Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প927 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শান্তিলতার অশান্তি – ৬

    ৬

    কৌশিক বলল, “যুগলবাবুর সঙ্গে তো দেখা হল না। তাঁর বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে আমি রামগোপাল স্ট্রিট থেকে বেরিয়ে আসি। বেলা তখন সওয়া একটা। বাড়ি থেকে সেই যে ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়েছিলুম, তার পরে তো আর পেটে কিছু পড়েনি, খুব খিদে পেয়ে গেসল।”

    সদানন্দবাবু তালুতে জিভ ঠেকিয়ে ‘চুকচুক’ করে একটা শব্দ করে বললেন, “আহা রে! খিদের জ্বালা বড্ড জ্বালা। তোমাদের এই লাইনে দেকচি কষ্টের শেষ নেই!”

    “থামুন তো!” ভাদুড়িমশাই সদানন্দবাবুকে কড়া গলায় একটা ধমক দিয়ে কৌশিকের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, “তারপরে কী হল তা-ই বল, তোর খিদে পেয়েছিল কি পায়নি, সে-সব আজেবাজে কথা আমরা শুনতে চাই না।”

    কৌশিক কাতর গলায় বলল, “তা বললে হয় মামাবাবু? আমার পেটে তখন আগুন জ্বলছিল যে!”

    “ঠিক আছে, আগুন জ্বলছিল। তো তারপরে কী হল?”

    “তারপরে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের একটা ধাবায় ঢুকে একপেট রুটি-তড়কা খেয়ে ধীরেসুস্থে যখন মহেশ ঘোষাল লেনে গিয়ে ঢুকলুম, ঘড়িতে তখন ঠিক দুটো।”

    “তার মানে রামগোপাল স্ট্রিট থেকে জায়গাটা খুব দূরে নয়!”

    “যুগলবাবু যে রাস্তায় থাকেন, তার কথা বলছ তো? …না না, দূরে কেন হবে, কাছেই। হাঁটাপথে এই ধরো মিনিট পনেরো কুড়ি। এটাও…মানে এই মহেশ ঘোষাল লেনও চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ থেকেই বেরিয়েছে। তবে ওই রামগোপাল স্ট্রিট থেকে ফার্দার নর্থ।”

    “সেখানে গিয়ে কী দেখলি?”

    “যা আশা করেছিলুম, তা-ই দেখলুম। রাস্তা ফাঁকা, লোকজন বলতে গেলে নেই। শুধু রাস্তার মোড়ে দুটো রিকশাওলা তাদের টানা-রিকশার ছাউনি তুলে দিয়ে তার তলায় গদির উপরে কুকুর-কুণ্ডুলি হয়ে ঘুমুচ্ছে, একজন ভেন্ডার তার আইসক্রিমের চাকাওয়ালা গাড়ির হাতল ধরে রাস্তা দিয়ে চলেছে, আর যে বাড়ির সামনে খুনটা হয়েছিল তার রোয়াকে বসে ঝিমুচ্ছে একজন কনেস্টবল। বাস, বাদবাকি রাস্তায় আর কাউকে দেখলুম না।”

    “খুনের জায়গাটা চিনলি কী করে?” ভাদুড়িমশাই বললেন, “স্রেফ ওই কনেস্টবলটিকে দেখে?”

    “না মামাবাবু।” কৌশিক বলল, “শুধু ওকে দেখে নয়। রোয়াকের সামনে রাস্তার খানিকটা জায়গা দেখলুম লম্বালম্বি….এই ধরো ছ’ফুট বাই তিন ফুট…খান কয়েক ইট সাজিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। তাতে বোঝা গেল, লাশটা ওখানেই পড়েছিল। রক্ত-টক্তের দাগ অবশ্য দেখলুম না, সে-সব ধুয়ে ফেলতে পুলিশের লোকেরা দেরি করেনি।”

    “তোকে দেখে কনেস্টবলটি কিছু বলল না?”

    “আইসক্রিমের ভেন্ডারটিকে কিছু বলেনি, কিন্তু আমাকে দেখবামাত্র হাতের লাঠি ঠুকে আমার সামনে এসে বলল, কাহাঁ জাওগে? তাতে আমি পকেট থেকে আমার আইডেন্টিটি কার্ড বার করে ওর নাকের ডগায় উঁচিয়ে ধরে বললুম, লালবাজার থেকে আসছি, পুলিশের লোক, চুপচাপ নিজের কাজ করে যাও, আর হ্যাঁ, চারদিকে বেশ ভাল করে নজর রাখো।”

    আমি বললুম, “তোমার কার্ডটা একবার পড়েও দেখল না? দেখলেই তো বুঝতে পারত যে, ওটা সি. বি. আই. …মানে চারু ভাদুড়ি ইনভেস্টিগেশনসের আইডেন্টিটি কার্ড, তুমি পুলিশের লোক নও।”

    “হয় ইংরিজি পড়তে পারে না, নয়তো আমি লালবাজারের লোক শুনেই ঘাবড়ে গেসল। সঙ্গে-সঙ্গে বুটে বুট ঠুকে, কপালে হাত ঠেকিয়ে বলল, সেলাম সাব, ম্যয় তো চারো তরফ নজর রাখ রহা হুঁ। আমিও আর কথা না বাড়িয়ে, মহেশ ঘোষাল সেকেন্ড বাইলেনটা আর কতটা এগিয়ে, সেটা ওরই কাছে জেনে নিয়ে চটপট সেখান থেকে সরে পড়লুম।”

    সদানন্দবাবু হাসছিলেন। হাসতে-হাসতেই বললেন, “বোজো ব্যাপার! আমরা ভয় পাই পুলিশকে, আবার পুলিশ ভয় পায় লালবাজারকে!”

    হাসছিলেন ভাদুড়িমশাইও। ভাগ্নেকে একটা কপট ধমক দিয়ে বললেন, “এ সব ওস্তাদি বার-বার করিস না, ধরা পড়ে গেলে কেলেঙ্কারির একশেষ হবে। শোভন তো বলেই ফেলল যে, এর মধ্যে একটা বাইরের লোক নাক গলিয়েছে। তুই সেটা শুনলিও। তা একবার যখন সন্দেহ হয়েছে, তখন বাইরের লোকটি যে কে, সেটা না জেনে কি ও ছাড়বে নাকি?”

    কৌশিক বলল, “কিন্তু নিজেকে যদি না লালবাজারের লোক বলতুম, ওই কনেস্টবলটি তো আমাকে তা হলে আর এগোতেই দিত না। ওখান থেকে ফিরে আসতে হত। তখন তুমিই বলতে যে, কৌশিক একটা অপদার্থ, এই সামান্য কাজটাও ওর দ্বারা হবার নয়।”

    “ঠিক আছে, শোভন তোকেই সন্দেহ করেছে কি না, তা নিয়ে পরে ভাবা যাবে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “এখন বল থার্টিন বাই থ্রি-এ মহেশ ঘোষাল সেকেন্ড বাইলেনের বাড়িটা ঠিক খুঁজে পেয়েছিলি তো?”

    “তা কেন পাব না?”

    “বাড়িতে লোকজন ছিল?”

    ছেলেপুলে নেই। তাই বাড়িতে তাদের থাকারও কোনও প্রশ্ন ওঠে না। থাকার মধ্যে ছিলেন কল্যাণ রায়ের বউ আর এক শালা। কলিং বেল টিপতে বউটিই দোতলা থেকে নীচে নেমে দরজা খুলে দেন। আমি কে, জানতে চাইলে সেই একই কথা বলি। অর্থাৎ আমি পুলিশের লোক, লালবাজার থেকে আসছি। শুনে ভদ্রমহিলা বলেন, তিনি তাঁর স্বামীর দেহ শনাক্ত করে এসেছেন, তখনই লোক্যাল থানার বড়বাবু তাঁকে ঘণ্টা দুয়েক জেরা করে যা জানার ছিল সব জেনে নিয়েছেন, তা হলে এখন আবার পুলিশ তাঁর কাছে নতুন করে কী জানতে চায়।”

    “তাতে তুই কী বললি?”

    “বললুম, আমরা পুলিশে কাজ করলেও অমানুষ নই, তাঁর এই শোকের সময়ে আমি তাঁকে জেরা করতে আসিনি। লালবাজারে আমাদের একটা স্পেশাল ফান্ড আছে, কল্যাণবাবুর কাছ থেকে নানা সময়ে নানা কাজে আমরা অনেক সহযোগিতা পেয়েছি, সেই কারণে সেই ফান্ড থেকে তাঁর পরিবারের হাতে কিছু তুলে দেবার জন্যই আমাকে পাঠানো হয়েছে। টাকার পরিমাণটা অবশ্য যৎসামান্য, তবে কল্যাণবাবুর স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা যদি সেটা দয়া করে গ্রহণ করেন, তো আমরা কৃতার্থ হব।”

    “তখন-তখন এসব কথা বানিয়ে বললি?”

    “বললুম।” কৌশিক বলল, “তা নইলে তো বাড়ির মধ্যে এন্ট্রিই পেতুম না, বাইরে থেকেই চলে আসতে হত। কিন্তু তুমি তো আমাকে বাড়িটা ভাল করে দেখে আসতেই বলেছিলে। তা-ই না?”

    “তা বলেছিলুম। কিন্তু তারপর কী হল?”

    “ভদ্রমহিলা বললেন, তাঁদের ছেলেপুলে নেই, কল্যাণ রায়ের স্ত্রী হিসেবে তিনিই টাকাটা নেবেন। তাতে আমি বললুম, টাকাটা তো রাস্তায় দাঁড়িয়ে দেওয়া যাবে না, সই-সাবুদের ব্যাপার আছে, একটু কোথাও বসবার সুবিধে থাকলে ভাল হত। এই কথা শুনে ভদ্রমহিলা একটু ইতস্তত করলেন, তারপর যেন খুব অনিচ্ছাসত্ত্বেও বলছেন এইভাবে বললেন, ঠিক আছে, তা হলে দোতলায় আসুন।”

    “তার মানে কল্যাণ রায় তার বউকে নিয়ে দোতলায় থাকত?”

    “দোতলায় কেন, গোটা বাড়িটাই তো কল্যাণ রায়ের। তবে একতলায় মনে হল কেউ থাকে না। জানালা-দরজা বন্ধ, ভ্যাপসা, অনেকটা গুদাম-ঘরের মতো। দোতলায় ওঠার সময় বউ ছাড়া আর-একজনকে দেখলুম। পুরুষ। বয়েস মনে হল বছর তিরিশেক হবে। দোতলা থেকে কল্যাণ রায়ের বউকে দেখে সে বলল, ‘আমি ভাবলুম দাদা এল বুঝি,’ তারপর বউটির পিছন-পিছন সিঁড়ি দিয়ে আমাকে উপরে উঠতে দেখে চুপ করে গেল।”

    শান্তিলতা এতক্ষণ চুপ করে সব শুনছিলেন। এবারে জিজ্ঞেস করলেন, “মহিলাটিকে দেখতে কেমন?”

    “কালো, লম্বা, চাউনি দেখলে রাগী টাইপের বলে মনে হয়, সামনের নীচের পাটির একটা দাঁত ভাঙা…”

    কৌশিককে থামিয়ে দিয়ে শান্তিলতা বললেন, “বাস্ বাস্, আর বলতে হবে না, চিনতে পেরেছি।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “ইনিই নাইন্টিফাইভের গোড়ার দিকে আপনার আপিসে গিয়ে হামলা করেছিলেন?”

    “হ্যাঁ। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন মস্তান টাইপের দুটো ভাইকে। হুমকি দিয়ে বলেছিলেন যে, আমি যদি ওঁর সংসার ভাঙি তো উনিও আমাকে উচিত শিক্ষা দিয়ে ছাড়বেন।”

    “ভাই দুটোকে দেখতে কেমন?”

    “ওই যে বললুম, মস্তান টাইপের। তার মধ্যে যেটা বড়, তার কটা চোখ, কানে রিং, চুল কামানো, হাতে স্টিলের বালা। ছোটটার বয়েস বছর কুড়ি, ঘাড় অব্দি চুল, আঙুলে একটা চাবির রিং ঘোরাতে-ঘোরাতে কথা বলছিল।”

    কৌশিক বলল, “আমি সম্ভবত ছোটটাকেই দেখেছি। তার কথা শুনে মনে হল, দাদাটি অনেকক্ষণ বাড়িতে নেই বটে, তবে সে তারই ফিরে আসার অপেক্ষায় আছে।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “বউটিকে কত দিলি?”

    “এক হাজার।” কৌশিক বলল, “প্রথমে ভেবেছিলুম শ-পাঁচেক দেব। কিন্তু পরে ভেবে দেখলুম লালবাজার, স্পেশ্যাল ফান্ড ইত্যাদি সব বড়-বড় কথা বলার পরে যদি অন্তত হাজার না খসাই তো ব্যাপারটা বিশ্বাসযোগ্য হবে না। …এটা কিন্তু আমার নিজের গাঁট থেকে খসিয়েছি, মামাবাবু, রিইমবার্স করে দিয়ো।”

    “তা দেব, কিন্তু রসিদ লিখে রেভিনিউ স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নিয়েছিস তো?”

    “তা নিয়েছি। বউটি সই করলেন। ভাইটিকে উইটনেস হিসেবে সই করতে বলেছিলুম। তো সে ব্যাটা নিরক্ষর, তাই টিপছাপ দিয়েছে।”

    “ঠিক আছে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “এবারে বাড়িটার একটা ভিভিড ডেসক্রিপশন দে। … এক কাজ কর, মুখে না বলে ওটা বরং তুই লিখে ফ্যাল। যা তোর চোখে পড়েছে, কিছু বাদ দিবি না। ….কোথায় দরজা, কোথায় জানলা, সদরে কিংবা দোতলার সিঁড়ির মুখে কোথাও কোলাপসিবল গেট আছে কি না, বারান্দা, ঝুল-বারান্দা…বেশিক্ষণ তো ছিলি না, তার মধ্যে যেটুকু যা দেখেছিস, সব লিখবি। মানে আমি যদি ওখানে যাই, তো জায়গাটা যেন আমার অচেনা মনে না হয়। অন্ধকারেও যেন সব চিনতে পারি।”

    সদানন্দবাবুর চোখ প্রায় কপালে উঠে গেসল। ঢোক গিলে তিনি বললেন, “অ্যাঁ, রাত্তিরে ওই বাড়িতে আপনি যাবেন নাকি?”

    শান্তিলতাও প্রায় একই কথার সংক্ষিপ্ত প্রতিধ্বনি করে বললেন, “যাবেন?”

    ভাদুড়িমশাই শান্ত নিরুত্তেজ গলায় বললেন, “বোধ হয় যাব। বাড়িটা একবার দেখা দরকার।”

    “তাই বলে রাত্তিরে যাবেন?”

    “উপায় কী।” ভাদুড়িমশাই শান্তিলতার দিকে তাকিয়ে বললেন, “কল্যাণ রায়ের বউ আর দুই শালার যা বর্ণনা আপনার মুখে কালও শুনেছি, আবার আজও শুনলুম, তাতে তো মনে হয়, দিনের বেলায় গেলে ওরা আমাকে ঢুকতেই দেবে না। তাই ভাবছি যে, ওরা ঘুমিয়ে পড়লে মাঝরাত্তিরে গিয়ে ঢুকব। …ওরে কৌশিক, ডেসক্রিপশনটা পরে লিখিস বাবা, এখন বরং সংক্ষেপে বল যে, বাড়িটা কেমন দেখলি।”

    কৌশিক খাতা-কলম নিয়ে লিখতে শুরু করেছিল, সে-সব একপাশে সরিয়ে রেখে বলল, “খুব সংক্ষেপে বলতে হলে বলব যে, দোতলাটা কেমন হবে, একতলা দেখে তা আমি কল্পনাই করতে পারিনি। দুটো তলার মধ্যে একেবারে আকাশপাতাল ফারাক। মহেশ ঘোষাল সেকেন্ড বাইলেন হচ্ছে একটা স্যাতা-পড়া, হাড়-পাঁজরা বার-করা, গোবরের গন্ধে ভরা এঁদো গলি। থার্টিন বাই থ্রি-এ বাড়িটা তথৈবচ। পলেস্তারা খসা নোনা-ধরা বাড়ি। একতলাটা এত অন্ধকার যে, চব্বিশ ঘণ্টাই লাইট জ্বেলে রাখলে ভাল হয়। আরশোলা আছে, শব্দ শুনে মনে হল ইঁদুরও আছে অগুন্তি। গুমোট ভ্যাপসা দমবন্ধ অ্যাটমসফিয়ার। কিন্তু একতলা থেকে যেই না দোতলায় এলুম, কী বলব মামাবাবু, ঝপ করে যেন আর-একটা জগতের দরজা আমার সামনে খুলে গেল। আমার মনে হতে লাগল, আমি আর নর্থ ক্যালকাটার কোনও বাইলেন-টাইলেনে নেই, ফুসমন্তরে কোনও একটা মালটি-ন্যাশনাল কোম্পানির বড় সাহেবের অ্যাপার্টমেন্টে এসে ঢুকে পড়েছি। কিংবা ধরো, বর্ষাকালের জলে ভরা মিশকালো মেঘের রাজ্য ফুঁড়ে একটা জেট প্লেন যখন ঝলমলে নীল আকাশে গিয়ে ঢোকে, তখন তার প্যাসেঞ্জারদের অবস্থা যেমন হয়, আমার অবস্থাও হল ঠিক সেইরকম।”

    কৌশিক সম্ভবত আরও দু’চারটে তুলনা টানত। কিন্তু দাঁতে দাঁত ঘষে, পেল্লায় একটা ধমক দিয়ে ভাদুড়িমশই বললেন, “থাম! কাব্যি ছেড়ে বল যে, দোতলাটা কী রকম!”

    “বলছি।” কৌশিক বলল, “একতলার দেওয়ালে পলেস্তারা খসে পড়ছে, অথচ দোতলার দেওয়ালে পঙ্কের কাজ। আগাগোড়া প্লাস্টার অব প্যারিসের প্রলেপ। আইভরি ফিনিশ। দুটো ঘর দেখেছি। দুটোরই ওয়াল টু ওয়াল পুরু কার্পেট। সোফা, কৌচ, সেন্টার টেবিল—সবই টপ ক্লাস। জল খাওয়ার অছিলায় বউটির পিছনে-পিছনে গিয়ে কিচেনে উঁকি মেরে থ হয়ে যাই। মাইক্রোওভেন থেকে ওটিজি, সেখানে নেই হেন গ্যাজেট নেই। ইন্টিরিয়র ডেকোরেটরের সাহায্য ছাড়া ও ভাবে বাড়ি সাজানো যায় না, মামাবাবু। বেশ ভাল রকমের পয়সা খর্চা করেছে।”

    “তার মানে টাকাকড়ির অভাব নেই।” বলে একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন ভাদুড়িমশাই। মনে হল কিছু একটা কথা ভেবে নিলেন। তারপর মৃদু হেসে বললেন, “অভাব নেই, অথচ লালবাজারের স্পেশ্যাল ফান্ড থেকে দিচ্ছিস বলে যে-টাকাটা তুই সাহায্য হিসেবে দিলি, সেটা হাত পেতে নিতে কোনও আপত্তি করল না?”

    “আপত্তি কী বলছ, আমার পকেট থেকে টাকাটা বার করে এগিয়ে ধরতেই ভদ্রমহিলা একেবারে ছোঁ মেরে নিয়ে নিলেন।”

    “এর দুটো ব্যাখ্যা হতে পারে। এক, টাকাটা নেবার ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু লালবাজার থেকে পাঠিয়েছে শুনে আপত্তি করতে সাহস পায়নি।”

    আমি বললুম, “আর দু’নম্বর ব্যাখ্যা?”

    “মান-সম্মান নয়, টাকাটাই ওঁর কাছে বড় ব্যাপার। বউটি লোভী।”

    কৌশিক বলল, “দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটাই ঠিক বলে মনে হচ্ছে। ভদ্রমহিলা লোভী।”

    “আমারও তা-ই ধারণা।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “যা-ই হোক, একটা কথা তোকে জিজ্ঞেস করা হয়নি। বাড়িতে শুধু ওই বউটি আর তার ভাই ছাড়া কাউকে দেখলি না? মানে কোনও কাজের লোক টোক?”

    “না। চোখে পড়েনি। আর তা ছাড়া গেসলুম তো দুটো-আড়াইটের সময়। ওই সময়ে কোনও ঠিকে লোক কি থাকে? তারা সকালে এসে এক-আধ ঘণ্টা কাজ করে চলে যায়, তারপরে ফের এলেও সেই বিকেলে আসে। হোলটাইমের লোক হলে অবশ্য ওই সময়ে থাকতে পারত। হয়তো ছিলও। তবে আমি দেখিনি। হয়তো কোথাও পড়ে-পড়ে ঘুমোচ্ছিল।”

    এই পর্যন্ত বলে, একটু থেমে থেকে, কৌশিকই ফের বলল, “দাঁড়াও, দাঁড়াও, একটা কথা তোমাকে বলা হয়নি, মামাবাবু। ভদ্রমহিলাকে টাকাটা দিয়ে, কাঁচা রসিদে সই করিয়ে ফের তো তাঁরই সঙ্গে নীচে নামি। তিনিই সদর-দরজা খুলে দেন। তো তাঁকে নমস্কার করে যখন বেরিয়ে আসছি, বাইরে থেকে একটা লোক সেই সময় ভিতরে এসে ঢোকে। ভদ্রমহিলার সঙ্গে কোনও কথা না বলে সে তাঁর পাশ দিয়ে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির দিকে চলে যায়।”

    “কাজের লোক?”

    “হাঁটার ধরন দেখে তা মনে হল না। তা ছাড়া, কাজের লোকেরা কি মালকিনের সামনে সিগারেট ফোঁকে? লোকটা সিগারেট খাচ্ছিল। ভদ্রমহিলাকে দেখেও সেটা লুকোবার চেষ্টা করেনি।”

    “লোকটা কি বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিল?”

    “হতে পারে। তবে কলিং বেল বাজায়নি। হয়তো বাজাত, কিন্তু ভদ্রমহিলা ঠিক সেই সময়েই দরজা খুলে দেন বলে আর বেল বাজাবার দরকার হয়নি।”

    “ছোট ভাইটাকে তো দোতলায় দেখেছিলি,” ভাদুড়িমশাই বললেন, “কে জানে এটাই তার দাদা কি না!”

    শান্তিলতা বললেন, “মাথা কামানো? কটা চোখ?”

    “একতলাটা এত অন্ধকার যে, তার মধ্যে কার চোখের রং কেমন, তা খেয়াল হবার কথা নয়, আমার হয়ওনি।” কৌশিক বলল, “তবে মাথা ন্যাড়া নয়, দিব্যি লম্বা চুল।”

    ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “মিসেস মিত্র, নাইন্টিফাইভের গোড়ায় আপনি কল্যাণ রায়ের শালা দুটোকে দেখেছিলেন। কিন্তু সে তো ছ’বছর আগের ব্যাপার। বড় শালাটির মাথা তখন কামানো ছিল বলেই যে আজও সেইরকমই থাকবে, এটা ভাবছেন কেন?”

    সেলফোন বেজে উঠল। সেটাকে টেবিল থেকে তুলে কানে চেপে ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমি ভাদুড়ি কথা বলছি। …শোভন? কী ব্যাপার?”

    মিনিট পাঁচেক কথা হল। একতরফা কথা। ভাদুড়িমশাই শুনে যাচ্ছেন মাত্র, আর মাঝেমধ্যে হ্যাঁ-হুঁ দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু কিছুই বলছেন না। একেবারে শেষের দিকে হাতঘড়িটা দেখে নিয়ে বললেন, “এখন সাড়ে সাতটা বাজে, তুমি আটটা নাগাদ চলে আসতে পারবে? …বেশ, তা হলে চলে এসো। আমি আছি।”

    লাইন কেটে দিয়ে সেলফোনটা ফের সেন্টার টেবিলে নামিয়ে রাখলেন ভাদুড়িমশাই। তারপর শান্তিলতার দিকে তাকিয়ে বললেন, “যা শুনলুম, সংক্ষেপে বলছি। পুলিশের ধারণা, কল্যাণ রায়ের খুনের ব্যাপারে একজন নয়, বাইরের দু’ দুজন লোক নাক গলিয়েছে। তাদের একজন কৌশিক। অন্য জন সম্পর্কে শোভন কিছু বলল না। শোভন সন্দেহ করছে আপনাকেও। ওর ধারণা, এই খুনের ব্যাপারে আপনিও জড়িত। তবে এমন ধারণা কীসের ভিত্তিতে হল শোভন তা জানায়নি। তা না-ই জানাক, আমার মনে হচ্ছে, কাল-পরশুর মধ্যে ওরা আপনাকে অ্যারেস্ট করতে পারে। …না না, ভয় পাবেন না, আমি আপনাকে একজন ল-ইয়ারের নাম আর ফোন নম্বর লিখে দিচ্ছি।”

    এক টুকরো কাগজে দ্রুত হাতে দু’লাইন লিখে কাগজটা শান্তিলতার হাতে ধরিয়ে দিয়ে ভাদুড়িমশাই তাঁর আগের কথার জের টেনে বললেন, “এঁর সঙ্গে আজই রাতে যোগাযোগ করে বলুন যে, আপনি আমার ক্লায়েন্ট, ইনি কাল সকালেই আপনার আগাম জামিনের ব্যবস্থা করে দেবেন। …এখন আপনি যান। একটু বাদেই শোভন এসে পড়বে। আপনি থাকলে তার কথা বলার অসুবিধে হতে পারে।”

    চিরকুটটা হ্যান্ডব্যাগে ঢুকিয়ে শান্তিলতা বিদায় নিলেন। ভাদুড়িমশাই বললেন বটে, ‘ভয় পাবেন না’, কিন্তু ভদ্রমহিলার মুখ দেখে বোঝা গেল তিনি বিলক্ষণ ভয় পেয়েছেন।

    মিনিট কয়েক চুপচাপ কাটল। তারপর আমি আর সদানন্দবাবু উঠে পড়বার উপক্রম করছি দেখে ভাদুড়িমশাই বললেন, “একটু বসে যান, দেখি শোভন কী বলে। যা বলার, আপনাদের সামনেই বলুক।”

    কৌশিক বলল, “তাঁর তো আসার সময় হয়ে এল। তার আগে তোমাকে একটা কথা জানানো দরকার, মামাবাবু। মিসেস মিত্রের সামনে বলতে চাইনি। আজ দুপুরে দেখা তিনটে ব্যাপার নিয়ে আমি একটু ভাবনায় পড়ে গেছি।”

    “কী দেখলি?”

    “প্রথম ব্যাপার ওই আইসক্রিমের ভেন্ডার। সে তো ফিরিওয়ালা, মাল বিক্রি করার জন্য ফিরিওয়ালারা চেঁচায়, সে কিন্তু ‘আইসক্রিম, আইসক্রিম’ বলে একবারও হাঁক পাড়েনি। দ্বিতীয় ব্যাপার হল কল্যাণ রায় তো সদ্য মারা গেছে, অথচ তার বউয়ের মুখে একটুও শোকের চিহ্ন নেই। আর তৃতীয় ব্যাপারটা হল কল্যাণের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার সময় বাইরে থেকে যে লোকটিকে ভিতরে ঢুকতে দেখি, তার পরনে ছিল ট্রাউজার্সের সঙ্গে জাস্ট একটা হাতকাটা স্যান্ডো গেঞ্জি। জামা ছিল না।”

    ভাদুড়িমশাইয়ের চোখ দুটো দেখলুম হঠাৎই ভীষণ সরু হয়ে এসেছে। চাপা গলায় তিনি বললেন, “তা-ই?”

    কলিং বেল বেজে উঠল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্টোরিজ – নিল গেইম্যান
    Next Article ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }