগল থরথর কম্পন! দুই পদ হয়ে উঠল চঞ্চল— দিকবিদিক জ্ঞানহারা হয়ে পলায়ন করবার জন্যে। তারপরেই বিশেষজ্ঞ শিকারিদের কথা মনের মধ্যে জেগে উঠল বিদ্যুতের মতন!— ব্যাঘ্র বা সিংহের সামনে গিয়ে পড়লে দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নেই; এমনকী চোখের পাতা ফেলাও নাকি অনুচিত। তীব্র দৃষ্টিতে যদি শ্বাপদের দিকে নিষ্পলক নেত্রে তাকিয়ে থাকো, তাহলে তারা তোমাকে আক্রমণ করতে ভরসা করবে না।

    একথা সত্যি কিনা জানি না, কিন্তু সেই বাঘটার দিকে চোখোচোখি খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকবার পরে, সে অস্ফুট স্বরে গর্জন করলে, তারপর অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে এমনভাবে আবার জঙ্গলের ভিতরে গিয়ে ঢুকল যে, যেন সে চোখের সামনে দেখতেই পায়নি আমার মতো মনুষ্যত্বের ক্ষুদ্র নমুনাকে!

    কিন্তু আমি আশ্বস্ত হতে পারলুম না। বাঘ বনে ঢুকেছে বটে, কিন্তু আবার বেরিয়ে আসতে কতক্ষণ! সুতরাং তার পুনরাবির্ভাবের আগেই যথাসম্ভব দ্রুতবেগে পদযুগলকে চালনা করাই উচিত।

    তাই করলুম। ছুটলুম। পাগলের মতন ছুটতে ছুটতে বনের ভিতরে— আরও ভিতরে গিয়ে পড়লুম। কাঁটাঝোপে সর্বাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেল, কিন্তু কাঁটাঝোপ আজ আমাকে কোনো যন্ত্রণাই দিতে পারলে না। নির্জন অরণ্যে, গভীর রাত্রে বাঘের সঙ্গে দেখা হলে মানুষের মনের যে কী অবস্থা হয়, সেটা কারুকে লিখে বোঝানো যাবে না। মানুষ তখন হয় উন্মাদগ্রস্ত!

    আচম্বিতে সামনে পেলুম অভাবিত আশ্রয়! গভীর অরণ্যের ছায়া যেখানে গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়ে উঠেছে, সেইখানে দেখলুম ভাঙাচোরা প্রকাণ্ড একখানা অট্টালিকা। তার সর্বাঙ্গে অশথ-বটের উপদ্রব এবং এক একটা গাছ এত বড়ো যে তার উপরে হয়তো একটা হস্তি আরোহণ করলেও শাখাপ্রশাখার কোনোই ক্ষতি হবে না। সেখানে উপর দিকে তাকিয়ে চন্দ্রপুলকিত আকাশকে পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল না এবং সেখানে নীচের দিকে তাকালে পায়ের তলায় সাপ আছে কী ব্যাঙ আছে তাও দেখতে পাওয়া যায় না।

    সেই ব্যাঘ্রচার্য বৃহৎ-লাঙ্গুল আমার পশ্চাতে ধাবমান হয়েছিল কিনা আমি তা জানি না, কিন্তু আবার কানে লাগল প্রচণ্ড ব্যাঘ্রের গর্জন! এটা সেই বাঘের কিংবা অন্য বাঘের ডাক তা আমি বলতে পারি না, তা বলবার কোনো দরকার নেই; কারণ যে-বাঘই ডাকুক সে মানুষের বন্ধু হতে পারে না!

    অতএব আর কোনো কথা না ভেবেই আমি পাগলের মতন সেই অট্টালিকার একটা ভাঙা জানলা বা দরজার মধ্য দিয়ে গিয়ে পড়লুম নিবিড় এক অন্ধকারের রাজ্যে!

    কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলুম। বুকের কাঁপুনি এমন দ্রুত হয়ে উঠেছিল যে মনে হচ্ছিল এখনি বন্ধ হয়ে যাবে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস। তখন ভালো লাগছিল আমার অন্ধকারকেই, মনে হচ্ছিল এই অন্ধকারের ভিতর থেকে কেউ আমাকে আর আবিষ্কার করতে পারবে না।

    বাঘের ডাক আর শোনা গেল না। চারিদিকে নিদ্রিত নীরবতা। বাতাসের নিঃশ্বাস পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে না এবং শোনা যাচ্ছে না গাছপালাদের কোনো মর্মর উক্তি।

    কিন্তু শিকারিদের আর একটা কথাও মনে পড়ল। ব্যাঘ্র বা সিংহরা অরণ্যের মধ্যে ঘন ঘন গর্জন করে বটে, কিন্তু যখন তারা শিকারের সন্ধান পায় তখন অবলম্বন করে একেবারে মৌনব্রত। এখনি যে বাঘটা ডাকছিল সে কি আমাকে দেখতে পেয়েছে? সে কি মৃত্যুর মতো নীরবে পায়ে পায়ে এগিয়ে আসছে আমার দিকে ধীরে ধীরে? যে পথ দিয়ে আমি এই অট্টালিকায় ঢুকেছি, সেই পথ দিয়ে সেও তো আসতে পারে আমার পিছনে পিছনে?

    যাঁহাতক এই কথা মনে হওয়া তখনি শিউরে উঠল আমার সর্বাঙ্গ। কে জানে নিঃশব্দ পদসঞ্চারে এতক্ষণে সে প্রায় আমার কাছেই এসে হাজির হয়েছে কিনা! কে জানে এখনি সে আমার ঘাড়ের লাফিয়ে পড়বার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছে কিনা! সেই নিরন্ধ্র অন্ধকারের চতুর্দিকেই দেখতে লাগলুম মানুষের রক্তলোলুপ ব্যাঘ্রের ভয়াবহ মূর্তি! আর সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে ভরসা হল না।

    কাছে ছিল একটি বিশেষ শক্তিশালী বৃহৎ টর্চ। একবার অন্ধকারের চারিদিকে বুলিয়ে নিলুম তার আলোক-হস্ত। যদিও কাছাকাছি কোথাও দেখতে পেলুম না কোনো ভয়ঙ্করকে, তবু মনে হল এ স্থান ত্যাগ করাই হচ্ছে বুদ্ধিমানের কার্য।

    টর্চের আলো এদিকে-ওদিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখে বুঝলুম, আমি দাঁড়িয়ে আছি প্রকাণ্ড একটা উঠানের উপরে। উঠানের চতুর্দিকেই বড়ো বড়ো স্তম্ভ বা স্তম্ভের ধ্বংসাবশেষ। এবং উঠান জুড়ে বিরাজ করছে যতসব বড়ো বড়ো আগাছার সভা। খানিক তফাতে দরদালানের একপ্রান্তে দেখলুম, উপর দিকে উঠে গিয়েছে প্রশস্ত সোপান শ্রেণি।

    আবার জাগ্রত হল অতি নিকটেই ব্যাঘ্রের ভৈরব গর্জন— থরথর কেঁপে উঠল যেন বনবাসী রাত্রির একান্ত স্তব্ধতা।

    আমি পাগলের মতন দৌড় দিলুম সেই সোপান শ্রেণি লক্ষ করে।

    বোধ হয় কয়েক ইঞ্চি পুরু ধুলোভরা সিঁড়ির উপর দিয়ে দ্রুত পদচালনা করে আমি উঠে গিয়ে দাঁড়ালুম দ্বিতলের দরদালানে। সামনের দিকে টর্চের আলোকে নিক্ষেপ করে দেখলুম, সেই সুদীর্ঘ দালানটা চলে গিয়েছে আলোকশিখার বাইরে ক্রমবর্ধমান অন্ধকারের দিকে। এ বাড়িখানা কত বড়ো? এখানা কি আগে কোনো রাজবাড়ি ছিল?

    কয়েক পদ অগ্রসর হয়েই ডানদিকে পেলুম বৃহৎ এক দরজা; যদিও সে দরজার একখানা পাল্লাও বর্তমান ছিল না। সেই পথ দিয়ে ভিতরে ঢুকে দেখলুম মস্ত বড়ো একখানা ঘর, ঘরের মধ্যে কয়েক শত লোকের ঠাঁই হতে পারে অনায়াসেই। চারিদিকে ধুলা ও মলিনতার চিহ্ন, কিন্তু পঙ্কের কাজ-করা দেওয়ালের দিকে তাকিয়েই বুঝলুম, এ-বাড়ির যিনি মালিক ছিলেন তিনি নিশ্চয়ই সাধারণ লোক নন। তিনি কে? হয়তো আজ তিনি পরলোকে, কিন্তু তাঁর বংশধররা কোথায়? কেন তাঁরা এত বড়ো একখানা রাজভোগ্য অট্টালিকাকে বিসর্জন করে গিয়েছেন নির্জন অরণ্যের কবলে? এমন চমৎকার প্রাসাদের প্রতি এমন অবহেলার কারণ কী?

    আচম্বিতে দূরে— বহুদূরে সেই রহস্যময় অট্টালিকার কোনো প্রান্ত থেকে জাগ্রত হল একটা অদ্ভুত ধ্বনি! এ ব্যাঘ্রের গর্জন নয়, এ যেন কোনো অমানুষিক কণ্ঠের হা-হা-হা-হা অট্টহাস্যের তরঙ্গ! এই অট্টহাস্যের মধ্যে ফুটে উঠেছে কোনো নিদারুণ ক্ষুধা, যেন কোনো মারাত্মক, হিংস্র ও উৎকট আনন্দ! সঙ্গে সঙ্গে মনে হল যেন বাড়ির উঠানের মধ্য থেকেই ডেকে উঠছে এক হত্যাকারী ব্যাঘ্রের নিষ্ঠুর কণ্ঠস্বর! বাঘ তাহলে মানুষের গন্ধ পেয়ে বাড়ির ভিতরে এসেই ঢুকেছে? কিন্তু অমন বীভৎস স্বরে কে করলে অট্টহাস্য? কেন সে হাসলে? তার হাসির অর্থ কী?

    বাঘের ডাক থামল, কিন্তু সেই বিশ্রী অট্টহাসি আর থামল না। এবং বেশ বুঝলুম, সেই অট্টহাসি যেন রীতিমতো দ্রুতবেগেই আমার কাছে এগিয়ে আসছে— আর এগিয়ে আসছে— আর এগিয়ে আসছে!

    প্রথমটা যেন আচ্ছন্ন হয়ে গেল আমার আপাদমস্তক। মনে হল আমি যেন আর এই পৃথিবীর মধ্যে নেই, অকস্মাৎ এসে পড়েছি কোনো অপার্থিব জগতে!

    ওদিকে সেই অট্টহাস্য এগিয়ে আসছে আর এগিয়ে আসছে! প্রাণপণে নিজেকে সামলে নিলুম। তাড়াতাড়ি আবার চারিদিকে আলোক নিক্ষেপ করে দেখলুম, ঘরের মাঝখানে ছাদের ভার বহন করছে সারি সারি অনেকগুলো স্তম্ভ। একদিকের সর্বশেষ স্তূপটা ভেঙে পড়েছে এবং গৃহতলে পড়ে রয়েছে তার ইষ্টকরাশির স্তূপ। আমি দ্রুতপদে সেই ইষ্টক স্তূপের অন্তরালে গিয়ে আত্মগোপন করবার চেষ্টা করলুম।

    নিজেকে যথাসম্ভব ছোটো করে ইষ্টকরাশির আড়ালে উবু হয়ে বসে আছি। আর শোনা যায় না বাঘের ডাক, কিন্তু সেই ভয়াবহ অট্টহাসির তরঙ্গ যেন অনন্ত! সেই নির্দয় হাস্যধ্বনি আসছে, আসছে, নিশ্চিত রূপেই এগিয়ে আসছে এই ঘরের দিকে। এমন হাসি যে হাসছে তার এতটা উৎকট আনন্দের কারণ কী? এরকম হাসি জীবনে আমি কোনো মানুষের কণ্ঠে শ্রবণ করিনি! তবে কি আমি এমন কোনো স্থানে এসে পড়েছি যেখানকার সঙ্গে পৃথিবীর মানুষের নেই কোনো সম্পর্কই? আছে কি এখানে এমন কোনো বহুযুগের উপবাসী প্রেতাত্মা, আজ হঠাৎ শরীরীর সন্ধান পেয়ে যে-অশরীরীর অতৃপ্ত ক্ষুধার আনন্দ জাগ্রত হয়ে উঠেছে অনেক দিনের পরে!

    আসছে আর আসছে! এগিয়ে আসছে অট্টহাস্য! তারপর আমি শুনতে পেলুম যেন সেই অট্টহাস্যেরই প্রচণ্ড পদশব্দ! ধুপ, ধুপ, ধুপ! এই ভারী ভারী পদশব্দ যেন কোনো মত্তহস্তীর! যেন কোনো অতিকায় বীভৎস দানব দালান কাঁপিয়ে করছে পদচালনা!

    আমার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে এল। সেই অবস্থায় সভয়ে ইষ্টকস্তূপের আড়ালে উঁকি মেরে দ্বারপথ দিয়ে দেখলুম, পূর্ণিমার পরিপূর্ণ চাঁদের আলো এসে উজ্জ্বল করে তুলেছে সেইখানটা।

    আচম্বিতে সেই আলোকসীমার মধ্যে আবির্ভূত হল কল্পনাতীত অপচ্ছায়ার মতন ভীষণ এক মূর্তি। উচ্চতায় সে সাত ফুটের কম হবে না এবং তার মাথা থেকে দেহের উপরে ঝুলে লটপট করছে বিসাক্ত সর্পের মতন কতকগুলো জটা! সেই অমানুষিক মূর্তি প্রবেশ করলে এই ঘরের ভিতরেই। নিবিড় অন্ধকার ভেদ করে দপ দপ করে জ্বলছে তার দুটো অগ্নিময়, বন্য দৃষ্টি। যেন কোনো হতভাগ্যকে অন্বেষণ করছে সেই দুটো নির্মম অগ্নিচক্ষু!

    আমি আবার আরও ছোটো হয়েই যেন ইষ্টক স্তূপের সঙ্গে মিলিয়ে যাবার চেষ্টা করলুম— উঁকি মেরে আর কিছু দেখবার ভরসা হল না।

    এবং সেই অবস্থাতেই শুনলুম কার ভারী ভারী পায়ের শব্দ গৃহতলকে করে তুলছে প্রকম্পিত! কে যেন কাকে খুঁজে খুঁজে বেড়াচ্ছে, কিন্তু তাকে খুঁজে পাচ্ছে না!

    প্রাণের আশা ছেড়ে দিয়ে মনে মনে জপ করছি ইষ্টমন্ত্র! কিন্তু আচম্বিতে আমাকে ইষ্টমন্ত্র ভুলিয়ে কানের খুব কাছেই আবার জাগ্রত হয়ে উঠল ভৈরব অট্টহাস্য! বেশ বুঝলুম সেই অমানুষিক ভয়ঙ্কর একেবারে আমার পাশেই এসে যেন আমাকে দেখতে পেয়েই বিকট উল্লাসে অট্টহাস্য করে উঠছে! আমি প্রায় অজ্ঞানের মতো স্থির হয়ে পড়ে রইলুম— জীবনের সব আশা ছেড়ে দিয়ে।

    তারপরে দুঃস্বপ্ন-লোকের মধ্যেই শুনতে পেলুম সেই নিবিড় অন্ধকারকে মন্থিত করে কার গুরু গুরু পদধ্বনি ধীরে ধীরে আবার চলে যাচ্ছে ঘরের বাইরের দিকে। ক্রমে দূরে মিলিয়ে গেল পায়ের শব্দ, যদিও তখনও শোনা যেতে লাগল আকাশ-ফাটানো বাতাস-কাঁপানো সেই অট্টহাস্যের পর অট্টহাস্যের তরঙ্গ!

    আর আমার সেখানে থাকবার সাহস হল না। ওই বিরাট মূর্তি কারুকে যে খুঁজছে সে-বিষয়ে আর কোনোই সন্দেহ নেই। ও যে মানুষ নয়, তাও অনুমান করতে পারলুম। খুঁজতে খুঁজতে ওই মূর্তি যদি আবার এখানে ফিরে আসে! এবং এবারে এসে সে যদি আমাকে আবিষ্কার করে ফেলে! তাড়াতাড়ি সমস্ত জড়তা ত্যাগ করে দাঁড়িয়ে উঠলুম। নীচে বাঘ আছে? থাকগে বাঘ, বাঘ তো এই মানুষের পৃথিবীর জীব। মরতে হয় তো তার কবলে পড়েই মরব!

    টর্চের আলো জ্বেলে ঘর থেকে বেরিয়ে এলুম উদভ্রান্তের মতো। তারপর বিদ্যুৎবেগে প্রায় পড়ি-পড়ি অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলুম একতলায়! এবং তারপর সেই অভিশপ্ত বাড়ি থেকে বেরিয়ে আবার গিয়ে পড়লুম নিস্তব্ধ জঙ্গলের মধ্যে!

    সেইখান থেকেই শুনতে পেলুম বাঘের গর্জন নয়, আরও জোরে হেসে উঠল কে যেন বিকট অট্টহাসি হা-হা-হা-হা-হা-হা! এটা বুঝতেও দেরি হল না যে, সেই অসম্ভব অট্টহাসি উপর থেকে নেমে আসছে নীচের দিকে! এতক্ষণে সে যেন নিশ্চিতভাবেই আমার সন্ধান পেয়েছে।

    প্রায় বাহ্যজ্ঞান হারিয়ে ছুটতে লাগলুম বনের ভিতর দিয়ে। অট্টহাসি যে তখনও আমার পিছনে পিছনে আসছে, সেটাও শুনতে পেলুম আমি!

    সেইসঙ্গে শুনতে পেলুম আর একটা শব্দ। অদূরে সমস্বরে গান গাইছে একদল লোক। সেই সম্মিলিত কণ্ঠের সংগীতের মধ্যে ফুটে উঠেছে এক জীবন্ত পৃথিবীর আশা আর ভাষা! ছুটতে ছুটতে বন গেল ফুরিয়ে, আবার পেলুম মানুষের পায়ে-চলা প্রকাশ্য পথ।

    পূর্ণিমার জ্যোতির্ম্ময় আশীর্বাদে সমুজ্জ্বল আকাশ এবং পৃথিবী। বনপ্রান্তের পথ দিয়ে চলেছে একসঙ্গে গান গাইতে গাইতে পনেরো-ষোলো জন লোক।

    স্রোতে ডুবন্ত মানুষ যেমন হঠাৎ ভাসন্ত ভেলা পেলে প্রাণপণে তাকে জড়িয়ে ধরে, সেইভাবেই আমি তাদের ভিতর গিয়ে পড়ে একজনকে সজোরে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলুম, ‘বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও!’

    তাদের গান গেল থেমে।

    সবিস্ময়ে সকলে চারিদিক থেকে আমাকে ঘিরে দাঁড়াল, একজন হিন্দি ভাষায় জিজ্ঞাসা করলে, ‘কী হয়েছে বাবুজি, কী হয়েছে?’

    ‘আগে বাঘ, তারপর ভূতে আমাকে তাড়া করেছে! তোমরা মানুষ, আমাকে রক্ষা করো!’

    অল্পক্ষণের স্তব্ধতা…

    তারপর তাদের একজন সুধোলে, ‘কী বলছেন বাবুজি? এ বনে বাঘ আছে জানি, সেইজন্যেই সকলে মিলে চেঁচিয়ে গান গেয়ে বাঘকে জানিয়ে দিতে দিতে চলেছি, দলে আমরা দস্তুরমতো ভারী! কিন্তু ভূত কোথায়? আপনি ভূতের কথা কী বলছেন?’

    খানিকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে নিজের চঞ্চলতা ও অধীরতাকে দমন করলুম। তারপর সংক্ষেপে আজকের সমস্ত কথা বলে গেলুম।

    তখন একজন লোক বললে, ‘ও, আপনি বুঝি নবাব বাহাদুরের বাড়িতে গিয়ে পড়েছিলেন?’

    আমি জিজ্ঞাসা করলুম, ‘নবাব বাহাদুর কে?’

    ‘এই বনের ভেতরে মস্ত একখানা বাড়ি আছে। আপনি কি সেই বাড়িতেই গিয়েছিলেন?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘তাহলে সবই বোঝা যাচ্ছে। ও বাড়িখানা হচ্ছে নবাব বাহাদুরের বাড়ি। প্রায় এক-শো বছর আগে এ-অঞ্চলে নবাব বাহাদুরের মতো ধনী আর শক্তিশালী লোক আর কেউই ছিলেন না। নবাব বাহাদুরের মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর বংশের অধঃপতন আরম্ভ হয়। এখন ওই বংশের শেষ অধিকারী অর্থাভাবে পাগল হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু সেই উন্মত্ত অবস্থাতেও তিনি ওই বাড়ির ভিতরেই বাস করেন। কী করে যে তাঁর দিন চলে আমরা তা জানি না, কিন্তু ওই বাড়ির ভিতরে দৈবগতিকে বাইরের কোনো লোক গেলে তিনি তাকে হিংস্র পশুর মতন আক্রমণ করেন। আপনার খুব বরাত জোর, তাই সেখান থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছেন।’

    আমি বললুম, ‘কিন্তু যে মূর্তি আমি দেখেছি তা পৃথিবীর কোনো নবাব বাহাদুরের বংশধরের মূর্তি নয়। এত বড়ো অমানুষিক মূর্তি জীবনে আমি আর কখনো দেখিনি!’

    যে কথা কইছিল সে বললে, ‘ঠিক তাই। নবাব বাহাদুরের শেষ বংশধরের মূর্তি হচ্ছে সাত ফুটের চেয়েও লম্বা! শুধু দীর্ঘতা নয়, চওড়াতেও সে মূর্তি হচ্ছে আশ্চর্য! রাতের আবছায়াতে সেই উন্মত্তের বিপুল দেহ দেখলে কেউ মানুষের মূর্তি বলে ভাবতেই পারে না।’

    আমি আর কোনো কথা বললুম না। আজকের অদ্ভুত ঘটনা আমার জীবনে হয়ে থাকবে চিরস্মরণীয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকিশোর সাহিত্য সম্ভার – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article ভূত ৭৩ – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }