Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প927 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জাল-ভেজাল – ৪

    ৪

    আজ ১২ মার্চ, রবিবার। রাত এখন আটটা। আজই সকালের ফ্লাইটে সদানন্দবাবুকে নিয়ে কলকাতা থেকে আমি দিল্লিতে এসেছি। উঠেছি ম্যাক্রো কনস্ট্রাকশন ইন্টারন্যাশনালের সফদরজঙ্গের এই গেস্ট হাউসে। ভাদুড়িমশাইয়ের সঙ্গে কথা বলে অমিতাভই এখানে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে রেখেছিল। এয়ারপোর্ট থেকে এখানে আমাদের নিয়ে আসার ব্যবস্থাও সে-ই করেছে। ভাদুড়িমশাই এখানে এসেছেন গতকাল। তিনিও এই গেস্ট হাউসেই আছেন। যেমন থাকা, তেমন খাওয়ার ব্যবস্থাও এখানেই। এক টুকরো লন ও ছোট্ট একফালি বাগান-সহ ছিমছাম গেস্ট হাউস। থাকার ব্যবস্থা পরিপাটি। ও বেলা এখানেই খেয়েছি। তাতে মনে হল, খাওয়ার ব্যবস্থাও খারাপ হবে না। কুকটি গোয়ানিজ।

    কেন যে হঠাৎ দিল্লি আসতে হল, এবারে সেই কথাটা বলি। কথা ছিল, ব্যাঙ্গালোর থেকে ভাদুড়িমশাই খুব শিগগিরই আবার আসবেন। কিন্তু, কুরিয়ার সার্ভিসে ফের যে তাঁকে পাঁচশো টাকার দশখানা জাল-নোট পাঠানো হয়েছে, সদানন্দবাবুর কাছে এই খবর পাবার পর আমার মনে হয়, আর দেরি করা ঠিক হবে না, ব্যাপারটা যেরকম দ্রুত গড়াচ্ছে, তাতে একটা বিপদ ঘটে যাওয়া কিছু বিচিত্র নয়, তাই ভাদুড়িমশাইকে এক্ষুনি সব জানানো দরকার। বুধবার রাত্তিরেই তাই ব্যাঙ্গালোরে ফোন করি। ফোনে ভাদুড়িমশাইকে সব জানাবার পর তিনি বলেন, দু’চার দিনের মধ্যে ফের তাঁর কলকাতায় আসার কথা ছিল ঠিকই, কিন্তু আপাতত সেটা সম্ভব হচ্ছে না, একটা ফোর্জারি কেসে সাক্ষ্য দেবার জন্যে পরদিনই তাঁকে মুম্বই যেতে হচ্ছে। ‘আদালতের সমন মশাই, না গিয়ে উপায় নেই।’ বলেছিলুম,

    জিজ্ঞেস বেশ তো, তা হলে মুম্বই থেকে কলকাতায় আসুন। কিন্তু তাও নাকি সম্ভব নয়। কেন নয়, করে জানা গেল, মুম্বই থেকে তাঁকে দিল্লি যেতে হবে। ‘অমিতাভ ডেকে পাঠিয়েছে। ফোন করেছিল, ডিটেলস বলল না, তবে মনে হল, ছেলেটা বিপদে পড়েছে। তো এক কাজ করুন মশাই, আপনারাই দিন কয়েকের জন্য দিল্লি চলে আসুন।’

    এমনভাবে কথাটা বললেন, যেন দিল্লি যাওয়া কতই সোজা। নিজে সারাক্ষণ হিল্লি-দিল্লি করে বেড়াচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু আমরা তো তাঁর মতো মুক্তপুরুষ নই, সংসারী জীব, হাজার ঝামেলায় জড়িয়ে রয়েছি, হুট বললেই কি আমরা নোঙর তুলে ভেসে পড়তে পারি?

    আশ্চর্য ব্যাপার, ভাদুড়িমশাইয়ের কথাটা সদানন্দবাবুকে বলতে তিনি দেখলুম তৎক্ষণাৎ রাজি। টেলিফোনে হুমকি আর ফের অতগুলো জাল নোট পাবার পরে বোধহয় কলকাতায় থাকতেই ভদ্রলোক ভয় পাচ্ছিলেন। তবে মুখে সে-কথা স্বীকার করলেন না। বললেন, “ভাদুড়িমশাই তো খারাপ কতা বলেননি। দরকার যখন আমার, তখন যেতে হবে বই কী। আর তা ছাড়া মার্চ মাসের দিল্লি তো শুনিচি চমৎকার জায়গা মশাই। ঠাণ্ডাও কেটে গেচে, আবার গরমও পড়েনি… চলুন, চলুন, দিন কয়েকের জন্যে ঘুরেই আসা যাক।”

    ভাদুড়িমশাই পরদিন অর্থাৎ বেস্পতিবার রাত্তিরে মুম্বই থেকে ফোন করেছিলেন। তখনই তাঁকে জানিয়ে দিই যে, আমরা দিল্লি যাচ্ছি। রোববার সকালের ফ্লাইটে যাব, তবে কোথায় থাকব তা এখনও ঠিক করিনি। তাতে তিনি বলেন যে, থাকার জায়গা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে না, অমুকে ফোন করে তিনি জানিয়ে দেবেন যে, সে-ই যেন সব ব্যবস্থা করে রাখে। রোব্বার তো ছুটির দিন, তাই এয়ারপোর্টে আমাদের জন্যে গাড়ি নিয়ে যেতেও অমুর কোনও অসুবিধে হবে না।

    ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের টিকিট পেতেও কোনও অসুবিধে হয়নি। ফ্লাইটও লেট ছিল না। আজ সকালে রাইট টাইমেই আমরা দিল্লি পৌঁছেছি।

    কলকাতা ছাড়ার ব্যাপারে সদানন্দবাবুর একটা ছোট্ট অসুবিধে দেখা দিয়েছিল। পদ্ম নামের যে মেয়েটি তাঁদের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করত, সদানন্দবাবু প্রায়ই বলতেন যে, গত জন্মে অনেক পুণ্য করেছিলেন বলেই এ-জন্মে অমন কাজের মেয়ে পেয়েছেন। বাসন্তীকেও বলতে শুনেছি, অমন কাজের মেয়ে নাকি ভাগ্যে মেলে। তা সেই পদ্ম গত বেস্পতিবার থেকে আর কাজে আসেনি। এদিকে অন্য কোনও কাজের লোক না পাওয়ার ফলে সদানন্দবাবু বুঝতে পারছিলেন না যে, অসুস্থ স্ত্রীকে এই অবস্থায় ফেলে রেখে কীভাবে তিনি দিল্লি যাবেন। শেষ পর্যন্ত বাসন্তী আশ্বাস দেয় যে, আমাদের বাড়ির কাজের মেয়েটিই আপাতত দু’বাড়ির কাজের সামাল দেবে।

    গেস্ট হাউসের দোতলার দুটো ঘর আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একটায় ভাদুড়িমশাই আছেন। অন্যটায় থাকব আমি আর সদানন্দবাবু। এয়ারপোর্ট থেকে আমাদের দুজনকে এখানে ছেড়ে দিয়ে অমু তার গ্রেটার কৈলাসের ফ্ল্যাটে চলে যায়। যাবার আগে আমাদের বলে যায় যে, একটার মধ্যে আমরা যেন লাঞ্চ খেয়ে নিই, সে তার বাড়িতে দুপুরের খাওয়া চুকিয়ে মোটামুটি দুটোর মধ্যে আবার এখানে চলে আসবে। তা-ই এসেছিল। তখন অমু ও ভাদুড়িমশাইয়ের সঙ্গে আমাদের একটা ছোট্ট বৈঠকও হয়েছিল। অমুর আবার নতুন কী সমস্যা হল, তখনও তা আমরা জানি না। অমুকে তা-ই নিয়ে প্রশ্ন করতে সে ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে তাকায়। ভাদুড়িমশাই বলেন, “ওর কথা পরে হবে, আগে সদানন্দবাবুর কথাটা শুনি।” সদানন্দবাবু নিজে কিছু না-বলে আমার দিকে তাকান। তখন, গত রোব্বারে অরুণ সান্যালের কাঁকুড়গাছির ফ্ল্যাটে আমাদের সেই বৈঠকের পর থেকে যা-যা ঘটেছে, তার সবই আমি ভাদুড়িমশাইকে জানাই। পদ্মদাসীর কথাটাও বাদ দিই না। সেটা বলি ভাদুড়িমশাইকে এই কথাটা বোঝাতে যে, সদানন্দবাবুকে সত্যি খুব অসুবিধের মধ্যে কলকাতা ছেড়ে দিল্লি আসতে হয়েছে।

    ভাদুড়িমশাইকে কিন্তু টেলিফোনে হুমকি দিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসে ফের জাল নোট আসার ব্যাপারটা নিয়ে ততটা ভাবিত হতে দেখলুম না, যতটা ভাবিত মনে হল পদ্মদাসীকে নিয়ে। ‘লাশ ফেলে’ দেবার হুমকির কথাটা আমি ফের তুলতে গিয়েছিলুম, কিন্তু ভাদুড়িমশাই তাঁর হাতের ইঙ্গিতে আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “দাঁড়ান মশাই, আগে এই কাজের মেয়েটির ব্যাপারটা একটু বুঝে নিই। ও কি এর মধ্যে আর কাজে ফেরেনি?”

    “না।” সদানন্দবাবু বললেন, “ও আমাদের বাড়িতে শেষ বারের মতো কাজে এসেছিল গত বুধবার। কাজ সেরে সন্ধের সময় বাড়ি ফিরে যায়। বেস্পতিবার সকাল থেকে অ্যাবসেন্ট। বেস্পতি, শুক্কুর, শনি, পরপর তিন দিন আসেনি। রোব্বার, মানে আজকের কতা বলতে পারব না। তার কারণ, সকালের ফ্লাইট ধরব বলে আজ একেবারে ভোরবেলায় আমরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়িচি।”

    ভাদুড়িমশাই তার পকেট থেকে সেল-ফোনটা বার করলেন। সদানন্দবাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন, “কিরণবাবুর বাড়িতে ফোন করে আপনাদের পৌঁছ-সংবাদটা দিয়ে দিচ্ছি। সেইসঙ্গে আপনাদের কাজের মেয়েটি আজ এসেছে কি না, তাও জেনে নেওয়া যাবে।”

    ফোনের একতরফা কথাবার্তা যা শোনা গেল, তা এইরকম।

    “… কে, বাসন্তী?… আমি ভাদুড়িদা।… হ্যাঁ, ওঁরা ঠিক সময়েই পৌঁছে গেছেন, প্লেন লেট করেনি। এখন একটা খবর দাও তো, সদানন্দবাবুদের বাড়িতে যে-মেয়েটি কাজ করে, সে কি আজও আসেনি?…ঠিক আছে। ওঁদের জন্যে ভেবো না, ওঁরা ভালই আছেন, কাজ মিটলেই ফিরে যাবেন। তোমরা ভাল থেকো।”

    কথা শেষ করে সেল-ফোনটা আবার পকেটে পুরলেন ভাদুড়িমশাই। তারপরে ফের সদানন্দবাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনাদের কাজের মেয়েটির নাম যেন কী?… ও হ্যাঁ, পদ্ম। ইয়ে, পদ্ম আজও কাজে আসেনি।”

    এই পর্যন্ত বলে একটুক্ষণের জন্য চুপ করে রইলেন ভাদুড়িমশাই। একটা সিগারেট ধরালেন। নিঃশব্দে সেটা টানলেন কিছুক্ষণ। তারপর আধ-খাওয়া সিগারেটটাকে অ্যাশট্রেতে পিষে দিয়ে বললেন, “আপনাকে একটা প্রশ্ন করি সদানন্দবাবু। চাঁদনি স্টেশনে আপনার পকেটে যে পাঁচশো টাকার নোটটা গুঁজে দেওয়া হয়েছিল, সেটা যে জাল নোট, তা আপনি প্রথম কখন জানলেন?”

    “প্রথম তো আপনার কাছেই জানলুম।” সদানন্দবাবু বললেন, “ওই মানে গত রোব্বার অরুণবাবুদের বাড়িতে অমুর কাছে সেই ফোনটা আসার পরে যখন নোটটা আপনাকে দেখতে দিলুম আর আপনি সেটা দেখে বললেন যে, জাল, সেই তখন।”

    “ঠিক আছে। কিন্তু এটা তো মানবেন যে, বড়-রকমের কোনও কেনাকাটার দরকার না-থাকলে সব সময়ে… আই মিন নর্মালি আমরা পকেটে পাঁচশো টাকার নোট নিয়ে ঘুরে বেড়াই না। … কী, ভুল বললুম?”

    “না, না, ভুল বলবেন কেন,” সদানন্দবাবু বললেন, “আপনি ঠিক কথাই বলেচেন। তবে কিনা সত্যি সেদিন পকেটে পাঁচশো টাকার নোট নিয়েই আমি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলুম।”

    “সেদিন মানে কবে?”

    “অরুণবাবুদের বাড়িতে যেদিন যাই, তার আগের দিন। সেদিন তো শনিবার ছিল, তা-ই না?”

    “হ্যাঁ, শনিবার। চৌঠা মার্চ।”

    “গোটা কয়েক জিনিস কেনার দরকার ছিল বলে সেদিন আমি চাঁদনি মার্কেটে যাই। তার আগের দিন ব্যাঙ্কে গিয়ে আমার পেনশনের টাকা তুলি। ব্যাঙ্ক থেকে পঞ্চাশ টাকার একটা বান্ডিল দিয়েছিল, সেইসঙ্গে খানকয় পাঁচশো টাকার নোট। চাঁদনিতে যাবার সময় খুচরো কিছু টাকাপয়সার সঙ্গে খানকয় পঞ্চাশ টাকার নোট আর একটা পাঁচশো টাকার নোটও আমি পকেটে ঢুকিয়ে নিয়েছিলুম। ভেবেছিলুম, জিনিসপত্তরের দাম মেটাবার সময় ওই বড় নোটখানা ভাঙিয়ে নেব।”

    এই পর্যন্ত শুনে ভাদুড়িমশাই বললেন, “তা তো হল, কিন্তু সদানন্দবাবু, আপনি শেয়ালদা-পাড়ায় থাকেন, সেখান থেকে চাঁদনি মার্কেটের ডিসট্যান্স তো তেমন কিছু নয়, বাসে-ট্রামে কি ট্র্যাক্সিতে গেলে চটপট পৌঁছে যেতে পারতেন। তা হলে অতটা পথ উজিয়ে মহাত্মা গান্ধী রোড স্টেশনে গিয়ে আপনার পাতাল-রেলে উঠবার দরকার হল কেন?

    “পকেটে টাকা রয়েচে বলে ভিড়ভাট্টার সময়ে আমি বাসে-ট্রামে উঠিনি। আর ট্যাক্সিতে আমি পারতপক্ষে উঠি না, ভাড়ার হিসেব নিয়ে বড্ড গণ্ডগোল হয়। ড্রাইভার যে হিসেব দেয়, সেটা আমার মাথায় ঢোকে না। তাই ট্যাক্সি আমি সব সময়ে অ্যাভয়েড করি।”

    “সো ফার সো গুড।” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “মাইলখানেক হেঁটে গিয়ে মেট্রো ধরার কারণটা বোঝা গেল। এখন বলুন, চাঁদনিতে জিনিসপত্র কিনে আপনার পাঁচশো টাকার নোটখানা ভাঙাতে পেরেছিলেন?”

    “না মশাই, পারিনি।” সদানন্দবাবু বললেন, “জিনিসপত্তর কিনেছিলুম মোট সাড়ে তিনশো টাকার শুধু এক ছিট-কাপড় ছাড়া বাদবাকি সবকিছু একই দোকান থেকে কিনেছিলুম। কিন্তু পাঁচশো টাকার নোটখানা এগিয়ে দিতে দোকানি লোকটি বেজার হয়ে বলে, সবে দোকান খুলেছে, ক্যাশবাক্স ফাঁকা, ব্যালান্স ফেরত দেবার উপায় নেই। অগত্যা কী আর করি, পকেট থেকে সাতখানা পঞ্চাশ টাকার নোট বার করে তার পাওনা মেটাই।”

    “আর ওই পাঁচশো টাকার নোটখানা আপনার পকেটেই থেকে যায়।”

    “হ্যাঁ, থেকে যায়।”

    ভাদুড়িমশাই আবার হাসলেন। বললেন, “পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে ওটা আপনি ব্যাঙ্ক থেকে পেয়েছিলেন। সুতরাং ধরেই নিতে পারেন যে, ওটা জেনুইন নোট। তা হলে তো একখানা নয়, দুখানা পাঁচশো টাকার নোট নিয়ে আপনার বাড়ি ফেরার কথা।”

    “তার মানে?”

    “তার মানে তো অতি সহজ। জেনুইন একখানা পাঁচশো টাকার নোট আপনার পকেটেই ছিল। প্লাস ফিরতি পথে চাঁদনি স্টেশনে আছাড় খাওয়ার ফলে আপনার জিনিসপত্র আর টাকাপয়সা যখন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে যায়, তখন সেগুলো গুছিয়ে তুলে দেবার সময় পাঁচশো টাকার আর-একখানা নোট—জাল নোট–ঢুকিয়ে দেওয়া হয় আপনার পকেটে। কী, দুখানা নোট হল না?”

    “তা হল। কিন্তু বাড়ি ফিরে পাঞ্জাবি খুলে তার পকেট থেকে টাকাকড়ি বার করতে গিয়ে তো দেখলুম যে… দেখলুম যে…”

    “দুখানা নয়, পাঁচশো টাকার মাত্তর একখানা নোটই আপনার পকেটে রয়েছে, কেমন?” সদানন্দবাবু মুখ দেখে মনে হল, তিনি একটা জটিল ধাঁধার মধ্যে পড়ে গেছেন। বললেন, “ঠিক তা-ই। এটা কী করে হল?”

    “খুব সহজেই হল।” মুখের হাসিটা ধরে রেখে ভাদুড়িমশাই বললেন, “আপনি ভাবছেন পাঁচশো টাকার একখানা নোট নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, আবার ফিরেও এসেছেন একখানা নোট নিয়ে, তা হলে এর মধ্যে গণ্ডগোলটা কোথায়। গণ্ডগোলটা এইখানে যে, যে-নোট নিয়ে বেরিয়েছিলেন, সে-নোট নিয়ে ফেরেননি।”

    “অ্যাঁ?”

    “হ্যাঁ। আপনার সেই চাঁদনি স্টেশনের বন্ধুটি যা করেছে, সে অতি পাকা হাতের কাজ, মশাই। সে একই সঙ্গে দু’দুটি কাজ করেছে। যেমন সে আপনার পকেটে একটি জাল নোট ঢুকিয়েছে, তেমনি আবার প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে যাওয়া পয়সাকড়ির ভিতর থেকে চোখের পলকে সরিয়েছে আপনার পাঁচশো টাকার জেনুইন নোটখানা।”

    “আর আমি কিনা সেই জাল নোটখানাকেই আমার আসল নোট ভেবে পকেটে করে ঘুরে বেড়াচ্ছিলুম। আরে ছিছি, আপনি বলে না-দিলে তো ওটাকে জাল বলে চিনতেই পারতুম না।”

    এতক্ষণ তো হাসতে-হাসতে কথা বলছিলেন ভাদুড়িমশাই। এবারে, একেবারে হঠাৎই, হাসিটা তাঁর মুখ থেকে মিলিয়ে গেল। সরু চোখে সদানন্দবাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমি বলে দেবার আগে পর্যন্ত আপনি জানতেন না যে, ওটা জাল? সদানন্দবাবু, প্লিজ ডোন্ট সাপ্রেস দ্য ট্রুথ। সত্যি কথাটা বলে ফেলুন। আপনার কোনও ধারণাই নেই যে, কারা আপনাকে নিয়ে খেলছে। মিথ্যে বললে বিপদ আরও বেড়েই যাবে, কেউ আপনাকে বাঁচাতে পারবে না!”

    ভাদুড়িমশাইয়ের চাউনিতে কী ছিল জানি না, কিন্তু সদানন্দবাবু যেন নিমেষে কুঁকড়ে গেলেন। আমতা-আমতা করে বললেন, “আপনি বলে দেবার আগে, শনিবার বিকেলেই জানতে পেরেছিলুম।”

    “কী করে জানলেন? কোথাও চালাতে গিয়েছিলেন?”

    “আজ্ঞে আমি যাইনি।”

    “তা হলে?”

    “আমার ওয়াইফের গোটাকয় ওষুধ কেনবার ছিল। প্রেসক্রিপশান আর ওই পাঁচশো টাকার নোটটা দিয়ে শনিবার বিকেলে পদ্মকে আমাদের পাড়ার ওষুধের দোকানে পাঠাই। সত্যি বলছি, ওটা যে জাল-নোট, তা আমি তখনও পর্যন্ত জানতুম না। জানলুম পদ্ম ফিরে আসার পর। ফিরে এসে ও বলল, এ-নোট জাল, দোকানি ফিরিয়ে দিয়েছে।”

    গেস্ট হাউসে ভাদুড়িমশাইয়ের ঘরে বসে কথা হচ্ছিল। ঘরের এক দিকে দেওয়াল ঘেঁষে একটা রাইটিং টেবিল। চেয়ার থেকে উঠে ভাদুড়িমশাই তার টানা খুলে একটা কাগজ বার করে আনলেন। তারপর কাগজখানা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “কলকাতার কাগজ এখানে দেরি করে আসে জানেন তো? একটু আগে এই বাংলা কাগজখানা দিয়ে গেছে। তিনের পাতায় একটা খবর দাগ দিয়ে রেখেছি। পড়ে দেখুন।”

    পাঁচ-সাত লাইনের ছোট্ট খবরটা এইরকম :

    “স্টাফ রিপোর্টার, ১১ মার্চ—সায়েন্স সিটির কাছে, মেট্রোপলিটান বাইপাসের ধারে আজ রাত্রে একটি যুবতীর মৃতদেহ আবিষ্কৃত হয়। যুবতীর বয়স আনুমানিক ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ, রং ময়লা, বাঁ হাতের কবজিতে উলকিতে প্রজাপতি আঁকা। গলায় দাগ দেখে পুলিশের সন্দেহ, রাত্রেই গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে তাকে রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়েছে।”

    খবরটা পড়ে শোনাতে সদানন্দবাবু আঁতকে উঠে বললেন, “বাঁ হাতের কবজিতে প্রজাপতি আঁকা! সর্বনাশ, ও তো নির্ঘাত পদ্ম। ট্যাংরার ওদিক থেকেই তো আসত। কে মারল তাকে!

    প্রশ্ন নয়, নেহাতই স্বগতোক্তি। সদানন্দবাবুর দিকে তাকিয়ে ভাদুড়িমশাই তবু বললেন, “আপনার কী মনে হয়? মেয়েটার সম্পর্কে কিছু জানেন?”

    “খুব অল্পই জানি।” সদানন্দবাবু বললেন, “যেটুকু জানি, তাও আবার আমার ওয়াইফের কাছে শোনা।”

    “কী শুনেছেন?”

    “শুনিচি যে মেয়েটা আসলে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ক্যানিংয়ের ওদিককার এক গাঁয়ের চাষিবউ। ছেলেপুলে নেই, স্বামী নেয় না, পেটের জ্বালায় ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিল। ট্যাংরার একটা বস্তিতে থাকত। থাকার জায়গাটা নাকি এক রাজমিস্তিরি জুটিয়ে দিয়েছিল। তা ওখান থেকেই রোজ কাজ করতে আসত।”

    আমি বললুম, “কে ওকে মারতে পারে?”

    “সেটাই তো প্রশ্ন।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “জাল পাতলেই যারা ধরা দেয়, তাদের মারা তো মোটেই শক্ত নয়।”

    “কীসের জাল?”

    “লোভের জাল। নতুন করে সংসার পাতার লোভ, গয়নাগাটির লোভ, শরীরের খিদে মেটাবার লোভ, টাকার লোভ। তবে আমি ভাবছি অন্য কথা। জালটা যারা পেতেছে, এই একটা খুন করেই তারা থেমে থাকবে কি না।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্টোরিজ – নিল গেইম্যান
    Next Article ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }