Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মতি নন্দীর গল্পসংগ্রহ

    মতি নন্দী এক পাতা গল্প470 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বৃষ্টিতে

    বৃষ্টিতে

    সত্যেন বাঁড়ুজ্জের বড়োছেলে বাবুলকে কুকুরে কামড়াচ্ছিল, অল্পের জন্য বেঁচে গেছে। সিনেমা দেখে রাত সাড়ে নটা নাগাদ সে বাস থেকে নামে। একটা খালি জমির প্লট কোনাকুনি পেরিয়ে রাস্তায় পড়লেই বাঁদিকে বস্তি আর ডান দিকে বিরাট একটা পাঁচিল-ঘেরা অ্যাপার্টমেন্ট হাউজিং। রাস্তাটাকে দু-ভাগ করে মাঝখানে, প্রায় পঞ্চাশ মিটার পর্যন্ত নানানরকম পাতাবাহার গাছের সারি। এই বস্তিরই কিছু কুকুর রাত ন-টার পর রাস্তাটাকে বিভীষিকায় রূপান্তরিত করে। পদচারী বা সাইকেলে কেউ ওই বস্তির সামনে দিয়ে গেলেই পাঁচ-ছটি কুকুর ঘেউ-ঘেউ রবে ছুটে গোড়ালি পর্যন্ত মুখ নিয়ে আসে। বুদ্ধিমানেরা দাঁড়িয়ে পড়ে, মুখে চু-চু, চুকচুক শব্দ করে ওদের বোঝাবার চেষ্টা করে, আমি ভালো লোক। ওরা তখন কামড়াবার মতো দূরত্বে এসে হিংস্রভাবে দাঁত দেখায়, ঘেউ ঘেউ করে গাছের সারির শেষ পর্যন্ত পায়ে পায়ে চলে। যারা ভীতু তারা চিৎকার করে ওঠে এবং ছুটতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনে। গত তিন মাসে চার জনের হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত নানান জায়গার মাংস খুবলে নিয়েছে ওরা। সঠিক বললে, একটি কুকুরই।

    হ্যাঁ হ্যাঁ, কালুয়াটাই। দেখলেই চিনতে পারবে। ইয়া তাগড়াই, কুচকুচে কালো, শুধু বুকের কাছে সাদা আর দুটো চোখের ঠিক উপরে ব্রাউন দুটো স্পট, মনে হবে একস্ট্রা দুটো চোখ। ওটাই পালের গোদা।

    প্যান্টের তলার দিকে ফালা হয়ে যাওয়া অংশটা সকলের সুবিধার জন্য বাবুল পা তুলে দেখাল। দাঁতের আঁচড়ে জুতোর পিছনেও ছাল ওঠা।

    কী শয়তান কুকুর গো? বাবুলের মা, পুরোনো হাঁপানির রোগী সুপ্রভা আতঙ্কে কেঁপে উঠল। বাবুল তাদের একমাত্র সন্তান। সেদিন অরুণ দত্তকে কামড়ে পায়ের এতটা মাংস ছিঁড়ে নিয়েছে, এখনও ইঞ্জেকশন চলছে। ভদ্রলোকের পায়ের যা অবস্থা শুনছি হাসপাতাল যেতে হবে।

    ভয়ে প্রথমে চেঁচিয়ে উঠেছিলাম। বস্তির পাঠশালার রকে কয়েকটা লোক বসেছিল। তাদের একজন কুকুরগুলোকে ডাকতেই আর আমার দিকে এগোল না! বাবুলের গলা এখনও শুকিয়ে রয়েছে। সন্তর্পণে সে পায়ে হাত বোলাল।

    কিছু-একটা করা দরকার। সত্যেন চিন্তিত স্বরে বলল।

    কর্পোরেশনে খবর তো মদনদের চাকরকে কামড়াবার পরই দেওয়া হয়েছিল, কিছুই হল না। শুনলুম একদিন নাকি কুকুরধরারা এসেছিল। ওদের দেখেই বস্তির লোকেরা কুকুরগুলোকে ঘরে লুকিয়ে ফেলে।

    ওভাবে হবে না, অন্য কিছু ভাবে এই উৎপাত থেকে বাঁচার কথা ভাবতে হবে। সত্যেন বলল বটে কিন্তু কীভাবে বাঁচবে তার হদিস সে জানে না।

    পরদিন অফিসে যাবার সময় সত্যেন কয়েকটি কুকুরকে রাস্তায় দেখল। বস্তিতে ঢোকার সরু রাস্তাটার মুখেই টালির চালের পাঠশালার ঘর। হাত তিনেক চওড়া একটা সিমেন্টের রকের উপর পর্যন্ত চাল নামাননা। স্কুলের একমাত্র দরজায় তালা, দশটার পর খুলবে।

    দুটি কুকুর রাস্তার কিনারে কুণ্ডলী পাকিয়ে। আর একটা বস্তির ভিতর থেকে ছুটে আসছে আর পিছনে বছর দশেকের একটি মেয়ে বাখারি হাতে তাকে তাড়া করছে। কুকুরটা রাস্তায় বেরিয়ে মাঠের দিকে নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে দাঁড়াল। মেয়েটি ব্যর্থ হয়ে, রাগ প্রকাশ করল ঘুমন্ত দুটির উপর। বাখারির আচমকা আঘাতে কিউ শব্দ করে ধড়মড়িয়ে উঠে তারাও মাঠের দিকে সরে গিয়ে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে রইল, আক্রমণকারীর চলে যাওয়ার অপেক্ষায়।

    আশ্চর্য! সত্যেন ভাবল, দিনের বেলায় কুকুরগুলো এমন নিরীহ ভীতু আর রাত্তিরে এরাই কিনা অন্য চেহারা নেয়। মেয়েটিকে অনুসরণ করে তার চোখ গিয়ে পড়ল দূরে পাঠশালার রকে। একটি কালো কুকুর সামনের দুই পা ছড়িয়ে কাত হয়ে শুয়ে। দুই পায়ের মধ্যে মুখটা মেঝেয় রাখা। কান দুটি খাড়া। চোখ খোলা না বন্ধ দূর থেকে বোঝা যাচ্ছে না। বাবুলের বর্ণনা মতোই ঘোর-কালো এবং দুই জাতে ব্রাউন স্পট। দেখলে মনে হয় রেগে রয়েছে। সত্যেন কুকুরের জাতপাত বোঝে না, তবে মুখের গড়ন, কান আর মসৃণ গা দেখে তার মনে হল দোআঁশলা। নিছকই নেড়ি নয়।

    এই তাহলে সেই পালের গোদা, সুপ্রভাকথিত শয়তান যে চার জনের পায়ের মাংস তুলেছে। বস্তির লোকেরা একে কালুয়া নামে ডাকে। কালুয়ার থেকে হাত ছয়েক দূরে কালোয়-সাদায় মেশানো আর একটি লম্বা হয়ে ঘুমোচ্ছে। পেটটা ঝুলে রয়েছে এবং স্তনের সারি। দূর থেকেই বোঝা যায়, বাচ্চা হবে। ওই শয়তান ব্যাটারই কাজ। সত্যেন নিশ্চিত এ সম্পর্কে। মদ্দা আর তো চোখে পড়ছে না।

    এবার সে পাঠশালার কাছাকাছি এবং ইচ্ছে করেই মন্থর হল। মেয়েটি রকে বসল এবং কালুয়ার মাথায় একটা থাপ্পড় মারল। কালুয়া মেঝেয় গড়িয়ে টানটান হয়ে আড়মোড়া ভাঙল। মেয়েটি আবার মারার জন্য হাত তুলেছে, কালুয়াও দু-পা তুলে হাতটা ধরার চেষ্টা করল, আদুরে ভঙ্গিতে।

    এইসব দেখতে দেখতে সে পাঠশালা ছাড়িয়ে মাঠে উঠে বাস স্টপের দিকে এগিয়ে গেল। অফিসে কয়েক জনকে সে গত রাত্রে কুকুরের কামড় থেকে ছেলের বেঁচে যাওয়ার কথা বলল। তাইতে অনেকেই নানাবিধ মন্তব্য করল। বস্তির ভোট, কর্পোরেশন ইলেকশন থেকে শুরু করে কুকুর পোষার উপকারিতা, দিশি ও বিলিতি কুকুরের মধ্যে স্বভাবের পার্থক্য, রাস্তায় প্রকাশ্যে তাদের যৌনবিহারের ফলে কতরকম অসুবিধার সামনে পড়তে হয় ইত্যাকার কথাবার্তা অবশেষে পৌঁছোল কুকুরের সঙ্গে মানুষের যৌন তাড়নার তুলনামূলক বাদানুবাদে।

    কুকুর জানোয়ার হতে পারে, কিন্তু মানুষের মতো বছরে তিনশো পঁয়ষট্টি দিনই গরম হয়। ওদের সিজন আছে, শুধু সিজনেই মেট করে। আর আমরা, মানুষরা? এক যুবক বাঁকা স্বরে কথাটা বলে জামার গলা ঢিলে করে পাখার নীচে বসল। মাস ছয়েক তার বিয়ে হয়েছে।

    এ বিষয়ে বউমা কী বলেন, সেটা না জানা পর্যন্ত আর এসব কথা নয়। কাজে ব্যস্ত হওয়ার ভান করে এক মাঝবয়সি আলোচনা বন্ধ করে দিলেন।

    কিছুক্ষণ পর মোহিত এসে সত্যেনের কাছে দাঁড়াল। পঁচিশ বছর বেয়ারার কাজ করছে। নম্র, বিনীত, অল্পকথার মানুষ। অল্পবয়সি কেরানিরা ওকে মোহিতদা বলে ডাকে।

    বিষ দিয়ে কুকুর মারুন। দু-চারটে মরলেই দেখবেন ঠাণ্ডা, আর কামড়াতে আসবে না। আমার পাড়াতেও কুকুরের উৎপাত ছিল, এখন একদম নেই।

    তুমি মেরে দিলে?

    হ্যাঁ, একসঙ্গে তিনটে।

    বিষ পাব কোথায়?

    আমার শালা ওষুধের ল্যাবরেটরিতে কাজ করে। ওখানকার এক কেমিস্ট তৈরি করে ওকে দিয়েছিল। বললে এনে দিতে পারে।

    কী করে বিষ খাওয়াব?

    কেন, কিছু-একটা খাবারের মধ্যে, সন্দেশ বা কেক বা পাঁউরুটির মধ্যে পুরে ছুড়ে দেবেন। কপাৎ করে খেয়ে নেবে।

    তক্ষুনি মরে যাবে?

    না না, তক্ষুনি কি মরে! সকালে দেখবেন মরে পড়ে আছে।

    এনে দাও তো আমায়। পয়সা লাগবে?

    সে সামান্য দু-পাঁচ টাকা। তবে খুব সাবধান, পাড়ার লোক যেন না জানতে পারে আর নিজেও সাবধান, হাতেটাতে লাগলে তক্ষুনি সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। এতে মানুষও কিন্তু মরে।

    মোহিত চলে যাবার পরই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে সত্যেন ক্রমশ উত্তেজিত হয়ে উঠল। তাহলে এবার শয়তানটাকে শায়েস্তা করার মোক্ষম জিনিস সে পেয়েছে। আর কোনোদিন ওখানকার মানুষ আতঙ্কে চলাফেরা করবে না। বাবুলকে যদি কামড়াতই তা হলে কী অবস্থা ওর হত? যন্ত্রণাকর চোদ্দোটা ইঞ্জেকশন। জলাতঙ্কও হতে পারে, মারাও যেতে পারে। অথচ সে কিছুই করেনি, রাস্তা দিয়ে শুধু হেঁটে যাচ্ছিল। এজন্য চড়াও হয়ে কামড়ে মাংস ছিঁড়ে নেওয়া?… সত্যেন দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিল, বিষ খাইয়ে শয়তানটাকে মারাই উচিত।

    অফিস থেকে ফেরার সময় সে একটি ছাড়া কোনো কুকুরই দেখতে পেল না। বস্তির কিছু মেয়ে-পুরুষ রাস্তার ধারে বসে কথা বলছে। বাতির নীচে হাঁড়ি নিয়ে বসে এক ঘুগনিওয়ালা। রাস্তায় এখন লোক চলাচল খুবই কম। রাত আটটার পর একদমই লোক চলে না, কেননা লোকালয় ক্রমশই পাতলা হয়ে গেছে দু-তিনটি হাউজিংয়ের পরই। ট্যাক্সি বা স্কুটার হয়তো কচিৎ দেখা যায়।

    কালুয়াকে দেখতে না পেয়ে সত্যেনের কিছুটা আশাভঙ্গ হল এবং সেজন্য রেগেও উঠল। শয়তানটা গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছে। ওর চালাকি ভাঙব… দেখব কেমন করে বাঁচে। হঠাই, একটা চ্যালেঞ্জের মতো ব্যাপার হিসাবে এটাকে মনে করে সে উত্তেজিত হয়ে উঠল।

    দূর থেকে দুটি কুকুরকে দুলকি চালে আসতে দেখে সত্যেন থমকে গেল। বস্তির লোকেরা তার কাছাকাছিই। ভয় কাটিয়ে পায়ে পায়ে সে এগোল। কালুয়া আর সেই পেট-ঝোলা মাদিটা। ওরা তার পাশ দিয়েই চলে গেল। সত্যেনের মনে হল, শয়তানটা এক বার যেন তার দিতে তাকাল। শিরশির করা শিরদাঁড়াটা সোজা রেখে সে বাড়ির দরজা পর্যন্ত পৌঁছোল।

    তিন দিন পর মোহিত তাকে একটা মোড়ক দিল দেশলাই বাক্সের মধ্যে। দাম নিল দশ টাকা।

    খুব সাবধানে হাত লাগাবেন কিন্তু।… বড়ো কুকুর হলে এক চিমটেতেই কাজ হবে। মোটামুটি পাঁচ-ছটা মারার মতো মাল এতে আছে।

    বাক্সটা পকেটে রেখে সত্যেন অস্বস্তিতে পড়ল। কীরকম একটা ভয় যেন সে পাচ্ছে। কীভাবে এটা খাওয়াবে? যদি বুঝে ফেলে খেতে না চায় আর তাকে যদি খুনিহিসাবে চিনে রাখে? জানোয়াররা নাকি এসব ব্যাপার ভালো বোঝে আর ওদের স্মৃতিশক্তিও নাকি দারুণ! জামাকাপড়ের বা গায়ের গন্ধ ওরা মনে রাখতে পারে বহুদিন। তা ছাড়া এটা খেয়ে যদি না মরে? হয়তো শুধুই পেটখারাপ হল, বমি করল, তারপর ঠিক হয়ে গেল। তখন তো আরও ডেঞ্জারাস হয়ে উঠবে। তবে মোহিত বাজেকথা বলার লোক নয়, পঁচিশ বছর ধরে ওকে সে দেখছে তো!

    বাস থেকে নেমে মিনিট ছয়েক হেঁটে একটা মোড়ে পাঁচ-ছটি দোকান। সিগারেট-পানের, স্টেশনারির, মিষ্টির, তারপর মুদির দোকান। সত্যেন সস্তার একটা কেক মুদি দোকান থেকে কিনল। কিন্তু আগে বৃষ্টি হয়ে গেছে। মাঠের মাটি ভিজে, রাস্তায় মাঝে মাঝে জল জমে। বস্তির লোকজন কেউ বসে নেই, একটা কুকুরও দেখতে পেল না।

    সে একটু দমে গেল। তার মনে হল, মারতে হলে মনের ভিতরে একটা তীব্রতা না থাকলে কাজটা সম্পন্ন করা যায় না। খুনিরা এজন্যই মদটদ খেয়ে নিজেদের খেপিয়ে নিয়ে কাজে নামে। তবে ঠাণ্ডা মাথায়ও অনেকে খুন করে, স্বদেশিরা করত। ওদের একটা সংকল্প বা উদ্দেশ্য ছিল দেশপ্রেম, দেশকে স্বাধীন করা, অত্যাচার পীড়ন দেখে দেখে আর সয়ে সয়ে মহৎ আদর্শে উদবুদ্ধ হয়ে ওরা মারত, নিজেরাও মরত। সত্যেনের খুড়শ্বশুর ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেটকে খুন করার চেষ্টা করেছিল। ধরা পড়ে ফাঁসিও হয়। তাঁর একটা ছবি শ্বশুরবাড়ির বৈঠকখানার দেয়ালে এখনও ঝোলানো আছে। খুবই মলিন তার কাচ ও ফ্রেম। প্রেরণা পাওয়ার মতো স্বচ্ছ নয়।

    কিন্তু সত্যেন এই মুহূর্তে কুকুর মারার জন্য তীব্র ইচ্ছা অনুভব করছে না। কিন্তু এটা তার খুবই দরকার। সামনের বাড়ির অরুণ দত্তর এক-তলার জানলায় আলো জ্বলছে। সত্যেন বাড়িতে ঢুকে কলিং বেল টিপল। দরজা খুলল ঝি। ভিতরের ঘর থেকে উঁকি দিল অরুণ দত্তর বউ।

    অরুণবাবু আছেন কেমন?

    আজ বিকেলেই নার্সিংহোমে ভরতি হলেন। ধীর কিন্তু উদবিগ্ন স্বরে বলল। পা-টা খুব ভালো ঠেকছিল না। ডাক্তারবাবু সকালে দেখে বললেন, হয়তো অপারেশন করতে হতে পারে।

    সত্যেন অবাক হবার মতো অবস্থায় পৌঁছে গেছে। অপারেশন কেন? পা কেটে বাদ দিতে হবে নাকি? কিন্তু একথা তো ওঁকে জিজ্ঞাসা করা যাবে না, তাহলে আরও ভয় পেয়ে যাবেন।

    কী কান্ড দেখুন তো, এভাবে কুকুর কামড়ে মানুষের কত ক্ষতি করল। কত অর্থব্যয়, কত শারীরিক কষ্ট, আত্মীয়স্বজনদের দুশ্চিন্তা… কিছু-একটা করা দরকার। সত্যেন টের পাচ্ছে। সে উত্তেজনা অনুভব করছে। তা-ই নয়, অবলম্বনরূপে একটা উদ্দেশ্যও পাচ্ছে…কত ক্ষতি, কত কষ্ট! নিজের উদবেগ, সহানুভূতি ও কিছু সান্ত্বনা জানিয়ে সে বাড়ি ফিরে এল।

    বিকেল থেকে সুপ্রভার শ্বাস ওঠায় সে রান্না করতে পারেনি। কোলে বালিশ নিয়ে বিছানায় বসে। বাবুল আটটার আগে অফিস ও আড্ডা থেকে ফেরে না। সত্যেন ভাত ফুটিয়ে, মাছের ঝাল বেঁধে রেখে কলঘরে ঢুকে আলো জ্বেলে দরজা বন্ধ করল।

    উবু হয়ে বসে সন্তর্পণে দেশলাই বাক্সটা খুলে দেখল-পাতলা কাগজে ওষুধের পুরিয়ার মতো ভাঁজ-করা। দু-আঙুলে টিপে বুঝল জিনিসটা পাউডারের মতো। ধীরে ধীরে সাবধানে ভাঁজ খুলে দেখল সাদা গুঁড়ো। গন্ধ শুকতে গিয়েও নাক তুলে নিল। নিশ্বাসের সঙ্গে যদি ভিতরে চলে যায়।

    কেকটা কপাৎ করে খাওয়ার পক্ষে বড়োই, তাই দু-আধখানা করে নিয়েছে। পেরেক দিয়ে খুঁচিয়ে গর্ত করে শক্ত একটা কাগজে খানিকটা বিষের গুঁড়ো তুলে সে-গর্তে রাখল। আঙুলে টিপে টিপে গর্তের মুখ বুজিয়ে ফেলে কেকের টুকরোটা কাগজে মুড়ে নিল। কলঘর থেকে বেরিয়ে আসার আগে শক্ত কাগজটা প্যানের মধ্যে ফেলে সিস্টার্ন টেনে দিয়েছিল। সমস্যা হল দেশলাই বাক্সটা কোথায় লুকিয়ে রাখবে? শোবার ঘরে নয়, রান্নাঘরে তো নয়ই। ভেবেচিন্তে অবশেষে ঠিক করল, পাঞ্জাবির পকেটেই থাকুক, অফিসে তার ড্রয়ারে কাল রেখে দেবে। কেকের বাকি আধখানা, যাতে বিষ নেই, সেটা বাড়িতেই থাকুক পরে কাজে লাগতে পারে। তবে বিষাক্ত টুকরোটা পকেটে রাখল। এটাও সঙ্গে নিয়ে অফিসে যাবে, কাল বাড়ি ফেরার সময়, যদি ভগবান সদয় হন, শয়তানটাকে যদি তিনি এগিয়ে দেন কেকটা গেলাবার জন্য! সত্যেন উত্তেজনায় রাতে ঘুমোতে পারল না।

    পরদিন অফিসে বেরোনোর মুহূর্ত থেকে তার স্নায়ুগুলো টানটান হয়ে উঠল। রক্ত চলাচলের বেগ বেড়ে উঠে শরীরটা ঝিমঝিম করতে লাগল। সারাদিন এই অবস্থায় একটা ঘোরের মধ্যে সে অফিসে কাটাল। কুকুরটার চেহারা, ভাবভঙ্গি অবিরত তার চোখের সামনে ভেসে উঠল। মনে মনে সে মহড়া দিল কীভাবে কেকটা ওকে দেবে। দূর থেকে ছুড়ে না কাছে এলে হাতে নিয়ে অপেক্ষা করবে? হাত থেকে খাওয়ানোটা কি নিরাপদ? যদি টের পেয়ে যায় তাকে মারার ষড়যন্ত্র হয়েছে, কেকে বিষ আছে, তাহলে কামড়ে দিলেও দিতে পারে। জানোয়ারদের অদ্ভুত একটা সিক্সথ সেন্স আছে। হঠাৎ আদিখ্যেতাকে ওরা সন্দেহ করবেই।

    একটু দেরি করে ফেরার জন্য সত্যেন অফিস থেকে বেরিয়ে গঙ্গার দিকে গেল। অনেক দিন পর এই নদী দেখতে তার ভালো লাগল। কৈশোরে আহিরিটোলা ঘাটে সাঁতার কাটার, পাড়ার দুর্গা আর কালী পুজোর ভাসানের কথা তার মনে পড়ল। বাবুঘাটে অনেকক্ষণ বসে তার শরীর ও মন স্নিগ্ধ, ঢিলেঢালা হয়ে গেল। অবশেষে সে বাসে উঠল বাড়ি ফেরার জন্য।

    দূর থেকেই দেখল বস্তির কয়েকটি শিশু রাস্তায় খেলা করছে। কয়েক জন বয়স্কা মেয়েমানুষ বসে গল্প করছে। কুকুর? সত্যেনের চোখ খুঁজে বেড়াল। রাস্তার নিয়ন আলোয় পাতাবাহারিগাছগুলোর নীচে একটা সাদা পুটলির মতো দেখেই তার মাথার মধ্যে রক্ত ছুটে এল। পেয়েছি একটাকে।

    স্বাভাবিক কদমে হাঁটার চেষ্টা করেও তার পা জড়িয়ে আসছে। লক্ষ করল তাকে কেউ দেখছে কি না। শিশুরা ওই দিকটায় যাচ্ছে না দেখে সে আশ্বস্ত হল। পকেটে হাত দিয়ে কেক মোড়া কাগজটার সঙ্গে দেশলাইটাও পেল। আশ্চর্য, এটা ড্রয়ারে রেখে দিতে ভুলে গেছে!

    সেই মাদি কুকুরটা। সত্যেনকে দেখেই মুখ তুলল।

    আয়, আয়, চু-চু।

    উঠে দাঁড়িয়েছে। কাগজের মোড়কটা খোলার সময় হাতটা এমনই কেঁপে গেল যে কেকের টুকরোটা রাস্তায় পড়ে গেল। নীচু হয়ে তুলতে গিয়েও তুলল না। যদি ছুটে এসে কামড়ে দেয়?

    কিন্তু ছুটে এল না, বরং ল্যাজটা নাড়াল। তারপর সত্যেনকে স্তম্ভিত করে সে এগিয়ে এসে কেকের টুকরোটা এঁকেই মুখে তুলে চিবোতে শুরু করল। আর পায়ে পায়ে পিছিয়ে গিয়ে সত্যেন ভীত একটা আর্তনাদ করে প্রায় ছুটেই পালাতে লাগল।

    বাড়িতে ঢুকতেই সুপ্রভার সঙ্গে মুখোমুখি। তার মুখের দিকে তাকিয়ে সুপ্রভা অবাক স্বরে বলল, ভূত দেখেছ নাকি?

    শরীর খারাপের অজুহাত দিয়ে সে শুয়ে পড়ল। রাত্রে খেল না, ঘুমোতেও পারল না। পরদিন অফিস যাবার সময় দেখল রাস্তা প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক। বস্তির ভিতর থেকে ঝগড়ার আর কুকুরের ডাকের আওয়াজ পেল। কোথাও মরা কুকুরের চিহ্নও নেই। বুক থেকে একটা ভার নেমে যাওয়ার স্বস্তি নিয়ে সে অফিস পৌছোল।

    একসময় মোহিতকে ডেকে সে জানিয়ে দিল, তোমার বিষে ভেজাল আছে। যা বলেছিলে সেইভাবেই একটাকে খাইয়েছি কিন্তু মরেনি। সত্যেন ড্রয়ার থেকে দেশলাই বাক্সটা বার করে টেবিলে রাখল। নিয়ে যাও এটা, যে দিয়েছে তাকে বোলো।

    কবে খাইয়েছেন?

    কাল সন্ধ্যার পর। রাস্তা থেকে নিজেই খেল। যতটা বলেছিলে ততটাই দিয়েছিলাম।

    খোঁজ নিয়ে দেখুন মরেছে কি না, তারপর ফেরত নেব।

    বাড়ি ফেরার সময়ও সে দেখল রাস্তা একইরকম। দু-তিনটে কুকুর ঘুরছে, এমনকী শয়তানটাকেও দেখতে পেল গ্রামোফোন রেকর্ডের কুকুরটার মতো বসে আছে বস্তিতে ঢোকার গলিটার কাছে। একটি লোক তার পাশে বসেই ঘুগনি খাচ্ছে। সত্যেন কার কাছে আর খোঁজ নেবে? বাড়িতে কাউকে এসম্পর্কে কিছু বলল না।

    তবে সে শুনল, অরুণ দত্তর পায়ে পচ ধরেছে, খুব সিরিয়াস অবস্থা, পা কেটে-না বাদ দিতে হয়। পরের দিনই শয়তানটা কামড়াল কান্তি ঘোবের ভাইপোকে। বাড়িতে আত্মীয়রা এসেছিল। রাত হয়ে যাওয়ায় তাদের বাসে তুলে দিয়ে সে ফিরছে, তখন তাড়া করে কামড়ায়। তবে বস্তির একজন চেঁচিয়ে ওঠায় কামড়টা ভালোমতো দিতে পারেনি। চারটে সেলাই হয়েছে। শোনামাত্র সত্যেনের মাথা গরম হয়ে গেল।

    কিন্তু সকালে ঠিকে ঝি একটা খবর দিল যেটা অপ্রত্যাশিত।

    একটা কুকুর পরশু থেকে মরে পড়ে আছে হাউজিং-এর পিছনে পাঁচিলের গায়ে। দুর্গন্ধে ওদিককার ফ্ল্যাটের লোক টিকতে পারছে না। কর্পোরেশন আপিসে খবর দিয়েছে, এখনও কেউ আসেনি।

    আর সন্দেহ নেই কোন কুকুরটা। মোহিত খাঁটি মানুষ, ভেজাল জিনিস সে গছাবে না। সত্যেন আবার উত্তেজনার মধ্যে পড়ে গেল। আবার একটা ঘোর তার শরীরে মনে লাগছে। তাহলে বিষটায় কাজ হয়েছে। তাহলে এবার শয়তানটাকে শেষ করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

    বাসি কেকের টুকরোটা শক্ত হয়ে গেছে। আবর্জনার বালতিতে ফেলে দিয়ে সে স্থির করল, অফিসে মোহিতকে দিয়ে একটা কেক কিনে আনিয়ে নেবে। দেশলাই বাক্সটা ড্রয়ারেই রাখা আছে। অফিস ছুটির পর ঘর ফাঁকা হয়ে গেলে তখন জিনিসটা তৈরি করে নেবে। আজই সন্ধের পর যদি সুযোগ মেলে, তাহলে আজই পৃথিবীতে ওর শেষ দিন!

    বিকেল থেকেই মেঘ ঘনিয়ে আসে। দেরিতে ফিরবে বলে সত্যেন ধীরেসুস্থে সময় নিয়ে কেকটা তৈরি করে অফিস থেকে যখন বেরোল তখন প্রথম বার বিদ্যুৎ চমকে উঠল। বাতাসে ঠাণ্ডা ভাব। বাসে ঠাসা ভিড়। বৃষ্টি নামার আগেই সবাই বাড়ি পৌঁছোতে চায়। সত্যেন ঠেলেঠুলে তার বাসে উঠল, তাকেও বৃষ্টির আগে পৌঁছোতে হবে। কিন্তু বাস থেকে নামার আগেই ফোঁটা ফোঁটা পড়ছিল। নামামাত্রই চড়বড়িয়ে বড়ো বড়ো ফোঁটায় শুরু হল। একটা কোনো আশ্রয় নেই যার তলায় দাঁড়ানো যায়। সত্যেন বাড়ির দিকে ছুটল।

    মাঠটা পার হয়েই বুঝল ছোটাটা অর্থহীন। যে বেগে নামছে তাতে ভিজে ঢোল হয়ে যেতে হবে বাড়ি পৌঁছোনোর আগেই। পাঠশালার ঢাকা রকটা দেখে সে দৌড়ে বস্তির গলিতে ঢুকে রকে উঠে পড়ল। আর সেই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ঝলসানির সঙ্গে প্রচন্ড শব্দে মেঘ ডাকল আর জলের ধারা প্রবল তোড়ে নামতে থাকল।

    খুব বেঁচে গেছি। সত্যেন হাঁফ ছাড়ল। আর কয়েক সেকেণ্ড দেরি হলেই চুবিয়ে দিত। কপালের জল মোছার জন্য রুমাল বার করতে গিয়ে কেকের টুকরোটা হাতে ঠেকল। এটার আজ আর দরকার হচ্ছে না। এমন বৃষ্টিতে জানোয়ারও বেরোবে না।

    বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। একই বেগে ঝরছে আর সঙ্গে হাওয়ার ঝাপটা। রাস্তার নিয়ন আলো ছাড়া চারিদিকে আর কোনো আলো নেই। সব বাড়ির জানলা বন্ধ। বিদ্যুৎ চমকানোর সঙ্গে সে দেখতে পাচ্ছে নির্জন গলি। বৃষ্টিটা চাদরের মতো ঝুলে রয়েছে, দমকা বাতাসে চাদরটা নড়ে উঠলেই নিয়ন আলোর কণিকা ঝলমল করে উঠছে। সত্যেন মুগ্ধচোখে তাকিয়ে ছিল।

    হঠাৎ তার শরীর শিরশির করে হাতের নোম খাড়া হয়ে উঠল। কেউ একজন রকে রয়েছে। বিদ্যুৎ চমকাতেই দেখল রকের একপ্রান্তে বসে আছে শয়তান। মুখটা তার দিকেই ফেরানো। সত্যেন থরথর করে উঠল। এক-পা পিছোতেই দেয়ালে পিঠ লেগে গেল।

    কুকুরটা গা ঝাড়া দিল। ধোঁয়ার মতো জলের গুঁড়ো ওর লোম থেকে রাস্তার আলোয় ছিটকে বাষ্পের মতো উঠল। আর সত্যেনের মনে হল একটা অলৌকিক জীব তার সামনে। মুখটা ঘুরিয়ে সত্যেনের দিকে তাকিয়ে। চোখ জ্বলজ্বল করছে।

    আমাকে কি চিনেছে? বুঝে গেছে কি পকেটে ওকে মারার বিষ রয়েছে? ওদের সিক্সথ সেন্স নাকি প্রখর! দৌড়, একদম নয়। তাহলে।

    বৃষ্টির ছাট হাওয়ার দমকায় রকটায় আছড়ে পড়ল। কুকুরটা সরে এল সত্যেনের দিকে। আর সত্যেন পকেটে হাত ঢুকিয়ে কেকটা আঁকড়ে রইল। কুকুরটা আরও সরে এল। ভয়ে একটা কাতরানি তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসতেই কুকুরটা মুখ তুলে তাকাল। অন্ধকারে চোখ দুটো জ্বলজ্বলে দেখাচ্ছে। সত্যেনের মনে হল, যদি দাঁড়িয়ে ওঠে তাহলে গলার কাছে ওর দাঁত পৌঁছোবে শয়তান মুখ তুলে তার গলা পর্যন্ত দূরত্বটা আন্দাজ করছে।

    দুজনের মধ্যে হাত ছয়েকের ফাঁকা জায়গা। সত্যেন এখনও দু-হাত পিছিয়ে যেতে পারে। কিন্তু তাতে কী লাভ, কুকুরটাও তাহলে সরে আসবে। জল উঠতে উঠতে রকের প্রায় সমান সমান। অল্প বৃষ্টিতেই এই অঞ্চলে হাঁটুজল জমে আর এখন তো তোড়ে অন্তত পনেরো মিনিট হচ্ছে।

    হঠাৎ প্রচন্ড ঝলসানি দিয়ে ডান দিকে হাউজিং-এর একটা টিভি অ্যান্টেনায় বাজ পড়ল। সত্যেনের মুখে গরম হলকা লাগল, চোখ বন্ধ করে ফেলে সে ঠকঠক কেঁপে উঠল আর ক্ষীণ আর্তনাদ করে কুকুরটা গুঁড়ি মেরে তার পায়ের কাছে সরে এল। দমকা হাওয়ার সঙ্গে জলের একটা ঝাপটা আসতেই সত্যেন পিছিয়ে যাবার জন্য পা সরাতেই মাড়িয়ে ফেলল কুকুরের পা। তার বুকটা হিম হয়ে গেল কয়েক সেকেণ্ডের জন্য। অবধারিত এইবার দাঁতগুলো বসবে তার গোছের কিংবা হাঁটুর কাছে। একটা মোচড় দিয়ে এক খামচা মাংস তুলে নেবে। দাঁতে দাঁত চেপে, দু-হাত মুঠো করে সে তৈরি। তাকে এবার কামড়াবেই, এই সময় আবার একটা বিদ্যুতের ঝলসানি হতেই সে মা গো বলে দু-হাতে কান ঢাকল এবং দেয়ালের দিকে মুখ ফেরাল। আগেরটার থেকে কিছুটা দূরে এবারের বাজটা পড়ল। কুকুরের কুঁই কুঁই কাতরানি তার কানে এল।

    বিমূঢ়ত্বটা কেটে যেতেই দেখল কুকুরটা তার দু-পায়ের ফাঁকে প্রায় মুখটা গুঁজড়ে। এবার সে সরে যাবার চেষ্টা করল না। তার মনে হচ্ছে, কুকুরটা তাকে আক্রমণ করবে না। আরও মনে হচ্ছে, কুকুরটা ভয় পেয়ে তার কাছ থেকে বোধ হয় ভরসা চাইছে।

    সত্যেনের স্নায়ুগুলো ঢিলে হয়ে গেল। বিরক্ত হল সে নিজের উপর। কেন যে মরতে এই পাঠশালার রকে উঠলাম! নয় একটু ভিজতামই, তবু সোজা বাড়ি চলে গেলেই ভালো হত। এই বৃষ্টি কখন যে থামবে কে জানে। এরপর সে কুকুরটার দিকে ঘাড় নীচু করে তাকাল। এটাই-বা এখানে কেন! বস্তির যেকোনো ঘরেই তো গিয়ে ঢুকতে পারত। নাকি তার মতোই ভেবেছিল, বৃষ্টি তো কিছুক্ষণ বাদেই ধরে যাবে, ততক্ষণ বরং এই রকে আশ্রয় নেওয়া যাক। নীচু জমির বস্তিতে এখন আর দাঁড়াবার মতো ডাঙা থাকা সম্ভব নয়।

    সত্যেন দ্বিধায় পড়ল। বাড়ির দিকে এখনই রওনা হবে না কি আর একটু অপেক্ষা করে দেখবে। চোখ কুঁচকে মুখ তুলে একদৃষ্টে সে বৃষ্টির চাদরের দোলা দেখছে। মেঘ ভেদ করে দপ দপ করল লালচে বিদ্যুৎ। গুম গুম চার-পাঁচটা শব্দ গড়িয়ে গেল আকাশ দিয়ে। ভয় পাওয়ার মতো কিছু তাতে নেই। মেঘটা সরে যাচ্ছে বাজ ফেলতে ফেলতে।

    চমকে পা সরিয়ে নিল সে। কুকুরটা চেটে দিয়েছে।

    অ্যাই, ধ্যাত ধ্যাত। সত্যেন ধমকে উঠল, পা ঠুকল এবং জুতোর ডগা দিয়ে মুখটা সরিয়ে দিল। ব্যাটা ভয় পেয়েছে। এখন তাকে কাছে রাখার জন্যই এইসব চাটাফাটা…শালা শয়তান! সত্যেনের মাথা গরম হয়ে উঠল। মনে থাকে না মানুষকে কামড়াবার সময়? এখন যদি তোকে কেকটা দিই কী হবে? কপাৎ করে তো গিলে ফেলবি! নিজের মনেই সে গজগজ করে চলল। ব্যাটা কুত্তা, এতগুলো মানুষকে কামড়ে মাংস ছিঁড়ে নিয়েছিস, একটা লোক তোর জন্যই পা হারাতে বসেছে! আর শালা শয়তান, তুই কিনা সেই মানুষেরই কাছে কিঁউ কিউ করছিস ভয় পেয়ে?

    ভাগ ব্যাটা। সত্যেন হঠাৎ লাথি কল পাঁজরে। এক-পা পিছিয়ে গেল কুকুরটা, ভীত শব্দ তুলে।

    এইবার যদি তোকে খেতে দিই? সত্যেন পকেট থেকে কাগজে-মোড়া কেকের টুকরো বার করল। তুই তো খাবিই। হ্যাংলার জাত, যা পাবি তাই-ই তো খাস, এটা তো দারুণ জিনিস তোর কাছে। মোড়কটা ভিজে গেছে। কেকের সঙ্গে সেঁটে-যাওয়া কাগজ ছাড়াতে ছাড়াতে সে লক্ষ করল কুকুরটা মুখ তুলে তাকিয়ে লেজটা অল্প অল্প নাড়ছে।

    ধীরে ধীরে কেকসমেত হাতটা সে পকেটে ভরে নিল। শয়তানটা বুঝতে পেরেছে এটা খাবার জিনিস।

    কী রে, খাবি?

    লেজটা জোরে জোরে নেড়ে কুকুরটা ছটফট করে উঠল। কু-কুঁ শব্দ বেরোচ্ছে মুখ থেকে। কোমর থেকে পিছনটা ঘন ঘন নড়ছে। সামনের পা দুটো অধৈর্যে তুলছে আর নামাচ্ছে। এগিয়ে এসে সত্যেনের গা ঘেঁষে মুখটা তুলে ছোট্ট করে তিন বার ডেকে উঠল। পকেট থেকে কেকের টুকরোটা বার করে সে হাতটা উঁচু করে তুলে ধরে রইল। কুকুরটা এবার দ্বিগুণ ছটফটানি শুরু করল।

    এইবার? এইবার?

    কুকুরটা হঠাৎ সামনের পা দুটো সত্যেনের পেটে ঠেকিয়ে পিছনের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে উঠল। তখন সে হাতটা আরও উঁচুতে তুলল।

    কী রে ব্যাটা, মরতে চাস? তোর প্রাণ এখন আমার হাতে, তা কি জানিস?

    বলার পরই সত্যেন অদ্ভুত একটা মজা বোধ করল। প্রাণ এই ছোট্ট শব্দটা ঝনঝন শব্দে তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত বজ্রের মতো গড়িয়ে নেমে গিয়ে আবার উঠে এল। এই কুকুরটারই হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সেদিন যেমন সে ভয় পেয়ে গেছল, অনেকটা সেইরকম একটা আতঙ্ক এখন তাকে যেন ছুঁয়ে যাচ্ছে। ইচ্ছে করলেই এখন সে আবার খুন করতে পারে, কেউ জানবে না, বুঝতে তো পারবেই না। একটা প্রাণ এখন তার হাতে। তারই দয়ার উপর! অদ্ভুত তো?

    বৃষ্টির তেজ কমে এসেছে। ইতিমধ্যে জল রকে উঠে পায়ের গোছ এবং জুতো যে ডুবিয়ে দিয়েছে সে-হুশ তার ছিল না। পেটে নখের অধৈর্য আঁচড় সুড়সুড়ি দেবার মতো লাগছে। সত্যেন কেকের টুকরোটা একটু নামিয়েই আবার তুলে নিল। কুকুরটা কাতরানির মতো শব্দ করে ডেকে উঠল।

    হুঁহুঁ বাব্বা, এটা টপাস করে ফেলব আর কপাৎ করে গিলবি, সেটি হচ্ছে না। ভাগ ভাগ। সত্যেন তালু দিয়ে ওর মুখে সজোরে ধাক্কা দিল। টাল খেয়ে কুকুরটা পা দুটো নামিয়ে নিয়েই চাপা গজরানির মতো শব্দ করল।

    ওসব ফোতো রাগ আমাকে দেখালে এমন লাথ কষাব-না… তোকে বাঁচিয়ে রাখছি আর শালা আমাকেই কিনা… সত্যেন লাথি ছোঁড়ার জন্য পা তুলে টলে পড়ে যাচ্ছিল। দেয়ালটা ধরে নিজেকে সামলাচ্ছে তখন হাত থেকে কেকের টুকরোটা মেঝের জলের উপর পড়ে গেল। নীচু হয়ে সেটা সবে তুলেছে তখনই কুকুরটা ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং কবজির কাছে কামড়ে ধরল। ঝটকা দিয়ে হাতটা সরিয়ে নিতেই কুকুরটা দ্বিতীয় বার আক্রমণ করে বাহু কামড়ে ধরতেই পিছিয়ে যেতে গিয়ে সত্যেন গড়িয়ে রক থেকে জলে পড়ল। কেকের টুকরোটা আবার হাত থেকে মেঝেয় ভাসছে।

    রাস্তার আলোয় যতটুকু দেখা যায়, বাহুটা তুলে ফ্যালফ্যাল করে সে তাকিয়ে। সাদা হাড়ের আভাস যেন দেখা যাচ্ছে। খোদলটা ক্রমশ ভরে উঠছে রক্তে। পাঠশালার রকের উপর জলে পা ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে কুকুরটা মুখ নীচু করে চিবোচ্ছে। সত্যেন ধড়মড়িয়ে উঠে দাঁড়াল। জল হাঁটু ছাড়িয়ে গেছে। পালাবার জন্য নিজেকে টানতে টানতে সে জলের মধ্য দিয়ে রাস্তার দিকে এগিয়ে গেল।

    রাস্তায় হাঁটুর নীচে জল। টলতে টলতে সে এগোচ্ছে। বৃষ্টি প্রায় থেমেই গেছে। নিস্তব্ধ এবং জনশূন্য চারিদিক। সে এক বার পিছন ফিরে তাকাল। পাঠশালার রকে জলবন্দি হয়ে একটা অবয়ব নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে। সত্যেনের চোখ জলে ভরে উঠল। যন্ত্রণা শুরু হয়েছে তার হাতে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমতি নন্দী কিশোর সাহিত্য সমগ্র ১ম খণ্ড
    Next Article কলাবতী সমগ্র – মতি নন্দী

    Related Articles

    মতি নন্দী

    অপরাজিত আনন্দ – মতি নন্দী

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    কলাবতী সমগ্র – মতি নন্দী

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    মতি নন্দী কিশোর সাহিত্য সমগ্র ১ম খণ্ড

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    ক্রিকেটের রাজাধিরাজ ডন ব্র্যাডম্যান – মতি নন্দী

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    মতি নন্দী উপন্যাস সমগ্র ১ম খণ্ড

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    মতি নন্দী উপন্যাস সমগ্র ২য় খণ্ড

    November 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }