Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মধ্য বয়সের সঙ্কট – মিনা ফারাহ

    মিনা ফারাহ এক পাতা গল্প296 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. আজকের দিনের এক স্ত্রীর পত্র

    তোমাকে,

    গল্পগুচ্ছের–”স্ত্রীর পত্র” বারবার পড়েও যেন পড়া শেষ হয় না। তার কারণ হয়তো এর বিষয়ের গভীরত্ব বা জীবনবোধ, যা মানুষের মনকে অন্তহীন চিন্তার সাগরে ডুবিয়ে দেয়। মানুষকে করে তোলে ভাবুক। ঘর ছেড়ে এসে মৃণালের মতো মনে হলো তোমাকেও এরকম একটা চিঠি লেখা জরুরি হয়ে পড়েছে। আজ সেই সময়। আজ সেই গোধূলিলগ্ন। তবে কেমন করে তা লিখবো সে নিয়ে বিড়ম্বনা। লেখার বিষয় এত বেশি, আর সমস্যাগুলো এত অন্যরকম যে সেজন্যেই হয়তো আমার মধ্যে এই। জটিলতা দেখা দিয়েছে। যেমন কি বলবো, কি লিখবো, কেমন করেই-বা ইত্যাদি।

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার মৃণালকে দিয়ে যা বলাতে চেয়েছিলেন, সে কাজটা শুরুতেই। তিনি স্পষ্টভাবে করিয়ে নিয়েছেন।”আমি তোমাদের মেজো বৌ। আজ পনেরো বছর পরে এই সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে জানতে পেরেছি, আমার জগৎ এবং জগদীশ্বরের সঙ্গে অন্য সম্পর্কও আছে। তাই আজ সাহস করে এই চিঠিখানি লিখছি। এটা তোমাদের মেজো বৌয়ের চিঠি নয়। কোথায়রে রাজমিস্ত্রির গড়া দেয়াল! আইন দিয়ে গড়া কাটার বেড়া। ঐ তো মৃত্যুর হাতে উড়ছে জীবনের জয় পতাকা। …আমি আর তোমাদের সাতাশ নম্বর মাখন বড়ালের গলিতে ফিরব না।”

    আমিও সংসারের সকল বন্ধন উপড়ে ফেলে, অর্থের সকল প্রাচুর্য, মোহ, ত্যাগ করে ফিরে এসেছি সুদূর থেকে এই ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে। আমার শৈশবের স্মৃতিঘেরা-নদী। আমারও মাথার ওপরে আষাঢ়ের জলভরা আকাশ। দূরে, মাছ ধরা। নৌকো থেকে কিছু আলো জোনাকির মতো ভেসে আসছে ব্রহ্মপুত্রের জলে। এখন। অনেক রাত। লোকেরা এত রাতে একটা মেয়েকে এভাবে একা একা বসে থাকতে দেখলে ভাববে আস্ত পাগল। ভাবুক। পাগল ভালো। কারণ তারাই একমাত্র অতীত ভুলে যেতে পারে। অতীত, যা আমি ভুলতে পারবো না। কারণটা বড় জটিল, ভীষণ নরক।

    সেই জটিল, সেই নরক থেকে সরে এসে এখন আমি যে জায়গাটায় বসে আছি, প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যে ঘেরা এই জায়গাটায় অনেক সবুজ ঘাস। ঘাসের ওপরে ধুয়ে যাওয়া বৃষ্টির জল। সবখানেই কাদা। অন্ধকারে দূর থেকে দু’একটা ব্যাঙের ডাক শোনা। যায়। কিছু দূরে অনেকগুলো ছোট বড় গাছের আভাস, নদীর গতিকে বুঝিয়ে দিতে। ঝিঁঝি পোকাগুলো করাত দিয়ে কাটছে বর্ষার অন্ধকার রাত। ঐ দূরে একটি আগুনের শিখা। অনবরত জ্বলছে। জানতাম, ঐখানেই কোথাও হবে, ব্রহ্মপুত্রের পারে, বহু পুরোনো একটা আদি শ্মশান। শ্মশান, যার নাম শুনলে আগে ভয়ে কাঁপতাম। আজ সেসব অতিরিক্ত ভয়গুলো আমার আর নেই। কারণ যে নরক দেখেছে, শ্মশানে মরা পোড়ানোর নিষ্ঠুরতা তার কাছে অনেক কম যন্ত্রণাদায়ক। আর আমি সেই নরক তোমার মধ্যে দেখে দেখে শুশানের ভয় থেকে মুক্তি পেয়েছি।

     

    আরও দেখুন
    PDF
    বাংলা ই-বুক রিডার
    গ্রন্থাগার
    বুক শেল্ফ
    বাংলা অডিওবুক
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    Library
    বই পড়ুন
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    গ্রন্থাগার সেবা

     

    তবুও বিশ্ব নামের এত বড় বিশাল সংসার থেকে মুক্তি, বন্ধন ছিন্নতা সহজ কর্ম নয়। আপন সংসারের যে মায়া, যে মাধুর্য, সেখান থেকে শেকল কাটাও সহজ নয়। সংসার একটি দৈত্যসুলভ সর্বনেশে মায়া ও বন্ধনের সমুদ্র। এখানে অক্টোপাসের আটটির বদলে ষোলটি বাহু। আর সে তার বাহুগুলোতে আমাকে সংসার সন্তানের মায়া মরীচিকা দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বন্দি করে রেখেছিল। কিন্তু আমার ওপর তোমার অন্যায় অবিচার এত মাত্রাহীন হয়ে উঠলো যে বোধ একদিন আমাকে তাড়া করলো। আর সেজন্যেই আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছুতে পেরেছি। তা সত্ত্বেও প্রিতুর কারণে সেখান থেকে উত্তরণ ঘটতে ঘটতে চলে গেল জীবনের অনেকটা সময়। জীবনটা যে এত দ্রুত এরকম বুড়ো মানুষের দাঁতের মতো নড়বড়ে হয়ে যাবে সে আমি একেবারেই যে বুঝিনি তা ঠিক নয়, তবে ভেবেছিলাম হয়তো বর্ষণ হয়ে একদিন ঝরে যাবে আমাদের মধ্যেকার দুর্যোগের এই মেঘ। কিন্তু সময় যত যায় ততই দেখি দুর্যোগ, নৌকোভর্তি মেঘ ঢেলে দিয়ে দ্রুত চলে যায়, শুধু ফিরে আসতে আরো দুর্যোগে ভেজা মেঘ সঙ্গে করে নিয়ে।

    আমি জানি, মৃণাল ও আমার সময়, জীবনযাত্রা, পরিস্থিতি এক নয়। তবে মুক্তির পথ, এক। গৃহহীন হয়ে ফিরে যাওয়া প্রকৃতির কাছে, যেখান থেকে আমরা এসেছি। জলে, সমুদুরে। আমাদের দেহের শতকরা আশি ভাগই তো জল দিয়ে তৈরি। তাই এই ব্রহ্মপুত্রের বিশালতার কাছে আমার ক্ষুদ্রতা ধুয়ে নিজেকে ফিরে পেতে, এখানে ফিরে এসেছি আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগে। এসে প্রতিদিনই নিজেকে চিনতে চেয়েছি, ক্ষুদ্রতা ধুয়ে। আজ মনে হচ্ছে এখনই সময়। এই দশ বছর সময় আমার জীবনে একটি হিমালয়ের মতো এতই বিস্ময়কর পাহাড়, যার জঙ্গলে বসে আমি নিজেকে খুঁজে নিয়েছি। তবুও অতীতের সেই সংসারের কত স্মৃতিই তো মনে পড়ে! মনে পড়ে সুন্দর এক যুবকের কথা, যে ছিল আমার হৃদয়ের মধ্যমণি। মনে পড়ে বিয়ের পরপর সংসার নিয়ে আমার রোমাঞ্চের কথা। কাজের পর বাড়ি ফেরার জন্যে মনটা চঞ্চল হয়ে থাকতো। কাজশেষে বাড়ি ফিরে রান্না করবো, একসঙ্গে খাবো। বিছানায় শুয়ে তোমার সঙ্গে গল্প করবো গভীর রাত অবধি। তোমার বুকে মুখ লুকিয়ে একটি শিশুর মতো অবুঝ হয়ে ভুলেই যাবো আমি কে। তোমার বুকের ওম আমার শরীরে জাগাবে, ভালোবাসা। যেন একটা নেশায় পেয়ে বসলো।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা গল্প
    Library
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা উপন্যাস
    সাহিত্য পত্রিকা
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বই
    অনলাইন বুক

     

    বিয়ের পাঁচ বছর অবধি, তোমার মধ্যে আমি অন্যান্য পুরুষের মতো হীনমন্যতা দেখিনি। বরং তুমি আমাদের কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে সাংসারিক বিভিন্ন জটিলতার সময়ে আমার পক্ষেই কথা বলেছ। কিন্তু বিদেশে আসার প্রায় সাত বছর পর হঠাৎ যেন। তোমার মধ্যে কি ঘটে গেল। অদ্ভুত এক পরিবর্তন দেখলাম যখন বহু প্রতীক্ষার পর প্রথম সন্তানটি পেটে এলো। তুমি বললে বাচ্চা হয়ে গেলে কাজ ছেড়ে বাসায় বাচ্চা মানুষ করতে হবে। আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। একি কথা শুনছি তোমার মুখে! যেন এক অন্য তুমি! মাতৃত্ব ভালো, কিন্তু মাতৃত্ব যে অভিশাপও হতে পারে সেইদিনই প্রথম অনুভব করলাম, যেদিন এই তুচ্ছ ব্যাপারটি নিয়ে ফের দারুণ গণ্ডগোল শুরু হলো। এ নিয়ে ঝগড়া হয়ে উঠলো নিত্যদিনের বিষয়। এই প্রবাসে চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকা! অসম্ভব! মা হওয়ার আগাম সমস্ত সুখই নষ্ট হয়ে গেল। বললাম, টাকার অভাব। যখন নেই, না হয় তোক রেখে নেবো। তুমি বেশ রূঢ় কণ্ঠে বললে, না। বললে, আমার সন্তান মানুষ হবে তার মায়ের কোলে। আমি বললাম, আমিও তো আমার মায়ের সন্তান। মা আমাকে পড়িয়েছেন। তাছাড়া এত ভালো কাজ। বিদেশে কি কেউ বসে থাকে! বললাম, তা কি থাকা যায়? কথায়, কথায় তর্ক বাড়লো। রাগ যখন চরমে, বললাম, তুমিই না হয় চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাচ্চা মানুষ করো। কেন করবে না? চাকরিটা আমি কেন ছাড়বো? তুমি এক চড় মেরে বললে, তোমার এই বাইরে থাকা আর ছেলেদের সঙ্গ আমার আর ভালো লাগছে না। আমি বুঝে গেলাম তোমার আসল তোমাকে! তুমিও সবার মতো সাধারণ। হঠাৎ ভীষণ উত্তেজনায় আমি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলাম। তারপর আর কিছু জানি না।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা লাইব্রেরী
    সেবা প্রকাশনীর বই
    নতুন উপন্যাস
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা কবিতা
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    অনলাইন গ্রন্থাগার

     

    সেদিন চোখ খুলে দেখলাম আমি হাসপাতালে। বিছানায় রাখা চার্টে লেখা–উচ্চ রক্তচাপ। স্যালাইনের সুই ডান হাতের কবজির ওপরে। বাম হাতে রক্তের ব্যাগ। ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে! ডাক্তার বললো, আপনি এখন ঘুমোন। ডাক্তার, সেও লুকিয়ে গেল। বুঝলাম, আমার বাচ্চা নষ্ট হয়ে গ্যাছে। প্রথম যখন জানলাম আমার অনুমানই সত্যি–তখন তুমি কাছে ছিলে না। না থাকাটাই ভালো ছিল। থাকলে না জানি কি ঘটতো। হয়তো দুই হাতের সুই ছিঁড়ে ফেলে হাসপাতালেই এক ভীষণ কেলেঙ্কারি বাধাতাম। তার তিনদিন পর প্রচণ্ড রক্তপাতশেষে জ্বণের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে এলাম। তৈরি হলো এক অদৃশ্য দেয়ালের ভিত তোমার আর আমার মধ্যখানে। সৃষ্টি হলো দূরত্বের আকাশ, দু’জনের–আচরণে। আমি অনেক পুরুষের মধ্যে নারী বিষয়ে–হীনমন্যতা দেখেছি। কিন্তু তোমার মধ্যে সেই একই হীনমন্যতা, সেই সন্দেহ, যা আমি বরাবরই ঘৃণার চোখে দেখে এসেছি, দেখে নড়ে উঠলাম।

    বাড়িতে তুমি আমি দু’জনেই গম্ভীর। এই গাম্ভীর্যের ভাবখানা এরকম যে তুমি আমাকে বলছো সব দোষ আমার। আর আমি বলছি তোমার। চোখ দিয়ে ঘৃণা আর শাসন করা এবং তখনকার জন্যে এটাই ছিল বরং সবচেয়ে সহজ কাজ। কেননা দোষ দিয়ে নিজের অন্যায় অন্যের ঘাড়ে চাপাতে পারলে ভালো লাগে। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকলো তোমার ভালোমানুষি পুরুষের আস্তিনের তলায় ছদ্মবেশী এক রক্ষণশীল স্বভাবের পুরুষের প্রকৃত চেহারা। এই চেহারা, যা পুরুষের শাশ্বত রূপ। যা আমার সংসারে নবাগত।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা ইসলামিক বই
    পিডিএফ
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা সাহিত্য
    উপন্যাস সংগ্রহ

     

    জেনেছিলাম–সাদা, কালোর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। স্বৈরাচার, গণতন্ত্রের চেয়ে। সবল, দুর্বলের চেয়ে। সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘুর চেয়ে পুরুষ নারীর চেয়ে। তুমিও দিন যত যায়, বোঝালে সংসারে পুরুষ নারীর চেয়ে বড়। কি করে বুঝলাম! বুঝাবার যথেষ্ট কারণ তুমি দেখিয়েছ। ক’টা বলবো! তবে সবচেয়ে বেশি বুঝলাম, যেদিন দেশ থেকে আমার ছোট বোনটার বিয়ের খবর এলো। রমা লুকিয়ে বিয়ে করেছে এক মুসলিম ছেলেকে। ছেলেটিকে আমি চিনতাম। অনেক নিষেধ সত্ত্বেও এই ভয়ই সত্য হলো। রমার ব্যাপারটা, তুমিও জানতে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, সঙ্গে সঙ্গে তুমি বললে, রমা একটা নষ্টা। একটা জারজ। ও যেন এখানে কখনো যোগাযোগ না করে। বললাম, কি বলছো এসব! বিদেশে তুমি তাহলে কাঁদের সঙ্গে থাকছো, কাজ করছো! ভিন জাতের বাড়িতে নেমন্তন্ন খাচ্ছে। অথচ সব দোষ হয়ে গেল রমার! জানি না হিন্দু আর খ্রিষ্টানের বিয়ের সঙ্গে কি তফাত হিন্দু-মুসলিমের।

    যখন প্রয়োজন তোমার সমবেদনা, তখন তুমি দেখালে ঘৃণা। তুমি জেদ ধরে বসলে যে, আমি আমার নষ্ট জারজ পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখতে পারবো না। রমার এই সংবাদে, বাড়িতে শোকের ছায়া। যেন কেউ মারা গেছে। এই সংবাদটি ফোন করে জানালো বিল্ট, আমার ছোট ভাই। বললো গ্রামে ভীষণ হৈ-চৈ হচ্ছে। লোকজন বাড়িতে এসে হট্টগোল করছে। বাবাকে অপমান করছে। বাবার হার্ট এ্যাটাক হয়ে সে হাসপাতালে, প্রায় মৃত্যুমুখে। অপারেশনের জন্য টাকা লাগবে, প্রায় দু’লক্ষ। তোমার ভয়ে প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত। কি করি! কি করা যায়। বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করি, লুকিয়ে। টাকা পাঠালাম, লুকিয়ে। বুঝতে পেরে, আমাকে ভীষণ গালাগাল করলে। অন্যদিন, ধরে মারলে। তোমার এই মনুষ্যত্বহীনতা আমাকে–উভয় সঙ্কটে ফেলে দেয়। এ কথা কাউকে না পারি বলতে, না পারি গিলতে। এতকাল পুরুষের দানব চরিত্রের যেসব কাহিনী শুনে এসেছি, সে জিনিস এখন সত্য হলো আমারই কপালে!

     

    আরও দেখুন
    বই
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা অডিওবুক
    বই পড়ুন
    বইয়ের
    পিডিএফ
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ই-বই

     

    রমার ব্যাপারে তোমার সিদ্ধান্তে তুমি রইলে অটল এবং ক্ষমাহীন। দুজনের মধ্যে একরাশ নীরবতা আমাদের ঘরটাকে ধীরে ধীরে গ্রাস করতে থাকে। তা সত্ত্বেও –বছরখানেক পর, মুহূর্তের আবেগে কি যেন ঘটে গেল! ফের আমার পেটে বাচ্চা এলো। বাচ্চাটা পেটে এসে বিপদ আবার নতুন করে বাড়লো। মনে শান্তি নেই। মনে হয় পঙ্গু বাবার কথা। সারাদিন বিছানায় শুয়ে শুধু রমা রমা করেন। রমা-তুই, কি করলি! বলেন, আর কেঁদে-কেটে বুক ভাসান। আমাদের সমাজ। যেখানে মানুষের মন ক্ষমাহীন, নিচু। মর্ত্যের নরক। রমাকে নিয়ে সামাজিক গণ্ডগোল তুঙ্গে। মানুষের অত্যাচারে বাড়ির ওরা ভারতে চলে যাবেন বলে ভাবছেন। অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। মা বললেন, তুই একবার আয়। দেশে তোর আসাটা খুবই জরুরি। পাড়ায় একটা মীমাংসারও ব্যাপার আছে। তাছাড়া, হিন্দু-মুসলিমের বিষয় নিয়ে যে নোংরামো এবং কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি চলছে, মার বিশ্বাস এতে করে ওদেরকে হয়তো সব সম্পত্তি বিনে পয়সায় দিয়ে, ভারতে চলে যেতে হবে। পড়শিদের দু’একজন এই সুযোগে আমাদের বাড়িঘর দখলের ষড়যন্ত্র করছে বলে মা জানালেন। সুতরাং বুঝতেই পার আমার যাওয়াটা, কতটা জরুরি। কিন্তু পেটের বাচ্চার অজুহাত দেখিয়ে তুমি যেতে দিলেই না। বাবা মৃত্যুপথে। তুমি সেটা বুঝলে না। তবে ডাক্তারেরও নিষেধ ছিল বলে সেদিন আমিও জোর করিনি।

     

    আরও দেখুন
    বিনামূল্যে বই
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ভাষা
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    Library
    পিডিএফ
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ

     

    আমি ছোটবেলা থেকেই সময়ে বিশ্বাসী। সময়ই সব ক্ষত শুকিয়ে দিতে পারে। আমি অপেক্ষায় রইলাম। এরপরে প্রিতু হলো। বাবা মারা গেলেন। রমার জীবনটা আস্ত নরক হলো। আমিও অপারক। তা সত্ত্বেও প্রিতুর কথা ভেবে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ থেকে বিরত রইলাম। তুমি কাজে চলে যাও সকালে। আমি বেলা অবধি মেয়েটিকে নিয়ে বাড়িতে। তখন আমি মা। আমার অন্য আরেকটা কাজের জায়গা, দু’ দুটো কম্পুটার, দুটা টেলিফোন, বছরে চল্লিশ হাজার ডলার বেতন সবই অন্যের দখলে। ড্রাইভওয়েতে আমার নতুন গাড়িটা বেকার সময় কাটায়। রাত জাগা আমি দিনে ঘুমোই। মেয়ের মুখে তুলে দিই স্তনের বোটা। অনবরত স্তনের এই দুর্দশা, আমাকে মাতৃত্ব বিষয়ে বিশ্রী অনুভূতি দেয়। স্বাভাবিক কর্মজীবন থেকে এই বিচ্যুতি আমাকে প্রবল ক্রোধের দ্বারস্থ করে তোলে। বাচ্চা হওয়ার পর নীল অনুভূতি আমাকে ক্রমশ গ্রাস করতে থাকে, হতাশায়। মাতৃত্ব আমাকে নরক যন্ত্রণা দিতে শুরু করে। হঠাৎ হঠাৎ মনে হতো, দু’হাতে প্রিতুর গলা টিপে মেরে ফেলি। কারণ ওর জন্যই তো আমার এই বন্দি জীবন। না হলে বাবাকে দেখতে পেতাম। প্রিতুকে একদিন গলা টিপে প্রায় মেরেই ফেলেছিলাম। তুমি বাড়ি ছিলে না বলে টের পাওনি। ও খুব কেঁদেছিল। তুমি শুধু বললে, ও এত কাঁদছে কেন? বলেছিলাম, খিদে পেয়েছে তাই। আজ বলতে বাধা নেই, প্রিতু, সেদিন প্রায় মরেই গিয়েছিল।

     

    আরও দেখুন
    পিডিএফ
    বইয়ের
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা বই
    বাংলা কবিতা
    বাংলা গল্প
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বইয়ের
    অনলাইন বই

     

    মা আমাকে ছোটবেলা থেকেই বলতেন, মেয়ে হয়েও ওর খুব বুদ্ধি। গাছের মতো মা আমাকে সর্বক্ষণ তার ছায়ায় রাখতেন। আমাকে নিয়ে তার একটি বিশেষ অহঙ্কার ছিল। বিদ্যুৎবিহীন গ্রামে বসেও তিনি বলেছিলেন এই মেয়েটি একদিন অনেক বড় আর ভালো মানুষ হবে। তার এই অসম্ভব বিশ্বাসের ভিত্তি বা সম্ভাবনা নিয়ে কেউ বিশেষ সন্দেহ করেনি। এবং বড় হয়ে আমি তার আশা পূর্ণ করেছিলাম। সবাই বলে আমি নাকি একজন ভালো মানুষ, সহজ-সরল। আজ মনে সন্দেহ জাগে এই সারল্যই কি আমার অভিশাপ? এই সারল্যেরই কি তবে প্রয়োজন ছিল? যদি তাই হবে তাহলে, রমা এবং বাবার এই কষ্ট, মা একাই কেন ভোগ করলেন? -কেন আমি সেদিনই সংসার ত্যাগ করিনি? কেন? এর উত্তর, প্রিতু। তুমি আমাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করেছ। একাকিনী মা। তার একটা চোখে ছানি। দু’পায়ে গিঁট বাত। তুমি সবই জানো। কিন্তু পুরুষত্ব–অন্যদের মতো তোমাকে পশুত্বে রূপান্তর করেছে।

    ভার্সিটিতে যেদিন পরীক্ষার ফল বের হলো, বাড়িতে বেজায় খুশিতে আমার নিরক্ষর মা আবারো বললেন, মেয়ে নয় ও আমার ছেলে। কিন্তু যখন শিক্ষিত কোনও মানুষ আমাকে মনে করিয়ে দিতে চায় যে আমি মেয়েমানুষ এবং সেরকম আচরণ করতে, তখনই আমার নিরক্ষর মায়ের কথা মনে করে তোমাদের জন্য বড় আফসোস হয় যে, তার তুলনায় বড় বড় ডিগ্রির সার্টিফিকেট সত্ত্বেও তোমরা কত অল্পশিক্ষিত! মার কথা ভেবে বিশ্বাস করি যে, বড় বড় কলেজে গেলেই শুধু শিক্ষিত হওয়া যাবে না। শিক্ষার আলো, শুধু শিক্ষায় নয়, তার বোধের আলো দ্বারা প্রথমে উদ্ভাসিত হয়। বোধ। যা, আমার মায়ের আছে প্রচুর। যা তোমার মধ্যে তুলনায় যৎসামান্যই।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা ই-বই
    গ্রন্থাগার সেবা
    বই
    বাংলা বই
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    অনলাইন বই
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা ইসলামিক বই

     

    মনে রেখো, প্রদীপের তলায় থাকে বিশাল অন্ধকার। এই সুশিক্ষিত সমাজেও আজ বোধের যে বিশাল শূন্যতা; তোমাদের মতো বুদ্ধিমানদের বোধের অবক্ষয় বোঝাতে বোঝাতে জ্ঞানী-গুণীদের ভাণ্ডারও ফুরিয়ে যাবে। কারণ তোমরা যে জ্ঞানপাপী। জ্ঞানপাপীদেরকে বোঝানো আর সমুদ্রে মুক্তো খোঁজা সমান কাজ। এরপর থেকে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে, এটা করি, সেটা করি। করতে করতে সেই কাজও ফুরিয়ে যায়। ভাবি, আর কি নিয়ে ব্যস্ত থাকা যায়! বন্ধু খুঁজে বেড়াই। ভালো বন্ধু, যাদের সাথে কথা বলা যায়। যারা আমার সমমনা।

    তাদেরই উৎসাহে নারীবাদ, সাহিত্য এসব নিয়ে অনুসন্ধানে লিপ্ত হলাম। সেজন্যে লাইব্রেরিতে যাই। এখানে-সেখানে বিভিন্ন ছোটখাট অনুষ্ঠানে যাই। এভাবেই পরিচয় হয় একগুচ্ছ মেয়ের সঙ্গে যে মেয়েগুলো বেকার সময় কাটাতে ঘুরে বেড়ায় দোকানে, রাস্তায়, পার্কে। কেনে যা কেনার প্রয়োজন নেই। কিনে কিনে ঘর ভরে। ভরে গেলে, জায়গার অভাবে আবর্জনার স্তূপে তা ফেলে দিয়ে আসে। ঘরকন্না এই মেয়েগুলো প্রায় সবাই শিক্ষিত। এদের মধ্যে গৃহিণী এক মেয়ে আইন বিশেষজ্ঞ। বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছে এক সি.পি.এ.। কেউ সেলস্ গার্ল। স্বামীর সংসার করতে গিয়ে ওরা সবাই বিসর্জন দিয়েছে। ওদের পেশা এবং পেশার ভালোবাসা। কেউ স্বেচ্ছায়, অধিকাংশই অনিচ্ছায়। এদের মধ্যে একটা মেয়ে ছিল যে ছয় ঘরের বেতনে চাকরি করতো একটি বিশাল ল ফার্মে। সুন্দরী, স্মার্ট, প্রতিশ্রুতিশীল। স্বামী তাকে চার চারটি সন্তান উপহার দিয়ে তাকে গৃহবন্দি করে রাখার উত্তম বন্দোবস্ত করে রেখেছে।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    পিডিএফ
    বই পড়ুন
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা উপন্যাস
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার

     

    মৃণাল জেগেছিল শতবর্ষ আগে যখন আধুনিকতার অভাব ছিল। আর শতবর্ষ পরে, প্রবাসের এবং দেশের বিপুল অভিজ্ঞতা থেকে বুঝি যে, আমাদের আজকের মেয়েরা নিজে নিজে জাগে না, ওদেরকে কেউ জাগাতে পারে না। পারবে না মুক্ত করতে পুরুষের দাসত্ব থেকে। নাহিদকে ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও সংসারী হতে হলো, আমেরিকার মতো জায়গায়। তিনটে সন্তান মানুষ করছে সে। কিন্তু কাজে গেল ওর স্বামী। শিক্ষিত মেয়েরা সার্টিফিকেটের যে কি অপচয় করে এর উদাহরণের কি কোনও শেষ আছে? শিক্ষিত গৃহিণীদের ঘরে যত যাই, ততই অবাক হই। এরাই আত্মঘাতী; এরাই সংরক্ষণশীল। শিক্ষিত মেয়েরা বরং বিশ্বাস করে নারীর স্থান গৃহে। স্রেফ সামাজিক কুসংস্কার। স্রেফ ধর্মান্ধতা, যা অজুহাতে রূপান্তরিত হয়। বুঝি, ভার্সিটি পাস মেয়েদেরকে তোমরা কেন বিয়ে করো। যেন ওরা তোমাদের জন্যে শিক্ষিত সন্তান উপহার দিতে পারে। নয় কি? তার মানে এই যে, ঘরে শিক্ষিত স্ত্রী থাকলে, সন্তানও শিক্ষিত হবে। তাদের মধ্যে শিক্ষিত মেয়েরা যাবে স্বামীর ঘরে ফের শিক্ষিত সন্তান তৈরি করতে। যাদের মধ্যে থেকে মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি যাবে ভবিষ্যতে শিক্ষিত সন্তান তৈরি করতে, ছেলেরা যাবে কাজে। অর্থাৎ চক্রটা বৃত্তাকার।

    তোমার সন্দেহকে সেবার প্রত্যাখ্যান করলাম। ছেলে বন্ধুগুলোকে নিয়ে এলাম বাড়িতে। তুমি বাধা দিয়ে বললে, শেফালী-রিতু-সেতু ওরা নেই কেন? এই প্রশ্নের ফলে আমার জগৎ আরো সীমিত হতে থাকলো। বাড়িতে একদিন এক অনুষ্ঠানে মুখের ওপর অপমান করে বসলে বয়স্ক প্রবীণদাকে। সে এক বিব্রতকর পরিস্থিতি। প্রবীণদা বয়োজ্যেষ্ঠ এক কবি, যিনি লুকিয়ে করিডোরে সিগ্রেট ফুঁকছিলেন। তুমি তাকে তক্ষুণি বের করে দিলে। প্রবীণদা, ভয়ে দৌড়ে বের হতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে ব্যথা। পেলেন। ভারি বিব্রতকর এক পরিস্থিতি, তাকে আমি এ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। প্রবীণদার ডান পাটা ভেঙে গিয়েছিল। শুধু আমার অনুরোধে তিনি এ নিয়ে উকিল-আদালত করেননি। তা না হলে কি ঝামেলায় তুমি জড়াতে তোমার কোনও ধারণাই নেই। আমি তাও সইলাম। আর তখন আমার পেটে আবার তিন মাসের ভ্রূণ। তুমিও জানতে না। আমি চলে গেলাম ওম্যানস্ ক্লিনিকে। গর্ভপাত করিয়ে বাড়ি ফিরলাম। এরপর থেকে প্রিতুকে গল্পের ছলে তৈরি করি, মা ছাড়া পৃথিবীর জন্য। কারণ আমি জানি এ সংসার ছেড়ে আমাকেই যেতে হবে। আমি চলে গেলেও, প্রিতুকে তুমি দেবে না এবং এ দেশের কোর্টও তা দেবে না। আমি প্রিতুকে কোনও নিষ্ঠুরতার যুদ্ধে দাঁড় করাতে রাজি নই। নই, কোনও প্রতিযোগিতার যুদ্ধে। আগে আমি বাঁচবো। তারপর প্রিতুকে এমন মনোভাব নিয়ে, মনে মনে এগোতে থাকলাম মুক্তির চিন্তায়। বিবাহ বিচ্ছেদ এবং মৃণালের মতোই সংসার ছেড়ে, দূরে কোথাও চলে যাওয়ার। শুরু হলো উঁকিলের সঙ্গে কাগজপত্র নিয়ে। ডিভোর্সের ঝুট-ঝামেলা। লাভ-লোকসানের হিসেব তো বটেই।

     

    আরও দেখুন
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা গল্প
    Books
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা ভাষা
    পিডিএফ
    নতুন উপন্যাস
    বইয়ের
    Library
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার

     

    এদিকে প্রবীণদাকে কেন্দ্র করে তোমার সঙ্গে আমার মানসিক দূরত্ব দ্রুত বাড়তে থাকে। একটা অকারণ জেদ, প্রতিশোধের আগুন, অধিকারবোধ তখন থেকে আমার মনে তীব্রভাবে কাজ করতে শুরু করলো। দেখা হলেই ঘৃণা। দেখা হলেই এড়ানোর প্রতিযোগিতা। চললো তাচ্ছিল্যের ম্যারাথন।

    বাতিকগ্রস্ত তুমি সব পুরুষকেই সন্দেহ করতে। কথা বলতে দেখলে, কোথাও একসঙ্গে বসলেই। সন্দেহ যা একটা অসুস্থতা। একটা নরক। এই নরক পুরুষের নিজস্ব। আর তুমি হলে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। তোমাদের ধারণা কথা বললেই মেয়েরা পুরুষের সঙ্গে শোয়। অসীমকে তুমি সবচেয়ে বেশি সন্দেহ করতে। ভাবতে, ওর সঙ্গে আমার শুধু প্রেমই নয়, দৈহিক সম্পর্কও আছে। ভাবতে সাহিত্য-টাহিত্য কিছু নয়। সব, ছুতো। তবে হ্যাঁ, অসীম আমার বিশেষ বন্ধু। আমার সবচেয়ে বেশি মানসিক যোগাযোগ ওরই সঙ্গে। তোমার সঙ্গেই বেশি করে আমার সেই যোগাযোগ থাকার কথা। কিন্তু শূন্যতা মেটাতে তোমার স্থান পূরণ করলো অসীম। অসীমকেও তুমি একদিন তাড়িয়ে দিলে। আর সেইসঙ্গে হৃদয়টা ওর জন্যে ব্যথায় গুমরে উঠলো। শুধু সন্দেহ আর সন্দেহ নিয়ে ভরে গেল তোমার পৃথিবীটা।

    দেশে ফিরে যাবো সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছি। এদিকে ডিভোর্সের কাজ চলছে। এর মধ্যে জীবনের আরেকটা মোড় হঠাৎ ঘুরে গেল। সেবার কবি-সাহিত্যিকদের একটা সম্মেলন হবে আপ স্টেইটে। অসীম ফোন করে বললো, আমাকে সেখানে যেতে হবে। অসীমরা দল বেঁধে যাচ্ছে। শুনে মনটা খুশিতে নেচে উঠলো। গেলাম আমিও। আর সেখানেই কখন যেন তোমারই সন্দেহ আর গুমরে ওঠা হৃদয়, ভালোবাসা হয়ে ফুটে উঠলো। হলো, অসীমের প্রতি অসীম ভালোবাসা।

     

    আরও দেখুন
    নতুন উপন্যাস
    অনলাইন বই
    বাংলা কবিতা
    গ্রন্থাগার
    বুক শেল্ফ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা ভাষা
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা গল্প
    Books

     

    আপ স্টেইটের পাহাড়ের কোলে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিলাম, নতুন অভিজ্ঞতার ঝুলিভর্তি অসীমের ভালোবাসায়। আমার ভালোবাসাহীন শুকনো হৃদয় আর দীর্ঘদিনের বিবর্ণ ঘাসে যেন অনন্ত জলধারা গড়িয়ে পড়তে লাগলো। ফিরে এলাম, তোমারই সংসারে অন্য মানুষের জন্যে, অন্য অনুভূতি হৃদয়ে নিয়ে।

    প্রিতুর তখন পাঁচ বছর। আর আমার বয়সটা মেয়েদের জীবনে নানারকম পরিবর্তন আর জটিলতার সময়ে। তোমার সন্দেহকেই শেষ পর্যন্ত সত্যি করে তুলোম। পরকীয়া। যা আগে কোনওদিন আমার ভাবনায় উদয় হয়নি। অসীম আমাকে শূন্যতার যন্ত্রণা থেকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছিল। পরকীয়া, আমার দুঃসময়ে আমাকে বাঁচায়নিই শুধু, মুক্তিও দিয়েছিল সীমাহীন যন্ত্রণা থেকে।

    বন্ধন ছিন্ন করার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এবং সেই চুলোয় আরো আগুন জ্বালাতে হঠাৎ উপস্থিত হলো রমা। যেন ভূত দেখার মতো। কি করে যেন ভিসা জুটিয়ে ওরা দু’জনেই চলে এলো। আর ওদের দেখেই তুমি উঠলে জ্বলে। হলো ঝগড়া। আমাকে সেদিন। জখম করেছিলে বেল্ট দিয়ে পিটিয়ে। তোমার ভাগ্য ভালো-যে, প্রিতুর জন্ম হয়েছিল। তাই ওর কষ্ট হবে ভেবে পুলিশ ডাকতে চাইলেও পারিনি।

    তুমি ভুলে গিয়েছিলে যে, এই দেশটা সম-অধিকারের। ভেবেছিলে যে মানা না মানার ক্ষমতা আমারও ছিল! তোমার মতো পশুর সঙ্গ দ্রুত ত্যাগ করতে হলে, প্রিতুকে সাময়িক হারাতে হবে। আমি তো সে সত্য মেনে নিয়েছি। সুতরাং আমার আবার ভয় কিসের? যুদ্ধ হবে, রণাঙ্গন তৈরি। রমাকে বললাম, কোথাও যাবি না। এ বাড়িতেই থাকবি যতদিন আমি আছি। এ নিয়ে হাঁকাহাঁকি পুলিশ ডাকাডাকি হলো। ঝগড়া, কান্না, চিৎকার। আমি রইলাম অনড় আমার অধিকারে। পুলিশই সেকথা বলেছিল। আর তুমি। ভয় পেলেও, জেদটাকেই অধিক তুলে ধরলে।

    প্রস্তূতি খুব দ্রুত চলছে। এবং সেজন্যে আমি উকিলকে অতিরিক্ত কিছু অর্থও দিলাম। এ দেশের আইনে বলে, ছোট বাচ্চাকে নিয়ে দেশের বাইরে যাওয়া যাবে না। তোমারই জয় হলো। সে এক দৃশ্য! আমি সুটকেইস হাতে। তুমি প্রিতুকে কোলে করে। আমি বিদায় নিলাম তোমার সংসার থেকে। জেনে রেখো, মাতৃত্ব কেড়ে নেয়া যায় না। যেমন যায় না পিতৃত্ব। প্রিতু, আমাদের দু’জনের। আমি জানি প্রিতু ফিরে আসবে আমার কাছে, আসতে বাধ্য। আজ না হোক, কাল। কথা আর না বাড়িয়ে, অপেক্ষমাণ ট্যাক্সিতে বসে চলে এলাম রমাকে নিয়ে, বন্ধুর বাড়িতে। তারপর সেখান থেকে-এখানে।

    পুরুষ, তোমরা সবই পারো। আমার মতো আধুনিক, শিক্ষিত মেয়েকেও তোমরা যখন ছাড়লে, তখন বিশ্বের হাজার হাজার সখিনারা তো কোন ছার! আমার মতো কর্মক্ষম একটি মানুষকেও ধরেবেঁধে তোমরা ঘরে বসিয়ে রেখেই শুধু নয়, তার দিকে ছুঁড়ে দিয়েছ ঘৃণিত সন্দেহের তীর। নিয়ত হেলাফেলা। মৌখিক আর শারীরিক অত্যাচার। আমায় ঠেলে দিয়েছো পরকীয়ায়। মধ্য বয়সে পৌঁছে আমার উপলব্ধি, মৃণালের উপলব্ধির সাথে দেখলাম হুবহু মিলে যাচ্ছে। যৌবনের সব পুঞ্জীভূত অবিচার, মধ্য বয়সে এসে আমাদেরকে বাধ্য করে তোমাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে। যা মৃণাল করেছিল শত বর্ষ আগে। কিন্তু দু’জনেরই সমস্যা শত বর্ষ আগে ও পরে, এক। কারণ, আমরা পাল্টালেও পাল্টাওনি তোমরা। মৃণালের চিঠিতে কবিগুরু একে কোনও সঙ্কট নামে চিহ্নিত করেননি, তবে আমি জানি মৃণাল আর আমার সমস্যা এক এবং অভিন্ন। অর্থাৎ উপলব্ধি জীবনের একটা নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছে দেয় একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা। এবং মৃণাল এবং আমি দু’জনই তা অর্জন করেছি, সাহসের সঙ্গে। নয় কী?

    যাদের অন্তরে সুখ নেই, জন্ম থেকেই যারা সর্বক্ষণ দগ্ধ, তারা পৃথিবীর সুখ দেখতে নারাজ। তুমিও তাদেরই একজন। আজ আমার কষ্ট শেষ। তোমার শুরু। যারা জগৎটিকে দেখতে পায় অন্তের বদলে-অনন্ত, সুখ তাদেরই জন্যে রক্ষিত। আমি সেই অর্থে-সুখী। বিত্ত-বৈভব-সন্তান ও সংসার তোমার চোখে তার যে অর্থ, আমার চোখে তা এক নয়। আমি সবখানেই অনন্ত দেখতে পাই। তলের জায়গায়, অতল। আমার কাছে জগৎটা অনেক বড়। সমস্ত পৃথিবীটাই আমার সংসার। যেসব ছেড়ে দিতে পারে, তাকে আর কি দিয়ে অসুখী করবে! তোমার বিলাসিতার শিকার, সংসারের খাঁচা খুলে পালিয়ে গেছে।

    তোমার চত্বর ছেড়ে, আজ আমিও মুক্ত। স্ত্রীর পত্রে’র মৃণালের মতো আমিও আর তোমার ঐ নরকের গলিতে ফিরছি না। এমনকি প্রিতুর জন্যেও না। আমি জানি, আমি কত নিষ্ঠুর মা, যে তার মেয়েকে ফেলে চলে যেতে পারে। কিন্তু কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে একজন মা এই কাজটি করতে পারে ভেবে দেখছো কখনও? হ্যাঁ, আমি সেই পরিস্থিতিরই শিকার যেখানে বাধ্য হয়ে শক্তি সঞ্চয় করতে হয়। নিজের বোধের মৃত্যু ঠেকাতে, কোলের আদরিনীকেও সাময়িক ছাড় দিতে হয়। সে আমার। চিরদিনের জন্যে আমার। সে ভরে আছে আমার বোধ-হৃদয় আর মনে। আমার সকল পৃথিবীটাই প্রিতু আর প্রিতুময়। যেখান থেকে কেউ তাকে কেড়ে নিতে পারে না। এমনকি তুমিও না। প্রিতু আজ প্রায় প্রাপ্তবয়স্কা। এখান থেকে সে স্বাধীন। এতকাল তুমি তাকে মা ছাড়া করে রেখেছিলে। তাই আজ এই চিঠি লেখা। আর নয়। এবার ফেরার সময়। মায়ের কাছে মেয়ে। জগতের ভ্রান্তির কাছে, সত্যের।

    –ইতি,

    প্রিতুর মা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচতুর্দশপদী কবিতাবলী – মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    Next Article অতীত একটা ভিনদেশ – মোজাফ্‌ফর হোসেন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }