Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভৌতিক অলৌকিক ১ – সম্পাদনা : বিশ্বরূপ মজুমদার

    বিশ্বরূপ মজুমদার এক পাতা গল্প142 Mins Read0
    ⤶

    ভিত্তিহীন – মৃণাল নন্দী

    হন্তদন্ত হয়ে বাইকটা গ্যারাজে রেখে বাড়িতে ঢুকতে না ঢুকতেই রান্নাঘর থেকে মায়ের গলার আওয়াজ ভেসে এল টুংটাং বাসনের শব্দ ছাপিয়ে, “ফিরলি খোকা?”

    —“হ্যাঁ।”

    —“এত রাত পর্যন্ত বাড়ির বাইরে কী করিস বল তো? সেই কখন বেরিয়েছিস সন্ধেয়! এতক্ষণ না-খেয়ে থাকলে পেটে পিত্তি পড়ে আলসার টালসার বাধাবি যে! পাশের ফ্ল্যাটের রমাকান্তের অবস্থা দ্যাখ। তোর মতোই বয়স। কিন্তু তিন সপ্তাহই মাসে শয্যাশায়ী থাকে পেটের রোগে। যা তাড়াতাড়ি হাত ধুয়ে আগে খেতে বোস।”

    তমাল কোনও উত্তর দিল না। এসময় মায়ের কথার উত্তর দিয়ে কোনও লাভও নেই। চুপচাপ হাত পা ধুয়ে জামাকাপড় বদলে খাবার টেবিলে ভালো ছেলের মতো বসে পড়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তমাল তাই সটান নিজের রুমে গিয়ে অ্যাটাচড বাথরুমে ঢুকে পড়ল। কিন্তু সেখান থেকে পরিষ্কার হয়ে বেরিয়েই একটু চমকে গেল। মা তমালের বিছানার ওপর গুটিসুটি মেরে বসে আছে। কী হল আবার! এই মাত্রই তো রান্নাঘর থেকে ভাষণ দিচ্ছিল।

    তমাল খেয়াল করল তার রুমের দরজাও ভেতর থেকে বন্ধ। কোনও কিছুর ভয়ে মায়ের মুখ কাগজের মতো সাদা হয়ে গেছে, আর থরথর করে কাঁপছে বিছানার ওপর বসে। মায়ের নজর বন্ধ দরজার ওপর স্থির হয়ে আছে।

    বেশ অস্বাভাবিক ব্যাপার। মাকে তো আগে কখনও এরকম ভয় পেতে দেখেনি। তাহলে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে কী এমন হল যে মা রান্নাঘর থেকে কাজকর্ম ছেড়ে তার রুমে চলে এল? তমাল জিজ্ঞেস করল, “কী হল?”

    সঙ্গে সঙ্গে রমাদেবী তমালের দিকে ফিরে মুখে আঙুল চাপা দিয়ে ফিস ফিস করে বলে উঠলেন, “চুপ, একদম চুপ।”

    তমাল তাড়াতাড়ি গিয়ে মায়ের পাশে বসল। তারপর চাপা গলায় জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে?”

    রমাদেবী কেমন উদভ্রান্তের মতো তাকালেন তার দিকে, তারপর দরজার দিকে তাকিয়ে যেন কিছু মনে পড়ে গিয়ে আবার চমকে উঠলেন। কাঁপা কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলে উঠলেন, “ওই, ওই, ওখানে।”

    তমালও সেদিকে দেখল, কিন্তু দরজা তো বন্ধ। তাই ওপারের কিছুই দৃষ্টিগোচর হল না। তাহলে কি আরশোলা, টিকটিকি বা ইঁদুর-বাদুড় ধরনের কিছু ঢুকেছে রান্নাঘরে? কিন্তু মায়ের তো এসব কিছুতেই তেমন ভীতি কখনও ছিল না। তাহলে এত আতঙ্কিত হওয়ার কারণ কী?

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা কৌতুক বই
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    ই-বই পড়ুন
    কৌতুক সংগ্রহ
    Books
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা বই

     

    কিছুটা ধৈর্য হারিয়েই বলে উঠল সে, “কী আছে ওখানে?”

    রমাদেবী ভয়ার্ত কণ্ঠে উত্তর দিলেন, “জানি না।”

    উত্তরটা শুনে বিরক্তিতে তমালের পা থেকে মাথা পর্যন্ত জ্বলে উঠল এবার। “কী শুরু করেছ কী?” বেশ জোর গলাতেই কথাটা বলে দরজাটা খুলতে উঠে গেল সে।

    “খুলিস না খোকা, খুলিস না।” রমাদেবী প্রায় আর্তনাদ করে উঠলেন।

    “আরে ছাড়ো তো, যত্তসব।” বলে তমাল গিয়ে দরজা খুলে বাইরে উঁকি দিল।

    কিন্তু বাইরে সব স্বাভাবিক। কোথাও ভয় পাবার মতো কিছুই নেই। মায়ের দিকে ফিরল তমাল। মা বাচ্চাদের মতো হাঁটুর মধ্যে মুখ গুঁজে কাঁপছে ভয়ের চোটে থরথর করে। তমাল নিজের রুম থেকে বেরিয়ে ছোট্ট প্যাসেজটা পেরিয়ে ডাইনিং রুমে এল। সবই তো ঠিকঠাক। রান্নাঘর থেকে খুব হালকা একটা শোঁ শোঁ আওয়াজ আসছে, কিছু একটা উনুনে গরম হচ্ছে। মা তো রান্নাঘরেই ছিল। তাহলে কি ওখানেই কিছু হয়েছে?

     

    আরও দেখুন
    ই-বই পড়ুন
    রেসিপি বই
    বইয়ের
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    লেখকের বই
    Library
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বই ডাউনলোড
    পিডিএফ

     

    সত্যিই কিছু কি ঢুকেছে বাইরে থেকে? মানে সাপখোপ কিম্বা বেজি, অন্য কোনও প্রাণী, যা দেখে মা এত ভয় পেয়ে গেছে! কিন্তু তাই বলে এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়বে যে মুখ দিয়ে ঠিকঠাক গলায় কথাই বেরোবে না? হুমম, ব্যাপারটা দেখতে হচ্ছে!

    তমাল পা টিপে টিপে নিঃশব্দে রান্নাঘরের দিকে এগোল। তার আগে অবশ্য দেওয়ালে ঝোলানো তার স্বর্গবাসী দাদুর শখের ওয়াকিং স্টিকটা সে হাতে তুলে নিয়েছে। মা যা ভয় পেয়েছে, বলা যায় না, হয়তো সত্যিই বিপজ্জনক কিছু হতে পারে। তাই আগে থেকেই যতটা সম্ভব নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখাই ভালো।

    কিন্তু রান্নাঘরের দরজায় উঁকি মেরেই সে যা দেখল, তাতে তার চোখ যেন অক্ষিকোটর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইল। তার হাত থেকে লাঠিটা মেঝেতে পড়েই গেল সশব্দে। মা একমনে শসা আর টম্যাটো কাটছিলেন সেখানে, স্যালাড বানানোর জন্য। দরজার দিকে পেছন ফিরেছিলেন তিনি, শব্দে চমকে উঠে তমালের দিকে ফিরে তাকালেন। দু’জনেই হতবাক। তমালকে তার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে দেখে রমাদেবী বলে উঠলেন, “কী হল রে?” তারপর মেঝেতে পড়ে থাকা লাঠিটার দিকে একবার তাকিয়ে মজার স্বরে বলে উঠলেন, “লাঠি নিয়ে তুই আবার কি করছিলি এখানে? দ্যাখ আবার, আমাকে মারধর করার ইচ্ছে নেই তো? সম্পত্তি-টম্পত্তি যদি চাস তাহলে বলে ফ্যাল বাবা, এখনই উইল করে দিচ্ছি।” বলেই খিলখিলিয়ে হেসে উঠলেন।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    ডিকশনারি
    নতুন বই
    অনলাইনে বই
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা সাহিত্য
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বই পড়ুন
    ডিজিটাল বই

     

    এবার তমালের সংবিৎ ফিরল, সে লজ্জা পেয়ে গেল একটু, “আরে না না, তেমন কিছু নয়। আমি ভাবলাম রান্নাঘরে কিছু আছে। তুমিই তো ভয় দেখাচ্ছিলে। কিন্তু এখানে তুমি এলে কীভাবে? এইমাত্র তো আমার রুমে ছিলে।”

    এবার রমাদেবীর অবাক হবার পালা। “আমি? তোর রুমে? কী ভুলভাল বকছিস? আমি তো আধঘণ্টার মতো হল রান্নাঘর থেকে বেরোইনি।”

    —“অ্যাঁ! কিন্তু তা কী করে হয়? এই তো তুমি ছিলে আমার ঘরে। ভয়ে কাঁপছিলে।”

    —“কী? আমি ভয়ে কাঁপছিলাম?” রমাদেবী অবাক হয়ে একটু চিন্তা করলেন, তারপর একটু রাগত স্বরে বলে উঠলেন, “ও, বুঝেছি। তুই আবার ছাইপাঁশ গিলে এসেছিস বন্ধুদের সঙ্গে। এমনিতেই তোর হ্যালুসিনেশনের ধাত আছে। ছোটবেলা থেকেই মাঝে মাঝে কী সব উল্টোপাল্টা জিনিস দেখিস। তারপর আবার ওসব পেটে পড়লে নেশার ঘোরে কী না কী দেখবি তার কোনও ঠিক নেই। ভয় লাগে কখনও কিছু দুর্ঘটনা আবার না বাধিয়ে বসিস এসবের চোটে।”

    —“না মা। বিশ্বাস করো। কিচ্ছু খাইনি। এই তোমার দিব্যি। সত্যিই তুমি আমার ঘরে ছিলে।”

     

    আরও দেখুন
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    PDF
    ডিজিটাল বই
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    গ্রন্থাগার
    বইয়ের
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন

     

    এবার রমাদেবী বিরক্ত হলেন, “কী যা তা বকছিস খোকা? আচ্ছা চল তো। যদি তোর কথাই ঠিক হয়, তবে দেখি আমার ডুপ্লিকেটটা এখন সেখানে কী করছে! আর যদি কাউকে না পাই তাহলে তোর একদিন কী আমার!”

    বলেই রমাদেবী হনহনিয়ে তমালের ঘরের দিকে হাঁটা দিলেন, পেছন পেছন তমাল। কিন্তু গিয়ে দেখলেন ঘর পুরো ফাঁকা। বাথরুমও চেক করা হল। সেখানেও কেউ নেই। কোমরে হাত দিয়ে রাগী রাগী মুখে রমাদেবী তমালের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। মুখে নুন পড়া জোঁকের মতো কিছুটা গুটিয়ে গেল তমাল, “আমি কিন্তু সত্যিই দেখেছি মা। আর কিছু উল্টোপাল্টাও খাইনি আমি, যার ঘোরে এসব দেখব। এই দ্যাখো, কোনও গন্ধ পাচ্ছ?” বলে মুখটা একটু হাঁ করে এগিয়ে দিল মায়ের দিকে।

    কথাটা ঠিক। সত্যিই কোনও গন্ধ পেলেন না রমাদেবী। আর তাই হঠাৎ করেই তার চিন্তা যেন বেড়ে গেল আরও কয়েক গুণ। চিন্তা এখন দুশ্চিন্তার রূপ নিচ্ছে। গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন তিনি, “তাহলে কি তুই আরও বড় কোনও নেশা শুরু করেছিস? ড্রাগস জাতীয় কিছু?”

     

    আরও দেখুন
    PDF
    ডিকশনারি
    ডিজিটাল বই
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    Library
    বইয়ের
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    রেসিপি বই
    অনলাইন বুকস্টোর

     

    এবার তমাল হেসে উঠল জোরে, “আচ্ছা মা, তুমি আমাকে কী ভাবো বলো তো? আমাকে ছোট থেকেই তো মানুষ করছ। কখনও কী মনে হয়েছে যে আমি এতটাই হতাশাগ্রস্ত, যে এসব ফালতু নেশার মধ্যে ডুবে যাব? আর কেনই বা এরকম করতে যাব? এরকম ঘটার কি কোনও কারণ আছে আমার লাইফে? আমি তোমাদের ছেলে মা। এ হাইলি এনার্জেটিক ম্যান, জাস্ট লাইক ইউ অ্যান্ড বাবা। তাই এসব কল্পনাতেও এনো না।”

    রমাদেবীর কপালে চিন্তার ভাজ কিছুটা কমল বটে, কিন্তু পুরোটা এখনও বিলীন হয়নি। “হুমম। সে তো বুঝলুম। কিন্তু এসব ভুলভাল যে দেখছিস, তাও তো ভালো লক্ষণ নয়। ছোটবেলা থেকেই তুই ভূত-প্রেত, অলৌকিক এসব ব্যাপার নিয়ে খুব মাতামাতি করতিস। মাঝে মাঝে বলতিসও যে তুই উদ্ভট সব জিনিস দেখতে পাস। আমরা বুঝতাম যে এগুলো সবই ছিল আসলে তোর শিশুমনের কল্পনা। কিন্তু এত বড় হয়েও যদি এ ধরনের ভূত দেখার মতো ব্যাপার থেকে যায়, তাহলে তো তা চিন্তার ব্যাপার।”

    “ভূত!” তমাল দেখল বিষয়টা ভয়ঙ্করতর রূপ ধারণ করছে ধীরে ধীরে। তাই ব্যাপারটাকে হালকা করার জন্য বলে উঠল, “আচ্ছা ছাড়ো তো এসব। আমারই হয়তো মনের ভুল ছিল। চলো এবার খেতে বসা যাক। খিদেয় পেট চুঁই চুঁই করছে।”

     

    আরও দেখুন
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বুক শেল্ফ
    বইয়ের
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    লাইব্রেরি
    নতুন বই

     

    রমাদেবী চোখ পাকালেন, “করবেই তো! কতক্ষণ না খেয়ে আছিস বল তো? আয় চলে আয়।” বলতে বলতে দরজার দিকে পা বাড়াতে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই ঘটল ঘটনাটা। আর সঙ্গে সঙ্গে দু’জনেরই শিরদাঁড়া বেয়ে যেন আতঙ্কের এক শীতল তরঙ্গ বয়ে গেল একই সঙ্গে।

    রান্নাঘরের দিক থেকে রমাদেবীর গলাতেই কেউ ডাক দিচ্ছে, “কই রে খোকা খাবি আয়। আর কত দেরি করবি?”

    রমাদেবী থমকে দাঁড়িয়ে পড়লেন। তারপর ধীরে ধীরে পিছিয়ে এলেন কয়েক পা। দু’জনেই নির্বাক হয়ে একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন কয়েক পলক। আবার সেই আওয়াজ ভেসে এল, “কই রে! আয়।”

    রমাদেবী আর কালবিলম্ব না করে প্রায় ছুটে গিয়ে ঘরের দরজাটা বন্ধ করে দিলেন। তার চোখে প্রবল আতঙ্ক।

    তমালেরও কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। কী যে হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না সে। ভয়ও লাগতে শুরু করেছে। কিন্তু এই বয়সে মনের মধ্যে ভয় উঁকি দিতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই ভয়কে জয় করার একটা প্রবল ইচ্ছেও অনেকসময় উপস্থিত হয়। তমালেরও তাই হল। সে বাইরে যেতে উদ্যত হল। কিন্তু রমাদেবী দরজা আগলে দাঁড়ালেন। “যাস না তমাল। কিছু একটা অলক্ষুণে এ বাড়িতে ঢুকেছে। তাই এসব হচ্ছে।” ফিস ফিস করে বলে উঠলেন তিনি। তার মুখে এখন প্রবল ভয়ের ছাপ, কিছুক্ষণ আগে এই ঘরেই বিছানার ওপর বসে থাকা প্রথম রমাদেবীর মতো।

     

    আরও দেখুন
    পিডিএফ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বইয়ের
    ডিকশনারি
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বই ডাউনলোড
    কৌতুক সংগ্রহ
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ

     

    কিন্তু তমালের মধ্যে ভয় কেটে গিয়ে অকস্মাৎ কোথা থেকে যেন অসীম সাহসের জন্ম হয়েছে, যা তাকে বাইরে টেনে নিয়ে যেতে চাইছে প্রবলভাবে। তবে এটাও বেশ বুঝতে পারছে সে যে মাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে শান্ত না করতে পারলে সে বাইরে যেতে পারবে না। আর তা নাহলে এ রহস্যও ভেদ হবে না। তাই মায়ের দু’হাত ধরে সে ধীরে ধীরে বিছানায় এনে বসাল। মা ফিসফিস করে বারণ করেই চলেছে, “যাস না খোকা, বাইরে যাস না।”

    বাইরে থেকে এই মূহূর্তে কোনও গলার শব্দ না এলেও খাবার টেবিলের ওপর থালা বাটি চামচ ইত্যাদি সাজানোর আওয়াজ আসছে। রাতের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে মনে হয়। তমালের একটা খটকা লাগছে। তবে আপাতত সে শান্ত করার জন্য মাকে বোঝাল, “চিন্তা নেই মা। কিচ্ছু হবে না। সবই মনের ভুল।”

    রমাদেবী যেন খুব হতাশ হয়েই উত্তর দিলেন, “আমিও তো তাই ভাবছিলাম। সব তোর মনের ভুল। কিন্তু এখন তো দেখছি সবই সত্যি।”

    একটা ব্যাপার তমালের বেশ আজব লাগছে। তার মা বিছানার ওপর গুটিসুটি মেরে বসে আছেন। আর তমাল তার পাশেই পা ঝুলিয়ে বসে আছে। তাদের বসার জায়গা আর ধরন, সব যেন আগেরবারের মতোই। অর্থাৎ প্রথমবার তমাল যখন বাথরুম থেকে বেরিয়ে তার মাকে দেখতে পেয়েছিল, সবকিছু যেন প্রায় সেরকমই। প্রায়? না কি একেবারেই একরকম? তাহলে কি সবকিছুরই আবার একইভাবে পুনরাবৃত্তি হচ্ছে? বারবার?

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    PDF বই
    Books
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা বই
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    অনলাইন বুকস্টোর
    বুক শেল্ফ

     

    কিন্তু চিন্তামগ্ন তমালের চিন্তাজাল ছিন্ন হল আবার বাইরের সেই ডাকে, “আয় রে খোকা। আর কতক্ষণ?”

    তমাল আর থাকতে পারল না। এই রহস্য তাকে ভেদ করতেই হবে। সে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। রমাদেবী তাকে কাতর অনুনয়ের সুরে বলে উঠলেন, “যাস না খোকা, তোকে আমি বার বার নিষেধ করছি।”

    কিন্তু কে শোনে কার কথা? তমাল কোনও বারণ না শুনেই গটগট করে ঘরের দরজার দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু তারপর দরজা খুলে যেই না ঘরের বাইরে পা রেখেছে, তখনই ঘটল আরেক দুর্ঘটনা। হঠাৎ লোডশেডিং। সারা বাড়ি মুহূর্তের মধ্যে ডুবে গেল নিটোল নিশ্ছিদ্র এবং অনভ্যস্ত অন্ধকারে।

    কী হল এটা! লোডশেডিং তো প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে ইদানীং। আর যদি হয়ও, তাহলে এই মোক্ষম সময়েই পাওয়ার কাট হল কীভাবে? পুরোটাই কি কাকতালীয়? না কি অন্যকিছু! তমালের মনের ভেতর কেমন যেন একটা কু ডাকল কেউ। আর পেছনে, ঘরের ভেতর থেকে আবার ডেকে উঠলেন রমাদেবী, “বাইরে যাস না বাবা। ভেতরে চলে আয়।”

    কিন্তু তা অগ্রাহ্য করেই তমাল পা রাখল বাইরের প্যাসেজে। তারপর পা টিপে টিপে সেখান থেকে ড্রয়িং কাম ডাইনিং রুমে। সেখানে পৌঁছেই বুঝল কেউ একজন আছে সেখানে। কেউ একজন, যে তার মায়ের গলা নকল করতে পারে হুবহু। কিন্তু তার উদ্দেশ্যটা বোঝা যাচ্ছে না। শুধু কি ভয় পাওয়ানো? না কি অন্য কিছু? গলাটা একটু পরিষ্কার করে নিয়ে তমাল বলে উঠল, “কে? কে আছে এখানে?”

     

    আরও দেখুন
    বাইশে শ্রাবণ
    Books
    অনলাইনে বই
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    ডিকশনারি

     

    কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া গেল না। তবে কিছু একটা অন্ধকারে নড়াচড়া করছে। তমাল পরিস্থিতি খুব একটা ভালো বুঝল না। এসময় হাতে কিছু একটা থাকা দরকার। সে খুব ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে লাগল রান্নাঘরের দরজার দিকে, যেখানে তার দাদুর লাঠিটা পড়ে থাকার কথা। কিন্তু সে খুব একটা নিশ্চিত নয় যে সেটা এখনও সেখানে আছে, না কি এখানে যিনি আছেন, তিনি আগেই সেটা অন্য কোথাও সরিয়ে রেখেছেন। তবুও ধীরে ধীরে একটা সুযোগ নেওয়ার জন্য সে এগিয়ে যেতে লাগল।

    হঠাৎ আবার ঘরের অন্যদিক থেকে কিছু একটা নাড়াচাড়া করার খুটখাট আওয়াজ শোনা গেল, তার সঙ্গে ভেসে এল রমাদেবীর বিরক্তিভরা গলার স্বর, “ধুর বাবা। পাওয়ার কাট এর আর সময় পেল না! একেবারে মোক্ষম সময়ে? কী সব কাকতালীয় ব্যাপার রে বাবা!”

    তমাল চমকে উঠল। এই শব্দগুলোই তো সে ভাবছিল একটু আগে — মোক্ষম সময়, কাকতালীয়, পাওয়ার কাট। একেবারে তার মাথা থেকে শব্দগুলো টেনে বের করে কেউ যেন তার মায়ের গলায় বলছে। মোক্ষম সময় বলতে সে কি বোঝাতে চাইছে? তাহলে কি এটা অলৌকিক কোনও অস্তিত্ব? না কি পুরোটাই তার কল্পনা?

     

    আরও দেখুন
    বাংলা অডিওবুক
    Books
    রেসিপি বই
    PDF বই
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বই পড়ুন
    লাইব্রেরি
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    স্বাস্থ্য টিপস

     

    “ধুস! দেশলাই আর মোমবাতিটাও যে কোথায় রেখেছি! আসল সময়েই খুঁজে পাওয়া যায় না।” কিছুক্ষণ খুটখাট আওয়াজের পর আবার কণ্ঠস্বরটা ভেসে এল। “এই তো মোমবাতিটা পেয়েছি। দাঁড়া এবার দেশলাইটা খুঁজি। আচ্ছা, তুই কি লাঠিটা খুজে পেলি তমাল? ওই তো, একেবারে কাছেই পৌঁছে গেছিস, বাঁ-দিকে আর মাত্র এক পা গেলেই ওটা পড়ে আছে।”

    শোনামাত্র তমালের প্রবল সাহস যেন হঠাৎ করেই কর্পূরের মতো উবে গেল। পা দুটো যেন কেউ অদৃশ্য কোনও আঠা দিয়ে আটকে দিল মেঝের সঙ্গে।

    “তুই একটু নিচু হয়ে হাত বাড়িয়েই নিতে পারিস ওটা। আর না এগোলেও চলবে। তবে নিয়ে কি লাভ হবে কিছু?”

    তমাল কোনও রকমে বলে উঠল, “কি-কিন্তু তু-তুমি কি করে বুঝলে যে আমি লা-লা-লাঠিটা নিতে যাচ্ছি?”

    হঠাৎ রমাদেবীর কণ্ঠ খিলখিলিয়ে হেসে উঠল, বেশ অস্বাভাবিক ভাবে। তারপর সেরকম অস্বাভাবিক স্বরেই পরের কথাগুলো ভেসে এল, “আমরা তো অন্ধকারেও পরিষ্কার দেখতে পাই রে। কোনও অসুবিধে হয় না। মোমবাতি তো জ্বালাতে চাইছিলাম তোর সুবিধের জন্য।”

     

    আরও দেখুন
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বইয়ের
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    স্বাস্থ্য টিপস
    ডিকশনারি

     

    কথা শেষ হওয়া মাত্রই নিকষ কালো অন্ধকারের মধ্যে মূহূর্তের জন্য যেন সেই মূর্তিটার চোখের জায়গা দুটো জ্বলে উঠল, বন্য জন্তুর চোখ যেমন অন্ধকারের মধ্যে জ্বলজ্বল করে ওঠে। তমালের মেরুদণ্ডে যেন অসংখ্য আলপিন ফুটল একসঙ্গে। কোনও ভুল নেই, এটা তার কল্পনা হতে পারে না। খুবই কম সময়ের জন্য হলেও সে স্পষ্ট দেখেছে সেই জ্বলন্ত আগুনের মতো চোখ দুটো।

    কিন্তু নাটক শেষ হয়নি তখনও, কিছুটা বাকি ছিল। ওদিক থেকে আবার স্বরটা ভেসে এল, “এই তো পেয়েছি। দাঁড়া, জ্বালাই মোমবাতিটা।” সঙ্গে সঙ্গেই ফস্‌ করে একটা আওয়াজ হল আর একটা দেশলাই জ্বলে উঠল। আর ঠিক সেই সময়ই কোথা থেকে যেন একঝলক ঠান্ডা দমকা বাতাস এসে সেটাকে সঙ্গে সঙ্গে নিভিয়েও দিল। কিন্তু তাতেই তমাল যা দেখল, তাতে তার নিজের চোখকেই বিশ্বাস হল না। সে স্পষ্ট দেখল, দেশলাই কাঠিটা শূন্যে ভাসছে, কেউ সেটাকে ধরে নেই। ডাইনিংয়ে সে ছাড়া আসলে আর কেউই নেই।

    তমাল আর এক মূহূর্তও সেখানে সময় নষ্ট করল না। তার মন আর শরীরের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে কোনও রকমে দৌড় লাগাল নিজের ঘরের দিকে, যেখানে সম্ভবত তার আসল মা তার জন্য অপেক্ষা করছে। সম্ভবতই, কারণ এই মুহূর্তে কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যে, কোনটা আসল আর কোনটা নকল, সবই তার কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে। সে অন্ধকারের মধ্যেই হোঁচট খেতে খেতে কোনওভাবে নিজের রুমে পৌঁছে দরজাটা লক করে হাঁপাতে লাগল। এই বদ্ধ ঘরে, ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যেও এখন তার নিজেকে কিছুটা নিরাপদ মনে হচ্ছে। যদিও আদৌ তা কতটা ঠিক সে ব্যাপারে নিজেও সে নিশ্চিত নয়।

    একটু সামলে নিয়ে সে রমাদেবীকে বলে উঠল, “তুমি ঠিকই বলেছিলে মা। ওটা অন্য কিছু, ওটা তুমি নও। খুব, খুব ভয়ানক কিছু।”

    কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া গেল না।

    “মা।”

    এবারও কোনও সাড়াশব্দ নেই।

    “মা। তুমি আছো তো?” বলে এবার তমাল অন্ধকারের মধ্যে নিজের বিছানা হাতড়াতে লাগল। এ কী! বিছানা তো ফাঁকা। তাহলে মা গেল কোথায়? মা-ও কি তাহলে রুম ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে। কী সর্বনাশ! তমালের নিজেকে কেমন যেন উদভ্রান্ত লাগল।

    আর তখনই, তাকে আবার চমকে দিয়ে রমাদেবীর গলার আওয়াজ শোনা গেল, ফিসফিস স্বরে, “চিন্তা নেই খোকা। আমি আছি।”

    তমাল জিজ্ঞেস করল, “কোথায় তুমি?”

    —“এই তো এখানে।”

    আওয়াজটা আসছে বিছানার তলা থেকে। তমাল উঁকি মারল। সেখানে আঁধার আরও জমাট। তবে রমাদেবীর নিঃশ্বাসের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। উনি যে জড়সড় হয়ে সেখানে কোনও রকমে বসে আছেন তা বেশ বোঝা যাচ্ছে।

    “কী রে, একেবারে প্রথম থেকেই বলছিলাম না, বাইরে যাস না, যাস না। এখন নিজের চোখেই দেখলি তো!”

    —“হ্যাঁ মা, ঠিকই বলেছিলে।”

    —“আর যাস না। আয় চলে আয় আমার কাছে।”

    —“হ্যাঁ মা। আর যাব না তোমাকে ছেড়ে। তোমাকেও কোথাও যেতে দেব না।”

    তমালও কোনও রকমে নিচু হয়ে নিজেকে ঢুকিয়ে দিল খাটের তলায়। এখন তার বেশ ভালো লাগছে। রমাদেবী বলে উঠলেন, “তোর মনে পড়ে তমাল? তুই যখন ছোট ছিলি, আমরা কত লুকোচুরি খেলতাম! তুই, আমি আর তোর বাবা।”

    —“হ্যাঁ। খুব মনে পড়ে। খুব মজা হত। তুমি আর আমি একসঙ্গে এদিক ওদিক লুকিয়ে পড়তাম। আর বাবা সারা বাড়ি আমাদের খুঁজে বেড়াত।”

    —“হ্যাঁ। ভাব আমরা এখনও সেই লুকোচুরি খেলছি। দ্যাখ ভয় কেটে যাবে।”

    তমাল হাত বাড়িয়ে মাকে স্পর্শ করল। রমাদেবীও তমালের হাত ধরলেন। একটা পায়ের আওয়াজ এই ঘরের দিকে এগিয়ে আসছে। বেশ ভারী পায়ের আওয়াজ। থপ থপ থপ থপ। এক পা এক পা করে এসে আওয়াজটা এই ঘরের সামনে থামল। তারপর দরজা নক করার শব্দ। আর দরজার ওপার থেকে আবার রমাদেবীর গলা, “কী হল রে খোকা? খাবি না নাকি? কখন থেকে খাবার বেড়ে বসে আছি?”

    মা ও ছেলে দু’জনে দু’জনের হাত শক্ত করে ধরল।

    দরজায় ধাক্কা আরও জোরালো হচ্ছে।

    “কী রে? দরজা খোল।”

    তমাল ফিসফিস করে ভীত স্বরে মাকে জিজ্ঞেস করল, “কিন্তু এই খেলাতে তো বাবা নেই। আমাদের খুঁজতে যে আসছে সে তো অন্য কেউ। আমি নিজের চোখে তাকে দেখেছি। খুবই ভয়ানক সে।”

    মা নিজেও প্রবল আতঙ্কিত। কিন্তু তার মধ্যেও ছেলেকে ভরসা দেওয়ার চেষ্টা করলেন, “না না, আছে, বাবা আছে। ভাব ওই ভয়ঙ্কর কিছুটা আর কেউ নয়, তোর বাবা। ভাবতে থাক, চিন্তা কর, দেখবি তাই হয়ে যাবে। ভাব ভাব।”

    দরজায় ধাক্কা আরও জোরালো হচ্ছে। আর গলার আওয়াজটাও যেন আরও মোটা হচ্ছে। “দরজা খোল। খোল বলছি।” কেমন যেন পুরুষ আর মহিলার গলার মেশানো স্বর হয়ে উঠছে সেটা।

    রমাদেবী প্রায় তমালের কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বলে উঠলেন, “হাল ছাড়িস না খোকা। ভাব। আমরা যা দেখি, যা শুনি, সবই আসলে আমাদের মনের খেলা। আমাদের চেতনা আমাদের যা অনুভব করায়, আমরা তাই অনুভব করি, আমাদের মাথার মধ্যে। তাই না? আর তোর কল্পনাশক্তি ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ। আমি তার প্রমাণও পেয়েছি কয়েকবার। তুই অনেক কিছুই ভাবতিস, অনেক চরিত্র কল্পনা করতিস, যাদের মধ্যে কিছু আমিও দেখতে পেয়েছি বেশ কয়েকবার। কখনও ছায়া ছায়া, কখনও আসলের মতো, ঠিক যেন সত্যি মানুষ। কিন্তু তোর বাবা এসব ব্যাপার স্যাপার পছন্দ করত না একেবারেই। তাই কাউকে বলিনি ভয়ে। তোকেও না। কেউ বিশ্বাসও করত না বললে। কিন্তু তুই চেষ্টা কর। পারবি দ্যাখ। এসবই তোর কল্পনা। তুই যা ভাববি তাই সত্যি হবে শেষ পর্যন্ত। দেখিস।”

    “কী শুরু করেছিস কী? বাড়াবাড়ি হচ্ছে কিন্তু।” বাইরের গলার স্বরটা ক্রমশ যেন পুরুষ কণ্ঠে পরিবর্তিত হয়ে উঠছে।

    “ভাবতে থাক খোকা, ভাবতে থাক।” মায়ের হাতটা তমালের হাতের ওপর আরও জোরে চেপে বসেছে। তমাল চোখ বন্ধ করে প্রাণপণে ভাবার চেষ্টা করছে। হ্যাঁ, হচ্ছে। গলার স্বরটা বদলাতে বদলাতে এখন পুরোপুরি পুরুষ কণ্ঠে পরিণত হয়ে উঠেছে।

    “খোল। দরজা খোল বলছি।” কোনও সন্দেহ নেই। দরজার ওপার থেকে যে গলাটা ভেসে আসছে তা এখন একটা পুরুষ কণ্ঠ। আর তা তার বাবার। দরজার ওপর ধাক্কাটা আরও জোরদার হচ্ছে। ধুম ধুম ধুম ধুম। মনে হচ্ছে যেন দরজা ভেঙে পড়বে।

    তমালের প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হয়েছে। চারিদিকের এত আওয়াজ আর সে নিতে পারছে না। প্রত্যেকটা আওয়াজই ক্রমাগত আরও জোরালো হয়ে মস্তিষ্কে যেন হাতুড়ি পেটাচ্ছে। “দরজা খোল!”, “ভাবতে থাক।”, “ধুম ধুম ধুম!”, “খোল দরজা!”, “ধুম ধুম ধুম!”, “চিন্তা করতে থাক।”, “ধুম ধুম ধুম ধুম!”, “খোল বলছি”, “ভাব ভাব!”, “ধুম ধুম ধুম ধুম ধুম ধুম ধুম!”

    তমাল জ্ঞান হারাল।

    ছোট্ট একটা ঘর। তার মধ্যে ছোট্ট বিছানা একটা । ঘরটা যেন দুলছে। দুটো গলার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে খুব আস্তে আস্তে। একটা কথোপকথন। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে কথাগুলো। দু’জন মানুষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। আলোচনাটা তাকে নিয়েই। কিন্তু ঘরটা শুধু দুলছেই না, এগিয়েও চলেছে মনে হচ্ছে। তমাল খুব কষ্টে চোখদুটো খুলল অর্ধেক।

    ওহ! এটা একটা অ্যাম্বুলেন্স। সে শুয়ে আছে বেডে। তার পাশে দু’জন বসে কথা বলছেন। তাদের একজন তমালের বাবা। আরেকজন যে ডাক্তারবাবু, তা তার পোশাক দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

    ডাক্তারবাবু জিজ্ঞেস করলেন, “আচ্ছা, তাহলে এরকম মাঝেমধ্যেই হয়?”

    —“হ্যাঁ। অল্পবিস্তর। তবে এবারের মতো এতটা বাড়াবাড়ি আগে হয়নি।”

    —“আগে কীরকম হত?”

    —“আগে? এই ধরুন, মাঝে মাঝে নিজের মনেই কথা বলে উঠত। মানে ঠিক যেন ওর মা’র সঙ্গে জমিয়ে গল্প করছে ও – এরকম একটা কল্পনা।”

    —“ওর মা কতদিন হল মারা গেছেন?”

    —“তা প্রায় একবছরের ওপর হয়ে গেছে। তারপর থেকেই এরকম শুরু হয়েছে। তবে আজকের মতো এতটা বাড়াবাড়ি আগে হয়নি। একেবারে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘর অন্ধকার করে খাটের নীচে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল! তাও আবার আমাকে ভয় পেয়ে! ভাবুন একবার। আমি কতক্ষণ ধরে ডাকছিলাম, দরজাতেও টোকা দিচ্ছিলাম খেতে আসার জন্য। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছিল না। অথচ ঘরের মধ্যে ও কিন্তু কারও সঙ্গে, মানে নিজের মা’র সঙ্গেই যেন কথা বলছিল। শেষে অনেক কষ্টে লাথিঘুষি কষিয়ে কোনওভাবে দরজাটা ভাঙলাম। নেহাত ভেতরের ঘরের দরজা বলে তেমন শক্তপোক্ত ভাবে বানানো হয়নি। নাহলে যে কী হত!”

    —“চিন্তা নেই। সব ঠিক হয়ে যাবে।” ডাক্তারবাবু আশ্বাস দিলেন, “আসলে ও ওর কল্পনার অলীক জগৎ নিয়ে থাকতেই বেশি ভালোবাসে। এরকম অনেক কেসই আছে। অনেকেই সুস্থ হয়ে নর্ম্যাল লাইফে ফিরে এসেছে আবার।”

    —“ওর মায়েরও এরকম কিছুটা ছিল, জানেন? যদিও এতটা বেশি নয়। কিন্তু সেজন্যই তমালও ওর মায়ের কাছে এটা নিয়ে কিছুটা প্রশ্রয় পেত। তাই ওর মাকেই ও বেশি ভালোবাসত। আমি ওর কাছে কখনোই খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছিলাম না। এমনকী এখনও না। ওর মায়ের অভাব পূরণ করার জন্য গত একবছর ধরে কত কীই না করেছি। কিন্তু ছবিটা বিশেষ বদলায়নি। মারা যাওয়ার এতদিন পরেও ওর মা-ই ওর কাছে সব।”

    —“ভাববেন না। ঠিকঠাক চিকিৎসা হলেই দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে। ওর কল্পনাটাকে আসলে ও বাস্তব ভাবে। ভাবতে ভালোবাসে, ভেবে আনন্দ পায়। কিন্তু আসলে যে তা কল্পনা, তা বুঝতে শুরু করলেই ও বাস্তব আর কল্পনার মধ্যে পার্থক্যটা ধরতে পারবে। বাস্তবের অনেক কিছু যে ওর কল্পনার থেকেও ইন্টারেস্টিং, তা বুঝতে শুরু করলেই ও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে। ট্রিটমেন্ট শুরু হোক, তাহলেই ইম্প্রুভমেন্ট দেখতে পাবেন।” ডাক্তারবাবু আবারও আশ্বস্ত করলেন।

    নতুন এক চিন্তার জন্ম হচ্ছে তমালের মস্তিষ্কে। আবার তার মনে সঞ্চার হচ্ছে প্রবল উত্তেজনার। তাহলে তার মধ্যে সত্যিই কি সেই অলৌকিক ক্ষমতা আছে, যেমনটা তার মা বলছিলেন? না কি তা জন্ম নিচ্ছে সবে? সে কোথায় যেন পড়েছিল যে কিছুকিছু মানুষের কল্পনাশক্তি এতই তীব্র হয় যে শুধু তারা নয়, তাদের আশেপাশের লোকজনও তাদের কল্পনাকে চাক্ষুষ দেখতে পায়। সত্যিই হবে হয়তো। নাহলে ডাক্তারবাবু তার বাবার সঙ্গে কথা বলছেন কীভাবে? বাস্তবে তো তা সম্ভব নয়। কারণ একটা পথ দুর্ঘটনায় তমালের বাবা ও মা মারা গেছেন একইসঙ্গে। ঘটনাটা ঘটেছিল গত বছর। তাই এই কথোপকথন অলৌকিক কোনও শক্তির প্রভাবে ছাড়া অসম্ভব।

    না কি সত্যিই আবার তার বাবা-মা ফিরে ফিরে আসছেন বারবার, তমালের জন্য, তমালেরই টানে? কে তমালের বেশি কাছের মানুষ হয়ে উঠতে পারবেন, তার একটা প্রতিযোগিতা এখনও হয়তো তাদের মধ্যে চলছে, যেমন হত আগেও। কোন তত্ত্বটা বেশি যুক্তিগ্রাহ্য কে জানে!

    তমালের চিন্তা জট পাকাচ্ছে। আবার সে জ্ঞান হারাচ্ছে। অর্ধজাগ্রত অবস্থা থেকে অন্ধকার অচৈতন্যের জগতে তলিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।

    ***

    মৃণাল নন্দী

    জন্মসূত্রে বাঁকুড়ার মানুষ, কর্মসূত্রে আপাতত কলকাতার বাসিন্দা। ইচ্ছে থাকলেও পড়াশোনার চাপে ও কেরিয়ার গড়ার লক্ষ্যে খুব বেশি লেখালেখি করতে পারেননি। তবে সময় পেলে যথাসম্ভব লেখার চেষ্টা করেন। মূলত অলৌকিক, কল্পবিজ্ঞান, রোমাঞ্চ ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার লিখতেই বেশি পছন্দ করেন, আর ভালোবাসেন রম্যরচনা লিখতে। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে প্রকাশিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গল্প ও রচনা।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভৌতিক অলৌকিক ২ – সম্পাদনা : বিশ্বরূপ মজুমদার
    Next Article সন্ধিক্ষণ : প্রতিকূলতা জয়ের লক্ষ্যে যাত্রা – এ পি জে আবদুল কালাম

    Related Articles

    বিশ্বরূপ মজুমদার

    ভৌতিক অলৌকিক ২ – সম্পাদনা : বিশ্বরূপ মজুমদার

    November 4, 2025
    বিশ্বরূপ মজুমদার

    ইতিহাস কথা বলে – সম্পাদনা : বিশ্বরূপ মজুমদার

    November 4, 2025
    বিশ্বরূপ মজুমদার

    রহস্য রোমাঞ্চ : সম্পাদনা – বিশ্বরূপ মজুমদার

    November 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }