Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভারতের বিবাহের ইতিহাস – অতুল সুর

    লেখক এক পাতা গল্প140 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. প্রাচীন ভারতে বিবাহ

    হিন্দুরা যদিও দাবী করে যে তাদের মধ্যে প্রচলিত বিবাহের রীতিনীতি বৈদিক যুগ থেকে অনুস্থত হয়ে এসেছে তথাপি কথাটা ঠিক নয়। গোত্র-প্রবর-সপিও বর্জন বিধি, যার উপর বর্তমান হিন্দুদের বিবাহ প্রথা প্রতিষ্ঠিত, তার উল্লেখ বৈদিক যুগের প্রাচীনতম গ্রন্থ ঋগ্বেদে মোটেই নেই। মনে হয়, ঋগ্বেদের যুগে বিবাহ প্রতিষ্ঠিত ছিল গ্রামভিত্তিক বহির্বিবাহের নিয়মের উপর। কেননা, ঋগ্বেদের বিবাহসংক্রান্ত স্তোত্র থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, পাত্রপাত্রী বিভিন্ন গ্রামের সহিত সংশ্লিষ্ট হতে এবং “দিধিষু” নামে এক শ্রেণীর মধ্যগের মাধ্যমে বিবাহের যোগাযোগ সাধিত হতো। নবপরিণীত। যে অন্ত গ্রামের সহিত সংশ্লিষ্ট থাকতো, তা তার বধু আখ্যা থেকেই বোঝা যায়। কেননা, “বধু’ শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে যাকে বহন করে আনা হয়েছে। বৈদিকযুগের বিবাহ সম্বন্ধে আরও লক্ষ্য করবার বিষয় এই যে, নবপরিণীতার বিবাহ কোন বিশেষ ব্যক্তির সঙ্গে হতে না, তার সমস্ত সহোদর ভ্রাতাগণেরই সঙ্গে হতো। অন্ততঃ আপস্তম্ভ ধর্মসূত্রের যুগ পর্যন্ত এই রীতি প্রচলিত ছিল। কেননা, আপস্তম্ভ ধর্মসূত্রে পরিষ্কার বলা হয়েছে যে কন্যাকে দান করা হয় কোন এক বিশেষ ভ্রাতাকে নয়, বংশের সমস্ত ভ্রাতাকে। এজন্তই পরবর্তীকালে মনু বিধান দিয়েছিলেন যে কলিযুগে কন্যার বিবাহ যেন সমগ্র পরিবারের সঙ্গে যৌথভাবে না দেওয়া হয়। মমুর এই বিধান থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, তথাকথিত কলিপুর্বযুগে কন্যার বিবাহ সমগ্র পরিবারের সহিতই সাধিত হতো। ঋগ্বেদে এবং অথর্ববেদে এমন কয়েকটি স্তোত্র আছে যা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, যদিও বধূকে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাই বিবাহ করতে, তা হলেও তার কনিষ্ঠ সহোদরগণেরও তার উপর যৌনমিলন বা রমনের অধিকার থাকতো। এই দুই গ্রন্থেই স্বামীর কনিষ্ঠভ্রাতাকে “দেবৃ” বা দেবর বলা হয়েছে। এই শব্দদ্বয় থেকেও তা সূচিত হয়। কেননা দেবর মানে দ্বিবর বা দ্বিতীয় বর।

    ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের এক স্তোত্র থেকে বোঝা যায় যে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার মৃত্যুর পর তার বিধবা দেবরের সঙ্গেই স্ত্রীরূপে বাস করতো। সেখানে বিধবাকে বলা হচ্ছে, “তুমি উঠে পর, যে দেবু তোমার হাত ধরছে তুমি তারই স্ত্রী হয়ে তার সঙ্গে বসবাস কর।” অথর্ববেদের এক স্তোত্রেও (১০৩১-২ ) অনুরূপ কথা ধবনিত হয়েছে।

    ভাবীর সঙ্গে দেবরের যে যৌন ঘনিষ্ঠত থাকতো তা ঋগ্বেদের বিবাহ সম্পর্কিত স্তোত্রও ইঙ্গিত করে। উক্ত স্তোত্রে দেবতাগণের নিকট প্রার্থনা করা হচ্ছে যে, তারা যেন নববধূকে দেবুর প্রিয় ও অনুরাগের পাত্রী করে তোলেন। ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের অপর এক স্থানেও বর্ণিত রয়েছে যে, বিধবা ভাবী দেবুকে র্তার দাম্পত্য শয্যায় নিয়ে যাচ্ছেন।

    একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারা যাবে যে ঋগ্বেদের যুগে ভাবীর সঙ্গে দেবরের যৌন সম্পর্ক ছিল কেন। আর্যরা যখন এদেশে আসেন তখন র্তারা তাদের সঙ্গে খুব কমসংখ্যক মেয়েছেলে নিয়ে এসেছিলেন । র্তাদের মধ্যে মেয়েছেলের অভাব বিশেষভাবেই ছিল। এদেশে আসবার পর তারা এদেশের অধিবাসীদের খুব ঘৃণার চক্ষে দেখতেন । রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্ত, গোড়ারদিকে তারা এদেশের অধিবাসীদের সঙ্গে কোনরূপ বিবাহ সম্পর্ক স্থাপন করেন নি। পরবর্তীকালে অবশ্য র্তারা এদেশের মেয়ে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন । কিন্তু অস্তবর্তীকালে তাদের মধ্যে বিবাহযোগ্য মেয়ের অভাবের দরুন মাত্র জ্যেষ্ঠভ্রাতাই বিবাহ করতেন আর অন্য ভ্রাতারা ভাবীর সঙ্গেই যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন।

    ভাবীর উপর দেবরের এই যৌন অধিকার যে পরবর্তীকালের নিয়োগপ্রথা থেকে স্বতন্ত্র সে বিষয় কোন সন্দেহ নেই। বৈদিক যুগে দেবরের যে যৌন অধিকার থাকতে তা সাধারণ রমণের অধিকার। আর পরবর্তীকালের নিয়োগপ্রথা ছিল মাত্র সন্তান উৎপাদনের অধিকার। সন্তান উৎপন্ন হবার পর এ অধিকার আর থাকতো না। আরও লক্ষ্য করবার বিষয় হচ্ছে এই যে, বিধবা ভাবীর উপর দেবরের এই যৌন অধিকার জ্যেষ্ঠের মৃত্যুর পরেও অবিকৃত থাকার দরুন ঋগ্বেদে বিধবা বিবাহের কোন উল্লেখ নেই, যা পরবর্তীকালের গ্রন্থসমূহে দেখতে পাওয়া যায়। বেদে ব্যবহৃত ও জ্ঞাতিত্ব বাচক কয়েকটি শব্দ থেকেও আমরা বুঝতে পারি যে স্ত্রীলোকের একাধিক স্বামী থাকতো। ‘পিতা’ ও ‘জনিত পিতা’ এ দুটি শব্দ বেদে স্বতন্ত্র জ্ঞাতিবাচক শব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। মনে হয়, শেষোক্ত শব্দের অর্থ হচ্ছে, যে পিতা সন্তানের প্রকৃত জন্মদাতা আর প্রথম শব্দের অর্থ হচ্ছে অপর পিতা বা মাতার অন্ত স্বামী। একথা বলাবাহুল্য যে, প্রকৃত পিতা হতে অপর কোন পিতা মাত্র সেই সমাজেই কল্পিত হতে পারে, যে সমাজে স্ত্রীর একাধিক স্বামী থাকতে । বেদে ব্যবহৃত “পিতৃতম” শব্দও অনুরূপ ইঙ্গিত করে। এর অর্থ পিতাদের মধ্যে যে অগ্রণী বা অগ্রগামী ।

    যে যুগের লোক দেবতাগণের বেলায় নিকটতম আত্মীয়ের মধ্যেও যৌনমিলন কল্পনা করতে পারতে সে যুগে যে ভাবীর সঙ্গে দেবরের যৌনসম্পর্ক থাকবে, তা কিছু বিচিত্র ব্যাপার নয়। ঋগ্বেদে যম-যমীর কথোপকথনে দেখা যায় যে, যমের যমজ-ভগ্নী যমী যখন যমের সঙ্গে যৌনমিলন প্রার্থনা করছে, যম তখন বলছে, যেকালে ভাই-বোনে যৌনমিলন ঘটতো সেকাল অনেকদিন অতীত হয়ে গেছে। সেখানে একথাও বলা হয়েছে যে ভবিষ্যতে হয়তো এমন যুগ পুনরায় আসবে যখন ভাই-বোনের মধ্যে এরূপ সংসর্গ আবার বৈধ বলে গণ্য হবে। এ ছাড়া ঋগ্বেদে এরূপ অস্বাভাবিক মিলনের আরও উদাহরণ আছে, যেমন সূর্য ও উষার মিলন, অশ্বিনদ্বয় ও সূর্যার মিলন। আগেই বলা হয়েছে যে ঋগ্বেদে বিধবা বিবাহের উল্লেখ নেই। মনে হয়, অথর্ববেদের যুগে এর প্রবর্তন হয়েছিল । কেননা অর্থববেদের নবম মণ্ডলে বর্ণিত হয়েছে যে জনৈকা বিধবা মৃতস্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে, যাতে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে স্বর্গে যেতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে এক ঐন্দ্রজালিক প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিচ্ছেন।

    পণ্ডিতমহলে স্বীকৃত হয়েছে যে আর্যরা দুই বিভিন্ন স্রোতে ভারতে এসেছিলেন। যারা পঞ্চনদে এসে বসবাস সুরু করে ঋগ্বেদ রচনা করেছিলেন, তারা এসেছিলেন পরে। আর র্যার আগে এসেছিলেন র্তারা বসতি স্থাপন করেছিলেন বাংলাদেশে । ( লেখক প্রণীত “বাঙালীর নৃতাত্ত্বিক পরিচয়” দেখুন ) মনে হয় পরবর্তীকালে আগত ঋগ্বেদের আর্যদের তুলনায় তারা অনেক উদার মনভাবাপন্ন ছিলেন। সেই কারণে র্তারা এদেশে অনার্যদের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা করেছিলেন। তারা বহুক্ষেত্রে যে শুধু অনার্য মেয়েদের বিবাহ করেছিলেন তা নয়, তারা অজ্ঞাতকুলশীল বহু ব্যক্তিকে যেমন সত্যকাম, জবাল, মহীদাস, ঐতরেয় ইত্যাদিকে নিজেদের গোষ্ঠীভুক্ত করে নিয়েছিলেন। মনে হয় অনার্য সমাজে প্রচলিত টটেম-ভিত্তিক বহির্বিবাহ গোষ্ঠী সমূহের অনুকরণে র্তারাই গোত্র প্রবর প্রভৃতি স্থষ্টি করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে ঋগ্বেদীয় আর্যরা যখন পূর্বদিকে অগ্রসর হয়েছিলেন তখন তারা তা গ্রহণ করেছিলেন ।

    আর্য ও অনার্যদের মধ্যে যে মেলামেশা ঘটেছিল, তা বিশেষভাবে প্রকাশ পেয়েছিল মহাভারতের যুগে। এর ফলে অনার্যসমাজের বিবাহপদ্ধতি সমূহ আৰ্যসমাজেও স্থান পেয়েছিল। ঋগ্বেদের যুগে এক রকমের বিবাহই প্রচলিত ছিল। সে বিবাহ নিম্পন্ন হতো মন্ত্র উচ্চারণ ও যজ্ঞ সম্পাদন দ্বার। কিন্তু মহাভারতীয় যুগের সমাজে এমন সব রকমের বিবাহও স্থান পেয়েছিল, যার জন্ত মন্ত্র উচ্চারণ ব: যজ্ঞ সম্পাদনের প্রয়োজন হতে না ।

    মহাভারতীয় যুগে আমরা চার রকম বিবাহের উল্লেখ পাই। ব্রাহ্ম, গান্ধৰ্ব, আমুর ও রাক্ষস । এর মধ্যে মাত্র ব্রাহ্ম বিবাহেই মন্ত্র উচ্চারণ ও যজ্ঞ সম্পাদনের প্রয়োজন হতো। বাকী তিন রকম বিবাহ-এ সবের কোন বালাই ছিল না। আবার যাজ্ঞবল্ক্য ও মনুস্মৃতিতে আমরা আট রকম বিবাহের উল্লেখ পাই । এই আট রকম বিবাহ যথাক্রমে ব্রাহ্ম, দৈব, আর্য, প্রাজাপত্য, আস্থর, গান্ধৰ্ব, রাক্ষস ও পৈশাচ। ব্রাহ্ম বিবাহ ছিল ব্রাহ্মণ্য আচারসম্পূত বিবাহ। এই বিবাহে মন্ত্র উচ্চারণ ও যজ্ঞ অনুষ্ঠান করে স্ববস্ত্রা, সালংকর ও সুসজ্জিত কন্যাকে বরের হাতে সম্প্রদান করা হতো। প্রাচীন ঋষিদের মধ্যে যে বিবাহ প্রচলিত ছিল, তার নাম ছিল আর্য বিবাহ । এই বিবাহে যজ্ঞে ব্যবহৃত ঘৃত প্রস্তুতের জন্য মেয়ের বাবাকে, বর এক জোড়া গামিথুন উপহার দিত। যজ্ঞের ঋত্বিককে দক্ষিণ হিসাবে যেখানে কন্যাদান করা হতো, তাকে বলা হতে দৈব বিবাহ। “তোমরা দুজনে যুক্ত হয়ে ধর্মাচরণ কর” এই উপদেশ দিয়ে যেখানে বরের হাতে মেয়েকে দেওয়া হতো, তাকে বলা হতো প্রাজাপত্য বিবাহ। বলা বাহুল্য যে এই চার রকম বিবাহপদ্ধতিরই কৌলীন্য ছিল। বাকীগুলির কোন কৌলীন্য ছিল না, কেননা সেগুলি প্রোগ বৈদিক আদিবাসী সমাজ থেকে নেওয়া হয়েছিল। তার প্রমাণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে সেগুলি আদিবাসী সমাজে এখনও প্রচলিত আছে। আস্থর বিবাহ ছিল পয়সা দিয়ে মেয়ে কেনা। তার মানে যে বিবাহে কন্যাপণ দেওয়া হয়। এরূপ বিবাহে মেয়ের বাবাকে কিংবা তার অভিভাবককে পণ বা মূল্য দিতে হতো। আর মেয়েকে জোর করে কেড়ে নিয়ে বিবাহ করা হতো, তার নাম দিল রাক্ষস বিবাহ। আর যেখানে মেয়েকে অজ্ঞান বা অচৈতন্য অবস্থায় হরণ করে এনে বা প্রবঞ্চনা অথবা ছলনার দ্বারা বিবাহ করা হতো, তাকে বলা হতে পৈশাচ বিবাহ। আর নির্জনে প্রেমালাপ করে যেখানে স্বেচ্ছায় মাল্যদান করা হতো তাকে বলা হতো গান্ধৰ্ব বিবাহ। যদিও যাজ্ঞবল্ক্য ও মনু এই আট রকম বিবাহের কথা উল্লেখ করেছেন, তথাপি মহাভারতীয় যুগে উচ্চবর্ণের মধ্যে মাত্র দু-রকমের বিবাহই সাধারণত অনুষ্ঠিত হতো। তা হচ্ছে ব্রাহ্ম ও গান্ধৰ্ব । ক্ষত্রিয়ের পক্ষে গান্ধৰ্ব বিবাহই ছিল প্রশস্ত। মহাভারতের নায়কদের মধ্যে অনেকেই গান্ধৰ্ব মতে বিবাহ করেছিলেন। যথা ; গঙ্গার সঙ্গে শাস্তমুর বিবাহ এইভাবেই নিম্পন্ন হয়েছিল। এইভাবেই আবার নিম্পন্ন হয়েছিল ভীমের সঙ্গে হিরিস্কার বিবাহ, অজুনের সঙ্গে উলুপী ও চিত্রাঙ্গদার বিবাহ, কুষ্মস্তের সঙ্গে শকুন্তলার বিবাহ ও ইক্ষাকুবংশীয় পরীক্ষিতের সঙ্গে স্থশোভনার বিবাহ। তবে রাজারাজরার ঘরের মেয়েদের পক্ষে স্বয়ম্বর প্রথায় বিবাহ ছিল আদর্শ। স্বয়ম্বর বিবাহ ছিল রাক্ষস বিবাহেরই একটা স্থঠু সংস্করণ মাত্র। রাজারাজরাদের মধ্যে স্বয়ম্বর প্রথায় বিবাহই যে প্রশস্ত ছিল, তা আমরা কাশীরাজার তিন কন্যা অম্বা, অম্বিকা ও অম্বালিকার স্বয়ম্বরসভায় ভীষ্মের উক্তি থেকে পরিষ্কার বুঝতে পারি। ঐ সভায় ভীষ্ম বলেছিলেন, “স্মৃতিকাররা বলেছেন যে স্বয়ম্বর সভায় প্রতিদ্বন্দীদের পরাহত করে কন্যা জয় করাই ক্ষত্রিয়দের পক্ষে শ্রেষ্ঠ বিবাহ।” অনুরূপভাবে পাণ্ডব-ভ্রাতার দ্রুপদ রাজার কন্যা দ্রৌপদীকে স্বয়ম্বর সভায় জয় করেছিলেন। একথা এখানে বলা প্রয়োজন যে স্বয়ম্বর সভায় প্রতিদ্বন্দিতা করবার জন্য যে মাত্র আর্যকুলের রাজারাই যোগ দিতেন, তা নয়। অনার্য রাজারাও যোগ দিতেন। কেননা এরূপ স্বয়ম্বর সভা থেকেই নিষাদ-রাজ নল বিদর্ভরাজার মেয়ে দময়ন্তীকে জয় করেছিলেন। মহাভারতীয় যুগে আর্য ও অনার্যদের মধ্যে যে পরস্পর বিবাহের আদান-প্রদান ঘটতে সে বিষয় কোন সন্দেহ নেই। ব্রাহ্মণ কর্তৃক নিষাদ কন্যাকে বিবাহের

    উল্লেখ মহাভারতের একাধিক জায়গায় আছে। মহাভারতের অপর এক জায়গায় উল্লিখিত হয়েছে যে জনৈক ব্রাহ্মণ “পক্ষী” জাতির এক মেয়েকে বিবাহ করেছিলেন। এখানে ‘পক্ষী’ জাতি বলতে পক্ষী টটেম বিশিষ্ট কোন অনার্যজাতিই বোঝাচ্ছে। মহাভারতীয় যুগে রাজারাজরারাও অনার্য সমাজ থেকে স্ত্রী গ্রহণ করতে সঙ্কুচিত হতেন না। শান্তনু তো অনার্য দাসকন্যা সত্যবতীকে বিবাহ করেছিলেন । রাজা দেবক-ও এক অসবর্ণ শূদ্র কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন।

    এরূপ সন্দেহ করবার যথেষ্ট অবকাশ আছে যে মহাভারতীয় যুগের সমাজের প্রথম অবস্থায় বিবাহ সম্পাদন করবার জন্ত যজ্ঞ নিম্পাদন, মন্ত্র উচ্চারণ, সপ্তপদীগমন ইত্যাদি বিধিসম্মত কোন পদ্ধতির প্রয়োজন হতো না। পরবর্তীকালের সমাজেই এগুলি প্রবর্তিত হয়েছিল। দ্রৌপদীর বিবাহ কাহিনী থেকে এটা আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারি। পাণ্ডব-ভ্রাতারা দ্রৌপদীকে জয় করে এনে কিছুকাল র্তার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীরূপে বসবাস করেছিলেন। পরে তারা আবার দ্রুপদ রাজার গৃহে ফিরে গিয়েছিলেন যজ্ঞ সম্পাদন ও আচার অনুষ্ঠান পালনের জন্য। মনে হয়, পরবর্তীকালের রীতিনীতি ও প্রথার সঙ্গে খাপ খাওয়াবার জন্যই মহাভারতের মধ্যে এই অংশটি উত্তরকালে প্রক্ষিপ্ত করা হয়েছিল। ব্রাহ্মণ্য আচারসম্পূত বিবাহই যে কালক্রমে প্রাধান্ত লাভ করেছিল, তা আমরা নারদ-পৰ্বত-শৃঞ্জয় উপাখ্যান, ভৃগু-পুলোমা উপাখ্যান প্রভৃতি থেকেও পরিষ্কার বুঝতে পাবি। মনে হয়, পরবর্তীকালে যখন যজ্ঞ সম্পাদন, মন্ত্র উচ্চারণ ও সপ্তপদীগমন ছাড়া অনুষ্ঠানগত বিবাহ হতে পারতো না, তখনই মহাভারতের মধ্যে এই অংশগুলি প্রবেশ করানো হয়েছিল।

    আচার অনুষ্ঠানগত বিবাহ যখন প্রচলিত হলো, তখন এইরকম বিবাহের উপরই জোর দেওয়া হলো । সেজন্য আমরা দেখতে পাই যে ভৃগু যখন পুলোমাকে বিবাহ করলেন, তখন এক রাক্ষস এসে দাবী করে বললে যে, পুলোমাকে সে-ই আগে বিবাহ করেছে। এই বিবাহের মীমাংসার জন্ত অগ্নিকে সাক্ষী মানা হলো। অগ্নি রাক্ষসকে বললেন–রাক্ষস, এ কথা সত্য বটে যে তুমিই পুলোমাকে প্রথম বিবাহ করেছে, কিন্তু যেহেতু তুমি মন্ত্রপাঠদ্বারা তাকে বিবাহ কর নাই, আর ভৃগু তাকে মন্ত্রপাঠ দ্বারা বিবাহ করেছে, সেইহেতু পুলোমা ভৃগুর স্ত্রী। অপর একস্থলে ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে বলছেন—একমাত্র যজ্ঞ সম্পাদন, মন্ত্রপাঠ ও সপ্তপদীগমন দ্বারাই বিবাহ নিম্পন্ন হয়।

    আগেই বলা হয়েছে যে গান্ধৰ্ব বিবাহে এ সকল আচার অনুষ্ঠানের কোন বালাই ছিল না। সেজন্য মনে হয় যে গান্ধৰ্ব বিবাহ পূর্ববর্তীসমাজের বিবাহ । গান্ধৰ্ব ও রাক্ষস বিবাহ সম্পর্কে রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে যে কথা বলেছিলেন তা থেকেও মনে হয় যে পূর্ববর্তীকালের ক্ষত্রিয় সমাজে অনুষ্ঠানগত বিবাহের প্রাধান্ত ছিল না। রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে বলছেন—“প্রিয়ে, তুমি আমাকে স্বামীরূপে বরণ কর। তুমি আমাকে গান্ধৰ্ব মতে বিবাহ কর। কেননা, শাস্ত্রকাররা বলেছেন যে, গান্ধৰ্ব বা রাক্ষস মতে বা উভয় মতের সংমিশ্রণে বিবাহই ক্ষত্রিয়ের পক্ষে প্রশস্ত ।”

    রাক্ষস বিবাহে কন্যাকে বলপূর্বক কেড়ে এনে বিবাহ করা হতো। এরূপ বিবাহের অনেক উল্লেখ মহাভারতে আছে। যথা—কৃষ্ণ রুক্মিণীকে বলপূর্বক হরণ করে এনে বিবাহ করেছিলেন। দেবকের রাজসভা থেকে দেবকীকে শিনি বলপূর্বক অধিকার করে এনেছিলেন বসুদেবের সঙ্গে বিবাহ দেবার জন্য। অনুরূপভাবে দুর্যোধনের সঙ্গে বিবাহ দেবার জন্ত কলিঙ্গ-রাজার সভা থেকে চিত্রাঙ্গদাকে কৰ্ণ বলপূর্বক লুণ্ঠন করে এনেছিলেন। রৈবতকে থাকাকালীন অজুন যখন কৃষ্ণের ভগিনী সুভদ্রার প্রতি আসক্ত হয়েছিলেন, কৃষ্ণ তখন অজুনকে বলেছিলেন, “ক্ষত্রিয়ের পক্ষে স্বয়ম্বরই প্রশস্ত বিবাহ । কিন্তু যেহেতু সুভদ্রা কা’কে মাল্যদান করবে তা জানা নেই, সেইহেতু আমি তোমাকে পরামর্শ দিচ্ছি, তুমি তাকে বলপূর্বক অধিকার করে নিয়ে যাও। শাস্ত্রকাররা বীরের পক্ষে এরূপ বিবাহ সম্মানজনক বলেছেন।” এই কথা শুনে অজুন সুভদ্রাকে বলপূর্বক হরণ করে এনে বিবাহ করেছিলেন। অজুনের এই আচরণে যাদবরা যখন ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন, কৃষ্ণ তখন তাদের এই বলে সাস্তুনা দিয়েছিলেন, “আমরা যে অর্থের বিনিময়ে কন্যা বিক্রয় করি, অজুনের পক্ষে এরূপ চিন্তা কল্পনার বাইরে, স্বয়ম্বর বিবাহে অজুন সম্মত নয়, সেজন্য অজুন বলপূর্বক সুভদ্রাকে বিবাহ করেছে।” কৃষ্ণের এই উক্তি থেকে আরও প্রকাশ পাচ্ছে যে যাদবসমাজে কন্যাপণ গ্রহণের (আস্থর বিবাহের ) প্রচলন ছিল ।

    আস্থর বিবাহের দৃষ্টান্ত আমরা মহাভারতের আরও অনেক জায়গায় পাই। পাণ্ডুর সঙ্গে বিবাহ দেবার জন্য মাদ্রীকে তো মদ্ররাজ শল্যের কাছ থেকে বহু মূল্যবান জিনিসের বিনিময়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। ভৃগুমুনির ছেলে রিচিক যখন কান্তকুজরাজ গাধীর পাণিপ্রার্থী হয়েছিলেন, গাধী তখন বলেছিলেন, “আমাদের বংশের রীতি অনুযায়ী কন্যার মূল্য বাবদ তোমাকে এক হাজার তেজস্বী ঘোড়া দিতে হবে।” যযাতির মেয়ে মাধবীকে পাবার জন্যও গালবকে চার সহস্ৰ অশ্বপণ দিতে হয়েছিল। মহাভারতের অন্যত্র উল্লিখিত হয়েছে যে অঙ্গদেশে কন্যাপণ দিয়ে বিয়ে করাই প্রচলিত রীতি ছিল ।

    মহাভারতীয় যুগে বিধবা ও সধবা এই উভয় অবস্থাতেই কন্যার দ্বিতীয় বার বিবাহ সম্ভবপর ছিল। এরূপ কন্যাকে পূণভূ বলা হতো। ঐরাবত তুহিতার স্বামী যখন গরুড় কর্তৃক নিহত হন তখন অজুন তাকে বিবাহ করে তার গর্ভে ইরাবন নামে এক সন্তান উৎপাদন করেছিলেন। ব্রাহ্মণের বেশ ধারণ করে গৌতম ঋষি যখন জনৈক নাগরিকের গৃহে ভিক্ষার্থে এসেছিলেন, তখন তাকে ভিক্ষাস্বরূপ এক শূদ্র বিধবাকে দান করা হয়েছিল। গৌতম তাকে বিবাহ করে, তার গর্ভে সন্তান উৎপাদন করেন । সধবার পক্ষে দ্বিতীয়বার বিবাহ প্রয়াসের দৃষ্টান্ত স্বরূপ উল্লেখ করা যেতে পারে যে নলের কোন সংবাদ না পেয়ে দময়ন্তী দ্বিতীয়বার স্বয়ম্বর হবার চেষ্টা করেছিলেন।

    মহাভারতীয় যুগে বিবাহ যদিও সবর্ণে হতো, তথাপি অসবর্ণ বিবাহের দৃষ্টান্তও বিরল নয়। ব্রাহ্মণ কর্তৃক শূদ্রকন্যাকে বিবাহ করার দৃষ্টান্ত একটু আগেই দেওয়া হয়েছে। তবে উচ্চবর্ণের কন্যার সঙ্গে নীচবর্ণের পুরুষের বিবাহ বিরূপদ্ধৃষ্টিতে দেখা হতো। এরূপ বিবাহকে প্রতিলোম বিবাহ বলা হতো। এই কারণে ব্রাহ্মণ কন্যার সহিত শূদ্র পুরুষের বিবাহের ফলে যে সন্তান উৎপন্ন হতো তাকে চণ্ডাল বলা হতো এবং তার স্থান ছিল সমাজে সকল জাতির নীচে । একমাত্র অনুলোম বিবাহ, তার মানে উচ্চবর্ণের পুরুষের সঙ্গে নীচ বর্ণের কন্যার বিবাহই বৈধ বলে গণ্য হতো।

    বহুপত্নী গ্রহণও মহাভারতীয় যুগে বেশ ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। মহাভারতের অনেক নায়কেরই একাধিক স্ত্রী ছিল। যেমন : যযাতি বিবাহ করেছিলেন শৰ্মিষ্ঠা ও দেবযানীকে, দুষ্মন্ত বিবাহ করেছিলেন শকুন্তলা ও লক্ষ্মণাকে, শান্তনু বিবাহ করেছিলেন সত্যবতী ও গঙ্গাকে, বিচিত্রবীর্য বিবাহ করেছিলেন অম্বিক ও অস্বালিকাকে, ধৃতরাষ্ট্র বিবাহ করেছিলেন গান্ধারী ও বৈষ্ঠাকে, পাণ্ড বিবাহ করেছিলেন কুন্তী ও মাদ্রীকে এবং যুক্ত-স্ত্রী হিসাবে দ্রৌপদী বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও ভীম বিবাহ করেছিলেন হিরিস্বাকে এবং অজুন বিবাহ করেছিলেন উলুপী, চিত্রাঙ্গদ ও সুভদ্রাকে । মগধের রাজা বৃহদ্রথও বিবাহ করেছিলেন কাশীরাজার দুই যমজ কন্যাকে । মহাভারতের একস্থলে উল্লিখিত হয়েছে যে কৃষ্ণের ১০১৬ স্ত্রী ছিল আবার অপরস্থলে বলা হয়েছে যে কৃষ্ণের ১৬,০০০ স্ত্রী ছিল। মহাভারতে আরও উল্লিখিত হয়েছে যে রাজা সোমকের একশত স্ত্রী ছিল ।

    বহুপতি গ্রহণের দুষ্টান্ত মহাভারতে মাত্র একটিই আছে। পাণ্ডবভ্রাতাদের সঙ্গে দ্রৌপদীর বিবাহই একমাত্র বহুপতি গ্রহণের দুষ্টান্ত নয়। কালান্তরে গৌতম বংশীয় জটিল সাতটি ঋষিকে এক সঙ্গে বিবাহ করেছিলেন। আবার বাক্ষী নামে অপর এক ঋষিকন্যা এক সঙ্গে দশভাইকে বিবাহ করেছিলেন। বৈদিক যুগে আমরা দেখেছি যে, জ্যেষ্ঠভ্রাতা কর্তৃক বিবাহিতা বধুর উপর সকল ভ্রাতার এক সঙ্গেই যৌনাধিকার থাকতো। বহুপতি গ্রহণ যে এক সময় ব্যাপক ছিল তা আমরা ব্যাসের এক উক্তি থেকেও বুঝতে পারি। দ্রৌপদীর বিবাহকালে ব্যাস বলেছিলেন “স্ত্রীলোকের পক্ষে বহুপতি গ্রহণই সনাতন ধর্ম।” ধর্মসূত্র সমূহেও এর উল্লেখ আছে। আপস্তম্ভ ধর্মসূত্রে বলা হয়েছে যে “কন্যাকে কোন বিশেষ ভ্রাতার হাতে দেওয়া হয় না, ভ্রাতৃবর্গের হাতে দেওয়া হয়।” বৃহস্পতি এর প্রতিধ্বনি করেছেন, তবে তার সময়ে এরূপ বিবাহ বিরূপদূষ্টিতে দেখা হতো। পরবর্তীকালের স্মৃতিকাররা অবশ্য পরিষ্কারভাবেই বলেছেন, “এক স্ত্রীর বহু স্বামী থাকতে পারে না।”

    প্রাচীনকালে যৌনবাসন চরিতার্থ করা ছাড়া, বিবাহের পরম উদ্যে ছিল বংশরক্ষার জন্য সন্তান উৎপাদন করা। হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয়েছে, “পুত্রার্থে ক্রীয়তে ভাৰ্যা” অর্থাৎ পুত্র উৎপাদনের জন্যই ভাৰ্যাগ্রহণ করা হয়। সেজন্য স্ত্রী-পুরুষ উভয়েরই চরম আকাজক্ষ থাকতো সম্মান লাভ করা। জরৎকারুমুনি যখন বহু বৎসর তপস্যায় নিযুক্ত থেকে ব্রহ্মচর্য পালন করছিলেন, তখন তার সামনে র্তার পূর্বপুরুষরা আবিভূত হয়ে তাকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, “বৎস, ব্রহ্মচর্য পরিহার কর । বিবাহ করে সন্তান উৎপাদন কর। তাতে আমাদের অশেষ মঙ্গল হবে।” এই কারণে বহুপুত্র লাভই সকলের চরম আকাজক্ষা হতো। অগস্ত্য যখন বিদর্ভ রাজকন্যা লোপামুদ্রাকে বিবাহ করেছিলেন, তখন তিনি তাকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, “প্রিয়ে, তোমার অভিলাষ বল, তুমি আমা-দ্বারা কতগুলি সন্তানের জননী হতে চাও, একটি, না একশত, না এক সহস্ৰ ।” এ সম্পর্কে মহাভারতে বর্ণিত মহাতপামুনির কন্যা শুভ্রার কাহিনীও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বহুবর্ষ তপস্যার পর শুভ্র যখন স্বর্গে যেতে চাইলেন, নারদ তখন তার সামনে এসে তাকে বললেন যে, “অনুঢ়া কন্যা কখনও স্বর্গে যেতে পারে না।” তাই শুনে শুভ্রা গালবমুনির পুত্র প্রাকশৃঙ্গকে বিবাহ করেন। মোট কথা, মহাভারতীয় যুগে বিবাহ ছিল বাধ্যতামূলক। যথাসময়ে পুত্র-কন্যার বিবাহ দেওয়ার উপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হতো। আমরা দেখতে পাই যে ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে উপদেশ দিচ্ছেন, “পুত্র বিবাহের বয়স প্রাপ্ত হলেই, পিতার কর্তব্য তার বিবাহ দেওয়া ।” অপর এক স্থানে ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে বলছেন, যে ব্যক্তি উপযুক্ত পাত্রের সঙ্গে যথাসময় কন্যার বিবাহ দেয় না, সে ব্যক্তি ব্রাহ্মণ হত্যার পাপে লিপ্ত হয়।

    বিবাহের পূর্বে মেয়েদের যৌনসংসর্গ মহাভারতীয় যুগে অমুমোদিত হতো। বোধ হয় আগেকার যুগেও হতো। কেন-না ছান্দোগ্য উপনিষদে আমরা দেখতে পাই যে মহর্ষি সত্যকামের মাতা জবালা যৌবনে বহুচারিণী ছিলেন। মহাভারতে এরূপ সংসর্গের দৃষ্টান্ত স্বরূপ সত্যবতী পরাশরের কাহিনী বিবৃত করা যেতে পারে। উপরিচর বস্তুব কুমারী কন্যা সত্যবতী যৌবনে যমুনায় খেয়া পারাপারের কাজ করতেন। একদিন পরাশরমুনি তার নৌকায় উঠে তার অপরূপ সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে তার সঙ্গে যৌনমিলন প্রার্থনা করলেন । সত্যবতী তখন পরাশরকে বললেন, “নৌকার মধ্যে আমি কি ভাবে যৌনকর্মে রত হবে, কেন-না তীর হতে লোকেরা আমাদের দেখতে পাবে।” পরাশর তখন কুঙ্কটিকার সৃষ্টি করেন ও তারই অন্তরালে তার সঙ্গে যৌনমিলনে রত হন। এর ফলে কৃষ্ণদ্বৈপায়ণ ব্যাসের জন্ম হয়েছিল। পরাশর সত্যবতীকে বর দেন যে এই সংসর্গ সত্ত্বেও সে কুমারী থাকবে। কুন্তী-ও কুমারী অবস্থায় সূর্যের সঙ্গে মিলনের ফলে পুত্র কর্ণকে প্রসব করেছিলেন। এক্ষেত্রেও দুর্বাশামুনির বরে কুন্তী র্তার কুমারীত্ব হারান নি। মাধবী-গালব উপাখ্যানেও আমরা দেখতে পাই যে, প্রতি সন্তান প্রসবের পর মাধবীর কুমারীত্ব অটুট ছিল। বিবাহের পূর্বে মেয়েদের যৌনসংসর্গ যে সমাজে বরদাস্ত হতো, তা বিবাহের পূর্বে প্রসূত সন্তানের “আখ্যা” থেকেই বুঝতে পারা যায়। কৃষ্ণ কর্ণকে বলছেন, ‘কুমারী মেয়ের ভূ-রকম সন্তান হতে পারে।’ (১) কানীন ও (২) সহোঢ়। যে সন্তানকে কুমারী বিবাহের পূর্বেই প্রসব করে তাকে বলা হয় কানীন। আর যে সস্তানকে কুমারী বিবাহের পূর্বে গর্ভে ধারণ করে বিবাহের পরে প্রসব করে তাকে বলা হয় সহোঢ়। মহাভারতের অপর এক জায়গায় ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে বলছেন, কুমারী যে সন্তানকে বিবাহের পূর্বে প্রসব করে তাকে বলা হয় কানীন আর যে সন্তানকে বিবাহের পরে প্রসব করে তাকে বলা হয় অরোঢ়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে মহাভারতীয় যুগে কুমারী কন্যার পক্ষে গর্ভধারণ করা বিশেষ নিন্দনীয় ব্যাপার ছিল না।

    মহাভারতীয় যুগে বিবাহিত নারীর পক্ষে স্বামী ভিন্ন অপর পুরুষের সঙ্গে যৌনসংসর্গও নিন্দিত ছিল না। সুদর্শন উপাখ্যানে দেখতে পাওয়া যায় যে, অতিথির সন্তোষ বিনোদনের জন্য গৃহের গৃহিণীর পক্ষে অতিথির নিকট আত্মদেহ নিবেদন করা প্রচলিত রীতি ছিল। সন্তান উৎপাদনের জন্যও স্বামী ব্যতীত অপর পুরুষের সহিত যৌনমিলনের রীতিও ছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর এই ধরনের যৌন মিলনতে ঘটতোই, স্বামী জীবিত থাকাকালীনও যে এরূপ মিলন ঘটতো তারও দৃষ্টান্ত আছে। স্বামীর মৃত্যুর পর পুত্র উৎপাদনের জন্য অপরের সহিত যৌন মিলনের দৃষ্টান্ত স্বরূপ উল্লেখ করা যেতে পাবে যে বিচিত্রবীর্যের মৃত্যুর পর মাতা সত্যবতী ভীষ্মকে ভ্রাতৃজায়াদ্বয় অম্বিকা ও অস্বালিকার গর্ভে সন্তান উৎপাদন করতে আদেশ দিয়েছিলেন। ভীষ্ম যখন এর অনুমোদন করলেন না, তখন তাদের গর্ভে সন্তান উৎপাদনের জন্য ব্যাসকে আহবান করা হয়। ব্যাস অম্বিকা ও অম্বালিকার গর্ভে দুটি সন্তান ও তাদের দাসীর গর্ভে আর একটি সন্তান উৎপাদন করেন। শতশৃঙ্গ পর্বতের নির্জনে পাণ্ডু কুন্তীকে আদেশ করেছিলেন, “তুমি, অপরের সহিত সঙ্গম করে সন্তান উৎপাদনের চেষ্টা কর, কেন-না শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে প্রয়োজন হলে নারী তার দেবরের সহিত মিলিত হয়ে সস্তান উৎপাদন করতে পারে।” কুন্তীর গর্ভে সন্তান উৎপাদনের জন্য ধর্মকে আহবান করা হয়েছিল। ধর্মের সহিত কুন্তীর সঙ্গমের ফলে যুধিষ্ঠিরের জন্ম হয়েছিল। পরে পাণ্ডুর ইচ্ছানুক্রমে কুন্তী বায়ু ও ইন্দ্রকে আহবান করে ভীম ও অজুনকে উৎপাদন করান। পাণ্ডুর অপর স্ত্রী মাদ্রীও অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের সহিত মিলিত হয়ে দুটি সন্তান নকুল ও সহদেবকে উৎপাদন করিয়েছিলেন। ইম্ফাকুবংশীয় রাজা কলমাশপাদের স্ত্রীর গর্ভে বশিষ্ঠ একটি সন্তান উৎপাদন করেছিলেন। নমস্ত ঋষিপত্নীরাও এরূপ যৌন সংসর্গ বা যৌন আকাজক্ষা থেকে মুক্ত ছিলেন না। কথিত আছে যে মাতিকাবত দেশের রাজা চিত্ররথকে নিজ স্ত্রীগণের সহিত নদীতে যৌনকেলি করতে দেখে জামদগ্ন ঋষির স্ত্রী রেণুকা রাজার প্রতি অত্যন্ত কামাতুর হয়ে উঠেছিলেন।

    রামায়ণ ও বৌদ্ধজাতক গ্রন্থে বিবাহের যে চিত্র অঙ্কিত হয়েছে সে সম্বন্ধে এখানে কিছু বলা যেতে পারে। রামায়ণী যুগে রাজারাজদের মধ্যে স্বয়ম্বর প্রথায় বিবাহ করাই প্রচলিত রীতি ছিল। তবে বলপূর্বক হরণ করে এনেও যে বিবাহ করা হতো তা রাবণ সীতার উপাখ্যান থেকে বুঝতে পারা যায়। ভ্রাতৃজায়াকে বিবাহ করার রীতিও যে ছিল, তা সুগ্ৰীব কর্তৃক মৃত জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বালীর স্ত্রী তারার বিবাহ থেকে বোঝা যায়। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা রাবণের স্ত্রী মন্দোদরীর সহিত বিভীষণের বিবাহও এ সম্পর্কে উল্লেখ করা যেতে পারে। এ যুগে সহোদরা ব্যতীত অন্য ভগিনীকে বিবাহ করার রীতিও প্রচলিত ছিল। . এ সম্পর্কে রামায়ণে অন্তত একটি দৃষ্টান্ত আছে । রাজা দশরথের সহিত কৌশল্যার বিবাহ। দশরথ কোশল রাজবংশের নৃপতি ছিলেন। কৌশল্যাও যে সেই বংশেরই কন্য ছিলেন, তা তার নাম থেকেই প্রকাশ পাচ্ছে। সুতরাং নিজবংশেই যে রাজা দশরথ বিবাহ করেছিলেন, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই । দশরথের বিবাহ যে ভগিনীর সহিত হয়েছিল, তা দশরথ-জাতকেও উল্লিখিত হয়েছে। বস্তুত বৌদ্ধ পালিগ্রন্থ সমূহে উত্তর ভারতের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে এরূপ ভ্রাতা-ভগিনীর মধ্যে বিবাহের বহু কাহিনী নিবদ্ধ আছে। যেমন : নন্দিতা বিবাহ করেছিল তার মাতুল কন্যা রেবতীকে। অৰ্দ্ধমাগধী ভাষায় রচিত জৈন সাহিত্যেও এরূপ বিবাহের উল্লেখ আছে। শালিবরণ বা শু্যালিকাকে বিবাহ করার রীতিও যে ছিল, তা নাভী কর্তৃক দুই যমজ ভগিনীর বিবাহ থেকে বুঝতে পাবা যায়। প্রসঙ্গক্রমে বলা যেতে পারে যে এই দুই যমজ ভগিনীর অন্ততরা মরুদেবী জৈন তীৰ্থংকর ঋষভের মাতা ছিলেন। বসুদেব কর্তৃক দেবক রাজার সাত কন্যাকেবিবাহ ও কংশ কর্তৃক জরাসন্ধের দুই কন্যাকে বিবাহ ও শালিবরণের দৃষ্টান্ত স্বরূপ উল্লেখ করা যেতে পারে। আমরা আগেই দেখেছি যে বৈদিক যুগে ভাবীর উপর দেবরের যৌন সংসর্গের অধিকার ছিল। এই কারণে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলে “দত্তক” গ্রহণের প্রশ্ন বৈদিক যুগে উঠতে না। কিন্তু পরবর্তীকালে কনিষ্ঠ ভ্রাতা, জ্যেষ্ঠ ভ্রাতৃজায়ার সহিত অবাধ মিলনের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন এবং মাত্র “নিয়োগ” প্রথার ভেতর দিয়ে তাকে এরূপ সংসর্গের সীমিত অধিকার দেওয়া হয়েছিল ।

    স্বামী ব্যতীত অপর পুরুষের সহিত যৌনমিলনের যে দুষ্টান্ত ইতিপূর্বে মহাভারত থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে তা থেকে পরিষ্কার বুঝতে পারা যায় যে, ঐ যুগে স্ত্রীলোকের সতীত্বের অন্য তাৎপর্য ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে, বিশেষ করে রামায়ণী যুগের সমাজে সতীত্বের অন্তরূপ মূল্যায়ন করা হয়েছিল। পতিব্ৰতা স্ত্রীলোককেই সতী বলা হতো। উত্তরকালের হিন্দুসমাজ সতীত্বের এই মূল্যায়নই গ্রহণ করেছিল এবং একমাত্র পতিব্ৰতা স্ত্রীলোককেই সতী বলে গণ্য করা হতো। কোন স্ত্রীলোকের সতীত্ব সম্পর্কে সংশয় হলে তাকে অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হতে হতো। সীতাকে এইরূপ অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়েছিল। তবে সীতার অগ্নিপরীক্ষার যে প্রণালী রামায়ণে বিবৃত হয়েছে, তা ছাড়াও আর এক রকমের অগ্নিপরীক্ষা প্রাচীনকালে প্রচলিত ছিল । কোন নারীর সতীত্ব সম্বন্ধে সন্দেহ হলে, তাকে লাঙ্গলের অগ্নিতপ্ত লৌহশলা লেহন করে নিজের পবিত্রতা প্রমাণ করতে হতো। জিহবা দগ্ধ না হলে, সে নারী যে যথার্থই সতী তা প্রমাণ হয়ে যেতো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেবলোকের যৌনজীবন – অতুল সুর
    Next Article কাব্যজিজ্ঞাসা – অতুলচন্দ্র গুপ্ত

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }