Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভূত সমগ্র – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প904 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শকসো

    ঢাকা থেকে জরুরি কাজে সিলেট যাব, তাড়াহুড়ো করে এয়ারপোর্টে এসে শুনি ফ্লাইটটা দুই ঘণ্টা পিছিয়ে দিয়েছে। আমার মতো আরও অনেক যাত্রী বিরস মুখে বসে আছে-প্লেনের যাত্রীরা একটু ভদ্রগোছের বলে মনে হয়, না হলে এতগুলো মানুষকে এক কথায় দুই ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার পরও কোনো চ্যাঁচামেচি নেই, ঝগড়াঝাটি বাগবিতণ্ডা নেই।

    এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে বসে হাতের খবরের কাগজটা প্রায় মুখস্থ করে ফেললাম। কাগজের চতুর্থ এবং পঞ্চম পৃষ্ঠায় মফস্বলের অনেক খবর থাকে। মফস্বলে ভালো কিছু ঘটে বলে মনে হলো না, বেশির ভাগই খুন-জখম এবং অ্যাসিড মারার গল্প, প্রথম এক-দুই লাইন পড়ে আর বিস্তারিত পড়ার ইচ্ছা করে না। কাগজটা ভাজ করে রেখে দেখলাম আমার পাশে মধ্যবয়স্ক একজন মানুষ বসে আছেন। আমার চোখে চোখ পড়তেই একটু হেসে জিজ্ঞেস করলেন, “সিলেট যাচ্ছেন?”

    “জি।”

    “প্লেন কেন লেট হয়েছে জানেন?”

    “না।”

    “বিমানমন্ত্রী কলকাতা গিয়েছেন শাড়ি কিনতে।”

    “শাড়ি কিনতে?”

    “হ্যাঁ। শালির বিয়ে।”

    শাড়ি কেনার সাথে সিলেটে প্লেন লেট হবার সম্পর্ক কী আমি বুঝতে পারলাম না। জিজ্ঞেস করলাম, “মন্ত্রী শাড়ি কিনলে আমাদের প্লেন লেট হবে কেন?”

    একটাই তো প্লেন। সেই প্লেন কলকাতা থেকে ফিরে আসবে, তারপর আমাদের নিয়ে সিলেট যাবে।”

    আমি অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে বললাম, “সত্যি বলছেন?”

    “সত্যি। একেবারে পাকা খবর। ফ্লাইট ম্যানেজার আমার বিশেষ বন্ধুমানুষ। সে খবর দিয়েছে। মন্ত্রী সাহেব তার মিসেসকে নিয়ে বাজারে চলে গেছেন। ইন্সট্রাকশন দেওয়া আছে যতক্ষণ না ফিরে আসছেন ততক্ষণ প্লেনটাকে আটকে রাখতে হবে।”

    আমি চোখ বড় বড় করে তাকালাম, ভদ্রলোক হাসি হাসি মুখ করে বললেন, “এত অবাক হচ্ছেন কেন? এরকমই তো চলছে। মোগল বাদশারা যে রকম সারা দেশের সবকিছুর মালিক ছিল

    আমাদের মন্ত্রীরাও তা-ই। তারা সবকিছুর মালিক!”

    আমি মাথা নেড়ে একটা নিঃশ্বাস ফেলে সোজা হয়ে বসলাম। ভদ্রলোক চেয়ারে হেলান দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, সিলেট নতুন যাচ্ছেন।’

    “না। সেখানেই থাকি।”

    “সুন্দর জায়গা! বিউটিফুল!”

    কথা বলার জন্যে কথা বলা। তাই আমাকেও ভদ্রতা করে কিছু-একটা জিজ্ঞেস করতে হয়। জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কোথায় থাকেন?”

    “বেশির ভাগ সময় ঢাকাতেই থাকি। বাকি সময় চিটাগাং আর খুলনা। মাঝে মাঝে রাজশাহী-সিলেট।”

    “ও।” আরও কিছু জিজ্ঞেস করা যায় কি না ভাবছিলাম, তার মাঝে ভদ্রলোক আবার জিজ্ঞেস করলেন, “কী করেন আপনি?”

    “আমি পড়াই। ইউনিভার্সিটিতে।”

    “ও! ভেরি গুড।” ভদ্রলোক এমনভাবে মাথা নাড়লেন যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করা একটা সাংঘাতিক কাণ্ড! আমি জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি?”

    “আমি?” আমি এখন বিজনেস করি।”

    “আগে অন্যকিছু করতেন?”

    “হ্যাঁ। আগে ডাক্তার ছিলাম। সার্জন।”

    “সার্জন?” আমি একটু অবাক হয়ে বললাম, “সার্জারি ছেড়ে দিলেন কেন?”

    ভদ্রলোক উত্তর না দিয়ে তার ডান হাতটা আমার সামনে এনে মেলে ধরলেন, আমি দেখলাম, তার বুড়ো আঙুলটা নেই, কেউ যেন নিখুঁতভাবে কেটে নিয়েছে। আমি একটু হকচকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “কোনো অ্যাকসিডেন্ট?”

    “নাহ।”

    “তাহলে?”

    “কেটে ফেলেছি।”

    “কেটে ফেলেছেন? কোনোরকম ইনফেকশন?”

    “উঁহু। ইনফেকশন নয়। এমনিতেই কেটে ফেলেছি।”

    “তা ঠিকই বলেছেন, খামোখা কে আঙুল কেটে ফেলবে? তাও বুড়ো আঙুল। সার্জনের বুড়ো আঙুল “কারণ অবিশ্যি একটা ছিল।”

    আমি একটু কৌতূহল নিয়ে ভদ্রলোকের দিকে তাকালাম। নিজে থেকে না বললে কারণটা জানতে চাওয়া ভদ্রতা হবে কি না বুঝতে পারছিলাম না। ভদ্রলোক আমার দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বললেন, “আপনি যদি শুনতে চান তাহলে বলতে পারি। গল্পটা এখনও কেউ বিশ্বাস করে না-আপনি যদি না চান আপনাকেও বিশ্বাস করতে হবে না।”

    “কেন বিশ্বাস করব না?”

    “শুনলেই বুঝতে পারবেন। যা-ই হোক–” বলে ভদ্রলোক তার বুড়ো আঙুলবিহীন হাতটা সামনে তুলে সেটার দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, “আমার নাম মাহবুব খন্দকার।

    আমি নিজের নাম বলতেই তিনি করমর্দনের জন্যে হাত বাড়িয়ে দিলেন, আঙুলবিহীন হাত করমর্দন করতে আমার গা একটু কাটা দিয়ে উঠল, কেন ঠিক বুঝতে পারলাম না।

    ভদ্রলোক এতক্ষণ বেশ হাসি হাসি মুখেই বসেছিলেন, এবারে গল্প শুরু করার আগে হঠাৎ কেমন জানি একটু গম্ভীর হয়ে গেলেন।

    গল্পটা ছিল এরকম। তার ভাষাতেই বলা যাক।

    আমার জন্ম অক্টোবরের নয় তারিখ, সেটা হচ্ছে তুলারাশি। তুলারাশির মানুষেরা নাকি ভূত-প্রেত পরলোক এসব অলৌকিক জিনিসে উৎসাহী হয়। সেটা সত্যি কি না আমি জানি না, কিন্তু আমার আসলেই ভূত-প্রেত এসবে খুব উৎসাহ ছিল। কাউকে জিনে ধরেছে বা পরীতে বশ করেছে শুনলে আমি দেখতে যেতাম, বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে পোড়োবাড়িতে রাত কাটিয়েছি, লাশকাটা-ঘরে ঘুরে বেড়িয়েছি। প্ল্যানচেট করেছি, চক্রে বসেছি, অমাবস্যার রাতে শ্মশানে গিয়েছি, জিন বশ করার দোয়া-দরুদ পড়েছি, কিন্তু আমার কপালই হোক আর যা-ই হোক সত্যিকারের অলৌকিক কিছু কখনো দেখিনি। প্রায়-ভৌতিক অনেক কিছু আছে, কিন্তু সত্যিকারের ভৌতিক ব্যাপার যার ব্যাখ্যা নেই সেরকম কিছু একবারও দেখতে পেলাম না।

    মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার পর ভূত-প্রেত কিংবা অলৌকিক জিনিস আকর্ষণ খানিকটা কমে এলো। অ্যানাটমি ক্লাসে বেওয়ারিশ লাশ কাটাকুটি করে আর ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে খুন-জখম অ্যাকসিডেন্টে মানুষকে মারা যেতে দেখে দেখে মন খানিকটা কঠোর হয়ে গেছে। তখন ভূত-প্রেত আর জিন-পরীতে আকর্ষণ বেশি থাকতে পারে না। তবুও আকর্ষণ যে একেবারে চলে গেল তা নয়, অলৌকিক জিনিসের গন্ধ পেলে একবার ঢু মেরে আসতাম।

    মেডিক্যাল কলেজ শেষ করে বিলেত গেলাম, সেখান থেকে এফআরসিএস ডিগ্রি নিয়ে ফিরে এসেছি। দেশে আমার তখন খুব রমরমা ব্র্যাকটিস। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে প্রায় কশাইয়ের মতো মানুষকে কেটে ফেলি, ব্যাংকে টাকা রাখার জায়গা নেই। কয়েকটা ক্লিনিকের সাথে যোগাযোগ রয়েছে-দিনে দু-চারটে অপারেশন করতে হয়। একদিন গলব্লাডার স্টোনের জন্যে একজন মহিলাকে কাটব, ভদ্রমহিলা হঠাৎ কাতর স্বরে বললেন, “ডাক্তার সাহেব, আমাকে কেন কাটাকুটি করছেন? আমি তো বাঁচব না।”

    আমি হাহা করে হেসে বললাম, “আমি কি এতই খারাপ সার্জন যে গলব্লাডার স্টোন সরাতে গিয়ে আপনাকে মেরে ফেলব?”

    “সেটা নয়।” ভদ্রমহিলা ফিসফিস করে বললেন, “আমার আসলে ক্যান্সার হয়েছে।”

    “ক্যান্সার?” আমি ভুরু কুঁচকে বললাম, “আপনি কেমন করে জানেন?”

    “আমাকে একজন বলেছেন?”

    “যিনি বলেছেন তিনি কি ডাক্তার? বায়োপসি করেছে?”

    “না।” ভদ্রমহিলা মাথা নাড়লেন, তার কিছু করতে হয় না। এমনিতেই বলতে পারে।”

    আমি খুব কষ্ট করে বিরক্তি গোপন করে বললাম, “যিনি আপনাকে এরকম একটা কথা বলেছেন তিনি খুব অন্যায় করেছেন। আমি আপনার পেট খুলছি-আপনাকে জানাব যে আপনার ক্যান্সার নেই।”

    যাই হোক, অপারেশন টেবিলে পেট খুলে আমি একেবারে থ হয়ে গেলাম। সত্যি সত্যি ক্যান্সার-ভেতরে পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েছে, আমাদের কিছু করার নেই। আমি আবার বন্ধ করে ফিরে এলাম, তিন দিন পর ভদ্রমহিলা মারা গেলেন, মারা যাবার আগে তার কাছ থেকে আমি সেই মানুষটার ঠিকানা নিয়ে রাখলাম।

    কয়দিন পর ঠিকানা খুঁজে খুঁজে আমি সেই মানুষটাকে খুঁজে বের করেছি। পুরান ঢাকার এক ঘিঞ্জি অন্ধগলিতে একটা ছোট অন্ধকার মসলার দোকানে উবু হয়ে বসে মসলা বিক্রি করছে। আধ্যাত্মিক মানুষের যে রকম চেহারা হওয়ার কথা তার চেহারা মোটেও সেরকম নয়। শুকনো তোবড়ানো গাল, কোটরাগত চোখ, থুতনিতে ছাগলের মতো দাড়ি, মাথায় তেল চিটচিটে টুপি, গুনে গুনে ময়লা নোট ক্যাশবাক্সে রাখছে।

    আমি পরিচয় দিয়ে বললাম, “আমি আপনার কাছে একটি কথা জানতে এসেছি।”

    “রোগীর কথা জানতে এসেছেন? আমি কিন্তু শনি-রবিবার ছাড়া বলি না।”

    আমি মাথা নেড়ে বললাম, “না, আমি রোগীর কথা জানতে আসি নাই। আপনি কেমন করে রোগীর কথা বলেন সেটা জানতে এসেছি।”

    আমার কথা শুনে মানুষটা হঠাৎ মুখ শক্ত করে আমার দিকে রুক্ষ চোখে তাকাল। কঠোর গলায় বলল, “সেটা শুনে আপনি কী করবেন?”

    “আমি জানতে চাই।”

    “সব জিনিস সবাই জানতে পারে না। আপনি বাড়িতে যান।” বলে লোকটা আমাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে তার খরিদ্দারদের জন্যে জিরা ওজন করতে শুরু করল।

    আমি অবিশ্যি হাল ছেড়ে দিলাম না, লোকটার পেছনে একেবারে চিনেজোকের মতো লেগে রইলাম। কখনো কাকুতি-মিনতি, কখনো ভয়ভীতি, কখনো মিষ্টি কথা, কখনো শক্ত কথা কিছুই বাকি রাখলাম না। শেষ পর্যন্ত যে-জিনিসটা কাজে দিল সেটা হচ্ছে নগদ টাকা। আমি একবারও চিন্তা করিনি টাকা দিয়ে মানুষটাকে নরম করা যাবে, তাহলে প্রথম সেটা দিয়েই শুরু করতাম।

    লোকটাকে নগদ দুই হাজার টাকা দেওয়ার পর টাকাগুলো গুনে ক্যাশবাক্সে রেখে বলল, “আমার পোষা শকসো আছে।”

    “পোষা কী?”

    “শকসো।”

    “সেটা কী?”

    “জিনের মতো কিন্তু জিন না। জিন তো আগুনের তৈরি, এটা আগুনের না। এইটা রক্তমাংসের। রক্ত খায়।”

    “রক্ত খায়?”

    “হ্যাঁ।”

    “সেটা পায় কোনখানে?”

    “শরীরের মাঝে থেকে চুষে নেয়।”

    “কার শরীর থেকে?”

    “আমার পোষা শকসো-আমার শরীর থেকে খায়।”

    আমি গাঁজাখুরি গল্প শুনে হাসব না কাদব বুঝতে পারলাম না। মানুষটার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। দুই দুই হাজার টাকা একেবারে অকারণে পানিতে ফেলে দিয়েছি বলে আফসোস হতে লাগল। একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললাম, “এই শকসো কী করে?”

    “বেশি কিছু করতে পারে না। রোগ শোক হলে বলে দিতে পারে। ওষুধপত্র দেয় মাঝে মাঝে।”

    “কেমন করে দেয়?”

    “বলে দেয়।”

    আমি অবাক হয়ে বললাম, “বলে দেয়? কেমন করে বলে?”

    “এই তো আপনাকে আমি যেভাবে বলি।”

    “তার মানে আপনি তাকে দেখতে পারেন।”

    বুড়ো তার দাড়ি নেড়ে বলল, না দেখলে কথা বলব কেমন করে?”

    আমি মুখ শক্ত করে বললাম, আমাকে দেখাতে পারেন?”

    “নাহ্।” বুড়ো মাথা নেড়ে বলল, “অন্য কেউ থাকলে বের হয় না।”

    “কেন বের হয় না?”

    “সবকিছুর একটা নিয়ম আছে না? মানুষের নিয়ম মানুষের শকসোর নিয়ম শকসোর।”

    আমি হতাশ হয়ে বললাম, “তার মানে আমি কোনোদিন দেখতে পারব না?”

    “পারবেন না কেন? আপনি দেখতে চাইলে আপনি শকসো পোষেন।”

    আমি সোজা হয়ে বসে বললাম, “আমি পুষতে পারব?”

    বুড়ো মানুষটা তার কোটরাগত চোখে খানিকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “ইচ্ছা করলে মানুষ কী না পারে! তবে—”

    “তবে কী?”

    “শকসো পোষা কিন্তু কুত্তা-বিলাই পোষার মতো না।”

    “বুঝতে পারছি।”

    “বিপদ আছে।”

    “বিপদ-আপদ আমার ভালোই লাগে।”

    মানুষটা খুব শ্লেষের ভান করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “ তাহলে তো ভালোই।”

    তারপর তার ক্যাশবাক্সের নিচে হাত ঢুকিয়ে একটা জীর্ণ কাগজ বের করে আনল। এই প্রথমবার আমি লক্ষ করলাম তার ডান হাতটা পঙ্গু-শুকনো এবং শক্তিহীন, শুধু হাতে বুড়ো আঙুলটি বড় এবং অতিকায়। শুধু তা-ই নয়, দেখে মনে হলো আঙুলটি যেন তার নিয়ন্ত্রণে নেই, হঠাৎ হঠাৎ সেটি নড়ছে।

    দুই হাজার টাকার বিনিময়ে আমি একটা জীর্ণ কাগজে লেখা একটি মন্ত্র এবং সেই মন্ত্রপাঠের কিছু নিয়মাবলি নিয়ে ফিরে এলাম। ডান হাতের বুড়ো আঙুলের নখে খানিকটা সরিষার তেল মাখিয়ে সেটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে মন্ত্র পড়তে হবে। মন্ত্র পড়ার আরও

    কিছু নিয়মকানুন আছে, গুরুপাক খাবার খাওয়া যাবে না, কাঁচা রসুন খাওয়া যাবে না, পরিষ্কার কাপড় পরে থাকতে হবে, অন্যকিছুতে মনোযোগ দেওয়া যাবে না, শুরু করতে হবে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ইত্যাদি ইত্যাদি। দীর্ঘ মন্ত্র, সেটা শুরু হয়েছে এভাবে :

    আচাতন, কুচাতন গিলাবালী
    মা মাকালী রাখাতালি শুশুতালি ফা

    এর পরে আরও আঠারো লাইন। এটা কী ভাষায় লেখা, এর অর্থ কী কিছুই জানি না তবুও আমি শুরু করে দিলাম। আমার স্ত্রী খুব বিরক্ত হলো, কিন্তু আমি যখন শুরু করে দিয়েছি এখন তো এর শেষ না দেখে ছাড়তে পারি না। গভীর রাতে গোসল করে পরিষ্কার কাপড় পরে বারান্দায় বসে ডান হাতের বুড়ো আঙুলে সরিষার তেল মাখিয়ে বিড়বিড় করে আচাতন কুচাতন’ পড়তে থাকি। এভাবে একদিন-দুদিন করে দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেল, কিন্তু শকসোর দেখা নেই। আমি যখন মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছি যে ধড়িবাজ মানুষটা আমাকে ঠকিয়ে দুই হাজার টাকা মেরে দিয়েছে, তখন এক রাতে খুব বিচিত্র একটা ঘটনা ঘটল। নখের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়ছি, হঠাৎ মনে হলো আমার বুড়ো আঙুলটা যেন একটু নড়ে উঠল, মনে হলো আঙুলটা যেন আমার নিজের না, যেন অন্য কারও। আমি অবাক হয়ে দেখলাম নখের নিচে হঠাৎ করে কেমন যেন কালচে রং দেখা যাচ্ছে, হঠাৎ করে ব্যথা পেয়ে কালশিটে পড়ে গেলে যে রকম হয় অনেকটা সেরকম। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি, মনে হলো বুড়ো আঙুলের ভেতরে কিছু-একটা নড়ছে, বিচিত্র একধরনের অনুভূতি। নখের মাঝে কালো রংটা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ল এবং মনে হলো তার পেছন থেকে জীবন্ত কিছু-একটা নড়ছে। হালকা গোলাপি রঙের জিনিসটা নড়তে নড়তে স্পষ্ট হতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে সেটা একটা প্রাণীর রূপ নিতে থাকে। চেহারা দেখে মনে হয় অনেকটা মানুষের মতো, কিন্তু যেন পুরোপুরি মানুষ নয়। শুধু তা-ই নয়, আমার মনে হতে লাগল প্রাণীটা যেন আমার দিকে তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি হঠাৎ ভীষণ ভয় পেয়ে গেলাম, মন্ত্র পড়া বন্ধ করে লাফিয়ে উঠে হাত ঝাঁকাতে শুরু করলাম যেন অশুভ এই প্রাণীটাকে ঝাঁকিয়ে হাত থেকে ফেলে দেওয়া যাবে। প্রায় সাথে সাথেই বুড়ো আঙুলের অসাড় হয়ে থাকা বিচিত্র অনুভূতিটা কমে গিয়ে সেটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। আমি তাকিয়ে দেখি নখটাও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে, দেখে কে বলবে একটু আগে সেখানে বিচিত্র জীবন্ত কিছু-একটা দেখা গেছে!

    ব্যাপারটা কি আসলেই ঘটেছে নাকি এটা আমার মনের ভুল আমি সে-ব্যাপারে নিঃসন্দেহ হতে পারলাম না, কিন্তু এই মাঝরাত্তিরে কেন জানি সেটা আর পরীক্ষা করে দেখার সাহস হলো না। সে-রাতে আমার ঘুম হলো ছাড়া-ছাড়া ভাবে, মাঝরাতে হঠাৎ ভয়ংকর একটা দুঃস্বপ্ন দেখে চিৎকার করে জেগে উঠলাম। পাশে আমার স্ত্রী শুয়েছিল, সে ভয় পেয়ে জেগে উঠে আমাকে ধরে বলল, কী হয়েছে? কী হয়েছে তোমার?

    আমি কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে কঁপা গলায় বললাম, ‘খুব ভয়ের একটা স্বপ্ন দেখছিলাম

    কী স্বপ্ন দেখেছ?

    ভয়ের স্বপ্ন দেখতে যে রকম ভয় হয় বলতে গেলে কিন্তু সেরকম হয় না-বরং সেটাকে কেমন জানি ছেলেমানুষি এবং হাস্যকর শোনায়। আমি তাই কিছু না বলে আবার শুয়ে পড়লাম।

    পরদিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে অবিশ্যি আমার কাছে গতরাতের পুরো ব্যাপারটাকেই ছেলেমানুষি আর হাস্যকর মনে হতে লাগল। নখের মাঝে একটা-কিছু দেখা নিশ্চয়ই চোখের ভুল ছিল। সেখানে সরিষার তেল মাখানোর জন্যে চকচক করছিল বলে হয়তো কোনো কিছুর প্রতিফলন পড়ছিল, মাঝরাত্তিরে উর্বর মস্তিষ্কের কল্পনায় সেটাকেই মনে হয়েছে বিদঘুঁটে কোনো প্রাণী-মসলার দোকানের বুড়োর ভাষায়-শকসো! ব্যাপারটা খানিকক্ষণ চিন্তা করে আমি মন থেকে দূর করে দিলাম।

    পরবর্তী কয়েকদিন আমি কাজকর্ম নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলাম। শরীরটাও কেমন যেন ঠিক ভালো ছিল না, কড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেলে যেমন অস্থির লাগে সারাক্ষণই সেরকম লাগছিল। সমস্যাটা কোথায় ঠিক ধরতে পারছিলাম না, কিন্তু শুধু মনে হতে থাকে ডান হাতের বুড়ো আঙুলে কিছু-একটা হয়েছে। একদিন বেশ রাত করে বাসায় ফিরে এসেছি-আমার স্ত্রী তার এক দূরসম্পর্কের বোনের বিয়েতে গেছে, বাসায় আমি একা। রাত্রিবেলা ঘুমানোর আগে আমার হঠাৎ নখের মাঝে ছবি দেখার কথা মনে পড়ল। আমি নখের দিকে তাকিয়ে অনেকটা অভ্যাসের বশেই আচাতন-কুচাতন’ মন্ত্র পড়তে শুরু করে দিলাম এবং কী আশ্চর্য, সাথে সাথে হঠাৎ আমার বুড়ো আঙুলটা অসাড় হয়ে গেল, মনে হলো ওটার ভেতরে কিছু নড়ছে এবং দেখতে দেখতে বুড়ো আঙুলের নখটা কালচে নীল রঙের হয়ে গেল। আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইলাম, দেখতে পেলাম সেই কালচে নীল রঙের ভেতর থেকে একটা প্রাণীর চেহারা ভেসে আসছে, সেদিনের মতো এত অস্পষ্ট নয়, আজ এটি স্পষ্ট এবং এক কথায় ভয়াবহ।

    নখের মাঝে ছোট একটি প্রাণী। কিন্তু সেটি স্পষ্ট, তার খুঁটিনাটি সব দেখা যাচ্ছে। প্রাণীটি মানুষের মতো, কিন্তু মানুষ নয়। এর উঁচু এবং আসমান কপাল, ভুরুহীন কুতকুতে চোখ, স্থির দৃষ্টি, ছোট নাক, নাকের ঠিক নিচেই বিস্তৃত একটা মুখ। আমি তাকিয়ে থাকতে থাকতেই মুখটা হাঁ করল এবং দেখতে পেলাম দাঁতহীন জিবহীন সরীসৃপের মতো লালচে পিচ্ছিল একটা মুখ। আমার সমস্ত শরীর আতঙ্কে শিউরে উঠল।

    আমার ইচ্ছে করল আতঙ্কে চিৎকার করে ছুটে পালাই, কিন্তু একজন মানুষ নিজের বুড়ো আঙুল থেকে কেমন করে ছুটে পালাবে? আমি অনেক কষ্ট করে নিজেকে শান্ত করলাম, বিড়বিড় করে নিজেকে বললাম, “ভুল দেখছি। আমি নিশ্চয়ই ভুল দেখছি। আমি যদি চোখ বন্ধ করি তাহলে চোখ খুলে দেখব কিছুই নেই।”

    আমি খানিকক্ষণ চোখ বন্ধ করে থেকে আবার চোখ খুললাম, ভয়ে ভয়ে আবার বুড়ো আঙুলের দিকে তাকালাম, দেখতে পেলাম কুৎসিত প্রাণীটা এখনও আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি হতবুদ্ধি হয়ে প্রাণীটার দিকে তাকিয়ে রইলাম, ঠিক তখন প্রাণীটা মাথা নাড়ল ডান থেকে বামে তারপর বাম থেকে ডানে। প্রথমে ধীরে ধীরে তারপর দ্রুত। কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করা হলে সে যদি মাথা নেড়ে না বোঝাতে চায় অনেকটা সেরকম। প্রাণীটা হঠাৎ মাথা নাড়া বন্ধ করে মুখ হাঁ করল, আমি আবার তার দাঁতহীন জিবহীন লালচে মুখগহ্বর দেখতে পেলাম। প্রাণীটা স্থিরচোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল, আমার ভুলও হতে পারে কিন্তু মনে হলো সেটি যেন কূর ভঙ্গিতে হাসল। তারপর হঠাৎ করে সেটি অদৃশ্য হয়ে গেল। আমি দীর্ঘ সময় একাকী বসে রইলাম, লক্ষ করলাম আমার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে।

    পরদিন পুরান ঢাকায় সেই ঘিঞ্জি গলিতে গিয়ে বুড়ো মানুষটাকে খুঁজে বের করলাম। মানুষটা আমাকে দেখে তার পান-খাওয়া দাঁত বের করে হাসার চেষ্টা করে বলল, “খবর ভালো?”

    আমি ইতস্তত করে বললাম, “বুঝতে পারছি না।”

    “শকসো কি এসেছে?”

    “ইয়ে মানে নখের মাঝে দেখলাম—”

    লোকটা আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, “তার মানে এসেছে সাবধানে থাকবেন এখন। উলটাপালটা কিছু হলে বিপদ হতে পারে।”

    “বিপদ?”

    “হ্যাঁ।” বুড়ো মানুষটা দাঁত বের করে আবার হাসার ভঙ্গি করে বলল, “শকসো আপনার শরীরে বাসা তৈরি করছে। সেখানে থাকবে এখন থেকে। আপনার রক্ত খেয়ে বড় হবে। কাজেই ভালো করে খাবেন। মাছ, গোশত আর পালংশাক।”

    আমি হতবাক হয়ে মানুষটার দিকে তাকিয়ে রইলাম, মানুষটা গলা নিচু করে বলল, “বেশি জানাজানি যেন না হয়। জানাজানি হলে অনেক সমস্যা।”

    “কী সমস্যা?”

    “লোকজন ভয় পায়। কাছে আসে না। আর লোকজনকে দোষ দেবেন কেমন করে,-ভয় পাওয়ারই তো কথা! প্রথম প্রথম আমারও ভয় লাগত।”

    “এখন লাগে না?”

    “না। অভ্যাস হয়ে গেছে। আপনারও অভ্যাস হয়ে যাবে। তবে শকসোরে একটু কন্ট্রোলে রাখবেন। শরীরের ভেতরে সব জায়গায় যেতে দিবেন না। আপনি টের পাবেন শরীরের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, নড়ছে, আপনি কন্ট্রোল করবেন।”

    লোকটার কথা শুনে আমার সমস্ত শরীর গুলিয়ে এলো। আমি হতচকিতের মতো তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মানুষটা আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, “ভয় পাবার কিছু নেই। শকসো অনেক কাজে আসে। রোগশোক বালা মুসিবত বলতে পারে। তার কিছু সিগন্যাল আছে। যেমন ধরেন মাথা নাড়া–”

    আমি তাকে বাধা দিয়ে বললাম, “যদি ডানে-বাঁয়ে মাথা নাড়ে তার অর্থ কী?”

    লোকটা চমকে আমার দিকে তাকাল, বলল, “মাথা নেড়ে না করছে?”

    “অনেকটা সেরকম।”

    “সর্বনাশ!”

    “কেন? কী হয়েছে? কথা বলতে গিয়ে আমার গলা কেঁপে গেল।

    “এইটার অর্থ খুব খারাপ। এইটার অর্থ কেউ-একজন মারা যাবে।”

    “কে মারা যাবে?”

    “শকসোকে ডাকার আগে আপনি যাকে ছুঁয়েছেন।”

    আমি মনে করার চেষ্টা করলাম সেদিন বাসায় ফেরার আগে আমি শেষবার কাকে ছুঁয়েছি। ক্লিনিকে আমার কোনো-একজন রোগী? কাগজ বুঝে নেবার সময় কোনো-একজন নার্স? ড্রাইভার? সিগারেটের দোকানের কমবয়সী ছেলেটা? আমি ভেবে পেলাম না।

    বুড়ো মানুষটা গম্ভীর মুখে মাথা নেড়ে বলল, “শরীরের মাঝে শকসো রাখা খুব বড় কাজ। জন্ম-মৃত্যু আল্লাহর হাতে কিন্তু শকসো থাকলে সে ইঙ্গিত দেয়। বড় কঠিন ইঙ্গিত। আপনার হাতে সেই ইঙ্গিত-এটা খুব বড় দায়িত্ব। সাবধানে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে-নইলে কিন্তু গোনাগার হবেন।”

    পুরান ঢাকার গিঞ্জি গলিতে মসলার দোকানের সেই বৃদ্ধের কথা আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করিনি-বিজ্ঞান অনেক এগিয়ে গেছে, শরীরের ভেতরে রক্ত খেয়ে ভিন্ন কোনো প্রাণী বেঁচে থাকলে তাকে কোনো-না-কোনোভাবে ধরা সম্ভব, টেস্টটিউবে ভরে সেটাকে টিপেটুপে দেখা সম্ভব। নখের নিচে এসে কেউ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিতে পারবে না। আমি নিজের চোখে দেখলেও সেটা বিশ্বাস করব না।

    বাসায় এসেই অবিশ্যি আমার সেটা বিশ্বাস করতে হলো। আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু গাড়ি অ্যাকসিডেন্টে মারা গেছে-এইমাত্র তার খবর এসেছে। একটা এনজিওতে চাকরি করত, ময়মনসিংহ যাচ্ছিল, উলটো দিক থেকে একটা ট্রাক এসে ধাকা দিয়েছে। গাড়িতে চারজন ছিল-তিনজন সাথে সাথে মারা গেছে, চতুর্থজন হাসপাতালে এখনও সংজ্ঞাহীন। আমার বন্ধু তিনজনের একজন। আমার এখন মনে পড়েছে রাত্রিবেলা তার সাথে কথা বলে যাবার আগে পিঠে একটা থাবা দিয়ে এসেছিলাম-আমার হাতে তাকেই আমি শেষবার স্পর্শ করে এসেছিলাম। শকসো ঠিক ইঙ্গিতই দিয়েছে।

    ঘটনাটি আমাকে সাংঘাতিকভাবে নাড়া দিল, শরীরের মাঝে বিদঘুঁটে একটা প্রাণী বাস করছে, মানুষের জীবন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করছে, সেটা নিয়ে আমার খুব-একটা মাথাব্যথা হলো না-কিন্তু হাট্টাকাট্টা প্রাণবন্ত, একজন মানুষ যে একেবারে হঠাৎ করে মারা যেতে পারে সেটা আমার জন্যে গ্রহণ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ল।

    যাই হোক, তারপর অনেকদিন কেটে গেছে, বুড়ো আঙুলে সেই অশরীরী প্রাণীর কথা আমি একরকম ভুলে গেছি, তখন একদিন ক্লিনিকে একটা রোগী এসেছে। কমবয়সী বাচ্চা, হৃৎপিণ্ডের ভাল্ব নিয়ে একটা সমস্যা হয়েছে, অত্যন্ত জটিল অপারেশন, আমাদের দেশে তখনও কেউ সেটা সাহস করে করছে অপারেশন করার আগের রাতে আমি তাকে দেখতে গিয়েছি, বিছানায় ম্লান মুখে শুয়ে আছে। আমি তার হাত স্পর্শ করলাম, হঠাৎ কী মনে হলো বিড়বিড় করে সেই মন্ত্র পড়তে শুরু করলাম, ‘ আচাতন কুচাতন গিলাবালী মা…

    প্রায় সাথে সাথেই বুড়ো আঙুলে কুৎসিত সেই মাথাটা ফুটে উঠল। মাথাটি আমার দিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে কয়েকবার ওপরে-নিচে করল, কোনো কিছুতে সম্মতি জানাতে হলে আমরা যেভাবে মাথা নাড়ি। তারপর হঠাৎ করে সেটি অদৃশ্য হয়ে গেল।

    আমি ডাক্তার-মানুষ, আমার কুসংস্কার থাকা ঠিক নয়, কিন্তু তখন আমি কীভাবে জানি নিশ্চিত হয়ে গেলাম, যত কঠিনই হোক এই অপারেশন দিয়ে ছেলেটার প্রাণ বেঁচে যাবে।

    পরদিন ছেলেটার সার্জারি হলো–দীর্ঘ সার্জারি–প্রায় ছয় ঘণ্টার মতো লাগল। অপারেশন থিয়েটার থেকে যখন বের হলাম আমরা এত ক্লান্ত যে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না, কিন্তু সবাই খুব খুশি। চমৎকারভাবে সার্জারি শেষ হয়েছে, ছেলেটা বেঁচে যাবে তাতে সন্দেহ নেই।

    সত্যি ছেলেটা বেঁচে গেল। সপ্তাহ দুয়েক পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেল। ঘটনাটায় আমার হয়তো খুশি হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু আমি কেন জানি খুশি হতে পারলাম না। নিজেকে কেমন জানি একটা প্রতারক প্রতারক মনে হতে লাগল। যদি দেখতে পেতাম শকসোটা মাথা নেড়ে বলছে ছেলেটা বাঁচবে না, তাহলে কি আমি তার জন্যে এত শক্তি ব্যয় করতাম, নাকি দায়সারাভাবে কিছু-একটা করতাম?

    ব্যাপারটা পরীক্ষা করার সুযোগ এসে গেল দুদিন পরেই। একজন রোগী অপারেশনের জন্যে অপেক্ষা করছে। জটিল অপারেশন, কিন্তু আমি আগে অনেক করেছি। সত্যি কথা বলতে কী, ঢাকা শহরে এই বিশেষ অপারেশনটির জন্যে আমার খানিকটা খ্যাতি আছে। ক্যাবিনে যখন কেউ নেই আমি রোগীটার হাত ধরে বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়তেই শরীরের ভেতরে একটা কম্পন অনুভব করলাম, মনে হলো সত্যি সত্যি কিছু-একটা শরীরের ভেতরে নড়ছে, হাত বেয়ে সেটা আমার নখের তলায় হাজির হলো। কুৎসিত প্রাণীটা আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ডান থেকে বামে মাথা নাড়ল। শকসোটা মনে করে রোগীটা বাঁচবে না।

    আমার কেন জানি রোখ চেপে গেল, মনেমনে ঠিক করলাম যেভাবেই হোক একে বাঁচাতেই হবে। আমি রোগীর যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যতটুকু সম্ভব প্রস্তুত হয়ে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেলাম। দীর্ঘদিন থেকে সার্জারি করছি, হাতে চাকু ধরামাত্রই নিজের ভেতরে কেমন জানি একটা আত্মবিশ্বাস অনুভব করি, আজকেও তার ব্যতিক্রম হলো না। জুনিয়র ডাক্তাররা মোটামুটি প্রস্তুত করে সরে গেছে, আমি কাজ শুরু করেছি, হঠাৎ একটা বিচিত্র ব্যাপার ঘটল, আমার মনে হলো আমার বুড়ো আঙুলটা যেন জীবন্ত হয়ে গেছে তার ওপর যেন আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফোরসেপ দিয়ে ধরে যেই চাকু নামাতে যাই চাকুটা নড়ে যায়–কিছুতেই ঠিক জায়গায় বসাতে পারি না। জোর করে চেষ্টা করতেই হঠাৎ করে একটা বড় আর্টারি কেটে ফেললাম–গলগল করে রক্ত বের হয়ে এলো। বলা যেতে পারে আমার জীবনে এর থেকে বড় দুঃসময় আর কখনো আসে নি।

    আমি নিজে অপারেশন চালিয়ে যেতে পারলাম না, জুনিয়র ডাক্তাররা জোড়াতালি দিয়ে কোনোভাবে শেষ করল। আমি পুরোপুরি পরাজিত একজন মানুষের মতো ফিরে এলাম। রোগীটি যে ভোর হবার আগেই মারা যাবে সে-ব্যাপারে আমার নিজের কোনো সন্দেহ ছিল না।

    বাসায় এসে আমি অন্ধকার বারান্দায় মুখ ঢেকে বসে আছি, তখন আমার স্ত্রী এসে আমার কাছে বসল। নরম গলায় জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে?”

    আমি তখন খুব দুর্বল হয়ে আছি, পুরো ব্যাপারটা আমার ওপর এত ভয়ংকর চাপ সৃষ্টি করেছে যে সেটা আর নিজে নিজে সহ্য করতে পারছি না। আমি ঠিক করলাম আমার স্ত্রীকে সব খুলে বলতে হবে, কারো সাথে এই ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের যন্ত্রণাটা ভাগাভাগি করে নিতে হবে।

    আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, “আমি তোমাকে আজ একটা কথা বলব। আমি ব্যাপারটা তোমার কাছে থেকে অনেকদিন গোপন রেখেছি।”

    আমার কথা শুনে আমার স্ত্রী খুব অবাক হল না, নিচু গলায় বলল, “আমিও তোমাকে একটা কথা বলব যেটা আমি তোমার কাছ থেকে গোপন রেখেছি।”

    আমি চমকে উঠে বললাম, “কী কথা?”

    “আগে তোমারটা বলো।”

    আমি কিছু-একটা বলতে চাইছিলাম, কিন্তু আমার স্ত্রী শান্ত চোখে বলল, “তুমি, আগে বলো। প্লিজ!”

    আমি তখন একটা বড় নিঃশ্বাস নিয়ে তাকে আমার গত কয়েকদিনের কথা বলতে শুরু করলাম। কেমন করে ব্যাপারটা শুরু হলো, কেমন করে সত্যি সত্যি বুড়ো আঙুলের নিচে কদর্য একটা মুখ ভেসে আসতে শুরু করল, কেমন করে সেটা মুত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করতে শুরু করল, কেমন করে আমাকে অপারেশন টেবিলে পুরোপুরি অকর্মণ্য করে তুলল, আমি কিছুই গোপন করলাম না।

    সবকিছু শুনে আমার স্ত্রী হতবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “তুমি এটা বিশ্বাস কর?”

    আমি মাথা নেড়ে বললাম, “আমি বিশ্বাস করতে চাই না, কিন্তু তুমিই বলো আমি কেমন করে অবিশ্বাস করি?”

    আমার স্ত্রী খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “ভালোই হলো।”

    “কী ভাল হলো?”

    “তুমি বলে দিতে পারবে আমি বাঁচব কি বাঁচব না।”

    আমি চমকে উঠে বললাম, “কী বলছ তুমি?”

    “আমি খুব অসুস্থ।”

    “কী হয়েছে তোমার?”

    “লিউকিমিয়া।”

    আমি চমকে ওঠে বললাম “কী বলছ তুমি!”

    “হ্যাঁ। আমি অনেকদিন থেকে পরীক্ষা করাচ্ছি। ব্লাড স্যাম্পল সিঙ্গাপুর থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনা হয়েছে। পজিটিভ।”

    “আমাকে—আমাকে–তুমি এতদিন বলনি কেন?”

    আমার স্ত্রী হাসার চেষ্টা করে বলল, “এই তো বললাম। আগে থেকে বললে তুমি আগে থেকে দুশ্চিন্তা করতে।”

    “কিন্তু, কিন্তু–“

    “কিন্তু কী?”

    আমি কিছু না বলে হতবাক হয়ে আমার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমার স্ত্রী আমার গায়ে হাত বুলিয়ে নরম গলায় বলল, “তুমি জান এই লিউঁকিমিয়ার চিকিৎসা কী। কিমোথেরাপি। বড় কষ্ট এই চিকিৎসায় আমি জানি। যদি আমি বাঁচব না তাহলে এই কষ্টের। ভেতর দিয়ে আমি যেতে চাই না। জীবনের শেষ কয়টা দিন আমি একটু শান্তিতে কাটাতে চাই।”

    আমি বিস্ফারিত চোখে আমার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে রইলাম। সোজা হয়ে বসে বললাম, “কী বলছ তুমি এসব?”

    “ঠিকই বলছি। আমার স্ত্রী তার হাতটা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “নাও। আমাকে ধরো। ধরে তুমি তোমার আচাতন কুচাতন মন্ত্রটা বলো।”

    “না।”

    “তোমাকে বলতে হবে।”

    “না, কিছুতেই না।” আমি চিৎকার করে বললাম, কিছুতেই না। আমি এসব বিশ্বাস করি না।”

    “আমি করি। আমার স্ত্রী আমার দিকে ঝুঁকে পড়ে বলল, “ অবুঝ হয়ো না। প্লিজ। বলো, আমি বাঁচব কি বাঁচব না।”

    গল্পের ঠিক এ পর্যায়ে এয়ারপোর্টের পেজিং সিস্টেমে ঘোষণা দেওয়া হলো সিলেটগামী প্যাসেঞ্জাররা যেন ডিপারচার লাউঞ্জে এসে হাজির হয়। প্লেনটা এক্ষুনি ছাড়বে। ডাক্তার মাহবুব খন্দকার গল্প থামিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। আমিও ব্যাগ নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম, জিজ্ঞেস করলাম, “তারপর?”

    তারপর দেখতেই পাচ্ছেন। ওয়াইফকে একটু বুঝিয়ে বাথরুমে গেলাম। হ্যাঁক স ছিল, ঘঁাচ করে বুড়ো আঙুলটা কেটে ফেললাম।”

    আমি শিউরে উঠে ভদ্রলোকের দিকে তাকালাম। ভদ্রলোক ব্যাগটা হাতে নিয়ে হাঁটতে শুরু করলেন। আমি পাশে হাঁটতে হাঁটতে বললাম, “আপনার স্ত্রী?”

    “সে ভালো আছে। পারফেক্ট। ফিট অ্যাজ এ ফিডল। লিউঁকিমিয়ার চমৎকার চিকিৎসা বের হয়েছে।” ভদ্রলোক আমার দিকে তাকিয়ে সহৃদয় ভঙ্গিতে হাসলেন।

    আমি একটা নিঃশ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করলাম, “আমার একটা প্রশ্ন রয়ে গেছে।”

    “বলুন।”

    “যখন আপনি বুড়ো আঙুলটা কাটলেন তখন শকসোটা কোথায় ছিল? কী হলো সেটার।”

    ডাক্তার মাহবুব আমার দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বললেন, “ সেটা আরেক কাহিনী। বিমানমন্ত্রীর আরেক শালির বিয়ে না হলে সেটা বলে শেষ করা যাবে না।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভূতের বাচ্চা সোলায়মান – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ৫ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }