Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প927 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জাল-ভেজাল – ৬

    ৬

    এখন রাত এগারোটা। গেস্ট হাউস থেকে আজ সন্ধে সাতটা পর্যন্ত কোথাও বেরোইনি। সাতটায় যাই গ্রেটার কৈলাসে অমুর ফ্ল্যাটে। রাতের খাওয়ার ব্যবস্থাটা সেখানেই ছিল। দুপুর আর বিকেলের বৈঠকে যে-সব কথা হল আর তা থেকে যা জানা গেল, তার উল্লেখ আগেই করেছি। পদ্মকে কারা খুন করেছে, তা বোঝা শক্ত নয়। সদানন্দবাবুর বাড়িতে জাল-নোট নিয়ে যে-সব কথা হয়েছিল, পদ্মর পক্ষে তা শোনাই স্বাভাবিক। এটাও স্বভাবিক যে, সেদিন তার বস্তিবাড়িতে ফিরে পাঁচজনকে সে-সব কথা সে জানিয়েছে। তখন, কপালে কাটা-দাগওয়ালা একটা লোকই যে তার মনিব সদানন্দবাবুর পকেটে একটা জাল-নোট ঢুকিয়ে দিয়েছিল, এই শোনা-কথাটাও সে সবাইকে বলেছিল নিশ্চয়। ফলে, তার কথা থেকে যার আইডেন্টিটি ফাঁস হবার আশঙ্কা,পদ্মকে সে-ই যে খুন করেছে, এই সম্ভাবনাকে কিছুতেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমনকি আমাদের সদানন্দবাবু, যিনি সব কথাই একটু দেরিতে বোঝেন, তাঁরও সেটা অনুমান করতে একটুও অসুবিধে হয়নি। তিনিও বললেন, “এ আর দেকতে হচ্চে না, এ নির্ঘাত সেই কপাল-কাটা লোকটার কাজ।”

    শুনে আমি বলেছিলুম, “সদানন্দবাবু ভুল বলেননি।”

    তাতে সদানন্দবাবু বলেন, “ভুল বলব কেন, এ তো বোঝাই যাচ্চে যে, পুলিশের হাতে ধরা পড়লে যাতে তাকে শনাক্ত করতে না পারে, তারই জন্যে পদ্মকে সে সরিয়ে দিল।”

    কথাটা যে ভাদুড়িমশাইয়ের ভাবনায় বিশেষ দাগ কেটেছে, তাঁর মুখ দেখে তা কিন্তু মনে হল না। সদানন্দবাবুর কথা শুনে চিন্তিত মুখে তিনি বললেন, “আপনার তা-ই মনে হয়?”

    সদানন্দবাবুর হয়ে উত্তরটা আমিই দিলুম। বললুম, “হওয়াই তো স্বাভাবিক। কাটা-কপালের কথাটা যখন পদ্মর মুখ থেকে বেরিয়েছে, তখন আসামিকে শনাক্ত করতে পুলিশ তো পদ্মকে ডাকবে। অবিশ্যি আসামিকে পুলিশ যদি ধরতে পারে।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “কিন্তু পদ্ম তো আসামিকে দেখেইনি। সে একটা শোনা-কথা বলেছে মাত্র, তাও সত্যিই যদি সে পাঁচজনকে তা বলে থাকে। যা-ই হোক, আমি ধরেই নিচ্ছি যে, লোকটার শরীরের ওই ডিস্টিংগুইশিং মার্কটার কথা সত্যিই সে পাঁচজনকে বলেছিল, আর সেই রাত্তিরেই লোকটার কানে সে-কথা পৌঁছেও গিয়েছিল। কিন্তু সে-ক্ষেত্রেও সে পদ্মকে তার প্রথম টার্গেট করবে কেন?”

    অমু বলেছিল, “কেন করবে না, মামাবাবু?”

    “সে তো বললুমই।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “পদ্মর বেঁচে থাকাটা তার পক্ষে বিপজ্জনক ঠিকই, কিন্তু তার চাইতে ঢের বেশি বিপজ্জনক এমন লোকের বেঁচে থাকা, যে কিনা পদ্মর মতো শোনা-কথা বলবে না, অর্থাৎ যে কিনা তাকে সত্যি-সত্যি চাক্ষুষ করেছে।”

    কথাটার তাৎপর্য বুঝতে এবারও সদানন্দবাবুর বিন্দুমাত্র দেরি হল না। ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে তাকিয়ে শুকনো মুখে তিনি বললেন, “আপনি কি আ-আ-আমাকে মিন করচেন নাকি?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “যে-লোকটা আপনার পকেটে ওই পাঁচশো টাকার জাল নোটটা ঢুকিয়ে দিয়েছিল, পদ্ম কি তাকে দেখেছে?”

    “না।”

    “কিন্তু আপনি দেখেছেন।”

    “হ্যাঁ, তা দেখিচি বই কী।”

    “বিপদ অতএব আপনারই বেশি।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “পুলিশ যদি সত্যিই লোকটাকে ধরতে পারে, তা হলে তাকে শনাক্ত করার একটা প্রশ্ন তো উঠবেই। তখন কিন্তু আপনার ডাক পড়বে। লোকটার প্রথম টার্গেট অতএব পদ্মর নয়, আপনারই হওয়া উচিত ছিল।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “কিন্তু পুলিশ আমাকে ডাকবে কেন? আমি তো এ-ব্যাপারে পুলিশকে কিচু জানাইনি। তা হলে লোকটাকে যে আমি চাক্ষুষ করিচি, পুলিশ তা জানবে কী করে?”

    “পুলিশকে আমরা যতটা বোকা ভাবি…আই মিন এদেশি আর বিদেশি গোয়েন্দাকাহিনিতে তাদের যতটা বোকা বলে দেখানো হয়, সত্যিই কিন্তু তারা ততটা বোকা নয়, সদানন্দবাবু।” ভাদুড়িমশাই সামান্য হেসে বললেন, “তারা ঠিকই জানতে পারবে।”

    গেস্ট হাউসে বসে এ-ব্যাপারে তখন আর কোনও কথা হয়নি। এর পরেই আমরা অমুর প্রসঙ্গে চলে যাই। সাতটা নাগাদ গেস্ট হাউস থেকে চলে যাই অমুর বাড়িতে। সেখানে রাতের খাওয়া শেষ করে যখন আবার গেস্ট হাউসে ফিরব, তখন কপালে-কাটা-দাগওয়ালা লোকটার কথা আর-একবার উঠেছিল। সে-প্রসঙ্গে পরে আবার আসব। তার আগে অন্য কিছু কথা সেরে নিই।

    গ্রেটার কৈলাস চমৎকার পাড়া। আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু বিকাশ এখানকার ফেজ টুতে থাকে। দিল্লিতে এলুম, অথচ বিকাশের সঙ্গে দেখা হল না, এমন বড় একটা কখনও ঘটে না, বার দুয়েক তো ওরই বাড়িতে উঠেছি। আবার এমনও হয়েছে যে, উঠেছি হয়তো অন্য জায়গায়, হেলি রোডের বঙ্গভবনে কি লোদি এস্টেটের ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে কি রাজিন্দরনগরে, কিন্তু বিকাশ সে-কথা জানামাত্রই ছুটে এসে আমাকে ধরে নিয়ে গেছে ওর বাড়িতে। এবারে অবশ্য আমার দিল্লি আসার কথা এখনও পর্যন্ত ও জানতে পারেনি। তবে জানবে ঠিকই, আর জানবার পরে যে ছুটে আসবে তাও ঠিক।

    চিত্তরঞ্জন পার্কও এখান থেকে খুব কাছেই। বলতে গেলে সেটা বাঙালি-পাড়াই। সেখানে একটা টিলার উপরে পাশাপাশি যে তিনটি মন্দির রয়েছে, দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। মন্দিরের সামনেকার লন আর বাগানও দেখার মতো। বাগান ঘিরে বেঞ্চি পাতা। বিকেলের দিকে প্রবীণ বাঙালিদের দিব্যি একটা আড্ডা জমে যায়। অনেকেই রিটায়ার্ড সরকারি কর্মচারী। বেশ খানিকটা সময় এখানে বসে গল্পগুজব করে তাঁরা যে-যাঁর বাড়ি ফিরে যান। সদানন্দবাবুকে একদিন ওখানে নিয়ে যেতে হবে। তবে ভদ্রলোকের এখন যে-রকম মনের অবস্থা, খুব-একটা উৎসাহিত হবেন বলে মনে হয় না। তার উপরে আবার পুলিশ যে দোষীকে শনাক্ত করার জন্য তাঁকেই ডাকতে পারে, এই কথাটা শুনে অবধি ভদ্রলোক বড্ডই সিঁটিয়ে আছেন। আমাকে বলেওছেন যে, কলকাতা শহরে লক্ষ-লক্ষ লোক থাকতে কেন যে ‘হারামজাদাটা’ তাঁরই পকেটে জাল-নোট গুঁজে দিল, “কোনও মানে হয় মশাই?”

    তো যা বলছিলুম। গ্রেটার কৈলাস যেমন ছিমছাম পরিচ্ছন্ন পাড়া, অমুর ফ্ল্যাটটিও তেমনি প্রশস্ত ও পরিপাটি। আসলে একটা চারতলা বাড়ির গোটা তিনতলা জুড়ে এই ফ্ল্যাট। বোঝাই যাচ্ছে যে, ম্যাক্রো কনস্ট্রাকশান ইন্টারন্যাশনাল থেকে এই তিনতলাটা ভাড়া নিয়ে তাদের ডিভিশনাল ম্যানেজারের জন্য সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। অমু যে এখানে এরই মধ্যে বেশ গুছিয়ে বসেছে, তাও বোঝা যায়। হঠাৎই আবার মনে হল যে, বিদেশে যাক আর না-ই যাক, এ-ছেলে আর কলকাতায় ফিরছে না।

    না-ফেরার আরও একটা কারণ সম্ভবত এই যে, অমুর বউ সুলেখা বাঙালি বটে, তবে প্রবাসী বাঙালি পরিবারের মেয়ে, পিত্রালয় জয়পুরে, শুনলুম ইস্কুল জীবন সেখানে কাটিয়ে পরে বাপের বদলির চাকরির সুবাদে দিল্লি চলে আসে। সুলেখার কলেজ-জীবন অতএব দিল্লিতেই কেটেছে। বিয়ের পরে কলকাতায় এক-আধবার গিয়েছে বটে, তবে স্বাভাবিক কারণেই দিল্লি তার কাছে যতটা নিজের জায়গা, কলকাতা তার সিকির সিকিও নয়। ছেলে রুনুও দেখলুম বাংলা বিশেষ বলে না। তিন বছরের বাচ্চা। বাংলায় কিছু জিজ্ঞেস করলে বোঝে ঠিকই, কিন্তু উত্তর দেয় ইংরেজিতে। সেই ইংরেজির মধ্যে মাঝে-মাঝে হিন্দিও ঢুকে যায়। ঠেট হিন্দি। কিন্ডারগার্টেনে যতক্ষণ থাকে, সেই কয়েক ঘন্টা ছাড়া বেশির ভাগ সময় বেয়ারা বাবুর্চিদের কথাই শোনে তো, তা হলে আর বাংলা শিখবে কোত্থেকে। নাঃ আমিতাভর আর কলকাতায় ফেরার কোনও সম্ভাবনাই নেই।

    সম্ভবত ভাদুড়িমশাই আগে থাকতেই আপত্তি জানিয়ে রেখেছিলেন, অমিতাভ তাই বড় মাপের আয়োজন করেনি। সাদাসিধে বাঙালি খাওয়া। ডাল, ভাজা, একটা তরকারি আর মাছ। সবশেষে দই-মিষ্টি। খাওয়ার পর্ব শেষ হবার পর বারান্দায় বসে কথা হচ্ছিল। এ-ফ্ল্যাটের দু’দিকে দুটি ঘেরা বারান্দা। একটা সামনের রাস্তার দিকে। অন্যটা পিছনে। সেখান থেকে নীচের লন ও বাগান দেখা যায়। বাগানে আলো জ্বলছিল। গোটা দুয়েক আলো নাকি সারা রাতই জ্বলে, দিনের আলো ফুটলে নিবিয়ে দেওয়া হয়।

    কথা শুরু হয়েছিল দেশের অবস্থা নিয়ে। রাজনীতি, অর্থনীতি, শেয়ার বাজার ૭ গ্লোবালাইজেশনের চক্করে ঘুরপাক খেয়ে শেষপর্যন্ত সেটা কারগিল-প্রসঙ্গে এসে কেন্দ্রীভূত হয়। অমু বলে, “কারগিলে ওরা আমাদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়েছিল, তবে সুবিধে করতে পারেনি, পাল্টা-মার খেয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু ওরা চুপ করে বসে নেই। আমাদের একটা এয়ারবাস কীভাবে হাইজ্যাকড হল, তা তো দেখলেনই, সেইসঙ্গে কাশ্মীরের অবস্থাটাও দেখুন, মামাবাবু সরাসরি… আই মিন সামনা-সামনি এঁটে উঠতে পারেনি বলে চোরাগোপ্তা হামলা সমানে চালিয়েই যাচ্ছে। এমন একটা দিনও কি যায়, কাগজে যেদিন কাশ্মীরে কোনও নতুন হামলার খবর থাকে না?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “শুধু কাশ্মীর কেন, আমাদের দেশের আরও নানান জায়াগায় যে ওরা চক্রান্তের জালটাকে বেশ বড় করেই ছড়িয়েছে, তাতে আমার সন্দেহ নেই। দেশটাকে ডিস্ট্যাবিলাইজ করে দিতে চাইছে তো, এই যে জাল-নোটের কথা হচ্ছিল, এও তো সেই চক্রান্তেরই একটা অংশ। তার উপরে আবার জুটেছে এই জাল-সিরিঞ্জের বিপদ।…বাই দ্য ওয়ে, এ-ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দেবার জন্য যে অ্যাড-ক্যাম্পেন তোমরা চালাচ্ছ,সেটা কি শুধু দিল্লির কথা ভেবেই করছ নাকি?”

    “না না, শুধু দিল্লির কথা ভেবে এটা করা হচ্ছে না।” অমু বলল, “ক্যাম্পেনের এটা ফার্স্ট ফেজ। মোট ছ’টা বড় শহরে এটা চলবে। দিল্লি কলকাতা, মুম্বই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ আর বাঙ্গালোর।”

    আমি বললুম, “কিন্তু ক্যাম্পেনের ভাষা কি এই একই থাকবে নাকি?”

    “না, কিরণমামা। ইংরেজি অবশ্য থাকবেই। তবে হিন্দির বদলে অন্য-সব শহরে আসবে সেখানকার আঞ্চলিক ভাষা। কলকাতায় বাংলা, মুম্বইয়ে মরাঠি, চেন্নাইয়ে তামিল, হায়দরাবাদে তেলুগু আর বাঙ্গালোরে কন্নড়। যেমন কাগজের বিজ্ঞাপনে, তেমনি হোর্ডিংয়ে।”

    সুলেখা এতক্ষণ ভিতরেই ছিল। সে ভিতর থেকে বারান্দায় এসে একটা চেয়ার টেনে বসতে ভাদুড়িমশাই বললেন, “ছেলেকে ঘুম পাড়িয়ে এলে?”

    “হ্যাঁ।” সুলেখা হেসে বলল, “ঘুমের আগে একটা গল্প বলতে হয়, নইলে ঘুমোতে চায় না।” আমি বললুম, “কাল থেকে তো আবার ওর ইস্কুল!”

    কথাটার জবাব না-দিয়ে অমুর দিকে তাকাল সুলেখা। যেভাবে ভুরু কুঁচকে তাকাল, তাতেই বুঝলুম, ইস্কুলের ব্যাপারে কিছু-একটা অস্বস্তির কারণ ঘটেছে।

    অমু বলল, “ভাবছি রুনুকে এখন কয়েকটা দিন ইস্কুল পাঠাব না।”

    “কেন? শরীর খারাপ?”

    “না।” আমতা-আমতা করে অমু বলল, “ঠিক তা নয়।”

    “তা হলে?” আমি বললুম, “আমরা অবিশ্যি তিন বছর বয়েসের একটা দুধের বাচ্চাকে এইভাবে ইস্কুলে পাঠাবার কথা ভাবতেও পারতুম না, কিন্তু তোমরা এ-কালের বাপ-মা, তোমাদের চিন্তা-ভাবনা যে অন্যরকম, তা আমরা খুব ভালই জানি। কিন্তু সে-কথা থাক, বাচ্চার শরীর যখন খারাপ নয়, জ্বরজারি হয়নি, তখন তাকে ইস্কুলে পাঠাচ্ছ না কেন?”

    অমু কোনও উত্তর দিল না, চুপ করে বসে রইল। মনে হল, সে খুব অস্বস্তির মধ্যে পড়েছে। হঠাৎই সরু হয়ে এল ভাদুড়িমশাইয়ের চোখ। একটুক্ষণ একেবারে একদৃষ্টিতে তিনি অমিতাভর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর নিচু কিন্তু স্পষ্ট গলায় বললেন, “কেউ ভয় দেখিয়ে চিঠি লিখেছে? শাসিয়েছে যে, ওকে ইস্কুল থেকে তুলে নিয়ে যাবে?”

    “হ্যাঁ।” অমু বলল, “তবে চিঠি নয়, ফোন। আজ বিকেলেই বাড়িতে ফোন করে হুমকি দিয়েছে।”

    “আজই বিকেলে? কিন্তু তোমার তো তখন বাড়িতে থাকার কথা নয়, তুমি তখন সফদরজঙ্গের গেস্ট হাউসে ছিলে। আমাদের সঙ্গে কথা বলছিলে।”

    “ঠিকই বলেছেন, মামাবাবু। আমি তখন বাড়িতে ছিলুম না। ফোনটা সুলেখা ধরেছিল।” সুলেখার দিকে তাকালেন ভাদুড়িমশাই। বললেন, “যে ফোন করেছিল, সে পুরুষ না মেয়ে?”

    “পুরুষ।” সুলেখা বলল, “প্রথমেই কয়েকটা গালাগাল দিল। বিচ্ছিরি গালাগাল। এমন বিচ্ছিরি যে, সে আমি মুখে আনতে পারব না। তারপর হেসে বলল, মুন্না তো বহোত্ পেয়ারা হ্যায় না, স্কুলসে উসকো উঠা লেঙ্গে।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “এই কথাটা হেসে বলল?”

    “হ্যাঁ, কিন্তু সে এমন হাসি যে, শুনলে বুক শুকিয়ে যায়।”

    অমু বলল, “আমার ধারণা, এ সেই একই লোক, মামাবাবু। দফতরে ফোন করে আমাকে বলেছিল যে, হোর্ডিংগুলো তিন দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে। এর কথা আপনাকে বলেছি।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমার মনে আছে। ভয় পেয়ো না, অমু। তবে হ্যাঁ, ছেলেকে তুলে নেবে বলে যখন হুমকি দিয়েছে, তখন রুনুকে এখন দিন-কয়েক ইস্কুলে না-পাঠানোই ভাল।… আর ইয়ে… একটা কথা জিজ্ঞেস করা হয়নি, কাল সকালে কি বাইরের কোনও লোক এ-বাড়িতে এসেছিল?”

    “সকালে মানে কখন?”

    “এই ধরো ন’টা-দশটা নাগাদ।”

    “নট দ্যাট আই নো অব।” অমু একটু ভেবে নিয়ে বলল, “সকাল সাড়ে আটটায় আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেসলাম। ফিরতে ফিরতে বারোটা বেজে যায়। মাঝখানে সাড়ে তিন ঘন্টা সময়। জানি না তার মধ্যে কেউ এসেছিল কি না। তবে সুলেখা তো বাড়িতেই ছিল, ও হয়তো বলতে পারবে।”

    টুকিটাকি কয়েকটা কাজ সারতে সুলেখা এর মধ্যে বারান্দা থেকে উঠে ভিতরে চলে গিয়েছিল। অমু ডাকতে ফের বারান্দায় ফিরে এল। ভাদুড়িমশাইয়ের প্রশ্ন শুনে বলল, “তেমন কেউ না। তবে হ্যাঁ, টেলিফোন-এক্সচেঞ্জ থেকে একজন মেকানিক এসেছিলেন বটে। আমাদের রিসিভারটা কোনও গণ্ডগোল করছে কি না জিজ্ঞেস করতে আমি বলি যে, বড় কোনও গণ্ডগোল নয়, এই মাঝেমধ্যে কড়কড় করে একটা জারিং সাউন্ড হয়। শুনে তিনি রিসিভারটা পালটে দিয়ে যান।”

    অমু বলল, “বলো কী, আমি তো টেলিফোন-এক্সচেঞ্জে কোনও কমপ্লেন করিনি। স্রেফ নিজে থেকে লোক পাঠিয়ে ওরা রিসিভার পালটে দিয়ে গেল? বাব্বা, দেশটার হল কী! এ তো ভাবাই যায় না।”

    ভাদুড়িমশাই একটা সিগারেট ধরিয়েছিলেন। সেটা শেষ করলেন। তারপর বললেন, “এবারে উঠতে হবে। যাবার আগে একটা কথা জিজ্ঞেস করি। তুমি কী ঠিক করলে? জাল-সিরিঞ্জ নিয়ে তোমাদের ক্যাম্পেনটা আশা করি থামিয়ে দেবে না?”

    “মোটেই না।” অমু বলল, “শুরু যখন একবার করেছি, তখন এর শেষ দেখে ছাড়ব। তা আমাকে যতই ভয় দেখাক।”

    ভাদুড়িমশাই স্পষ্টতই খুশি হলেন। বললেন, “ভেরি গুড।…শোনো অমু, নিজেকে নিয়ে তোমার ভয় নেই, সে আমি জানি। বাকি রইল তোমার বউ আর ছেলে। কিন্তু ওদের নিয়েও ভয় কোরো না। আমি তো আছি। এ-ব্যাপারে যা করবার, আমি ঠিকই করব। ইন ফ্যাক্ট, আমার কাজ এর মধ্যে শুরুও হয়ে গেছে।”

    একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন ভাদুড়িমশাই। তারপর অনেকটা আত্মগতভাবে বললেন, “এদিকে জাল-সিরিঞ্জ, ওদিকে জাল-নোট। কী জানি কেন আমার মনে হচ্ছে যে, দুয়ের মধ্যে যোগসূত্র একটা আছেই।…পদ্ম মারা গেছে, এবারে কার পালা? কপালে-কাটা-দাগওয়ালা সেই লোকটার? কিন্তু পদ্মর আগে তো তারই মরার কথা ছিল।”

    চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়লেন ভাদুড়িমশাই। বললেন, “আর নয়, চলুন এবারে গেস্ট হাউসে ফেরা যাক।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্টোরিজ – নিল গেইম্যান
    Next Article ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }