Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প927 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কামিনীর কণ্ঠহার – ২

    ২

    আজ দোসরা মে, বৃহস্পতিবার। হাতঘড়িতে দেখছি, রাত এখন এগোরোটা। আমি আর সদানন্দবাবু একই ঘরে আছি। সদানন্দবাবু ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমার ঘুম আসছে না। টেবিল ল্যাম্প জ্বেলে গত দু’দিনের কথা লিখে রাখছি, নইলে পরে হয়তো ভুলে যাব।

    তিরিশে এপ্রিল মঙ্গলবার ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের সকালের ফ্লাইটে দিল্লি আসি। গ্রেটার কৈলাসের বিকাশ বিশ্বাস আমার অতি স্নেহের পাত্র, অনেক দিনের বন্ধুও বটে। কলকাতা থেকে রওনা হবার আগের দিন ফোনে তাকে আমাদের দিল্লি যাওয়ার কথা জানিয়ে রেখেছিলুম ঠিকই, তবে তাই বলে সে যে গাড়ি নিয়ে এয়ারপোর্ট চলে আসবে, তা ভাবিনি। বিকাশ ধরে বসল যে, তার বাড়িতেই উঠতে হবে। তা অবশ্য ওঠা হল না। চিত্তরঞ্জন পার্কের কালীবাড়ির লাগোয়া যে একটা চমৎকার গেস্ট হাউস হালে বানানো হয়েছে, ভাদুড়িমশাই আগে থাকতেই সেখানে দুটো ঘর বুক করে রেখেছিলেন, ফলে সেখানেই উঠতে হয়।

    বিকাশই অবশ্য সেখানে পৌঁছে দেয় আমাদের।

    যেমন কালীবাড়ি, তেমন বাগান, তেমন লন। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। বোশেখ মাস, কড়া রোদ্দুর, অথচ লনের ঘাস এতটুকু হলদে হয়ে যায়নি। বোঝা যায়, মেনটেন্যান্সে কোথাও এতটুকু ত্রুটি নেই। সদানন্দবাবু তো বলেই ফেললেন যে, পারলে তিনি তাঁর বাদবাকি জীবনটা এখানেই কাটিয়ে দিতেন। “এ তো স্বর্গরাজ্য মশাই!” এই কথাটা অবশ্য কাল বিকেলে হরিদ্বারে ও হৃষীকেশেও তিনি বলেছেন, আবার আজ দুপুরে নরেন্দ্রনগরে ও বিকেলবেলায় ডুণ্ডা ভ্যালিতে পৌঁছেও তিনি রিপিট করেছেন।

    এখন আবার আগের কথায় ফিরে যাই। গ্রেটার কৈলাস থেকে চিত্তরঞ্জন পার্কের দূরত্ব নেহাতই সামান্য। সন্ধেবেলায় এসে বিকাশ আমাদের তাই তার গ্রেটার কৈলাসের বাড়িতে টেনে নিয়ে যায়, তারপর রাতের খাওয়া খাইয়ে সে-ই আবার আমাদের ফিরিয়ে দিয়ে যায় কালীবাড়ির গেস্ট হাউসে। ইতিমধ্যে হৃষীকেশে যাওয়ার ট্যাক্সির ব্যবস্থাও করে রাখা হয়েছিল। তিরিশে এপ্রিল রাতটা আমরা চিত্তরঞ্জন পার্কে কাটাই। পরদিন সকালে সেখানেই স্নান আর ব্রেকফাস্ট করি। তারপর গেস্ট হাউসের বিল মিটিয়ে কালীবাড়ির টিলা থেকে নীচের রাস্তায় নেমে দেখি, ট্যাক্সি এসে গেছে।

    ট্যাক্সিওয়ালার নাম ইন্দরলাল। বয়েস বছর পঁচিশ-তিরিশের বেশি হবে না। হরিয়ানার হট্টাকাটা জোয়ান যুবক। সে-ই গাড়ির মালিক, চালকও সে-ই। ইন্দরলালের মেজাজটাও ভাল, নইলে কি আর গাড়ি চালাতে-চালাতে অমন গুনগুন করে গান গায়। এইখানে একটা কথা বলে রাখি। ইন্দরের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে যে, যতদিন না আমরা দিল্লি ফিরছি, ইন্দরও ততদিন আমাদের সঙ্গেই থাকবে। তা সাতুই মে’র আগে তো আমরা দিল্লি ফিরে কলকাতার প্লেন ধরছি না, সেই কটা দিন ইন্দর যদি আমাদের কাজে বহাল থাকে তো ভালই, কাছাকাছি কয়েকটা জায়গা থেকে একটু ঘুরে আসা যাবে

    যা বলছিলুম। দিল্লিতে খুচরো কয়েকটা কাজ সেরে নিয়ে আমরা হৃষীকেশের পথে রওনা দিলুম। এই রাস্তায় আমি আগেও দু’বার এসেছি। একবার ভাদুড়িমশাইয়ের সঙ্গে, একবার একা। মোদীনগর, মুজফফরনগর, রুরকি ইত্যাদি সব জায়গা পার হয়ে হরিদ্বার পৌঁছতে-পৌঁছতে দুপুর গড়িয়ে যায়। সেখানে দুপুরের খাওয়া সেরে নিই। খাওয়ার আগে সদানন্দবাবু বায়না ধরেছিলেন যে, হরকি পৈরিতে তিনি লোহার শেকল ধরে গঙ্গাস্নানটা সেরে নেবেন। ভাদুড়িমশাইয়ের আপত্তিতে সেটা সম্ভব হয়নি। ঘাটের ধারে একটা গলিতে ঢুকে বাসমতী চালের ভাত, অড়হর ডাল আর রাজমা’র একটা তরকারি দিয়ে নিরামিষ মধ্যাহ্নভোজ সমাধা হল। শেষপাতে যে টক দইটা দিয়েছিল, সেটাও খারাপ লাগল না।

    রাতটা হৃষীকেশে কাটাই। কলকাতার বাইরে গেলে সাধারণত আমরা দুটো ঘর নিয়ে থাকি। একটা ছেড়ে দিই ভাদুড়িমশাইকে। অন্যটায় থাকি আমি আর সদানন্দবাবু। এবার অনেক চেষ্টা করেও হৃষীকেশের কোনও হোটেলে দুটো ঘর পাওয়া গেল না। যাত্রী-সংখ্যা হঠাৎ নাকি ভীষণ বেড়ে গেছে, সর্বত্র ভিড়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে এখানকার পার্বতী নিগমের ট্যুরিস্ট লজে একটা থ্রি-বেডেড রুম নিতে হল। বাথরুম একটা বলে একটু অসুবিধে হল বটে, কিন্তু ঘরটা খোলামেলা, তার উপর কাচের জানলায় গিয়ে দাঁড়ালে পাহাড় চোখে পড়ে। সন্ধে নামার আগেই লজ থেকে বেরিয়ে,খানিক হেঁটে, লছমন ঝুলা পেরিয়ে গঙ্গার ওপার থেকে দিব্যি ঘুরেও আসা গেল। পুরি আর সবজি সহযোগে নৈশাহারও ওপারেই সমাধা করেছি। হাঁটাহাঁটি কম হয়নি। লজে ফিরে বিছানায় গা ঢেলে দেওয়া মাত্ৰ ঘুমে দু’চোখ জড়িয়ে এল।

    আজ দোসরা মে একটু দেরিতে ঘুম ভেঙেছিল। ভাদুড়িমশাই অবশ্য সাত সকালে বিছানা থেকে উঠে পড়েছেন। দাড়ি কামিয়ে, স্নান সেরে এক চক্কর ঘুরেও এসেছেন এরই মধ্যে। লজে ফিরে তিনিই আমাদের ঘুম ভাঙান। হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি, আটটা বাজে। বেশ শীত। ভাদুড়িমশাইয়ের তো বরফ-ঠান্ডা জলেও স্নান করতে কোনও অসুবিধে হয় না। কিন্তু যেমন আমার, তেমন সদানন্দবাবুরও গরম জল চাই। সেটা জোগাড় করতে অবশ্য বেগ পেতে হয়নি। চৌকিদারকে ডেকে তার হাতে একটা পাঁচ টাকার কয়েন গুঁজে দিতেই এক বালতি গরম জলের ব্যবস্থা হয়ে যায়। চটপট স্নান আর প্রাতরাশ সেরে নিয়ে, লজ ছেড়ে আমরা ন’টা নাগাদ বেরিয়ে পড়ি।

    হৃষীকেশের সামনে নদী, পিছনে পাহাড়। পাহাড়কে বেড় দিয়ে উঠে গেছে চকচকে কালো পিচের রাস্তা। সেই ঘোরানো রাস্তায় পাক খেতে-খেতে ইন্দরলালের গাড়ি একেবারে পাহাড়চূড়ায় গিয়ে পৌঁছল। নীচের দিকে তাকালে শুধুই পাহাড়, খাত, শীর্ণ দু-একটি ঝর্না আর গাছপালা ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না, তবু মনে হয় যেন হৃষীকেশের একেবারে মাথায় আমরা চড়ে বসেছি। জায়গাটা আসলে একটা ছোট্ট শহর। নাম নরেন্দ্রনগর। ছিমছাম পরিপাটি জায়গা। দেখতে অনেকটা দার্জিলিঙের ম্যালের মতো। শহরের মাঝমধ্যিখানে একটা মার্কেট প্লেসও চোখে পড়ল। ট্যাক্সি থামিয়ে ভাদুড়িমশাই এক কার্টন সিগারেট কিনলেন। পথের ধারে একটা দোকানে ঢুকে চা’ও খাওয়া হল। তারপর ফের উতরাই।

    নীচে নেমে সমতলভূমি। মাঝে-মাঝে ছোট-ছোট জনবসতি। এবড়ো-খেবড়ো পাথরের বাড়ি, খাপরার চাল। একটার পরে একটা বসতি পার হয়ে যাচ্ছি। হিন্দোলা, আগরখাল, ফাকট, জাজলস, নাগনি, চামুয়া, টিহারি, গোদিসরাই, চলদিয়ানা, জাম, নাগুন–নামের ফলকগুলি চোখের সামনে ভেসে উঠেই ফের ছিটকে পিছনে চলে যাচ্ছে, কোনও কিছুই ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। না ঘরবাড়ি, না গেরস্থালি, না মানুষজন।

    দেখতে দেখতে ধরাসু বলে একটা জায়গায় পৌঁছে গেলুম। পথ এখান থেকে তিন দিকে চলে গেছে। পিছনের রাস্তা ধরে নরেন্দ্রনগরে ফিরে যেতে পারি। বাঁ দিকের রাস্তা চলে গেছে যমুনোত্রীর দিকে, আর গঙ্গোত্রীর দিকে যেতে হলে ধরতে হবে ডান দিকের পথ। আমরা ডান দিকের পথ ধরি। গঙ্গোত্রী দূরের ব্যাপার। তার অনেক আগে পড়বে উত্তরকাশী শহর। আমরা অবশ্য উত্তরকাশীতেও যাব না। তার আগে পড়বে ডুণ্ডা ভ্যালি। আপাতত সেখানেই আমাদের যাত্রা শেষ হবে

    একটা কথা বলতে ভুলেছি। ধরাসুতে আগেই বেশ কয়েকটা বরফে ঢাকা পাহাড়চূড়া আমাদের চোখে পড়েছিল। কিন্তু চোখ ভরে সেগুলো দেখব কী! মাঝখানে ভাদুড়িমশাই যে-ই একবার উত্তরকাশীর নাম করেছেন, সদানন্দবাবু অমনি চমকে উঠে বললেন, “সে কী, এখানে আবার কাশী এল কোত্থেকে?”

    ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “কাশী কি আর একটা? কাশী অনেক। কলকাতায় আছে কাশীপুর। তেমনি এখানেও আছে উত্তরকাশী।”

    “যেমন ধরুন শ্রীনগর।” আমি বললুম, “ওটা কাশ্মীরেও আছে, আবার হরিদ্বার থেকে বদ্রীনাথে যাবার পথেও আছে।”

    ইন্দরলাল বলল, “লঙ্কাকো নাম আপলোগ শুনা হোগা।”

    সদানন্দ বললেন, “হাঁ হাঁ, জরুর শুনা। য়হাঁ রাচ্ছস রহতা থা।”

    “দূর মশাই,” ভাদুড়িমশাই বললেন, “শুধু লঙ্কায় কেন, রাক্ষস-খোক্কস সব জায়গাতেই ছিল। কিন্তু সে-কথা হচ্ছে না। কথা হচ্ছে, লঙ্কাই কি মাত্র একটা নাকি?”

    ইন্দরলাল বলল, “উয়ো ভি দোঠো হ্যায়!”

    “অন্তত দুটো।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “তার মধ্যে একটার কথা তো আমরা সবাই জানি। ওই মানে কলম্বো যার রাজধানী, আর আমাদের সত্যেন দত্ত যাকে নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন—ওই সিন্ধুর টিপ সিংহল দ্বীপ কাঞ্চনময় দেশ।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “ঠিক আচে, ঠিক আচে, ওটার কতা সবাই জানে। অন্যটা কোতায়?”

    “এই রাস্তা দিয়ে গঙ্গোত্রী যাবার পথে পড়বে।” আমি বললুম, “সেখানে চড়াই-উতরাই ঠেঙিয়ে বেশ খানিকটা গিয়ে ভৈরবঘাটে পৌঁছতে হবে। স্রেফ হাঁটাপথ। নো ট্যাক্সি নো বাস।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “আপনি ও-পথে শেষ কবে গেসলেন?”

    “সত্তরের দশকে। নাইন্টিন সেভেন্টিফাইভে টু বি প্রিসাইজ।”

    “তখন হাঁটতে হত। এখন বোধহয় লঙ্কাতে ব্রিজ হয়ে গেছে। সারাসরি ওখান থেকে গাড়িতে করেই ভৈরবঘাট হয়ে গঙ্গোত্রী চলে যাওয়া যায়।”

    সদানন্দবাবু এতক্ষণে একটা মজার মন্তব্য করলেন। বললেন, “তার মানে সেই লঙ্কার মতন এই লঙ্কাতেও অ্যাদ্দিনে সেতুবন্ধন হয়ে গেচে?”

    “হওয়াই সম্ভব।…আরে, বাঁ দিকে দেখুন… দেখুন।”

    এতক্ষণ ডান দিকে তাকিয়ে ছিলুম, চোখ সেদিক থেকে ফেরানো যাচ্ছিল না। কী করে ফেরাব, অনেক সৌভাগ্য করে জন্মালে তবেই এমন একটা নদী দেখা যায়। পাথরে ভরা খাতের উপর দিয়ে নাচতে-নাচতে চলেছে স্বচ্ছ জলধারা। প্রচণ্ড স্রোত, ওর মধ্যে পড়লে হাতিও নিমেষে ভেসে যাবে। অপলক চোখে সেই জলধারাকেই দেখছিলুম আমি, ভাদুড়িমশাইয়ের কথায় চমক ভাঙল। বাঁ দিকে তাকিয়ে আর-এক চমক। হিমালয় একেবারে কাছে চলে এসেছে, আর তারই ঢালে পরপর ফুটে উঠছে বাড়িঘরের ছবি।

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “কেমন দেখছেন?”

    বললুম, “এই পথ দিয়ে আগেও তো গিয়েছি। কিন্তু যদ্দুর মনে পড়ছে, তখন এত বাড়িঘর ছিল না।”

    “এখন অনেক বেড়ে গেছে। যাওয়াই স্বাভাবিক। অনেকেই একটু নিরিবিলি শান্তিতে জীবন কাটাতে চায় তো, তারা ঠিকই খবর পেয়ে যায়।”

    “কারা থাকে এখানে?”

    “মোস্টলি রিটায়ার্ড আর্মি অফিসারস।…কী সদানন্দবাবু, থাকতে ইচ্ছে হয় এখানে?”

    সদানন্দবাবু বললেন, “জায়গাটার নাম কী?”

    “ডুণ্ডা ভ্যালি।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “কয়েকটা দিন এখন এখানেই থাকব। …ইন্দরলাল, সামনের বাঁ দিকে যে রাস্তাটা গেছে, ওখানেই গাড়ি ঘুরিয়ে ভিতরে ঢোকো।”

    ভ্যালিটা আদ্যন্ত পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। উঁচু পাঁচিল, তার উপরে কাঁটাতার। গেটটা ফুট বারো চওড়া। গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকেই কিন্তু বাধা পেতে হল। দেখলুম, চুঙ্গি কর আদায় করার জন্যে হাইওয়ের এ মুড়ো থেকে ও মুড়ো-অব্দি যেমন কাঠের ডাণ্ডা দিয়ে রাস্তা আটকে রাখা হয়, এখানেও ঠিক সেই রকমের ব্যবস্থা। ট্যাক্সি থামাতেই গেটের একদিকের সেন্ট্রি বক্স থেকে খাকি প্যান্ট আর সাদা শার্ট পরা একটি লোক বেরিয়ে এসে আমাদের গাড়ির পাশে দাঁড়াল। হিন্দিতে জিজ্ঞেস করল আমরা কার সঙ্গে দেখা করতে চাই।

    ভাদুড়িমশাইও ইতিমধ্যে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। তিনি তাঁর বন্ধুর নাম বলতেই যে আমরা ছাড়া পেলুম, তা নয়। সান্ত্রি তার পকেট থেকে একটা কর্ডলেস ফোন বার করে বোতাম টিপে কারও সঙ্গে কিছু কথা বলল। তারপর ওদিক থেকে জবাব শুনে বলল, “যাইয়ে…তেরা নাম্বার কোঠি।”

    রাস্তা থেকে ভাদুড়িমশাই আবার গাড়িতে উঠে পড়লেন। কাঠের ডাণ্ডা উপরে উঠে গেল। বাড়ি খুঁজতেও বেগ পেতে হল না। কেননা, খানিক এগোতেই চোখে পড়ল যে, এক ভদ্রমহিলা তাঁর বাড়ির সামনের লনে দাঁড়িয়ে রুমাল নাড়ছেন। অনুমান করে নিতে অসুবিধে হল না যে, গেট থেকে সান্ত্রিটি এঁকেই ফোন করেছিল, তা নইলে আর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের জন্যে ইনি অপেক্ষা করবেন কেন?

    আমরা সবাই গাড়ি থেকে নেমে পড়েছিলুম। ভাদুড়িমশাই এগিয়ে গিয়ে ভদ্রমহিলার দু’হাত ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন, “আমি আমার কথা রেখেছি, মিনি। কেমন আছিস?”

    ভদ্রমহিলা হেসে বললেন, “কেমন দেখছ?”

    “দশ বছর বাদে দেখছি বলে মনেই হচ্ছে না। অ্যাজ প্রিটি অ্যাজ এভার। ….আয়, আমার বন্ধুদের সঙ্গে তোর পরিচয় করিয়ে দিই।”

    ভাদুড়িমশাই আমাদের সঙ্গে ভদ্রমহিলার পরিচয় করিয়ে দিলেন। নাম তো একটু আগেই শুনেছি, এখন পুরো নাম শুনলুম। কামিনী রাসেল। এঁর স্বামী হারবার্ট রাসেল অবশ্য সাহেব নন, হিমাচল প্রদেশের মানুষ। আর্মিতে ডাক্তার ছিলেন। রিটায়ার করে এখানে জমি কিনে বাংলো বানিয়ে নিয়েছেন।

    “বার্টি কোথায়?” ভাদুড়িমশাই বললেন, “তাকে দেখছি না কেন?”

    ‘রোগী দেখতে গেছে।” কামিনী বললেন, “তোমরা আসার একটু আগে বেরিয়ে গেল।”

    “কখন ফিরবে?”

    “কিচ্ছু ঠিক নেই। মাইল দশেক দূরে একটা গ্রামে নাকি একই সঙ্গে জনা তিনেকের কলেরা হয়েছে। দরকার হলে রাত্তিরটা ও সেখানেই থেকে যাবে। ফিরতে-ফিরতে কাল সকাল। … কিন্তু তোমরা আর এখানে দাঁড়িয়ে থেকো না। ভিতরে চলো, হাতমুখ ধোও, কিছু খেয়ে নাও, তারপর কথা হবে।…ওহো, তোমাদের ট্যাক্সিটা কি ছেড়ে দেবে নাকি?”

    “না।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “ওর সঙ্গে কথা বলে নিয়েছি, আমরা এখানে যে কদিন আছি, ও আমাদের সঙ্গেই থাকবে। তোদের এখানে ড্রাইভারদের থাকার কোনও আলাদা ব্যবস্থা নেই? থাকলে ওকে দেখিয়ে দে।”

    “আছে।” কামিনী বললেন, “কিন্তু ওর আলাদা থাকার দরকার কী, আমাদের একতলাটা তো খালিই পড়ে থাকে, ও বরং সেখানেই থাকুক।”

    ইন্দরলালকে একতলায় তার ঘর দেখিয়ে দিয়ে আমরা দোতলায় উঠে আসি।

    বাংলোটার বর্ণনা দেওয়া দরকার। কিন্তু তার আগে ডুঙা ভ্যালির আরও একটু বর্ণনা দেওয়ার লোভ সামলাতে পারছি না।

    প্রথম দর্শনেই ভাল লেগে যাওয়ার ব্যাপারটা খুব নির্ভরযোগ্য নয়। এটা যেমন মানুষের সম্পর্কে, তেমনি সবকিছু সম্পর্কেই সত্য। কেন না, পরে যখন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি, তখন প্রথম দর্শনে যা খুব ভাল লেগেছিল, তার মধ্যে অনেক খুঁত বেরিয়ে পড়ে। ডুণ্ডা ভ্যালি সম্পর্কে কিন্তু কথাটা একটুও খাটছে না। জায়গাটাকে যে সেই উনিশশো পঁচাত্তর সালে প্রথম দেখেছিলুম, সে তো আগেই বলেছি। সেটা ছিল ঝলক-দর্শনের ব্যাপার। শিয়রে পাহাড়, সামনে বইছে স্বচ্ছতোয়া ভাগীরথী, গোমুখ থেকে নেমে আসা পার্বত্য যে নদীর জল সমতল ভূমির গঙ্গার মতো ঘোলাটে গেরুয়া নয়, কাকচক্ষুর মতো নির্মল। তার উপরে পড়েছে পড়ন্ত সূর্যের লাল আভা। সে এক অত্যাশ্চর্য রূপময় দৃশ্য। মনে হচ্ছিল আমি যেন এক অন্য জগতে এসে পৌঁছেছি। পূর্বজন্মের অনেক সুকৃতির ফলেই এমন একটা দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য আমার হল।

    সেই ভাল লাগার ব্যাপারটা কিন্তু এবারেও কমতি হল না। ডুণ্ডা ভ্যালিতে তখন ছিল মাত্র গুটি পঁচিশ-তিরিশ বাড়ি। সবই বাংলো প্যাটার্নের। দোতলা বাড়ি, সামনে লন। জায়গাটা তখন পাঁচিল দিয়ে ঘেরা ছিল না। এখন পাঁচিল উঠেছে। বাংলোর সংখ্যাও তা প্রায় একশো-দেড়শো হবে। উঁচু ভিতের উপরে হাত-পা-ছড়ানো বাংলো। প্রতিটি বাংলোর সামনে সেই আগের মতোই লন আর বাগান। লনের ঘাস মসৃণভাবে ছাঁটা; বাগান দেখলেও বোঝা যায় যে, যত্নে কোনও ত্রুটি নেই। সেই পাহাড় আর সেই নদীও ইতিমধ্যে হাপিস হয়ে যায়নি। না, সে-বারে যাকে অত ভাল লেগেছিল, এবারেই বা তাকে তবে খারাপ লাগবে কেন। বাংলোর সংখ্যা ইতিমধ্যে বেড়েছে বটে, কিন্তু এই উপত্যকার রূপের বাহার তাতে কিছুমাত্র কমেনি।

    আমরা ইটের বাড়ি দেখতে অভ্যস্ত। এখানে সবই পাথরের বাড়ি। রাসেলদের বাড়িটিও তা-ই। একতলার মেঝে মোজেইক করা। দোতলার মেঝে পালিশ করা কাঠের। সিঁড়িও কাঠের। টালির ছাত। জানলা সবই কাচের। একতলায় বড়-বড় দুটি ঘর। প্রথমটি ড্রয়িংরুম। তারই একদিক থেকে চওড়া কাঠের ধাপের সিঁড়ি দোতলায় উঠে গেছে। একতলার দ্বিতীয় ঘরটি লাইব্রেরি। অধিকাংশ বই-ই হয় পাহাড় কিংবা ভ্রমণ সংক্রান্ত। নামজাদা শিল্পীদের বেশ কিছু অ্যালবাম ও কিছু রান্নার বইও চোখে পড়ল। তারই মধ্যে হঠাৎ শরৎচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের এক-এক সেট রচনাবলি দেখে চমকে যাই। কারণটা পরে বুঝতে পেরেছি। কামিনীর বাবা গুজরাতি হলেও মা ছিলেন বাঙালি। ও দুটি সেট সম্ভবত তাঁরই। একতলার পিছন দিকে কিচেন ও ডাইনিং রুম।

    দোতলায় পাশাপাশি তিনটি বেডরুম। গেস্ট-রুমটি পিছনের দিকে। তার সামনে খানিকটা ফাঁকা জায়গা। সেখানে দাঁড়ালে পাহাড় চোখে পড়ে। ফাঁকা জায়গাটুকুতে বড়-বড় কয়েকটি টব। তার থেকে গুটিকয় লতানে ফুলগাছ ছাতে উঠে গেছে।

    বাড়ির পুবদিকে খাঁজকাটা টালি বসানো ড্রাইভ। ড্রাইভের শেষে গ্যারাজ। গ্যারাজটিও দোতলা। ড্রাইভার দোতলায় থাকে। মূল বাড়ির দোতলায় যে তিনটি বেডরুমের কথা বলেছি, তার শেষেরটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ভাদুড়িমশাইকে। আমি আর সদানন্দবাবু গেস্টরুমটির দখল নিয়েছি। ইন্দরলাল জায়গা নিয়েছে গ্যারাজের উপরকার ঘরে। কামিনীদের গাড়ি আছে, সেটা ওঁরা কর্তা গিন্নি দুজনেই চালান। এখনও ড্রাইভার রাখেননি। রাখলে একতলার ড্রয়িং রুমের একপাশে ইন্দরলালের জন্যে একটা বিছানার ব্যবস্থা করতে হত।

    ভাদুড়িমশাই যে এখানে শুধুই বেড়াতে আসেননি, কিছু কাজও যে তাঁর আছে, তা জানি। কিন্তু কাজটা কী তা জানি না।

    আর লিখতে পারছি না। রাত প্রায় একটা বাজে। এবারে শুয়ে পড়ব।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্টোরিজ – নিল গেইম্যান
    Next Article ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }