Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মতি নন্দীর গল্পসংগ্রহ

    মতি নন্দী এক পাতা গল্প470 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নায়কের প্রবেশ ও প্রস্থান

    নায়কের প্রবেশ ও প্রস্থান

    ধূসর অ্যাম্বাসাডারটা ফ্যালাকে লক্ষ করেই যোলো হাত চওড়া রাস্তাটায় থামল। ড্রাইভারের আসন থেকে প্রশ্ন হল, এটাই কি ঘোষপাড়া লেন?

    বিমূঢ় হয়ে ফ্যালা উঠে দাঁড়াল। প্রশ্নকারী জানলা থেকে মুখটাকে একটুখানি বার করেছে। ফ্যালার আর কোনো সন্দেহ রইল না। অবশ্য কণ্ঠস্বরেই আধখানা চিনেছিল। ঘাড় নেড়ে পাশের গলিটাকে আঙুল তুলে দেখাল।

    থ্যাঙ্ক ইউ।

    মোটরটা আধখানা ফিরে তাক করতে লাগল গলির মুখটাকে। রিকশা বা ঠেলাগাড়িচালক হলে এত সময় নিত না। ঘোষপাড়া লেনের প্রবেশমুখ সাত হাত চওড়া। ফ্যালার ইচ্ছে করল, হারকিউলিস হয়ে দু-হাতের চাড়ে বাড়িগুলোকে ঠেলে জায়গাটাকে সতেরো হাত করে দিতে।

    তা যখন সম্ভব নয়, ফ্যালা যোলো হাত চওড়া রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে ব্যাকুলভাবে বন্ধুদের খুঁজল। কেউ নেই। দোকানে দোকানি, রাস্তায় পথিক। রাস্তাটায় যদিও মাঝে মাঝে প্রাইভেট মোটর আসে, কিন্তু কৌতূহলী হয়ে এখন এক বারও কেউ মুখ তুলে দেখছে না যে গাড়িটা কে চালাচ্ছে। কিংবা দেখেও চিনল না।

    সুতরাং ফ্যালা কিছু বিরক্ত হল, কিছু লজ্জা পেল। সর্বসাধারণের এই উদাসীনতা-দোষ স্খলনের জন্য এগিয়ে গিয়ে বলল, ক-নম্বর বাড়ি খুঁজছেন?

    তিন। সুনীতি ভটচায। কর্পোরেশন স্কুলের হেডমিস্ট্রেস।

    অঃ, একটুখানি গিয়ে ডান দিকে রকওলা বাড়ি, তার পরেরটা।

    গাড়িটা কষ্টেসৃষ্টে ঢুকে গেল। বেশিদূর যেতে পারবে না, কারণ মাস দুয়েক আগে কর্পোরেশন থেকে রাস্তায় একটি টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। ওখানে গাড়িটাকে রেখে হেঁটে যেতে হবে। ফ্যালা ঘাড় কাত করে থাকল যাবতীয় ব্যাপার লক্ষ করার জন্য।

    টিউবওয়েলে স্নান করছিল গোবিন্দ দত্ত। গাড়িটা ওর পিছনেই থামল। জলটা ঠাণ্ডা, তাই মাথায় জল ঢেলে থাবড়ে থাবড়ে আমোদ করছিল গোবিন্দ। ভোর ছটায় বেরিয়ে সন্ধ্যা ছ টায় ফেরা। এসময় তিন নম্বর বাড়িটা কোথায় জিজ্ঞাসা করল। ও যে জল ঢালা থামিয়ে কথার জবার দেবে না, প্রশ্নকারী তা কেমন করে জানবে? সুতরাং দ্বিতীয় বার জিজ্ঞাসা করে গোবিন্দর দাঁতখিচুনি দেখে আর কথা বাড়াল না।

    ফ্যালা ছুটে এসে গোবিন্দকে চাপা স্বরে ধমকাল, ও কে জান, অমন করে যে কথা বললে?

    গোবিন্দ হকচকাল। ঘাড়ের কাছেই গাড়িটা, ঘাড় ফিরিয়ে এক বার তাকিয়ে সিঁটিয়ে গিয়ে বলল, কে?

    কী ভাবল বলোতো, আমাদের পাড়া সম্পর্কে! ফ্যালা তাকিয়ে রইল তিন নম্বর বাড়ি পর্যন্ত চোখ পেতে। বাড়ির দরজা অবধি পৌঁছে দিয়ে আসতে পারত, কিন্তু কীরকম লজ্জা করল। তবে তিন নম্বরের সদর দরজাটা রাস্তার ওপরেই, নম্বরটাও স্পষ্ট দেখা যায় রাস্তার আলোয়। তিনের এক কি তিনের দুই হলে নিশ্চয়ই সঙ্গে যেত।

    শেফালিদের বাড়িটা এক-তলা, ছাদে পাঁচিল নেই। সন্ধ্যার পর সে ছাদের ধারে বসে থাকে, রক থেকে ওদের ছাদটা দেখা যায়। ফ্যালারা ওকে বলে শাঁকচুন্নি। বত্রিশে পড়লেও বিয়ে হচ্ছে না। শেফালি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছাদের কিনারে বসে থাকে। পাড়ার মেয়েরা রাস্তা দিয়ে গেলে জিজ্ঞাসা করে, কোথায় গেছলে গো, সিনেমা? ছোটো ছেলেরা খাবারের ঠোঙা নিয়ে ফিরলে বলে, কে এসেছে রে? পাশের বাড়ির বউ শোবার ঘরের জানালাটা ওর জন্যই সন্ধ্যা থেকে বন্ধ করে দেয়।

    শেফালি আগাগোড়া সব দেখেছে। যদিও ফ্যালা পাড়ার ছেলে, বয়সে দু-বছরের ছোটো তবু কথাবার্তা বিশেষ বলে। এখন বলল, এই ফ্যালা, কাদের বাড়িতে রে?

    সেই মাস্টারনি, কুকুরকে যে বিস্কুট কিনে খাওয়ায়।

    শেফালি এইটুকু শুনেই ইলাবউদির বন্ধ জানালায় কিল বসাতে শুরু করল।

    বরুণ মিত্র পাড়ার মাস ছয়েকের ভাড়াটে, কারোর সঙ্গেই মেশে না। ফিরছিল অফিস থেকে। ফ্যালা তাকেই বলল, কার গাড়ি বলতে পারেন?

    বাড়িগুলো কলিচটা; বালি বেরিয়ে পান্ডুরবর্ণ। ওর মধ্যেই কালীবাবুর বাড়িটা সদ্য কলি ফেরানো, ফলে মনে হয় গলিটার শ্বেতি হয়েছে। তেইশ নম্বরের ভাঙা ট্যাঙ্কের পাশে অশ্বথ গাছটা বাড়তে চাইলেই লাঠি পিটিয়ে ডালগুলো ভেঙে দেয় ও-বাড়ির সত্যচরণ। ফলে গাছটা ছোট্ট রয়ে গিয়ে ঝাঁকড়া হয়ে উঠেছে। বৃষ্টি-জলের পাইপগুলো শিরার মতো দেওয়াল বেয়ে রাস্তা পর্যন্ত নামাননা, কিন্তু এবারের বল খেলার ধকল সইতে না পেরে তলার অংশ অধিকাংশেরই ভাঙা। জানালাগুলো লটপটে বুকপকেটের থেকেও অর্থহীন, ঝড়বৃষ্টিতে কাজে আসে না। গলিতে দাঁড়িয়ে আকাশে তাকালে প্রথমেই মনে হবে, চিরকুট শাড়ি ফেঁসে গিয়ে বিব্রত কোনো গৌরাঙ্গীর দেহ। গলিতে ঢোকার সময় মানুষজন মুখ তুলে তাকায়, বেরোবার সময় আড়ে আর এক বার।

    টিউবওয়েলটা বসানোর ব্যাপারে অনন্ত সিংগির সঙ্গে বাসুদেব নাগের প্রচন্ড একচোট হয়ে গেছল। কুমার চৌধুরি কাউন্সিলর হয়েছে তাঁরই কৃপায়, এরকম একটা ধারণা সিংগিমশাই বরাবরই পোযণ করে আসছেন। সুতরাং কর্পোরেশনের টিউবওয়েলটা তাঁর বাড়ির সামনে বসবে না কেন? বাসুদেবের যুক্তিগুলো অবশ্য পাবলিক বেনিফিটের কথা ভেবেই বলা। তা ছাড়া সিংগিমশাইয়ের বাড়ির দেওয়ালে রাস্তার ইলেকট্রিক আলো বসেছে, টিউবওয়েলটাকেও কি তিনি নিজের সম্পত্তি করতে চান? পাড়ার পাঁচজনের কাছেই বাসুদেব গলা ফুলিয়ে প্রশ্নটা তুলেছিল। ফলে দু-ভাগ হয়ে যায় পাড়াটা। সিংগিমশায়ের বাড়ির সামনেই টিউবওয়েল বসেছে, মধ্যস্থতা করেছেন কালীবাবু। টিউবওয়েলের খ্যাচাং খ্যাচাং শব্দটা তিনি বরদাস্ত করতে পারেন না। তা ছাড়া রাস্তাটাও দিনরাত কাদা হয়ে থাকবে। তাই যুক্তি দিলেন ধরো হঠাৎ কারুর রান্নার জল ফুরিয়ে গেল, বাড়িতেও তখন কোনো পুরুষ বা ছোটো ছেলেপিলে নেই যে এক বালতি জল এনে দেয়, তখন কি বউ-ঝিরা রাস্তার মোড়ে গিয়ে কল থেকে পাম্প করে জল আনবে? বরং পাড়ার ভেতর দিকেই কলটা বসানো ভালো, দেখতেও ডিসেন্ট হয়। বেপাড়ার লোকেরা এসে কলটা খারাপ করে দিতে পারবে না।

    বাসু নাগ সেই থেকে কালীবাবুর উপর চটা। বাড়ি সারাবার সময় কালীবাবু দো-তলায় বেআইনি একটা পায়খানা করে। বাসুগিন্নি খবরটা জোগাড় করে আনে, বাসুদেব সেটা কর্পোরেশনে জানিয়ে কালীবাবুর কিছু খসিয়ে দেয়। রাগটা তাতে অনেকখানি কমে গেছে।

    ধূসর অ্যাম্বাসাডারটা সিংগিমশায়ের দরজা আগলে দাঁড়িয়ে। বাড়ি থেকে বেরোতে গিয়ে তিনি আর পথ খুঁজে পেলেন না। সুতরাং চিৎকার করলেন, গাড়ি কার অ্যা, রাখবার কি জায়গা পেল না; এটা লোকের বেরোবার পথ, এ কী অন্যায়।

    কী হল, চ্যাঁচাচ্ছেন কেন?

    ফ্যালা ছুটে এল। সিংগিমশায়ের মেয়ে হাসি রেডিয়ো থেকে গান তুলছিল, সে নেমে এল। সামনের বাড়ির ভবদেব অর্থাৎ ভোম্বলও জানালা থেকে উঁকি দিল।

    এদের দেখে ফ্যালা কিছুটা ভারিক্কি হয়ে বলল, অচেনা লোক, আমিই বললুম এখানে রাখুন। তা নয় একটু ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছি।

    ফ্যালার নির্দেশে গাড়িটা রাখা হয়েছে, এবং ফ্যালা দিন কয়েক আগেই বেপাড়ার একটা ছেলেকে গলির মধ্যে টেনে এনে ঠেঙিয়ে লাট করেছে। সিংগিমশাই চুপ করে রইলেন। বেনেটোলায় তাঁর গন্ধেশ্বর ভান্ডার নামে একটা দোকান আছে। বাড়িওলাটা হজ্জত শুরু করেছে, সিংগিমশায়ের মনোগত বাসনা–ফ্যালাদের দিন কয়েক ঘুরিয়ে আনবেন। সুতরাং ফ্যালাকে চটালেন না, বরং হাত লাগিয়ে তিনিও সাহায্য করলেন।

    গাড়িটা দু-হাত এগিয়ে রাখা হল। বাসুদেব অফিস থেকে ফিরছিল। সিংগিমশায়ের বাড়ির সামনে গাড়ি দেখে বিস্মিত হয়ে তাকাল। তাই দেখে সিংগিমশায় ডান পা-টা পিছনের বাম্পারে তুলে দিয়ে শ্লথ ভঙ্গিতে দাঁড়ালেন। গাড়িটা যেন কোনো আত্মীয়ের এবং এতই নিকট যে পা পর্যন্ত তুলতে পারেন। বাসুদেব ঈর্ষাচ্ছন্ন হলেন। ফ্যালা দাঁত কিড়মিড় করে ভাবল, শালার ঠ্যাংটা ভেঙে দোব নাকি।

    ভবদেব অর্থাৎ ভোম্বল, ঘোষপাড়া লেনের অত্যন্ত মানী ছেলে। বর্তমান বয়স চব্বিশ। স্কুলের ম্যাগাজিনে ধর্ম সম্পর্কে প্রবন্ধ লিখে পাড়ার মাতব্বরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কলেজের ম্যাগাজিনে প্রগতিশীল কবিতা লিখে বড়দা, মেজদা এবং সেজদার দুশ্চিন্তা, ক্রোধ এবং বিরক্তি উৎপাদন করে। বর্তমানে সে এই পাড়ার একমাত্র যুবক যে গ্র্যাজুয়েট, একটি লাইব্রেরির সদস্য, রকে আড্ডা দেয় না, বড়োদের সামনে সিগারেট ফোঁকে না, মেয়েদের দিকে মুখ তুলে তাকায় না, এবং তিনশো পঁচাত্তর টাকা মাইনের চাকুরিয়া। এ পাড়ার পিতারা সন্তানদের প্রতি হতাশা প্রকাশ করার সময় ভোম্বলকে পুত্ররূপে না পাওয়ায় আক্ষেপ করে থাকেন। ফলে ভোম্বলের সমবয়সিরা তাকে অপছন্দ করে।

    ভোম্বল ছেলেটি বড়ো ভাবুক, তাই কম কথা বলে। সিংগিমশায়ের দোরগোড়ায় একটি মোটরগাড়ি দেখে সে ভাবল, কার হতে পারে। ফ্যালাকে জিজ্ঞাসা করলেই ল্যাঠা চোকে। কিন্তু দীর্ঘকাল যাবৎ কম কথা বলার জন্য তার স্বভাবে একপ্রকার জড়ত্ব এসে গেছে। বাসুদেবের জ্যেষ্ঠা কন্যা মনীষা অর্থাৎ মানু এইবার তিন বছর ডিগ্রি কলেজে ভরতি হয়েছে। বাড়িতে সে মেজোবউদির সখীস্থানীয়া। প্রায়ই আসে। ভোম্বলের সাধ হয় ওর সঙ্গে হাস্যপরিহাসের, কিছুক্ষণের সান্নিধ্য উপভোগের। কিন্তু গত দুই বছরে ঘড়ঘড়ে কণ্ঠে এই যে বলা ছাড়া আর কিছুই বলা হয়ে ওঠেনি।

    লুঙ্গির উপর গেঞ্জি চড়িয়ে ভোম্বল দোরগোড়ায় এসে দাঁড়াল। সত্যচরণ গামছা পরে বালতি হাতে এল। ওর স্ত্রীর বাতিকের জন্য জল একটু বেশি দরকার হয়। ভোম্বলকে দেখে বলল, হ্যাঁ গো গাড়িটা কার?

    সত্যচরণকে ভোম্বল পছন্দ করে না। তাই স্বল্প কথায় উত্তর দিল, কী জানি।

    সত্যচরণ ডিঙি মেরে কিছু-একটা অতিক্রম করে, টিউবওয়েলের চৌহদ্দিতে পৌঁছে ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল।

    যত রাজ্যের গু-মুত চাকায় চাকায় এবার পাড়ার মধ্যে ঢুকতে শুরু করল। চেঁচিয়ে বলেছিল যাতে ভোম্বল শুনতে পায়, মোড় থেকে ফ্যালা ছুটে এল। কেন, চাকায় আসে আর লোকের পায়ে পায়ে আসে না? রাস্তাটা কি আপনার ঠাকুরঘর?

    সত্যচরণ গভীর মনোযোগে বালতি ধুতে শুরু করল। ভোম্বল কৌতূহল দমন করতে না পেরে জিজ্ঞাসাটা করেই বসল, ফ্যালা গাড়িটা কার?

    বউ, অ-বউ কোথায় গেলি? খোকাকে বলিস কিন্তু কচুর মুখী আনতে। অ-বউ বাজার যাবার সময় খোকাকে মনে করে বলিস কিন্তু। বড়ি দিয়ে ঝাল করিস।

    থুথুড়ে শাশুড়ি, দালানের এক কোনায় সকাল-সন্ধে উবু হয়ে বসে থাকে। হামা দিয়ে নর্দমা পর্যন্তও যেতে পারে না। চোখে দেখে না, কানে কম শোনে।

    অ-বউ খোকা ফিরেছে? এরপর বিরক্ত হয়ে—আঁটকুড়ির গেরায্যি নেই। মর তুই, খোকার আবার বিয়ে দোব, দেখি তোর দেমাক থাকে কোথায়।

    বুড়ি এখন ঘণ্টা খানেক এইভাবে কথা বলবে। কিন্তু যাকে শোনাবার জন্য, সে তখন দোতলায় ভাড়াটে বাসন্তীর রান্নাঘরের দরজায়।

    আচমকা ধাক্কাটা সামলে উঠে বাসন্তী বলল, বলিস কী পারুল, সত্যি? ওগো শুনছ? আমাদের পাড়ায়… বলতে বলতে বাসন্তী পাশের ঘরে ঢুকল।

    শুনেছি। মেঝেয় চিত হয়ে গোয়েন্দা উপন্যাস পড়তে পড়তে রবীন জবাব দিল। বাঁ হাতটা যন্ত্রের মতো ঘুমন্ত ছেলের মাথা চাপড়ে যাচ্ছে।

    পারুল বলল, আমাকে ওবাড়ির শেফালি এসে বলল, ও দেখেছে। ঠিক ওদের বাড়ির সামনেই গাড়ি রেখে নামল। তারপর হেঁটে তিন নম্বর বাড়িতে গেল।

    বাসন্তী বলল, আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে?

    পারুল বলল, তা না তো আর যাবে কোদ্দিয়ে। রোজই তো বাপু এই সময় জানালার ধারে বসে এটা করি ওটা করি, কেউ গেলে চোখে পড়েই। আর আজকেই বরাত এমন–মাথার ঠিক কি আর আছে, বিকেল থেকে শাশুড়ি খালি খাব খাব করে যাচ্ছে।

    অন্য সময় হলে পারুলের শাশুড়ির বিষয়ে শোনার মতো সময় হত বাসন্তীর। এখন হাঁসফাঁস করে বলল, ওগো দেখে এসো-না এক বার।

    কেন?

    যদি রাস্তা দিয়ে দেখা যায় তাহলে আমরাও গিয়ে দেখব।

    রাস্তা থেকে? রবীন মুখ থেকে বই নামাল। বাড়ির বউয়েরা রাস্তায় নেমে আজেবাজে লোকদের ঘা ঘেঁষে অন্যের জানালায় উঁকি দেবে?

    অপ্রস্তুতে পড়ল দুজনেই। পারুল তো রেগেও উঠল। নিজের বউকে ঠেস দিয়ে তাকেও তো শোনানো হল। শাসন করতে হয় নিজের বউকে করো, সভ্যতা শেখাতে হয় তো নিজের বউকে শেখাও। দু-চারটে কথা পারুলের ঠোঁটেও এসে গেছল কিন্তু কয়েকটা ব্যাপারের কথা ভেবে ঢোক গিলল। ব্যাপারগুলি হল : রবীনের অফিসে নব্বই টাকার একটা চাকরি খালি হয়েছে, ভাইয়ের জন্য পারুল কালকেই কথাটা পেড়েছে। এবাড়ির ছাদ ব্যবহারের একমাত্র অধিকারী দোতলার ভাড়াটে যেহেতু ভাড়া বেশি দেয়। যেকোনো মুহূর্তেই একতলার লোকদের ছাদে যাওয়া বন্ধ করে দিতে পারে। এ ছাড়াও বাসন্তী মৃতবৎসা দোষ কাটানোর অব্যর্থ মাদুলির হদিস জানে।

    আহা, আমরা কি আর ঠেলাঠেলি করতে যাচ্ছি। যদি চলতে চলতে দেখা যায় তাহলে নারুদের বাড়ি যাবার নাম করে এক বার ঘাড় ফিরিয়ে দেখে নেব। ওতে তো দোষ নেই।

    দরজার পাশ থেকে উঁচু গলায় পারুল বলল, সেদিন দক্ষিণেশ্বর যেতে কীরকম ঠেলাঠেলি করে বাসে উঠতে হল।

    সেদিন রবীন ওদের নিয়ে গেছল। এবং বাড়ি ফিরেই স্ত্রীর কাছে খোঁজ নেয়, যে-লোকটা বরাবর বাসে ওদের পিছনে দাঁড়িয়ে ছিল তার স্বভাবটা কেমন? ফলে বাসন্তী ঝগড়া করে, না খেয়ে আলাদা শয্যা নেয়।

    উঠে পড়ল রবীন। পাঞ্জাবিটা ঘাড়ে ফেলে হনহনিয়ে ঘর থেকে বেরোল। সিঁড়িটা অন্ধকার। মুখস্থ থেকেও ভুল হয়ে গেল। দুটো সিঁড়ি একসঙ্গে টপকে তালগোল পাকিয়ে পড়ল। প্রথমে ছুটে নামল পারুল। হতভম্বের মতো রবীন তখনও বসে। পারুল বগলের নীচে হাত দিয়ে টেনে তুলতে গেল। পিছন থেকে শান্তগলায় বাসন্তী বলে উঠল, আমি দেখছি, তুমি সরো তো।

    ধড়মড়িয়ে উঠে পড়ল রবীন। ওঠার সময় পারুলের বুকে কুনুইটা এত জোরে লাগল যে পারুলকে আঃ বলে উঠতে হল।

    দালানের কোণ থেকে শাশুড়ি বলল, অ-বউ কী পড়ল রে।

    ঠিক এইখানটায় আমি দাঁড়িয়ে আর গাড়িটা ওইখানে। হাত দুয়েক দূরে রাস্তার একটা জায়গা দেখিয়ে ফ্যালা বলল, মাত্র এইটুকু ডিস্টেন্স থেকে কথা হল।

    জনা ছয়েক ওকে ঘিরে দাঁড়িয়ে। তারা সবাই চুপ করে থাকল, তারপর ঘাড় ঘুরিয়ে গলিতে দাঁড়িয়ে-থাকা গাড়িটাকে দেখল।

    ওর আর একটা গাড়ি আছে। সেটা আনলে গলিতে ঢুকত না। একজন বলল।

    সকলে গলির মুখটাকে লক্ষ করল।

    কে জানত বাবা গলির মধ্যে মোটর ঢুকবে, তাহলে চওড়া করেই তৈরি করত। আর একজন বলল।

    শালার বাড়িগুলো ভেঙে না পড়লে আর গলি চওড়া হবে না। ফ্যালা বলল।

    হ্যাঁ, সব বাড়িগুলো মাঠ হয়ে যাক শুধু উনিশের বি-টা বাদে।

    এবার সবাই চাপা হাসল। উনিশের বি-তে বরুণ মিত্তির থাকে। সম্প্রতি ওর দূর সম্পর্কের এক বোন এসে রয়েছে। ফ্যালা তাকে ভালোবেসে ফেলেছে এবং ধারণা নমিতাও যে দরজার কাছে মাঝে মাঝে দাঁড়ায়, একমাত্র তাকেই দেখার জন্য।

    কথাটা শুনে ফ্যালা স্বভাবতই লাজুক হয়ে পড়ল। খুশিও হল। তাই মোড়ের ঠাকুরের পানের দোকানে গিয়ে হাঁকল, এক প্যাকেট ক্যাপস্টান।

    ঠাকুর এক বার আড়ে তাকিয়ে পান সাজায় ব্যস্ত রইল। তাড়া দিল ফ্যালা। শুনেও শুনল না যেন। সাধারণত যা করে থাকে, ফ্যালা নিজেই সিগারেটের প্যাকেট তুলে নিতে গেল। ঠাকুর ওর হাত চেপে ধরল। বিস্ময়ে ফ্যালা স্তম্ভিত।

    তিন মাস ধরে তো দেব দেব কচ্ছেন। আর ধারে হবে না।

    আত্মসংবরণ করো। গম্ভীর স্বরে ফ্যালা বলল, ঠিক আছে সামনের হপ্তায় শোধ করে দোব। ঠাকুর নিজ হাতে প্যাকেট এগিয়ে দিল।

    ইতস্তত করে ফ্যালা নিল। কানের ডগা দুটো ঝাঁঝাঁ করছে।

    কত টাকা বাকি? স্বরটা কেঁপে উঠল।

    ছ-টাকা বারো আনা।

    ফ্যালা আসতেই ওরা ছোঁ দিয়ে প্যাকেটটা কেড়ে নিল।

    ওরেব্বাস, ক্যাপস্টান!

    কাল ছাতে উঠেছিল। মালা সিনহা একদম মাইরি, মাইরি।

    কেন, মুখের আদলটাও ঠিক হুবহু।

    ওর দাদার সঙ্গে ভাব করে নে-না, লোকটা কনজারভেটিভ নয়। অফিসের বন্ধুদের নিয়ে তাস খেলে, বউ তাদের সঙ্গে খেলে।

    কোঁতপেড়ে গিয়ে ফুক ফুক করে ওরা ধোঁয়া ছাড়ল। ফ্যালা রেগে উঠল আপন মনে। কিন্তু রাগটা প্রকাশ করার কোনো মওকা আপাতত পাচ্ছে না। জোরে জোরে টান দিয়ে সিগারেটটাকে নিঃশেষ করে রাস্তায় আছড়ে ফেলল।

    কিছু টাকা জোগাড় করতে হবে।

    ওরা ফালার দিকে তাকাল। কেউ কিছু বলল না।

    কালীবাবু পাঁচ বছর অন্তর বাড়ির কলি ফেরান। দুটি মেয়ের বিয়ে দিয়ে এখন ঝাড়া হাত-পা। চারুশীলা ওরফে শীলার সঙ্গে ঝগড়া করা ছাড়া বাহান্ন বছর বয়সে তাঁর আর কোনো শখ নেই। অবশ্য নিয়মিত রেডিয়োর থিয়েটার শশানেন আর সত্যচরণকে মাঝে মাঝে রাজনীতি বুঝিয়ে থাকেন। চারুশীলার জ্বালা ঝিয়েদের নিয়ে। ওরা আসে হতকুচ্ছিত চেহারা নিয়ে। তারপর কেমন যেন পরিপাটি হয়ে যায় চারুশীলার নজরে। চুলে তেল, গায়ে ব্লাউজ, মুখে পান, ঢলানি ঢলানি ভাব। কালীবাবুও সকাল সকাল অফিস থেকে ফিরে উঠোনের ধার ঘেঁষে জানালায় বসে রেডিয়োর কীর্তন শোনেন নয়তো খবরের কাগজ পড়তে শুরু করেন। তুলকালাম ঝগড়া বাঁধে। ঝি বরখাস্ত হয়ে যায়। রাত্রে পারুল-বাসন্তী ও-বাড়ির কর্তা-গিন্নির ঝগড়া শুনে মুখ টিপে হাসে আর ফিসফিস করে।

    ওরা যে কী অত ফিসফিস করে চারুশীলা তাও জানে। অনিলের মা এখন আর অতটা আঁটসাট নেই, ওদের বাড়িতে কাজ করার সময় যতটা ছিল। অনিলের ছোটো দুই ভাই নাকি চারুশীলার দুই মেয়ে ভূতি আর টুনুর মতো হুবহু দেখতে। কেন হল? এ বিষয়ে পারুলের গবেষণার ফলাফল চারুশীলা শেফালি মারফত জেনেছে। এবং চারুশীলার মতামত পারুলকে সযত্নে জানিয়ে গেছে শেফালি।

    কালীবাবু আজ বাড়ি ফিরলেন সন্দেশের বাক্স হাতে। স্ত্রীর পিসতুতো ভাইয়ের নতুন জামাইয়ের রাত্রে নেমন্তন্ন। ছেলেটি বিলেতফেরত, সাহেব কোম্পানিতে আটশো টাকায় ঢুকেছে। খুব বড়ো ঘরের ছেলে, বাপ রায়বাহাদুর।

    বাড়ি ঢোকার মুখেই কালীবাবুর মনে পড়ল, ইসবগুলের ভুসি ফুরিয়েছে। এখনই না কিনে রাখলে রাতে কেনার কথা মনে নাও থাকতে পারে। অতিথিকে ফেলে মুদি-দোকানে ছোটা উচিত হবে না। এইসব ভেবে কালীবাবু নিজের বাড়ির দরজা থেকেই আবার ফিরলেন। বাসুদেববাবুর বাড়ির কাজ সেরে অনিলের মা-ও তখন ফিরছিল।

    মুদির দোকানটা ষোলো হাত রাস্তার উপর বস্তির গলিটার মুখেই। সুতরাং দুজনের গন্তব্যই একমুখী। কালীবাবু যখন ইসবগুল কিনছেন তখন অনিলের মা-ও কাপড়কাচা সোডা কিনতে ওঁর পাশে গিয়ে দাঁড়াল। ফ্যালা সেইমাত্র বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। নজরে পড়ল কালীবাবু যেন ফিসফিস করে অনিলের মাকে কী বললেন। অতঃপর ভুসি কিনে কালীবাবু বাড়িমুখো হলেন।

    চারুশীলা এটুকু লক্ষ করেছে, বাড়িতে পা দিয়েই কালীবাবু গেলেন। ফেরা মাত্রই সে কারণটা জানতে চাইল। এতে কালীবাবু হঠাৎ বিরক্ত হয়ে বললেন, এত খোঁজে দরকার কী, কোথায় যাই বা না যাই?

    চারুশীলা কথা বাড়াল। ব্যাপারটা পরে জেনে নেওয়া যাবে, এখন ময়দা মেখে বেলে রাখতে হবে। হাতের কাজ সেরে না রাখলে জামাইয়ের সঙ্গে গল্প করার সময় পাওয়া যাবে না।

    আঙুর অর্থাৎ অনিলের মা দশটা টাকা চেয়েছে। আজকেই চাই। কালীবাবু বলেছেন, রাত্রে গিয়ে দিয়ে আসব। চারুশীলার দাদার জামাই আসবে একটু পরেই, তার সঙ্গে বসে ভ্যাজভ্যাজ করতে হবে। খেয়ে দেয়ে বিদেয় হতে রাত দশটা। অত রাতে বস্তিতে ঢুকলে যদি কেউ দেখে ফেলে। বখাটে ছোঁড়াগুলো তো ওখানেই গুলতানি করে, তাহলে কেলেঙ্কারির শেষ থাকবে না। কমপক্ষে চার মাস আঙুরকে স্পর্শ করা হয়নি। থলথলে, দলমলে মাংসের স্কুপে আঙুল ডুবিয়ে—ভাবতে ভাবতে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজলেন কালীবাবু। গোটা কতক ভারী নিশ্বাস পড়ল। নানা ধরনের যৌনছবি মাথার মধ্যে ফুটে উঠছে আর তখনই ঘরের আলো জ্বেলে চারুশীলা গনগনে স্বরে বলল, এইমাত্র চাদর ভেঙে পাতলুম, আর ময়লা কচ্ছ। নীচের ঘরে গিয়ে বসো-না। আসার সময় তো হল।

    কালীবাবু উঠে বসে বললেন, শরিরটা কীরকম ম্যাজম্যাজ করছে। শীলু, এক কাপ চা করে দাও-না।

    বাসু নাগ বাড়ি ফিরেই পায়খানা যান। এটা তাঁর বাইশ বছরের অভ্যাস। পালন করতে গিয়ে টের পেলেন প্যানের মধ্যে কিছু-একটা পড়ে বুজে রয়েছে। বলাই বাহল্য এতে তিনি চটলেন। ধকলটা গিয়ে পড়ল স্ত্রীর উপর। তিনি সাত চড়ে রা করেন না।

    তোমরা জেনেশুনেও চুপ করে দেখছিলে। আগে বললে বাঁ-হাত দিয়ে তুলে নিতুম। এখন তুলি কী করে?

    অতঃপর ছোটোছেলে নালুকে তিনি বেধড়ক কয়েক ঘা দিলেন। হতচ্ছাড়াটার পড়াশোনা নেই, দিনরাত শুধু বল খেলা আর বল খেলা। এখন এই বল তুলবে কে? স্ত্রী পরামর্শ দিলেন একটা ধাঙড় ডেকে আনলেই সমস্যাটা মিটে যায়।

    সন্ধ্যার পর ধাঙড়রা পায়খানা থেকে বল তোলার জন্য নিশ্চয় বসে নেই। স্ত্রীকে এই কথাটা জানিয়ে বাসু নাগ কয়েক বালতি জল ঢেলে বলটিকে তুললেন এবং পাছে নালু সেটিকে হস্তগত করে তাই রাস্তায় বেরোলেন পরিত্যাগ করে আসতে। বল আর বেড়ালে কোনো তফাত নেই, যেখানেই ছেড়ে এসো-না কেন ঠিক বাড়ি ফিরে আসবে। তাই গলির বাইরে বড়ো ডাস্টবিনে ফেলার উদ্দেশ্যে বাসু নাগ রওনা হলেন।

    অনন্ত সিংগির বাড়ির দোরে মোটরটাকে দেখতে পেয়ে বাসু নাগ এগোলেন না। ভাবলেন, বেটা নিশ্চয় এখনও দাঁড়িয়ে আছে। এখান দিয়ে গেলেই দেখিয়ে গাড়িতে পা তুলে দাঁড়াবে। গাড়িটা কি কিনল? হারামজাদার পয়সা আছে বটে তবে কিপটে, তা ছাড়া মুখও।

    বাসু নাগ বাড়ি ফিরে সটান ছাদে উঠলেন। বলটা প্রাণপণে ছুড়ে দেবেন যেদিকে খুশি। কিন্তু কোনদিকে ছোড়া যায়? নজর পড়ল অনন্ত সিংগির ছাদের ঘরটা। ওটা ঠাকুরঘর। দরজাটাও ভোলা রয়েছে। বাসু নাগ রাগ করে বলটা ছুড়ে দিলেন।

    মনীষা অর্থাৎ মানু এসেছে। মেজোবউদি বাপের বাড়ি গেছে সকালে, এখনও ফেরেনি। বড়োবউদি ইনফ্লুয়েঞ্জায় শয্যাশায়ী। দাদারা বাড়ি নেই। ভোম্বল যে কী করবে ভেবে পেল না। তাই যথারীতি বলল, এই যে।

    মনীষা হাসল।

    পাড়ায় ওটা কার গাড়ি ভোম্বলদা? শুনলুম নাকি…

    থেমে গেল। তারপর বুকের আঁচল ঠিক করে একটু আদুরে গলায় ওপরে আপনার ঘর থেকে তো দেখা যায়। রাস্তায় বেরোলে দেখব।

    ভোম্বলের মুখে রা নেই। মানুর পিছু পিছু ঘরে এল।

    সিনেমায় অনেক বার দেখেছি। এমনি চোখে তো দেখিনি, কেমন দেখায় তাই দেখতে এলুম। এত সুন্দর ন্যাচারাল পার্ট করে-না—জানেন ও কিন্তু মেয়েদের খুব ফেভারিট।

    ভোম্বল হাসল। মানুকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। কিন্তু অস্বস্তি লাগছে, বাড়িতে কেউ নেই। মেজোবউদিও যদি থাকত। যদি এই নিয়ে কথা ওঠে? বড়োবউদি অল্পবিস্তর কুচুটে।

    নীচের ঘর থেকে দেখলে হত না?

    কেন, আপনার ঘরে অসুবিধে কী?

    মানুর পালটা প্রশ্নে ভোম্বল দিশাহারা হল।

    মানে, কেউ তো বাড়ি নেই, নীচের দরজাটা খোলা।

    তাতে কী হয়েছে?

    কেউ যদি কিছু বলে?

    মানু যেন কুপিত হয়েছে এমন মুখভঙ্গি করে বলল, কেন আমি কি খুব খারাপ মেয়ে যে অপবাদ দেবে?

    তা নয়, মানে…

    রাগ করে মানু বেরিয়ে যাচ্ছে। হায় হায় করে উঠল ডোম্বলের অন্তরাত্মা। এ কী করে বসল সে, মানু যে চলে যাচ্ছে। প্রায় ছুটে গিয়ে সে মানুর হাত ধরল।

    অপবাদে আমিও ভয় পাই না।

    মানু হাসল। লাজুক সুরে বলল, কী যে করেন।

    হাত ছেড়ে দিয়ে ভোম্বল টুলের উপর বসল। ঘাড় হেঁট করে মানু দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রইল।

    কিন্তু এভাবে চুপ করে থাকা বা দরজায় দাঁড়িয়ে থাকার জন্য কেউই প্রস্তুত নয়। সুতরাং মানু ঘরের ভিতর এসে বলল, আপনার ঘরটা খুব টিপটপ, সাজানো, আপনি খুব গোছানো।

    ভোম্বল হাসল এবং ভাবল মানুও খুব টিপ টিপ।

    আচ্ছা আপনি যে অত বই কিনেছেন, এর সব পড়া হয়ে গেছে?

    ভোম্বলের বুক দুলে উঠল।

    তা না হলে কি অমনি সাজিয়ে রেখেছি? সগর্বে বইগুলোর দিকে তাকিয়ে, প্রত্যেকটা লাইন পড়া।

    মুগ্ধ হয়ে মানুও বইগুলোর দিকে তাকাল।

    বাবা বলছিল, এপাড়ায় আপনার মতো কোনো ছেলে নেই। সত্যি, পাড়ার ছেলেরা যা হয়েছে-না.. জানেন বরুণবাবুর এক বোন এসেছে-না, মেয়েটা ভারি বেহায়া চাল্লুশ। আর পাড়ার যত বখাটে ছেলে ওদের বাড়ির সামনে ঘুরঘুর করবে। ফ্যালার সঙ্গে নাকি এর মধ্যেই ভাব হয়ে গেছে।

    তাই নাকি?

    ওমা, পাড়ার সবাই তো জেনে গেছে।

    মানু খাটের ওপর বসল। সানের দেয়ালে আয়না, মুখ দেখা যায়। আয়নার দিকে তাকিয়ে। বলল, আপনি তো নামেও ভোম্বল, কাজেও ভোম্বল।

    বটে, তাই নাকি। আমিও অনেক খবর রাখি তা জান?

    মানু সচকিত হল। চুলের একটা গুচ্ছ কপালের ওপর ঝুলিয়ে দিলে কেমন দেখাবে সেইটা পরীক্ষা করে দেখতে ইচ্ছে করছে। ইচ্ছেটা দমিয়ে ব্যগ্রস্বরে বলল, কী? কীসের খবর?

    মানুর চোখে খানিকক্ষণ চোখ রেখে ভোম্বল বলল, মনীষা বলে একটা মেয়ে এ-পাড়ায় আছে সে খুব সুন্দরী, তা জান?

    বুঝতে একটু সময় লাগল। তারপর দু-হাতে মুখ ঢেকে কুঁজো হয়ে মানু বলল, কী। অসভ্য।

    মুখটা তোলার সময় মানু আঙুল দিয়ে চুলের গুচ্ছটা চট করে কপালের উপর টেনে ফেলল। ভোম্বল দেখতে পেল না। মুখোমুখি বসে থাকতে লজ্জা করল তার। উঠে জানলায় গেল। ফিরে এল। বসল। আয়না দেখল। ভোম্বলের দিকে তাকাল। বলল, মেজোবউদি কখন আসবে?

    সময় তো হয়ে গেছে।

    আবার চুপচাপ।

    মেজোবউদি বলছিল একদিন প্ল্যানেটোরিয়াম দেখতে যাবে। কেউ না-নিয়ে গেলে বাবা যেতে দেবে না। ওসব দিকে যেতেও কেমন যেন লাগে। গড়ের মাঠটা এমন-না… কোথায় যে বাস থেকে নামতে হবে…

    সামনের রোববার চলো-না, যাবে?

    আমি কী জানি, মেজোবউদি যদি যেতে চায় তবেই তো।

    তোমার বাড়িতে কিছু বলবে না?

    ঘাড় নাড়ল মানু। আপনি তো সঙ্গে থাকবেন।

    টুল থেকে উঠে খাটে বসল ভোম্বল।

    শেফালি এসে বলল, অ বউদি দেখতে যাবে?

    পারুল বিছানায় শুয়ে। কপালে হাত, চোখ বন্ধ। মাথা নেড়ে বলল, মাথা ছিঁড়ে পড়ছে। ভাই, ভীষণ ধরেছে।

    বলেই মুখভঙ্গি করল যন্ত্রণায়, তাই দেখে শেফালি কথা না বাড়িয়ে সিঁড়ির পথ দেখল।

    বাসন্তী শাড়ি বদলে চুল আঁচড়াচ্ছে। শেফালি বলল, বউদি, তারকাদের গলির মধ্যে একতলা একটা বাড়ি আছে, তার নীচের ভাড়াটেদের ঘর থেকে কিন্তু মাস্টারনির ঘরের খানিকটা দেখা যায়, যাবে?

    বাসন্তী থ। এত বড়ো একটা খবর পেয়ে কী যে করবে সে।

    ঠিক জান? দেখা যায়? একটুখানি, একবার হলেই হবে।

    ছোটোবেলায় ও-বাড়িতে যে খুব যেতুম। তখন যে ভাড়াটে ছিল তাদের একটা মেয়ের সঙ্গে আমার খুব ভাব ছিল। আমি জানি, উঠোনের ডান দিকের ঘরটায় একটা ছোট্ট জানলা আছে।

    পারুলকে ডেকে বলে নাও। আমি দরজায় তালা দিই।

    নীচের বউদির মাথা ধরেছে, যাবে না।

    সে কী?

    বাসন্তী দরজায় তালা দিয়ে চাবি হাতে নামল।

    ওঠ ওঠ, দেখতে যাবি তো চ এইবেলায়। পারুলকে ঠেলা দিল বাসন্তী। যন্ত্রণায় মুখ বেঁকিয়ে পারুল বলল, সত্যি বলছি, ভয়ংকর মাথা ধরেছে।

    সাধাসাধি করতে গেলে দেরি হয়ে যাবে। চাবিটা পারুলকে দিয়ে বলল, ছেলেটা রইল. কাঁদলে দেখিস। আমি এখুনি আসছি।

    শেফালির সঙ্গে বাসন্তী বেরিয়ে গেল। দালানের কোণ থেকে বুড়ি বলল, অ বউ, তোর কী হয়েছে?

    রাস্তার আলোর নীচেই গাড়িটা। একটা বেড়ালবাচ্চা গুটিগুটি এসে গাড়ির নীচে ঢুকল। অনন্ত সিংগি বৈঠকখানা থেকে তা লক্ষ করে উঠে এসে হাঁকডাক শুরু করলেন। ওঁর ভাবভঙ্গিতে সেই জিনিসটিই প্রকট, যার দ্বারা অন্যের এই ধারণা হয়—গাড়িটির অভিভাবক তিনিই। বেড়ালবাচ্চাই হোক আর একটা মাছিই হোক, কাউকেই তিনি রেয়াত করবেন না।

    এ সবই হচ্ছে ডেঞ্জারাস। চুপচাপ রয়ে গেল কেউ জানল না, তারপর গাড়ি স্টার্ট দেওয়ামাত্রই চটকে গেল। অযথা একটা প্রাণীহত্যা। দেখেছি যখন, তখন বার করে দেওয়াই ভালো।

    নিশ্চয়। সত্যচরণ বলল, মরলে তো রাস্তাটাই নোংরা হয়ে গেল। কাক এসে ঠুকরে নিয়ে এখানে-ওখানে উড়ে বসবে। আপনি ঠিকই বলেছেন।

    উবু হয়ে সত্যচরণ হুশ হুশ শুরু করল। বেড়ালবাচ্চা ভয়ে সিঁটিয়ে দেয়াল ঘেঁষে বসে রইল। ফ্যালা মোড় থেকে দেখল গাড়ির নীচে সত্যচরণ কী খোঁচাচ্ছে। ছুটে এল সে।

    দ্যাখো তো ফ্যালা, ওটাকে বার করা যায় কি না, গাড়ি চললেই তো চাপা যাবে। সিংগিমশাই বললেন।

    তাই ওটাকে বার করে দিচ্ছিলুম। সত্যচরণ কৈফিয়ত দিল।

    ফ্যালা নীচু হয়ে দেখল। দেখে বলল, স্টার্টের আওয়াজ শুনলেই ব্যাটা সটকান দেবে। আছে থাক।

    নীচু হয়ে যখন দেখছিল, তখন একটা ব্যাপার ফ্যালার চোখে পড়ল। গাড়ির পিছনে মাল রাখার ক্যারিয়ারের চাবিটা ভাঙা। ডালাটা একটু ফাঁক হয়ে রয়েছে।

    তাই বলে চীনারা মহান জাতি, চীনাদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ নেই। নেহরু এই যে সব বলল, এটা কি বলা ঠিক হয়েছে? অ্যাজ এ প্রাইম মিনিস্টার অব ইণ্ডিয়া, তাঁর তো ভেবেচিন্তে কথা বলা উচিত।

    কী এমন অন্যায় বলেছে নেহরু। পিসতুতো শালার বিলেতফেরত জামাই গম্ভীর হবার চেষ্টা করল। কালীবাবু নার্ভাস বোধ করলেন।

    চীনেরাই তো আমাদের অ্যাটাক করেছে।

    তা করেছে।

    ওরা তো এনিমি।

    নিশ্চয়।

    তবে কেন ওরা মহান?

    ঊরু চাপড়ালেন কালীবাবু। জামাই কী-একটা বলতে যাচ্ছিল, থামিয়ে দিয়ে দুলতে দুলতে বললেন, মানি নেহরু খুব শিক্ষিত কালচার্ড। আমরা তাঁর সমকক্ষও নই। কিন্তু ইনিই তো বলেছিলেন সুভাষ যদি আসে তো তরোয়াল নিয়ে তাকে রুখব। কী, বলেছিল তো?

    জামাই কিছু বলতে যাচ্ছিল, কালীবাবু হাত তুলে থামিয়ে দিয়ে বললেন, কাশ্মীরে যখন ইণ্ডিয়ান আর্মি মোচোলমানদের ঠেঙাতে ঠেঙাতে পগারপার করছিল তখন যুদ্ধ বন্ধ করে ইউএনও-তে মামলা করার কী দরকার ছিল? পনেরো বছরেও তো মামলা মিটল না। বুঝলে বাবু, শুধু শিক্ষা কালচার দিয়ে একটা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় না। এজন্য দরকার ডিক্টেটর। চাবুক হাতে নিয়ে দেশশাসন করতে হয়। হিটলার করেছিল, স্ট্যালিন করেছিল, তবেই-না চড়চড় করে ওরা বড়ো হতে পারল।

    বাবাজি রীতিমতো ঘায়েল। সত্যচরণ থাকলে কী অবাকটাই-না হত। কালীবাবু দুলে দুলে আপশোস মেটাতে লাগলেন। জামাই অস্ফুটে বিড়বিড় করে দেয়ালে-টাঙানো চারুশীলার সূচিশিল্পের নমুনা দেখতে লাগল।

    প্রথম রাউণ্ড জিতে কালীবাবুর উৎসাহ বেড়েছে। দ্বিতীয় রাউণ্ড শুরু করলেন।

    আচ্ছা তোমার কী মনে হয়, ইণ্ডিয়ার নন অ্যালাইড থাকা উচিত?

    জবাবের জন্য কালীবাবু উদগ্রীব। জামাই তখনও চারুশিল্পে মগ্ন। ঠিক সেই সময়েই দপ করে আলো নিভে গেল। লোডশেডিং। ঘোষপাড়া লেন এলাকায় আজ অন্ধকার নামল।

    আঃ, আবার। এই এক জ্বালা হয়েছে রোজ রোজ। চারুশীলা ছুটে এল নীচ থেকে। কালীবাবুকে ঘরের বাইরে ডেকে বলল, মোমবাতি আনতে বলেছিলুম, এনেছ?

    এই যা। বলেই দুড়দুড় করে নেমে তিনি রাস্তায় পড়লেন। গোটা অঞ্চলটাই মিশমিশে। এখন দশ চক্ষু হয়েও কেউ কাউকে চিনতে পারবে না।

    কে বলেছে ওটা আমার ছেলের বল?

    রবারের বলটা বাসু নাগের মুখের সামনে তুলে অনন্ত সিংগি বলল, বলটা তবে কার? কার তা আমি কী করে বলব। উইদাউট এনি প্রুফ বললেই হল? ওরকম বল হাজার হাজার থাউজেণ্ড অ্যাণ্ড থাউজেণ্ড ছেলের কাছে পাওয়া যাবে। আমি জানতে চাই, আই ডিমাণ্ড, আমার ছেলেকে কেন, কীসের ভিত্তিতে দায়ী করা হচ্ছে যে সে বলটা আপনার ঠাকুরঘরে ছুড়েছে?

    বাসু নাগ গামছা পরে সদর দরজায় চিৎকার জুড়েছে। আশপাশের বাড়ি থেকে অনেকেই বেরিয়ে এসেছে। লোকজন দেখে তার চিৎকার বাড়ল। স্রেফ আহম্মকি। গায়ে পড়ে ঝগড়া। অবশ্য কারণটাও জানি।

    কী কারণ? কী জান? সিংগিমশাই রুখে উঠলেন।

    গরম, পয়সার গরম। ওরকম পয়সা ঢের ঢের দেখেছি বুঝলেন, গাড়ি একসময় আমাদেরও ছিল। গাড়ি দেখাতে আসবেন না। পয়সা আজ আছে কাল নেই কিন্তু বনেদি বংশের শিক্ষাদীক্ষা চিরকাল রক্তে থেকে যায় বুঝলেন।

    সত্যচরণ এই সময় বলল, ব্যাপারটা কী? বাসুদা চটলে কেন গা?

    আর বলিস কেন ভাই, ইনি এসে বলছেন এই বলটা নাকি আমার ছেলে ওঁর ছাদে ঠাকুরঘরে ছুড়েছে। কোনো প্রুফ নেই, কোনো উইটনেস নেই। একেবারে চড়াও হয়ে এসে হম্বিতম্বি।

    আলবাত তোমার ছেলের বল এটা। এই যে ফুটো, টিপলে চুপসে যায়। বলটা বাসুর মুখের সামনে ধরে সিংগিমশাই টিপলেন। হাওয়াটা বাসুবাবুর মুখে লাগতেই তিনি আঁতকে পিছনে লাফ মারলেন।

    হোয়াট ইজ দিস? অ্যাাঁ, নোংরা বলের হাওয়া মুখের উপর? রাগে ঠকঠক করে বাসু নাগ কাঁপতে থাকলেন। কথা জড়িয়ে যাচ্ছে, আহ উইল কল পুলিশ, পুলিশ ডাকব। তেল বার করে ছাড়ব।

    ডাক তোর পুলিশ, আমিও দেখে নোব তোর বনেদিপনার তেল কত। বুঝলে সত্য, যত রাজ্যের মেয়েলি পরচর্চা, পরনিন্দে হল এই লোকটার পেশা। ডাক্তারবাবুর কাছে গিয়ে কী বলেছে জান? বলেছে ইলার মা নাকি অনন্ত সিংগির বিয়ে-করা বউ নয়। মুদির কাছে কী বলেছে জান? নোটজালের কারবারিদের সঙ্গে আমার দোস্তি আছে। আরে বাবা নিজের চরকায় তেল দিয়ে তারপর কথা বলতে আসুক। মাসের মধ্যে দশ দিন তো উনুন ধরে না।

    আমার উনুন ধরে কি ধরে না তা দিয়ে কার বাপের কী? বাসু নাগ রাস্তায় লাফাতে শুরু করলেন। অনন্ত সিংগি একটু পিছিয়ে গিয়ে বললেন, খবরদার বাপ তুলবে না, তাহলে রক্তারক্তি হয়ে যাবে বলছি।

    তোমরা শুনে রাখো, আমায় থ্রেট করল। আমাকে খুন করবে বলল।

    মিথ্যে কথা, খুন করব বলিনি। সত্য তুমিই বলো?

    সত্যচরণ ফাঁপরে পড়ল, এখনও সে মনস্থির করতে পারেনি কার পক্ষ নেবে। সিংগিমশাইকে কোণঠাসা হতে দেখে বাসু নাগের দেহ মনে মত্তহস্তীর বল দেখা দিল। গামছাটাকে মালকোঁচা করে এগিয়ে গেলেন।

    বাপের বেটা যদি হোস তো আয়, খুন কর দেখি, চলে আয়।

    অনন্ত সিংগির ভাই বসন্ত সদ্য বাড়ি ফিরে ব্যাপার শুনেই সেইমাত্র এসে হাজির হয়েছে। বসন্ত রগচটা লোক। বাসু নাগের আহ্বানে সে এগোল। আর ঠিক সেই সময়েই অন্ধকার নামল ঘোষপাড়া লেনে।

    শুয়ে রয়েছে পারুল। সিঁড়ি দিয়ে উঠছে রবীন। উপরে গিয়ে দেখবে তালাবন্ধ। চাবি নিয়ে পারুল উঠল।

    অ বউ, কোথায় চললি? খোকা ফিরল? অ বউ সাড়া না দিয়ে যাচ্ছিস কোথা?

    যমের বাড়ি। দাঁতে দাঁত ঘষে পারুল।

    বুড়ির মুখের সামনে চড় তুলল। বুড়ি দেখতে পেল না, পারুল বেড়ালের মতো উপরে উঠে গেল।

    সেই মাথাধরার ওষুধটা আছে?

    বন্ধ দরজার সামনে রবীন দাঁড়িয়ে ছিল। পারুলকে দেখে এবং বাসন্তীকে না দেখে জড়সড় হয়ে পড়েছে। তোতলার মতো বলল, কীসের ওষুধ, কোন ওষুধ।

    আঃ! আপনাকে দু-বার করে না বললে কিছুই বোঝেন না। মাথাধরার ওষুধ, মাথাধরার। ছিঁড়ে পড়ছে মাথাটা।

    দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে দু-হাতে চেপে ধরল কপালটা, অস্ফুট যন্ত্রণায় আক্ষেপধ্বনি তুলে মাথা ঝাঁকাল।

    ওষুধ তো বহুদিন আগে একটা কিনেছিলুম। মলম। এখনও আছে কি না…

    জানেন না। পারুল ধমক দিল যেন, বাড়িতে এমন একটা কেউ নেই যাকে বলব মাথাটা টিপে দিক। আপনাকে বলা তো বৃথা। বউ বাড়িতে নেই, এখন তো আমার দিকে তাকাতেও সাহস পাবেন না।

    কেন, আমি কি ভীতু? এই তো তাকাচ্ছি।

    সাহস বোঝাবার জন্য রবীন চোখ দুটো বিস্ফারিত করল। পারুল মুখ টিপে হাসল। রবীন সে-হাসি দেখল।

    সাহস বোঝা গেছে, তখন যেভাবে সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে পড়লেন। পারুল আঁচলটা মুখে চাপল হাসি লুকোতে এবং মুখ লুকোতে কুঁজো হয়ে পড়ল। শেষে বউয়ের উপর রেগে আমাকেই এক ঘা দিয়ে দিলেন। আমি কি আপনার বউ?

    মোটেই আমি মারিনি। রবীন ব্যাকুল হয়ে পড়ল। মুখ থেকে আঁচল নামিয়ে পারুল গলা খাটো করে বলল, যাক আর মিথ্যেকথা বলতে হবে না। এখনও ব্যথা করছে জায়গাটা। একে মাথার যন্ত্রণা তার ওপর আপনার যন্ত্রণা। বক বক করিয়ে আরও বাড়িয়ে দিলেন, দিন না বাপু মাথাটা টিপে।

    রবীনের হাতটা ধরে পারুল হ্যাঁচকা টান দিল। উভয়ের ব্যবধানটুকু তাতে ঘুচে গেল। হাতটা কপালে রেখে পারুল বলল, বউকে অত ভয় করেন কেন।

    আর ঠিক সেই সময়েই, ঘোষপাড়া লেনে দপ করে অন্ধকার নামল।

    সত্যি বলছি, রোজ জানলার কাছে সেইজন্য অপেক্ষা করি। ঘুমভাঙা ফোলা ফোলা চোখ, সকালের বাতাসে চুলগুলো কপালের ওপর ফুরফুর করে ওড়ে। যতদূর পর্যন্ত দেখা যায় তোমাকে দেখি। ইচ্ছে করে বেরিয়ে পড়ে তোমার পিছু পিছু কলেজ পর্যন্ত যাই। তারপর ভাবি—না:, চ্যাংড়া ছেলেরা এসব করে। তুমি হয়তো আমাকে তাই ভাবতে পার।

    শুনতে শুনতে নুয়ে পড়ল মানুর মাথা। নিজের কোলের দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে বলল, আপনার সম্বন্ধে এইরকম ভাবব তাই-বা আপনি ভাবলেন কী করে? আপনি কি আর সবায়ের মতো।

    মানুর স্বরে ক্ষোভ, অভিমান যেন। ভোম্বল ভাবল, এর দ্বারা কি এই বোঝায় যে মানু তাকে মোটেই চ্যাংড়া ভাবে না। তাহলে কী ভাবে?

    আচ্ছা যদি তোমার কলেজ পর্যন্ত যাই, অনেকটা পিছনেই থাকব অবশ্য কেউ বুঝতেই পারবে না, তাহলে তুমি কি রাগ করবে?

    মানুর মাথা আবার নুয়ে পড়ল। ভোম্বল বাক্যহারা। পলকহীন। মানু এক বার চোখে চোখ রাখার চেষ্টা করে হার মেনে জানলার কাছে উঠে গেল। মাথাটা কাত করে ত্যারছা চোখে দেখল ধূসর মোটর গাড়িটা দাঁড়িয়ে।

    এখনও বেরোয়নি, শুনেছি নিজের পিসি হয় মাস্টারনি।

    আমাদের সঙ্গে এক ইয়ারেই বিএ পাস করেছে। আমি সিটি ও স্কটিশ। ভোম্বল উঠে গিয়ে তাক থেকে একটা বই পেড়ে নিল। বড়োবউদির বাচ্চা ছেলেটা এইমাত্র দরজায় উঁকি দিয়ে গেল। নিশ্চয় মা-র কাছে রিপোর্ট করবে, তিনি হয়তো এক বার এসে ঘুরে যাবেন।

    পড়াশুনোয় এমন-কিছু ছিল না, তবু দ্যাখো হাজার হাজার টাকা কামাচ্ছে, শুধু চেহারার জন্য। ওর পার্ট তোমার ভালো লাগে?

    মানু এইবার চোখে চোখ রাখল। বড়ো করে মাথা নেড়ে বলল, মা গো, কেমন যেন। মেয়েলি মেয়েলি।

    খুশিতে হাসল ভোম্বল। ওকে দেখার জন্য মেয়েরা কেন যে এত ব্যস্ত হয়!

    বইয়ের পাতা উলটোতে শুরু করল সে। মানু জানলা থেকে পা-পা করে করে সরে এল। দরজায় দিকে তাকাল ভোল। গলা খাঁকারি দিয়ে নীচু গলায় বলল, কই বললে না তো সেকথার জবাব।

    কীসের।

    ওই যে বললুম।

    মাথা নুয়ে পড়ল মানুর। পায়ের নখের দিকে তাকিয়ে বলল, কী বলব?

    বাঃ, সেটা কি আমি বলে দেব?

    জানি না।

    এড়িয়ে যাচ্ছ।

    দুজনেই চুপ। দূর থেকে একটা চেঁচামেচির আভাস আসছে।

    অনেকেই তো আসে। কলেজের অনেক মেয়ের সঙ্গেই তো আসে, পৌঁছে দিয়ে যায়। একসঙ্গে পাশাপাশি গল্প করতে করতে আসে। মানুর কণ্ঠস্বর যেন মেঝেয় মিশে যাচ্ছে। ওরা কিন্তু খুব ভদ্র। আমাদের ক্লাসের সুলেখা আলাপ করিয়ে দিয়েছে একজনের সঙ্গে। রোজ আসে। ওর সঙ্গে সুলেখার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।

    শুনতে শুনতে গম্ভীর হয়ে গেল ভোম্বল। কারণ সে ভাবতে শুরু করেছে, এতদ্বারা মানু কি এই বোঝাতে চায় যে, যদি বিয়ে করো তাহলেই কলেজ পর্যন্ত সঙ্গে যেতে পারো। কিন্তু মানুকে রোজ লুকিয়ে লুকিয়ে দেখাটা মিথ্যে নয়। ওর সঙ্গে গল্পকরা বা একসঙ্গে পথচলার ইচ্ছাটাও সত্যি। অতএব ভোম্বল আর ভাবনাচিন্তা না করে বলল, একদিনেই তো আর ওরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়নি, তার আগে.. বলেই ভোম্বল থেমে গেল।

    মানু চোখ তোলেনি। হঠাৎ প্রাণপণে কিছু বলার চেষ্টায় মুখটা তুলেই সবটুকু ক্ষমতা যেন ওর ফুরিয়ে গেল।

    বাবা সামনের বছর রিটায়ার করছে। আমায় বলেছে খবরের কাগজে কর্মখালির কলম যেন রোজ দেখি। আমিই তো বড়ো। আবার প্রাণপণে ও ক্ষমতা সংগ্রহ করল, আমার বিয়ে করলে চলবে কেন।

    ভোম্বল দেখছিল মানুর ঠোঁট কেমন থরথর করে কাঁপছে। ও তখন ভাবতে যাচ্ছিল, আর সেই সময়েই দপ করে ঘোষপাড়া লেন অন্ধকার হয়ে গেল।

    উঠোনটা অন্ধকার, ভিজে। সাবধানে পেরিয়ে দরজার কাছে ওরা দাঁড়াল। টিমটিমে বালব জ্বলছে ঘরে। বাসন্তী কনুই দিয়ে শেফালিকে খোঁচাল।

    ওই কোণের জানলাটা। ফিসফিস করে শেফালি বলল। বাসন্তী আবার খোঁচা দিল।

    বারো-তেরো বছরের একটি মেয়ে পিছু ফিরে বসে বাটিতে কিছু-একটা গুলছে। ছেঁড়া কাগজ কুচিয়ে ভাগা দিচ্ছে একটা বাচ্চা। আর একটি মেঝে থেকে খুঁটে খুঁটে মুড়ি খাচ্ছে। বছর দেড়েকের বাচ্চাটি তক্তায় উঠতে গিয়ে কেঁদে উঠল।

    তক্তায় এদের মা শুয়ে, চোখ বোজা। হাত দুটি এলানো। ব্লাউজের বোতাম খোলা। ছোটোটি বোধ হয় মাই খাবার জন্য তক্তায় উঠতে চায়। মায়ের কাপড় অসম্ভব ময়লা। পায়ের আঙুলে হাজা। মুখটি হাঁ করা। সম্পূর্ণ চেহারাটি দেখলে মনে হয় বহুকালের বিসর্জিত প্রতিমাকে জল থেকে টেনে তুলে শুইয়ে রাখা হয়েছে। শেফালির মনে হল, মরে পড়ে আছে।

    বাচ্চাগুলো ওদের দেখতে পেয়ে অবাক হয়ে তাকাল। বড়োমেয়েটি টের পেল। সে ফিরে তাকাল।

    এবার একটা-কিছু বলতে হয়। যেহেতু এদের মধ্যে বয়স্ক তাই বাসন্তীই বলল, কী হয়েছে?

    অসুখ। ঠাণ্ডা নিরুদবিগ্ন স্বরে কথাটি বলে সে বাটিতে কিছু-একটা গুলতে থাকল।

    কী অসুখ। শেফালি বলল। চৌকাঠ পেরিয়ে ঘরে পা রাখল।

    এমনি অসুখ, অনেক দিনের। মেয়েটি ফিরে পর্যন্ত তাকাল না।

    ডাক্তার দেখে না? এবার বাসন্তী।

    হাসপাতালে যেত। এখন বাবা গিয়ে ওষুধ আনে।

    ওরা দুজন ঘরের ভিতর ঢুকল।

    তোমার মা কথা বলতে পারে?

    কাল থেকে খুব জ্বর, অজ্ঞানের মতো হয়ে আছে।

    বাসন্তী জানলাটার দিকে তাকাল। বন্ধ রয়েছে।

    জানলাটা খুলে দাও, ঘরে হাওয়া চলাচল করুক। বলে সে নিজে এগোচ্ছিল জানলাটা খুলতে।

    না।

    মেয়েটির ঠাণ্ডা গলার স্বরে বাসন্তী জমে গেল।

    পাশের বাড়ির ওরা খুব বিরক্ত হয়। এরা তো গোলমাল চিৎকার করে। বাবা তাই সবসময় বন্ধ রাখতে বলেছে।

    শেফালি বলল, বাচ্চা ছেলেপুলে থাকলে গোলমাল তো হবেই তাই বলে অসুস্থ মানুষটার কথাও তো ভাবতে হবে। খুলেই দাও, বলুক ওরা যা বলার।

    না, বাবা বারণ করেছে। ঠাণ্ডা গলায় আপত্তি জানাল মেয়েটি। বাসন্তী আর শেফালি, মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। তাহলে আর থেকে লাভ কী, চলে যাওয়াই ভালো।

    কিন্তু কেমন যেন বাধোবাধো লাগছে। এভাবে এসেই চলে যাওয়াটা ভালো দেখায় না। বাসন্তী বলল, ওকে হাসপাতালে দিলেই তো হয়।

    জবাব পেল না। খুঁটে খাচ্ছিল যে-বাচ্চাটা তাকে টেনে নিয়ে বাটিতে-গোলা জিনিসটি খাওয়াতে থাকল। বছর দেড়েকের বাচ্চাটা হামা দিয়ে শেফালির পায়ের কাছে বসে মুখ তুলে তাকাল। মজা দেবার জন্য শেফালি চোখ দুটো বড়ো করে জিভ বার করল। বাচ্চাটা ধীরে ধীরে হেসে উঠল।

    রান্না করে কে, তুমি?

    মেয়েটি ঘাড় নাড়ল। বাসন্তী আবার বলল, সংসারের ঝামেলাতেই সদাব্যস্ত। এসে যে দেখে যাব তার সময় কোথা? এমনভাবে বলল যেন এরা বহুকালের চেনা। এতদিন না আসায় কৈফিয়ত একটা দেওয়া দরকার।

    কাচ্চাবাচ্চার সংসার আমাদেরও তো।

    তোমার বাবা কখন ফিরবে? শেফালি অনেকক্ষণ চুপ রয়েছে, তাই বলল।

    রাত দুটো-আড়াইটে হয়।

    এতক্ষণ?

    ইভনিং ডিউটি থাকলে রাত হয়। মর্নিং ডিউটি হলে দুপুরে দুটো-আড়াইটেয় ফেরে।

    কী কর অতক্ষণ?

    কিছু না।

    তক্তা বাদ দিয়ে যতটুকু মেঝে, শুয়োপোকার মতো ছেলেগুলি নড়াচড়া করছে। বাচ্চাটা হামা দিয়ে তক্তা ধরে দাঁড়াল। মায়ের একটা পা ধরে টানতে শুরু করেছে। হঠাৎ চোখ খুলল। হাত মুঠো করে মুখ দিয়ে শ্বাস টানছে। দৃষ্টি কড়িকাঠে ঠায় হয়ে রয়েছে। ঘরের কাউকেই দেখছে না।

    বাচ্চাটা পেচ্ছাপ করেছে। মেয়েটি ন্যাতা আনার জন্য উঠোনে বেরোল। সে-সময় বাসন্তী বলল, চলো, চলে যাই এবার।

    মেয়েটি আসুক। বলে শেফালি তক্তার দিকে তাকাল। মরামানুষের দৃষ্টির মতো তার মুখেই ঠায় তাকিয়ে। মাথাটা ঘোরায়নি। চোখের মণি দুটো কোণে সরে গিয়ে সাদা অংশটাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। দাঁতগুলো ফাঁক ফাঁক। তাতে হলুদ ময়লা।

    বউদি এবার চলো।

    শেফালি কথা শেষ করা মাত্রই ঝুপ করে ঘোষপাড়া লেনে অন্ধকার লাফিয়ে পড়ল। শিউরে কাঠ হয়ে গেল শেফালি। কে কঠিনভাবে তার হাতটা আঁকড়ে ধরেছে। ঘরটা স্তব্ধ। কে যেন ভারী হয়ে শ্বাস টানছে।

    প্রথমে কেঁদে উঠল ছোটো বাচ্চাটা, তারপর একে একে বাকিরা। বড়োমেয়েটি অন্ধকারেই ঘরের মেঝেতে ন্যাতা বোলাল। বাসন্তী বলল, মোমবাতি কি। হ্যারিকেন এসব কিছু নেই?

    না।

    ফিসফিস করে শেফালি বলল, আমার আঁচলে একটা সিকি আছে। খুলে নিয়ে ওকে দাও। মোমবাতি আনুক।

    অন্ধকার কঠিনভাবে ওর হাত ধরে রয়েছে। প্রথমে দেখে মনে হয়েছিল মরে গেছে।

    বস্তির গলিটা দিয়ে প্রায় ছুটছিল ফ্যালা। হাতে মোটরের চাকা। মোটর গাড়ির পিছনের ক্যারিয়ারে বাড়তি যেটা থাকে সেই জিনিস। অন্ধকারে ধাক্কা লাগল সামনের একজনের সঙ্গে। টায়ারটা হাত থেকে পড়ে গেল। লোকটা বলল, আস্তে চলুন-না, দেখছেন না কী অন্ধকার। ফ্যালা জবাব দিয়ে কথা বাড়াল। লোকটা কালীবাবু।

    রাস্তায় উবু হয়ে বসে ফোঁপাচ্ছেন বাসুদেব নাগ। ছেলে-মেয়েরা গোল হয়ে ঘিরে। স্ত্রী মাথায় জল ঢালছে। সামনের বাড়ির একজন লম্প হাতে দাঁড়িয়ে। বাসুবাবুর মাথা ফেটেছে। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে তিনি বললেন, সব তোমার জন্য, এ সব তোমার জন্য। ছেলে-মেয়ে-সংসার সব ফেলে রেখে যেদিকে দু-চোখ যায় চলে যাব। বুঝবে কী করে সংসার চলে। কত অপমান সয়ে চলতে হয়।

    বাসুবাবুর স্ত্রী সাত চড়ে রা করেন না। তিনি জল ঢালতে লাগলেন।

    মানু বলল, আমি এখন যাই।

    ভোম্বল বলল, কেন যেতে তো বলছি না।

    মানু বলল, না অন্ধকারে আমাদের দুজনের থাকা উচিত নয়।

    ভোম্বল বলল, কথা উঠবে, অপবাদ দেবে?

    মানু বলল, হ্যাঁ, তাতে আমাদের দুজনেরই ক্ষতি হবে।

    দুজনেই চুপ করে থাকল। ভোম্বল হাত বাড়িয়ে মানুর হাত চেপে ধরল। মানু বলল, ছেলেদের অনেক সুবিধে, বিয়ের পর বাপের বাড়ি ছেড়ে যেতে হয় না। যদি ছেলে হতুম।

    তাহলে তোমায় দেখবার জন্য কষ্ট করে জানলায় দাঁড়াতুম না। অবশ্য তুমি যদি চাও তাহলে এবার থেকে মেয়ে হিসেবে তোমায় আর ভাবব না।

    বেড়ালের মতো নেমে এসে পারুল বিছানায় শুয়ে পড়ল। মাথাধরা সেরে গেছে। ঘুম পাচ্ছে। বুড়িটা চ্যাঁচাচ্ছে, বলে ছেলের আবার বিয়ে দেব। দিয়ে দ্যাখো না, সেও আটকুড়ি থাকবে। পুজো-মানত-মাদুলি কত কী তো হল, তাতে কি ফল ফলল? যত্তসব ধাপ্পা। বাসন্তীর ছেলে হয়েছে। পারুল ভাবল, তাহলে আমারই-বা হবে না কেন?

    একসময় ঘোষপাড়া লেনে আবার আলো জ্বলে উঠল। ইতিমধ্যে ধূসর রঙের সেই মোটর গাড়িটা কখন চলে গেছে। বেড়ালবাচ্চাটা চটকে পড়ে রয়েছে।

    একমাত্র সত্যচরণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাবল, মৃতদেহটার সদগতি না করলে কাল সকালেই তো কাক আর কুকুরে মিলে সারা রাস্তাটাকে নোংরা করবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমতি নন্দী কিশোর সাহিত্য সমগ্র ১ম খণ্ড
    Next Article কলাবতী সমগ্র – মতি নন্দী

    Related Articles

    মতি নন্দী

    অপরাজিত আনন্দ – মতি নন্দী

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    কলাবতী সমগ্র – মতি নন্দী

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    মতি নন্দী কিশোর সাহিত্য সমগ্র ১ম খণ্ড

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    ক্রিকেটের রাজাধিরাজ ডন ব্র্যাডম্যান – মতি নন্দী

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    মতি নন্দী উপন্যাস সমগ্র ১ম খণ্ড

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    মতি নন্দী উপন্যাস সমগ্র ২য় খণ্ড

    November 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }