Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভারতে ইসলাম ভারতীয় মুসলিম – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1287 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.৫.০১ শাসক রূপে মুসলিমদের ভারতে প্রবেশ : মোহম্মদ বিন কাসিম

    শাসক রূপে মুসলিমদের ভারতে প্রবেশ

    মোহম্মদ বিন কাসিম (শাসনকাল : ৭১১ সাল থেকে ৭১৫ সাল)

    ইসলামের আবির্ভাবের প্রায় ১০০ (৬১০ থেকে ৭১২) বছর পরে আরব মুসলমানরা ভারতবর্ষের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। মূলত উমাইয়া খিলাফত (৬৬১ থেকে ৭৫০) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে ইসলামি সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের নবযুগের সূচনা হয়। খলিফা ওয়ালিদের (৭০৫ থেকে ৭১৫) রাজত্বকালে একদিকে স্পেন, অপরদিকে সিন্ধু অঞ্চল ইসলামি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে সিংহলের সঙ্গে ইসলামি সাম্রাজ্যের বাণিজ্য যোগাযোগ পূর্বেই ছিল। এই সময় সিংহলের রাজা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ঠিক কেন তিনি ইসলাম ধর্ম করলেন, তা জানা যায় না। তবে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর আটখানি জাহাজ বোঝাই নানা উপহার সামগ্রী খলিফা ওয়ালিদের জন্য পাঠান। এই জাহাজ আরবসাগরের উপকূলে দেবল বন্দরে পৌঁছোলে জলদস্যুরা জাহাজগুলি লুঠ করে (সেসময় সমুদ্রে জলদস্যুদের খুব উৎপাত ছিল)। এই খবর পেয়ে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সিন্ধুর (সেই সিন্ধু সাতচল্লিশ সালের পর থেকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত) রাজা দাহিরের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। দাহির ছিলেন সিন্ধু অঞ্চলের ব্রাহ্মণ রাজা। দাহির ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করলে হাজ্জাজ সিন্ধু অভিযান করেন। ব্যর্থ হল হাজ্জাজের সেই অভিযান। কিন্তু হাজ্জাজ এখানেই থেমে যাওয়ার বান্দা নন। আবার দ্বিতীয়বার আক্রমণ। না, এবারে হাজ্জাজ স্বয়ং যুদ্ধে অবতীর্ণ হননি। তিনি নিজ ভাইপো তথা জামাতা হজরত মোহাম্মদ বিন কাসিম রহমতুল্লাহি আলাইহি ওরফে বিন কাসিমকে এক বিশাল বাহিনী দিয়ে সিন্ধু আক্রমণ করতে পাঠান। সালটা ৭১১। বিন কাসিমের বয়স তখন মাত্র ১৭। মোহম্মদ বিন কাসিম দাহিরকে পরাজিত ও নিহত করেন। একেই বলে নিয়তি। এক ডাকাতি ও তার ক্ষতিপূরণকে কেন্দ্র করে সিন্ধু মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হল। ভারতে পা রাখল মুসলিম শাসক। শুরু হল ভারতীয় ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। তবে ঐতিহাসিক তারাচাঁদ তাঁর ‘Influence of Islam on Indian Culture’ গ্রন্থে লিখেছেন– “৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম নৌবহর ভারতীয় জলসীমায় উপনীত হয়। তখন খলিফা উমরের শাসনকাল। বাহরাইন ও উম্মানের গভর্নর উসমান সকিফি সমুদ্র পথে সৈন্য প্রেরণ করেছিলেন। এজন্য খলিফা তাঁকে তিরস্কার করেন এবং সতর্ক করে দেন যে এমন পরীক্ষামূলক কার্যের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তাঁর স্বজনদের পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া হবে। প্রায় একই সময়ে ব্রোচ ও দবুলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু উমরের নিষেধের ফলে সশস্ত্র অভিযান সাময়িক বন্ধ থাকে। খলিফা উমরের আমলে স্থলপথে ভারতে পৌঁছোনোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয় এবং এ ব্যাপারে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অষ্টম শতকে মোহম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধুবিজয় ছিল সেই উদ্যোগেরই ফলশ্রুতি।”

    ব্রিটিশপ্রোষিত ঐতিহাসিকরা লিখেছেন– “যুদ্ধে জয়ী হয়ে বিন কাসেমের আদেশে ১৭ বছরের বেশি বয়স্ক পুরুষদের হত্যা করেন। তিনদিন ব্যাপী লুণ্ঠন ও হত্যাকাণ্ডের পর স্ত্রীপুরুষনির্বিশেষে সকল সিন্ধুবাসীদের (পৌত্তলিকবাদী/মূর্তিপূজক) ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্যও করেন। দাহিরের অন্যতমা পত্নী রানিবাঈ নিজ পরিচারিকারা সহ অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দিয়ে মুসলিমদের হাতে বন্দিনী হওয়ার ভয় থেকে বাঁচলেন। এরপর বামনাবাদ নামক এক দুর্গ জয় করতে গিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বিন কাসেমের তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। দুর্গটি রক্ষার জন্য বাহমনাবাদের প্রচুর বাসিন্দা প্রাণ দিয়েও কাসেমকে প্রতিহত করতে পারেনি। বাহমনাবাদ আরবের অধীনে চলে গেল। বাহমনাবাদের পর মোহম্মদ বিন কাসেম জয় আর রক্তের নেশায় মুলতানের দিকে এগিয়ে গেলেন। এখানেও আবার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হল। বহুসংখ্যক নরনারীশিশুর মৃত্যু হল এবং যারা মরল না তাদের দাসে পরিণত করা হল। দখল হল মুলতান শহর। এইভাবে অষ্টম শতাব্দীতে ভারতে শাসনের সূচনা ঘটে।” ওই একই পথে হেঁটে কঙ্কর সিংহ তাঁর “ইসলামের ভারত অভিযান” গ্রন্থে লিখেছেন– “কাশিমের সেনাবাহিনীতে ছিল কমপক্ষে ২০ সহস্র অশ্ব এবং পদাতিক সৈন্য। হাজ্জাজ তাঁকে নির্দেশ দেন দৈহিকভাবে সমর্থ সব ভারতীয় পুরুষকে হত্যা করতে এবং সেই সাথে সব নারী শিশুকে বন্দি করে তাদের ক্রীতদাসে পরিণত করে নিতে হবে। দেবল দখল করার পর কাশিমের মুসলিম বাহিনী তিনদিন ধরে সেখানকার হিন্দু নাগরিকদের উপর পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ চালায়। দেবলে কত লোককে বন্দি করা হয়েছিল ‘চাচনামা’-য় তার উল্লেখ পাওয়া না গেলেও দেখা যায় তাদের মধ্যে ছিল মন্দিরে আশ্রয়গ্রহণকারী ৭০০ নারী। …দেবলের পর হত্যাযজ্ঞ চলে ব্রাহ্মণ্যবাদে, সেখানে অস্ত্র বহনে সক্ষম সতেরো বছরের অধিক বয়সের ৮,০০০ থেকে ২৬,০০০ লোককে হত্যা করা হয়। চাচনামা’-য় উল্লেখ করা আছে যে রাওয়ারে কাসিম তাঁর অভিযানে ১,০০,০০০ মানুষকে ক্রীতদাস হিসাবে ধরে নেন। রাজা দাহির পরাজিত ও নিহত হলে (৭১২ সালের ২০ জুন) তাঁর পত্নী রানিবাই পরিচারিকাদের সঙ্গে জ্বলন্ত অগ্নিতে আত্মাহুতি দিয়ে মুসলিম সেনাদের কবল থেকে নারীর সম্মান রক্ষা করেন, ইসলামের শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী বিজিত পক্ষের নারীরা হয়ে যায় গণিমতের মাল। সেই হিসাবে মুসলিম সেনাদের ভোগের বস্তু। সেনাপতি কাসেম খলিফার প্রাপ্য হিসাবে লুণ্ঠন দ্রব্য ও ক্রীতদাসদের এক-পঞ্চমাংশ হাজ্জাজের কাছে পাঠালে তিনি তা দামেস্কে খলিফা আল ওয়ালিদের কাছে প্রেরণ করেন। ক্রীতদাসদের মধ্যে ছিল ৩০,০০০ নারী ও শিশু এবং নিহত রাজা দাহিরের ছিন্ন মস্তক।” এসব তথ্য রামশর্মা রচিত “Studies in Medieval India History” গ্রন্থে উল্লেখ আছে। বলে কঙ্কর সিংহ জানিয়েছেন। ভারতের সিন্ধুপ্রদেশে আরব বিজয়ের ইতিহাস ‘চাচনামা’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়। তারিখ-ই-সিন্ধ— মির মোহম্মদ মাসুম গ্রন্থটি রচনা করেন। আলবিরুনির ‘কিতাব-উল-হিন্দ’ গ্রন্থে সুলতান মামুদের ভারত আক্রমণের প্রাক্কালে ভারতের অবস্থা সম্বন্ধে জানতে পাওয়া যায়। সিন্ধু অভিযানের পিছনে মূলত ধর্মীয় অনুপ্রেরণা বড়ো ভূমিকা নিয়েছিল। নতুন নতুন অঞ্চল দখল করে সেখানে ইসলামের বিস্তার করাই ছিল ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের বিজেতাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

    সেদিন প্রকৃত ঘটনা কী এবং কেন ঘটেছিল, সেটা দেখা যেতে পারে। প্রথমেই জানব সিন্ধুরাজ দাহিরকে। দাহিরের বাবা চাচ সিন্ধে রাজত্ব করেছেন প্রায় চল্লিশ বছর। তারও আগে সিন্ধের রাজা ছিলেন সাহিসি, যিনি ছিলেন বৌদ্ধ রাজা। সেই রাজার অধীনে দাহিরের পিতা চাচ প্রথমে ছিলেন একজন সহকারী মন্ত্রী। সাহিসির রানির নাম ছিল। সোনহি। যিনি যুবক চাচকে দেখেই প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। রানি সোনহি চাচের প্রেমে এতটাই বিমুগ্ধ ছিলেন যে, নানা রকম ফন্দি-ফিকিরে রাজাকে অপসারণ করে এবং রাজার প্রিয় অনুগতদেরও চিরতরে সরিয়ে দিয়ে চাচকে সিংহাসনে বসালেন। ৬৩২ সাল। এসময় হজরত মোহম্মদের মৃত্যু হয়। একই সময় সিন্ধুতেও পটবদল হল। রাজা সাহিসির মৃত্যু এবং চাচের সিংহাসন লাভ। সাহিসির মৃত্যুতে রানি সোনহি বিধবা হয়ে পড়লেন। রানি সোনহি একে বৌদ্ধ, তার উপর বিধবা, ব্রাহ্মণ সন্তান চাচের পক্ষে তাঁকে বিয়ে করা সম্ভব হয়নি। তাতে অবশ্য তাঁদের বিয়ে আটকায়নি। রানি ছিলেন কৌশলে অত্যন্ত দক্ষ এবং সুনিপুণ। শেষপর্যন্ত বিধবা রানি সোনহির সঙ্গেই চাচের বিয়ে হয়েছিল। বৌদ্ধ সোনহি এবং ব্রাহ্মণ চাচের দম্পতির পুত্রই দাহির। একটানা দীর্ঘ চল্লিশ বছর ওই জায়গার শাসক থাকার কারণে সিন্ধ আর চাচ সমার্থকই হয়ে গিয়েছিল। সিন্ধ মানেই চাচেরই দেশ। সিন্ধের ইতিহাস মানে চাচেরই ইতিহাস। চাচ তখন স্থানবিশেষ, ব্যক্তিবিশেষ নয়।

    এই রাজা চাচ বা রাজ্য চাচের নামেই ‘চাচনামা’ (ফতেনামা) গ্রন্থ রচিত হয়। আরবি মূল ভাষার লেখক আলি বিন হামিদ বিন আবু বকর আল-কুফির। অষ্টম শতকের গোড়াতে এটা রচিত হয়েছিল। আলি বকর কুফির অত্যন্ত পণ্ডিত ব্যক্তি। ত্রয়োদশ শতকে তিনি এটাকে পারসিক বা ফারসি ভাষায় অনুবাদও করেন এবং চাচনামাকে জনপ্রিয় করে তোলেন। অনেকে মনে করন কাজী ইসমাইলই মূল গ্রন্থের লেখক। বলা যায় আরবের দিক থেকে সিন্ধু তথা ভারতের ইতিহাসের উপর প্রথম প্রামাণ্য দলিল। এই গ্রন্থ সিন্ধুরাজ দাহির যাঁর কাছে পরাস্ত এবং নিহত হয়েছিলেন, সেই মোহম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়-কাহিনিও। চাচনামার অন্য নাম ফতেহ্ নামা সিন্ধ’ এবং ‘তারিখ অল-হিন্দ ওয়া’স-সিন্দ’। তবে অনেকে বলেন এই গ্রন্থে ঘটনাবলি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।

    দাহিরের পদবি কোনো কোনো ঐতিহাসিক লিখেছেন শাহ। আবার কেউ কেউ বলেন দাহিরের প্রকৃত পদবি শাহ নয়, সেন। সেন পদবি দেখে ভাববেন না দাহির সেন বদ্যি ছিলেন। তিনি বদ্যিও ছিলেন না, বাঙালিও ছিলেন না। তিনি ছিলেন সিন্ধি, সিন্ধু বা সিন্ধের ব্রাহ্মণ রাজা। রাজা দাহির সেনকে কোথাও বলা হয়েছে রাজা দহর বা ডহর– তিনি ছিলেন বর্তমানে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের আলোর বা আরোরের (বর্তমান নাম রহরি) ব্রাহ্মণ বংশের শেষ হিন্দু রাজা। জন্ম ৬৬৩ সালে। তাঁর পিতার নাম ছিল চাচ। মায়ের নাম সুহানাড়ি। তাঁর মায়ের ছিল এটা দ্বিতীয় বিয়ে। কাকার নাম ছিল চান্দার, যাঁর কাছ থেকে দাহির সিংহাসন পেয়েছিলেন। তিনি তাঁর নিজের আপন বোনকে বিয়ে করেছিলেন। জ্যোতিষীতে তাঁর অগাধ বিশ্বাস ছিল। জ্যোতিষী মতে এ বিয়ে নাকি রাজযোটক ছিল। রাজজ্যোতিষী বলেছিল, ছোট বোনের স্বামীর কাছ থেকে বিপদ আছে। রাজ্যদখল এবং প্রাণনাশ –দুটি সম্ভাবনাই প্রবল। তারপর কী হতে পারে পাঠকরা বুঝে নিন। ইতিহাসে উল্লেখ নেই।

    হাসান-হুসেনের কাহিনির জন্য কারবালার কথা অনেকে নিশ্চয় জানেন। কারবালা বর্তমানের ইরাকের অন্তর্গত। কারবলার যুদ্ধের সময় ১৪০০ ‘হুসেইনি’ ব্রাহ্মণ কারবালাতেই ছিলেন? দাহির সেন নিজে ছিলেন ‘পুষ্কর্ণ’ ব্রাহ্মণ। কিন্তু তাঁর সময়ে সিন্ধু প্রদেশে অনেক হুসেইনি ব্রাহ্মণ ছিলেন। কারা এই হুসেইনি ব্রাহ্মণ? “ওয়াহ্ দা সুলতান– হিন্দু কা ধর, মুসলমান কা ইমান— আধা হিন্দু, আধা মুসলমান।” ওঁরা ধর্মে ছিলেন হিন্দু, কিন্তু অনুসরণ করতেন মুসলমানি বিশ্বাস। চিত্রাভিনেতা সুনীল দা কি লাহোরের হুসেইনি ব্রাহ্মণ? না, নির্ভরযোগ্য তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

    কেমন ছিল দাহিরের শাসনব্যবস্থা? দাহিরের সঙ্গে তাঁর দাদা দাহারসিয়ার তুমুল বিরোধ ছিল। বিরোধিতার কেন্দ্রবিন্দু সিন্ধুর সিংহাসন। এই বিরোধের ফলে সিন্ধুরাজ্য দুইভাগে ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। দাহারসিয়ার মৃত্যুর পর দাহির তাঁর রাজ্যটি দখল করে নেন। দাহারশিয়ার রাজ্যটি দাহির দখল করে নিলেও এই অঞ্চলের সামন্তরা তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেননি। উল্টে তাঁরা আরবদের সঙ্গে সখ্যতা বাড়িয়ে নেয়। যে সময় মোহম্মদ বিন কাসিম তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে আক্রমণ করেন, সে সময় সিন্ধুরাজ দাহিরের কট্টর ব্রাহ্মণ্যবাদী নীতির কারণে বৌদ্ধ ও নিচজাতির হিন্দুরা খুবই অসন্তুষ্ট ছিল। বস্তুত হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মের পারস্পরিক বিরোধিতাই বিন কাসিমের সিন্ধুজয়ের পথ প্রশস্ত করেছিল। রাজা ছাড়াও বৌদ্ধ, জৈন এবং নিচজাতিদের উপর অভিজাত ও উচ্চবর্ণের সম্প্রদায়ের লোকেরা অকথ্য অত্যাচার করত। সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও দাঙ্গার শুরুই হয়েছে এসময় থেকে। হিন্দু বৌদ্ধ দাঙ্গা। সবসময় নিজেদেরকে অসহায় বোধ করত। এই অসহায়ত্ব ও অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে চাইত। সেই অসন্তুষ্টির কারণেই দাহিরের রাজ্যটি ঐক্যবদ্ধ ছিল না। সেটাই স্বাভাবিক। স্বাভাবিক বিকল্প শাসকের শরণাপন্ন হওয়া। সেই বিকল্পের সন্ধান এসে গেল আরবি যযাদ্ধাদের কাছ থেকে। দাহির বৌদ্ধদের উৎখাত করেই ক্ষমতা দখল করেছিলেন। ফলে বৌদ্ধদের একাংশের সমর্থনও দাহির হারায়। এঁরা দাহিরের বিরুদ্ধে বিন কাসিমের পক্ষে যোগ দেয় একপ্রকার বাধ্য হয়েই। স্থানীয় সামন্তদের অনেকেই আরবযযাদ্ধাদের গোপনে সাহায্য করেছিল। মোকা নামে এক প্রভাবশালী সামন্তনেতা ও তাঁর ভাই আরবযোদ্ধাদের সাফল্য নিশ্চিত করে। এর সঙ্গে অত্যাচারিত নাগরিক তথা জনগণের অনেকেই আরবি মুসলমানদের কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং তাঁদের সবরকমের সাহায্য করে দাহিরের সঙ্গ ত্যাগ করে। মুসলিম-যোদ্ধাদের হাতে সিন্ধুরাজ্যের গোপন তথ্যও পাচার করে। দাহিরের শাসনে এতটাই অনাস্থা ছিল যে, ধনী ব্যবসায়ী, জাঠ সম্প্রদায়, মেধ সম্প্রদায়, এমনকি দেবলমন্দিরের একজন পুরোহিতও আরবযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিল।

    এটা এমন সময়, যখন হর্ষবর্ধনের মৃত্যু হয়। হর্ষবর্ধনের মৃত্যুর ফলে ভারত উপমহাদেশে নানা উজ্জ্বলতা ও অরাজকতার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন অঞ্চলের রাজারা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছিল। হানাহানি, রক্তারক্তি। যে, যাঁকে পারছিল আক্রমণ আর হত্যা করে যাচ্ছিল। রাজা রামালও তাঁর সৈন্যবাহিনী নিয়ে সেই কনৌজ থেকে দাহিরকে আক্রমণ করতে এসেছিল। সেই আক্রমণকে প্রতিহত করার জন্য দাহিরকে যিনি সঙ্গ দিয়েছিলেন, তার নাম ছিল মোহম্মদ হারিস আল্লাফি। মোহম্মদ হারিস আল্লাফি একজন মুসলমান গোষ্ঠী-শাসক। তিনি ছিলেন তাঁর মুলুক থেকে বিতাড়িত এবং দাহির কাছে আশ্রিত। দাহির এবং মোহম্মদ হারিস আল্লাফির মিলিত যৌথ পাল্টা আক্রমণে রাজা রামাল চরমভাবে পরাস্ত হয়। ফেরার সময় রামালের মৃতদেহ পর্যন্ত সঙ্গে নিয়ে ফিরতে পারেনি তা সৈন্যদল। ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে হিন্দুরাজার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন সিন্ধুরাজ দাহির সেন। সেই আত্মরক্ষার সংগ্রামে পাশে পেয়েছিলেন আরব থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা মোহম্মদ হারিস আল্লাফিকে।

    বর্তমানে যে অংশটুকুকে পাকিস্তান ও আফগানিস্থান বলা হয় সপ্তম/অষ্টম শতকে গান্ধার-সিন্ধ-পাঞ্জাব ভূখণ্ডগুলি প্রাচীন ভারতের দ্বারা শাসিত হত। মহাভারতে আমরা এইসব দেশের কথা জানতে পারি। দুরত্বের বিচারে এবং নানাবিধ সংগত কারণে ওইসব অঞ্চল ভারতীয় উপমহাদেশের সিন্ধুর কাছে আরব-পারস্যর কাছে আন্তরিকতা বেশি ছিল। সেই কারণেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তান শুরু থেকেই মুসলমান শিবিরে চলে যায়। এমনকি আরবের সঙ্গে সিন্ধের যোগাযোগ এতটাই নিবিড় ছিল যে, হজরত মোহম্মদের মেয়ের তরফে নাতি হুসেইন তাঁর প্রাণসংকটের সময় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন সিন্ধুরাজ দাহিরের কাছে। রাজা দাহির সেন হুসেইনের অনুরোধে সায় দিয়েছিলেন। রাজার সেই আশ্বাসে হুসেইন রওনাও দিয়েছিলেন সিন্ধের দিকে। কিন্তু পথের মাঝে ইয়াজিদের হাতে ধরা পড়ে যান তিনি এবং হুসেইনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

    কে এই ইয়াজিদ? উমাইয়াদ বংশের রাজা, শাসক। মক্কার এক সর্দার উমাইয়ার নামেই এই বংশের প্রতিষ্ঠা। মোহম্মদ ছিলেন মক্কার কুরাইশ বংশের নেতা। গোড়া থেকেই এই গোষ্ঠী হজরত মোহম্মদের ঘোরতর বিরোধী ছিল। তা সত্ত্বেও নানা কারণে হজরত মোহম্মদের আদর্শ, যুক্তি, ধর্ম এবং শক্তির কাছে বশ্যতা স্বীকার করে নিলেও, মোহম্মদ মৃত্যুর পর ইয়াজিদ আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এই উমাইয়াদরাই হজরত মোহম্মদের বংশধরদের শেষ করেছে। হাসান-হুসেনদের মৃত্যু এঁদেরই হাতে হয়েছে।

    এখানে স্মরণে রাখা ভালো, হর্ষবর্ধন, শশাঙ্ক ও হজরত মোহম্মদ ছিলেন সমসাময়িক। হর্ষবর্ধন যখন বহাল তবিয়তে উত্তর ভারত শাসন করছেন, ঠিক তখনই ভারতের উত্তর-পশ্চিম কোণ দিয়ে একটু একটু করে ঢুকতে শুরু করে দিয়েছিল ইসলামের বাঁধনহারা স্রোত। সেই ইতিহাস অন্য অধ্যায়ে লিখব। এখন বরং আগের আলোচনায় ফিরে যাই। ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসনে বহু ইরাকি বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। সেই বিদ্রোহীরা সীমান্ত পার করে সিন্ধুরাজ দাহিরের রাজ্যে আত্মগোপন ও আশ্রয় গ্রহণ করে। হাজ্জাজ সেই খবর জানতে পেরে দূত পাঠিয়ে বিদ্রোহীদের প্রত্যর্পণ করার অনুরোধ করেন দাহিরকে। দাহির সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দেয়। হাজ্জাজ ক্ষুব্ধ হন, সৃষ্টি হয় বৈরিতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল– সিংহলে যেসব আরব বণিক বাণিজ্যিক কারণে বসবাস করতেন তাঁরা, তাঁদের অনেকেরই মৃত্যু হয়। তাঁদের পরিবারবর্গকে জাহাজে চাপিয়ে হাজ্জাজের কাছে পাঠিয়েছিলেন সিংহলরাজ। এসময় মাঝপথে দেবলের জলদস্যুরা সব লুঠ করে নেয়। তবে অনেকের মতে, আরব বণিজ্যের উপর দাহির আক্রমণ করেছিল। খলিফা আল ওয়ালিদ ক্রীতদাসী এবং অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্য জাহাজে করে ভারতে পাঠান। সামগ্রী কেনাকাটার পর ফেরার পথে সিন্ধুর অন্তর্গত দেবল বন্দরে একদল জলদস্যু সেগুলি লুঠপাট করে নেয়। এ ঘটনার পর ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ সিন্ধুরাজ দাহিরের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। দাবির জবাবে দাহির জানান –এসব জলদস্যুদের কাজ। তাঁদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ নেই।

    অতএব উপরের পর্যালোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে, আরবরা ইসলাম প্রতিষ্ঠার অনেক আগে এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার পরেও বহু প্রাচীনকাল থেকেই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং রাজনৈতিক নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। একথা কোনোভাবেই বলা যায় না যে, আরবের মুসলিমরা সব হঠাৎ করেই ভারতে ঢুকে পড়েছিল সম্পদ লুঠ করার জন্য, হিন্দুদের কচুকাটা করার জন্য, অমুসলমানদের ধরে ধরে মুসলমান বানানোর জন্য, মন্দির ভাঙার জন্য এবং ভারতকে মুসলমানের দেশ বানানোর জন্য। এসব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাপিয়ে দেওয়া।

    অনেকেই হয়তো বলবেন– “কেন, বর্বর’ ‘সন্ত্রাসী’ মুসলিমরা এসব করতে পারে না? ওদের ইসলামই তো সন্ত্রাসের ধর্ম। ইসলামই ওদের এসব করতে নির্দেশ দিয়েছে।” কোরানে যেসব নির্দেশ আছে সেগুলি কেবলমাত্র নবি হজরত মোহম্মদের জন্য। সাধারণ মুসলিমদের জন্য নয়। যদিও কোরানের কিছু পথে মুসলিমরা চলার চেষ্টা করে। কিন্তু সব পথে চলতে পারে না। সম্ভবও নয়। অতএব কোরানের আয়াত দেখিয়ে সমগ্র মুসলিমদের বিচার করা চলে না। তার চেয়ে বরং হাদিস প্রসঙ্গ তুলতে পারেন, যেটা সমগ্র মুসলিম জাতির জন্য নবির নির্দেশ। তবে কোরানেও বেশ কিছু আয়াত সাধারণ মুসলিমদের জন্য নির্দেশ আছে। যেমন –(১) “হে ইমানদারগণ! তাঁরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব দেব-দেবীর পূজা-উপাসনা করে, তোমরা তাঁদের গালি দিও না। যাতে করে তাঁরা শিরক থেকে আরও অগ্রসর হয়ে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিয়ে না বসে।” (সুরা আনআ’ম আয়াত, ১০৮) (২) নবি বলেছেন, “কোনো মুসলমান যদি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে কিংবা তাঁদের উপর জুলুম করে, তবে কেয়ামতের দিন আমি মোহাম্মাদ ওই মুসলমানের বিরুদ্ধে আল্লাহর আদালতে লড়াই করব।” (আবু দাউদ : ৩০৫২) (৩) নবি বলেছেন, “অন্যায়ভাবে কোনো অমুসলিমকে হত্যাকারী জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ ৪০ বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকেই ওই ঘ্রাণ পাওয়া যাবে।” (বুখারি : ৩১৬৬।) কোনো ইমানদার মুসলিম এই কাজগুলি করতেই পারে না, মুসলিমদের জন্য এসব কাজ কোরান ও হাদিস অবৈধ ঘোষণা করেছে। তাহলে কারা করে? তাঁরা কিন্তু সব ধর্মেই আছে। তাঁরা ধর্মকে ব্যবহার নিজেদের কুকাজের স্বার্থে।

    এখন প্রশ্ন হল কেন বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযান করতে হল? মুসলিমদের সাময়িক অভিযান বলতে সিন্ধু তথা ভারতে বিন কাসিমের সামরিক অভিযানকেই প্রথম ধরা হয়। সিন্ধুর রাজা দাহিরকে কাফের’ হিন্দুর হওয়ার অপরাধে বিন কাসিম হত্যা করেননি। এমনকি ভারত দখল করার জন্যও সিন্ধু অভিযান করেননি। সিন্ধুবিজয়ের অনেক আগেই দখল হয়েছিল বুখারা, সমরখন্দ, ফরগনা ইত্যাদি অঞ্চল। এরপর অষ্টম শতকের প্রথম দশকে ইবন আল হারিরির নেতৃত্বে মাকরান বা বেলুচিস্তান দখলের মাধ্যমে সিন্ধুবিজয়ের পথ প্রশস্ত হয়। মুসলিমরা সিন্ধুর সামরিক দুর্বলতার কথাও জানতে পারেন। অভ্যন্তরীণ অনৈক্যের কথাও কারও অজানা নয়। সেই অনৈক্য হল হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অনৈক। তদুপরি রাজার শাসনে প্রজাদের অসন্তুষ্টি। সিন্ধু জয় করার জন্য উমাইয়াদ খলিফারা যে সেনাপতিকে পাঠিয়েছিল, তাঁর নাম ছিল মোহম্মদ বিন কাশিম। দেবল নামে করাচির কাছে একটা জায়গা ছিল, সেনা বিন কাশিম অতি সহজেই দখল করে নেন। এরপর সিন্ধুনদের পাড় ধরে চললেন রহরির দিকে, লক্ষ সিন্ধুরাজ দাহির। দাহিরের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ –(১) তিনি হাসান-হুসেইনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মোহম্মদ বিন আল্লাফিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, (২) তিনি হাসানকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন, (৩) তিনি তাঁর দেশে ইরাকের বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিলেন, (৪) তিনি সিংহলরাজ তৎকালীন উমাইয়া খলিফার প্রতি আনুগত্যের নিদর্শনস্বরূপ আটখানি জাহাজ ভরতি উপঢৌকন সিন্ধুর দেবল বন্দরে জলদস্যু কর্তৃক লুণ্ঠিত হলে, তাঁর ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে অস্বীকার করেন, (৫) তিনি প্রাচীন সিল্করুটে অবাধ বাণিজ্যে উমাইয়া খলিফাঁদের বাধা দিয়েছিলেন।

    সিন্ধুরাজ দাহির ও জলদস্যুদের শায়েস্তা করতে এর আগেও (৭১১) হাজ্জাজ বিন ইউসুফ উবায়দুল্লাহ এবং বুদায়েলের নেতৃত্বে দুটি পৃথক সামরিক অভিযান করেছিলেন। সেই যুদ্ধে রাজা দাহিরের পুত্র জয়সিয়া উবায়দুল্লাহ এবং বুদায়েলকে পরাস্ত ও হত্যা করে। আরব ইতিহাসে ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ বীরত্ব, সাহসিকতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং অবশ্যই জুলুম-অত্যাচারের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। হাজ্জাজ খলিফা প্রথম ওয়ালিদের অনুমতিসাপেক্ষে ওই একই বছরে আরেকটি বাহিনী প্রস্তুত করেন। খলিফাঁদের অনুমোদন ব্যতীত কোনো যুদ্ধই সেসময় সংঘটিত করা যেত না। যাই হোক, সেই বাহিনীর পুরোধায় ছিলেন সেনানায়ক মোহম্মদ বিন কাসিম। বিন কাসিমের বয়স তখন মাত্র সতেরো। সঙ্গে পেলেন ৬০০০ সিরীয় ও ইরাকি সৈন্য, ৬০০০ উষ্ট্রারোহী, জাঠ ও মেধ সম্প্রদায়ের প্রচুর প্রতিবাদী মানুষ। প্রতিপত্তিশালী বৰ্ণহিন্দু, প্রতিপত্তিশালী বৌদ্ধ এবং নিম্নবর্ণ থেকে রূপান্তরিত বৌদ্ধ। ঠিক ওই সময় আলোরে শাসন করত একজন বৌদ্ধ জাঠ। দাহিরের পক্ষে সবদিক রক্ষা করা সম্ভব ছিল না। সিন্ধুর অনেক মানুষই স্বাগত জানাল বিন কাশিমকে। জাঠ-মেধ-ভুট্টো এইসব স্থানীয় উপজাতিরা স্বাগত জানাল মোহম্মদ বিন কাশিমকে। স্থানীয় মানুষদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিন কাসিমের সিন্ধুজয় সহজ থেকে সহজতর হয়ে গেল। প্রথমেই বিন কাশিম দাহিরের রাজ্যের পূর্বপ্রান্ত দখল করে নিলেন। এরপর সিন্ধুনদ পার হয়ে ভিতরে ঢুকেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন দাহিরের পুত্র জয়সিয়ার উপর।

    ৭১২ সাল, ২০ জুন। সম্মুখসমরে মোহম্মদ বিন কাশিম আর দাহির সেন। সে যুগে শুধুমাত্র সেনা লেলিয়ে যুদ্ধ করা সম্ভব হত না বর্তমান যুগের মতো। ঠান্ডাঘরে বসে কলকাঠিও নাড়া যেত না। রীতিমতো সশরীরে যুদ্ধাঙ্গনে এসে রাজাকে যুদ্ধ করতে হত। যুদ্ধে পারদর্শী হতে হত। হয় মরো, নয় জয় করো। না-হলে বশ্যতা স্বীকার করে ক্রীতদাসে পরিণত হও। সেই সঙ্গে হারাতে হবে রানি ও রাজ্য। বিন কাসিমের বিরুদ্ধে সিন্ধুরাজ দাহিরের ৫০,০০০ সৈন্য প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে দাহির হাতির পিঠে চড়েই যুদ্ধ করছিলেন। এসময় তিনি হাতির পিঠ থেকে মাটিতে পড়ে যান। এসময় দ্বন্দ্বযুদ্ধে আরববাহিনী তরবারির আঘাতে দাহিরের মৃত্যু হয়। দাহির সেন ছিলেন একাধারে প্রথম হিন্দুরাজা এবং আরব মুসলিমদের হাতে যুদ্ধে প্রথম নিহত রাজা। আবার তিনিই হলেন শেষ হিন্দুরাজা– যিনি সিন্ধুপ্রদেশে শেষ রাজত্ব করেছেন।

    যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয় যখন অনিবার্য দাহিরের স্ত্রী তখন ১৫,০০০ সৈন্য নিয়ে রাওয়ার দুর্গে অবস্থান করছিলেন এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। যদিও রানির সেই প্রতিরোধ ব্যর্থ হয়। পাছে যুদ্ধবন্দি হতে হয়, সেই আতঙ্কে রানি সকল নারীদের স্বেচ্ছা মৃত্যুবরণের প্ররোচনা দিতে থাকেন। রানি ঘোষণা করেন –“আমাদের প্রাণদণ্ড অনিবার্য। চলো কাঠ এবং তেল সংগ্রহ করি। আমি মনে করি আমাদের আত্মাহুতি দিয়ে আমাদের স্বামীদের সঙ্গে থাকা উচিত।” এই আত্মাহুতিকে অনেকে ‘জহরব্রত’ বলে চালাতে চান। প্রকৃত অর্থে জহরব্রত চালু হয়েছিল রাজস্থানে মুসলমান হানাকারীদের হাত থেকে নারীর সম্মান বাঁচাবার জন্য। যদি তর্কের খাতিরে ধরেই নিই দাহিরের স্ত্রী রানিবাঈ আত্মাহুতি নামক জহরব্রত করেছিলেন, তাহলে একথা মানতেই হয়, হিন্দুসমাজে সহমরণ বা সতীদাহ প্রথার সূচনা ইনারই মস্তিষ্কপ্রসূত।

    বিন কাসিমের বিরুদ্ধে যে ভয়ংকর কোপাকুপির (পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে) গল্প ফাঁদা হয়েছে, তার অধিকাংশই বানোয়াট। যেটুকু কোপাকুপি তিনি করেছেন, তা কেবল যুদ্ধ করতে গিয়েই হয়েছে। তাহলে সেই একই অপরাধের অপরাধী সিন্ধুরাজ দাহিরও। যুদ্ধ হবে, অথচ কোপাকুপি হবে না– সেটা তো কখনোই সম্ভব নয়। শত্রুপক্ষকে হত্যা করতে হবে, এটাই তো যুদ্ধের রীতি। যুদ্ধবন্দি করাটাও যুদ্ধনীতির মধ্যে পড়ে। যুদ্ধে প্রাপ্ত ধন-সম্পদও বিজয়ীর, সেটাও দস্তুর।

    আলোয়ার (সিন্ধুর রাজধানী) ও রাওয়ার দখল সম্পন্ন করে বিন কাসিম রওনা দিলেন ব্রাহ্মণবাদের (বাহমনাবাদ) দিকে। ব্রাহ্মণবাদের শাসক ছিলেন দাহিরের পুত্র জয়সিয়া। বিন কাসিমের সঙ্গে যুদ্ধে জয়সিয়া পরাস্ত হন। দাহিরের আর-এক স্ত্রী ছিলেন লাদি। লাদি ও তাঁর দুই কন্যা সুরজদেবী ও পরিমলদেবী যুদ্ধবন্দি হলেন। শহরবাসী আত্মসমর্পণ ও জিজিয়া কর প্রদানে সম্মত হলে তাঁদের জীবন ও সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বিন কাসিম মুলতান অভিযানে চললেন। মুলতানের হিন্দুরা দুই মাস ধরে উচ নামক দুর্গ প্রতিরোধ করে রাখলেও সামরিক দুর্বলতার কারণে পরাজয় নিশ্চিত হয়। মুলতান বিন কাসিমের দখলে চলে আসে। সৌরাষ্ট্রের রাষ্ট্রকুট শাসক আত্মসমর্পণ করেন। বিন কাসিম এরকম বহু হিন্দু রাজাকে আত্মসমর্পণ করার জন্য পত্ৰপ্রেরণ করেন যুদ্ধ এবং রক্তারক্তি এড়ানোর জন্য। সৌরাষ্ট্রের রাষ্ট্রকুট শাসকের আত্মসমর্পণ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ। যা বিন কাসিম দখল করল, তা সবই আরবের দখলে এলো। মোদ্দা কথা, দেবল থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত বিন কাসিমের দখলে চলে আসে। এটা সম্ভব হয়েছিলে সিন্ধুর সামরিক অভিযানে কেউ সাহায্য নিয়ে দাহিরের কাছে এগিয়ে আসেনি বলে। সিন্ধু ছিল মূল ভারত ভূখণ্ড থেকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন। তাঁর রাজ্য তিনি রক্ষা করতে অক্ষম ছিলেন, সবদিক দিয়েই। দাহিরের যুদ্ধনীতিও ছিল অত্যন্ত দুর্বল। দাহিরের কুশাসনে তাঁর রাজ্যে প্রচুর বিদ্রোহী সৃষ্টি করে ফেলেছিলেন। দাহিরের উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা শত্রুপক্ষে যোগদান করেন, যা রাজার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতারই সামিল। সিন্ধু যখন মুসলিমদের হস্তগত হচ্ছেই, তখন যুদ্ধ করে লাভ কী –এমন মনোভাবও তৈরি হয়ে গিয়েছিল। মরার আগেই সব ভূত গিয়েছিল। এই কারণে বিন কাসিমকে কোনোরূপ বেগ পেতে হয়নি সিন্ধুবিজয়ে।

    মধ্যযুগে সাম্রাজ্যবিস্তারের যে ব্যবস্থা ছিল, সেই ব্যবস্থায় বিন কাসিমও সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল। সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের জন্য অন্য রাজারা যা করতেন, বিন কাসিমও সেটাই করেছে। বিন কাসিম নতুন কিছু উদ্ভাবন করেননি। তাছাড়া স্থানীয় মানুষদের সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া কারোর পক্ষে অন্য অঞ্চলে ঢুকে শাসন করতে পারে না। ইরাকে ঢুকে আমেরিকার সেনারা ইরাক ধ্বংস করতে পারত না, যদি-না ইরাকের বিরোধী শক্তি সাহায্য করত। সাধারণ মানুষরা ছাড়াও প্রভাবশালী মানুষরাও থাকে। এছাড়া থাকে সামরিক দুর্বলতা, কুশাসন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র অনৈক্য ইত্যাদি। বিন কাসিম যেসময় সিন্ধু অঞ্চল জয় করেন সেসময় দাহিরের কট্টর ব্রাহ্মণ্যবাদীর নীতির কারণে বৌদ্ধ, জৈন সহ অন্ত্যজ শ্রেণির হিন্দুরা ক্ষুব্ধ ছিল। বিন কাসিমের প্রতিটি বিজয়ের ক্ষেত্রে মুসলমানদের সর্বতোভাবে সাহায্য করেছিল। সিওস্তানের শাসক বিজয় রায়কে বৌদ্ধরাই পরামর্শ দিয়েছিল, তিনি যেন বিন কাসিমের সঙ্গে সন্ধি করে নেন। বিজয় রায় অবশ্যই সেই পরামর্শ কানে তোলেননি। সেটাই স্বাভাবিক। একজন রাজা তাঁর শেষ শক্তি থাকা পর্যন্ত সন্ধি বা বশ্যতা স্বীকার করবে কেন? আত্মবিশ্বাস, সাহস, শক্তি সমন্বয়েই তো রাজা। রাজা বিজয় রায় যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন এবং পরাজিত হলেন। বিন কাসিমের সামরিক শক্তির কাছে বিজয় রায়ের শক্তি তো নস্যি। তার উপর বিজয় রায়ের প্রজারা কেউ তাঁর পাশে থাকেননি।

    সে যুগে রাজার নিজস্ব সেনাবাহিনী ছাড়াও অসংখ্য সাধারণ মানুষ যে যাঁর মতো করে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারত এবং করত। যুদ্ধ থেকে যে সম্পদ সংগ্রহ করা যেত, তার ভাগ পেত সেই এরকম অস্থায়ী সেনারা। মূলত সেই সম্পদের আশাতেই যুদ্ধে প্রশিক্ষিত নয় এমন সাধারণ মানুষরা যুদ্ধ করতে যেত। এক্ষেত্রে বিজয় রায়ের প্রজারা উলটে বিন কাসিমের আনুগত্য প্রদর্শন করে নেয়। রাজা বিজয় রায়কে কোনোরকম সাহায্য করেনি। একই সঙ্গে নিরুনের শাসকও বিন কাসিমের পক্ষ নিয়েছিল। সুশাসক হিসাবে বিন কাসিম অচিরেই সাধারণ মানুষদের মধ্যে আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। সিন্ধুর আবালবৃদ্ধবনিতা তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। রাজা দাহিরের শিয়াকর নামে মন্ত্রী বিন কাসিমের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলে তিনি ক্ষমা করে দেন। শুধু ক্ষমাই করেননি, আমিরদের দ্বারা অভ্যর্থনা জানিয়ে তাঁকে মহামন্ত্রী পদে নিযুক্ত করেন। দাহিরের কাকা চান্দারের পুত্র কাকাসও আত্মসমর্পণ করলে বিন কাসিমের বিশ্বস্ত অনুচর হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কাকাস এতটাই ন্যায়পরায়ণ এং পণ্ডিত দার্শনিক ছিলেন যে, বিন কাসিম পরে তাঁকে কোষাধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত করেন। কাকাস সমস্ত বিষয়ে বিন কাসিমকে সৎ পরামর্শ দিতেন। এর ফলে বিন কাসিম কাকাসকে ‘সৌভাগ্যশালী মন্ত্রণাদাতা’ উপাধি দিয়েছিলেন। ব্রাহ্মণরা থেকে শুরু করে দাহিরের আত্মীয়স্বজনদের উচ্চপদে নিয়োগ করেছিলেন শাসক বিন কাসেম। বিন কাসেম ব্রাহ্মণদের এই বলে আশ্বাস দেন যে, এইসব উচ্চপদ তাঁদের বংশধরদের মধ্যেও জারি থাকবে। এই আশ্বাসে ব্রাহ্মণগণ সাগ্রহে বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে বিন কাসেমের হয়ে প্রচার শুরু করে দিলেন এই বলে যে, আরব শাসকদের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করলে তাঁরা তাঁদের যোগ্য হয়ে উঠবেন। এর ফলে তাঁরা নানা সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হবেন। এমনকি এই আনুগত্যের কারণে রাজস্ব আদায়ের অধিকারও পেয়েছিলেন ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়। বিন কাসিমও আনুগত্যের পুরস্কারও দিয়েছেন যথাযথ। তিনি রাজা দাহিরের প্রধানমন্ত্রীকেই নিজের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই বহাল রাখেন। এর সঙ্গে এটাও উল্লেখ করা প্রয়োজন, বিন কাসিম দাহির পরিচালিত সিন্ধুশাসনের বহু আইন অপরিবর্তিত রাখেন। কোনো আচার ব্যবহারে কোনো অযাচিত হস্তক্ষেপ করেননি। বিন কাসিমের শাসনব্যবস্থায় সিন্ধু এক শক্তিশালী উদার রাজস্বব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল। রাজা দাহিরের শাসনকালে যে নির্যাতনমূলক রাজস্বব্যবস্থা ছিল, তা বিলুপ্ত করেন। ইসলামি অনুশাসন অনুযায়ী অমুসলমানদের যে জিজিয়া করের ব্যবস্থা ছিল, তা এইরকম –বিত্তবানদের ক্ষেত্রে ৪৮ দিরহাম, মধ্যবিত্তদের ক্ষেত্রে ২৪ দিরহাম, নিম্নবিত্তদের ক্ষেত্রে ১২ দিরহাম। তবে নারী, চোদ্দো বছরের নীচে শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, সাধু-সন্ন্যাসী, ব্রাহ্মণ, শারীরিক প্রতিবন্ধী, ভিখারি, তীর্থযাত্রী, ক্রীতদাস, দিনমজুর, উন্মাদ, সরকারি কর্মচারী, কৃষক প্রমুখদের এই কর প্রদানের বাইরে রাখা হয়েছিল। ভি ডি মহাজন (মহাজন বিদ্যাধর) History of Medieval India Sultanate Period and Mughal Period’ গ্রন্থে লিখেছেন– “বিধর্মীদের সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনে নিযুক্ত করা হয়েছিল।”

    এরপর বিন কাসিম অনায়াসেই কনৌজ দখল করে ফেলতে পারতেন। হর্ষবর্ধনের মৃত্যুর পর কনৌজ সেসময় বলতে গেলে অভিভাবকহীন। ৬৪৭ সালে প্রায় টানা ৪১ বছর রাজ্য শাসন করার পর হর্ষবর্ধন যখন মারা যান, তখন তিনি প্রায় নির্বংশ। শুধু তাই নয়, অমন সুন্দর এবং সুগঠিত রাজ্য তাঁর মৃত্যুর পর খান খান হয়ে ভেঙে যায়। অরাজকতায় ছেয়ে যায় গোটা সাম্রাজ্য! চতুর্দিকে হানাহানি। হর্ষবর্ধনের সাম্রাজ্যবিস্তার শাসনব্যবস্থা নিয়ে অন্য অধ্যায়ে আলোচনা করব। যাই হোক, কনৌজে যখন এমন অভিভাবকহীন পরিস্থিতি, তখন বিন কাসিম ১০,০০০ সৈন্যের একটি বাহিনী তৈরি করলেন। সেনাপতি আবু হাকিমকে আদেশ দিলেন কনৌজ দখল নিতে। কিন্তু বাধ সাধলেন খলিফা। খলিফার নিষেধাজ্ঞায় বিন কাসিমের (আরববাহিনীর) বিজয়পর্ব থেমে যায়।

    বিন কাসিমের এর পরের ইতিহাস কী? বিজয়পর্ব স্থগিতের পরপরই বিন কাসিমের মৃত্যু হয়, মানে হত্যা করা হয়। কে, কীভাবে বিন কাসিমকে হত্যা করেন, তা নিয়ে ভিন্ন মত আছে– (১) ভি ডি মহাজনের ‘History of Medieval India Sultanate Period and Mughal Period’ গ্রন্থে যে কাহিনি লিখেছেন, সেটা (মনে হয়) ‘চাচনামা’ গ্রন্থ থেকে সূত্র নিয়ে লিখেছেন– রাজা দাহিরের পরাজয়ের পর সুরজ ও পরিমল নামে দুই কন্যাকে বিন কাসিম যুদ্ধবন্দি করে খলিফার কাছে প্রেরণ করেছিলেন। এই দুই কন্যা খলিফার সাক্ষাতে মোহম্মদ বিরুদ্ধে তাঁদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনে। এহেন অভিযোগ শুনে খলিফা হুকুম করেন, বিন কাসিমকে যেন এক্ষুনি লবণ মাখানো গোরুর চামড়া দিয়ে তৈরি বস্তায় ভরে পাঠানো হয়। সেই সংবাদ শুনে বিন কাসিম তৎক্ষণাৎ লবণ মাখানো গোরুর চামড়ায় নিজেকে মুড়িয়ে অন্য একজনকে দিয়ে সেলাই করিয়ে নেন এবং এ অবস্থায় তিনদিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। বিন কাসিমের মৃতদেহ দেখে ওই দুই নারী স্বীকার করে ফেলেন, তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা সর্বৈব মিথ্যা। তাঁদের বাবা-মাকে হত্যা করার বদলা নিতেই এই ফন্দি। খলিফা এই অকপট স্বীকারোক্তি শুনে দাহিরের দুই কন্যাকে মৃত্যু পর্যন্ত ঘোড়ার ল্যাজের সঙ্গে বেঁধে রাখেন এবং পরে তাঁদের জীবন্ত কবর দেন।

    প্রচুর অসংগতিতে ভরা এই গল্প। লজিক নেই। উদ্দেশ্য আছে। তথ্যগত ভুলও ধরা পড়ে। যেমন— প্রথমত এই গল্পে বলা হয়েছে, এ ঘটনা খলিফা আবদুল মালিকের সময়। কিন্তু সিন্ধুবিজয়ের সময় খলিফা ছিলেন আল-ওয়ালি। দ্বিতীয়ত খলিফা যুদ্ধবন্দির অভিযোগ শোনামাত্রই বিচারপৰ্ব না-সেরেই অভিযুক্তকে শাস্তি প্রদান করবেন, এটা কখনো হতে পারে না। তৃতীয়ত শাস্তির রায় শুনে অভিযুক্ত আত্মপক্ষসমর্থনে কিছু বলার সুযোগ চাইবেন না, এটাও অবিশ্বাস্য। ডব্লিউ হেগ সম্পাদিত ‘The Cambridge History of India’ (তৃতীয় খণ্ড) গ্রন্থে এ ঘটনায় ঐতিহাসিক সত্যতা নেই বলে লিখেছেন। যে ঘটনা সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়, তা হল –খলিফা সোলায়মান ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের বিরোধী ছিলেন। সেই সূত্রে হাজ্জাজের জামাতা বিন কাসিমেরও বিরোধী। সোলায়মান খলিফা হওয়ার আগেই হাজ্জাজের মৃত্যু হয়। এরপর হাজ্জাজের পরিবার বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বিন কাসিমের বিজয়পর্ব থামিয়ে দিয়ে খলিফা দামাস্কাসে ডেকে পাঠান এবং কারারুদ্ধ করে দেন। এরপর খলিফা সোলায়মানের হুকুম কার্যকর করে বিন কাসিমকে হত্যা করেন সালিহ নামে এক ব্যক্তি। সালিহ ছিলেন হাজ্জাজ কর্তৃক নিহত আহমদের সহোদর ভাই। ঐতিহাসিক আল্লামা আহমদ ইবন ইয়াহইয়া বালাজুরির ‘ফুতুহুল বুলদান’, ঐতিহাসিক মির মাসুমের ‘তারিখ-ই-মাসুমি’ এবং ঐতিহাসিক ঈশ্বরীপ্রসাদ ‘A Sort History of Muslim rule in India’ গ্রন্থে এ বিষয়ে বর্ণিত আছে। এ পরিপ্রক্ষিতে বলা যায়, মোহম্মদ বিন কাসিমের অকালমৃত্যু ডেকে এনেছিল ইরাকের এক নোংরা এবং কোন্দল-সংকুল রাজনীতি।

    সেনাপতি মোহাম্মদ বিন কাসেম যতদিন সিন্ধুতে অবস্থান করেছিলেন, ততদিনে ইসলামি শাসনব্যবস্থা সুসংহত করেন এবং আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন। এটাই ছিল ভারতবর্ষে প্রথম ইসলামের রাষ্ট্রীয় প্রবেশ। মাত্র ১৭ বছর বয়স্ক সেনাপতি বিন কাসেম তাঁর স্বল্পকালীন শাসনামলে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত শ্রেণির মানুষের মধ্যে এক বিস্ময়কর জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন এবং সকলের মুখেই ছিল তাঁর নাম ফিরত। সেখান থেকে আকস্মিক বিদায়কালে সদ্য ধর্মান্তরিত মুসলমান, হিন্দু ও বৌদ্ধরা কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং বৌদ্ধরা তো বটেই হিন্দুরাও পর্যন্ত তাঁকে ‘দেবতা’ বলে মেনেছিল। একদিন বিন কাসেম শহরের চকে একটি প্রতিকৃতি দেখে বলেন— এটা অবিকল আমার আকৃতি, আমি বুঝতে পারছি না, এ কাজ কে এবং কেন করেছে। বলা হল, এটি হল সিন্ধিদের নতুন দেবতা। তাঁরা অবিকল এরকম আরও একটি প্রতিকৃতি শহরের সবচেয়ে বড়ড়া মন্দিরে স্থাপন করেছেন এবং তাঁর পুজো করছে। বিন কাসেম বলেন— ইসলাম প্রতিমা পুজোর অনুমতি দেয় না। এটি গুনাহ। গুনাহে কবিরা মহাপাপ। এরূপ হতে পারে না। আমরা খোদার নগণ্য বান্দা। তোমরা দ্রুত যাও এবং সেখানে গিয়ে সে দুটি প্রতিকৃতি ধ্বংস করে এসো। অতএব বিন কাসিম নিজের মূর্তি নিজেই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন এবং সেই নির্দেশ পালিত হয়।

    অষ্টম শতাব্দীতে ইসলাম-পূর্ববর্তী আরবের মতো ভারতেও কোনো কেন্দ্রীয় শাসন ছিল না। ছিল না এক জাতীয়তাবাদ। টুকরো টুকরো অঞ্চল নিয়ে ছোটোবড়ো অসংখ্য দেশীয় তথা স্থানীয় রাজা এবং তাঁদের অসংখ্য রাজত্ব। তাঁদের মধ্যে না ছিল কোনো ঐক্য, না ছিল মিত্রতা। মিত্রতা তখনই হত যখন পার্শ্ববর্তী রাজা অত্যন্ত দোর্দণ্ডপ্রতাপ এবং অপরাজেয় হত। আরবের মতো ভারতের রাজারাও একে অপরের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মেতে থাকত। সাম্রাজ্য বাড়ানো এবং নিজের শক্তি প্রদর্শনের অভিলাষে যুদ্ধ সংঘটনের জন্য মুখিয়ে থাকত। রাজায় রাজায় নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়িই মুসলমান শাসকদের কাছে তুরুপের তাস হয়ে গেল। এক রাজা আক্রান্ত হলে অন্য রাজাকে পাশে পাওয়া যেত না। সবাই সবার শত্রুপক্ষ। যুদ্ধ লেগেই থাকত। সে সময় ভারতে তিনটি প্রধান ধর্ম প্রচলিত ছিল– বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম ও ব্রাহ্মণ্যধর্ম। মূলত গুপ্তশাসন থেকে বৌদ্ধধর্মের পতন এবং ব্রাহ্মণ্যধর্মের পুনর্জাগরণ শুরু হয়েছিল। ব্রাহ্মণ্যধর্মই রাজধর্মে পরিণত হয়। ব্রাহ্মণ্যধর্মের শাসনকার্যে ব্রাহ্মণদের অধিকার ছিল একচেটিয়া, নিরঙ্কুশ। ঐতিহাসিক দীনেশচন্দ্র সেন লিখেছেন– “পণ্ডিত ব্রাহ্মণগণ ক্ষমতায় মদমত্ত হয়ে অত্যাচারী ভূমিকা গ্রহণ করেছিল।” বৃহৎ শূদ্রগোষ্ঠী ছিল নির্যাতিত, নিষ্পেষিত। ব্রাহ্মণ্যধর্মের শ্রেণিগত বিবাদ-বিসংবাদ তৎসহ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলে মুসলমানরা অতি সহজেই ভারতীয় উপহাদেশে তাঁদের আধিপত্য বিস্তার সক্ষম হয়। ইসলামিরা যেমন ধর্মের শাসনে সমগ্র আরববাসী এবং আরবশাসকদের এক ছাতার তলায় আনতে সক্ষম হয়েছিল, নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতার কারণে তেমনটা ভারতে সম্ভব হয়নি। সারা ভারত শাসন করার মতো কোনো সর্বজনগ্রাহ্য এবং একক রাজার জন্ম হয়নি। ভারতের সকল রাজাকেও এক ছাতায় তলায় আনা যায়নি। তার জন্য ভারতের বাসিন্দাদেরও অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। আজও কিন্তু ভারতে একক শাসকের শাসন সম্ভব হয়নি। একটা কেন্দ্রীয় শাসক থাকলেও যতগুলো প্রদেশ আছে ততগুলো প্রধান শাসক আছে। পৃথক নির্বাচনের (বিধানসভা) মাধ্যমে শাসক নির্বাচিত হয়। আছে পৃথক আইন, পৃথক পতাকাও ব্যবহার করতে পারে।

    প্রায় আটশো বছরে অসংখ্য মুসলিম শাসক ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন ভূখণ্ড শাসন করেছেন। কিন্তু ইতিহাস সকলের কথা মনে রাখেনি। ব্রিটিশ-প্রোষিত কিছু ঐতিহাসিকরা গুটিকয়েক দোর্দণ্ডপ্রতাপ এবং প্রভাবশালী মুসলিমদের ইতিহাসই লিখে গেছেন। আসলে ইতিহাসের নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার করেছেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। সেই ইতিহাসের ধারায় ভারতীয় ইতিহাস লেখকরা কপি/পেস্ট করে যাচ্ছেন যুগ যুগ ধরে। স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইতে সেইসব ইতিহাসই পড়ানো হয়। কোনো গবেষণা নেই। কেবলই চর্বিতচর্বন। বহু ইতিহাস চেপে দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিকভাবে। রোমিলা থাপার, সুরজিত দাশগুপ্ত, আমিনুল ইসলাম, ঈশ্বরীপ্রসাদ, গোলাম আহমেদ মোর্তাজাদের মতো ঐতিহাসিকরা ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন করলেও তা পাঠ্যতে অন্তর্ভুক্ত হয় না। আমি এই গ্রন্থে সেইসব মুসলিম শাসকদের পুনর্মূল্যায়ন করতে চাই যাঁদেরকে ব্রিটিশ-প্রোষিত ঐতিহাসিকরা কুখ্যাত করে তুলেছেন। তাঁরা কি সত্যিই বর্বর শাসক ছিলেন? প্রাচীন ও মধ্যযুগ মানে সামন্ততান্ত্রিক যুগ। সামন্ততান্ত্রিক যুগ মানে যুদ্ধবিগ্রহের যুগ। যুদ্ধবিগ্রহ মানে সাম্রাজ্যের প্রসার এবং সেই কারণেই হত্যালীলা। বিজয়ীর হত্যালীলা সবচেয়ে বেশি হবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। কোন্ রাজা বা শাসক হত্যালীলা করেননি? সেই প্রশ্নের উত্তর দিতেই ‘কুখ্যাত’ শাসক মোহম্মদ বিন কাসিমের পর ‘কুখ্যাত’ সুলতান মামুদের প্রসঙ্গে আসব।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহায়রোগ্লিফের দেশে – অনির্বাণ ঘোষ
    Next Article গণিকা-দর্শন – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }