Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক পাতা গল্প927 Mins Read0
    ⤶

    কামিনীর কণ্ঠহার – ১২

    ১২

    আজ পাঁচুই মে, রবিবার। কাল ঘুমোতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। আজ কিন্তু সকাল সাতটার মধ্যেই বিছানা ছেড়ে উঠে পড়েছি। সদানন্দবাবু উঠেছেন তার আগে। ভাদুড়িমশাইয়ের সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যথারীতি তিনি মাইল তিনেক প্রাতঃভ্রমণও করে এসেছেন। ব্রেকফাস্ট করেছি ন’টায়। রাজেশও তার খানিক বাদেই এসে পড়ল। কামিনী তাকে কালই ফোন করে বলে রেখেছিল যে, আজ দুপুরে সে এখানে আমাদের সঙ্গে লাঞ্চ খাবে, তবে দুপুর অব্দি অপেক্ষা না করে সে যেন ব্রেকফাস্ট করেই উত্তরকাশী থেকে বেরিয়ে পড়ে। সে এল দশটা নাগাদ। এসেই একটু লজ্জিত গলায় বলল যে, দেরিতে ঘুম থেকে উঠেছিল বলে তাড়াহুড়োর মধ্যে ব্রেকফাস্ট করে আসতে পারেনি। “ভালই হল রাজু, আমিও এতক্ষণ পর্যন্ত কিছু দাঁতে কাটার সময় পাইনি, এখন চল, দু’জন মিলে ডাইনিং রুমে গিয়ে কিছু খেয়ে আসি।”—বলে মিনিদিদি তার রাজুভাইকে নিয়ে খাওয়ার ঘরে গিয়ে ঢুকে পড়ল।

    এখন সাড়ে দশটা বাজে। দোতলার বারান্দার মাঝখানে একটা গোল টেবিল রেখে সেটাকে ঘিরে খান কয়েক চেয়ার পেতে রাখা হয়েছে। আমরা—মানে বার্টি, ভাদুড়িমশাই, সদানন্দবাবু আর আমি একটু আগেই সেখানে এসে জমায়েত হয়েছিলুম, এখন ব্রেকফাস্ট করে কামিনী আর রাজেশও এসে পড়ায় আসর একেবারে জমজমাট। কামিনীর আজ জন্মদিন। সবাই মিলে তাকে শুভেচ্ছা জানানো হল। কামনা করা হল তার সুস্থ নীরোগ দীর্ঘজীবন। হাস্য-পরিহাস ঠাট্টা-তামাশাও চলল কিছুক্ষণের জন্য। তারপর, সকলের প্রাথমিক উচ্ছ্বাস যখন একটু থিতিয়ে এসেছে, তখন ভাদুড়িমশাইয়ের দিকে তাকিয়ে বার্টি রাসেল বলল, “আঙ্কল, আজ সকালে মিনি আমাকে সমস্ত কথাই খুলে বলেছে। আমি তো এর কিছুই জানতুম না।”

    ভাদুড়িমশাই হাসলেন। তারপর হাসিটাকে তাঁর দু’চোখে ধরে রেখে বললেন, “তা জেনে এখন কী মনে হচ্ছে?”

    “কী আবার মনে হবে?” বার্টিও হেসে বলল, “ভুল তো সবাই করে, মিনিও করেছিল, আবার সময়মতো সেটা শুধরেও নিয়েছে। বাস, মিটে গেল।…তা ও-সব কথা থাক, আপনি যদি অনুমতি দেন তো দু-একটা প্রশ্ন করি।”

    “বেশ তো, করো।”

    “আঙ্কল, মিনিকে কীভাবে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল, মিনির কাছেই সেটা শুনেছি। অবনকশাস ফোটোগ্রাফগুলোও মিনি আমাকে দেখিয়েছে। আবার, যে সংকটে ও পড়েছিল, আপনিই যে মাত্র দু’দিনের মধ্যে তা থেকে ওকে উদ্ধার করেছেন, এমনকি ব্র্যাকমেলড হয়ে যে-দুটো ফ্যামিলি এয়ারলুম ও হাতছাড়া করতে বাধ্য হয়েছিল তাও যে আপনি ফিরিয়ে এনেছেন, এই সবই আমি আজ সকালে শুনলুম। কিন্তু একটা কথা আমি বুঝতে পারছি না।”

    “কী বুঝতে পারছ না?”

    বার্টি বলল, “যে লোকটা ওই ফোটোগ্রাফগুলো পাঠিয়েছিল, তারপর ফোনে হুমকি দিয়ে, অ্যাজ আ প্রাইস ফর হিজ সাইলেন্স, প্রথম দফায় চেয়ে পাঠিয়েছিল ওই হিরের নেকলেস আর দ্বিতীয় দফায় ওই মুক্তোর মালা, লিজাই যে তার অ্যাকমপ্লিস বা অনুচর হিসেব কাজ করছিল…আই মিন স্বেচ্ছায় না-করলেও করতে বাধ্য হচ্ছিল, এমন সন্দেহ আপনার হল কেন?

    ভাদুড়িমশাই আবার একটু হেসে বললেন, “সেটাই কি স্বাভাবিক নয়?”

    “কই, আমার তো তা মনে হয় না।” বার্টি বলল, “ছবির সঙ্গে যে চিঠি আসে, তাতে ‘উপযুক্ত’ দামের উল্লেখ ছিল বটে, কিন্তু উপযুক্ত দামটা যে কী, তার কোনও উল্লেখ ছিল না। দামটা কাকে দিয়ে কোথায় পাঠাতে হবে, চিঠিতে তাও বলা হয়নি। লোকটা পরে ফোন করে জানায় যে, দাম হিসেবে হিরের নেকলেসটা চাই। সেটা কখন কোথায় পাঠাতে হবে? না ছাব্বিশে এপ্রিল শুক্রবার রাত আটটায় হাইওয়ের ধারে পাহাড়ের গায়ে একটা হাফ-বিল্ট অ্যাবানডন্ড বাড়িতে। কিন্তু সেটা কার হাত দিয়ে পাঠাতে হবে, ফোনে তা বলা হয়নি।”

    একটুক্ষণের জন্য চুপ করে রইল বার্টি। ভাদুড়িমশাই বললেন, “থামলে কেন, গো অ্যাহেড।”

    বার্টি বলল, “হিরের নেকলেসটা লিজার হাত দিয়ে পাঠানো হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাকে দিয়েই যে পাঠাতে হবে, লোকটা তো এমন কথা বলেনি।…কী মিনি, বলেছিল?”

    “না, তা সে বলেনি।” কামিনী বলল, “হিরের নেকলেসটার সময়েও বলেনি, আবার তারপরে যখন মুক্তোর মালা পাঠাবার হুকুম দেয়, তখনও বলেনি। শুধু বলেছিল, যাকে দিয়েই পাঠাই না কেন, সে যেন কোনও চালাকি করার চেষ্টা না করে।…আর হ্যাঁ, পুলিশকে যেন কিছু না জানাই। মোট কথা, লিজার কোনও উল্লেখই সে করেনি।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “করেনি, তার কারণ আর কিছুই নয়, করার কোনও দরকারই তার হয়নি। লোকটা খুব ভালই জানত যে, জিনিস দুটো তুই লিজার হাত দিয়েই পাঠাবি।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “এ-কতা বলচেন কেন?”

    বার্টি বলল, “রাইট। জিনিস দুটো মিনি যে লিজার হাত দিয়ে পাঠাবে, তা তো তার জানার কথা নয়। ইন ফ্যাক্‌ট মিনি তো ক্যারিয়ার হিসেবে আর-কাউকে বেছে নিতে পারত।”

    “আর-কাউকে মানে কাকে?”

    “ধরুন আমাকে।”

    শুনে হো-হো করে হেসে উঠলেন ভাদুড়িমশাই। বললেন, “তোমাকে? অব অল পার্সনস? বাৰ্টি, লোকটা বজ্জাত, কিন্তু বোকা নয়। তুমি কি ধরেই নিচ্ছ যে, তোমাকে সে চেনে না? আরে বাপু, খুব ভালই চেনে। সে জানে যে, তুমি আপরাইট লোক, তুমি কোনও অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করবে না, ঘুষ দিয়ে কারও মুখ বন্ধ করতে তুমি রাজি হবে না, উলটে হয়তো রাইফেল নিয়ে তাকে শায়েস্তা করতে ছুটবে। আর তা ছাড়া—”

    বললুম, “আর তা ছাড়া কী?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “লোকটা এটাও জানত যে, মিনি তার স্বামীকে কিছুতেই এর মধ্যে টানবে না, কেননা স্বামীর কাছ থেকে ব্যাপারটাকে সে লুকিয়ে রাখতেই চায়।”

    রাজেশ এতক্ষণ কোনও কথা বলেনি। এবারে বলল, “আমি তো এত সব কথা জানতুম না। আঙ্কল আমাকে যা করতে বলেছিলেন, সেইটুকু করেছি মাত্র। একটু আগে ব্রেকফাস্ট করতে বসে মিনিদিদির কাছে সব শুনলুম। তো আমিও একটা কথা বুঝতে পারছি না আঙ্কল।”

    “কী বুঝতে পারছিস না?”

    “হোয়াই ডিড মিনিদিদি হ্যাভ টু চুজ লিজা? ডক্টর রাসেলকে না-ই পাঠাক, ক্যারিয়ার হিসেবে বাড়ির কাজের লোকদেরও কাউকে তো পাঠাতেই পারত।”

    ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “তাও যে মিনি পাঠাবে না, লোকটা সে-কথাও ভালই জানত। ওরে মিনি, কাজের লোকদের যে কেন ক্যারিয়ার হিসেবে পাঠাসনি তুই, আমি তো তা জানি। এবারে রাজেশকে বুঝিয়ে দে।”

    মিনি বলল, “রাজু, তুই দেখছি সেই ছেলেবেলার মতোই গাধা রয়ে গেলি, তোর বুদ্ধি একটুও পাকেনি। ওরে হাঁদারাম, কাজের লোকদের যদি এর মধ্যে টানতুম, কথাটা তা হলে পাঁচকান হতই, এক সময়ে বার্টির কানেও পৌঁছে যেত। সেই জন্যেই ওদের কাউকে কিচ্ছু বলিনি। আর তা ছাড়া, বললেও কেউ রাজি হত না। ওদের যা ভূতের ভয়। অন্ধকারে অত দূরে ওই ভুতুড়ে বাড়িতে যেতে হবে শুনলেই হাতজোড় করে বলত, মাফ কর দিজিয়ে ম্যাডাম!”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “তো এই হচ্ছে ব্যাপার। মিনি যে তার স্বামীকেও পাঠাবে না, বাড়ির কাজের লোকদেরও পাঠাবে না, লোকটা তা জানত। তা হলে বাকি রইল কে?”

    একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন ভাদুড়িমশাই। তারপর নিজেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বললেন, “রইল বাকি এক। অর্থাৎ কিনা একমাত্র লিজাই বাকি রইল। লোকটা যে ক্যারিয়ার হিসেবে কারও নাম করেনি, তার কারণ, সে খুব ভালই জানত যে, তার অ্যাকমপ্লিস লিজার হাত দিয়েই ওই হিরের নেকলেস আর ওই মুক্তোর মালা পাঠানো হবে।

    “কিন্তু আঙ্কল, লিজা তো আমার কাছ থেকে প্যাকেট নিতে রাজিই হচ্ছিল না।” কামিনী বলল, “প্রথম বারেও না, দ্বিতীয় বারেও না।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “ওই রাজি না-হওয়াটা ওর ভান। অনুরোধ করামাত্র রাজি হলে পাছে তোর খটকা লাগে, সন্দেহ জাগে, তাই সঙ্গে-সঙ্গে রাজি হত না। গড়িমসি করত, বলত ওর অন্য কাজ আছে, তাই রাত আটটায় যেখানে তুই প্যাকেটটা পৌঁছে দিতে বলছিস, ওই সময়ে সেখানে যাওয়া ওর পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে রাজি হয়ে যেত, সেটাই আসল ব্যাপার। প্রথমবারে যেমন প্রথমটায় রাজি না হয়ে পরে রাজি হয়, দ্বিতীয়বারেও তা-ই।”

    “কিন্তু আঙ্কল,” কামিনী বলল, “এখন তো তোমার কাছে শুনছি যে, দু’বারের কোনওবারেই প্যাকেটটা সে ওই ভুতুড়ে বাড়িতে পৌঁছে দেয়নি, দু’বারেই ও প্যাকেট দুটো সরাসরি নিজের বাড়িতে নিয়ে তুলেছিল। এটা কেন করেছিল লিজা?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “কারণ সেই লোকটা তাকে সেইরকমই করতে বলেছিল। সে তোকে যা করতে বলেছিল, লিজাকে তা করতে বলেনি।”

    “তার মানে লিজাকে সে প্যাকেট দুটো সেই অ্যাবানডন্ড ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেনি?”

    “কেন বলবে? নির্জন ফাঁকা বাড়ি কি সত্যিই ফাঁকাই থেকে যায় নাকি। দু’চারদিন ফাঁকা থাকার পরেই সেটা চোর-ডাকাত আর গুণ্ডা-বদমাসের আস্তানা হয়ে দাঁড়ায়। হিরের নেকলেস আর মুক্তোর মালা নিয়ে লিজা সেখানে যাক, লোকটা কি তা চাইতে পারে নাকি? চোরের উপরে বাটপাড়ি হবার ভয় নেই তার? ভয় অবশ্য তার আরও একটা ছিল।”

    “কীসের ভয়?”

    পুলিশের ভয়।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “লোকটা তোকে ফোনে বলেছিল যে, পুলিশকে জানালে পরিণাম খারাপ হবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তুই পুলিশকে জানাতে পারিস, এই ভয় তার ছিলই। সত্যিই যদি জানাতি আর সত্যিই যদি লিজা এই প্যাকেট নিয়ে সেই ফাঁকা বাড়িতে যেত, ব্যাপারটা কী দাঁড়াত তা হলে? পুলিশের হাতে লিজা বমাল ধরা পড়ত, আর পুলিশের জেরার ঠেলায় লিজা ফাঁস করে দিত সেই লোকটার নামধাম। লোকটা তাই কোনও ঝুঁকি নেয়নি। তোকে বলেছে সেই ফাঁকা বাড়িতে লোক পাঠাতে, আর লিজাকে বলেছে, মাল নিয়ে সে যেন সোজা নিজের ফ্ল্যাটে চলে যায়।”

    বার্টি বলল, “কিন্তু লিজা যে প্যাকেট নিয়ে নিজের ফ্ল্যাটে চলে যাবে, তা তো আপনার জানার কথা নয়, আঙ্কল। জানলেন কী করে?”

    “জানতুম না তো। জাস্ট অনুমান করেছিলুম। তবে কিনা আমি যা অনুমান করি, তা বড়-একটা ভুল হয় না।”

    মিনি বলল, “কিন্তু লিজা যার অ্যাকমপ্লিস, সে তো ইতিমধ্যে ওটা বেচে দিতেও পারত। মানে মুক্তোর মালা বেচার সময় না পাক, হিরের নেকলেসটা বেচে দেবার মতো সময় যথেষ্টই পেয়েছিল। ওটা তো বেহাত হয়েছিল পুরো এক হপ্তা আগে।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “ওরে মিনি, অত দামি হিরে বিক্রি করা চাট্টিখানি কথা? তাও এই উত্তরকাশীর মতো জায়গায়? ভাল দামে বিক্রি করতে হলে দিল্লি, মুম্বাই, বাঙ্গালোর, কলকাতা কি চেন্নাই যেতে হয়। তা ও-সব জায়গায় কি আমাদের আপিস নেই, এজেন্ট নেই? নাকি সেখানকার জুয়েলারদের মধ্যে কারা চোরাই মালের খরিদ্দার, সে-খবর আমরা রাখি না? না রে, ও-সব জায়গায় আমাদের আপিসে আমি ফোন করেছি, কিন্তু কেউই তেমন কোনও খবর আমাকে দেয়নি। তার থেকেও আমি অনুমান করে নিই যে, তোর হিরের নেকলেস এখনও পাচার হয়নি, এখানেই আছে।”

    “কিন্তু লিজা তো সেটা অত সহজে ফেরত দিতে নাও পারত।”

    “দেবে না, এমন আশঙ্কা ছিল বলেই তো উলটো-চাপের ব্যবস্থা করেছিলুম। লিজাকে সাফ বলেছিলুম, নেকলেসটা যদি ফেরত না দেয় তো তার ছেলেকেও সে ফেরত পাবে না।”

    শুনে শিউরে উঠল কামিনী। লিজার ছেলেকে যে তুলে নেওয়া হয়েছিল, রাজেশ সে-কথা তার মিনিদিদিকে ইতিমধ্যে জানিয়ে থাকবে। কামিনী তার দিকে তাকিয়ে বলল, “বাচ্চাটার সঙ্গে কোনও খারাপ ব্যবহার করিসনি তো রাজু?”

    রাজেশ হেসে বলল, “এমন খারাপ ব্যবহার করেছি যে, আমাকে ছেড়ে জনি তার মায়ের কাছে ফিরতেই চাইছিল না। ওকে এক বাক্স চকোলেট, তিনটে পুতুল, এক প্যাকেট রং-পেনসিল আর একটা ছবির বই কিনে দিয়েছি। তা ছাড়া খাইয়েছি দুটো প্যাড়া আর একটা আইসক্রিম। একে তুমি খারাপ ব্যবহার বলবে?”

    দোতলার কাজের লোকটি ইতিমধ্যে আর-এক রাউন্ড চায়ের ব্যবস্থা করে গিয়েছিল। ভাদুড়িমশাই টি-পট থেকে তাঁর পেয়ালায় লিকার ঢেলে নিয়ে দুধ আর চিনি মেশালেন, তারপর পেয়ালায় একটা চুমুক দিয়ে বললেন, “এবারে তোকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি মিনি। বার্টিকে তুই সমস্ত কথা সত্যি খুলে বলেছিস তো?”

    উত্তরটা বার্টির কাছ থেকে এল। “ও, ইয়েস। শি মেড আ ক্লিন ব্রেস্ট অব ইট।”

    ভাদুড়িমশাইয়ের চোখ হঠাৎ সরু হয়ে গেল। বললেন, “নেকলেসটা যেদিন বেহাত হয়, সে-দিন তারিখটা ছিল ছাব্বিশে এপ্রিল। আমার ধারণা তার ক’দিন আগে এক সন্ধেবেলায় এমন একটা লোক এসে মিনির সঙ্গে দেখা করেছিল, যে এখানকার স্থানীয় লোক নয়। মিনি কি তাও তোমাকে জানিয়েছে?”

    মিনি বলল, “অফ কোর্স আমি তাও বার্টিকে জানিয়েছি। কিন্তু আঙ্কল, তুমি সে-কথা জানলে কী করে? তোমাকে তো জানাইনি।”

    “জানালে ভাল করতি, তা হলে আর আমাকে কষ্ট করে মাথা খাটিয়ে সেটা অনুমান করে নিতে হত না।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “যা-ই হোক, এবারে আমার অনুমানের কথাটা বলি। আমার অনুমান, বার্টি যে সে-দিন সন্ধেবেলায় বাড়িতে থাকবে না, লোকটা তা জানত। এটাও সে জানত যে, ওই সময়ে মিনি ছাড়া আর কেউ এ-বাড়িতে থাকে না, কাজের লোকেরা বিকেল-বিকেলেই যে যার পাহাড়ি বস্তিতে ফিরে যায়। এ-সব জেনেই সে মিনির সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। প্রথম চেষ্টা করেছিল এই হাউসিং কমপ্লেক্সের সামনের গেট দিয়ে ঢুকতে। সেন্ট্রি তাকে বাধা দিয়ে জিজ্ঞেস করে, কোন বাড়িতে কার কাছে সে যেতে চায়। লোকটা নিজের নাম জানিয়ে বলে, মিসেস রাসেলের সঙ্গে দেখা করতে চায় সে। তা এখানকার যা নিয়ম, সেন্ট্রি বক্স থেকে মিনিকে ফোন করে লোকটার নাম বলে জানতে চাওয়া হয় যে, মিনি তার সঙ্গে দেখা করবে কি না। মিনি জানিয়ে দেয়, না, সে কাজে ব্যস্ত, এখন কারও সঙ্গে দেখা করতে পারবে না। ফলে সেন্ট্রি-বক্স থেকে লোকটাকে ভাগিয়ে দেওয়া হয়।…কী রে, মিনি, ঠিক বলছি তো?”

    “ঠিকই বলছ,” কামিনী বলল, “আই জাস্ট রিফিউজড টু সি হিম।”

    ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “সেন্ট্রি-বক্স থেকে ভাগিয়ে দিলে কী হয়, সে কি সহজে ফিরে যাবার পাত্র? তার তো টাকা চাই। তাই সামনের গেট থেকে তাড়া খেয়ে সে এই হাউসিং কমপ্লেক্সের পিছন দিকে চলে যায়, তারপর অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে পাঁচিল টপকে এই কমপ্লেক্সের মধ্যে ঢুকে পড়ে।… কী মিনি, আমার অনুমান কি ভুল?”

    মিনি বলল, “আমি বলতে পারব না। ইন ফ্যাক্‌ট, সে কী করে এই কমপ্লেক্সের মধ্যে ঢুকেছিল, পাঁচিল ডিঙিয়ে, না পাহারাদারকে ঘুষ দিয়ে, সে সম্পর্কে কোনও ধারণাই আমার নেই। আর ইউ সিয়োর যে, সে ওই উঁচু পাঁচিল টপকেছিল?”

    “অফ কোর্স আই অ্যাম।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “এ-কথা কেন বলছি, সেটা পরে জানাব। তার আগে বলি, তুই তো সাফ জানিয়ে দিয়েছিলি যে, লোকটার সঙ্গে তুই দেখা করবি না, অথচ তার খানিক বাদেই তোদের সদর দরজার কলিং বেল বেজে ওঠে, আর নীচে নেমে দরজা খুলে তুই অবাক হয়ে যাস।”

    “অবাক হব না?” মিনি বলল, “আমি ভেবেছিলুম, নিশ্চয় বার্টি। আজ একটু তাড়াতাড়ি ফিরেছে। অথচ দরজা খুলে দেখি, যার সঙ্গে আমি দেখা করতে চাই না, দরজার সামনে সেই লোকটাই দাঁড়িয়ে আছে। দেখেই আমার বুকের মধ্যে ধড়াস করে ওঠে। কিন্তু আমি চেঁচিয়ে ওঠার আগে সে-ই আমার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলে, চেঁচালেই গুলি করব, ভিতরে চলো, কথা আছে।”

    “তুইও তাকে ভিতরে ঢুকতে দিলি, কেমন?”

    “তা নইলে তো গুলি খেয়ে মরতে হত।”

    “ঠিক কথা।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “গুলি খেয়ে মরাটা কোনও কাজের কথা নয়। কিন্তু মিনি, সে তো আর ‘হাউ ডু ইউ ডু’ বলতে ভিতরে ঢোকেনি, নিশ্চয় টাকা চাইতে এসেছিল। তা-ই না?”

    “সবই তো জানো দেখছি।”

    “কত টাকা?” ভাদুড়িমশাই বললেন, “নিশ্চয় বেশ মোটা অ্যামাউন্ট?”

    “হ্যাঁ, পাঁচ লাখ।”

    “তাতে তুই কী বললি?”

    “অত টাকা বাড়িতে নেই, বাড়িতে বড়জোর শ-পাঁচেক থাকতে পারে। তাতে বলল, ঠিক আছে, আপাতত তা-ই দাও, তবে পরে কিন্তু আবার আমি আসব। আমি আর কথা না-বাড়িয়ে পাঁচশো টাকা দিয়ে দিই।”

    শুনে ভাদুড়িমশাই একটুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, “একটা কথা জিজ্ঞেস করি। ওকে বসিয়েছিলি কোথায়, আর ছিলই বা কতক্ষণ?”

    মিনি বলল, “এত ময়লা জামাকাপড় পরে এসেছিল যে, আমি চাইনি বাইরের কেউ ওকে দেখে ফেলে। একতলার ড্রয়িংরুম আর লাইব্রেরি-রুমটা তো বাইরের দিকে, তাই সেখানে না বসিয়ে ওকে ডাইনিং রুমে নিয়ে আসি। সেখানেই তা প্রায় আধ ঘন্টা চল্লিশ মিনিটের মতন ছিল।”

    “যতক্ষণ ছিল, তুই ওকে চোখে-চোখে রেখেছিলি?

    “তা তো রেখেছিলুমই।”

    “তার মধ্যে দু-চার মিনিটের জন্যেও কি ও তোর চোখের আড়াল হয়নি?”

    “মনে তো হয় না…” বলে মিনি এক মুহূর্ত একটু ভেবে নিয়ে বলল, “দাঁড়াও, দাঁড়াও, ওকে ডাইনিং রুমে বসিয়ে রেখে একটুক্ষণের জন্যে আমাকে একবার পাশের লাইব্রেরি-ঘরে যেতে হয়েছিল।”

    ভাদুড়িমশাইয়ের চোখ দেখলুম আবার সরু হয়ে এসেছে। বললেন, “কেন গিয়েছিলি?”

    “আমাদের খুচরো খরচপত্তরের জন্যে কিছু টাকা আমি ওখানেই একটা ড্রয়ারের মধ্যে রাখি। সেখান থেকে ওই পাঁচশো টাকা নিয়ে আসতে গেসলুম। টাকাটা নিয়ে আসতে তা ধরো মিনিট খানেক লেগেছিল।”

    ‘সেই একটা মিনিট ও একা ছিল তোদের ডাইনিং রুমে।”

    “হ্যাঁ।”

    উত্তরটা শুনে একেবারে সঙ্গে-সঙ্গেই ভাদুড়িমশাই প্রশ্ন করলেন, “হ্যাঁ রে মিনি, ওই যে এনার্জি প্লাস বলে একটা টনিক তুই খাস, ওর বোতলটা তুই রাখিস কোথায়?”

    হঠাৎ এমন প্রশ্ন করা হবে, কামিনী তা ভাবতে পারেনি। বলল, “এ-কথা জিজ্ঞেস করছ কেন?”

    “কোথায় রাখিস, তা-ই বল। কেন জিজ্ঞেস করছি, পরে বলব। আগে আমার কথার জবাব দে।”

    “টনিকটা তো খাই লাঞ্চ আর ডিনারের আগে। বোতলটা তাই ডাইনিং রুমের টেবিলের উপরেই থাকে। আজও তা-ই আছে। আজকেরটা অবশ্য নতুন বোতল। মানে পরশু দিন তুমি যে নতুন বোতলটা আমার জন্যে কিনে এনেছ।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “ওটার কথা হচ্ছে না, আমি বলছি এনার্জি-প্লাস টনিকের পুরনো বোতলটার কথা। লোকটা যে-দিন তোর কাছে আসে, টনিকের পুরনো বোতলটা সে-দিন তা হলে তোদের ডাইনিং টেবিলে ছিল, আর লোকটাকেও তুই বসিয়েছিলি তোদের ডাইনিং রুমেই। তা-ই না?”

    “হ্যাঁ।”

    “আর মাঝখানে তুই মিনিট খানেকের জন্য ডাইনিং রুম থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলি, এই তো?”

    “হ্যাঁ, মাত্তর মিনিট খানেকের জন্যে।” মিনি বলল, “পাশের ঘর থেকে টাকাটা নিয়ে আসতে তার বেশি সময় লাগেনি।”

    “ওরে মিনি,” ভাদুড়িমশাই বললেন, “তুই বলছিস মাত্তর এক মিনিট। আর আমি ভাবছি যে, বিষ মেশাবার পক্ষে সে তো যথেষ্ট সময়।”

    শুনে শুধু মিনি কেন, আমরা সবাই চমকে উঠলুম।

    বার্টি বলল, “বিষ? কী বলছেন আপনি? কে বিষ মেশাল? কীসের সঙ্গে মেশাল?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “যে লোকটা সে-দিন পাঁচিল ডিঙিয়ে তোমার বউয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল, টনিকের পুরনো বোতলে সে-ই বিষ মেশায়। তার জন্যে সে পুরো একটা মিনিট সময় পেয়েছিল।”

    রাজেশ হাসছিল। বলল, “বিষটা যে আর্সেনিক, ল্যাবরেটরি-টেস্টের রিপোর্ট পেয়ে কালই তা আমি আঙ্কলকে জানিয়ে দিই।…কিন্তু আঙ্কল, টনিকে যে বিষ মেশানো হয়েছে, এমন সন্দেহ আপনার হল কী করে?”

    “সন্দেহ হল স্রেফ মিনির একটা কথা শুনে।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “মিনি বলেছিল, টনিকটা স্বাদ অতি বিচ্ছিরি। শুনে আমার খটকা লাগে। তার কারণ, এনার্জি-প্লাস একটা বিখ্যাত কোম্পানির বিখ্যাত টনিক, চটপট এনার্জি বাড়াবার জন্য অনেকেই খায়। আমার বোন মালতীর কিছুদিন আগে টাইফয়েড হয়েছিল, সেরে ওঠার পরে তাকেও ওটা খেতে দেখেছি, কিন্তু কই, কাউকে তো কক্ষনো বলতে শুনিনি যে, ওটার স্বাদ খারাপ। মিনির তা হলে স্বাদটা খারাপ লাগছে কেন?…না রাজেশ, প্রথমেই যে বিষের কথা ভেবেছিলুম, তা নয়। শুধু সন্দেহ হয়েছিল যে, হয় ওটা স্পুরিয়াস, অর্থাৎ জাল, আর নয়তো ওতে কিছু মেশানো হয়েছে।”

    “কিন্তু মিনিদিদিকে প্রথমেই সে-কথা আপনি বলেননি?”

    “কেন বলব? তবে হ্যাঁ, মিনি ওটা খেয়ে যাক, তাও আমি চাইনি। তাই, আমারও এনার্জি বাড়ানো দরকার বলে ভুজুং দিয়ে বোতলটা আমি মিনির কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়ে উত্তরকাশী যাই, গিয়ে এক ফাঁকে বোতলটা তোকে দিয়ে বলি যে, এর কনটেন্টটা একটু পরীক্ষা করে দেখতে হবে। তা পরীক্ষার ফল তো জানাই গেল।”

    আমি বললুম, “কিন্তু টনিকটা তো লিজা এনে দিয়েছিল। কামিনীকে ওটা নিয়মিত খেতেও বলেছিল সে-ই। বিষ মেশাবার ব্যাপারে আপনার সন্দেহও তাই লিজার উপরেই পড়া উচিত ছিল, তা-ই না?”

    “আপনি ঠিক কথাই বলেছেন।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “ইন ফ্যাক্‌ট এ-ব্যাপারে আমি প্রথম সন্দেহ করেছিলুম লিজাকেই। কিন্তু কাল রাত্তিরে হঠাৎ আমার খটকা লাগে।”

    “কেন?” সদানন্দবাবু বললেন, “কেউ কি এমন কিছু বলেছিল, সন্দেহটা যাতে লিজার ওপর থেকে ওই লোকটার ওপরে গিয়ে পড়ে?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “না না, এটা কারও কিছু বলার ব্যাপার নয়, কোথাও কিছু দেখার ব্যাপার। দুটো জিনিস আমি দেখেছি। একটা পরশু দেখেছি, একটা কাল। একা আমি যে দেখেছি, তা নয়। যেমন আমি দেখেছি, তেমন সদানন্দবাবু আর কিরণবাবুও দেখেছেন। কিন্তু তার তাৎপর্য ওঁরা ধরতে পারেননি। আগে বলি, পরশু দেখা জিনিসটার কথা। জিনিসটা আর কিছুই নয়, ব্রাউন রঙের এক ফালি ছেঁড়া কাপড়। ফালিটা এই কমপ্লেক্সের কম্পাউন্ড-ওয়ালের উপরের কাঁটাতারে আটকে ছিল।…কী কিরণবাবু, মনে পড়েছে?”

    বললুম, “তা কেন পড়বে না? তা ওটারও কি কোনও তাৎপর্য আছে নাকি?”

    “আছে বই কী।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “ওই ফালি-কাপড় দেখে আমি বুঝে নিই যে, এখানকার কম্পাউন্ড-ওয়াল টপকে কেউ ভিতরে ঢুকেছিল, কিন্তু ওই পথে ঢোকার সময় কিংবা ওই পথে বেরিয়ে যাবার সময় কাঁটাতারে তার প্যান্ট আটকে গিয়ে ছিঁড়ে যায়, আর ছেঁড়া অংশটা ওখানেই ঝুলতে থাকে। তারপর কাল রাতে যে-লোকটার সঙ্গে একেবারে হঠাৎই আমাদের পরিচয় হল, দেখলুম যে, তার প্যান্টের পায়ের দিকটা হাঁটু অব্দি গোটানো। সদানন্দবাবুর সেটাকে ইনডিসেন্ট ব্যাপার বলে মনে হয়েছিল, তবে আমি ঠিকই বুঝে গিয়েছিলুম যে, প্যান্টটার পায়ের অংশ ছেঁড়া বলেই সেটা ঢাকা দেবার জন্যে লোকটা তার প্যান্টের পায়ের দিকটা ওইভাবে গুটিয়ে রেখেছে। সদানন্দবাবুকে আমি সে-কথা বলেছিলুমও।”

    সদানন্দবাবু বললেন, “ওরেব্বাবা! তারপর?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “তারপর আর কী, বুঝে গেলুম যে, এ লোকটাই পাঁচিল টপকে এই হাউসিং কমপ্লেক্সে ঢুকেছিল। আর সে-ই যে ভয় দেখিয়ে হিরের নেকলেস আর মুক্তোর মালা আদায় করার পাণ্ডা, তাও তো ততক্ষণে আমরা বুঝে গেছি। তাই এতেও আর আমার সন্দেহ রইল না যে, এই হাউসিং কমপ্লেক্সে সে মিনির কাছেই এসেছিল। তখন ভাবতে লাগলুম, কেন এসেছিল। তার কাজ তো ভয় দেখিয়ে যতটা পারে আদায় করে নেওয়া। তা ভয় দেখাবার কাজটা তো নোংরা কিছু ছবি পাঠিয়ে, চিঠি লিখে আর ফোনে হুমকি দিয়েও করা যায়। তা হলে সে-সব করার আগে সে দেখা করতে এসেছিল কেন? এমন কী কাজ ছিল তার, যার জন্যে এখানে আসতেই হয়েছিল তাকে?”

    একটুক্ষণের জন্যে চুপ করে রইলেন ভাদুড়িমশাই। একটা সিগারেট ধরালেন। তারপর একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে বললেন, “একই সঙ্গে ভাবছিলুম বিষ মেশাবার কথাটাও। ওটা কি সত্যিই লিজা মিশিয়েছে? সে কেন এই বোকামি করবে? সে তো জানে যে, সে-ই যে মিনিকে টনিকটা এনে দিয়েছে আর মিনিকে সেটা নিয়মিত খেতেও বলেছে সে-ই, মিনির ডাক্তার স্বামীর পক্ষে সেটা জানাই স্বাভাবিক। তা হলে লিজা জেনেশুনে এই ঝুঁকি নেবে কেন? আর তখনই একেবারে বিদ্যুচ্চমকের মতন আমার মনে হল, পাঁচিল টপকে যে-লোকটা এসে মিনির সঙ্গে দেখা করেছিল, বিষটা সে-ই মিশিয়ে দিয়ে যায়নি তো? তা মিনির কথা শুনে এখন বুঝতে পারছি যে, এটাও আমার ভুল অনুমান নয়।”

    রাজেশ বলল, “আপনার কোনও অনুমানই ভুল নয়, আঙ্কল।” তারপর মিনির দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, “ভয় পেয়ো না, মিনিদিদি, ল্যাবরেটরি-টেস্টের রিপোর্ট আমি দেখেছি, যে পরিমাণ আর্সেনিক তোমার পেটে গেছে, তাতে তুমি মরবে না।”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “এবারে আসল কথায় আসি। পুলিশকে আমি লিখিতভাবে কিছুই জানাইনি। লিখিত অভিযোগ জানালে মামলা হবে। তা যদি হয়, তা হলে বালুর অন্তত বছর কয়েকের জেল তো হবেই, লিজাও বেকসুর খালাস পাবে না। অথচ আমার ধারণা, লিজা যা-ই করুক, সেটা স্বেচ্ছায় করেনি, প্রাণের ভয়ে করেছে। কিন্তু আদালত সে-কথা বিশ্বাস করলেই বা কী, জেল না হোক, হাসপাতালে তার চাকরিটা আর থাকবে না। সে-ক্ষেত্রে তো আসল শাস্তি হবে তার ওই বাচ্চা ছেলেটির। মায়ের চাকরি গেলে সে তো না-খেয়ে মরবে।”

    বার্টি বলল, “ঠিক কথা

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “আর-একটা কথাও আমি ভাবছি। মামলা হলে তার খবর চাপা থাকবে না। কাগজে-কাগজে এমন হেডলাইন দিয়ে খবর বেরুবে যে, তোমাদের পারিবারিক মানমর্যাদা নষ্ট হবে। সেটাও ভাবো।”

    “ভাবার কিছু নেই।” বার্টি বলল, “পুলিশের কাছে আমরা কোনও অভিযোগ জানাব না।”

    “থ্যাঙ্ক ইউ, বার্টি।” ভাদুড়িমশাই বললেন, “য়ু হ্যাভ টেকন দ্য রাইট ডিসিশান। তবে হ্যাঁ, এস. পি.-কে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ জানাব লোকটাকে ছেড়ে দেবার সময় যেন তাকে শাসিয়ে দেওয়া হয় যে, ফের যদি সে এই তল্লাটে ঢোকে, তো পুলিশ তার হাড়গোড় ভেঙে দেবে।”

    বার্টি বলল, “ঠিক আছে, সত্যিই আমি চাই না যে, মামলা হোক। কিন্তু আঙ্কল, ছবিগুলোর কী হবে? ওগুলোর নেগেটিভ তো লোকটার কাছেই রয়ে গেল। ইচ্ছেমতো প্রিন্ট করবে আর এখানে-ওখানে পাঠাবে। সে তো ভয়ঙ্কর ব্যাপার!”

    ভাদুড়িমশাই হেসে বললেন, “ছবিগুলো তুমি দেখেছ?”

    “মিনিই দেখিয়েছে!”

    “অথচ তুমি বুঝতে পারোনি যে, ওগুলো জাল ছবি? তাও অত্যন্ত কাঁচা হাতের জাল? আশ্চর্য! ওহে বাৰ্টি, আমি তো দেখেছি মাত্র একটা ছবি, তাতেই বুঝেছি যে, ওতে শুধু মুখটাই মিনির, বাদবাকি শরীরটা অন্য কোনও মেয়ের!”

    আমি বললুম, “তার মানে হাঁসজারু?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “ঠিক তা-ই। ব্ল্যাকমেল করার এই কায়দাটা আজকাল খুব চলছে।” কামিনী বলল, “বাদবাকি শরীরটা আমার নয়, তুমি সেটা বুঝলে কী করে?”

    “ওরে বোকা মেয়ে, তুই নিজের শরীরটাও চিনিস না?” ভাদুড়িমশাই বললেন, “তোর বাঁ হাতের কনুইয়ের এক ইঞ্চিটাক উপরে, হাতের সামনের দিকে, কোনও জড়ুল আছে?”

    কামিনী তাড়াতাড়ি তার বাঁ-হাতটা দেখে নিয়ে বলল, “কই, নেই তো!”

    “অথচ, ছবিতে যে-মেয়েটার শরীরকে তোর মুখের নীচে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তার বাঁ-হাতের ওই জায়গায় রয়েছে একটা মস্ত জড়ুল। তাই বলছিলুম যে, এটা নেহাতই কাঁচা হাতের কাজ!”

    শুনে কামিনী বলল, “যাক বাবা, বাঁচলুম! কী যে দুর্ভাবনা হচ্ছিল, সে আর বলবার নয়।” নীচ থেকে অর্জুন খবর পাঠাল, লাঞ্চ রেডি, ইচ্ছে হলে আমরা এবারে খেতে বসতে পারি। খাওয়ার টেবিলেই বার্টি ঘোষণা করল যে, রোগীদের কাছ থেকে তিন দিনের ছুটি নিয়ে কালই সে সবাইকে নিয়ে গঙ্গোত্রী যাবার প্ল্যান এঁটেছে। কামিনীর জন্মদিন উপলক্ষে এটাই তার উপহার।

    লাঞ্চের পরে বিকেল অব্দি জোর আড্ডা হল। রাজেশ বিদায় নিল বিকেলবেলায়। বলল, তার ছুটি পেতে কোনও অসুবিধে হবে না, গঙ্গোত্রী যাবার পথে উত্তরকাশী থেকে তাকে যেন আমরা তুলে নিই সন্ধে নাগাদ ভাদুড়িমশাই, সদানন্দবাবু আর আমি গিয়ে নদীর ধারে বসলুম। সদানন্দবাবু বললেন, “আচ্ছা মশাই, পাজি লোকটা মনে হল আপনার চেনা। কে ও?”

    ভাদুড়িমশাই বললেন, “বালুচন্দ্রন। মিনির সেকেন্ড হাজব্যান্ড। ফিল্মি ফাইটার। এককালে মারপিটের ছবিতে ওর চাহিদা ছিল, এখন আর কেউ পৌঁছে না।”

    শুনে সদানন্দবাবু বললেন, “ছ্যা ছ্যা!”

    রচনাকাল : ১৪০৯

    ***

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্টোরিজ – নিল গেইম্যান
    Next Article ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    Related Articles

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার ক্লাস – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতার দিকে ও অন্যান্য রচনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    কবিতা কী ও কেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা

    September 5, 2025
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    ভাদুড়ি-সমগ্র ১ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    September 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }