Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প170 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তুন্দ্রার তৃণ

    পূর্ব কথা

    ইচ্ছের শুরু ভূগোল বইতে ইগলু-র ছবি দেখে অবধি। ওই স্বপ্নের দেশে যাওয়া যায় না? ছোটবেলাতে মা-বাবার সঙ্গে গিয়েছিলুম মধ্যরাতের সূর্য দেখতে। নরওয়েতে। মনে আছে সেই অভিজ্ঞতা। অসলো থেকে ট্রেনে প্রথমে নারভিক বলে একটি স্টেশনে। সেখানে থেকে আবার আরও উত্তরে। সেখানে এমনি ট্রেন যায় না, আরেকটা বিশেষ ট্রেনে যেতে হয়। জায়গাটার নাম ট্রোমসো, সেটি আর্কটিক সার্কেলের মধ্যে অবস্থিত নর্থকেপ-এ। বাবার তো বেড়ানোর শখ প্রচণ্ড, তাই আমাদের নিয়ে চললেন উত্তরমেরু অঞ্চলে, নিশীথ রাত্রের রোদ্দুর দেখাতে। আমার খুব আশা ছিল এস্কিমোদের দেখা পাব। ইগলু দেখব। কিন্তু না, নরওয়ে-সুইডেনে তারা নেই। আলাস্কাতে আছে। সেজন্য আলাস্কা যেতে হবে। মধ্যরাত্রের সূর্যদেব অবশ্য যেমন আলাস্কাতেও আছেন, তেমনই স্ক্যান্ডিনেভিয়াতেও আছেন, তাঁর কোনও বাছাবাছি নেই। কিন্তু এস্কিমোদের বাস আলাস্কায়, গ্রিনল্যান্ডে, আইসল্যান্ডে—ইগলু দেখতে হলে সেই সব দেশে যেতে হবে। নরওয়ে-সুইডেনে যাঁরা থাকেন তাঁরা নরডিক জাতির মানুষ। তাঁদের অন্য কাহিনী, অন্য গাথা, অন্য সংস্কার। ভাইকিংদের জাহাজ ভাসানোর গল্প তাঁদের।

    বাবা-মায়ের সঙ্গে ট্রোমসো-তে রাত্রিবাস করে লাভ হয়নি—সূর্য উঠল না—মেঘে ঢাকাই রইল আকাশ। সূর্য ওঠেনি, তবুও রাত্রিভর দিনের আলোয় চতুর্দিক ঝলমল করছে। ভীষণ ভারি ভারি পর্দা দিয়ে হোটেলের জানলাগুলি তাই ঢাকা থাকে, নইলে রাত্রে ঘুম হবে না। বাইরে কনকনে শীত এবং রোদ্দুর, যদিও গভীর রাত্রি, ঘরের ভেতরে হিটারের গরম, আর পর্দার অন্ধকার। আমাদের শেষ পর্যন্ত মধ্যরাত্রের সূর্য না দেখেই ফেরত রওনা হতে হল। বেরগেন থেকে জাহাজ ধরতে হবে, ‘ফিয়োর্ড’ দেখতে দেখতে স্কটল্যান্ডে গিয়ে ঠেকব-মন খারাপ করে ফিরছি তিনজনে। কিন্তু সূর্যদেব মাঝে মাঝে সূয্যিমামা হয়ে যান। সেই রাত্রেও হলেন, এবং ট্রেনের মধ্যে মহা উল্লাসে বাবা-মা আমাকে, ‘খুকু! ওঠ! ওঠ! খুকু, ওই দ্যাখ!’ বলে ঠেলাঠেলি করে তুলে দিলেন। ট্রেনের জানলার ভারি পর্দা বাবা সরিয়ে রেখেছেন, যদি সূর্য ওঠা দেখা যায়? সূর্য দেখা দিলেন। আকাশ জোড়া রঙের খেলার মধ্যে লাল টকটকে সূর্য—বাবা বললেন, ‘খুকু, ঘড়ি দ্যাখো! রাত দুটো!’ সত্যি সত্যিই রাত দুটোর সময়ে আকাশে সূর্য?—ট্রোমসো থেকে নারভিক ফেরবার পথে ট্রেনে সেই স্বপ্ন-স্বপ্ন অবিস্মরণীয় দৃশ্যটি দেখেছিলুম। আমার তখন বারো বছর বয়েস।

    গৌরচন্দ্রিকা

    কিন্তু বড় হয়ে বিদেশে এসে অবধি বার বার মনে হয়েছে আলাস্কায় যাব। ইগলু দেখব। এস্কিমোদের দেখব। আমাদের তরুণ বন্ধু প্রবাল যখন কাজে আইসল্যান্ডে গিয়েছিল কয়েক দিনের জন্য, তখন ওকে খুব হিংসে হচ্ছিল। একবার গ্লোরিয়া গেল গ্রিনল্যান্ডে। ওকেও হিংসে হল। জগতে হিংসের দ্বারা মাঝে মাঝে কিছু মহৎ কর্মও সাধিত হয়। অন্তত আমার জীবনে হয়েছে। ফাইনাল হিংসেটা হল যখন যাদবপুরের কোলিগ সুদীপ্তা দক্ষিণ মেরুতে ঘুরে এলেন—রঞ্জনের দাদা শংকরের দলে। অত সুন্দর সুন্দর ছবি বেরুল ‘দেশ’-এ। আমার এ আঁখি উৎসুক পাখি—আবার নতুন করে আগ্রহ জাগল, মেরু অঞ্চল দেখতে যাব। দক্ষিণ মেরু তো হবে না, উত্তর মেরুটাই চেষ্টা করা যাক। আলাস্কা। আমেরিকায় তো এত যাতায়াত, কই কেউ তো আলাস্কা যাচ্ছে বলেও শুনিনি।

    মনে রাখতে হবে, বছরটা ১৯৮৪-৮৫ ছিল যখন সুদীপ্তা গিয়েছেন। ১৯৮৬তে আমি একটি চমৎকার সুযোগ পেলুম—ইন্দো-ইউ এস ফাউন্ডেশন থেকে আমাকে নিমন্ত্রণ করল, ভারত উৎসবে যোগ দিতে। আমেরিকায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে, কবিতা পড়া এবং বক্তৃতা করার জন্য। দিল্লিতে সাক্ষাৎকারের জন্য ডেকে পাঠিয়ে আমাকেই জিজ্ঞেস করা হল—কোথায় কোথায় যেতে চাও? কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে?’ ওঁরা আমার খুশিমতো তালিকা থেকে চয়ন করবেন ওঁদের খুশিমতো জায়গা। আমি হার্ভার্ড, কর্নেল, শিকাগো ইত্যাদি দু-চারটে নাম বলেই বললুম-’আলাস্কাতে কোথাও আমি যেতে চাই এবং মেক্সিকোর কাছাকাছি যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে—যেখান থেকে আমি এক ছুটে মেক্সিকো ঘুরে আসতে পারব।’ মহিলা হেসে ফেললেন। ‘মেক্সিকোর কাছে? তাহলে তো টেক্সাস… কিন্তু আলাস্কাতে কি তেমন কোনও বড়সড় বিশ্ববিদ্যালয় আছে? আমি খোঁজ করছি। কিন্তু আলাস্কা কেন?’–’আমি যে নর্থ পোলে যেতে চাই। যাবই। একবার ওখানে পৌঁছোলেই যেমন করে পারি আর্কটিক সার্কেলে চলে যাব ঠিক!’ মহিলা অবাক চোখে তাকিয়ে রইলেন। তারপর অনেকটা হেসে বললেন—–’এই শাড়িটাড়ি পরেই যাবেন?’ আমিও বললুম—’নিশ্চয়? কেন নয়? প্লিজ চেষ্টা করুন আলাস্কায় একটা লেকচার ফেলতে।’ (মহিলার নিজের দেশ ছিল কলোরাডোতে, তই ডেনভারেও আমাকে একটি লেকচার দিয়েছিলেন!)

    .

    নিমন্ত্রণ যখন এল দেখি মেক্সিকোর কাছাকাছি কোনও লেকচার ফেলতে পারেননি বটে, কিন্তু সত্যিই আলাস্কাতে নিমন্ত্রণ দিয়েছেন। অ্যাংকোরাজ শহরে। আমি তো আহ্লাদে আটখানা। এবারে হবে উত্তর মেরু যাত্রা! আমেরিকাতে পৌঁছে প্রথমে শিকাগো। সেখানে আমাকে খুব যত্ন করে নিজের বাড়িতে অতিথি করে নিয়ে তুললেন শিকাগোতে ভারতবর্ষের কনসাল জেনারেল, অ্যালেন ন্যাজারেথ–(আমাদের কংগ্রেসি মন্ত্রী মার্গারেট আলভার ভাই তিনি। সেটা অনেক পরে জেনেছি!) গোয়ার মানুষ, খুব ভদ্র। ‘আনন্দ’ নামে আঠারো বছরের পুত্রটির কেমোথেরাপি চলছিল, মাথা ন্যাড়া করা। তারই মধ্যে বাড়িতে অতিথি নিয়ে তুলছেন! কনসুলেটেরই ওপর তলায় ওঁদের ঘরবাড়ি। সামনে বিশাল লেকের শান্ত জল এবং শিকাগোর স্কাইলাইন। আমার ঘরের মধ্যে জানলায় এই দৃশ্য ছাড়া, ছিল অনেক বই। মোটাসোটা একটি বইয়ের মলাট দেখেই তুলে নিই—উত্তর মেরুর তুষারদৃশ্য। আলাস্কা। সারা রাত্রি ধরে মুগ্ধ হয়ে ওই বইটা পড়ি, ছবি দেখি, আর ভাবি। হবে তো? যাওয়া হবে তো? ন্যাজারেথের সঙ্গে এমনি বন্ধুত্ব হয়ে গেল, তাঁকে বললুম আমার মেক্সিকো যাবার ইচ্ছের কথা। সেখানে দুটি বক্তৃতা ঠিক হয়েছে। একটি এল কলেজিও ডি মেহিকোয়, অন্যটা মিউজিয়াম অব আর্কিওলজিতে। থাকব কোথায়? সেটা জানি না। গিয়ে দেখব। ন্যাজারেথ তক্ষুনি তিনটি কাজ করলেন। মেক্সিকোয় আমার থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন অ্যাম্বাসাডারকে ফোন করে, এবং পাসপোর্টটা চাইলেন ভিসা করে দেওয়ার জন্য। অন্য কাজটি এই–বললেন, ‘জাপানে তো যাচ্ছেন, থাকবেন কোথায়? খুব এক্সপেনসিভ জায়গা। গিয়ে ঠিক করবেন? ওঃ—মরবেন। দাঁড়ান আমাদের কবিবন্ধু মাধবন ওখানে অ্যাম্বাসাডার, আপনাকে খুব আদর করবেন’–ন্যাজারেথ জাপানে ফোন করে টোকিওতে ব্যবস্থা করে দিলেন অ্যাম্বাসাডারের গৃহেই আতিথ্যের। সেসব গল্প পরে একদিন বলা যাবে। কিন্তু উনি মহা দুঃখিত, আলাস্কার বিষয়ে ওঁর করবার কিছুই নেই।

    সূচনা

    নিউইয়র্কে মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টে হচ্ছিল ভারত-উৎসবের কবি-সম্মেলন। ভারতবর্ষ থেকে দশজন কবির যাবার কথা ছিল, অমৃতা প্রীতম যাননি বলে ন’জন। বাংলা থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং আমি আছি। রাত্রে ডিনারে স্থানীয় কবিদের সঙ্গে আড্ডা হয়। আমি যাকেই দেখি তাকেই জিজ্ঞেস করি—আলাস্কাতে কেউ চেনা লোক আছে?-সবাই একবাক্যে বলে, নেই—যেন রিহার্সাল দিয়ে রেখেছে। একদিন কিন্তু অ্যালেন গিন্সবার্গ বললেন—’ওই তো গ্যারি আছে। গ্যারি বছরে দুবার করে আলাস্কা যায় আর নেভাডা যায়। ওকে জিজ্ঞেস করলে ঠিক বলতে পারবে। ওর চেনা লোক নেই হতে পারে না। এই তো ফিরল আলাস্কা থেকে গত সপ্তাহেই।’

    চেপে ধরলুম ছোটখাটো গ্যারি স্নাইডারকে। সাদা শার্টের ওপরে মেক্সিকান ওয়েস্টকোট, মাথায় একটা টিকির মতো বিনুনি বাঁধা, গ্যারি মানুষটি হাসিখুশি। কিন্তু আলাস্কা বিষয়ে সাহায্য করতে রাজি ছিলেন না। ওঁর ভয় হল, উনি স্পষ্টই বললেন, এভাবে যদি যদু মধু সব লেখকরাই ওঁর মতো করে আলাস্কা যেতে শুরু করে, তাহলে ওখানে গেলে উনি যে স্পেশ্যাল সুযোগ সুবিধেগুলো পাচ্ছিলেন, সেগুলো পাবেন না। আমি বললুম—’কিন্তু আমি তো এখানে থাকি না, আমি রোজ রোজ কেমন করে আসব? কেনই বা আসব?’—উনি তবু রহস্য ভাঙলেন না। শুধু বললেন—’আমি তো হিচহাইক করে যাই। তেল কোম্পানির প্রাইভেট প্লেনগুলো নিয়মিত আর্কটিক অঞ্চলে যাওয়া আসা করে। ওখানে এখনও কমার্শিয়াল বা সরকারি গাড়ি ঘোড়ার বা পুষ্পকরথের ব্যবস্থা হয়নি।

    তিন হাজার মাইল দীর্ঘ আইস ফিল্ড আলাস্কার প্রসিদ্ধ বরফের মরু পড়ে আছে তেপান্তরের মাঠের মতো, তাতে গাছপালা নেই, পথঘাট নেই, জনমানব নেই। মাঝে মাঝে মেরু-ভালুক, মেরু-হরিণ, এদের দেখা যায়। আমি যদি আর্কটিক অঞ্চলে যেতে চাই তবে আমাকে কোনও একটা তেল কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। প্রাইভেট প্লেন ছাড়া গতি নেই। ওই প্লেন ধরে হিচহাইক করতে হবে।

    আমি ওঁকেই ধরি : ‘আপনি তো অনেককে চেনেন। একটি নাম দিন না। একটি রেকমেন্ডেশন। ফোনে বলে দিন না কোনও বন্ধুকে। আমি তো যাচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি হয়ে। আমাকে একটু শুধু মেরু অঞ্চলে যাবার ব্যবস্থাটুকু করে দিতে হবে।’ গ্যারি বললেন, ‘নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই। তবে ফোন নম্বরটা তো সঙ্গে আনিনি ভাই—সেই নেভাদাতে পড়ে আছে। আমাকে নেভাদাতে ফোন করবেন, দেব।’ কবিদের মন বোঝা সোজা? তারপরে নেভাদার মরুভূমির বালিয়াড়িতে কত বালুঝড় বয়ে গেছে, আমি গ্যারি স্নাইডারকে কত শত ডলারের ফোন করেছি (তখনও ফোন এত সস্তা হয়নি আমেরিকাতেও)—উনি আর ফোন নম্বরটা খুঁজে পাননি। তবু, খবরটা তো দিয়েছিলেন, তেল কোম্পানির প্লেনের!

    আলাস্কায়

    অ্যাংকোরাজ শহরটি তত বড় নয়, ফেয়ারব্যাংকসে নাকি বড়সড় বিশ্ববিদ্যালয় আছে। তবু, মন্দই বা কী? ওঁরা আমাকে রেখেছেন প্রো-ভাইসচ্যান্সেলরের বাড়িতে, প্রফেসর রঘু বাসি একজন চুলদাড়ি কামানো শিখ। তাঁর স্ত্রী ব্রিজ চমৎকার পাঞ্জাবি রন্ধনপটিয়সী। কলেজপড়ুয়া ছেলেটি অবশ্য পাঞ্জাবি ভাষা বলে না, রাজ আমেরিকান। ওদের বসতবাড়িটি একটি টিউডর কাসলের অনুকরণে নির্মিত, সত্যিই একটি দুর্গ। বিশাল ভেতরেই গোপন একটি গুরুদ্ধার—সদৃশ হলঘর আছে গুরু গ্রন্থসাহিব সমেত, ওপরতলায় লুক্কায়িত, চাবিবন্ধ থাকে। রবীন্দ্রনাথের ১২৫ বছর উপলক্ষে আমি বক্তৃতাটি দিলুম, ‘রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলায় নারী। প্রচুর শ্রোতা ছিলেন—তার মধ্যে এত ভারতীয় দেখে তো আমি অবাক। শুনলুম অ্যাংকোরাজে ৬০ ঘর ভারতীয় আছেন, সকলেই নিমন্ত্রিত। বক্তৃতার পরে একটি ককটেইল পার্টি ছিল। এটির হোস্ট ভাইসচ্যান্সেলর স্বয়ং। আমার বক্তৃতা তাঁর খুব ভালো লেগেছে। স্লাইড সহ বক্তৃতার এই সুবিধে, চট করে খারাপ লাগে না। তাঁর কিছু বন্ধু-বান্ধবেরও ভালো লেগেছে, আলাপ করিয়ে দিচ্ছিলেন। ইনি এই বিষয়ের প্রফেসর। ইনি এই কোম্পানির ডিরেক্টর। ইনি…ইত্যাদি। পার্টির পরে রাতে ডিনারের নিমন্ত্রণ ছিল বাঙালিদের বাড়িতে। এখানে ছঘর বাঙালি বাস করেন—তাঁরা সকলেই এসেছিলেন। তাঁদের বাড়িতে ডিনারে গিয়ে খুব মজা হল। আমারই পুরনো কলেজের ছেলে সবাই—তিনজন যাদবপুর তিনজন প্রেসিডেন্সি। সূর্য-আলোকিত রাত্রি-অ্যাংকোরাজের আশপাশের পাহাড়গুলি অদ্ভুত বেগুনি-গোলাপি-রানিরঙের আলোর আভায় উদ্ভাসিত হয়ে অলৌকিক চেহারা ধরেছে—যেন কোনও দিব্যশিশুর আঁকা। যা খুশি রং। সোনারঙের ছড়াছড়ি। এমন দৃশ্য এঁরা রোজ দেখছেন, প্রত্যেকদিন! পাহাড়ের পিছনে সূর্যের উদয় বা অস্ত কিছু একটা ঘটছে—অথবা সূর্য স্থির হয়ে আছেন—অথবা মেদিনী থমকে গেছেন।

    একজনদের বাড়িতেই ছ-জনরা জমায়েত হয়ে খুব আড্ডা, খাওয়াদাওয়া (মাছ-ভাত, অবশ্যই, চচ্চড়িও) এবং হারমোনিয়াম বাজিয়ে চমৎকার গান হল। আমি কেবলই ঘ্যানঘ্যান করছি, কী আশ্চর্য, আপনারা এখানে কেউ তেল কোম্পানিতে একজনও কাউকে চেনেন না? তেল কোম্পানির কেউ একটু বলে দিলেই ওই প্লেনে আমি যেতে পারতুম গ্যারি স্লাইডারের মতো! কিন্তু চেনে না, বঙ্গসন্তানেরা কেউই এই তেল কোম্পানি বিষয়ে উচ্চবাচ্য করলেন না। বাড়ি ফিরে গেলাম—তখন ভোরবেলা, যদিও সারারাতই ভোরবেলার আলো, সারারাত আড্ডা হয়েছে। আগামীকাল ছুটি। রবিবার।

    পরদিন আমার হোস্টের কাছে বসে আমি শোকপ্রকাশ করছি। ‘একজনও তেল কোম্পানির লোককে চিনি না বলে প্লেনের খবরটা পেলাম না।’ অবিশ্বাসী চোখে আমার দিকে চেয়ে থাকবার পর, উনি বললেন-’আপনার বাঙালি বন্ধুরা তো প্রত্যেকেই একেকটা তেল কোম্পানিতে কাজ করে! ওরা বলল না?’ একথা শুনে আমার মুখের করুণ চেহারা দেখে ওঁর মায়া হল। তারপর একটু ভেবে বললেন—’কাল তো আমাদের ভাইসচ্যান্সেলর আপনাকে ‘আরকো’ তেল কোম্পানির ডিরেক্টরের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলেন। তাঁকেই বললেন না কেন? ARCO নামটা দেখি সর্বত্র-সত্যি তো? ভদ্রলোকের সঙ্গে আলাপ করবার সময়ে খেয়াল করিনি। ‘খেয়াল করেননি বোধহয়। দাঁড়ান আজ রবিবার। ওঁকে ঘরে পাওয়া যাবে। ডাকছি। কথা বলুন।’ মিস্টার সিং ডেকে দিলেন—’আমাদের বন্ধু ভারতীয় লেখিকা, প্রফেসর দেব সেন, আপনি ওঁরই লেকচারে এসেছিলেন। আপনার সঙ্গে একটু কথা বলতে চান।’ আমি তো লম্ফঝম্প করে কেঁদে ককিয়ে বললুম-’চাই চাই যেতে চাই মেরুতে এখনই’—উনি বললেন—’মোস্ট ওয়েলকাম। বি মাই গেস্ট। আমার প্লেন শ্রমিকদের নিয়ে সপ্তাহে একবার যায় ও আসে। আপনি কাল ভোরেই চলে যান। পরের সপ্তাহে আসবেন। একহপ্তা তুন্দ্ৰা অঞ্চলে আমার গেস্টহাউসে থাকবেন। বরফে বেড়াবেন, লিখবেন যতখুশি। কিন্তু প্লেন কাল ভোর ৭টায় ছাড়বে, আপনার জন্য একটা সীট রাখতে বলে দিচ্ছি, আবার আগামী সোমবার এই প্লেনেই আসবেন’—। আমার দুর্ভাগ্য, আমার থাকা হবে না। তার আগেই মেক্সিকো যাচ্ছি এখান থেকে। বক্তৃতার তারিখ বাঁধা। কালই ফিরে আসতে হবে, ওই প্লেন যখন ফিরবে সন্ধেবেলায়। একহপ্তা মেরু অঞ্চলে আতিথ্যের স্বর্ণ-সুযোগ হাতছাড়া হল।—’কিন্তু কাল যে মেরু-অঞ্চলে যাবেন, আপনার পোশাক-আশাক কই?’—মিসেস বাসি উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন। ‘আমার জামাজুতো প্যান্ট কোট কিছুই তো আপনার হবে না!’ আমি ১৯৮৬-তে তন্বী ছিলুম। অগত্যা ফোন করলুম আমার বাঙালি বন্ধুদের। ‘তোমরা আমার ভয়ে কেউই তো বললে না-একজনও না—তোমরা প্রত্যেকেই তেল কোম্পানিতে কাজ করো? অত হন্যে হয়ে খুঁজছিলুম একজনকে! যাকগে—ARCO-র চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে (‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, তিনি তো আপনার লেকচারে এসেছিলেন’) তিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কাল সকাল ৭টায় তাঁদের প্লেন যাচ্ছে আর্কটিক সার্কেলে—’প্রুডহো-বে’-তে, যেখানে আলাস্কার পেট্রোলের পাইপলাইন শুরু হচ্ছে—একহপ্তা থাকতে বলেছেন। পরের প্লেনে ফিরব—ততদিন থাকব—নির্ঝঞ্ঝাটে লিখব—(‘খবর্দার না! বোর হয়ে মরে যাবেন! ওটা মরুভূমি’) কিন্তু আমার ঠান্ডায় যাবার পোশাক নেই। আমাকে তোমাদের বউদের কোট, স্নোবুট, পুলোভার, টাইটস, দস্তানা, মোজা ইত্যাদি ধার দিতে হবে। ফিরে এসে ফেরত দেব। ‘বাঙালিনী বউদের জুতো মোজা দস্তানা কোট টুপি সবই আমার গায়ে দিব্যি ফিট করে গেল। সেই রাতেই তাঁরা সবকিছু যোগাড়-যন্ত্র করে আমাকে পৌঁছে দিলেন, অবশ্য একটু সলজ্জভাবে। কিন্তু একদিনেই ফিরছি শুনে নিশ্চিন্ত হলেন সকলে। ওখানে এঁরা কেউই যাননি—এঁদের ওখানে যাবার দরকার নেই। বিনা দরকারে ওখানে কেউ যায় না। শুধু শ্রমিকরা যায়। একটানা সাতদিন একসঙ্গে কাজ করে। তারপর সাতদিন টানা ছুটি ভোগ করে শহরে ফিরে এসে—সপরিবারে। আবার সাতদিনের জন্য চলে যায় ডিউটিতে। ওই প্লেনে করে যাবে নতুন দলটি। আর ফিরে আসবে পুরনো দল। এইভাবেই ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ডিউটি পড়ে। ওখানেই একটানা চিরদিনের পোস্টিং নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়, তাতে কাজের মান কমে যাবে, শ্রমিকদের মন মেজাজ ভালো থাকবে না—ওটা তো দ্বীপান্তরেই থাকা! ‘ওরকম কর্কশ ওয়ার্কিং কন্ডিশান বলে শ্রমিকদের তুষ্ট করতে নানারকম কম্পেনসেশনের ব্যবস্থা আছে।’—বললেন বাঙালি বন্ধুরা। জানে সবই। বলবে না। পাছে কিছু করতে হয়।—’আসলে তেল কোম্পানিতে কাজ করি বটে, কিন্তু ওসব প্লেনে ব্যবস্থা করে দেওয়ার ক্ষমতা তো আমাদের নেই, তাই আর কিছু বলছিলাম না।’ কিন্তু তোমরাও তো আমাকে চেয়ারম্যানের ফোন নম্বরটা দিতে পারতে? কিন্তু তোমরা না বললেই বা, আমার যাওয়া তো হল? রাখে হরি, মারে কে? পরদিন ভোরে মিসেস বাসি সপুত্রক আমাকে প্লেনে তুলে দিলেন। অবশ্যই সানগ্লাস নিয়ে যেতে মনে করিয়ে দিলেন—নইলে বরফে চোখ অন্ধ হয়ে যাবে সূর্যের ঝলসানিতে।

    যাত্রা

    প্লেনে সকলেই পুরুষ। কেবল একটি দম্পতি আছে, তাদের দারুণ ফ্যাশনেবল দেখতে। পুরুষটিকে ভীষণ চেনা চেনা লাগছে। ফিল্মস্টার-টাইপের চেহারা। ফিল্মস্টারই হবে হয়তো, আমি তো কেবল গ্রেগরি পেক আর চার্লি চ্যাপলিন ছাড়া কাউকে চিনি না। তাঁদের মধ্যে কেউ নন ইনি। সঙ্গিনী কোনও মডেল-টডেল হবেন। এঁরা কেন যাচ্ছেন? রহস্যময় হয়ে রইল ওঁদের যাওয়াটা—ওখানেও কি শ্যুটিং হয়? তাহলে তাঁদের তো আলাদা প্লেন যাবে—অনেক লোকজন, যন্ত্রপাতি—ওখানে থাকবেই বা কোথায় সব। শ্যুটিং হবে কেমন করে?

    পৌঁছতে, আমাদের অভ্যর্থনা জানাতে এলেন দুজন ভদ্রলোক। সেই রূপবান দম্পতিকে ও আমাকে। জানলুম মহিলা সত্যিই মডেল এবং ভদ্রলোকের ফিয়াসে-ভদ্রলোক CBS নামক বিখ্যাত টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক। খবর পড়েন ও খবর বিশ্লেষণ করেন। তাই মুখচেনা। ওয়াশিংটন ডি সি থেকে এসেছেন, তুন্দ্রা অঞ্চল বিষয়ে কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে। সবান্ধবী।—’ইনি ভারতীয় লেখক ইনিও এসেছেন তুন্দ্রা অঞ্চল বিষয়ে জ্ঞান সংগ্রহ করতে।’ তারপর থেকেই নোটবই বের করে (১৯৮৬-তে লোকে নোটবই বের করে নোট নিত) ঘন ঘন নোট নিতে শুরু করলেন সাংবাদিক ভদ্রলোক। আমারও উচিত ছিল। কিন্তু তাহলে মুহূর্তটা যে পালিয়ে যাবে—উপভোগ করা হবে না। আমি তাই নোট নিলুম না। খুব ভুল। ভুলতে আমার জুড়ি নেই।

    আমরা তিনজন ছিলুম সেদিনকার গেস্ট। তিনি মিডিয়ার লোক, তাঁর বান্ধবী মডেল, তাঁরা দুজনেই বলা বাহুল্য ভি আই পি-আর আমি? চেয়ারম্যানের পার্সোনাল গেস্ট, আমি তো ভিি ভি আই পি! শাড়ি পরেই গিয়েছি ইচ্ছে করে। শার্ট পেন্টুলুন ছিল না তা নয়। কিন্তু ওই যে দিল্লিতে ভদ্রমহিলা বলেছিলেন, ‘এমনি শাড়ি পরেই যাবেন?’—তাই। তাছাড়া ওখানকার লোকজনরাও তো শাড়ি দেখেনি—ওই তুন্দ্রা অঞ্চলের শ্বেত ভাল্লুক, ক্যারিবু হরিণ, মেরু-হাঁস—ওদেরও তো কিছু নতুন দ্রব্য দেখাতে হবে? এস্কিমোরাও দেখুক। হ্যাঁ এই হচ্ছে এস্কিমোদের দেশ। আলাস্কার উত্তরতম জায়গা—দুটির মধ্যে একটির নাম পয়েন্ট ব্যারোজ সেখানে নাকি একটা ছোট ট্যুরিস্ট স্পট হয়েছে-একটা ডে-ট্রিপ আছে, সেই প্লেনটি ওদের ফেয়ারব্যাঙ্কস থেকে ব্যারোজে নিয়ে যায়, সেদিনই ফিরিয়ে দেয়—ওখানে তারা এস্কিমোদের হাতে তৈরি জিনিসপত্তর কিনতে পারে—এস্কিমোদের বাড়িও দেখতো পারে। কিন্তু না। ইগলু সেখানেও নেই। ওখানে কাঠের বাড়ি বানিয়ে থাকে এস্কিমোরা। ইগলু এসব অঞ্চলে নেই। এই ট্রিপের খবরটা ভাগ্যিস তেমন কেউ জানে না—গ্যারি স্নাইডারও না। তাহলে আমাকে সেটাই বলত। আমিও একটা প্লেন টিকিট কিনে ওই ফেয়ারব্যাঙ্কে গিয়ে সেখান থেকে আরেকটা প্লেনের টিকিট কিনে পয়েন্ট ব্যারোজে যেতুম—যদিও সেই ট্রিপটার প্রচণ্ড বেশি দাম। খুব এক্সপেনসিভ। কেননা খুব কম লোকে যায়, প্লেন খালিই থাকে। লোকে যায় না বলে দামি, আবার দামি বলেও লোকে যায় না। গিয়ে কী হবে? ওখানে দেখবার কী আছে? উইন্টার স্পোর্টসও নেই। আর এস্কিমোদের হাতে তৈরি গিফট? সে তো যে কোনও ‘গিফট শপে ট্রাইবল আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস’ বিভাগে বিক্রি হয়। তার জন্য অত টাকা খরচ করবে কে?

    এই ধরে-বেঁধে হাওয়াই জাহাজে ফ্রি লিফট নেওয়ায় আমার ট্রিপটা হল একদম আলাদা—নতুন! আমাদের প্লেন থেকে নামিয়ে নেওয়া থেকে প্লেনে ফেরত চড়িয়ে দেওয়া পর্যন্ত যারপরনাই মান সম্মান, যত্ন আত্তি করা হচ্ছিল। তুন্দ্রা অঞ্চলে বেশি ভি আই পি সমাগম হয়না সম্ভবত। আমাদের সঙ্গে দুজন (আমার সঙ্গে একজন, ওঁদের সঙ্গে একজন—যদিও আমরা পাঁচজনই সর্বদা একত্রে ঘুরছি ফিরছি খাচ্ছি দাচ্ছি) গাইড, বা হোস্ট—তাঁরা সমানে ব্যাখ্যা করছেন এখানকার জীবনযাত্রা, ঘরদোর, কাজকর্ম, পশুপ্রাণী—ঋতুবদল, যাবতীয় বিষয়। কোনও লিখিত মেটিরিয়াল তাঁরা দেননি যেহেতু ট্যুরিস্টদের জন্য তাঁদের কোনও প্রস্তুতি নেই—টিভির খ্যাতনামা সাংবাদিকদের জন্যও না—ভারতীয় লেখিকাদের জন্যও না। তিনি ক্যামেরা এনেছিলেন, ছবি তুলছিলেন–আমিও ক্যামেরা নিয়ে গেছি, ছবি তুলেছি। মাসটা জুনের শুরু। তখন ওদেশে সূর্য অস্ত যান না, নিরন্তর রোদ্দুর—কিন্তু সেদিন আকাশে মেঘ ছিল, ছবি আমার সস্তা ক্যামেরায় ভালো ওঠেনি। আমরা যে এয়ারপোর্টে নামলাম তার নামটি ভালো নয়, ডেড হর্স। ওই অঞ্চলে তো ঘোড়াই নেই, জীবিত বা মৃত। এমন নাম কেন? মেলেনি উত্তর।

    এয়ারপোর্টে আমাদের জন্য একটা জিপগাড়ি ছিল যেটি তুষারাবৃত মাটিতে, শক্ত বরফে তৈরি রাস্তার ওপরে চলাফেরা করতে পারে। সেইটি করে আমরা ডেড হর্স থেকে ‘প্ৰডহো বে’-তে এলাম। এটা সমুদ্রতীরে—সমুদ্র মানে আর্কটিক ওশান। বরফের মধ্য দিয়ে এলাম, বরফ ছাড়া কিছুই চোখে পড়ল না। একটিও ঘরবাড়ি নেই। গাছপালা তো জানতুম থাকবে না।

    তিনঘণ্টা ধরে আমরা যে আলাস্কার আইস ফিল্ড পেরিয়ে এলুম প্লেন থেকে তার দৃশ্য যা দেখেছি তার বর্ণনা দেওয়া সম্ভব নয়—শুধু বরফঢাকা জমিন আর তার মাঝে এঁকেবেঁকে চলেছে Yukon নদী, আলাস্কার আদরের নদী। গোড়ার দিকে কিছু কিছু সবুজ পাহাড়-পর্বত ছিল—তারপর আর রং নেই। এখানে নেমেও রং আশা করিনি। গাড়িটির খাঁকি রং। ‘প্রুডহো বে’-র ARCO অফিসে এসে, গাড়ি থেকে নেমে সীমাহীন বরফে দাঁড়ালুম। মই-সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হবে একটা ট্রেনের মতো দেখতে জিনিসের মধ্যে। সেইটেই অফিস। উঁচু-উঁচু খুটি বরফে গাঁথা, তার ওপরে দীর্ঘ দোতলা ট্রেনের কামরা রাখা বলে মনে হচ্ছে। খুবই কৌতূহলী হয়ে ওপরে উঠি। ভেতরে কী দেখব? এটা কেমনতর বাড়ি? সিঁড়ি দিয়ে উঠে, ভেতরে ঢুকে, অবাক কাণ্ড! ভেতরে রাস্তাঘাট, ঘরদোর—রেস্তোরাঁ, সিনেমাহল, খেলার মাঠ, লাইব্রেরি, সবই আছে। হ্যাঁ খেলার মাঠও। সবই ইন্ডোর, বলা বাহুল্য—ওখানে তো আউটডোর কিছুই সম্ভব নয় আর্কটিক সার্কেলের মধ্যে ৩০০ মাইল ভেতরে, আবহাওয়া যেখানে সমুদ্রকে জমিয়ে থমকে বরফ করে রেখেছে। সারি সারি জাহাজে ট্র্যাফিক জ্যাম!

    প্লেনে আসবার সময় থেকেই মুগ্ধতা অপার। মনে মনে কোনও বদ্ধ ধারণা ছিল না কী দেখতে পাব। অপার শুভ্র তুষার ছাড়া—জানতাম না কোথায় কাটাব দিনটা। শুধু তুন্দ্ৰা… তুন্দ্ৰা… এই শব্দটাই মনের মধ্যে বাজছিল। প্লেনে তিনঘণ্টা যে আইস ফিল্ড দেখতে দেখতে এলুম সেইটেকেই তুন্দ্রা অঞ্চল মনে হয়, যদিও সেটা তুন্দ্ৰা নয়। তুন্দ্রা অঞ্চল তারও উত্তরে। আরও শীতল, আরও কঠোর। ‘প্রুডহো বে’ তুন্দ্রাতে অবস্থিত। এখন আমি যেখানে।

    .

    ভূগোলে পড়েছি তুন্দ্রা দু রকমের হয়, অ্যালপাইন আর আর্কটিক। অ্যালপাইন তুন্দ্রা অঞ্চল হল ট্রি লাইনের ওপরে উঠে গেলে, হিমালয়ে যেটা অনেকখানিই রয়েছে—যেখানে উদ্ভিদ নেই, চির তুষারের দেশ। তুষার না থাকলেও, গাছপালা নেই—যেমন সেই তিব্বত সীমানায় তাওয়াংয়ে গিয়েছিলাম। সেটা অ্যালপাইন তুন্দ্রা। আর ইনি হচ্ছেন আর্কটিক তুন্দ্রা। এখানে উদ্ভিদ বলতে ঘাস, আর শৈবাল। প্রাণী বলতে গরমকালে নাকি খুব মশা মাছি হয়, আর ক্যারিবু হরিণ, শ্বেতভাল্লুক, আর দুয়েক রকমের হাঁস জাতের পাখি। ওই ঘাসেও কিন্তু ফুল আসে, বসন্ত কি সোজা জিনিস? এই এতদূরে এসেও শীত মশায়ের রক্ষে নেই—যত অল্প সময়ের জন্যই হোক, তাঁকে একবার তল্পি গুটোতেই হবে। তবে ঘাসপাতা কিছুই তো আমার চোখে পড়ছে না—শুধু সাদা মাঠ। তুষারের তলায় কঠিন বরফ পাথরের মতো জমে আছে। এখানে মাটি নেই। মাটির স্পর্শ পাওয়া খুব কঠিন। জো বলল, (জো আমাকে দেখাশুনো করছে) এই জমিটার নাম পার্মাফ্রস্ট, পায়ের নীচে ১৮ ফুট গভীর এই পার্মাফ্রস্টের স্তর। তারও নীচে মাটি। সেই গভীর পার্মাফ্রস্টের স্তর ভেদ করে, মাটি খুঁজে নিয়ে, তার মধ্যে এরা প্রথমে নুড়ি-পাথর দিয়ে একটা শক্ত স্তর তৈরি করে নেয়। তার মধ্যে পাইলিং করে তার ভেতরে প্রোথিত হয়েছে এই খুঁটিগুলো। তারপরেও ছ ফুট শূন্য জায়গা ছেড়ে রেখে, তবে বাড়িঘর বানানো শুরু হয় মাচা বেঁধে। কেন ছ ফুট ছাড়া? দেশে দেখেছি যেসব জায়গায় খুব বন্যা আসে, তারা খুঁটির ওপরে ঘর বানায়। উত্তরবঙ্গে, আসামেও আছে। এখানে তো বান ডাকে না। তবে মাচার ওপর ঘর কেন? এখানে অন্য সমস্যা আছে। বাড়িতে মানুষজন জীবনযাপন করবে-বাড়ি হিটেড হবে—যদি সোজা বরফের ওপরে বাড়ি বানানো হয় তাহলে সেই উত্তাপে বরফ গলতে শুরু করবে, বাড়িও ডুবতে শুরু করবে। এই ফাঁকা ছ ফুটে, বাড়ির তলা দিয়ে শীতল বাতাস হু হু করে বয়ে যাচ্ছে, পার্মাফ্রস্ট যেমন কে তেমন শক্ত, শীতল, সুস্থসমর্থ থাকছে। বাড়ির কোনও বিপত্তি ঘটবে না এর ফলে। নতুবা বাড়িটাড়ি তো বরফে বসে যাবে। ডুবে যাবে। তাই ছ ফুট উঁচু খুঁটির ওপরে বাড়ি। খুটি আবার বরফের নীচে ১৮ ফুট তো নেমে গেছেই। সেই গ্র্যাভেল প্যাড অবধি। গরম ঘরে ARCO-র কর্মীদের কাফেটেরিয়াতে বসে কফি-ডোনাট খেতে খেতে এসব জ্ঞান সঞ্চয় করছি। আরেকজন ভদ্রলোক CBS-এর দম্পতির দেখাশুনো করছেন, এই টেবিলেই। আমি বলেই ফেলি—’কিন্তু জো, তুমি তো এস্কিমো নও!’

    জো হেসে ওঠে। ‘না না, আমি এস্কিমো কেন হব, আমি আলাস্কার মানুষই নই, আমি তো সিয়াটল ওয়াশিংটনের ছেলে। তুমি বুঝি ভেবেছিলে এখানে কেবল এস্কিমোই দেখতে পাবে? আছে। অনেক এস্কিমো ছেলে আমাদের সঙ্গে কাজ করে। ডেকে আনছি। দাঁড়াও’—বলতে বলতে দেখি তিব্বতি চেহারার একটি ছেলে ট্রে-তে খাবার নিয়ে যাচ্ছে—জো ডাকল—রন—এই যে এই মহিলা তোমার সঙ্গে আলাপ করতে চান।’ আমি তো… লজ্জার একশেষ! যথাসাধ্য স্মার্ট হয়ে বলি—’তোমরাও তো শাড়ি পরা ভারতীয় মেয়ে দেখোনি প্রুডহো বে-তে? দেখে নাও। আমিও এস্কিমো দেখিনি কলকাতাতে। তাই দেখতে চাই। কিন্তু তোমার পোশাকআশাক তো এস্কিমোদের মতো নয়? নামও নয়। এস্কিমোদের তো অন্যরকম নাম শুনেছি, ‘উক পিক’, ‘পুক মাক’…জাতীয়।’ রন হেসে পরিষ্কার মার্কিনি উচ্চারণে বলল—’হ্যাঁ ওই দুটোই এস্কিমো নাম, আমার এটা আমেরিকান নাম! আমাদের সহজ একটা আমেরিকান নামও থাকে। আর সিলমাছের পোশাক? হ্যাঁ সেও আছে—এখানে পরি না—শীতকালে মাঝে মধ্যে পরি। পোশাক মানে, হুডেড জ্যাকেট, আর ওভার-প্যান্টস আর জুতো। যদি বাইরে দ্বীপে-টিপে যাই—তখন হয়তো কিম্বা প্লেনে করে যাই—’ রনকে দেখতে আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের মতো। বা আমাদের দেশের পাহাড়িদের মতো। শুনেছি বহুযুগ আগে এককালে নাকি স্থলপথে এশিয়া থেকে মানুষ হেঁটে হেঁটে চলে গিয়েছিল নর্থ আমেরিকায়। সেই মানুষরাই আমেরিকান ইন্ডিয়ান। আর আলাস্কার এই বিশাল অংশ সেদিন পর্যন্তও ছিল রাশিয়ার অঙ্গ। ‘এক পেনিতে এক মাইল’ জাতীয় এক অবিশ্বাস্য দরে সেটি প্রায় বিনামূল্যে রাশিয়ার কাছ থেকে নিয়েছিলেন এক মার্কিন সেনাপতি। তখনও জানা ছিল না কারুরই,—না ক্রেতার না বিক্রেতার—যে ওই বিশাল তুষারগর্ভে কী সোনা লুকনো আছে—আছে পেট্রোলিয়াম।

    পেট্রোল উদ্ধারের পরে ‘প্রুডহো বে’ থেকে তিন হাজার মাইল লম্বা তেলের পাইপলাইন টানা হয়েছে সেই ভালডেজ বন্দর পর্যন্ত। ভালডেজ আলাস্কার দক্ষিণ-পশ্চিমে-খুব সুন্দর ছোট বন্দর শহর—সেখান থেকেই জাহাজে ওঠে তেল–বাণিজ্য করতে যায় দেশে দেশে। পরে সেখানেও গেছি। জলপথে জাহাজ চড়ে।

    .

    জো আমাদের দেখাচ্ছিল, ওদের বাড়িঘর। ওই খুঁটির ওপরে এই স্থাপত্য বাইরে থেকে দোতলা ট্রেনের কামরার মতো দেখায়—ভেতরে একদম স্বাভাবিক। সিন্দুকের মতো মোটা দরজা খুলে আমাদের ঢুকিয়ে নিয়েই আবার দরজা বন্ধ! বাইরে তুষার-ঝোড়ো বাতাস বইছে, বয়ে যাক, ভেতরে সুন্দর গরম। কোট কেন, সোয়েটারও পরতে হবে না।

    ভেতরে জোর আলো জ্বলছে—ঝকঝক করছে সব–দামি হোটেলের মতো। রাস্তার দুধারে ঘরদোর। রাস্তা মানে ঐ মাইল দীর্ঘ করিডর, কর্মীরা সেখানে জগিং করেন। পথটি মাঝখানে, দুধারে ঘর। তার মধ্যে রেস্তোরাঁ আছে, সিনেমা হল আছে, বার, টেনিসকোর্ট, বোলিং অ্যালি সবকিছু আছে। তাছাড়া কন্ট্রোলরুমটি তো আছেই। ইলেক্ট্রিসিটি, sewage সব ব্যবস্থাই ARCO করেছে। Sewage system-এর recycling হয়, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা আছে। আমরা তো দেখে অবাক! আমি গাঁইয়া দেহাতি ভূত, আমি অবাক হচ্ছি তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কিন্তু আমার দুটি প্রচণ্ড স্টাইলিশ, আধুনিক ঝকঝকে সঙ্গীও আমার সমানই হতভম্ব হয়ে যাচ্ছিলেন কাণ্ডকারখানা দেখে—ভেতরে এতখানি জায়গা আছে, বাইরে থেকে সেটা টেরই পাওয়া যায় না। সকলের রাত্রিবাসের হোস্টেলও এখানেই। লাইব্রেরিও আছে। সবই ARCO কোম্পানির কর্মীদের মনোরঞ্জনের জন্য কোম্পানির তৈরি! এখানে কাজ করতে এসে যাতে মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে না পড়েন কর্মীরা। কাজের বাইরে তাঁদের অবকাশ যাপনের জন্য বিচিত্র বন্দোবস্ত তাই কোম্পানিই করেছে। অবাক হবার কি শেষ আছে। জো আমাকে কন্ট্রোলরুম দেখাতে নিয়ে গেল। একটি হলঘর গিয়ে দেখি চতুর্দিকে সুইচবোর্ড। ঠিক মনে হল কোনও সায়েন্স ফিকশনের ফিল্মের মধ্যে ঢুকে পড়েছি। এত বড় ঘরে, এতগুলো সুইচ অপারেট করে কারা? তারা কই? একটি দাড়ি-গোঁফওয়ালা গাইয়ে বাজিয়ে টাইপের আপনভোলা চেহারার রোগাসোগা অল্পবয়সী ছেলে একপাশে দাঁড়িয়ে আছে। জো আলাপ করিয়ে দেয়—এই ঘর থেকে এই ছেলেটি ARCO কোম্পানির সবগুলি অয়েল ফিল্ড একলা কন্ট্রোল করছে! দেখে সত্যি সম্ভ্রম হল—কতটুকু ছেলে কত বড় দায়িত্বপূর্ণ পদে কাজ করছে!

    প্রসঙ্গত বলি, কদিন ধরে আলাস্কা খুব মনে পড়ছে। সম্প্রতি, আমি একটা ফিল্ম দেখেছি তার নাম ‘দ্য ফাস্ট রানার’, ছবিটি একজন এস্কিমো ছেলের তৈরি। এটিই এস্কিমোদের তৈরি প্রথম ফিল্ম। এস্কিমোদের জীবনযাত্রা, তাদের নিয়েই করা। ভালো ছবি হিসেবে অনেকগুলি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছে। তাতে প্রাসঙ্গিকভাবে ইগলু তৈরি করা, ইগলুর ভিতর-বাহির ও ইগলুতে বসবাস—সবকিছু দেখে ইগলু বিষয়ে কৌতূহল মিটেছে এবং সেই বিস্তৃত চরাচর ছোঁয়া বরফের জমি দেখে (ছবিটি আলাস্কারই) আবার খুব মন কেমন করছিল ‘প্রডহো বে’-র জন্য। নতুন করে মনে পড়ে যাচ্ছিল ১৯৮৬-র সবকিছু।

    .

    আবার সেই তুষার মেরুভূমির উট—জিপগাড়িতে চড়ে আমরা বেরুলাম–এখানে দুটিই মাত্র গাড়ি আছে। একটি মালবহন করে, একটি মানুষ। অয়েল রিগ দেখতে যাব। যে পুণ্য কুয়োতলায় প্রথম পেট্রোলিয়াম পাওয়া গিয়েছিল। সেই রিগটি এখনও অক্ষত, যত্ন করে রাখা আছে, যদিও সেটার ছাদ নেই। একমাত্র সেটিতেই ছাদ ছিল না। আরও দূরে অন্য অন্য নতুন যেসব কূপ খনন করা হয়েছে সেখানে বেশি কর্মশক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতি লেগেছে, সেগুলিতে ছাদ আছে। এখান থেকেই শুরু হয়েছে সেই বিখ্যাত ট্র্যান্স আলাস্কান পাইপ-লাইন। আর্কটিক সার্কেলের মধ্যে তিনশো মাইল গভীরে চলে এসেছি। মোটা মোটা পাইপ পাতা রয়েছে সাদা বরফের ওপরে। কলকাতায় রাস্তায় যেমন বড় বড় পাইপের কাজ হয়, যার মধ্যে আমাদের নামহীন পথবাসীদের ঘরকন্না রোদবৃষ্টি থেকে মাথা বাঁচিয়ে—তার চেয়েও স্থূল আরও বিশাল বিশাল পাইপ। একটির ধারে একটা স্তম্ভ—সেটি মাইলস্টোন, তাতে ‘জিরো-মাইল’ লেখা। অর্থাৎ এখান থেকেই যাত্রা আরম্ভ হল। ভালডেজে গিয়ে যাত্রা থামবে। সেখানে মাইলস্টোনের গায়ে ‘৩০০০ মাইল’ লেখা আছে। শুরু দেখলুম, কপালে ছিল, শেষও দেখা। এরপরে আমি ‘ভালডেজ’-এও গেছি। অ্যাংকোরাজ থেকে আমি একটি চমৎকার ট্যুরিস্ট ট্রিপ নিয়েছিলুম জাহাজে আর বাসে মিলিয়ে-প্রধানত জাহাজে—তাতেই ভালডেজ পর্যন্ত গিয়েছি। সেখানেই রাত্রিবাস করেছিলাম। একটি এস্কিমো মেয়েও ছিল সেখানে—তারও নামটি সুবিধার জন্য মার্কিনি করা। সেই ট্রিপটিতে আমি যে কী না দেখেছি, কী না শিখেছি। সেটায় অবশ্য এই আর্কটিক ট্রিপের মতো জেদ ধরে শাড়ি পরে যাইনি—জিনস-শার্টই ছিল। আর্কটিকের মানুষজন, জীবজন্তু, উদ্ভিদ যেমন আমি দেখিনি, তারাও তো শাড়িপরা মেয়ে দেখেনি, দেখুক একটু? ফেয়ার-এক্সচেঞ্জ হবে।

    তা সেটি হয়েছিল। শাড়ির জন্য কমপ্লিমেন্ট আমরা চিরদিন পেয়ে আসছি। সেই ১৯৫০-এ আমাার মা-কে দেখেছিলুম, সর্বক্ষণ পথেঘাটে স্ত্রী-পুরুষের কাছে শংসাপত্র পেতেন। আমিও ১৯৫৯ থেকে সেটি পেতে শুরু করেছি—কিন্তু এখানে সত্যি সত্যি কেউ কোনওদিনও শাড়ি পরিহিত মনুষ্য মূর্তি দর্শনই করেনি। এবং এই অতল নিঃসীম বরফের মধ্যে ফিনফিনে শাড়ি! প্রত্যেকেই এসে প্রশ্ন করছেন, আর ইউ কোল্ড? বাঙালিনীদের দেওয়া কোমর পর্যন্ত লম্বামোজা, মোটা উলের টাইটস পরেছি পেটিকোটের নীচে। তাই ফুরফুরে লাল-সাদা প্রিন্টেড নাইলনের পাতলা শাড়িটি দেখে সকলেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। জানেন না কেউ টাইটসের ওপরেও হাঁটু অবধি স্টকিংস আছে! বেচারি ঠান্ডা ঢুকবে কোথা দিয়ে? এমন কিছু ঠান্ডা ছিলও না—বাতাস না বইলে তো ঠান্ডা কষ্ট দেয় না? হাওয়াটাই যা প্রাণঘাতী, নাকচোখ যেন কেটে ফেলে, তীক্ষ্ণ শান-দেওয়া ছুরির ফলার মতো হাওয়া। হাওয়া না বইলে চমৎকার। ওইদিন আমরা হাওয়ায় তেমন কষ্ট পাইনি। হাওয়া বইলে বাইরে থাকাও যায় না, স্নো ওড়ে, কিছু দেখাও যায় না। দেখার অবশ্য ছিলই বা কী?—ক্যারিবু হরিণেরা এখনও বিশেষ বেরোয়নি খাদ্য খুঁজতে, হাঁসেরাও তেমন উড়ে আসেনি এখনও, ফুলও ফুটছে না ঘাসে ঘাসে।’-বলল জো। ফুল? ঘাসই তো দেখছি না। ঘাস কই? ‘ওই যে, ওই তো ঘাস।’ ঘাস? কই ঘাস? বরফের ওপরে চৌকো একটুকরো পাপোশ পাতা আছে দেখলাম। ব্রাউন রঙের। যেমন হয়, বনেদী ছোবড়ার পাপোশ। ওখানেই হঠাৎ কেন পাপোশ পাতা? কোনও দরজা তো নেই সামনে। দরজা কেন, কোনও ঘরবাড়িই তো নেই। পাপোশ শুকোচ্ছে একটা বরফের মাঠের মাঝখানে আশ্চর্য কাণ্ডকারখানা এ দেশের।

    ‘ওটা তো পাপোশ। ম্যাট তো ওটা।’

    ‘না, ওটাই ঘাস। তুন্দ্ৰা-গ্রাস। ম্যাটলাইক ভেজিটেশন’—

    ‘আমি নামব। আমি দেখব। কাছ থেকে দেখব। গাড়ি থামাও।’ গাড়ি থামতেই আমি তো লাফিয়ে নেমে হুমড়ি খেয়ে ঝুঁকে পড়েছি পাপোশের ওপরে, ঘাসের ঘাসত্ব দেখব বলে। আরে, সত্যি তো? কুচি কুচি ব্রাউনরঙের ঘন ঘন ঘাসই তো! আমাদের দেশে রোদে শুকিয়ে গেলে ঘাসের যে অবস্থা হয়, তেমনই। শুষ্কং তৃণং তিষ্ঠত্যগ্রে! আমি হাত বাড়িয়েছি, একগুচ্ছ তুন্দ্রার তৃণ তুলে নিয়ে যাব মার জন্য, পিকো-টুম্পার জন্য, মাদুলি করে রেখে দেব জন্মের শোধ—তুন্দ্রার তৃণগুচ্ছ বলে কথা—সবাইকে তাক লাগিয়ে দেব…জো খপ করে আমার হাতটা ধরে ফেলল সজোরে এবং কঠিন স্বরে বলল, ‘এক্কেবারে ছোঁবেন না। স্পর্শ করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। তুন্দ্রা গ্রাস হচ্ছে অমূল্য জাতীয় সম্পদ—সুরক্ষিত! শুধু ক্যারিবু হরিণরা আর হাঁসেরাই শুতে মুখ দিতে পারে—আপনি হাত দিলেই পুলিশে বিশাল জরিমানা করবে আপনাকে’, মাত্ৰ একটাই তৃণের কণা। নিলে কি এমন ক্ষতি হত? তুন্দ্রা-তৃণেরও তো ভারতবর্ষে যাওয়া হয়নি কোনওদিন? এত বড় একটা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটত, জো, আপনি তাতে বাধা দিলেন? কিন্তু বাধা তো দেওয়া হয়েই গিয়েছে। এবং CBS নায়ক-নায়িকা এতক্ষণে আমার একটা বন্য, গ্রাম্য কর্ম দেখে সত্যিই পরিতৃপ্ত। চোখেমুখে উন্নততর প্রাণী হওয়ার তৃপ্তিসুখ ফেটে পড়েছে এতক্ষণে। সমস্যা হচ্ছিল, এই গাঁইয়া ভারতীয় লেখিকা আর তাঁরা সমান সমান মর্যাদা পাচ্ছিলেন—তাঁরা আমার সঙ্গে বাক্যালাপ করছিলেন না। ওই একবারই যা ভিজিটিং কার্ড দেওয়া-নেওয়া হয়েছিল মাত্র। ওদের সঙ্গে আরও একজন গাইড থাকায়, ওদের আর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনও হচ্ছিল না যদিও আমরা একই গাড়িতে। একই সঙ্গে। এবং ধু-ধু মেরুপ্রান্তরে শুধু আমরা ছাড়া ভিন্ন জনপ্রাণী ছিল না।

    আমি সমুদ্রের তীরে যেতে চাইলুম—পাশেই তো আর্কটিক ওশান। সমুদ্রে একটু নামতে হবে না? এটা তো সামার। সেদিন সূর্য ছিল না। যদিও দিবালোক ২৪ ঘণ্টাই। সেদিনটা ছিল মেঘলা। সামারে ‘বিচ’-এ যাব না? মেরু অঞ্চলে আছি বলে কি পৃথিবীতে নেই?

    জো বলল, ‘চলুন বিচ-এ নিয়ে যাচ্ছি। তবে বিচ-এ নয় আমরা সমুদ্রেই ছিলাম এতক্ষণ। ওই অয়েল-রিগ তো সমুদ্রবক্ষেই।

    -’সমুদ্রবক্ষে?’

    –’এখন তো সমুদ্র ফ্রোজেন। গলতে গলতে জুলাই-আগস্ট। তারপরই আবার ফ্রিজ করে যাবে। এখানে ষাটদিনের সামার। ষাটদিনের জন্য বসন্ত আসে, ওই ঘাসেই ঘাসফুল জন্মায়, ভারি সুন্দর দেখায়, পাখি আসে, হরিণ আসে। কোথাও কোথাও আর্কটিক অক্স, আর্কটিক ফক্স, আর্কটিক হেয়ার—এসবও আসে, তবে ‘প্রুডহো বে’–তে আমি তো শুধু ক্যারিবু, আর হাঁসই দেখেছি নানারকমের।

    -সমুদ্রে জাহাজ লেগেছে। দূর থেকে মাস্তুল দেখা যাচ্ছে। পর পর অনেকগুলি মাস্তুল। বন্দর।

    —’ফ্রোজেন সমুদ্র। তো জাহাজগুলো কেমন করে এল?’

    জো হেসে উঠল। ‘ওরা কি এখন এসেছে? গত সামারে এসেছিল। এই সামারে ফিরবে। ওরা তো ফ্রোজেন হয়ে আটকে রয়েছে। ‘আমি দেখব! আমি দেখব! CBS দম্পতি আমার আদেখলে পাগলামি সহ্য করতে না পেরে ঘরে ফিরে যাওয়া মনস্থ করলেন। এর চেয়ে সেখানে একটা ড্রিঙ্ক নিয়ে বসে দুজনে গল্প করলেও কাজে দেবে। ওঁরা ফিরলেন। আমি চললুম ফ্রোজেন জাহাজ দেখতে।

    .

    সত্যি সত্যি জাহাজগুলো পাশাপাশি জমাট বাঁধা বরফের ঢেউয়ের মাঝখানে আটকে রয়েছে, জাহাজের বুক পর্যন্ত বরফে ডোবা। ঠিক যতটা জলে ডোবা থাকে আর কী। আমি বীরগর্বে থপ থপ করে অন্যের বুটজুতো পরে বরফ ভেঙে গিয়ে জাহাজের পাশে ঘেঁসে দাঁড়ালুম। মাঝসমুদ্রে এভাবে জাহাজের পেটে হাত বুলোনোর সুযোগ তো আর পাব না, যেন পোষা বেড়ালের গায়ে, কিম্বা গরুর গলকম্বলে হাত বোলাচ্ছি।

    জো-কে দিয়ে আমার ক্যামেরায় বেশ কিছু ছবি তুলিয়েছিলাম নিজের-জিরো-মাইলের পাশে হাস্যবদনে দাঁড়ানো আমি (যেন আমারই কোম্পানির উদ্বোধনী পুজোর দিন), আমার এই বরফ-বন্দী দুর্ভাগা জাহাজদের পাশে—ঠিক বাঘশিকারিদের মুখে যে একটা চাপা, দুর্বোধ্য রহস্যময় অহঙ্কারের হাসি থাকে তেমনই হাসি–হেসে ছবি। পাগলের মতো সব তোরঙ্গ আলমারি তোলপাড় করে বের করেছি আজ সেই ছবি আপনাদের দেখাব বলে–ভালডেজ যাত্রার জাহাজে তোলা ছবিও বেরুল, কিন্তু ‘প্রুডহো বে’ সেদিন ছায়া ছায়া ছিল। ছবি বড়ই অন্ধকার। ছাপা যাবে না। লাঞ্চের পরে বেশিক্ষণ থাকা হল না, ফিরতি শ্রমিকদের নিয়ে প্লেন ছেড়ে দেবে—সন্ধে ৭টায় নামবে গিয়ে অ্যাংকোরাজে। শ্রীযুক্ত CBS-ও চললেন ফিরে।

    কোথায় যে শ্রমিকরা কাজ করে—কীভাবে করে কে জানে? কার্যরত অবস্থাতে তাদের কিন্তু দেখা হল না আমাদের। ওদের কাজ কী, আমার না হয় না জানলেও চলে কেননা আমি এসেছি চোখের তৃষ্ণা মেটাতে কিন্তু CBS ভদ্রলোক কী জন্য এসেছিলেন কে জানে।

    ওদের ওই ক্যাম্পে, ওই রেলের কামরা-সদৃশ বাসস্থানে, কিন্তু কোনও দোকান নেই। কোনও স্যুভেনির কিনতে পাওয়া যায় না—তুন্দ্রা-ঘাস তো দূরের কথা, চাবির রিং, বা অ্যাশ ট্রে, যাতে লেখা আছে প্রুডহো বে, ‘জিরো-মাইল’ (এমনকি পিকচার পোস্টকার্ডও) পাওয়া যায় না ওখানে। ব্যাপারটা তো ট্যুরিস্ট-মুখী নয়, কর্মমুখী।

    জো বলল—’পয়েন্ট ব্যারোজে চলে যান। সেখানে সবই পাবেন। এস্কিমোদের সাজপোশাকে এস্কিমোরা, তাদের হস্তশিল্প, তাদের বিষয়ে বইপত্তর—ছবি-টবি, স—ব। শুধু ইগলুটা নেই।’

    ইগলুই নেই তবে আর যাব কেন? একে তো আমার ওই টিকিট কেনার রেস্ত নেই, কেননা জাহাজে বেড়ানোর প্ল্যান আছে। তার জন্য টিকিট কিনব। আলাস্কার সামুদ্রিক জীবন অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। আর্কটিক বলয়ের মধ্যে বেড়াতে পেরেছি, তার মূল্য আলাদা। বরফের মধ্যে দেখে এসেছি তুষার-অনল জ্বলছে—oil flares—পেট্রোলের গ্যাসের আগুন-সে আগুনও নেভে না, আর তাতে বরফও গলে না। অনির্বাণ দীপ্তি। আসামেও তৈলখনির কাছাকাছি এরকম অগ্নিশিখা জ্বলতে দেখেছি। কিন্তু এগুলো জ্বলছে চিরতুষারের কোলে।

    .

    আলাস্কার সামুদ্রিক জীবন মানে, দশ হাজার বছরের পুরনো বরফের গ্লেসিয়ার দেখা, ঈগলপাখির ‘সংসার, শুশুকদের খেলাধুলো, তিমিমাছের আহ্লাদেপনা। সিলমাছেদের প্রসূতিসদন এবং শিশুপালন—আরও কত কী দেখা—! মাঝসমুদ্রে বরফের দ্বীপে সিলমাছের আঁতুড় ঘর। মায়েরা সবাই সেখানে এসে সন্তান প্রসব করছেন। আঁতুড়ের ফুল, নাড়ি, এসব পরিষ্কারের ব্যবস্থাও আছে, ঈগল পাখিরা এসে সব সাফসুতরো করে দিয়ে যাচ্ছে—বাচ্চা বা মাকে কিছু করছে না কিন্তু! মায়েরা রোদ পোহাতে পোহাতে পরস্পরের সঙ্গে গল্প করতে করতে বাচ্চাদের দুদু খাওয়াচ্ছেন—সে যে কী অপরূপ দৃশ্য!

    সমুদ্রের ধারে ধারে পাহাড়ে কিছু খুব উঁচু উঁচু প্রাচীন বৃক্ষ আছে–তাদের সবচেয়ে ওপরের ডালে বাসা বাঁধে ‘বল্ড ঈগল’, সাদা টুপিপরা ঈগল পাখি। বাসাগুলোর সাইজ হয় ৯ ফুট লম্বা ৬ ফুট চওড়া। প্রায় আমার স্টাডির সমান। তাতে ডিম পাড়েন ঈগল জননী। ‘কিলার হোয়েল’ নাম শুনলেই ভয় করে। দেখতে কিন্তু খুব সুন্দর। সাইজেও ছোটই। বস্টনের সমুদ্রের যেসব অতিকায় তিমিমাছ দেখেছি, সেখানে লাগে না। চকচকে কালোপিঠ, ধবধবে সাদা বুকপেট, কেবলই ডিগবাজি খেয়ে আমাদের মন ভোলাচ্ছিল তারা, সার্কাস দেখানোর মতো। এতদিন জানতুম শুশুকেরাই এসব কম্মো করে। এখন দেখলুম ‘কিলার হোয়েল’-ও ফুর্তিফার্তা ভালোবাসে।

    বিরাট সব গ্লেসিয়ার দেখলুম সমুদ্রতীরে। সমুদ্রে ভেসে যেতে যেতে-প্রচুর তুষারশৈলের শিখর তো দেখা গেলই—এই গ্লেসিয়ারদের বয়স অন্তত দশ হাজার বছর। মাছ ধরবার মতো, খপ করে সমুদ্র থেকে গ্লেসিয়ার ভাঙা বরফ তুলে, কোকাকোলাতে দিয়ে খেলুম–আঃ! দশ হাজার বছর আগের স্বাদ কেমন হয়, একটু তো জেনে নিই? মরলে মরব। মরিনি। কিন্তু এসব হয়েছিল টিকিট কেনা ট্রিপে।—ARCO কোম্পানিতে বিরল আতিথ্যে গিয়েছিলুম অগম্য একটা (দুর্গম?) ঠিকানায়—পয়সা দিয়েও টিকিট কেটে যেখানে যাওয়া যায় না। ‘প্ৰুডহো বে’-তে কোনও কমার্শিয়াল ফ্লাইট নেই। গাড়ি, ট্রেন-তো সম্ভবতই নয়—রাস্তা নেই। গ্রেট আলাস্কান আইস ফিল্ড শুয়ে আছে তিন হাজার মাইল জুড়ে। আমার জীবনে তাই ‘প্রুডহো-বে ভ্রমণ’ একদম অদ্বিতীয় গল্প। তুলনাহীন। চেয়েচিন্তে অতিকষ্টে যোগাড় করেছিলুম স্বপ্নপূরণের মন্ত্র, অনেকদিনের চেষ্টায়, পরিকল্পনায়, নিষ্ঠাভরে প্রাপ্ত এই অভিজ্ঞতাকে ঈশ্বরকৃপা বলব। বরলাভ ছাড়া আর কী? স্বপ্ন পূরণ হল এবং ফ্রি!

    প্লেনে হিচহাইক করতে পেরেছে প্লেন হাইজ্যাক না করে, এমন মানুষ জগতে বেশি নেই নিশ্চয়ই?

    আমার তাই বেশ একটু গর্ব আছে এই ‘প্ৰুডহো বে’ ভ্রমণ নিয়ে। ব্যারোজে মানুষ যায়;

    এখানে যায় না।

    আলাস্কা ভ্রমণ এখন আর অসহজ নেই। পয়সা ফেললেই আমেরিকান কোম্পানির ট্যুর কেনা যায়। এমনকি গ্যালাপাগোস আইল্যান্ডেও—সমস্ত স্বপ্নের দ্বীপেই এখন ট্যুরিস্ট গ্রুপ যায়। শুধু মোহরের থলিটি থাকলেই হল। চাইলে সিল্করুটেও যেতে পারো। আজ সব স্বপ্নই বাস্তবায়িত করা সম্ভব। কিন্তু কে জানে সেটা ভালো, না মন্দ?

    প্রকাশ : ‘ভ্রমণ’ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০০৩

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন
    Next Article হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    Related Articles

    নবনীতা দেবসেন

    মায়া রয়ে গেল – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেনের গল্প

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    করুণা তোমার কোন পথ দিয়ে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ট্রাকবাহনে ম্যাকমাহনে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }