Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    মানবেন্দ্র পাল এক পাতা গল্প996 Mins Read0
    ⤶

    নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে

    সেবার পুজোর সময়ে পুরী যাব বলে অনেক আগেই ট্রেনের রিজার্ভেশান করে রেখেছিলাম। কিন্তু পরে হোটেল বুক করতে গিয়ে কোথাও জায়গা পেলাম না। মহা মুশকিল!

    তবু যেহেতু টিকিট কাটা হয়ে গেছে তাই জয় জগন্নাথ বলে হাওড়া থেকে জগন্নাথ এক্সপ্রেসে চেপে বসলাম। আশা–পুরীতে নেমে পাণ্ডাদের ধরে কোথাও-না-কোথাও একটা জায়গার ব্যবস্থা করে নিতে পারব।

    পাণ্ডারা ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু সেসব জায়গা পছন্দ হলো না। আমি এখানে অন্তত এক মাস থাকব। জায়গাটা সমুদ্রের কাছে না হলেও চলবে। কিন্তু যাঁকা হওয়া চাই। এর আগে অনেক বারই পুরী এসেছি। সমুদ্রের ধারে অনেক হোটেলেই থেকেছি। কাজেই সব সময়ে সমুদ্র না দেখলেও চলবে। চাই একটু নতুনত্ব।

    তা পুরীর এক পাণ্ডা আমার জন্যে একটা বাসা ঠিক করে দিল। বাসাটা পুরী টাউন থেকে কোনার্কের দিকে দু কিলোমিটার মতো দূরে।

    জায়গাটা আমার বেশ পছন্দ হলো। যেরকমটি চেয়েছিলাম সেইরকম নিরিবিলি। সামনে দিয়ে কোনার্কে যাবার কংক্রিটের রাস্তা। মাঝে মাঝে কাজুবাদামের গাছ। বেশ কিছু বাংলো প্যাটার্নের বাড়িও আছে।

    আমার বাসাটিও একতলা। দুখানি ঘর। ছিমছাম। সঙ্গে একটি কাজের লোক। সকালে-বিকেলে দু মাইল রাস্তা হেঁটে সমুদ্রের ধারে বেড়িয়ে আসি। হাতে থাকে ছড়ি আর টর্চ।

    দিন সাতেকের মধ্যেই পাড়ার কয়েক জনের সঙ্গে আলাপ হয়ে গেল। সকলেই বাঙালী। একজন শুধু ওড়িয়া। তিনিও ভালো বাংলা বলতে আর বুঝতে পারেন। ভদ্রলোকের নাম মহেশ্বর মহাপাত্র। আমি কলকাতা থেকে আসছি আর একজন রিটায়ার্ড অধ্যাপক জেনে তিনি খুব খাতির করলেন। তাঁর বাড়িতেই রোজ সন্ধ্যেবেলা আড্ডা বসত। সকলেই বাঙালী প্রতিবেশী। সেখানে আমারও একটা চেয়ারের ব্যবস্থা হলো।

    প্রতিদিনই নানারকমের আলোচনা হতো। মহাপাত্রমশাই-ই এখানকার পুরনো বাসিন্দা। বাঙালী প্রতিবেশী পেয়ে খুব খুশি। কিন্তু এমন এক-এক জন উটকো লোক পাড়ায় এসে পড়ে, তাদের তিনি মোটেই সুনজরে দেখেন না। যেমন–

    বলেই একটু থামতেন। বাকিটা শেষ করতেন অন্যরা।

    ডান হাতের বুড়ো আঙুলটা পিছনের দিকে ঠেলে কোনো একজন অনুপস্থিত ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে কেউ বলতেন–ওঁর কথা বলছেন তো? উনি তো একটা পাগল!

    আর একজন বললেন–পাগল কেন হতে যাবে! আসলে সাধু-সন্নেসী মানুষ তো। তাই ওঁদের জীবনধারার সঙ্গে আমাদের মেলে না। সেইজন্যেই কারো সঙ্গে মেশেন না।

    অমনি আর একজন ফোঁস করে ওঠেন–সাধু না আরও কিছু সাধুর বেশে নিশ্চয় কোনো চোর-ডাকাত। যে-কোনোদিন দেখবেন আমার-আপনার বাড়ি ডাকাতি হয়ে যেতে পারে।

    ডাকাতির কথা শুনেই সবার মুখ চুন। কেননা ডাকাত পড়লে বাঁচাবার কেউ নেই। এখানে কাছেপিঠে কখনো পুলিশ দেখা যায় না। ওঁদের কথাবার্তা শুনে যেটুকু বুঝলাম তা এই মাস কয়েক হলো কাছেই একটা বাড়িতে একজন স্বামীজি গোছের লোক এসেছেন। যে বাড়িটি তিনি ভাড়া নিয়েছেন সেটা একটা পরিত্যক্ত বাড়ি। চারিদিকে ঝোপজঙ্গল। এত জায়গায় এত বাড়ি থাকতে ঐ বাড়িটাই কেন যে তার পছন্দ হলো এটাই রহস্য। বাড়িটা আবার নিজের পয়সায় সারিয়ে-সুরিয়ে বাসযোগ্য করে নিয়েছেন। কোনো ভাড়াটে নিজের গাটের পয়সা খরচা করে এমন করে সারায় নাকি?

    রোজ ভোর আর সন্ধ্যেবেলায় কাঁসর-ঘন্টা বাজিয়ে তিনি পুজো করেন। কি পুজো করেন কে জানে!

    তিনি বড়ো একটা বাড়ি থেকে বেরোন না। সারা দিন একা একা কি করেন কেউ জানে না। যদিও বা এক-আধবার বেরোতে দেখা যায়–তা তিনি কারও দিকে ফিরে তাকান না। এমনি দাম্ভিক!

    এ হেন একজন লোককে নিয়ে যে নানা কথা উঠবে তা তো স্বাভাবিক।

    কয়েক দিন পর আরও কিছু রটনা কানে এল। অনেকেই নাকি ঐ পথ দিয়ে যেতে যেতে শুনেছেন দিনে দুপুরে বা রাত্তিরে স্বামীজি কারো সঙ্গে ইংরিজিতে কথা বলছেন। কি কথা বলেন তার দু-একটা শ্রোতাদের কণ্ঠস্থ। যেমন–

    –No no dont go out

    .–Dont open the window.

    —No fcar. I am here.

    মজার ব্যাপার এই কথাগুলো তিনি এই বলেন। কারও উত্তর শোনা যায় না।

    এই থেকে অনেকের ধারণা হয়েছে লোকটা সত্যিই পাগল। কিংবা অন্য কোনো ব্যাপার।

    অন্য ব্যাপার আর কি হতে পারে যখন, যার সঙ্গে তিনি কথা বলছেন সে অদৃশ্য!

    শুনতে শুনতে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।

    –কি বলতে চাইছেন মহাপাত্রমশাই? আমি জিজ্ঞেস করি।

    উনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, কি বলতে চাই এখনো বুঝতে পারছেন না? উনি কোনো তান্ত্রিক কিংবা ওঝা। বাড়িতে ভূত পুষে রেখে দিয়েছেন। দরকার বুঝলেই আমার-আপনার পিছনে ভূত লেলিয়ে দেবেন।

    সবাই শুনে স্তম্ভিত। এতটা কেউই ভাবেননি।

    আমি অবশ্য কিছু না বলে হাসলাম। ভূত কুকুর-বেড়াল কিনা যে ঘরে পুষে রাখবে!

    যাই হোক, খুব কৌতূহল হলো। ঠিক করলাম একদিন স্বামীজির সঙ্গে দেখা করবই।

    .

    ঝোপের মধ্যে প্রায়-লুকনো পুরনো একতলা ছোট্ট বাড়িটা দেখেই মনে হলো, এ বাড়িতে যিনি শখ করে থাকতে পারেন তিনি আর যাই হোন সাধারণ মানুষ নন।

    তখন বিকেল চারটে। এরই মধ্যে জায়গাটা যেন রহস্যময় অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে গেছে।

    দরজায় কড়া নাড়তেই স্বামীজি দরজা খুলে সামনে এসে দাঁড়ালেন।

    লম্বা, ফর্সা চেহারা। শক্ত শরীর। বড়ো বড়ো সুন্দর চোখ। ন্যাড়া মাথা। গায়ে গেরুয়া ফতুয়া, পরনে গেরুয়া রঙে ছোবানো ধুতি লুঙ্গির মতো করে পরা। গলায় রুদ্রাক্ষের মালা। পায়ে কাঠের খড়ম।

    এক নজর ঘরটা দেখে নিলাম। দেওয়ালের কোলঙ্গায় পর্দার মতো লাল সালুর আড়ালে তাঁর ছোট্ট ইষ্ট দেবতা। সে দেবতা কে দূর থেকে তা বোঝা গেল না। সামনেই ঘণ্টা, শাঁখ। ওদিকের দেওয়ালের কোণে মস্ত একটা ঝকঝকে ত্রিশূল। দেখে ভয় হয়। ঐ ত্রিশূল দিয়ে স্বচ্ছন্দে মানুষ মারা যায়।

    স্বামীজিকে বিনম্র নমস্কার করলাম। তিনিও গম্ভীরভাবে প্রতি-নমস্কার করলেন। আমায় দেখে এতটুকু অবাক হলেন না।

    গুরুগম্ভীর স্বরে আসুন বলে তিনি আমায় ঘরে নিয়ে এসে আসন পেতে বসতে দিলেন।

    দেখলাম এ ঘরে তেমন কোনো আসবাবপত্র নেই শোবার চৌকিটি ছাড়া।

    –তা হলে আপনিই শেষ পর্যন্ত আমার কাছে এলেন।

    আমি অবাক হয়ে বললাম, আমাকে এর আগে দেখেছেন নাকি?

    উনি একটু হাসলেন। বললেন, সবাইকেই দেখি, সবাইকেই চিনি। কে কি বলে তাও জানি। আপনার নাম তো অনিমেষ চৌধুরী?

    –আজ্ঞে হ্যাঁ।

    কলকাতা থেকে আসছেন? রিটায়ার্ড প্রফেসার?

    আমি তো স্তম্ভিত।

    উনি একটু হেসে বললেন, অবাক হবার কিছু নেই। আমি ঘর থেকে কম বেরোলেও মোটামুটি পাড়ার খবর রাখি।

    একটু থেমে বললেন, আপনি জানতে এসেছেন সত্যিই এখানে ভূত আছে কিনা। তাই তো?

    আমতা-আমতা করে বললাম, লোকে নানা কথা বলে। তাই

    –ভালোই করেছেন। আড়ালে গুজগুজ-ফুসফুস না করে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করাই উচিত। আপনার ভদ্রতা, আপনার সৎসাহসের প্রশংসা করি। দাঁড়ান, আসছি।

    বলে তিনি ভেতরে উঠে গেলেন।

    একটু পরে একটা সাদা পাথরের গেলাসে বেলের সরবৎ নিয়ে এলেন।

    –আমার এখানে চায়ের পাট নেই। সামান্য একটু

    বলে গেলাসটা আমার সামনে রাখলেন।

    সরবৎ খাওয়া হলে তিনি বললেন, তাহলে আপনি আমার কথা সত্যিই শুনতে চান?

    যদি অনুগ্রহ করে বলেন, তাহলে কৌতূহল মেটে।

    –অবশ্যই বলব। তবে একটা শর্ত

    বলুন।

    যে কথা বলব তা এখানে কারো কাছে গল্প করবেন না। কথা দিন।

    দিলাম।

    তারপর উনি শুরু করলেন ওঁর কথা। প্রথমেই বললেন, আমি বরাবরই যে সাধুজীবন যাপন করছি তা নয়। আমিও একদিন ঘোর সংসারী ছিলাম। তারপর শোকে-তাপে বিপর্যস্ত হয়ে সব ছেড়ে দেশে দেশে ঘুরে বেড়াতে লাগলাম।

    শুনে অবাক হবেন, তীর্থ দর্শনের চেয়ে দেশে যেখানে যত বড়ো বড়ো কবরস্থান আছে সেসব জায়গাতেই যেতে পছন্দ করতাম।

    জিজ্ঞেস করলাম কেন? আপনি কি ভূত-প্রেত নিয়ে গবেষণা করেন?

    উত্তরে উনি হাসলেন একটু। বললেন না। ভূত-প্রেতে আমার কোনো বিশ্বাসই ছিল না। আমি শুধু কবরের গায়ে লাগানো পাথরের ফলকের ওপর খোদা লেখাগুলো পড়তাম। কার কি নাম, কবে, কোথায় মারা গেছে ইত্যাদি। পড়তাম আর কল্পনা করতাম কতজনকে দিয়ে এরা একদিন চোখ বুজেছিল। আবার, যারা সেদিন কেঁদেছিল তারাও হয়তো আজ আর কেউ নেই।

    স্বামীজি আবার একটু থামলেন। তারপর বললেন, আসল কথা কি জানেন অনিমেষবাবু? আমি নিজে শোকা স্বামী, শোকার্ত পিতা। তাই অন্যের শোক অনুভব করতে পারতাম। তা সে চেনাই হোক আর অচেনাই হোক।

    একটু থেমে বললেন, কলকাতায় গেলে আমার সবচেয়ে বেশি আকর্ষণের জায়গা ছিল পার্ক স্ট্রীটের পুরনো সিমেট্রিটা। ঐ পুরনো কবরখানাটা আপনি দেখেছেন?

    দেখেছি। বাইরে থেকে।

    বাইরে থেকে কিছু বোঝা যাবে না। ভেতরে যাবেন। পাঁচিল ঘেরা বিরাট জায়গা জুড়ে কত-না গাছ। বোধহয় আমগাছই বেশি। তারই ঠাণ্ডা হয়ার নিচে নানারকমের মনুমেন্ট। তারই তলায় ঘুমিয়ে আছে কত মানবাত্মা। তারা ওখানেই শুয়ে আছে প্রায় দেড়শো বছর ধরে। অদ্ভুত জায়গা। যদি যান দেখবেন শান্তি পাবেন।

    তা আমি সেখানে প্রায়ই যেতাম। আর ঘুরে ঘুরে পাথরের মনুমেন্টের গায়ে লেখাগুলো পড়ে মনে মনে সেই মৃত মানুষদের সঙ্গে আলাপ করে নিতাম। উঠে আসতে ইচ্ছে করত না। কিন্তু পাঁচটার পরই গেট বন্ধ হয়ে যায়। ওখানে তখন আর কারও থাকার অধিকার নেই। এখন অবশ্য মানুষের -ডর-বিবেকবোধ কমে যাচ্ছে। তাই নিষ্ঠুর, লোভী এক শ্রেণীর মানুষ রাতের অন্ধকারে পাঁচিল টপকে ভেতরে ঢুকে কবরের ওপরের দামী দামী পাথরের ফলক ভেঙে নিয়ে যায়। প্রচুর টাকায় সেগুলো বিক্রি করে।

    আমি খুব দ্রুত কথা বলছি, আপনার বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না তো?

    –কিছুমাত্র না। আপনি বলে যান।

    –এখানে প্রায়ই আসতে আসতে সিমেট্রির দারোয়ানের সঙ্গে আমার বেশ আলাপ হয়ে গিয়েছিল। লোকটি খুব ভালো। তবে মাঝে মাঝে ওর কাছে একজন অন্যদেশীয় লোক আসত। যেমন লম্বা তেমনি চওড়া চেহারা। তার পরনে থাকত কালোরঙের কুর্তা আর ঢিলে পাঞ্জাবি। মাথায় পাগড়ী। চোখদুটো ছিল সাপের চোখের মতো হিংস্র। তাকে আমার মোটেই ভালো লাগত না। সেও যে আমায় পছন্দ করত না তা তার চাউনি দেখেই বুঝতে পারতাম। কিন্তু কেন লোকটা আমায় পছন্দ করত না তা আমি জানি না।

    একদিন কবরখানায় ঘুরতে ঘুরতে একটা মনুমেন্টের কাছে এসে তার গায়ে লেখাটা পড়লাম।

    ১৮০১ সালে মেরিয়া লুইসা নামে কোনো একটি চোদ্দ বছরের মেয়ে প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল। তার বাবা এখানে একজন উচ্চপদস্থ কর্মচারী ছিলেন।

    মাত্র চোদ্দ বছরের মেয়ে! আহা!

    সঙ্গে সঙ্গে আমার নিজের মেয়েটার কথা মনে পড়ল। সেও চোদ্দ বছর বয়েসে মারা গিয়েছিল। আমার মনে হলো আমার মেয়েই যেন এখানে শান্তিতে শুয়ে আছে।

    তারপর থেকে কলকাতায় এলেই আমি মেরিয়া লুইসার কবরের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতাম।

    স্বামীজি এবার উঠে ঘরে আলো জ্বেলে দিলেন।

    তারপর বলতে লাগলেন–একদিন বসে থাকতে থাকতে বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সামান্য একটু শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। দেখলাম সুন্দরী একটি মেয়ে কবরের ফলকের আড়ালে দেখা দিয়েই মুহূর্তে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    কী ব্যাপার! তখনই উঠে দাঁড়িয়ে চারিদিকে খুঁজলাম। কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না।

    অথচ আমি তাকে পরিষ্কার দেখেছি। ফর্সা টকটকে রঙ, কাঁধ পর্যন্ত পশমের মতো নরম কটা চুল, পরনে স্কার্ট, বয়েস বছর চোদ্দ। মুখে করুণ হাসি।

    কে এই মেয়ে? মেরিয়া লুইসা নয়তো? এতকাল পরেও তার আত্মা কি নতুন দেহ ধারণ করেনি?

    এ কী রহস্য!

    স্বামীজি একটু থামলেন। আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। আমি নড়ে চড়ে বসলাম।

    –তারপর থেকে যখনই আমি পার্ক স্ট্রীটের ঐ কবরখানায় আসি, ওখানেই আমি ব্যাকুল হয়ে বসে থাকি, যদি আর একটিবার তার দেখা পাই।

    স্বামীজি আবার একটু থামলেন। দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন, অনিমেষবাবু, আপনার শুনতে ইচ্ছে করছে তো?

    বললাম–নিশ্চয়।

    –একদিন অমনি বসে আছি, হঠাৎ পিছনে শুকনো পাতার ওপর খসখস শব্দ। কেউ যেন এদিকে আসছে।

    চমকে ফিরে দেখলাম সেই ভিনদেশী ভয়ংকর লোকটা আমার পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে। আমায় কর্কশ গলায় হিন্দিতে জিজ্ঞেস করল–তুমি এখানে রোজ কি করতে আস?

    তার বলার ভঙ্গিতে আমারও রাগ হলো। বললাম–আমি কেন আসি তা তোমায় বলতে যাব কেন?

    ও বলল, তোমার মতলব আমি বুঝি। তবে তুমি যা ভাবছ তা হতে দেব না। সাবধান!

    বলে সে চলে গেল।

    আমি তো অবাক। আমার আবার মতলব কি? আমি শুধু মেয়েটিকে দেখতে চাই।

    ওখান থেকে বেরিয়ে আসার সময়ে দারোয়ানকে সব কথা বলে জিজ্ঞেস করলাম–লোকটা কে হে?

    দারোয়ান বলল, কিছুদিন ধরে আসছে। আমার সঙ্গে গল্প করে। ভেতরে ঘুরে বেড়ায়। ওঝার মতো ভূত-প্রেত নামায়, বশ করে।–এইসব তো বলে। আমার বিশ্বাস হয় না। তবে লোকটাকে আমারও ভালো লাগে না।

    –তা হলে লোকটাকে ঢুকতে দাও কেন?

    দারোয়ান খৈনী টিপতে টিপতে বলল, কি করব? যে কেউই তো ঢুকতে পারে। তবে পাঁচটা পর্যন্ত।

    তারপর আর কয়েক দিন এসে কলকাতার বাইরে চলে যাই। অনেক দিন আর আসা হয়নি।

    এই পর্যন্ত বলে তিনি থামলেন। বললেন, সন্ধ্যে হয়ে গেছে। আমার নিত্যকর্মটি সেরে নিই।

    স্বামীজি উঠে গেলেন। তারপর প্রায় পনেরো মিনিট ধরে শাঁখ-ঘন্টা বাজিয়ে পুজো করে ফিরে এসে আবার বলতে শুরু করলেন।

    তিনি এরপর যা বলে গেলেন তা এইরকম—

    প্রায় বছরখানেক পর স্বামীজি আবার একদিন সেই সমাধিক্ষেত্রে এলেন।

    শীতকাল।

    বেলা তখন প্রায় দুটো। রোদের তেমন তেজ নেই। দারোয়ান সে সময়ে ছিল না। হয়তো বিড়ি-টিড়ি কিনতে গিয়েছিল।

    স্বামীজি তাড়াতাড়ি মেরিয়া লুইসার সমাধির কাছে এগিয়ে গেলেন। লুইসাকে দেখার জন্যে তিনি ব্যাকুল। কিন্তু যা দেখলেন তাতে তার চক্ষুস্থির! সমাধিটা ভেঙে তছনছ। দামী পাথরের ফলক উধাও।

    তিনি তখনই ছুটে এলেন দারোয়ানের কাছে। তখন দারোয়ান ফিরে এসেছে। তাকে জিজ্ঞেস করে স্বামীজি জানলেন কয়েকদিন আগে রাত্রে চোর এসে সমাধি ভেঙে পাথর নিয়ে চলে গেছে।

    স্বামীজি বিমর্ষমুখে আবার সেই ভাঙা সমাধির কাছে এসে বসলেন।

    কতক্ষণ বসে রইলেন। তারপর ক্রমে সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ল। একে শীতকালের বেলা, তার ওপর গাছে ঢাকা সমাধিক্ষেত্র। দেখতে দেখতে অন্ধকার হয়ে এল। তিনি উঠব-উঠব করছেন, হঠাৎ দেখলেন সেই মেয়েটি একটা গাছের আড়াল থেকে চোখ মুছতে মুছতে তার দিকে আসছে। অল্প ঘষা কাচের মধ্যে দিয়ে কাউকে যেমন আবছা দেখা যায়, একেও তেমনি দেখা যাচ্ছিল।

    লুইসা!

    মেয়েটি খুব নিচু গলায় ইংরিজিতে অল্প কয়েকটি কথা বলল।

    –থাকবার জায়গা ভেঙে দিয়েছে।

    –ঘুরে বেড়াচ্ছি।

    –একটা শয়তান আমার পিছনে লেগেছে।

    –ভয় পাচ্ছি…

    স্বামীজি স্পষ্ট তার কথা শুনে অবাক। একটু সামলে নিয়ে বললেন, আমি ছিলাম না…আজই এসেছি…কালই তোমার জায়গা নতুন করে গেঁথে দেবার ব্যবস্থা করব।

    এমনি সময়ে দারোয়ান হাঁকল–বাবুজি! পাঁচটা বাজল।

    -হ্যাঁ, যাই। স্বামীজি চেঁচিয়ে সাড়া দিলেন।

    –শোনো লুইসা, ভয় পেও না। আমি কালই ব্যবস্থা করব।

    উত্তরে মেয়েটি বোধহয় নিশ্চিন্ত হতে পারল না। দুবার মাথা নেড়ে যেন বোঝাতে চাইল–এখানে আর থাকতে পারবে না। তারপর মিলিয়ে গেল।

    সিমেট্রি থেকে চিন্তিত মনে বেরিয়ে এলেন স্বামীজি। হঠাৎ একটা কনকনে বাতাস মুহূর্তের জন্যে তাকে কাঁপিয়ে দিয়ে গেল। তিনি অবাক হলেন। যদিও এটা পুরোদস্তুর শীতকাল তবু মুহূর্তের জন্যে এমন ঠাণ্ডা বাতাস বইল কেন?

    তিনি হাঁটতে লাগলেন পার্ক স্ট্রীট ধরে। পার্ক স্ট্রীট থেকে ঢুকলেন রডন স্ট্রীটে।

    জায়গাটা খুবই নির্জন। স্বামীজি হনহন করে হাঁটছেন তাঁর বাসার দিকে। এরই মধ্যে বেশ অন্ধকার হয়ে এসেছে। হঠাৎ মনে হলো কেউ যেন তার পিছন পিছন আসছে। তিনি তখনই ঘুরে দাঁড়ালেন।

    না, কেউ নেই।

    কেন কে জানে তিনি একটু সাবধান হলেন।

    এরকম হলো আরও দুবার। তিনি স্থির বুঝলেন, কেউ তার পিছু নিয়েছে। কিন্তু তাঁর মতো নিঃস্ব মানুষ–যাঁর টাকাপয়সা কিছুই নেই, তার পিছু নেবার কারণ কি?

    আবার সেই পায়ের শব্দ–এবার বেশ স্পষ্ট। তিনি তৎক্ষণাৎ ঘাড় ঘোরালেন। দেখলেন বেশ দূরে একটা লম্বা মতো লোক। হ্যাঁ, কবরখানার সেই লোকটাই সতর্কভাবে তাঁকে অনুসরণ করছে।

    কিন্তু…সে তো বেশ দূরে রয়েছে। খুব কাছে পরপর তিন বার সেটা তবে কার পায়ের শব্দ?

    তিনি আর ভাবতে পারলেন না। তাঁর মতো মানুষেরও কিরকম ভয় করতে লাগল। তিনি আরও জোরে হাঁটতে লাগলেন যাতে তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছতে পারেন।

    এক সময়ে তিনি বাড়ি এসে পৌঁছলেন। তাড়াতাড়ি তালা খুলে ভেতরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিলেন। আলো জ্বাললেন। জানলাগুলো খোলা ছিল, চটপট বন্ধ করে দিলেন।

    তারপর রাত নটার পর সামান্য কিছু খেয়ে যখন মশারি টাঙিয়ে শুতে যাবেন, দেখলেন মশারির বাইরে ছায়া-ছায়া মূর্তি নিয়ে মেয়েটি দাঁড়িয়ে।

    স্বামীজি চমকে উঠে বসলেন।

    আরে সব্বনাশ! ও কি করে এখানে এল? তা হলে কবরখানা থেকে বেরিয়ে সেই যে কয়েকবার হালকা পায়ের শব্দ পাওয়া গিয়েছিল সেটা এরই।

    –তুমি এখানে?

    –তোমার সঙ্গে সঙ্গেই তো আসছি।

    –কেন?

    –বাঃ রে! আমি থাকব কোথায়? ওখানে চোরে আমার ঘর ভেঙেছে, শয়তান ফাঁদ নিয়ে আমায় ধরার জন্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তুমি ছাড়া আমার তো আর কেউ নেই!

    স্বামীজি মাথা চুলকে বললেন, কিন্তু তুমি মৃত, আমি জীবিত। একসঙ্গে থাকা সম্ভব কি করে?

    মেয়েটি একটু হাসল। বলল–No problem uncle.

    –তবু–স্বামীজি চিন্তা করতে লাগলেন।

    –বেশ, তবে থাকো। কিন্তু থাকবেটা কোথায়?

    তার উত্তর না দিয়ে কিশোরীটি রিরিনে গলায় বলল, আমাকে নিয়ে থাকতে তোমার কি ভয় করবে?

    স্বামীজি ঢোঁক গিলে বললেন, না না, তোমাকে আর ভয় কিসের? তুমি তো আমারই মেয়েটার মতো।

    না আঙ্কেল, মৃত আত্মাকে সকলেই ভয় পায়। আমি আমার দাদাকে খুব ভালোবাসতাম। মরে গিয়েই দাদাকে দেখা দিলাম। ও তখন কাঁদছিল। কিন্তু আমাকে দেখেই ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেল।

    স্বামীজি তখন বোধ হয় অন্য কথা ভাবছিলেন। সেই একই সমস্যার কথা তুললেন।

    –তুমি থাকবে কোথায়?

    –আমার শোবার জায়গা আমি করে নিচ্ছি। বলে মেয়েটি সুরুৎ করে চৌকির নিচে চলে গেল।

    এ এক অদ্ভুত অবস্থা। যে চৌকিতে স্বামীজি শুয়ে রয়েছেন তারই নিচে একটি প্রেতাত্মা। হোক সে কিশোরী তবু তো সে মানুষ নয়। তার দাদাও বোনকে দেখে ভয় পেয়েছিল।

    অনেকক্ষণ ঘুমোতে পারেননি স্বামীজি। বারে বারেই চৌকির নিচে উঁকি দিয়ে দেখেছেন। না, কিছু নেই। ফাঁকা–যেমন ছিল। শুধু জায়গাটা বরফের মতো ঠাণ্ডা।

    .

    কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলেন খেয়াল ছিল না। হঠাৎ কিসের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। শব্দটা আসছে মাথার দিকের জানলার কাছ থেকে। তিনি মশারির ভেতর থেকেই টর্চ জ্বাললেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শরীরের পেশীগুলো শক্ত হয়ে উঠল।

    দেখলেন কবরখানার সেই ভয়ংকর লোকটা দুহাতে জানলার শিকগুলো উপড়ে ফেলবার চেষ্টা করছে…

    স্বামীজি লাফ দিয়ে উঠে দেওয়ালের কোণ থেকে তাঁর ত্রিশূলখানা নিয়ে ছুঁড়ে মারলেন। জানলার শিকে লেগে ত্রিশূলটা ঝনঝন্ করে মাটিতে পড়ে গেল। আর ধুপধাপ শব্দ করে লোকটা ছুটে পালাল।

    এরপরেও বার তিনেক ঐ ঘরে ঢোকবার চেষ্টা করেছিল লোকটা–যাকে লুইসা বলে শয়তান। কিন্তু ঘরে ঢুকতে পারেনি। সবসময়ে স্বামীজি বাড়ি পাহারা দিয়েছেন।

    কদিন পর স্বামীজি কলকাতা থেকে চলে এলেন বর্ধমান। বর্ধমান থেকে রানীগঞ্জ, আসানসোল, গোমো, তিনপাহাড়। যেখানেই তিনি লুইসাকে নিয়ে পালাচ্ছেন সেখানেই শয়তানটা ধাওয়া করছে। সুইসাকে সে ধরবেই। কি করে সে সন্ধান পাচ্ছে সেটাই আশ্চর্য!

    শেষে এখন পুরীর এই নির্জন জায়গায় আত্মগোপন করে আছেন স্বামীজি। তাঁর আশা–শয়তানটা এখানে ওঁদের কিছুতেই খুঁজে পাবে না।

    কথা শেষ করে স্বামীজি থামলেন। আমি বিস্ময়ে স্তম্ভিত।

    মেয়েটি কি এখনও এখানে আছে? স্বামীজি একটু হাসলেন। বললেন, আছে বৈকি। তার তো আর কোথাও যাবার জায়গা নেই।

    –কোথায় আছে?

    –ঐ ঘরে। বলে আঙুল দিয়ে পাশের ঘরটা দেখিয়ে দিলেন।

    আমি ঘরটার দিকে তাকালাম।

    দেখতে চান ঘরটা?

    বিনীতভাবে বললাম–খুব ইচ্ছে করছে।

    স্বামীজি নিয়ে গেলেন পাশের ঘরে। ঘরটা সন্ধ্যের পরও অন্ধকার।

    আমার মনের কথা আন্দাজ করে স্বামীজি বললেন, ও অন্ধকারেই থাকতে ভালোবাসে।

    তিনি ঘরে ঢুকেই সবুজ আলোটা জ্বেলে দিলেন। আমি এক পা এগোতেই ধূপের গন্ধর সঙ্গে এক ঝলক কনে বাতাসের ধাক্কা খেলাম। বুঝলাম, সে আছে।

    একটা চৌকিতে সাদা ধবধবে চাদর পাতা। চাদরটা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে মেঝে পর্যন্ত।

    –এগিয়ে আসুন।

    আমি পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলাম। আমার হাত দুটো আপনা থেকেই শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্যে জড়ো হয়ে গেল।

    –লুইসা, জেগে আছ?

    কয়েক মুহূর্ত নিস্তব্ধতা। তারপর বিছানার চাদরটা একটু কেঁপে উঠল।

    সুইসা, আমার এক নতুন বন্ধু তোমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। ইনি খুব ভালো লোক।

    সঙ্গে সঙ্গে বিছানার চাদরটার ওপর দিয়ে যেন ঢেউ খেলে গেল। স্বামীজি নিচু গলায় বললেন, আপনি দেখতে এসেছেন জেনে ও খুব খুশি।

    কিন্তু তারপরেই চাদরটা যেন এক অদৃশ্য ঝড়ের ধাক্কায় এলোমেলো হয়ে গেল।

    স্বামীজি সভয়ে বলে উঠলেন–কি হলো লুইসা?

    উত্তর শোনা গেল না বটে কিন্তু চাদরটা ওলোট-পালোট হয়ে গেল।

    লক্ষ্য করলাম স্বামীজির মুখে ছায়া নেমেছে।

    বললেন, যে কোনো কারণেই হোক ও ভয় পেয়েছে। কিন্তু বুঝছি না। হঠাৎ কিসের ভয়?

    আমি আর দেরি না করে বিদায় চাইলাম।

    স্বামীজি বললেন, টর্চ এনেছেন তো?

    বললাম–হুঁ।

    –আমি আপনাকে এগিয়ে দিতে পারছি না বলে দুঃখিত। বোধ হয় সেই শয়তানটা এখানেও এসেছে। কাছেই কোথাও আছে। সাবধানে যাবেন।

    খুব ভয়ে ভয়েই সেদিন নিজের আস্তানায় ফিরে এলাম।

    পরের দিন বেলা দশটা নাগাদ স্বামীজির সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। কালকের ব্যাপারটা ভুলতে পারিনি। একবার খবর নেওয়া দরকার।

    গিয়ে দেখলাম স্বামীজি খুবই ব্যস্ত। জিনিসপত্র বাঁধাছাদা করছেন। আমায় দেখে হাসলেন একটু।

    –আসুন।

    –কি ব্যাপার?

    –এখান থেকেও উঠতে হলো।

    –সে কী!

    স্বামীজি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, ঐ লোকটির সঙ্গে যে আমি পেরে উঠব না কাল রাত্তিরে তা হাড়ে হাড়ে বুঝেছি। লোকটি শুধুমাত্র একজন ওঝা বা ঐ ধরনের কিছু নয়। আমার ধারণা যদি ভুল না হয় তাহলে সে রীতিমতো প্রেতসিদ্ধ। এদের অসীম ক্ষমতা। এরকম লোক আগে দেখা যেত। তাদের পিশাচসিদ্ধও বলা হতো। শ্মশানে, গোরস্থানে ঘুরে বেড়াত মৃত আত্মার সন্ধানে। এরা আত্মা চালান পর্যন্ত করতে পারত।

    আমি অবাক হয়ে বললাম–সেটা আবার কি জিনিস?

    –আমিও সঠিক জানি না। যতদূর জানি, এইসব প্রেতসিদ্ধরা একজনের মৃতদেহে অনন্যর আত্মা ধরে এনে ঢুকিয়ে দিতে পারত। মৃতদেহ বেঁচে উঠত। চেহারায় এক মানুষ–কিন্তু মনে-প্রাণে অন্য। সে এক বিশ্রী ব্যাপার।

    একটু থেমে বললেন, আমার মনে হয় এ লোকটাও সেই সম্প্রদায়ের। এত দিন পরেও সুইসার আত্মা নতুন জন্ম পায়নি, এটা স্বচক্ষে দেখে ওকে ধরবার জন্যে পিছু নিয়েছে। মেয়েটাও খুব ভয় পাচ্ছে। এখন তো দেখলাম লোকটা তার দুর্দান্ত শক্তির বলে এখানেও আমাদের সন্ধান পেয়েছে। কাজেই পালাতে হচ্ছে। জানি না শেষ পর্যন্ত কোথায় এমন নিরাপদ আশ্রয় পাব যেখানে লোকটা মাথা গলাতে পারবে না।

    বেশিক্ষণ থাকিনি। চলে আসবার সময়ে স্বামীজিকে আমার দেশের ঠিকানা দিয়ে এলাম। বললাম–যদি সম্ভব হয় মাঝে মাঝে চিঠি দিয়ে আপনার আর লুইসার খবর জানাবেন।

    উনি সম্মত হলেন।

    .

    বছর তিনেক কেটে গেছে।

    মাঝে মাঝে স্বামীজির চিঠি পাই। তিনি লুইসাকে নিয়ে লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত। কিন্তু পিছনে লেগেই আছে সেই প্রেসিদ্ধ লোকটা। যেখানে স্বামীজি যাচ্ছেন, সেখানেই সে। তাই স্বামীজির চিঠির ছত্রে ছত্রে শুধু ভয় কি করে, কোন নিরাপদ আশ্রয়ে গেলে মেয়েটা রক্ষা পাবে।

    স্বামীজির কথা রেখেছি। কাউকে বলিনি তার কথা। তা ছাড়া কেইবা বিশ্বাস করবে কেউ একজন একটি কিশোরীর বিদেহী আত্মা সঙ্গে করে পথে পথে দেশে দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন উদ্ভ্রান্ত হয়ে?

    তারপর একদিন

    ব্যান্ডেল চার্চে বেড়াতে গিয়েছি। হঠাৎ দেখা স্বামীজির সঙ্গে।

    উনি আমায় আবেগে জড়িয়ে ধরলেন।

    বললাম–আপনি এখানে?

    উনি বললেন, চলুন গঙ্গার ধারে গিয়ে বসি।

    দুজনে নিরিবিলি গঙ্গার ধারে এসে বসলাম। উনি অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, লুইসাকে আজ এতদিন পর ছেড়ে দিলাম।

    আমি চমকে উঠলাম।

    উনি শান্তভাবে বললেন, ভেবে দেখলাম এভাবে চলতে পারে না। সেই লোকটা আমাদের দুজনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। লুইসাও ভয় পাচ্ছিল। ও বুঝতে পারছিল, আমার কাছেও ও নিরাপদ নয়। তাই অনেক ভেবে আজ ওকে মা মেরীর কাছে সমর্পণ করে এলাম। মা মেরী তো শুধু যীশুখৃস্টের মা নন, চরাচরে সমস্ত মানুষের মা। তার কোলের চেয়ে নিরাপদ আশ্রয় আর তো কোথাও নেই অনিমেষবাবু। লুইসাও খুব খুশি।

    এই বলে স্বামীজি চুপ করলেন। আর একটি কথাও বললেন না।

    সন্ধ্যার অন্ধকার ঘন হয়ে এল।

    আমি ডাকলাম–স্বামীজি!

    বলুন।

    –এবার আমি উঠি। অনেক দূর যেতে হবে।

    –আসুন। সংক্ষিপ্ত উত্তর দিলেন স্বামীজি।

    –আপনি উঠবেন না?

    –না। কোথায় আর যাব? ভাবছি এখন থেকে এখানেই কোথাও পড়ে থাকব। তবু তো মেয়েটার কাছাকাছি থাকতে পারব। বলতে বলতে উনি হাত দিয়ে চোখের জল মুছলেন।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভৌতিক অমনিবাস ২ – মানবেন্দ্র পাল
    Next Article অশরীরী আতঙ্ক – মানবেন্দ্র পাল

    Related Articles

    মানবেন্দ্র পাল

    অশরীরী আতঙ্ক – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    মানবেন্দ্র পাল

    ভৌতিক অমনিবাস ২ – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }