Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রঙ্কিণীর রাজ্যপাট এবং অন্যান্য – নবনীতা দেবসেন

    August 30, 2025

    আনা ফ্রাঙ্ক-এর ডায়েরি

    August 30, 2025

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    August 30, 2025
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • 🔖
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    Subscribe
    সাইন ইন
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভূত প্রেত রক্তচোষা – অনীশ দাস অপু

    লেখক এক পাতা গল্প210 Mins Read0

    উন্মাদ

    মরচে ধরা লোহার গেটটা ধাক্কা দিল রোজালিন। কা-আ-আচ শব্দে খুলে গেল ওটা। সদর দরজার দিকে পা বাড়াল রোজালিন। দরজার মাথায় লাইলাকের ঘন ঝাড় ঝুলছে; গন্ধটা মিষ্টি তবে কেমন যেন দম বন্ধ করে দেয়।

    পেতলের ভারী কড়া ধরে নাড়ল রোজালিন। কয়েক সেকেণ্ড পরে খুলে গেল দরজা।

    রোজালিন, সত্যি তুই? কত্ত বড়ো হয়ে গেছিস! চেনাই যাচ্ছে না! ওকে জড়িয়ে ধরলেন হ্যারিয়েট ফুপু। তাঁর গা থেকেও লাইলাকের গন্ধ আসছে।

    কেমন আছ, ফুপু? জিজ্ঞেস করল রোজালিন।

    ভাল। আয়, ভেতরে আয়, মা। গরমে একদম ঘেমে গেছিস। ঘরে ঠাণ্ডা আছে।

    রোজালিন ফুপুর পিছু পিছু একটি বড়ো, অন্ধকার হলওয়েতে ঢুকল। মাটির নিচের গুহার মতোই শীতল হলঘর।

    কতদিন পরে দেখলাম তোকে! পনেরো বছর তো হবেই। ট্রেনে কোনো কষ্ট হয়নি তো? জবাবের অপেক্ষা না করে বকবক করেই যেতে লাগলেন ফুপু। তোর বাবাকে কতবার লিখেছি তোকে আমার কাছে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য। তোর বাবা তোর ফুপাকে পছন্দ করে না জানি। কিন্তু তোর ফুপাও তো মারা গেছে চার বছর হলো… বিরতি দিলেন হ্যারিয়েট ফুপু। দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। আর্থার আত্মহত্যা করেছে চার বছর হলো। রোজালিন নিজের পায়ের পাতার দিকে তাকিয়ে থাকল। কী বলবে বুঝতে পারছে না। বাবা ওকে বলেছেন হ্যারিয়েট ফুপু একটু অদ্ভুত প্রকৃতির মানুষ। ঠিকই বলেছেন।

    তোমাদের বাড়িটি খুব বড়ো, ফুপু, বলল রোজালিন।

    মুখ হাত ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নে। তারপর বাড়িটি তোকে ঘুরিয়ে দেখাব। চল, তোর শোবার ঘরটা দেখিয়ে দিই।

    শোবার ঘরটা দেখিয়ে দিই, তীক্ষ্ণ গলায় চেঁচিয়ে উঠল কেউ।

    কে কথা বলে? অস্বস্তি নিয়ে জানতে চাইল রোজালিন। খনখনে গলায় হেসে উঠলেন ফুপু। গায়ে কাঁটা দিল রোজালিনের। ফুপু হলওয়ের শেষ প্রান্তে হেঁটে গেলেন। সবুজ ভেলভেটের কাপড় সরাতেই একটা খাঁচা দেখতে পেল রোজালিন। খাঁচার ভেতরে একটি কাকাতুয়া।

    ওর নাম পলি, তাই না, পলি? পাখির মতো কিচকিচ শব্দ করলেন হ্যারিয়েট ফুপু।

    পাখির খাঁচার ধারে গেল না রোজালিন। সে কাকাতুয়া একদম পছন্দ করে না। ফুপু, আমি বরং আমার ঘরে যাই।

    হ্যাঁ, চল, চল… আমি এক্ষুনি ফিরছি, পলি, বললেন ফুপু।

    রোজালিনকে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে এলেন মিসেস হ্যারিয়েট। হলঘরের শেষ মাথার ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালেন।

    এটা তোর ঘর, রোজালিন। আশা করি পছন্দ হবে। বিয়ের সময় এটা বসার ঘর হিসেবে ব্যবহার করতাম।

    ভেতরে উঁকি দিল রোজালিন। গোটা ঘরে লাইলাকের ছড়াছড়ি। বিছানার চাদরে উজ্জ্বল রঙের লাইলাকের ছাপা; ওয়াল পেপারে সাদা লাইলাক। এমনকি আসবাবগুলোর গায়েও তাই।

    তুই একটু বিশ্রাম নে, রোজালিন। তারপর নিচে আসিস, একসঙ্গে চা খাব।

    মুখ হাত ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নিল রোজালিন। বিশ মিনিট পরে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এল নিচে। ফুপুর সঙ্গে চা খাবে। মূল হলওয়েতে সূর্যালোকিত একটি ঘরে ভাতিঝির জন্য অপেক্ষা করছিলেন হ্যারিয়েট ফুপু। সোফার পাশের ছোটো টেবিলে চা এবং কেক সাজিয়ে রাখা।

    কেকগুলো ঘরে বানানো, রোজালিন, বললেন ফুপু। তুই এসেছিস খুব খুশি হয়েছি। মাঝে মাঝে এমন একা লাগে! পলি আর আমি একা বসে বেশিরভাগ সময় খাই। তাই না, পলি?

    একা খাই, কর্কশ গলায় বলে উঠল পলি। রোজালিন লক্ষ করল খাঁচাটি জানালার ধারে বসানো হয়েছে।

    রোজালিন কেক খেল। স্বাদ ভালোই। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ঘরে চোখ বুলাতে লাগল। আসবাবগুলো মান্ধাতা আমলের। ল্যাম্পগুলো শেড থেকে ঝুলে আছে, তাতে ক্রিস্টালের পুঁতি। চেয়ার কভারগুলো মখমলের। দেখেই বোঝা যায় অনেক পুরোনো, ভাজ খেয়ে রয়েছে নানা জায়গায়। ছোটো ছোটো অসংখ্য স্ট্যাচু এবং ছবি সারা ঘর জুড়ে। একটা ছবিতে নজর আটকে গেল রোজালিনের। ও কি আমার ফুপাতো ভাই হারম্যান?

    হাহাকারের মতো একটা শব্দ বেরুল ফুপুর গলা দিয়ে।

    সরি, ফুপু। আমি বুঝতে পারিনি তুমি কষ্ট পাবে, বলল রোজালিন। বিব্রত বোধ করছে। সে শুনেছে হারম্যান খুব অল্প বয়সে মারা গেছে। ছেলের মৃত্যুর মাসখানেক বাদেই আত্মহত্যা করেন আর্থার ফুপা। ফুপুর সঙ্গে রোজালিন কিংবা তার বাবার যোগাযোগ শুধু টেলিফোন এবং চিঠির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। রোজালিনের বাবার কোনো ভাই নেই, বোন এই একজনই–হ্যারিয়েট।

    সে সান্ত্বনার সুরে বলল, তুমি তো জানোই ফুপু, হারম্যান ভাইয়ার জন্য কীরকম টান ছিল আমার। যদিও কোনোদিন দেখিনি ওকে… কিন্তু আমাদের জন্ম তো একই বছরে। ও মারা গেছে শুনে খুব কেঁদেছিলাম আমি।

    ফুপু সামলে নিয়েছেন নিজেকে। হারে, ওটা তোর হারম্যান ভাইয়ারই ছবি। যাক, বাদ দে। যা গেছে গেছে। ও নিয়ে আর মন খারাপ করতে হবে না। চল, তোকে বাড়ি ঘুরিয়ে দেখাই।

    রোজালিন তার ফুপুর পেছন পেছন বেরিয়ে এল ঘর থেকে। আবার সেই অন্ধকার হলওয়েতে ঢুকল।

    তোকে আগে তোর আর্থার ফুপার পড়ার ঘর এবং ল্যাবরেটরি দেখাব। তুই তো জানিস, আর্থার খুব বড়ো মাপের বিজ্ঞানী ছিলেন। সবসময় সময়ের আগে এগিয়ে থাকতেন। ইউনিভার্সিটির লোকজন তাকে ঈর্ষা করত। এ জন্য ভার্সিটির চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে বসে গবেষণা শুরু করেছিলেন তিনি।

    একটি প্রকাণ্ড ঘরে ঢুকল ওরা। এ ঘরে শুধু বই আর বই। রোজালিন অবাক চোখে চারদিক দেখছে। এখানে বসে আর্থার ফুপা কাজ করতেন। শুনেছে তিনি বিজ্ঞানী ছিলেন। তবে বাবা কখনোই ফুপার বিষয়ে কোনো কথা বলত না। রোজালিন শুনেছে কী একটা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিতে ইস্তফা দিতে হয়েছিল ফুপাকে।

    আর এদিকে, একটা দরজা দেখালেন ফুপু। তোর ফুপার গবেষণাগার।

    পরের ঘরটা কেমন গা ছমছমে। ঘরভর্তি নানান কাঁচের জার, টেস্টটিউবসহ বৈজ্ঞানিক আরও জিনিসপত্র। জারগুলোর গায়ে বিভিন্ন লেবেল সাঁটানো। ভেতরে কেমিকেল।

    আর্থার ফুপা কী নিয়ে গবেষণা করতেন? জিজ্ঞেস করল রোজালিন।

    উনি জীববিজ্ঞানী ছিলেন, বিরাট বায়োলজিস্ট, সশ্রদ্ধ কণ্ঠে বললেন হ্যারিয়েট ফুপু। হিউম্যান মিউটেশন মানে মানব দেহের পরিবর্তন নিয়ে কাজ করতেন।

    ও আচ্ছা, বলল রোজালিন। দেয়ালে চোখ বুলাল। ওখানে গরিলা এবং বানরের পাশাপাশি মানুষের শরীরের ছবিও ঝুলছে।

    রোজালিন, একটা কথা এ দুটি ঘরের কোনো কিছুতে হাত দেয়া যাবে। আমার স্বামীর কাজের নিদর্শন রয়ে গেছে এ ঘর দুটিতে। একদিন বিজ্ঞান বুঝতে পারবে উনি কতটা প্রতিভাবান ছিলেন। এ ঘর দুটি যেমন আছে সবসময় তেমন থাকবে।

    অবশ্যই ফুপু, বলল রোজালিন। ফুপুর পেছন পেছন স্টাডিরুম হয়ে আবার চলে এল হলঘরে।

    বাড়ির বাকি ঘরগুলো তুই নিজেই ঘুরে দেখতে পারবি, রোজালিন, বললেন ফুপু। তবে চিলেকোঠায় ভুলেও যাবি না। তাঁর কণ্ঠ কঠিন শোনাল। আমার কথা বুঝতে পেরেছিস?

    আমার কথা বুঝতে পেরেছিস? পাশের ঘর থেকে পুনরাবৃত্তি করল কাকাতুয়া।

    আমি কিন্তু খুব সিরিয়াস, রোজালিন। চিলেকোঠার দরজা ভুলেও খুলবি না। খুললে পস্তাবি।

    খুললে পস্তাবি, ক্যাকক্যাক করে উঠল পলি।

    শিরশির করে উঠল রোজালিনের গা। বুঝতে পেরেছি, ফুপু।

    রোজালিন একা একাই ঘুরে দেখল বাড়ি। পুরোনো বইয়ের অভাব নেই বাড়িতে। সেসব উল্টে পাল্টে দেখল। রাতে ফুপুর সঙ্গে বাগানে বসে চা খেল। রোজালিনের বাবার সম্পর্কে নানান প্রশ্ন করলেন ফুপু। রোজালিন যখনই হারম্যান সম্পর্কে কিছু জানতে চেয়েছে, প্রসঙ্গান্তরে চলে গেছেন হ্যারিয়েট ফুপু।

    এ বাড়িতে বেড়াতে আসার চতুর্থ দিনে ফুপু জানালেন তিনি আজ বিকালে বাসায় থাকছেন না। এক বান্ধবীর বাড়িতে চায়ের দাওয়াত আছে, সেখানে যাবেন। রোজালিনের মন চাইলে যেতে পারে।

    কিন্তু রোজালিন যেতে চাইল না। বুড়ো মানুষদের আড্ডা তার ভাল্লাগে না। ফুপুকে জানাল সে বাড়িতেই থাকবে। বাগানে বসে বই পড়ে কাটাবে সময়।

    ফুপু চলে যাওয়ার পরে নিজের ঘরে ঢুকল রোজালিন। সঙ্গে নিয়ে আসা একটা হরর বই পড়ার চেষ্টা করল। কিন্তু ভ্যাম্পায়ারের কাহিনি তাকে আকৃষ্ট করতে পারল না। কিছুক্ষণ পরে বই বন্ধ করে ফেলল রোজালিন। সিধে হলো। বেরিয়ে এল হলঘরে। কী করা যায় ভাবছে। কিন্তু করার মতো কোনো কাজ নেই। ফুপুর বাড়িতে গরমের ছুটিটা কাটছে খুবই বিরক্তিকরভাবে। রোজালিন আসতে চায়নি। কিন্তু বাবা একরকম জোর করে পাঠিয়েছেন ওকে। তিনি ব্যবসার কাজে অস্ট্রেলিয়া যাবেন। নরফোকের বাড়িতে রোজালিন একা থাকবে, ব্যাপারটা ভালো লাগছিল না তাঁর। ওদিকে তাঁর বড়ো বোন হ্যারিয়েট মাঝে মাঝেই ফোন করে হুকুম দিয়েছেন এবারের ছুটিতে রোজালিনকে যেন তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

    দুলাভাইকে পছন্দ না করলেও বড়ো বোনকে ভয় পান রোজালিনের বাবা। তাই তাঁর আদেশ অমান্য করতে পারেননি। রোজালিনকে পাঠিয়ে দিয়েছেন ফুপুর বাড়ি। কিন্তু এত বড়ো বাড়িতে সঙ্গীহীন যোড়শী রোজালিনের মন হাঁপিয়ে উঠছে।

    হলঘর ধরে হাঁটছে রোজালিন, চোখ চলে গেল চিলেকোঠার দরজায়। দরজার সামনে এক মুহূর্ত দাঁড়াল সে। হ্যারিয়েট ওকে পই পই করে মানা করেছেন চিলেকোঠার ধারে কাছেও যেন না যায় রোজালিন। এর মধ্যে কী রহস্য আছে… রোজালিনের খুব কৌতূহল হলো রহস্য ভেদ করবে। ফুপুর সাবধান বাণী জোর করে মাথা থেকে দূর করে দিল। দরজার নবে হাত রাখল। মোচড় দিল। মোচড় খেল নব। তার মানে তালা মারা নেই। কিন্তু রোজালিন ডোরনব থেকে সরিয়ে নিল হাত। দ্বিধায় ভুগছে। ফুপু বলেছেন এ ঘরে না যেতে।

    চলে যাচ্ছিল রোজালিন। কিন্তু কৌতূহলের জয় হলো। হ্যারিয়েট ফুপু পাগলাটে স্বভাবের মানুষ, রোজালিনের বাবা আগেই ওকে সাবধান করে দিয়েছেন, পাগল মানুষ কত উদ্ভট কথাই তো বলে। তাদের সব কথা বিশ্বাস করা বোকামি।

    সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল রোজালিন। ডোরনবে আবার হাত রাখল ও, মোচড় দিল জোরে। তারপর ধাক্কা মেরে খুলে ফেলল দরজা। কতগুলো সিঁড়ি উঠে গেছে চিলেকোঠায়। রোজালিন ধীর পায়ে বাইতে লাগল সিঁড়ি। চিলেকোঠার মেঝের সমান্তরালে ও এসেছে, একটা দৃশ্য দেখে জমে গেল। ও বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে একটা অর্ধ মানব, অর্ধ জানোয়ারের দিকে। ভয়ঙ্কর প্রাণীটা কটমট করে চেয়ে আছে রোজালিনের দিকে। মুখ দিয়ে আর্তচিৎকার বেরুল রোজালিনের। হুড়মুড়িয়ে নামতে শুরু করল সিঁড়ি দিয়ে।

    অসুস্থ বোধ করছে রোজালিন। যা দেখেছে বিশ্বাস করতে চাইছে না। মন। কী ভয়ঙ্কর দানব! চিলেকোঠার দরজা খুলে সিঁড়ির দিকে দৌড়াল রোজালিন। তারপর শুনতে পেল সেই শব্দ যার ভয় পাচ্ছিল এতক্ষণ। থপ থপ থপ। চিলেকোঠার সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছে ওটা–পিছু নিয়েছে রোজালিনের।

    রোজালিনের মনে হলো হাঁটু ভেঙে পড়ে যাবে। হলো ল্যাণ্ডিং-এ সৃষ্টি ছাড়া জীবটাকে দেখতে পেল ও। দৌড়াবার চেষ্টা করল। পারল না। কুৎসিত প্রাণীটা ওর দিকেই এগিয়ে আসছে। কালো, ঘন লোমে বোঝাই একটা হাত বাড়িয়ে দিল। ছুটল রোজালিন।

    সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে আরেকটু হলে আছাড় খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল ও। পিশাচটা ওর পেছন পেছন আসছে। ঘনঘন শ্বাস নিচ্ছে ওটা। পরিষ্কার শুনতে পাচ্ছে রোজালিন। ও একছুটে ঢুকে পড়ল লিভিংরুমে।

    এক সেকেণ্ডের মধ্যেই বুঝে ফেলল রোজালিন এ ঘর থেকে বেরুবার রাস্তা নেই। আবার দরজা লক্ষ্য করে ছুটল। থাবা চালাল জানোয়ার। অল্পের জন্য মিস হলো টার্গেট। বাউলি কেটে বেরিয়ে এল রোজালিন।

    হলঘর ধরে কিচেনের দিকে ছুটল রোজালিন। কদাকার অন্ধকারের প্রাণীটা টলতে টলতে ওর দিকেই আসছে। ওটার মুখ মনের পর্দা থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করল রোজালিন। ওটার চেহারা অনেকটা মানুষের মতো–এজন্যই অস্বস্তি বেশি লাগছে ওর। রান্নাঘরের খিড়কির দরজা খুলে বারান্দায় চলে এল রোজালিন। কিন্তু যখন বুঝতে পারল বাগান থেকে বেরুবার রাস্তা নেই, ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে।

    বাগানের পাথুরে দেয়ালে পিঠ চেপে ধরল রোজালিন। খিড়কির দরজা দিয়ে বেরিয়ে এল বীভৎস প্রাণীটা, এগোচ্ছে রোজালিনের দিকে। কুৎসিত মুখে নোংরা হাসি। আবার থাবা চালাল ওটা। আরেকবার বাউলি কেটে টার্গেট মিস করে দিল রোজালিন।

    কিন্তু ওটা রোজালিনের অনেক কাছে চলে এসেছে। রোজালিন রান্নাঘরে ছুটল। সেখান থেকে হলঘরে। তবে সদর দরজায় পৌঁছাতে পারল না। তার আগেই কীসের সঙ্গে বাড়ি খেয়ে দড়াম করে পড়ে গেল মেঝেতে।

    ভয়ঙ্কর জীবটা রোজালিনের সামনে এসে দাঁড়াল। বাড়িয়ে দিল রোমশ হাত। রোজালিনের মাথা স্পর্শ করল।

    তুমি এসেছ, বলল ওটা মানুষের গলায়।

    তুমি এসেছ, খাঁচায় বসে ভেংচাল কাকাতুয়া। জ্ঞান হারিয়ে ফেলল রোজালিন।

    .

    জ্ঞান ফিরে পেল রোজালিন, চোখ মেলে চাইতেই চমকে গেল ভয়ানক। সৃষ্টিছাড়া জীবটা এখনও ঝুঁকে দেখছে ওকে। তার পাশে হ্যারিয়েট ফুপু।

    রোজালিন, তুই একটা বাজে মেয়ে। মানা করেছিলাম না চিলেকোঠার ধারে কাছেও ঘেঁষবি না। বলেছিলাম ওখানে গেলে পস্তাবি। রাগে রোজালিনের দিকে আঙুল তুলে নাড়লেন তিনি। তোর কারণে ভয় পেয়েছে বেচারা হারম্যান।

    বেচারা হারম্যান, পুনরাবৃত্তি করল কাকাতুয়া।

    হ্যাঁ, বেচারাই তো, বললেন ফুপু, আদর করে নেড়ে দিলেন ছেলের মাথার চুল। আর্থার ওকে নিয়ে কত এক্সপেরিমেন্ট করল অথচ ও আর

    আগের চেহারা ফিরে পেল না।

    রোজালিনের দিকে ফিরলেন হ্যারিয়েট ফুপু। তোকে আর আমরা ছাড়তে পারব না, রোজালিন। কারণ তুই এখন আমাদের গোপন কথা জেনে ফেলেছিস। তোর বাবা অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে তোর খবর নেয়ার জন্য ফোন করলে জানিয়ে দেব তুই আমাদের এখানে আসিসইনি। আমরা চিলেকোঠায় ওর জন্য চমৎকার একটি ঘরের ব্যবস্থা করতে পারব, তাই না, হারম্যান?

    উন্মাদ ফুপুর দিকে তাকাল রোজালিন। তারপর চাইল ফুপাত ভাইয়ের দিকে। হারম্যানের কদাকার চেহারায় জান্তব উল্লাস।

    আমাদের সঙ্গ তোর মন্দ লাগবে না, রোজালিন। বললেন ফুপু।

    মন্দ লাগবে না, ক্যাকক্যাক করল কাকাতুয়া।

    গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিল রোজালিন। তারপর জ্ঞান হারাল আবার।

    হারম্যান ওর অচেতন দেহ আলগোছে তুলে নিল কোলে, তারপর চলল চিলেকোঠার সিঁড়ি অভিমুখে।

    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপৃথিবীর সেরা ভৌতিক গল্প – অনীশ দাস অপু
    Next Article প্রেতচক্র – অনীশ দাস অপু

    Related Articles

    তসলিমা নাসরিন

    সেইসব অন্ধকার – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    আমার প্রতিবাদের ভাষা – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    অগ্রন্থিত লেখার সংকলন – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    বন্দিনী – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    নির্বাসন – তসলিমা নাসরিন

    August 20, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    নেই, কিছু নেই – তসলিমা নাসরিন

    August 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Demo
    Most Popular

    রঙ্কিণীর রাজ্যপাট এবং অন্যান্য – নবনীতা দেবসেন

    August 30, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    রঙ্কিণীর রাজ্যপাট এবং অন্যান্য – নবনীতা দেবসেন

    August 30, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025
    Our Picks

    রঙ্কিণীর রাজ্যপাট এবং অন্যান্য – নবনীতা দেবসেন

    August 30, 2025

    আনা ফ্রাঙ্ক-এর ডায়েরি

    August 30, 2025

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    August 30, 2025
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2025 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    Sign In or Register

    Welcome Back!

    Login below or Register Now.

    Lost password?

    Register Now!

    Already registered? Login.

    A password will be e-mailed to you.