Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মধুরেণ – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    ইন্দ্রনীল সান্যাল এক পাতা গল্প249 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মধুরেণ – ৬

    ৬

    দেওয়াল ঘড়িতে ঢং ঢং করে দুটো বাজল। মধুরা নড়েচড়ে বসল। বলল, “এই বাড়িটা আপনার?”

    “হ্যাঁ-ও বলতে পারিস, না-ও বলতে পারিস।” বিয়ার শেষ করে প্রচণ্ড জোরে ঢেকুর তোলে ডুঙ্গার। “অঘোরচন্দ্র শীলের নাম শুনেছিস?”

    ডুঙ্গারের খাটে বাংলা সাহিত্য পত্রিকা ‘পারিজাত’ আর ইংরিজি ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ইভ’এর লেটেস্ট ইস্যু রাখা রয়েছে। ডুঙ্গারের বাংলা উচ্চারণে একবিন্দু জড়তা নেই। বাঙালি আজকাল যেরকম অ্যাংলিসাইজ্‌ড বা হিন্দিসাইজ্‌ড উচ্চারণে কথা বলে, তার তুলনায় ডুঙ্গারের বাংলা একশোগুণ শুদ্ধ।

    “না।” সংক্ষিপ্ত উত্তর মধুরার।

    “অঘোর এই প্রাসাদ বানায়। নাম দেয় শীল ম্যানশন। ঠিকানা, সিক্সটি নাইন লং স্ট্রিট।”

    ডুঙ্গারের কথা শুনে লন্ডনের ঝালমুড়িওয়ালা অ্যাঙ্গাস ডিনুনের কথা মনে পড়ে যায় মধুরার। সেও কলকাতার সব বাড়িকে প্যালেস বলত।

    ডুঙ্গার বলে, “কলকাতা শহরে অঘোরের কুড়িটা বাড়ি ছিল। বিশ্বনাথ হালদার তার থেকে দশটা বাড়ি কিনে নেয়।”

    “বিশ্বনাথ হালদার আবার কে?”

    “যুদ্ধের সময়ে স্ক্র্যাপের ব্যাবসা করে হঠাৎ বড়লোক হওয়া বাঙালি। বিশ্বনাথের ছেলে দশটা বাড়িই বিক্রি করে দেয়। রোজ সন্ধেবেলা বন্ধু আর মোসায়েবদের সঙ্গে সোনাগাছি গিয়ে বিলিতি মদের ফোয়ারা— বাঙালির উৎপাতের ধন কীভাবে চিতপাতে গিয়েছে, জানা আছে নিশ্চয়?”

    “হ্যাঁ,” রাগরাগ গলায় বলে মধুরা। ডুঙ্গারের মুখ থেকে বাঙালির নিন্দে শুনতে ভাল লাগছে না।

    ডুঙ্গার বলে, “ওই বাড়িগুলো কিনে নেয় সুরজমল পারেখ।”

    “সুরজমল…”

    “আমার ওপরদিকের চোদ্দগুষ্টির কেউ হবে। মারওয়াড়িতে একটা কহাবত আছে, ‘যাঁহা না পৌঁছে বয়েল গাড়ি, ওয়াহাঁ পৌঁছে মারওয়াড়ি।’ মানে, যেখানে এখনও গোরুর গাড়ি পৌঁছয়নি, সেখানে আমরা পৌঁছে যাই। সেইভাবেই বিশ্বনাথের কাছে পৌঁছেছিল সুরজমল। বাকি বাড়িগুলোর কী হল জানি না, কিন্তু শীল ম্যানশন পেয়েছিল আমার বাবা গুলাবচাঁদ পারেখ। আমি পেয়েছি বাবার কাছ থেকে।”

    “মালিক বদলাল অথচ বাড়ির নাম চেঞ্জ হল না? আশ্চর্য!”

    “বাড়ির হাতবদল আইনি পথে হয়নি। অঘোরের কাছ থেকে বিশ্বনাথ কিনেছিল কাঁচা টাকার বিনিময়ে। মালিকানা বদলের কোনও ডকুমেন্ট নেই। বিশ্বনাথের কাছ থেকে সুরজমল কিনেছিল কাঁচা টাকা দিয়ে। হাতে লেখা একটা কাগজ আমার কাছে আছে। কোর্টে ওই কাগজের কোনও ভ্যালু নেই।”

    “কর্পোরেশানের কাগজে সিক্সটি নাইন লং স্ট্রিট হোল্ডিং ওনারের নাম ‘শীল’ কেটে ‘পারেখ’ করতে কতক্ষণ লাগবে?” ডুঙ্গারের কুযুক্তিতে বিরক্ত হয়ে বলে মধুরা।

    ডুঙ্গার মুচকি হেসে বলে, “এটা হাইড্রোসিল নয়, অঘোর শীল। কাটার ঝামেলা অনেক বেশি।”

    মধুরা হাসতে গিয়ে গম্ভীর হয়ে যায়। দাদুর বয়সি লোকের মুখে এই জাতীয় রসিকতা শুনতে সে অভ্যস্ত নয়।

    “রাগ করিস না। আমি লোকটা এইরকম।” আবার অক্সিজেনের মাস্ক হাতে নিয়ে ডুঙ্গার বলল, “রান্নাঘরের মেঝেয় একটা থালা রাখা আছে। এনে দিবি?”

    চেয়ার থেকে উঠে মধুরা রান্নাঘরে ঢোকে। গ্যাস আর স্টোভ রয়েছে। একটা পুরনো দামড়া ফ্রিজ চলছে ঘরঘর করে। বাঙালি বাড়ির রান্নাঘরের মতো মেঝেয় বঁটি, শিলনোড়া, পেতলের বাসনের ডাঁই পড়ে রয়েছে। তারই মধ্যে কানাউঁচু পেতলের থালায় পান্তাভাত রয়েছে।

    ডুঙ্গার এখন পান্তা খাবে? মধুরা অবাক। সবজির ঝুড়িতে উঁকি দেয় সে। পেঁয়াজ… আছে। লেবু… আছে। তেল… আছে। ঝটপট কাজ শুরু করে মধুরা। ফ্রিজে উঁকি মেরে দেখে দু’টুকরো মাছের পেটিও রয়েছে! গুড! পেঁয়াজগুলো চাকাচাকা করে কেটে পান্তার থালার কানা বরাবর সাজায়। সবুজ কাঁচালঙ্কা গুঁজে দেয় পেঁয়াজের চাকের মাঝখানে মাঝখানে। বার্নারে কড়া চাপিয়ে সর্ষের তেল ঢেলে প্রশ্ন করে, “তুমি মাছভাজা খাও?”

    “গু খাই না গন্ধ বলে, লোহা খাই না শক্ত বলে।” চেঁচিয়ে উত্তর দেয় ডুঙ্গার। ভুরু কুঁচকোয় মধুরা। লোকটা খুব ইন্টারেস্টিং, কিন্তু থেকে থেকেই ভালগার কথা বলাটা মধুরা জাস্ট নিতে পারছে না।

    তেল ফুটছে টগবগ করে। মাছের পেটিতে নুনহলুদ মাখিয়ে ফুটন্ত তেলে ছেড়ে দেয় মধুরা। মাছভাজার গন্ধে জিভে জল আসে। আজকে দুপুরে একজনকে ভাল করে খাওয়াবে, এই ভেবে মন খুশিতে ভরে ওঠে।

    কড়কড়ে মাছভাজা পাত্রে সাজিয়ে সে আবার ডুঙ্গারের ঘরে ঢোকে। টেবিল থেকে বিয়ারের বোতল সরিয়ে পেতলের কানা উঁচু থালা রাখে। ডুঙ্গার চেয়ারে মাথা রেখে ঢুলছিল। হঠাৎ নাক টেনে সোজা হয়ে বসে, মাস্ক খুলে বলল, “মাছভাজা?”

    “হুঁ। খেয়ে বলো কেমন হয়েছে।”

    আবার প্রচণ্ড জোরে ঢেকুর তুলে থালা টেনে নেয় ডুঙ্গার। এক খাবলা পান্তা খায়। পেঁয়াজে কামড় দেয়। কচকচ করে লঙ্কা চিবিয়ে বলে, “মেল্টিং পট, সিজ্‌ন টু থেকে আউট। এখন কী প্ল্যান?”

    মধুরা ক্রমশ এই প্রসঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। মাথা নিচু করে বলল, “ফুড রিলেটেড কিছু করব।”

    পান্তার ওপরে লেবু কচলে ডুঙ্গার বলল, “কিছু মানে কী?”

    “ভাবছি একটা রেস্তোরাঁ খুলব। আসলে রান্না করতে আর লোককে খাওয়াতে আমার খুব ভাল লাগে। হ্যাঁগো, মাছভাজাটা কেমন হয়েছে?”

    “ভাল হয়েছে,” পান্তাভাত শেষ করে, পান্তার জলটুকু চুমুক দিয়ে খেয়ে ডুঙ্গার বলে, “রান্না করতে পারা আর রেস্তোরাঁ খোলার মধ্যে অনেক তফাত। একটা আর্ট, অন্যটা কমার্স।”

    “রান্না করা আর কুকারি শো হোস্ট করার মধ্যেও অনেক তফাত। দুটোই যখন ঠিকঠাক উতরে দিলাম, তখন এটা পারব না কেন?”

    “বোকা মেয়ে। রান্নাঘরে ফেইল করলে কিছু যাবে আসবে না। ওটা হোমফ্রন্ট। কুকারি শো হোস্ট করাটা চাকরি। মাসমাইনের বিনিময়ে দিনে দশ থেকে বারো ঘন্টার কাজ। বাকি সময় তোর নিজের। ফেইল করলে তোকে তাড়িয়ে দেবে। তুই আর একটা চাকরি পাবি। কিন্তু রেস্তোরাঁ চালানো মানে ব্যাবসা করা। তোর ইনভেস্টমেন্ট, তোর শ্রম, তোর মেধা, তোর সব কিছু। তুই নিজেই নিজের মালিক। তখন চব্বিশ ঘন্টাই কাজ। যখন শুধু রান্না করতিস, তখন রান্নার কোয়ালিটি-ই একমাত্র বিবেচ্য ছিল। ভাবতিস, লোকে খেয়ে ভাল বলবে তো? যখন কুকারি শো হোস্ট করতিস, তখন নিজের লুক, ক্যামেরা অ্যাঙ্গল, ডায়ালগ ডেলিভারি, লাইট নেওয়া— এই নিয়ে ভাবতিস। রেস্তোরাঁ খুলতে চাইলে তোকে অন্তত সতেরো রকমের লাইসেন্স জোগাড় করতে হবে। লোকেশান নিয়ে ভাবতে হবে, ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে ভাবতে হবে, স্টাফ অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে ভাবতে হবে। রেস্তোরাঁর অ্যাড, ইন্টিরিয়র ডেকরেশান, মেনু সিলেকশান, কাটলারি-ক্রকারি নিয়ে ভাবতে হবে। স্টাফেদের ইউনিফর্ম, মাইনে, ইউনিয়নবাজি, ইনক্রিমেন্ট-গ্র্যাচুইটি-পেনশান নিয়ে ভাবতে হবে। কাস্টমারদের টেস্ট নিয়ে ভাবতে হবে। এবং এত কিছু করার পরেও এটা টলারেট করতে হবে যে দিনের পর দিন কাস্টমার আসবে না। ওভারহেড এক্সপেনডিচারের জন্য ক্যাপিটালে হাত পড়বে। ইএমআই, ইলেকট্রিক বিল, স্টাফেদের মাইনে দিতে গিয়ে আস্তে আস্তে ফতুর হয়ে যেতে হবে। এরপরেও রেস্তোরাঁ খুলবি? বাঙালি মেয়ের সেই কলজের জোর আছে?”

    পান্তাভাতের থালা তুলে রান্নাঘরের দিকে যেতে যেতে মধুরা বলে, “দুটো জিনিস আমায় ভাবাচ্ছে। একনম্বর হল লোকেশান। দু’নম্বর, সতেরো রকমের লাইসেন্স।”

    “বাকিগুলো?” চিৎকার করে জানতে চায় ডুঙ্গার। বিয়ার আর পান্তার ককটেলে তার গলা জড়িয়ে গেছে।

    “ওই লম্বা লিস্ট বলে তুমি আমাকে ভয় দেখাতে পারোনি। কোথাও তো একটা শুরু করতেই হয়। ইংরিজিতে কী একটা কথা আছে। এভরি জার্নি স্টার্টস উইথ ফার্স্ট স্টেপ…”

    “ওটা কনফুসিয়াসের কথা। এভরি জার্নি স্টার্টস উইথ এ সিঙ্গল স্টেপ।”

    “কনফিউস… সেটা আবার কে?”

    “সত্যি মাইরি! দেশের কী অবস্থা! একজন বাঙালি কনফুসিয়াসের নাম জানে না। বলছে, ব্যাবসা করব। আর একজন মারওয়াড়ির টাকা নেই। তাও সে বাড়িতে ‘পারিজাত’ রাখছে আর দুপুরে বিয়ার খেয়ে ঘুমোচ্ছে।”

    “আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে। তুমি দুটো প্রশ্নের উত্তর দাও। একনম্বর, সুলতানদা মারা যাওয়ার আগে কেন লিখে গিয়েছিল, কলকাতায় ফিরে আমি যেন তোমার সঙ্গে দেখা করি?”

    মধুরার প্রশ্নে ডুঙ্গার সিরিয়াস হল। অক্সিজেনের মুখোশ পরে কিছুক্ষণ শ্বাস নিল। মুখোশ রেখে বলল, “ট্যালেন্ট স্পটারদের কাজ হল ট্যালেন্ট খুঁজে বার করা। আমি সুলতানকে স্পট করেছিলাম পিলখানার রেড লাইট এরিয়া থেকে। সুলতান আমার গর্ব। সুলতান তোকে কুড়িয়ে পেয়েছিল রাস্তার ধারের ধাবায়। তুই সুলতানের গর্ব। ও কখনও তোকে আমার কথা বলেনি। কিন্তু আমার কাছে এসে তোর যাবতীয় সাফল্যের খবর দিয়ে যেত। ও আমাকে দেখাতে চেয়েছিল যে আমার স্পট করা ট্যালেন্টের থেকে ওর স্পট করা ট্যালেন্ট অনেক বেশি প্রতিভাবান। আমার স্পট করা ট্যালেন্ট মরে ভূত হয়ে গেছে। কিন্তু ওর স্পট করা ট্যালেন্ট বিলেত জয় করেছে।”

    মধুরা মাথা নিচু করে খোপকাটা মার্বেলের মেঝের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সুলতানের জন্য সে কিছুতেই চোখের জল ফেলবে না। কিন্তু লোকটা অতর্কিতে এমন ঝাঁপিয়ে পড়ে, এমন কাঁদায়…

    “তুই লন্ডন চলে গেলি। সুলতান গেল জেলে। জেল থেকে বেরিয়ে আমার কাছে যখন এল, তখন ও একজন হেরে যাওয়া মানুষ। ও জানত ও আর বাঁচবে না। আমিও জানতাম। ওইরকম বাঘের বাচ্চাকে আমাদের সোসাইটি যেভাবে ডিল করল, তাতে আমাদের সব্বার থুথু ফেলে ডুবে মরা উচিত। যে লোকটা বাংলার ফুড অ্যাম্বাস্যাডার হতে পারত, তাকে লাথি মেরে, লাঠির বাড়ি মেরে, জেলে পুরে, বেল না দিয়ে, মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে, তার নামে কলঙ্ক রটিয়ে যেভাবে ম্যালাইন করা হল, তারপর ও সুইসাইড করে বেশ করেছে। আন্ডারডগের সিনেমা পাবলিক খুব খায়। লড়াকু হিরোর সঙ্গে হেরো দর্শক নিজেকে আইডেন্টিফাই করে। সিনেমার শেষে হেরো হিরো হলে, দর্শক খুশ! সে হিরোকে মাথায় তুলে নাচে। কিন্তু হেরো যদি না জেতে? একবার ঝাড় খেয়ে উঠে দাঁড়ায়, দু’বার ঝাড় খেয়ে উঠে দাঁড়ায়, কিন্তু তিনবার? চারবার? পাঁচবার? দশবার? তখন সে আইএসআই ছাপযুক্ত আগমার্কা হেরো। তার জীবনে আর কোনও ফিলিম নেই। সে ফিনিশ্‌ড, সে ডেড, সে সিন থেকে আউট। সুলতান হেরো ছিল না। ওকে জোর করে হেরো বানানো হয়েছিল। ও তাই ঠিক কাজটা করেছে। সময় থাকতে এই কুচ্ছিত পৃথিবী থেকে পালিয়েছে। আমার সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করতে এসে বলেছিল, আমি যেন পারুলকে একটা কাজ দিই। আমি ওর অনুরোধ রেখেছিলাম। শীল ম্যানশনের গায়ে একটা ফুড জয়েন্ট আছে। নাম…”

    “ফ্যাট মামা’জ কিচেন।”

    “গুড অবসার্ভেশান। ওই জয়েন্টটা আমার। টিমটিম করে চলে।”

    কান্না চেপে, মাথা তুলে মধুরা বলল, “দু’নম্বর প্রশ্ন, তোমার ফ্যামিলি কোথায়?”

    “আমার গিন্নি ময়নাদেবী আজ থেকে তিরিশ বছর আগে সুইসাইড করেছে। আমার এক ছেলে। নাম প্রকাশ পারেখ। ওর বউ সারভাইকাল ক্যানসারে মারা গেছে। তিন নাতি নাতনি। বড় নাতি মনোজ মুম্বইতে থাকে…”

    ডুঙ্গারকে থামিয়ে দিয়ে মধুরা বলল, “সন্দীপ আর নেহা পারেখ কলকাতায় থাকে। স্যান্ডি আইটি সেক্টরে কাজ করে। নেহা লেমনগ্রাস সামলায়। গতকাল একটা বিয়েবাড়িতে স্যান্ডির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। ওর মুখেই লং স্ট্রিটের নাম শুনেছিলাম।”

    ডুঙ্গার বলল, “ফ্যামিলির কথা থাক। নিজের কথা বলি। ফ্যাট মামা’জ কিচেন নামে একটা বার কাম রেস্তোরাঁ চালাতাম। ডিলিশাস ফুড, নিত্যনতুন ককটেল, লাইভ ব্যান্ড। ইট ওয়াজ টক অব দ্য টাউন। তারপর আমি একটা ব্যক্তিগত সমস্যায় ফেঁসে গেলাম। রেস্তোরাঁ দেখার কেউ রইল না। কাস্টমারের ফুটফল কমতে কমতে জিরো হয়ে গেল। মাইনে না পেয়ে স্টাফেরা অন্য জায়গায় চলে গেছে। ফ্যাট মামা’জ কিচেন এখন সরকারি আপিসের বাবুদের মিক্সড ফ্রায়েড রাইস আর চিলি চিকেন বিক্রি করে। মাস গেলে হাজার দু’-তিনেক টাকা লাভ হয়।”

    “পারুলবউদির আসার আগে এখানে কে রান্না করত? তুমি?”

    “আমি বহুকাল কাজ করা ছেড়ে দিয়েছি। ওটা চালায় জোনাকি।”

    “জোনাকি আবার কে?”

    “মিস জোনাকির নাম শুনিসনি?”

    “মিস… জো…না… কি…” থেমে থেমে বলে মধুরা। তার মাথায় একটা মন্তাজ তৈরি হচ্ছে। আশির দশকের কমার্শিয়াল বাংলা সিনেমার নামকরা ভ্যাম্প মিস জোনাকি! যখন আইটেম ডান্স বলে কোনও শব্দবন্ধ কয়েন হয়নি, তখন একের পর এক সাদাকালো ছবিতে সিডাকটিভ গান থাকত। রেস্তোরাঁ বা গুন্ডার আড্ডায় চিত্রায়িত সেই সব গানের সঙ্গে নাচত মিস জোনাকি। বাঁশপাতার মতো হিলহিলে চেহারা, জোছনার মতো গায়ের রং, বালিঘড়ির মতো ফিগার, বাতাবি লেবুর মতো বুক! হঠাৎ সে সিনেমা জগৎ থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। ফিল্ম ম্যাগাজিনে মধুরা পড়েছে, এক পয়সাওয়ালা ব্যবসায়ীকে ফাঁসিয়ে মিস জোনাকি বিলেত চলে গেছে। সেই মিস জোনাকি রাস্তার ধারে চাউমিন বিককিরি করে?

    “কিছু মনে পড়ল?” মিটিমিটি হাসছে ডুঙ্গার।

    “হ্যাঁ… শুনেছি উনি কোনও বড়লোক ব্যবসায়ীকে…” সাবধানে শব্দচয়ন করে মধুরা, “বিয়ে করে… বিদেশে সংসার করছেন।”

    “বিয়ে না ঘেঁচু। জোনাকি আমার কেপ্ট। পিলখানার রেড লাইট এরিয়ায় প্রথম দেখা। পরে ভালবাসা হয়ে যায়। আমিই সেই বড়লোক ব্যবসায়ী। একবার ওকে নিয়ে ইয়োরোপ ঘুরতে গিয়েছিলাম বলে ম্যাগাজিনে ওইসব লেখা হয়েছিল। জোনাকির জন্যে আমার বউ সুইসাইড করে। জোনাকির জন্যে আমার ছেলে আমার খবর নেয় না।”

    “বুঝলাম!” সন্তর্পণে নিজের ব্যাগ নেয় মধুরা। হাত জোড় করে বলে, “আমি এবার আসি?”

    “আমাকে ‘চরিত্রহীন’ বলে মনে হচ্ছে?”

    “শরৎচন্দ্র পড়িনি। তবে সেই রকমই মনে হচ্ছে।”

    “ব্যাবসা করার বেসিক জায়গায় তুই ফেল করলি। প্রথম আলাপেই পোটেনশিয়াল পার্টনারকে তার চরিত্র দিয়ে জাজ করছিস।”

    “পোটেনশিয়াল পার্টনার? কে? তুমি? তোমাকে পার্টনার করে আমার লাভ?”

    “অংশীদারি ব্যাবসার মূল কথা হল, কেউ কাউকে ফেভার করছে না। তুই আমাকে পার্টনার করছিস না। আমিও তোকে পার্টনার করছি না। আমি আর তুই আমাদের অ্যাসেট নিয়ে পরস্পরের কাছে আসছি।”

    “কীরকম?” গলার আওয়াজে সার্‌কাজম মেশায় মধুরা। নিজের অ্যাসেট কী সে জানে। বিলেত ফেরত শেফ, পাউন্ডের মালিকের পিছনে এইরকম ধান্দাবাজরা ঘুরবেই। এদের মধুরা চেনে। ট্যাক্‌লও করতে পারে। শুধু সুলতানদার শেষ ইচ্ছে বলে এই লোকটাকে টলারেট করছে। না হলে অনেক আগেই ভেগে যেত।

    “রেস্তোরাঁ ব্যাবসার এক নম্বর কথা কী বল তো?” প্রশ্ন করে ডুঙ্গার।

    “সোজা প্রশ্ন। এক থেকে তিন নম্বর কথা হল, লোকেশান, লোকেশান, লোকেশান।”

    “তোর সাধের রেস্তোরাঁ কোথায় খুলবি? কিছু ভেবেছিস?”

    মধুরা থমকাল। পার্ক স্ট্রিট, থিয়েটার রোড, গুরুসদয় রোড— এই সব জায়গায় প্রপার্টি কেনার সামর্থ্য তার নেই। নেক্সট অপশন ভাড়া নেওয়া। নেট ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখেছে, যে সব জায়গাগুলো ভাড়া দেওয়ার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছে, সেগুলো ভাল নয়। হয় গলির মধ্যে, নয় দু’তলা বা তিনতলায়। প্রধান রাস্তার ওপরে, একতলায়, ফ্রন্ট ফেসিং, চওড়া কোনও প্রপার্টি সে পায়নি।

    “আমার জায়গা আছে, টাকা নেই। তোর টাকা আছে, জায়গা নেই। দু’জনেরই কমন ইন্টারেস্ট, লোককে খাইয়ে টাকা রোজগার করা। আমরা পার্টনার হতে পারি না?”

    মধুরা ঠান্ডা মাথায় ডুঙ্গারের যুক্তি শুনল। বলল, “আমি এই বিষয় নিয়ে এক্ষুনি কিছু বলতে পারছি না। আমাকে ভাবার সময় দাও। তা ছাড়া, আগে তো পেপার ওয়ার্ক। বার-কাম-রেস্তোরাঁ খুলতে গেলে সতেরো রকমের লাইসেন্স লাগে। কথাটা তুমিই আমাকে বললে। আমি আবার এ বিষয়ে কিছুই জানি না।”

    “এই বিষয়ে আমি হেল্‌প করতে পারি কি?” সিঁড়ি থেকে হাস্কি মহিলা কন্ঠ ভেসে এল। মধুরা চমকে উঠে পিছন ফিরল।

    ডুঙ্গার বলল, “জোনাকি, এই পুঁচকে মেয়েটার নাম মধুরা। আর মধুরা, এ হল জোনাকি। আশি বছরের বুড়োর পঞ্চাশ বছরের রাখেল।”

    “মুখে একটু লাগাম দাও। বাচ্চা মেয়েটার সামনে এসব কথা বলার কোনও প্রয়োজন আছে কি?” জানতে চাইল মিস জোনাকি।

    মধুরা অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে। সিঁড়ির ব্যাকলাইটে স্নাত জোনাকিকে দেখে মন্ত্রমুগ্ধ সে। এই মহিলা অতীতে ভ্যাম্প ছিলেন? সেক্স-বম্ব ছিলেন? হতেই পারে না। অসম্ভব ব্যাপার!

    জোনাকির হাইট সাড়ে পাঁচ ফুটের কাছাকাছি। অসম্ভব ফরসা। শরীরে সামান্য মেদ জমলেও চমৎকার ফিগার। চোখে লাইব্রেরি ফ্রেমের চশমা। পরনে লালপাড় সাদা জমির গরদের শাড়ি। হাতে পেতলের থালায় ঠাকুরের প্রসাদ। মধুরার কাছে এসে বলল, “প্রসাদ খা।”

    মধুরা এখনও মিস জোনাকির দিকে তাকিয়ে।

    “কী দেখছিস?” মধুরার মুখে দুটো নকুলদানা গুঁজে প্রশ্ন করে মিস জোনাকি। মধুরা বলে, “আমি বিশ্বাস করতে পারছি না…”

    “কী বিশ্বাস করতে পারছিস না?” ফুট কাটে ডুঙ্গার, “এই সুশীলা গৃহবধূটি ঘোমটা তুলে খ্যামটা নাচত কী করে?”

    ডুঙ্গারের কথায় পাত্তা না দিয়ে মধুরা মিস জোনাকিকে বলল, “আমি তোমার অনেক সিনেমা দেখেছি। সামনাসামনি দেখে মনে হচ্ছে না যে ওই মেয়েগুলোই তুমি।”

    “সেটাই তো অভিনয়, তাই না?” পেতলের রেকাবি থেকে আরও দুটো নকুলদানা ডুঙ্গারের মুখে গুঁজে দেয় মিস জোনাকি, “আমি পূজাকে ছুটি দিয়ে দোকান বাড়িয়ে আসছি। তারপর তোমাদের কথা শুনব।”

    “দোকান বাড়ানো মানে?” অবাক হয়ে বলে মধুরা। ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে মিস জোনাকি বলে, “ওটা তুই কত্তাবাবুর কাছ থেকে শুনে নে।”

    ডুঙ্গার বলে, “তোরা, বাঙালিরা, কখনও ‘যাই’ বলিস না। বলিস, ‘আসি।’ এটার ব্যাখ্যা কী?”

    “যাই বলার মধ্যে বিচ্ছেদের ভাব আছে। তাই উলটোটা বলা হয়।”

    “আমরা, মারওয়াড়িরা কখনও বলি না যে ‘দোকান বন্ধ করে দেব।’ ব্যাবসা আমাদের চালিকাশক্তি। তাকে বন্ধ করব কী করে? রাতে দোকান বন্ধ করার সময়ে আমরা বলি, ‘দুকান বাড়ানা হ্যায়।’ অ্যাজ ইফ, দোকানের সম্প্রসারণ হবে। এই কথাটাই জোনাকি বাংলায় বলল।”

    “পূজা আবার কে? কী বিচ্ছিরি, ফিল্মি নাম!”

    ডুঙ্গার হাসতে হাসতে বলল, “ওর নাম পূজারিনী ভড়। আমি নামটাকে ছোট করে দিয়েছি। পূজা ফ্যাট মামা’জ কিচেনে কাজ করে। পারুল রাঁধত, ও সাপ্লাই করত। পারুল চলে যাওয়ার পরে এখন একাই সব সামলাবে।”

    “মিস জোনাকি তোমাকে কী বলে ডাকল?”

    “কত্তাবাবু। পিলখানা থেকে আমাকে এই নামেই ডাকে।”

    “মিস জোনাকির আসল বাড়ি কোথায়?”

    “বর্ধমানের খণ্ডঘোষ না অণ্ডকোষ নামের গ্রামে ও পয়দা হয়েছিল। বাবা হদ্দ গরিব। দেখতে শুনতে ভাল, ডাগরডোগর চেহারা। কমবয়সেই আড়কাঠির হাত ধরে পিলখানার রেন্ডিপাড়ায় চলে আসে।”

    “তোমার মুখ খুব খারাপ। মেয়েদের সামনে এইভাবে কথা বলতে নেই।”

    মাস্ক টেনে আবার অক্সিজেন নেয় ডুঙ্গার। বলে, “মেয়েদের চিরকাল ‘মাল’ ভেবে এসেছি। ভগবান আজ তার প্রতিশোধ নিচ্ছে। জোনাকির প্রেমে হাবুডুবু না খেলে বুঝতাম না যে তোরাও মানুষ। তোদেরও সুখদুঃখ আছে।”

    মিস জোনাকি ফ্যাট মামা’জ কিচেন বন্ধ করে ফিরে এসেছে। ডুঙ্গার বলল, “আজ কীরকম কাজ হল?”

    “সব দিয়েথুয়ে তিনশো টাকা,” ডুঙ্গারের ফতুয়ার পকেটে তিনটে ময়লা একশো টাকার নোট গুঁজে দেয় মিস জোনাকি।

    ডুঙ্গার বলে, “ওফ! তা হলে তো বড়লোক হয়ে গেলাম। মধুরা, কী খাবি বল? মোগলাই না কন্টিনেন্টাল?”

    মধুরা ম্লান হাসল। সে অবাক হয়ে এই মোটা, থলথলে, হেঁপো বুড়োটার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। বুড়ো মানুষদের দেখলে একটা ছকে ফেলা হয়। বৃদ্ধাবাস, ওষুধপত্র, লাঠি, মাঙ্কি ক্যাপ, পুজোআচ্চা, রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট, হাঁটুর ব্যথা, মর্নিং ওয়াকের ছক। সে যে কখনও যুবক ছিল এ কথা ভুলে যাওয়া হয়। ডুঙ্গার সেই ছকের বাইরে বিলং করে।

    পঁয়তিরিশ বছর আগে লোকটা জোনাকির জন্যে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছে! আজ প্রতিদিনের রোজগার তিনশো টাকা। তাই নিয়ে কোনও দুঃখবোধ নেই। কোনও হতাশা নেই। হাসিমুখে বলছে, আশি বছর বয়সে তার ‘রাখেল’ আছে।

    জোনাকি সেই কথার কোনও প্রতিবাদ করছে না। কেননা সে জানে যে ওগুলো বাজে কথা। যে মেয়ের জন্য ডুঙ্গার নিজের পরিবার ত্যাগ করেছে, পারিবারিক সম্পত্তি ত্যাগ করেছে, সে আর যাই হোক রাখেল নয়। দু’জনের প্রেম কত গভীর হলে এই পজিটিভ অ্যাটিটিউড থাকা সম্ভব?

    মিস জোনাকি তিন কাপ চা নিয়ে এসেছে। ডুঙ্গার আর মধুরার হাতে কাপ ধরিয়ে নিজের কাপে চুমুক দিয়ে বলল, “তারপর, এতক্ষণ ধরে আলোচনা করে কী ঠিক হল?”

    ডুঙ্গার আবার মুখোশ পরে নিয়েছে। মিস জোনাকি মেঝের দিকে তাকিয়ে। দু’জনেই মধুরার উত্তর শোনার অপেক্ষায় রয়েছে।

    “আমি আর ডুঙ্গার মিলে ঠিক করলাম, সিক্সটি নাইন লং স্ট্রিটে একটা রেস্তোরাঁ খুলব,” মিষ্টি হেসে বলে মধুরা, “ইনভেস্টমেন্ট আমার, লোকেশান ডুঙ্গারের। বাকি সব কাজকর্ম উতরে দিত পারব। কিন্তু সতেরো রকমের লাইসেন্সের ব্যাপারটায় ঘাবড়ে যাচ্ছি।”

    ডুঙ্গার মুখোশ খুলে মধুরার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তার চোখেমুখে দুষ্টুমির হাসি ঝিলমিল করছে। মিস জোনাকি প্রথমে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। তারপর বলল, “তুই ভুল জানিস।”

    “মানে?” অবাক হয়ে বলে মধুরা।

    “কলকাতা শহরে যে-কোনও রকমের ব্যাবসা শুরু করতে গেলে প্রাথমিক ভাবে আটটা লাইসেন্স বা ক্লিয়ারিং লাগে। বিভিন্ন রকমের ব্যাবসার জন্য আলাদা আলাদা লাইসেন্স আছে। রেস্তোরাঁ ব্যাবসার ক্ষেত্রে লাইসেন্সের সংখ্যা সতেরো নয়। বাইশ।”

    “বাপ রে!” হতাশ হয়ে বলে মধুরা, “কাগজ জোগাড় করতে করতে বুড়ো হয়ে মরে যাব তো!”

    “ওয়েলকাম টু লাইসেন্স রাজ! ট্রেড লাইসেন্স দেবে কলকাতা কর্পোরেশান। ফুড লাইসেন্স দেবে ফুড কর্পোরেশান। ভ্যাট লাইসেন্স দেবে কমার্শিয়াল ট্যাক্স অফিস। সেন্ট্রাল এক্সাইজের রেজিস্ট্রেশান এবং ক্লিয়ারেন্স থাকলে ভাল হয়। প্রথমটা পাওয়া যাবে পোদ্দার কোর্টের কমিশনার অফ সেন্ট্রাল এক্সাইজের দফতর থেকে, আর পরেরটা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের ব্রাঞ্চ অফিস থেকে।”

    “আরও আছে?”

    “পলিউশান কনট্রোল বোর্ডের নো অবজেকশান সার্টিফিকেট, এমপ্লয়িদের জন্য ইএসআই আর পিপিএফ, প্রফেশনাল ট্যাক্স, লিকার লাইসেন্স, এক্সপ্লোসিভ ক্লিয়ারেন্স আর ফায়ার লাইসেন্স, ডিজেল জেনারেশান সেট ক্লিয়ারেন্স আর বয়েলার রেজিস্ট্রেশান… আরও আছে। সেগুলোর ফিরিস্তি দিয়ে বোর করব না। আমি শুধু বলতে পারি যে এগুলো আমি করে দেব। আমার কনট্যাক্ট আছে। কম টাকায় হবে। তাড়াতাড়ি হবে। এবং আমি কোনও প্রফেশনাল ফি নেব না।”

    মধুরা মনে মনে হিসেব কষছিল। ডুঙ্গারের সঙ্গে পার্টনারশিপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সে হঠাৎ করে নেয়নি। সুলতানদার স্মৃতি অথবা সুলতানদার রেকমেন্ডেশান এখানে কাজ করেনি। ব্যাবসা ইমোশানের জায়গা নয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নিতে হয় অঙ্ক কষে। ডুঙ্গারের এই বড়, রাস্তামুখো বাড়িটাই তাকে বাধ্য করেছে সিদ্ধান্ত নিতে। কিন্তু মিস জোনাকির কাছ থেকে অযাচিত উপকার পেয়ে সে আপ্লুত।

    মিস জোনাকি বলল, “রাত হয়েছে। তুই এবার বাড়ি যা।”

    “হুম!” উঠে দাঁড়ায় মধুরা, “তোমাদের ফোন নাম্বার দাও।”

    ডুঙ্গার নিজের মোবাইল নাম্বার আওড়ে মিস জোনাকিকে বলে, “তোমার ঘ্যাঁট কখন বানাবে?”

    “তোমার কী দরকার?” মুখঝামটা দেয় মিস জোনাকি।

    দুই বুড়োবুড়ি আবার ঝগড়া মোডে চলে গেছে। মুচকি হেসে মধুরা বলল, “ঘ্যাঁট বানানোর কেসটা কী?”

    “আর বলিস না!” ব্যাজার মুখে বলে ডুঙ্গার, “জোনাকির সতীপনা দেখলে মাথা খারাপ হয়ে যায়। রোজ একবেলা স্বপাক খায়। সেটাও নিরিমিশ। বেস্পতিবারে লক্ষীর পাঁচালি পড়ে। শুক্‌কুরবারে সন্তোষী মায়ের ব্রত করে। নিয়মিত সত্যনারায়ণের পুজো করে। ছেনালির অন্ত নেই।”

    “তোমার ভালর জন্যেই করি।” মধুরার হাত ধরে ঘর থেকে বেরোয় মিস জোনাকি। হলঘর পেরিয়ে, সিঁড়ি দিয়ে নেমে, বাগান পেরিয়ে গেট পর্যন্ত আসে। বলে, “বাড়ি গিয়ে বাবামায়ের সঙ্গে কথা বল। তারপর ডিসিশান নে।”

    মিস জোনাকি শীল ম্যানশনের ভিতরে চলে যাওয়ার পরে মধুরা ঘড়ি দেখল। সাড়ে সাতটা বাজে। প্রথম দিন এসে অনেকক্ষণ সময় কাটাল সে।

    এখন লং স্ট্রিটের চেহারা অন্য রকম। শাড়ির বুটিক, সেলুন, জুতোর দোকানের আলোয় ঝলমল করছে রাস্তা। ফুটপাথের দোকানেও বেশ ভিড়। উলটো দিকের ফুটপাথে, বহুতলের একতলা জুড়ে ঝলমল করছে একটা রেস্তোরাঁ। পুরো সামনের দিকটা কাচ দেওয়া। নীচের হাফ ফ্রস্টেড গ্লাস, তাই ঝাপসা। ওপরের হাফ দিয়ে রেস্তোরাঁর ভিতরটা দেখা যাচ্ছে। জ্বলজ্বলে সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে রেস্তোরাঁর নাম।

    লেমনগ্রাস।

    মধুরার চিরশত্রু নেহা পারেখ এখানে তাদের চাইনিজ রেস্তোরাঁর নতুন ব্রাঞ্চ খুলেছে। কাল এই রেস্তোরাঁর কথাই স্যান্ডি বলছিল। এখানেই তাকে শেফের চাকরির অফার করেছিল।

    আবার নেহার সঙ্গে টক্কর দিতে হবে? আবার?

    মধুরার উত্তেজনা হচ্ছে। নতুন কিছু করার আগে শরীরে অ্যাড্রিনালিন রাশ হয়। হার্ট বিট বেড়ে যায়। পেটের মধ্যে প্রজাপতি ওড়ে। মুখ লাল হয়ে যায়।

    ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় জয়েন করার দিন হয়েছিল। পাঁচফোড়ন-এর প্রথম শুটিং-এর দিন হয়েছিল। মেল্টিং পট-এর প্রথম শুটিং-এর সময় হয়েছিল।

    সেসব এখন অতীত। এখন তার জীবনে শুরু হচ্ছে নতুন গল্প। আসছে পুরনো হিসেব মেটানোর নতুন অধ্যায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্পাই মেয়ে – মার্থা ম্যাককেনা
    Next Article শেষ নাহি যে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    Related Articles

    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    অপারেশন ওয়ারিস্তান – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    শেষ নাহি যে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }