Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প927 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কামিনীর কণ্ঠহার – ৭

    ৭

    ভাদুড়িমশাই তাঁর ঘর থেকে আমাদের ঘরে চলে এসেছিলেন। বসে-বসে গল্প হচ্ছিল। তার মধ্যে ফোটোগ্রাফগুলোর কথা একবারও ওঠেনি। কথা হচ্ছিল নেকলেসটা নিয়ে। ভাদুড়িমশাই বললেন, “ওর মধ্যে যেটা বড়, তার একটা ইতিহাস আছে। মূলে ওটা কার ছিল, বলা শক্ত, তবে কামিনীর ঠাকুর্দার হাতে আসার আগে ওটা ছিল বরোদার এক বনেদি ব্যবসায়ীর হাতে। সে নাকি সুরাটের এক পোর্তুগিজ বণিকের কাছ থেকে ওটা কিনেছিল। কিন্তু কেনার পর মাত্র এক বছরের মধ্যেই তার স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানটি মারা যায়। তাতে তার ধারণা হয় যে, হিরেটা অপয়া, ওটা কেনার ফলেই তার স্ত্রীপুত্র মারা গেছে, এবারে ব্যাবসাও লাটে উঠবে। বাস, তারপরে সে আর দেরি করেনি, কামিনীর ঠাকুর্দা অশ্বিনীভাই পটেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে সে ওটা বেচে দেয়।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “হিরের যে পয়া-অপয়া আচে, এটা কিন্তু মিচে কতা নয়। আমার এক পিসশাশুড়ির কাচে শুনিচি, তাঁর দাদাশ্বশুরের ছেলেবেলায় একবার এমন ন্যাবা রোগ হয়েছিল যে, গোটা শরীর একেবারে হলদে হয়ে যেত, বাঁচার কোনও আশাই ছিল না। ডাক্তার-বদ্যি ফেল মেরে যাবার পরে ডাক পড়ল জ্যোতিষীর। তিনি এসে রুগির কুষ্টি দেখে বললেন, তোমরা করেচ কী, এর তো দেকচি হীরকারোগ্য যোগ রয়েচে, বাঁচাতে হলে এক্ষুনি একে হিরের আংটি পরাও।”

    হেসে বললুম, “হিরের আংটি পরাতেই অমনি জন্ডিস সেরে গেল?”

    “হাসবেন না, হাসবেন না,” সদানন্দবাবু বললেন, “এর ভেতরে হাসির কিছু নই ‘ হিরের সত্যি পয়া-অপয়া আচে। কারও ভাল হয়, কারও মন্দ। কী রকমের মন্দ, সেটা যদি শুনতে। তো আমাদের জেঙ্কিনস অ্যান্ড জেঙ্কিনস কোম্পানির শামুকখোলা টি-গার্ডেনের ম্যানেজারের গপ্পোটা বলি…”

    গপ্পোটা শুরু হবার আগেই ঘন্টা পড়ল।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “লাঞ্চের ঘন্টা। গপ্পোটা পরে শুনব, চলুন, খেতে যাওয়া যাক।”

    হাতঘড়িতে দেড়টা বাজে। সবাই মিলে একতলার ডাইনিং রুমে গিয়ে হাজির হওয়া গেল। অর্জুন টেবিলে প্লেট সাজিয়ে ফেলেছে। ভাদুড়িমশাই বললেন, “মিনি কোথায়? তাকে দেখছি না যে?”

    প্রশ্নটা অর্জুনকে করেছিলেন। কিন্তু তার আর কোনও উত্তর দেবার দরকার হল না, হাতে একটা বোতল নিয়ে কামিনী এসে ঘরে ঢুকল। বলল, “তোমরা এসে গেছ দেখছি।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “ঘন্টা বাজাবার ব্যাপারটা তোদের বাঙ্গালোরের বাড়িতে ছিল। সেটা এখানেও চালু আছে দেখে ভাল লাগল। কাল রাত্তিরে অবশ্য ডিনারের ঘন্টা শুনিনি।

    কামিনী হেসে বলল, “ওটা অর্জুনের ব্যাপার। ও তো বিকেল-বিকেলই চলে যায়। রাত্তিরে তাই ঘন্টাও বাজেনি, তোমরাও শোনোনি।”

    “তা-ই বল।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “কিন্তু তোর হাতে ওটা কীসের বোতল?”

    “টনিকের। এনার্জি-প্লাস। এনার্জি বাড়ায়। কিছুদিন থেকে রোজ দু’বেলা দুচামচ করে খাচ্ছি। দুপুরে আর রাতে খাওয়ার আগে।”

    “কাল রাত্তিরে তো খেতে দেখিনি।”

    “ডাইনিং রুমে নিয়ে আসিনি, তাই দ্যাখোনি। দোতলাতেই টনিকটা খেয়ে নিয়ে তারপর নীচে খাওয়ার ঘরে এসেছিলুম।”

    “ওটা খেলে সত্যি এনার্জি বাড়ে?”

    “না-বাড়লে আর খাচ্ছি কেন?” কামিনী একটা কাপে দু’চামচ ওষুধ ঢালল, তারপর ওষুধটা খেয়ে, মুখ-বিকৃতি করে বলল, “স্বাদটা অবশ্য অতি বিচ্ছিরি।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “তা হোক, উপকার যখন পাচ্ছিস, তখন খেয়ে যা।… তা যে-কাজে এসেছি, আমারও একটু এনার্জি দরকার, তাই তোর সঙ্গে রোজ আমিও একটু খেলে পারি… মানে ওই যে ক’টা দিন এখানে আছি আর কি।”

    “খাবে?” কামিনী তার ওষুধের বোতলটাকে ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে এগিয়ে দিয়ে খুশি গলায় বলল, “দাঁড়াও, অর্জুনকে তা হলে আর-একটা কাপ দিতে বলি। স্বাদটা কিন্তু সত্যি খুব বিচ্ছিরি!”

    “থাক, তা হলে আর এখন খেয়ে খিদেটা নষ্ট করব না!” ভাদুড়িমশাই বললেন, “আগে লাঞ্চ খাই, পরে উপরে গিয়ে ওষুধ খাব।”

    “ওটা কিন্তু খাওয়ার আগেই খেতে হয়।”

    “কে বলেছে? বাৰ্টি?”

    “বার্টির এত সময় কোথায় যে, বউয়ের স্বাস্থ্য আর ওষুধ নিয়ে ভাববে। সে তো তার দু’টাকা ভিজিটের রুগিদের নিয়েই ব্যস্ত!”

    “বাঃ, বার্টি তোর শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবে না?” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “বাজে কথা বলিস না মিনি। সে যদি না-ই ভাববে তো ওষুধটা প্রেসক্রাইব করল কে?”

    কামিনী বলল, “লিজা। তবে হ্যাঁ, লিজা এটা এনে দেবার পরে বার্টিকে না-জানিয়ে খেতে শুরু করিনি। তা বোতলটা দেখে সে বলল, লিজা ঠিক ওষুধই এনেছে। এটা খুবই নাম-করা কোম্পানির টনিক, খেলে উপকার পাবই।”

    খেতে-খেতে কথা হচ্ছিল। অর্জুনের রান্নার হাত ভাল। পদ বেশি করেনি। ভাতের সঙ্গে ডাল, বেগুনভাজা, আলু-পোস্ত আর চিকেন কারি। শেষ পাতে জমাট টক-দই। সেও বাড়িতেই পাতা।

    খাওয়া শেষ করে ভাদুড়িমশাই বললেন, “বার্টি তো বিকেলের আগে ফিরছে না। ততক্ষণ তুই কী করবি মিনি?”

    “ঘরে গিয়ে একটা-কোনও বই পড়ব।” কামিনী বলল, “বই পড়তে-পড়তে যদি ঘুম এসে যায় তো ঘন্টাখানেক ঘুমিয়ে নেব। তোমরাও একটু ঘুমিয়ে নিলে পারো, আঙ্কল।”

    “কিরণবাবু আর বোসমশাই কী করবেন, আমার জানা নেই, তবে আমি ঘুমোব না।” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “আমি রাতে ঘুমোই, দিনে জাগি। আর তা ছাড়া, আমাকে একটু বেরোতেও হবে।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “কোতায়?”

    কথাটার জবাব না-দিয়ে কামিনীর দিকে তাকিয়ে ভাদুড়িমশাই বললেন, “হ্যাঁ রে মিনি, রাজেশের কথা তোর মনে আছে?”

    “কোন রাজেশ?”

    “রাজেশ কুলকার্নি। বাঙ্গালোরে তোদের পাশের বাড়িতে একটি খ্রিস্টান পরিবার থাকত। মনে আছে?”

    “মানে সেই বাড়ির সেই ছোট্ট ছেলেটা। যে তখন ইস্কুলে পড়ত, তারপর রোজ বিকেলে দোকানে যাবার আগে বাবা যাকে ডেকে পাঠিয়ে ঘন্টাখানেক অঙ্ক শেখাতেন? তাকে কেন মনে থাকবে না?”

    “যাক, মনে আছে তা হলে। তো সে আর এখন সেই ছোট্ট ছেলেটি নেই। তার বয়েস এখন বছর তিরিশেক।”

    “কী করে সে এখন?”

    “এম. এসসি. পাশ করে কর্ণাটকের একটা গ্রামের ইস্কুলে মাস্টারিতে ঢুকেছিল। বছর তিনেক আগে ইস্কুলের চাকরি ছেড়ে কলেজে ঢোকে। এখন উত্তরকাশীর একটা কলেজে পড়ায়। কলেজটা শুনেছি ক্রিশচান মিশনারিদের। মনে হয় ভালই আছে।”

    “বলো কী। তুমি এত সব খবর রাখো কী করে?”

    “যে-ভাবে রাখতে হয়।… কী জানিস মিনি, আমি কাউকেই ভুলে যাই না। যেমন তোর খবর রাখি, তেমন রাজেশের খবরও রাখি। তা ভাবছি যে, রাজেশ যখন এত কাছে রয়েছে, তখন দুপুরটা বেকার বসে না-থেকে তার সঙ্গে একবার দেখা করে আসি।”

    “এখানে ওর বাড়ি?”

    “বাড়ি ভাড়া করার দরকার হয়নি। হস্টেল-সুপারিন্টেন্ডেন্ট, হস্টেলের মধ্যেই দু’কামরার কোয়ার্টার্স। বিয়ে করেনি। বাবা তো ওর ছেলেবেলাতেই মারা গেছেন, তোর বাবার সাহায্য না-পেলে ওর লেখাপড়াই হত না। যা-ই হোক, এখন মা’কে নিয়ে এখানে থাকে।”

    “তাই-ই?” কামিনী বলল, “রাজেশ জানে যে, আমরা ওদের এত কাছে থাকি?”

    ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “আগে জানত না। এখন জানে। আসলে, ওর সঙ্গে তো চিঠিপত্রে আমার যোগাযোগ ছিলই, ওর ফোন নাম্বারও আমি জানতুম, তা কলকাতা থেকে রওনা হবার আগের দিন ওকে ফোন করে আমার আসার কথা জানাই। এটাও বলি যে, এখানে এসে ওর সঙ্গে দেখা করব।”

    “এখানে তুমি আমার কাছে উঠবে, তা ওকে বলেছ?”

    “তা বলিনি, তবে আজ তো ওর সঙ্গে দেখাই হচ্ছে, তখন বলব।”

    “তখন বোলো যে, মা’কে নিয়ে ও যেন অতি অবশ্য একদিন এখানে আসে। এলে আমরা দারুণ খুশি হব।… উঃ, সেই রাজেশ। ও আমাকে মিনিদিদি বলত আর আমি ওর মাকে বলতুম সাদামাসি। সেই রাজেশ এত কাছে থাকে! এ তো ভাবাই যায় না! ওকে কিন্তু শিগগিরই একদিন আসতে বোলো, আঙ্কল!”

    “বলব রে, বলব!”

    কামিনীকে আশ্বস্ত করে আমাদের দিকে তাকালেন ভাদুড়িমশাই। বললেন, “কী ব্যাপার, আমি বেরুব শুনেও আপনারা চুপ করে আছেন যে? বেরুবার ইচ্ছে নেই? দুপুরে পড়ে-পড়ে ঘুমুবেন?”

    বললুম, “কী যে বলেন! সেই কত বছর আগে উত্তরকাশীতে আসা হয়েছিল, আবার যখন শহরটাকে দেখার সুযোগ পাচ্ছি, তখন ছাড়া যায়?”

    সদানন্দবাবু বললেন, “আমি তো যাবই। বাবা বিশ্বনাথের কাশী অবিশ্যি আমার দেকা হয়নি, তবে এই কাশীকে দেকার সুযোগ যখন পেইচি, তখন ছাড়চি না।”

    খাওয়া শেষ হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। কাজের লোকটি টেবিল পরিষ্কার করার জন্যে দাঁড়িয়ে আছে দেখে আমরা উঠে পড়লুম। ভাদুড়িমশাই এনার্জিবর্ধক ওষুধের বোতলটা টেবিল থেকে তুলে নিয়ে কামিনীকে বললেন, “এটা আমি আমার ঘরে নিয়ে যাচ্ছি। দু’চামচ খেয়ে তারপর বোতলটা তোর ঘরে দিয়ে আসব।”

    কথাটা শেষ করে ভাদুড়িমশাই আর দাঁড়ালেন না। আমাদের নিয়ে দোতলায় চলে এলেন। নিজের ঘরে ঢোকার আগে বললেন, “সওয়া দুটো বাজে। দিবানিদ্রা মহাপাপ, তাই ঘুমোবার চেষ্টা করবেন না। ইন্দরলালকে বলা আছে, সে গাড়ি তৈরি রেখেছে। আমরা আড়াইটে নাগাদ বেরিয়ে পড়ব। পনরো মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়ে নীচে নামুন।”

    বৈশাখ মাসের অর্ধেকটা কাবার হয়ে গেছে। কলকাতায় এখন নিশ্চয় দারুণ গরম। এখানে কিন্তু গরমের নামগন্ধ নেই। বেশি না-হলেও বাতাসে হালকা-মতন শীতের আমেজ, বিকেল হলে সেটা আরও বেড়ে যায়। সদানন্দবাবুকে বললুম, “আর কিছু না হোক, অন্তত একটা মাফলার রাখা ভাল।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “আমি মশাই একজোড়া মোজাও আমার পকেটে নিয়ে নিচ্চি। ফিরতি পথে পরে নেবখন। নয়তো চোরা ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। বিদেশে এসে অসুখ বাধিয়ে বসাটা কোনও কাজের কতা নয়।”

    ঠিক আড়াইটেতেই নীচে নেমে, গাড়ি তৈরিই ছিল, আমরা বেরিয়ে পড়লুম। বেরোবার সময় দুটো ব্যাপার চোখে পড়ে। এক, পথ আটকানো কাঠের ডাণ্ডাটা নামানো ছিল, আমাদের ট্যাক্সিটাকে বেরোতে দেবার জন্যে সেটা উপরে উঠে যায়। দুই, সেন্ট্রি-বক্সের লোকটি একটা খাতা খুলে কিছু লিখে নিল। সম্ভবত আমাদের গাড়ির নম্বর ও হাউসিং কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে যাবার সময়।

    সদানন্দবাবু আমার পাঁজরে একটা খোঁচা মেরে চাপা গলায় বললেন, “দেকলেন ব্যাপারটা?” উত্তরটা আর আমাকে দিতে হল না, যতই আস্তে বলে থাকুন, প্রশ্নটা আমাদের ড্রাইভার ইন্দরলালের কানে ঠিকই পৌঁছে গেছে। ঘাড় না-ঘুরিয়েই সে সামনের সিট থেকে বলল, “মায় ভি দেখা বাবুজি। সিকিওরিটি বহোত কড়া হ্যায়।”

    ভাদুড়িমশাইও বসে আছেন সামনের সিটে, ইন্দরলালের বাঁ পাশে। সদানন্দবাবুর কথাটা তিনিও শুনেছেন ঠিকই। বললেন, “যাক, আপনারা চোখ-কান খোলা রেখেছেন তা হলে?”

    “সে তো আমি চব্বিশ ঘন্টাই খোলা রাকি!” সদানন্দবাবু বললেন, “সব দেকি, সব শুনি। তা নইলে আর আপনার কাজে হেল্প করব কী করে?”

    “আপাতত আপনাদের ডান দিকের চোখ বন্ধ রাখলেও ক্ষতি নেই,” ভাদুড়িমশাই বললেন, “নদীর শোভা না দেখলেও চলবে। বাঁ দিকের সবকিছু কিন্তু দেখা চাই। পাহাড়, ঘরবাড়ি, লোকজন, মন্দির, দোকানপাট—সব। যদি ইন্টারেস্টিং কিছু চোখে পড়ে, উত্তরকাশীতে পৌঁছে আমাকে জানাতে ভুলবেন না। এখন শুধু দেখতে থাকুন।”

    উত্তরকাশীতে পৌঁছতে-পৌঁছতে সাড়ে তিনটে বাজল। পথ-চলতি লোকজনদের কাছ থেকে রাস্তার হদিশ জেনে নিয়ে রাজেশ কুলকার্নির কলেজে পৌঁছতে পৌনে চারটে। দিব্যি কলেজ। এল-শেপের তিনতলা বাড়ি, পাথুরে গাঁথনির শক্তপোক্ত স্ট্রাকচার, বিশাল কম্পাউন্ড, তার মধ্যে যেমন ফুটবল খেলার মাঠ, তেমন একটা টেনিস-কোর্টও চোখে পড়ল। একদিকে একটা গির্জা। মিশনারিদের সব কলেজেই যেমন থাকে। কলেজ-কম্পাউন্ডে ঢুকে রাজেশের খোঁজ করতে একটি ছাত্র বলল, “আর কে’র আজ লাস্ট ক্লাস ছিল আড়াইটেয়। এখন ওঁকে টিচার্স রুমেও পাবেন না। হয় লাইব্রেরিতে পাবেন, নয়তো হস্টেলে ওঁর কোয়ার্টার্সে।”

    লাইব্রেরিতে পাওয়া গেল না। হস্টেলটা যে খেলার মাঠের ধারে, সেটা আমরা কলেজে ঢুকেই দেখে রেখেছি। সেখানে গিয়ে দরোয়ানকে জিজ্ঞেস করে জানা গেল, সুপারিন্টেন্ডেন্টের কোয়ার্টার্স তিনতলায়, “কুলকার্নিসাব একটু আগে কলেজ থেকে ফিরেছেন, তাঁকে তাঁর বাড়িতেই পাওয়া যাবে।”

    তিনতলায় উঠে কলিং বেল টিপতে দরজা খুলে যে যুবকটি বেরিয়ে এল, তার মুখচোখ দেখেই বোঝা যায় যে, সে ভীষণ অবাক হয়ে গেছে। এগিয়ে এসে ভাদুড়িমশাইয়ের হাঁটু ছুঁয়ে বলল, “আঙ্কল, আপনি? আসুন আসুন, ভিতরে আসুন।” তারপর আমাদের দিকে তাকিয়ে, “এঁদের তো চিনলুম না!”

    ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “এঁরাও তোর আঙ্কল, রাজেশ। ইনি চ্যাটার্জি-আঙ্কল আর উনি বোস-আঙ্কল। দু’জনেই আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।”

    সঙ্গে-সঙ্গে আমাদের হাঁটু ছুঁয়ে হাত জোড় করে রাজেশ বলল, “দাঁড়িয়ে থাকবেন না, দয়া করে ভিতরে আসুন।”

    দরজা পেরোলেই ড্রয়িং রুম। ঘরটা বড় নয়, তবে আসবাবপত্রও অল্প। একদিকে একটি সেন্টার-টেবিল ঘিরে বেতের একটা টানা সোফা আর খান কয়েক বেতের চেয়ার,অন্যদিকে একটা কাচের বুক-কেসে কিছু বই। আসববাবপত্র কম বলে ধুলোময়লাও কম। একদিকে মস্ত জানালা। জানালায় পর্দা নেই। মাঝে-মাঝে হাওয়া আসছে। তাতে ঠাণ্ডার আমেজ।

    ঘরে ঢুকে জমিয়ে বসা গেল। ভাদুড়িমশাই বললেন, “হ্যাঁ রে রাজেশ, তোর মা’কে যে দেখছি না? তিনি কোথায়?”

    “মা দেরাদুনে তাঁর এক বোনের বাড়িতে গেছেন। আপন বোন নন, একটু দূর সম্পর্কের আত্মীয়। পরশু ফিরবেন।… দাঁড়ান, আপনাদের জন্যে চা করে আনি।”

    “তোকেই চা করতে হবে?”

    “সে তো মা থাকলেও আমি নিজেই চা করি!” রাজেশ হেসে বলল, “আপনারা গল্প করুন, আমি এক্ষুনি চা নিয়ে আসছি।”

    রাজেশ ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার পরে ভাদুড়িমশাই বললেন, “হস্টেলের ছাত্ররা থাকে একতলায় আর দোতলায়। তিনতলার পুরোটাই দেখছি রাজেশের দখলে। ঘর মাত্র দুটো বটে, কিন্তু ছাতটা বিরাট। দিব্যি হাত-পা ছড়িয়ে আছে।”

    বললুম, “জায়গাটাও শুনেছি স্বাস্থ্যকর।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “ঠিকই শুনেচেন। আমি তো অলরেডি সেটা ফিল করতে শুরু করিচি।”

    বিরাট একটা ট্রে’র উপরে চায়ের সরঞ্জাম আর আলাদা একটা প্লেটে কিছু বিস্কুট নিয়ে রাজেশ এসে ঘরে ঢুকল। বলল, “দুধ-চিনি মেশাইনি, আপনারা মিশিয়ে নিন।”

    আমরা যে-যার পেয়ালায় যে যার মতন করে চা নিলুম। আমি আর সদানন্দবাবু স্রেফ লিকার, ভাদুড়িমশাই আর রাজেশ দুধ আর চিনি মিশিয়ে। নিজের পেয়ালায় একটা চুমুক দিয়ে ভাদুড়িমশাই বললেন, “চমৎকার চা।…তা হ্যাঁ রে রাজেশ, তোর ছেলেবেলা তো বাঙ্গালোরে কেটেছে, সেখানকার কথা মনে পড়ে?”

    রাজেশ বলল, “খুব মনে পড়ে। বিশেষ করে মনে পড়ে পটেল আঙ্কলদের কথা। ওঁরা কেমন আছেন?”

    “রঞ্জনা বেঁচে নেই, জানকীদাসও মারা গেছে।…তা হ্যাঁ রে, তোর মিনিদিদির কথা মনে পড়ে না?”

    “খুব মনে পড়ে। আমাকে ভারী ভালবাসত। তা মিনিদিদির খবর কী?”

    “যদি বলি তোর মিনিদিদি এখন তোর খুব কাছেই থাকে, তা হলে বিশ্বাস করবি?”

    “সত্যি? কোথায় থাকে সে?”

    “ডুণ্ডা ভ্যালিতে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “ডঃ হারবার্ট রাসেলের নাম শুনেছিস?”

    “ওরেব্বাবা,” রাজেশ বলল, “তাঁকে কে না জানে। তিনি তো মস্ত লোক। আ ভেরি ওয়াইডলি রেসপেক্টেড ফিজিশিয়ান। গরিবের বন্ধু। অত নামজাদা ডাক্তার মাত্র দু’টাকা ভিজিটে রুগি দেখেন, অনেককে নাকি ওষুধও দেন বিনি পয়সায়।”

    “সেই মানুষটাই তোর মিনিদিদির স্বামী।”

    “বলেন কী। তা মিনিদিদি যখন এত কাছে থাকে, তখন তো তার বাড়িতে একদিন যাওয়া উচিত। আমাকে চিনতে পারবে তো?”

    “কী যে বলিস, তোর নাম বলতেই তোকে চিনতে পেরেছে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “তোর ফোন নাম্বার মিনিকে দিয়েছি। শিগগিরই তোকে ফোন করে ও বাড়িতে যেতে বলবে।”

    কথা বলতে-বলতেই উঠে দাঁড়িয়েছিলেন ভাদুড়িমশাই। আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনারা বসে-বসে গল্প করুন। রাজেশকে নিয়ে আমি বরং ওর কলেজটা একটু দেখে আসি।”

    বুঝতে পেরেছিলুম যে, যে-কোনও কারণেই হোক, ভাদুড়িমশাই এখন রাজেশের সঙ্গে কিছুক্ষণ একা থাকতে চান। ইঙ্গিতটা ধরতে না পারায় সদানন্দবাবুও ‘চলুন আমিও যাব’ বলে উঠে পড়েছিলেন, আমি তাঁর পাঞ্জাবির খুট ধরে ফের বসিয়ে দিলুম।

    রাজেশকে নিয়ে ভাদুড়িমশাই বেরিয়ে গেলেন। ফিরলেন ছ’টা নাগাদ। ভাদুড়িমশাইয়ের হাতে দেখলুম ওই যাকে ‘বিগ শপার’ বলে সেই রকমের একটা বড়সড় ব্যাগ। আমি কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই বললেন, “গোটাকয় জিনিস আর কিছু ওষুধপত্তর কেনার ছিল, এখান থেকেই কিনে নিয়ে এলুম।”

    ফিরতি পথে রওনা হতে-হতে সাড়ে ছ’টা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্টোরিজ – নিল গেইম্যান
    Next Article ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }