Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প927 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আংটি রহস্য – ১

    ১

    সদানন্দবাবু তাঁর হাতের কাগজখানা ভাঁজ করে সেন্টার-টেবিলের উপরে সশব্দে নামিয়ে রেখে বললেন, “আর তো পারা যায় না, মশাই! এমনটা যে হবে, এ তো ভাবতেও পারিনি! এসব হচ্ছে কী, অ্যাঁ?”

    সম্ভবত তিনি আশা করেছিলেন যে, এবারে অন্তত কেউ একজন মুখ তুলে তাঁর দিকে তাকাবেন

    কিন্তু আমরা কেউই মুখ তুললুম না। আমি যেমন ‘শরদিন্দু-অমনিবাস’ খুলে বরদার ভৌতিক কাহিনী পড়ছিলুম, তেমনই পড়তে থাকলুম। পাছে আমাদের কারও বিরক্তি ঘটে, তাই টিভির সাউন্ডটাকে একেবারে সবচেয়ে নিচু পর্দায় নামিয়ে দিয়ে কৌশিক যেমন মগ্ন হয়ে এম জি এম-এর কার্টুন-ছবি ‘টম অ্যান্ড জেরি’ দেখছিল তেমন দেখতেই ও মাঝেমধ্যে আপন মনে খুকখুক করে হাসতেই থাকল। অরুণ সান্যাল যেমন মেডিক্যাল জার্নালের নতুন-আসা সংখ্যাটির উপরে চোখ বুলোচ্ছিলেন, তেমন বুলোতেই থাকলেন। এমনকি ভাদুড়িমশাইও ‘ইস্টার্ন কুরিয়ার’-এর সানডে সেকশনের শেষ পৃষ্ঠাটি সামনে রেখে যেমন ওযার্ড জাম্বল-এর সমাধান খুঁজে যাচ্ছিলেন, তেমন খুঁজতেই থাকলেন। কারও মুখে টু শব্দটি নেই, সক্কলে স্পিকটি নট্।

    অথচ সদানন্দবাবুর কথা যে কারও কানে যায়নি, তা নয়। আমার কানে যেমন গিয়েছে, তেমন অন্যদের কানেও নিশ্চয় গিয়ে থাকবে। তবু, মুখ তোলা তো দূরের কথা, কারও যে কিছুমাত্র ভাবান্তর হয়েছে, তাও আমার মনে হল না।

    শেষ পর্যন্ত আমাকেই মুখ তুলতে ও খুলতে হল। বললুম, “কী হল, এত উত্তেজিত হচ্ছেন কেন?” ভাদুড়িমশাইও একেবারে সঙ্গে-সঙ্গেই মুখ খুললেন। বললেন, “টি, আর, ইউ, ই, টি উলটে-পালটে, ইউ, টি, টি, ই, আর! অর্থাৎ আটার। উত্তরটা যে হন্টেড হাউস হবে, সে তো ছবি দেখেই বুঝেছিলুম, কিন্তু দুটো ইউ-এর একটা এতক্ষণ খুঁজে পাচ্ছিলুম না। যাক, সার্কলের মধ্যে সেটাও পাওয়া গেল। …তো সদানন্দবাবু, আপনি যেন কী বলছিলেন?”

    প্রশ্নটার জবাব না দিয়ে সদানন্দবাবু পালটা প্রশ্ন করলেন। “হন্টেড হাউস? সেটা আবার কী? আজকাল যেসব পনেরোতলা বিশতলা বাড়ি হচ্চে, সেই রকমের কোনও হাল-ফ্যাশানের বাড়ি?”

    টিভিতে ইতিমধ্যে ‘টম অ্যান্ড জেরি’ শেষ হয়ে গিয়ে নতুন যে কার্টুন-ছবি শুরু হয়েছিল সেটা বিশেষ পছন্দ না-হওয়ায় সুইচ অফ করে দিয়ে, আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে কৌশিক বলল, “বোস-জেঠু, হাল-ফ্যাশানের বাড়ি নয়, হানাবাড়ি।”

    অরুণ সান্যাল তাঁর হাতের ম্যাগাজিন নামিয়ে রেখে বললেন, “কিছু বোঝা গেল?”

    “তা কেন বুজব না?” সদানন্দবাবু বললেন, “ওই যাতে ভূত-পেত্নি থাকে আর কী! জানলার ছিটকিনি আর দরজার খিল আপনা থেকেই খুলে গিয়ে হঠাৎ-হঠাৎ জানলা-দরজা হাট হয়ে যায়, সারারাত্তির বাচ্চা-ছেলের কান্না শোনা যায়, গরমের দিনেও, কিচুর মদ্যে কিচু না, কোত্থেকে যেন ঠান্ডা বাতাস এসে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে, সে আবার এমন ঠান্ডা যে, হাড় হিম হয়ে যাবার জোগাড় হয়। তা-ই না?”

    “ঠিক তা-ই।”

    শুনে সদানন্দবাবু এক মুহূর্ত চুপ করে রইলেন। তারপর, গলাটা একটু খারে নিয়ে বললেন, “দুগ্‌গা দুগ্‌গা! কী বলব মশাই, আমাদের তারকেশ্বরের ওদিকেও ঠিক এই রকমের একটা বাড়ি ছিল। অনেক কালের পুরনো বাড়ি। আমার ছেলেবেলায় যখন দেকিচি, তখনই তার আলসেয় আর দেয়ালে ইয়াব্বড়-বড় সব বটগাছ গজিয়ে গেচে, ছাত ফুটো হয়ে বর্ষাকালে জলের তোড়ে ঘর ভেসে যাচ্ছে, পলেস্তারা খসে গিয়ে এখেনে-ওখেনে ইট বেরিয়ে পড়েছে। এখনকার কালের ইট নয়, সেই আমলের পাতলা ইট…ওই মানে মান্ধাতার কালের মন্দিরে-টন্দিরে যে-রকম ইট দেখা যায় আর কী।”

    কৌশিক বলল, “তবে তো খুবই পুরনো।

    “পুরনো বলে পুরনো!” সদানন্দবাবু বললেন, “বাবার কাচে শুনিচি এইট্রিনথ্ সেঞ্চুরির শেষের দিকে…ব্যাটল অব প্ল্যাসির বছর পনেরো-কুড়ি পরে তৈরি হয়েছিল। ওদিককার এক জমিদারের বাড়ি। কিন্তু খুব বেশিদিন তিনি নিজেও ও-বাড়িতে থাকতে পারেননি। সময়মতো খাজনা দিতে পারেননি বলে বাড়িসুদ্দু তাঁর জেমিন্ডারি নিলেম হয়ে যায়। কর্নওয়ালিস সায়েব তখনও পার্মানেন্ট সেটেলমেন্টের ব্যবস্থা করেননি তো… অন্তত আমার বাবার কাচে সেই রকমই শুনিচি।”

    “ঠিকই শুনেছেন।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “পার্মানেন্ট সেট্লমেন্ট চালু হয় আরও বছর কয়েক বাদে, সেভেনটিন নাইনটিথ্রিতে।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “তা-ই? তবে তো বলতে হয়, বাবা মোটেই ভুল বলেননি, বাড়িটা যিনি করিয়েছিলেন, নেহাতই বছর কয়েকের মদ্যে তিনি ভিটেছাড়া হয়ে যান। কিন্তু সেটা কোনও কতা নয়, আসল কতা হল বাড়িসুদ্দু ওই জেমিন্ডরি কে কিনে নিল।”

    অরুণ সান্যাল বললেন, “কে কিনল?”

    “কিনল তাঁর নেমকহারাম নায়েব।”

    অরুণ সান্যাল বললেন, “এ তো সিপয় মিউটিনির ষাট-পঁয়ষট্টি বছর আগের কথা!”

    “বিলক্ষণ।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “দেবী সিঙ্গি ছিল কোম্পানির ইজেরাদার। কোম্পানির হয়ে সে-ই জমিদারদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করত। খলিফা লোক, তার উপরে ঘোর অত্যাচারী, খাজনা দিতে দেরি হওয়ার অজুহাতে এদিককার বিস্তর জমিদারিকে সে নিলামে তুলিয়ে ছেড়েছে। সে-সব জমিদারির অনেকগুলি যে সে জলের দরে নিজেই কিনে নেয়নি, তাও নয়। নাইনটিনথ সেঞ্চুরির গোড়ায় সে-ব্যাটা মারা যেতে সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। তা সদানন্দবাবু, আপনাদের এই জমিদারবাবুটির খাজনা বাকি পড়ল কেন? অজন্মা হয়েছিল বলে প্রজারা খাজনা দেয়নি?”

    “তা আমি কী করে বলব?” সদানন্দবাবু বললেন, “সে কি আজকের ব্যাপার? তবে হ্যাঁ, আমার বাবা তাঁর ঠাকুর্দার কাচে ছেলেবেলায় যা শুনেচিলেন, সেটা বলতে পারি।”

    “তিনি কী শুনেছিলেন?”

    “শুনেচিলেন যে, প্রজারা তাদের খাজনা ঠিকই দিয়েছিল, তবে কিনা তার যে-অংশটা কোম্পানির ইজেরাদারের কাচে পৌঁচে দেবার কতা, মাঝপথেই সেটা লুট হয়ে যায়। তো লোকে বলে যে, সব সাজানো ব্যাপার, ওই ব্যাটা নায়েবই তার লোক লাগিয়ে টাকাটা লুট করিয়েছিল। তা যদি না-ই হবে তো জমিদারি নিলেমে ওঠার পর সে ওই চক-মেলানো বাড়িসুদ্দু সেটা কিনল কী করে?”

    “তারপর?”

    “তারপরেই তো আসল ব্যাপার। কিনল ঠিকই, কিন্তু ধম্মে সইল না।”

    “তার মানে?”

    “তার মানে যারা আনগ্রেটফুল লোক, শেষ পর্যন্ত তাদের যা হয়, এই নায়েব-ব্যাটাচ্ছেলেরও তা-ই হল আর কী!”

    গল্পের টানে কৌশিক ইতিমধ্যে টিভির সামনের চেয়ার থেকে উঠে এসে তার মামাবাবু ভাদুড়িমশাইয়ের পাশে বসে পড়েছিল। সেইখান থেকেই সে ঝুঁকে পড়ে বলল, “আঃ, বোস-জেঠু, আপনি বড্ড ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলেন! কী হয়েছিল, সেটা সাফ-সাফ বলবেন তো। তা নয়, ইউ আর অল দ্য টাইম বিটিং অ্যাবাউট দ্য বুশ। কী হয়েছিল? বাজ পড়ে লোকটা মারা গেসল?”

    উত্তরটা তক্ষুনি-তক্ষুনি পাওয়া গেল না। কেননা মালতী ইতিমধ্যে তার কাজের মেয়েটির হাত দিয়ে আর-এক প্রস্ত চা পাঠিয়ে দিয়েছিল। সেন্টার-টেবিলে চায়ের ট্রে নামিয়ে রেখে মেয়েটি বলল, বারোটা বাজে, আজ আর চা দেওয়া হবে না, আধ ঘন্টার মধ্যেই খাবার ডাক পড়বে। “মা ওদিকে টেবিল সাজাচ্ছেন।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “তা হলে আবার এখুনি চা দেবার কী দরকার ছিল? আর তা ছাড়া আমি তো এনাদের মতো চা-খোর নই, মিনিটে-মিনিটে চা খাই না, হিসেব করে যেটুকু খাই তা এরই মধ্যে খাওয়া হয়ে গেচে। এটা খেলে তো বাড়তি হয়ে যাবে।”

    আমি বললুম, “খান, খান, একে তো আজ রবিবার, তার উপরে ভাদুড়িমশাই বাঙ্গালোর থেকে সবে এসেছেন, এবারে নাকি পুরো এক হপ্তা এখানে থাকবেন, তা এটাকে সেলিব্রেট করার জন্যে আপনি যদি এক্সট্রা এক কাপ চা খান তো কিচ্ছু ক্ষতি হবে না।”

    কৌশিকের ধৈর্যের বাঁধ একেবারে ভেঙে পড়বার উপক্রম হয়েছিল। অসহিষ্ণু গলায় বলল, “হচ্ছেটা কী? এখন আবার চা নিয়ে ডিসকাশন শুরু হয়ে গেল! বলি, গপ্পোটা কি শেষ হবে না?”

    ধীরেসুস্থে নিজের পেয়ালায় লিকার ঢেলে নিয়ে তাতে আলতো একটা চুমুক দিয়ে সদানন্দবাবু বললেন, “হবে, বাবা, হবে।”

    “তার তো কোনও লক্ষণ দেখছি না,” কৌশিক বলল, “খালিই তো আগড়ম-বাগড়ম কথা হচ্ছে। তারপর কী হল?”

    ‘সে তো বললুমই।” সদানন্দবাবু বললেন, “বললুম না?”

    “কী বললেন?”

    “ওই যে বললুম, ধম্মে সইল না। বুজলে বাবা, তোমরা এ কালের ছেলেপুলে, ধম্ম মানো না, জাত মানো না, যেখেনে-সেখেনে যা-ইচ্ছে তা-ই খেয়ে বেড়াও, কিন্তু একটা কতা সব সময়ে মনে রাখবে। ধৰ্ম্মের কল বাতাসে নড়ে, এটা কখনো ভুলে যেয়ো না।”

    “ঠিক আছে, ভুলব না।” হাত জোড়-করে কৌশিক বলল, “কিন্তু কলটা এক্ষেত্রে কী ভাবে নড়ল, সেইটে বলুন দিকি। বাজ পড়ে লোকটার মাথা ফাটল?”

    “ঠাট্টা করচ? তা করো।” সদানন্দবাবু আর-একবার তাঁর চায়ের পেয়ালার চুমুক দিয়ে বললেন, “কিন্তু বাবাজীবন, কলটা একবার নড়ে গেলে বাজ তো পড়তেই পারে আর সেটা পড়লে যে দুষ্টু লোকের মাতা ফাটে না, তাও কিন্তু নয়।”

    ভাদুড়িমশাই ইতিমধ্যে চা শেষ করে একটা সিগারেট ধরিয়েছিলেন। একগাল ধোঁয়া ছেড়ে বললেন, “মিরনের কথা বলছেন তো?”

    শুনে সদানন্দবাবু এমন হাঁ করে ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন যে, তাতেই বোঝা গেল, নামটা তিনি আগে কখনও শোনেননি। অরুণ স্যান্যাল বললেন, “মিরজাফর নামটার সঙ্গে পরিচয় আছে তো?”

    “তা কেন থাকবে না?” সদানন্দবাবু হেসে বললেন, “সিরাজুদ্দৌল্লার সেনাপতি ছিল। তবে কিনা ঘোর নেমকহারাম। তা নইলে কখনও সিরাজের চাকরি করেও যুদ্ধের সময় তাঁকে ফাঁসিয়ে দিয়ে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মেলায়?”

    “মিরন তাঁরই ছেলে। বাজ পড়ে কিন্তু সত্যিই মিরনের মাথা ফেটেছিল।”

    “তা-ই?” সদানন্দবাবু বললেন, “কিন্তু আমি মশাই মিরজাফরের ছেলের কতা ভাবছিলুম না। আমি ভাবছিলুম আমাদের ওদিককার অঘোর মণ্ডলের শালা তারিণীর কতা। শুনিচি মুনসেফ-আদালতে মিথ্যে সাক্ষী দিয়ে সে বাড়ি ফিরছিল। সেই সময়ে ঝড় উঠে মাঠের মদ্যিখানে বাজ পড়ে সে মারা যায়।”

    বলে, একটুখানি চুপ করে থেকে, চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে তিনি বললেন, “তবে হ্যাঁ, মিরজাফরের সঙ্গে এই ব্যাপারেও সেই নায়েব-ব্যাটাচ্ছেলের একটা ভাল রকমের মিল রয়েচে দেকচি।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “নায়েবের ছেলেও বজ্রাঘাতে মারা গিয়েছিল?”

    “না, মশাই, নায়েবের ছেলেকে সাপে কামড়েছিল।” সদানন্দবাবু বললেন, “জলের দরে জমিদারি হাতিয়ে নিয়ে, মনিবকে তাঁর বসতবাটী থেকে উচ্ছেদ করে, নায়েব তো তার ছেলে-বউ নিয়ে সেই চক-মেলানো বাড়ির মদ্যে গিয়ে ঢুকল। বাস, তারপর সাত দিনও কাটল না, সাপে কামড়াল তার জোয়ান ছেলেকে। তাও আবার ওই বাড়ির সামনেকার গোলাপ-বাগানের মদ্যেই কামড়াল। গোখরো সাপ। তার ছোবল খাবার পর ছেলেটা ঘন্টা তিনেকের মদ্যেই মুখে গ্যাজলা তুলে চোখ উলটে ফিনিশ।”

    কৌশিক বলল, “আর সেই জমিদারবাবু? তাঁর কী হল? নিজের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়ে তিনি কোথায় গেলেন?”

    সদানন্দবাবু বললেন, “কোতায় গেলেন, তাই নিয়ে নানান জনে নানান কতা বলে। শুনিচি তাঁর ছেলেপুলে ছিল না, থাকবার মদ্যে ছিল শুদু বউ। তা কেউ বলে যে, বউয়ের হাত ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে শেষ বারের মতো পাল্কিতে উঠে তিনি বর্ধমানে চলে যান। সেখেনে বউটিকে তাঁর বাপের বাড়িতে পৌঁচে দিয়ে পাল্কির চার কাহারের পাওনাগন্ডা মিটিয়ে নিজে আবার রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত নাকি হরিদ্বারে গিয়ে পৌঁচেছিলেন। আবার কেউ বলে যে, হরিদ্বারে যাননি, আসলে বর্ধমান থেকে খানিক এগিয়ে দুগাপুরের জঙ্গলে ঢুকে নিজের মাতায় গুলি চালিয়ে তিনি আত্মঘাতী হন। আসলে সে-কালের জমিদার তো, মান-অপমানের জ্ঞানটা ছিল টনটনে। ওই যে নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে হল, এ তো একটা ঘোর অপমানের ব্যাপার, তা সেই অপমানের জ্বালাটা তিনি সহ্য করতে পারেননি।”

    “আর সেই নায়েব?” অরুণ স্যান্যাল জিজ্ঞেস করলেন, “ছেলে মরার পর তার কী হল?”

    “তার যা হল, তাতে আমার কী মনে হয় জানেন?”

    “কী মনে হয়?”

    “মনে হয় যে, জমিদারবাবু সন্নিসি হয়ে হরিদ্বারে যাননি, আসলে তিনি আত্মঘাতীই হয়েছিলেন। তা সে দুগ্‌গাপুরের জঙ্গলেই হোক কি আর-কোতাও হোক।”

    “এ-কথা কেন বলছেন?”

    “এইজন্যে বলচি যে, তার পরে ওই বাড়ির মদ্যে দিনের-পর দিন যা ঘটতে থাকল, তাঁবা-তুলসী হাতে নিয়ে বললেও তা আপনারা বিশ্বেস করবেন না।”

    কৌশিক বলল, “আহা বোস-জেঠু, আপনি বলুনই না, বিশ্বাস করা যায় কি যায় না, সেটা বরং আমাদের উপরেই ছেড়ে দিন।”

    “বেশ, তা হলে বলচি।” সদানন্দবাবু তাঁর গল্পের খেই ধরে ফের শুরু করলেন। “কী ঘটল জানেন? নায়েব-ব্যাটা সেই বাড়ির মদ্যে যেখেনেই যায়, সেখেনেই সেই জমিদারবাবুকে দেকতে পায়। চানের ঘরে গিয়ে দেকতে পায়, জমিদারবাবুটি চোক পাকিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আচেন। চুল আঁচড়াবার জন্যে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালে দ্যাকে, আয়নায় তার নিজের চ্যায়রা নয়, জমিদারবাবুর চ্যায়রা ফুটে উটেচে। ভুরু কোঁচকানো, কটমটে চাউনি, ওঃ, সে এক বীভৎস ব্যাপার।”

    “তা এ-সব তো আপনার শোনা-ব্যাপার বোস-জেঠু। তা-ই না?”

    “তা বই কী। কপাল করে আমি কি ওই এইটিনথ সেঞ্চুরিতে জন্মেছিলুম যে, নিজের চোকে এ-সব দেকতে পাব। তবে কিনা শোনা-কতা হলেই যে সেটা মিথ্যে-কতা হবে তার তো কোনও মানে নেই। “ ভাদুড়িমশাই বললেন, “আর এই শোনা-কথা থেকেই আপনার মনে হল যে, জমিদারবাবুটি আত্মঘাতীই হয়েছিলেন?”

    “বিলক্ষণ।” সদানন্দবাবু বললেন, “আরে মশাই, অপঘাতে মৃত্যু না-হলে কি কারও প্রেতাত্মা এমনি করে কাউকে তাড়া করে ফেরে? চোক পাকিয়ে এইভাবে তাকে ভয় দ্যাকায়? শুদু কি তা-ই? নায়েব-ব্যাটার ঘুমেরও সেই থেকে দফা-রফা। যদি-বা একটু ঝিমুনি ভাব আসে তো হঠাৎ-হঠাৎ চটকা ভেঙে যায়, আর তখনই শুনতে পায়… ওঃ, কী বলব মশাই, আমার তো সে-কথা ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিচ্চে!”

    “কী শুনতে পায়?”

    “শুনতে পায় যে, বাড়ির মদ্যেই কে যেন তেড়ে ব্যায়লা বাজাচ্চে!”

    বললুম, “তারপর?”

    সদানন্দবাবু বললেন, “তারপর আর কী, চান-ঘরে আর আয়নার মদ্যে জমিদারবাবুকে বার কয়েক দেকেই তো নায়েব-ব্যাটার আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেসল, তারপর রাতের-পর-রাত না-ঘুমিয়ে আর ব্যায়লার ক্যা-কোঁ শুনতে-শুনতে অস্থির হয়ে গিয়ে নিজের পরনের কাপড়খানাকে পাগড়ির মতো করে মাতায় জড়িয়ে নিয়ে লোকটা একদিন তল্লাট ছেড়ে পালাল।”

    কৌশিক বলল, “অর্থাৎ পাগল হয়ে গেসল, কেমন?”

    “পাগল সে একা হয়নি, বাবাজীবন।” সদানন্দবাবু বললেন, “বাড়িটা তো খালিই পড়ে ছিল। বছর কয়েক বাদে এক নীলকর সায়েব সেখেনে এসে ঢোকে। জায়গাটা ভাল লেগে যাওয়ায় সে ঠিক করেছিল যে, সেখেনেই থেকে যাবে, কিন্তু তেরাত্তিরও কাটেনি, তার আগেই তাকেও সেখান থেকে পালাতে হয়।”

    “সেও পাগল হয়ে গেসল?”

    “তা আকাশে ভাল করে আলো ফোটার আগেই যদি কেউ তার বাড়ির ভেতর থেকে ডিগবাজি খেতে-খেতে বেরিয়ে আসে, তারপর দেউড়ি পেরিয়ে রাস্তায় নেমে, ধুলোর মদ্যে একবার গড়াগড়ি খেয়ে তাপর উটে ডাঁড়িয়ে নিজেরই দু’হাতে নিজের দু’কান পাকড়ে ধরে পাঁই-পাঁই করে ছুটতে থাকে তো লোকে তাকে পাগল ছাড়া আর কী বলবে?”

    “ওই অবস্থায় তাকে কেউ দেখেছিল?”

    “গাঁয়েরই এক চাষি দেকেছিল। বদনা হাতে সে গেসল মাটের কাজ সারতে। ব্যাপার দেকে সে তো হাঁ। মাটের মদ্যেই বদনা ফেলে রেকে সে এক-ছুটে বাড়িতে ফিরে আসে আর বলতে থাকে, ‘আরে ব্যাটা, তুই হচ্চিস সায়েব, কোতায় অন্যের কান পাকড়ে দুটো থাপ্পর মারবি, তা নয়, নিজেই নিজের কান মলচিস? আরে ছ্যাছ্যা!’ ঘটনার পরে পুরো সাত দিন সে নাকি ওই একটা কতাই বলে গেসল। শেষ পর্যন্ত পাশের গাঁ থেকে ওঝা ডেকে জলপড়া আর তেলপড়ার ব্যবস্তা করে তাকে সারিয়ে তুলতে হয়।”

    অরুণ সান্যাল খুকখুক করে হাসছিলেন। সদানন্দবাবু তাতে খাপ্পা হয়ে বললেন, “আরে মশাই, এতে এত হাসির কী আচে? বিশ্বেস করতে ইচ্ছে না হয় তো করবেন না, কিন্তু নিজের কানে আমি যা শুনিচি, তা তো আমাকে বলতেই হবে। আর হ্যাঁ, এটাও জেনে রাকুন যে, তারপর থেকে আর ও-বাড়িতে কেউ ঢোকেনি।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “বাড়িটার অবস্থা এখন কী রকম?”

    “দুশো বছর ধরে ফাঁকা পড়ে থাকলে যেমন হতে পারে, ঠিক সেইরকম। দরজা-জানলার কাঠ লোপাট, এখেনে-ওখেনে খিলেন ভেঙে পড়েচে, ছাত ফেটে জল পড়চে, বাগানে তিন-ফুট লম্বা ঘাস আর জঙ্গল গজিয়েচে, যেমন বাগান তেমনি বাড়ির মদ্যেও সাপ আর শ্যাল ঘুরে বেড়াচ্চে। কী বলব মশাই, ভূতের কতাটা জানাজানি হয়ে গেচে তো, তাই পার্টিশনের পরে পুব-বাংলা থেকে এত যে লোক এল, তাদেরও কেউ ও-বাড়িতে ঢোকেনি। এমনকি, নকশালরাও না।”

    একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন সদানন্দবাবু। তারপর সোফা থেকে মুখটা একটু সামনে ঝুঁকিয়ে বললেন, “কী ভাবচেন? গিয়ে একবার স্বচক্ষে দেকে আসবেন নাকি?”

    উত্তরটা আর শোনা হল না। কেননা, ঠিক এই সময়েই ডোর-বেল বেজে উঠল। কৌশিক বলল, “এখন আবার কে এল রে বাবা!”

    কাজের মেয়েটি ঘরে ঢুকে বলল, “এক ভদ্দরলোক এয়েচেন। নাম বললেন ফুকন। মামাবাবুর সঙ্গে দেকা করতে চান।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “কী আপদ! আমি যে এখন কলকাতায়, লোকটা তা জানল কী করে?” অরুণ সান্যাল বললেন, “আমিই জানিয়েছি, দাদা। পরশু দিন ফোন করেছিলেন। আপনার বাঙ্গালোরের ফোন নম্বর জানতে চাইলেন। তখন আমিই বলেছি যে, আপনি আপাতত হপ্তা খানেক কলকাতায় থাকবেন। তাই বাঙ্গালোরে ফোন করার দরকার নেই, কিছু যদি জানাতে হয় তো এখানেই জানানো যেতে পারে। তা আজকেই যে ইনি চলে আসবেন তা ভাবিনি।”

    “নিশ্চয়ই খুব জরুরি দরকার।” কাজের মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ভাদুড়িমশাই বললেন, “যাও, নিয়ে এসো।”

    কাজের মেয়েটি বলল, “কতাবাত্তা এট্টু তাড়াতাড়ি সারুন, মামাবাবু। মা ওদিকে ভাত বাড়তে নেগেচেন।”

    ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “মাকে একটু দেরি করে বাড়তে বলো। কথাটা না সেরে তো উঠতে পারছি না।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্টোরিজ – নিল গেইম্যান
    Next Article ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }