Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প927 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আংটি রহস্য – ৯

    ৯

    মিনিট কয়েক একেবারে চুপচাপ কাটল। কেদারেশ্বর সম্ভবত আশা করছেন যে, ভাদুড়িমশাই-ই প্রথম মুখ খুলবেন, কিন্তু ভাদুড়িমশাই কিছুই বললেন না, একেবারে নির্বাক হয়ে তিনি বসে আছেন, আর মাঝে-মাঝে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছেন। আমার আর সদানন্দবাবুর অবস্থাও তথৈবচ। মুখে কুলুপ এঁটে আমরা দুজনে কখনও ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে তাকাচ্ছি, কখনও কেদারেশ্বরের দিকে।

    শেষ পর্যন্ত কেদারেশ্বরই নীরবতা ভঙ্গ করলেন। বললেন, “আমার কাকার সম্পর্কে তখন তুমি কী জানতে চাইছিলে চারুদা?”

    সিগারেটের আগুন একেবারে ফিল্টার পর্যন্ত এসে পৌঁছেছিল। সেটাকে সেন্টার-টেবিলে-রাখা অ্যাশট্রেতে পিষে দিয়ে ভাদুড়িমশাই বললেন, “ও হ্যাঁ, জানতে চাইছিলুম যে, তিনি তাঁর ব্যাবসা এখন আস্তে-আস্তে গুটিয়ে নিচ্ছেন কি না।”

    প্রশ্নটার সরাসরি উত্তর দিলেন না কেদারেশ্বর। সামান্য ইতস্তত করে বললেন, “এই ধরনের কথা তুমি কার কাছে শুনলে?”

    কথাটা আমরা মহিম বরুয়ার কাছে শুনেছি। ভাদুড়িমশাই কিন্তু মহিম বরুয়ার নাম করলেন না। বললেন, “এ কি একটা প্রশ্ন হল কেদার? তোমার জানা উচিত যে, গৌহাটিতে আমার পাকাপোক্ত আপিস না থাক, সেখানে স্ট্রিঙ্গার বেসিসে দু’জন লোক আমার ইনভেস্টিগেশন-কোম্পানির হয়ে কাজ করে। তা ছাড়া, শুধু গৌহাটি কেন, এ রাজ্যের অন্য সব শহরেও আমার বন্ধুবান্ধবের কিছু অভাব নেই। ধরে নাও যে, তাঁদেরই কারও কাছে কথাটা আমি শুনেছি। আমার ধারণা, কথাটা মিথ্যে নয়। এমন ধারণা কেন হল জানো?”

    “কেন হল?”

    “হল তোমার কাছে এই কথাটা শুনে যে, মাস দুয়েক হল, এই ধুবড়িতে তিনি আছেন।”

    “বাঃ, ধুবুড়ি তাঁর হোম-টাউন, এখানেই তিনি জন্মেছেন, এখানেই তিনি বড় হয়েছেন, এখানেই তাঁর বাড়ি, আর এই শহরে তিনি থাকবেন না?”

    “এটা কি খুব জোরালো যুক্তি হল কেদার?” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “হতে পারে এখানেই তাঁর ঘরবাড়ি। কিন্তু মহেশ্বর ফুকনের ব্যাবসাটা তো শুধু ধুবড়িতে নয়, গোটা রাজ্য জুড়ে। এ-রাজ্যের বলতে গেলে প্রায় প্রতিটি জেলা-সদরে আপিস রয়েছে তাঁর। তা এত বড় একটা এলাকা জুড়ে যাঁর ব্যাবসার কাজকর্ম চলছে, তাঁর কি কোথাও… মানে বিশেষ কোনও জায়গায় শিকড় গেড়ে বসে যাওয়া চলে? তুমি বলবে, কেন, একগাদা আপিস যেমন রয়েছে, তেমন ম্যানেজারও তো তিনি কম রাখেননি, কাজকর্ম দেখেশুনো তারাই করবে, তারাই সব দিক সামলাবে, মালিককে ছুটোছুটি করতে হবে কেন। কিন্তু তার উত্তরে আমি বলব, ম্যানেজাররা সত্যিই দেখাশুনো করছে কি না, ঠিকমতো সব দিক সামলাচ্ছে কি না, অন্যের মুখে ঝাল না-খেয়ে স্বচক্ষে সেটা দেখবার জন্যেই মালিককেও ছুটোছুটি করতে হয়। বিশেষ করে তেমন মালিককে, যিনি বিশাল একটা ব্যাবসা ফেঁদে বসে আছেন, অথচ যার উপরে ষোলো-আনা নির্ভর করা যায়, এমন কাউকে… আই মিন নিজের পরিবারের কাউকে… সেই ব্যাবসার মধ্যে টেনে নিতে পারেননি।”

    আবার একটা সিগারেট ধরালেন ভাদুড়িমশাই। জ্বলন্ত দেশলাই-কাঠিটাকে বার দুয়েক বাতাসে নেড়ে নিভিয়ে অ্যাশট্রেতে নিক্ষেপ করলেন। তারপর একমুখ ধোঁয়া ছেড়ে বললেন, “আমার খবর, তোমার কাকা সেটা পারেননি, কিংবা ইচ্ছে করেই টানেননি। ব্যাবসার তাবৎ ঝক্কি তিনি একা সামলাচ্ছেন। তা হলে টানা দু’মাস তিনি ধুবড়িতে বসে আছেন কী করে? থাকা সম্ভব, আনলেস হি হ্যাজ লস্ট ইন্টারেস্ট ইন হিজ বিজনেস অ্যান্ড নাউ ওয়ান্টস টু ওয়াইন্ড আপ দ্য হোল ড্যাড্ থিং? …বলো, সম্ভব?”

    মুখশুদ্ধির কাচের বাটি থেকে দু-একটা এলাচদানা খুঁটে তুলে মুখে ফেলে দিয়ে কেদারেশ্বর বললেন, “তুমি ঠিকই ধরেছ, চারুদা। তবে কাকা যে কাউকে তাঁর ব্যাবসায় টানবার চেষ্টা করেননি, এটা ঠিক নয়। চেষ্টা তিনি খুবই করেছিলেন, কিন্তু শঙ্কর যদি জেদ ধরে বসে থাকে যে, কিছুতেই সে দেশে ফিরবে না, তা হলে আর কী করা যাবে।”

    “শঙ্কর কে?”

    “কাকার একমাত্র ছেলে। খুবই গুণী ছেলে। কিন্তু বাপের সঙ্গে বনে না।”

    “সে কোথায় থাকে?”

    “আগে থাকত নিউ জার্সিতে।” কেদারেশ্বর বললেন, “চাকরি করত। বেল কোম্পানির চাকরিটা যে নেহাত খারাপ ছিল, তাও নয়। কিন্তু, কেন জানি না, সেখানে তার মন বসেনি, চাকরি ছেড়ে দিয়ে স্টেটস থেকে সে ফ্রান্সে চলে যায়। তারপর বছরখানেক বাউন্ডুলের মতো ঘুরে বেরিয়ে ইংল্যান্ডে চলে আসে।”

    “খরচ চলত কী করে?”

    “বেল কোম্পানির চাকরি করে হাতে কিছু জমেছিল, তার থেকে চলে যেত। তারপর তো ইংল্যান্ডে গিয়ে ফের একটা কাজ জুটিয়ে নিল। বিয়েও করেছে ইংল্যান্ডেই। বিয়ের বছর দুয়েক বাদে ফের চাকরি ছেড়ে দেয়। কিন্তু তারপরে আর নতুন কোনও চাকরিতে না-ঢুকে নিজেই আপিস খুলে বসে একটা। সেলস প্রোমোশনের ফার্ম। জনা দশ-বারো লোক সেখানে কাজ করে। লাভও নাকি কম হয় না। ইতিমধ্যে একটা ছেলেও হয়েছে। তারপরে আবার যেমন খাস-লন্ডনে একটা ফ্ল্যাট কিনেছে, তেমন হ্যাম্পস্টেড হিথে একটা বাড়িও কিনেছে শুনলুম।”

    সদানন্দবাবু আর কাঁহাতক চুপ করে বসে থাকবেন। বললেন, “তার মানে বেশ গুচিয়ে বসেচে আর কি। …তা বউটি কি মেমসায়েব?”

    কেদারেশ্বর বললেন, “হ্যাঁ। ফলে আমরা ধরেই নিয়েছিলুম যে, আমার ছেলে যেমন বরাবরের মতন বিদেশেই রয়ে গেল, শঙ্করও তেমনি আর দেশে ফিরবে না।”

    “ধরে নিয়েছিলে বলছ কেন, কেদার?” ভাদুড়িমশাই প্রশ্ন করলেন, “তার মানে এখন আর সেটা ধরে নিচ্ছ না? অর্থাৎ এখন তোমরা ভাবছ যে, সে ফিরতেও পারে?”

    “ফেরাবার জন্যে কাকা অন্তত এখনও সমানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।” কেদারেশ্বর বললেন, “তিনি এখনও হাল ছাড়েননি। আসল কথাটা কী জানো, চারুদা, শঙ্কর যতই গোঁ ধরে থাক, ডোরা… আই মিন শঙ্করের বউটি কিন্তু কাকার পক্ষে। কাকার হয়ে সে-ই এখন তার স্বামীর সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে। দ্য ব্যাটল ইজ নট ওভার। নট ইয়েট। ডোরা যদি শঙ্করকে এখানে ফিরে আসতে আর ফিরে এসে কাকার ব্যাবসার হাল ধরতে রাজি করাতে পারে, তা হলে কিন্তু ছবিটা পালটে যাবে। কাকা সে-ক্ষেত্রে তাঁর ব্যাবসাও নিশ্চয় গুটিয়ে ফেলবেন না। কিন্তু রাজি করাতে পারবে কি না, সেটাই হচ্ছে কথা।”

    “রাজি করাতে পারবে না, এমন সম্ভাবনাও আছে তা হলে?”

    “তা তো আছেই। আমার এই খুড়তুতো ভাইটিকে তো আমি চিনি, কাকার উপরে ওর রাগ এখনও যায়নি।”

    “রাগটা কেন, বলতে কোনও অসুবিধে আছে?” ভাদুড়িমশাই বললেন, “অবিশ্যি এটা যদি তোমাদের এমন কোনও পারিবারিক ব্যাপার হয়, বাইরের লোকের সঙ্গে যা নিয়ে তুমি কথা বলতে চাও না…”

    কথা শেষ হবার আগেই হোহো করে হেসে উঠলেন কেদারেশ্বর। তারপর হাসি থামিয়ে বললেন, ‘পারিবারিক ব্যাপার তো অবশ্যই। কিন্তু তুমি কেন বাইরের লোক হবে? আর এঁরা দুজনে তো তোমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সুতরাং এঁদের সামনেও কোনও কিছু নিয়ে কথা বলতে আমার কিছুমাত্র আপত্তি নেই। কিন্তু শঙ্করের রাগের কারণটা যদি বলতে হয় তো একটু পিছন থেকে আমাকে শুরু করতে হবে।”

    অতঃপর দীর্ঘ সময় নিয়ে মহেশ্বর ফুকন ও তাঁর পুত্র শঙ্করের পারস্পরিক সম্পর্কের যে ইতিবৃত্ত কেদারেশ্বর ফুকন আমাদের সামনে তুলে ধরলেন, ডালপালা ছেঁটে দিয়ে কখনও কেদারেশ্বরের আর কখনও আমার নিজের কথায়, তার শুধু সংক্ষিপ্তসারটুকুই আমি এখানে জানাচ্ছি :

    কেদারেশ্বরের বাবা সুরেশ্বর ফুকন বেঁচে থাকলে তাঁর বয়স এখন হত নিরানব্বই বছর। মহেশ্বর ফুকন তাঁর একমাত্র ভাই; বয়সে তিনি দাদার চেয়ে পনেরো বছরের ছোট। তাঁর বয়স এখন চুরাশি বছর। ধুবুড়ির এই বাড়িটা এঁদের পৈতৃক বাড়ি। এখান থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে সুরেশ্বর কলকাতায় চলে যান। তাঁর কলেজ-জীবন কলকাতায় কাটে। বি.এ. পাশ করে একটি বাঙালি মেয়েকে তিনি বিয়ে করেন ও কলকাতাতেই সংসার পেতে ছোটখাটো একটি ব্যাবসা শুরু করে দেন। দাদা যখন ম্যাট্রিক পাশ করেন, মহেশ্বর তখন এক বছরের শিশু। তাঁর শৈশব ও বাল্যবয়স বাপ-মায়ের কাছে ধুবড়ির এই বাড়িতেই কেটেছে। বাপ-মা বেশি দিন বাঁচেননি। তাঁরা মারা যাওয়ার পরে দূর-সম্পর্কের এক নিঃসন্তান বিধবা পিসিমাকে এসে বালক-মহেশ্বরের দেখাশোনার ভার নিতে হয়। মহেশ্বরের লেখাপড়া বেশি দূর এগোয়নি, কিন্তু তাঁর ব্যাবসাবুদ্ধি ছিল খুবই প্রখর। যৎসামান্য পুঁজি নিয়ে সতেরো-আঠারো বছর বয়সেই তিনি পড়তির বাজারে নানা রকমের রাখি-মাল কিনে রেখে তারপর উঠতির বাজারে সেগুলি চড়া-দামে বিক্রি করার ব্যাবসায় হাত লাগান। পরের কয়েক বছরে সেই ব্যাবসার পরিধি বিশেষ বাড়েনি। কিন্তু ১৯৩৯ সালে বাধে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ। সেই যুদ্ধ যখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রমেই এগিয়ে আসতে থাকে আমাদের ঘরের কাছে, মহেশ্বরের কপাল তখন রাতারাতি খুলে যায়। তাঁর বয়স তখন বছর ছাব্বিশ-সাতাশের বেশি হবে না। সেই সময়ে ফার ইস্টার্ন কমান্ডের এক ইংরেজ ব্রিগেডিয়ারের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে ও ভাব জমিয়ে তিনি রসদ সরবরাহের কয়েকটি বৃহৎ কনট্রাক্‌ট বাগিয়ে নেন। পরের ইতিহাস তাঁর একটানা আর্থিক উন্নতির ইতিহাস। বন্যার মতন প্রবল তোড়ে তাঁর অর্থাগম হতে থাকে। যুদ্ধ যখন শেষ হয়, তখন তিনি কোটিপতি।

    মহেশ্বরের জীবন সেই সময়ে খুব সুশৃঙ্খল ছিল না। চারিত্রিক কিছু শৈথিল্যও হয়তো ঘটে থাকবে। কিন্তু কেদারেশ্বরের কথা যদি সত্য হয়, তা হলে বুঝতে হবে, সেটা নেহাতই সাময়িক বিচ্যুতি, কেননা “ওই বয়সে অত টাকার মালিক হওয়া সত্ত্বেও কাকার মাথা ঘুরে যায়নি।” তা যদি ঘুরত, তা হলে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে সেই বিপুল পরিমাণ অর্থকে ঠিকমতো খাটিয়ে দশ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে অসমের একটা বিশাল এলাকা জুড়ে এত বড় একটা ব্যাবসার জাল তিনি ছড়িয়ে বসতে পারতেন না। ব্যাবসা গড়ে তোলার কাজে মহেশ্বর তখন এতই ব্যস্ত যে, সময়মতন বিয়েটা পর্যন্ত করে উঠতে পারেননি। সেটা করলেন উনিশশো পঞ্চান্ন সালে। মহেশ্বরের বয়স তখন একচল্লিশ। কেদারেশ্বর হেসে বললেন, “কী বলব, আমারই বয়স তখন সাতাশ পেরিয়ে আঠাশ চলছে। তার আগে আমি চাকরিতে ঢুকেছি, বিয়েও করেছি তার বছর দুয়েক আগে। বাবা অসুস্থ ছিলেন বলে ধুবুড়িতে আসতে পারেননি। অসুস্থ অবস্থায় বাবাকে ফেলে মা’ই বা কী করে আসবেন? তিনিও আসতে পারলেন না। কাকাকে যিনি ছেলেবেলা থেকে বড় করে তুলেছেন, সেই বিধবা পিসি তখনও বেঁচে, কিন্তু তাঁরও বয়স তখন আশি পেরিয়ে গেছে, বিয়েবাড়ির ঝক্কি সামলানো তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। মায়ের কথায় আমাকেই তাই আপিস থেকে দিন পনেরোর ছুটির ব্যবস্থা করে বউকে সঙ্গে নিয়ে সমস্ত দিক সামাল দেবার জন্যে ধুবুড়ি চলে আসতে হল। কাকিমা বঙ্গাইগাঁওয়ের মেয়ে। বরযাত্রী হয়ে বিয়ের দিন সেখানে আমি গিয়েছিলুম। বিয়ের আসরে চেলি-পরা কনেকে দেখে মনে হল, বয়স বছর-কুড়ির বেশি হবে না। তার চেয়ে কমও হতে পারে। কাকা ও কাকিমাকে নিয়ে পরদিন বিকেলে বঙ্গাইগাঁও থেকে ধুবুড়িতে ফিরে আসি।”

    কেদারেশ্বরের কাছে আর যা শোনা গেল, তার সবটা না-হলেও কিছুটা আমরা সহজেই অনুমান করে নিতে পারতুম। স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান যেখানে কুড়ি বছরের কি তার চেয়েও বেশি, সেখানে বড়জোর একটা শারীরিক সম্পর্কই হতে পারে, মানসিক সম্পর্ক বড়-একটা হয় না। এক্ষেত্রেও হয়নি। বিয়ের পরে মহেশ্বর তাঁর ব্যবসায়িক কাজকর্ম মাসখানেকের জন্যে মুলতুবি রেখেছিলেন ঠিকই, এবং শিশুরা যেমন নতুন একটা খেলনা পেলে কয়েকটা দিন তা-ই নিয়ে মত্ত থাকে, মহেশ্বরও তেমন তাঁর বালিকা-বধূটিকে নিয়ে কয়েকটা দিন বেশ মসগুল হয়ে ছিলেন, বস্তুত সেই ক’টা দিন তিনি যে বাড়ির থেকে এমনকী কাছেপিঠেও বিশেষ বার হতেন, তাও নয়, কিন্তু তারপরেই তাঁর আচ্ছন্ন ভাবটা কেটে যায়, ধুবুড়ির বাড়িতে আটকে থাকার ফলে তাঁর রাজ্যজোড়া ব্যাবসার যে ক্ষতি হচ্ছে, এটা বুঝবা মাত্র তিনি বউটিকে তাঁর বুড়ি-পিসির কাছে রেখে ধুবুড়ি ছেড়ে ফের বেরিয়ে পড়েন। বিয়ের আগে যেমন ছিল, ব্যাবসাই তখন আবার তাঁর একমাত্র ধ্যানজ্ঞান হয়ে দাঁড়ায়। কী করে তার আয়তন আরও বাড়াবেন এবং একই সঙ্গে বাড়িয়ে যাবেন তাঁর অর্থাগমের পরিমাণ, এ ছাড়া আর অন্য কোনও চিন্তাই তখন তাঁর ছিল না। বাড়িতে ফিরতেন কালেভদ্রে। বিয়ের পরের বছর যখন তাঁর একমাত্র পুত্রটি ভূমিষ্ঠ হয়, তখনও তিনি ফেরেননি; বুড়ি-পিসিটি যখন মারা যান, তখনও তাঁর শ্রাদ্ধের দু’দিন আগেও তিনি ফেরেননি; আবার ব্ল্যাকওয়াটার ফিভারে আক্রান্ত হয়ে তাঁর স্ত্রী যখন মরণাপন্ন, মহেশ্বর তখনও বাইরে-বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। একটা সংসারের তাবৎ প্রয়োজন, এমনকী তার অন্যান্য রকমের শখ-আহ্লাদ ও বিলাস-ব্যসনের চাহিদা পর্যন্ত মেটাবার জন্য যে টাকা দরকার, মাসে-মাসে তার চেয়েও ঢের বেশি টাকা তিনি পাঠিয়ে দিতেন ঠিকই, কিন্তু সেইখানেই শেষ হত তাঁর কর্তব্য, নিজে উপস্থিত থেকে কোনও দায়দায়িত্বই তিনি সামলাতেন না। এ নিয়ে তাঁর স্ত্রী কেন অনুযোগ করেননি, ভাদুড়িমশাইয়ের এই প্রশ্নের উত্তরে কেদারেশ্বর বললেন, অনুযোগ করার সাহসই তাঁর ছিল না। সাহস না-থাকার কারণ হয়তো এই যে, বয়সের ব্যবধানের জন্য স্বামীকে তিনি ভয় পেতেন। “তা ছাড়া,” কেদারেশ্বর বললেন, “কাকিমা ছিলেন খুবই গরিব ঘরের মেয়ে। ছেলেবেলায় বাপ-মা হারিয়ে মামাবাড়িতে অনাদরে-অবহেলায় বড় হয়েছেন; তাই, স্বামীর বয়স যা-ই হোক, মামারা যে তাঁকে এমন একটা বাড়িতে বিয়ে দিয়েছেন, যেখানে খাওয়া-পরার কোনও অভাব নেই, হয়তো তাতেই খুশি ছিলেন তিনি।”

    “ছিলেন-ছিলেন বলছ কেন?” ভাদুড়িমশাই জিজ্ঞেস করলেন, “কাকিমা বেঁচে নেই?”

    “অনেক দিন আগেই গত হয়েছেন।” কেদারেশ্বর বললেন, “ওই যে ব্ল্যাকওয়াটার ফিভারের কথা বললুম, তাতেই তিনি মারা যান। মৃত্যুর সময়েও কাকা তাঁর পাশে ছিলেন না। তাঁর ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির নতুন একটা ব্রাঞ্চ আপিস খুলতে সেদিন তিনি ডিব্রুগড়ে গিয়েছিলেন। বুড়ি-পিসিমা মারা গিয়েছিলেন তার বছর দুয়েক আগেই। ফলে, কাকিমা যেদিন মারা যান, বাড়িতে সেদিন শঙ্কর আর জনা-তিনেক কাজের লোক ছাড়া আর কেউই ছিল না। পাড়া-প্রতিবেশীরাই মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার ও শবদাহের ব্যবস্থা করে। শঙ্করও তাদের সঙ্গে ছিল। শ্মশান থেকে বাড়িতে ফেরার পরে পাড়ারই এক মহিলা এসে শঙ্করকে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান। কাকা তার দু’দিন বাদে ধুবুড়িতে এসে পৌঁছন।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “কাকিমা’র অসুখের খবর তাঁকে দেওয়া হয়েছিল?

    “হয়েছিল।” কেদারেশ্বর বললেন, “কিন্তু অবস্থা যে এত গুরুতর, কাকা বোধহয় তা বুঝতে পারেননি। বুঝলে নিশ্চয় ডিব্রুগড়ের কাজ মুলতুবি রেখে ছুটে আসতেন। কাজ-পাগলা লোক ঠিকই, কিন্তু অমানুষ তো নন।

    “শঙ্করের বয়স তখন কত?”

    “হার্ডলি দশ।” কেদারেশ্বর বললেন, “কাকার বিয়েটা হয়েছিল নাইনটিন ফিফ্‌টিফাইভে। তার পরের বছর ডিসেম্বরে ওর জন্ম। কাকিমা সিক্সটিসিক্সে মারা যান। …হ্যাঁ, দশই হবে। আমার ছেলের থেকে মাত্র এক বছরের বড়।”

    বললুম, “খুবই ইমপ্রেশনেল এজ। ওই বয়েসে মনের উপরে একটা ছাপ পড়ে গেলে সেটা আর কিছুতেই মুছে যেতে চায় না।”

    কেদারেশ্বর বললেন, “আপনি ঠিকই বলেছেন। নয়তো দেখুন, কাকিমাকে যতই অবহেলা করে থাকুন, শঙ্করের ব্যাপারে তো কোনও কর্তব্যেরই কাকা কোনও ত্রুটি রাখেননি।”

    তা যে সত্যিই রাখেননি, কেদারেশ্বরের পরের কথাগুলি থেকেই তা বোঝা গেল। সুরেশ্বর তাঁর কলকাতার ছোটখাটো ব্যাবসাটা ইতিমধ্যে গুটিয়ে ফেলেছিলেন। এবারে ভ্রাতৃবধূর মৃত্যুর খবর পেয়েই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কলকাতা থেকে ধুবড়িতে চলে আসেন। কেদারেশ্বর বাইরে-বাইরে চাকরি করলেও মাঝেমধ্যে কলকাতায় এসে ছুটি কাটাতেন বলে কলকাতার বাসাবাড়িটি তাঁরা ছেড়ে দিয়ে আসেননি। তবে ঠিকই করেছিলেন যে, এখন থেকে তাঁরা ধুবড়িতেই স্থায়ীভাবে থাকবেন। আসলে এটা কেদারেশ্বরের মায়েরই সিদ্ধান্ত, এবং সিদ্ধান্তটা তিনি নিয়েছিলেন শুধুই মা-হারা ছেলে শঙ্করের কথা ভেবে।

    কেদারেশ্বর বললেন, “আমার কাকা মহেশ্বর ফুকনের ডাকনাম ছোটকু। মা তাঁকে ওই নামেই ডাকতেন। কাকিমার শ্রাদ্ধের কাজ মিটে যাবার পর মা তাঁকে ডেকে পাঠিয়ে বলেন, ‘ছোটকু, আমরা তো এখন থেকে এখানেই থাকব। ব্যাবসার কাজে তোকে বাইরে-বাইরে ঘুরতে হয়, তা আমি জানি। কিন্তু নিশ্চিন্ত চিত্তে তুই শঙ্করকে আমার কাছে রেখে যা। ও আমার কাছে থেকে বড় হোক, আমি ওকে ওর মায়ের অভাব বুঝতে দেব না।’ কিন্তু কাকা তাতে রাজি হননি।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “সে কী মশাই, আপনার মা তো খুব ভাল কতাই বলেছিলেন। আপনার কাকা তা হলে রাজি হলেন না কেন?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “সম্ভবত একটা অপরাধবোধে কষ্ট পাচ্ছিলেন তিনি। হয়তো ভাবছিলেন, স্ত্রীকে তিনি কাছে টেনে নেননি, সেটাই খুব বড় রকমের ভুল হয়ে গেছে, এবারে ছেলেটাকেও যদি না নিজের কাছে রাখেন তো সেও দূরে চলে যাবে, বাপ আর ছেলের মধ্যে একটা স্বাভাবিক মায়া-মমতা-শ্রদ্ধা-ভালবাসার সম্পর্কই তা হলে গড়ে উঠবে না।”

    “সত্যিই অমন কথা ভাবছিলেন কি না, তা তো জানার উপায় নেই,” কেদারেশ্বর বললেন, “তবে যা-ই ভেবে থাকুন, তার নিট-ফলটা এই দাঁড়াল যে, শঙ্করকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গুয়াহাটিতে ফিরে গেলেন। শঙ্কর যেতে চায়নি, মাকে আঁকড়ে ধরে সে হাপুস নয়নে কাঁদছিল আর বলছিল যে, সে জ্যাঠাইমার কাছে থাকবে, বাবা আর মা’ও কাকাকে অনেক করে বোঝাবার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কারও কথাই কাকা কানে তুললেন না।”

    কিন্তু গৌহাটিতেই বা কার কাছে শঙ্করকে রাখবেন তিনি? তিনি নিজেই বা সেখানে ক’দিন থাকেন? ব্যাবসার জালে জড়িয়ে গিয়ে তাঁকে তো ক্রমাগত এখানে-ওখানে ছুটোছুটি করে বেড়াতে হয়। শঙ্কর তা হলে লেখাপড়াই বা কার কাছে থেকে করবে? উপায়ান্তর না-দেখে মহেশ্বর শেষ পর্যন্ত শিলংয়ের এক রেসিডেন্সিয়াল মিশনারি স্কুলে তাকে ভর্তি করে দিয়ে আসেন। সেখানকার স্কুল থেকে পাশ করে বেরোবার পর তাকে পাঠিয়ে দেন কলকাতায়। ছেলে যখন শিলংয়ে ছিল, তখন সপ্তাহে অন্তত একবার মহেশ্বর সেখানে যেতেনই, আর কলকাতায় সে যখন হস্টেলে থেকে আই.এ.-বি.এ. পড়ত, তখন বার-বার তাকে দেখতে আসা সম্ভব না-হলেও প্রতিটি ছুটিতে তিনি ছুটে এসেছেন, আর ছুটির ক’টা দিন তাকে নিয়ে কলকাতারই কোনও হোটেলে কাটিয়েছেন কিংবা ঘুরে এসেছেন কোনও স্বাস্থ্যকর জায়গা থেকে। কিন্তু এত করেও শঙ্করের মন পাননি তিনি। না পেয়েছেন তার শ্রদ্ধা, না পেয়েছেন তার ভালবাসা। শঙ্কর মেধাবী ছাত্র ছিল, কিন্তু বি. এ. পরীক্ষায় আশাতিরিক্ত রকমের ভাল ফল করেও সে আর এখানকার এম. এ. ক্লাসে ভর্তি হয়নি। সুযোগ মিলবামাত্র একটা স্কলারশিপ জোগাড় করে সে আমেরিকায় চলে যায়। তারপর পাবলিক রিলেশানস-এর তিন বছরের একটা কোর্স শেষ করে বেল কোম্পানির চাকরি নিয়ে সে নিউ জার্সিতে চলে আসে। তার বয়স তখন মাত্র চব্বিশ।

    বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে বাবার অনুমতি নেয়নি শঙ্কর। বিদেশে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার ব্যাপারেও না। সে যাতে দেশে ফেরে, আর ফিরে এসে সে যাতে তার বাবার ব্যাবসায় যোগ দেয়, তার জন্য মহেশ্বর তাকে বারবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু প্রতি বার একই উত্তর এসেছে; না, সে দেশে ফিরতে চায় না, বাবার ব্যাবসা বুঝে নেবার কোনও ইচ্ছাই তার নেই। মহেশ্বর বুঝতে পারতেন, ছেলে তার উপরে রেগে আছে। কিন্তু কেন যে রেগে আছে, তা তিনি বুঝতে পারতেন না।

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “না বোঝার তো কিছু নেই। মায়ের মৃত্যুর সময়েও বাবা যে উপস্থিত ছিলেন না, শঙ্কর সে-কথা ভুলতে পারেনি। বাবাকে ক্ষমা করতে পারেনি সে।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “করবে কী করে? ব্যাপারটা একবার ভাবুন দিকি। একটা বাচ্চা বই তো নয়। চোকের সামনে তার মা মারা যাচ্চেন, অথচ বাড়িতে তখন গুটিকয় কাজের লোক ছাড়া তার আপ্‌না বলতে কেউ নেই। পাড়ার লোকের সঙ্গে তাকে শ্মশানে যেতে হল, মায়ের মুকে আগুন দিতে হল, ইদিকে বাবার পাত্তা নেই। আর বাবা তখন সেখেনে থাকলেই বা কী হত? তাঁকে তো সে কালেভদ্রে দেকেচে।”

    “বয়েসটাই হচ্চে আসল কথা।” আমি বললুম, “সেদিনকার ওই ঘটনার ছাপটা নিশ্চয় শঙ্করের মন থেকে আজও মুছে যায়নি। আর হ্যাঁ, তখনকার আর-একটা ঘটনার কথাও ভাবুন। মা’কে হারাবার পর ছেলেটা তার জ্যাঠাইমা’কে আঁকড়ে ধরেছিল। কিন্তু জ্যাঠাইমা’র কাছেও বাবা তাকে থাকতে দিলেন না, জোর করে তাকে গৌহাটিতে নিয়ে গেলেন। এটারও একটা ছাপ নিশ্চয় তার মনের মধ্যে থেকে গেছে। বাবার কথা ভাবলেই তার তাই মনে হচ্ছে যে, তিনি হৃদয়হীন, তিনি নিষ্ঠুর মানুষ। মহেশ্বরের ডাকে সে তাই সাড়া দিচ্ছে না।”

    “আচ্ছা কেদার,” ভাদুড়িমশাই বললেন, “একটা কথা তোমাকে জিজ্ঞেস করব?”

    কেদারেশ্বর হেসে বললেন, “কী জিজ্ঞেস করবে, সেটা আমি অনুমান করতে পারছি, চারুদা। কাকা আমাকে কখনও তার বিজনেসে ঢুকতে বলেছেন কি না, এই তো?”

    “হ্যাঁ।”

    “একবার নয়, অনেকবার বলেছেন।” কেদারেশ্বর বললেন, “শঙ্কর যখন কাকাকে কিছু না-জানিয়ে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে চলে যায়, তখনই একবার বলেছিলেন। কিন্তু একে তো আমি জানতুম যে, ওটা রাগের কথা, তার উপরে আবার চাকরিটা আমি তখন ভালই করছি। তা ছাড়া, ব্যাবসা যে একটা খেলা-খেলা ব্যাপার নয়, যারা ব্যাবসা করে তাদের যে ঝঞ্ঝাট নেহাত কম পোয়াতে হয় না, সে তো আমি আমার বাবাকে দেখেই বুঝে গিয়েছিলুম। সঙ্গে-সঙ্গে এটাও বুঝেছিলুম যে, বিজনেস ইজ নট মাই কাপ অব টি। তা নইলে আর ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে হয়ে আমি চাকরিতে ঢুকব কেন?”

    “তার মানে তোমার কাকার কথায় তুমি রাজি হলে না, কেমন?”

    “হব কী করে?” কেদারেশ্বর হেসে বললেন, “আমার শরীরে সম্ভবত পিতৃকুলের চেয়ে মাতৃকুলের রক্তই বেশি। দাদামশাই চাকরি করতেন। দুই মামাকেও দাদামশাই তাঁর কোম্পানির বড়-সায়েবকে ধরে চাকরিতে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। তো আমারও সেই একই ধাত। চাকরি করব, মাসান্তে মাইনে পাব, বছর-বছর ইনক্রিমেন্ট হবে, প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা জমা পড়বে, রিটায়ার করার পর সেই জমানো-টাকার সঙ্গে কিছু গ্র্যাচুইটিও হাতে পেয়ে যাব, বাস, তাতেই আমি খুশি। হোয়ারঅ্যাজ ব্যাবসা হচ্ছে একটা ঘোর আনসার্টেন ব্যাপার, তাতে লাভ হবে না লোকসান হবে, কেউ বলতে পারে? না রে বাবা, ওর মধ্যে আমি নেই। কিন্তু কাকাকে তো আর কথাটা ওইভাবে বলা যায় না। তাই বলেছিলুম যে, তুমি এখনই আমাকে তোমার পার্টনার করে নেবার কথা ভাবছ কেন? তোমার বয়েস এখনও সত্তর হয়নি, স্বাস্থ্যটাও দেখছি ভালই আছে, তাই যেমন চালাচ্ছ, তেমনি করে আরও বছর কয়েক ব্যাবসাটাকে একাই চালিয়ে নাও; কিচ্ছু অসুবিধে হবে না। শঙ্কর তার মধ্যে নিশ্চয় ফিরে আসবে।”

    “তারপর?”

    “তারপর আর কী, বছরের পর বছর যায়, কিন্তু শঙ্কর ফিরে আসে না। ফলে ফি বছরই কাকা আমাকে মাঝেমধ্যে তাগাদা দিতে থাকেন। কখনও চিঠি লিখে, কখনও সামনা-সামনি। আর প্রত্যেক বারই আমি একটা-না-একটা কারণ দেখিয়ে ব্যাপারটাকে ঝুলিয়ে রাখি।”

    “শেষ কবে তাগাদা দিয়েছিলেন?”

    “নাইনটিন এইট্টিফোরে। সেই বছরেই রিটায়ার করে অনুপমাকে নিয়ে বরাবরের মতো কলকাতা ছেড়ে আমি ধুবুড়িতে চলে আসি। বাবা আর মা ইতিমধ্যে মারা গিয়েছিলেন। কাকাও ইতিমধ্যে এই পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের ধারে তৈরি করিয়ে নিয়েছিলেন তাঁর নতুন বাড়ি। একদিন তিনি সেই বাড়িতে আমাকে ডেকে পাঠান। তাঁর সঙ্গে সেদিন অনেকক্ষণ ধরে আমার কথা হয়েছিল। বারবার তিনি সেদিন আমাকে তাঁর পুরো ব্যাবসার ভার নিতে বলেছিলেন। আমি রাজি না-হওয়ায় বলেছিলেন, ‘তুই কি শঙ্কর বঞ্চিত হবে ভেবে রাজি হচ্ছিস না? তো ঠিক আছে, আমার ট্রাক আর টিম্বারের অংশটা আমি তোর নামে লিখে দিচ্ছি, ও দুটো তুই সামলা। টি, জুট আর অন্য সব ব্যাবসা বরং শঙ্করের জন্যে রেখে দিচ্ছি। তবে হ্যাঁ, শঙ্কর যদি আদৌ না-ফেরে, তা হলে সে-সব অংশের মালিকানাও কিন্তু তোরই উপরে বর্তাবে। আমার উইলে অন্তত সেই রকমই আমি লিখে যাব।’ কিন্তু না চারুদা, তাতেও আমি রাজি হইনি।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “সে কী মশাই, আপনার হাফ, আপনার খুড়তুতো ভাইয়ের হাফ, এ তো বেশ ভাল ব্যবস্থাই হয়েছিল, তাও আপনি রাজি হলেন না?”

    “না, হলুম না।” কেদারেশ্বর বললেন, “না-হওয়ার দুটো কারণ। এক নম্বর কারণ হল, সুস্থ শরীরকে ব্যস্ত করতেই আমার আপত্তি। আরে মশাই, কাজই যদি করব, তো যেখানে কাজ করছিলুম, সেই কোম্পানিতেই তো আরও তিন বছর আমি চালিয়ে যেতে পারতুম। কিন্তু তা না করে সাতান্ন বছর বয়সেই যে আর্লি রিটায়ারমেন্টের সুবিধে নিয়ে আমি চাকরি থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলুম, সে তো স্রেফ এইজন্যেই যে, কাজ করতে আমি ভালবাসি না। আমি বিশ্বাস করি যে, দেয়ার ইজ আ টাইম ফর ওযার্ক অ্যান্ড দেয়ার ইজ আ টাইম ফর রেস্ট। কাজ করার সময়ে আমি কাজ করেছি, এখন আমার রেস্ট নেবার পালা, বাস্। তা কাকা কী করলেন? না রেস্টের বারোটা বাজিয়ে দিয়ে একটা রিটায়ার্ড লোকের ঘাড়ে আবার কাজের জোয়াল চাপিয়ে দেবার তাল করলেন। তাতে আমি রাজি হবে কেন?”

    ভাদুড়িমশাই ইতিমধ্যে ফের একটা সিগারেট ধরিয়েছিলেন। একগাল ধোঁয়া ছেড়ে বললেন, “রাজি না-হওয়ার সেটা তো প্রথম কারণ। দ্বিতীয় কারণটা কী?

    কেদারেশ্বর এতক্ষণ হাসতে-হাসতে কথা বলছিলেন। এবারে হঠাৎই একটু গম্ভীর হয়ে গিয়ে বললেন, “সেটা তোমার বোঝা উচিত, চারুদা। ন্যায্যত যা আমি পেতে পারি না, তার অর্ধেকটাই বা আমি নেব কেন? পুরোটাই তো শঙ্করের প্রাপ্য। বেশ তো, তর্কের খাতিরে না হয় ধরে নিচ্ছি যে, যেমন আমার ছেলে বিদেশে থেকে গেছে, শঙ্করও তেমনি বিদেশেই থেকে যাবে, দেশে ফিরে কাকার ব্যাবসার ভার নেবে না। কিন্তু তার বড় তো রয়েছে, তার বছর-দশেকের একটা ছেলেও তো রয়েছে। শঙ্কর যদি না-ও ফেরে তো কাকার পুরো সম্পত্তির মালিকানা তাদের উপরে বর্তায়, তা থেকে তারা বঞ্চিত হবে কেন? আসলে তাদের কথাও আমার মনে ছিল। কাকার কথায় তাই আমি রাজি হইনি।”

    একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন কেদারেশ্বর। গাম্ভীর্যের মেঘটা সরে গিয়ে তাঁর মুখে আবার ইতিমধ্যে হাসির আভাস দেখা দিয়েছিল। বললেন, “আর তা ছাড়া এটাও ভেবে দ্যাখো চারুদা যে, আমার তো কোনও অভাব নেই। ঠাকুর্দা একটা বাড়ি করে রেখে গিয়েছিলেন, সেই বাড়িতেই আমি আর অনুপমা দিব্যি আছি। ব্যাঙ্কে রয়েছে প্রভিডেন্ড ফান্ড আর গ্র্যাচুইটির পুরো টাকা, তার থেকে যে সুদ পাই, তাতেই আমাদের চমৎকার চলে যায়। আর তা ঝাড়া, অনুপমা তার বাপ-মায়ের একমাত্র সন্তান। তাঁদের মৃত্যুর পর অনুপমাও বেশ কয়েক লাখ টাকা পেয়েছে। তা হলে? কাকার কথায় রাজি হলে অবশ্য আরও অনেক অনেক টাকা আমাদের হত। কিন্তু সেই টাকাটা আমাদের কোন কাজে লাগবে? না চারুদা, টাকার জন্যে টাকা করায় আমার বিশ্বাস নেই। কাকার সম্পত্তি ন্যায্যত যাদের পাওয়া উচিত, তারা পেলেই আমরা খুশি হব। …আর হ্যাঁ, তারাই যে পাবে, ডোরাকে নিয়ে শঙ্কর এখানে আসার পরে তেমন একটা সম্ভাবনা যে দেখা দেয়নি, তাও কিন্তু নয়।”

    ভাদুড়িমশাই বলেনল, “শঙ্কর আর ডোরা কি এখন এখানে?”

    “ডোরা এখানেই। তবে শঙ্কর তার ছেলেকে নিয়ে লন্ডনে ফিরে গেছে। ছেলে একটা পাবলিক স্কুলে পড়ে, তাই ক্লাস কামাই করে বেশি দিন এখানে থাকতে পারেনি। তবে যাবার আগে নাকি বলে গেছে যে, উইন্টারের লম্বা ছুটিটা সে এখানে এসে তার দাদুর সঙ্গে কাটিয়ে যাবে।”

    “ওরা কবে এসেছিল?”

    “ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি। কাকাও সেই থেকে এখানেই আছেন। ডোরা এখনও রয়েছে তো। ও যদ্দিন থাকবে, অন্তত তদ্দিন পর্যন্ত ধুবুড়ি ছেড়ে কাকা কোথাও যাবেন বলে মনে হয় না। মায়া-মমতার বন্ধন যে কাকে বলে, কাকা তো অ্যাদ্দিন পর্যন্ত তা জানতেন না, জানবার চেষ্টাও করেননি। কিন্তু এখন বোধহয় সেই বাঁধনে একটু-একটু করে জড়িয়ে যাচ্ছেন। অনুপমা খুব খুশি। সে বলে, মেয়েটা ভাল বলে এটা সম্ভব হল। আমারও সেই একই কথা। সত্যি খুবই লক্ষ্মী মেয়ে। বেশ বুদ্ধিমতীও। পুরো মেমসায়েব তো নয়। মা খাঁটি মেমসায়েব বটে, তবে বাপ ইন্ডিয়ান। হয়তো সেইজন্যেই আমাদের ইন্ডিয়ান ভ্যালুজ বলতে যা বুঝি, ওর রক্তে সেটা কিছু-কিঞ্চিৎ রয়েছে, বুড়োদের নিতান্ত আবর্জনা বলে ভাবে না। তা আজ রাত্তিরে তো আমরা সবাই ও-বাড়িতে যাচ্ছি। তখন নিজের চোখেই সব দেখতে পাবে।”

    ভাদুড়িমশাই কিছু বলতে যাচ্ছিলেন। তার আগে পরেশ এসে ঘরে ঢুকল। বলল, “এখানেই একজন প্যাসেঞ্জার পেয়ে গেলুম স্যার। নলবাড়ি পর্যন্ত যাবেন। কাল ভোরে রওনা হব। তাই রাতটা এখানে থাকব বলে ভাবছি।”

    কেদারেশ্বর বললেন, “বেশ তো, থাক। তবে মা’কে বলে রাখ যে, রাত্তিরে তুই এখানেই খাবি।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্টোরিজ – নিল গেইম্যান
    Next Article ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }