Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মতি নন্দীর গল্পসংগ্রহ

    মতি নন্দী এক পাতা গল্প470 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাস্তা

    দীপু, তাের বাবা এখনও আসছে না যে রে। একবার গেটের কাছে গিয়ে দ্যাখ-না।

    মেটারনিটি ওয়ার্ডের গাড়িবারান্দার তলায় তখন একটাই মােটর দাঁড়িয়েছিল। দীপু তার বাম্পারে বসে দেখছিল, উত্তর-পূর্ব কোনার লালবাড়িটার সিঁড়িতে দুটো ছেলে-মেয়ে কথা বলছে। দুজনের হাতেই বুক দেখবার নল। মেয়েটা হেসেই কুটিকুটি। হাসি থামিয়ে সিঁড়িতে উঠছিল। আবার কী শুনে আবার কুটিকুটি। মেয়েটা আটকা পড়ে গেছে। দীপু ভাবল ছেলেটা কি খুব হাসির গল্প জানে, না কি এখনও খিদে পায়নি মেয়েটার!

    অ দীপু।

    বলেছি তাে, অফিস থেকে ছুটি করিয়ে তবে আসবে।

    তােকে একলা পাঠাল কী বলে শুনি? ছেলে-মেয়েগুলাে বাড়িতে এতক্ষণ কী কান্ড করছে কে জানে।

    শিকলি দিয়ে এসেছি।

    তাতে কী হয়েছে, ঘরের জিনিস ভাঙবে। এত বেলা হল ওদের খিদেও তাে পেয়েছে।

    মেয়েটা লালবাড়িতে ঢুকে গেল। সােজা পুবমুখাে রাস্তা ধরে ছেলেটা চলে যাচ্ছে। হাতের নলটা দোলাচ্ছে। দীপু পুব দিকে তাকিয়ে রইল।

    কমলা দেখছে সবুজ শাড়িপরাটিকে। গাড়িবারান্দার নীচে আরও তিনটি বউ বসে। সবাই মাঝবয়সি। শুধু একে দেখেই মনে হচ্ছে প্রথম পােয়াতি। চোখে-মুখে ভয় এখনও কাটেনি। বাচ্চাটাকে পর্যন্ত ভরসা করে কোলে নেয়নি। নাতি কিংবা নাতনিকে কোলে নিয়ে দোলাচ্ছে বুড়িটা।

    খস করে ট্যাক্সিটা থামল। তর সইছে না ছেলেটার। নেমেই তাড়া দিল ওঠার জন্য। হাসপাতালের বুড়াে দারােয়ান ট্যাক্সির দরজা খুলে ধরেছে। বউকে দু-হাতে ধরে তুলল। দু

    পাশে তাকিয়ে বউটা স্বামীর হাত দুটো সরিয়ে দিল।

    বুড়ি ট্যাক্সিতে উঠতে পারছে না। হাতজোড়া বাচ্চা। মাথা নীচু করে বুকলে, খাড়া থাকার মতাে জোর আর কোমরে নেই।

    আপনি ছেলেকে ধরুন-না। উনি উঠলে পর কোলে দেবেন।

    কমলার পরামর্শ শুনল ছেলেটা। দরজা বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল দারােয়ান। একটা টাকা বকশিশ পেল।

    জানলি দীপু, তােকে নিয়ে ওঠবার সময় টাসকির দরজায় মাথা ঠুকে গেছল। খিঁচিয়ে উঠেছিল তাের বাবা। এমন রাগ ধরেছিল তখন, মনে হয়েছিল দিই তােকে ফেলে, যেদিকে দু-চোখ যায় চলে যাই।

    বাবার স্বভাবটা বড়াে বিচ্ছিরি।

    তাের ঠাকমা খুব বকেছিল তার বাবাকে। হ্যাঁ রে, মনে আছে ঠাকমাকে? আমায় খুব ভালবাসত।

    তুমি ট্যাক্সি করে গেছলে!

    এর থেকে বড়াে ছিল টাসকিটা। তাের মেজোমামা, সােনাপিসি সব্বাইকে ধরে গেছল।

    নিতু, অপু, বাচ্চু এরাও ট্যাক্সিতে গেছল?

    শুধু নিতুটা গেছল, আর সব রিসকোয়।

    কমলা তার বাচ্চাকে কোল থেকে হড়ানাে পায়ের উপর শুইয়ে দিল। নাপিত নখ কাটছে ফর্সা বউটার। ওর গায়ে জামা নেই, শরীরেও মাংস নেই। একলা বসে। স্বামী গাড়ি ডাকতে গেছে। নাপিতটা নতুন। মাথায় টিকি। টিকিওলা নাপিত কমলা কখনাে দেখেনি। বার সময়ে ছিল বেঁচে গাট্টাগােট্টা এক নাপিত। পােয়াতিরা খালাস হয়ে যাবার সময় এখানেই নখ কেটে যায়। সে-বার ঝগড়া হয়েছিল। দু-আনার জন্য দীপুর বাপ হাতাহাতি করতে গেছল।

    হ্যাঁ রে দীপু দ্যাখ-না ক-পয়সা নেয়।

    কী হবে দেখে।

    তাহলে এখানেই কেটে নােব।

    দীপু উঠে গেল। একটা রিকশা নিয়ে এল বউটার স্বামী। দারােয়ান গাড়িবারান্দার তলায় রিকশাকে দাঁড়াতে দিল না। বউকে ধরে নিয়ে গেল লােকটা। কোমর ভেঙে গেছে। ধুকতে ধুকতে হাঁটছে। হঠাৎ কাপড়টা আলগা হয়ে পড়ছিল, একহাতে বাচ্চাকে অন্যহাতে কাপড়টা ধরে সে অসহায় চোখে কমলার দিকে তাকাল।

    অ দীপু, ভাইকে একটু ধর তো।

    বাচ্চাকে দীপুর কোলে দিয়ে কমলা গিয়ে বউটাকে কাপড় পরিয়ে দিল। হ্যাঁ করে নিশ্বাস নিচ্ছে। কমলা ধরে নিয়ে গেল রিকশা পর্যন্ত। উঠতে পারছে না। রিকশাগুলাে এমন গড়ানে হয় যে কমজোরি লােক উঠতে গেলেই টলে পড়ে। বাচ্চাকে চেয়ে নিল কমলা। হামাগুড়ি দিয়ে বউটা রিকশায় উঠল। ওর স্বামীও উঠল। কমলা বাচ্চাকে কোলে তুলে দিল।

    আসি দিদি।

    নামবার সময় সাবধানে নেবাে।

    রিকশাটা চলে গেল। আবার একটা ট্যাক্সি এল। হাতআয়নাটা বাস্কেটে রেখে বাচ্চা বউটা উঠে দাঁড়াল। বেশ শক্তসমর্থ গড়ন। কোন ফাঁকে বুকটাকে আঁটসাঁট করে নিয়েছে। বাচ্চাকে স্বামীর কোলে দিয়ে গটগটিয়ে ট্যাক্সিতে উঠল।

    চলে গেল ট্যাক্সিটা। দরজা বন্ধ করে বকশিশ পেল দারােয়ান। এখন গাড়িবারান্দার তলায় বাড়ি যাবার জন্য রইল শুধু কমলা।

    দীপুর কাছ থেকে ছেলেকে কোলে নিয়ে মােটরের ধার ঘেঁষে কমলা মেঝেয় বসল। দীপু বসল বাম্পারে। দারােয়ান বসেছে তার টুলে আর নাপিত সিঁড়িতে। হাসপাতালের ভিতর থেকে টুকটুক করে একটা বেড়াল নেমে এল। সঙ্গে সঙ্গে এক মাঝবয়সি দাই এসে তাকে কোলে তুলে নিয়ে গেল। খিলেনের কার্নিশে দু-তিনটে কাক উঠে এল। অনেক দূরে, গােলাপি বেল্টআটা সাদা কাপড়ের টুপিপরা পাঁচ-ছটি মেয়ে খাতা হাতে চলে গেল। উত্তরের ছাই রঙের বাড়িটার তিন তলার বারান্দায়, টেবিল ঘিরে তাস খেলছে ক-জানে।

    নাপিতটা কত নিল রে?

    আট আনা।

    তাের বাবা ভােলাকে বলে রেখেছে তাে?

    কী জানি। ভােলা তাে বারােটা পর্যন্ত পাড়ায় থাকে। এখন গেলে হয়তাে পাওয়া যাবে।

    দ্যাখ-না একটু, তাের বাবা আসছে কি না।

    দেখলেই কি বাবা তাড়াতাড়ি আসবে?

    দীপু ঝেঁঝে উঠল। বাতাসে হলকা আসছে। বাচ্চাকে আঁচল দিয়ে কমলা ঢেকে দিল। উত্তর-পুবের লালবাড়িটা থেকে তরতরিয়ে দুটি মেয়ে নেমে গেল। দীপু ঘাড় ফিরিয়ে তাকিয়ে রইল। একটু গিয়েই ওরা বেঁকে গেল।

    মা তােমার কাছে পয়সা আছে?

    বারােটা পয়সা আছে। কেন?

    কতক্ষণ বসে থাকব?

    উনি কখন আসেন, কে জানে।

    হেসে উঠল নাপিতটা। আর খদ্দের নেই তবু বসে গল্প করছে। দারােয়ানকে খুশি না রাখলে এখানকার পসার বন্ধ হয়ে যাবে। দীপু উঠে গিয়ে দরজার পাশে টাঙানাে রুগি দেখবার নিয়ম পড়তে শুরু করল। কমলা তাকাল বাগানের দিকে। হাওয়া আসছে, তবু গলগলিয়ে ঘাম নামছে। চমকে উঠে হাত ছড়ল বাচ্চাটা। স্বপ্ন দেখছে। বােধ হয় গতজন্মের কথা ভাবছে। ঠোঁট নড়ছে। হাসছে। না কি খিদে পেয়েছে। মােটরটার দিকে পিছন ফিরে মুখে মাই গুজে দিল কমলা। চনমন করে মুখ সরিয়ে নিল। চোখ বুজেই আছে। বড়ড় আলাে, কচি চোখে সইবে কেন। আঁচল দিয়ে বাচ্চাকে আবার ঢেকে দিল কমলা। আঁচলের নীচে নড়ছে। আঁচল ফাঁক করে দেখল। হাত-পা কুঁকড়ে গুটিয়ে রয়েছে। কালাে ঠোঁট দুটো নড়ছে। কী ছিল ও আগের জন্মে, রাজার ছেলে? গতজন্মের কথা মনে পড়ে হাসছে?

    হ্যাঁ রে দীপু ট্যাসকির ভাড়া বুঝি কম? সবাই যে গেল।

    দীপু সাড়া দিল না। ঘাড় তুলে সে নিয়ম পড়ছে।

    এখান থেকে আমাদের বাড়ি যেতে কত নেবে রে?

    দীপু এবারও সাড়া দিল না। কমলা দীপুর থেকে চোখ সরিয়ে ফড়িংটার ওপর রাখল, ওটা এইমাত্র মােটারের টায়ারে এসে বসেছে; তারপর রাখল বাচ্চার উপর। বাচ্চাকে দু-হাতে দোলাল। বড়ড হালকা। কালাে বেল্টপরা নার্সটি হেসে বলেছিল, কী সুন্দর বেবি। আহা, বড়াে ভালাে মেয়েটি। বলেছিল দেখা করবে।

    কমলা দূরের বারান্দায় তাকাল। একটাও মানুষ নেই। কে থাকবে এই গরমে। তা ছাড়া ওর ডিউটি তাে ওধারে দক্ষিণের বারান্দায়। কালকে এমন সময় দেখা হয়েছিল। কাঁদো কাঁদো মুখ করে ছুটে আসছিল। কে একজন না কি বাড়ি যাবার সময় হাতে আট আনা পয়সা ওঁজে দিয়েছে।

    দীপু একটু নজর করিস তাে, সেই কপালে কাটাদাগ আমাদের নার্সটির যদি দেখতে পাস। আমাকে খুব যত্ন করেছিল।

    তাকে দেখব কী করে, সে তাে ওয়ার্ডে এখন।

    তবু যদি এদিকে এসেটোসে পড়ে। এক জায়গায় বসে তাে আর কাজ করতে হয় না।

    দীপু আগের মতো বাম্পারে বসে গাড়ির পিঠে মাথা রাখল।

    আর গােটা কতুক পয়সা থাকলে বাসে চলে যেতুম।

    কমলা মুখ ফিরিয়ে নিল। পা ছড়িয়ে দিল রােদুরে। সিমেন্ট তেতে উঠেছে। উপুড় হয়ে শুয়ে থাকলে সেঁকের কাজ হয়ে যাবে। ঠেস দিয়ে সে চোখ বুজল।

    এই ওঠো, ওঠো।

    ধড়মড়িয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে দারােয়ান। যার মােটরগাড়ি সে এসে গেছে। উঠে দাঁড়াতে ভুলে গেল দীপু তার দিকে তাকিয়ে।

    লেড়ি ডাক্তার দীপুকে নজর না করেই গাড়িতে উঠে বসল। সেলফ স্টার্টারের বােতাম টিপল। খরখর করে উঠল এঞ্জিন, স্টার্ট হল না।

    গাড়ি ঘেঁষে কমলা বসেছিল। লেডি ডাক্তারের মুখটুকু শুধু দেখতে পাচ্ছিল সে। সুন্দর। কপাল, সুন্দর রং, সুন্দর চুল।

    আবার শব্দ হল স্টার্টারের। বিচ্ছিরি শব্দ। এত সুন্দর গাড়িটা যেন ককাচ্ছে। বার কয়েক এমন হবার পর লেড়ি ডাক্তার গাড়ি থেকে নামল। নীচু হয়ে গাড়ির তলা দিয়ে কমলা শুধু গােড়ালি আর সায়ার লেস দেখতে পেল।

    নাপিত আর দারােয়ান এমন মুখ করে দাঁড়িয়ে যেন গাড়ি স্টার্ট না হবার দোষটুক তাদেরই। দীপু কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়েছিল এতক্ষণ। হঠাৎ মনে হল, তার পা দুটো খুব সরু আর লােম গুলাে বড়ড় ঘন। থুতনিতে বড়াে বড়াে চুল মুখটাকে কুচ্ছিত করে রেখেছে। মােটরের আড়ালে সরে এসে সে গালে হাত বােলাল। আঙুলে একটা ব্রণ ঠেকল।

    গাড়িটা একটু ঠেলে দাওনা।

    বলার ভঙ্গিটা আবদের। স্বরটা ঠিঠিনে। নাপিত আর দারােয়ান সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। গাড়িটা মস্ত। ওরা দুজনেই বুড়াে। জায়গাটা খাড়াই। ওদের পিঠ বেঁকে গেল, পায়ের ডিম শক্ত হল, তবু গাড়িটাকে নড়ানাে গেল না।

    হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছিস কেন, গিয়ে ঠ্যাল-না?

    আমি কেন ঠেলব?

    আহা, মানুষ বিপদে পড়েছে সাহায্য করবি না। একটুখানি ঠেলে দিলেই বুঝি মান-ইজ্জত খােয়া যায়?

    দীপু গিয়ে হাত লাগাল। নড়ে উঠল গাড়িটা। মুগ্ধ কমলা তাকিয়ে রইল দীপুর কনুইয়ের কাছের গুড়িগুড়ি পেশির দিকে। উঁচু দিকটা কাবার হয়, ঢালুতে পড়েই গাড়ির গতি বাড়ল। ঝকা করে ক্লাচ পড়ল। গড়গড়িয়ে উঠল এঞ্জিন। গাড়িটা কিছুটা ছুটে গিয়ে থামল। হাত নেড়ে লেডি ডাক্তার ডাকছে। দারােয়ান আর নাপিত ছুটে গেল। ওদের হাতে কী যেন দিল, বােধ হয় বকশিশশ।

    দীপুর হাঁটুর কাছে নুনছাল উঠে গেছে। ক্লাচ দিতে থমকে যায় গাড়িটা, তখনই মাডগার্ডের ধারটা লেগেছিল।

    সামনের বাগানটা চক্কর দিয়ে গাড়িটা পুব দিকে চলে গেল। কমলা তাকিয়ে রইল ওইদিকে। অল্প অল্প ধোঁয়ার গন্ধ আসছে। বেশ লাগে শুকাতে।

    ওরা পয়সা নিল।

    দিল বুঝি?

    হুঁ।

    ওরা তাে নেবেই।

    আমায় দিলে ছুড়ে ফেলে দিতুম।

    তােকে দিতই না। শিক্ষিত তাে, মানুষ চেনে। কাকে দিতে হয় না হয় বােঝে।

    পয়সাটা দুজনে ভাগাভাগি করে নেবে।

    তা তাে নেবেই।

    আমায় যদি দিতে আসে?

    আসবে না।

    আমি না ঠেললে গাড়ি চলত না।

    নাপিত আর দারােয়ান এতক্ষণ সেইখানে দাঁড়িয়েই কথা বলছিল। নাপিত চলে গেল। দারােয়ান ওদের কাছে এসে দাঁড়াল।

    আপনারা যাবেন কখন?

    এই তাে এক্ষুনি যাব।

    দেরি করলে আরও গরম পড়বে, বাচ্চার কষ্ট হবে। কাল একশো পাঁচ ডিগ্রি হয়েছিল?

    ওরা দুজনেই মুখ ঘুরিয়ে রইল। দারােয়ান টুলে গিয়ে বসল।

    কী বলেছিল আসবে তাে?

    হ্যাঁ, ছুটি করিয়ে চলে আসবে বলেছিল, বােধ হয় কাজের তাড়া পড়েছে।

    জানি, তোকে আর বােঝাতে হবে না। যত কাজ এর আজকেই।

    বােধ হয় ছুটি পায়নি। অফিসে খুব গােলমাল চলছে বলছিল। বারাে জনের চাকরি গেছে, সবাই ভয়ে ভয়ে রয়েছে।

    একটা দিন ছুটি নিলে কি চাকরি যেত?

    উবু হয়ে বসল দীপু। মুখ ফিরিয়ে রয়েছে কমলা। রসালাে লেবু চুষলে অমন হয় ঠোট দুটো। ছেলেমানুষের মতাে দেখতে হয়ে গেছে। দীপু বাচ্চাটার গালে আঙুল ছোঁয়াল। ওকে কনুই দিয়ে ঝটকা দিল কমলা।

    মা, তােমাকে এখন তার মতাে লাগছে কিন্তু।

    উঠে পড়ল কমলা। কাপড়ের পুঁটলিটা এক হাতে নিয়ে গেটের দিকে চলতে শুরু করল। দীপু পিছু নিল।

    কোথায় যাচ্ছ?

    কথা বলল না কমলা। গেটের বাইরে এসে দাঁড়াল সে। এপার-ওধার তাকিয়ে দিশা করতে পারল না কোন দিকে যেতে হবে।

    বাড়ি যাবে না কি?

    হ্যাঁ।

    কী করে যাবে?

    হেঁটে যাব। কোনদিকে যাব বল?

    থুতনি তুলে দীপু উত্তর দিকে দেখাল। হাঁটতে শুরু করে দিল কমলা। পা ফেলছে আর আঙুলগুলাে কুঁকড়ে যাচ্ছে। দীপু চটি থেকে পা বার করে ফুটপাতে রেখেই চমকে তুলে

    ওই বারান্দাটার তলায় দাঁড়াই।

    মাথা নামিয়ে চলছিল কমলা। চলতেই লাগল। ওর হাত ধরে দীপু ছায়ায় টেনে আনল।

    হেঁটে বাড়ি যাওয়া যাবে না।

    এই তাে যাচ্ছি।

    রেগে গেছ বলে কষ্ট লাগছে না। সারা রাস্তা তাে আর রাগতে রাগতে যাওয়া যায় না।

    তবে কী করব?

    ফিরে যাই। হয়তাে বাবা এসে পড়েছে; তাহলে ট্যাক্সিতে যাওয়া যাবে।

    চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল কমলা। রাগ করে চলে আসাটা বােধ হয় ঠিক হয়নি। এমন করে বাড়ি পৌঁছােনাে যায়। যেতে যেতেই পায়ের তলা ঝলসে যাবে। শরীরের ব্যথাও মরেনি, চলতে কষ্ট হয়। এত গরম বাচ্চাটাই-বা সইবে কী করে।

    ওদের দেখে দারােয়ান কাছে এল। দীপুকে লক্ষ করে জিজ্ঞেস করল, গেলে না যে? চুপ করে রইল দীপু! এবার কমলাকে সে জিজ্ঞেস করল, নিতে আসার কথা আছে বুঝি?

    হ্যাঁ।

    দারােয়ান চাবির তােড়া বাজাতে বাজাতে চলে গেল। কোথা থেকে কান্নার শব্দ আসছে। শব্দটা এগিয়ে আসছে। এসে পড়ল। দুই বুড়ি কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। রাস্তা থেকে লরির টায়ার ফাটার শব্দ এল। কাক ডাকছে।

    ব্যাটা দরদ দেখিয়ে গেল।

    কেন?

    আমি না থাকলে ওর বকশিশ জুটত না।

    লােক ডেকে গাড়ি ঠেলত।

    তাদের তাে পয়সা দিতে হত।

    হলকা আসছে। বাপ্পাটা আরও ছােটো হয়ে গেছে যেন। বুকের আরও কাছে কমলা জড়িয়ে ধরল। দীপুর কানের পিছন দিয়ে ঘাম গড়াচ্ছে। আঁচল তুলে মুছিয়ে দিতে গেল, মাথা সরিয়ে নিল দীপু। জামার হাতায় মুছে নিল।

    একটা রিকশা করে চলে যাই চলাে।

    পয়সা?

    তুমি তাে জমিয়ে রাখ।

    কে বলল?

    সেদিন দুপুরে যে বাসনওলাকে ডাকলে?

    সে তাে অমনি ডেকেছিলুম, কিনেছি না কি?

    তাহলে দোতলার বউদির কাছে ধার নিলেই হবে।

    ধার করতে হবে না।

    তা বলে সারাদিন এখানে বসে থাকব না কি?

    তুই অত রেগে উঠছিস কেন? অধৈর্য হাস কেন? দ্যাখ-না উনি হয়তাে এসে পড়বেন।

    আমার খিদে পেয়েছে।

    দীপু প্ৰত এসে ফুটপাথে দাঁড়াল। কমলা আসতেই চটিটা খুলে এগিয়ে দিল।

    কী হবে?

    পরো, নইলে চলবে কী করে?

    তুই?

    ততক্ষণ দীপুর পায়ের চোটো জ্বলতে শুরু করেছে। ছুটে সে গাছের ছায়ায় গিয়ে দাঁড়াল। রাস্তার গাছ। লিকলিকে তার ছায়া।

    দাঁড়িয়ে কেন, হাঁটতে আরম্ভ করাে।

    অবাক হয়ে কমলা ওর কান্ড দেখছিল। চটিপরা অভ্যাস নেই। আঙুল দিয়ে ফিতেটাকে আঁকড়ে থাপথপিয়ে একটু হেঁটেই থেমে গেল। দীপু পায়ে পা ঘষছে। হেসে ফেলল কমলা।

    ধ্যাত, আমি কি এমনভাবে চলতে পারি?

    নইলে দেরি হয়ে যাবে। অপু, নিতুদের এখনও খাওয়া হয়নি।

    গাছের ছায়ায় কমলা এসে পৌঁছােতেই দীপু আবার ছুট লাগাল অনেক দূরে একটা হাইড্রেট লক্ষ করে। দুটো লােক স্নান করছে। জলে পা ভিজিয়ে দীপু দাঁড়াল। কমলা অনেক দূরে। ছেলে কোলে, পুটলি হাতে থপথপিয়ে আসছে। দু-হাতে জল নিয়ে দীপু মাথায় থাপড়ল।

    অ দীপু, অমন করে তুই কত ছুটবি?

    দাঁড়ালে কেন, হাঁটো।

    নিতুটাকে বার্লি দিয়েছিস তাে?

    হ্যাঁ।

    ওরা চৌবাচ্চায় নামবে না তাে?

    না না না, তুমি হাঁটো।

    আবার ছুটল দীপু। এবার একটা রিকশার আড়ালে। রিকশাওয়ালা হুড ফেলে সিটের উপর বসেছিল। কমলাকে তার দিকে তাকিয়ে আসতে দেখে নেমে দাঁড়াল। দীপুও লক্ষ করেছে কমলা রিকশাটার দিকে কেমন কেমন করে তাকাচ্ছে।

    মা, রিকশায় ওঠো।

    ধার করলে তার বাবা রাগ করবে।

    জানবে কী করে?

    তাহলে কার কাছ থেকে নিয়ে ধার শুধবি?

    তবে বাবা এল না কেন? কেন আমায় পয়সা না দিয়ে পাঠাল?

    চিৎকার করল দীপু। চোখে জল এসে গেছে। ঠোঁট কাঁপছে।

    অ দীপু, তুই চুপ কর।

    কেন করব? তােমার জন্যই তাে এই কষ্ট। দারােয়ানটার কাছ থেকে ঠিক ভাগ আদায় করে নিতুম।

    দীপু তুই রিসকায় ওঠ, আমি ধার শােধ করে দেব।

    দীপু রিকশার ছায়া থেকে বেরিয়ে নর্দমায় পা রেখে দাঁড়াল।

    লক্ষ্মীছেলে আমার।

    না।

    দীপু চোখ সরিয়ে নিল। কমলার চোখের থেকে দূরের রাস্তা অনেক ঠাণ্ডা। রিকশাওয়ালা সিটে উঠে বসল। ঘাম গড়াচ্ছে কমলার গাল বেয়ে। ভুরু ভিজে গেছে। চোখ জ্বলছে। ঘাড়ে চোখ ঘষল। চোখ দুটো গর্তে বসে গেছে। শুকনাে বাতাসে চুল উড়ে পড়ল কপালে। ঠোঁট চাটল কমলা। গলার নলিটা তুলতুল করে কাঁপছে।

    এখানে দাঁড়িয়ে থেকে কী হবে, চল ওখানটায় বসি।

    মনােহারী দোকানটার সিঁড়িতে ছায়া। দীপু সিঁড়িতে বসল। কমলা এল না। উঠে এসে দীপু এর হাত ধরে টানল।

    আমি যাব না।

    মাকে দু-হাতে জড়িয়ে দীপু টেনে আনল। দোকানি খবরের কাগজ পড়ছিল। ওদের দেখে নিয়ে আবার পড়তে শুরু করল।

    মা তােমার খিদে পেয়েছে?

    না।

    না কেন, এত বেলা হয়েছে।

    বেলায় খাওয়া আমার অভ্যেস।

    ঘাড় ফিরিয়ে কমলা দোকানের ভিতর তাকাল। সারি সারি বয়ামে বিস্কুট আর টফি।

    তাের খিদে পেয়েছে?

    না।

    বললেই বিশ্বাস করব! সাড়ে নটাতেই ভাত ভাত করে চিৎকার করিস না?

    তােমারও তাে পেয়েছে।

    আমার গা গুলােচ্ছে। খেলে বমি হয়ে যাবে।

    আঁচল থেকে বারােটা পয়সা খুলে নিল। বিস্কুট কিনল দীপু। খেতে খেতে আড়চোখে দেখল কমলা তার খাওয়া দেখছে। দুর্গা প্রতিমার মতাে হাসিটা, মানে বােঝা যায় না। শেষ বিস্কুটটা এগিয়ে দিল দীপু।

    না, তুই খা।

    বাচ্চার বুকের ওপর বিস্কুটটা রাখতেই গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছিল, কমলা ধরে ফেলল। দীপু মুখ ঘুরিয়ে সরে বসল। জিভ দিয়ে মাড়ি পরিষ্কার করে, টাকরায় শব্দ করল।

    কমলা তাকিয়ে আছে রাস্তার দিকে একদৃষ্টে। ফুটপাথে বসন্তের ঘায়ের মতাে দাগ। অনেক দিনের অনেক লােকের হাঁটাচলার জায়গায় জায়গায় দাগগুলাে মিলিয়ে গেছে। দীপুর বাবার মুখের দাগগুলো এখনও মেলায়নি। তখন অনেকেই বলেছিল কচি ডাবের জলে মুখ পুতে, ধােয়নি। এই ফুটপাথের মতাে হয়ে আছে ওর মুখটা। মানুষটাও খ্যাপাটে হয়ে গেছে। খেপলে মুখটা বাটনা বাটা শিলের মতাে হয়ে যায়। একঘেয়ে, রােজকার অভ্যাস। আয় বাড়ছে না, ঘর বাড়ছে না, খাটুনিরও কামাই নেই।

    কেন যে এমন করে। এতে আমার কী দোষ, আমি কী করতে পারি, উঁ?

    ফুটপাথের দিকে শূন্য চোখে তাকিয়ে নিজের মনেই কমলা বলল। বাচ্চার গলায় সুতাের মতাে ময়ল্লা। সাবধানে তুলে ফেলে দিল। মাথায় হাত বােলাল। চুল নেই বললেই হয়। দীপুটারও ছিল না।

    আস্তে আস্তে কমলার শুন্য চোখ ভরাট হয়ে উঠল। হাসল সে।

    তাের বেলায় টাসকি করে এসেছিলুম।

    সেকথা তাে বললে।

    বলেছি না কি! তুই এর থেকেও বড়ােসড়াে হয়েছিলি, বলেছি? হয়েই কী কান্না। এটা কিন্তু একদম কাঁদেনি।

    বাচ্চার ঠোঁট নড়ছে। বােধ হয় খিদে পেয়েছে। কমলা মাই গুঁজে দিল ওর মুখে। দীপু আড়চোখে দোকানির দিকে তাকাল। এইদিকেই তাকিয়েছিল, চোখে চোখ পড়তেই কাগজটা তুলে ধরল।

    তাের ষষ্ঠী পুজোর দিন একটা ধনেখালি ডুরে পেয়েছিলুম। ঠাকুরঝির বিয়েতে খোঁচা লেগে ছিড়ে গেছল। পর্দা করেছিলুম।

    আমাদের পর্দা ছিল!

    জানলায়। ঘন্টুদের বাড়িতে একটা লােক তখন ভাড়া ছিল, খালি তাকাত।

    কমলার খেয়াল হল চটিটা এখনও পড়ে আছে। খুলে ফেলল।

    থাক-না।

    না তুই পর। এটা পরলে কেমন কেমন লাগে। পায়ের পাতায় হাত বোলাল কমলা। আঙুলে হাজা, গােড়ালি ফাটা।

    আমার জন্যই এই কষ্ট না রে?

    তােমার জন্য কেন হবে।

    দীপু মাথা নামিয়ে পায়ের আঙুলের ফাঁকে আঙুল ঘষতে শুরু করল। কমলা মুখ তুলে তাকাল আকাশে। গরমে চোখ পাতা যায় না। তাকাল ফুটপাথে। সেই বসন্তের ঘায়ের মতাে দাগ। বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে বলল, কষ্ট কি আমি ইচ্ছে করে দিই, সংসারে দুখু বাড়ুক তা কি আমি চাই। কিন্তু তার বাবার যে একটুও কান্ডজ্ঞান নেই। বারণ করলে রেগে ওঠে।

    যার কান্ডজ্ঞান নেই তার রাগারও কোনাে মানে নেই। আপিসে বসে মজা দেখছে হয়তাে, আর আমরা এখানে…

    মুখ তুলল কমলা। ছেলের চোখে রাগ, ধমকানি, দুঃখ। ও এখন অন্যরকম হয়ে গেছে। ধক করে উঠল কমলার বুক। ছেলেকে আর এখন চেনা যাচ্ছে না। মস্তবড়াে হয়ে গেছে। বুঝতে শিখেছে, ধমকাতে শিখেছে। কিন্তু ও ধমকাচ্ছে কাকে! আমাকে? আমি কী দোষ করেছি! ইচ্ছে করে কি সংসারে অশান্তি এনেছি? ছেলেটা বাপের স্বভাব পেয়েছে, সবটাতেই রেগে ওঠে। এইটুকু ছেলে রাগে কেন? ওকি সংসারের হালচাল বুঝে ফেলেছে?

    কমলা চুপ করে তাকিয়ে রইল। রাস্তার ওপারে ফুটপাথে ছায়া। খাটিয়ায় একটা লােক শুয়ে। কাঠ কাটছে একটা মেয়েমানুষ। হঠাৎ দমকলের ঘণ্টা বাজল। গাড়িগুলাে রাস্তার কিনার ঘেষে এল। ঝড়ের মতো বেরিয়ে গেল একটা দমকলগাড়ি।

    আহারে! কাদের আবার কপাল পুড়ল।

    যাদেরই পুড়ক-না, তােমার কী?

    ক্ষতি তাে হবে!

    হােক গে, তা ভেবে আমাদের কী হবে, বাড়ি পৌঁছােতে পারব কি?

    ছেলের মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে গেছে। খিদে পেয়েছে। পিচ গলে যাওয়ায় চড়বড় শব্দ হচ্ছে। গাড়ির চাকায়। এখন অনেকখানি পথ হাঁটলে তবে বাড়ি পৌঁছােনাে যাবে। ছেলে মেয়েগুলােকে শিকলি দিয়ে ঘরে আটকে রেখে এসেছে। তাদের খাওয়া হয়নি। গিয়ে উনুন ধরিয়ে বেঁধে খাওয়াতে হবে। ওরা এতক্ষণ কী করছে কে জানে। হুটোপাটি করে ঘরের জিনিস ভেঙেছে। বালিশ নিয়ে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলেছে। নিতুটার ভীষণ লােভ চিনিতে। দেয়ালে পা দিয়ে দিয়ে উঠে হয়তাে শিশিটা সাবড়ে দিয়েছে। বাছুর ঘরকন্নার কাজ খুব পছন্দ। কুজো থেকে জল ঢেলে, জামাটামা কিছু একটা দিয়ে ঘর মুছতে শুরু করেছে। কিন্তু কতক্ষণ ওরা খেলা করবে। খিদে পাবে, চিৎকার করবে, কাঁদবে। ওরা তাে সবসময়ই চ্যাঁচায়। পাশের বাড়ির লােকেরা শুনলে গ্রাহ্যই করবে না। হয়তো তারপর কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে পড়বে। নিতুটা আগে ঘুমােবে। ওর স্বাস্থ্যটাই ভালাে। অপুকে হয়তাে বাছুই ঘুম পাড়িয়ে দেবে। জানলা দিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বাচ্চুটাও ঘুমিয়ে পড়বে একসময়।

    আবার উঠছ কেন?

    আর বসে থাকতে পারছি না রে। আমার কষ্ট হচ্ছে।

    হচ্ছে তাে যাও, আমি উঠতে পারব না।

    তুই অমন করে আর কথা বলিসনি।

    কেন বলব না, কেন পয়সা পর্যন্ত চেয়ে রাখ না?

    আমায় যদি না দেয় কী করতে পারি।

    তুমি একটা বােকা। মান-ইজ্জতটাই তােমার কাছে বড়াে, নইলে দারােয়ানটা পর্যন্ত…

    ফ্যালফ্যাল করে কমলা ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। …ও বলছে আমি বােকা। তাহলে একটু আগে কেন আমায় চটি পরতে দিয়েছিল? ওর নিজের পা পুড়বে তা কি ও জানত না?…

    মুখ ঘুরিয়ে বসে আছে দীপু। কমলার চোখ টলটল করছে। দোকানি টেবিলে থুতনি রেখে রাস্তার দিকে তাকিয়ে। এতক্ষণে একটাও খদ্দের আসেনি।

    রােগা জিরজিরে একটা গােরুকে দুটো লােক টানতে টানতে নিয়ে এল। ইলেকট্রিক পােস্টে বেঁধে লােক দুটো এপার-ওধার তাকাচ্ছে। মুচকি হেসে গেল এক পিয়ােন। খাটিয়ায় শােয়া লােকটা উঠে বসেছে। উরু থাবড়ে চা-ওয়ালাকে ডাকল। সামনের বারান্দায় ঘোমটা দিয়ে এক বউ এসে দাঁড়াল।

    শালা যা গরম পড়ছে! না যায় ঘরে বসে থাকা, না যায় বাইরে বেরােনাে।

    লুঙ্গির কষি আটতে আটতে দোকানি বেরিয়ে এল। গােটা চোখ বুজে জাবর কাটছে।

    উধার দেখাে। গলিকা ভিতর এক ঠো হ্যায়।

    দোকানি হাত তুলে কাছের গলিটা দেখিয়ে দিল। দুটো লােকের একজন সেইদিকে গেল। একটা মাছি বসেছে গােরুটার পিঠে। থরথরিয়ে চামড়া কাঁপাল। উঠে দাঁড়াল দীপু। হনহন কার খানিকটা গিয়ে পিছু ফিরে তাকাল। কমলা সঙ্গে আসেনি।

    কী জন্য দাঁড়িয়ে আছ? চলে আসছ না কেন?

    কাছে এসে কমলা বলল, তুই হঠাৎ এমনভাবে হাঁটতে শুরু করে দিলি যে?

    কথা না বলে দীপু হাঁটতে লাগল। ঘাড়টা নামানাে। হাত দুটো আড়ষ্ট। মুখ দেখে কিছু বােঝা যায় না।

    পা জ্বলছে। জ্বলুক। ওকথা বললেই বিপদ। ছেলে হয়তাে আবার বলবে ছায়ায় দাঁড়াই। তাহলে বাড়ি পৌঁছােনাে যাবে না। কিংবা হয়তাে চটিটা খুলে দেবে। তার চেয়ে এই ভালো। ওকে কষ্টের কথা জানতে না দিলেই হল। এখন অনেক রাস্তা হাঁটতে হবে। দীপু একটু আস্তে চ।

    দীপু দাঁড়াল। কমলা পাশে আসতেই বলল, ওটাকে আমার কাছে দাও।

    না রে বড় নরম, পারবি না।

    খুব পারব।

    বাচ্চাকে দীপুর হাতে তুলে দিল কমলা। আস্তে আস্তে পা ফেলে চলতে লাগল দীপু।

    হ্যাঁ রে, তাের মনে আছে বাচ্চুকে একবার ফেলে দিয়েছিলি?

    জবাব দিল না দীপু। কথা বলতে গেলে রাস্তা দেখে চলা যায় না ঠিকমতাে। ঠোক্কর খেয়ে পড়লে বাচ্চাটা বাঁচবে না।

    ঘ্যানঘ্যান করতিস বােনকে কোলে নেব বলে। একদিন দিলুম কোলে তুলে। ওমমা! দেয়ামাত্তরই যেই দাঁড়াতে গেলি আর টলে পড়ে একশা কান্ড।

    শালা খচরা কোথাকার।

    ইটটাকে লাথি মেরে দীপু ফুটপাথ থেকে রাস্তায় পাঠাল। হাতের পুঁটলিটা দুলিয়ে কমলা একটা খুকির মতাে হাসল। পায়ের তলার জ্বলুনিটা সয়ে এসেছে। রাস্তার সবটাই তাে আর তেতে নেই। মাঝে মাঝে ছায়া আছে, জল আছে, মার্টিও আছে।

    আচ্ছা বল তাে, এখন যদি তাের বাবার সঙ্গে দেখা হয়, কিংবা দারােয়ানটা এসে যদি বকশিশের ভাগ দিয়ে যায়। তাহলে টাসকি করে বাড়ি যাওয়া যায় না রে?

    দীপুর দিকে আড়ে তাকিয়ে কমলা কুট করে বিস্কুট কামড়াল। তারপর আবার খুকির মতাে হাসল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমতি নন্দী কিশোর সাহিত্য সমগ্র ১ম খণ্ড
    Next Article কলাবতী সমগ্র – মতি নন্দী

    Related Articles

    মতি নন্দী

    অপরাজিত আনন্দ – মতি নন্দী

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    কলাবতী সমগ্র – মতি নন্দী

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    মতি নন্দী কিশোর সাহিত্য সমগ্র ১ম খণ্ড

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    ক্রিকেটের রাজাধিরাজ ডন ব্র্যাডম্যান – মতি নন্দী

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    মতি নন্দী উপন্যাস সমগ্র ১ম খণ্ড

    November 12, 2025
    মতি নন্দী

    মতি নন্দী উপন্যাস সমগ্র ২য় খণ্ড

    November 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }