Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প927 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কামিনীর কণ্ঠহার – ৩

    ৩

    কলকাতার তুলনায় সূর্যাস্ত এখানে অনেক দেরিতে হয়। তেমনি আবার সূর্যদেব এখানে ঘুম থেকে ওঠেনও অনেক দেরিতে। এখন বৈশাখ মাস, সাড়ে চারটেতেই কলকাতার আকাশে এখন প্রথম আলোর চরণধ্বনি শোনা যায়। আজ তেসরা মে, শুক্রবার। কাল রাত্তিরে একটু দেরি করে শুয়েছিলুম বটে, কিন্তু কী জানি কেন, ভোর পাঁচটাতেই আজ আমার ঘুম ভেঙে যায়। সেটা অবশ্য প্রথম দফার নিদ্রাভঙ্গ। ঘর অন্ধকার, আকাশে আলো ফোটেনি দেখে পাশ ফিরে ফের ঘুমিয়ে পড়ি। দ্বিতীয় দফার নিদ্রাভঙ্গ হতে হতে আটটা বাজে। সদানন্দবাবু হাঁকডাক শুরু করে না দিলে হয়তো আরও দেরি হত। চোখ খুলে হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললুম, “ওরে বাবা, এ যে অনেক বেলা হয়ে গেছে। আপনি কখন উঠলেন?”

    “সাতটায়। ভাদুড়িমশাই তারও আগে উঠেছেন। দুজনে মিলে মাইল তিনেক হেঁটে এলুম।”

    “বাইরে গেসলেন নাকি?”

    “না। কম্পাউন্ডের মধ্যেই দিব্যি রাস্তা রয়েছে, বাইরে যাবার দরকারই হল না।”

    “চা খাওয়া হয়েছে?”

    “অনেকক্ষণ।” বলতে বলতে ভাদুড়িমশাই ঘরে ঢুকলেন। “সাতটায় বেড টি দিয়েছিল। আপনারটা ওই টেবিলে ঢাকা দেওয়া রয়েছে, আপনি ঘুমোচ্ছেন দেখে সদানন্দবাবু আর আপনাকে জাগাননি।”

    “ঠিক আছে, ওটা খেয়ে নিচ্ছি।” আমি বললুম, “নতুন করে আর চা দিতে বলার দরকার নেই।”

    “ওটা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে, খাওয়া যাবে না।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “বরং এক কাজ করা যাক। চটপট মুখহাত ধুয়ে নিন, তারপর চলুন, বাইরে থেকে সবাই মিলে আর-এক চক্কর ঘুরে আসি। বাইরে মানে কম্পাউন্ডের বাইরে। রাস্তার ধারে এক-আধটা চায়ের দোকান কি আর নেই? সেখানেই চা খেয়ে নেবেন।”

    “একটু বাদেই তো ব্রেকফাস্ট দেবে।” আমি বললুম, “বেড-টি মিস করেছি, এবারে ব্রেকফাস্টও মিস করব নাকি?”

    “ব্রেকফাস্ট দশটার আগে দেবে না, তার আগেই আমরা ফিরে আসব…চলুন, চলুন, আর সময় নষ্ট করবেন না।”

    তা-ই হল। মুখহাত ধুয়ে, জামাকাপড় পালটে নিতে পাঁচ মিনিটও লাগল না। ভাদুড়িমশাই আর সদানন্দবাবুর সঙ্গে আমি দোতলা থেকে নীচে নেমে এলুম। কম্পাউন্ডের বাইরে রাস্তার ধারে একটা চায়ের দোকানও পাওয়া গেল। বিস্বাদ চা। তা-ই কোনও রকমে গলাধঃকরণ করে হাঁটতে হাঁটতে আমরা নদীর ধারে গিয়ে একটা পাথরের উপরে বসে পড়লুম। চমৎকার বাতাস বইছে। ঘুমের জড়তা নিমেষে কেটে গেল।

    কম্পাউন্ড থেকে বেরোবার সময়েই লক্ষ করেছিলুম যে, সাস্ত্রি পালটে গেছে। নতুন লোকটিকে জানাতে হল যে, আমরা কে, কার গেস্ট, কত নম্বর বাংলোয় উঠেছি। ব্যাপার দেখে আমি আর সদানন্দবাবু যে একটু হকচকিয়ে গেছি, ভাদুড়িমশাই সেটা ঠিকই বুঝে গেসলেন। কম্পাউন্ডের বাইরে বেরিয়ে এসেই তিনি বলেন, এতে ঘাবড়াবার কিছু নেই। এখানকার সিকিওরিটির ব্যবস্থা খুবই কড়া। ডুণ্ডা ভ্যালি থেকে কোনও গাড়ি বেরোলে কিংবা বাইরে থেকে কোনও গাড়ি এখানে ঢুকলে সান্ত্রি তার নম্বর আর সময় লিখে রাখে। ভিতর থেকে কোনও অপরিচিত মানুষ বেরোলেও তাকে জেরা না করে ছাড়া হয় না।

    নদীর ধারে বসে গল্প করতে-করতে কামিনী রাসেল সম্পর্কেও বেশ কিছু খবর জানা গেল। পাঠকদেরও সেটা সংক্ষেপে জানিয়ে রাখি।

    কামিনী রাসেলদের পরিবারের সঙ্গে ভাদুড়িমশাইয়ের পরিচয় ও যোগাযোগ বাঙ্গালোরে। এঁদের তিনি প্রায় তিরিশ বছর ধরে চেনেন। কামিনীর বাবা গুজরাতি, মা বাঙালি। বাবা জানকীদাস পটেল ছিলেন আমেদাবাদের বিখ্যাত ব্যবসায়ী। ঠাকুর্দা অশ্বিনীভাই পটেল গীতাঞ্জলির ইংরেজি তর্জমা পড়ে রবীন্দ্রনাথের ভক্ত হন। শান্তিনিকেতনের খবর তিনি রাখতেন। ছেলের ইস্কুলের পাঠ সাঙ্গ হবার পরে তাকে তিনি শান্তিনিকেতনে পাঠিয়ে দেন। এ হল পঞ্চাশের দশকের গোড়ার কথা। জানকীদাসের বয়েস তখন বছর কুড়ি। শান্তিনিকেতনে পড়ার সময়ে তার পরিচয় হয় রঞ্জনার সঙ্গে। দুজনে একই ক্লাসে পড়তেন। পরিচয় থেকে প্রণয়। প্রণয় থেকে পরিণয়। অশ্বিনীভাই বেশিদিন বাঁচেননি। জানকীদাস ও রঞ্জনার বিয়ের বছর পাঁচেক বাদে তিনি মারা যান। যেহেতু বাপ-মায়ের একমাত্র সন্তান, তাই পারিবারিক ব্যাবসার পুরো ঝক্কি এসে পড়ে জানকীদাসের ঘাড়ে। এদিকে আমেদাবাদের জলবায়ু রঞ্জনার সহ্য হচ্ছিল না, তিনি মাঝে-মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। ডাক্তারের পরামর্শে জানকীদাসকে তাই আমেদাবাদ ছাড়তে হয়। অশ্বিনীভাইয়ের জুয়েলারির কারবার এক জ্ঞাতিভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বাঙ্গালোরে চলে আসেন। এ হল ১৯৭৫ সালের কথা। জানকীদাস আর রঞ্জনা, দুজনেরই বয়েস তখন চল্লিশ পেরিয়ে গেছে। কামিনী তাঁদের একমাত্র সন্তান। তার বয়েস তখন বারো-তেরোর বেশি হবে না।

    জিজ্ঞেস করলুম, “তার মানে তো কামিনীর বয়েস এখন চল্লিশ। তা-ই না?”

    “তা তো হবেই।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “কিন্তু ওর কথায় একটু পরে আসছি। তার আগে জানকীদাস সম্পর্কে আর দু-একটা কথা বলে নিই। ভদ্রলোকের ব্যাবসা-বুদ্ধি ছিল অসাধারণ। একটা নতুন জায়গায় এসে রাতারাতি ব্যাবসা জমানো নেহাত চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। বলতে গেলে প্রায় অসম্ভবই। জানকীদাস কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করলেন। ওঁর কারবারের সুনাম ছড়িয়ে পড়তে পুরো একটা বছরও লাগল না।”

    “কীসের কারবার?”

    “কারবার সেই একই। জুয়েলারি। তবে শুধু সোনারুপোর নয়। সেই সঙ্গে দামি পাথরের হিরে-মুক্তো-চুনি-পান্নার। গয়না বানাবার ব্যাপারে বাঙালি কারিগরদের সুখ্যাতির কথা জানতেন তো, তাই কলকাতার বউবাজার পাড়া ছুঁড়ে, অনেক বেশি মাইনের টোপ দিয়ে, বেশ কয়েকজন নামী কারিগরকে বাঙ্গালোরে নিয়ে গেসলেন। তাদের দিয়ে এমন সব ডিজাইনের গয়না বানিয়ে শো-কেস সাজাতে লাগলেন, যা দেখে গোটা কর্ণাটকে একেবারে ধন্যি-ধন্যি পড়ে গেল। যেমন ডিজাইন, তেমনি পাথর সেটিংয়ের কাজ। কী বলব, জানকীদাসের দোকান থেকে কেনা হয়েছে, দেখতে-দেখতে এটাই যেন বাঙ্গালোর আর মাইসোরের অভিজাত মহিলা-মহলের একটা স্ট্যাটাস-সিম্বল হয়ে দাঁড়াল।”

    একটুক্ষণের জন্যে চুপ করলেন, ভাদুড়িমশাই। তারপর বললেন, “শুধু জানকীদাসের ব্যাবসাবুদ্ধির তারিফ করলে অবিশ্যি ভুল হবে। ঝানু কারবারি তো তিনি ছিলেনই, কিন্তু সেই সঙ্গে যদি না আর-একজনের শিল্পরুচি যুক্ত হত, জানকীদাসের জুয়েলারি তা হলে অত তাড়াতাড়ি অতটা বিখ্যাত হয়ে উঠতে পারত না। আরও অনেক সময় লেগে যেত।”

    “সেই আর-একজন কে?”

    জানকীদাসের স্ত্রী রঞ্জনা। একে তো শান্তিনিকেতনের কলাভবনের ছাত্রী তিনি, তার উপরে অলঙ্করণের ব্যাপারে তাঁর উদ্ভাবনী শক্তিও ছিল অসাধারণ। নিজের সম্পর্কে কখনও কিছু বলতে চাইতেন না, কিন্তু আমি জানকীদাসের কাছেই শুনেছি যে, প্রতিটি গয়নার নকশা রঞ্জনা নিজের হাতে এঁকে দেখিয়ে দিতেন। শুধু তা-ই নয়, কারিগরদের ডেকে বুঝিয়ে দিতেন কোন গয়নায় কোন পাথরের সেটিং হলে সবচেয়ে বেশি মানাবে।”

    ভাদুড়িমশাইয়ের সঙ্গে পটেলদের পরিচয় আশি সালে। দোকান থেকে কিছু দামি গয়না চুরি হয়েছিল। থানায় জানালে সেটাই হত স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু জানকীদাস যেহেতু তাঁরই এক খানদানি কাস্টমারকে সন্দেহ করছিলেন, তাই লোক-জানাজানি হবার ভয়ে তিনি থানায় না-গিয়ে ভাদুড়িমশাইকে তদন্তের ভার দেন। ভাদুড়িমশাই বুঝতে পারেন, জানকীদাসের সন্দেহ অমূলক নয়। নামজাদা পরিবারের সেই খদ্দেরের উপরে অন্যভাবে চাপ খাটিয়ে তিনি গয়না উদ্ধার করে আনেন। রঞ্জনা দীর্ঘজীবী ছিলেন না। বিরাশি সালে, মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে তিনি মারা যান। স্ত্রীর এই অকালবিয়োগের বেদনা জানকীদাস সহ্য করতে পারেননি। তাঁর মৃত্যু হয় পঁচাশি সালে।

    সদানন্দবাবু মনে-মনে হিসেব কষছিলেন বোধহয়। বললেন, “কামিনীর বয়েস তো তখন খুবই কম হবার কতা। মেরেকেটে বাইশ-তেইশ। ওই বয়েসেই বাপের ব্যাবসার ঝক্কি ওকে সামলাতে হল?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “সামলানো ওর পক্ষে শক্ত হত না। বুদ্ধিমতী মেয়ে, ইতিমধ্যে বি. এসসি.পাসও করে ফেলেছিল। তার উপরে বাপের কাছ থেকে পেয়েছিল গুজরাতি ব্যাবসাবুদ্ধি। বাই দ্য ওয়ে, ওর আঁকা ছবি তো আপনারা দেখেননি?”

    বললুম, “আমরা যে-ঘরে আছি, তার দেওয়ালে একটা ল্যান্ডস্কেপ চোখে পড়েছে। ওটা কার আঁকা?”

    “কামিনীর।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “অল্প বয়েসের আঁকা। মাইসোরের আর্ট-এগজিবিশনে ওটা গোল্ড মেডেল পেয়েছিল। পরে ওর আঁকার ধাঁচ পালটে যায়। নীচের লাইব্রেরি রুমে ওর খান তিন-চার অয়েল টাঙানো আছে। পরে দেখে নেবেন।”

    “তার মানে মায়ের কাছ থেকেও যে কিছু পায়নি, তা নয়।”

    “তা তো বটেই। কিন্তু যা বলছিলুম, বাপের ব্যাবসার ঝক্কি সামলানো ওর পক্ষে কিছুমাত্র শক্ত হত · না। যদি অবশ্য সেদিকে ওর মন থাকত। সেটাই যে নেই!”

    “মন তা হলে কোন দিকে? শুধুই ছবি আঁকার দিকে?”

    “তা হলেও তো হত।” ভাদুড়িমশাই বললেন,”সেক্ষেত্রে ভাবা যেত যে, ঠিক আছে, ছবি আঁকার উপরেই নির্ভর করছে ওর অস্তিত্ব। ও ছবি আঁকতেই জন্মেছে, তা-ই আঁকুক। এমন আর্টিস্ট, এমন স্কাল্টরের কথা তো সবাই জানে, যাকে ধ্রুব বলে বুঝেছে তার জন্যে সর্বস্ব ত্যাগ করতে যাদের আটকায়নি। ভাবতুম যে, কামিনীও সেই গোত্রের। কিন্তু মুশকিল কী জানেন, সেটাও এক্ষেত্রে আমি ভাবতে পারছি না।”

    “কেন পারছেন না?”

    “এইজন্যে পারছি না যে, ছবি আঁকা ও ছেড়ে দিয়েছে। আসলে ও খেয়ালি মানুষ। এক-এক সময় এক-একটা খেয়াল ওর মাথায় চাপে। যখন যেটা চাপে, তখন তা-ই নিয়েই ও মশগুল। যখন কলেজে পড়ত, তখন ছবি আঁকতে-আঁকতে ও ছেড়ে দেয়। তারপরে ধরে তবলা। ক্যান ইউ ইমাজিন, অব অল থিংস তবলা। যা কিনা মেয়েরা বাজায় না। সেটা ওকে জানাতে ও কী বলল জানেন? বলল, সেইজন্যেই বাজাব। তারপর তবলা ছেড়ে ধরল সরোদ। সেটাও যথারীতি ছাড়ল। ওই যে বললুম, সবই ওর খেয়াল। তার মধ্যে আবার মাঝে-মাঝেই যেটা চাগাড় দেয়, সেটাকে ঠিক খেয়ালও বলতে পারছি না। আসলে সেটা ঘোর বদখেয়াল!”

    “তার মানে?”

    ভাদুড়িমশাই তক্ষুনি-তক্ষুনি আমার প্রশ্নের কোনও জবাব দিলেন না। খানিকক্ষণ একেবারে নিঃশব্দ বসে রইলেন। তারপর একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন, “দেখুন, বয়েসে আমি ওর বাপের চেয়েও কিছু বড়। আমাকে ও আংকল বলে। যতই খেয়ালি হোক, আমি ওকে স্নেহও কিছু কম করি না। ওর বাবা আর মা, দুজনেই আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। দুজনকেই আমি খুব কাছের থেকে দেখেছি। তাই বলতে পারি যে, অমন সজ্জন একালে খুব কমই চোখে পড়ে। আর সেইজন্যেই আমার মাঝে-মাঝে বড় ধাঁধা লেগে যায়। কিছুতেই বুঝতে পারি না যে, এমন উন্মাদ মেয়ে ওঁদের কী করে হল!”

    “অ্যাঁ, উন্মাদ?” সদানন্দবাবু আঁতকে উঠে বললেন, “তার মানে পাগল?”

    “যে-মেয়ে দুমদাম প্রেমে পড়ে, আর প্রেমে পড়লেই যার কাণ্ডজ্ঞান লোপ পেয়ে যায়, তাকে আপনি পাগল ছাড়া আর কী বলবেন? শুধু প্রেমে পড়া নয়, সেই সঙ্গে বিয়ে করার জন্যে খেপে যাওয়া!”

    “অ্যাঁ?”

    “হ্যাঁ। বার্টি রাসেল ওর ক’নম্বর স্বামী জানেন?”

    সদানন্দবাবু ঢোক গিলে বললেন, “ক’ নম্বর?”

    “চার নম্বর।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “এর আগে ও আরও তিন-তিন বার বিয়ে করেছে।”

    “বলেন কী?”

    “ঠিকই বলছি। কামিনীর প্রথম বিয়ে হয়েছিল এক বাপে-তাড়ানো মায়ে-খেদানো বাউণ্ডুলে আর্টিস্টের সঙ্গে। ছোকরা কাঠকয়লা দিয়ে ছবি আঁকত, তারপর সেই ছবি পার্কের রেলিঙে টাঙিয়ে বিক্রি করত। কামিনীর তখনও বিয়ের বয়েস হয়নি, বয়েস ভাঁড়িয়ে বিয়ে করে বরকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি বাড়িতে এসে হাজির হয়। মুখে তিন দিনের না-কামানো দাড়ি, পরনে তাপ্পি-মারা জিনসের প্যান্টালুন আর ময়লা শার্ট—জামাতা-বাবাজীবনকে দেখে রঞ্জনা শয্যা নেন। তারপরে আর বেশিদিন তিনি বাঁচেননি। সে বিয়ে বছর খানেক টিকেছিল। কামিনী নিজেই একদিন তার নতুন প্রেমিককে ডেকে এনে আর্টিস্ট-বেচারাকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বার করে দেয়।”

    “নতুন প্রেমিকটি কী করত?”

    “ফিল্মে ফাইটারের চাকরি করত। দেখতে নেহাত খারাপ ছিল না, কিন্তু বিদ্যে ক্লাস থ্রি পর্যন্ত। এই দ্বিতীয় বিয়েটাও বেশি দিন টেকেনি।”

    “আর থার্ড ম্যারেজ?”

    “সেটা যে খুব খারাপ হয়েছিল, এমনিতে তা বলা যাচ্ছে না। সেও প্রেম করে বিয়ে। প্রেমিকটি অধ্যাপক, বাঙ্গালোরেরই একটা আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কমার্স কলেজে অ্যাকাউন্টেসি পড়াত। বয়েস অবশ্য একটু বেশি, এই ধরুন চল্লিশ-বিয়াল্লিশ তা ওই বয়েসে তো অনেকেই আজকাল বিয়ে করে।…কী মশাই, করে না?”

    “হ্যাঁ, হ্যাঁ, তা করে বই কি!” সদানন্দবাবু বললেন, “তা এটাও টিকল না কেন?”

    “কী করে টিকবে?” ভাদুড়িমশাই তেতো হাসলেন। “মাসখানেক যেতে না যেতেই ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়ল। জানা গেল যে, প্রেমিক পুরুষটি ব্যাচেলার নয়, তার বউ-বাচ্চা রয়েছে, বউ থাকত গ্রামের বাড়িতে, খবর পেয়ে সে শহরে এসে মামলা ঠুকে দিয়েছে। বিগ্যামির চার্জ। দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বাবাজীবনের জেল হয়ে যায়।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “উরেব্বাবা!”

    আমি বললুম, “তারপরে এই ফোর্থ ম্যারেজ? উইথ বার্টি রাসেল? ‘ “হ্যাঁ।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “এটা যে কদ্দিন টিকবে, কে জানে।”

    “এতসব হুজ্জুতের মধ্যে কারবার দেখার সময় পায়?”

    “কারবার কি ওর হাতে আছে যে দেখবে?”

    “তার মানে?”

    “মানে খুবই সহজ।” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “রঞ্জনার মৃত্যুর পরেও বছর কয়েক বেঁচে ছিলেন জানকীদাস। কামিনীর প্রথম বিয়ের ধাক্কাটা তিনি সামলাতে পেরেছিলেন, কিন্তু ফিল্মি ফাইটারের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ের ধাক্কাটা আর পারলেন না। তা ছাড়া তিনি স্পষ্ট বুঝে গেসলেন যে, লেখাপড়ায় মেয়েটা চৌখস ঠিকই, সেই সঙ্গে মায়ের শিল্পরুচির সঙ্গে বাপের ক্ষুরধার বুদ্ধিও সে পেয়েছে বটে, কিন্তু এতসব গুণের কোনওটাই শেষ পর্যন্ত কাজে লাগবে না। তার কারণ, ওর মাথায় রয়েছে পাগলামির বীজ।”

    আবার একটুক্ষণের জন্যে চুপ করে রইলেন ভাদুড়িমশাই। তারপর বললেন, “এটা বোঝার পরে জানকীদাস আর সময় নষ্ট করেননি, জুয়েলারির ব্যাবসাটা তিনি বিক্রি করে দেন। বাড়িটা লিখে দিলেন মেয়ের নামে। রঞ্জনার যা কিছু গয়নাগাটি ছিল, সবই মেয়ের হাতে তুলে দিলেন। আর ব্যাবসা বিক্রি করে যা পাওয়া গিয়েছিল, তার থেকে কামিনীর নামে ব্যাঙ্কে একটা পঁচিশ লাখ টাকার ফিক্সড অ্যাকাউন্ট খুলে বাদবাকি টাকা দান করলেন রামকৃষ্ণ মিশনকে। …এ হল ১৯৮৫ সালের কথা। জানকীদাস সেই বছরই মারা যান।”

    বললুম, “আপনার তো খুবই বন্ধু ছিলেন, মৃত্যুর আগে আপনাকে কিছু বলে যাননি?”

    “একটাই কথা বলেছিলেন। মেয়েটা তো ঘোর উন্মাদ, বিপদে পড়লে ওকে যেন আমি দেখি।”

    “বাপের মৃত্যুর পরে শোধরায়নি?”

    “কোথায় আর শোধরাল। জানকীদাসের মৃত্যুর পরে দিন কয়েক একটু গুম মেরে ছিল। তারপর বছর দুয়েক বাদে বিয়ে করল ওই অধ্যাপককে। অ্যানাদার ডিজাস্টার! তা সে-বিয়েও তো বিগ্যামির চার্জে আদালতের রায়ে নাকচ হয়ে গেল!”

    “তারপর?”

    “তারপর পাঁচ বছর বাদে এই বিয়ে। এটা হল নাইন্টিটুতে। বার্টিরও আগে একটা বিয়ে হয়েছিল, টেকেনি। আর্মির ডাক্তার, বয়েস এখন বছর পঞ্চাশ, আর্লি রিটায়ারমেন্ট নিয়ে এখানে আছে।”

    “এ বিয়েও প্রেম করে হয়েছিল?”

    “না। খবরের কাগজের ম্যাট্রিমনিয়াল কলামের বিজ্ঞাপন দেখে।”

    “এটা টিকবে তো?”

    ভাদুড়িমশাই হাসলেন। “দশটা বছর যখন টিকে গেছে, তখন বোধহয় চট করে আর ভাঙবে না…ওহো, একটা মজার কথাই বলা হয়নি। এমনিতে পাগলি হলে কী হয়, মেয়েটার ব্যাবসাবুদ্ধি প্রখর কিন্তু। বাপের কাছ থেকে কিছু গয়নাগাটি, একটা বাড়ি আর ওই পঁচিশ লাখ টাকা পেয়েছিল, সে তো জানেন। তা ওর ব্যাঙ্ক-ব্যালান্স এখন কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে, একবার ভাবুন দেখি। সেভারেল ক্রোরস!”

    “বটে?”

    “হ্যাঁ, স্রেফ শেয়ার কেনা-বেচা করে। ভাবা যায়?”

    শুনলুম। শুনে বার কয়েক ঢোক গিললুম। তারপর বললুম, “আসল কথাটাই জিজ্ঞেস করা হয়নি। আপনি এখানে যে কাজে এসেছেন, মনে হচ্ছে সেটা কামিনীরই কাজ, ওই আপনাকে এখানে ডেকে এনেছে। তা কাজটা কী?”

    “সেই একই কাজ।” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “ওর বাপের দোকানের গয়নাগাটি উদ্ধার করে দিয়েছিলুম, এবারে ওর একটা দামি গয়না উদ্ধার করে দিতে হবে।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “আবার সেই বাংলা ক্রসওয়ার্ড। সেখানেও শব্দটা ছিল গয়নাগাটি।”

    আমার মনে পড়ে গেল ইংরেজি ওআর্ড-জাম্বলের কথা। সেখানে শব্দটা ছিল মার্ডারার। কিন্তু সেটা আর বললুম না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্টোরিজ – নিল গেইম্যান
    Next Article ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }