Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভৌ – বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প245 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ফুটবল, পাখি

    ছেলেবেলায় লোকের অনেক রকম স্বপ্ন থাকে। কেউ ভাবে ডাক্তার হবে, কেউ বা ভাবে নাবিক হবে, কিন্তু ‘আমি একজন মাতব্বর হব’ এরকম ভাবে সচরাচর লোকে ভাবে না। সতীর্থও ভাবেনি। কিন্তু যাদের ভিতরে ও বড় হয়ে উঠল, তারা নিজেরা ঠ্যাঁটগোবিন্দ হয়ে বসে থেকে সতীর্থকে সব জায়গায় এগিয়ে দিতে দিতে ওর মধ্যে একটা নেতার জন্ম দিয়ে দিল। এখন সেই নেতাকে সামলাও!

    পিয়াল যেমন। একেবারে জেলি ফিশের মতো নরম তুকতুকে একটা মন নিয়ে কলকাতায় এসেছিল। যে যা বলছে, তাই বিশ্বাস করছে। ভাবটা এমন যেন আগুনে ঝাঁপাতে বললে ঝাঁপিয়ে পড়বে, শুধু একটু মিষ্টি করে বলতে হবে। অসহ্য লেগেছিল সতীর্থর। আরও অসহ্য লেগেছিল, কারণ ওর গলার মধ্যের জাদুকে লোকে নিজেদের দু’-চার আনার সুবিধের জন্য ব্যবহার করছিল। সতীর্থ সেই সময় রুখে না দাঁড়ালে আজ পিয়ালের স্টার হওয়া বেরিয়ে যেত, শিয়ালদা-নৈহাটি কিংবা হাওড়া-ব্যান্ডেল লাইনে ট্রেনে-ট্রেনে গান গেয়ে ফিরত।

    তবে পিয়াল মনে রেখেছে। যে-কোনও কাজের আগে দশবার ফোন করে ওকে। কোনও সিদ্ধান্ত নেয় না সতীর্থর সঙ্গে কথা না বলে, আর ফাংশন কিংবা ফেস্টে গাইবে কি গাইবে না, কত টাকা নেবে সেই ব্যাপারটা তো সতীর্থই ঠিক করে মূলত। সতীর্থ জানে, পিয়ালের ব্যান্ডের অন্য সদস্যরা সবাই খুব ভালভাবে নেয় না সেটা। বিশেষ করে তুহিন ওকে দু’চক্ষে দেখতে পারে না। টাকা-পয়সার বাঁটোয়ারা কিংবা প্রোগ্রাম নেওয়া না নেওয়ার ব্যাপারে ও যে অনধিকার চর্চা করছে, তুহিন সেটা হাবেভাবে, ইদানীং কথাবার্তাতেও বুঝিয়ে দেয়।

    সতীর্থ পাত্তা দেয় না। ও জানে ড্রাম বাজিয়ে তুহিন ঘেউঘেউ করতে পারে ওই দূর থেকে। কাছে এসে কামড়াতে পারবে না। কারণ পিয়ালকে ওদের দরকার, পিয়ালের গলাই ওদের রুজি-রুটির সবচেয়ে বড় ভরসা। সতীর্থকে চটিয়ে সেই ভরসার জায়গাটা ওরা নষ্ট করবে না।

    শুধু আমাকে ভরসা বলছিস কেন? জুবিন কি ভরসা নয়? পিয়াল জিজ্ঞেস করে ওকে।

    এই এক অদ্ভুত মনোবৃত্তি পিয়ালের। নিজেকে প্রতিভাবান নয় ভেবে ও ভীষণ তৃপ্তি পায়, নিরাপত্তা পায়। সতীর্থ বলে, জুবিন হয়তো তোদের অধিকাংশ গানগুলো লেখে। সুরও করে তোর সঙ্গে। কিন্তু ওর সেই স্টেজ প্রেজেন্স নেই, যেটা তোর আছে। বুদ্ধিমান ছেলে, সেটা বোঝে বলেই পিছনে থাকে।

     

     

    কিন্তু আমি ওকে আমাদের সঙ্গে মঞ্চে উঠতে বলি, জানিস তো!

    ও কেন তোর সঙ্গে মঞ্চে উঠতে যাবে পিয়াল? তুই কর্ডলেস মাইক্রোফোনটা হাতে নেওয়ামাত্র একটা ঝড় তৈরি হয়। তার পাশে জুবিনের গলা বল, উপস্থিতি বল, একটা তালপাতার পাখার হাওয়া বলে ঠেকবে, ও ওই অপমান মেনে নেবে?

    আমরা তো একসঙ্গে কাজ করি সতীর্থ, আমাদের মধ্যে এত ইগো থাকবে কেন? পিয়াল কষ্টের গলায় জিজ্ঞেস করে।

    সতীর্থ একটা সিগারেট ধরিয়ে বলে, এগিয়ে নিয়ে যা, প্রশ্নটাকে এগিয়ে নিয়ে যা। আমরা কেন পরস্পরের সাফল্যকে নিজেদের সাফল্য বলে ভাবতে পারব না, কেন একে অন্যের কাজকে আমাদের কাজ ভেবে আনন্দ পেতে পারব না, ক্যারি অন। তুই কি বুঝতে পারিস না নাকি কায়দা মারিস?

    একে কায়দা কিংবা বিনয় ভাবলে খুব ভুল হবে। আমি অন্তর থেকেই ব্যাপারটা ধরতে চাই। কোথায় লাগে?

     

     

    স্বার্থে লাগে রে শালা! অহংকারে লাগে। আমি তোর বন্ধু কিন্তু তুই আমার জুতোয় পা না ঢোকানো পর্যন্ত।

    আমি তোর জুতোয় পা ঢোকাতে যাবই বা কেন? তোর আর আমার পায়ের মাপ তো আলাদা।

    সতীর্থ জুতোর নীচে সিগারেটের শেষটা পিষে দিয়ে বলে, তুই বুঝবি না পিয়াল। ধান-চাল দিয়ে লেখাপড়া শিখেছিস তো, তুই কোনওদিন বুঝবি না।

    হো-হো করে হেসে ওঠে পিয়াল। এই কথাটা শুনলেই। আর সেই হাসির ছররা হঠাৎ খোলা জানলার ভিতর দিয়ে ঘরে এসে পড়া আলোর মতো ভাসিয়ে নিয়ে যায় সবকিছু।

    আশমানিকে প্রথমবার দেখেও ভেসে গিয়েছিল সতীর্থ। টাকা-পয়সার ব্যাপারে কথা ফাইনাল না করেই কথা দিয়ে দিয়েছিল।

    আশমানি এসেছিল ওদের অফিসের কালচারাল সেক্রেটারির সঙ্গে। ‘কুঠার’, মানে পিয়ালদের ব্যান্ডের একটা অনুষ্ঠানের জন্য। অনুষ্ঠানটা হওয়ার কথা ছিল ওদের অফিসের আয়োজনে। মঞ্চে উঠে পিয়াল যখন গাইছে, ওর গানে গলা মেলাচ্ছে ব্যান্ডের অন্যান্যরা, কি-বোর্ড আর ড্রামসের আওয়াজে পুরো হলটা কাঁপছে, সতীর্থ একটু কাঁপা-কাঁপা হাতেই উইংস-এর ধারে ঠিক ওর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আশমানির হাতটা ছুঁল। ছুঁয়ে বলল, খুশি তো?

     

     

    আশমানি ঘাড়টা অল্প ঘুরিয়ে বলল, খুশি তো বটেই। কিন্তু সেটা আপনার বন্ধুর গান এত কাছে থেকে শুনতে পাওয়ার জন্য নাকি আপনি আমার এত কাছে এসে দাঁড়ানোর জন্য ঠিক বুঝতে পারছি না।

    সতীর্থ তাড়াতাড়ি আশমানির হাত থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে বলল, সরি। আমি কিছু ভেবে আপনার হাত ধরিনি।

    আশমানি হেসে বলল, আমি অনেক কিছু ভেবে হাতটা সরিয়ে নিতে বললাম। অফিসের লোকজন সব আশেপাশে আছে।

    দিনদশেক পরের একটা রোববার সন্ধ্যায় ক্রিম-ক্র্যাকার বিস্কুটে কামড় দিয়ে সতীর্থ আশমানিকে জিজ্ঞেস করল, বাড়িতে আসতে বললেন কেন?

    আশমানি টি-পট থেকে কাপে চা ঢালতে ঢালতে নরম চোখে সতীর্থর দিকে তাকিয়ে বলল, চা খাওয়াব বলে।

    সতীর্থ ওকে ইশারায় এক চামচ চিনি দিতে বলে বলল, রোববার সন্ধেগুলো আমি সাধারণত চা খাই না।

     

     

    আশমানি চোখ বড় করে বলল, কী খাওয়া হয় তা হলে?

    রাম।

    একদম খাবেন না। লিভার পচিয়ে দেয়। আমি দেখেছি।

    দেখতেই পারেন। কিন্তু যে-পৃথিবীতে আমরা বেঁচে থাকি, তার ভিতরে ক’টা জিনিস টাটকা বলুন তো?

    আপনাকেই তো খুব ফ্রেশ মনে হল আমার। এভাবে বলছি বলে কিছু মনে করবেন না, কিন্তু, আপনি প্লিজ ওই কড়া মদগুলো খাবেন না।

    সতীর্থ একটু চমকে গিয়ে বলল, মদের কোনটা কড়া, কোনটা নরম আপনি জানেন!

    আশমানি একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করে বলল, জানতে হয়েছে। প্রিয়মের বাবা ওই বড় বোতলগুলো খুলে গ্লাসে ঢালতে ঢালতে বলত, মানুষের যে- মদে নেশা হয় সে মদ খেলে আমার শুধু পেচ্ছাপ পায়। ঘোড়াকে খাওয়ালে ঘোড়ার নেশা হবে, কুকুরকে খাওয়ালে কুকুরের, আমার সেরকম মদ চাই। যতদিন পেরেছে ওই মদই খেয়েছে।

     

     

    আশমানির মুখে ‘পেচ্ছাপ’ শব্দটা শুনে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিল সতীর্থ। পলকে সামলে নিয়ে বলল, প্রিয়মের বাবা?

    মারা গেছে। আজ তিন বছর চার মাস এগারো দিন। আশমানি খুব সহজ গলায় বলে বলল, লিভারটা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল একদম। শেষদিকে কিছু খেতে পারত না। ব্লাড বেরোত ক্রমাগত। ইউরিন দিয়ে, স্টুল দিয়ে।

    চা-টা বিস্বাদ হয়ে গেল সতীর্থর। ও কোনওমতে আরও দুটো চুমুক দিয়ে বলল, আমি একটু বাথরুমে যাব।

    আশমানি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আসুন।

    সেদিন ওকে বসার ঘর সংলগ্ন বাথরুমে যেতে না বলে বেডরুমের লাগোয়া বাথরুমে কেন যেতে বলেছিল আশমানি, সতীর্থ ভেবে পায়নি আজও। নানা রকম কথা মনে হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে জোরালো হল, বোধহয় প্রিয়মের বাবার ছবিটা একবার সতীর্থকে দেখাতে চাইছিল আশমানি। দেয়ালের ভিতর ঢুকে যাওয়া র‍্যাকগুলোর সবচেয়ে ওপরেরটায় একটা ছোট্ট ফ্রেমে বাঁধানো একজন ঝাঁকড়াচুলো মানুষ যিনি, ঘোড়ার মতো, কুকুরের মতো নেশা করতে চেয়েছিলেন।

     

     

    বাথরুম থেকে বেরিয়ে খানিকটা ভদ্রতাবশতই, “প্রিয়ম কোথায়?’ জিজ্ঞেস করল সতীর্থ।

    আশমানি কোনও কথা না বলে ওকে পাশের ঘরের মুখে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাল। কিছু একটা বলতে গিয়ে বলল, আচ্ছা থাক। পরদাটা তুলে ধরল হাত দিয়ে, সতীর্থ দেখল, কম পাওয়ারের বাল্‌বের আলোয় একটা বাচ্চা প্রাণপণে কীসব আঁকছে। ঘরের ভিতরে ঢুকে ও কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল বাচ্চাটার ড্রয়িং খাতার দিকে তাকিয়ে। একটা নদী, নদীর গা ঘেঁষে একটা জঙ্গল। কিন্তু জঙ্গলটা ঘিঞ্জি, বড় বেশি ঘিঞ্জি। চার-পাঁচটা গাছ মুছে দিলে কেমন হয়? ভাবতে ভাবতে সতীর্থ আশমানির ছেলের মাথায় হাত রেখে বলল, কী নাম বাবু তোমার?

    প্রিয়ম সঙ্গে সঙ্গে নিজের দুটো হাত দিয়ে সতীর্থর হাতটা ওর মাথার ওপর থেকে সরিয়ে দিয়ে বলল, আমার নাম দিয়ে তোমার কী দরকার? নিজের নাম বলো।

    সতীর্থ বিস্মিত হলেও স্বাভাবিকতা বজায় রেখে বলল, আমার নাম তো সতীর্থ। আমি শুনেছি তোমার নাম ‘পি’ দিয়ে শুরু। ঠিক শুনেছি?

     

     

    প্রিয়ম জ্বলন্ত চোখে ওর দিকে তাকিয়ে বলল, ঠিক শুনেছ না ভুল শুনেছ নিজে বোঝো গিয়ে। আমাকে জ্বালাতন কোরো না, আমি ড্রয়িং করছি।

    সতীর্থ অবাক হয়ে দেখল ওর সঙ্গে প্রিয়ম প্রচণ্ড দুর্ব্যবহার করছে দেখেও আশমানি পাথরের স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। একটা কথাও বলছে না। কোনওভাবে কথা শেষ করার জন্য সতীর্থ বলল, ঠিক আছে তুমি আঁকো, আমরা বাইরে বসছি। কিন্তু এই ছোট আলোয় আঁকলে তো চোখ খারাপ হয়ে যাবে প্রিয়ম, আমি বড় আলোটা জ্বালিয়ে দিচ্ছি কেমন? বলে সতীর্থ ভুলভাল একটা-দুটো সুইচ টিপে শেষমেশ জ্বালিয়ে ফেলল টিউবলাইট। আর তখনই ঘটে গেল কাণ্ডটা।

    প্রিয়ম একটা লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নেমে সতীর্থর দিকে দৌড়ে গিয়ে জাপটে ধরল সতীর্থকে। তারপর নিজের মুখটা নামিয়ে এনে কামড়ে ধরল ওর কনুইয়ের কাছটা। সতীর্থ ‘আঃ লাগছে’ জাতীয় আওয়াজ করেও ছাড়াতে পারল না ওকে। তখনই আশমানি নিজের ছেলের শার্টের পিছনটা ধরে টানতে শুরু করল, মানুষকে কামড়াচ্ছিস, তুই কি কুকুর? ছাড়, ছাড় বলছি।

     

     

    সতীর্থ আর আশমানির মাঝখানে প্রিয়ম দেওয়াল হয়ে ছিল বলে আশমানি টেরও পেল না সতীর্থ ওর ডান পাটা দিয়ে প্রিয়মের কচি পা দুটো প্রায় পিষে দিচ্ছে। প্রিয়ম সেই যন্ত্রণায়, মুখ ফাঁক করে চিৎকার করতে গিয়ে সতীর্থর হাত থেকে নিজের দাঁত তুলে নিতে বাধ্য হল। আর ও একার জোরেই প্রিয়মকে ছাড়িয়ে আনতে পেরেছে ভেবে কিছুটা ক্লান্তি, কিছুটা তৃপ্তি মেশানো গলায় আশমানি বলল, ও আর কিছু করবে না। আপনি ও ঘরে গিয়ে বসুন, আমি আসছি।

    ও ঘর বলতে আশমানি হয়তো বসার ঘরই বুঝিয়েছিল কিন্তু মিনিটপাঁচেক পরে নিজের বেডরুমে এসে সতীর্থকে পা ঝুলিয়ে খাটে বসে থাকতে দেখে ও খুব একটা অবাক হল না। তবে আঁতকে উঠল সতীর্থর কনুইয়ের কাছ থেকে গড়িয়ে নামতে থাকা দু’-তিন ফোঁটা রক্ত দেখে। আঁতকে উঠে হাতটা একবার ধরল তারপর ছেড়ে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে তুলো আর ওষুধ নিয়ে ফিরে এসে সতীর্থর হাতটার ওপর ঝুঁকে পড়ল। অ্যান্টিসেপ্টিকে ভেজা তুলো সতীর্থর হাতে প্রিয়মের দাঁতের চাপে তৈরি হওয়া ক্ষতর ওপর বোলাতে বোলাতে আশমানি কেঁদে ফেলল হাউহাউ করে, ও ছিল না, এরকম ছিল না। একদম নরমাল একটা বাচ্চা ছিল। কিন্তু ওর বাবার ওইভাবে মরে যাওয়াটা নিতে পারেনি। অবাধ্য হয়ে গেছে, আমি জানি না আমি কী করব, কীভাবে ওকে নিয়ে একা একা সারভাইভ করব।

     

     

    রক্তের ওপরে অ্যান্টিসেপ্টিক, অ্যান্টিসেপ্টিকের ওপরে আশমানির চোখের জল, সতীর্থর হাতটা একটা কিম্ভুত ককটেলের জ্বালায় জ্বলছিল, সেই জ্বালাটা কীভাবে কে জানে মাথায় উঠে এল। ও আশমানিকে এক টানে নিজের বুকে টেনে নিল। কপালে, গালে, গলায় চুমুর বৃষ্টি করতে করতে থিতু হল ঠোঁটে। আশমানির ভারী নীচের ঠোঁটটা নিজের দু’ঠোঁটের মধ্যে ভরে মরণ-বাঁচন শুষতে লাগল।

    আশমানি তাল রাখতে না পেরে নিজের ঠোঁটটা সরিয়ে নিল একসময়। বলল, জ্বালা করছে।

    সতীর্থ ওর চোখের দিকে সম্মোহিতের মতো তাকিয়ে বলল, ভাল লাগছে না?

    আশমানি চোখ বুজে ফেলে বলল, ভাল লাগছে কিন্তু জ্বালাও করছে।

    সতীর্থ বলল, আমি কাঠঠোকরা তো, গাছের গায়ে ঘষতে ঘষতে আমার ঠোঁট শক্ত হয়ে গেছে। তোমার ঠোঁটের চামড়া ফেটে যাচ্ছে আমার চুমুতে।

     

     

    আশমানি চোখ বন্ধ অবস্থাতেই বলল, চামড়া না, ওটা গাছের বাকল। তুমি জিভে নিয়ে দেখো।

    ক্রমে শুধু বাকল না, ফুল, ফল, পাতা সবকিছু মোচন করতে শুরু করল আশমানি। সতীর্থর দুটো পা আড়াআড়ি মাটির গভীরে নেমে যাওয়া কোনও শিকড়ের মতো ধরে রাখল ওকে আর বাঁধ দিয়ে ঘেরা খ্যাপা নদীর জলোচ্ছ্বাসের মতো আশমানি আছড়ে পড়তে থাকল সতীর্থর শরীরের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে। তারপর একমাত্র উজাড় হয়ে গেলে যে পূর্ণতা পাওয়া যায়, সেই পূর্ণতায় সতীর্থকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকতে থাকতে বলল, আজ প্রায় সাড়ে চার বছর পর আবার আমার সঙ্গে ঘটল, আমার কী মনে হচ্ছে জানো তো, আমার এই শরীরটা যেন দু’খণ্ড জিভের মতো পড়ে ছিল, তুমি ম্যাজিক করে দুটো খণ্ডকে জুড়ে দিলে।

    সতীর্থ একটু অবিশ্বাসের গলায় বলল, এই এতদিন কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়নি তোমার?

    আশমানি ওর বুকে মুখ ঘষতে ঘষতে বলল, প্রিয়মের বাবা মারা যাওয়ার বছরখানেক আগে শেষবার আমার কাছাকাছি এসেছিল। তারপর থেকে আমি আর এমন কাউকে পাইনি প্রিয়ম কামড়ে রক্ত বের করে দিলেও যে চুপ করে সহ্য করবে। আমায় বিয়ে করবে সতীর্থ?

     

     

    একশোবারের মধ্যে নিরানব্বই বার ওকে কেউ এ প্রশ্নটা করলে সতীর্থ ‘না’ বলত কিংবা পাশ কাটিয়ে যেত। কিন্তু সেদিন সেই মুহূর্তে প্রিয়মের পা চিপে দেওয়ার সেই গোপন গ্লানিকে মহত্ত্বে ভাঙানো যাচ্ছে দেখে ও একটা মোহের ঘোরে বলে দিল, তুমি একা নও আশমানি, তুমি আর একা নও।

    সেই গ্লানি যত ফিকে হতে শুরু করল, মহত্ত্বের নেশাও তত তরল হতে থাকল। ওদের পৈতৃক ফার্নিচারের ব্যবসায় যা আয় হয়, তাতে সতীর্থ যেরকম ফুটানি মেরে চলে তার সংস্থান হয় না। অনেকটা জমির ওপর ওদের ভাঙাচোরা তিনমহলা বাড়িটাকে প্রোমোটারের হাতে তুলে দিয়ে ফ্ল্যাট এবং ভাগের টাকা নেওয়ার ব্যাপারে সতীর্থ ওর কাকা-জ্যাঠাদের মত নিয়ে নিতে পেরেছে। সেই টাকায় ব্যাবসা মর্ডানাইজ করতে হবে, চাই কী অন্য ব্যাবসাতেও ঢুকতে হতে পারে এবং সেটা অবশ্যই পিয়ালকে সঙ্গে নিয়ে। কারণ এককালে পিয়াল যেভাবে ওর ওপর নির্ভরশীল ছিল, এখনও ওপর-ওপর ব্যাপারটা সেরকম থাকলেও ভিতরে উলটো। সতীর্থ জানে পিয়ালের দৌলতে ও ব্যান্ডের টাকার যে-ভাগটা পায় সেটা নেহাতই ফোকটে। এই ম্যানেজারির কাজটা ব্যান্ডের অন্য যে-কোনও পারফরমিং মেম্বার করে দিতে পারত। করতে পারে না, কারণ পিয়াল চায় না। পিয়ালের সেই ভরসার ওপর দাঁড়িয়েই একটা বিপজ্জনক খেলা শুরু করেছিল সতীর্থ। আশমানির সঙ্গে। কিন্তু কতদিন খেলবে?

    এমন নয় যে ও আশমানিকে ভালবাসে না। প্রবল ঝড়-বাতাসের মধ্যেও লাইটার যেমন এক ধাক্কায় জ্বালিয়ে দেয় গ্যাস ওভেন, আশমানি সেভাবেই জ্বালিয়ে তোলে ওর শরীর। দোতলা বাড়ির নীচের তলায় থাকা প্রিয়মের ঠাকুরদা-ঠাকুরমার উল্লেখ করে আশমানি বলে, ওঁরা চান আমি দমকলের গাড়ির মতো বেঁচে থাকি সারাজীবন। কিন্তু দমকলের গাড়িতে যখন আগুন লাগে তাকে নেভাবে কে?

    সতীর্থ আবারও কাছে টেনে নেয় ওকে। বলে, তোমার শ্বশুর-শাশুড়িকে তুমি তো দেখতে বাধ্য, তাই না?

    আশমানি ফুঁসে ওঠে, বাধ্য কেন?

    না, তুমি যে চাকরিটা করো, সেটা…

    সেটা তো কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ডে পাওয়া নয়। প্রিয়মের বাবার তো ব্যাবসা ছিল। ও যখন মাতাল হয়ে সবকিছু লাটে তুলে দিচ্ছে, আমি আমাকে আর প্রিয়মকে বাঁচাতে রাত জেগে পড়াশোনা করেছি, একটার পর একটা সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়েছি। এটা ছাড়াও একটা লেগেছিল, কিন্তু সেটায় বদলি ছিল, তাই…

    ও, আমি জানতাম না, সতীর্থ বলে।

    আশমানি ওর কথা শোনেনি এমনভাবে বলে, আমি ওদের তখনই দেখব, যখন ওরা তোমাকে মেনে নেবে।

    প্রিয়ম?

    প্রিয়ম বদলাবে। তুমি দেখো, আশমানির গলায় স্বপ্ন।

    কলকাতা সংলগ্ন এই নিচু-জমির অঞ্চলে পাড়া-কালচার বলে কিছু গড়েই ওঠেনি। গড়ে উঠলে পুত্রশোকে মুহ্যমান বৃদ্ধ-বৃদ্ধার যুবতী পুত্রবধূর কাছে এত ঘনঘন আসা ওর পক্ষে সম্ভব হত না। কিন্তু একদিন নেশার ঘোরে যে-সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল ওই অকল্পনীয় হিংস্র বাচ্চা প্রিয়ম এবং তার ভালমানুষ ঠাকুরদা-ঠাকুরমার ভার সেই সম্পর্ক সইবে তো? ছোটবেলায় খুব ভাল গোলকিপার ছিল সতীর্থ। ওদের কোচ শঙ্করদা যে-কোনও বড় ম্যাচের আগে ওকে ডেকে বলতেন যে, আকাশের পাখিকে কখনও দু’হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরা যায় না। কিন্তু ওই চামড়ার বড় বলকে যায়। কথাগুলো সতীর্থর কানে বাজে আজও। আশমানি যখন ওর ছাইচাপা ইমোশন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ওর জন্য, সতীর্থ ওকেও আঁকড়ে ধরেছিল।

    কিন্তু ভাবনা তো পালটায়। পিয়ালের জন্য ছুটে এসেছিল ওই যে মেয়েটা, যাকে দেখলেই মনে হয় ভগবান একে হালকা একটা তুলি দিয়ে এঁকেছেন, সে যখন ওকে একটা ফোন করে জানতে চাইল পিয়ালের গানের উৎস কী, সতীর্থর ভাবনা পালটাতে শুরু করল। ওর মনে হল, ও বোধহয় এবার উড়ন্ত কোনও পাখিকেও আটকে দিতে পারবে। টুয়ার মতো হালকা তুলিতে আঁকা কোনও পাখি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমন্ত্র – বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলো – বিশ্বজিত সাহা

    Related Articles

    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়

    মন্ত্র – বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }