Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মধুরেণ – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    ইন্দ্রনীল সান্যাল এক পাতা গল্প249 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মধুরেণ – ৯

    ৯

    রোববার সকাল ন’টার সময় ঘুম থেকে উঠে দোতলায় নামল মধুরা। খাবার টেবিলের চারপাশে বসে মনোহর, যূথিকা, কৃশানু এবং দিয়া চার রকম কাজে ব্যস্ত। মনোহর কাগজ পড়ছে, যূথিকা রসগোল্লাকে অলিভ অয়েল মাখাচ্ছে, কৃশানু ব্রেকফাস্ট করছে, দিয়া পান্তুয়াকে দুধ খাওয়াচ্ছে। মধুরাকে দেখে দিয়া বলল, “পান্তুয়াকে ধরো তো!”

    পান্তুয়াকে কোলে নিয়ে, চেয়ারে বাবু হয়ে বসে মধুরা গান ধরল, “আয় আয় আয়, শেয়ালে বেগুন খায়। তারা নুন কোথায় পায়? তারা দই সন্দেশ চিঁড়ে মুড়কি কিনে এনে খায়…”

    “ঘুমপাড়ানি গানেও খাওয়ার কথা?” ফুটন্ত জলে চায়ের পাতা ফেলে বলে সবিতা, “ওই জন্যেই বর ভেগেছে!”

    “আহ! সবিতা!” পান চিবুতে চিবুতে বলে যূথিকা, “আমাকে ওর সঙ্গে কথা বলতে দাও।”

    মধুরা আড়চোখে কৃশানুর দিকে তাকাল। চোখের ভাষায় নীরব প্রশ্ন, “মা কি আবার বিয়ে নিয়ে হ্যাজাবে?” কৃশানু চোখের ভাষায় জবাব দেয়, “ডেফিনিটলি!”

    “দ্যাখো মধু, তোমার ফেরার পরে বেশ কয়েকদিন কেটে গেল,” পানের জাবর কাটতে কাটতে বলে যূথিকা, “এ ক’দিন তোমাকে বিরক্ত করিনি। তুমি নানান কাজে ব্যস্ত ছিলে। এবার কিন্তু আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।”

    “প্রশ্নটা শুনি।”

    “এখন কী করবে? চাকরি?”

    “না।”

    কৃশানু ফুট কাটল, “ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় জয়েন করে যেতে পারিস মধু। তোর লেভেলে এখন অনেকগুলো এনট্রি আছে। পুনে আর বেঙ্গালুরুর পে প্যাকেট বেটার বলে ছেলেমেয়েরা কলকাতায় ফিরতে চাইছে না।”

    “থ্যাঙ্কস ফর দ্য ইনফো। আমি চাকরি করব না।”

    যূথিকার তেল মাখানো শেষ। রসগোল্লাকে কৃশানুর কোলে দিয়ে সে বলে, “লন্ডন ফিরবে না। চাকরিও করবে না। তা হলে কী করবে কিছু ভেবেছ?”

    “একটা আইডিয়া আছে… সেটা ইমপ্লিমেন্ট করতে কিছুদিন সময় লাগবে…”

    “যাক! তোমার হাতে যখন কিছুটা সময় আছে, তা হলে এর মধ্যে বিয়েটা সেরে ফেলো।”

    “বিয়ে?” যূথিকার দিকে তাকায় মধুরা, “খারাপ আইডিয়া নয়। কিন্তু বিয়ে করতে একটা ছেলে লাগে। সেই মক্কেলকে কোথায় পাব?”

    “শারুক খানের মতো ছেলেটা হাত থেকে ফসকে গেল, তোমার লজ্জা করে না?” ঠক করে মধুরার সামনে এক কাপ চা রেখে সবিতা বলে, “বাঙালি ছেলে হয়ে অ্যাংলো মেয়েকে বিয়ে করল… ছি ছি ছি!”

    যূথিকা হাত নেড়ে সবিতাকে থামায়, “লাভ ম্যারেজ যখন কপালে নেই তখন দেখাশুনোর বিয়েই করতে হবে। কৃশানুকে বলেছি, পাত্রপাত্রী কলামে অ্যাড দিতে। পাত্রপাত্রীর একটা এজেন্ট ওতোরপাড়ায় থাকে, তাকে ফোন করে বাড়ি আসতে বলেছি। সামনের রোব্বারে যেন অ্যাড যায়।”

    মধুরা চা খেতে খেতে সবাইকে মাপল। শান্ত গলায় ডিক্লেয়ার করল, “অ্যাডে লিখে দিও, পাত্রী ব্যাবসা করে।”

    “পাত্রী কী করে?” চিল চিৎকার করে ওঠে সবিতা।

    “পাত্রী ব্যাবসা করে।” কেটে কেটে বলে মধুরা। “বাবা যে কাজটা করে আমাদের বড় করেছে, আমিও সেটাই করতে চলেছি। বাবার মফস্‌সলে মিষ্টির দোকান আছে। আমি কলকাতা শহরে পার্টনারশিপে রেস্তোরাঁ খুলতে চলেছি।”

    “ব্যাবসা? তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে?” আঁতকে ওঠে কৃশানু।

    “তোমার মাথার থেকে কি খাওয়ানোর ভূত নামবে না?” আবার চেল্লায় সবিতা।

    “পার্টনারশিপ? কার সঙ্গে?” মধুরার চোখে চোখ রেখে জানতে চায় মনোহর।

    মধুরা বাধ্য হয়ে পুরো ঘটনা বলে। সুলতান সিং থেকে শুরু করে শীল ম্যানশন, ডুঙ্গারমল পারেখ এবং মিস জোনাকি পর্যন্ত। প্রয়োজনীয় এডিটিং সত্ত্বেও মিনিট দশেক লাগল।

    মধুরার বকবকানি শুনতে শুনতে যূথিকা কাঁদছিল। কথা শেষ হওয়ার পরে বলল, “দাদুর বয়সি অবাঙালি বুড়ো আর মায়ের বয়সি নাচুনির সঙ্গে ব্যাবসা? আমাদের পরিবারের সম্মান ধুলোয় না মেশালে কি তোর শান্তি নেই? তোরা কী চাস? আমি গলায় দড়ি দিই? না গঙ্গায় ঝাঁপ দিই?”

    মধুরা জানত, এই সমস্যা তাকে ফেস করতে হবে। হোমফ্রন্ট সামলানো সবচেয়ে শক্ত কাজ।

    “ওই রকম কেন বলছ মা?” ঠোঁট ফুলিয়ে, নাকের পাটা অল্প কাঁপিয়ে, চোখের পাতা ফড়ফড় করে মধুরা বলে, “মিস জোনাকি একজন উকিল। অতীতে নাচতেন। এখন রীতিমতো লিগাল প্র্যাকটিস করেন।”

    মনোহর বলল, “তুই লন্ডন থেকে কত টাকা রোজগার করে এনেছিস, তা আমি জানতে চাই না। কিন্তু, দুটো অচেনা লোকের সঙ্গে রেস্তোরাঁ চালানোর মতো ঝক্কির ব্যবসায় নামবি? আর একটু ভেবে দেখলে ভাল হত না?”

    “আমার ভাবা হয়ে গেছে বাবা। আমি শুধু তোমাদের অনুমতি চাই।”

    যূথিকা কেঁদেই চলেছে। হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠল। মনোহর বলল, “আমি দেখছি কে এল।”

    কৃশানু আর দিয়া রসগোল্লা-পান্তুয়াকে নিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে গেল। সিঁড়ি থেকে মনোহর চ্যাঁচাল, “হ্যাঁগো! শুনছ, তোমার ভাই আর ভাইবউরা কোলাঘাট থেকে এসেছে। তোমার বাবার খুব শরীর খারাপ। হাসপাতালে ভরতি আছে।”

    *

    মধুরা ইয়ারকি মেরে বলে, “আমার কাছে মামার বাড়ির কোনও স্মৃতি নেই। কোনও ইরানিও নেই।”

    বোনের এই অবজার্ভেশানের সঙ্গে কৃশানু একমত। যূথিকা বাপের বাড়ি গেছে, এমন বদনাম তার সবথেকে বড় শত্রু, অর্থাৎ মনোহরও করতে পারবে না। সে উলটে খোঁটা দেয়, “জামাইষষ্ঠীতে ছেলে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছে। দুদিন পরে জামাই নিয়ে মেয়েও আসবে। আমার আর এই জন্মে ষষ্ঠী খাওয়া হল না।”

    এই একটা ঝগড়ায় যূথিকা হেরে যায়।

    মনোহর আর যূথিকার লাভ ম্যারেজ। মনোহর বন্ধুদের সঙ্গে দিঘা বেড়াতে যাচ্ছিল। কোলাঘাটের ধাবায় সব বাস জলখাবার খাওয়ার জন্যে আর বাথরুম করার জন্যে মিনিট পাঁচেক দাঁড়ায়। ধাবাতে চার চোখের মিলন হয়েছিল। যূথিকা তখন ক্লাস সেভেন।

    যূথিকা বা মনোহর বিয়ে নিয়ে মুখ খোলে না। টুকটাক বেফাঁস কথা থেকে মধুরা আন্দাজ করতে পারে যে যূথিকা বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিল। সেই কারণেই বাপের বাড়িতে তার প্রবেশাধিকার নেই। যদিও মা মিনতিবালার সঙ্গে সপ্তাহে একবার মোবাইলে কথা বলে। ন’মাসে ছ’মাসে মধুরাকে দিয়ে ‘মানি অর্ডার’ করায়। প্রাপক, কালোসোনা সরকার।

    কালোসোনা যূথিকার বাবার নাম। দুই ভাইয়ের নাম অর্জুন আর পিয়াল।

    যূথিকার বাবা, মধুরার দাদু কালোসোনার শরীর খারাপ? মধুরার দুই মামা আর দুই মামি এসেছে? উত্তেজনায় চেয়ার থেকে উঠে সিঁড়ির দিকে এগোয় মধুরা। যূথিকা পিছন থেকে হিসহিল করে বলে, “দয়া করে ওদের ওপরে তুলো না।”

    “কেন?” ঘাড় ঘুরিয়ে জানতে চায় মধুরা। আজ সে মাকে বাগে পেয়েছে। বিয়ে-বিয়ে করে পাগল করে দেওয়ার শোধ তুলবে।

    “আমার হুকুম!”

    “অতিথি ভগবানের মতো!” হালকা হেসে মধুরা নীচে নামে।

    ভৌমিক ভবনের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে চারজন মানুষ। মধুরা দ্রুত তাদের মেপে নেয়।

    প্রথম লোকটির বয়স পঞ্চাশের আশেপাশে। বেঁটে, মোটা, কালো, মাথায় টাক। যেটুকু চুল কানের ওপরে আর ঘাড়ের দিকে আছে, সাদা। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। অযত্নে বাড়া গোঁফ আর না কামানো দাড়ির সবটাই সাদা। প্রৌঢ় মানুষটি এত দ্রুত বার্ধক্যের দিকে কেন যাচ্ছে সেটা অনুমান করতে অসুবিধে হয় না। জালার মতো পেট, চোখের নীচে পাউচ, থলথলে চেহারা বলে দিচ্ছে, মানুষটি মদ্যপায়ী। এ মধুরার বড়মামা অর্জুন।

    দ্বিতীয় লোকটির চেহারা অর্জুনের ঠিক উলটো। বছর চল্লিশের লোকটি লম্বা এবং রোগা। গায়ের রং ফরসা। মাথা ভরতি বাবরি চুল। ক্লিন শেভ্‌ড। চেহারায় পালিশ আছে। এর নাম পিয়াল।

    অর্জুনের পিছনে দাঁড়িয়ে দশাসই চেহারার এক মহিলা। মেরেকেটে সাড়ে চার ফুট হাইট। গায়ের রং দুধে আলকাতরায়। পরনে হলদে রঙের লালপেড়ে শাড়ি আর সবুজ ব্লাউজ। চপরচপর করে পান চিবোচ্ছে আর মধুরাকে মাপছে। এই রকম মহিলাদের বাংলা ভাষায় ‘খাণ্ডারনি’ বলে।

    পিয়ালের পিছনে দাঁড়ানো মহিলার লম্বা, দোহারা চেহারা। একমাথা কোঁকড়ানো চুল, মুখ শুকনো। শঙ্কিত, জড়োসড়ো বডি ল্যাঙ্গোয়েজ। মুখচোখ দেখে মনে হয়, কিছু জিজ্ঞাসা করলেই ‘ভ্যাঁ’ করে কেঁদে ফেলবে। ইংরিজিতে এদের বলে, ‘ক্রাইবেবি’। বাংলায়, ছিঁচকাঁদুনি।

    মধুরার মানুষ মাপা কমপ্লিট। সে হাত জোড় করে বেঁটে লোকটাকে বলল, “আপনিই অর্জুনমামা, তাই তো?”

    বেঁটে কিছু বলার আগেই খাণ্ডারনি বলল, “ও তোমার বড়মামা। আমি গীতা, তোমার বড়মামি। তুমি আমায় গীতামামি বলে ডেকো। তুমি মধু, তাই তো? টিভিতে শো করো!”

    মধুরা গীতার কথার উত্তর না দিয়ে লম্বার দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনি তা হলে পিয়ালমামা।” ছিঁচকাঁদুনির দিকে তাকিয়ে বলল, “আর আপনি…”

    “আমার কথা ধোরো না ভাই! আমি মানুষ নই।” মিনমিন করে বলে ক্রাইবেবি, “সবার জন্য খেটে খেটে জান কয়লা হয়ে গেল। সে যে কী কষ্ট, তোমাকে বলে বোঝাতে পারব না ভাই!”

    “আলাপ হওয়ার আগেই নাকে কান্না শুরু হয়ে গেল?” দাবড়ানি দেয় গীতা, “এ আমার জা। ওর নাম মিতা। তা আমরা কি বাড়িতে ঢুকতে পারি? অনেক দূর থেকে আসছি। আমাদের গ্রামের দিকে তো আগে জলবাতাসা দিয়ে তারপর নাম ঠিকানা শুধোনো হয়। কলকাতা শহরে শুনেছি অন্য রকমের ব্যাপার!”

    “এটা কলকাতা নয়। এটা হাওড়া।” শান্ত গলায় বলে মধুরা, “এটা গ্রাম নয়। তবে শহরও নয়। আপনাদের কখনও দেখিনি তো! তাই ভাল করে দেখে নিলাম। ভেতরে আসুন।”

    দোতলার ডাইনিং টেবিলে যূথিকা মাথা নিচু করে বসে। সবিতা বাতের তেল মালিশ করে দিচ্ছে। মিতা আর পিয়াল তার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করল। অর্জুন বলল, “কেমন আছিস?”

    “ভাল নয়,” ছলোছলো চোখে বলে যূথিকা, “হাই সুগার, হাই প্রেশার, সর্বাঙ্গে বাত, হেন রোগ নেই যা শরীরে বাসা বাঁধেনি।” চোখের জল মুছে জিজ্ঞাসা করে, “তোরা কেন এসেছিস বল।”

    “বাবার স্ট্রোক হয়েছে,” নিজের থেকে চেয়ার টেনে নিয়ে বসেছে গীতা, “হাই প্রেশারের রুগি। ওষুধ খেত না। গত সপ্তাহে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পরে লোকাল নার্সিং হোমে ভত্তি করেছি। ডাক্তার বলেছে, কোমা। এক সপ্তাহে এক লাখ টাকা বিল হয়েছে। আমরা আর পারছি না। তুমি কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করো।”

    মধুরার গীতাকে পছন্দ হল। ধানাইপানাই না করে কাজের কথাটা গোড়াতেই বলে দিল।

    গীতা শেষ করতে মিতা শুরু করল, “জানো ভাই, ওই কষ্ট চোখে দেখা যায় না। চোখের পিচুটি মুছিয়ে দেওয়ার লোক নেই, গায়ে পিঁপড়ে ঘুরছে, বিসনাতেই হাগামোতা মেখে পড়ে রয়েছে। আমরা কি ভাই বড়লোক যে বড় নার্সিং হোমে ভরতি করব? আবার সরকারি হাসপাতালে ভরতি করতেও মানে লাগে। মানুষটা, হাজার হোক, আমাদের বাবা বলে কথা।”

    “তোমাদের ধাবা কেমন চলছে?” জানতে চায় মনোহর। সে আবার ওপরে চলে এসেছে।

    ধাবার কথা শুনে মধুরার অ্যান্টেনা খাড়া! তার মামাবাড়ির লোকেরাও খাওয়ানোর লাইনে আছে!

    অর্জুন বলল, “ভাল না।”

    পিয়াল বলল, “চালাবার চেষ্টা করছি, কিন্তু এত রকমের সমস্যা…”

    “কী যেন নাম ধাবাটার…” মনে করার চেষ্টা করছে মনোহর। গীতা বলে, “আপনি যখন গিয়েছিলেন, তখন শ্বশুরমশাই চালাতেন। ‘কোলাঘাট ধাবা’ নামে চলত। উনি ছাড়ার পরে আপনার শালারা হাল ধরল। এখন নাম হয়েছে ‘ভাইভাই ধাবা’।”

    পানের গুঁটলি ডানগাল থেকে বাঁ গালে পাঠিয়ে গীতা বলল, “সত্যি কথাটা বলেই ফেলি। ডাক্তার বলেছে, উনি আর বেঁচে নেই। বলেছে, টাকা না মেটালে বডি ছাড়বে না। গাড়িভাড়া করে ক’টা টাকার জন্যে আমরা এসেছি। আমাদের ফিরিয়ে দিয়ো না।”

    যূথিকা আবার কাঁদছে। তবে এখন অন্য ইস্যুতে। সবিতাও আঁচলে চোখ মুছছে। অর্জুনের দিকে তাকিয়ে মনোহর বলল, “শ্বশুরমশাই কি উইল করেছেন?”

    অর্জুন আর পিয়াল নিজেদের মধ্যে মুখ চাওয়াচাওয়ি করে একসঙ্গে বলে, “না।”

    “সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ওঁর যা সম্পত্তি আছে, তার মালিক চারজন। আমার শাশুড়ি মিনতিবালা সরকার, আর তোমরা তিন ভাইবোন। অর্জুন সরকার, যূথিকা ভৌমিক, পিয়াল সরকার। ঠিক বললাম তো?”

    “হ্যাঁ।” মুখ খুলেছে অর্জুন, “কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার আগেই এইসব আলোচনা কি ঠিক হচ্ছে?”

    “হচ্ছে না।” সপাটে জবাব দেয় মনোহর, “কিন্তু আমি নাচার। বিয়ের পরে তোমাদের বাবা ওই বাড়িতে আমাকে ঢুকতে দেননি। নিজের মেয়েকে রাস্তা থেকে বিদেয় করেছেন। নাতিনাতনির মুখ দেখেননি। আমার ছেলেমেয়ে জানে না মামাবাড়ি কী জিনিস! সব তোমাদের বাবার জন্যে। আমি বা আমার বউ কালোসোনা সরকারের জন্যে এক নয়া পয়সা খরচ করতেও রাজি নই।”

    “তা হলে কী হবে ভাই!” জানতে চায় মিতা।

    “মিনতিবালা দেবীর সঙ্গে কথা বলে, তাঁর অংশটা মেয়ের নামে গিফ্‌ট ডিড করতে বলো। সামান্য আইনি ব্যাপার। কিছু ফি দিলেই যে-কোনও উকিল করে দেবে।”

    “আমাদের সম্পত্তি কেন আমরা বাঁটোয়ারা করতে যাব?” ঝাঁঝিয়ে ওঠে গীতা।

    মনোহর বলে, “তোমার সম্পত্তি নিয়ে কিছু বলিনি। আমি কালোসোনা সরকারের সম্পত্তি নিয়ে আলোচনা করছি। যার বর্তমান ভাগীদার তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তান।”

    মেঝের দিকে তাকিয়ে বাঁশির মতো গলায় পিয়াল বলল, “ন্যাশনাল হাইওয়ের পাশে একফালি জমি আর বাড়ি। আমরা কাঠা আর ছটাকে হিসেব করি। আপনাদের শহুরে হিসেবে বড়জোর হাজার স্কোয়্যার ফুট। আড়াইশো স্কোয়্যার ফিট জমি নিয়ে আপনি কী করবেন?”

    বিড়ি ধরিয়ে মনোহর বলল, “আমি দোকানদার মানুষ। আমি বুঝি, ফ্যালো কড়ি, মাখো তেল। ওই সম্পত্তির একের চার তোমার দিদির প্রাপ্য। তোমাদের মাকে বলে আরও একের চার গিফ্‌ট ডিড করো। নার্সিং হোমের টাকা দেব।”

    অর্জুন হাঁড়ির মতো মুখ করে বলল, “আইনি ব্যাপার তো লম্বা প্রসেস। আমাদের টাকা এক্ষুনি চাই।”

    “টাকা পেয়ে যাবে। কিন্তু আমি চাই আমার বউ তার বাপের সম্পত্তির ভাগ পাক। ওটা ওর প্রাপ্য।”

    মনোহর ইশারায় যূথিকাকে শোওয়ার ঘরে যেতে বলল। যূথিকা বলল, “কত দেব?”

    “যা চাইছে দিয়ে দাও।”

    অর্জুন বলল, “দাদা, আপনি আমাদের ওপরে ভরসা করে টাকা দিচ্ছেন। যদি নিয়ে পালিয়ে যাই?”

    “টাকা চুরি করে আর কোথায় পালাবে ভায়া? তোমাদের বোন তোমাদের সঙ্গে কোলাঘাট যাচ্ছে। নার্সিং হোমে নিজের হাতে টাকা দেবে। তোমাদের হাতে কোনও টাকা আমি দেব না।”

    পিয়াল বিনয়ের অবতার হয়ে বলল, “আর উকিলের ব্যাপারটা?”

    “তোমরা ওঁর সৎকারের ব্যবস্থা করো। আমার মেয়ে একটু বাদে উকিল নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে।”

    মধুরা মনোহরের দিকে অবাক হয়ে তাকাল। মনোহর বলল, “মিস জোনাকি লিগাল প্র্যাকটিস করেন বললি না? ওঁকে বল, তোর সঙ্গে কোলাঘাট যেতে হবে। বিজনেস পার্টনার যখন, এইটুকু নিশ্চয়ই করবেন। আমিও তোর সঙ্গে যাব। শীল ম্যানশনটা একবার দেখে আসব।”

    খাবার টেবিল ছেড়ে উঠে মধুরা পাঁইপাঁই করে তিনতলার দিকে দৌড়োয়।

    *

    মিস জোনাকির সঙ্গে মনোহরের সাক্ষাৎ বেশ ইন্টারেস্টিং। অর্জুন, পিয়াল, গীতা, মিতা আর যূথিকা বেরিয়ে যাওয়ার পরে, মধুরার গাড়িতে চেপে শীল ম্যানশনে এল মনোহর। মধুরা বাবার সঙ্গে মিস জোনাকির আলাপ করিয়ে দিল।

    মনোহর বলল, “আপনি আমাদের এই কাজটা করে দিন। খুব জরুরি।”

    মিস জোনাকি আপত্তি করেনি। মধুরা আর মনোহরের সঙ্গে চলে গেল কোলাঘাট।

    যূথিকা আগেই এসে নার্সিং হোমের টাকা মিটিয়েছে, ডেথ সার্টিফিকেট নিয়েছে, শ্মশানে বডি নিয়ে চলে গেছে।

    মধুরা, মনোহর আর মিস জোনাকি যখন শ্মশানে পৌঁছল, তখনও কালোসোনার চিতা জ্বলছে। আকাশ অন্ধকার। ভিজে বাতাস বইছে।

    রূপনারায়ণের শ্মশানঘাটের সিঁড়িতে বসে মিস জোনাকি যূথিকার হাত ধরল। যূথিকা কাঁদছিল। চোখ মুছে বলল, “আপনার সম্পর্কে আমার খুব বাজে ধারণা ছিল।”

    “ধারণা বদলাল কেন?” মৃদু হেসে জানতে চায় মিস জোনাকি, “আর, আপনি নয়, তুমি বলো।”

    “কম বয়সে তোমার কয়েকটা বই দেখেছিলাম। সেখানে তুমি ছোট ড্রেস পরে…”

    যূথিকার পিঠে হাত বুলিয়ে মিস জোনাকি বলল, “তখন তোমার কম বয়স। আমারও তাই। আজ আর ওসব ভেবে লাভ নেই। আমরা দুই বুড়ি মিলে একটু গপ্‌পো করি, এসো।”

    যুথিকা হঠাৎ মিস জোনাকির কাঁধে মাথা রেখে হাউহাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “বাবাকে শেষ দেখেছিলাম বিয়ের আগে। বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম, সেই রাগে জামাইয়ের মুখ দেখেনি, নাতিনাতনির মুখ দেখেনি। আজ তার জন্যে আমি কাঁদছি…”

    মিস জোনাকি যূথিকার পিঠে হাত বুলিয়ে দিল।

    কলকাতায় ফিরে এক সপ্তাহের মধ্যে দানপত্রের বয়ান তৈরি করে ফেলল মিস জোনাকি। গিফ্‌ট ডিড নিয়ে বেশ কয়েকবার কোলাঘাট দৌড়োতে হল যূথিকা আর মনোহরকে। আইনি পর্ব ও সইসাবুদ মেটার পরে বিডিও, বিএলআরও, পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে যূথিকার নামে খাজনা জমা করে এসেছে মনোহর।

    যূথিকা এখন কোলাঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে মনসাপোতা গ্রামের পাঁচশো স্কোয়্যার ফিটের মালিক। যার মধ্যে রয়েছে একটি বসত বাড়ি, যেখানে সে কখনও যাবে না। একফালি জমি, যেটি বাগান করার বা ফসল ফলানোর অনুপযুক্ত। এবং ‘ভাইভাই ধাবা’ যার থেকে মাসে হাজার দশেক টাকা আয় হয়। ওই টাকায় অর্জুন আর পিয়ালের সংসার চলে না। ওতে যূথিকা ভাগ বসাতে চায় না।

    কোলাঘাট পর্ব এখন অতীত। যূথিকা আর মিস জোনাকির মধ্যে মাখোমাখো বন্ধুতা গড়ে উঠেছে। যখন তখন ফোনাফুনি, রান্নার রেসিপি আদানপ্রদান, মায় কখনও কখনও মধুরার হাত দিয়ে মুড়োঘন্ট বা বাটিচচ্চড়ি পাঠানোর কাজও চলছে। দৌত্যের কাজ মধুরা ভালবেসেই করে। কেননা সে চায়, বিজনেস পার্টনারদের নিয়ে মনোহর-যূথিকা যেন বাজে ধারণা পোষণ না করে। তা হলে কাজে ব্যাঘাত ঘটবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্পাই মেয়ে – মার্থা ম্যাককেনা
    Next Article শেষ নাহি যে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    Related Articles

    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    অপারেশন ওয়ারিস্তান – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    শেষ নাহি যে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }