Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প927 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কামিনীর কণ্ঠহার – ৮

    ৮

    জেলার নাম উত্তরকাশী, শহরের নামও তা-ই। ফিরতি পথে শহরের সীমানা ছাড়িয়ে ট্যাক্সি যখন একটু ফাঁকা জায়গায় পড়ল, হাতঘড়িতে তখন পৌনে সাতটা। কিন্তু সূর্যাস্ত তো কলকাতার তুলনায় এখানে অনেক দেরিতে হয়, আকাশ থেকে আলো তাই তখনও মুছে যায়নি।

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “আসার পথে বাঁ দিকে চোখ রাখতে বলেছিলুম, এবারে ডান দিকে চোখ রাখুন।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “তার মানে এই ফিরতি পথেও নদীর দিকে চোক রাকা চলবে না? সেই পাহাড় দেকতে-দেকতেই যাব?”

    “শুধু পাহাড় দেখবেন কেন? বাড়িঘর, লোকজন, দোকানপাট—সব দেখবেন।”

    “সে তো আসার পথেই দেকিচি!”

    “ইন্টারেস্টিং কিছু চোখে পড়েনি?”

    “রাস্তার ধারে একটা ঝাঁকড়া-চুলো লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেকিচি, সঙ্গে একটা বাঁদর। বাঁদরটা তার কাঁধে বসে কলা খাচ্ছিল।”

    “মানুষ কি শুধু কুকুর-বেড়াল আর গোরু-ছাগল পোষে?” ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “বাঁদরও পোষে। ওটা ওর পোষা বাঁদর।…তো উল্লেখ করার মতো আর-কিছু আপনি দেখেননি?”

    “কই, না তো।” সদানন্দবাবু বললেন, “তবে হ্যাঁ, একটা মিষ্টির দোকানের সাইনবোর্ডে হিন্দি লেকার নীচে বাংলায় লেকা রয়েচে দেকলুম বিশ্বনাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। দোকানটার মালিক বোধ করি বাঙালি। তা এটা কি ইন্টারেস্টিং ব্যাপার নয়?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “খুবই ইন্টারেস্টিং।…তা কিরণবাবু, এবারে আপনার কথা শুনি। আপনার চোখে কিছু পড়ল?”

    “না।” আমি বললুম, “বাঁদর-কাঁধে লোকটাকে আমিও দেখেছি বটে, তবে সাইনবোর্ডে বাংলা হরফটা আমার চোখে পড়েনি। দুটো বাড়ি অবশ্য দেখেছি।”

    “কোন দুটো বাড়ি?”

    “যার কথা আজই কামিনীর মুখে শুনেছি আমরা। প্রথমটা অবশ্য আলাদা একটা বাড়ি নয়, অনেকগুলো ফ্ল্যাটবাড়ি নিয়ে একটা হাউসিং এস্টেট। এটা মোটামুটি ডুণ্ডা ভ্যালি আর উত্তরকাশীর মাঝামাঝি জায়গায়। লিজা বোধহয় ওখানেই থাকে।”

    “দ্বিতীয় বাড়িটার কথা বলুন।”

    “সেটা আবার ওই হাউসিং এস্টেট আর উত্তরকাশীর মাঝামাঝি জায়গায়। মোটামুটি দুটো জায়গা থেকেই ইকুইডিসট্যান্ট।”

    “এটা কী রকমের বাড়ি?”

    “স্রেফ ইটের গাঁথনির একটা দোতলা স্ট্রাকচার। আনফিনিশড। এমনকি ইটের ওপরে পলস্তারাও পড়েনি। তা এই রকমের একটা বাড়ির কথাও তো আজই আমরা শুনেছি। তা-ই না?”

    “থ্যাঙ্কস।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “আমি ধরেই নিয়েছিলুম যে, যে-দুটি বাড়ির কথা আপনারা আজই শুনেছেন, আর সে দুটো যে এই রাস্তার উপরেই, তাও যখন আপনারা জানেন, তখন অন্তত তাদের লোকেশনের দিকে আপনাদের খেয়াল থাকবে। কিন্তু এখন দেখছি, কিরণবাবুর খেয়াল থাকলেও সদানন্দবাবুর ছিল না।… সদানন্দবাবু, তার শাস্তি কী জানেন?”

    সদানন্দবাবু ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। আমতা-আমতা করে বললেন, “না না, আমারও খেয়াল ছিল। বাড়ি দুটো আমিও দেকিচি, সে-কতা বলতুমও, তবে কিনা…ওই মানে…”

    “শাস্তি হচ্ছে, আজ না হোক কাল রাত্তিরে ওই আনফিনিশড বাড়িটাতে আপনাকে একবার একা যেতে হবে।”

    সদানন্দবাবু ডুকরে উঠে বললেন, “একদম একা?”

    “একদম একা।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “অস্ত্র বলতে আপনার ওই খেটে লাঠিটা অবশ্য থাকবে, ওটা দিয়ে আপনি যে-ই সেখানে থাকুক, তার নাকে এক ঘা বসিয়ে দেবেন।”

    আমি বললুম, “অবশ্য অন্ধকারে তাকে আপনি দেখতে পাবেন কি না, সেটা ঘোর সন্দেহের ব্যাপার। লাঠির সঙ্গে তাই একটা টর্চও সঙ্গে থাকা ভাল।”

    আমরা যে তাঁকে নিয়ে মজা করছি, সে-ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হতে পারছিলেন না সদানন্দবাবু। বললেন, “যাঃ, যতসব বেয়াড়া ঠাট্টা! কোনও মানে হয়?”

    কথা বলতে-বলতে আমরা সেই পরিত্যক্ত বাড়িটার কাছে এসে পড়েছিলুম। চলন্ত ট্যাক্সি থেকে সেদিকে আঙুল তুলে ভাদুড়িমশাই বললেন, “বাড়িটা ভাল করে দেখে রাখুন সদানন্দবাবু। এখনও দিনের আলো একেবারে মিলিয়ে যায়নি, রাত্তিরে কিন্তু ঘুরঘুট্টি অন্ধকার। ভয় করবে না তো?”

    এতক্ষণ যিনি মিনমিন করে কথা বলছিলেন, একেবারে হঠাৎই পালটে গেল তাঁর গলা। বুকে টোকা মেরে বললেন, “ভয় করবে? আমার? দেন ইউ ডোন্ট নো সদানন্দ বোস। হা হা হা হা!”

    আমার মনে হল, সদানন্দবাবু যদি পাগল না-ও হয়ে থাকেন, তো হতে আর খুব দেরি নেই। কিন্তু ভাদুড়িমশাই দেখলুম দারুণ খুশি। বললেন, “শাবাশ। ব্রেভো। এই-তো চাই।”

    বাদবাকি রাস্তাটা গল্পগুজব করে কাটল। হাউসিং এস্টেটের কাছেই একটা পেট্রোল পাম্প, সেখান থেকে ট্যাঙ্ক ভর্তি করে তেল নিয়ে নিল ইন্দরলাল। ডুণ্ডা ভ্যালিতে পৌঁছে কিন্তু তৎক্ষণাৎ আমরা ভিতরে ঢুকলুম না। ভাদুড়িমশাই-ই ঢুকতে দিলেন না। ইন্দরলালকে বললেন, “গেট ছাড়িয়ে গাড়িটা একেবারে পাঁচিলের শেষ অব্দি নিয়ে চলো, তারপর পাঁচিল যেখানে উত্তরে ঘুরেছে, সেখানে ডাইনে মোড় নিয়ে রাস্তা থেকে একটু নামিয়ে তোমার গাড়িকে পাঁচিলের গা ঘেঁষে দাঁড় করাও।”

    তা-ই করল ইন্দরলাল। গাড়িটা এখন পাঁচিলের আড়ালে ঢাকা পড়েছে। উঁচু পাঁচিল, তবু যাতে কেউ টপকাতে না পারে, তার জন্যে সেই পাঁচিলের উপরেও আদ্যন্ত টেনে নেওয়া হয়েছে ফুট-দেড়েক উঁচু কাঁটাতারের বেড়া। সেটা চওড়াও অন্তত ফুটখানেক। তার উপরে একটা কাক মরে পড়ে আছে। তার পাশে তার থেকে ঝুলছে এক ফালি ব্রাউন রঙের মোটা ছিট-কাপড়

    বনেটে পা রেখে গাড়ির ছাতের উপরে উঠে পড়লেন ভাদুড়িমশাই। কাঁটাতারের বেড়াটা এখন তাঁর হাতের নাগালে। হাত বাড়ালেই সেটা তিনি ধরতে পারেন। হাতটা একবার বাড়িয়েছিলেনও। কিন্তু পরমুহূর্তেই হাতটা টেনে নিয়ে গাড়ির ছাত থেকে তিনি মাটিতে নেমে পড়লেন।

    বললুম, “কী ব্যাপার, গেট দিয়েই তো ভিতরে ঢোকা যায়, তা হলে আর পাঁচিল ডিঙোবার দরকার কী?”

    ভাদুড়িমশাই আমার কথার কোনও জবাব না দিয়ে সদানন্দবাবুর দিকে তাকালেন। বললেন, “আপনার লাঠিখানা সঙ্গে আছে?”

    “মাথায় লোহার বল লাগানো লাঠিটা?” সদানন্দবাবু বললেন, “ওটা সব সময়েই আমার সঙ্গে থাকে।”

    “ওটা দিন।”

    লাঠিখানা নিয়ে ফের গাড়ির ছাতে উঠলেন ভাদুড়িমশাই। লাঠির যে দিকে রাবারের ফেরুল লাগানো থাকে, সেই দিকটা দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া থেকে ছিট কাপড়ের টুকরোটা খসিয়ে আনলেন। তারপর গাড়িতে ঢুকে সদানন্দবাবুকে তার লাঠিখানা ফেরত দিয়ে ইন্দরলালকে বললেন, “এবারে গাড়ি ঘুরিয়ে গেট দিয়ে ভিতরে ঢোকো।”

    বললুম, “লাঠির দরকার হল কেন? ছিট-কাপড়ের টুকরোটা আপনার কী কাজে লাগবে জানি না, তবে ওটা তো হাত বাড়িয়েই নিয়ে আসা যেত।”

    “তা যেত।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “আর তার ফলে আমি মারাও যেতে পারতুম।”

    “তার মানে?”

    “মানে তো খুবই সোজা। লোহার কাঁটাতারের মধ্যে দিয়ে সম্ভবত ইলেকট্রিক কারেন্ট চালানো আছে। নইলে কাকটা ওখানে ওইভাবে মরে পড়ে থাকত না।”

    গেট দিয়ে গাড়ি ভিতরে ঢুকল। পথ আটকানো কাঠের ডাণ্ডাটা তুলে নেওয়া হল। সেন্ট্রি-বক্সের লোকটি যে তার খাতা বার করেছে, তাও দেখলুম। ওর কাজ গাড়ির নম্বর আর ভিতরে ঢোকার সময় লিখে রাখা। সেটা লিখে রাখছে।

    প্রায় সাড়ে আটটা। কাজের লোকেরা বিকেল-বিকেল যে যার বাড়ি চলে যায়। আজও চলে গিয়েছে। সদরের কলিং বেল বাজাতে তাই কামিনী এসে দরজা খুলে দিল। খানিকটা অনুযোগের গলায় বলল, “এত দেরি হল যে? রাজেশ ছাড়তে চাইছিল না বুঝি?”

    “শুধু কি আর রাজেশের সঙ্গে দেখা করতে গেসলুম, আরও কাজ ছিল।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “সে-সব সারতে সারতে দেরি হয়ে গেল। তা বার্টি ফিরেছে তো?”

    “তোমরা বেরিয়ে যাবার খানিক বাদই ফিরেছে।” কামিনী বলল, “ঘন্টাখানেক ঘুমিয়েও নিয়েছে।…তা তোমরা দাঁড়িয়ে রইলে কেন, ভিতরে এসো। বার্টি তোমাদের জন্যে ড্রয়িংরুমে অপেক্ষা করছে।”

    সবাই মিলে একতলার ড্রয়িংরুমে ঢোকা গেল। ঘরের এককোণে একটা আর্ম-চেয়ার। সেখানে ল্যাম্প স্ট্যান্ডের তলায় বসে যিনি একটা বই পড়ছিলেন, তিনিই যে ডঃ হারবার্ট রাসেল, সেটা বুঝে নিলুম। ভদ্রলোক আমাদের ঘরে ঢোকার শব্দ পেয়ে বই থেকে চোখ তুলেই আরাম-কেদারা থেকে উঠে পড়েছিলেন, এবারে এগিয়ে এসে ভাদুড়িমশাইয়ের দু’হাত ধরে ঝাঁকুনি দিতে-দিতে বললেন, “ওয়েলকাম, ওয়েলকাম, ওয়েলকাম। তা কাণ্ড দ্যাখো, আঙ্কল, আমরাই তোমাকে এখানে ডেকে আনলুম, অথচ তোমরা যখন এলে, তখন আমিই বাড়িতে ছিলুম না। হোআট আ শেম!”

    পরক্ষণেই আমার ও সদানন্দবাবুর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে বললেন, “আমি বাৰ্টি, আর আপনাদের পরিচয় আমি মিনির কাছে পেয়েছি, সো য়ু ডোন্ট হ্যাভ টু ইন্ট্রোডিউস ইয়োরসেলভস।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “তোমার রুগিদের খবর কী?”

    “গ্রামে একটা উৎসব ছিল,” বার্টি বলল, “আর জানেনই তো, খাওয়া-দাওয়া ছাড়া কোনও উৎসবই হয় না, তো তারই থেকে ফুড পয়জনিং। যা-ই হোক, সময়মতো খবর পেয়েছিলুম তাই রক্ষে, একজন বাদে বাকি সবাই এ-যাত্রা বেঁচে গেছে।”

    “তোমার খুব ধকল গেল!”

    “ও কিছু না,” বার্টি হেসে বলল, “বাড়িতে ফিরে ঘন্টাখানেক ঘুমিয়ে নিয়েছি, বাস, ধকল তাতেই কেটে গেছে।…তা আপনাদের জন্যে একটু কফির ব্যবস্থা করি?”

    কামিনী প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বলল, “এখন কফি? পাগলামি কোরো না, ন’টা বাজতে চলল, খাবারগুলো গরম করে এখুনি তোমাদের ডিনারের ব্যবস্থা করছি।”

    ঘর থেকে কামিনী বেরিয়ে গেল।

    ডিনারের ডাক পড়ল মিনিট দশেক পরেই।

    ডাইনিং রুমে ঢুকে ভাদুড়িমশাই বললেন, “বাইরে থেকে ঘুরে এসেছি। উপরে গিয়ে জামাকাপড় পালটে এলে হত না?”

    কামিনী বলল, “খাবার ঠাণ্ডা হয়ে যাবে, আঙ্কল। এখানেই বেসিনে হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসে যাও।”

    তা-ই বসতে হল। খেতে বসে ভাদুড়িমশাই বললেন, “ওরে মিনি, যেমন লাঞ্চ তেমন ডিনারের আগেও তুই তো সেই টনিকটা খাস। সেটা খাবি না?”

    “সেটা তো তোমার কাছে। বেরোবার আগে তো আর সেটা আমাকে দিয়ে যাওনি। নিজে খাওয়ার পরে বোধহয় তোমার ঘরেই রেখে দিয়েছ।”

    “তা-ই হবে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “বুড়ো হয়েছি তো, অনেক দরকারি কথাও আজকাল দেখছি ভুলে যাই। যাক গে, স্বাদটা যখন ভাল লাগছিল না, তখন আর ওটা খাবার দরকার নেই, তোর জন্যে একটা নতুন বোতল নিয়ে এসেছি। এই দ্যাখ!”

    বিগ শপারটা হাতে ঝুলিয়েই ডাইনিং রুমে ঢুকেছিলেন ভাদুড়িমশাই, এবারে তার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে বোতলটা বার করে টেবিলের উপরে রাখলেন।

    কামিনী বলল, “আরে এটা তো একই টনিক—এনার্জি প্লাস।”

    “রাইট। কিন্তু টনিকটা এক হলেও স্বাদটা আলাদা। এনার্জি প্লাস আসলে অনেক স্বাদের হয়। এটা অরেঞ্জ ফ্লেভার্ড। খেয়ে দ্যাখ, খারাপ লাগবে না।”

    বার্টিকে দিয়ে বোতলের মুখ খুলিয়ে একটা কাপে দু’চামচ ঢেলে তক্ষুনি খেয়ে নিল কামিনী। তারপর ঠোটে জিভ বুলিয়ে বলল, “চমৎকার! থ্যাঙ্ক ইউ অ্যাঙ্কল। তা এটা কিনলে কোথায়?”

    “কেন, উত্তরকাশীতে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “দাঁড়া, উত্তরকাশী থেকে তোর জন্যে আর একটা জিনিসও এনেছি।”

    বলে, ফের সেই ঝোলার মধ্যে হাত ঢোকালেন। এবারে বার হল সোনালি র‍্যাপিং পেপারে জরির ফিতে দিয়ে মোড়া একটা প্যাকেট।

    কামিনী বলল, “কী আছে ওর মধ্যে?”

    ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “উত্তরকাশীর বিখ্যাত মিঠাইওয়ালা গয়াপ্রসাদের কালাকাঁদ। রাজেশ তোর জন্যে পাঠিয়েছে। তার ছেলেবেলায় মিনিদিদির কথা সে ভোলেনি।”

    বার্টি বলল, “আপনারা যে রাজেশের কাছে গিয়েছিলেন, সে-কথা মিনির কাছে শুনেছি। তা ওকে একদিন আসতে বললেই তো হয়।…আপনার কাছে ওর ফোন নাম্বার আছে আঙ্কল?”

    “কেন, ওর সঙ্গে কথা বলবে?”

    “আমি কথা না-বলে বরং মিনি বলুক।” বার্টি বলল, “মিনি, তুমিই ওকে ফোন করে বলে দাও যে, পরশু রবিবার সকালেই যদি ও চলে আসে তো আমরা ভারী খুশি হব। সারাটা দিন আমাদের সঙ্গে কাটাক, তারপরে বিকেলে আবার উত্তরকাশীতে ফিরে যাবে।”

    কামিনী বলল, “আসতে যে বলব, তুমি সেদিন বাড়িতে থাকতে পারবে তো? তুমি হোস্ট, সেটা ভুলে যেয়ো না। কাউকে আসতে বলে তারপর নিজেই যদি বাড়িতে না থাকো, তো সে ভারী বিচ্ছিরি ব্যাপার হবে।”

    “ঠিক আছে, ঠিক আছে,” বাৰ্টি বলল, “আমি সেদিন বাড়িতেই থাকব। আরে বাবা, ডাক্তাররাও তো মানুষ, তাদেরও তো এক-আধদিন বাড়িতে থাকার দরকার হতে পারে, তাদেরও তো অসুখ-বিসুখ হয়, নাকি হয় না?”

    কামিনী বলেছিল, বার্টির বয়েস এখন পঞ্চাশ। চেহারা দেখে কিন্তু আর-একটু কম বলে মনে হয়। টাক পড়েছে, এটাও বাজে কথা। তবে হ্যাঁ, মাথার সামনের দিকের চুল খানিকটা পাতলা হয়ে এসেছে বটে। টুথব্রাশ গোঁফ। থুতনিতে গোটিটা, ওই যাকে ছাগল-দাড়ি বলে আর কি, চোখে পড়ার মতো। ড্রয়িং রুমে ঢুকে চোখে চশমা দেখেছিলুম, আমরা ঘরে ঢুকতেই বার্টি সেটা খুলে রাখে। তার মানে প্লাস পাওয়ারের চশমা, বই পড়ার সময় কি কাগজপত্রে চোখ বুলোবার সময় ওটার দরকার হয়, অন্য সময়ে হয় না। যেমন এখন ওর চোখে চশমা নেই। চোখের মণির রং আশ্চর্য নীল। মুখে সব সময়েই একটু হাসি লেগে আছে। কথাবার্তা শুনে মনে হয়, মানুষটি খোলামেলা ধরনের। এটাও মনে হল যে, তিন-তিনবার ভুল করার পরে কামিনী অন্তত এইবার কোনও ভুল করেনি, সত্যিকারের নির্ভরযোগ্য একজন মানুষকে সে তার জীবনসঙ্গী হিসেবে খুঁজে পেয়েছে।

    খাওয়ার পর্ব শেষ হয়ে গিয়েছিলে সাড়ে ন’টার মধ্যেই। কিন্তু গল্প যেন আর শেষ হতে চাইছিল না। বাঙ্গালোরের গল্প। কামিনীর বাবা আর মায়ের গল্প। কামিনীর ছেলেবেলার গল্প। তার ছবি আঁকা আর সরোদ শেখার গল্প। রাজেশদের পরিবার আর কামিনীদের পরিবারের মধুর সম্পর্কের গল্প। গল্পে হঠাৎ ছেদ পড়ল ভাদুড়িমশাইয়ের কথায়। “ওরে বাবা, এ যে সাড়ে দশটা বাজে। ওহে বাৰ্টি, পরশু রোববার সকালে তো রাজেশ এখানে আসবে, তুমিও সারাদিন তাই বাড়িতেই থাকছ, তা-ই না?”

    বার্টি হেসে বলল, “সে তো থাকতেই হবে।”

    “আর কাল?”

    “কাল সকাল আটটায় ব্রেকফাস্ট করেই রোগী দেখতে যাব। এখানকারই একটা পাহাড়ি বস্তিতে। ফিরতে-ফিরতে বারোটা-একটা। ইটস আ ক্রাউডেড ডে।”

    “তা হলে আর একটিও কথা না বলে শুয়ে পড়ো গিয়ে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “বিকেলে ঘন্টা খানেক ঘুমিয়েছ বটে, কিন্তু গতকাল থেকে যা খাটাখাটনি গেছে, তার ধকল তাতে কাটেনি। এখন আর গল্প না করে উঠে পড়ো। য়ু নিড রেস্ট।”

    বার্টিকে সত্যিই ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। সে আর কথা না বাড়িয়ে উঠে পড়ল।

    ফোনটা বাজল তার মিনিট দশেক বাদে। আমরা তখনও ডাইনিং রুমে বসে গল্প করছি। কামিনী বলল, “তোমরা বোসো আঙ্কল, বার্টি সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছে, আমিই ড্রয়িং রুমে গিয়ে লাইনটা নিয়ে নিচ্ছি।” কথাটা বলেই সে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

    ফিরে এল মিনিট পাঁচেক বাদেই। ভাদুড়িমশাই বললেন, “নিশ্চয় কোনও রুগির ফোন? বাৰ্টিকে এখন আবার ঘুম থেকে উঠে বেরুতে হবে নাকি?”

    কামিনী কোনও উত্তর দিল না। একটা পাথরের মূর্তির মতো স্থির হয়ে বসে রইল। দেখে মনে হল, তার মুখ থেকে সমস্ত রক্ত কেউ শুষে নিয়েছে।

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “কী রে, কী হল? কথা বলছিস না কেন? কার ফোন?”

    এতক্ষণে যেন হুঁশ ফিরল কামিনীর। শুকনো ফ্যাসফেসে গলায় বলল, “সেই লোকটার।”

    “কোন লোকটার? যার কথায় ভয় পেয়ে তুই নেকলেসটা দিয়ে দিয়েছিস?”

    “হ্যাঁ। কিন্তু এখন আবার আমার যে একটা মুক্তোর মালা আছে, সেটা চাইছে। বলছে যে, কাল রাত্তিরেই কাউকে দিয়ে পাঠাতে হবে। সেই একই জায়গায়!”

    ভাদুড়িমশাই মৃদু হাসলেন। বললেন, “এতে এত অবাক হচ্ছিস কেন?”

    “হব না? ও তো এর পরে আরও চাইবে।”

    “চাইতেই পারে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “যারা ব্ল্যাকমেল করে, শিকারকে তারা সহজে ছাড়ে না। এ-লোকটাও তোকে সহজে ছাড়বে না, মিনি। ক্রমাগত ভয় দেখিয়ে তোর সর্বস্ব লুঠ করবে!”

    “তা হলে কী করব আমি এখন? ওর কথামতো কাজ না করলে তো ছবিগুলো বার্টির কাছে পাঠিয়ে দেবে। তা হলে যে কী কাণ্ড হবে, তা তো ভাবতেই আমার হাত-পা হিম হয়ে যাচ্ছে। বার্টিকে সব খুলে বলব?”

    ভাদুড়িমশাই আবার মৃদু হাসলেন। বললেন, “বলা উচিত ছিল প্রথম যখন ওই কদর্য ফোটোগুলো আর ওই চিঠিটা পেয়েছিলি, তখনই। তা যখন বলিসনি, তখন এবারেও বলিস না।”

    “এবারে তা হলে কী করব?”

    প্রথমবারে যা করেছিলি, এবারেও তা-ই করবি। মুক্তোর মালাটা পাঠিয়ে দিবি।”

    “ওগুলো কালচার্ড পার্ল নয়, আঙ্কল!” কামিনী ডুকরে উঠে বলল, “খাঁটি মুক্তো!”

    “তা হোক।” ভাদুড়িমশাই তাঁর মুখের হাসিটা ধরে রেখে নির্বিকার গলায় বললেন, “চেয়েছে যখন, তখন পাঠিয়েই দে!”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্টোরিজ – নিল গেইম্যান
    Next Article ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }