Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প927 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আংটি রহস্য – ৩

    ৩

    এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে ফের তাঁর কথার খেই ধরে কেদারেশ্বর বললেন, “বাইরে চলে গেলেও যোগাযোগ তো ছিলই, তার বিয়েতে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়ে সুশান্ত একটা চিঠিও আমাকে ঠিকই পাঠিয়েছিল, কিন্তু একেবারে নতুন চাকরি, ছুটি পাওয়া গেল না, ফলে কলকাতাতেও আসতে পারলুম না, পরের বছর কলকাতায় এসে ওদের এলগিন রোডের বাড়িতে গিয়ে দেখা করি।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “সুশান্তদের জমিদারি তো চলে গিয়েছিল, চলত কীভাবে? চাকরি-বাকরি করত?”

    কেদারেশ্বর বললেন, “চাকরিতে একটা ঢুকেছিল ঠিকই, খুব-একটা খারাপ চাকরিও নয়, অন্তত মাইনেটা নেহাত মন্দ ছিল না, জেঙ্কিনস অ্যান্ড জেঙ্কিনস কোম্পানির জুনিয়ার অফিসার…”

    খাওয়াটা সম্ভবত বেশি হয়ে যাওয়ায় সদানন্দবাবুর ইতিমধ্যে একটু ঝিমুনি এসে গিয়েছিল। কিন্তু ঝট করে সেটা কেটে গেল। সোফার উপরে সিধে হয়ে বসে, কেদারেশ্বরের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে তিনি বললেন, “জেঙ্কিনস অ্যান্ড জেঙ্কিনস? ও তো আমাদের আপিস মশাই! কবে ঢুকেছিলেন?”

    “বিয়ের পরে-পরেই, তার মনে নাইন্টিন ফিফটিতেই ঢুকেছিল।”

    “কী নাম বললেন? সুশান্ত চৌধুরি তো? হ্যাঁ, আমার মনে আচে। ধপধপে ফর্সা ইয়াং ম্যান, ছিপছিপে লম্বা চ্যায়রা, নাকের তলায় তখনকার কালের কায়দায় ছাঁটা সরু গোঁপ। কী, ঠিক বলচি তো?”

    “ঠিকই বলছেন।” কেদারেশ্বর হেসে বললেন, “সিলভিয়ার কথায় এই রকমের গোঁফ রাখতে শুরু করে। এ নিয়ে আমি তখন ওকে ঠাট্টাও নেহাত কম করিনি।

    শেষের দিকের কথায় বিশেষ কান না-দিয়ে সদানন্দবাবু বললেন, “কিন্তু তিনি তো মশাই মাস ছয়েকের মদ্যেই রাগমাগ করে চাকরি ছেড়ে দেন। খোদ জেঙ্কিনস সায়েবের সঙ্গেই নাকি কী নিয়ে খুব কতা-কাটাকাটি হয়েছিল।”

    কেদারেশ্বর বললেন, “এটাও আপনি ঠিকই বলেছেন। আসলে ব্যাপার কী জানেন, জমিদারি থাক আর না-ই থাক, শরীরে তো জমিদার-বংশের রক্ত বইছে, চাকরিতে ওর লেগে থাকার কথা নয়, থাকেওনি, তবে কিনা চাকরি ছাড়ার ফলে যে ওর হাড়ির হাল হয়েছিল, তাও কিন্তু না।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “তার মানে ব্যাঙ্ক-ব্যালান্সটা ভালই ছিল, কেমন?”

    “না, চারুদা।” কেদারেশ্বর বললেন, “ব্যাঙ্কে তেমন কিছু ছিল না। তবে এলগিন রোডের বাড়িটা ছাড়াও কলকাতায় ওদের আরও দু’টো বাড়ি ছিল। একটা রাসেল স্ট্রিটে আর একটা চৌরঙ্গী টেরাসে। তা সেই বাড়ি দুটো থেকে মাস-মাস ভাড়াও নেহাত খারাপ পাওয়া যেত না। তাই বলছিলুম যে, চাকরি ছেড়ে দেওয়ার ফলে যে ও আতান্তরে পড়ে গিয়েছিল, তা কিন্তু ভাববেন না। বসতবাড়িটা তো ছিলই, বাকি রইল সংসার চালানোর খরচা। তা বুঝে-শুনে চলতে পারলে দু-দুটো বাড়ির ভাড়ার টাকাতেই ওর সংসার-খরচা দিব্যি চলে যেতে পারত।”

    “কিন্তু চলেনি, এই তো?”

    “না, চারুদা, চলেনি।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “চলবে কী করে? এ তো আর আমাদের ঘরের বউ নয় যে, মাসান্তে যা এনে দেবে, তা-ই দিয়েই হাসিমুকে সংসার চালিয়ে নেবে। এ হল গে মেম-বউ, ওদের মশাই হাজার বায়নাক্কা, সে-সব কি আর আমরা মেটাতে পারি। আপনার বন্ধুটি ওই যে মেম বিয়ে করলেন, ওই হয়ে গেল গোড়ায় গলদ!”

    কেদারেশ্বর বললেন, “না না, শুধু বউয়ের দোষ দিয়ে কী হবে। আর তা ছাড়া মেম-বউ হলেই যে সে উড়নচন্ডী হবে, তা-ই কি বলা যায়? আমাদের চেনা-জানার মধ্যেও তো আরও দু’-চার জনের মেম-বউ রয়েছে, কিন্তু কই, তারা তো মোটেই বেহিসেবি নয়, স্বামীর যা রোজগার তা-ই দিয়েই তো দিব্যি চালিয়ে নিচ্ছে তারা। আসল কথা, সুশান্ত নিজেও বেহিসেবি কিছু কম ছিল না। তবে হ্যাঁ, তার বউয়ের দোষটা এইখানে যে, কোথায় সে তার স্বামীর বেহিসেবি স্বভাবে একটু রাশ টেনে ধরবে, তা নয়, তাতে সে আরও ইন্ধন জুগিয়ে গেছে।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “এ-সব তুমি জানলে কী করে? তুমি তো কলকাতায় থাকতে না।”

    “বাইরে থাকলে কী হয়, কমন ফ্রেন্ডদের চিঠিতে ঠিকই খবর পেয়ে যেতুম, চারুদা। কখনও শুনতুম, সামারে ওরা লন্ডনে গেছে, মাস দুয়েক সেখানে কাটিয়ে তারপর কন্টিনেন্টের দু’-চারটে দেশ দেখে তবে দেশে ফিরবে। কখনও শুনতুম, পুরনো বেবি-অস্টিনটা বেচে দিয়ে ওরা বিশাল একটা গাড়ি কিনেছে। কখনও শুনতুম, বেঙ্গল ক্লাবে ওরা প্রায়ই পার্টি দিচ্ছে। কখনও শুনতুম, সুশান্তদের বাড়িতে ফি শনিবার ব্রিজের আড্ডা বসছে, সেখানে হাই স্টেকে যে কনট্রাক্ট ব্রিজ চলছে, তাতে এক-এক রাত্তিরে উড়ে যাচ্ছে হাজার-হাজার টাকা।”

    আবার একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন কেদারেশ্বর। তারপর বললেন, “বাইরে থাকতুম বটে, কিন্তু ছুটি কাটাতেই হোক কি আপিসের কাজেই হোক, কলকাতায় কি আর আসতুম না? আসতুম ঠিকই। আর তখনই দেখতুম যে, যে-সব খবর পাচ্ছি, তা নেহাত মিথ্যে নয়, সুশান্তর লাইফ-প্যাটার্নটা সত্যি একেবারে পালটে গেছে।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “তার মানে দু’হাতে টাকা ওড়াচ্চেন, কেমন?”

    “ঠিক তা-ই। একটা ঘটনার কথা বলি, তার থেকেই যা বোঝবার বুঝতে পারবেন। এ হল ওদের বিয়ের বছর তিনেক পরের ঘটনা। তখন আমি লখনউয়ে থাকি। বাবার অসুখের খবর পেয়ে কলকাতায় এসেছিলুম, বাবা একটু সুস্থ হয়ে উঠতে একদিন গিয়ে সুশান্তর সঙ্গে দেখা করি। গিয়ে দেখলুম গ্যারাজে একটা নয়, দু’দুটো গাড়ি। পুরনো বেবি-অস্টিন বেচে দিয়ে যে ঢাউস ডজটা কিনেছিল, তার পাশে এবারে ঝকঝকে একটা ট্রায়াম্‌ফ মে-ফ্লাওয়ারও চোখে পড়ল। বললুম, ‘বাড়িতে তো লোক মাত্র দু’জন। তা হলে আবার একটা নতুন গাড়ি কেনার দরকার হল কেন?’ তাতে বলল, সিলভিয়া নাকি নতুন একটা গাড়ির জন্যে বায়না ধরেছিল, ‘তাই তার এবারকার জন্মদিনে ওটা দিলুম।’ বুঝুন ব্যাপার!”

    “এর আর বোজাবুজির কী আচে!” সদানন্দবাবু বললেন, “তা এর ফলটা কী দাঁড়াল? দশ বছরের মদ্যেই সব ফতুর?”

    কেদারেশ্বর ম্লান হেসে বললেন, “দশ কী বলছেন, পাঁচ বছরও লাগেনি। ফিফটিফাইভে কলকাতায় এসে ফের ওর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলুম। গিয়ে দেখি, বাড়ি অন্ধকার। মাত্র দু’বছর আগেও তো ঝি চাকর মালি ড্রাইভার বাবুর্চি খানসামা দরোয়ান আর ইয়ার-দোস্তদের ভিড়ে বাড়িটা গমগম করতে দেখেছি, এবারে সুশান্তর বাপের আমলের এক বুড়ো চাকর ছাড়া আর কাউকেই দেখতে পাওয়া গেল না। ডাকাডাকি করতে সেই বুড়ো চাকরই একটা লন্ঠন হাতে দরজা খুলে দিয়ে আমাকে উপরে নিয়ে যায়। দোতলায় সুশান্ত তার শোবার ঘরে একটা ইজিচেয়ারে চুপচাপ বসে ছিল। চাকরটি আমাকে সেখানে পৌঁছে দিয়ে, হাতের লন্ঠন মেঝেতে নামিয়ে রেখে ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার পরে সুশান্ত বলল, ‘আয়।” বাড়ি অন্ধকার কেন, জিজ্ঞেস করতে জানা গেল, ইলেকট্রিক কোম্পানি কানেকশন কেটে দিয়েছে।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “তারপর?”

    কেদারেশ্বর বললেন, “তারপর আর কী, আস্তে-আস্তে সবই জানতে পারলুম। বউকে নিয়ে ফরেন-ট্যুর, নতুন গাড়ি, নিত্যি-নিত্যি পার্টি দেওয়া, হাই স্টেকে ব্রিজ খেলা, নতুন-নতুন লোক-লশকর, দামি-দামি আসবাবপত্তর দিয়ে বাড়ি সাজানো, এ-সবের টাকা কোত্থেকে এসেছে, সবই আস্তে-আস্তে পরিষ্কার হয়ে গেল। শুনলুম, রাসেল স্ট্রিট আর চৌরঙ্গী টেরাসের বাড়ি দুটো সে সিলভিয়াকে বিয়ে করার পরে-পরেই বিক্রি করে দেয়। এলগিন রোডের বাড়িটাও শুনলুম এক মারোয়াড়ির কাছে বাঁধা রেখে পাঁচ লাখ টাকা কর্জ করেছিল, এখন আর শোধ করার ক্ষমতা নেই, ফলে এটাও বেহাত হতে চলেছে। তবে কিনা সব থেকে বড় ধাক্কা খাওয়া তখনও তার বাকি ছিল। সেটা এল সিলভিয়ার কাছ থেকে। তার ড্রিম-প্রিন্স যে একেবারে খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে, এটা বুঝবার পরে সে আর দেরি করেনি। তার বাবা ইতিমধ্যে বিলেতে ফিরে গিয়েছিলেন। নিজের জমানো টাকা থেকে টিকিট কেটে সেও বিলেতে চলে যায়। যাবার আগে একটা চিঠি লিখে সুশান্তকে জানিয়ে দিয়ে যায় যে, সে আর ফিরবে না। এ হল ওই ফিফটিফাইভের সেপ্টেম্বরের ঘটনা।”

    এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে কেদারেশ্বর বললেন, “এলগিন রোডের বাড়ি থেকে সেদিন যখন বেরিয়ে আসি, সুশান্ত তখন আমাকে কী বলেছিল জানো চারুদা??”

    “কী বলেছিল?”

    “বলেছিল, আসবাবপত্রের প্রায় সবই তো একে-একে বিক্রি হয়ে গেছে, বলতে গেলে বেচার মতো আর কিছুই বাকি নেই। তারপর খুব ইতস্তত করে জিজ্ঞেস করেছিল যে, কিছু টাকা তাকে আমি ধার দিতে পারি কি না। তা তখন তো আমার কাছে কিছুই ছিল না। পরদিনই ব্যাঙ্কে গিয়ে চেক ভাঙিয়ে আমি ওকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আসি। টাকাটা নিয়ে ও বলে যে, যত তাড়াতাড়ি পারে এটা ও শোধ করে দেবে। তাতে আমি বলি, ‘এ নিয়ে ভাবতে হবে না, কলেজের চার-চারটে বছর তোর ক্লাসমেটদের পিছনে যা খরচা করেছিস, ধরে নে তারই একটা ফ্র্যাকশন তোকে কেউ আজ দিয়ে গেল।’ …দ্যাখো চারুদা, একটা তেজি, ডেভিল-মে-কেয়ার চরিত্রের দাপুটে লোকের চোখ ছলছল করছে, এটা দেখতে আমার ভাল লাগে না; সুশান্তর চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ার আগেই তাই আমি ওর ঘর থেকে বেরিয়ে আসি। ছুটি ফুরিয়ে গিয়েছিল। তবে চেষ্টা করলে যে আর দু’চার দিন বাড়িয়ে নেওয়া য়েত না তা নয়। কিন্তু ট্রেনের টিকিট তো কাটাই ছিল, সেটা ক্যানসেল না-করে সেদিনই দেরাদুন এক্সপ্রেসে আমি লখনউ ফিরে যাই।”

    “তারপর?” অরুণ সান্যাল বললেন, “তারপর আর দেখা হয়নি?”

    কেদারেশ্বর বললেন, “হয়েছিল। তবে অনেক বছর পরে। অনেক বছর মানে পুরো কুড়ি বছর। তখন আমি আমাদের সিমলা অফিসের চার্জ নিয়ে সদ্য সেখানে পৌঁছেছি। এ হল সেভেন্টিফাইভের কথা।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “এইট্টিথ্রিতে ওই সিমলাতেই হোটেল থেকে ওষুধ কিনতে বেরিয়ে আই জাস্ট র‍্যান ইনটু ইউ। দেখেই চিনতে পেরেছিলুম যে, এ আমাদের সেই কেদার-সাব না হয়ে যায় না। তোমার সঙ্গে তোমাদের বাড়িতে গেলুম, শুনলুম যে পরের বছরেই তুমি রিটায়ার করবে। তো সে-কথা থাক, যা বলছিলে বলো।”

    “মজা কী জানো, চারুদা,” কেদারেশ্বর বললেন, “তোমার সঙ্গে যে-ভাবে সেদিন দেখা হল, সেভেন্টিফাইভেও ঠিক ওইভাবেই সুশান্তর সঙ্গে আমার দেখা হয়ে গিয়েছিল। ওই যে বললুম, বদলি হয়ে সদ্য তখন আমি সিমলা অফিসে জয়েন করেছি, ছেলে বিদেশে, বউকে রেখে আসতে হয়েছে কলকাতায়, তার কারণ কোম্পানি বলেছে আপাতত কোয়ার্টার্স দিতে পারবে না, নিজে উদ্যোগী হয়ে আমাকে কারও বাড়িতে পেইং গেস্ট হিসেবে থাকতে হবে কিংবা খুঁজে নিতে হবে একটা ফ্ল্যাট, তবে তার জন্যে যা টাকা লাগে তা তারা মিটিয়ে দেবে। তো সেই অবস্থায় অফিস আওয়ার্সের পরে আমি একদিন ফ্ল্যাট খুঁজে বেড়াচ্ছি, এমন সময় রেল-স্টেশনের কাছাকাছি একটা রাস্তায় একেবারে হঠাৎই ওর সঙ্গে দেখা হয়ে যায়।”

    “ফিফটিফাইভে সেই যে ওদের এলগিন রোডের বাড়িতে গিয়েছিলে, তারপরে এই প্রথম দেখা?”

    ভাদুড়িমশাইয়ের কথার প্রায় প্রতিধ্বনি করে কেদারেশ্বর বললেন, “এই প্রথম দেখা।”

    “এর মধ্যে কোনও যোগাযোগই ছিল না?”

    “না।”

    “এমনকী, ও কোথায় থাকে, কী করে, তাও তুমি জানতে না?”

    “না, চারুদা। কিছুই জানতাম না। কেউ আমাকে কিছু বলতে পর্যন্ত পারেনি। পরের বছরই মানে ফিফটিসিক্সেই ফের কলকাতায় ওর বাড়িতে গিয়েছিলুম, গিয়ে দেখি সেখানে অন্য লোক থাকেন, সুশান্ত কোথায় থাকে জিজ্ঞেস করতে তিনি হাঁ করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন, কিছুই বলতে পারলেন না। কোনও খবর পাওয়া গেল না আমাদের কমন ফ্রেন্ডদের কাছেও। জনে-জনে ঘুরে-ঘুরে একই উত্তর পেলুম: না, কেউ কিছু জানে না। কী যে খারাপ লেগেছিল, সে আমি বলে বোঝাতে পারব না, চারুদা। খালি-খালি একটা কথাই মনে হচ্ছিল। ভাবছিলুম যে, এমনটা হয়? হতে পরে? এ-সব তো সিনেমায় দেখা যায়, গল্প-উপন্যাসেও পড়া যায়। তা-ই বলে কি আমাদের জীবন থেকেও একটা লোক, যাকে আমি এতদিন ধরে দেখছি, যার সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠভাবে মিশেছি, একটা চিহ্ন পর্যন্ত না রেখে সে এইভাবে হারিয়ে যাবে?”

    একটুক্ষণ চুপ করে থেকে কেদারেশ্বর বললেন, “চারুদা, তুমি জিজ্ঞেস করছিলে, ফিফ্টিফাইভ থেকে সেভেন্টিফাইভের মধ্যে আমাদের কোনও যোগাযোগ ছিল কি না। উত্তরে আমি বলেছি, না। এখন আবার বলছি, যোগাযোগ বলতে আমি যা বুঝি, সত্যি সেটা ছিল না। তবে এরই মধ্যে যে একটা ঘটনা ঘটেছিল, তাও ঠিক। এ হল সিমলায় বদলি হওয়ার দু’বছর আগের কথা। আমি তখন লখনউয়ে থাকি। তো সেভেন্টিথ্রিতে সেখানে আমার কাছে একটা মনিঅর্ডার এসে পৌঁছয়। পাঁচ হাজার টাকার মনিঅর্ডার। কুপনে লেখা: ‘টাকাটা পাঠালাম। যেখানে আছি, ভালই আছি। সবকিছু এখন স্পষ্ট দেখতে পাই।—সুশান্ত।’”

    সদানন্দবাবু বললেন, “চোকের কোনও ব্যামো ছিল?”

    হেসে বললুম, “তা তো ছিলই। তবে কী রকমের ব্যামো, সে আপনি বুঝবেন না।”

    ভাদড়িমশাই বললেন, “মনি অর্ডারের ফর্মে তো প্রেরকের ঠিকানা লিখতে হয়। সেটা ছিল?”

    “ছিল।” কেদারেশ্বর বললেন; “কিন্তু সেটা ভুল-ঠিকানা। পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে, ওই ঠিকানায় সুশান্ত চৌধুরি বলে কেউ থাকে না।”

    “কিন্তু পঁচাত্তর সালে সিমলায় তোমাদের দেখাটা যখন হয়েই গেল, তখন তো তার আসল ঠিকানাটা জেনে নিতে পারতে। সেটা নিয়েছিলে? নাকি সেবারেও সে তোমাকে একটা ভুল-ঠিকানা গছিয়ে দিয়ে ফের ছটকে বেরিয়ে যায়?”

    “না, চারুদা, শুধু তখনকার ঠিকানা নয়, তার আগের কুড়ি বছরের মধ্যে ও কখন কোথায় ছিল, কী করছিল, বছরের পর বছর কী কষ্টে ওর কেটেছে, সবই সেদিন সুশান্ত আমাকে খুলে বলে। ওর বাবার আমলের সেই চাকর, গোবিন্দ, যে কিনা ওরই সমবয়সি, একমাত্র সে ছাড়া আর কেউই তখন ওর সঙ্গে ছিল না। কালীঘাট থেকে শ্যামবাজার, কলকাতা শহরের হরেক বস্তিতে ও তখন থেকেছে। গোবিন্দ কাজ করত। খবরের কাগজের হকারি থেকে রেল-স্টেশনের কুলিগিরি, হরেক রকমের কাজ কিন্তু সুশান্তকে ও কোনও কাজ করতে দিত না। সুশান্ত তাই নিয়ে রাগারাগি করলে বলত, এ-সব তোমার কাজ নয়, তুমি পারবে না। তারপর একেবারে হঠাৎই একটা ঘটনা ঘটে। বাহাত্তর সালের মাঝামাঝি এই গোবিন্দের সঙ্গেই শেয়ালদা স্টেশনে একদিন ওদের কমলদিঘি এস্টেটের ম্যানেজারবাবুর দেখা হয়ে যায়। সাতচল্লিশ সালে তিনিও ইস্ট পাকিস্তান থেকে কলকাতায় চলে এসেছিলেন, তারপর অন্য কোনও কাজ জোটাতে না-পেরে শুরু করেছিলেন ওকালতি। সুশান্তের বিপর্যয়ের খবর তিনি রাখতেন, কিন্তু সে যে কোথায় থাকে, তা জানতেন না। গোবিন্দকে তিনি দু’দুটো খবর দেন। এমন খবর, যাতে সুশান্তের জীবন আবার পালটে যায়। প্রথম খবর, কমলদিঘির সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ বাবদে পনেরো লাখ টাকা পাওয়া যাবে। আর দ্বিতীয় খবর, কলকাতায় সুশান্তদের একটা বাজার ছিল, যার কথা সুশান্ত নিজেই জানত না। তা সেই বাজারের মালিকানা নিয়ে যে মামলা চলছিল, তাতে হাইকোর্টের রায় গিয়েছে সুশান্তদের পক্ষেই, আর সেই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ যেহেতু আপিল করেনি, তাই সেই বাবদে সুশান্ত আরও লাখ দশেক টাকা পাবে। বাস, ম্যানেজারবাবুকে সঙ্গে নিয়ে গোবিন্দ তক্ষুনি বেলেঘাটার বস্তিতে ছুটে আসে। সুশান্তর ভাগ্যও আবার পুরোপুরি ঘুরে যায়। …তো পঁচিশ লাখ টাকা হাতে পেয়ে সুশান্ত প্রথমেই কী করে জানেন?

    “জানি না, তবে অনুমান করতে পারি।” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “প্রথমেই মনি অর্ডার করে পাঠিয়ে দেয় সেই পাঁচ হাজার টাকা, ঘোর দুর্দিনে যা তুমি একদিন ওকে দিয়ে এসেছিলে।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “বুজলে হে কৌশিক, তোমরা একালের ছেলেছোকরারা তো সব ব্যাপারেই ঠোঁট ওলটাও, কিন্তু বাবাজীবন, এনার কাচে যা শুনলে তার পরে আর কী বলা যায়! আরে বাবা, নিয়তি বলে একটা কিছু আচেই।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “তা সিমলায় যখন তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে যায়, তখনও কি সে ওই বস্তিতেই থাকত নাকি?”

    “না। তা থাকত না।” কেদারেশ্বর বললেন, “তখন সে গোবিন্দকে নিয়ে সেন্ট্রাল ক্যালকাটার মধ্যবিত্ত পাড়ায় একটা বাড়ি ভাড়া করে উঠে এসেছে। কিন্তু কলকাতায় তখন আর তার মন টিকছিল না। পরের বছর কলকাতায় গিয়ে যখন তালতলা-পাড়ার সেই বাড়িতে তার সঙ্গে দেখা করি, তখন সে বলে যে, বাইরে এমন কোথাও তাকে কিছুটা জায়গা খুঁজে দিতে হবে, যেখানে একটু নিরিবিলি পরিবেশে তার বাদবাকি জীবনটা সে শান্তিতে কাটাতে পারবে। তাতে আমি বলি, আর কটা বছর কাটিয়ে দে, আমি তো এইট্টিফোরের গোড়াতেই রিটায়ার করব, রিটায়ার করে আর কলকাতায় থাকব না, চলে যাব আমাদের ধুবুড়ির বাড়িতে, তা সেখানে শহরের বাইরে যদি কিছু জায়গা কেনার ব্যবস্থা করে দিই তো তুই যাবি? শুনে সুশান্ত বলে, তা হলে তো খুবই ভাল হয়, তোর কাছাকাছি থাকতে পারব, এটাই তো মস্ত অ্যাটট্রাকশন।”

    “তা জমির ব্যবস্থা হল?”

    “হল, তবে ধুবুড়িতে নয়, কোকরাঝাড়ে। সেখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে, বলতে গেলে হাইওয়ের পাশেই, বাংলো প্যাটার্নের বাড়ি আর বাগানসুদ্ধু প্রায় জলের দরে বিঘেখানেক জায়গা পেয়ে গিয়ে আমি আর লোভ সামলাতে পারলুম না। সুশান্তর জন্যে একেবারে সঙ্গে-সঙ্গেই বায়না করে ফেললুম।”

    “কিন্তু সে তো তোমার বাড়ির কাছে হল না।”

    “খুব দূরেও হয়নি। ধুবুড়ি আর কোকরাঝাড় তো পাশাপাশি জেলা। তা ছাড়া, জমি আর বাড়ি যেখানে কেনা হল, সেটা ধুবুড়ির বর্ডারের খুব কাছেই। রোজ না হোক, ফি হপ্তায় অন্তত একবার তো যাওয়াই যায়। দিব্যি কাটিয়ে আসা যায় উইকএন্ডটাও। জমি আর বাড়ির দাম মিটিয়ে কলকাতা থেকে সুশান্ত সেখানে চলে এল। আর ওই যা বলছিলুম, ফি হপ্তায় উইকএন্ড কাটাবার জন্যে হয় আমি ওর ওখানে চলে যেতুম, আর নয়তো ও চলে আসত ব্রহ্মপুত্রের ধারে আমাদের ধুবুড়ির বাড়িতে।”

    দেখলুম ভাদুড়িমশাইয়ের চোখ ফের আবার সরু হয়ে গেছে। সোফা থেকে সামান্য ঝুঁকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “পাস্ট টেনসে কথা বলছ কেন?”

    “বলছি তার কারণ, গত এক মাস ধরে সুশান্তর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।”

    “তার মানে? …পুলিশকে জানিয়েছ?”

    “তা জানিয়েছি, কিন্তু আজ সকালেই ধুবুড়ি থেকে ফোন এসেছিল, তাতে জানলুম, এখনও কোনও কিনারা হয়নি।” এই পর্যন্ত বলেই হঠাৎ ভাদুড়িমশাইয়ের হাত চেপে ধরে কাতর গলায় কেদারেশ্বর বললেন, “চারুদা, তুমি একবার এসো! আমার মন বলছে, আনলেস সামথিং ইজ ডান, খুব খারাপ কিছু হয়ে যেতে পারে। দয়া করে একবার এসো, চারুদা।”

    কৌশিক বলল, “তিনটে বাজতে চলল, এখনই যদি না বেরিয়ে পড়ি তো সাড়ে তিনটের মধ্যে এয়ারপোর্টে পৌঁছতে পারব না।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্টোরিজ – নিল গেইম্যান
    Next Article ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }