Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প927 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জাল-ভেজাল – ৮

    ৮

    ভাদুড়িমশাই বিদায় নেবার পর কিচেনে ফোন করে আমাদের ঘরে এক পট কফি পাঠিয়ে দিতে বলি। মিনিট দশেকের মধ্যে কফি এসে যায়। সদানন্দবাবুর উপদেশ অনুযায়ী অনেক বছর ধরেই আমি দুধচিনি না-মিশিয়ে চা খাচ্ছি। নাকি ওতে অ্যাসিডিটি হয় না। তবে কফিটা ওইভাবে খেতে পারি না, বড্ড তেতো লাগে। সদানন্দবাবু আগে কফি খেতেন না, আজকাল খাচ্ছেন। কফিতে অবশ্য তাঁরও দুধচিনি চাই। দুটো পেয়ালায় কফি ঢেলে, দুধচিনি মিশিয়ে, একটা পেয়ালা ওঁর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললুম, “কেমন বুঝছেন?”

    কফিতে একটা চুমুক দিয়ে বেজার মুখে ভদ্রলোক বললেন, “এর আর বোজাবুজির কী আচে। যে গাড্ডায় পড়িচি, ভালয় ভালয় উদ্ধার পেলে হয়।”

    বললুম, “ভয় পাবেন না।”

    “ভয় কি সাধে পাচ্চি।” কফিতে আর-একটা চুমুক দিয়ে, যেন কফি নয়, চিরতা-ভেজানো জল খেয়েছেন, এই রকমের মুখ করে সদানন্দবাবু বললেন, “ও যে আমাদের পদ্মই, এ আমি হলপ করে বলতে পারি। এখন এই খুনের ব্যাপার নিয়ে পুলিশ না আমাকে টানাটানি করে। কে জানে, পুলিশ হয়তো এতক্ষণে আমাদের বাড়িতে এসেও গেচে। আমার ওয়াইফকে জিজ্ঞেস করে জেনেও গেচে যে, আমি দিল্লিতে চলে এসেছি। এখন এই কলকাতা ছেড়ে চলে আসাটাকে তারা কীভাবে নেবে? আমি পালিয়ে এসিচি, এমন ভাববে না তো?”

    আমিও যে ঠিক এই ভয়টাই পাচ্ছি, ভদ্রলোককে তা আর বললুম না। বললে, উনি আরও ঘাবড়ে যাবেন। তাই যথাসম্ভব স্বাভাবিক গলায় বললুম, “তা নিশ্চয় ভাববে না। লোকে তো কাজেকর্মেও বাইরে যায়। যাবার দরকার হয় বলেই যায়। আর তা ছাড়া, সুরিন্দর তো আপনার ব্যাপারে শোভনের সঙ্গে কথা বলেছেই। ভাদুড়িমশাইও বললেন যে, আজ দুপুরে লালবাজারে ফোন করে শোভন চৌধুরির সঙ্গে কথা বলবেন। সেইসঙ্গে অমুর কথাটাও ভাবুন। সমস্যা যেমন আপনার, তেমনি অমুরও। দু’দুবার তার উপরে হামলা হয়েছে, ফোনে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কই, সে তো আপনার মতো ঘাবড়ে যায়নি।”

    নেতিয়ে-পড়া ভিতু মানুষও দেখেছি অনেক সময় হঠাৎ-হঠাৎ তেতে ওঠে। অমুর কথায় সদানন্দবাবুও হঠাৎ দুম করে তেতে উঠলেন। বললেন, “ঠিক, ঠিক, অমু ইজ এ কারেজাস ইয়ং ম্যান! আমাকেও ওই রকমের কারেজাস হতে হবে। আমি তো কোনও দোষ করিনি। তা হলে ভয় পাব কেন?”

    “তা হলে চলুন, বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসা যাক। সবে তো এগারোটা বাজে। চমৎকার ওয়েদার, পাড়াটাও ভাল, একটু ঘুরে এলে দিব্যি লাগবে। লাঞ্চ একটায়, তার মানে আমাদের হাতে এখনও দু’ঘণ্টা সময়। চলুন, বেরিয়ে পড়া যাক।”

    ভেবেছিলুম, ভদ্রলোকের মন-মেজাজের এই যে একটা পরিবর্তন ঘটে গেছে, তাতে বাইরে যাবার প্রস্তাবটা তিনি লুফে নেবেন। কোথায়! সদানন্দবাবু হঠাৎ আবার সেই আগের মতোই নেতিয়ে পড়ে বললেন, “না মশাই, বাইরে গিয়ে কাজ নেই।”

    “কেন?”

    “সকালে তো একবার বেরিয়েছিলুম। তখন একটা ব্যাপার দেখিচি, সেটা আমার খুব ভাল ঠেকেনি।”

    “কী দেখেছিলেন?”

    “কাছেই একটা পান-সিগারেটের দোকান আচে, চোখে পড়েচে?”

    “পড়েছে। তাতে কী হল?”

    “তা হলে শুনুন। ভোরবেলায় যখন মর্নিং ওয়াক করতে বেরোই, দুটো লোক তখন ওই দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। একটা লোক ফর্সা আর বেঁটে, অন্যজন আবলুশ কাঁঠের মতো কালো আর ঢ্যাঙা। তো আমি তাদের পাশ দিয়ে খানিকটা পথ হেঁটে গিয়ে তো একটা পার্কে গিয়ে ঢুকলুম। ঢুকে চক্করও দিলুম গোটা দশেক। তাতে ঘণ্টা খানেক লাগল। তা আমার মনে হল, ঘণ্টা খানেক যখন হেঁটেচি, তখন নিশ্চয় মাইল তিনেক হাঁটা হয়ে গেচে, তা হলে আর হেঁটে কাজ নেই, ওভার-এক্সারসাইজ হয়ে যাবে। এই ভেবে আমি পার্ক থেকে বেরিয়ে আবার এখেনে ফিরে আসি। তো ফিরে আসার সময় কী দেকলুম জানেন?

    “আপনি না-বললে কী করে জানব? কী দেখলেন?”

    “দেকলুম যে, সেই লোক দুটো তখনও ওই পানের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আচে, আর নিজেদের মধ্যে কথা বলতে-বলতে মাঝে-মাঝে আমাদের এই বাড়িটার দিকে তাকাচ্চে।”

    আশ্চর্য ব্যাপার! দুটো লোক একটা পানের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে গল্প করছে, এ তো খুবই স্বাভাবিক। এতে বিচলিত হবার কী আছে!

    কথাটা সদানন্দবাবুকে জিজ্ঞেস করতে তিনি বললেন, “বাঃ, আপনি তো অদ্ভুত লোক! আরে মশাই, দাঁড়িয়ে থাক না, কিন্তু এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে কেন, আর মাঝে-মাঝে ত্যাড়চা চোখে এই বাড়িটার দিকে তাকাবেই বা কেন? সন্দেহজনক ব্যাপার নয়?”

    ‘ত্যাড়চা চোখে’ কথাটা আগে বলেননি, এটা এবারে যোগ করলেন। সন্দেহ নেই যে, এর পরে যখন আবার এই ঘটনার কথাটা উঠবে, সদানন্দবাবু তখন আরও দু’চারটে নতুন-নতুন কথা যোগ করবেন। আপাতত এইটে বুঝলুম যে, সদানন্দবাবুর বাইরে বেরুবার ইচ্ছে নেই। অগত্যা কী আর করা, পায়জামা তো পরাই ছিল, তার উপরে একটা পাঞ্জাবি চাপিয়ে আমি একাই বেরিয়ে পড়লুম।

    গেস্ট হাউসের গেট পেরিয়ে রাস্তায় পড়ে ডাইনে তাকিয়ে দেখি, তাজ্জব কাণ্ড, পানের দোকানের সামনে সত্যি দুটো লোক তখনও দাঁড়িয়ে আছে। একজন মোটামুটি ফর্সা আর বেঁটে, অন্যজন মিশমিশে কালো আর ঢ্যাঙা। ঠিক যেমনটি সদানন্দবাবু বলেছিলেন। দুজনেরই পরনে খাটো ময়লা পায়জামা আর হাফশার্ট। তফাত এই যে, ফর্সা লোকটির হাফশার্টের রং নীল আর কালো লোকটি সাদায়-লালে চেক-কাটা একটা শার্ট পরে আছে। দুজনের পায়েই টায়ার-কাটা রবারের মোটা চপ্পল। ঠেট হিন্দিতে নিচু গলায় দুজনে গল্প করছিল আর হাসছিল।

    আমার সিগারেট ফুরিয়ে গিয়েছিল। পানের দোকান থেকে এক প্যাকেট সিগারেট আর একটা ম্যাচবাক্স কিনলুম। তারপর দোকানিটিকে জিজ্ঞেস করলুম যে, এখানে ধারেকাছে কোনও অটো-স্টান্ড আছে কি না। দোকানি লোকটি হাসিখুশি। দোকান থেকে সামনে একটু মুখ বাড়িয়ে বাঁ দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল, “ওই দিকে খানিকটা এগোলেই একটা ইস্কুল-বাড়ি দেখবেন, তার পাশের গলিতেই অটো দাঁড়ায়।”

    আমি একটু হেসে ‘বহোত সুকরিয়া ভাইসাব’ বলে বাঁ দিকে এগিয়ে গেলুম। যেতে-যেতে খানিক বাদে একবার ফিরে তাকাতে চোখে পড়ল যে, দোকানের সামনে সেই লোক দুটো তখনও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।

    ইস্কুলের পাশের সরু গলিটা সত্যিই একটা অটো-স্ট্যান্ড। গোটা পাঁচ-সাত অটো সেখানে লাইন লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। লাইনের একেবারে সামনের চালকটিকে হাত তুলে ইঙ্গিত করতেই সে তার গাড়ি নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়াল। কলকাতা হলে প্রথমেই সম্ভবত জিজ্ঞেস করত যে, আমি কোথায় যাব। গন্তব্যস্থলটা তার পছন্দ হলে যেত, নয়তো যেত না। এ কোনও প্রশ্ন করল না, আমি সিটে উঠে বসবার পর পিছন ফিরে আমার দিকে একবার তাকাল মাত্র। চাউনির অর্থটা পরিষ্কার, সওয়ারি কোন দিকে যেতে চান, সেটা জানালে সে ঠিক করে নিতে পারে যে, কোন রাস্তা ধরবে। আসলে আমি যে বিশেষ কোথাও যেতে চাইছিলুম, তা নয়। গেস্ট হাউসে বসে থাকতে ভাল লাগছিল না বলে বেরিয়ে পড়েছি, ভাবছি যে, ঘণ্টা দেড়েক এ-দিকে ও-দিকে ঘুরে আবার গেস্ট হাউসে ফিরে যাব। অটো-চালককে খোলাখুলি সে-কথা জানালুমও। বললুম, “দ্যাখো ভাই, দিল্লিতে আমি নতুন আসছি না, তবে এ-দিকটায় এর আগে কখনও থাকিনি। তো এক কাম করো, দেড়-দো ঘন্টেকে লিয়ে তুম মুঝে থোড়া ইস ইলাকেকো সয়ের করাও, উসকে বাদ ফির ইয়াহাঁ হি হামকো ছোড় দেনা।”

    আমার হিন্দি শুনে সবাই হাসে। কিন্তু এ-লোকটিকে তো হাজার রকমের সওয়ারি সামলাতে হয়, তাদের কারও-কারও মুখে নিশ্চয়ই এর চেয়েও নড়বড়ে হিন্দি শুনে থাকবে, তাই হাসল না। গম্ভীর মুখে ‘ঠিক হ্যায় সাব’ বলে অটোতে স্টার্ট দিতেই সেটা প্রচুর ধোঁয়া ও শব্দ উদ্‌গিরণ করে আর সেইসঙ্গে কয়েকটা ঝাঁকুনি মেরে চলতে শুরু করল। এমন মোক্ষম ঝাঁকুনি যে, অটোর ছাউনির লোহার একটা রড একেবারে তৎক্ষণাৎ আঁকড়ে না-ধরলে হয়তো আসন থেকে রাস্তার উপরে ছিটকে পড়তুম।

    খানিক এগোতেই একটা পার্ক। সদানন্দবাবু কি এই পার্কেই আজ সকালে মর্নিং ওয়াক করে গেছেন? কী জানি, সেটা হয়তো অন্য পার্কও হতে পারে। পার্কের তো এখানে কিছু কমতি নেই। মিনিট তিনেকের মধ্যেই সফদরজং এনক্লেভের চৌহদ্দি ছাড়িয়ে আমরা বড়রাস্তায় গিয়ে পড়লুম, আর তখনই, রাস্তার মোড়ে চোখে পড়ল একটা বিশাল হোর্ডিং। কাল সকালে এয়ারপোর্ট এলাকায় যে হোর্ডিংটা আমরা দেখেছিলুম, এটা তার হিন্দি সংস্করণ। ছবিটা আলাদা। মায়ের কোলে ছোট্ট একটা বাচ্চা, আর সেই বাচ্চাকে ইঞ্জেকশান দেওয়া হচ্ছে। ছবির উপরে নাগরী লিপিতে বড়-বড় হরফে লেখা : ইয়ে সুঁই নয়া হ্যায় কেয়া? ছবির তলায় হিন্দি ভাষায় আরও কিছু লেখা। সিগন্যাল পেয়ে আমাদের অটো তাড়াতাড়ি এগিয়ে গেল বলে লেখাটা আর পুরো পড়তে পারলুম না। লেখার তলায় আর-একটু বড় হরফে বিজ্ঞাপনদাতার নামটা দেওয়া হয়েছে বলে সেটা অবশ্য পড়ে নেওয়া গেল। ম্যাক্রো কনস্ট্রাকশান ইন্টারন্যাশনাল।

    কাল যখন এয়ারপোর্ট থেকে সফদরজং এলাকায় এসে ঢুকি, এই হোর্ডিংটা তখন এখানে ছিল না। থাকলে নিশ্চয় চোখে পড়ত। তা হলে এটা কখন লাগানো হল? সম্ভবত কাল রাত্তিরে। রাত্তিরে রাস্তাঘাটে ভিড়ভাট্টা কম থাকে। অ্যাড-এজেন্সির লোকেরা হয়তো সেই জন্যেই এটা সেই সময়ে এসে লাগিয়েছে।

    অটো চলছে, আর আমি দেখে যাচ্ছি দু’দিকের চোখ-ধাঁধানো ঘরবাড়ি আর দোকানপাট। দিল্লিতে যখনই আসি, একটা ব্যাপার লক্ষ না-করে পারি না। যেমন চওড়া এখানকার রাস্তাঘাট, তেমনি ঝকঝকে-তকতকে সব দোকান। ঘরবাড়ির আর্কিটেকচারও নতুন ধাঁচের। আর গাড়ি! সবই প্রায় হাল-ফ্যাশনের। দেখে বোঝা যায়, এখানে যারা এ-সব পাড়ায় থাকে, পয়সা তাদের অঢেল, দু’হাতে যতই খর্চা করুক, তাদের ভাঁড়ারে কখনও টান পড়ে না। তাই বলে কি এই শহরে গরিব-গুর্বো নেই? আছে বই কি। বিস্তর আছে। নুন আনতে তাদের পান্তা ফুরোয়। তবে এ-সব মহল্লায় তারা থাকবে কী করে? তাদের এলাকা আলাদা। সে-সব এলাকা যে দেখিনি, তা তো নয়। তাও অনেক দেখেছি। এমন সব এলাকা, যেখানে দিনের বেলাতেও রোদ্দুরের প্রবেশ নিষেধ। যেখানে ঢুকলে দম আটকে আসার উপক্রম হয়।

    কিন্তু আমি তো এখন চলেছি বসন্তবিহারের রাস্তা দিয়ে। দু’দিকে চোখ বুলোতে বুলোতে চলেছি। আর যতই দেখছি, ততই তাক লেগে যাচ্ছে। কে বলবে যে, এটা গরিব, উন্নয়নশীল দেশ! এ তো উন্নতির একেবারে পরাকাষ্ঠা! দেশের কোটি-কোটি মানুষের জীবনে এই উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি ঠিকই, এটাও ঠিক যে, স্বাধীনতা লাভের পরে বাহান্ন-তিপ্পান্নটা বছর কেটে গেলে কী হয়, জনসাধারণের একটা মস্ত অংশ আজও দারিদ্র-রেখার নীচেই পড়ে আছে, আবার একইসঙ্গে বেশ কিছু লোকের পকেট যে রাতারাতি দারুণ রকমের ভারী হয়েছে, তাও তো চোখের সামনেই দেখছি।

    এইসব ভাবতে-ভাবতেই একবার মনে হল যে, আর এগোনো বোধহয় ঠিক হবে না। গেস্ট হাউসে ফিরতে দেরি হয়ে যাবে। হাতঘড়িতে বারোটা বাজে। তা হলে আর দেরি না-করে ফেরাই ভাল। অটোওয়ালাকে বললুম, “আব ওয়াপস চলো, ভাইসাব।”

    ফিরতি-পথে কিছুক্ষণের জন্য একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলুম। চমক ভাঙল অটোওয়ালার কথায়। “দেখিয়ে সাব ক্যা হো রহা হ্যায়।”

    যা দেখলুম, সেটা চমকে যাওয়ার মতোই ব্যাপার বটে। বড়রাস্তা থেকে সফদরজং এনক্লেভে ঢোকার মুখে যেখানে অমুদের সেই হোর্ডিং লাগানো হয়েছে তার সামনেই রাস্তার ধারে হাতে ঝোলা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বারো-চোদ্দো বছরের গুটি পাঁচ-সাত ছেলে। যে যার ঝোলা থেকে একটার-পর-একটা ঢ্যালা বার করছে তারা, আর সমানে সেই হোর্ডিংয়ের দিকে ছুড়ে যাচ্ছে। অটো থেকে লাফিয়ে নেমে আমি বাধা দিতে যাচ্ছিলুম। কিন্তু নামা হল না। অটোওয়ালা ছেলেটি আমার হাত চেপে ধরে চাপা গলায় বলল, “কুছ মাত কহিয়ে সাব, মুশকিল হোগা।” বলে সে আর দেরি করল না। অটোর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ফের তাতে স্টার্ট দিয়ে সে একটা গলির মধ্যে ঢুকে পড়ল। তারই মধ্যে পিছন ফিরে দেখলুম, চকোলেট রঙের একটা মারুতি ভ্যান একেবারে হঠাৎই সেখানে এসে দাঁড়িয়েছে। ভ্যানের দরজা খুলে যেতেই ছেলেগুলো তার মধ্যে হুড়মুড় করে উঠে পড়ল। ভ্যানটা তার পরে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। যে-দিক থেকে এসে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়েছিল, সেই দিকেই ফের ছুটে বেরিয়ে গেল। হোর্ডিংটা ঝুলতে লাগল একটা ছেঁড়া পতাকার মতো। গোটা ব্যাপারটা ঘটে যেতে দু’মিনিটও লাগল না।

    গেস্ট হাউসে ফিরে দেখি, ভাদুড়িমশাই আমাদের ঘরে বসে সদানন্দবাবুর সঙ্গে কথা বলছেন। ঢিল ছুড়ে অমুদের হোর্ডিংটার দফা রফা করে দেবার ব্যাপারটা তাঁকে বললুম। সব শুনে তিনি বললেন, “অটোওয়ালা যে আপনাকে আটকেছিল, ছেলেগুলোকে বাধা দিতে দেয়নি, সেটা সে ভালই করেছে। ওদের বাধা দিলে কী হত জানেন? হোর্ডিংয়ের দিকে ঢিল না ছুড়ে আপনার মাথা তাক করে ছুড়ত। …না না, ওরা বাচ্চা-ছেলে হতে পারে, কিন্তু ওদের পিছনে পাকা মাথা রয়েছে। ওই যারা ভ্যানে করে ওদের ওখানে পাঠিয়েছিল, তারপর আবার ভ্যানে করে জায়গামতো ফিরিয়েও নিয়ে গেছে, তারা। রাত্তিরে আবার আর-এক দল ছেলেকে তারা আর-এক জায়গায় পাঠাবে। আরে মশাই, এই অ্যাড-ক্যাম্পেনে কাদের স্বার্থে ঘা পড়েছে, সেটা বোঝেন না? এ-সব কাজ তারাই করাচ্ছে।”

    খিদে পেয়ে গিয়েছিল। বললুম, “একটা তো বাজে। খেতে যাবেন না?”

    “যাব।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “কিন্তু কলকাতার কাগজ এসে গেছে, একবার চোখ বুলিয়ে নিন। তিনের পাতায় একটা খবরে দাগ দিয়ে রেখেছি, সেটা পড়তে ভুলবেন না।”

    কথাটা যে-ভাবে বললেন, তাতে তিনের পাতাটাই আগে খুলতে হল। দাগ দেওয়া খবরটি এই রকম :

    স্টাফ-রিপোর্টার, ১২ মার্চ—আজ রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ পার্ক সার্কাস কানেক্টর ও বালিগঞ্জ কানেক্টরের মধ্যবর্তী একটি জায়গায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বাইপাসের ধারে একটি মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। বছর ত্রিশ-চল্লিশের একটি পুরুষের মৃতদেহ। পুলিশের ধারণা, লোকটিকে খুন করে চলতি কোনও গাড়ি থেকে ওখানে নিক্ষেপ করা হয়। লোকটির কপালে পুরনো একটি ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।

    খবরের শেষ লাইনটা পড়ে আমি চমকে উঠে ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে তাকালুম। তিনি মৃদু হেসে বললেন, “চলুন, খেতে যাওয়া যাক।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্টোরিজ – নিল গেইম্যান
    Next Article ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }