Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভারতে ইসলাম ভারতীয় মুসলিম – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1287 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.৫.০৮ আলাউদ্দিন খিলজি (শাসনকাল : ১২৯৬ সাল থেকে ১৩১৬ সাল)

    আলাউদ্দিন খিলজি (শাসনকাল : ১২৯৬ সাল থেকে ১৩১৬ সাল)

    বাংলার বীরভূমের সন্তান আলাউদ্দিন খিলজির বিরুদ্ধে মোটা দাগের অভিযোগ বর্ণিত হয়েছে ব্রিটিশ-প্রোষিত ঐতিহাসিকদের গ্রন্থগুলিতে। খিলজি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিনের পিতা জালালউদ্দিন খিলজির শাসনকালে বিধর্মীদের উপর ইসলামিদের খবরদারি আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর আমলেই হিন্দু বিদ্রোহীদের দমন ও সুলতানের সীমানা সম্প্রসারণের জন্য নির্মম অভিযান শুরু করা হয়। আমির খসরু লিখেছেন– “সুলতান জালালউদ্দিন হিন্দু দেবালয় ধ্বংস, বিপুল লুণ্ঠন এবং বন্দি সংগ্রহের মাধ্যমে ‘স্বর্গের নরক’ সৃষ্টি করেন। পরে আলাউদ্দিন খলজিও বিধর্মীদের ক্রীতদাসকরণের ক্ষেত্রে সব সুলতানদের ছাপিয়ে গিয়েছিলেন। ১২৯৯ সালে গুজরাটে এক বড়ো ধরনের অভিযান চালিয়ে সেখানকার সমস্ত বড়ো বড়ো শহর ও নগর ধ্বংস করেছিলেন।” ঐতিহাসিক ইসামি ও বারানির বিবরণ থেকে জানা যায় –“যে বিপুল পরিমাণ লুণ্ঠিত সামগ্রী এবং প্রচুর বন্দি সংগ্রহ করেছিলেন তাদের মধ্যে ২০ হাজার যুবতী নারী ছিল। ১৩০৩ সালে সালে আলাউদ্দিন চিতোর আক্রমণ করলে ৩০ হাজার হিন্দু নাগরিক হত্যা করে। এই চিতোর আক্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল রাজপুত রাণা রতন সিংহের সুন্দরী রানি পদ্মিনীকে অপহরণ করে নিজের হারেমে আনা। যুদ্ধে রাণা রতনের পরাজয় হয় এবং বন্দি হন। রাজার পরাজয়ের সংবাদ পেয়ে নারীর সম্ভ্রম রক্ষার তাগিদে সহচরীদের সঙ্গে নিয়ে রানি পদ্মিনী আগুনে আত্মাহুতি দেন।” আলাউদ্দিন সম্পর্কে আমির খসরু আরও বলেছেন –“তুর্কিরা তাঁদের খেয়ালখুশি মতো যে কোনো হিন্দুকে ধরত, বেচত এবং কিনত। ঐতিহাসিক আফিক ও বারানি লিখেছেন– “ক্রীতদাসকরণ এত ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল যে, আলাউদ্দিনের ব্যক্তিগত কাজের জন্য ৫০ হাজার বালক নিয়োজিত ছিল এবং তাঁর প্রাসাদে ৭০ হাজার ক্রীতদাস কাজ করত।”

    অস্ট্রেলিয়া নিবাসী মুক্তমনা লেখক আবুল কাশেম তাঁর আলাউদ্দিন প্রসঙ্গে ইসলামে বর্বরতা’ নিবন্ধে লিখেছেন– “সুলতানের ক্ষমতা এ সময় এতই ব্যাপক ছিল যে, কারও সাহস ছিল না উচ্চবাচ্য করার’। বহু হিন্দু বিদ্রোহ দমনের জন্য অভিযান চালানোর পাশাপাশি তিনি বিধর্মী অঞ্চলগুলোকে মুসলিম নিয়ন্ত্রণে আনার উদগ্র আকাঙ্ক্ষায়ও বহু অভিযান চালান সেসব অঞ্চলে। এসব অভিযানে তিনি বিপুল পরিমাণ লুণ্ঠিত দ্রব্য কবজা করেন, যার মধ্যে ছিল ক্রীতদাস। কিন্তু সে সম্পর্কে লিখিত দলিল খুব কম। সম্ভবত এর কারণ হল— ক্রীতদাসকরণ ও লুণ্ঠন এসময় একেবারে সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে সমসাময়িককালের লেখকদের রেখে যাওয়া সামান্য কিছু প্রামাণ্য দলিল বিবেচনা করলে সে সময়ে ক্রীতদাসকরণের পরিসর সম্পর্কে সাধারণ ধারণা পাওয়া যাবে। খিলজি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা জালালুদ্দিন খিলজির শাসনকালে (১২৯০-৯৬) হিন্দু বিদ্রোহীদের দমন ও সুলতানাতের সীমানা সম্প্রসারণের নিমিত্তে নির্মম ও নিষ্ঠুর অভিযান শুরু করা হয়। তিনি কাটিহার, রণথোম্বর, জেইন, মালোয়া ও গোয়ালিয়রে অভিযান চালান। রণথোম্বর ও জেইন অভিযানে তিনি মন্দিরসমূহ বিধ্বস্ত এবং বিপুল লুণ্ঠন ও বন্দি সংগ্রহের মাধ্যমে একটা স্বর্গের নরক’ সৃষ্টি করেন, লিখেছেন আমির খসরু। আমির খসরু আরও লিখেছেন— মালোয়া অভিযান থেকে বিপুল পরিমাণ লুণ্ঠন দ্রব্য (যার মধ্যে সর্বদা থাকত ক্রীতদাস) দিল্লিতে আনা হয়। পরবর্তী সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি (শাসনকাল ১২৯৬-১৩১৬) ক্রীতদাসকরণের ক্ষেত্রে আগের সব সুলতানকে ছাড়িয়ে যান। তিনি ১২৯৯ সালে গুজরাটে এক বড়ো ধরনের অভিযান চালিয়ে সবগুলো বড়ো বড়ো শহর ও নগর, যেমন নাহারওয়ালা, আসাভাল, ভানমানথালি, সুরাট, ক্যামবে ও সোমনাথ তছনছ করেন। মুসলিম ইতিহাসবিদ ইসামি ও বারানি জানান— তিনি এ অভিযানে বিপুল পরিমাণে লুষ্ঠিত মালামাল ও উভয় লিঙ্গের ব্যাপক সংখ্যক বন্দি সংগ্রহ করেন। ওয়াসাফের তথ্য অনুযায়ী, মুসলিম বাহিনী বিপুলসংখ্যক সুন্দরী তরুণীকে বন্দি করে, যার সংখ্যা ছিল প্রায় ২০,০০০ এবং সে সঙ্গে উভয় লিঙ্গের শিশুদেরকেও বন্দি করে নিয়ে যায়। ১৩০১ সালে রণথোম্বর ও ১৩০৩ সালে চিতোর আক্রমণ করা হয়। চিতোর আক্রমণে ৩০,০০০ লোককে হত্যা করা হয়েছিল এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মুসলিমরা পরাজিতদের নারী-শিশুকে ক্রীতদাস করে। এ সময় কিছু রাজপুত নারী জহর বরণ করে আত্মহত্যা করে। ১৩০৫ থেকে ১৩১১ সালের মধ্যে মালোয়া, সেভানা ও জালোর অভিযান করে বিপুল সংখ্যক লোককে বন্দি করা হয়। সুলতান আলাউদ্দিন তাঁর রাজস্থান অভিযানেও বহু ক্রীতদাস আটক করেন। আলাউদ্দিনের রাজত্বকালে ক্রীতদাস ধরা যেন শিশুখেলার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমির খসরু লিখেছেন– “তুর্কিরা তাঁদের খেয়াল খুশিমতো যে-কোনো হিন্দুকে ধরতে, কিনতে বা বিক্রি করতে পারত।” ক্রীতদাসকরণ এতটাই ব্যাপক ছিল যে, সুলতান তাঁর ব্যক্তিগত কাজের জন্য ৫০,০০০ হাজার দাস-বালক নিয়োজিত ছিল এবং তার প্রাসাদে ৭০,০০০ ক্রীতদাস কাজ করত”, জানান আফিফ ও বারানি। বারানি সাক্ষ্য দেন– “সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির রাজত্বকালে দিল্লির দাস-বাজারে নতুন নতুন দলে অবিরাম বন্দিদের আনা হত।”

    অতিরঞ্জিত গল্পগাছা থেকে বেরিয়ে আমরা প্রকৃত আলাউদ্দিনকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। আলাউদ্দিন খিলজির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড়ো অভিযোগ হল হিন্দুরমণী পদ্মিনী বা পদ্মাবতী হরণ। সেই পদ্মাবতীর চরিত্র নিয়ে সিনেমাকে কেন্দ্র করে গোটা ভারতবর্ষে তো ধুন্ধুমার কাণ্ড! ভারতে ৮০০ বছর আগেকার চিতোরের রানি পদ্মিনীর জীবন নিয়ে তৈরি বলিউড ছবি ‘পদ্মাবতী’-কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে তুমুল প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। রাজপুতানার ইতিহাস বলে, দিল্লির শাসক আলাউদ্দিন খিলজির কবল থেকে রক্ষা পেতে রানি পদ্মিনী ১৬,০০০ নারীকে নিয়ে চিতায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন— কিন্তু পদ্মাবতী সিনেমায় তাঁর সেই মর্যাদা ও আত্মত্যাগকে খাটো করা হয়েছে বলে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য ছিল। রাজপুত করণি সেনা নামে যে সংগঠন এর আগে ছবির শুটিংয়েও বাধা দিয়েছিল, তাঁদের প্রতিষ্ঠাতা লোকেন্দ্র সিং কালভি জানিয়েছিলেন, “যে-কোনোভাবে এই ছবির মুক্তি রুখতে চাই আমরা। ইতিহাসকে বিকৃত করার যে-কোনো চেষ্টা আমরা আটকাব, আমরা বেঁচে থাকতে আমাদের মেয়ে বোনদের অমর্যাদা কিছুতেই হতে দেব না।” এই সিনেমাটি নিয়ে প্রধান আপত্তি হল, সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির সঙ্গে রানি পদ্মিনীর মুখোমুখি কখনও দেখাই হয়নি— অথচ ছবিতে নাকি তাঁদের মধ্যে একটি স্বপ্নদৃশ্য রাখা হয়েছে। এই মুভির পরিচালক সঞ্জয়লীলা বনশালির বক্তব্য ছিল– “ভুল বোঝাবুঝির প্রধান কারণটাই হল এই তথাকথিত স্বপ্নদৃশ্য– অথচ আমি বারবার বলেছি, লিখিত প্রমাণও দিয়েছি যে এমন কোনও দৃশ্য ছবিতেই নেই। বিশ্বাস করুন, ছবিটা আমি খুব দায়িত্ববোধ নিয়ে বানিয়েছি, রাজপুতদের মান-মর্যাদার দিকে দৃষ্টিও দিয়েছি।”

    চিতোরের রাজা মহারাজা সংগ্রাম সিংয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় এবং ফলে চিতোরের রানি হিসাবে গণ্য হন। দিল্লি দখলের লক্ষ্যে মহারাজা সংগ্রাম সিংয়ের নেতৃত্বে হিন্দুদের সম্মিলিত বাহিনীর সঙ্গে সম্রাট বাবরের যুদ্ধ হয় ১৫২৭ সালে, যা খানুয়ার যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই খানুয়ার যুদ্ধে হিন্দুদের সম্মিলিত বাহিনী পরাজয় বরণ করে এবং মহারাজা সংগ্রাম সিং ভীষণভাবে আহত হন। ১৫২৮ সালে আহত মহারাজা সংগ্রাম সিং মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর, রানি কর্ণাবতী তার বড় ছেলের হয়ে ক্ষমতার ভার নেন এবং বেশ কয়েক বছর রাজ্য পরিচালনা করেন। ১৫৩৫ সালে বাহদুর শাহ মেয়র আক্রমণ করলে রানি কর্ণাবতী ও দুর্গের অন্যান্য নারীরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে উঠেন এবং বিষ পানে আত্মহত্যা করেন। আবার এটাও প্রচলিত আছে যে, রানি কর্ণাবতী ও দুর্গের অন্যান্য নারীরা বারুদভর্তি ঘরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহুতি দিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, রানি কর্ণাবতীর ছেলে বিক্রমাদিত্যর সঙ্গে ১৫৩২ সালে বাহাদুর শাহর যুদ্ধ হয়, যেখানে বিক্রমাদিত্য শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। তাই ১৫৩৫ সালে যখন বাহাদুর শাহর সঙ্গে দ্বিতীয় যুদ্ধে চিতোরের বাহিনী পুনরায় শোচনীয় পরাজয় বরণ করে, তখন রানি কর্ণাবতী ও দুর্গের অন্যান্য নারীরা আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। বস্তুত প্রায় সব বিখ্যাত ইতিহাসবিদ স্বীকার করেছেন যে, সর্বপ্রথম ১৫৪০ সালে মালিক মোহম্মদ জায়াসির লিখিত ‘পদ্মাবত’ নামক একটি মহাকাব্যে তাঁর উল্লেখ পাওয়া যায়। এর আগে ইতিহাসে কোথাও এ বিষয়ে উল্লেখ পাওয়া যায়নি। সম্ভবত মালিক মোহম্মদ জায়াসি রানি কর্ণাবতীর ঘটনায় প্রভাবিত হয়ে এই মহাকাব্যটি রচনা করেন। পদ্মাবত মহাকাব্যে বর্ণিত রানি পদ্মাবতীর সঙ্গে রানি কর্ণাবতীর অনেক মিল রয়েছে। তাঁদের দুইজনের স্বামীর রাজ্যও ছিল চিতোর। অধ্যাপক রাম পুনিয়ানি বলেন যে, পদ্মাবত মহাকাব্য পরবর্তীতে ভারতে বহুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং লোককাহিনি হিসাবে মর্যাদা পায়। ইতিহাসবিদ ইফরান হাবিব, হারবান মুখিয়া, দেবদত্ত প্রমুখ পরিষ্কারভাবে মত প্রকাশ করেন যে, রানি পদ্মাবতী একটি কাল্পনিক চরিত্র।

    দুজনের স্বামী যুদ্ধে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। দু’জনই আগুনে (বা রানি কর্ণাবতী বিষপানে) আত্নহত্যা করেন। জহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক আদিত্য মুখোপাধ্যায় বলেন যে, তৎকালীন ইতিহাসে রানি পদ্মাবতীর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। তিনি রানি পদ্মাবতাঁকে মালিক মোহম্মদ জায়াসির কাল্পনিক সৃষ্টি হিসাবে গণ্য করেন। আলাউদ্দিন খলজির মৃত্যু ২০০ বছর পর কবি জায়সি রচিত ‘পদুমাবৎ’ তৈরি একটা চরিত্র মাত্র এই ‘পদ্মাবতী’। আর এর ১০০ বছর পর রচিত বৌদ্ধ রাজার অমাত্য মাগন ঠাকুরের নির্দেশে আলাওলের পদ্মাবতীও একই। সেই সময়ের প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমির খসরু ‘পদ্মাবতীর’ উল্লেখ করেননি। ষোলো শতকের ইতিহাসবিদ ফারিশতা প্রমুখ মুসলমান ঐতিহাসিকদের কেউই এই কল্পিত ‘হিন্দুরমণী’র অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয় না। নির্ভরযোগ্য হিন্দু ঐতিহাসিক দলিল থেকেও সেরকম কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

    তবে সঞ্জয়লীলা বনসালি এ ছবিতে আলাউদ্দিনকে ভয়ংকর, নির্দয়, নিষ্ঠুরভাবে দেখিয়ে প্রচলিত ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কোনোরূপ কার্পণ্য করেননি। সুলতানকে দেখানো হয়েছে মাদকাসক্ত এবং উভকামী যৌনতাতাড়িত জালিম, অত্যাচারী রূপে। অর্থাৎ মানবীয় মন্দ গুণের এমন কোনও কিছুই বাদ রাখা হয়নি, যাতে সুলতানকে ঘৃণিতভাবে উপস্থাপনের বাকি থাকে। ইতিহাসবিদ রানা সাফভি বলেন যে, মুভিতে আলাউদ্দিনকে নিষ্ঠুর ও বর্বর হিসাবে দেখানো হয়েছে, যাতে করে মুভির নায়ক রানা সিং-কে একজন বিনম্র ও বুদ্ধিমান শাসক হিসাবে উপস্থাপন করা যায়। তিনিও মুভিতে খিলজিকে ভুলভাবে দেখানো হয়েছে বলে স্বীকার করেন। শান্তনু ডেভিড বলেন যে, খিলজি নিষ্ঠুর হলেও এমন ধরনের শাসক ছিলেন না, যে কিনা শুধুমাত্র একজন নারীর জন্য একটি রাজ্য আক্রমণ করে বসবেন। আন্না এমএম তাঁর মুভি রিভিউতে উল্লেখ করেন যে, হিন্দুদের খুশি করার জন্য বনশালি মুভিতে রাজপুতদের উচ্চাসন এবং খিলজিকে নিচ হিসাবে উপস্থাপন করেছেন।

    ১২৯৬ সালে আলাউদ্দিন খলজি দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। বস্তুত ভারতব্যাপী সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রথম পথপ্রদর্শনই আলাউদ্দিন খিলজির সর্বপ্রধান কীর্তি। একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী বিজেতা হিসেবে তিনি ১২৯৬ সালে ইলখানি রাজ্যের শিয়া শাসক গাঁজান মাহমুদকে পরাজিত করে সিন্ধ দখল করেন। ১২৯৯ সালে চাগতাই খান দুয়া খানকে পরাজিত করে পাঞ্জাব নিজের দখলে নেন। ১৩০১ সালে রণথম্বোর, ১৩০৩ সালে চিতোর, ১৩০৫ সালে। মান্দু সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির পদানত হয়। রাজা রায় রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মালিক কাফুর। তবে পরবর্তীতে রাজা রায়চন্দ্রকে ‘রায় রায়হান’ খেতাব দিয়ে পুনরায় তাকে রাজ্য চালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে গুজরাটও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। ১৩০৯ সালে রাজা রায় রামচন্দ্রের সহায়তায় মালিক কাফুরের নেতৃত্বে বারাঙ্গল জয় করা হয়। মৌর্য সম্রাট অশোকের পর তাকেই একমাত্র সম্রাট হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যিনি গোটা হিন্দুস্তানকে এক সুতোয় গাঁথতে পেরেছিলেন। তিনি এত বেশি পরিমাণ শহর আর নগর জয় করেছিলেন যে, তাঁকে সিকান্দার সানি বা দ্বিতীয় আলেকজান্ডার উপাধিও দেওয়া হয়েছিল।

    আলাউদ্দিন খিলজির শাসনব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য কীর্তি হল –(১) দাক্ষিণাত্যকে ভারত তথা ভারত উপমহাদেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একত্রিত করা। মনে রাখতে হবে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে দাক্ষিণাত্য সবসময়েই আলাদা ছিল। সাংস্কৃতিকভাবে, ভাষাগতভাবে এবং ভৌগোলিকভাবেও পৃথক ছিল। তবে গৌড় শাসনামলে দাক্ষিণাত্যের শেষ সীমানা কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত গৌড় শাসন পৌঁছোতে পেরেছিল। এরপর আর কোনো শাসকই দাক্ষিণাত্য শাসন করতে পারেননি। দাক্ষিণাত্য জয় করতে পারলেও তিনি দাক্ষিণাত্যকে সরাসরি নিজ শাসনে না-নিয়ে আগের রাজাদেরই নিজের অধীনে নিয়োগ দেন। “তারিক-ই-আলাই’-এর বর্ণনানুযায়ী, এসব রাজারা সুলতান আলাউদ্দিন খিলজিকে নিয়মিত জিজিয়া আর খাজনা আদায় করে নিজ নিজ সিংহাসন অধিকারে রাখার সুযোগ পেয়েছিলেন। (২) আলাই মিনার, পুরাতন দিল্লির কুতুব মিনার কমপ্লেক্সে মিনারটি অবস্থিত। সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির দাক্ষিণাত্য বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে এই মিনারটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ শুরুর সময়কালটি সঠিকভাবে জানা না-গেলেও ধারণা করা হয়, ১৩০০ সালের দিকে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৩১৬ সালে সুলতানের মৃত্যুর সময় মিনারটির মাত্র একতলা সম্পন্ন হয়। (৩) গোটা সাম্রাজ্যে তিনি মদপান নিষিদ্ধ করেন। এমনকি মদ উৎপাদনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তাঁর সময়ে ভারতে ব্যভিচার আর ‘বিকৃত যৌনাচার সমকামিতা নিষিদ্ধ করা হয়। (৪) একজন সুলতানের সুষ্ঠুভাবে শাসন করার জন্য প্রয়োজন হয় রাষ্ট্রের অভ্যন্তরের বিভিন্ন গোপন তথ্যের। আর এসব তথ্য সংগ্রহ করার জন্য গোটা রাজ্যজুড়ে তিনি অসংখ্য গুপ্তচর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিয়েছিলেন। এই গুপ্তচরেরা রাজ্যে সুলতানের চোখ-কান হিসাবে কাজ করত। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকে শুরু করে অতি তুচ্ছ তথ্যও মুহূর্তেই সুলতানের কাছে পৌঁছে যেত। (৫) ভারতের ইতিহাসে সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির পূর্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা নির্দিষ্ট কোনো বেতন পেতেন না। বরং তাদের জমির জায়গির দান করা হত। তিনি এই জায়গির ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে সেনাবাহিনীর সদস্যদের নির্দিষ্ট বেতন দেওয়ার রীতি শুরু করেন। তাঁর সময়ে একজন অশ্বারোহী সৈন্যের বেতন ছিল প্রায় ২৩৮ তঙ্কা (স্বর্ণমুদ্রা)। (৬) আলাউদ্দিন খিলজির সময়ে সাম্রাজ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছিল ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা। এই ব্যবস্থায় নিত্যব্যবহার্য প্রতিটি পণ্যের মূল্যই রাষ্ট্র থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হত। শুধু নির্ধারণ করে দিয়েই তিনি তাঁর দায়িত্ব থেকে হাত গুটিয়ে নেননি। বরং তাঁর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করে গুপ্তচররা নিয়মিত সুলতানকে রিপোর্ট করত। গুপ্তচররা ঘুরে ঘুরে বাজার পর্যবেক্ষণ করতেন। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারমূল্য বেশি হলে বিক্রেতাদের কঠোর শাস্তি প্রদান করা হত। সেই সময়েও ব্যবসায়ীদের ওজনে কম দেওয়ার প্রবণতা ছিল। তবে এর জন্যও ছিল কঠোর শাস্তির বিধান। ওজনে কম দিয়ে কোনো ব্যবসায়ী ধরা পড়লে যতটুকু ওজন কম দেওয়া হয়েছে, ঠিক ততটুকু মাংস তাঁর শরীর থেকে কেটে নেওয়া হত। ফলে ধীরে ধীরে ওজনে কম দেওয়ার মতো জঘন্য এই মানসিকতা থেকে ব্যবসায়ীরা সরে আসে। ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানি বলেন, সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এতটাই কঠোর ছিল যে, দুর্যোগের সময়ও বাজারমূল্য ওঠানামা করত না। তবে দুর্যোগ কিংবা অন্য কোনো কারণে বাজারে পণ্য সরবরাহ হ্রাস পেলে যাতে পণ্যমূল্য ওঠানামা না করে, সেজন্য রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে গুদামে পণ্য মজুদ রাখা হত। সরবরাহ কমে গেলে গুদাম থেকে পণ্য সরবরাহ করে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা হত। (৭) দ্রব্যমূল্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়াও, প্রশাসনের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যে ঘুষের রীতি প্রচলিত ছিল, তা সুলতান আলাউদ্দিন খলজি কঠোর হাতে নির্মূল করেন। (৮) আমির-ওমরাহ ও বিত্তবানদের মধ্যে প্রচলিত দুর্নীতির তিনি মূলোৎপাটন করেছিলেন। সুদৃঢ় ও কঠোর ব্যবস্থা দ্বারা তিনি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে এনেছিলেন। (৯) প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস তাঁর শাসনামলের বিরাট সাফল্য। তিনি রাজস্ব আদায়কারী খুত, মুকাদ্দাম ও চৌধুরীদের অত্যাচার থেকে প্রজাদের রক্ষা করেছিলেন। (১০) ভূমি জরিপ ব্যবস্থা ভারতবর্ষে মুসলিম শাসক হিসাবে তিনিই সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন। রাষ্ট্রের কাজের জন্য অশ্বকে চিহ্নিত করার প্রথা প্রবর্তন করে তিনি সামরিক বাহিনীতে প্রচলিত দুর্নীতি দমন করেন। (১১) শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শিল্পের পৃষ্টপোষক হিসেবে আলাউদ্দিন খলজি ভারতীয় ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। মুসলিম ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি ‘ভারতের তোতা পাখি’ বলে খ্যাত কবি আমির খসরু ছিলেন আলাউদ্দিন খলজির রাজ দরবারের সবচেয়ে খ্যাতিমান কবি।

    আলাউদ্দিনের ব্যক্তিগত চারিত্রিক কলঙ্কের কথা ছাড়া শাসনগত যোগ্যতা ও কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ধর্ম সম্বন্ধে বেপরোয়া মনোভাব, স্বার্থপরতা, পাপপ্রবণতা, কূটনীতির নামে প্রতারণার সূক্ষ্ম কৌশল তাঁর ব্যক্তিগত চরিত্রকে কালিমালিপ্ত করেছিল ঠিকই, সেই কারণেই আলাউদ্দিন খলজির এহেন ধর্মদ্রোহিতাই পরবর্তী সময় তাঁর উত্তরাধিকারীদের অনুপযুক্ততা ও মালিক কাফুরের ক্ষমতা লাভের ফলে খিলজি বংশের পতনের অন্যতম কারণ।

    আলাউদ্দিনের হিন্দুনির্যাতন প্রসঙ্গে ডাঃ ঈশ্বরীপ্রসাদ লিখেছেন– “আলাউদ্দিন হিন্দুদের অত্যাচার-উৎপীড়ন করেছিলেন বলে যে তথ্যটি প্রচারিত তা সত্য নয়।” মুরল্যান্ড এবং প্রফেসর হাবিব লিখেছেন– “রাবণী যেখানে ‘হিন্দু’ শব্দ ব্যবহার করেছেন তাঁর উদ্দেশ্য হল যুত, মুকাদদাম, চৌধুরী ইত্যাদি। এরা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। সুতরাং রাজনীতির প্রয়োজনে তাঁদের শক্তিহীন করার প্রয়োজন ছিল।” অর্থাৎ যুত, মুকাদদাম, চৌধুরীকে এবং হিন্দুদের তিনি ধর্মের কারণে নিধন করেননি। ডাঃ ত্রিপাঠী লিখেছেন– “তিনি মুসলমানদেরও ছাড়েননি। অতএব হিন্দুদের কীভাবে ছাড়া সম্ভব?” আলাউদ্দিনের ২০ বছর শাসনকালে বিভিন্ন সময়ে মোঙ্গলরা লুটপাটের উদ্দেশ্যে হিন্দুস্তানে অভিযান চালায়। শুধুমাত্র ১২৯৬-১৩০৮ সালে মধ্যেই এই বর্বর মোঙ্গলরা মোট ১৬ বার ভারত তথা হিন্দুস্তানে অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু প্রতিবারই তাঁরা হিন্দুস্তানের সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির হাতে পরাজিত হয়ে ফেরত যায়। ভারতের প্রতি আলাউদ্দিন খিলজির অন্যতম একটি অবদান হচ্ছে, তিনি মঙ্গোল আক্রমণের হুমকি থেকে হিন্দুস্তানকে রক্ষা করেছিলেন। ১২৯৭ সালে জলন্ধরে সুলতানের বাহিনীর মুখোমুখি হয় একটি মোঙ্গল বাহিনী। সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির সেনাপতি জাফর খান তাঁদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। মোঙ্গলরা এই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পুনরায় হামলা চালিয়ে দিল্লির শিরি দুর্গটি দখল করে নেয়। জাফর খান তাঁদের পরাজিত করে শিরি দুর্গ পুনরুদ্ধার করেন। সেই সঙ্গে ২০০০ মোঙ্গল-যোদ্ধাকে বন্দি করে নিয়ে আসা হয়। শিরি দুর্গটির প্রকৃত নাম ছিল দার-উল-খিলাফত। একবার এই দুর্গে প্রায় ৮০০০ মোঙ্গল সৈন্যের শিরচ্ছেদ করা হয়, যার ফলে দুর্গটির নামই হয়ে যায় ‘শিরি’। ১২৯৯ সালে মোঙ্গলরা পুনরায় দুয়া খানের পুত্র কুতলুগ খাজার নেতৃত্বে প্রায় ২ লাখ সৈন্য নিয়ে হিন্দুস্তানে অভিযান চালায়। তাঁরা আবারও শিরি দুর্গটি দখল করে নেয়। শিরি দুর্গের দখল নিয়ে তাঁরা দিল্লির দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। মোঙ্গলদের আক্রমণের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তাঁরা আক্রমণের সময় লুটপাট করতে করতে আসে। কিন্তু আলাউদ্দিন খলজি লক্ষ করলেন এবার আর তাঁরা লুটপাট না-করে সরাসরি দিল্লির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অর্থাৎ এবার চূড়ান্ত একটি লড়াই হতে যাচ্ছে, কারণ আক্রমণের লক্ষ্য এবার খোদ দিল্লিই। জাফর খানকে প্রধান সেনাপতি হিসাবে নিয়োগ দিয়ে আলাউদ্দিন খলজি মোঙ্গলদের বাঁধা দিতে এগিয়ে আসেন। দুর্ধর্ষ জাফর খানের হাতে মোঙ্গলরা আরও একবার পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করে পিছু হটতে থাকে। তবে এই যুদ্ধে সেনাপতি জাফর খান নিহত হন। আলাউদ্দিন যখন চিতোর দুর্গ অবরোধে ব্যস্ত ছিলেন, মোঙ্গলরা আরেকবার হিন্দুস্তানে আক্রমণ চালায়। তবে এবার মোঙ্গল সেনাবাহিনীর আকার তুলনামূলকভাবে অনেক ছোটো ছিল। তবে এই আক্রমণের ফলে সুলতান বেশ বিপর্যয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। তাই এরপর তিনি সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তার জোরদার করার জন্য আরও বেশ কয়েকটি দুর্গ নির্মাণ করেন। উন্নত অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন করেন। তবে এরপরও আলি বেগ ও তারতাক খানের নেতৃত্বে মোঙ্গলরা আক্রমণ চালিয়ে পাঞ্জাব দখলে নিয়ে নেয়। অনেকটা প্রথানুযায়ীই তাঁদের আবারও পরাজিত করে দিল্লির সেনাবাহিনী পাঞ্জাবের দখল নিয়ে নেয়। অন্যদিকে, ১৩০৬ সালে কাবাক খান আর ১৩০৮ সালে ইকবালের নেতৃত্বে মোঙ্গলরা পুনরায় আক্রমণ চালালে মোঙ্গলদের পুরো সেনাবাহিনীই ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ১৩০৬ সাল থেকে দিল্লি সেনাবাহিনী একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করতে থাকে। এসময় থেকে চেষ্টা করা হত যুদ্ধক্ষেত্র থেকে একজন মোঙ্গল সেনাও যেন জীবন নিয়ে পালিয়ে যেতে না পারে। কারণ এই পলাতক যোদ্ধারাই আবার পরবর্তী অভিযানগুলোতে অংশগ্রহণ করত। আর যুদ্ধে যাঁরা বন্দি হত, তাঁদের সোজা হাতির পায়ের নিচে ফেলে পিষ্ট করা হত। সুলতান আলাউদ্দিন মোঙ্গলদের এত কঠোরভাবে দমন করেন যে, এই ১৬টি যুদ্ধে প্রায় ৩ লাখ মঙ্গোল সেনা তাঁর হাতে নিহত হয়। ১৩০৮ সালের পর মোঙ্গলরা ভুলেও আর হিন্দুস্তানের দিকে তাঁদের বিষাক্ত দৃষ্টিতে তাকাতে সাহস করেনি। তাঁরা হিন্দুস্তানের সুলতান আলাউদ্দিন খলজিকে এতটাই ভয় পেত যে, তারিক-ই-ফিরোজশাহির বর্ণনানুযায়ী, সুলতানের সেনাপতি মালিক গাজী প্রতি শীতকালে মোঙ্গল সীমান্তে গিয়ে তাঁদের যুদ্ধের জন্য আহবান করতেন। কিন্তু মঙ্গোলরা কখনোই আর হিন্দুস্তান অভিমুখে এগিয়ে আসার ধৃষ্টতা দেখায়নি!

    আলাউদ্দিন কি সমকামী ছিলেন? আলাউদ্দিনের সমকামিতা নিয়ে কতিপয় ঐতিহাসিকরা বেশ মুখর। বলা হয় মালিক কাফুর ছিলেন আলাউদ্দিনের সমকাম যৌনসঙ্গী। এহেন তথ্য প্রথম জানা যায় ইতিহাস ঘটনাপঞ্জী লেখক জিয়াউদ্দিন বারানির লেখা ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’ গ্রন্থে। জিয়াউদ্দিন বারানির লেখার উপর ভিত্তি করে ভারতীয় গবেষক রুথ ভানিতা এবং সেলিম কিদাই মত প্রকাশ করেন যে, আলাউদ্দিন খলজি উভয়কামী ছিল। অবশ্য ভারতীয় অধ্যাপক-গবেষক-লেখক আব্রাহাম এরালি এই মতকে মিথ্যা বলে প্রতিপন্ন করে বলেন— জিয়াউদ্দিন বারানি সম্ভবত একজন অ-তুর্কি এবং হিন্দু ঘরে জন্ম নেওয়ার জন্য মালিক কাফুরের বিপক্ষে অত্যন্ত সমালোচনামুখর ছিলেন। প্রথম দিকে মালিক কাফুর ছিলেন একজন হিন্দু বালক, যাকে ১২৯৯ সালে গুজরাট বিজয় করার পর দাস হিসাবে নিয়ে আসা হয়। মালিক কাফুর একজন সুদর্শন বালক এবং বিচক্ষণ বুদ্ধির অধিকারী ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি মুসলিম হন এবং সুলতানের প্রচণ্ড বিশ্বাসভাজন হন। সুলতানের সেনাপতি হিসাবে তিনি সফলভাবে অনেকগুলো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং বিজয় লাভ করেন। ভারতীয় ইতিহাসবিদ বেনারসী প্রসাদ সাক্সেনা মত প্রকাশ করেন যে, আলাউদ্দিন খিলজি ও মালিক কাফুরের মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক ছিল, তাকে ‘সমকাম হিসাবে গণ্য করা ভুল হবে। তিনি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেন যে, আলাউদ্দিন খিলজির চরিত্রে সমকামিতার কোনো গুণ ছিল না। যেহেতু মালিক কাফুরের পরিবার বা নিকটজন বলে কেউ ছিল না, তাই আলাউদ্দিন খিলজি তাঁকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করতেন। এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই মালিক কাফুর আলাউদ্দিন খিলজিকে হত্যা করেন এবং পরোক্ষভাবে ক্ষমতা দখল করে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহায়রোগ্লিফের দেশে – অনির্বাণ ঘোষ
    Next Article গণিকা-দর্শন – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }