Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মধুরেণ – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    ইন্দ্রনীল সান্যাল এক পাতা গল্প249 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মধুরেণ – ১৮

    ১৮

    সকালে মধুরার ঘুম ভাঙল মাথা যন্ত্রণা নিয়ে। পুরো কপাল দপদপ করছে। রগে ব্যথা। মুখের ভিতরটা শুকনো। ঘাড়, পিঠ, কোমরেও অসম্ভব ব্যথা। গা ছ্যাঁকছ্যাঁক করছে। তার মানে জ্বর আসছে। তলপেটেও ব্যথা।

    চোখ খোলার আগে মধুরা ভাবল, বাড়ি গেলে ভাল হত। যাবে নাকি, একবার? ক্যালকাটা ধাবার ভবিষ্যৎ জানা হয়ে গেছে। বাবা-মা’র হাতেপায়ে ধরে ছাদের ঘরটায় এনট্রি পাওয়া যাবে না?

    ধুস! আজেবাজে চিন্তা! চোখ খুলে মধুরা মোবাইল হাতে নেয়। ক’টা বাজে?

    ন’টা? আঁতকে ওঠে মধুরা। কাল সারারাত ঘুম হয়নি। আজেবাজে স্বপ্ন দেখেছে আর এপাশ ওপাশ করেছে। ভোরবেলায় চোখটা জুড়ে এসেছিল। তা বলে ন’টা? কেউ তাকে ডাকল না কেন? ডুঙ্গার আর মিস জোনাকিই বা কোথায়?

    বিছানা ছেড়ে উঠে মধুরা দরজা খুলল। এখান থেকে ক্যালকাটা ধাবার সামনের দিকটা দেখা যায়। মধুরা যা দেখল, তাতে তার মাথা ঘুরে গেল!

    ক্যালকাটা ধাবার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুটো এসি বাস। বাস অনেকক্ষণ আগেই এসেছে। কেননা প্যাসেঞ্জাররা বাথরুমের আশেপাশে ঘুরঘুর করছে না। তা হলে তারা কোথায়?

    পাখির মতো উড়ে ঘর থেকে বেরোয় মধুরা। হরিণের ক্ষিপ্রতায় সিঁড়ি দিয়ে নামে। তার মনে নেই যে সে মুখ ধোয়নি। তার মনে নেই যে সে নাইট ড্রেস পরে রয়েছে। তার মনে নেই যে চুল উসকোখুসকো।

    মাঝসিঁড়িতে দাঁড়িয়ে পড়ে মধুরা। এখান থেকে সে সব দেখতে পাচ্ছে। সব শুনতে পাচ্ছে। সব কিছুর গন্ধ পাচ্ছে।

    মধুরা কী দেখতে পাচ্ছে? দেখতে পাচ্ছে যে অন্তত কুড়িজন লোক ক্যালকাটা ধাবায় ছড়িয়েিছটিয়ে বসে। তাদের মধ্যে পাঁচজন মধুরার চেনা। উমেদ, পূর্ণিমা, ওদের বাচ্চা, নিম্বারাম এবং নারায়ণ বেরা।

    ডুঙ্গার কোণের চেয়ারে বসে মাথা ঝুঁকিয়ে দুটি কমবয়সি কলেজ পড়ুয়ার সঙ্গে কথা বলছে। মিস জোনাকি ক্যাশ কাউন্টারের ডেস্কটপ কম্পিউটারে কী সব করছে। তার পাশে পাঁচজনের এক শিখ পরিবার। অর্জুন আর মিতা টেবিলে সার্ভ করছে। গীতাকে দেখা যাচ্ছে না।

    মধুরা কী শুনতে পাচ্ছে? শুনতে পাচ্ছে, পূর্ণিমা হাত নেড়ে তাকে বলছে, “মাইমাকে বলেছিলাম তোমাকে যেন না ডাকে।”

    উমেদ বলল, “কাল রাতে বাড়ি ফিরতেই ওয়াইফের আবদার, দিঘা যাওয়ার সময় তোমার ধাবায় খানা খাবে। তাই চলে এলাম। পাপাকো সাথ মে লে লিয়া।”

    নিম্বারাম বলল, “নারানদাকো ভি বুলা লিয়া। আমি বুড়ো মানুষ। একা একা দিঘায় গিয়ে বোর হব নাকি?”

    মিস জোনাকি সর্দারনিকে বলছে, “আপনারা পাঁচজন উইদাউট বুকিং দিঘা যাচ্ছেন। উইকেন্ডে দিঘায় সাংঘাতিক রাশ হয়। ইট মে হ্যাপেন, যে আপনারা কোনও হোটেলের কোনও রুম পেলেন না। রাস্তায় রাত কাটাতে হল।”

    “সওয়াল হি নহি হ্যায়!” আপত্তি করে সর্দারনি।

    “তার থেকেও বাজে ব্যাপার হবে, যখন একটা সিঙ্গল রুমে আপনাদের পাঁচজনকে ঢুকিয়ে একরাতের জন্য পাঁচ হাজার টাকা চাইবে। আর আপনারা ঘরে ঢুকে দেখবেন যে মেঝেতে ড্যাম্প, দেওয়ালে ড্যাম্প, বিছানায় ছারপোকা, দেওয়ালে টিকটিকি আর মাকড়সা, টিউবলাইট খারাপ, ফ্যান চলছে না, বাথরুম বাইরে অ্যান্ড দ্যাট টু ইজ ওভার ফ্লোয়িং।”

    “ইইক্‌স!” আঁতকে উঠেছে সর্দারনি। সর্দার বলল, “হোয়াট্‌স দ্য ওয়ে আউট?”

    “উই আর নিউ ইন দিস লোকেশান!” সহজ সরল কনফেশান মিস জোনাকির, “আমাদের দিঘায় চেনাশোনা নেই। বাট ইন্টারনেট মে হেল্‌প। অনলাইনে দিঘার সব হোটেলের খবর থাকবে না। কিন্তু কিছু থাকবে। লেট মি চেক!”

    ডুঙ্গার কলেজ পড়ুয়াদের বলছে, “দেখো ভাইলোগ, হমারে পাস আভি লিকার লাইসেন্স আয়া নহি। হম আপকো বিয়ার নহি সার্ভ কর সকতা হ্যায়!”

    এক ছোকরা বলল, “সার্ভ করনে কে লিয়ে কওন বোলা হ্যায় বাবাজি? আপ দশ টিনা দে দিজিয়ে, ব্যস! অওর কুছ নহি চাহিয়ে!”

    “তুম লোগ পাঁচ আদমি হ্যায় না?”

    “হাঁ বাবাজি!”

    “দশ সে হো জায়েগা?” মুচকি হেসে বলে ডুঙ্গার!

    ছোকরা আনন্দে লাফিয়ে উঠে ডুঙ্গারের গালে চুমু খেয়ে বলে, “বাবাজি কা জয় হো!”

    মিস জোনাকি বলল, “সি মারমেড হোটেল… সমুদ্রের ধারে… সি ফেসিং ডাব্‌ল বেডরুম… বার-কাম-রেস্তোরাঁ… কন্টিনেন্টাল ফুড… নর্থ ইন্ডিয়ান ফুড… হিন্দি ফিল্ম ব্যান্ড… চলবে?”

    “খুব চলেগা দিদি!” সর্দার বেজায় খুশি, “অনলাইন বুকিং হোগা কেয়া?”

    “ফোন নম্বর আছে, আমি দেখছি…” মোবাইল থেকে ফোন করছে মিস জোনাকি। পাকা কথা বলে ইন্টারনেটে রুম বুক করছে। টুয়েন্টি পার্সেন্ট অ্যাডভান্স পেমেন্ট ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে হয়ে গেল। তার রিসিপ্ট চলে এল মিস জোনাকির মেল আইডিতে। শিখ ফ্যামিলি সেটা সংগ্রহ করে খেতে বসল। সর্দারনি বলল, “আমি সোচতেও পারিনি যে কলকাত্তার বাইরে এইরকম ফেসিলিটি পাওয়া যাবে। ইয়ু পিপ্‌ল আর টু গুড! ভওয়ানিপুরকা শিখ বেরাদরি আজ সে ইস ধাবা পে হি আয়েগা!”

    ডুঙ্গার ছোকরাদের বলছে, “ডু ইয়ু নো হোয়াট ইজ সিক্স প্যাক?”

    “হাঁ বাবাজি!” এক ছোকরা টি শার্ট তুলে নিজের পেট দেখাচ্ছে। ডুঙ্গার বলছে, “ট্রু! বাট দিস ইজ অলসো সিক্স প্যাক!” তার হাতে বিয়ার ক্যানের কার্টন বা বাক্স। প্রতিটি বাক্সে ছ’ ক্যান বিয়ার আছে। “মাই সাজেশান ইজ, টেক টুয়েল্ভ ক্যানস। দিঘায় গিয়ে আবার পেয়ে যাবে। দিস ইজ জাস্ট ফর দ্য রোড!”

    “বাবাজি কা জয় হো!” আবার ডুঙ্গারকে ধন্যবাদ দেয় ছেলেরা।

    মধুরা কীসের গন্ধ পাচ্ছে? রান্নাঘর থেকে নির্ভুল ভেসে আসছে ইলিশ মাছ ভাজার গন্ধ। মধুরা সিঁড়ি দিয়ে উড়ে গিয়ে নিজের ঘরে ঢোকে। দাঁত মাজে, মুখে সাবান দেয়, চুল বাঁধে, পোশাক বদলায়! সব মিলিয়ে সময় লাগল দশ মিনিট। এক দৌড়ে নীচে নেমে রান্নাঘরে ঢোকে সে। অনেক দিন বাদে তার আবার রান্না করতে ইচ্ছে করছে!

    গীতা হেঁশেলে নারকেল কুরোচ্ছে। মধুরাকে দেখে বলল, “ঘুম ভাঙল? চা দেব?”

    মধুরা বলল, “এখন চা খাব না। ইলিশমাছ ভাজার গন্ধ পেলাম। কী রাঁধছ?”

    “চা খাবে না কেন?”

    “ইলিশটা আমি রাঁধব। তুমি ভাতটা দেখো।” ভাজা ইলিশ সরিয়ে রেখে চাকা চাকা পিস করা ইলিশ নেয় মধুরা। মাছ ধুয়ে নিয়ে নুন আর আদাবাটা মাখায়। ইলিশের পিস দেখেই মালুম, এটা মেয়ে ইলিশ। মেয়ে ইলিশের পেট চওড়া। ওপর আর নীচটা সরু, কী সেক্স অ্যাপিল! নোনা জলের মাছ ঘোর বর্ষায় স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার কেটে মিষ্টি জলে চলে আসে ডিম পাড়ার জন্যে।

    মধুরা গীতাকে জিজ্ঞাসা করে, “মেনু কী?”

    গীতা বলল, “কাস্টমাররা বলেছে বাঙালি রান্না খাবে। তাই ভাত, আলু পোস্ত, সোনামুগের ডাল, পাবনার নারকেলি ইলিশ আর আনারসের চাটনি…”

    গীতার মুখের কথা কেড়ে মধুরা বলল, “নারকোল দিয়ে ইলিশটা আমি করছি।” গীতা উত্তর না দিয়ে আনারস কাটতে থাকে।

    মধুরার মনে পড়ছে পান্‌চের কথা। এক দেশের রান্নার সঙ্গে অন্য দেশের রান্না, এক দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে অন্য দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল সে। প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বীর আক্রমণে। কিন্তু সেই ভেনচার থেকে একটা বড় শিক্ষা পেয়েছে মধুরা। ফিউশান ফুড আসলে অ্যাকোয়ার্ড টেস্ট। যে মানুষ অনেক দেশে ঘুরেছে, নানান রকমের খাদ্য সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত, তারাই ফিউশন ফুডের ক্লায়েন্ট। ফিউশান ফুডের আবেদন দীক্ষিত ভোজনরসিকের মস্তিষ্কে। আমবাঙালির জন্যে নয়। আমবাঙালি হৃদয় দ্বারা তাড়িত এক জাত। তারা ব্যতিক্রম পছন্দ করে না। তারা নস্ট্যালজিয়ায় বাস করতে ভালবাসে। তারা কমফর্ট ফুড পছন্দ করে। তারা পছন্দ করে মাছ-ভাত।

    তবে তাই হোক! মধুরা এখন থেকে শুধু মাছ-ভাত রাঁধবে। রান্না করা তার জীবনের একমাত্র টারগেট। লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দ্বাদশ ব্যক্তি হয়ে সাইডলাইনে বসে থাকার পাত্রী সে নয়। সে খেলবেই। তার জন্য যদি সারা জীবন মাছ-ভাত রান্না করতে হয়, তাই সই। ধাবা দাঁড়িয়ে যাক, তার পরে খেলার নিয়ম বদলানো যাবে। কবে মাছ-ভাতের মধ্যে মিশে যাবে অক্টোপাস স্যালাড, কেউ জানে না!

    কড়াইতে সাদা তেল ঢালে মধুরা। তেল গরম হচ্ছে। তেল ফুটছে। ম্যারিনেট করা ইলিশ মাছের টুকরোগুলো হালকা সাঁতলে নেয় সে। কড়াতে পেঁয়াজবাটা দেয়। ইলিশ মাছের সঙ্গে খুনসুটি করছে পেঁয়াজ। রং বদলাচ্ছে। সোনালি হয়ে আসছে। এই সোনালি রং হল সিগন্যাল! ওরা খেলার সাথি চাইছে। মধুরা একে একে কড়াইতে দেয় আদা-রসুন বাটা, হলুদ, শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো, সাদা মরিচ গুঁড়ো। প্রাণকাড়া গন্ধে চারিদিক মম করছে! কিন্তু এখনও খেলা শেষ হয়নি। মধুরা পরিমাণমতো নুন, মিষ্টি দিল। কচি ডাবের শাঁস দিল। গুবগুব শব্দে ইলিশ মাছ ফুটছে। জলের রূপালি শস্যের গা ছেঁচে বেরিয়ে আসছে তেল।

    তেল বেরোনো হল দ্বিতীয় সিগন্যাল। এবার এই মিশ্রণে ঢালতে হবে নারকোলের দুধ। তা হলেই পাবনার নারকেলি ইলিশ তৈরি। স্টেনলেস স্টিলের থালার ওপরে গোল করে কাটা কলাপাতা রাখছে গীতা। মিতাও এখন রান্নাঘরে। সে বাটিতে ভাত নিয়ে ধোওয়া কলাপাতার ওপরে চূড়া করে সাজিয়ে দিচ্ছে। এক পাশে রাখছে নুন, লেবু, লঙ্কা। কাঁচা পিঁয়াজের টুকরো। স্টিলের বড় বাটিতে সোনামুগের ডাল ঢালছে গীতা। ছোট বাটিতে আলুপোস্ত দিচ্ছে মিতা। অর্জুন দৌড়ে এসে দুই হাতে দুই থালা নিয়ে বেরোচ্ছে। গীতা আর মিতাও একই কাজ করছে। মধুরাও দু’হাতে দুটো থালা নিয়ে বেরোল। একটা রাখল নিম্বারামের সামনে। অন্যটা, নারায়ণ বেরার সামনে। বলল, “অতিথি হল নারায়ণ! কথাটা এই ভাবে সত্যি হবে কখনও ভাবিনি।”

    বাকি কাস্টমারদের টেবিলেও পৌঁছে গেছে ভাতের থালা, ডাল আর পোস্তর বাটি। পূর্ণিমা হাত নেড়ে মধুরাকে ডেকে বলল, “এই যে, আমার ছেলে!”

    মিস জোনাকির দেওয়া ওআরএস খেয়ে এই বাচ্চাটাই ভাল হয়েছিল। মধুরা বাচ্চাটার গাল টিপে বলল, “কী সুইট বাচ্চা! বাবা আর মা দু’জনের রূপই পেয়েছে।”

    শুনে খুব খুশি হল উমেদ। ডাল দিয়ে ভাত মেখে বলল, “কী আর বলব দি’, আপনার লাক ভাল। কাল হামাদের ইউনিয়নের মিটিং ছিল। হামি সেক্রেটারি, জানেন তো?”

    “জানি না আবার? স্বামীর গর্বে গিন্নি সবসময় মটমট করছে। ফোনে আমাকে সব কথা বলেছে।”

    “যাঃ! তুমি না বড্‌ডো বেশি বাড়াবাড়ি করো।” আড়চোখে পুর্ণিমাকে দেখে হাসে উমেদ, “এই রুটের প্রাইভেট বাসের ড্রাইভার, কন্ডাক্টর আর তাদের ফ্যামিলি নিয়ে দিঘা বেড়াতে আসার প্ল্যানিং হচ্ছিল। হোটেল বুকিং কমপ্লিট। ডিসেন্ট প্যালেসে খাবার প্রোগ্রামও ফিক্সড। বাড়ি ফিরে ওয়াইফের মুখে শুনলাম আপনি ফোন করেছেন। ওয়াইফ বলল, পুরো ট্যুরে কে কোথায় কী করবে, আমি দেখতে যাব না। শুধু যাবার আর ফেরার সময়ে আমরা ডিসেন্ট প্যালেসের বদলে ক্যালকাটা ধাবায় খাব।”

    পূর্ণিমার প্রতি কৃতজ্ঞতায় মধুরার চোখে জল চলে এসেছে। কিন্তু এখন কাঁদার সময় নয়। এখন স্বাদের ফাঁদে কাস্টমার ধরার সময়। এখন পাবনার নারকেলি ইলিশ সার্ভ করার সময়।

    মস্ত ট্রেতে করে ধোঁয়া ওঠা ইলিশের বাটি নিয়ে আসছে অর্জুন আর কুমার পিয়াল। যাত্রার হিরো কখন এসেছে মধুরা খেয়াল করেনি। সে তাড়াতাড়ি অন্য অতিথিদের কাছে গেল।

    শিখ পরিবারটি খুব মন দিয়ে আলুপোস্ত খাচ্ছে। মধুরাকে দেখে সর্দারনি বলল, “হমারে ওঁয়াহা খসখস সে আফিম বনতা হ্যায়। ইস লিয়ে খসখস কা ফার্মিং বন্ধ হো গয়া।”

    “অ্যায়সা বাত নহি হ্যায় ম্যাডামজি!” তালে তাল মেলায় মধুরা, “বঙ্গালমে ভি খসখস ইয়ানে কি পোস্ত সে আফিম বনতা হ্যায়। লেকিন আপ জ্যায়সা লোগ আফিম সে আলুপোস্ত কে নশে জ্যাদা পসন্দ করতে হ্যায়!”

    “সহি বাত!” মধুরার ডিপ্লোম্যাটিক উত্তরে খুশি হয়ে ঘাড় নাড়ে সর্দারজি।

    কলেজ পড়ুয়াদের টেবিলে পৌঁছে গেছে ইলিশ মাছ। সেখানে পৌঁছে বাতাসে বিয়ারের গন্ধ পেল মধুরা। গন্ধ উপেক্ষা করে বলল, “কোন কলেজ?”

    এক ছোকরা কলেজের নাম বলল। মধুরা ভিজিটিং কার্ড বাড়িয়ে বলল, “যদি ক্যালকাটা ধাবার খাবার ভাল লেগে থাকে, তা হলে আমাদের নাম কলেজের বন্ধুদের রেফার কোরো। হোটেল বুকিং না করে এলেও হবে। এখান থেকে আমরা অনলাইনে বুক করে দেব।”

    ছেলেটি কার্ড নিয়ে বলল, “সেসব বলতে হোবে না। বাবাজি আমাদের সোব বলে দিয়েছে। হমরা এখন বাবাজির ফ্যান।”

    আর এক ছেলে বলল, “হমলোগ আভি ইস ধাবা কা নয়া নাম দিয়া। বাবাজিকি গুফা!”

    এদের সঙ্গে ডুঙ্গার পাবলিক রিলেশান সেরে ফেলেছে। মধুরা ড্রাইভার এবং কন্ডাক্টর এবং তাদের ফ্যামিলির দিকে যায়। হাতে আর অল্পই সময়। ইলিশ মাছ শেষ হলেই পাতে পড়বে আনারসের চাটনি। তার আগে কলকাতা থেকে দিঘাগামী প্রাইভেট বাসের ড্রাইভার এবং কন্ডাক্টরদের বউ-বাচ্চাদের ইমপ্রেস করতে হবে। সেটা হয়ে গেলে বাকিটা ছেলেখেলা!

    মধুরা পারল। পরবর্তী পনেরো মিনিটের মধ্যে প্রতিটি বাচ্চার হাতে ধরাল চিপ্‌সের প্যাকেট, কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতল, ট্যাজো এবং ইয়োইয়ো। মোবাইল ক্যামেরায় প্রত্যেকের ছবি তুলল। বউদের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে প্রত্যেকের মোবাইল নম্বর নিল। একটি বউ প্রাইভেট ব্যাঙ্কে রিসেপশনিস্টের কাজ করে। তার মেল আইডি নিল। ড্রাইভার আর কন্ডাক্টরদের কাছে গিয়ে খাবারের কোয়ালিটি নিয়ে আলোচনা করল। এদের ফোন নাম্বার সে নেবে। সরাসরি নয়। বউদের কাছ থেকে।

    খাওয়া শেষ। সর্দার ফ্যামিলি আর কলেজ পড়ুয়াদের দল টাকা মিটিয়ে গাড়িতে উঠে বসল। মধুরা নিম্বারাম আর নারায়ণ বেরাকে বলল, “আপনারা এসেছেন, আমার যে কী আনন্দ হচ্ছে!”

    নারায়ণ বলল, “আচ্ছা মধুরা, তোমার এখানে কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স লাগবে না? চিমনি, ব্লেন্ডার, মিক্সার, ওটিজি, মাইক্রোআভেন…”

    “সব লাগবে দাদা! আপনারা একটু সাহায্য করুন।” নারায়ণের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলে মধুরা, “একটু লোককে বলুন যে ক্যালকাটা ধাবায় রিজনেব্‌ল প্রাইসে, পকেট ফ্রেন্ডলি দামে মুখরোচক খাবার পাওয়া যায়। বলুন যে এখানে ইনফর্মেশান কিয়স্ক থেকে দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর বা শঙ্করপুরের হোটেল বুকিং করা হয়। ট্রেন, গাড়ি বা ট্যুরিস্ট স্পট সংক্রান্ত খবর দেওয়ার জন্য আমরা সার্ভিস চার্জ নিই না।”

    “সামনের মাস থেকে এখান থেকে অফিশিয়ালি লিকার কিনতে পারবেন।” ডুঙ্গার চ্যাঁচাচ্ছে, “আমরা খুব শিগ্‌গিরি একটা বারও খুলছি।”

    নারায়ণ হাসতে হাসতে বলে, “আমি যেই নিজের দোকানের সফ্‌ট মার্কেটিং শুরু করেছি, ওমনি মধুরাও তার ধাবার মার্কেটিং শুরু করেছে।”

    মধুরা বলে, “সফ্‌ট মার্কেটিং বলে কিছু হয় না নারায়ণদা। হয় অল আউট খেলুন। না হলে সাইডলাইনে বসে যান। আমি যেমন এই দাদাদের ওপেন অফার দিচ্ছি।” ড্রাইভার আর কন্ডাক্টরদের দিকে তাকিয়ে বলল মধুরা, “আপনারা এই ধাবার সামনে বাস দাঁড় করান। ক্যালকাটা ধাবায় আপনাদের লাঞ্চ ফ্রি। কলকাতা ফেরার সময়ে পুঁচকিগুলোর জন্য চমৎকার গিফ্‌ট থাকবে।”

    “অত কিছুর দরকার নেই মা।” নিম্বারাম মধুরার মাথায় হাত রেখে বলে, “আসা-যাওয়ার পথে এদের একটু যত্ন করে, একটু ভালবেসে খাইয়ে দিয়ো। ওরা গিফ্‌ট চেনে না। ওরা যত্ন আর ভালবাসা চেনে। রাস্তায় রাস্তায় দিনরাত কেটে যায়। যেখানে আতিথেয়তা পাবে, চেনা মুখ পাবে, ভদ্র ব্যবহার পাবে—ওরা সেখানে ফিরে ফিরে আসবে। কী রে, তাই তো?”

    কেউ কোনও উত্তর দিচ্ছে না। সবাই মৌরি চিবোতে ব্যস্ত। পূর্ণিমা মধুরার কানে কানে বলল, “চিন্তা কোরো না। তোমার মতো অতিথিপরায়ণ মেয়ে যেখানে আছে, সেখানে কাস্টমার হতে বাধ্য।”

    সবাই বাসে উঠছে। পরপর দুটো স্টেট বাস এসে দাঁড়াল। বাস থেকে নামল মধুরার চেনা মুখ। গতকাল এই ড্রাইভারই এখানে ঢুকতে চায়নি। প্যাসেঞ্জারদেরও আসতে দেয়নি।

    মধুরা এগিয়ে গিয়ে বলল, “কাল তো ডিসেন্ট প্যালেসে খেলেন। আজ একবার ক্যালকাটা ধাবায় পায়ের ধুলো দিন।”

    ড্রাইভার মধুরাকে পাত্তা না দিয়ে উমেদকে বলল, “কী বস? এখানে?”

    উমেদ ড্রাইভারকে এককোণে টেনে নিয়ে গিয়ে কথা বলছে। ড্রাইভার ঘাড় নেড়ে আপত্তি করছে। অর্জুনের দিকে আঙুল দেখিয়ে কী সব বলছে। উমেদ তাকে ধমকাচ্ছে। ড্রাইভার অসহায় ভাবে কাঁধ ঝাঁকাচ্ছে।

    উমেদের বাস ছেড়ে দিচ্ছে। বাসে ওঠার আগে উমেদ বলল, “চললাম দি’! ফেরার সময়ে আবার দেখা হবে।”

    হাত নাড়ে মধুরা, “দেখা হবে।” সরকারি বাসের ড্রাইভারকে বলে, “আপনার প্যাসেঞ্জাররা ডিসেন্ট প্যালেসে যাক। আপনি আর আপনার পার্টনার একবার আমার ধাবায় পায়ের ধুলো দিন!”

    “হুম!” সন্তর্পণে ক্যালকাটা ধাবায় পা রাখে ড্রাইভার। পিছু পিছু কন্ডাক্টর। বেশির ভাগ প্যাসেঞ্জার ডিসেন্ট প্যালেসে চলে গেছে। কমবয়সি, মফস্‌সলি এক নবদম্পতি টুকটুক করে এখানে ঢুকেছে। মিস জোনাকি নবদম্পতির দায়িত্ব নিয়েছে। ড্রাইভার আর কন্ডাক্টরকে মধুরা বলে, “আপনারা হাতমুখ ধুয়ে নিন। আমি ভাত আনছি।”

    দু’হাতে ভাতের থালা ব্যালান্স করে ফিরে এসে মধুরা দেখে দুই পার্টনার হাত ধুয়ে রেডি। তাদের সামনে থালা রাখে মধুরা। মিতা নিয়ে এসেছে ডাল আর আলুপোস্তর বাটি। মধুরা রান্নাঘর থেকে বাটিতে করে ইলিশ মাছের পেটি এনে দেখল, ডাল আর পোস্ত দিয়ে ভাত শেষ করে দিয়েছে দুই পার্টনার। ইলিশ মাছের দিকে লোভী চোখে তাকিয়ে রয়েছে।

    টেবিলে বাটি রেখে মধুরা বলল, “ভাল মাছ ওঠা শুরু হয়েছে। এখন ইলিশের টেস্ট ক্রমশ ভাল হবে। কাল পরশু এলে আরও ভাল কোয়ালিটির মাছ খাওয়াব।”

    ড্রাইভার গম্ভীর মুখে ভাত মাখে। জুঁই ফুলের মতো সাদা, ধোঁয়া ওঠা ভাতে মিশে যায় ইলিশের স্বাদ আর গন্ধ, নারকেলের মিষ্টত্ব আর তেলের ঝাঁঝ, শুকনো লঙ্কার ঝাল আর লেবুর অম্লভাব। ড্রাইভার মুখে একগ্রাস ভাত দিয়ে আরামে চোখ বুজে ফেলে। বোঝা যায় তার জিভে স্বাদের বিস্ফোরণ ঘটেছে। চোয়াল নাড়তে নাড়তে সে বলে, “আহ!”

    মধুরা মনে মনে তিনপাক নেচে নেয়। খাবারের এই এক গুণ। শত্রুকেও এক নিমেষে বন্ধু বানিয়ে ফেলে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্পাই মেয়ে – মার্থা ম্যাককেনা
    Next Article শেষ নাহি যে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    Related Articles

    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    অপারেশন ওয়ারিস্তান – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    শেষ নাহি যে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }