Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প927 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আংটি রহস্য – ১৩

    ১৩

    কাগজের মোড়ক খুলতে যা বেরিয়ে পড়ল, তা একটা আংটিই বটে। আমি একেবারে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলুম, অন্যদের দিকে তাকিয়ে দেখি, তাঁদেরও সেই একই অবস্থা। সদানন্দবাবুর চোখের সাইজ ডবল হয়ে গেছে, কিন্তু মুখে কোনও কথা নেই। ডোরা আর মহেশ্বর ফুকনও একেবারে নিঃশব্দ বসে আছেন। হিপনোটাইজ করলে মানুষের যে প্রস্তরীভূত দশা হয়, তাঁদের অবস্থা প্রায় সেই রকম। একটা পিন পড়লেও তার শব্দ বোধহয় শোনা যাবে

    একমাত্র ভাদুড়িমশাই-ই মিটিমিটি হাসছেন। কথাও প্রথম তাঁরই মুখ থেকে বার হল। বললেন, “কী, এটাই সেই হারিয়ে যাওয়া আংটি তো?”

    হাতের তালুতে রাখা আংটির দিকে একাগ্র চোখে তাকিয়ে চুপ করে বসে ছিলেন ডোরা। লক্ষ্য ভেদ করার সময় অর্জুন যেমন পাখির চক্ষুটিকেই শুধু দেখছিলেন, তেমনি ডোরাও সম্ভবত হাতের আংটি ছাড়া আর কোনও কিছুই দেখছিলেন না। ভাদুড়িমশাইয়ের প্রশ্নে যেন হঠাৎই সম্বিত ফিরল তাঁর। আস্তে-আস্তে মুখ তুলে বললেন, “আমার মায়ের স্মৃতিচিহ্ন। কী করে এটাকে খুঁজে বার করলেন আপনি? তাও এত কম সময়ে? আপনি কি জাদুকর?”

    মহেশ্বর ফুকন বললেন, “তাজ্জব কাণ্ড! ম্যাজিশিয়ানরা যেমন টুপির ভেতর থেকে পায়রা বার করে, আপনিও তো দেখছি সেই রকমের কান্ড করে ছাড়লেন!”

    ডোরা বললেন, “কী করে হল, তা-ই তো ভেবে পাচ্ছি না। কাজের লোকেদের দিয়ে গোটা বাড়ি তন্ত্র-তন্ন করে খোঁজানো হল, তারা কেউই এটা বার করতে পারল না, আর আপনি কিনা যেই না একজন ডিটেকটিভ হিসেবে আপনার খ্যাতি নিয়ে একটু ঠাট্টা করেছি, অমনি এটা বার করে দিলেন!”

    ভাদুড়িমশাই বিনয়ের বিশেষ ধার ধারেন না। হেসে বললেন, “তা হলে এখন মানছেন তো যে, সত্যিই আমি একজন মস্ত বড় ডিটেকটিভ?”

    “মানছি।” ডোরা বললেন, “হাজার বার মানছি। কিন্তু একটা কথা যে বুঝতে পারছি না।

    “কোন কথাটা বুঝতে পারছেন না?”

    “যিনি যত বড় ডিটেকটিভই হোন না কেন,” ডোরা বললেন, “তিনি তো আর ভগবান নন, একটা হারানো জিনিসের সন্ধান করতে হলে তাঁকেও একটু খোঁজাখুঁজি করতে হবে। কিন্তু কই, আপনাকে তো খোঁজাখুঁজি করতে দেখলুম না। অবশ্য তার সময়ই বা আপনি পেলেন কোথায়!”

    ভাদুড়িমশাই আবারও হাসলেন। কিন্তু এবারে আর কোনও কথা বললেন না।

    সময় যে তিনি কখন পেয়েছিলেন, তা একমাত্র আমিই জানি। সময় পেয়েছিলেন কাল রাত বারোটার সময়, সেই যখন তিনি আমাকে তাঁর ডামি হিসেবে বিছানায় শুইয়ে রেখে একতলায় নেমে গিয়েছিলেন। কিন্তু একতলায় তো তিনি ছিলেন মাত্র মিনিট পনরো, তারপরেই তিনি দোতলায় উঠে আসেন। তার মানে তিনি খুব ভালই জানতেন যে, আংটিটাকে একতলার ঠিক কোন জায়গাটিতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তা নইলে নিশ্চয় মাত্র পনরো মিনিটের মধ্যে আংটিটাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে তিনি দোতলায় উঠে আসতে পারতেন না। কিন্তু তারপরেও একটা প্রশ্ন থেকে যায়। সেটা এই যে, কোনখানে সেটা লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তা তিনি জানলেন কী করে। চুরিটা যে কাজের লোকেদেরই কেউ করেছিল, তাতে অবশ্য সন্দেহ নেই। কিন্তু কই, কাল রাত্তির থেকে আজ সকালের মধ্যে তাদের কাউকে জেরা করা তো দূরের কথা, কারও সঙ্গে তাঁকে তো কথাই বলতে দেখিনি।

    মহেশ্বর ফুকন তাঁর পুত্রবধূর কথার খেই ধরে বললেন, “ডোরা তো ভুল বলেনি। খোঁজাখুঁজি করলেন না, অথচ জিনিসটা ঠিকই উদ্ধার করে দিলেন, মিরাল ছাড়া একে আর কী বলব!”

    ডোরা বললেন, “এয়ারলুমটা হারিয়ে কী যে মন-খারাপ হয়ে গিয়েছিল, সে আমি আপনাকে বুঝিয়ে বলতে পারব না। ও, আই’ম সো গ্রেটফুল টু ইউ। এর জন্যে আমি সারা জীবন আপনার কাছে ঋণী রইলুম।”

    লোকে যে-ভাবে মাছি তাড়ায়, বাতাসের মধ্যে সেইভাবে হাত নেড়ে মহেশ্বর বললেন, “দ্যাখো ডোরা, আমি ব্যবসায়ী মানুষ, আমি ঋণী থাকতে ভালবাসি না, তাই মিঃ ভাদুড়িকেই একটা প্রশ্ন করছি।” বলে, ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “যা করেছেন, তার জন্যে কত দেব?…মানে কত দিলে আপনার মনে হবে যে, মহেশ্বর ফুকন লোকটা একেবারে হাড়কেপ্পন নয়?…বলুন বলুন, চুপ করে রইলেন কেন?”

    ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “আপাতত আপনাকে কিছুই দিতে হবে না। আমার ধারণা, এ-বাড়িতে আমার কাজ এখনও শেষ হয়নি। সমস্ত কাজ শেষ হোক, তখন এ নিয়ে কথা বলা যাবে।”

    “তার মানে ওই আধ-পাগলা, অভদ্র, দেড়েল লোকটাকে খুঁজে বার করাকেও আপনি এ-বাড়ির কাজ বলে ধরে নিয়েছেন।”

    “ধরে নিয়ে থাকলে উনি ঠিকই করেছেন, ড্যাড।” ডোরা বললেন, “খুঁজে বার করার কাজটা দাদা ওঁদের করতে বলেছেন, আর দাদা তো এ-বাড়িরই লোক, কাজটাও তাই এ-বাড়িরই হল।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “কথাটা আমি কিন্তু ওভাবে বলিনি।”

    মহেশ্বর ফুকন আবার সেই মাছি তাড়াবার ভঙ্গি করে বললেন, “ঠিক আছে, ঠিক আছে, ডোরা যখন বলছে, তখন ওটাও এ-বাড়ির কাজ বলেই আমি মেনে নিচ্ছি। কিন্তু একই সঙ্গে বলছি যে, আই ডোন্ট লাইক দ্যাট বেয়ার্ডেড বাফুন। তাকে খুঁজে পান আর না-ই পান তাতে আমার কিছু আসে যায় না।”

    কথা বলতে-বলতেই চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়েছিলেন মহেশ্বর ফুকন। ডোরাও তাঁর চেয়ার থেকে এগিয়ে এসে বললেন, “শরীরটা খারাপ লাগছে নাকি?”

    “আরে না,” মহেশ্বর ফুকন বললেন, “শরীর ঠিকই আছে। তোমরা গল্প করো, আমি একটু লাইব্রেরি-ঘরে গিয়ে বসছি। গোটা কয়েক চিঠি এসেছে, তার উত্তর লিখব। কিছু কাগজপত্তরও দেখতে হবে।”

    মহেশ্বরকে চেয়ার থেকে উঠতে দেখেই একজন কাজের লোক তাঁর দিকে ছুটে এসেছিল। ডোরা তাকে বললেন, “বড়বাবুকে লাইব্রেরি-ঘরে নিয়ে যাও। যতক্ষণ না ওঁর কাজ শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ তুমি ওখানেই থাকবে।”

    দরজা পর্যন্ত নিজেও তাঁর শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে-সঙ্গে গেলেন ডোরা। তারপর ফিরে এসে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়ে বললেন, “আমরা কি এখানে বসেই কথাবার্তা বলব, নাকি ড্রয়িংরুমে যাব? “ ভাদুড়িমশাই বললেন, “এখানেই তো দিব্যি আছি, তবে কিনা আর-এক রাউন্ড চা হলে মন্দ হত না।”

    দ্বিতীয় রাউন্ডের চা দেবার প্রস্তুতি বোধ হয় চলছিলই। তাই কাউকে কিছু বলার আগেই কিচেন থেকে একজন বেয়ারা ট্রে-হাতে আমাদের টেবিলে এসে দুধ, চিনি আর চায়ের পাত্র নামিয়ে রাখল। সেই সঙ্গে দুটো রেকাবিতে কিছু বিস্কুট আর কাজুবাদাম। সদানন্দবাবু আগেই বলে দিয়েছিলেন যে, এখন আর তিনি চা খাবেন না। তাই, টি-পট থেকে আমার ও ভাদুড়িমশায়ের পেয়ালায় চা ঢেলে ডোরা বললেন, “আপনারা যে-যার মতো দুধ-চিনি মিশিয়ে নিন।” তারপর নিজের পেয়ালায় চা ঢালতে-ঢালতে অনুচ্চ গলায়, অনেকটা যেন নিজেকে শুনিয়ে, বললেন, “সো হোয়াট হ্যাভ আই বিন ওয়েটিং ফর?”

    ভাদুড়িমশাই বসে আছেন টেবিলের অন্যদিকে। ডোরা যে কিছু বলছে, এটা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ঠিকই, তবে কথাগুলি তাঁর কানে যায়নি। তাই টেবিলের উপরে ঈষৎ ঝুঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “কিছু বলছেন?”

    “ওহ্ নো,” ডোরা লজ্জিত হেসে বললেন, “আমি একটা অন্য কথা ভাবছিলুম। তবে হ্যাঁ, একটু আগে আপনার ক্ষমতার যা প্রমাণ পেয়েছি, তাতে আবার আর-একটা কথাও আমার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে।…মানে ভাবছি যে, আপনি তো আমার মস্ত একটা উপকার করলেন, এখন আর-একটা উপকারের জন্যে আপনাকে রিকোয়েস্ট করা যায় কি না।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “অত কিন্তু-কিন্তু করার দরকার নেই, যা বলতে চান, স্বচ্ছন্দে বলে ফেলুন। কিন্তু তার আগে বরং আমি আপনাকে দু-একটা প্রশ্ন করি, কেমন?”

    “বেশ তো, কী জানতে চান বলুন।”

    “যে আংটিটা খুঁজে বার করেছি, তাতে দেখছি ক্যাপিটাল হরফে এস. এস. খোদাই করা হয়েছে। সাধারণ বুদ্ধিতে বুঝতে পারছি যে, ওর দ্বারা স্টিমশিপও বোঝানো হচ্ছে না, নাটসি গোয়েন্দা-পুলিশ শুটস-স্টাফেলকেও বোঝানো হচ্ছে না। এস. এস. তা হলে কীসের আদ্যক্ষর?”

    প্রশ্ন শুনে হো হো করে হেসে উঠলেন ডোরা। হাসলে এই ভদ্রমহিলার দু’গালে দুটো মস্ত টোল পড়ে, কাল রাত্তির থেকেই এটা দেখছি। হাসতে-হাসতেই বললেন, “জাহাজও নয়, হিটলারের পুলিশও নয়…হাহাহা, হোহোহো…উফ্, পেটে খিল ধরে যাচ্ছে…হাহাহা…”

    সদানন্দবাবু অনেকক্ষণ কিছু বলেননি। এবারে গম্ভীর গলায় বললেন, “ওর দ্বারা সত্যেন সিঙ্গি মশাইয়ের কতা বলা হচ্চে না তো? মানে ওই যাঁকে লর্ড সিঙ্গি বলা হত আর কি।”

    “লর্ড সিঙ্গি? তিনি আবার কে? হাহাহা…হাহাহা…ওহ্ নো…হাহাহা! লর্ড সিঙ্গি!… হোহোহো… আমার মায়ের আংটিতে তাঁর নাম আসবে কোত্থেকে!…হাহাহা…কে তিনি?”

    তাঁর কথায় যে এতটাই হাসির উদ্রেক হতে পারে, সদানন্দবাবু তা ভাবতেও পারেননি। ফলে, ভদ্রলোক একেবারে চুপসে গিয়েছিলেন। আমি বললুম, “লর্ড সিঙ্গি হচ্ছেন সত্যেন্দ্রপ্রসন্ন সিংহ। নামটা আপনি শোনেননি মনে হচ্ছে?”

    “না, শুনিনি।” হাসির দমক সামলে নিয়ে ডোরা বললেন, “কিন্তু তিনি যে-ই হোন, তাঁর নাম এখানে আসছে কেন?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “ওহ্, ফরগেট হিম। এস. এস. তা হলে কী? নামের আদ্যক্ষর?”

    “হ্যাঁ, আমার মায়ের নামের। ইট’স অ্যাজ সিম্পল অ্যাজ দ্যাট।”

    “পুরো নামটা কী?”

    “সিলভিয়া সেনগুপ্ত। এস. এস. আর কিছুই নয়, নাম আর পদবির আদ্যক্ষর। ওটা আমার মায়ের বিয়ের আংটি। বিয়ের দিনে বাবা মা’কে দিয়েছিলেন।”

    সিলভিয়া! নামটা শুনে আমি চমকে উঠেছিলুম। ভাদুড়িমশাইয়ের মুখে কিন্তু কোনও ভাবান্তর দেখতে পেলুম না। এতক্ষণ যে-ভাবে কথা বলছিলেন, সেইরকম ধীর শান্তভাবেই জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার বাবার নাম কী?”

    “বিশ্বনাথ সেনগুপ্ত।” ডোরা বললেন, “কিন্তু বাবার কথা আমার কিছু মনে নেই। থাকা সম্ভবও নয়। আমার বয়স যখন মাত্র দু’বছর, মা’কে ছেড়ে বাবা তখন ইন্ডিয়ায় ফিরে আসেন। ইট ওয়াজ অ্যান আনহ্যাপি ম্যারেজ।”

    “বিয়েটা কবে হয়েছিল আপনি জানেন?”

    “তা জানি। মায়ের কাছে শুনেছি ওঁদের বিয়ে হয়েছিল ফিফটিফোরের সেপ্টেম্বরে।”

    শুনে, প্রথমেই যা আমার মনে হল, তা এই যে, এই সিলভিয়া তা হলে সেই সিলভিয়া হতেই পারেন না। কেননা, কেদারেশ্বরের কাছেই আমরা শুনেছি যে, সুশান্তর স্ত্রী সিলভিয়া কলকাতা ছেড়ে উনিশশো পঞ্চান্ন সালে বিলেতে ফিরে গিয়েছিলেন। বিশ্বনাথ সেনগুপ্তের সঙ্গে এই সিলভিয়ার বিয়ে তার এক বছর আগের ঘটনা।

    একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন ভাদুড়িমশাই। পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বার করলেন। দেশলাইটাও বার করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু করলেন না। ডোরার দিকে তাকিয়ে বলেন, “একটা সিগারেট খেতে পারি?…মানে ধোঁয়ায় আপনার অসুবিধে হবে না তো?”

    “কিচ্ছু অসুবিধে হবে না।” ডোরা বললেন, “স্বচ্ছন্দে খেতে পারেন।” বলে উঠে গিয়ে একজন কাজের লোককে ডেকে বললেন, “ড্রয়িং রুম থেকে এখানে একটা অ্যাশট্রে এনে দাও।”

    অ্যাশট্রে এনে দিয়ে লোকটি ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। ভাদুড়িমশাই সিগারেট ধরালেন। ধোঁয়া ছাড়লেন। তারপর বললেন, “আরও কয়েকটা প্রশ্ন ছিল। কিন্তু করা উচিত হবে কি না, বুঝতে পারছি না।”

    ডোরাকে হঠাৎই যেন একটু গম্ভীর দেখাল। বললেন, “তার মানে প্রশ্নগুলো একটু ব্যক্তিগত ধরনের হবে, এই তো?”

    “হ্যাঁ, আপনি ঠিকই ধরেছেন।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “যদি বলেন, ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনি রাজি নন, তা হলে সেটা বলে দিন, আমিও সে-ক্ষেত্রে প্রসঙ্গ পালটে অন্য কথায় চলে যাব। আর যদি বলেন যে, আমি ছাড়া অন্য কারও সামনে কোনও ব্যাক্তিগত বিষয়ে কিছু জানাতে আপনার আপত্তি আছে, তো ওয়েল অ্যান্ড গুড, আমার এই বন্ধু দুটিকে সে-ক্ষেত্রে…”

    ভাদুড়িমশাইয়ের কথা শেষ হবার আগেই আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছিলুম। সদানন্দবাবুকেও চোখের ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছিলুম যে, তাঁরও এবারে উঠে পড়া দরকার। ইঙ্গিতটা সদানন্দবাবু ধরতে পেরেছিলেন কি না জানি না, সম্ভবত পারেননি, কিন্তু ডোরা ঠিকই ধরেছিলেন। গালে টোল ফেলে আবার তিনি হোহো করে হেসে উঠলেন। তারপর ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে চোখ ফিরিয়ে বললেন, “মিঃ ভাদুড়ি, আপনার সব প্রশ্নেরই আমি উত্তর দেব। কিন্তু তার একটা শর্ত আছে। আংটিটা উদ্ধার করে আপনি আমার কী যে উপকার করেছেন, সে আমি বলতে পারব না। এখন আপনাকে আর-একটা কাজের ভার নিতে হবে। রাজি?”

    “কী কাজ, সেটা করা আমার সাধ্যে কুলোবে কি না, সে-সব না-জেনে না-বুঝে রাজি হই কী করে?” ভাদুড়িমশাই বললেন, “কাজটা কী, সেটা তো আগে শুনি। আর তা ছাড়া, যে-কাজ নিয়ে এখানে এসেছি, সেটা তো শেষ করতে হবে। সেটাকে ফেলে রেখে অন্য কাজে কী করে হাত দেব?” ডোরা বললেন, “ঠিক আছে, হাতের কাজ শেষ করুন, কিন্তু তারপর আমার কাজটা নেবেন তো?”

    কাজটা কী, তা না জেনে ভাদুড়িমশাই কখনও কোনও কেস হাতে নিয়েছেন বলে আমি জানি না। কিন্তু এ-ক্ষেত্রে যে কী হল, একমাত্র ঈশ্বরই তা বলতে পারবেন, খানিকক্ষণ মাথা নিচু করে বসে থেকে, তারপর ডোরার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে তিনি বললেন, “ঠিক আছে, নেব।”

    ডোরাও হেসে বললেন, “থ্যাঙ্কস আ লট। এবারে কী জিজ্ঞেস করবেন, করুন। যতই ব্যক্তিগত হোক, আপনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেব। অবশ্য যদি উত্তর আমার জানা থাকে।”

    “আপনি বলেছেন, আপনার মায়ের বিয়ে হয়েছিল ফিফটিফোরের সেপ্টেম্বরে। আপনি এও বলেছেন যে, বিয়ের এই তারিখটা আপনি আপনার মায়ের কাছে জেনেছেন।”

    “হ্যাঁ,” ডোরা বললেন, “ফিফটিফোর সেপ্টেম্বরে। টু বি প্রিসাইজ, অন্য দ্য টুয়েন্টিয়েথ ডে অভ সেপ্টেম্বর।”

    “এই তারিখটার কথা কি আপনার মা ছাড়া আর কারও কাছে কখনও শুনেছেন আপনি? ফর এগজাম্পল আপনার মায়ের দিকের কোনও আত্মীয়ের কাছে, কি ধরা যাক, বিয়ের সময়ে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তেমন কারও কাছে?”

    “না, আর-কারও কাছে শুনিনি।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “আপনি বলেছেন যে, আপনার বাবা যখন আপনার মা’কে ছেড়ে ভারতবর্ষে ফিরে আসেন, আপনার বয়স তখন মাত্র দু’বছর, তাই বাবার কথা আপনার মনে পড়ে না। না-পড়াই স্বাভাবিক, অত অল্প বয়সের কথা নিতান্তই এক-আধজন মানুষ ছাড়া কারও মনে থাকে না। কিন্তু মায়ের কাছে নিশ্চয়ই তাঁর বিষয়ে কিছু-না-কিছু কখনও-না-কখনও শুনেছেন?”

    “না, তাও শুনিনি।” ডোরা বললেন, “বাবার বিষয়ে যখনই কোনও প্রশ্ন করেছি, মা চুপ করে যেতেন, কিংবা অন্য কোথাও চলে যেতেন। আসলে, আগে যা বলেছি, সেটাই ঠিক কথা। ইট ওয়াজ অ্যান আনহ্যাপি ম্যারেজ। তাই, আমি যদ্দুর বুঝতে পারি, মায়ের মধ্যে একটা তিক্ততা এসে গিয়েছিল। তার ফল যা হয় আর কি, বাবার সম্পর্কে কিছু বলতে তাঁর ভাল লাগত না। তিনি চুপ করে যেতেন।”

    “আপনার বাপ-মায়ের আপনিই একমাত্র সন্তান?”

    “হ্যাঁ, আমার কোনও ভাই-বোন নেই।”

    “আপনার জন্ম কত সালে?” কথাটা বলেই ভাদুড়িমশাই লাজুক হেসে যোগ করলেন, “মানে আমি যে একটু ঘুরিয়ে আপনার বয়েস জানতে চাইছি, তা কিন্তু ভাববেন না। সেটা যে অভদ্রতা, তা আমি জানি।”

    ডোরার চোখমুখ দেখে মনে হল, কথাটা শুনে তিনি একটু বিস্ময়বোধ করছেন। বললেন, “অভদ্রতা হবে কেন? বয়েসের কথা জিজ্ঞেস করলে আজকাল আর কেউ সেটাকে অভদ্রতা বলে ভাবে না। এনিওয়ে, কালই তো যেন কাকে আমি আমার বয়েসের কথা বললুম। ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে, ও-বাড়ির দিদিকে। আমার জন্ম উনিশশো ছাপ্পান্ন সালের এপ্রিল মাসে, বয়েস এখন বিয়াল্লিশ বছর। বিশ্বাস না হয় তো বলুন, পাসপোর্ট এনে ডেট অভ বার্থটা দেখিয়ে দিচ্ছি।”

    বললুম, “আপনার হয়তো মনে নেই, কথাটা কাল আপনি আমাদের সামনেই বলেছিলেন।”

    ডোরা আবার হাসলেন। বললেন, “ঠিক ঠিক, মনে পড়েছে, আপনারাও তখন সেখানে ছিলেন বটে।…তো মিঃ ভাদুড়ি, বয়েসের কথা জিজ্ঞেস করলে কারা চটে জানেন? সত্যি যাদের বিস্তর বয়স হয়েছে, সেই বুড়োবুড়িরা চটে। কিন্তু আমি তো এখনও বুড়ি হইনি, আমার বয়েস মাত্র বিয়াল্লিশ, তা হলে আমি চটব কেন?…নিন, আর কী প্রশ্ন করবেন, করুন।”

    “আর মাত্র দু-একটা প্রশ্ন করব।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “আপনার বাবা বিশ্বনাথ সেনগুপ্ত বিলেতে কী করতেন আপনি জানেন?”

    “তিনি এম.আর.সি.পি. করতে বিলেতে গিয়েছিলেন। সেটা করে সেন্ট টমাস হসপিটালে যোগ দেন। শুনেছি, ডাক্তার হিসেবে তাঁর যথেষ্ট সুনাম ছিল।”

    “এটা আপনি কার কাছে শুনলেন? আপনার মায়ের কাছে?”

    “না, মিঃ ভাদুড়ি, মায়ের কাছে নয়। একটু বড় হয়ে ওঠার পরে মা’কে আমি অনেক বার জিজ্ঞেস করেছি যে, আমার বাবা কেমন মানুষ ছিলেন, তিনি কী করতেন। কিন্তু কোনও বারই উত্তর পাইনি। শি জাস্ট কেল্ট মাম্।”

    “তা হলে কার কাছে শুনলেন? পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে?”

    “না, তাও নয়। পাড়া-প্রতিবেশী যে কাকে বলে, ছেলেবেলায় তা-ই তো আমি জানতুম না।” একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন ডোরা। হাতের মধ্যে মায়ের আংটিটিকে ঈষৎ অন্যমনস্কভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে লাগলেন। তারপর মুখ তুলে বললেন, “জানার কোনও সুযোগই বা পেলুম · কোথায়। আমার বয়েস যখন মাত্র পাঁচ বছর, মা আমাকে তখনই একটা রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে ভর্তি করে দেন। ছুটিছাটাতেও কখনও বাড়ি আসিনি, তার কারণ বাবা আমাদের ছেড়ে আসার পরে বাড়ি বলতে আমাদের কিছু ছিলই না। মা নার্সের কাজ জুটিয়ে নেন। থাকতেন নার্সেস’ ইউনিয়নের একটা হস্টেলে। পাঁচ বছর বয়েস পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে সেই হস্টেলে থেকে তারপর ইস্কুলে ভর্তি হয়ে আমি নিজেও হস্টেলে চলে আসি। ছুটির মধ্যেও হস্টেল খোলা থাকত, ক্রিসমাসের লম্বা ছুটিতে মা দু’-চারটে গিফট নিয়ে এসে সেখানে আমার সঙ্গে খানিকটা সময় কাটিয়ে যেতেন; বাস্, এর মধ্যে পাড়া-প্রতিবেশী কোত্থেকে আসে! না, কোনও আত্মীয় কিংবা প্রতিবেশীর কাছে আমি কিছু শুনিনি। আমার বাবা যে ডাক্তার, তা আমি আর-এক ডাক্তারের কাছে জানতে পারি।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “তিনি কে?”

    “ডঃ আর্থার কেলি। বিখ্যাত পেডিয়াট্রিস্ট। গ্লস্টার রোডে ‘পেডিয়াট্রিক সেন্টার’ বলে ছোটদের যে মস্ত নার্সিং হোম রয়েছে, সেটার তিনিই সিনিয়ার পার্টনার। আমার বাবার পরিচয় তিনিই আমাকে জানান।”

    “তাঁর কাছে আপনি গিয়েছিলেন কেন? ছেলেকে দেখাতে?”

    “ওহ্ নো, তখনও আমার বিয়েই হয়নি। গিয়েছিলুম স্রেফ চাকরির খোঁজে।” ডোরা বললেন, “আপনারা কি জানেন যে, আমি একজন ট্রেন্ড নার্স?”

    কথাটা কেদারেশ্বরের কাছে শুনেছি। যেমন আমি আর সদানন্দবাবু শুনেছি, তেমন ভাদুড়িমশাইও শুনেছেন। কিন্তু ভাদুড়িমশাই ঘাড় না-নেড়ে বললেন, “তা-ই?”

    “হ্যাঁ।” ডোরা বললেন, “স্কুল-লিভিংয়ের পরীক্ষা পাশ করে, মায়ের কথা মতো নার্সিংয়ের ট্রেনিং নিই। মা তো নিজে নার্স ছিলেন, তাই হয়তো ভেবে থাকবেন যে, নার্সিংয়ের পরীক্ষায় টেনেটুনে পাশ করে গেলে তাঁর পেশায় আমাকে ঢুকিয়ে দিতে পারবেন। কিন্তু না, মায়ের কোনও দরকারই আমার হয়নি। ট্রেনিংয়ের শেষ পরীক্ষা দিলুম। তার ফল বেরোতে দেখা গেল, হাজার কয়েক পরীক্ষার্থীর মধ্যে একেবারে প্রথমেই আমার নাম রয়েছে। ফল বেরোবার সঙ্গে-সঙ্গেই এমপ্লয়মেন্ট ব্যুরোতে নাম লেখাই। তার সাত দিনের মধ্যেই সেখান থেকে চিঠি দিয়ে আমাকে জানানো হয় যে, চিঠিখানা আর সেই সঙ্গে আমার বায়ো-ডাটা নিয়ে অবিলম্বে আমি যেন পেডিয়্যাট্রিক সেন্টারে গিয়ে ডঃ আর্থার কেলির সঙ্গে দেখা করি।”

    “তারপর?”

    “পেডিয়্যাট্রিক সেন্টারের রিসেপশানে গিয়ে নিজের নাম বলতেই রিসেপশনিস্ট ভদ্রমহিলা আমাকে ডঃ কেলির কাছে পৌঁছে দেন। ডঃ কেলি আমার সঙ্গে দু’-একটা কথা বলার পরেই বলেন, ‘কাল থেকেই কাজে লেগে যান।’ শুনে ‘থ্যাঙ্কিউ সার’ বলে কাগজপত্র গুছিয়ে নিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছি, এমন সময় ডঃ কেলি বলেন, ‘একটা কথা জিজ্ঞেস করি মিস সেনগুপ্ত। বায়ো-ডাটায় আপনি আপনার বাবার নাম লিখেছেন বিশ্বনাথ সেনগুপ্ত, কিন্তু তাঁর পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি যে ভারতীয়, এ ছাড়া আর কিছুই লেখেননি। কেন?’ এ-কথার কী উত্তর দেব আমি? বিশ্বনাথ সেনগুপ্ত যে ইন্ডিয়ান সিটিজেন, আর তিনি যে আমার বাবা, তা ছাড়া তো এই মানুষটি সম্পর্কে কিছুই আমার জানা নেই। আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে ডঃ কেলি বললেন, ‘কথাটা এইজন্যে জিজ্ঞেস করছি যে, বিশ্বনাথ সেনগুপ্ত নামে একজন ভারতীয় ডাক্তারকে আমি চিনি। ইন ফ্যাক্‌ট, আমার গাইডেন্সেই সে এখানে এসে এম.আর.সি.পি. করেছিল। তা ছাড়া সেন্ট টমাস হসপিটালে সে বেশ কয়েক বছর আমার কলিগ হিসেবে কাজও করেছে। ফ্রম হোয়াট আই হ্যাভ সিন অভ দিস ম্যান, একটা কথা আমি বিনা দ্বিধায় বলব। সেটা এই যে, অমন মেধাবী ছাত্র আমি আর একটিও পাইনি, অমন বিবেকবান আর দক্ষ ডাক্তারও দেখেছি কালেভদ্রে। জাস্ট কয়েকটা সিম্পটম দেখে রোগ নির্ণয়ে তো তার তুলনাই ছিল না। হি ওয়জ নট ওয়ান অভ দোজ ফ্যান্সি ফিজিশিয়ানস, রোগ সারাবার নাম করে যারা দুহাতে শুধুই টাকা কামিয়ে বেড়ায়।’…কী বলব মিঃ ভাদুড়ি, তখনও আমি ভাবতে পারিনি যে, ইনি আমার বাবার কথা বলছেন। ভেবেছিলুম যে, একই নামের দুজন মানুষ তো থাকতেই পারে, ইনি নিশ্চয় অন্য-কোনও বিশ্বনাথ সেনগুপ্ত হবেন।

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “কেন, নাম যখন এক, তখন ডঃ কেলি যাঁকে বিবেকবান দক্ষ ডাক্তার বলে মনে রেখেছেন, সেই বিশ্বনাথ সেনগুপ্তই যে আপনার বাবা, তা আপনি ভাবতে পারেননি কেন?”

    যেন ফুঁসে উঠলেন ডোরা। বললেন, “কী করে পারব? আমার বাবা একজন দক্ষ ডাক্তার ছিলেন কি না, তা জানি না। বাট হাউ ক্যান ইউ কল হিম কনসেনশাস? কাকে আপনি বিবেকবান বলবেন? যে-লোক নিজের স্ত্রী আর শিশুকন্যাকে ত্যাগ করে চলে যায়, তাকে? আমার মায়ের কী অপরাধ, সে সম্পর্কে কোনও ধারণাই আমার নেই। কী জানেন, আমার মা তো, তাই ভাবতে খুবই কষ্ট হয়, তবু মাঝে-মাঝে ভাবি যে, কী দোষ তিনি করেছিলেন? ওয়াজ শি আ ব্যাড ওয়াইফ? ওয়াজ শি গ্রিডি? অর ইভন আনফেইথফুল? ভাবি, কিন্তু কোনও উত্তর পাই না। আর আমি? আমি কী দোষ করলুম? আমার কী অপরাধ? আমার কথা আমার বাবা একবার ভাবলেন না কেন? কোনও বিবেকবান মানুষ তাঁর সন্তানের কথা না-ভেবে পারে? না মিঃ ভাদুড়ি, খুব স্বাভাবিকভাবেই আমার মনে হয়েছিল যে, ডঃ কেলি যাঁর কথা বলছেন, তিনি অন্য মানুষ, তিনি আমার বাবা নন।”

    মুখ নিচু করে খানিকক্ষণ একেবারে ঝিম মেরে বসে রইলেন ডোরা। মিনিট দুই-তিন বাদে যখন আবার মুখ তুলে আমাদের দিকে তাকালেন, তখন তাঁর মুখচোখের চেহারা একেবারে পালটে গেছে। মনে হল, এই হাসিখুশি ভদ্রমহিলার ভিতরে-ভিতরে এমন নিদারুণ একটা সংঘাত চলেছে, যার ধাক্কা তিনি সামলে উঠতে পারছে না। তিনি ভেঙেচুরে যাচ্ছেন।

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “ডঃ কেলি কি আরও কিছু বলেছিলেন আপনাকে?”

    “হ্যাঁ, বলেছিলেন।” দাঁত দিয়ে নীচের ঠোঁট কামড়ে ধরে চাপা গলায় ডোরা বললেন, “যা বলেছিলেন, তাতেই আমি একটা মারাত্মক রকমের ধাক্কা খেয়ে যাই। বুঝতে পারি, এতক্ষণ ধরে যা কিছু আমি ভেবেছি, সব ভুল ভেবেছি! বুঝতে পারি…বুঝতে পারি…ওহ্ মাই গড…..”

    কথাটা শেষ করতে পারলেন না ডোরা। একেবারে হঠাৎই দুহাতে মুখ ঢেকে ফেললেন।

    গোটা ঘর স্তব্ধ। ঘরের মধ্যে এয়ার-কন্ডিশনার চলছে। তার মৃদু গুঞ্জন ছাড়া আর কোথাও কোনও শব্দ নেই। ইলেট্রনিক দেওয়াল-ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটাটা নিঃশব্দে ঘুরে চলেছে। আমরা কেউই কোনও কথা বলছি না। বুকের উপরে চেপে বসা সেই নৈঃশব্দ্যকে ভেঙে দিয়ে ভাদুড়িমশাই বললেন, “কী বললেন ডঃ কেলি?”

    মুখের উপর থেকে হাত সরিয়ে নিলেন ডোরা। বললেন, “ডঃ কেলি বললেন,

    ‘বিশ্বনাথ ওয়জ অ্যান একসেপশনালি ট্যালেন্টেড ফিজিশিয়ান। বাট দেন অ্যাজ আ ম্যান হি ওয়জ এক্সট্রিমলি মুডি অ্যান্ড ইমপালসিভ। অ্যাজ অলসো আনপ্রেডিক্টেবল। নইলে আর নাইন্টিন ফিফটি এইটে, বলতে গেলে প্রায় বিনা নোটিসে, হাসপাতালের চাকরি ছেড়ে দিয়ে সে দেশে ফিরে যাবে কেন?’…মিঃ ভাদুড়ি, ওই একটা কথাতেই আমি যা বুঝবার তা বুঝে যাই।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “আপনার বাবাও তো ফিফটি এইটেই আপনাদের ছেড়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন?”

    “হ্যাঁ,” ডোরা বললেন, “আমার বয়েস তখন দু’বছর।”

    একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন ভাদুড়িমশাই। প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বার করে ঠোঁটে ঝুলিয়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করলেন। অন্যমনস্কভাবে ধোঁয়া ছাড়লেন কিছুক্ষণ। হাওয়ায় গোটা কয়েক রিং বানালেন। তারপর আধ-খাওয়া সিগারেটটাকে অ্যাশট্রেতে পিষে দিয়ে বললেন, “আপনি কী চান?”

    একটু আগেই যিনি প্রায় ভেঙে পড়েছিলেন, একেবারে হঠাৎই আবার সেই আগের আক্রোশ যেন ফিরে এল তাঁর গলায়। ফুঁসে উঠে বললেন, “আমার বাবাকে আপনি খুঁজে বার করুন।”

    “তাতে লাভ কী?”

    “লাভ আর কিছুই নয়। আমার মা মারা গেছেন। কিন্তু আমি মরিনি। আমি তাঁর মেয়ে। আমি বেঁচে আছি। আমি তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়াব।”

    “কিন্তু ডঃ বিশ্বনাথ সেনগুপ্তকে কী বলবেন আপনি?”

    ডোরা বললেন, “বলব যে, লোকে তোমাকে বিবেকবান বলে জানে। কিন্তু তুমি তোমার মেয়ের কথাটাও জেনে রাখো। ইউ আর দ্য মোস্ট হার্টলেস ম্যান দ্যাট ওয়জ এভার বর্ন।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্টোরিজ – নিল গেইম্যান
    Next Article ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }