Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মধুরেণ – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    ইন্দ্রনীল সান্যাল এক পাতা গল্প249 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মধুরেণ – ১৭

    ১৭

    ‘ক্যালকাটা ধাবা’র উদ্বোধন হল শনিবার ভোরবেলায়। পুরুতমশাই এসে সত্যনারায়ণ পুজো করল। মিস জোনাকি সিন্নি বানিয়েছিল। মনসাপোতার বউঝিরা লাইন দিয়ে সিন্নি নিয়ে গেল। সকাল আটটার মধ্যে পুজো কমপ্লিট। ধাবা ফাঁকা। তাড়াবার জন্য একটা মাছিও নেই।

    ক্যালকাটা ধাবা নামটা মধুরার মাথা থেকে বেরিয়েছে। কলেজ মোড়ে সুলতানের ধাবার নাম ছিল ক্যালকাটা ধাবা। কোলাঘাটে এসে রান্নার গুরুকে স্মরণ করে এই নামকরণ।

    ধাবার নাম বদল নিয়ে অর্জুন বা পিয়াল কিছু না বললেও গীতা আপত্তি করেছে। সে মধুরার সঙ্গে পারতপক্ষে কথা বলে না। একদিন সটান এসে বলল, “পুরনো নাম বদলে দিয়ে ঠিক করলে? ওই নামেই কাস্টমাররা এই ধাবাকে চিনত।”

    “কোন কাস্টমারদের কথা বলছ? আমি তো ফ্লাইং ছাড়া আর কোনও কাস্টমার দেখিনি। তাদের কাছে ভাইভাই ধাবা আর ক্যালকাটা ধাবার মধ্যে কোনও তফাত নেই।”

    কাউন্টারে বসে সেই মিটিং-এর কথা ভাবছিল মধুরা। পার্টনারশিপ ডিড বানায় সৌমেন। তারপর ধাবা রেনোভেশানের কাজ শুরু হয়। হাতে টাকাপয়সা একদম নেই। জেমস গুপ্তর পরামর্শ মেনে স্থানীয় উপকরণ দিয়ে, কোয়ালিটি মেনটেন করে ধাবা সাজিয়েছে। নজর ছিল ফাংশনালিটির দিকেও। ধাবায় যেমন হয়, খাটিয়া পেতে দিয়েছে সারি সারি। পুরনো চেয়ার টেবিল আছে, তবে সেগুলো অন্যদিকে। ডুঙ্গারের পরামর্শ মেনে ধাবার বাইরে, সবার চোখে পড়ে এমন জায়গায় শৌচালয় বানিয়েছে।

    বাইরের দেওয়ালে ক্যাঁটকেটে লাল রঙে লেখা, ‘মহিলা’ এবং ‘পুরুষ’। ডুঙ্গার চেয়েছিল ‘প্রস্রাবখানা’ লিখতে। মধুরার আপত্তিতে ‘শৌচালয়’ লেখা হয়েছে। শৌচালয়ের ভিতরের দেওয়ালে ‘ক্যালকাটা ধাবা’র লিফলেট সাঁটা।

    মিস জোনাকি লিকার লাইসেন্সের জন্য দৌড়োদৌড়ি করছে, তবে এখনও পাওয়া যায়নি। আপনমনে হাসে মধুরা। পান্‌চের উদ্বোধনের সময় কত কী করেছিল! গাদাগাদা অফিশিয়াল পেপার; কাগজে-টিভিতে-রাস্তায় অ্যাড, ইন্টিরিয়র ডেকরেশান, দামি ক্রকারি আর কাটলারি, ফিউশান মেনু, মকটেল-ককটেল, সেলেব্রিটিকে দিয়ে ইনগরেশান, প্রেসের লোককে স্পেশাল ইনভিটেশান কত্ত কী!

    আর এখন সে বসে রয়েছে সানমাইকা লাগানো টেবিলের পিছনে, কাঠের চেয়ারে। সানমাইকা ভাঙা, চেয়ারের পায়া নড়বড় করছে। রান্নাঘরে সবজি কাটছে মিতা। ময়দা মাখছে গীতা। অর্জুন আজ আর মুড়ি-শিঙাড়া-তেলেভাজা নিয়ে রাস্তায় বসবে না। ধোপদুরস্ত পোশাক পরে হাইওয়েতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যত সরকারি-বেসরকারি বাস বা প্রাইভেট কার যাচ্ছে, তাদের ইশারা করছে, যেন দাঁড়ায়। এখনও পর্যন্ত কেউ দাঁড়ায়নি। কেউ কেউ স্লো হয়েছে। তখন বাস বা গাড়ির জানলা দিয়ে লিফলেট ছুড়ে দিয়েছে। তাতে লেখা…

    সুখবর!

    কোলাঘাটে সুখাদ্যের নতুন ঠেক!

    ক্যালকাটা ধাবা!

    বাঙালি, নর্থ ইন্ডিয়ান, সাউথ ইন্ডিয়ান খাবার পাওয়া যায়।

    চিপ অ্যান্ড বেস্ট।

    টেস্ট দ্য টেস্ট!

    বিস্ময়সূচক চিহ্ন কন্টকিত লিফলেটটি বানিয়ে দিয়েছে কুমার পিয়াল। ক্যালকাটা ধাবা বিষয়ে এই তার একমাত্র কনট্রিবিউশান। সে এক নয়া পয়সা দেয়নি। জানিয়ে দিয়েছে, ভাইভাই ধাবার পুরনো অংশীদারির লাভেই সে খুশি। ক্যালকাটা ধাবার লাভ বা ক্ষতি কোনও কিছুর দায় নেবে না।

    কুমার পিয়ালের এই সিদ্ধান্তে অর্জুনও পিছিয়ে গেছে। একলাখ টাকা ইনভেস্ট করার প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে সে মধুরার নির্দেশ মেনে চলছে। ধাবার নামবদল এবং অল্পবিস্তর ভোলবদলে আপত্তি করেনি।

    মিতা মধুরার নির্দেশ মানলেও গীতাকে নিয়ে চিন্তিত মধুরা। যারা কম কথা বলে, তাদের বিশ্বাস করতে অসুবিধে হয়।

    লন্ডনে কাজ শিখে গ্রামবাংলায় ধাবা খুলে মধুরা ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্সে ভুগছে। সে বুঝে গেছে, জেদের বশে পাগলামি করছে। টাকার শ্রাদ্ধ, সময় আর এনার্জির শ্রাদ্ধ, রিলেশানশিপের শ্রাদ্ধ! লন্ডনের রোজগারের ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট নেই। গাড়ি নেই। বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। বাবামায়ের সঙ্গে যোগাযোগ শুধু ফোনে। অশোক সপ্তাহে একবার ঘন্টাচারেকের জন্য আসে। কিন্তু তারও কাজ আছে। রাতে থাকে না।

    রাতে থাকা সম্ভবও নয়। দোতলায় একটাই বেডরুম। আলাদা কোনও গেস্টরুম নেই। এটা কলকাতা শহর নয় যে কে এল আর কে গেল তার খবর কেউ রাখে না।

    একটা স্টেট বাস এসে দাঁড়াল। আজ শনিবার, দিঘা যাওয়ার ধুম লেগেছে। বাস ভরতি লোক। হুড়মুড় করে বাস থেকে বরবউ, এন্ডিগেন্ডি, বুড়োবুড়ি, বন্ধুর গ্রুপ, ফুত্তি করতে আসা পাড়ার বউদি ও বেপাড়ার দেওর! সারা রাস্তা জল খেয়ে খেয়ে এদের ব্লাডার এখন জয়ঢাক। সব্বাই বাথরুম যাবে। ডুঙ্গার এই সিচুয়েশান আন্দাজ করেই রেস্তোরাঁর বাইরে বাথরুম বানিয়েছে।

    ক্যালোরব্যালোর করে সবাই বাথরুমে ঢুকছে। অর্জুন অক্লান্ত চেঁচিয়ে যাচ্ছে, “লুচি-আলুরদম, কচুরি-ছোলার ডাল, মেচেদার ভেজিটেবিল চপ দেখলে জিভে জল, খেলে চোখে জল। চলে আসুন, চলে আসুন, চলে আসুন।”

    ড্রাইভার আর কন্ডাক্টর ডিসেন্ট প্যালেসে খেতে চলে গেল। কাস্টমাররাও সেখানেই ঢুকল। অর্জুন তেড়ে চেঁচিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একজন কাস্টমারও ঢুকল না। ঠিক হ্যায়, কোই পরোয়া নহি! আবার বাস আসবে! টিম স্পিরিট চাঙ্গা করতে মধুরা বলল, “ও মিতামামি, একটু চা-ফা খাওয়াও!”

    “দিচ্ছি বাবা দিচ্ছি!” ফুশিয়া রঙের শাড়ি পরে মিতা মুখঝামটা দিল। তার ব্লাউজের রং গেরুয়া। শাড়ির পাড়ের রংও গেরুয়া। পান্‌চের কালার কম্বোকে মধুরা ভোলেনি। সে নিজে পরে আছে ফুশিয়া কুর্তি আর গেরুয়া লেগিংস। মিস জোনাকি আর গীতা একই ডিজাইনের শাড়ি পরেছে। অর্জুন আর ডুঙ্গার পরেছে গেরুয়া শার্ট আর কালো প্যান্ট। তাদের কলারে আর পকেটে ফুশিয়ার ছোঁয়া।

    আর একটা বাস এসে দাঁড়াল। বাস থেকে নেমে ড্রাইভার ডিসেন্ট প্যালেসের দিকে পা বাড়াল। অর্জুন দৌড়ে গিয়ে বলল, “একবার আমাদের এখানে পায়ের ধুলো দিন স্যার।!”

    “না না!” হাত দিয়ে মাছি তাড়ায় ড্রাইভার। “তোমাদের খাবার কোয়ালিটি খুব খারাপ। প্যাসেঞ্জার আমাকে ক্যালাবে!”

    “না স্যার! আমরা রেনোভেট করেছি!” হাতজোড় করে বলে অর্জুন।

    “ধুস! তুমি শালা চুল্লু খেয়ে টাল্লি হয়ে থাকো। তোমার কথার কোনও ভরসা নেই।” অর্জুনকে ফুটিয়ে দিয়ে ড্রাইভার হাঁক পাড়ে, “পার্টনার, পাবলিককে নিয়ে জলদি এসো। পেটে ছুঁচোয় ডন মারিতং!”

    কন্ডাক্টর সব প্যাসেঞ্জার নিয়ে ডিসেন্ট প্যালেসে ঢুকে গেল। অর্জুন আড়চোখে মধুরার দিকে দেখল। ডুঙ্গার মধুরার পাশে এসে বসেছে। সে বলল, “ভাইভাই ধাবার ব্র্যান্ড পোজিশানিং খুব স্ট্রং!”

    “তুমি বাজে বোকো না তো!” মিস জোনাকি ধমক দেয়, “একে ব্র্যান্ড পোজিশানিং বলে?”

    “বলেই তো,” মিস জোনাকিকে বোঝায় ডুঙ্গার, “ভাইভাই ধাবা মানে খারাপ ফুড কোয়ালিটি, ভাইভাই ধাবা মানে নোংরা পরিবেশ, ভাইভাই ধাবা মানে খারাপ ব্যবহার, ভাইভাই ধাবা মানে চুল্লুখোর স্টাফ। এই ইমেজ এক দিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ভাইভাই ধাবাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে সবাই। মধুরার সাধ্য কী, এক দিনে তাকে বদলাবে?”

    গীতা ডুঙ্গারের কথা শুনেছে। সে বেসিনে পানের পিক ফেলে বলল, “অনেক তো বয়স হল। এখনও ঢ্যামনামি গেল না? কোথায় সকালে উঠে ভগবানের নাম নেবে! তা না, আমাদের নিন্দে করছে!”

    ডুঙ্গার গীতার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। মিস জোনাকি ডুঙ্গারের পিঠে হাত দিয়ে বলল, “আজেবাজে কিছু বোলো না! প্লিজ!”

    ডুঙ্গার মৃদু হেসে মিস জোনাকিকে বলল, “মুখে যা এসেছে, তা বলা যাবে না।” গীতাকে বলল, “নিজেদের মধ্যে ঝগড়া না করে, চা খান।”

    অ্যালুমিনিয়ামের ট্রেতে মিতা চা নিয়ে এসেছে। মধুরা একটা ভাঁড় তুলে নিল। চায়ে চুমুক দিল মধুরা। ডুঙ্গার মিতাকে মশলা-চা বানানোর কায়দা শিখিয়েছে। সেই চা খেয়ে মধুরার মেজাজটা একটু ইমপ্রুভ করল। দেখা যাক পরের বাস কখন আসে!

    ভাবতে না ভাবতে টুরিস্টে ঠাসা দুটো বাস এসে দাঁড়াল। অর্জুনের সঙ্গে মিস জোনাকিও জয়েন করল কাস্টমারদের ডাকার জন্যে। অর্জুন ড্রাইভারকে বলল, “পার্টনার, একবার এদিকে এসে দেখো! পুরো ঝিঙ্কু ধাবা বানিয়েছি।”

    ড্রাইভার একপলক অর্জুনকে দেখে বলল, “গেল বর্ষায় এখানে টায়ার পামচার হয়েছিল। তুমি আমাদের ঢুকতে পর্যন্ত দাওনি। আমি সব্বাইকে বলে দিয়েছি। তোমার এখানে কেউ আসবে না। তা ছাড়া, তুমি রাতে এখান থেকে বাংলু বিককিরি করো। এই জায়গা ফেমিলি ক্রাউডের জন্য নয়।”

    ড্রাইভার আর কন্ডাক্টর চলে গেল ডিসেন্ট প্যালেসে। সঙ্গে নিয়ে গেল অন্য বাসের কন্ডাক্টর আর ড্রাইভারকে। প্যাসেঞ্জাররা কথোপকথন শুনেছে। তারা এদিকে এলই না।

    মধুরা ঘড়ি দেখল। সকাল মাত্র ন’টা বাজে। উদ্বোধনের পরে একঘন্টাও হয়নি। সে এত উতলা হচ্ছে কেন? শনিবার এলেই বাঙালি দিঘা যায়। আজও যাচ্ছে। আরও অনেক বাস আসবে। ঘাবড়ানোর কিস্‌সু হয়নি।

    দশটা বাজল। এগারোটা। বারোটা। দুপুর থেকে দিঘাগামী বাসের সংখ্যা কমে। বাস আসার ঢল কমল। ক্যালকাটা ধাবায় একজনও কাস্টমার হল না। মধুরা দুপুরের খাওয়া সেরে একঘন্টা রেস্ট নিল। আবার ফিরে এল কাউন্টারে। বিকেল থেকে কলকাতাগামী বাসের সংখ্যা বাড়বে।

    বিকেল, সন্ধে, রাত। একের পর এক বাস আসছে। এইসব বাসে যাত্রীসংখ্যা কম। ট্যুরিস্ট নেই। কেজো লোকেরা বসে রয়েছে। তারা বাথরুম সেরে, একভাঁড় চা খেয়ে বাসে উঠছে।

    রাত আটটা বাজল। বারো ঘন্টায় একজনও কাস্টমার এল না। সকালের সবজি, ময়দার লেচি, মাছ, মাংস ফ্রিজে রেখে দেওয়া হয়েছে। মধুরা আজ পর্যন্ত বাসি জিনিস দিয়ে বানানো খাবার কারও প্লেটে তুলে দেয়নি। কাল বোধহয় সেই কাজটাই করতে হবে।

    অবশ্য যদি কাল কাস্টমার হয়।

    ক্যালকাটা ধাবার বাইরে, অন্ধকারে কয়েকজন ছায়ামূর্তি এসে দাঁড়িয়েছে। অর্জুন এগিয়ে গেল। বাংলু আর চুল্লু বিক্রি শুরু করছে নাকি? মধুরা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়।

    পিছন থেকে হিসহিস করে গীতা বলল, “আমাদের ভাত মেরো না। তুমি শখ মেটাতে এসেছ। দু’দিন বাদে চাঁটিবাটি গুটিয়ে চলে যাবে। আমাদের এখানেই থাকতে হবে।”

    অ্যালুমিনিয়ামের ডেকচিতে মুরগির নাড়িভুঁড়ি দিয়ে চাট বানিয়েছে মিতা। সেটা নিয়ে গীতা গেটের কাছে যাচ্ছে। মধুরা আটকাতে গেল। গীতা মধুরাকে কনুইয়ের এক ধাক্কায় সরিয়ে দিল। অন্ধকারে দাঁড়িয়ে মধুরার মনে পড়ে গেল প্রথম দিনের ভাইভাই ধাবার অভিজ্ঞতা। সেদিন গোটাচারেক কাস্টমার ছিল। বাচ্চাসমেত এক দম্পতি, উমেদ আর পূর্ণিমা, ওদের ডায়ারিয়া হওয়া বাচ্চা…

    উমেদের বলা কথাগুলো মনে পড়ে যায় মধুরার। “বাবা কলকাতা-দিঘা রুটের বাসের পারমিট বার করে দিল। এখন এই রুটে আমার পাঁচটা বাস চলে। তিনটে এসি বাস। আর দুটো এমনি বাস। এইসব সামলে আর দোকান দেখার সময় পাই না।… দিনরাত ড্রাইভার আর কন্ডাক্টর চরিয়ে মুখটা খারাপ হয়ে গেছে…”

    অন্ধকারে দাঁড়িয়ে উমেদের মোবাইল নম্বর ডায়াল করে মধুরা।

    “বলো দি’,” মহিলাকন্ঠ শোনা যায়।

    মধুরা আন্দাজ করল, এটা পূর্ণিমার গলা। এটাও আন্দাজ করল যে উমেদ তার নম্বর মোবাইলে সেভ করে রেখেছে।

    “আমি মধুরা ভৌমিক বলছি। কোলাঘাট থেকে…” যেহেতু উমেদ ফোন ধরেনি, তাই নিজের পরিচয় দেয় মধুরা।

    “আমি জানি দি’। তোমার জন্য বাচ্চাটা বেঁচে গেল। তুমি সেদিন ইলেকট্রিকের জল না খাওয়ালে কী যে হত!”

    মধুরা কাজের কথায় আসে, “উমেদ কোথায়?”

    “আগামীকাল ড্রাইভার কন্ডাক্টর আর তাদের ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরতে যাওয়া হচ্ছে। সেই নিয়ে ইউনিয়নের মিটিং চলছে। মিটিং থেকে এখনও ফেরেনি। মোবাইলটা ভুলে ফেলে গেছে। গাদাগাদা ফোন আসছে। ওকে কী বলতে হবে বলো।”

    মধুরা ইতস্থত করছে। এসব কথা কি পূর্ণিমাকে বলা ঠিক হবে?

    পূর্ণিমা কিছু একটা আন্দাজ করেছে। বলল, “তুমি আমাকে বলতে পারো দি’। আমাকে বললে পাঁচকান হবে না।”

    “পাঁচকান নিয়ে আমি বদার্ড নই। আসলে একটা ঝামেলায় পড়ে ফোনটা করলাম। আমার মনে হল উমেদ প্রবলেমটা সল্‌ভ করতে পারবে…”

    “গাড়ির লাইনের কিছু? তা হলে ও করে দেবে। কিন্তু আগে পবলেমটা বলতে হবে।

    মধুরার মনে হল পূর্ণিমাকে বলা যায়। একে বললে কথাটা উমেদের কানে পৌঁছবে। হয়তো বেশি অভিঘাত নিয়ে পোঁছবে।

    মধুরা বলল, “যেখানে তোমার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল, সেই ধাবাটার আমি এখন মালিক। পুরো মালিক নয়, অংশীদারির ব্যাবসা। মুশকিল হল…”

    মধুরার কথা শেষ হল পনেরো মিনিট পরে। পূর্ণিমা বলল, “অনেক রাত হয়েছে। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।”

    মধুরা বলল, “তুমি উমেদকে খবর দেবে, না আমি পরে ফোন করব?”

    খিলখিলিয়ে হেসে পূর্ণিমা বলে, “আজ আর ফোন কোরো না। ওর ফিরতে রাত হবে। কাল যখন খুশি ফোন করে নিয়ো।”

    “আচ্ছা,” শুভরাত্রি জানিয়ে ফোন কাটে মধুরা।

    ক্যালকাটা ধাবার সামনে এখন অনেক লোকের ভিড়। ধড়াদ্ধড় বিক্রি হচ্ছে চুল্লুর পাউচ। বিক্রি হচ্ছে গীতার এসপেশাল চাট। ক্যালকাটা ধাবা আবার ভাইভাই ধাবায় বদলে যাচ্ছে। কুমার পিয়াল মহলা শেষ করে বাড়ি ফিরছে। তার গলায় গান, “বঁধুয়া আমার চোখে জল এনেছে হায়! বিনা কারণে…”

    মধুরা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। এই জীবন তার প্রাপ্য ছিল? এই জীবন? মনসাপোতা গ্রামের পাইস হোটেলের ক্যাশ কাউন্টারে বসে খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করার জীবন? দুই ধুরন্ধর মামা, দুই বদমাইশ মাইমা, এক আশি বছর পেরোনো হেঁপো রুগি আর এক ষাট বছর পেরোনো ভ্যাম্পের সঙ্গে রাস্তার ধারে বসে লুচি-আলুর দম বিক্রি করা?

    দ্রুত চোখের জল মোছে মধুরা। মনে মনে হিসেব করে কী কী সুযোগ সে ছেড়েছে!

    মেল্টিং পট সিজন ওয়ান শেষ হওয়ার পরে লিজ অফার দিয়েছিল, মেল্টিং পট সিজন টুয়ের ক্রিয়েটিভ কনসালট্যান্ট হিসেবে থাকতে। মধুরা রাজি হয়নি।

    শুভ্র তার সঙ্গে যোগাযোগ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। মধুরা গুরুত্ব দেয়নি। শুভ্র বিয়ে করে নিয়েছে।

    অশোক তাকে বারবার বলছে, বাড়িতে বিয়ের কথা পাড়তে। মধুরা এখনও রাজি হয়নি।

    ডিসপিউটেড প্রপার্টিতে পান্‌চ খোলার ডিসিশান মধুরার। পান্‌চ আর নেই।

    লিজ অফার দিয়েছিল ‘নমস্তের ইন্ডিয়া’তে সঞ্জয় কপুরের কো-হোস্ট হতে। মধুরা সটান ‘না’ বলে দিয়েছে।

    নেহার সঙ্গে যুদ্ধে গোহারান হেরে গিয়ে কোলাঘাটে এসে ধাবা খোলার ডিসিশানও মধুরার।

    কথায় আছে, একটা মাত্র সুযোগ মানুষের জীবন বদলে দেয়। মধুরার সামনে বারবার অজস্র সুযোগ এসেছে, মধুরা সুযোগ ফসকেছে। যা ফল তাই-ই হয়েছে। ভাঙা ক্যাশ কাউন্টারের সামনে বসে খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কোনও অপশন নেই।

    মধুরার কান্না বিনা কারণে নয়। এ পরাজয়ের কান্না। প্যাশানের পিছনে দৌড়োতে গিয়ে ক্রমাগত জীবনের বাকি অপশনগুলোর দরজা বন্ধ করে দিতে দিতে, এক সময় মানুষ বুঝতে পারে এত দৌড়ে সে কোথাও পৌঁছতে পারেনি। এখন ফেরার পথও বন্ধ। পিছনের ব্রিজ সে নিজের হাতে পুড়িয়ে দিয়েছে।

    বাঁধনহারা, একবগ্‌গা দৌড়ের একটা লক্ষ্য থাকে। লক্ষ্যে পৌঁছলে সেই দৌড় সফল। যাত্রাপথের যাবতীয় ডিসিশান তখন ঠিক।

    কিন্তু লক্ষ্যে পোঁছতে না পারলে? সফল না হলে? তখনই শুরু হয় কাটাছেঁড়া। আতসকাচ আর মাইক্রোস্কোপের নীচে ফেলে প্রতিটি পদক্ষেপের বিচার হয়।

    জার্নি ইজ মোর ইম্পর্ট্যান্ট দ্যান দ্য ডেস্টিনেশান। যাত্রাপথটাই গুরুত্বপূর্ণ। গন্তব্যে পৌঁছনোটা নয়। এইরকম একটা কথা বাজারে চালু আছে না? চোখ মুছতে মুছতে মধুরা বুঝতে পারল, কথাটা তৈরি করেছে তার মতো হেরো আর ফেকলু কোনও মানুষ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্পাই মেয়ে – মার্থা ম্যাককেনা
    Next Article শেষ নাহি যে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    Related Articles

    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    অপারেশন ওয়ারিস্তান – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    শেষ নাহি যে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }