Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প927 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আংটি রহস্য – ১৬

    ১৬

    আজ সতেরোই এপ্রিল, তেসরা বৈশাখ, শুক্রবার। ভোর পাঁচটা বাজতে পাঁচ মিনিটে একতলায় নামি। গাড়ি তৈরিই ছিল, তাই ঠিক পাঁচটাতেই বেরিয়ে পড়েছি। স্টিয়ারিং হুইলে হাত রেখে ভাদুড়িমশাইকে জিজ্ঞেস করেছিলুম, আজও কেদারেশ্বর ফুকনের বাড়ি হয়ে যাব কি না। তাতে তিনি বললেন, “না না, ওকে যখন সঙ্গে নিচ্ছি না, তখন আর ওর বাড়ি হয়ে যাবার দরকার নেই; তবে হ্যাঁ, ফিরতি পথে একবার খবর নিতে হবে যে, কেমন আছে।”

    যদিও বৈশাখ মাস, তবু এখনও গরম পড়েনি, তা ছাড়া কাল মাঝরাত্তিরে ঝড় উঠেছিল, সেই সঙ্গে জোর এক পশলা বৃষ্টিও হয়ে গেছে, ফলে আশা করছি যে, দুপুরের দিকেও খুব-একটা গরম পড়বে না। ভোরের বাতাসে একটু-একটু ঠান্ডার ভাবও মিশে আছে, আকাশটা একেবারে ঝকঝকে নীল, আমার ডান দিকের জানালার কাচটা পুরোপুরি নামিয়ে দিয়ে বললুম, “আ গ্লোরিয়াস ডে!”

    ভাদুড়িমশাই কোনও উত্তর দিলেন না। সম্ভবত কিছু ভাবছেন। পিছন থেকে সদানন্দবাবু বললেন, “গ্লোরিয়াস না ঘেঁচু। বাড়ি থেকে বেরোবার আগে কমসে কম এক পেয়ালা চা তো খাব, তাও আজ খাওয়া হয়নি। কোতাও একটু থামিয়ে রেকে সেটা খেয়ে নিলে হত না?”

    “এখন নয়।” ভদুড়িমশাই গম্ভীর গলায় বললেন, “যতক্ষণ না কোকরাঝাড়ে সুশান্তর বাড়িতে পৌঁছচ্ছি, ততক্ষণ কোথাও পাঁচ মিনিটের জন্যেও থামা চলবে না। চেকিংয়ের জন্যে পাছে দেরি হয়ে যায়, তাই আজ হ্যান্ডব্যাগগুলোও সঙ্গে আনিনি।”

    সদানন্দবাবু দেখলেন, গাড়ি থামিয়ে চা খাওয়ার প্রস্তাবটাকে আমলই দেওয়া হল না, সেটা একেবারে পত্রপাঠ খারিজ হয়ে গেল। এমনটা যে হবে, সম্ভবত তিনি তা ভাবতেও পারেননি। ভদ্রলোক তাতে একটু চুপসে গেলেন ঠিকই, কিন্তু পরক্ষণেই সুর পালটে বললেন, “সত্যিই তো, তাড়াতাড়ি এখন আমাদের কোকরাঝাড় পৌঁছানো দরকার, হাতে কাজ ফেলে রেকে চায়ের জন্যে পাগল হওয়ার কোনও মানেই হয় না।…কী হল কিরণবাবু, গাড়ি এত আস্তে চালাচ্চেন কেন? এটা কি গোরুর গাড়ি নাকি? স্পিড বাড়ান, স্পিড বাড়ান!”

    স্পিডোমিটারের কাঁটা সত্তর থেকে আশির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, তাও কিনা সদানন্দবাবুর পছন্দ নয়! হাসি সামলে বললুম, “স্পিড যদি আরও বাড়াই তো দুটো ব্যাপার ঘটতে পারে। হয় একটা মারাত্মক অ্যাক্সিডেন্ট ঘটবে, আর নয়তো পুলিশে ধরবে। কোনটা চান?”

    সদানন্দবাবু সম্ভবত হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। বেজার গলায় বললেন, “আমার কোনও কতাই দেকচি আপনাদের পছন্দ নয়। ঠিক আচে, এই আমি চুপ করলুম, আর কোনও কতাই কইব না।”

    সত্যিই চুপ করে গেলেন।

    দিনটা আজ চমৎকার শুরু হয়েছে, আর এখনও পর্যন্ত চলেছেও অতি মসৃণভাবে। ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে রাখতে ভুলে গিয়েছিলুম, তবু ঠিক চারটের সময় ঘুম ভেঙেছে। তারপর মুখ ধোয়া, দাড়ি কামানো আর স্নানের পর্ব শেষ করেছি সাড়ে চারটের মধ্যে। বাথরুমের দখল নিয়ে সদানন্দবাবুর সঙ্গে কোনও ঝামেলা হয়নি। তার কারণ তখনও তিনি পড়ে-পড়ে ঘুমোচ্ছিলেন। ধাক্কা মেরে তাঁকে জাগিয়ে আর কল-ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে মিনিট পাঁচেকের মধ্যে যেমন জামা-কাপড় পালটে আমি তৈরি হয়ে নিয়েছি, তেমনি তারপরে নীচে নেমে লনের পাশের ঘোরানো রাস্তা দিয়ে হেঁটে এসেছি এক চক্কর। তা ছাড়া, আজ অনেক বছর বাদে আবার সূর্যোদয় দেখা হল।

    কারণ কী, তা জানি না বটে, তবে ভাদুড়িমশাই যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কোকরাঝাড়ে পৌঁছতে চান, আর তাড়াতাড়ি না-পৌঁছতে পারলে যে তাঁর কাজের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে, সেটা বুঝতে পেরেছিলুম বলেই নিতান্ত এক-আধবার ছাড়া কোথাও গাড়ির স্পিডে আমি একটুও ঢিলে দিইনি। একবার দিয়েছিলুম গৌরীপুরে একটা গোরুর গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাঁচাতে, আর একবার দিয়েছিলুম বিলাসীপাড়ার মাঠের ধারে এক সদ্য-সাইকেল-চালাতে-শেখা ছোকরাকে তার সাইকেল নিয়ে মাঝরাস্তা থেকে একপাশে সরে গিয়ে প্রাণ বাঁচাবার সুযোগ দেবার জন্যে। তা ছাড়া তো স্পিডোমিটারের কাঁটাটাকে সারাক্ষণ সত্তর থেকে আশির মধ্যেই আটকে রেখে গাড়ি চালাচ্ছি।

    চালাচ্ছি আর মনে-মনে প্রার্থনা করছি যে, হে ভগবান, চেক-পোস্টে আমাদের গাড়িটাকে যেন খুব বেশিক্ষণ আটকে রাখা না হয়। যেন কালকের মতো আজও তাড়াতাড়ি ছাড়া পাই।

    তা ভগবান যখন দেন, তখন যে ছপ্পর ফুঁড়েই দেন, এই কথাটা দেখলুম মিথ্যে নয়। প্রার্থনার উত্তরে প্রাপ্তিটা একেবারে ছপ্পর ফুঁড়েই হল। চেয়েছিলুম যে, চেকিংয়ের ঝামেলাটা যেন তাড়াতাড়ি মেটে। তা কোনও চেকিংই হল না। ধুবড়ি-কোকরাঝাড়ের বর্ডার আজ খাঁখাঁ করছে। সেখানে না আছে রাস্তার উপরে আড়াআড়ি ভাবে লম্বা বাঁশ ফেলে গাড়িঘোড়া আটকানোর ব্যবস্থা, না আছে রাস্তার ধারে সিকিওরিটির লোকজনদের তাঁবু। আন্দাজ করলুম যে, রক্ষিবাহিনীর লোকজনেরা কাল রাতেই এখান থেকে সরে গিয়ে অন্য-কোথাও তাঁবু ফেলেছে।

    সুশান্ত চৌধুরির বাড়ির কাছেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছে গেলুম। আজ আর বাড়ি খুঁজতে হল না। হাইওয়ে থেকে সরু একটা খাড়াই রাস্তা যেখানে পাহাড়ের উপরে উঠে গেছে, সেই জায়গাটা কালই চিনে রেখেছিলুম, স্পিড কমিয়ে গিয়ার পালটে এবারে সেই সরু রাস্তায় গাড়ি ঢোকাব, এমন সময় ভাদুড়িমশাই বললেন, “গাড়িটা নীচেই থাক, আজ হেঁটেই উপরে উঠব।”

    অর্থাৎ ভাদুড়িমশাই চান না যে, উপরে যারা রয়েছে তারা কেউ কিছু টের পাক, কেউ আমাদের আসার ব্যাপারটা বুঝতে পারুক। কিন্তু উপরে তো শুধু গোবিন্দ রয়েছে। সে ছাড়া দু’তিনজন কাজের লোকও অবশ্য থাকতে পারে। যেমন নালি। যেমন চৌকিদার। সুশান্ত চৌধুরির নিখোঁজ হওয়ার পিছনে কি এদেরই কারও হাত আছে বলে ভাদুড়িমশাই সন্দেহ করেন? তা নইলে এত সতর্কতা কেন? একেবারে হঠাৎই একটা সন্দেহ উঁকি দিয়ে গেল আমার মনে। সুশান্ত চৌধুরি বেঁচে আছেন তো? টেররিস্ট অর্গানাইজেশনের তো এদিকে অভাব নেই। এই পাহাড় তাদের লুকিয়ে থাকার পক্ষে একটা চমৎকার জায়গা। তাদেরই কোনও একটা দল এখান থেকে সুশান্তকে তুলে নিয়ে যায়নি তো? তুলে নিয়ে গিয়ে হয়তো মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছিল। হয়তো সেই দাবি মেটাতে রাজি হননি সুশান্ত। সেক্ষেত্রে তাঁকে মেরে ফেলাই বা বিচিত্র কী! আর তা-ই যদি হয়ে থাকে, তো তাদের সঙ্গে যে গোবিন্দ কিংবা মালি কিংবা চৌকিদারের কোনও যোগসম্পর্ক নেই, তাও কি নিশ্চিতভাবে বলা যায়? গোবিন্দর প্রভুভক্তির কথা অবশ্য আমরা শুনেছি। কিন্তু খোকাবাবুকে যখন সে দু’হাতে আগলে রেখেছিল, তখন তো খোকাবাবুর চরম দুর্দিন চলছে। পরে যখন খোকাবাবুর কপাল আবার পালটে গেল, ফকির খোকাবাবু ফের আমির হলেন, তখন থেকে গোবিন্দও একটু-একটু করে পালটে যায়নি তো?

    কথাগুলি লিখতে যত সময় লাগল, ভাবতে তার এক-শতাংশও সময় লাগেনি। একেবারে বিদ্যুচ্চমকের মতোই আমার মাথার মধ্যে ঝিলিক দিয়ে গিয়েছিল এই ভয়ংকর ভাবনা। কিন্তু ভিতরে-ভিতরে যতই টলে গিয়ে থাকি, মুখে আমি একটি কথাও প্রকাশ করলুম না। গাড়িটাকে খুবই সন্তর্পণে একটু ব্যাক করে হাইওয়ের পিচ-মোড়া অংশের পাশে কাঁচা রাস্তায় একটা গাছের তলায় দাঁড় করিয়ে রেখে বললুম, “চলুন তা হলে, ওঠা যাক।”

    সদানন্দবাবু সেই যে চুপ করে গিয়েছিলেন, তারপরে আর মুখ খোলেননি। বললেন, “আমি গাড়িতেই আচি, আপনারা বরং উপর থেকে ঘুরে আসুন।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “কেন, কেন, পথের মধ্যে গাড়ি থামিয়ে চা খেতে দিইনি বলে রাগ হয়েছে?”

    “না না, রাগের কী আচে?” সদানন্দবাবু বললেন, “আসলে শরীরটা কেমন যেন ম্যাজম্যাজ করচে, জুত পাচ্চি না।”

    “উপরে চলুন,” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “গোবিন্দর হাতের চা খেলেই শরীর ঠিক হয়ে যাবে।”

    সদানন্দবাবু তবু গাড়ি থেকে নামলেন না, গোঁজ হয়ে বসে রইলেন। আমি বললুম, “আসলে উনি জুজুর ভয়ে উপরে যেতে চাইছেন না।”

    কথাটায় কাজ হল প্রায় মন্ত্রের মতো। তক্ষুনি গাড়ি থেকে নেমে এলেন সদানন্দবাবু। আমার দিকে তাকিয়ে নিজের বুকে আঙুলের একটা টোকা মেরে বললেন, “ভয়? আমার? তাও আবার কুকুরের ভয়? আর হাসাবেন না মশাই, চলুন, চলুন, বজ্জাত কুকুরকে কীভাবে শায়েস্তা করতে হয়, আজ‍ই সেটা দেকিয়ে দিচ্চি।”

    বললেন বটে, কিন্তু সামনে এলেন না। ওঁর যে একটা মাথায়-লোহার-বল-বসানো খেটে-লাঠি আছে, সেইটে হাতে নিয়ে গুটিগুটি আমাদের পিছনে এসে দাঁড়ালেন।

    খাড়া ঢাল বেয়ে আমরা উপরে উঠে এলুম।

    একেবারে হঠাৎই কানে এল পিয়ানোর স্বরতরঙ্গ। আওয়াজ এত মৃদু যে, বোঝা যায়, রিডের উপরে আঙুলের চাপ মোটেই জোরে পড়চে না, কেউ খুবই আলতো হাতে রিডগুলির উপর দিয়ে তাঁর আঙুল চালিয়ে যাচ্ছে মাত্র।

    কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে বাড়ির দরজার উপরে বার-দুয়েক টোকা মারলেন ভাদুড়িমশাই। তারপর একটু বাদে গলা উঁচিয়ে ডাকলেন, “গোবিন্দ।”

    টোকা মারার সঙ্গে-সঙ্গেই পিয়ানো থেমে গিয়েছিল। কিন্তু কাঠের মেঝের উপর দিয়ে কেউ এগিয়ে আসছে, এমন কোনও শব্দ পাওয়া যায়নি। সেটা পাওয়া গেল গোবিন্দর নাম ধরে উঁচু গলায় ডাকার পর। সেই সঙ্গে শোনা গেল চল্লিশের দশকের প্রথম দিকের বিখ্যাত বাংলা গান ‘যবে কন্টক-পথে হবে রক্তিম পদতল’-এর টিউন। শিস দিয়ে ওই টিউনটা ভাঁজতে-ভাঁজতে কেউ দরজার দিকে এগিয়ে আসছেন। দরজার পাল্লা সামান্য ফাঁক করে প্রথমে আমাদের বেশ ভাল করে দেখে নিলেন তিনি, তারপর আমরা যে নিতান্তই তিন বৃদ্ধ, কোনও বদ মতলব নিয়ে এখানে আসিনি, সম্ভবত এই ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে দরজার আড়াল থেকে সামনে বেরিয়ে এলেন। তখনই দেখলুম যে, তাঁর প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই ভিতর থেকে সেই ভয়াবহ কুকুরটিও বেরিয়ে এসেছে। জুজু।

    কিন্তু জুজু আজ তারস্বরে চেঁচাচ্ছেও না, দাঁতও দেখাচ্ছে না। তার গলায় আজ বকলস বাঁধা নেই। অথচ এমন লক্ষণ তার ভাবেভঙ্গিতে আজ দেখছি না যে, এক্ষুনি সে আমাদের দিকে তেড়ে আসবে। চুপচাপ দাঁড়িয়ে অতি শান্তভাবে সে ডাইনে-বাঁয়ে লেজ নাড়ছে।

    দরজা খুলে যিনি বেরিয়ে এসেছিলেন, তিনি দোহারা চেহারার মানুষ, মুখে ফ্রেঞ্চ-কাট দাড়ি, পরনে আদ্দির পাঞ্জাবি ও চুস্ত পাজামা, পায়ে শুঁড়-তোলা বিদ্যাসাগরি চটি। ভদ্রলোককে দেখে মনে হচ্ছিল, এঁকে আগে কোথাও দেখেছি। আমাদের দেখে যে তিনি একটু অবাক হয়েছেন, সে তাঁর চাউনি থেকেই বোঝা যায়। বললেন, “আপনারা কি গোবিন্দকে ডাকছিলেন?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “হ্যাঁ।”

    “কিন্তু সে তো বাজারে গেছে, ফিরতে দেরি হবে। আপনারা কোত্থেকে আসছেন?”

    “আপাতত ধুবড়ি থেকে। সেখানে কেদারেশ্বর ফুকনের বাড়িতে আছি।”

    “গোবিন্দর সঙ্গে আপনাদের কোনও জরুরি কথা ছিল?”

    ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “তা তো ছিলই। তবে গোবিন্দর সঙ্গে নয়, তার মনিব সুশান্ত চৌধুরির সঙ্গে।”

    “কিন্তু সুশান্ত চৌধুরির কোনও খোঁজই তো কিছুদিন হল পাওয়া যাচ্ছে না। এনিওয়ে, তাঁর সঙ্গেই বা কী কথা ছিল আপনাদের?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “এরই মধ্যে আমি পরপর তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। এবারে আমি একটা প্রশ্ন করব। তাতে কোনও আপত্তি নেই তো?”

    “না, না, আপত্তি থাকবে কেন? কী জানতে চান বলুন।”

    “আপনার এই কুকুরটির নাম কী?”

    প্রশ্ন শুনে ভদ্রলোক সামান্য হাসলেন। বিস্ময়-মেশানো খানিকটা কৌতুকও যে ঝিলিক দিয়ে গেল তাঁর চোখে, তাও আমার নজর এড়াল’ না। বললেন, “নাম শুনে হাসবেন না। ওর নাম জুজু। নামের সঙ্গে ওর স্বভাবের কিন্তু কোনও মিল নেই। জুজু ভারী শান্তশিষ্ট ফ্রেন্ডলি নেচারের প্রাণী।”

    “কাল এ-বাড়িতে গোবিন্দ যার ওই এই একই নাম বলেছিল, সেই জুজুটি কিন্তু মোটেই শান্তশিষ্ট প্রাণী নয়।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমাদের এই বন্ধুটি তো তাকে দেখে…আরে, সদানন্দবাবু আবার কোথায় সরে পড়লেন?”

    দরজার আড়াল থেকে কুকুরটি মুখ বাড়াবার পরে সদানন্দবাবু আর কালক্ষেপ করেননি। আমাদের পিছন থেকে দ্রুত পা ফেলে বাড়ির চৌহদ্দি পেরিয়ে তিনি ঢালের মুখে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যাতে জুজু তাড়া করলেই চোখের পলকে ঢাল ছাড়িয়ে হাইওয়েতে নেমে তিনি ফের গাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়তে পারেন। ভাদুড়ি মশাই চেঁচিয়ে বললেন, “যাচ্চলে, আপনি অত ভয় পাচ্ছেন কেন? ভয়ের কিছু নেই। এ-জুজু সে-জুজু নয়।”

    “দাঁড়ান, দাঁড়ান,” ভদ্রলোক যেন তাজ্জব বনে গিয়ে বললেন, “আপনি কী বললেন, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। হোআট ডু ইউ মিন এ-জুজু সে-জুজু নয়?”

    সদানন্দবাবু ইতিমধ্যে আবার আমার পিছনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সেখান থেকেই বললেন, “আমার ফ্রেন্ড মিঃ ভাদুড়ি বলতে চাইচেন যে, দিস জুজু ইজ নট দ্যাট জুজু।”

    “এ তো মহা বিপদে পড়া গেল!” ভদ্রলোক বললেন, “কিছুই তো আমার মাথায় ঢুকছে না! দিস জুজু, দ্যাট জুজু, এ-সব কথার মানে কী? দয়া করে একটু বুঝিয়ে বলবেন?”

    “না-বোজার তো কিছু নেই।” সদানন্দবাবু বললেন, “মিঃ ভাদুড়ি কিচু বলবার আগেই একে দেকে… মানে এর ন্যাজ নাড়ার ধরন দেকেই আমি বুজে গেসলুম যে, দিস জুজু ইজ এ ভেরি জেন্টল অ্যানিম্যাল হোয়ারঅ্যাজ দ্যাট জুজু ওয়াজ ফেরোশাস। সময়মতো যদি না গাড়ির মদ্যে ঢুকে পড়তুম, তো সে আমাকে নির্ঘাত কামড়ে দিত, ঠিক যে-ভাবে কেদারেশ্বরবাবুকে কামড়ে দিয়েছিল।”

    ‘কেদারকে কামড়ে দিয়েছিল?” ভদ্রলোক উদ্বিগ্ন গলায় বললেন, “কবে? সে কেমন আছে এখন?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “কামড়েছিল গত তেরোই এপ্রিল, অর্থাৎ আজ থেকে মাত্র চার দিন আগে। ঘটনাটা ঘটেছিল অবশ্য এই বাড়িতেই। তার উপরে আবার কেদারের ধারণা, এই কুকুরই তাকে কামড়েছিল।”

    “না না, জুজু তাকে কামড়াবে কেন?” ভদ্রলোক বললেন, “কেদারকে তো জুজু ভালই চেনে। আজ পর্যন্ত কোনও চেনা লোককে, কামড়ানো তো দূরের কথা, জুজু একটু আঁচড়ে পর্যন্ত দেয়নি।”

    “কেদার তো সেইজন্যেই অবাক হয়ে গেছে।”

    “আর হ্যাঁ, তেরো তারিখে তো জুজু এখানে ছিলও না।”

    “কোথায় ছিল?”

    কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন ভদ্রলোক। কিন্তু তক্ষুনি বললেন না। একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, “যেখানেই থাক, সেটা তো জরুরি নয়। জরুরি কথাটা হচ্ছে কেদার এখন ভাল আছে কি না!”

    “ভাল আছে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “যে-কুকুর তাকে কামড়েছে, তাকে তো কালই এখানে দেখেছি আমরা। খুবই হিংস্র কুকুর তাতে সন্দেহ নেই, তবে না, পাগল নয়। সুতরাং জলাতঙ্ক হবার কোনও আশঙ্কা নেই।”

    “আর ইউ শিয়োর?”

    “অ্যাবসলুটলি। কিন্তু একটা কথা ভেবে আমার একটু অবাক লাগছে। কেদারের পাওয়ার অভ অবজার্ভেশন এত কম কেন। যেটা তাকে কামড়েছে, সেটা যে এই কুকুর নয়, তা তো তার তৎক্ষণাৎ বোঝা উচিত ছিল।”

    এতক্ষণ আমি চুপ করে ছিলুম। কিন্তু এবারে আমাকে মুখ খুলতে হল। বললুম, “এ আপনি কী বলছেন? কাল যাকে দেখেছি আর আজ যাকে দেখছি, দুটোই তো একই জাতের কুকুর, লোমওয়ালা ভোটানিজ ডগ। তার উপরে একই সাইজ, একই রকমের কুচকুচে কালো। তফাতটা কোথায়? কই, আমি তো কোনও তফাত দেখতে পাচ্ছি না।”

    “তার মানে আপনারও পাওয়ার অভ অবজার্ভেশন খুবই কম।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “কালকের কুকুরটির গোটা শরীর ছিল কুচকুচে কালো, সে-ক্ষেত্রে এর শরীরের বাদবাকি অংশ কুচকুচে কালো হলেও পিছনের পায়ের থাবা দুটো সাদা। আ ভেরি স্মল ডিফারেন্স নো ডাউট, বাট আ ডিফারেন্স অল দ্য সেম।”

    “কিন্তু এ-বাড়িতে ওই হিংস্র কুকুরটির…আই মিন দ্যাট সেকেন্ড ডগ…আমদানি হল কোত্থেকে?” ভদ্রলোক বললেন, “দাঁড়ান, গোবিন্দ আসুক।”

    গোবিন্দ যে ইতিমধ্যে নিঃশব্দে তাঁর পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে, ভদ্রলোক তা বুঝতে পারেননি। সম্ভবত এই বাড়ি থেকে নীচের হাইওয়েতে নামার অন্য কোনও পথ আছে, আর গোবিন্দ সম্ভবত সেই পথ দিয়েই উপরে উঠে পিছন দিক দিয়ে বাড়ির মধ্যে ঢুকেছে। দরজা থেকেই সে বলল, “আজ্ঞে ওটাকে আমি এনেছি। বাড়ির কুকরটা বাড়িতে নেই, অথচ কুকুর না-থাকলে তো রাত্তিরে বড্ড ভয় করে, তাই চৌকিদারকে বলে…’”

    “এমন একটা কুকুর জোগাড় করেছ,” ভাদুড়িমশাই বললেন, “যেটা দেখতে একেবারে এ-বাড়ির কুকুর জুজুর মতো, তাই না?”

    যেন উপযুক্ত একটা ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে, এইভাবে গোবিন্দ বলল, “আজ্ঞে হ্যাঁ, যাতে জুজুর অভাবটা বুঝতে না-পারি। মানে জুজু না-থাকায় বড্ড ফাঁকা-ফাঁকা লাগত তো। অবিশ্যি এটাও ঠিক করে রেখেছিলুম যে, জুজুকে নিয়ে খোকাবাবু ফিরে এলেই ওটা ফেরত দিয়ে দেব।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “তা আসল জুজু যখন ফিরে এসেছে, তখন তোমার খোকাবাবুও ফিরেছেন নিশ্চয়?”

    “আজ্ঞে না, খোকাবাবু এখনও ফেরেননি।”

    “ঠিক আছে, গোবিন্দ,” ভাদুড়িমশাই বললেন, “খোকাবাবু তো ফেরেননি, খুবই ভাল কথা। কিন্তু ইনি তা হলে কে?”

    গোবিন্দ কিছু বলার আগেই ভদ্রলোকটি বললেন, “আমার নাম অজিত বসু। আমি সুশান্তবাবুর বন্ধু। এই কোকরাঝাড়েই থাকি, সুশান্তবাবু যখন বাইরে যান, তখন মাঝেমধ্যে এসে এখানকার খোঁজখবর নিয়ে যাই।”

    ভাদুড়িমশাই এতক্ষণ মুখ টিপে হাসছিলেন, এবারে একেবারে হোহো করে হেসে উঠলেন। তারপর হাসি থামিয়ে বললেন, “আর আপনি-আজ্ঞে করছি না। যেমন তুমি, তেমন তোমার গোবিন্দ! তোমরা দুজনেই ঘোর মিথ্যেবাদী। কিন্তু মিথ্যেটাকে কীভাবে সত্যি বলে চালাতে হয়, তাও তোমরা জানো না। চলো সুশান্ত, ঘরে গিয়ে বসা যাক, তোমার সঙ্গে আমার জরুরি কিছু কথা আছে। …আর হ্যাঁ, গোবিন্দ, তুমি চটপট চা বানাও, পারলে কিছু খাবারও নিয়ে এসো। সকাল থেকে ব্রেকফাস্ট তো দূরের কথা, এক কাপ চা পর্যন্ত খাওয়া হয়নি।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্টোরিজ – নিল গেইম্যান
    Next Article ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }